Sign of God লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Sign of God লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১০ মার্চ, ২০১২

al-Kahf: Seven Sleepers কাহিনী।


আহাব ইৎবালের কন্যা ইসাবেলাকে বিবাহ করেন। এই ইসাবেলা এক বিদ্রোহের মাধ্যমে সীদোন বা ফৈনিকীয়ার রানী হন। এ্ই রানী বা’ল দেবতার উপাসক ছিলেন এবং আহাবের সঙ্গে বিবাহের পর উৎসাহের সঙ্গে সর্বত্র এই উপাসনার প্রবর্তন করেন। এতে নতুন নতুন মন্দির স্থাপন ও পুরোহিত আমাদানী হয়। অচিরেই রানী আহাবকে বশীভূত ও ক্রীড়ানড়ক করে ফেলেন। তারপর তিনি একেশ্বরবাদীদের ধ্বংসের পরিকল্পণা ও হত্যা করা শুরু করেন। এসময় কয়েকজন যুবক এক খোদার উপর বিশ্বাসে অটল ছিল। আর খোদা তাদের মনোবল এবং সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। 

সুতরাং যুবকেরা নিজেদের এবং নিজেদের বিশ্বাসকে রক্ষা করতে একত্রিত হল এবং বলল, ‘আমাদের প্রতিপালক আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালক। আমরা কখনই তার পরিবর্তে অন্য কোন উপাস্যকে ডাকব না; যদি করি তবে তা খুব খারাপ হবে। আমাদের এ জাত ভাইয়েরা তাঁর পরিবর্তে বহু উপাস্য গ্রহণ করেছে। এরা এসব উপাস্য সম্বন্ধে স্পষ্ট প্রমান উপস্থিত করে না কেন? যে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যে বানায় সে ছাড়া বড় সীমালংঘনকারী আর কে? তোমরা যখন ওদের থেকে ও আল্লাহর পরিবর্তে যাদের উপাসনা করে তাদের থেকে আলাদা হলে তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ কর। তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে তার দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের কাজকর্মকে ফলপ্রসূ করার ব্যবস্থা করবেন।’

যুবকেরা পাহাড়ের গুহায় আত্মগোপনের সিদ্ধান্ত নিল। আর যখন তারা গুহায় আশ্রয় নিল, তখন তারা হয়ে গেল খোদায়ী নিদর্শণ (Sign of God)। পরবর্তী কাহিনী এমন-

যখন যুবকেরা গুহায় আশ্রয় নিল তখন তারা বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি নিজ থেকে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান কর ও আমাদের কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা কর।’ তারা একসময় গুহায় ঘুমিয়ে পড়ল। আর আল্লাহ তাদেরকে সেখানে কয়েক বৎসর ঐ ঘুমন্ত  অবস্থায় রাখলেন। ওরা যখন গুহার প্রশস্ত চত্ত্বরে ঘুমিয়ে ছিল তখন সূর্য্য ওঠার সময় তাদের ডানে হেলে থাকত আর ডোবার সময় তাদের বাম পাশ দিয়ে পার হত। আর ওদের কুকুর সামনের দুই পা ছড়িয়ে ঘুমিয়ে ছিল গুহার দ্বার দেশে।

‘যে গৃহে কুকুর থাকে সেখানে ফেরেস্তা প্রবেশ করে না।’ বুখারী খন্ড-২,পৃ-৮৮০।
‘যে ব্যক্তি শিকারী কুকুর, শস্যক্ষেত অথবা জন্তুদের হেফাজতকারী কুকুর ব্যতিত অন্য কুকুর পালন করে, প্রত্যহ তার পূণ্য থেকে দু‘কীরাত (কীরাত একটি ছোট্ট ওজনের নাম।) হ্রাস পায়।’ -বুখারী নম্বর-৫০৮৫; ৫০৮৬।

-এসব হাদিসের ভিত্তিতে প্রশ্ন দেখা দেয়, আল্লাহ ভক্ত আসহাবে কাহফরা (al-Kahf
) কুকুর সঙ্গে নিল কেন? এর উত্তরে বলা যায়- প্রয়োজন ব্যতিরেকে শখের বশে কুকুর পালনের নিষিদ্ধতা মুহম্মদের শরীয়তের। মূসার শরীয়তে এটা নিষিদ্ধ ছিল না। কুকুরের প্রভু ভক্তি সর্বজনবিদিত। তারা যখন শহর ছেড়ে রওনা হয়, তখন কুকুরও তাদেরকে অনুসরণ করেছিল।

সূরৎ আল কাহফ কেভ।
যেভাবে যুবকেরা ঘুমিয়ে ছিল সেভাবেই একসময় তারা জেগে উঠল। ওদের একজন বলল, ‘তোমরা কতকাল ধরে আছ?’
কেউ কেউ বলল, ‘একদিন বা একদিনের কিছু অংশ।’

কেউ কেউ বলল, ‘আমরা কতকাল আছি তা আমাদের প্রতিপালকই ভাল করে জানেন। এখন আমাদের একজনকে এই টাকা দিয়ে শহরে পাঠাই, সে যেন দেখে কোন খাবার পবিত্র (তারা যখন শহর থেকে বেরিয়েছিল তখন সেখানে মূর্ত্তিদের নামে পশু জবেহ করা হত এবং বাজারে তাই বিক্রয় হত। যা মুসলমানদের জন্যে সম্পূর্ণ হারাম। তাই প্রেরিত ব্যক্তিকে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।)। অতঃপর আমাদের জন্যে কিছু খাবার নিয়ে আসে। সে যেন বুদ্ধি করে কাজ করে ও কিছুতেই যেন আমাদের সম্বন্ধে কাউকে কিছু জানতে না দেয়। ওরা যদি আমাদের বিষয় জানতে পারে তবে তো আমাদেরকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করবে বা ওদের ধর্মে ফেরাবে; আর তা হলে আমরা কখনই সফল হব না।’ তাদের একজন খাদ্য কিনতে শহরে গেল।

ইতিমধ্যে যুবকেরা গুহায় ঘুমিয়ে কাটিয়েছিল তিন’শ নয় বৎসর। তাই দোকানদার অতি প্রাচীন মূদ্রা দেখে অবাক হল। সুতরাং অতঃপর তাকে রাজকর্মচারীদের হাতে তুলে দেয়া হল। বাদশা ছিলেন ধার্মিক। সকল ঘটনা শ্রবণ শেষে তিনি তৎক্ষণাৎ তাকে সঙ্গে নিয়ে গুহায় গেলেন। তখন লোকেরাও তাদের বিষয়ে অবগত হল। 

গুহার সঙ্গীগণ।
যুবক গুহায় ঢুকল এবং তারপর সেখানে মারা গেল। সমবেত লোকেরা বুঝতে পারল যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্যি ও কেয়ামতে কোন সন্দেহ নেই। তখন তারা তাদের কর্তব্য বিষয়ে নিজেদের মধ্যে তর্ক শুরু করল।

অনেকে বলল, ‘ওদের উপর সৌধ নির্মাণ কর।’ কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হল তারা বলল, ‘আমরা তো অবশ্যই ওদের উপর মসজিদ গড়ব।’ অজানা বিষয়ে অনুমানের উপর নির্ভর করে অনেকে বলল, ‘তারা ছিল তিনজন, ওদের কুকুর নিয়ে চারজন।’ আর কেউ কেউ বলল, ‘ওরা ছিল পাঁচজন, ওদের কুকুর নিয়ে ছ’জন।’ আবার কেউ কেউ বলল, ‘ওরা ছিল সাতজন, ওদের কুকুর নিয়ে আটজন।’ ওদের সংখ্যা অল্প কয়েকজনই জানে। আর ওরা কতকাল ঘুমিয়ে ছিল তা আল্লাহই ভাল জানেন। আকাশ ও পৃথিবীর অজ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই।

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- গুহা ও রাকিমের অধিবাসীরা আমার নিদর্শণ গুলোর মধ্যে অন্যতম। যখন যুবকেরা গুহায় আশ্রয় নিল তখন তারা বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি নিজ থেকে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান কর ও আমাদের কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা কর।’

তারপর আমি তাদেরকে গুহায় কয়েক বৎসর ঘুমন্ত অবস্থায় রাখলাম। পরে আমি তাদেরকে জাগালাম এ জানবার জন্যে যে, দু’দলের মধ্যে কোনটি তাদের অবস্থানকাল ঠিক নির্ণয় করতে পারে। আমি ওদের বৃত্তান্ত সঠিকভাবে বয়ান করছি। ওরা ছিল কয়েকজন যুবক। ওরা ওদের প্রতিপালকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। আর আমি ওদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। 

আর আমি ওদের চিত্ত দৃঢ় করে দিলাম, ওরা যখন উঠে দাঁড়াল তখন তারা বলল, ‘আমাদের প্রতিপালক আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালক। আমরা কখনই তার পরিবর্তে অন্য কোন উপাস্যকে ডাকব না; যদি করি তবে তা খুব খারাপ হবে। আমাদের এ জাত ভাইয়েরা তাঁর পরিবর্তে বহু উপাস্য গ্রহণ করেছে। এরা এসব উপাস্য সম্বন্ধে স্পষ্ট প্রমান উপস্থিত করে না কেন? যে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যে বানায় সে ছাড়া বড় সীমালংঘনকারী আর কে? তোমরা যখন ওদের থেকে ও আল্লাহর পরিবর্তে যাদের উপাসনা করে তাদের থেকে আলাদা হলে তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ কর। তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে তার দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের কাজকর্মকে ফলপ্রসূ করার ব্যবস্থা করবেন।’ 

তারা গুহার প্রশস্ত চত্ত্বরে অবস্থান করছে। সূর্য্য ওঠার সময় তাদের গুহার ডানে হেলে আছে আর ডোবার সময় তাদের বাম পাশ দিয়ে পার হচ্ছে। ওরা ঘুমিয়ে ছিল। আমি ওদেরকে ডানে ও বামে পাশ ফেরাতাম। আর ওদের কুকুরের সামনের দুই পা ছড়িয়ে ছিল গুহার দ্বার দেশে। আর আমি এভাবেই ওদেরকে ওঠালাম যেন ওরা একে অপরকে জিজ্ঞেস করে। ওদের একজন বলল, ‘তোমরা কতকাল ধরে আছ?’
কেউ কেউ বলল, ‘একদিন বা একদিনের কিছু অংশ।’

কেউ কেউ বলল, ‘তোমরা কতকাল আছ তা তোমাদের প্রতিপালকই ভাল করে জানেন। এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এ টাকা দিয়ে শহরে পাঠাও, সে যেন ভাল খাবার দেখে তোমাদের জন্যে কিছু খাবার নিয়ে আসে। সে যেন বুদ্ধি করে কাজ করে ও কিছুতেই যেন তোমাদের সম্বন্ধে কাউকে কিছু জানতে না দেয়। ওরা যদি তোমাদের বিষয় জানতে পারে তবে তো তোমাদেরকে পাথর মেরে খুন করবে বা তোমাদেরকে ওদের ধর্মে ফেরাবে; আর তা হলে তোমরা কখনই সফল হবে না।’

আর এভাবেই আমি (মানুষকে) ওদের বিষয় জানিয়ে দিলাম যেন তারা জানতে পারে যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্যি ও কেয়ামতে কোন সন্দেহ নেই। যখন তারা তাদের কর্তব্য বিষয়ে নিজেদের মধ্যে তর্ক করছিল তখন অনেকে বলল, ‘ওদের উপর সৌধ নির্মাণ কর।’
তাদের প্রতিপালক ওদের বিষয়ে ভালকরে জানেন। তাদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হল তারা বলল, ‘আমরা তো অবশ্যই ওদের উপর মসজিদ গড়ব।’ 

অজানা বিষয়ে অনুমানের উপর নির্ভর করে অনেকে বলবে, ‘তারা ছিল তিনজন, ওদের কুকুর নিয়ে চারজন।’ 
আর কেউ কেউ বলবে, ‘ওরা ছিল পাঁচজন, ওদের কুকুর নিয়ে ছ’জন।’ 
আবার কেউ কেউ বলবে, ‘ওরা ছিল সাতজন, ওদের কুকুর নিয়ে আটজন।’ 

বল ‘আমার প্রতিপালকই ওদের সংখ্যা ভাল জানেন।’ ওদের সংখ্যা অল্প কয়েকজনই জানে। ওরা ওদের গুহায় ছিল তিন’শ নয় বৎসর। তুমি বল, ‘ওরা কতকাল ছিল তা আল্লাহই ভাল জানেন। আকাশ ও পৃথিবীর অজ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই।’-(Al-Kahf১৮: ৯-২২,২৫)

যাহোক, এখন আমরা দেখি এ কাহিনীর “শানে নযুল” কি বা কোরআনে কেন এটি বর্ণিত হয়েছে-

মুহম্মদের নব্যুয়ত চর্চায় কুরাইশ নেতৃবর্গ খুবই বিব্রতবোধ করছিলেন, কেননা তিনি তাদের দেব-দেবীদেরকে তুচ্ছ প্রতিপন্ন করে যাচ্ছিলেন। তখন তারা মুহম্মদ সত্য নবী কিনা তা পরীক্ষা করতে চাইলেন। তাই তারা নাজার ইবনে হারেছ ও ওকাবা ইবনে আবী মুয়ীতকে মদিনার ইহুদি পন্ডিতদের কাছে প্রেরণ করলেন মুহম্মদ সম্পর্কে তাদের মন্তব্য কি তা জানার জন্যে। আর সেখানকার ইহুদি পন্ডিতগণ তাদেরকে বলেন, ‘তোমরা তাকে এই তিনটি প্রশ্ন করবে, যদি তিনি সঠিক উত্তর দিতে পারেন তবে বুঝবে তিনি প্রকৃতই আল্লাহর রসূল, অন্যথায় ভন্ড। ঐ প্রশ্ন তিনটি ছিল-

ক) ঐ সকল যুবকের ঘটনা কি, যারা প্রাচীন কালে শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিল?
খ) সেই ব্যক্তির ঘটনা কি, যিনি পৃথিবীর পূর্ব, পশ্চিম ও সারা বিশ্ব সফর করেছিলেন?
গ) রূহ কি?’

প্রতিনিধিদ্বয় ফিরে এসে সকলকে বললেন, “আমরা একটি চুড়ান্ত ফয়সালার ব্যবস্থা করতে পেরেছি। আমরা এমন সব প্রশ্ন তার কাছে রাখব, যার উত্তর তিনি দিতে পারবেন না।” তারা সদলবলে প্রশ্নগুলো নিয়ে মুহম্মদের কাছে হাযির হলেন। সবকিছু শুনে মুহম্মদ বললেন, ‘তোমরা আগামীকাল এস।’ কিন্তু তিনি ‘আল্লাহ চাইলে’ অর্থাৎ ইনশাল্লাহ বলতে ভুলে গেলেন। 

মুহম্মদ ওহী আগমনের অপেক্ষায় থাকলেন। কিন্তু পরদিন ওহী এল না। এভাবে দিনের পর দিন অতিক্রান্ত হতে লাগল। আর কুরাইশগণও তাকে ঠাট্টা করতে লাগলেন। তাদের অনেকে বলতে লাগলেন, ‘মুহম্মদের আল্লাহ তাকে পরিত্যাগ করেছেন।’

পনের দিন পর জিব্রাইল কুরাইশদের প্রশ্নের উত্তর সম্বলিত সূরা কাহফ নিয়ে এলেন। এই সূরায় ওহী বিলম্বের কারণ হিসেবে বলা হল-ভবিষ্যতে কোন কাজ করার ওয়াদা করলে ইনশাল্লাহ বলা উচিৎ। তুমি কোন কাজের বিষয়ে বলবে না যে, সেটি ‘আমি আগামীকাল করব’ ‘আল্লাহ ইচ্ছে করলে (ইনশাল্লাহ)’ বলা ব্যতিরেকে। যখন ভুলে যাও, তখন তোমার পালনকর্তাকে অধিক ভাবে স্মরণ কর এবং বল, ‘আশাকরি আমার পালনকর্তা আমাকে এর চাইতেও নিকটতম সত্যের পথনির্দেশ করবেন।’ -(১৮:২৩-২৪)

এবার আমরা দেখি অন্যান্য তথ্যভান্ডার এ বিষয়ে কি বলেছে- সিরিয়ান বিশপ ইয়াকুব সারগ তার Seven Sleepers কাহিনীতে এটি এভাবে বর্ণনা করেছেন- The Emperor Decius comes to Ephesus and orders everyone to sacrifice to the pagan gods. Some boys (Achillides, Diomedes, Diogenus, Probatus, Stephanus, Sambatus, and Quiriacus) of the leading families refuse and go into hiding but they are denounced.

Decius orders that they be flogged and kept until he returns. The boys escape and hide in a cave near Ephesus. They take some of their parents’ money with them. In the cave they pray to God and God raises up their spirits into heaven and sends a watcher to guard their bodies. On his return, Decius the cave’s entrance orders to be blocked. 

When, after the pagan era, God wants to awaken them, a man in need of building materials re-uses the stones at the cave’s entrance and the boys are awakened by the daylight. Then they decide to send one of their number, Iamlikha (=Iamblichus), to the city in order to see if Decius has already returned and they give him some small change to buy bread.

amlikha is utterly surprised to see crosses above the city gates and wonders whether it is really Ephesus. He tries to buy bread but among the bread-sellers his archaic coins raise the suspicion that he has found some treasure. He denies it but is taken to the bishop, who questions him. He says that he is the son of one of the leading citizens, but he fails to recognize anyone in the crowd who might rescue him. 

When he asks where Decius is, people think he has gone mad since that would make Decius 372 years old. Then the boy tells the bishop how he and his companions escaped to the mountain to hide in a cave. The people go up to the mountain and the bishop enters the cave where he greets the boys. He sends a message to the Emperor Theodosius, who immediately comes to Ephesus. 

Theodosius offers to build a shrine on the spot, but the boys decline and say all this has happened to prove the truth of the resurrection. They lie down, the Emperor covers them with his mantle, and again they sleep peacefully, i.e., they die. -Story of the Seven Sleepers, Jacob of Sarug, Syrian bishop (ca. 450-521)

ক্রিশ্চিয়ানরা কাহিনী তাদের দাবী করলেও তা অসার প্রমাণিত হয় এ কারণে যে, এ কাহিনী দার্শণিক এরিস্টোটলও উল্লেখ করেছেন খৃষ্টান ধর্ম পৃথিবীতে আসার অনেক আগে পদার্থ বিজ্ঞানে সময়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে- Aristotle is the first who briefly allude the stories about “long-sleepers”. In his Physics, he engages in a very subtle discussion of what exactly time is. In that context he says-

“Time does not exist without change, for when the state of our mind does not change at all, or we have not noticed its changing, we do not think that time has elapsed any more than those who are fabled to sleep among the “Heroes of Sardinia” do when they are awakened; for they connect the earlier ‘now’ with the later and make them one, cutting out the interval because of their failure to notice it.” -(Physics 4.11, 218b23-26). 

Some allege that it is in Ephesus, Turkey; others cite a place near Amman, Jordan. Uyghur Muslims even suggest Tuyukhojam, Turpan is the location of the cave, because they believe that place matches the Qur'an's description. 

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia.

উৎস:
Pieter W. van der Horst (2011). Pious Long-Sleepers in Greek, Jewish, and Christian Antiquity.
Fortescue, Adrian (1913). "The Seven Sleepers of Ephesus" . Catholic Encyclopedia. 
"The Seven Sleepers" . The Golden Legend. 
Jacobus (1899). "XV.—The Seven Sleepers" pp. 174–5 
Medieval and Tudor Drama, ed. John Gassner (1987), 245. 
"Surah 18. Al-Kahf" . Quran in English. (18:25). 
Hadhrat al-Hajj Mirza Bashirudeen Mahmood Ahmad – Khalifatul Masih II. 
Noorudin, Hadhrat al-Hajj Hafiz Hakim Maulana. Haqaiqul Furqan iii.
Symeon Metaphrastes, "Lives of the Saints" 

৮ মার্চ, ২০১২

Sign of God: মু‘জেযা, যাদু ও যাদুকর এবং হারুত ও মারুত।

প্রথম মানব আদমপুত্র শীষের বংশে নবী ইদ্রিসের আগমন ঘটে। লোকেরা নানারকম উপঢৌকনসহ তার কাছে আসত তার মাধ্যমে খোদার করূণা লাভের আশায়। কিন্তু তিনি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলে (ইদ্রিস জিব্রাইলের সাথে ৪ঠা আসমানে ভ্রমণে গিয়ে ফিরে আসতে অস্বীকার করেন) আগত লোকেরা মূল্যবাণ উপঢৌকনসহ ফিরে যেতে লাগল। ইবলিস ঐসময় ইদ্রিসের সন্তানদেরকে প্ররোচিত করে তার পিতার মূর্ত্তি তৈরী করতে এবং এই কাজে সে দু’টি উপকারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছিল। প্রথমত: ইদ্রিসের সন্তানেরা মূল্যবান উপঢৌকনগুলো পেয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হবে অন্যদিকে আগত লোকেরাও ইদ্রিসের মূর্ত্তির মাধ্যমে খোদার দয়া ও করুণা লাভ করবে। আর এভাবেই শয়তান দুনিয়াতে সর্বপ্রথম মূর্ত্তিপূজার সূচনা ঘটায়। 

আর দুনিয়াতে মূর্ত্তিপূজা শুরুর পর শয়তান জ্বিণেরা অতীন্দ্রিয়বাদ ও জাদুবিদ্যা মানুষের মাঝে প্রচার শুরু করে মূর্ত্তির সেবাদাসী তথা পিথিয়ার মাধ্যমে। লোকেরা পিথিয়ার কাছে এমনসব তথ্য জানতে আসত, যেগুলোর উত্তর কোন মানুষের পক্ষে দেয়া সম্ভব ছিল না। শয়তান জ্বিণেরা উর্দ্ধাকাশে ফেরেস্তাদের আলোচনা শুনে তা নিজেদের মত করে পিথিয়ার মাধ্যমে লোকদেরকে জানাত। নবী মুহম্মদের পিতামহ আব্দুল মুত্তালিবও পিথিয়ার স্মরণাপন্ন হন্ আর ঐ পিথিয়ার বানীর কল্যাণে নবীজীর পিতা আব্দুল্লাহ কোরবাণীর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।

যা হোক, হযরত মূসার সময়ে যাদুবিদ্যা মানুষের মধ্যে প্রভূত বিস্তার লাভ করে। কিন্তু তার কাছে যাদুকররা পরাজিত হবার পর এই বিদ্যার প্রচলন কিছুটা কমে। কিন্তু নবী শলোমনের সময় তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। 

যাদু ও যাদুকর।
যাদুর প্রভাবে সৃষ্ট ঘটনাবলী কারণের আওতা বহির্ভূত নয়। পার্থক্য শুধু এই যে এখানে কারণটি অদৃশ্য থাকে। যাদুকরেরা একপ্রকার মেসমেরিজমের মাধ্যমে দর্শকদের কল্পণা শক্তিকে ক্রিয়াশীল করে দৃষ্টি বিভ্রাট ঘটিয়ে থাকে। 

একটি সোজা লাঠি আংশিক পানিতে নিমজ্জিত করলে তা আমাদের চেখে বাঁকা ঠেকবে এবং সেটিকে পানির বাইরে নিয়ে এলে সোজা দেখা যাবে। আবার আবরণের ব্যতিক্রমে একই তল চোখে অবতল কিম্বা উত্তল বোধ হতে পারে। এগুলো সবই মানুষের দৃষ্টি বিভ্রান্তি। মানুষের এই স্বভাবিক দুর্বলতার উপরই দৃশ্য-শিল্পী, যাদুকর এবং তাদের অনুরূপ লোকেরা নির্ভর করে এবং নিজেদের কৌশল দ্বারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। 

আর মু‘জেযা (Sign of God) আল্লাহর কাজ। এতে প্রাকৃতিক কারণের কোন হাত নেই। ‘কারণ’ না জানতে পেরে মূর্খ লোকেরা যাদুকে আলৌকিক বা মু‘জেযা মনে করে যাদুকরদেরকে সম্মানিত ও মাননীয় এবং অনুসরণযোগ্য মনে করতে থাকে। এমনকি অনেক বিশ্বাসীও পয়গম্বরদের মু‘জেযা ও যাদুর পার্থক্য বুঝতে না পেরে বিভ্রান্তিতে পতিত হয়। 

যারা যাদু অবলম্বণ করে তাদের জন্যে পরকালে কোন অংশ নেই। তাই যাদুর স্বরূপ এবং যাদুকরদের মুখোস উন্মোচনের জন্যে আল্লাহ ফেরেস্তা হারুত ও মারুতকে কিছু যাদুবিদ্যার জ্ঞান দিয়েছিলেন। কেননা, এই হারুত-মারুত ফেরেস্তাদ্বয় শাস্তিস্বরূপ মানুষরূপে মানুষের মাঝে বসবাস করছিল। তাদের কোন নির্দিষ্ট কাজও ছিল না। আর হারুত-মারুত মানুষকে যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত শুধুমাত্র মানুষকে সতর্ক করতে যাতে তাদের বিভ্রান্তি দূর হয় এবং যাদুর প্রাকটিস ও যাদুকরদের অনুসরণ করা থেকে তারা বিরত থাকতে পারে। 

ইচ্ছে করলে আল্লাহ এই কাজে পয়গম্বরদেরকে নিয়োজিত করতে পারতেন। কিন্তু তাতে শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ আরও বিভ্রান্তিতে পড়ত। তাই আল্লাহ পয়গম্বরদের ও যাদুকরদের মধ্যে পার্থক্য ফুটিয়ে তুলতে তৃতীয় এবং নিরপেক্ষ পক্ষ ফেরেস্তাদেরকেই এই কাজে নিয়োগ করাকে সমীচীন মনে করেছেন যাতে মানুষের মাঝে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মানুষ হারুত ও মারুতের কাছ থেকে শিখে নেয়া যাদু অকল্যাণের কাজে লাগাতে লাগল। অবশ্য হারুত মারুত -'আমরা তো তোমাদের উপর পরীক্ষা স্বরূপ। তোমরা আমাদেরকে অবিশ্বাস কোরও না’-এ কথা না বলে তারা কোন মানুষকে শিক্ষা দিত না। 

এ দু’জনের কাছ থেকে লোকেরা এমন বিষয় শিক্ষা করত যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত,তথাপি আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কারও কোন ক্ষতি করতে পারত না। তাই তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, আর কোন উপকারে আসত না। হারুত-মারুতের কল্যাণে সাবাতে এই বিদ্যার ব্যবহার বহূলরূপে বৃদ্ধি পায়। এটা এমন এক পর্যায়ে চলে যায় যে, বাদশা শলোমনকে তা ভাবান্বিত করেছিল। তিনি ৪০দিন তার সিংহাসন হারিয়েছিলেন। কথিত ঐ কাহিনী এমন-

বাদশা শলোমন।
বাদশা শলোমন যে সকল অঙ্গুরী বা আংটি পরিধান করতেন তার একটিতে ইসমে আজম খোঁদিত ছিল। এই ইসমে আযম তিনি খোদার নিকট থেকে লাভ করেছিলেন যখন তিনি তার নিজস্ব সকল অশ্বগুলোকে কোরবানী করে দেন। এই কোরবানীর কারণ ছিল অশ্বগুলোর সৌন্দর্য্য তার প্রার্থনার কথা বিষ্মৃত করেছিল এবং ফলে প্রার্থনার সময় অতিবাহিত হয়েছিল।

এ সম্পর্কে কোরআনে রয়েছে-..সে ছিল উত্তম দাস ও সবসময় আমার উপর নির্ভর করত। বিকেলে যখন তার সামনে প্রশিক্ষিত দ্রুতগামী ঘোড়া গুলোকে উপস্থিত করা হল সে বলল, ‘আমি তো আমার প্রতিপালকের স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ে ঘোড়ার প্রেমে মগ্ন হয়ে আছি, এদিকে সূর্য্য ডুবে গেছে। ওগুলোকে আবার আমার সামনে আন।’ তারপর সে ঘোড়াগুলোর পা ও গলা কাটতে লাগল।-(৩৮:৩০-৩৩)

শলোমন তার নিজস্ব সকল আরোহণের পশু কোরবাণী করে দিয়েছিলেন। তাই এসময় আল্লাহ বায়ূকে তার অধীন করে দিলেন। অত:পর শলোমন তার নিজের জন্যে এক চতুর্দ্দোল নির্মাণ করেছিলেন। তিনি তাতে আসন গ্রহণ করলে বায়ূ যেখানে ইচ্ছে সেখানে তাকে বয়ে নিয়ে যেত। আর পক্ষীকুল এই ভ্রমনের সময় তার উপর ছায়া বিস্তার করত। এই চতুর্দ্দোল নির্মিত হয়েছিল লেবাননের এরস কাঠ দিয়ে। আর তার স্তম্ভগুলো রৌপ্য নির্মিত এবং তলদেশ স্বর্ণ নির্মিত ছিল এবং আসন ছিল বেগুণে রঙের। জেরুজালেমের কিছু দক্ষ নারী ঐ আসনের মধ্যভাগকে কারুকার্য্যময় করে তৈরী করেছিল।চতুর্দ্দোল সম্পর্কে শলোমনের পরমগীতে আছে-

শলোমন আপনার জন্যে এক চতুর্দ্দোল নির্মাণ করলেন, 
লেবাননের কাঠ দিয়ে। 
তিনি রৌপ্য দিয়ে তার স্তম্ভ,
সুবর্ণের তলদেশ ও বেগুনে রঙের আসন করলেন। 
অার জেরুজালেমের কন্যাগণ প্রেম দিয়ে তার মধ্যভাগ খঁচিত করল।
                                                 -(পরমগীত ৩:৯-১০)

কোরআনে বলা হয়েছে- তখন আমি বায়ূকে তার অধীন করে দিলাম। সে (বায়ূ) যেখানে ইচ্ছে সেখানে তাকে বয়ে নিয়ে যেত।-(৩৮:৩৬) তার সকালের বেড়ান  ছিল এক মাসের পথ, আর বিকালের বেড়ানও ছিল এক মাসের পথ।-(৩৪:১২) আরও অধীন করে দিলাম সকল জ্বীন, যারা ছিল স্থপতি ও ডুবুরী এবং আরও অনেককে, জোড়া শেকল পরিয়ে। এসব আমার অনুগ্রহ, আমি বললাম, ‘হে শলোমন, এ থেকে তুমি অন্যকে দিতে পার বা নিজে রাখতে পার। এরজন্যে তোমাকে হিসেব দিতে হবে না।’-(৩৮:৩৭-৩৯)

শলোমনের প্রাসাদ
যাইহোক, মূলকথা শলোমন ঐ আংটির সাহায্যেই জ্বীন ও পশু-পক্ষীর উপর আধিপত্য লাভ করেছিলেন। কথিত আছে- একবার তিনি বাথরুমে যাবার সময় ঐ আংটিসহ যেতে পছন্দ করলেন না। তাই তিনি তা খুলে তার এক স্ত্রীর কাছে রেখে গেলেন। শলোমনের এই স্ত্রীর নাম ছিল আমিনা (Amina)। যাহোক, ঐসময় চখর (Sakhr) নামের এক শয়তান জ্বীন তার আকৃতি ধারণ করে তার স্ত্রীর কাছ থেকে আংটিটি নিয়ে গিয়ে সিংহাসনে আরোহণ করল এবং রাজ্য শাসন শুরু করল।

শলোমনের রাজত্ব হাতছাড়া হল, কিন্তু তিনি তা টের পেলেন না। তিনি বাথরুম থেকে ফিরে এসে স্ত্রীর কাছে আংটিটি ফেরৎ চাইলেন। শলোমনের আকৃতি এবং প্রকৃতিতে কোন পরিবর্তন না হলেও শয়তান জ্বীন চখর এমন যাদু করেছিল যে অন্যেরা দৃষ্টি বিভ্রান্তিতে পড়েছিল, তারা তাকে পরিবর্তিতরূপে দেখতে পাচ্ছিল। আর তাই তার স্ত্রীও তাকে চিনতে পারল না। স্ত্রী বলল, ‘আমি তো বাদশাকে আংটি দিয়ে দিয়েছি। তুমি আবার কে?’
বিষ্মিত শলোমন বললেন, ‘আমিই তো শলোমন।’
স্ত্রী বলল, ‘তুমি শলোমন নও বরং তুমি মিথ্যে বলছ।’

এ পর্য়ায়ে জ্বিণ চখর কিভাবে একাজ করল তা বুঝতে আমরা জ্বিণের স্বরূপ সম্পর্কে সামান্য আলোচনা করে নেব।মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর পৃথিবী ও তার আশেপাশের গ্রহ নক্ষত্রে আগুণের তৈরী জ্বিণ জাতিকে বসবাস করতে দেয়া হয়।ফলে জগতের যাবতীয় বস্তু ও প্রাণীর সাথে তাদের সম্যক পরিচয় গড়ে উঠেছিল ধরায় মানবের আগমনের বহু আগে থেকেই। আর জাগতিক সবকিছুর উপর শয়তানের এমন কর্তৃত্বভারের কথা আমরা নবী ইব্রাহিমের সহিফায়ও দেখতে পাই- God's heritage (the created world) is largely under the dominion of evil – i.e., it is "shared with Azazel"-(আব্রাহাম,২০:৫) 

কোয়ান্টাম ফিজিক্স অনুসারে দৃশ্যমান জগতের সকল বস্তু একটি নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি বা কম্পাঙ্কে গঠিত এবং সকল বস্তুর দৃশ্যমান উপস্থিতি একটি ফ্রিকোয়েন্সি সীমার (৩৯০-৭০০nm) মধ্যে অবস্থিত। অন্যদিকে জ্বিণ ও ফেরেস্তা এই ফ্রিকোয়েন্সি সীমার বাইরের কোন ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে সৃষ্ট। ফলে তারা দৃশ্যমান নয়, তবে তারা ইচ্ছেমত উভয় ফ্রিকোয়েন্সি সীমায় যাতায়াত করতে পারে এবং দৃশ্যমান জগতের যে কোন ফ্রিকোয়েন্সিতে নিজেদেরকে্ পরিবর্তিত করে কোন বস্তু, উদ্ভিদ বা প্রাণীর দৃশ্যমান রূপ নিয়ে হাজিরও হতে পারে। আর দৃশ্যমান প্রতিটি বস্তুর ফ্রিকোয়েন্সি তাদের জানা থাকায়, তারা ইচ্ছে করলে ম্যাটার ট্রান্সমিশনের মত করে আইফেল টাওয়ারটি মুহূর্তেই ঢাকার গাবতলীতে এনে বসিয়ে দিতে পারে। সেবার রানী বিলকিসের সেই বিশাল সিংহাসনটা নবী শলোমনের উপদেষ্টা জ্বিণ এভারেই এনে হাজির করেছিল তার সম্মুখে। যেমন-

শলোমন আরও বলল, ‘হে আমার পরিষদবর্গ! তারা আমার কাছে আত্মসমর্পন করতে আসার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমাকে এনে দেবে?’

এক শক্তিশালী জ্বীন বলল, ‘আপনি আপনার স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি তা এনে দেব। এ ব্যাপারে আমি এমনই শক্তি রাখি। আর আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন।’
কিতাবের জ্ঞান যার ছিল সে বলল, ‘আপনি চোখের পলক ফেলার আগেই আমি তা এনে দেব।’ -(সূরা নমল, ২৭:৩৮-৪০)

তবে যেহেতু জ্বিণজাতি দৃশ্যমান জগতের সকল বস্তুর ফিকোয়েন্সি জানে, তাই তারা বস্তু বা প্রাণীর ফিকোয়েন্সিতে অতি নগণ্য পরিমাণে পরিবর্তণ এনে বা তাকে বেষ্টন করে এক ফিকোয়েন্সি জাল সৃষ্টির মাধ্যমে, তাকে সাময়িক পরিবর্তিত রূপদান, পরিবর্তিত আকারে উপস্থাপন বা তাকে সাময়িক অদৃশ্যমান করে দিতে পারে। জ্বিণ এভাবেই বিলকিসের সিংহাসনে সামান্য পরিবর্তণও এনেছিল। যেমন-


যখন তা সামনে রাখা দেখল, তখন (শলোমন) বলল, ........‘তার সিংহাসনের আকৃতিতে সামান্য পরিবর্তণ আনো; দেখি সে চিনতে পারে- নাকি ভুল করে।’ -(২৭:৩৮-৪১)


আর এ সামান্য পরিবর্তনের কারনে বুদ্ধিমতী বিলকিস দাবী করেননি ঐটি তার সিংহাসন, কিন্তু তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সেটি তারই। আর তাই শলোমনের প্রশ্নের প্রদত্ত উত্তরে তার ঐ মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছিল-তার উত্তর হ্যাঁ- না দু’টোই মিন করেছিল। যেমন- (বিলকিস) যখন পৌঁছিল তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, ‘তোমার সিংহাসন কি এ রকম?’

সে বলল, ‘এ তো এ রকমই। ...।’-(২৭: ৪২)

যাহোক, নবী শলোমন সিংহাসন চ্যূত হন কারণ জ্বিণ চখর শলোমনের রূপ ধারণ করেছিল এবং শলোমনের শরীরকে বেষ্টন করে এক মায়াজাল (ফিকোয়েন্সি জাল) সৃষ্টি করেছিল, ফলে এমনকি তার স্ত্রী আমিনাও তাকে চিনতে না পেরে অস্খীকার করে বসে।


তো আর কি, অত:পর শলোমন বিষ্ময়ের সাথে আবিস্কার করেন যে প্রাসাদের কেউই তাকে চিনতে পারছে না। তিনি সবই বুঝতে পারলেন। তার মনে পড়ল পিঁপড়ার রানীর কথা। সে বলেছিল- "beware also of ever giving away thy ring without first saying, 'In the name of Allah the All-merciful."


নবী শলোমন বড়ই দুঃখিত ও ব্যথিত হলেন। তিনি রাজপ্রসাদ থেকে বের হয়ে পড়লেন এবং সমুদ্রের কূলে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করলেন। সেখানে তিনি সারারাত আল্লাহর এবাদত ও তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনায় নিমগ্ন থাকতেন এবং দিনে মুজুর হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এভাবে দিন অতিবাহিত হচ্ছিল।

শলোমনের রিং।
এদিকে একদিন কোন এক কারণে নকল শলোমন, শয়তান চখর সমুদ্রের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল, আর তখন তার হাত থেকে আংটিটি পানিতে পড়ে গেল। আর পানিতে পড়া মাত্র একটা মাছ তা গিলে ফেলল।

একদিন এক ব্যক্তি সমুদ্রকূল থেকে মাছ ক্রয় করল এবং মজুর হিসেবে শলোমনকে নিল। শলোমন মাথায় করে মাছ মালিকের বাড়ী দিয়ে এলেন। মালিক খুশী হয়ে তাকে একটি মাছ দিল।

শলোমন রান্না করার উদ্দেশ্যে যখন মাছটি কাটলেন তখন তার পেট থেকে তার সেই আংটিটি বের হয়ে এল। আংটি ফিরে পাবার সাথে সাথে সমস্ত জ্বীন এবং ইনসান তার অনুগত হয়ে গেল। তিনি পুনঃরায় তার রাজত্ব ফিরে পেলেন। শলোমন সর্বমোট চল্লিশদিন সমুদ্র উপকূলে ছিলেন। 

অবশ্য শলোমনের এই রাজত্ব হাতছাড়া হবার কারণ হিসেবে অনেকে বলেন- "His forty days' exile had been sent in punishment for the idolatry practiced in his house for forty days, although unknown to him, by one of his wives." -(Ṭabri, "Annales," ed. De Goeje, i. 592 et seq.) কথিত আছে- "it was the daughter of the conquered King of Sidon who introduced idolatry into his house."

যাহোক, শলোমনের রাজ্য হারান সংক্রান্ত কোরআনের আয়াতসমূহ- "And indeed We try Solomon and We placed on his throne Jasadan (a devil, so he lost his kingdom for a while) but he did return (to his throne and kingdom by the Grace of Allah and he did return) to obedience and in repentance. He said: "my Lord! Forgive me, and bestow upon me a kingdom such as shall not belong to any other after me. Verily, You are the Bestower."-(38: 34-35)

সিংহাসনে শলোমন।
রাজত্ব ফিরে পাবার পর শলোমন ঐ শয়তান জ্বীন চখরকে কি করেছিলেন তা আমরা জানি না। তবে আমরা সেই বিখ্যাত আরব্য রজনীর (One Thousand and One Nights) কাহিনী থেকে যা জানি তা হল- A genie who had displeased King Solomon and was punished by being locked in a bottle and thrown into the sea. Since the bottle was sealed with Solomon's seal, the genie was helpless to free himself, until freed many centuries later by a fisherman who discovered the bottle. 

যাহোক, কাহিনীতে ফিরি- যাদুকর ও তাদের সহযোগী জ্বিনদের উপর শলোমন ক্ষেপে গেলেন। এসময় তিনি অনুগত জ্বীনের মাধ্যমে হারুত-মারুতের সংবাদ পান। তখন তিনি হারুত-মারুতকে বাবিল শহরের একটা কূপে বন্দী করে ফেলেন  যেন তাদের দ্বারা যাদুর বংশ বিস্তার আর না হতে পারে। কথিত আছে তারা সেখানেই বন্দী অবস্থায় কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। 

এরপর শলোমন সকল যাদুর বই সংগ্রহ করে তার সিংহাসনের নীচে মাটিতে প্রোথিত করে রাখেন। অবশ্য তার মৃত্যুর পর প্রোথিত ঐ গ্রন্ধসমূহ ভিন্ন এক কাহিনীর জন্ম দিয়েছিল। শয়তান জ্বীনেরা তার মৃত্যুর পর সিংহাসনের নীচ থেকে যাদুর ঐ সমস্ত বই উত্তোলন করে সেগুলি দেখিয়ে লোকদেরকে বলেছিল- 'এগুলিই তার উপর অবতীর্ণ কিতাব, যা তিনি আমাদের নিকট থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন।'

 হারুত-মারুত বাবিল শহরের একটা কূপে বন্দী
এ সম্পর্কে ইবনে কাছিরের বক্তব্য এমন- When Solomon lost his kingdom, great numbers from among mankind and the jinn renegaded and followed their lusts. But, when Allah restored to Solomon his kingdom and the renegade came to follow the Straight Path once again, Solomon seized their holy scriptures which he buried underneath his throne.

Shortly after, Solomon died. In no time, the men and the Jinn uncovered the buried scriptures and said: This was a book revealed by Allah to Solomon who hid it from us. -ibn Kathir.

যাদু করা কূফর। আর তাই কোরআন শলোমনের যাদু দ্বারা রাজ্য শাসনের কথা অস্বীকার করে এবং হারুত-মারুত ও যাদুর স্বরূপ সম্পর্কে সঠিক তথ্য আমাদের সামনে তুলে ধরে- ‘আর শলোমনের রাজত্বে শয়তানেরা যা আওড়াত তারা (সাবাবাসীরা) তা মেনে চলত। শলোমন কূফর করেনি, বরং শয়তানই কূফর করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিত (সেই) যাদু যা বাবিল শহরের দুই ফেরেস্তা হারুত ও মারুতের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। তাই ‘আমরা তো তোমাদের উপর পরীক্ষা স্বরূপ। তোমরা অবিশ্বাস কোরও না’-এ না বলে তারা কোন মানুষকে শিক্ষা দিত না। 

এ দু’জনের কাছ থেকে তারা এমন বিষয় শিক্ষা করত যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত শুধু, আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কারও কোন ক্ষতি করতে পারত না। তাই তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, আর কোন উপকারে আসত না। আর তারা ভাল করেই জানত যে, যে-কেউ তা কিনবে পরকালে তার কোন অংশ নেই। আর যদি তারা জানত তারা যার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করছিল তা কত নিকৃষ্ট! -(২:১০১-১০২)

সমাপ্ত।
ছবি: ibelieveinadv, phoenixmasonry, godsgeography,gosai.

Moses: কোরাণিক ক্যানভাসে নবী মূসা।

Abu Hena Mostafa Kamal  01 May, 2017 মি সরের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ফেরাউন। হঠাৎ করে তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। কিন্তু তিনি কোন উত্তরাধিকারী ন...