pytheya.blogspot.com Webutation

২২ অক্টোবর, ২০১৩

হাদিস: যে কারণে শিয়াগণের হুরায়রা বর্ণিত হাদিস বর্জন করে।


মাম বুখারী ৬ লক্ষের মত হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন। তার মধ্যে তিনি ৯৯ শতাংশ হাদিস বর্জন করেন। তার নিজস্ব “ব্যক্তি গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি”তে হাদিস সাব বর্ণনাকারীগণ বাদ পড়াতে তাদের বর্ণিত হাদিসগুলোও বর্জিত হয়। তবে মূল বর্ণনাকারী অথাৎ সাহাবীদের কাউকেও তিনি বর্জন করেননি, যদিও অনেক সাহাবী সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য রসূলুল্লাহর সময়ও ছিল। এমনই একজন সাহাবা আবু হুরায়রা। তার বর্ণিত ৪৪৬টি হাদিস বুখারী শরীফে স্থান পেয়েছে।

Azd গোত্র।
আবু হুরায়রার বংশ-পরিচয় পরিস্কার নয়। তার জন্ম, জন্মস্থান ও বংশধারা সম্পর্কে যতটুকু জানা যায় তা এই যে, তার জন্ম ইয়েমেনের লোহিত সাগরের উপকূলস্থ তিহামা অঞ্চলের বাহাতে, দাউস বংশের আযদ গোত্রের বনি সুলায়েম উপগোত্রে, ৬০৩ সনের দিকে। তার প্রকৃত নাম আবদ আল-রহমান ইবনে সখর আল-আযদি বলে ফিকহ ও হাদিসবেত্তা আল-নওয়াবী উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ বলেন, হুরায়রার পিতা ছিলেন ওমায়ের বিন আমের এবং মাতা ওমায়মা বিনতে সুফেহ।

আরবীতে, হির্রা অর্থ বিড়াল এবং হুরায়রা অর্থ বিড়াল ছানা। 
ইবনে কুতায়বা তার আল-মা’রিজে, হুরায়রার নাম কিভাবে আবু হুরায়রা হল, সে সম্পর্কে হুরায়রার নিজের উদ্ধৃতি দিয়েছেন: “আমার এমন নামকরণের কারণ, ছোট একটা বিল্লির সঙ্গে আমি সবসময় খেলা করতাম।” 
অবশ্য ইবনে সা’দ তার তাবাকাতে হুরায়রার এমন উদ্ধৃতি দিয়েছেন- “আমি ভেড়া চরানোর কাজ করতাম, আর আমার ছিল একটা বিল্লি। রাতের বেলা আমি তাকে গাছে তুলে দিতাম, তারপর তার সাথে খেলতে সকালে তাকে নামিয়ে নিতাম। এ কারণে লোকেরা আমাকে আবু হুরায়রা বলে ডাকত।”
আবার কোথাও কোথাও আবু হুরায়রা নামের শানে নযুল এমনও দেয়া হয়েছে- “ইসলাম গ্রহণের পর আবু হুরায়রা মসজিদে নব্বীতে এবং নবীজীর কাছেকাছে থাকতেন। আর খাবার শেষে বিড়ালের জন্যে নিয়মিত থালায় কিছু অবশিষ্ট রাখা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এভাবে মসজিদের আশেপাশে বিড়ালের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আর হুরায়রাও সেগুলোর সাথে খেলা করতে পছন্দ করতেন। এতে তিনি আবু হুরায়রা উপাধি পান।”

ফিরোজ আবাদি তার আল কামুস আল মুহিত কিতাবে উল্লেখ করেছেন- “হুরায়রার তার বিড়াল প্রীতি এবং তার সাথে খেলা করার অভ্যাস, 
ইসলাম গ্রহণের পরও বজায় রেখেছিল, যে পর্যন্ত না নবীজী তার বিড়ালকে তার জামার অস্তিনে লুকিয়ে রাখতে দেখতে পান।”

হুরায়রার বাল্যকাল কিভাবে কেটেছে সে সম্পর্কে শেখ আহমেদ তার শামস আল-মা’রিফে হুরায়রার এমন উদ্ধৃতি দিয়েছেন- “আমি এতিম অবস্থায় বড় হয়েছি। তারপর সম্বলহীন অবস্থায় আমি ভাগ্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ি। তারপর বেঁচে থাকার জন্যে প্রয়োজনীয় আহার ও পরিধেয়র বিনিময়ে আমি বুশরা বিনতে গাজওয়ানের চাকর হিসেবে নিয়োগ পা
ই....আমার কাজ ছিল যখন তারা অশ্বপৃষ্ঠে সওয়ার হয়ে আসতেন বা কোথাও যেতেন, তখন বাদ্য ও সঙ্গীতের সাথে তাদেরকে অভ্যর্থনা ও বিদায় জানান।”

ইবনে সা’দ এর তাবাকাত থেকে জানা যায় যে, হিজরী ৭ম সনে, ৩০ বৎসর বয়সের সময় হুরায়রা কপর্দকহীন অবস্থায় একবস্ত্রে নগ্নপদে দাউস গোত্রের কিছুলোকের সঙ্গে মদিনায় আগমন করেন। এসময় রসূলুল্লাহ খায়বর যুদ্ধে ব্যাপৃত ছিলেন। মদিনায় ফিরে নবীজী তার সঙ্গীদেরকে লব্ধ "গনিমতের মাল" থেকে একটা অংশ হুরায়রাকে দিতে বলেন এবং তারা সেইমতই করেন। 


ইবনে হজর আসকালানী তার ফতেহ আল-বারীতে উল্লেখ করেছেন- আর হুরায়রা "মসজিদে নব্বী"তে থাকতে লাগলেন যেভাবে "আসহাবে সুফ্ফা"গণ থাকতেন। কেননা, তিনি ছিলেন সহায় সম্বলহীন, উপরন্তু তার পরিবার বা নিকট আত্মীয়ের অপর কেউ মদিনাতে ছিল না। তাছাড়া তিনি জানতে পেরেছিলেন আসহাবে সুফ্ফাদেরকে নবীজী আপ্যায়ন করতেন এবং অন্যান্য সাহাবীদের দ্বারাও আপ্যায়ন করাতেন। 
সুফ্ফাদের প্রতি আরও একজন অতি সদয় ছিলেন, তিনি হলেন আলীর ভ্রাতা জাফর ইবনে আবু তালিব। এ কারণে তাকে “দরিদ্রের পিতা” বলেও সম্বোধন করা হত। আর তাই হুরায়রার নিকট জাফর এর পরিচয় ছিল নবীজীর পরে সর্বাধিক দয়ালু ব্যক্তি হিসেবে।

হুরায়রা সর্বদা নবীজীর কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করতেন যতটা না তার প্রতি ভালবাসায়, তার চেয়েও অধিক ছিল তার ক্ষুধা নিবৃত্তির কারণে। আর তিনি নিজে
ই এর সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন -“আমি তার সঙ্গ ছাড়তাম না ক্ষুধা নিবারণের জন্যেI” আর এ সম্পর্কে বুখারী, মুসলিম ও আহমদে অনেকগুলো হাদিসও রয়েছে।

আল-তিজানি সামায়ি তার গ্রন্থে
 উল্লেখ করেছেন- “হুরায়রা প্রায় তিন বৎসরকাল নবীজীর সঙ্গ লাভ করেছিলেন। অনেকের মতে এ সময়কাল এক বৎসর দশ মাস। কেননা, নবীজী তাকে আল-হাদরামীর সঙ্গী করে বাহরাইনে প্রেরণ করেছিলেন। আর তিনি নবীজীর মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন।”
এই আবু হুরায়রা, ৬৮১ সন, ৫৯ হিজরীতে, ৭৮ বৎসর বয়সে মারা যান এবং তাকে “আল বাকী”তে সমাহিত করা হয়।

নবীজীর জীবিতকালে হুরায়রার পরিচিতি তেমন একটা ছিল না। তিনি কখনও উল্লেখযোগ্য সাহাবী হিসেবেও গণ্য হননি। বর্তমানে সুন্নী মুসলিম সমাজে তার অধিক পরিচিতির একমাত্র কারণ তার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হাদিস বর্ণনা। কেননা, বক্তৃতা ও লেকচারে, শুক্রবারের খুৎবায় ও সেমিনারে, হাদিসের কিতাব ও সিরাতে, ফিকাহ ও 
ইবদাহতে, আবু হুরায়রা নামটি এসেছে এভাবে: “On the authority of Abu Hurayra, may Allah be pleased with him, who said: The Messenger of Allah, may Allah bless him and grant him peace, said …”.

হাদিস সংগ্রহকারীগণের সকলেই এ বিষয়ে একমত যে, হাদিস বর্ণনাকারীগণের মধ্যে আবু হুরায়রাই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সর্বাধিক হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণিত হাদিস সংখ্যা সর্বমোট ৫,৩৭৪টি বলে আল-কাস্টালানী তার ইরশাদ আস-সারীতে এবং ইবনে হাযম তার আল-মিলাল ওয়া আন-নিহাল গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর এ সংখ্যা বিবি আয়েশা বর্ণিত হাদিসের দ্বিগুনেরও অধিক এবং চার খলিফা বর্ণিত হাদিসের সংখ্যার কয়েকগুন বেশী। জুবায়ের সিদ্দিকীর কিতাব [“হাদিস সাহিত্য: উৎপত্তি, বিকাশ ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ] থেকে জানা যায়, বিবি আয়েশার বর্ণিত হাদিস সর্বমোট ২২১০টি, আবু বকরের ১৪২টি, ওমরের ৫৩৭টি, ওসমানের ১৪৬টি এবং আলীর ৫৮৬টি।

মুসলিমদের এক উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশেষত: শিয়াগণ হুরায়রা বর্ণিত সকল হাদিস বর্জন করেন। তারা নবীজীর পরিবারের সদস্যদের হত্যায়, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের সাথে তার সখ্যতা, তাদের স্বার্থসিদ্ধিতে হাদিস বর্ণনা, ত্রুটিপূর্ণ ও জাল হাদিস বর্ণনাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমরা ঐ “পেট পুজারী” আবু হুরায়রাকে বাতিল করে দিয়েছি, যে আলীর উচ্চ মর্যাদা ও কর্তৃত্বভার জানা সত্ত্বেও তাকে উপেক্ষা করে এবং কূচক্রী মূয়াবিয়াকে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বেঁছে নেয়। তারপর সে তার খাবার টেবিলে সুস্বাদু ডিসগুলো উপভোগ করতে বসে এবং মিথ্যে হাদিস রচনা করে
আলীর বিপক্ষে।” 

শিয়াদের এমন দাবীর যথার্থতা কি, তা খতিয়ে দেখা একজন মুসলিমের দায়িত্ব ও কর্তব্য। কেননা কোন কিছুতে [ঈমান বাদে] অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে নয় বরং সত্যতা যাঞ্চাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন খোদা আমাদেরকে। এমনকি সেসব যদি তাঁর সৃষ্টি, প্রেরিত বাণীও হয়, যেমন-

তারা (মানুষ) কি উপরের আসমানের দিকে লক্ষ্য করে না, কিভাবে আমি তাকে বানিয়েছি এবং তাকে সাঁজিয়েছি এবং তাতে কোন ফাঁক বা ফাঁটল নেই।-(৫০:৬) দৃষ্টিকে পুনরায় নিক্ষেপ কর। কোন ফাঁক দেখতে পাও কি?”-(৬৭:৩) 
তারা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারও পক্ষ থেকে হত, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরীত্য দেখতে পেত।-(৪:৮২)

এখন প্রশ্ন হল- খোদা কেন তাঁর সৃষ্টি বা তাঁর প্রেরিত বাণীতে ফাঁক খুঁজতে মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন?
উত্তর হল- তিনি নির্দেশ দিয়েছেন একারণে যেন- ফাঁটল বা ত্রুটি খুঁজে পাওয়া বা না পাওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বাসীদের বিশ্বাস দৃঢ় হয়, আর, অবিশ্বাসীদের অবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পায়। [আর এর প্রমান আমরা পাই এ আয়াত থেকে- “আর যখন ইব্রাহিম বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখাও কিভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর।’
তিনি বললেন, ‘তুমি কি এ বিশ্বাস কর না?’
সে বলল, ‘নিশ্চয় করি, তবে কেবল এ আমার মনকে বুঝ দেবার জন্যে।’-(২:২৬০)] 

উদাহরণ স্বরূপ- কোন বিশ্বাসী যখন এই আয়াতগুলো দেখবে- "আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দুরূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত্ত করেছি, অবশেষে তাকে এক নূতন রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত
ই না কল্যাণময়!"-(২৩:১২-১৬) -তখন শিহরিত হবে খোদার সৃষ্টির নৈপূণ্যতায়। অন্যদিকে অবিশ্বাসীগণ আয়াতগুলি দেখে বলবে, “এই সৃষ্টিতে তো বিকলাঙ্গ ও হিজড়াও জন্মে।” বা, “খৎনার চামড়াটি যদি কেটে ফেলতেই হবে, তবে তা দেবার দরকারই-বা কি ছিল?” ইত্যাদি।

যাইহোক, আমরা আমাদের মূল উপস্থাপনায় ফিরে আসি এবং ডিটেইল বর্ণনায় দেখার চেষ্টা করি, ঠিক কোন কোন কারণে শিয়াগণ আবু হুরায়রার সব হাদিস বর্জন করেছেন -


কারণ-১:

বিবি আয়েশার বিবাহের দশ বৎসর পর অর্থাৎ হিজরতের ৭ম বৎসরে আবু হুরায়রা মুসলমান হন। মাত্র দু’তিন বৎসর বসুলুল্লাহর সঙ্গ পেয়ে অক্ষর জ্ঞানহীন এই ব্যক্তি এত অধিক হাদিস বর্ণনা করেন কিভাবে? এখানে এই প্রশ্ন নয় তার স্মরণে রাখার মানসিক সক্ষমতা নিয়ে বরং প্রশ্ন এই যে, রসূলুল্লাহর নিকটতম এবং তার অধিক সাহচর্য পাওয়া ব্যাক্তিবর্গ (আলী, আবু বকর প্রমুখ) যেখানে বর্ণনা করেছেন সীমিত কিছু হাদিস, তবে কেন এবং কি উদ্দেশ্যে তিনি বর্ণনা করেছেন এত অধিক সংখ্যক হাদিস? Was it possible for any wise man to accept this large number of Hadiths narrated by this man, which were more than all what were narrated by the four caliphs, the wives of the prophet and all the Hashemites, men and women?

অবশ্য হুরায়রার এই অধিক হাদিস বর্ণনা করার কারণ বুখারীর কিতাবেই হাদিস হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যেমন- “লোকে বলে, আবু হুরায়রা বড় বেশী হাদিস বর্ণনা করে। জেনে রাখ, কিতাবে দু’টি আয়াত যদি না থাকত, তবে আমি একটি হাদিসও বর্ণনা করতাম না।” তিনি আয়াত দু'টি বর্ণনা করলেন-


“আমি সেসব স্পষ্ট নিদর্শণ ও পথ-নির্দেশ অবতীর্ণ করেছি মানুষের জন্যে কিতাবে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার পরও যারা তা গোপন রাখে আল্লাহ তাদেরকে লানত দেন এবং অভিশাপকারীগণও তাদেরকে অভিশাপ দেয় কিন্তু যারা তওবা করে এবং নিজদিগকে সংশোধন আর সত্যকে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে, ওরাই তারা যাদের প্রতি আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালূ।” -(২:১৫৯-১৬০)


অত:পর বললেন, “আসলে, আমার মুজাহির ভাইরা বাজারে কেনা-বেচায় এবং আমার আনসার ভাইরা জমিজমার কাজে মশগুল থাকত। আর আবু হুরায়রা খেয়ে না খেয়ে তুষ্ট থেকে রসূলুল্লাহর সাথে লেগে থাকত। তাই তারা যখন উপস্থিত থাকত না, তখন সে উপস্থিত থাকত এবং তারা যা মুখস্ত করত না, সে তা মুখস্ত রাখত।”- বর্ণনা-আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ, উৎস -আবু হুরায়রা। বুখারী, ১১৯।


কিসের কি যুক্তি! কোরআনের ২:১৫৯-১৬০ আয়াতদ্বয়ে খোদার বাণী গোপনকারীকে সতর্ক করা হয়েছে, হাদিস গোপনকারীকে নয়, হুরায়রার কি এই জ্ঞানটুকুও নেই। তাছাড়া বসূলুল্লাহর কথা, কাজ বা অনুমোদনকে হাদিস হিসেবে ধরলে, হুরায়রার নিজের এই উক্তি কি করে হাদিস হিসেবে বুখারী তার কিতাবে স্থান দিয়েছেন? 
মুহাদ্দিস ও বিজ্ঞ আলেমগণ সাহাবীদের এ ধরণের বর্ণনাকে আসার বা মওকূফ হাদিস হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন। পাঠক ভাবেন একবার! কাউলী বা ফে'লীর খোঁজ নেই, বুখারীর অসার নিয়ে টানাটানি। আর এ কারণে আজ মানুষ তার সংগৃহীত হাদিস নিয়ে প্রশ্ন তুলতে সাহস পাচ্ছে।  

কারণ-২:

আবু হুরায়রার ব্যক্তি সততা ও বর্ণিত হাদিসের সত্যতা প্রশ্নের সম্মুখীণ। কেননা, নবীজীর নামে ভূয়া হাদিস বর্ণনা করায় এবং ব্যক্তি সততা না থাকার অভিযোগে হযরত ওমর তাকে দু’দুবার চাবকে ছিলেন।

১ম ঘটনা: রসূলূল্লাহর জীবিতকালীন সময়ে হুরায়রা এমন একটি হাদিস বর্ণনা করলেন- আমি বললাম, “ও রসুলূল্লাহ! আমি আপনার এমন অনেক হাদিস শুনেছি যেগুলো আমি ভুলতে বসেছি।” 

তিনি বললেন, “আত্মাকে প্রসারিত কর, তিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান, জমিন এবং যাবতীয় সৃষ্টি সাত দিনে।”

যখন ওমর এ সম্পর্কে জানতে পারলেন, তখন তিনি তাকে ডেকে নিয়ে ঐ হাদিসটি পুনরায় বর্ণনা করতে বললেন। সেটি শোনার পর ওমর তাকে চাবকে কঠোর স্বরে বললেন, “এটা কিভাবে হতে পারে যখন আল্লাহ নিজেই বলেছেন এসব করা হয়েছিল ছয় দিনে, আর তুমি কিনা নিজেই বলছ এখন তা হয়েছিল সাত দিনে?!”

আবু হুরায়রা নরম সূরে বললেন, “হয়ত: আমি এটা শুনেছি Ka`b al-Ahbar এর নিকট থেকে...”
ওমর বললেন, “যেহেতু তুমি নবীজীর হাদিস এবং যা Ka`b al-Ahbar বলে, তার মধ্যে পার্থক্য করতে পার না, সুতরাং অবশ্যই তোমার কোনকিছু একেবারেই বর্ণনা করা উচিৎ নয়।” -Abu Hurayra by Mahmoud Abu Rayyah.

আর এ ঘটনা অন্যরা বর্ণনা করেছেন এভাবে- Caliph Omar lashed him, rebuked him, and forbade him to narrate hadith from the Holy Prophet. কথিত আছে, ওমর যখন তাতে চাবকাতে শুরু করেন, তখন হুরায়রা বুঝতে পারেননি কেন তাকে চাবকান হচ্ছে। তাই তিনি ওমরের নিকট কারণ জানতে চান। ওমর চাবকাতে চাবকাতে উত্তর দেন- "Because you narrate Hadith in large numbers from the Holy Prophet, you are fit only for attributing lies to him. So you must stop narrating hadith from the Prophet; otherwise, I will send you to the land of Daws." -Ibn Asakir, Ta'rikh Kabir; Muttaqi, Kanzu'l-Umma.


২য় ঘটনা: ৬৪২ সনে (২১ হিজরী) খলিফা ওমর হুরায়রাকে বাহরাইনের গভর্ণর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। দু’বৎসর তিনি ঐ দায়িত্ব পালন করেন এবং তারপর পদচ্যূত হন তার বিরুদ্ধে scandal ছড়ানোর কারণে।


পদচ্যূতের পর হুরায়রাকে খলিফা ওমরের নিকট আনায়ন করলে ওমর তাকে বললেন, “আমি জেনেছি যখন আমি তোমাকে বাহরাইনের গভর্ণর নিযুক্ত করি তখন তোমার পায়ে দেবার মত এক জোড়া জুতাও ছিল না, কিন্তু আমাকে এখন বলা হয়েছে যে, তুমি এক হাজার ছয় শত দিনারের অশ্ব ক্রয় করেছ।”


হুরায়রা নরম স্বরে বললেন, “কিছু অশ্ব আমি উপহার হিসেবে লাভ করেছিলাম, আর সেগুলি বৃদ্ধি পেয়েছে।”

ওমর তার ওজরে কান না দিয়ে বললেন, “আমি তোমাকে কেবল বেতন দিতাম। আর এই মূল্য তোমার দু’বৎসরের বেতনেরও বেশী। সুতরাং বাকী অর্থ বায়তুল মালে জমা কর।”
হুরায়রা বলেন, “এই অর্থ আপনার নয়।”

ওমরের মুখ রাগে লাল হয়ে গেল, তিনি বললেন, “আল্লাহ স্বাক্ষী, আমি চাবকে তোমার পিঠের চামড়া তুলে নেব।” এ কথা বলে তিনি তাকে চাবকাতে শুরু করলেন যতক্ষণ না হুরায়রা রক্তাক্ত হলেন। তারপর রাগত স্বরে চিৎকার করে বললেন, “এবার অর্থ ফেরৎ নিয়ে এস।” 

এসময় হুরায়রা বলেন, “আমি এর হিসাব আল্লাহর নিকট দেব।”

এতে ওমর বলেন, “এটা হত তখনই, যদি তুমি ঐ অর্থ সঠিকভাবে গ্রহণ করতে এবং তা ফিরিয়ে দিতে বাধ্যগত ভাবে। সুতরাং এখন আমি তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফেরৎ পাঠাব গোবর দলার মত করে, যেন তিনি তোমাকে গাধা চরানীর কাজে লাগাতে পারেন।” -Al-'Iqd al-Farid by Ibn 'Abd Rabbih, Vol-I.


আর এ ঘটনা অন্যরা বর্ণনা করেছেন এভাবে- After Caliph Umar appointed Abu Hurayra governor of Bahrain in 21 A.H., the people informed the Caliph that Abu Hurayra had amassed great wealth and had purchased many horses. Umar therefore deposed him in 23 A.H. As soon as Abu Hurayra entered the court, the Caliph said: "O enemy of Allah and enemy of His Book! Have you stolen Allah's property?" He replied, "I never committed theft, but the people have given me gifts." -Ibn Asthir; Abil-Hadid, Sharhe-Nahju'l-Balaga, Vol-III, Page-104.


Caliph said: "when I made you the governor of Bahrain, you had not even shoes on your feet, but now I have heard that you have purchased horses for 1,600 dinars. How did you acquire this wealth?' He replied, 'These were men's gifts which profit has multiplied much.' The Caliph's face grew red with anger, and he lashed him so violently that his back bled. Then he ordered the 10,000 dinars which Abu Hurayra had collected in Bahrain be taken from him and deposited in the account of the Baitu'-Mal." -Ibn Sa'd, Tabaqat, Vol-IV, Page-90. 


কারণ-৩:

আবু হুরায়রা হাদিস বিকৃতকারী ও মিথ্যেবাদী। নবীজীর অনেক গণ্যমান্য সাহাবী তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। যেমন-

ক. এই হাদিসটি হুরায়রা বর্ণিত: আমি ওসমানের স্ত্রী, নবী কন্যা রোকাইয়ার গৃহে প্রবেশ করলাম। তার হাতে একটা চিরুণি ছিল। তিনি বললেন, “নবীজী এইতো এখান থেকে গেলেন। আমি তার চুল আঁচড়ে দিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আবু আব্দুলাহ (ওসমান)-কে কেমন দেখছ? আমি বললাম, “ভালই।” তিনি বললেন, “আকিদায় সে আমারই কাছাকাছি, তাকে সম্মান কোরও।” -Mustadrak Al-Hakim, Volume 4, page 48.


-রোকাইয়া মারা যান আবু হুরায়রার ইসলাম গ্রহণের পূর্বে। অথচ তিনি রোকাইয়ার গৃহে সংঘটিত তার মৃত্যুর পূর্ববর্তী কোন ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যখন তার মদিনায় আগমনই ঘটেনি। এটা কিভাবে সম্ভব? 


খ. আবু হুরায়রা বর্ণিত- The Messenger of Allah said to his uncle (Abu Talib) at the time of his death: Make a profession of it that there is no god but Allah and I will bear testimony (of your being a Muslim) on the Day of judgment. But he refused to do so. Then Allah revealed this verse:


“Verily thou canst not guide to the right path whom thou lovest. And it is Allah Who guideth whom He will and He knoweth best who are the guided” (28:56). -Muslim, Book 001, Number 0037.


সকলেই এ বিষয়ে একমত যে আবু তালিবের মৃত্যুর সময় আবু হুরায়রার মক্কা তো দূরের কথা হিজাজেই আগমন ঘটেনি। তাহলে কিভাবে তিনি চাক্ষুষ স্বাক্ষীর মত ঘটনার বর্ণনা দেন? 


গ. আবু হুরায়রা বর্ণিত: When this verse was revealed: And warn thy nearest kindred-(26:214), the Messenger of Allah called the Quraish; so they gathered and he gave them a general warning. Then he made a particular (reference to certain tribes) and said: O sons of Ka’b b. Luwayy, rescue yourselves from the Fire; O sons of Murra b. Ka’b, rescue yourselves from the Fire: O sons of Abd Shams, rescue yourselves from the Fire; 0 sons of Abd Manaf rescue yourselves from the Fire; O sons of Hashim, rescue yourselves from the Fire; 0 sons of Abd al-Muttalib, rescue yourselves from the Fire; O Fatimah, rescue thyself from the Fire, for I have no power (to protect you) from Allah in anything except this that I would sustain relationship with you.- Muslim, Book 001, Number 0399. রসূলুল্লাহকে দেখার একযুগ আগের ঘটনা কিভাবে আবু হুরায়রা বর্ণনা করেন?


ঘ. ইবনে শিরিণ বর্ণিত: আবু হুরায়রা বলেন, “একবার রসূলুল্লাহ আমাদের সান্ধ্যকালীন এক নামাজের ঈমামতি করলেন।-----তিনি আমাদের নিয়ে দু’রাকাত নামাজ আদায় করে সালাম ফিরালেন। তারপর তিনি মসজিদে আড়াআড়ি রাখা এক খন্ড কাঠের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন এমনভাবে যেন তিনি রাগান্বিত। তিনি তার ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে এক হাতের আঙ্গুল অপর হাতের মধ্যে প্রবেশ করালেন। আর তার তার ডান চোয়াল বাম হাতের পিঠের উপর রাখলেন। যাদের তাড়া ছিল তারা মসজিদের দরজা দিয়ে বাইরে চলে গেলেন। সাহাবীগণ বললেন, "নামাজ কি সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে?"


উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আবু বকর ও ওমরও ছিলেন। কিন্তু তারা নবীজীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে ইতস্তত: করছিলেন। জুল ইয়াজদিন নামে লম্বা হাত বিশিষ্ট এক ব্যক্তি বললেন, "ইয়া রসূলুল্লাহ! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি নামাজ সংক্ষেপ করা হয়েছে?"

তিনি বললেন, "আমি ভুলিনি এবং নামাজ সংক্ষেপও করা হয়নি।" এরপর তিনি (অন্যদের) জিজ্ঞেস করলেন, "জুল ইয়াজদিনের কথা কি ঠিক?"
তারা বললেন, "হ্যাঁ।"

তারপর তিনি এগিয়ে এলেন এবং নামাজের বাদ পড়া অংশটুকু আদায় করলেন। তারপর সালাম ফেরালেন ও আল্লাহু আকবর বললেন এবং স্বাভাবিক সিজদার মত বা একটু দীর্ঘ সিজদা করলেন। তারপর আল্লাহু আকবর বলে মাথা ওঠালেন। পরে আল্লাহু আকবর বললেন এবং স্বাভাবিক সিজদার মত বা একটু দীর্ঘ সিজদা করলেন। তারপর আল্লাহু আকবর বলে মাথা ওঠালেন।” -al-Bukhari, Volume 1, Book 8, Number 469.


-বর্ণিত হাদিসে আবু হুরায়রা পরিস্কার ভাবে বলছেন যে, তিনি রসূলের পিছনে ঐ নামাজে অংশগ্রহণকারীদের একজন এবং ঐ নামাজে জুল ইয়াজদিনও উপস্থিত ছিলেন। এই জুল ইয়াজদিনের ছিলেন জুহরা গোত্রের এবং তার প্রকৃত নাম Thush-Shamalayn ibn Abd Amar. আমরা সকলেই জানি যে, জুল ইয়াজদিন বদর যুদ্ধে শহীদদের অন্যতম। তার হত্যাকারী ছিলেন- Ossama aj-Jasmi Ibn Abdul Birr. সুতরাং ঘটনাটি অবশ্যই বদর যুদ্ধের পূর্ববর্তী, যখন হুরায়রার নবীজীর সঙ্গে সাক্ষাৎই ঘটেনি। তাহলে কিভাবে তিনি নবীজীর সঙ্গে নামাজ আদায় করেন, যখন নবীজীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎই ঘটেনি?


ঙ. বিড়াল নিয়ে আবু হুরায়রা এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন- নবীজী বলেছেন: "A woman would be in Hell because of a cat. She tied it. She neither fed it nor let it feed on ground's insects".- al-Bukhari, vol.2, p.I49; Ahmed bin Hanbal, Musnad, vol.2, p.261.


"If a monkey, a black dog or a woman passes in front of a praying person, his prayer is nullified." Bukhari/102; Hanbel 4/86.


-বিবি আয়েশা এসব হাদিস শুধু অস্বীকারই করেননি, তিনি অনেকবারই হুরায়রাকে বিতর্কিত করেছেন এবং বলেছেন, “Abu Hurayra is a great liar who fabricates hadith and attributes them to the Holy Prophet".-Ibn Qutayba, in Ta'wil-e-Mukhtalifu'l-Hadith; Hakim in Mustadrak, Volume III; Dhahabi in Talkhisu'l-Mustadrak; Muslim, Volume II.


ইবনে কুতায়বা তার বইতে আরও একটি কাহিনীর উল্লেখ করেছেন- বিবি আয়েশা হুরায়রাকে বললেন, “তুমি এমন হাদিস বল যা আমরা তার নিকট থেকে কখনও শুনিনি।”

এতে হুরায়রা বলেন, “আপনি তো সব সময় আয়নার সম্মুখে সাজুগুজু নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।”

তখন বিবি আয়েশা বলেন, “তুমি তো সেই, যে সব সময় তার পেট আর ক্ষুধা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তোমার ক্ষুধা তোমাকে ব্যস্ত রাখে, আর তুমি খাবারের সন্ধানে লোকদের পিছনে যত্রতত্র দৌঁড়াদৌঁড়ি শুরু কর। ওদিকে তারা সাধারনত: তোমাকে এড়িয়ে চলে এবং তোমার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। সবশেষে তুমি ফিরে আস এবং আমার ঘরের সামনে দিয়ে যেতে থাক। লোকেরা ভাবে তুমি উন্মত্ত এবং তারা তোমার দিকে ধেয়ে আসে।”


ঈমাম আবু জাফর আসকালানি বলেন, According to our great men, Abu Hurayra was a wicked fellow. The hadith narrated by him were not acceptable. Omar beat him with a lash and told him that he had changed hadith and had attributed false sayings to the Holy Prophet. তিনি হুরায়রা সম্পর্কে আলীর উদ্ধৃতিরও উল্লেখ করেন। আলী বলেছিলেন, "Beware of the greatest liar among the people, Abu Hurayra Dawsi.” -Ibn Abi'l-Hadid, in his commentary on Nahju'l-Balagha, Volume I, page 360.


কারণ-৪:

হুরায়রা বর্ণিত অসংখ্য হাদিসে বা, অথবা, কিম্বা যুক্ত করা হয়েছে, যা হাদিস বর্ণনার পরিপন্থি। কেননা হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে এ সতর্কতা সকলেরই জানা ছিল--“Do not narrate a tradition unless you are so certain as if you are certain of the sun's light"! অথচ আমরা বুখারীর কিতাবে হুরায়রা বর্ণিত এমন হাদিসও দেখছি-

ক. নবীজী প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলে আমি তার অনুসরণ করলাম। তিনি এদিক ওদিক তাকালেন না। যখন আমি তার নিকটবর্তী হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, “আমাকে কিছু পাথর কুড়িয়ে দাও, আমি তা দিয়ে ইসতিনজা করব।” বা এ ধরণের কোন কথা বললেন,"আর আমার জন্যে হাঁড় বা গোবর আনবে না।" তখন আমি আমার কাপড়ের কোঁচায় করে কয়েকটি পাথর এনে তার পাশে রাখলাম এবং সরে গেলাম। তিনি কাজ শেষে সেগুলো ব্যবহার করলেন।- বর্ণনা-আহম্মদ ইবনে মুহম্মদ আল মক্কী, উৎস -আবু হুরায়রা। বুখারী, ১৫৭।


খ. নবীজী বলেন, ’বনি ইস্রায়েলীরা নগ্ন হয়ে একে অপরের সম্মুখে গোসল করত। কিন্তু মূসা গোসল করতেন একাকী। এতে লোকেরা বলাবলি করত, "আল্লাহর কসম, মূসা একশিরা (কোষবৃদ্ধি) রোগের কারণেই আমাদের সাথে গোসল করেন না।"


একবার মূসা একটা পাথরের উপর তার কাপড় রেখে গোসল করছিলেন। পাথরটা তার কাপড় নিয়ে চলতে শুরু করল। তখন মূসা "আমার কাপড়,আমার কাপড়" বলে তার পিছনে পিছনে ছুটলেন। এদিকে বনি ইস্রায়েলীরা মূসার দিকে তাকাল। তখন তারা বলল, "আল্লাহর কসম, মূসার কোন রোগ নেই।" 


মূসা পাথর থেকে তার কাপড় নিয়ে পরলেন এবং পাথরটাকে পেটাতে শুরু করলেন।" আবু হুরায়রা বলেন, "আল্লাহর কসম, পাথরটাতে ছয় কিংবা সাতটি পিটুনীর দাগ পড়ে গেল।"- বর্ণনা-ইসহাক ইবনে নাসর, উৎস -আবু হুরায়রা। -বুখারী, ২৭৫।


গ. এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহর কাছে দাঁড়িয়ে এক কাপড়ে সালাত আদায়ের হুকুম জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন, "তোমাদের প্রত্যেকের কাছে কি দু’খানা করে কাপড় আছে?" 


এরপর এক ব্যক্তি ওমরকে একই প্রশ্ন করল। তিনি বললেন,"আল্লাহ যখন তোমাদের সামর্থ্য দিয়েছেন তখন তোমরাও নিজেদের সামর্থ্য প্রকাশ কর। লোকেরা যেন পুরো পোশাক একত্রে পরিধান করে অর্থাৎ মানুষ তহবন্দ ও চাদর, তহবন্দ ও জামা, তহবন্দ ও কাবা, পায়জামা ও চাদর, পায়জামা ও জামা, পায়জামা ও কাবা, জাঙ্গিয়া ও কাবা, জাঙ্গিয়া ও জামা পরে সালাত আদায় করে।" হুরায়রা আরও বলেন যে, "আমার মনে হয় ওমর জাঙ্গিয়া ও চাদরের কথাও বলেছিলেন।"- বর্ণনা-সুলায়মান ইবনে হার্ব, উৎস -আবু হুরায়রা। -বুখারী, ৩৫৮।


ঘ.  "একজন কাল বর্ণের পুরুষ অথবা মহিলা মসজিদ ঝাড়ু দিত। সে ইন্তেকাল করল। নবীজী তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সাহাবীগণ বললেন, "সে ইন্তেকাল করেছে।" 

তিনি বললেন, "তোমরা আমাকে খবর দিলে না কেন? আমাকে তার কবরটা দেখিয়ে দাও।" 

তারপর তিনি তার কবরের কাছে গেলেন এবং তার জানাজার নামাজ আদায় করলেন।"- বর্ণনা- সুলায়মান ইবনে হার্ব, উৎস -আবু হুরায়রা। -বুখারী, ৪৪৪।


অথচ বুখারীর কিতাবে হুরায়রা বর্ণিত এমন হাদিস রয়েছে- "আমি বললাম, "ইয়া বসূলুল্লাহ, আমি আপনার কাছ থেকে বহু হাদিস শুনি, কিন্তু ভুলে যাই।" 

তিনি বললেন, "তোমার চাদর খুলে ধর।" আমি তা খুলে ধরলাম। তিনি দু’হাত অঞ্জলী করে তাতে কিছু ঢেলে দেবার মত করে বললেন, "এটা তোমার বুকের সাথে লাগিয়ে ধর।" আমি তা বুকের সাথে লাগালাম। এরপর আমি আর কিছুই ভুলিনি।"- বর্ণনা-আবু মুসাব আহম্মদ ইবনে আবু বকর, বুখারী, ১২০।--আর উপরের সব ক'টি (ক,খ,গ,ঘ) হাদিসই কি তার না ভোলার নমুনা?

এভাবে হুরায়রা বর্ণিত প্রায় সকল হাদিসই কোন না কোন ত্রুটি সম্পন্ন বলেই শিয়াগণ প্রমান করেন। সেগুলির সব এখানে বর্ণনার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না।


উপরের তথ্য প্রমাণ শেষে কিভাবে উপসংহার টানতে পারি? আমরা আমাদের অর্জিত জ্ঞান ও শিক্ষার আলোকে বলতে পারি যে, 
শিয়াগণের হুরায়রা বর্ণিত হাদিস বর্জন করার কারণ যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত। তথাপি আমাদের বক্তব্য হল- আমরা তথ্য উপস্থাপন করেছি মাত্র, কিন্তু সে তথ্যের আলোকে উপসংহার টেনে কাউকে হুরায়রার হাদিস গ্রহণ বা বর্জনের উপদেশ দিচ্ছিনে। কেননা, অামরা বিশ্বাস করি- বিশ্বাসীদের নেতা হযরত ওমর, আলী এবং বিশ্বাসীদের মাতা বিবি আয়েশাকে উপেক্ষা করে হুরায়রা বর্ণিত হাদিস গ্রহণ করা বা না করা ব্যক্তি বিশেষের নিজস্ব এখতিয়ার। 

তবে আমরা নির্দ্বিধায় বলব- হাদিস সম্পর্কে বিতর্ক থাকলে একজন মুসলমানের উচিৎ সেটিকে কোরআনের সাথে যাঞ্চাই করা, যদি সেটা কোরআনের সাথে সংঘর্ষিক হয়, তবে তা কখন গ্রহণ না করা। তবে একথা সত্য যে, যার যেমন জ্ঞান, সে ঐ অনুসারেই অনুধাবণ করে, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী।

সমাপ্ত।

সংশোধিত নয়।

উৎস: 

• অাল-কোরঅান,
• সহিহ মুসলিম,
• সহিহ আল-বুখারী,
• মুস্তাদার্ক উল হাকিম, ধাহাবি,
• মুসনাদ, আহমেদ ইবনে হাম্বল,
• কানযুল-উম্মাল, আলী অাল-মুতাক্কি,
• আল-মা’রিজ, ইবনে কুতাইবা আল-দিনোরী,
• আল-কামুস আল-মুহেত, অাল-ফায়রুজ আবাদী,
• তাওইল-ই-মুকতালিফুল হাদিস, ইবনে কুতাইবা আল-দিনোরী,
• ফতেহ আল-বারী ফি শারহ সহিহ আল-বুখারী, ইবনে হজর আসকালানী,
• আবু হুরায়রা, সৈয়দ অাবুল হুসাইন শরাফুদ্দিন অাল -মুসাওয়ি,
• নিহায়াত আল-আকদাম ফি ইলম আল-কালাম, ইবনে হজম,
• শিয়া’জ আর দা অাহল আল-সুন্নাহ, অাল তাজানি সামায়ি,
• আল-মুস্তাদার্ক আলা অাল-সহিহান, আল-হাকিম,
• অাল মিলাল ওয়া আন নিহান, আল-শাহরাস্তানী,
• অাল-ইকদ অাল-ফরিদ, ইবনে আবদ রব্বিহ
• অাল-তাবাকাত আল-কুবরা, ইবনে সা’দ,
• শারহি নাহজুল বালাগা, ইবনে আছির,
• ইরশাদ অাস সারী, আল-কাস্টালানী,
• শামস আল-মা’রিফ, শেখ আহমেদ,
• আবু হুরায়রা, মাহমুদ আবু রওয়াহ,
• তারিখ কবির, ইবনে আসাকির, 
• উইকিপিডিয়া।

১৯ অক্টোবর, ২০১৩

ইয়াজিদি: শয়তানের পূজারী এক জনগোষ্ঠি।

ইয়াজিদি (আজিদি বা ইজদি) সম্প্রদায়ের উদ্ভব শেখ আদি ইবনে মুসাফিরের মাধ্যমে। এই আদি, বর্তমান লেবাননের বা’কা উপত্যাকায় ১০৭০ সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি উমাইয়া খলিফা মারওয়ান বিন আল-হাকামের একজন উত্তরসূরী। তিনি বালবেকের নিকটস্থ বৈৎ ফার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। সেখানে তার জন্মগ্রহণ করা গৃহটি আজও রয়েছে, আর তা এখন ইয়াজিদিগণের পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত। ইয়াজিদিগণ আদিকে “তাউস মালেক” বা ময়ূর ফেরেস্তার একজন অবতার বা দেবতা হিসেবেই বিবেচনা করে। ইরাকের লালিশে অবস্থিত তার সমাধিটি ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের প্রধান তীর্থস্থান।

Tawûsê Melek বা ময়ূর ফেরেস্তা।
শেখ আদি তার জীবনের প্রথম দিকের অধিকাংশ সময়টা বাগদাদে কাটিয়ে দেন। সূফি জীবন-যাপন এবং একাকী তপস্যার লক্ষ্যে তিনি কুর্দিস্থানের একটি শান্ত এলাকা বেঁছে নেন। ঐ এলাকাটি আদিবাসী ইরানী ধর্মীয় আন্দোলন যেমন, জরথুস্ট্রবাদের সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। নি:সঙ্গ একাকী জীবন-যাপন ছাড়াও তিনি তার তপশ্চর্যা ও আলৌকিকতা দ্বারা স্থানীয় লোকদেরকে প্রভাবান্বিত করেন।

বলা হয়ে থাকে, আদি ছিলেন মধ্যম মর্যাদার এবং অনেক পরিশোধিত। ইয়াজিদিগণ তাকে বসিয়ে দেন তাদের জাতীয় গুরুর আসনে। আদি স্মরণীয় ও বরণীয় ছিলেন তার সন্যাস জীবন-যাপনের জন্যে। তিনি একটি ধর্মপ্রথার প্রবর্তন করেন এবং তার অনুসারীগণ তার নামানুসারে “al-Adawiya” হিসেবে পরিচিত। তিনি মসূলের উত্তরে হাক্কারী কুর্দস পর্বতে নিজ আশ্রমে বসবাস করতেন এবং ১১৬০-৬২ সিইতে ৯০/৯২ বৎসর বয়সে সেখানেই মারা যান। তার মৃত্যুর পর, তার উত্তরসূরীগণ সেখানেই বসবাস করতে থাকে।

আদির সমাধি তিনটি কৌণিক গম্বুজ দ্বারা সহজ নির্দেশিত।
আদির সমাধিটি বদরী পল্লীর মাঝে তিনটি কৌণিক গম্বুজ দ্বারা সহজ নির্দেশিত। উৎসবের সময় তার সমাধিস্থলে অনেক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। রাত্রীকালীন টর্চলাইট শোভাযাত্রা, সবুজ pall (যা দিয়ে সমাধিটি আচ্ছাদিত করা হয়েছে) এর প্রদর্শনী, বড় বড় খাঞ্চায় ধোঁয়া ওঠা হারিশার (ঘন দুধে ছোট ছোট টুকরার মাংস বা সবজি রান্না) পরিবেশন ঐ উৎসবের প্রধান আকর্ষণ। তার অনুসারীগণ বিশ্বাস করে- তিনি ঈশ্বরের একজন অবতার। E.S. Stevens তার “Tigris and Euphrates” পুস্তকে শেখ আদির সমাধি মন্দিরের বর্ণনা দিয়েছেন এমন-

শেখ আদির সমাধি।
“প্রবেশ দ্বারের সম্মুখ প্রাঙ্গনটিতে বিভিন্ন ধরণের ছোট ছোট ইমারত রয়েছে। মালবেরী গাছের ফাঁক গলে সূর্য্যরশ্মি সেগুলির বহির্ভাগ ও প্রাঙ্গনে চৌকোণাকার নকশা তৈরী করেছে। প্রবেশ দ্বারটি দেয়ালের সর্ববামে। পাথরে খোঁদিত অদ্ভূত যাদুকরী চিহ্নের কারণে সেটি বেশ কৌতুহল উদ্দীপক। আর এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে বৃহৎ এক উলম্ব সর্পের প্রতিকৃতি। সতর্কতার সাথে কাল রঙে রঞ্জিত এই প্রতিকৃতিটি বসান হয়েছে প্রবেশ দ্বারের দক্ষিণে। পূণ্যার্থীগণ শয়তানের এই প্রতিকৃতিতে চুম্বন দেয়। মন্দিরের অভ্যন্তরভাগ অন্ধকার, নোংরা ও স্যাঁতস্যাঁতে। ...আর প্রদীপের ফোঁটা ফোঁটা তেল পড়ে মেঝেও বেশ পিচ্ছিল।

ধর্মগুরুর আশীর্বাদ।
মন্দিরের উত্তরপাশে রয়েছে একটা বেঁদী বা চ্যাপেল, এটিকে তারা "শেখ হাসান" বলে অভিহিত করে। এখানে রয়েছে নৌকার আকৃতির একটি সিন্দুক বা সমাধি, যার উপরে বিছান রয়েছে সিল্কের কাপড়, আর তার ঝালর ঢেকে ফেলেছে সেটির চারিধার। এখান থেকে আবার একটা নীচু দরজা দ্বিতীয় আর একটা চ্যাপেলের সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে শেখ আদির নিজের সমাধি।”

তাউস মালেক বা ময়ূর ফেরেস্তাকে কেন্দ্র করে ইয়াজিদি ধর্মবিশ্বাস গড়ে উঠেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যে এলাকায় এই ময়ূর ফেরেস্তার উপাসনা করা হয়, সেখানে কিন্তু এই ময়ূর স্থানীয় নয়। যাইহোক, এই ময়ূর ফেরেস্তা আর কেউ নন, স্বয়ং আযাজিল বা ইবলিস। ইয়াজিদি বিশ্বাসের ভিত্তি ব্লাক বুক “কিতেবা চিলও” বা “Book of Illumination”-কে মালেক তাউসের বাণী বলে বিশ্বাস করা হয়। ঐ কিতাবে বলা হয়েছে- “I was present when Adam was living in Paradise, and also when Nimrod threw Abraham in fire.”

devil.
ইয়াজিদি বিশ্বাস মতে খোদা বিশ্ব সৃষ্টির পর তা সাত পবিত্র আত্মা বা ফেরেস্তার তত্ত্বাবধানে ছেড়ে দেন। এই সপ্তকের মধ্যে প্রধান ছিলেন তাউস মালেক বা ময়ূর ফেরেস্তা। এই তাউস মালেককে মুসলিম এবং খৃষ্টানগণ শয়তান হিসেবেই চিহ্নিত করে থাকেন। অন্যদিকে ইয়াজিদিগণ বিশ্বাস করে, তিনি অমঙ্গল বা শয়তানির উৎস নন। তারা তাকে পতিত ফেরেস্তা নয়, বরং ফেরেস্তাগণের নেতা হিসেবে বিবেচনা করে। এমনকি “শয়তান” শব্দ উচ্চারণ এবং বলা তাদের জন্যে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারা এমন ধারণা পোষণ করে যে, মানুষের নিজের হৃদয় এবং আত্মার মধ্যেই অমঙ্গলের উৎস, তাউস মালেকের মধ্যে নয়। এই ধর্মের মূল চালিকা শক্তি তাউস মালেক ও শেখ আদি। 

ইয়াজিদিগণ বিশ্বাস করে তাউস মালেক খোদারই প্রতিরূপ এবং একজন হিতৈষী ফেরেস্তা। তিনি নিজেকে তার পতন থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং পরে সৃষ্টিকর্তারূপে আবির্ভূত হন। তিনি কসমিক এগ থেকে কসমস সৃষ্টি করেন। অনুশোচনার পর তিনি ৭,০০০ বৎসর ক্রন্দন করেন। তার চোখের জলে ৭টি পাত্র পূর্ণ হয়, আর তা দোযখের আগুনকে নির্বাপিত করে ফেলে। ফলে ইয়াজিদি বিশ্বাসে নরকের কোন স্থান নেই।

তাউস মালেক।
ইয়াজিদি বিশ্বাস মতে তাউস মালেক প্রত্যেকের দায়িত্ব-কর্তব্য, কল্যাণ ও আশীর্বাদ এবং দূর্ভাগ্য বন্টন করেন তেমনই, যেমন তার ইচ্ছে। আর তাই এ সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করা কারও জন্যে জায়েজ নয়। শেখ আদি আরও বিশ্বাস করতেন তার আত্মা ও তাউস মালেকের আত্মা একই, বলা যায় একই আত্মার নূতন দেহধারণ।

ইহুদি, ক্রিশ্চিয়ানিটি ও ইসলাম থেকে ইয়াজিদি ধর্মমতে সৃষ্টি তত্ত্বে ভিন্নতা রয়েছে। তারা বিশ্বাস করে খোদা সর্বপ্রথম তাউস মালেকে সৃষ্টি করেন তাঁর নিজের রূহানী থেকে এবং তাকে অন্য কোন সৃষ্টিকে সিজদা না করার নির্দেশ দেন। এরপর খোদা অন্যান্য ছয় প্রধান ফেরেস্তাকে সৃষ্টি করেন এবং তাদেরকে পৃথিবী থেকে মাটি সংগ্রহের নির্দেশ দেন। তারা তা নিয়ে এলে তিনি ঐ মাটি দিয়ে আদমকে সৃষ্টি করেন এবং নিজের শ্বাস ফুঁকে দিয়ে তাকে জীবন দেন। এরপর তিনি ফেরেস্তাদের নির্দেশ দেন আদমকে সিজদা করার। এই নির্দেশ তাউস মালেক ছাড়া সকলেই পালন করে। খোদা তাকে সিজদা না করার কারণ জিজ্ঞেস করলে তাউস মালেক উত্তরে বলেন- “How can I submit to another being! I am from your illumination while Adam is made of dust.” তখন খোদা তার প্রশংসা করেন এবং সকল ফেরেস্তাদের সর্দার করে দেন। এরপর তাকে পৃথিবীতে তাঁর ডেপুটি হিসেবে নিয়োগ দেন।

ইরাকে লালিশের অবস্থান।
যদিও এ ঘটনায় শয়তানের গর্বীয় পাপের নিদর্শণ দেখা যাচ্ছে, তথাপি ইয়াজিদিগণ বিশ্বাস করে যে তাউস মালেক পৃথিবীতে খোদার প্রতিনিধি এবং নিশান বা এপ্রিল মাসের প্রথম বুধবার তিনি ধরায় আগমন করেন। আর তারা আরও বিশ্বাস করে যে, খোদা এদিনই তাউস মালেকে সৃষ্টি করেছিলেন। এ কারণে তারা দিনটিকে নববর্ষ হিসেবে উৎযাপন করে।

ইয়াজিদিগণ যুক্তি দেখান যে, আদমকে সিজদা করার আদেশ তাউস মালেকের জন্যে কেবলমাত্র একটা পরীক্ষা ছিল। কেননা, খোদা কোনকিছু আদেশ করলে তা অবশ্যই ঘটে। আর বাইবেল ও কোরআনও এমনটাই বলে। অন্য কথায়, God could have made him submit to Adam, but gave Tawûsê Melek the choice as a test. তারা বিশ্বাস করে যে, Tawûsê Melek এর জন্যে তাদের সম্মান এবং প্রশংসা is a way to acknowledge his majestic and sublime nature. আর এই আইডিয়াকে বলা হয়, “Knowledge of the Sublime”-(Zanista Ciwaniyê). অন্যদিকে, শেখ আদির আত্মা, তাউস মালেকের আত্মার প্রতিরূপ হওয়ায়, আদি তাউস মালেকের কাহিনী নিজে অবলোকন করেছেন এবং তার উপর বিশ্বাস এনেছেন। 

শেখ আদির সমাধি, লালিশ, ইরাক।
ইয়াজিদিগণ বিশ্বাস করে, ভাল এবং মন্দ প্রতিটি মানুষের মনে এবং আত্মায় বর্তমান রয়েছে। মানুষের নিজের উপরই নির্ভর করবে সে কোনটি বেঁছে নেবে। আর তাই তাউস মালেকের প্রতি অনুগত হওয়া তাদের একান্ত জরুরী, কেননা, খোদা ভাল ও মন্দের মধ্যে একটিকে বেঁছে নিতে তাকে একই চয়েস দিয়েছিলেন এবং তিনি ভালটাকে বেঁছে নিয়েছিলেন। ইয়াজিদিগণ আরও বিশ্বাস করে যে, তাদের ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আদি ইবনে মুসাফির, তাউস মালেকেরই প্রতিরূপ।

খৃষ্টান, মুসলিম এবং অন্যান্যরা তাউস মালেকে লুসিফার বা শয়তান হিসেবে সনাক্ত করে থাকেন। অন্যদিকে ইয়াজিদি পবিত্র গ্রন্থ ব্লাক বই অনুসারে, ইয়াজিদিদের জন্যে “শয়তান” নাম উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ। কেননা, their people would be religiously persecuted by other faiths.

মসূলদাম বাঁধের নিকট এক ইয়াজিদি শহর।
আর্মেনিয়াতে, যেখানে ইয়াজিদিগণ তাদের আর্মেনিয়ান ক্রিশ্চিয়ান প্রতিবেশীদের মাঝে মুসলিম শত্রুদের থেকে আত্মরক্ষা করে বংশবিস্তার করেছিল, সেখানে তারা বর্তমানে only significant ethnic minority.-এতক্ষণ যে তথ্যের অবতারণা করা হয়েছে তা মোটামুটি উইকিপিডিয়ার সারাংশ। এখন আমরা দেখব এদের সম্পর্কে অন্যান্য তথ্য ভান্ডার কি বলে-

Encyclopaedia Britannica: ইয়াজিদি ধর্মবিশ্বাসটি Zoroastrian, Manichaean, Jewish, Nestorian Christian ও Islamic উপাদানসমূহের বৈপ্যরীত্যের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। ইয়াজিদিগণ নিজেদেরকে উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার সমর্থকদের উত্তরসূরী বলে ভাবে। তারা নিজেরা বিশ্বাস করে, তাদের সৃষ্টি হয়েছে অবশিষ্ট মানবজাতি থেকে বেশ পৃথকভাবে, এমনকি তারা আদমের বংশধরও নয়। আর তাই তারা নিজেদেরকে কঠোরভাবে সেইসব লোকদের থেকে পৃথক করে রাখে, যাদের মাঝে তারা বসবাস করে। যদিও তারা ছড়িয়ে রয়েছে এবং সংখ্যায় তারা ১ লক্ষেরও কম, তথাপি তাদের রয়েছে সুসংগঠিত সমাজ ব্যবস্থা; রয়েছে জাতি বা গোষ্ঠির প্রধান হিসেবে একজন আমীর বা প্রিন্স এবং সুপ্রিম ধর্মীয় প্রধান হিসেবে একজন চিফ শেখ।

Sanjaq.
ইয়াজিদিগণের নিকট প্রধান ঐশ্বরিক চরিত্র হচ্ছে মালেক তাউস। আর তাকে উপাসনা করা হয় ময়ূর রূপে কল্পনা করে। তিনি অন্য আর ছয় ফেরেস্তা নিয়ে মহাবিশ্ব শাসন করেন। কিন্তু এই সাতজনের সকলেই সর্বশক্তিমান খোদার অধিনস্ত। তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করার পর থেকে এর প্রতি সরাসরি আর কোন আগ্রহ দেখাননি। ইয়াজিদিগণ সাত ফেরেস্তাকে উপাসনা করে তাম্র বা লৌহের তৈরী সাতটি ময়ূরের মূর্ত্তির আকারে, যাকে বলা হয় sanjaq. আর এর সবচেয়ে বড়টির ওজন প্রায় ৭০০ পাউন্ড।

ইয়াজিদিগণ দ্বৈতবাদ বিরোধী। তারা অশুভর অস্তিত্ব অস্বীকার করে। আর তাই তারা প্রত্যাখ্যান করে পাপ, শয়তান এবং নরককে। তাদের মতে, ঐশ্বরিক আইন অমান্য বা ভঙ্গ প্রায়শ্চিত্ত হয় পুনর্জন্ম বা আত্মার দেহান্তরের মাধ্যমে, যা আত্মাকে উত্তরোত্তর পরিশোধনে সাহায্য করে। ইয়াজিদিগণ আরও বলে থাকে, যখন তাউস মালেক খোদার নিকট তার গর্বের দরুণ পাপের অনুশোচনা করে, তখন তাকে ক্ষমা করা হয় এবং ফেরেস্তাদের নেতার পূর্বপদ তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। আর এই উপাখ্যানই ইয়াজিদিগণকে অন্যদের নিকট শয়তানের পূজারী হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। ইয়াজিদিগণ আরও বিশ্বাস করে, তাদের প্রধান ধর্মীয় গুরু শেখ আদি, পুনর্জন্মের মাধ্যমে ঈশ্বরত্ব লাভ করেছিলেন।

শেখ আদির সমাধি মন্দিরের একাংশ।
ইয়াজিদি ধর্মের প্রধান কেন্দ্র শেখ আদির সমাধিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এবং বাৎসরিক উৎসব উৎযাপিত হয় এই সমাধিস্থলেই। আদির এই সমাধিটি মসূলের উত্তরে, আস-শেখ আদি শহরের প্রাক্তন নেস্তোরিয়ান খৃষ্টান আশ্রমে অবস্থিত। আরবীতে লিখিত দু’টি পুস্তিকা, কিতাব আল-জিলওয়া [বুক অব রিভেলেশান) ও মাসাফ রাশ (“ব্লাক বুক”) ইয়াজিদিগণের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। আর শেখ আদিকে প্রশংসা করে লিখিত আরবী স্ববগানও সম্মানের সাথে পঠিত হয়।

Encyclopaedia of Religion and Ethics: ইয়াজিদিগণ মসূল থেকে ককেশাস অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করে। এদের সংখ্যা ৫০,০০০এর মত। তারা নিজেদেরকে দাসনী হিসেবে পরিচয় দেয় এবং কুর্দিশ উচ্চারণে কথা বলে। তাদের সম্প্রদায়ের প্রধান হচ্ছেন একজন খলিফা, যিনি শেখ আদির একজন উত্তরসূরী। তার অধীনে রয়েছে শেখ, কাভাল, ও ফকিরগণ। পৌরোহিত্য পুরুষানুক্রমিক। তাদের নৈতিকতা, ঐ এলাকার গড় নৈতিকতার উপরে। তারা সাহসী এবং ধূর্ত। তাদের মেজাজ প্রফুল্ল কিন্তু শান্ত। আর তারা পরিচ্ছন্ন স্বভাবের। তাদের মহিলারা বোরখা পরে না এবং হয়ত: অপরিচিতদেরও অভ্যর্থনা জানায়। নীল রং এর প্রতি তারা বড় ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখায়। পুরোপুরি অশিক্ষিত হওয়ায়, তারা তাদের প্রথা ও ঐতিহ্য মৌখিকভাবে বংশ পরস্পরায় এগিয়ে নিয়ে যায়।

শেখ আদির সমাধি, উৎসবের সময়।
তাদের প্রধান উৎসব ১০ই অগাস্ট। ঐদিন আত্মনিগ্রহকারীগণ সাঁরি বদ্ধভাবে বদরী গ্রামের দিকে এগিয়ে যায়। সেখানে রয়েছে তাদের প্রধান ধর্মীয় গুরু শেখ আদি বিন মুসাফিরের সমাধি। আর তার চারিদিকে ন্যাপথা ও বিটুমিন প্রজ্জ্বলিত করে রাখা হয়।

ইয়াজিদি শব্দের উৎপত্তি বহুল আলোচিত। খুব সম্ভবত: এর সম্পর্ক রয়েছে আভ ইয়াজদার, যার অর্থ উপাস্য বা দেবতা, আবার পার্স্যিয়ান ইয়াজদান অর্থ  খোদা, “God”. আর এটাই তাদেরকে জরথুষ্ট্রবাদী বা মুসলিমদের থেকে পৃথক করেছে। যদিও তাদের পুরোহিত সম্প্রদায় মুসলিমদের অনুরূপ এবং তারা মুহম্মদ এবং ইব্রাহিমকে নবী হিসেবে স্বীকার করে, কিন্তু তাদের রীতিনীতি মুসলিম ধর্ম থেকে বড় রকমের পৃথক। আবার তারা নেস্তোরিয়ান খৃষ্টানও নয়, যদিও তারা বাপ্তাইজ করে এবং খৃষ্টকে ফেরেস্তার মানবীয় রূপ হিসেবে বিবেচনা করে। বস্তুত: তারা পারস্যিয় ও অশুরীয় উপাদানের সাথে মাজিবাদের বিভিন্ন মতবাদের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। যেমন, তাদের অগ্নি উপাসনা পার্স্যিয়ান। They profess that the devil is a creative agent of the supreme God,inasmuch as he produced evil. আর তাই ভক্তি-শ্রদ্ধা তার প্রাপ্য।

ইয়াজিদি তরুণী।
ইয়াজিদিগণ বলে থাকে- খোদা পৃথিবীকে সুন্দর করে তৈরী করেছিলেন। তারপর Melek Taus তাঁর সম্মুখে হাজির হয়ে বলেন, অন্ধকার ছাড়া আলো অর্থহীন, রাত ছাড়া কোন দিন হয় না। আর এভাবেই he caused night to follow day.

Dr. R.C. Zaehner তার “The Hutchinson Encyclopaedia of Living Faiths” পুস্তকে ইয়াজিদি ধর্ম বিশ্বাসকে, “aberrant form of the Sufi movement” হিসেবে বিবেচনা করেছেন। অন্যদিকে Joseph T. Parfit তার “Marvellous Mesopotamia” বইতে লিখেছেন-

ইয়াজিদি বা শয়তানের উপাসকগণ মসূলের নিকটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেক গ্রামে এবং Sinjar পর্বতে বসবাস করে। তাদেরকে দেখলে কুর্দি বংশোদ্ভূত বলে মনে হয়। তারা কথা বলে কুর্দি এবং আরবীতে। প্রায় ৪০ হাজারের মত ইয়াজিদি মেসোপটেমিয়াতে রয়েছে এবং ছয় হাজারের মত ককেশাসে। তাদের হেডকোয়ার্টার প্রাচীন নিনেভের উত্তর-পূর্বে একটা ভৌতিক এলাকা - শেখ আদিতে। তাদের বেশ কিছু অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য বা বলা চলে মহৎ গুণ রয়েছে, তথাপি তারা অবজ্ঞাত, উপেক্ষিত ও নিগৃহীত। তাদেরকে “শয়তানের উপাসক” বলা পুরোপুরি সঠিক নয়। কেননা, তারা সর্বশক্তিমান খোদায় বিশ্বাস করে, যিনি সৃষ্টি করেছেন এই মহাবিশ্ব। কিন্তু তারা শয়তানকে “Prince of this world”-হিসেবে ভিন্নভাবে মূল্যায়ণ করে, যেন তার প্রতিহিংসায় তারা না পড়ে। তারা মূলত: যে সকল শব্দের আদ্যোক্ষর শয়তান নামের আদ্যোক্ষরের সাথে মিলে যায় তা পরিহার করে এবং পরিবর্তে সমার্থক আরবী শব্দ ব্যবহার করে। এভাবে তারা ডেভিল বা শয়তান সম্পর্কে কথা বলার সময় তাকে “Prince of Darkness”, “Lord of the Evening” বা the “Exalted Chief” বলে সম্বোধন করে। অনেক ইয়াজিদি practise baptisms; make the sign of cross, and kiss the threshold of Christian Churches. 

১৮৫০ সনে আদির সমাধি মন্দির, লালিশ, ইরাক।
আবার, Wigram and Wigram ইয়াজিদিদের সম্পর্কে লিখেছেন: ইয়াজিদি বা শয়তানের পুজারীগণ প্রধাণত: বাস করে মসূল প্রদেশে। তারা যে শয়তানের পুজারী এতে কোন সন্দেহ নেই। কেননা, তারা নিজেরা স্বীকার করতে কোন সঙ্কোচ করে না যে, ঐ সত্বা যার প্রসন্নতা তারা কামনা করে এবং তাকে তুষ্ট রাখতে চায়, সে ইহুদি, খৃষ্টান ও মুসলিমদের নিকট শয়তান হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সৌভাগ্য ক্রমে আশেপাশের নৈতিকতা, তাদের সম্মন এ ধারণা পোষণ করতে বাঁধা দেবে। সত্যি বলতে কি, তাদেরটা কেবল একটা ধর্মীয় বিশ্বাস, কোন কাজের মাধ্যমে এর কোন বহি:প্রকাশ নেই।They are under no obligation to make evil their good according to the boast of Milton’s Satan, but only to “respect the great place” of their divinity, and see to it that he is sometime honoured for his burning throne… 

ব্লাক বুক।
The Yezidis form one of the recognized millets or subject religious sects, existing in the Turkish empire. But recognition in their case by no means implies toleration. They are universally abhorred as outcasts— almost as untouchables… The Yezidis possess no systematized religion woven by some great teacher into one harmonious whole. They make shift instead with a bewildering agglomeration of superstitions pieced together into an amazing patchwork… The Yezidis believe in a Supreme Being— Yazdan, the most high. But to him, they pay no worship. He is the Lord of Heaven and takes no account of earth. From his name in all probability, they derive their own appellation of Yezidis; though the Muslims (or at least, the Shiites) declare that they inherit it from Yezid ibn Muawiyah, the murderer of Hossain, and see in it an additional argument for persecuting them. 

প্রবেশ দ্বারের একপাশে কাল সাপের মূর্ত্তি।
According to Yezidi belief, from Yazdan emanated 7 great spirits, of whom Malek Taus was the first and most powerful. To him was committed the creation of the world, and the governance of it for 10,000 years of which 4,000 still remain to run. Malek Taus is an evil and a fallen spirit; but not fallen beyond redemption. He is a sort of celestial Absalom— vicious, tyrannical, rebellious, but secure of ultimate pardon and rehabilitation. Shall there not at length come a time when the Chief of the Archangels shall be restored to his first pre-eminence? And will he not then be mindful of the poor Yezidis, who alone of all mankind never cursed him in his disgrace, is every devout Yezidi’s belief.

There is something distinctly quaint in this picture of a reclaimed Satan, still cherishing a faint grudge against those who denounced him in his unregenerate days.

The Yezidis have a regular hierarchy of seven orders of Priesthood. They hold a great annual feast at Sheikh Adi in October; which is continued for eight days, and is attended by all the faithful who can come. Pilgrimage to Sheikh Adi is incumbent on every Yezidi, but he is not commanded to pray, and he leaves that duty to his priests. Fasting can also be performed by deputy, and a group of Yezidis will select one of their number to do all their fasting for them, confessing to him the acts which need expiation and paying him a capitation fee for carrying out the corresponding penances.

লালিশে গমন পথ।
সবশেষে আমরা লালিশ ভ্রমনকারী “Jarett Kobek” এর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দিয়ে আর্টিকেলের সমাপ্তি টানব।

"All of Lalish is considered sacred ground; a line of stone blocks prevents vehicles from entering the main portion of the valley, a moderately sized dale surrounded by rocky, scrub-spotted mountains. Other than the few people charged with upkeep and security, Lalish has no residents. It is a place purely for religious pilgrimage.

Lalish’s most distinctive feature is a set of three fluted, conical spires that rise high into the air and mark the Yezidis’ holiest site, the sanctuary and tomb of Sheikh Adi ibn Musafir. The historical origin of the Yezidi dates to the 11th century, when Adi arrived with the intention of founding the Adawiyya Sufi order. The central mystery of the early years is how a Sufi order morphed into Yezidism.


ইয়াজিদি পতাকা।
Several men greeted us at the walled entrance to the sanctuary. They led us into a courtyard and asked that we remove our shoes and socks, as custom prohibits footwear in the valley. We were then ushered into a modern room where tea was served. Among the men was Baba Sheikh, the current spiritual leader of the Yezidi. He was tall, with a long black beard, and was dressed in white robes.


We then toured Adi’s tomb. Inside, a long lamp-lit hallway contains an altar and a small spring-fed well, with whose water all Yezidi are expected to be baptized. The hall opens into the tomb of Sheikh Hasan, another Yezidi saint, which leads underground to the valley’s second sacred spring, one of the few places barred from nonbelievers. Past Hasan’s tomb, we entered the room of Sheikh Adi. Adi’s tomb stands against one wall of the room and is decorated in devotional cloths of many colors. The largest of Lalish’s spires serves as the ceiling.

বর্তমান লালিশ।
We wandered freely through the rest of the valley, moving in and out of its many shrines. Scattered throughout were sacred spots carved into the stone where olive oil is ritually burned. I was told that there are 365 such spots, one for every day of the year. When we returned to the reception room, Baba Sheikh was still holding court. A voice in English asked, “Would you like me to take you up the mountain?”

Being Yezidi is a matter of birth rather than faith. There are no converts. There is no written scripture, no book of rules. It is, and has been, a shifting oral culture passed down through families—and like any oral culture, it hosts contradictory ideas. Everything is a matter of debate, even the meaning of Lalish’s rituals.

As we reached the top of the mountain, I could see out over Lalish’s spires. The valley appeared pristine, peaceful."--Jarett Kobek

সমাপ্ত।
উৎস: wikipedea; Article of Mr. Noshir H. Dadrawala- http://tenets.zoroastrianism.com/deen33f.html
http://www.nyu.edu/alumni.magazine/issue14/14_feature_yezidi.html
ছবি: michaeltotten.com, nyu.edu, wikipedia; ইয়াজিদিগণের সকল পবিত্রগ্রন্থসমূহ পাবেন-https://drive.google.com/?urp=https://www.google.com/&pli=1&authuser=0#my-drive