pytheya.blogspot.com Webutation

১৯ মার্চ, ২০১৩

রাবেয়া বসরী: এক নারী সূফীর কাহিনী।

রাবেয়া আল বসরী (Rabi'a al Basri)-র জন্ম ইরাকের বসরায়, কায়েস বিন আদি গোত্রের এক শাখা গোত্র আল আতিকে। এ কারণে তাকে রাবেয়া al Adawiyya বা al Qaysiyya-ও বলা হয়। তার জন্মসন সুনির্দিষ্ট নয়। ধারণা করা হয় ৭১৩ থেকে ৭১৭ সনের মধ্যে কোন এক সময় তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি তার পিতামাতার ৪র্থ সন্তান। একারণে তার নাম রাখা হয় রাবেয়া অর্থাৎ ৪র্থ। তার পিতা ইসমাঈল ছিলেন হত দরিদ্র। যে রাত্রিতে তার জন্ম হয়, সেই রাতে তাদের গৃহে কুপি জ্বালানোর মত সামান্য তেলও ছিল না। তার মাতা প্রতিবেশী কারও কাছ থেকে কিছুটা তেল ধার করে আনতে তার পিতাকে অনুরোধ করেন। তার পিতা নিজের অভাব-অভিযোগের কথা খোদার কাছে ব্যক্ত করতেন বটে, কিন্তু প্রতিবেশী কারও কাছ থেকে কিছু চাইতে ভীষণ লজ্জা বোধ করতেন। তাই তিনি স্ত্রীকে খুশী করতে এসময় গৃহ থেকে বেরিয়ে গেলেও কিছু সময় বাইরে ঘোরাফেরা করে খালি হাতে ফিরে আসেন। তাকে শূন্য হাতে ফিরে আসতে দেখে বুদ্ধিমতী স্ত্রী সবই বুঝতে পারেন, তাই তাকে অধিকতর লজ্জায় ফেলতে কোন প্রশ্ন করেননি।

বর্তমান বসরা নগরী, রাতে।
এদিকে নিজের অক্ষমতা ও অপরগতার কথা খোদার কাছে ব্যক্ত করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েন ইসমাঈল। রাতে স্বপ্নে দেখেন এক ব্যক্তি তাকে বলছেন, তুমি পত্র মারফৎ বসরার আমীরকে জানাও যে সে নবীজীর নামে প্রতিদিন রাতে একশত ও প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে চারশত বার দুরুদ পাঠ করত, কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সে তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে সে যেন তোমাকে চার’শত দিনার সদকা হিসেবে দিয়ে দেয়।

সকালে ঘুম থেকে উঠে ইসমাঈল এই অদ্ভূত সপ্নের কথা স্ত্রীকে বললেন। সবশুনে স্ত্রী বলল, নিশ্চয়ই আমাদের এই সন্তান পূণ্যবতী। সুতরাং তুমি অবশ্যই পত্র নিয়ে আমীরের কাছে যাবে। ইসমাঈল যেতে অনিচ্ছুক ছিলেন, কিন্তু স্ত্রীর পীড়াপীড়িতে তিনি আমীরের বাটিতে গেলেন। ঐ সময় বসরার আমীর ছিলেন ঈসা জাদান (Isa Zadhan)।

ইসমাঈল তার পত্রটি একজন কর্মচারীর হাতে দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন। এদিকে আমীর ঐ অদ্ভূত পত্র মনোযোগ দিয়ে পড়লেন। কেউ তার একান্ত ব্যক্তিগত কোন কর্ম ব্যর্থতার কথা পত্র মারফত স্মরণ করিয়ে দিতে পারে -এ ছিল তার নিকট চরম বিষ্ময়ের। তিনি তৎক্ষণাৎ ইসমাঈলকে ডেকে নিয়ে তার হাতে ৪০০ দিনার অর্পণ করলেন এবং বললেন যে, আগামীতে যদি তিনি কখনও কোন কিছুর প্রয়োজন বোধ করেন, তবে যেন অনুগ্রহ করে আমীরকে তা একবার অবহিত করেন। 

প্রাপ্ত দিনারে রাবেয়াদের পরিবারের অভাব অভিযোগ সাময়িক দূর হল। কিন্তু কিছুদিন পর তার মাতা মারা গেলেন। তারপর সে কৈশর পেরুনোর আগেই তার পিতাও মারা গেলেন। এরপর এল দূর্ভিক্ষ। এলাকায় হানা দিল একদল দূর্বৃত্ত। তারা গ্রাম থেকে নারী ও শিশুদের ধরে নিয়ে বাজারে বিক্রি করে দিল। রাবেয়াকে কিনে নিল এক ধনী ব্যক্তি এবং তাকে গৃহস্থলীর কাজে লাগিয়ে দিল। গৃহকর্তার বাড়ীতে অনেক রাত পর্যন্ত খানা-পিনার আসর বসত। অত:পর গভীর রাতে আসর শেষে সকলে বিদায় নিলে রাবেয়ার ফুসরত মিলত। এরপর সে বাকী রাতটুকু প্রার্থনা ও মোনাজাতের মধ্যে অতিবাহিত করত। এমনিই চলছিল।

একদিন অনেক রাতে গৃহকর্তার ঘুম ভাঙ্গল। তিনি বাড়ীর বাইরে এসে পায়চারি করতে লাগলেন। হঠাৎ তার নজরে এল রাবেয়ার কুঠিরে আলো জ্বলছে। এতরাতে তার কুঠিরে আলো জ্বলছে দেখে তিনি অবাক হলেন। কৌতুহলী হয়ে তিনি এগিয়ে গেলেন। তারপর নিকটবর্তী হলে তিনি রাবেয়ার প্রার্থনার ক্ষীণ শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি তার প্রার্থনায় মনোযোগ দিলেন। তার কানে ভেসে এল রাবেয়ার সকরুণ প্রার্থনা -"Lord! You know well that my keen desire is to carry out Your commandments and to serve Thee with all my heart, O light of my eyes. If I were free I would pass the whole day and night in prayers. But what should I do when you have made me a slave of a human being"?

গৃহকর্তা ফিরে এলেন। মেয়েটির ধর্মনিষ্ঠা তাকে বিষ্মিত করেছে। তিনি বাকী রাতটুকু তার চাল-চলন, আচার –আচরণের সাথে তার ধর্মনিষ্ঠা মিলিয়ে দেখলেন। এতে কোনভাবেই এমন একটি মেয়েকে দিয়ে বান্দীর কাজ করাতে তার বিবেক সায় দিল না। সুতরাং তিনি সকালে রাবেয়াকে ডেকে বললেন, ’তোমাকে দাসত্বের শৃংখল থেকে আমি মুক্ত করে দিলাম। তুমি স্বাধীন ভাবে যেখানে ইচ্ছে সেখানে চলে যেতে পার। আর যদি তোমার কোথাও যাবার জায়গা না থকে, তবে তুমি আমার এখানেও থাকতে পার, সেক্ষেত্রে তোমার যাবতীয় ব্যয়ভার আমার কাঁধেই থাকবে।’ 

নির্জনে একাকী খোদার নিকট অন্তর ঢেলে প্রার্থনা করার সাধ রাবেয়ার সব সময় ছিল। তাই তিনি বিনয়ের সাথে চলে যাবার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন। গৃহকর্তা তার ইচ্ছেতে সম্মান জানিয়ে সম্মতি দিলেন। তবে রাবেয়া কোথায় গিয়েছিলেন তা পরিস্কার নয়। হয়ত: তিনি কোন মরু এলাকায় গিয়েছিলেন অথবা তার পিতৃবাড়ীতে ফিরে গিয়ে একাকী বাস করেছিলেন। অবশ্য জীবনের শেষ কয়েকটি বৎসর তার জেরুজালেমে কেটেছিল বলে জানা যায়।

রাবেয়া আজীবন কুমারী ছিলেন। তার সুনামের জন্যে অনেকেই তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমনকি তার পাণিপ্রার্থীদের তালিকায় বসরার আমীরও ছিলেন। তবে সকল প্রস্তাবই রাবেয়া অতি বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এ কথা বলে যে তিনি তার ইহলৌকিক এ ক্ষুদ্র জীবন তার সৃষ্টিকর্তার তরে উৎসর্গ করে দিয়েছেন।

রাবেয়ার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল দিকে দিকে। তার কিছু নি:স্বার্থ নারী ও পুরুষ সেবকও জুটে গিয়েছিল। সম্ভবত: এরাই তার প্রয়োজনীয় সকল কিছুর আঞ্জাম দিত। এদেরই একজন হলেন হাসান আল বসরী।

রাবেয়ার সম্পর্কে অনেক কথাই প্রচলিত আছে। এগুলোর অনেক কাহিনী মিথ বা অতিরঞ্জিত হলেও হতে পারে। যেমন এক কাহিনী- একবার রাবেয়া হজ্জ্বের উদ্দেশ্যে এক কাফেলার সাথে যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে মরুর দাবাদহে তার গাধা প্রাণত্যাগ করে। তার সঙ্গীরা ঐ সময় তার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু রাবেয়া তাদের সাহায্য গ্রহণ করেননি, খোদার প্রতি তার অগাধ আস্থা ও বিশ্বাসের কারণে। তিনি তপ্ত মরুর পথ ধরে পায়ে হেঁটেই রওনা দেন। একসময় দিক হারিয়ে ক্ষুধা ও ক্লান্তি  জনিত কারণে মরুর বুকে অচেতন হয়ে মুখ থুবড়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে উঠে পথ চলতে শুরু করেন। কথিত আছে এসময় কা'বাকে তুলে এনে তার সামনে হাযির করা হয়েছিল। তিনি তখন বলেছিলেন, ’আমি পাথরের এই গৃহ দেখতে আসিনি। আমি গৃহের মালিকের সাক্ষাতে এসেছি।’
যাইহোক, তিনি মক্কাতে পৌঁছান এবং হজ্জ্ব সম্পন্ন করেই ফিরে আসেন। 

রাবেয়া বসরীর সমাধি।
অনেক বুজুর্গ ও সূফী ব্যক্তি রাবেয়ার সাক্ষাতে আসতেন। একদিন এমনি দু’জন মুসাফির তার বাটীতে এলেন। তাদেরকে বসান হয়েছিল সমাদরের সাথে। অতিথি দু'জন ক্ষুধার্ত ছিলেন। তারা দেখলেন দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে কিন্তু গৃহকর্তী তাদের আপ্যায়নের কোন ব্যবস্থা করছেন না। একসময় তারা অধৈর্য্য হয়ে বলেই ফেললেন- ’মা খাবার কি কিছু আছে?’
রাবেয়া তখন একটি পাত্রে দু’খানি রুটি এনে তাদের সামনে তা রাখলেন। অতিথিরা বুঝতে পারছিলেন না রুটি দু’খানি তাদের দু’জনের নাকি একজনের। এ কারণে তারা কেউই রুটির দিকে হাত বাড়ালেন না।

এ সময়ই দ্বারদেশে এক ভিখিরী হাঁক দিল-’মা জননী বড়ই ক্ষুধার্ত, দু’দিন ধরে অনাহারে আছি।’
রাবেয়া এ সময় ঐ রুটি দু’খানি তুলে নিয়ে ঐ ভিখিরীকে দিয়ে দিলেন। এতে অতিথিদ্বয় অবাক হলেন।

কিছুসময় পর এক দাসী এক পাত্রে রুটি ও এক পাত্রে কিছু মাংস নিয়ে এসে বলল, ’আমার কর্ত্রী এগুলি আপনার জন্যে পাঠিয়েছেন।’
রাবেয়া রুটির পাত্রটি হাতে নিয়ে সেগুলি গুনে দেখলেন। তারপর দাসীকে বললেন, ’এগুলি আমার নয় তুমি ফিরিয়ে নিয়ে যাও।’
দাসী সেগুলি নিয়ে চলে গেল। অতিথিদ্বয় এ ঘটনায় আরো অবাক হলেন।

 Mount of Olives.
কিছুসময় পর ঐ দাসী আবার এল, বলল, ’তিনি আরও দু’খানি রুটি দিয়েছেন এবং বিনীতভাবে এগুলি আপনাকে গ্রহণ করতে অনুরোধ করেছেন।’
এবার রাবেয়া সেগুলি নিলেন এবং অতিথিদের তা থেকে খেতে দিলেন।
এসময় অতিথিদ্বয় নিজেদের কৌতুহল আর চাপা রাখতে পারলেন না। তারা সমস্বরে বললেন, ’মা, কেন আপনি প্রথমবার এগুলো ফিরিয়ে দিলেন এবং পরে তা গ্রহণ করলেন?’

রাবেয়া বললেন, ’আপনারা ক্ষুধার্ত জেনেও আমি আপনাদেরকে আপ্যায়ন করতে পারছিলাম না। কারণ, ঘরে মাত্র দু’খানি রুটি ছিল, যা দিয়ে আপনাদের দু’জনের ক্ষুধা নিবারণ সম্ভব ছিল না। তাই আমি আপনাদেরকে খেতে দেইনি। কিন্তু যখন আপনারা চেয়ে বসলেন, আমি তখন নিতান্ত বাধ্য হয়ে রুটি দু’খানি আপনাদের সম্মুখে রেখেছিলাম। ঐ সময়ই ভিখিরী এল এবং তার ক্ষুধার কথা জানাল। তৎক্ষণাৎ আমার মনে পড়ল, খোদা বলেছেন দানের দশগুন পাওয়া যাবে। আর আমি তা পাবার আশায় সঙ্গে সঙ্গে রুটি দু’খানি তাকে দান করে দিলাম। 

Christian Church of the Ascension.
তারপর ঐ দাসী রুটি ও মাংস নিয়ে এল। আমি তখন রুটি গুনে দেখলাম সেগুলি খোদা আমার জন্যে পাঠিয়েছেন কিনা তা জানতে। কিন্তু রুটি ছিল আঠারটা, সুতরাং আমি নিশ্চিত হলাম ঐ রুটি আমার নয়, তাই তা ফেরৎ পাঠিয়ে দিলাম। পরে যখন দাসী ফিরে এল আরও দু’খানি রুটি নিয়ে, তখন আমি তা গ্রহণ করলাম।’

রাবেয়া দীর্ঘদিন বেঁচে ছিলেন। অনেকের মতে মৃত্যুর সাত বৎসর পূর্বে তিনি জেরুজালেমে আসেন এবং মাউন্ট অলিভে বসবাস করতে থাকেন। অত:পর নব্বুয়ের কাছাকাছি বয়সে ১৮৫হিজরী বা ৮০১সনে পরলোক গমন করেন। তার ভক্তগণ একটা সমাধি সৌধ তৈরী করেন যার উপস্থিতি এখনও রয়েছে মাউন্ট অলিভের চূড়ায় অবস্থিত Christian Church of the Ascension-এর নিকটে। 

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia.

১৫ মার্চ, ২০১৩

Blindmen: অন্ধের হস্তীদর্শণ ও বুদ্ধের উপদেশ- একটি বিক্ষিপ্ত ভাবনা।

ছোট এক গ্রামে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী অনেকগুলি পরিবার বাস করত। ধর্ম ভিন্ন হওয়ায় তাদের ধর্মীয় আচার-আচরণ যেমন ছিল ভিন্ন, তেমনি ভিন্ন ছিল তাদের দেবতাগুলিও। এমন কি কারো কারো একাধিক দেবতাও ছিল। এই সব লোকদের মধ্যে কোন একতা ছিল না। সর্বদাই তাদের মধ্যে বিবাদ লেগে থাকত তাদের দেবতা ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে। কেননা প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ ধর্ম এবং ধর্মীয় বিশ্বাসকে শ্রেষ্ঠ বলে প্রচার করত।  

বুদ্ধ.
এইসব লোকজন একদিন দল বেঁধে বুদ্ধের কাছে এল সত্যিকারভাবে খোদাকে দেখতে কেমন তা জানতে। বুদ্ধ (Buddha) তখন তার শিষ্যদেরকে একটা হাতী এবং কয়েকজন অন্ধ ব্যক্তিকে আনতে বললেন। তখন তার শিষ্যরা বড় একটা হাতী ও ছয়জন অন্ধব্যক্তিকে নিয়ে এল। বুদ্ধ অন্ধদেরকে বললেন, ’হাতী দেখতে কেমন তা-কি তোমরা জান?’
তারা বলল, ’না, কারণ আমরা কখনও হাতী দেখিনি।’
তখন বুদ্ধ বললেন, ’তোমাদের সামনে একটা হাতী রাখা আছে, সেটা দেখে তবে আমাদেরকে জানাও।’

অন্ধেরা ভাবল, আমাদের দৃষ্টি নেই তো কি হয়েছে, হাত তো আছে। হাত দিয়েই আমরা হাতীর আকার, আকৃতি ও প্রকৃতি জানতে পারব। তারা অনেকক্ষণ ধরে হাতী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করল, তারপর ঘোষণা করল- ’আমাদের হাতী দেখা শেষ হয়েছে।’
বুদ্ধ তখন বললেন, 'তোমাদের এক একজন করে গ্রামবাসীদেরকে জানাও হাতী দেখতে কেমন।’

ছয় অন্ধের হস্তীদর্শণ।
১ম ব্যক্তি হাতীর পা ধরে ছিল, সুতরাং সে বলল, ’হাতী দেখতে একদম গাছের মত।’
২য় ব্যক্তি হাতীর পেট ধরে ছিল, তাই সে বলল, ’হাতী আর কিছুই না, এটা এমন যেন একটা দেয়াল।’
৩য় ব্যক্তি হাতীর কান ধরে ছিল, তাই সে বলল, ’প্রকৃতপক্ষে হাতী একটা হাত পাখার মত।’

৪র্থ ব্যক্তি হাতীর লেজ ধরে ছিল, তাই সে বলল, ’দড়ি যেমন হাতী তেমন।’
৫ম ব্যক্তি হাতীর দাঁত ধরে ছিল, তাই সে বলল, ’হাতী হচ্ছে একটা বর্শার মত।’
৬ষ্ঠ ব্যক্তি ধরে ছিল হাতীর শুঢ়, তাই সে বলল, ’সাপ আর হাতী খুবই সদৃশ।’

সব শুনে বুদ্ধ গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে বললেন, ’ছয় অন্ধের সকলেই হাতীটি দেখল, কিন্তু দূর্ভাগ্য, তাদের সকলের বর্ণনাই ভিন্ন হল। যাইহোক, তোমরা এখন বল এদের মধ্যে কার উত্তরটা সঠিক?’
গ্রামবাসী বলল, ’তাদের কারো উত্তরই সঠিক নয়। যদিও তারা সত্য বলেছে।’

বুদ্ধ বললেন, 'তোমরা ঠিকই বলেছ, কিন্তু কেন এমন হল? কারণ তারা প্রত্যেকে হাতীর ভিন্ন ভিন্ন অংশ দেখেছে। অন্ধ হওয়াতে তারা কেউই পূর্ণ হাতীকে দেখতে সমর্থ নয়। এমনিই খোদা এবং ধর্ম। যে যেমন খোদা ও তাঁর গুণাবলি দেখেছে বা জেনেছে, সে তেমনি করেই নিজের বিশ্বাস তৈরী করে নিয়েছে, গড়ে নিয়েছে নিজের দেবতা। সুতরাং তোমাদের কারও উচিৎ নয় অন্যের ধর্ম ও বিশ্বাসে আঘাত করা।’

-বুদ্ধের উপদেশ আমরা শুনলাম। কিন্তু এই উপদেশে কি আমাদের পেট ভরবে, আমাদের চাহিদা মিটবে? তবে কি আমরা প্রকৃত সত্য তথা সত্যের সত্য খুঁজব না? অবশ্যই খুঁজব এবং যতক্ষণ না পাব খুঁজে ফিরব। আর তাই আমরা এ বিষয়ে অর্থাৎ 'সত্য কি?' সে সম্পর্কে রাজা বিক্রমাদিত্য ও দিবাকরের কথোপকথনটাও জেনে রাখব-  

রাজা বিক্রমাদিত্য.
বিক্রমাদিত্য: 'সত্য কি? যা বারবার বলা হয়, যা জোর দিয়ে বলা হয়, যা মান্যবরেরা বলেন বা অধিকাংশ লোক যা সমর্থন করেন?’
দিবাকর: 'কোনটিই না। প্রত্যেকের নিজস্ব সত্যের সংজ্ঞা রয়েছে আর তা শর্তাধীন।’
বিক্রমাদিত্য: 'তবে যা প্রচলিত রয়েছে? সেগুলো তো আমাদের পিতৃপুরুষ প্রতিষ্ঠিত, আর তা কি সময়ের পরীক্ষা পার করে আসেনি?'

দিবাকর: 'পরীক্ষা করলে কি পিতৃপুরুষদের প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি সত্য ধারণ করে? যদি না করে, 'I am not here to justify it for the sake of saving the traditional grace of the dead, irrespective of the wrath I may have to face'তিনি আরও বললেন, 'All doctrines are right in their own respective spheres- but if they encroach upon the province of other doctrines and try to refute their view, they are wrong. A man who holds the view of the cumulative character of truth never says that a particular view is right or that a particular view is wrong.'
-জটিল কথাবার্তা? তাহলে বরং আমরা রিফ্রেশের জন্যে জন গুডফ্রের অন্ধের হাতী দেখা নিয়ে লিখিত কবিতাটি শুনি-

The Blind Men and the Elephant.
                              ---John Godfrey Saxe.

John Godfrey Saxe.
IT was six men of Hindustan
To learning much inclined,
Who went to see the Elephant
(Though all of them were blind),
That each by observation
Might satisfy his mind.

The First approached the elephant,
And happening to fall
Against his broad and sturdy side,
At once began to bawl:
"God bless me!- but the Elephant
Is very like a wall!"

The Second, feeling of the tusk,
Cried: "Ho!- what have we here
So very round and smooth and sharp?
To me 't is mighty clear
This wonder of an Elephant
Is very like a spear!"

The Third approached the animal,
And happening to take
The squirming trunk within his hands,
Thus boldly up and spake:
"I see," quoth he, "the Elephant
Is very like a snake!"

The Fourth reached out his eager hand,
And felt about the knee.
"what most this wondrous beast like
Is mighty plain," quoth he;
"T is clear enough the Elephant 
Is very like a tree!"

The Fifth, who chanced to touch the ear,
Said: "E'en the blindest man
Can tell what this resembles most;
Deny the fact who can,
This marvel of an Elephant
Is very like a fan!"

The Sixth no sooner had begun
About the best to grope,
Than, seizing on the swinging tail
That fell within his scope,
"I see," quoth he, "the Elephant
Is very like a rope!"

And so these men of Hindustan
Disputed loud and long,
Each in his own opinion
Exceeding stiff and strong,
Though each was partly in the right,
And all were in the wrong!

So, oft in theologic wars
The disputants, I ween,
Rail on in utter ignorance
Of what each other mean,
And prate about an Elephant
Not one of them has seen!

কবিতাটিতে কি দেখলাম? পাদ্রি, পুরোহিত ও ঈমামদের নিজস্ব মতাদর্শ অন্ধ ও অজ্ঞের মত আঁকড়ে থাকার বিষয়ে আক্ষেপ করে বুদ্ধ যেমন বলেছিলেন-
"How they cling and wrangle, some who claim
For preacher and monk the honored name!
For, quarreling, each to his view they cling. 
Such folk see only one side of a thing."

ঠিক এমনি একটু উপদেশের কথা (moral) জুড়ে দিয়েছেন মি: গুডফ্রে তার কবিতার শেষ ৬ পংক্তির মাধ্যমে। কি! বোঝা গেল? যেখানে যাবেন সেখানেই উপদেশ। জ্ঞানী-গুণিদের সকলেই উপদেশ দেন্নেওয়ালা। উপদেশের হাত থেকে আমাদের মত নিম্নবুদ্ধি বৃত্তিক সাধারণ মানুষদের রেহাই নেই।

এক অন্ধ পথ দেখাছে পাঁচ অন্ধকে।
যাইহোক, জ্ঞানী-গূণিদের থেকে আমরাই বা কম কিসে? সুতরাং এখন আমরা আমাদের নিজস্ব মতামত দেই। প্রথমেই বলি অন্ধদের নিয়ে এতসব আলোচনা কেন? এরা কি কোন কাজের? এক অন্ধ তো আরেক অন্ধকেই পথ দেখাতে পারে না। কি সত্যি না? ধরেন, একজন অন্ধ পথ দেখাচ্ছে আরও পাঁচজনের। তারা একে অন্যের পিছে লাঠি আঁকড়ে ধরে সাঁরিবদ্ধ ভাবে পথ চলছে। তো সামনে এক গর্ত পড়ল। কি হল? সকলেই সেই গর্তে পড়ল একজনের উপর আরেকজন। যিশুও এমনটা বলেছেন, "If a blind person leads a blind person, both of them will fall into a hole."-Jesus, gospel of Thomas, 34. তাই বলছিলাম অন্ধরা সমাজের একটা জঞ্জাল ছাড়া কিছুই নয়।

তবে অন্ধেরা জঞ্জাল হলেও অন্ধের হাতী দেখার গল্পটি কিন্তু জঞ্জাল নয়। এ গল্পটি তো এখন রূপক হিসেবে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ঢুকে পড়েছে। পদার্থ বিজ্ঞানে এটা ওয়েভ পার্টিকেল ডুয়ালিটিতে উপমা হিসেবে দেখান হয়েছে। আবার বায়োলজিতে, পলিক্লোনাল বি সেল রেসপন্সের ক্ষেত্রে এটা একটা চমৎকার উপমা হিসেবে কাজ করে।

যাইহোক, আমাদের মত সাধারণ মানুষ যারা কেবল উপরের কবিতাটুকুই পড়েছি তাদের প্রতিক্রিয়া এখন আমরা দেখি-

--This is a fascinating and touching allegory of the presence of God.
-- It is showing people how stupid mankind can be.
-- It is anti-scholastic.
-- It is just a tale copied by Rumi from Sanai- ইত্যাদি।.

সব শেষে আমরা এই অন্ধের হাতি দেখা গল্পটি উল্টিয়ে দেই, দেখি কেমন হয়-

ছয় অন্ধ হাতী নিজেদের মধ্যে আলোচনা করল মানুষ কেমন দেখতে তা তারা সরেজমিনে পরীক্ষা করে দেখবে। তারা বিষয়টি মাহুতকে জানালে মাহুত তাদের সামনে শুয়ে পড়ল। The first blind Elephant felt the man and declared, "Men are flat." After the other Elephants felt the man, they agreed.

সমাপ্ত।

বি:দ্র: অনেকেই অন্ধকে জঞ্জাল বলাতে ক্ষেপে গেছেন আমার উপর, বলেছেন, 'হোমার কি জন্মান্ধ ছিল না? সে কি ইলিয়াদ রচনা করেনি? হলিউড বলিউডে অন্ধদের নিয়ে কি কম ছবি হয়েছে? সেসব কি বক্স অফিস মাতিয়ে ছাড়েনি? আপনে মিয়া, দুই খান চক্ষু নিয়া কি এমন ছিঁড়ে আঁটি বেঁধে ফেলেছেন, শুনি?'
--'ভাই-রে, মাফ কইরা দেন, ভুলে  কইয়া ফালাইছি।'

ছবি: Wikipedia, innovent.tv.

৯ মার্চ, ২০১৩

আনাল হক: মনসূর আল-হাল্লাজের সংক্ষিপ্ত জীবনী।

All those who are elevated by Your love
Are asleep in the fields of martyrdom.
Victory for them in the battle of two worlds
Is won through love,
All soldiers of love achieve martyrdom.

-------------
হাল্লাজের পুরো নাম হল আবু আল-মুজিদ আল-হুসাইন ইবনে মনসূর আল-হাল্লাজ।অদ্যাবধি, সূফীদের মধ্যে তিনি সর্বাপেক্ষা বিতর্কিত। তার জন্ম প্রাচীন পারস্যের ফার্স প্রদেশের মদিনা আল-বাইদা নামের ছোট্ট এক গ্রামে ৮৫৮ সাল বা হিজরী ২৪৪ সনের দিকে। তার পিতা আল-হাল্লাজ, ছিলেন একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম। ধারণা করা হয়, তিনি তুলা বা পশমের কারবারের সাথে জড়িত ছিলেন (কেননা, আল-হাল্লাজ অর্থ তুলাধূণী)। আর তিনি ২৪৯ থেকে ২৫৩ হিজরীর কোন এক সময়ে তার পুরো পরিবার নিয়ে ইরাকের ওয়াজিতের আরব কলোনীতে গিয়ে আবাস গড়ে তোলেন।

বাল্যকাল থেকেই অসম্ভব মেধাবী ছিলেন মনসূর। মাত্র বার বৎসর বয়সে তিনি ওয়াজিত (Wasit)-এর এক মাদ্রাসা (ওয়াজিতের মসজিদগুলোর সাথে সংযুক্ত ছিল কোরআন ও হাদিস শিক্ষার জন্য মাদ্রাসাগুলো) থেকে কোরআনে হাফেজ হন। তার সম্পর্কে কথিত আছে যে, তিনি কোরআনে হাফেজ হন কেবল তার মরমী উপলব্ধি থেকে। আর তাই তিনি অচিরেই সূফীবাদে দীক্ষিত হয়েছিলেন।

পারস্যের ফার্স প্রদেশ।
১৮ বৎসর বয়সের সময় হাল্লাজ তুস্তারে গমন করে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন সূফী শাহল আল-তুস্তারীর- পুরো নাম শাহল ইবনে আবদ আল্লা আল-তুস্তারী। এই তুস্তারী বিখ্যাত তার এই বিতর্কিত উক্তির জন্যে- "I am the Proof of God for the created beings and I am a proof for the saints (awliya) of my time".

তুস্তারে দু'বৎসর অবস্থান করে হাল্লাজ বাগদাদে গমন করেন এবং সেখান থেকে বসরায়। এই বসরাতে তিনি শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন সূফী আমর মক্কীর পুরো নাম আমর ইবনে ওসমান আল-মক্কী। এখানে তিনি গুরু আমরের সাহচর্যে দেড়/দু’বৎসর (৮৭৪-৭৬ সন বা ২৬০-৬২ হিজরী) অতিবাহিত করেন। ঐ সময় তিনি বিবাহ করেন সূফী ইয়াকুব আল-আকতা কার্নাবাইয়ের কন্যা উম্মুল হুসনাইনকে। আর ঐ বিবাহের দরুণ গুরু আমর তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন। ম্যাসিগনন বলেন- Makki‘s main fortune had been made with the caravans toward Mecca, and it may be due to this business that the rupture between Hallaj and his pir happened. The quarrel began with the marriage of Mansur with Umm al-Husayn, daughter of Abū Ya’qūb Aqta Basri. He was an ally of the Zanj rebels, who were threatening the passage of the Mecca hajj around Basra. When Mansur married, he was in the middle of a dispute between his father-in-law and his master. Professor Schimmel, moreover, affirms that the clash between the two mystics had been caused by the jealousy of Makki for Hallaj married the daughter of the rival. -[Schimmel, Mystical dimensions of Islam. p. 66].

অন্য একটি মজার তথ্য দিয়েছেন প্রফেসর এম এ হক আনসারী, who sustains, even though not pointing at any specific source, that Makki had been worried about Hallaj’s personal involvement with the Karnabā’i family, because this would have led, as it probably happened, to progressive detachment from Mansur’s spiritual progress.-(Ansari, M. Abdul Haq... Ḥusayn ibn Manṣūr al-Hallāj: Ideas of an ecstatic. Islamic Studies )।
 তবে কারও কারও মতে আমর অসন্তুষ্ট নন বরং হাল্লাজকে পরিত্যাগ করেছিলেন এবং তা ভিন্ন কারণে। একবার হাল্লাজ তার কোরআন পাঠ শুনে বলে ওঠেন- “আমিও ঐ রকম লিখতে পারি।” আর একথা শ্রবণমাত্রই আমর তাকে পরিত্যাগ করেন।


কথিত আছে- এ সময় হাল্লাজ বাগদাদের বিখ্যাত সূফী জুনায়েদ বাগদাদী,. পুরো নাম জুনায়েদ ইবনে মুহম্মদ আবু আল-কাশিম আল-খাজ্জাজ আল-বাগদাদীর পরামর্শ চান।বাগদাদী only replied to be calm and wait. হাল্লাজ কিছুকাল জুনায়েদের সঙ্গ লাভ করেন, তারপর তিনি হেজাজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

সূফী শব্দটি এসেছে ’সূফ’ থেকে যার অর্থ পশম। যারা খোদার খোঁজে বের হতেন সংসার ত্যাগী বা বিবাগী হয়ে এবং মোটা পশমী বস্ত্র পরিধান করে সন্ন্যাস জীবন-যাপন করতেন মূলত: তারাই সূফী হিসেবে পরিচিত হতেন। অনেকের মতে সূফী শব্দের উৎপত্তি সাফা হতে, যার অর্থ পবিত্রতা। তাদের মতে সংসার ত্যাগী খোদা প্রেমী ব্যক্তিগণ কায়মনোবাক্যে জাগতিক সকল পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত থাকতেন বলেই তারা সূফী। অবশ্য কিছুলোক বলেন ’আসহাবে সুফ্ফা’ থেকে সূফী শব্দের উৎপত্তি। উল্লেখ্য ’আসহাবে সূফফা’ ছিলেন তারাই যারা বিয়ে-শাদী না করে মসজিদে নব্বীতে আল্লাহর এবাদত ও ধ্যানে মশগুল থাকতেন। (অবশ্য সুফীর সংজ্ঞা আবু হাফস দিয়েছেন ভিন্নভাবে, তার মতে, a Sufi is he who does not ask who a Sufi is.)

সুতরাং বলা যায় জাগতিক কামনা-বাসনা মুক্ত সেইসব মহাপুরুষ যারা ধ্যান-জ্ঞানের মাধ্যমে বহুত্বকে অতিক্রম করে একক মহাসত্যকে খুঁজে পেয়েছেন এবং নিজ "আমিত্ব" এর বিনাশ সাধন করতে পেরেছেন, তারাই সূফী, তারাই পূর্ণমানব তথা সিদ্ধপুরুষ। মহাসত্যের আলোকে তাদের আত্মা আলোকিত। অর্থাৎ তাদের আত্মা মহা সত্ত্বায় বিলীন তেমনিভাবে যেমনি করে জল মিশে যায় শূরার সাথে।

আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী বাগদাদ।
বিশ বৎসর সূফী সাধনার পর আল-হাল্লাজ ২৭০ হিজরীতে মক্কায় যান হ্জ্জ্বব্রত সম্পন্ন করতে। সেখানে তিনি খোলা আকাশের নীচে কাবাকে কেবলা করে আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতার জন্যে বৎসরাধিক কাল রোজা ও মৌণতার মধ্যে এক কঠোর সাধনায় লিপ্ত হন।

পুরো বৎসরই তিনি খোলা মাথায় নগ্ন পদে কা’বার সম্মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন। এ সময় প্রতিদিন এক ব্যক্তি কয়েকটি রুটি ও এক জগ পানি তার সামনে রেখে যেতেন। হাল্লাজ কদাচিৎ রুটির কিছু অংশ খেতেন বা সামান্য পানি পান করতেন। ফলে তার শরীর শুকিয়ে হাড্ডি সর্বস্ব হয়ে যায়। 

মক্কাবাসীরা এ ধরণের দৃশ্যের সাথে কখনও পরিচিত ছিল না। সুতরাং তারা হাল্লাজের চারিপাশে ভীড় জমাত। এসময় ইয়াকুব -ই-না’রাজুরি 
হাল্লাজকে একজন জাদুকর- মানষিক বিকারগ্রস্থ ও ধর্মবিরোধী হিসেবে সর্বসাধারণের মাঝে প্রচার করে। এতে লোকেরা তাকে জাদুকর ভেবে নেয়। আর সলামে জাদু নিষিদ্ধ ও জাদুকরদের পরকালের প্রাপ্তি শূন্য ঘোষিত থাকায়, তারা নানা উপায়ে তাকে উত্যক্ত করতে শুরু করে। এতে ক্ষুব্ধ হাল্লাজ প্রকাশ্যে চিৎকার করে খোদার কাছে অভিযোগ করতেন- কখনও বলতেন, "O Lord. You are the guide of all those who pass through the valley of bewilderment. If I am a heretic, then increase my heresy Lord." কিন্তু গভীর রাতের একাকীত্বে তার প্রার্থনা ছিল আবেগময়, কৃতজ্ঞতায় ভরা- "O Lord. I know and worship none besides you. I am so grateful for the gifts that you have bestowed upon me, and my tongue cannot express my gratitude for them.O lord!thank yourself on my behalf."

মক্কা থেকে বাগদাদে ফিরে হাল্লাজ began to develop the idea that after he had surrendered his heart to the Nutq, the “vital utterance of the inmost divine creative liberty”, he had to overcome the traditionalists and oppose the secrecy of the Sufi.  In the following years, around 272 and 273, he metaphorically unclothed the khalida symbolising the rupture with the Sufi community, and he developed a new rhetoric based on ideas and protest. In the same period he was arrested for the first time. After the prison he departed for his first “apostolic journey” trough the caliphate, and in 280 he made his second hajj, followed by a great number of disciples (কথিত আছে ঐ সময় তার সঙ্গী ছিল প্রায় চার হাজারের মত শিষ্য।). These were years of great travelling and preaching and it has been said that during his journeys he was named Hallaj, the carder of the hearts, for his ability to understand the inner movement of the hearts.  Massignon, Life vol.1 p. 27 

২৮৪ হিজরীতে হাল্লাজ দিক ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন, which was an attempt to convert the “infidels” and to preach the Word until the borders of the world. তিনি ভারত হয়ে চীন পর্যন্ত গিয়েছিলেন। এই ভ্রমণপথে তিনি অনেক শিষ্য লাভ করেন। এসব শিষ্যের অনেকে তার ৩য় বারের হজ্জ্বব্রত সম্পন্নের সময় সঙ্গী হয়েছিল। কথিত আছে, ৯০২ সনে ৩য় ও শেষবারের মত হজ্জ্বব্রত পালনের সময় তিনি মাউন্ট আরাফাতে খোদার নিকট প্রার্থনা করেন যেন তিনি তাকে অনস্তিত্বে পর্যবসিত করেন। এই আরাফাত সেইস্থান যেখানে রসুলুল্লাহ বিদায় হজ্জ্বের ভাষণ দিয়েছিলেন, যেখানে ইব্রাহিম খোদার আদেশ পালনে পুত্র ইসমাইলকে নৈবদ্য হিসেবে খোদার তরে উৎসর্গ করেছিলেন।

In 295/908 al-Muqtadir bi-Allah (895-932) was appointed new Abbasid caliph in Baghdad at the age of thirteen, and, at the same time, the Hallajian preaching reached the final maturity. He realised that the only way to fulfil God’s will was to become a “martyr of love”. Sufis have been for long dwelling upon the idea of pain and love. The more you suffer and the more you are “closer” to God.-(Schimmel, Mystical dimensions of Islam, p.136) Hallaj, in a prophetical way, was influenced by these thoughts when he wrote “Kill me O my trusted ones/In my dying is my living” -(al-Hallaj, Diwan, 11), because “you will be rewarded for you will in this way have fought for the faith, and I will die as a martyr”.-(Akhbār al-Hallaj,50.) His drastic approach to the martyrdom has been interpreted as the “decisive proof” of love, not only for God, but, most of all, for the Muslim community “happy to die by the hands of those whom he desired to save”, inasmuch that God could not have punish them, because he pardoned them all.-(Massignon, Teachings vol.3 p. 213.) Standing in front of the gibbet he prayed: 

“Here are these people, Your worshippers, they are gathered to kill me, out of zeal for You, to be pleasing You...pardon them! If you have revealed to them what You have revealed me, they would not be doing what they are doing, and if You had hidden from me what You have hidden from them, I would not be going through the ordeal that I am undergoing” -(Akhbār al-Hallaj, 1).


This is crucial to understand Mansur. Actually, it may be possible to argue that  his theory of the light, the centralisation of the hearts, the public ecstatic utterances and his “suicidal” preaching were all aimed to the last goal : the salvation of the Community by opening the hearts through revealing the secrets of the mystical experience. In doing so, though, Hallaj attracted both admirers and detractors.


অবশেষে মনসূর আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী বাগদাদে ঘাঁটি গাড়লেন। অন্যান্য সূফীদের থেকে তিনি একটু ব্যতিক্রম ছিলেন। অন্যরা সূফীবাদের গোপন তত্ত্ব বা অতীন্দ্রিয়বাদ সর্ব সাধারণের নিকট প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন। কিন্তু হাল্লাজ তা উপেক্ষা করেন। তিনি তার লেখনী ও অন্যান্য শিক্ষার মাধ্যমে তা সকলের মাঝে প্রচার ও প্রসার অব্যাহত রাখেন। এতে তিনি পরিচিতি পেলেন- 'Hallaj, the Master of Secrets' একই সাথে এর দ্বারাই তিনি নিজের অজান্তে অনেক শত্রু তৈরী করে ফেলেন।

মনসূর হাল্লাজ প্রায়শ: ধ্যানে মগ্ন হয়ে পড়তেন। এভাবে একদিন গভীর রাতে ধ্যানে মগ্ন অবস্থায় তিনি দেখতে পেলেন এক জ্যোতির্ময় পুরুষ তার সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকক্ষণ সেই জ্যোতির্ময় পুরুষের দিকে তাকিয়ে থেকে অত:পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন-’তুমি কে?’ উত্তর এল- ’আনাল হক’ অর্থ আমিই সত্য। জ্যোতির্ময় পুরুষ অদৃশ্য হলেন, কিন্তু মনসূরের মুখ থেকে তাঁর উচ্চারিত বাক্যটি প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।

বাগদাদ।
’আনাল হক’ অর্থ আমিই খোদা। কেননা ’আল-হক’ (সত্য) হচ্ছে খোদার ৯৯টি নামের একটি। সুতরাং শিষ্যরা তার কাছে এর ব্যাখ্যা দাবী করে। তখন তিনি বলেছিলেন- ’There is nothing wrapped in my turban but God.-লোকেরা বিষ্মিত হল। তখন তিনি একইভাবে নিজের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন- "মা ফি জুবাতি ইল্লাল্লাহ"।
   
খোদার স্বরূপ নিয়ে আধুনিক থিওলোজিয়ানদের মধ্যেও বিতর্কের শেষ নেই আবার এমনকি এক লক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গম্বরের শেষজনও চলে যাবার পর কিছু মানুষ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়েও আজও সন্দেহ পোষণ করে। যাহোক এ পর্যায়ে হাল্লাজের মনোস্তত্ত্ব বুঝতে তার বর্ণিত সৃষ্টিকর্তার স্বরূপ আমরা জেনে নেই- 

God

-Al Hallaj 
-Arberry, A.J., The Doctrine of the Sufis

"Before" does not outstrip Him,

"after" does not interrupt Him
"of" does not vie with Him for precedence
"from" does not accord with Him
"to" does not join with Him
"in" does not inhabit Him
"when" does not stop Him
"if" does not consult with Him
"over" does not overshadow 

Him "under" does not support Him

"opposite" does not face Him
"with" does not press Him
"behind" does not limit Him
"previous" does not display Him
"after" does not cause Him to pass away
"all" does not unite Him
"is" does not bring Him into being
"is not" does not deprive Him from Being.

Concealment does not veil Him

His pre-existence preceded time,
His being preceded non-being,
His eternity preceded limit.
If thou sayest 'when', 
His existing has outstripped time;

If thou sayest 'before', before is after Him;

If thou sayest 'he', 'h' and 'e' are His creation;
If thou sayest 'how', His essence is veiled from description;
If thou sayest 'where', His being preceded space;
If thou sayest 'ipseity' (ma huwa),

His ipseity (huwiwah) is apart from things. 

Other than He cannot
be qualified by two (opposite) qualities at
one time; yet With Him they do not create opposition.
He is hidden in His manifestation, 
manifest in His concealing. 
He is outward and inward,
near and far; and in this respect He is
removed beyond the resemblance of creation.

He acts without contact,

instructs without meeting,
guides without pointing.
Desires do not conflict with Him,
thoughts do not mingle with Him:
His essence is without qualification (takyeef),
His action without effort (takleef).

ই হচ্ছে খোদার স্বরূপ হাল্লাজের দৃষ্টিতে। আর তিনি তার আল তাওসিন কিতাবে বলেছেন-“If you do not recognize God, at least recognize His sign, I am the creative truth -Ana al-Haqq-, because through the truth, I am eternal truth”. -(তাওসিন, ৬:২৪)। 


অতি অদ্ভূত প্রকৃতির ছিলেন হাল্লাজ। বিশ বৎসর ধরে তিনি একই পোষাক পরিধান করে আসছিলেন। অার সেই জোব্বা বা আলখেল্লা কালের প্রবাহে শতছিন্ন হয়ে পড়েছিল, ফলে তাতে যুক্ত হয়েছিল তাপ্পির পর তাপ্পি। হাল্লাজ কখনও তার পোষাক পরিবর্তণের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাননি। আর তার শিষ্যদের কেউও তাকে তা পরিবর্তণে সম্মত করাতে পারেননি। তখন তার শিষ্যদের কয়েকজন পরিকল্পণা করেন যে, জোরপূর্বক তার জোব্বা খুলে ফেলে তাকে একটা নতুন পোষাক পরিধান করিয়ে দেবেন। আর যখন তারা তার পোষাক খুলে ফেলেন, তখন দেখতে পান একটা বড় বিচ্ছু তাতে বাসা বেঁধেছে। হাল্লাজ তাদেরকে বলেন যে, ঐ বিচ্ছুটি তার সঙ্গী যে বন্ধুর মত বিগত ২০ বৎসর ধরে তার পোষাকের মধ্যে বসবাস করে আসছে। আর তিনি বিচ্ছুসহ তার পোষাকটি ফিরিয়ে দিতে তাদেরকে অনুরোধ করেন। তারা সেটি তাকে ফিরিয়ে দেন।

যা বলছিলাম, হাল্লাজের “আমি খোদা” বলা কি শিরক নয়? ফেরাউন নমরূদ তো এমনটাই দাবী করেছিলেন। এর ব্যাখ্যায় জালাল উদ্দিন রুমী বলেন- “মনসূর আল-হাল্লাজ “আমি খোদা” বলেছিলেন খোদার সামনে নিজের আমিত্ব মেটানোর জন্যে, আর ফেরাউন “আমি খোদা” বলেছিলেন নিজের আমিত্বের সামনে খোদাকে মেটানোর জন্যে।” -হাল্লাজের এ আমিত্ব মেটানোর বিষয়টি আরো পরিস্কারভাবে বুঝতে আমরা নিম্নস্থ কোরআনের আয়াতটির প্রতি নজর দে

আর তুমি মাটির ঢিলা নিক্ষেপ করনি, যখন তা নিক্ষেপ করেছিলে বরং তা নিক্ষেপ করেছিলেন আল্লাহ স্বয়ং।”-(৮:১৭) এ আয়াতটি উল্লেখিত হয়েছে বদর যুদ্ধের ঐ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যখন নবীজী একটি মাটির ঢিলা নিক্ষেপ করেছিলেন শত্রুপক্ষের দিকে।


পৌত্তলিক কুরাইশগণ বৃহৎ এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে নিবেদিত প্রাণ ক্ষুদ্র একটি দলকে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে মদিনার দিকে সদর্পে আক্রমণে এগিয়ে এলে, নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে নবী মুহম্মদ তার স্বল্প কিছু অনুসারী নিয়ে তাদেরকে প্রতিহতের জন্যে অগ্রসর হয়ে বদর প্রান্তে পৌঁছে দেখতে পান আগত দলটি তাদের অপেক্ষায় রয়েছে। অত:পর ফজরের নামাজ শেষে সংখ্যা ও শক্তিতে বলীয়ান শত্রুগণের সদর্প উপস্থিতি ও দম্ভভরা উক্তির মুখে ক্ষুদ্র ঐ বাহিনী কেবল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের উপর বিশ্বাসের মনোবল নিয়ে নির্ভিক চিত্তে যুদ্ধের জন্য সাঁরিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যায়। তখন নবীজী নিজেদের সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতার বিষয়টি খোদার নিকট তুলে ধরে তাঁর সাহায্য ও সহযোগীতা এবং করুণা লাভের আশায় মোনাজাতে বসেন। সেসময় কুরাইশ বাহিনী যুদ্ধে অনভিজ্ঞ, নিতান্ত চাষাভূষো শ্রেণীর, সাঁজ-সজ্জ্বাহীন, মামুলি অস্ত্র নিয়ে সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলোর দিকে করুণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছিল আর মনে মনে আফসোস করছিল এই ভেবে যে- নির্বোধ ঐসব হতভাগারা কোনদিন জানতেও পারবে না যে, তাদের ধর্মই প্রতারণার মাধ্যমে তাদের জীবনগুলো কেড়ে নিয়েছে! আর তারা যখন এসব ভাবছিল ঠিক তখন নবীজী তার মোনাজাত শেষ করে উল্লেখিত মাটির ঢিলাটি শত্রুপক্ষের দিকে নিক্ষেপ করেন। আর ঐ সময় তার আকাংখা ও চাওয়া খোদায়ী সত্ত্বার ইচ্ছে ও চাওয়ার সাথে একীভূত হয়েছিল আয়াতটি তার
ই প্রমান জানান দিচ্ছে।


এ আয়াতটির অর্থ সরাসরি কেউ বললে সব মানুষ তার গভীর তাৎপর্য বুঝবে না মানুষের যুক্তিবাদী মনের সীমাবদ্ধতার কারণে। ফলে তারা সেটিকে ভিন্নার্থে নিয়ে তাকে হেরেটিক হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবে- যা হাল্লাজের ক্ষেত্রে হয়েছে। 


As a matter of facts, Mansur’s sentence generated a bitter response from a large part of the population who believed to have heard the words of a heretic. ঈমাম গাজ্জালী এ বিষয়টির ব্যাখ্যায় বলেন- "এটা হচ্ছে সদ্য বিবাহিত বন্ধুর কাছে এক নপুংশকের- ’বাসর রাতটি কেমন কাটল?’ জানতে চাওয়ায়- “আহা! আমি তো সাত আসমানে উড়ছিলাম।” উত্তর পাওয়ার মত বিষয়। কিন্তু খোদার অপার করূণা বঞ্চিত ঐ নপুংশক তার বন্ধুর স্বর্গসুখ কিভাবে অনুধাবন করবে? 


মূলত: হাল্লাজের কথায় যে সত্য ছিল তা গাজ্জালী অস্বীকার করেননি বরং তিনি এমন অভিমত দেন, যেহেতু খোদাই সত্য এবং তিনিই তিনি যার অধিকার আছে কেবল এ দাবী করার, আর তাই বলা যায় “আমি” হাল্লাজের নিজের কথা ছিল না।
তবে ঐশ্বরিক গোপনীয়তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে থাকায় হাল্লাজের মৃত্যুদন্ড সঠিক ছিল বলে মনে করেন গাজ্জালী। যা হোক, কাহিনীতে ফিরি- 

মনসূর আল হাল্লাজ এসময় তার গুরু জুনায়েদ বাগদাদীর সাথে সাক্ষাতে তার বাড়ীতে যান। তিনি যখন তার বাড়ীতে পৌঁছেন তখন মধ্যরাত। দরজায় করাঘাত শুনে ভিতর থেকে জুনায়েদ তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন- “আনা আল হক”। গুরু শিষ্যের মধ্যে বাক-বিতন্ডা শুরু হল। 

It has been accounted that at the reception of Junayd’s house, the twenty-year old Hallaj asked to the Sufi what was the difference between the Khalida, individual nature, and the Rusūm al-tab, the divine nature. The disagreement exposed by Mansur had already been discussed in Hellenistic circles, and it is a matter of a free thinker, not the one of a simple murid. The young Hallaj longed to understand the difference between the khalida, unification of personal characteristics (khulq) and free will (salīqa), and the Rusūm al-Tab, unification of the Tabī’a, the nature common to all the beings (the Greek physis) and the Rusūm, which are the traces of the divine “creative energy” (in contrast with the individualistic man). Such a question deserves an accurate analysis in the light of the first formation of Hallaj with Sahl and his theory of the pre-existing light of the Prophet inside the man. In any case, Junayd saw in these words only imprudent curiosity and prophesised to Hallaj that he would have stained the gibbet. -Schimmel, Mystical dimensions of Islam. p. 107.


আর যখন গুরু জুনায়েদ হাল্লাজকে সতর্ক করে বলে ওঠেন, “হয়ত: এমন সময় আসছে যখন তুমি কাঠের এক টুকরোয় রক্তের দাগ লাগাবে।” -তিনি মূলত: হাল্লাজের পরিণতির প্রতি ঙ্গিত করে একথা বলেন। উত্তরে হাল্লাজ গুরু জুনায়েদের পোষাকের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, “আর যখন এ ঘটবে, তখন আপনাকে এ জোব্বা (সূফী পোষাক) নয় বরং কালো গাউনে নিজেকে ঢাকতে হবে।” যাইহোক, এ বাক-বিতন্ডার পর মনসূর পরিত্যাগ করেন তার সকল গুরুদেরকে। 


The disputes between Abū’ l-Qāsim al-Junayd (d.910), one of the greatest Sufi of the early period, and Husayn was grounded upon a wider conflict. It may be possible to represent Junayd and Hallaj as two faces of the same coin. Their disagreement was not only a matter of mere theory, but, broadening the picture, we may represent this clash as the common sense (Junayd) against the “individualistic ideals” embodied in Mansur. For it is possible to detect several points of rupture which surely do not concern only doctrinal issues, but also pedagogy, respect for the authorities and personal divergences.


The basic analysis has to begin with the distinction between the “two schismatic interpretations of the nature and role of fanā and baqā” represented in the School of Baghdad, indicative of the Sobriety (sahw) in the mystical experience; and the School of Khurāsān, indicative of the Intoxication (sukr) in the mystical experience. -(Wilcox Andrew. 2011. The dual mystical concepts of fanā' and baqā' in early Sufism). Needless to say, Junayd was the finest representative of the former, while Hallaj has been regarded as the intoxicated par excellence.  


To better understand the differences between Mansur and Junayd we must, first of all, detect the doctrinal divergence among the Sufis of these schools. The concepts of fanā and baqā are extremely important in Sufism. In general lines, fanā means “total nullification of ego-consciousness”, while baqā means persistence in the contemplation of God. -(Schimmel, Mystical dimensions of Islam, p. 143.) In the Qur’ānic tradition (55:26 Surah ar-Rahmān), the world is described as fānin, perishing, whilst the “Face of God” is yabqā, eternal. The perishing creation has consequently no true reality but God, and, moreover, the created world is continuously passing through Him. The Mystic looks at this process, and does not seek the physical death, but the unification with the only True Reality (al-Haqq), God. Fanā e baqā are ramification from one of the grounding concept of Islam, the Unity of God (tawhīd). It is the starting point of Islamic monotheism and it states the absoluteness (omnipresence, omniscience and omnipotence) of deity.

যা হোক, নিজেকে খোদা দাবী করছেন হাল্লাজ! এ তো শিরক, ইসলাম ও প্রচলিত বিশ্বাস বিরোধী! তিনি তো মানুষকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছেন, তাদেরকে চরম সর্বনাশের পথে পরিচালিত করছেন। সুতরাং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হল। প্রকৃতপক্ষে, একদল গোঁড়াপন্থী মুসলিম তার বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহিতার ঐ অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছিল খলিফার দরবারে। তৎকালীন খলিফা ছিলেন মুক্তাদির বিল্লাহ। আপাত:দৃষ্টিতে শরীয়তের আলোকে অভিযোগ গুরুতর এতে কারো কোন সন্দেহ ছিল না। সুতরাং খলিফা তাকে গ্রেফতার করতে নির্দেশ দিলেন। হাল্লাজ ধৃত হয়ে বাগদাদের কারাগারে বন্দী রইলেন দীর্ঘ ১১টি বৎসর।

 জেলখানায় হাল্লাজ।
কথিত আছে, বন্দী হবার ১ম দিন হাল্লাজ জেলখানা থেকে অদৃশ্য হয়ে যান। ২য় দিন পুরো জেলখানাই অদৃশ্য হয়ে যায়। ৩য় দিন সবকিছু আগের মত দৃশ্যমান হয়। তারপর যখন কারাকর্মকর্তা তাকে পূর্বের মতই তার কারাকক্ষে বন্দী অবস্থায় দেখতে পেলেন তখন হতবাক হয়ে তাকে বলেছিলেন,“ওহে মুনসূর, What magic is this?” 

যাইহোক, এ ঘটনায় সমগ্র বাগদাদ জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। জুনায়েদ বাগদাদী সহ অনেক ধর্মীয় নেতা ছুটে যান তার কাছে, ব্যাখ্যা চান ঘটনার। হাল্লাজ ব্যাখ্যা দেন- “১ম দিন আমি গিয়েছিলাম খোদার সাক্ষাতে, তাই আমি দৃশ্যমান ছিলাম না। আর ২য় দিন খোদা এসেছিলেন আমায় দেখতে। আর তাই তাঁর নূরের তাজ্জ্যালিতে কোনকিছুই দৃশ্যমান ছিল না।”

এই ঘটনার পর জেলখানার রক্ষী ও কয়েদী সকলেই মনসূরের শিষ্য হয়ে গেল। ঐ জেলখানায় হাল্লাজ এক বৎসরের মত ছিলেন। আর ঐ বৎসরের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রচুর দর্শনার্থী নিয়মিত তার সাক্ষাতে আসত। কিন্তু, খলিফা যখন এ বিষয়টি জানতে পারেন, তখন তিনি আদেশজারী করেন যে, এরপর কোনভাবেই কেউ হাল্লাজের সাক্ষাৎপ্রার্থী হতে পারবে না। এ সময়কালের কোন এক সময় হাল্লাজের প্রতি সহানুভূতিশীল এক সূফী ইবনে আতা তাকে একটি বার্তা পাঠান, যাতে প্রচলিত বিশ্বাস ও ধর্মবিরোধী তার বক্তব্যের জন্যে তাকে অনুশোচনা করতে বলা হয়, যাতে করে তিনি খলিফার ক্ষমা লাভ করতে পারেন। বার্তাবাহকের কাছে হাল্লাজের উত্তর দিয়েছিলেন:“যিনি এ মেসেজ পাঠিয়েছেন বরং তাকে গিয়ে ক্ষমা চা্তে বল।”

ইবনে আতা একথা জানতে পেরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং বলেন: "We, who believe we are true servants of the Lord, are not even worthy of one splinter of the light that He casts upon Hallaj."

মনসূর আল হাল্লাজ-এর ফাঁসি।
খলিফার আদেশে বিচার শুরু হল হাল্লাজের। শরীয়ত আবমাননার দায়ে শর্ত সাপেক্ষে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার আদেশ দেয়া হয়। এই শর্ত আরোপের কারণ এ্ই যে, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের স্বপক্ষে কোন স্বাক্ষী ছিল না। তাই ১০১ জন আলেমের সম্মতি সাপেক্ষে রায় কার্যকরী করার নির্দেশ হয়েছিল। 

তবে হাল্লাজের বিরুদ্ধে কেবল শরীয়ত অবমাননার (আনাল হক বলা যার অর্থ exactly “I am the Truth”) অভিযোগই নয়, তার বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ আনা হয়েছিল। According to Professor Ernst, an specialist in Islamic Studies, he was pinned down after his prosecutors discovered a handwriting document of Hallaj that recommended- "Those, who were unable to afford Hajj pilgrimage could construct a model of Kaaba at home and perform circumambulation (tawaf) and give alms to poor and feed some orphans and they would have completed the Hajj."

"At that point one of the judges turned to Hallaj and said in Arabic 'damuka halal,' that is, your blood may legally be shed. In other words, now we have you," said Professor Ernst, "But then Hallaj told,-"I found this in the writings of Hasan al-Basri," -so, that was a kind of technicality, but he was given no opportunity to explain or repent."

“Thou who blames me for my desire of him, how great is your blame!
If you only knew Him of whom I would speak,
you would not blame me.
Other men go away for their pilgrimage, but my pilgrimage is toward the place where I am.
Other men offer sacrifices, but my sacrifice is my own heart and blood.
They physically circumambulate the temple,
but were they to proceed reverently around God Himself,
they would not need to go around a sacred building”. -(Diwan al-Hallaj, 85)

পরিহাসের বিষয় এই যে, বাগদাদের এই কাজী ছিলেন মনসূরেরই গুরু জুনায়েদ বাগদাদী (তবে ফরিদ উদ্দিন আত্তার এমন দাবী করলেও, Carl Earnst, তার "Words of Ecstasy in Sufism" পুস্তকে এটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, কেননা প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে জুনায়েদ বাগদাদী মারা যান ৯১০ সনে অন্যদিকে হাল্লাজের মৃত্যুদন্ড কার্য়কর করা হয় ৯২২সনে)। তিনি সর্বপ্রথম স্বাক্ষর দিয়ে বলেছিলেন, “আপাত: দৃষ্টিতে ইসলামী শরিয়া আইন অনুযায়ী সে দোষী এবং শাস্তির যোগ্য বটে, কিন্তু প্রকৃত সত্য আল্লাহই জানেন। We Judge according to externals, as for the inward truth, that God alone knows.।”

বিচারের রায় হাল্লাজকে জানানো হলে তিনি শুধু বলেছিলেন- “What is important for the ecstatic is for the One to reduce him to oneness.” -(Massignon, ৮৭)। তাছাড়া তিনি তো জানতেন শরীয়তের দৃষ্টিতে মারফতের সকল কার্য্যকলাপই ভ্রান্ত হিসেবে গণ্য। শরীয়তী নবী মূসার কাছে কি মারফতী নবী খিযিরের সকল কার্য্য ভ্রান্ত ও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়নি? 

এদিকে হাল্লাজের শিষ্য সংখ্যা এবং কারা-কর্মকর্তাদের ব্যর্থতার দরুণ তার দর্শনার্থীদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় খলিফার নির্দেশে এসময় হাল্লাজকে অন্য এক জেলখানায় সরিয়ে নেয়া হল। ঐ জেলখানায় তিন'শ (৩০০) বন্দী ছিল। একদিন রাতে মনসূর তাদেরকে বললেন, ‘তোমরা কি মুক্তি চাও?’
তারা বলল, ‘আমাদের মুক্ত করার ক্ষমতা যদি তোমার থাকে, তবে তুমি নিজেই মুক্ত হও না কেন?’

মনসূর তাদের একথার জবাব না দিয়ে তাদের গরাদের শিকগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকেন। এক এক করে সবগুলোর দ্বার খুলে যায়। বন্দীরা সব পালিয়ে গেল। এসময় মনসূরকে তার কারাকক্ষে বসে থাকতে দেখে পলায়নরত এক বন্দী এগিয়ে এসে বলল, ‘তুমি পালাচ্ছ না কেন?’
তিনি বললেন, ‘আমি খোদার প্রেমে পাগল, মুক্তির পাগল না।’
এই উত্তরে ঐ বন্দী বিষ্মিত হয়ে তার মুখপানে তাকিয়ে থাকলে তিনি নিস্পৃহ কন্ঠে বললেন, “I have a secret matter with the Lord, which can only be revealed upon the scaffold. I am a prisoner of my Master, the Lord.”

বন্দী মুক্তির পুরো ঘটনা খলিফাকে জানানো হলে, he furiously proclaimed, "Hallaj will cause an insurrection next. The time has come for his death. Make public the punitive announcement for his execution. Begin by flogging him severely."

এদিকে হাল্লাজের ফাঁসির রায় কার্যকরী করতে দেরী হচ্ছিল কারণ, সর্বমোট ১০০ জন আলেমের স্বাক্ষর সংগৃহীত হয়েছিল বাকী একজনকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু যখন তিন'শ বন্দীকে মুক্ত করার দায়ে বাগদাদের কাজী মনসূরকে প্রকাশ্য তিন’শ দোররা মারার আদেশ দেন, তখন মনসূর নিজেই ১০১তম স্বাক্ষী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তখন খলিফার অনুমতির পর তার স্বাক্ষর গ্রহণ করে রায় কার্য়কর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।  

হাল্রাজের শাস্তিকে দৃষ্টান্তমূলক করার দাবী ছিল। অার তাই ৯২২ সনের ২৬শে মার্চ প্রকাশ্যে তাকে ৩০০ দোররা মারা হল। এতগুলি দোররার আঘাতেও তার মৃত্যু হয়নি এমনকি তিনি সামান্য উহ পর্যন্ত করেননি। তার নির্লিপ্ত ভাবলেশহীন মুখাবয়ব, যা থেকে অনূচ্চস্বরে উচ্চারিত হচ্ছিল- হক, হক, আনাল হক।” সমবেত জনতাও সেময় তার সাথে কন্ঠ মিলিয়ে বলে চলেছিল- “হক, হক, আনাল হক”। অত:পর যখন তাকে ফাঁসির মঞ্চে নেয়া হচ্ছিল, তখন মনসূর মুখ খুললেন, বললেন-

“Now stands no more between Truth and me
Or reasoned demonstration,
Or proof of revelation;
Now, brightly blazing full, Truth's lumination,
Each flickering, lesser light.”

কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ফাঁসিতে ঝুলে থাকার পরও হাল্লাজের মৃত্যু হল না। তখন উজির- ই -হাকিমের নির্দেশে তাকে ফাঁসিকাষ্ঠ থেকে নামানো হয়। তারপর নির্দেশ দেয়া হয় তার হস্ত ও পদদ্বয় বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে যাতে রক্তক্ষরণে তার কষ্টকর মৃত্যু হয়। কিন্তু রক্তক্ষরণে হাল্লাজের দেহ ফ্যাকাশে হয়ে গেল বটে কিন্তু মৃত্যু হল না। সে তখনও নিরুদ্দিগ্ন অবয়বে কথা বলছিল জনতার সাথে, আর তাদের প্রশ্নেরও উত্তর দিচ্ছিল শান্ত স্বরে। এতে তার নাক, কান ও জিহবা কেটে ফেলা হয়। কিন্তু যখন তার চোখ উপড়ে ফেলা হল, তখন সমবেত জনতা ভয়ে-বিষ্ময়ে চিৎকার করে উঠল। তাদের কেউ কেউ অাতঙ্কিত ও হতবিহ্ববল হয়ে পড়ল, কেউ কেউ মাটিতে উবু হয়ে উচ্চে:স্বরে কাঁদতে লাগল, অন্যেরা অভিশাপ দিয়ে যাচ্ছিল অনর্গল। আর ওদিকে হাল্লাজের দেহ রক্ত মাখামাখি হয়ে তার খন্ডিত টুকরোগুলো চারিদিকে ছড়িয়ে নিয়ে পড়ে রইল মাটিতে- দর্শনার্থীদের জন্য, যেন তা তাদের জন্য দৃষ্টান্ত স্বরূপ হয়, আর যেন তারা এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তির পরিণতি সম্পর্কে।-[মুহম্মদ আলী জামনিয়া, টেলস ফ্রম দ্যা ল্যান্ড অফ সুফীজ].

পরদিন সকালে লোকেরা আবিস্কার করল হাল্লাজের দেহের খন্ডিত টুকরোগুলোতে প্রাণ রয়েছে এবং তা থেকে অবিরত “অানাল হক” ধ্বণিত হচ্ছে। উজির-ই-হাকিম ও একদল আলেম দ্রুত ছুটে এলেন সেখানে। তারপর স্বচক্ষে দর্শণ ও স্বকর্ণে শ্রবণের পর তারা হতভম্ব হয়ে গেলেন। তবে কি তারা অপরাধ করে ফেলেছেন? দ্বিধা-দ্বন্দ্বে দুলতে লাগলেন তারা। পরামর্শের জন্যে তৎক্ষণাৎ একদল ছুটে গেল জুনায়েদ বাগদাদীর কাছে অপরদল খলিফার। বাগদাদী বললেন, “আল্লার সাথে মনসূর হাল্লাজের দিদার লাভ হয়ে গেছে। নিজের ভিতর যখন তিনি আল্লাহকে দেখেছিলেন, তখন তাঁকে বলেছিলেন-’মান আনতা’-তুমি কে? আল্লাহ বলেছিলেন, ’আনাল হক’। আর সেই উচ্চারণই মনসূরের দেহ প্রতিধ্বণিত করছে মাত্র।”

এদিকে হাল্লাজের বিষয়টি খলিফাকে অবহিত করলে তিনি বিচলিত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। এমনিতেই তার সিংহাসনের ভিত্তি দূর্বল হয়ে পড়েছিল। সুতরাং তিনি তৎক্ষণাৎ লাশ প্রদর্শনী বন্ধ করে দেহ-খন্ডগুলো একসাথে পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। কেননা তার আশংঙ্কা ছিল জনতার ভীতি-বিহ্বলতা ও আবেগ না আবার ক্রোধে রূপান্তরিত হয়ে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সূচনা করে বসে।

Mansur al-Hallaj.
খলিফার আদেশ মত হাল্লাজের খন্ডিত টুকরো গুলোকে তেল ঢেলে দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্তে আলেমগণও একমত হয়েছিলেন এবং সেই মতই সবকিছু করাও হল। কিন্তু বিপত্তি বাঁধল পরের দিন, যখন তার দেহাবশেষ টাইগ্রিস নদীতে ফেলা হল। নদীর পানি ফুঁলে ফেঁপে উঠতে লাগল। তারপর যখন তা ধেঁয়ে আসতে লাগল নগরীর দিকে, সমগ্র বাগদাদ নগরীর লোকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ল।হাল্লাজের এক শিষ্য, সামেরী এ সময় দৌঁড়ে গিয়ে হাল্লাজের ব্যবহৃত একটি জোব্বা (জামা) এনে তা ছুঁড়ে ফেলে ঐ পানিতে। নদী শান্ত হয়। সামেরী বলেছিল, মৃত্যুর ৪০ দিন পূর্বে হাল্লাজ তাকে এ পরিস্থিতির কথা বলেছিলেন, আর তাকে এমনই নির্দেশ দিয়েছিলেন।

হাল্লাজের মৃত্যুর পর সূফী আব্বাস তুসি (Abbas Tusi) বলেছিলেন: "On the Day of Judgement Hallaj shall be brought forth in fetters, since in his divine ecstasy he may turn the whole world upside down."

হাল্লাজ বেশ কিছু পুস্তক রচনা করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর সেসব পুড়িয়ে ফেলা হয়। তবে তার রচনাসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি ’কিতাব আল-তাওয়াসিন’। এতে তিনি অনেকগুলো লাইন ডায়াগ্রাম ও চিহ্ন ব্যবহার করেছেন তার রহস্যময় অভিজ্ঞতার বর্ণনায় যা তিনি ভাষায় প্রকাশ করতে পারেননি। Ṭawāsīn is the broken plural of the word ṭā-sīn which spells out the letters ṭā (ط) and sīn (س) placed for unknown reasons at the start of some surahs in the Quran.

যা হোক, হাল্লাজের ঐ গুপ্তজ্ঞানের কিতাব আল তাওসিন কালের পরিক্রমায় এখনও টিকে রয়েছে। সম্ভবত: তার কোন শিষ্য সেটিকে সযত্নে লুকিয়ে ফেলেছিলেন। মূলত: অদৃশ্যলোকের জ্ঞানে হাল্লাজ কোথায় পৌঁছেছিলেন তা বোঝা যায় এই বইটি পড়ে। ১১টি অধ্যায়ের এ কিতাবটি প্রকৃতপক্ষে অতীন্দ্রিয়বাদ বা গুপ্তজ্ঞান অর্জনের এক সরল পথের দিশারী।

Jalaluddin Rumi.
বইয়ের দু’টি চ্যাপ্টারে খোদা ও ইবলিসের সংক্ষিপ্ত সংলাপ লিপিবদ্ধ হয়েছে, সেই ঘটনা নিয়ে যখন খোদা আদমকে সিজদা করতে ফেরেস্তাদেরকে আদেশ করেছিলেন এবং সকলে সিজদা করলেও সে তা করতে অস্বীকার করেছিল। ইবলিস কেন এমনটি করেছিল? 

ইবলিসের কথা, সে “সৃষ্টি পূর্বকাল থেকে
ই তাঁকে চেনে” হাল্লাজ ব্যাখ্যা করেন, ইবলিস আদমকে সৃষ্টির অনেক আগে থেকেই খোদাকে জেনেছেলক্ষাধিক বৎসরকাল কেবল তাঁর এবাদত ও আদেশ মান্য করেছে, তাঁকে মর্যাদার আসনে বসিয়ে, এতকাল যাবৎ সেজদা করেছে। সে এখন কি করে এমন কাউকে সেজদা করে যাকে কিনা তার চেয়ে নিকৃষ্ট কিছু দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে? সুতরাং সে খোদার আদেশ অমান্য করে বসল। অন্যদিকে তার এই অস্বীকৃতি বিয়োগান্তক ভাবে খোদ খোদাকেই অস্বীকারের শামিল হয়ে দাঁড়াল। 

কোরআন জানায়, বলিস আদমকে সিজদা করার খোদায়ী আদেশ পালন করতে অস্বীকার করে।-(২:৩৪). "এর ব্যাখ্যা হাল্লাজ দিয়েছেন," প্রফেসর আর্নেস্ট বলেন, "খোদা গোপনে তাকে ইশারা দিয়েছিলেন যেন সে সিজদা না করে এবং সে কারণে সে তা করতে অস্বীকার করে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে সে ছিল সর্বোপেক্ষা বিশ্বস্ত দাস and willing to suffer punishment of being estranged from God and being punished by God in order to demonstrate his loyalty." আর এভাবে হাল্লাজ ইবলিসের খোদাদ্রোহিতাকে এমনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন যেন তা বিয়োগান্তক পরিণতির মত লাগে। (হাল্লাজ ইবলিসকে খাঁটি একত্ববাদী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করলেও আমরা কিন্তু তাকে পেয়েছি ঘৃণ্য এক প্রতারক হিসেবে। কোরআন স্বাক্ষী, সে আদম-হওয়াকে “আমি তো তোমাদের একজন হিতৈষী”-(৭:২০) বলে প্রতারণার মাধ্যমে নিষিদ্ধ ফল গন্ধম খেতে উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং অত:পর খোদার নিকট করা, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার যে সর্বনাশ করলে তার কসম! আমি পৃথিবীতে মানুষের কাছে পাপকে আকর্ষণীয় করব, আর আমি সকলের সর্বনাশ করব; তোমার নির্বাচিত দাস ছাড়া।’ -(৪:১১৯) -প্রতিজ্ঞাও রক্ষা করেনি (..পূর্বে যে সমস্ত রসূল ও নবী প্রেরণ করেছি, তারা যখনই কিছু কল্পণা করার চেষ্টা করেছে, তখনই শয়তান তাদের কল্পনায় কিছু মিশ্রণ করে দিয়েছে।-২২:৫২)। উল্লেখ্য শয়তানের পুজারী “ইয়াজিদি সম্প্রদায়” ইবলিস সম্পর্কে ঠিক এমনই ধারণা পোষণ করে, যেভাবে হাল্লাজ উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন তাকে তার কিতাবে।)

সূফীগণ সাধারণত: এমনটা বিবেচনা করেন না যে, Hallaj was claiming to be God, but that his ego had been annihilated. "As `Attar pointed out, when the burning bush said to Moses, 'I am God,' it was not the bush speaking, but God manifesting through it. In the same way, it was God speaking through the voice of the annihilated Hallaj,"


Furthermore, ‘Attar presents a second case which may be comparable to Mansur. He quotes `Umar ibn al-Khattab (d.644), the third great Caliph.-(‘Attar, Memorial of God’s friends, p. 395.) According to the tradition "Allah has engraved truth on the tongue of `Umar and his heart" and "If there were a Prophet after me verily it would be `Umar." -(al-Hadith). Mason, instead, points out that for Hallaj, while in union, all separation is annihilated and so he comes back to the Source (‘ayn al-jam) and thus it is possible to say Anā’l-Haqq, not being heretical. (Mason, Hallaj and the Baghdad school of Sufism p. 72.) Even Jalāl ad-Dīn Muhammad Rūmī (d.1273), one of the greatest Sufi poets, and outspoken admirer of Mansur, tried to explain the infamous shat by comparing Hallaj to iron in the fire, which becomes so hot to pretend to be fire. -(Schimmel, Mystical dimensions of Islam, p. 145).  


আর মূলত: এমন মনোভাবের কারণে হাল্লাজ, সূফীগণের নিকট বিভিন্নভাবে চিত্রিত হয়েছেন। তার শির বিহীন দেহ নিয়ে মওলানা ফরিদ উদ্দিন আত্তার এমনই দৃশ্য কল্পনা করেছেন-

They saw Hallaj in a dream one night,

his head cut off, but with cup in hand.
They asked,How is it your head is cut off?
Tell-how long you have chosen this cup.
”The king of blessed name gave this cup to the headless one.
Those who forget their own heads can drink from this spiritual cup.”
                                           -Asrar-Nama by Farid al-Din ‘Attar.

হাল্লাজের প্রতি মওলানা জালালুদ্দিন রুমীর ভালবাসা এতই সূদৃঢ় ছিল যে "মসনবী"তে তিনি তার সাথে আলীকে (ইসলামে যার সম্মান আজ অবধি সমুন্নত),এক সূঁতায় গেঁথেছেন। অার তাই সবশেষে আমরা হাল্লাজকে উৎসর্গীত রুমীর একটি কবিতা দিয়ে আর্টিকেলের সমাপ্তি টানব-


HALLAJ

            ---Jalaluddin Rumi

Hallaj said what he said and went to the origin 

through the hoe in the scaffold.
I cut a cap's worth of cloth from his robe, 
and it swamped over me from head to foot.

Years ago, I broke a bunch of roses 

from the top of his wall. A torn from that  
is still in my palm working deeper.
From Hallaj, I learned to hunt lions, 
but I became something hungrier than a lion.

I was a frisky colt. He broke me 

with a quiet hand on the side of my head.
A person comes to him naked. It's cold. 

There's a fur coat floating in the river.

"Jump in and get it," he says. 
You dive in. You reach for the coat. 
It reaches for you.
It's a live bear that has fallen in upstream, 
drifting with the current.

"How long does it take!" Hallaj yells from the bank. 

"Don't wait," you answer. "This coat 
has decided to wear me home!"

A little part of a story, a hint. 

Do you need long sermons on Hallaj!

সমাপ্ত।

সংশোধিত নয়।

# এক পাঠক আমাকে বলল- “হাল্লাজের বিষয়টি ঠিক বুঝলাম না।”


@ অামি বললাম: কি বুঝলেন না?
“এই যে,সে অপরাধী ছিল কি ছিল না?”
:এর উত্তর তো গাজ্জালী পূর্বেই দিয়েছেন। হাল্লাজ ’হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গা’র কাজ করে যাচ্ছিলেন অর্থাৎ- ঐশ্বরিক গোপন তথ্য জনসমক্ষে উন্মুক্ত করে দিচ্ছিলেন। 
“কিন্তু তাতে তার অপরাধটা কি?”
:উলুবনে দামী মুক্তা ছড়িয়ে অপচয়ও তো অপরাধ, নাকি? হাল্লাজের দৈহিক অবস্থান ছিল দৃশ্যলোকে কিন্তু তার অন্তরদৃষ্টি পৌঁছেছিল অদৃশ্যলোকে। ফলে সে যা বলছিল তা অদৃশ্যলোকের আলোকে যা দৃশ্যলোকে প্রযোজ্য নয়, কারণ দু’পারের নিয়ম-কানুন ভিন্ন, যেমন, মদ এপারে হারাম ঐপারে হালাল। হাল্লাজ ঐ পারে এতই মগ্ন ছিল যে, বিষয়টি বিষ্মৃত হয়, ফলে শরীয়তী আইনের প্যাচে তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে।

“ভাই- হাই থট বাদ দিয়ে আরো সহজ করে বলেন, যাতে আমরা বুঝি।”

:ওকে, বলেন তো, বেহেস্ত কোথায়? আর সেখানে মানুষ কিভাবে যাবে?
“বেহেস্ত আসমানে, হয়তোবা খোদার আরশের নীচে, পুরো নিশ্চিত না। তবে সেখানে মানুষ যাবে তার ঈমানের দ্বারা। আর সাথে বোনাস [আমল (আল্লার হক+ বান্দার হক) ও দাওয়া (অন্যকে মঙ্গলের দিকে আহবানে)] থাকলে তা তাকে উচ্চস্তরে পৌঁছে দেবে। এক কথায় ‘ঈমান, আমল ও খোদার প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে।”  

:কিন্তু হাল্লাজীয় উত্তর হবে: “বেহেস্ত দোযখের মাঝে। আর সেখানে প্রবেশকারীদের “সকলকে” দোযখ পার হতেই হবে।” -এবার নিশ্চয় বুঝতে পারছেন কেন তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে? 

[তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তথায় পৌঁছিবে না। এটা তোমার পালনকর্তার অনিবার্য ফয়সালা। অতঃপর আমি পরহেযগারদের উদ্ধার করব এবং জালেমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেব।’-(১৯:৭১-৭২) বা. ..মাঝখানে খাঁড়া হবে প্রাচীর, যার .. অভ্যন্তরে রহমত এবং বাইরে আযাব।-(৫৭:১৩) 
 'Every one, be he who he may, must go into hell. It is true, however, that the holy ones and prophets of God shall go there to behold, not suffering any punishment and the righteous, only suffering fear.-Barnabas-Ch-136]


“বুঝলাম, কিন্তু বেহেস্ত কেন দোযখের মধ্যে রেখেছেন খোদা?”

:কারণ, বেহেস্ত বা দোযখ কেবল ফ্রি উল ওয়ালাদের (জ্বিণ ও ইনসান) জন্যে এবং যেহেতু ফ্রি উল সম্পন্ন কেউ নিষ্পাপ [সিনলেস] হতে পারে না, তা বেহেস্ত দোযখের মধ্যে। আর ঠিক এ কারণে বেহেস্তে প্রবেশ কেবল আল্লাহর রহমতের উপর নির্ভরশীল। তাই নবীজীকেও বলা হয়েছে -”...আর তোমার পালনকর্তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর।” তবে কারো কারো ক্ষেত্রে দোযখ ও বেহেস্তের মধ্যে দূরত্ব হবে চূলের প্রস্থের সমান। এবার দেখা যাক হাদিসে কি আছে এ সম্পর্কে-

Abu Ayyub Ansari reported that Allah's Messenger said: If you were not to commit sins, Allah would have swept you out of existence and would have replaced you by another people who have committed sin, and then asked forgiveness from Allah, and He would have granted them pardon. -[Sahih Muslim, Book 037, Number 6621] 


নি:সন্দেহে নবীজীর রসবোধ ছিল চমৎকার। যা হোক, এখানে “If you were not to commit sins”, অর্থ সেক্ষেত্রে সে মানুষ নয়, ফেরেস্তা, কেননা সিনলেস কেবল ফেরেস্তাগণ। আর তাই “Allah would have swept you out of existence” কেননা দুনিয়া তো ফেরেস্তাদের জন্যে নয়, সুতরাং খোদা তাকে তুলে নিয়ে তার স্থলে আরেকজন মানুষ পাঠাবেন এটা তো জানা কথা।


উৎস:

http://www.academia.edu/9706380/Why_was_Mansur_al-Hallaj_one_of_the_most _controversial_Sufi_saints
N. Hanif (2002), Biographical Encyclopaedia of Sufis: Central Asia and Middle East.
Jawid Mojaddedi, "Ḥallaj, Abul-Mogit Hosayn b. Manṣur b. Maḥammā Bayżāwi" 
Al-Hallaj, Diwan. 
Al-Hallaj, Kitāb at-tawāsīn.
Farid ad-Din ‘Attār. Memorial of God’s friends, lives and sayings of Sufis, 
Hujwīrī, Kashf al-Mahjūb, 281.
Unknown, Akhbār al-Hallaj.
Ansari, M. Abdul Haq. 2000. Ḥusayn ibn Manṣūr al-Hallāj: Ideas of an ecstatic. 
Bosworth, C. E. 1960. The encyclopaedia of Islam. 
Lewisohn, Leonard. 1999; 1993. The heritage of Sufism. 
Massignon Louis, Passion of al-Hallaj-4 volumes translated by Herbert Mason 
Massignon, Louis (1982). The Passion of al-Hallaj, Mystic and Martyr of Islam
Schimmel, Annemarie. 2011. Mystical dimensions of Islam.
Wilcox, Andrew. 2011. The dual mystical concepts of fanā' and baqā' in early Sufism. 
Carl W. Ernst (1997). Encyclopedia of Islam, 2nd ed., Vol. 9, "Shath". 
Ernst, Carl W. (1985). Words of Ecstasy in Sufism. 
Kadri, Sadakat (2012). Heaven on Earth: A Journey Through Shari'a Law from the Deserts of Ancient Arabia.
Browne, Edward G. (1998). Literary History of Persia.
Michot, Yahya M. (2007). "Ibn Taymiyya’s Commentary on the Creed of al-Hallâj".
Rypka, Jan (1968). History of Iranian Literature. Dordrecht.
Shah, Idries (1964). The Sufis. Garden City: Doubleday. 
মুহম্মদ আলী জামনিয়া, টেলস ফ্রম দ্যা ল্যান্ড অফ সুফীজ