pytheya.blogspot.com Webutation

৭ মার্চ, ২০১২

Masjid-e-Zarar: যে মসজিদটি মুহম্মদের নির্দেশে পুড়িয়ে দেয়া হয়।


মদিনায় আবু আমের নামক একব্যক্তি খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী ছিলেন। এই ব্যক্তির পুত্র হলেন বিখ্যাত সাহাবী হানযালা, যার মৃতদেহ ফেরেস্তারা গোসল দিয়েছিলেন। অথচ তার পিতা প্রচলিত খ্রীষ্টবাদের উপর অবিচল ছিলেন।

মুহম্মদ যখন হিযরত করে মদিনায় আগমন করেন, তখন আমের তার সমীপে উপস্থিত হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। মুহম্মদ তার অভিযোগের যথার্থ জবাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আ‘মের তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের দু‘জনের মধ্যে যে মিথ্যুক সে যেন অভিশপ্ত ও আত্মীয়-স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত্যুবরণ করে।’
আর প্রত্যাবর্তণের সময় বলেছিলেন, ‘এখন থেকে আমি আপনার প্রতিপক্ষকে সর্বদা সাহায্য করে যাব।’
আমের শুরু থেকেই ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। অতঃপর একসময় তিনি রোম সম্রাটকে মদিনায় অভিযান চালিয়ে মুসলমানদেরকে উৎখাত করতে প্ররোচিত করলেন। তারপর তিনি মদিনায় পরিচিত মুনাফেকদের কাছে এই পত্র দিলেন-‘আমি রোম সম্রাট কর্তৃক মদিনা অভিযানের চেষ্টায় আছি। কিন্তু যথাসময়ে সম্রাটের সাহায্য হয় এমন কোন সম্মিলিত শক্তি তোমাদের থাকা চাই।
--সুতরাং তোমরা মদিনায় মসজিদের নাম দিয়ে একটি গৃহ নির্মাণ কর। অতঃপর সেই গৃহে নিজেদের সংগঠিত কর এবং যতটুকু সম্ভব যুদ্ধের সাজসরঞ্জাম সেখানে সংগ্রহ করে রাখ এবং পরস্পর আলোচনা ও পরামর্শ করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইতিকর্তব্য ঠিক কর।’

যখন হুনায়েনের যুদ্ধ হল, তখন আমের মুসলমানদের বিপক্ষে যুদ্ধে অংশ নিলেন। পরবর্তীতে হাওয়াজিনের মত শক্তিশালী গোত্রও যখন মুসলমানদের কাছে পরাজিত হল তখন তিনি নিরাশ হয়ে সিরিয়ায় চলে গেলেন। অতঃপর সেখানেই তিনি আত্মীয়-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন। 

এদিকে আমেরের ঐ পত্রের ভিত্তিতে বারজন মুনাফেক মদিনার কোবা পল্লীতে যেখানে মুহম্মদ হিজরত করে এসে অবস্থান নিয়েছিলেন ও একটি মসজিদ তৈরী করেছিলেন- সেখানে আরেকটি মসজিদের ভিত্তি রাখল। এটিকে কোরআন মসজিদে যেরার (Masjid-e-Zarar) নামে অভিহিত করেছে। এরপর তারা মুসলমানদের প্রতারিত করতে সিদ্ধান্ত নিল যে, স্বয়ং মুহম্মদ এখানে এক ওয়াক্ত নামাজ পড়াবেন, যাতে মুসলমানদের মনে কোনরকম সন্দেহ না আসে।

কোবা মসজিদ।
সিদ্ধান্তমতে এক প্রতিনিধি দল মুহম্মদের কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, ‘কোবার বর্তমান মসজিদটি অনেক দূরে রয়েছে। অসুস্থ্য ও দুর্বল লোকদের পক্ষে সেখানে গিয়ে নামাজ আদায় করা দুস্কর। তাই আমরা লোকদের সুবিধার্থে আরেকটি মসজিদ নির্মাণ করেছি। এখন আপনি যদি সেখানে এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন তবে আমরা বরকত লাভে ধন্য হব।’
মুহম্মদ এসময় তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাই তিনি বললেন, ‘এখন সফরের প্রস্তুতিতে আছি। ফিরে এসে নামাজ আদায় করব।’
 
তাবুক থেকে ফেরার পথে মুহম্মদ যখন মদিনার নিকটবর্তী একস্থানে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তখন এই আয়াত নাযিল হল-আর কিছু কিছু তোমার আশেপাশের মুনাফেক এবং কিছু লোক মদিনাবাসী কঠোর মুনাফেকীতে অনড়। তুমি তাদের জান না; আমি তাদের জানি। আমি তাদেরকে শাস্তি দেব দু‘বার, তারপর তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে কঠিন শাস্তির দিকে।(৯:১০১)

এই খালি জায়গাই 'মসজিদে জেরার' পাশে মসজিদে জুম্মা।
আর যারা নির্মাণ করেছে মসজিদ জিদের বশে এবং কুফরির তাড়নায় মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি উদ্দেশ্যে এবং ঐ লোকের জন্যে ঘাঁটি স্বরূপ যে পূর্ব থেকে
আল্লাহ ও তার রসূলের সাথে যুদ্ধ করে আসছে, আর তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছি। পক্ষান্তরে আল্লাহ স্বাক্ষী যে তারা মিথ্যুক তুমি কখনও সেখানে দাঁড়াবে না, তবে যে মসজিদের ভিত্তি রাখা হয়েছে তাকওয়ার উপর প্রথমদিন থেকে সেটিই তোমার দাঁড়াবার স্থান। সেখানে রয়েছে এমন লোক যারা পবিত্রতাকে ভালবাসে। আর আল্লাহ পবিত্র লোকদের ভালবাসেন। যে ব্যক্তি স্বীয় গৃহের ভিত্তি রেখেছে কোন গর্তের কিনারায় যা ধ্বসে পড়ার নিকটবর্তী এবং অতঃপর তা ওকে নিয়ে দোযখের আগুনে পতিত হয়। আর আল্লাহ জালেমদের পথ দেখান না। তাদের নির্মিত গৃহটি তাদের অন্তরে সদা সন্দেহের উদ্রেক করে যাবে যে পর্যন্ত না তাদের অন্তরগুলো চৌচির হয়ে যায়। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ-প্রজ্ঞাময়।(৯:১০৭-১০৯) 

উপরের আয়াতগুলো দ্বারা আল্লাহ মুনাফেকদের মসজিদ নির্মাণের গোপন ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিলেন। তখন মুহম্মদ কতিপয় সাহাবীকে হুকুম দিলেন-‘এখুনি কথিত মসজিদটি ধ্বংস কর এবং তাতে আগুন লাগিয়ে দাও।’
আদেশ মত তারা গিয়ে মসজিদটি মাটির সাথে মিশিয়ে দিলেন। 

রমজান মাস। মুহম্মদ সেনাবাহিনী নিয়ে মদিনায় ফিরে এলেন। মদিনায় পৌঁছে তিনি দেখলেন মসজিদের জায়গাটি ফাঁকা পড়ে আছে। তিনি আসেম বিন আ‘দীকে সেখানে গৃহ নির্মাণের অনুমতি দিলেন। কিন্তু তিনি বিনীতভাবে বললেন, ‘হে রসূলুল্লাহ! অভিশপ্ত স্থানে গৃহ নির্মাণ আমার পছন্দ নয়।’

সেই থেকে অদ্যাবধি জায়গাটি খালি পড়ে আছে।

সমাপ্ত।
ছবি: Internet.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন