হস্তী বৎসর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হস্তী বৎসর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৯ জুলাই, ২০১৫

Mawlid: নবী মুহম্মদের জন্মদিন কোনটি?



অারব উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত হেজাজ অঞ্চলের মক্কা নগরীতে নবী মুহম্মদ জন্মগ্রহণ করেন। তার সঠিক জন্ম তারিখটি জানা যায় না। এর কারণ এই যে, ঐ সময় আরবদের মাঝে কোন সুনির্দিষ্ট বর্ষপঞ্জি প্রচলিত ছিল না। ফলে ঐতিহসিক ও জ্যোতির্বিদদের যারা এ বিষয়ের উপর কাজ করেছেন, তারা মতামত হিসেবে নবীজীর জন্মের অনেকগুলো সম্ভাব্য তারিখ দিয়েছেন। আর এই মতের ভিন্নতার কারণেই, বিশ্বকোষ ব্রিটেনিকা একটা সন্দেহজনক তারিখ দিয়ে, জন্মসনের স্থানে একটি প্রশ্নবোধক টিহ্ন এঁকে রেখে দিয়েছে। এতে এটা পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে, বিশ্বজগৎ নিশ্চিত নয়, কোন তারিখে নবী মুহম্মদ, যিনি সর্বশেষ নবী হিসেবে পরিচিত, ধরায় আগমন করেছিলেন।

সাধারণভাবে ধরা হয় নবীজীর জন্মদিন বা মওলিদ হস্তী বৎসরের (অর্থাৎ যে বৎসর আবিসিনীয় সম্রাট আবরাহা কা’বা আক্রমণ করেছিলেন তার হস্তী বাহিনী নিয়ে।) ১২ই রবিউল আওয়াল, যদিও বৎসর এবং তারিখ দু’টোর ক্ষেত্রেই মতের ভিন্নতা রয়েছে। তবে অধিকাংশ মুসলিম এটা জানে না যে, সঠিক তারিখটির ব্যাপারে বিতর্ক সবসময়ই ছিল এবং ১২ই রবিউল আওয়াল কোন সর্বজন স্বীকৃত তারিখ নয়। আর সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় পাওয়া ফলাফল হস্তী বৎসরের ব্যাপারে যে তথ্য দিয়েছে তা সাধারণভাবে আমাদের জানা তথ্যকে বিতর্কিত করেছে এবং ঐ ভিন্ন মতটিকেই প্রকারন্তে আরও ওজনদার করেছে। গবেষণায় দেখা যায়, হস্তী বৎসরটি নবীজীর জন্মের প্রায় ১৭-১৮ বৎসর পূর্বের। আর হেকলও এ বিষয়ে এমনিতর ভিন্ন মতামত উল্লেখ করেছেন সিরা পা্ঠ্যতে যে, ঐ ঘটনা ছিল নবীজীর জন্মের ১৫ বৎসর পূর্বের বা এমনকি তার জন্মের ৩০-৭০ বৎসর পূর্বেরও হতে পারে।

‘সহীহ সিত্তা’ বলে খ্যাত হাদিসের ৬টি গ্রন্থের কোনটিতে এমন কোন হাদিস নেই যেটি সুনির্দিষ্ট করবে নবীজীর জন্ম তারিখটি। বরং তাতে এ সংক্রান্ত একমাত্র যে হাদিসটি রয়েছে তা কেবল নির্দিষ্ট করেছে দিনটি, তারিখটি নয়-

আবু কাতাদা বর্ণনা করেন যে, এক বেদুইন নবীজীর কাছে সোমবার দিন বোজা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তাতে নবীজী উত্তর করেছিলেন- “ঐটি সেইদিন যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছিলাম এবং সেইদিন যেদিন কোরআনের অবতরণ শুরু হয়েছিল।” -সহীহ মুসলিম।

আর দিনের যে সময়টাতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন তা আমরা জানতে পারি-সিদি আল-গাউস আবদ আল-আজিজ আল-ধাব্বাগ, আল-ইবরিজ এর বর্ণনা থেকে। তিনি উল্লেখ করেছেন-“তিনি (নবীজী) জন্মগ্রহণ করেন, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে, আর সর্বশক্তিমান আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।”

সুতরাং নবীজী সোমবার জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু কোন মাসের কোন সোমবার? আর বৎসরই বা কোনটি? এটা জানতে আমাদেরকে অন্য উৎসের দিকে নজর দিতে হবে। তথাপি মান সম্পন্ন উৎস হিসেবে হাদিসের যে কিতাবগুলো রয়েছে তাতে কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই। হ্যাঁ, একটা বর্ণনা পাওয়া যায় যার সত্যতা অবশ্য বিতর্কিত, তা হল- সূয়াদ বিন ঘাপলা বর্ণনা করেন- “নবীজী এবং আমি একই বৎসরে, হস্তী বৎসরে জন্মগ্রহণ করি।” সুনান আল-বায়হাকি, ভলিয়্যূম-১, পৃষ্টা-৭৯। আরও কিছু সূত্রও অবশ্য নির্দেশণা দেয় যে, তিনি ঐ বৎসর জন্মগ্রহণ করেন। সুতরাং, হাদিসের মূল ও বর্ধিত কিতাব থেকে আমরা এ পর্যন্ত দু’টো তথ্য কুড়িয়ে পেলাম-
এক. তিনি সোমবার জন্মগ্রহণ করেন,
দুই. তিনি হস্তী বৎসরে জন্মগ্রহণ করেন।

আবার, ইতিহাসের কিতাবগুলোতে দৃষ্টি দিলে আমরা নবীজীর অনেকগুলো জন্ম তারিখ দেখতে পাই। ইবনে ইসহাক (মৃত্যু-১৫০ হিজরী)- গোড়ারদিককার নবীজীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জীবনীকারদের অন্যতম। তিনি হাদিস বা অপর গ্রহণযোগ্য কোন সূত্র ছাড়াই উল্লেখ করেছেন যে, নবীজী হস্তী বৎসরের ১২ই রবিউল আওয়াল, সোমবার জন্মগ্রহণ করেন। ইবনে ইসহাক ও নবীজীর জন্মকালের মধ্যে প্রায় ২০০ বৎসরের ব্যবধান রয়েছে, সুতরাং এই দিনটি স্বীকার করে নিতে হলে আমাদের আরও কিছু প্রমাণ অবশ্যই দরকার।

প্রথমদিককার গুরুত্বপূর্ণ আরেকজন ঐতিহাসিক ইবনে সা’দ (মৃত্যু-২৩০ হিজরী) তার তাবাকাতে নবীজীর জন্ম তারিখ সম্পর্কে কয়েকজন প্রাথমিক বর্ণনাকারীর অভিমত তুলে ধরেছেন। ক্রম অনুসারে সেগুলি হল-

১. হস্তী বৎসরের ২রা রবিউল আওয়াল, সোমবার।
২. হস্তী বৎসরের ১০ই রবিউল আওয়াল, সোমবার।
৩. সোমবার, কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ নেই।
৪. হস্তী বৎসরে, কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ নেই।

এখানে মজার ব্যাপার লক্ষ্যণীয় এই যে, ইসলামের গোড়ার দিকের এই প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে সা’দ সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১২ই রবিউল আওয়ালকে তার তালিকায় স্থানই দেননি। অবশ্য শেষ দু’টি অপশনও সঠিক এবং কোন সুনির্দিষ্ট তারিখের সাথে তা বিরোধপূর্ণও নয়। কিন্তু প্রথমদিককার তথ্য দাতারা যারা এতটুকু তথ্য দিয়েছেন, তাদের এসব উদ্ধৃতি উল্লেখ থেকে এটা সহজেই অনুমান করা যায় যে, তাদের কারো নবীজীর সঠিক জন্মতারিখ জানা ছিল না, আর তাই তারা কেবল ততটুকু তথ্যই দিয়েছেন যতটুকু তারা জানেন।

মধ্যযুগের সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ইবনে কাছিরও (মৃত্যু-৭৭৪ হিজরী) নবীজীর জন্মতারিখ সম্পর্কে তার স্মারকগ্রন্থ আল-বিদায়া ওয়াল নিহায়াতে অনেকগুলো অভিমত নথিবদ্ধ করেছেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, বেশিরভাগ পন্ডিতই বিশ্বাস করেন নবীজী রবিউল আওয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু সুনির্দিষ্ট তারিখের ব্যাপারে তারা ভিন্ন মত পোষণ করেন। ঐসব অভিমতগুলোর কিছু হল-

ক). ২রা রবিউল আওয়াল: এ অভিমত হল গোড়ার দিকের সিরা পন্ডিতগণের অন্যতম আবু মা’সার আল-সিন্ধীর (মৃত্যু-১৭১ হিজরী) এবং বিখ্যাত মালিকি জুরিষ্ট ও পন্ডিত, ইবনে আবদ আল-বারের (মৃত্যু-৪৬৩হিজরী)। সম্ভাব্য অপশন হিসেবে এ্ই তারিখ আরও লিপিবদ্ধ হয়েছে আল-ওয়াকিদি (মৃত্যু-২০৭ হিজরী) কর্তৃক, হাদিস বর্ণনাকারী হিসেবে তার দূর্বলতা স্বত্ত্বেও তিনি ইসলামের প্রথমদিককার স্বনামধণ্য ঐতিহাসিকদের একজন হিসেবে স্বীকৃত।

খ). ৮ই রবিউল আওয়াল: এই অভিমতটি আন্দালুসিয়ান পন্ডিত ইবনে হাজম (মৃত্যু-১২৮ হিজরী) এবং গোড়ার দিককার আরো কিছু পন্ডিতদের। ঈমাম মালিক (মৃত্যু-১৭৯ হিজরী) এই মতটির কথা উল্লেখ করেছেন আল-জুহুরী (মৃত্যু-১২৮ হিজরী) ও মুহম্মদ বিন জুবায়েরের মতামত হিসেবে। অন্যদের মধ্যে ইবনে আবদ আল-বার ১ম মতটির পক্ষে রায় দিলেও স্বীকার করেছেন যে, এই মতটি অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের অভিমত। নবীজীর জীবনীর উপর প্রথম প্রবন্ধ লেখকদের একজন ইবনে ধাইয়াও (মৃত্যু-৬১০ হিজরী) এই তারিখটিকে সবচেয়ে জোরালো মত হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

গ). ১০ই রবিউল আওয়াল: নবীজীর বংশধর এবং শিয়া ঈমামগণের একজন, আবু জাফর আল-বাকিরের (মৃত্যু-১১৪ হিজরী) অভিমত হিসেবে ইবনে আসাকির (মৃত্যু-৫৭১ হিজরী) এটি বর্ণনা করেছেন। আর এটা বিখ্যাত স্কলার এবং সাহাবীগণের ছাত্র, আল-শাবি (মৃত্যু-১০০ হিজরী)-এরও অভিমত এবং আল ওয়াকিদির (মৃত্যু-২০৭ হিজরী) নিজেরও।

ঘ). ১২ই রবিউল আওয়াল: এই অভিমতটি ইবনে ইসহাকের (মৃত্যু-১৫০ হিজরী), যিনি কোন সূত্র ছাড়াই এটি উল্লেখ করেছেন। অন্য উৎসে এটি উল্লেখ করা হয়েছে জাবির ও ইবনে আব্বাসের অভিমত হিসেবে, কিন্তু এ্ই বিষয়ের উপর তাদেরকে নিয়ে কোন ইসনাদ প্রাইমারী সোর্স বুকে পাওয়া যায়নি।

ঙ). ১৭ই রবিউল আওয়াল: এই তারিখটি কিছু শিয়া পন্ডিতদের অভিমত এবং অধিকাংশ সুন্নী পন্ডিত এটি বাতিল করে দিয়েছেন কোনরূপ যুক্তিগ্রাহ্য যুক্তি প্রদান ব্যতিরেকেই।

চ). ২২শে রবিউল আওয়াল: এই অভিমতটি ইবনে হাজমের (মৃত্যু-১২৮ হিজরী) নামে আরোপিত।
ছ). হস্তী বৎসরের ১২ই রমযান: প্রথমদিককার পন্ডিতগণের এমনই অভিমত ছিল বলে ইবনে আসাকির এটি বর্ণনা করেছেন।

জ). হস্তী বৎসরের রমযান মাসে: এই অভিমতটি প্রথমদিককার সুপরিচিত ঐতিহাসিক আল জুবায়ের বিন আল-বক্করের (মৃত্যু-২৫৬ হিজরী) অভিমত, যিনি সর্বপ্রথম এবং বহুল স্বীকৃত মক্কার ইতিহাস রচনা করেন। আর প্রাথমিক কিছু পন্ডিতও তার সাথে এ ব্যাপারে সহমত পোষণ করেছেন।

এই হচ্ছে নবীজীর জন্ম তারিখের ব্যাপারে সবচেয়ে জোরালো মতামতগুলির অন্যতম। তথাপি কোনভাবেই এ্ই তালিকাকেও সুসম্পন্ন বলে অভিমত দেয়া যাচ্ছে না একারণে যে, আধুনিক কালের একজন গবেষণাকারী এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, সঠিক তারিখটির ব্যাপারে সাঁরির প্রথমে থাকবে ৯ই রবিউল আওয়াল। আর আমাদের মত অল্প বিদ্যার লোক এটি খুব সহজভাবেই গণনা করবে এভাবে-

আমরা জানি, একটি চান্দ্র মাস প্রায় ২৯.৫দিন, সুতরাং চান্দ্র বৎসর =২৯.৫x১২=৩৫৪ দিনে যা প্রচলিত গ্রেগোরিয়ান বৎসরের চেয়ে (৩৬৫-৩৫৪)=১১দিন কম।
অাবার, ২০১৫ গ্রেগোরিয়ান বৎসর=১,৪৩৬ হিজরী সন।
আর, আমরা জানি, নবীজী ৫৩-৫৪ বৎসর বয়সের সময় হিজরত করেন।
সুতরাং নবীজীর জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত মোট চান্দ্র বৎসর= হিজরী বৎসর+৫৪ (সনের নীচের সীমা পেতে ৫৪ বৎসর ধরা হল)= ১,৪৩৬+৫৪ = ১,৪৯০ বৎসর।
এই ১৪৯০ চান্দ্র বৎসর, সমান গ্রেগোরিয়ান বৎসরের থেকে মোট ১,৪৯০x১১ বা, ১৬,৩৯০ দিন বা, ১৬,৩৯০/৩৫৪ = ৪৬.৩ অর্থাৎ প্রায় ৪৬ বৎসর কম।

সুতরাং ১,৪৯০ চান্দ্র বৎসরের সমতুল্য গ্রেগোরিয়ান বৎসর = ১,৪৯০-৪৬ = ১,৪৪৪ বৎসর।
অতএব, নবীজীর জন্ম বৎসর = ২,০১৫-১,৪৪৪ = ৫৭১ সিই। আর যদি আমরা ধরি যে, নবীজী ৫৩ বৎসর বয়সে হিজরত করেছিলেন, তবে এটি হবে ৫৭২ সিই।

অন্যদিকে নবীজীর জন্মদিন সোমবার হস্তী বৎসরের রবিউল আওয়াল মাসে এবং যেহেতু ৮ ও ১০ তারিখ সর্বাধিক সমর্থিত বলে আমরা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, তাই ক্যালেন্ডার থেকে সহজেই আমরা পিছনের দিকে গণনা করে দেখতে পাই সোমবারটি পড়ে ঐ মাসের ৯ তারিখে।

অর্থাৎ ৫৭১ সিই্= হিজরী পূর্ব ৫৪ সোমবার ৯ই রবিউল আওয়াল এবং সংশ্লিষ্ট গ্রেগোরিয়ান তারিখ ২০শে এপ্রিল ৫৭১ সিই। আর এই তারিখ প্রথম সুপারিশ করেন মিশরীয় এ্যাস্ট্রোনোমার মুহম্মদ পাশা আল-ফালাকি (১৩০২/১৮৮৫)।তবে গণনার এসব রীতিতে যে সমস্যা রয়েছে তা এই যে, গ্রেগোরিয়ান ও হিজরীর মধ্যে রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট কোন পদ্ধতি নেই, ফলে যে কনভার্সান এসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে তা পুরোপুরি নির্ভুল নয়।

আরেকটি ভিন্ন গণনা দেখিয়েছে যে, নবীজীর জন্মদিন, সোমবার, ১৭ই জুন, (১২ই রবিউল আওয়াল) ৫৬৯ সিই এবং এটি অামাদের সময়ের বিখ্যাত মুসলিম স্কলার মুহম্মদ হামিদুল্লাহ (২০০২) কর্তৃক সুপারিশকৃত।.

যাহোক, আরও যেসব ভিন্ন মতামত রয়েছে তার উল্লেখ আমরা পাই মুহম্মদ হুসেন হেকলের বর্ণনায়। তার রচিত নবীজীর জীবনীতে নবীজীর জন্ম মাস রবিউল আওয়াল ও রমযান ছাড়াও মুহররম, সফর বা রজবও হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া তিনি ফরাশী ওরিয়েন্টালিষ্ট এর উদ্ধৃতি দিয়ে আরও উল্লেখ করেছেন যে, সবচেয়ে সম্ভাব্য সময় আগস্ট ৫৭০ সিই, যা রজবের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। আর আর্টিকেলের শুরুতেই আমরা বলেছি যে, হেকল তার সিরাতে হস্তী বৎসরটি নবীজীর জন্মের ১৫ বৎসর পূর্বের বা এমনকি তার জন্মের ৩০-৭০ বৎসর পূর্বেরও হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন, যা সম্প্রতিক ভূ-তাত্ত্বিক গবেষণার ফলাফলের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

যাহোক, উপরে উপস্থাপিত সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণে আমরা দেখতে পাচ্ছি, নবীজীর সুনির্দিষ্ট জন্ম তারিখের ব্যাপারে অনেকগুলো অভিমত রয়েছে যার কিছু মাসের ব্যাপারে ভিন্ন এবং অবশিষ্টগুলো এমনকি বৎসরের ব্যাপারেও। তবে ঐতিহাসিক এবং স্কলারগণের এক বড় অংশ এ বিষয়ে একমত যে, নবীজী হস্তী বৎসরের যা ৫৭০ (বা ৫৭১) সিই’র সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রবিউল আওয়াল মাসের কোন এক সোমবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর এই তথ্যকে আমলে নিলে আমরা আরো দেখতে পাই যে, রবিউল আওয়াল মাসে রয়েছে অর্ধ ডজনের কাছাকাছি অভিমত। সত্যি বলতে কি, এসব তারিখগুলোর মধ্যে দু’টি তারিখ-৮ই এবং ১০ই ছিল ইসলামের প্রথম পাঁচ শতাব্দী পর্যন্ত জনপ্রিয় অভিমত। আর এ দু’য়ের মধ্যে বিশেষত: পরের মতামতটিই মূল্যায়িত হত বেশী।

তাহলে এখন এই প্রশ্ন দাঁড়ায়, ১২ই রবিউল আওয়ালকে অধিকাংশ লোক নবীজীর জন্মদিন হিসেবে উৎযাপন করে যাচ্ছে কেন? তবে কি অধিকাংশ লোক মতের এত ভিন্নতা সম্পর্কে অবগত নয়?

এর উত্তরে বলা যায়, প্রকৃত তারিখটি কোন সাহাবা বা নবীজীর স্ত্রীদের কারও জানা ছিল না এবং “১২ই রবিউল আওয়াল” অন্য দিনগুলোর মতই একটি, তবে ইবনে কাছির কিন্তু একথাটি উল্লেখ করেছেন- “…আর এটাই এ বিষয়ে সবচেয়ে কমন মতামত, তবে আল্লাই এ বিষয়ে ভাল বলতে পারবেন।” যদিও এই অভিমত ইসলামের প্রথম কয়েক প্রজন্মের স্কলারদের কারও নামে আরোপিত হয়নি। এদিকে ইবনে রজব আল-হাম্বলিও তার লাতি’ফ আল-মা’রিফ (পৃষ্ঠা ১৮৫) গ্রন্থে লিখেছেন- “অধিকাংশ লোকের অভিমত যে, তিনি (নবীজী) সপ্তাহের ২য়দিন (সোমবার) ১২ই রবিউল আওয়াল জন্মগ্রহণ করেন.... হস্তী বৎসরে।” আর ইতিমধ্যেই আমরা বলেছি, ইবনে ইসহাকও এই তারিখটির কথা উল্লেখ করেছেন (কোন সূত্র ছাড়াই)। তবে নিম্নে বর্ণিত ফ্যাক্টর দু’টোও এসবের সাথে কাজ করে থাকতে পারে বলে আমাদের ধারণা-

প্রথমত: ইবনে ইসহাকের নিজস্ব জনপ্রিয়তা। তার সিরা গ্রন্থ নবীজীর জীবনালেখ্য সম্পর্কিত তথ্যের প্রাথমিক উৎস। আর তাই তার গ্রন্থটি অন্য অভিমতগুলোকে উপেক্ষা করে একটি স্টান্ডার্ড রেফারেন্স হিসেবে পরবর্তীতে অনেক স্কলারই তাদের লেখায় ব্যাবহার করেছেন সিম্পলি কপি-পেস্ট করে যা তারিখ নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

দ্বিতীয়ত: প্রথমবারের মত একদল লোক যখন নবীজীর জন্মদিন হিসাবে দিনটি উৎযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে, তখন সম্ভবত: তারা অতটা বিচার বিশ্লেষণ না করেই ১২ তারিখটি বেঁছে নিয়েছিল। তারপর যখন মিলাদ-উন-নবী উৎযাপন বিস্তার লাভ করল, এই দিনটিও একই সাথে অধিকাংশের স্বীকৃতি লাভ করেছিল। আর এ ধারণা এটাও ব্যাখ্যা করে যে, কেন অাবদ আল-বার হিজরী ৫ম শতাব্দীতে মওলিদ (মিলাদ-উন-নবী) উৎযাপনের ধারণা গড়ে ওঠার পূর্বে উল্লেখ করেন যে, ঐতিহাসিকদের মধ্যে অধিকাংশের অভিমত ৮ই রবিউল আওয়াল এবং কেন ইবনে কাছির আরও তিন’শ বৎসর পর যখন মিলাদ-উন-নবী সর্বসাধারণের উৎসব হিসেবে পরিচিত হয়ে গিয়েছিল, উল্লেখ করেন যে, ১২ই রবিউল আওয়াল অধিকাংশের অভিমত।

এ পর্যন্ত উপস্থাপিত তথ্যের সার সংক্ষেপ হল- নবীজীর জন্মের সঠিক তারিখটি ক্লাসিক্যাল স্কলারদের মধ্যে সর্বদাই বিতর্কের বিষয় ছিল। সহিহ হাদিসের কিতাবগুলোতে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি,আর এ থেকে প্রমানিত হয় তারা একে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেননি যেমনটা পরবর্তীরা করেছেন।

অধিকাংশ শিয়া স্কলার ১৭ই রবিউল আওয়াল এবং অধিকাংশ সুন্নী স্কলার ১২ই রবিউল আওয়াল নবীজীর জন্মতারিখ বলে বিশ্বাস করেন। আর এ কারণেই উভয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান জানাতে ১২-১৭ রবিউল আওয়ালকে ঐক্য সপ্তাহ হিসেবে নির্ধারণ করেছে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান।

সমাপ্ত।
সংশোধিত নয়।

উৎস:
সহিহ বুখারী,
সহিহ মুসলিম,
সুনান বায়হাকি,
মালিক বিন আনাস, আল-মুয়াত্তা,
ইবনে ইসহাক, সিরাত রসূল আল্লাহ,
ইবনে সা’দ আল-তাবাকাত আল-কবির,
ইবনে কাছির, আল-বিদায়া ওয়াল নিহায়া,
ইবনে আসাকির, তারিখ মদিনাত দামাস্ক,
মওলিদ না মওলুদ- ইসলামিক এনসাইক্লোপিডিয়া,
আল ওয়াকিদি, কিতাব আল তারিখ ওয়াল মাঘাজি,
ইবনে রজব আল হাম্বলি, আল-লাতিফ আল-মারিফ,
ইবনে হাজম, আল-ইহকাম ফি উসূল আল-আহকাম,
ইবনে হজর আল-অাসকালানি, ফতেহ আল-বারী ফি সারহ সহিহ আল-বুখারী,
আল-জুরায়ের আল-বক্কর, আল-মুনতাখব মিন কিতাব আযওয়াজ আল-নবী,
Dr. Yasir Qadhi, The Birth-date of the Prophet and the history of the Mawlid, muslimmatters.org/2009/03/13/
Vaiz Zade Khorasani, Muhammad (1996). "Muhammad brithday, Unity Week and 9th International Islamic Unity Conferance" . Mishkat (51): 4–43.

৩ মার্চ, ২০১২

Abraha al-Ashram: আবিসিনীয় সম্রাট ও হস্তী বৎসর।


৫৭০ সি.ই-আরবদের নিকট হস্তী বৎসর হিসেবে পরিচিত। এই বৎসরের শুরুতেই ইয়েমেনের শাসক আবরাহা আল-আশরাম (Abraha al-Ashram) কা’বাগৃহ ধ্বংস করার জন্যে জাঁকজমকের সাথে একটি সুসজ্জিত হস্তী পৃষ্ঠে সমাসীন হয়ে এক বিরাট সেনাবাহিনী নিয়ে মক্কার অদূরে চলে এলেন।


প্রাচীন কা’বাগৃহ
আবরাহা আল-আশরাম, প্রকৃত নাম আবরাহা বিন আস সাবা আবু ইয়াকসুম। আল আশরাম অর্থ 'দ্বিখন্ডিত মুখাবয়র' আরিয়তের সঙ্গে এক দ্বন্দ্ব যুদ্ধে তিনি মুখে তরবারীর মারাত্মক আঘাত পান, যা তাকে এই উপাধি এনে দেয়। এই আরিয়ত ছিল তারই নিয়োগকৃত ইয়েমেনের গভর্ণর।

সম্রাট আবরাহা তার সেনাপতি আরিয়্যতকে ইয়েমেনের গভর্ণর নিয়োগ করেন, কারণ ধূ-নওয়াজের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষার জন্যে নাজরানের খৃষ্টানগণ ইতিপূর্বে আবিসিনীয় খৃষ্টান সম্রাট আবরাহা আল-আশরামের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিল। ঐ সময় ধূ-নওয়াজ ইয়েমেনের শাসক ছিলেন।

যাহোক, An Abyssinian army under Aryat descended on Yemen, defeated and killed Dhu Nuwas, and occupied the land. Under orders from Abraha al-Ashram, a third of Yemeni women and children were captured and sent to Abyssinia to be sold as slaves. The Arabs who had embraced Judaism were massacred. In due course, Abraha succeeded Aryat as the Abyssinian Governor of Yemen.

মক্কার অদূরে তাঁবু ফেলে অবস্থান কালে আবরাহার এক ক্ষুদ্র বাহিনী মক্কাবাসীকে উত্তেজিত করতে বেশকিছু গবাদিপশু আটক করে। এইসব আটককৃত পশুর মধ্যে ২০০ উট ছিল আব্দুল মুত্তালিবের। তিনি তার একপাল উট আবরাহা বাহিনীর কবলে পড়েছে সংবাদ পেয়ে লুবাবাকে সঙ্গে নিয়ে আবরাহার সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

এদিকে আবরাহা তার একজন দূতকে কুরাইশদের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছিলেন এই সংবাদ দিয়ে যে, তিনি আবরাহা মক্কাবাসীর সঙ্গে যুদ্ধের অভিপ্রায়ে আগমন করেননি। তিনি কেবল কা'বাকে ধ্বংস করতে চান। কিন্তু যদি মক্কাবাসী তাকে প্রতিরোধের কোন চেষ্টা করে, তবে তাদের সকলকে সমূলে তিনি ধ্বংস করবেন- এ সুনিশ্চিত। এর সঙ্গে ছিল আবরাহার বিশাল সুসজ্জ্বিত বাহিনী এবং অস্ত্র-শস্ত্রের এক বিস্তৃত বর্ণনা।

আবরাহার সেনাবাহিনী বিপর্যস্ত। 
ঐ দূতের সঙ্গে আব্দুল মুত্তালিবের পথে দেখা হল। তখন ঐ দূত তাকে সঙ্গে করে নিয়ে এল আবরাহার কাছে। আবরাহা ভেবেছিলেন কুরাইশ গোত্র প্রধান কোন সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। সূতরাং তিনি মুত্তালিবের প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন। অতঃপর আব্দুল মুত্তালিবকে তার সম্মুখে হাযির করা হলে তিনি বললেন, ‘ওহে আব্দুল মুত্তালিব! কি প্রস্তাব নিয়ে এসেছ তুমি আমার কাছে?'
আব্দুল মুত্তালিব বললেন, 'হে সম্রাট! আমার একপাল উট আপনার সেনাবাহিনীর কবলে পড়েছে, আমি সেগুলি নিয়ে যেতে আপনার অনুমতি প্রার্থনা করছি।’

তার প্রস্তাব শুনে আবরাহা ভীষণ কৌতুক বোধ করলেন। তিনি বললেন, ‘হে মুত্তালিব, কা’বাগৃহ, যা তোমাদের গৌরব ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক আমি তা ধ্বংস করতে যাচ্ছি, আর তুমি কিনা এসেছ সামান্য ক'টা উট ফিরিয়ে নিতে? আফসোস তোমার জন্যে।’
তিনি উত্তর করলেন, ‘উটের মালিক আমি আর তাই তা রক্ষা করতে এসেছি, আর কা’বাগৃহের মালিক আল্লাহ, তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁর গৃহ সম্পর্কে-তিনি তা রক্ষা করবেন না ধ্বংস হতে দেবেন।’
উত্তর শুনে আবরাহা হো হো করে হেসে ফেললেন, যদিও তিনি মুত্তালিবকে তার উটগুলো নিয়ে যেতে অনুমতি দিয়েছিলেন।

Having recovered his camels, 'Abdul-Muttalib withdrew with his associates to a mountain-top to await the event, but ere he retreated from Mecca he paid a visit to the Ka'ba, and, holding in his hand the great ring-knocker on the outer door, exclaimed:

"Lord, in Thee alone I trust against them!
Lord, repel them from Thine Holy Land!
'T is the Temple's foe who fights against Thee:
Save Thy town from his destroying hand!" -[EG Browne, A literary History of Persia]
  কা’বাগৃহের পবিত্রতা মক্কায় যে ধন-সম্পদের আকর্ষণ করত, তা নিজ শহরে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে আবরাহা সানাতে একটি উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে তিনি সেটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণ হল না, কা’বা, কা’বাই রয়ে গেল। তাই তিনি কা’বাগৃহ ধ্বংসের সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। 

একবার এক বাণিজ্যিক কাফেলার একজন মক্কাবাসী তার তাঁবু ফেলেছিল আবরাহার উপাসনালয়টির পাশে। রাত্রে রান্নার সময় বাতাসে আগুনের ফুলকি উড়ে গিয়ে উপাসনালয়টিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভয়ে কাফেলাটি রাত্রিতেই সেইস্থান পরিত্যাগ করেছিল।

একজন মক্কাবাসী কর্তৃক উপাসনালয়টি অপবিত্র হওয়ায় আবরাহা মনোবাসনা পূরণের সুযোগ পেলেন। কালক্ষেপণ না করে এই আবিসিনীয়, ইয়েমেনের শাসক তার সেনাবাহিনী নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। 
খানে আবরাহার সেনাবাহিনী বিপর্যস্ত হয়েছিল। 
অত:পর কাবা ধ্বংসের নিমিত্তে আবরাহা তার সেনাবাহিনী নিয়ে অতি প্রত্যুষে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। যখন এই বাহিনী মক্কার উপকন্ঠে এসে পৌঁছিল তখন সকাল, মেঘমুক্ত আকাশ। দূর থেকে এক সুবৃহৎ বাহিনীর মাঝে চলমান বিশাল প্রাণীটিকে দেখে আরবের বিভিন্ন গোত্রের লোকেরা হতবাক হয়ে গেল। বাহিনীটি অগ্রসর হলে নারী ও শিশুসহ কুরাইশরা নিকটবর্তী পর্বতে আশ্রয় গ্রহণ করল এবং সেখান থেকেই ঘটনা প্রবাহের দিকে নজর রাখল। আর তারা মনে মনে আশা করছিল দেবদেবীরা তাদের আবাসগৃহ ও কা’বাকে রক্ষা করবে।

দেখতে দেখতে ছোট ছোট আবাবিল পাখীতে সারা আকাশ ছেয়ে গেল। এসব পাখি হতভাগ্য সৈন্যদের উপর ছোট ছোট পাথর কণা নিক্ষেপ করল। সেগুলি মানুষ ও অশ্বের বর্ম ভেদ করে সেনাবাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ ভীতির সঞ্চার করেছিল। এসময়ে আকাশের দ্বারও খুলে গিয়েছিল। ফলে ভয়াবহ বর্ষণ ও পাথর কণার আঘাতে সেনাবাহিনী সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত হয়েছিল। আবরাহা ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় সানাতে পালিয়ে গেলেন এবং সেখানে পৌঁছানোর অল্পকাল পরেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন। 

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ-

 ‘তোমার প্রতিপালক হস্তীবাহিনীর প্রতি কি করেছিলেন? 
তিনি কি ওদেরকে ব্যর্থ করে দেননি? 
ওদের বিরুদ্ধে তিনি ঝাঁকে ঝাঁকে 
আবাবিল পাখী পাঠিয়েছিলেন, 
যারা ওদের উপর কঙ্কর ফেলেছিল। 
 তারপর তিনি ওদেরকে (জন্তু জানোয়ারের) 
      খাওয়া ভূসির মত করে ফেলেন।’(১০৫:১-৫)

প্রথমদিককার ঐতিহাসিক ইবনে ইসহাক তার “সিরাত রসূল আল্লাহ” পুস্তকে উল্লেখ করেছেন যে, যে বৎসর আবরাহা কা’বা আক্রমণ করেছিলেন সে বৎসর মক্কাতে হাম ও স্মল পক্সের প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছিল, কিন্তু তিনি উল্লেখ করেননি কিভাবে আবরাহা বিপর্যস্ত ও বিতাড়িত হয়েছিল। সিরা অনুসারে, আবরাহা যখন ফিরে যাচ্ছিল, তখন যাত্রাপথে তার বাহিনীর লোকেরা রাস্তার পাশের প্রায় প্রতিটি পানি জমে থাকার গর্তে একের পর এক করুণ ও দূর্দশাগ্রস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিল। আবরাহা নিজেও ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল। তার লোকেরা যখন তাকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন তার হাত ও পায়ের আঙ্গুল একটার পর একটা খসে পড়েছিল এবং সেখান থেকে দূর্গন্ধযুক্ত পুঁজ ও রক্ত বেরিয়ে আসছিল। অত:পর যখন তারা তাকে সানাতে নিয়ে পৌঁছেছিল, তখন সে বাক ও চলৎশক্তিহীন শিশুর মত হয়ে গিয়েছিল। They allege that as he died his heart burst from his body. Deserters from the army, laborers and camp-followers in Mecca remained in Mecca and became workers and shepherds for the population.” 

The description hardly seems like that of small pox in which there can be pus and pustules but usually fingers do not fall off. Secondly, it seems that the deserters from Abraha’s army did not suffer the same fate, which leads one to ask why decease would affect some and not others. 

Ishaq further mentions several poems that were written around the same time describing Abraha’s defeat. In one of these poems, Abu Qais b. al-Aslat al-Ansari wrote that “God sent a wind bringing pebbles from above them.” He also wrote that “When the help of the Lord of the Throne reached you, His armies repulsed them, pelting them and covering them with dust.”

Another poet Abdullah b. Qais al-Ruqqayat wrote, “Birds with pebbles hovered over them, so that they were as though they had been stoned.” 

Now, it is possible that a flock of birds accompanied and flew over a sandstorm, which is essentially a “blanket of wind-driven sand with an upper surface sometimes many feet (meters) above ground level.” That would explain the Quranic verses and the poems from that era perfectly.

When Abraha died, his son Yaksum became king of the Abyssinian's -[Tabari, Annals, vol.-1, page-945]. Himyar and the tribes of the Yemen were humiliated under the heel of the  Abyssinian's. They took their women and killed their men and seized their young men to act as interpreters. When Yaksum ibn Abraha died his brother Masruq ibn Abraha reigned over the Abyssinian's in the Yemen.-[ibn Ishaq, 1955, page-31].

সমাপ্ত।
ছবি: islamicchannels, islamicencyclopedia, livreislam.forumactif.

Moses: কোরাণিক ক্যানভাসে নবী মূসা।

Abu Hena Mostafa Kamal  01 May, 2017 মি সরের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ফেরাউন। হঠাৎ করে তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। কিন্তু তিনি কোন উত্তরাধিকারী ন...