নাসারত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নাসারত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৩০ মার্চ, ২০১২

Jesus: খোদার আশীর্বাদপুষ্ট রাজ্যে আশীর্বাদস্বরূপ।


হযরত ঈসার জন্মস্থান প্যালেষ্টাইন দেশটি পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত এবং ভূ-মধ্য সাগরের পশ্চিম তীরের দক্ষিণ অংশ নিয়ে গঠিত। মোট আয়তন ১০,০০০ বর্গমাইল। প্রথমদিকে এই অঞ্চলকে কনান বা নিম্নভূমি বলা হত। এর পশ্চিম সীমানায় ভূ-মধ্য সাগর, উত্তরে লেবাননের পর্বতশ্রেণী, পূর্বে আরবীয় মরুভূমি এবং দক্ষিণে শুস্ক আধা মরুভূমি অঞ্চল যা নেগেভ বা দক্ষিণাঞ্চল নামে পরিচিত। যদিও প্যালেষ্টাইন একটি ছোট দেশ, তথাপি প্রাকৃতিক বিষয়গুলির অধিকাংশই এখানে বর্তমান- বরফে ঢাকা পর্বতমালা ও অসহ্য গরমের নিম্নভূমি, মরুভূমি, উর্বরা সমভূমি, পাথরে ঢাকা অনুর্বর ভূমি ও সবুজ উপত্যকা সবই এখানে রয়েছে। প্রকৃতি প্যালেষ্টাইনকে উত্তর দক্ষিণ বরাবর ৪টি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিভক্ত করেছে। পশ্চিম সীমা ভূমধ্য সাগরে আরম্ভ হয়ে পূর্বদিকে এই অঞ্চলগুলি হল-

(ক) সমুদ্রতীরবর্তী সমভূমি  
(খ) পশ্চিমের উচ্চভূমি
(গ) জর্দান নদীর উপত্যকা
(ঘ) পূর্বের উচ্চভূমি।

প্রাচীন প্যালেষ্টাইন।
(ক) সমুদ্র তীরবর্তী সমভূমি: পশ্চিমের সমুদ্র ও পূর্বের গালীল, শমরিয় ও ইহুদিয়ার পর্বত মালার মধ্যে এই সমতল ভুমি অবস্থিত। উত্তর দিকে এই ভূমি সরু থেকে চওড়া হতে হতে দক্ষিণ দিকে শেষপর্যন্ত পঁচিশ-তিরিশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সমুদ্রতীরের এই সরু এলাকা প্রাকৃতিক দিক দিয়ে তিনটি অংশে বিভক্ত- উত্তরে আক্কা ও সোরের সমভূমি, তারপরেই কর্মিল পর্বতে আরম্ভ হয়েছে সুন্দর বিখ্যাত শারোণ প্রান্তর আর দক্ষিণে অবস্থিত বড় এবং অতি উর্বর প্যালেষ্টাইন সমভূমি। এই সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে বেশ কিছু শহর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উত্তর দিক থেকে এই শহরগুলি হল-সীদোন, সোর, যাফো, কৈশরিয়া, লুড, ঘষা, অস্কিলোন, অসদোদ, ইক্রোণ ইত্যাদি। 

(খ) পশ্চিমের উচ্চভূমি: উচ্চভূমি নামক এই মালভূমি উত্তরে লেবানন পর্বতমালায় আরম্ভ হয়ে দক্ষিণে আরব মরুভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অঞ্চল গালীল, শমরিয় ও ইহুদিয়া এই তিনটি অংশে বিভক্ত। উত্তরে গালীল এবং দক্ষিণে শমরিয়ার মধ্যে সমভূমি এসদ্রায়োলন, পশ্চিমের বিস্তৃত মালভূমির একমাত্র অঙ্গন।  

গালীল: গালীলের আনুমানিক আয়তন ১৫০০ বর্গমাইল। এখানে ইষাখর, সবুলুন, আঁশের, নপ্তালী এবং শেষে দান বংশের লোকেরা বাস করত। হযরত ঈসা এখানেই বড় হয়েছেন। এর উল্লেখযোগ্য শহরগুলি হল-নাসারত, কান্না, কফরনাহুম, কা‘দেশ, শুলেম নাইন, বৈৎসৈদা ও ঐণ-দোর। 

শমরিয়: শমরিয় এসদ্রায়োলনের দক্ষিণে এবং ইহুদিয়ার উত্তরে অবস্থিত যার পূর্বদিকে জর্দান নদী এবং পশ্চিম দিকে শারোণ প্রান্তর অবস্থিত। এর আনুমানিক আয়তন ১৫০০ বর্গমাইল। হযরত ইব্রাহিম ও অন্যান্য পিতৃপুরুষেরা এখানে বসবাস করতেন পরবর্তীতে এটি উত্তরাঞ্চলের দশ বংশের বাসস্থান হয়। এখানেই রয়েছে-এবল ও গরীষীম পর্বত, শিখিম, বৈথেল, অয়, দোথন, শীলোহ, মগিদ্দো, যিষ্রিয়েল এবং শমরিয়া শহর।
ইহুদিয়া: ইহুদিয়া তৈরী করেছে পশ্চিম অঞ্চলের উচ্চভূমির নীচু অংশ যার আয়তন ১৫০০ বর্গমাইল। এই অংশটি তিনটি ভাগে বিভক্ত-পূর্ব অঞ্চলের পাহাড় বা মরুভূমি, শেফেলা যা পশ্চিম অঞ্চলের পাহাড়সমূহ নীচু হয়ে প্যালেষ্টাইন পর্যন্ত গেছে এবং দক্ষিণ ইহুদিয়া। এটি সমস্ত দেশের কেন্দ্রস্থল আর জেরুজালেম এখানেই অবস্থিত।

(গ) জর্দান নদীর উপত্যকাঃ এই অঞ্চলটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অদ্বিতীয় ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য মন্ডিত। এই বিরাট গিরিসংকট উত্তরের তাউরাস পর্বত থেকে আরম্ভ করে গোটা দেশের মধ্যে দিয়ে ৫৫০ মাইল গিয়ে প্যালেষ্টাইনের দক্ষিণ মরুভূমিতে শেষ হয়েছে যা সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় ২৬০০ ফুট নীচু। এই উপত্যকাটি তিনটি অংশে বিভক্ত। উত্তরদিক থেকে এগুলি হল-

গালীল সাগরঃ  যা গীনেষরৎ হ্রদ, তিবরিয়া সাগর এবং কিন্নেরৎ হ্রদ হিসেবে পরিচিত।
জর্দান উপত্যকাঃ  এটা উত্তরের গালীল সাগর থেকে দক্ষিণে মরুসাগর পর্যন্ত গভীর নিম্নগামী অঞ্চল যা ঝোর নামেও পরিচিত। এরই পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে জর্দান নদী। এই নদীর পানি ৬১০ ফুট নীচে মরুসাগরে পড়ছে। আর দ্রুত এই পতনের জন্যে এই নদীর নাম জর্দান বা অবতরণকারী।

মরুসাগর: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩০০ ফুট নীচু এ হ্রদটি ১০ মাইল চওড়া ও ৫০ মাইল লম্বা। গভীর কুজ্ঝটিকায় ঢেকে থাকা এই হ্রদের পানিতে প্রচুর পরিমানে খনিজ লবন থাকায় কোন উদ্ভিদ বা প্রাণী এখানে পাওয়া যায় না।

(ঘ) পূর্বের উচ্চভূমি: জর্দানের পূর্বের পাহাড় ও সমতলভূমি। এটি অনেকটা পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলের মত যাকে ট্রান্স-জর্দানীয়া বলা হয়। ঈসার পূর্বে এখানে (যা দিকাপলী নামেও পরিচিত) বেশকিছু বৃহৎ ও প্রসিদ্ধ শহর গ্রীক ও রোমানরা তৈরী করে।

ঈসার সময়ে প্যালেস্টাইন ছিল রোম রাজ্যের অধীন। রোমের সম্রাট ছিলেন অগাস্ত কৈসর আর পন্তীয় পীলাত নামে একজন রোমীয় প্যালেস্টাইনের শাসনকর্তা ছিলেন। প্যালেস্টাইনের বেশীরভাগ লোক ছিল গোঁড়া ইহুদি; তবে শমরিয়রা ছিল শঙ্কর। শমরিয়দের আদি পুরুষেরা ইহুদি হলেও অ-ইহুদিদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার দরুণ তারা এরূপ শঙ্কর জাতির সৃষ্টি করেছিল। এ কারণে গোঁড়া ইহুদিরা তাদের ঘৃণা করত এবং তাদের মধ্যে ধরা ছোঁয়ার বাঁছ-বিচার ছিল। 

রোমের অধীনে ছিল বলে ইহুদি নেতাদের হাতে বিশেষ কোন ক্ষমতা ছিল না। কাউকে মৃত্যুদন্ড দেবার অধিকার তাদের ছিল না। সেজন্যে মৃত্যুদন্ডযোগ্য অপরাধীর বিচার করার প্রয়োজন হলে তা রোমীয়দের আইন অনুসারেই করা হত, ইহুদিদের নিয়মমত নয়। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত ব্যক্তিকে রোমীয়রা হাতে ও পায়ে পেরেক বিঁধে ক্রুসের উপর গেঁথে দিত। তারপর ক্রুসটা মাটিতে খাড়া করে প্রোথিত করত। ছোট বড় দু‘টো কাঠের টুকরো দ্বারা ইংরেজী টি (T) অক্ষরের মত করে এই ক্রুস তৈরী হত। 

দুনিয়ার অন্যান্য সমস্ত জাতিদের মধ্যে ইহুদিরা ব্যতিক্রমী এবং সৌভাগ্যবান। জাতি হিসেবে তারা ছিল চরম একগুয়ে এবং বক্রস্বভাবী। ব্যতিক্রমী একারণে যে খোদা তাদের মাঝে একাদিক্রমে রসূল প্রেরণ করেছেন, আর সৌভাগ্যবান একারণে যে তারা অনেক মহান নবীর সাহচর্য্য লাভ করেছিল, যাদের অনেকেই ঐশীগ্রন্থ নিয়ে এসেছিলেন। আর ঐসব মহান নবীর কাছে দেয়া ওয়াদার কারণেই খোদা সর্বদা তাদের মাঝে একেশ্বরবাদীর ধারা রক্ষণের প্রচেষ্টা করেছেন।

যখনই বনি ইস্রায়েল সরল ও সত্যপথ থেকে বিচ্যূত হয়েছে, তখনই একজন নবী বা রসূল তাদের মাঝে প্রেরিত হয়েছে, যারা প্রতিমাপূজার কূ-ফল সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করেছেন এবং সত্যপথে ফিরিয়ে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু যেহেতু ইহুদি জাতিটি ছিল, নাফরমান, একগুয়ে ও বক্রস্বভাবী, ফলে তাদের অধিকাংশ ঐসব রসূলদের বাণীতে কর্ণপাত করেনি এবং তাদের উপরও বিশ্বাস স্থাপন করেনি; বরং তারা রসূলগণের অধিকাংশকে নানাপ্রকার ক্লেশ দিয়েছে, নতুবা হত্যা করেছে। ফলে তারা কখনও আল্লাহর স্বরূপ সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ বা সম্যক অবহিত হয়নি, হবার চেষ্টা করেনি বা হতে পারেনি। এই কারণে খোদা শেষ চেষ্টাস্বরূপ তাদের মাঝে এমন একজন রসূল প্রেরণ করতে চাইলেন, যিনি হবেন খোদায়ী কিছু গুণ বা কর্মের অধিকারী; যেন ইস্রায়েলীরা তার কাছ থেকে খোদার স্বরূপ সম্পর্কে সম্যক অবহিত হয় এবং আর যেন একেশ্বরবাদ থেকে কখনই বিচ্যূত না হয়। এই খোদায়ী কিছু গুণ সম্পন্ন রসূল ছিলেন মরিয়ম তনয় হযরত ঈসা মসীহ।
নবী অরামিয়ার কিতাব থেকে আমরা খোদার ঐ শেষ প্রচেষ্টার ইচ্ছে সম্পর্কে জানতে পাই।

‘এই জন্যে দেখ, আমি তাদেরকে জ্ঞাত করব,
একটিবার তাদেরকে আমি আমার হস্ত ও পরাক্রম জ্ঞাত করব,
তাতে তারা জানবে যে, আমিই খোদা।’(অরামিয়া ১৬:২১)

মসিহ ঈসা (Jesus) ইঞ্জিল কিতাব নিয়ে এসেছিলেন। ইতিপূর্বে ইহুদিরা যে সব ঐশীগ্রন্থ বা কিতাব পেয়েছিল তা হল তাওরাত, যবুর এবং বেশ কয়েকটি সহীফা। 

মসিহ ঈসা।
ইহুদিদের প্রতি খোদার আদেশ ছিল যেন তারা তাদের ঐশী গ্রন্থের নির্দেশসমূহ মেনে চলে এবং মান্য করে রসূলগণকে। শরীয়ত অনুসারে সৎ জীবন-যাপন করা এবং পশু কোরবাণী দেয়া ছিল তাদের খুবই প্রয়োজনীয় কাজ। তাদের একমাত্র এবাদতখানা ছিল জেরুজালেমে। এখানেই সকল এলাকা থেকে ইস্রায়েলীরা এসে বৎসরে তিনবার একসঙ্গে মিলিত হত। এসব উৎসবের প্রত্যেক দিন ঈমামেরা ও সাধারণ ইহুদিরা এবাদতখানায় প্রবেশ করত এবং এবাদত শেষে তাদের পাপ মোচনের জন্যে পশু কোরবাণী দিত। জেরুজালেমের এবাদতখানা তাদের একমাত্র এবাদতখানা হলেও দেশের শহরগুলোতে ও গ্রামে গ্রামে অনেক ‘সিনাগগ’ বা মজলিসখানা ছিল। কেবল তাই নয়, তারা দুনিয়ার অন্যান্য যে সমস্ত দেশে থাকত, সেখানেও তারা তাদের জন্যে সিনাগগ তৈরী করে নিয়েছিল। এই সমস্ত সিনাগগে তারা স্রষ্টার এবাদত করত কিন্তু পশু কোরবাণী দিত না।  

ইহুদিদের মধ্যে পদ অনুসারে বিভিন্ন রকমের ঈমাম ও ধর্মনেতা ছিলেন। সকল ঈমামের উপরে ছিলেন মহাঈমাম। তার নীচে থাকতেন কয়েকজন (এগার জন) প্রধান ঈমাম। এই প্রধান ঈমামেরা ছিলেন বর্তমান মহাঈমামের পূর্ববর্তী মহাঈমাম ও অন্যান্য সম্মানিত ঈমাম। এই সকল ঈমাম বা আলেমদেরকে সাহায্য করার জন্যে লেবী গোত্রের লোকেরা নির্বাচিত ছিল। তাছাড়া কিতাব তাওরাত শিক্ষা দেবার জন্যে কিছু সংখ্যক সাধারণ ঈমাম বা আলেমও ছিলেন।

ইহুদিদের মধ্যে ফরীশী ও সদ্দুকী নামে দু‘টি দল কালক্রমে উৎপত্তি লাভ করেছিল। ফরীশীরা ছিল খুবই গোঁড়া। তারা ধর্মীয় নিয়ম কানুনের প্রত্যেকটি খুঁটি-নাটি মেনে চলতে চেষ্টা করত। তারা বিশ্বাস করত মৃতেরা পুনঃরায় জীবিত হবে আর তারপর বিচারের সম্মুখীণ হবে এবং কৃতকর্মের ফল হিসেবে বেহেস্ত বা দোযখে নীত হবে। কিন্তু সদ্দুকীরা গ্রীক ও রোমান সংস্কৃতির ছোঁয়ায় বেড়ে উঠেছিল। এ কারণে তাদের ধর্মীয় ব্যাপারে বেশী গোঁড়ামী ছিল না। তারা গ্রীকদের মত রূহ ও ফেরেস্তায় বিশ্বাস করত না, বিশ্বাস করত না মৃতেরা আবার জীবিত হবে এবং জবাবদিহীতার জন্যে বিচারের সম্মুখীণ হবে।

ধর্মীয় ও সামাজিক বড় বড় সমস্যার মীমাংসার জন্যে ইহুদিদের একটা মহাসভা ছিল। এই মহাসভার মোট সদস্য সংখ্যা ছিল সত্তুর, যাদের প্রত্যেকেই ছিলেন আলেম ও সম্মানিত ঈমামদের একজন। মহাঈমাম এই সত্তুর জনেরই একজন এবং পদাধিকার বলে হতেন এই মহাসভার প্রধান। 

নিজেদের স্বভাব চরিত্রের অধ:পতনের কারণে ইহুদিরা চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল। খোদা তাদেরকে তাদের মাতৃভূমি থেকে উৎখাত করে জাতিগণের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং তাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন চরম অপমান ও শাস্তি। এসময় যারা সত্যপথে থাকার প্রচেষ্টায় নিয়ত: সংগ্রামে লিপ্ত ছিল, তারা অধঃপতিত স্বজাতিদের দেখে মনে কষ্ট পেলেও এই আশা তাদেরকে উদ্দীপিত করত বা মনকে সান্তনা দিত যে, একদিন মসীহ (ত্রাণকর্তা বা উদ্ধারকারী) তাদের মাঝে আগমন করবেন এবং তাদেরকে তাদের পাপ এবং দুঃখ-কষ্ট থেকে ত্রাণ বা উদ্ধার করবেন।

ঈসা মসীহর ধরণীতে আগমন পূর্ব নির্ধারিত ছিল। পূর্ববর্তী নবীদের অনেককেই খোদা তার আগমন সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। তাদের উপর নাযিলকৃত সহীফাগুলোতে তাই তার আগমন, জীবন-যাপন ও উর্দ্ধগমন সম্বন্ধে অনেক কথাই দেখতে পাওয়া যায়, যা মেরী, মরিয়ম তনয় ঈসা মসীহ দুনিয়াতে আসার পরে পূর্ণ হয়েছিল। 

সমাপ্ত।
ছবি: bible-history, asecular, salaam.co.uk.

১ মার্চ, ২০১২

Jonah: যদি আল্লাহর পবিত্র মহিমা আবৃত্তি না করত।


২য় যারবিয়াম যখন ক্ষমতাসীন হয় তখন আশে পাশের রাজ্যগুলি দুর্বল অবস্থায় ছিল। এই সুযোগের পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করলেন যারবিয়াম। তিনি রাজ্যের পর রাজ্য পদানত করে, রাজ্যসীমা দক্ষিণে মরুসাগর ও উত্তরে হমাতের প্রবেশ স্থান পর্যন্ত বর্ধিত করলেন যা প্রায় দাউদ ও শলোমনের রাজ্যের সমান ছিল। দখলীকৃত রাজ্যের রাজস্ব ও বিস্তৃত বাণিজ্যের সুযোগের ফলে তার রাজ্য দ্রুত সমৃদ্ধি ও উন্নতি লাভ করল। এটি ছিল ধর্মবিহীন সম্পদের যুগ ও নৈতিকতাহীন অর্থের যুগ।

নীনেভ নগরীর মাকসি প্রবেশদ্বার।
এসময় নবী ইউনুচ (Jonah) নব্যুয়ত প্রাপ্ত হলেন। তিনি ছিলেন অমিত্তয়ের পুত্র এবং তার জন্ম ছোট একটি গ্রামে, যেটি বর্তমানের নাসারত নগর থেকে সামান্য উত্তরে ছিল। চল্লিশ বৎসর বয়সে তিনি নব্যুয়ত প্রাপ্ত হন।

আল্লাহ ইউনুচকে উত্তর পূর্বের উদীয়মান শক্তি অশুররাজ্যের রাজধানী নীনেভ গিয়ে, সেখানকার লোকদের কাছে অনুতাপ বা মন ফেরানোর বিষয় প্রচার করতে আদেশ করেছিলেন। নীনেভ এর লক্ষাধিক জনগোষ্ঠির প্রায় সকলেই ছিল মূর্তিপূজক। 

নীনেভ গিয়ে ইউনুচ সেখানকার অধিবাসীদেরকে এই আহবান জানালেন, ‘হে নীনেভবাসী! এক আল্লাহ ভিন্ন অন্য উপাস্য নেই। আমি তাঁরই প্রেরিত রসূল। তোমরা আমাকে অনুসরণ কর এবং তাঁরই এবাদত কর।’

নীনেভবাসীকে সতর্ক করছেন ইউনূচ।
তারা বলল, ‘হে ইউনুচ! আমরা কিছুতেই তোমার কথায় আমাদের দেবদেবীদের উপাসনা পরিত্যাগ করব না।’
তিনি বললেন, ‘তোমরা যা করছ তা করতে থাকলে তোমাদের উপর আযাব নাযিল হবে। আর পরকালেও তোমরা কঠিন শাস্তির সম্মুখীণ হবে।’
তারা বলল, ‘হে ইউনুচ! তুমি আমাদের বল, কোন ধরণের আযাব আমাদের উপর নাযিল হবে?’
তিনি বললেন, ‘তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।’
তারা বলল, ‘তবে আমাদের বল, কখন আমাদের উপর এরূপ আযাব নাযিল হবে?’
তিনি বললেন, ‘আমি তা জানি না।’

এভাবে লোকেরা ইউনুচের অবাধ্যতা প্রদর্শণ করল এবং তাকে পাগল আখ্যায়িত করে তার প্রতি ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করল। অতঃপর যখনই তার সাথে কারও দেখা হত, তখনি সে বলত, ‘হে ইউনুচ! আমাদের উপর আযাব আর কবে আসবে? আমরা তো অপেক্ষা করতে করতে অধৈর্য্য হয়ে পড়েছি।’

ইউনূচ এই অবাধ্য লোকদের উপর রুষ্ট হয়ে আল্লাহর আদেশ পালনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে পশ্চিমে সমুদ্র বন্দর যাফো (Joppa)-তে গমন করলেন এবং স্পেনের তার্শিস (Tarshish) গামী জাহাজের টিকেট ক্রয় করে তাতে উঠে পড়লেন। 

তার্শিশগামী জাহাজের পথে ইউনূচ।
আল্লাহর পরিস্কার নির্দেশ ছাড়াই ইউনুচ নীনেভ পরিত্যাগ করে চলে এসেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন এতে নিশ্চয় তিনি তাকে ধরপাকড় করবেন না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। ফলে মাঝ সমুদ্রে একপ্রবল, প্রলয়ঙ্কারী ঝড় উঠল। আর তাতে জাহাজটা ডুবে যাবার উপক্রম হল। নাবিকেরা ভয় পেয়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ দেবতার কাছে কান্নাকাটি করতে লাগল।

তাকে ছুঁড়ে ফেলা হল।
জাহাজের ভার কমাবার জন্যে লোকেরা তাদের মালপত্র সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছিল। ইউনুচ কিন্তু জাহাজের খোলে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। জাহাজের ক্যাপ্টেন তাকে নিরুদ্বিগ্ন ভাবে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে বড়ই অবাক হলেন। তিনি এগিয়ে এসে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বললেন, ‘তুমি কেমন করে ঘুমাচ্ছ? উঠে তোমার দেবতাকে ডাক? তিনি হয়তঃ আমাদের দিকে মনোযোগ দেবেন আর তাতে আমরা ধ্বংস হব না।’

এই জাহাজের লোকদের মধ্যে থেকে কোন এক অলক্ষুণে গণক এসময় ঘোষণা করল, ‘জাহাজেই এমন একজন যাত্রী আছে যার উপস্থিতিই এই ঝড়ের কারণ।’
নাবিকেরা বলল, ‘এসো, আমরা গুলিবাঁট করে দেখি।’

তারা গুলিবাঁট করলে ইউনুচের নাম উঠল। নাবিকেরা তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি আমাদের বল, এই যে বিপদ আমাদের উপর এসেছে তার জন্যে কি দায়ী? তুমি কোন দেশের, কোন জাতির লোক?’
তিনি বললেন, ‘আমি একজন ইব্রীয়। আর আমি আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেছি। সম্ভবতঃ এই ঝড়ের জন্যে আমিই দায়ী।’ 
তারা বলল, ‘সমুদ্র যাতে শান্ত হয় সেজন্যে এখন তোমাকে নিয়ে আমরা কি করব?’
তিনি বললেন, ‘আমাকে সমুদ্রে ফেলে দিন।’

মাছ সমুদ্রতীরে ইউনূচকে উগরে দিল।
জাহাজের সমস্ত লোক তাদের জীবন বাঁচাতে ইউনুচকে সমুদ্রবক্ষে নিক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিল এবং তাকে ছুঁড়ে ফেলা হল। লোকেরা এরপর তাদের নিজ নিজ দেবতার উদ্দেশ্যে বলল, ‘হে আমাদের দেবতা! এই লোকের মৃত্যুর জন্যে তুমি আমাদের দায়ী কোরও না।’

পানিতে পড়ে ইউনুচ তলিয়ে গেলেন। তার মাথায় সাগরের শ্যাওলা জড়িয়ে গেল। এসময় এক বিরাট মাছ ("ketos megas" ie. "huge fish") কোত্থেকে যেন ছুটে এসে তাকে টুপ করে গিলে ফেলল। মাছের পেটে থাকা অবস্থায় তিনি নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলেন আর আল্লাহকে স্মরণ করতে লাগলেন। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন এবং কান্নাকাটি করলেন-‘লা ই লাহা ইল্লা আন্তা সোবহানাকা ইন্নি কুন্তুম মিনাজ্জ্বলেমিন। অর্থ- হে আল্লাহ, তুমি ব্যতিত কোন উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ, আমি গোনাহগার।’

অতঃপর আল্লাহ তার আহবানে সাড়া দিলেন এবং তাকে দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করলেন। ইউনূচ ছিলেন বিশ্বাসী; আর আল্লাহ তো বিশ্বাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।

তিন দিন পর আল্লাহর নির্দেশে মাছটি ইউনূচকে তার নিজ দেশস্থ সমুদ্র তীরে উগরে দিল। মাছের পেটে থাকার জন্যে তার গায়ের লোম উঠে গিয়েছিল, ত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। আর তিনি ক্ষুধার্ত এবং দূর্বল ছিলেন। আর এতটাই দূর্বল ছিলেন যে সূর্যের উত্তাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করার মত শক্তিও তার অবশিষ্ট ছিল না।

নীনেভ নগরী। 
আল্লাহর ইচ্ছায় তখন তার মাথার কাছে একটি লাউ গাছ জন্ম নিল। গাছটি অসম্ভব দ্রুততার সাথে বেড়ে উঠে তাকে ছায়া প্রদান করে তার কষ্ট লাঘব করল। আর এক পাহাড়ী ছাগল এসে তাকে সকাল বিকেল দুধ পান করাল। পরদিন আল্লাহ পাঠালেন এক পোঁকা, সেটি সেই লাউ গাছকে কেটে দিলে সূর্য্যরে তাপে গাছটি শুকিয়ে গেল। ইউনুচ সবুজ সতেজ ঐ গাছটার জন্যে মনে কষ্ট অনুভব করলেন।  
ইউনুচ যখন সুস্থ্য হলেন, তখন আল্লাহ পুনঃরায় তাকে নীনেভ যেতে আদেশ করলেন। এবার তিনি আদেশ অনুসারে সেখানে গেলেন এবং নীনবী নগরের সমস্ত রাজপথ গুলিতে ঘুরে ঘুরে সতর্ক বাণী ঘোষণা করলেন। তিনি লোকদের অনুতাপ করতে এবং মন ফেরাতে বারংবার আহবান জানালেন এবং ঘোষণা করলেন- ‘অন্যথায় চল্লিশ দিন পর নীনেভ ঐশী রোষানলে ধ্বংস হয়ে যাবে।’ 

নীনেভ নগরী ও নগরদ্বারসমূহ। 
ইউনুচের এই সতর্ক বাণী অশুররাজের কানেও পৌঁছিল। তিনি নগরবাসীদের রোজা রাখতে এবং ইউনুচের প্রতিপালকের কাছে নিজেদেরকে নত করতে আদেশ করলেন এবং নিজেও সিংহাসন থেকে উঠলেন; গায়ের শাল রেখে দিলেন এবং চট পরিধান করে প্রার্থণায় বসলেন।

শহরের অধিবাসীরা অনতি বিলম্বে শিরক ও কুফর থেকে তওবা করে নিল এবং আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা লোকালয় ছেড়ে জঙ্গলে চলে গেল। এসময় তারা চতুষ্পদ জন্তু ও তাদের শাবকও সাথে করে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে শাবকগুলো তাদের মায়ের কাছ থেকে আলাদা হয়ে পড়েছিল। সেখানে সকলে চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করে দিল এবং কাকুতি মিনতি সহকারে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থণা করতে লাগল। জন্তুদের শাবকগুলো তাদের মায়েদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে পড়ার কারণে তারা পৃথক শোরগোলের সৃষ্টি করেছিল। তাদের প্রতি দয়া করার জন্যে, তাদের ক্রন্দন এসময় আল্লাহ শ্রবণ করলেন। এর ফলে এক লক্ষ বিশ হাজার লোক অধ্যুষিত ঐ নগরীর অধিবাসীগণ পার্থিব জীবনে অপমানকর শাস্তি থেকে মুক্ত হল ও কিছুকালের জন্যে তাদের জীবন উপভোগ করার সুযোগ লাভ করল।

এদিকে ইউনুচ শহরের বাইরে গিয়ে পূর্বদিকে একটা চালা তৈরী করে তার ছায়ায় বসে বাণী ফলার অপেক্ষা করতে লাগলেন। একে একে চল্লিশ দিন পার হল, কিন্তু কিছুই ঘটল না। তিনি জানতে পারলেন লোকেরা সুস্থ্য ও নিরাপদে দিন গুজরান করছে।

নীনেভ, আদাদ গেট।
তখন তিনি চিন্তান্বিত হলেন এই ভেবে যে, এখন সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেলে তারা তাকে মিথ্যেবাদী সাব্যস্ত করবে এবং তাকে হত্যা করবে। তাই তিনি আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে বললেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি দেশে থাকতেই জানতাম এরকম হবে। সেই জন্যেই তো আমি তার্শীশে পালিয়ে যাচ্ছিলাম। আমি জানতাম তুমি দয়াময় ও মমতায় পূর্ণ। তুমি সহজে অসন্তুষ্ট হও না, তোমার অটল ভালবাসার সীমা নেই। কিন্তু হে আল্লাহ! আমি এখন কি করে লোকদের কাছে আমার মুখ দেখাব? আমি তো এখন মিথ্যেবাদী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছি। সুতরাং আমাকে তুলে নাও, মৃত্যুই এখন আমার জন্যে উত্তম।’ ("O LORD, is not this what I said when I was yet in my country? That is why I made haste to flee to Tarshish; for I knew that you are a gracious God and merciful, slow to anger and abounding in steadfast love, and relenting from disaster. Therefore now, O LORD, please take my life from me, for it is better for me to die than to live."-Jonah 4:2-3)

আল্লাহ বললেন, ‘হে ইউনুচ! সেই লাউ গাছের কথা স্মরণ কর। তুমি যদিও সেই গাছটার জন্যে কোন পরিশ্রম করনি বা সেটাকে বড় করে তোলনি; ওটা তো এক রাতেই গজিয়েছিল এবং এক দিনেই মরে গিয়েছিল তবুও তুমি ঐ সামান্য লাউ গাছের জন্যে মনে কষ্ট পেয়েছিলে, তাহলে লক্ষ লোকের জন্যে আমার মনে কষ্ট হবে না কেন?’ (God then points out: "You are concerned about the bush, for which you did not labour and which you did not grow; it came into being in a night and perished in a night. And should I not be concerned about Nineveh, that great city, in which there are more than a hundred and twenty thousand people who do not know their right hand from their left, and also many animals? -NRSV")

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- ইউনুচও ছিল পয়গম্বরদের একজন।(৩৭:১৩৯) সে ক্রুদ্ধ হয়ে চলে গিয়েছিল। অতঃপর মনে করেছিল যে আমি তাকে ধৃত করতে পারব না। অতঃপর সে অন্ধকারের মধ্যে আহবান করলঃ তুমি ব্যাতীত কোন উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ আমি গোনাহগার। অতঃপর আমি তার আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাকে দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করলাম। আমি এমনিভাবে বিশ্বাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।(২১:৮৭-৮৮) 

সে যখন পালিয়ে বোঝাই জাহাজে উঠল। তারপর (জাহাজ অচল হওয়ায়) আরোহীদের মধ্যে কে অলুক্ষণে তার ভাগ্য পরীক্ষায় সে বাদ পড়ল। পরে এক বিরাট মাছ তাকে গিলে ফেলল। আর সে (নিজেকে) ধিক্কার দিতে লাগল। সে যদি আল্লাহর পবিত্র মহিমা আবৃত্তি না করত, তাহলে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তাকে মাছের পেটেই থাকতে হত। তারপর ইউনুচকে আমি এক তৃণহীন প্রান্তরে ফেলে দিলাম, আর (তখন) সে অসুস্থ্য ছিল। পরে তাকে ছায়া দেবার জন্যে আমি এক লাউগাছ গজালাম। তাকে আমি লক্ষ বা তারও বেশী লোকের কাছে পাঠিয়েছিলাম। আর তারা তাকে বিশ্বাস করেছিল। তাই আমি তাদেরকে কিছুকালের জন্যে জীবন উপভোগ করতে দিলাম।’(৩৭:১৪০-১৪৮)

ইউনুচের সম্প্রদায় ছাড়া অন্য কোন জনপদবাসী কেন এমন ছিল না, যারা বিশ্বাস করতে পারত ও তাদের বিশ্বাসের দ্বারা উপকৃত হতে পারত? তারা যখন বিশ্বাস করল তখন আমি তাদের পার্থিব জীবনে অপমানকর শাস্তি থেকে মুক্ত করলাম ও কিছুকালের জন্যে জীবন উপভোগ করতে দিলাম।’(১০:৯৮) 

নবী ইউনুচের প্রচার দ্বারা নীনেভ রক্ষা পাবার পর তার উত্তরোত্তর জাগরণ ঘটে। নীনেভ তখন ইস্রায়েলের জন্যে হুমকি স্বরূপ হয়ে উঠেছিল। এই হুমকি সত্ত্বেও ইস্রায়েলীরা তাদের বস্তুগত সমৃদ্ধি উপভোগ করতে থাকল। তারা নিজেদেরকে নৈতিক অনাচার এবং আর্থিক অবক্ষয়ের মুখে সমর্পন করল, যা একসময় তাদের অস্তিত্বের জন্যে হুমকি স্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়।

বি:দ্র: ইউনূচের কাহিনী যেমন ইন্টারেস্টিং তেমনি শুরু থেকেই পৌত্তলিকদের কাছে তা ছিল সমালোচিত। অগাস্টিন হিপোর পত্র থেকে আমরা এটা জেনেছি যে তারা প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল বিজ্ঞানের ছাত্রদের মতই- "what are we to believe concerning Jonah, who is said to have been three days in a whale’s belly? The thing is utterly improbable and incredible, that a man swallowed with his clothes on should have existed in the inside of a fish. If, however, the story is figurative, be pleased to explain it. Again, what is meant by the story that a gourd sprang up above the head of Jonah after he was vomited by the fish? What was the cause of this gourd’s growth?” -আর এসব প্রশ্ন তাদের নিকট কৌতুক ও হাস্যরসের খোরাক ছিল।

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia, vitamin-c-online, kids.aciweb, imninalu, workersforjesus.

Moses: কোরাণিক ক্যানভাসে নবী মূসা।

Abu Hena Mostafa Kamal  01 May, 2017 মি সরের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ফেরাউন। হঠাৎ করে তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। কিন্তু তিনি কোন উত্তরাধিকারী ন...