pytheya.blogspot.com Webutation

২৯ অক্টোবর, ২০১২

Quran: কোরআনের কিছু আয়াত সুষ্পষ্ট অর্থবোধক নয়।


হুয়াইয়া বিন আখতাব-ইহুদি বনি কুরাইজা গোত্রের এই গোত্রপতি, মদিনায় মুহম্মদের আগমনের পর মুহম্মদ ও কোরআন (Qur'an) সম্পর্কে জানতে বেশ কৌতুহলী হল। অত:পর কেউ একজন যখন তাকে সূরা বাকারার প্রাথমিক কয়েকটি আয়াত পাঠ করে শোনাল, তখন সে বাকারার প্রারম্ভের খন্ড বর্ণমালা আলিফ-লাম-মীম -এই অক্ষরগুলোর পাঠ শুনে বলল, ‘আবজাদের হিসেব অনুযায়ী এই অক্ষরগুলোতে মুহম্মদী ধর্মের স্থায়িত্বকালের বর্ণনা দেয়া হয়েছে।’

সে মুহম্মদের কাছে আগমনপূর্বক বলল, ‘আপনার পূর্বে বহু নবী-রসূল পাঠান হয়েছে, কিন্তু আপনাকে ব্যতিত আল্লাহ আর কাউকেও রাজ্যের আয়ূ ও উম্মতের দানা-পানির সময় সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেননি।’

হুয়াইয়া বলল, ‘আলিফ-এক, লাম-ত্রিশ, মিম-চল্লিশ -মোট একাত্তুর বৎসর এই ধর্মের স্থায়িত্বকাল। সুতরাং এমন সংকীর্ণ ধর্মে কোন জ্ঞানী সম্পৃক্ত হতে পারে না।’
অতঃপর সে বলল, ‘হে মুহম্মদ! এই ধরণের আরও কোন শব্দ আপনার কোরআনে আছে কি?’
তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, আলিফ, লাম, মিম, ছোয়াদ।’

সে বলল, ‘এবার কিছু সময় বেড়ে যাবে। ‘আলিফ-এক, লাম- ত্রিশ, মিম-চল্লিশ, ছোয়াদ-নব্বুই- মোট এক‘শ একষট্টি বৎসর।’
মুহম্মদ বললেন, ‘আরও আছে। আলিফ, লাম, রা।’
সে বলল, ‘এবার আরও বেড়ে গেল। আলিফ-এক, লাম- ত্রিশ, রা-দু‘শ-মোট দু‘শ একত্রিশ বৎসর।’
এ সময় মুহম্মদ হেসে ফেললেন, বললেন, ‘আরও আছে আলিফ, লাম, মিম, রা।
এতে সে গম্ভীর হয়ে গেল, বলল, ‘আপনার ধর্ম বা আপনার উম্মতের আয়ূস্কাল সম্বন্ধে কিছুই বুঝতে পারলাম না।’

এসময় নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়, যাতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ মুহম্মদের প্রতি এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যে কিতাবের কিছু আয়াত সুস্পষ্ট অর্থবোধক, যেগুলো কিতাবের মূলনীতি, আর অপর কিছু আয়াত সুষ্পষ্ট অর্থবোধক নয় এবং খন্ড বর্ণমালাগুলো সেই আয়াতসমূহের অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে তন্মধ্যকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতিত কেউ জানেন না।

কোরআনের আয়াতটি এই-তিনি (আল্লাহ) তোমার প্রতি এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যে কিতাবের কিছু আয়াত সুস্পষ্ট অর্থবোধক, যেগুলো কিতাবের মূলনীতি আর অপর কিছু আয়াত সুষ্পষ্ট অর্থবোধক নয় এবং খন্ড বর্ণমালাগুলো সেই আয়াতসমূহের অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে তন্মধ্যকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতিত কেউ জানে না।-(৩:৭)

সমাপ্ত।

Muhammad: মুহম্মদের শেষ দিনগুলি।


মুহম্মদ (Muhammad) জীবনের শেষ বৎসরটি মদিনাতেই কাটান। এ সময় তিনি প্রদেশসমূহ ও গোত্রসমূহ যারা ইসলাম গ্রহণ করে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সদস্য হয়েছে তাদের সংগঠিত করেন। যদিও তখন পর্যন্ত ইসলাম, সিরিয়া ও মেসোপটেমিয়ায় বসতি স্থাপনকারী খ্রীষ্টান আরবদের মধ্যে প্রবেশ করেনি। কিন্তু সমগ্র আরব দেশ ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হয়েছিল।

ইসলাম ধর্মের কর্তব্যসমূহ শিক্ষা দেবার জন্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যে, যাকাত সংগ্রহের জন্যে বিভিন্ন প্রদেশে ও বিভিন্ন গোত্রের কাছে প্রতিনিধি পাঠান হল। মু‘আজ ইবনে জাবাল ইয়েমেনে প্রেরিত হলেন এবং মুহম্মদের বিদায়ী আদেশ ছিল, যেসব ব্যাপারে কোরআনের কোন প্রত্যক্ষ নির্দেশ পাওয়া যাবে না, সেইসব ব্যাপারে নিজস্ব বিচার-বুদ্ধির উপর নির্ভর করতে হবে। আলীকে ইয়েমামায় প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করা হল এবং তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, ‘যখন দু‘দল তোমার কাছে বিচারের জন্যে আসবে তখন তাদের উভয় দলের কথা শ্রবণ না করা পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছিবে না।’
মুহম্মদ, তার প্রচারিত ধর্ম সর্বমানবের কাছে পৌঁছিবে-যে উদার বাসনা দ্বারা তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তার অনুসরণে তিনি প্রতিবেশী রাজন্যবর্গ ও তাদের প্রজাকূলকেও সত্যধর্ম ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিয়ে ইতিপূর্বে কতিপয় দূত প্রেরণ করেছিলেন। দূত পৌঁছেছিল গ্রীকসম্রাট হেরাক্লিয়াস ও পারস্য সম্রাট খসরু পারভেজ, এমন কি তাদের জায়গীর ভোগী যুবরাজদের কাছেও।

মক্কার একজন দেশত্যাগী সমতার ভিত্তিতে তাকে মহান খসরু বলে অভিহিত না করার স্পর্ধার জন্যে খসরু বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার পত্রের ঔদ্ধত্যের জন্যে ক্রোধান্বিত হন, পত্র ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেন এবং ঘৃণার সঙ্গে দূতকে তাড়িয়ে দেন।

জান্নাতুল বাকী, গুড়িয়ে দেবার পর।
হেরাক্লিয়াস ছিলেন অধিকতর নম্র ও শ্রদ্ধাবনত। তিনি দূতকে প্রভূত সম্মান প্রদর্শণ করেন এবং পত্রের একটি সদয় ও সযত্নে উত্তর প্রদান করেন।কিন্তু যখন দামেস্কের নিকটবর্তী বসরায় অবস্থানকারী তার জায়গীর ভোগী ঘাসানিয়া যুবরাজের কাছে দূত প্রেরিত হল, তখন দূতের প্রাপ্ত সম্মান দেবার পরিবর্তে ঐ পরিবারেরই একজন তাকে হত্যা করল।

অত:পর সিরিয়ায় ঐ মুসলিম দূত হত্যার দীর্ঘ বিলম্বিত প্রতিশোধ গ্রহণের জন্যে জায়েদের পুত্র ওসামার নেতৃত্বে একটি অভিযানের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল। বাস্তবিক যাত্রার জন্যে সেনাবাহিনী শহরের বাইরে ছাউনি ফেলে অপেক্ষা করছিল।কিন্তু Muhammad became ill after he had returned to Medina from the Farewell Pilgrimage. খায়বরে ইহুদি রমনী জয়নব যে বিষ তাকে খাইয়েছিল, তা ধীরে ধীরে তার দেহের সর্বত্র প্রবেশ করেছিল। হঠাৎ করে এখন তা চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করল এবং শ্পষ্টত: বোঝা গেল যে তার দিন ফুরিয়ে এসেছে।During these days, he visited the martyrs of Uhud and performed funeral prayers for them. One night, he went to the Jannatu al-Baqi graveyard and requested Allah to show forgiveness to them. এদিকে রসূলুল্লাহর এই অসুস্থ্যতার কারণে ওসামার নেতৃত্বে অভিযানে প্রস্তুত সেনাবাহিনীর যাত্রা স্থগিত হল।

মসজিদে নব্বীর সংলগ্ন হুজরা 
মুহম্মদের শেষ দিনগুলিতে তিনি দৈহিক দিক দিয়ে দুর্বল থাকলেও তার মানসিক শক্তি অটুট ছিল। এই অসুস্থ্যতার দিনগুলি তিনি মসজিদ সংলগ্ন আয়েশার হুজরাতে (মুহম্মদের প্রত্যেক বিবির জন্যে একটি করে হুজরা নির্মিত হয়েছিল। কক্ষ ছাড়াও এতে কিছু বারান্দা ও ছাদ থাকত। মসজিদে নব্বীর সংলগ্ন এসব হুজরা খর্জুর শাখা দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং এর দ্বারে একটা মোটা কাল পশমী পর্দা ঝুলান থাকত। হুজরার দরজা থেকে ছাদ বিশিষ্ট কক্ষ পর্যন্ত ছয়-সাত হাতের ব্যবধান ছিল। কক্ষ দশ হাত এবং ছাদের উচ্চতা সাত- আট হাত ছিল। মুহম্মদের তিরোধানের পর ওলীদ ইবনে আব্দুল মালেকের রাজত্বকালে তারই নির্দেশে এসব হুজরা মসজিদে নব্বীর অন্তর্ভূক্ত করে দেয়া হয়েছিল।) কাটিয়েছিলেন এবং যতদিন পর্যন্ত শরীরে কুলাল তিনি জামাতে যোগদান করেছিলেন।

মৃত্যুর তিনদিন পূর্বে শেষবারে তিনি আলী ও আব্বাসের পুত্র হাসান ও ফজলের কাঁধে ভর করে মসজিদে গিয়েছিলেন। তার মুখমন্ডলে এক অনির্বাচনীয় মাধুর্যের মৃদু হাসি ফুটে উঠল। অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রতি অভ্যস্ত প্রশংসা জ্ঞাপন করে সমবেত সকলকে বললেন, ‘হে মুসলমানগণ, যদি আমি তোমাদের কারও প্রতি কোন অন্যায় করে থাকি তবে আমি তার প্রতিকারের জন্যে এখানে উপস্থিত আছি। যদি কারও কাছে আমার ঋণ থাকে তবে আমার যা কিছু আছে তা তার বা তাদেরই।’
এ কথা শ্রবণ করে জনতার মধ্যে থেকে একজন উঠে দাঁড়িয়ে তিন দিরহাম দাবী করল যা সে মুহম্মদের অনুরোধে একজন গরীবকে দিয়েছিল। এই দিরহামগুলি তৎক্ষণাৎ ফেরৎ দেয়া হল এবং বলা হল, ‘পরকালের চেয়ে ইহকালে লজ্জিত হওয়া উত্তম।’ 

অতঃপর মুহম্মদ সমবেত সকলের জন্যে এবং যারা শত্রুর হাতে নিহত হয়েছে তাদের জন্যে আল্লাহর করুণা ও রহমত প্রার্থনা করলেন। তিনি তার উম্মতদের জন্যে ধর্মীয় কর্তব্যসমূহ এবং শান্তি ও সদিচ্ছার জীবন অনুমোদন করলেন এবং কোরআনের এই আয়াত দিয়ে বক্তব্য শেষ করলেন-
‘আখেরাতের এই ঘর-সে-তো তাদের জন্যেই আমি তৈরী করেছি-যারা দেশে নিজেদের প্রাধান্য বিস্তার করতে, অশান্তি সৃষ্টি করতে মোটেই চায় না-আসলে পরহেজগারদের জন্যেই তো উত্তম পরিণাম রয়েছে।’(২৮:৮৩)
এরপর মুহম্মদ পুনরায় জামাতে উপস্থিত হতে পারেননি। তার শক্তি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে আসছিল। সোমবারে দুপুরে, ১২ই রবিউল আওয়াল ১১ হিজরী (৮ই জুন ৬৩২ খ্রীঃ) যখন তিনি ফিসফিস করে প্রার্থনা করছিলেন, তখন এই মহান রসূলের আত্মা বিদায় নিলেন। এভাবে প্রথম থেকে শেষ অবধি আল্লাহ ও মানুষের সেবায় উৎসর্গীত একটি জীবনের অবসান ঘটল।

"Abu al-Qasim MUHAMMAD Son of `Abd Allah,
A light from the light of Allah.
O you who yearn for the light of his beauty,
Send blessings and utmost greetings of peace
Upon him and upon his Family."

সমাপ্ত।

২৮ অক্টোবর, ২০১২

Quran: অবতরণ, আয়াত নাযিল ও বাতিলের পটভূমি।

যাদের ইসলাম সম্পর্কে ভাল ধারণা নেই তারা কোরআনের কোন আয়াত নাযিল এবং পরবর্তীতে তা বাতিলের কারণ বুঝতে পারেন না। তাই তারা প্রশ্ন করেন- 'আয়াতটি নাযিলেরইবা কারণ কি ছিল, যদি তা বাতিল করতে হবে? তবে কি তিনি ভুল করে নাযিল করে ফেলেছিলেন, আর পরে তা সংশোধন করেছেন?' অনেকে তো কৌতুক ও কটাক্ষ করেন, প্রমান হিসেবে দেন নবীজীকে বলা বিবি আয়েশার সেই ঐতিহাসিক রসাত্মক সংলাপ-"Your God indeed rushes in coming to your aid!"- এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও ব্যাখ্যা আমরা পরবর্তীতে কোন আর্টিকেলে দেব।

জীবন পুস্তক!
যাইহোক, যা বলছিলাম, অমুসলিম ও অন্যান্য সাধারণ মানুষ এমনটি ভাবেন কারণ, কোরআন (Qur'an) অবতরণ সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা না থাকার কারণে। আল্লাহর নির্দেশে মানব ও জ্বিণ জাতি সৃষ্টির অনেক আগেই পূত-পবিত্র কিছু ফেরেস্তা এক কিতাব লেখেন, যেটি লওহে মাহফুজে সংরক্ষিত। বিশ্ব জগৎ সৃষ্টির রহস্য সহ এমন কোন গোপন ভেদ নেই, যা না আছে ঐ কিতাবে। সকল সহিফা, তাওরাত, যবুর, বাইবেল ও কোরআন ঐ কিতাবেরই অংশ বিশেষ। তাওরাত, যবুর বা বাইবেল সংশ্লিষ্ট নবীকে একবারে দেয়া হয়েছিল, কিন্তু কোরআনের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি। সাড়ে তেইশ বৎসর ধরে এটি নবীজীর কাছে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটু একটু করে নাযিল হয়েছে।

কোন এক শবে-কদরের রাত্রিতে পূর্ণ কোরআন আল্লাহর নির্দেশে ফেরেস্তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা লওহে মাহফুজের ঐ খোদায়ী কিতাব থেকে তুলে নিয়ে মহাবিশ্বের আকাশে ছড়িয়ে দেয়া হয় নবীজীর নব্যূয়তের পূর্বেই। এভাবে পূর্ণ কোরআন অদৃশ্যলোক থেকে দৃশ্যলোকে আগমন করে এবং তা সংরক্ষণ ও পাহারার কাজে ফেরেস্তাদের নিযুক্ত করা হয়। কারণ জিব্রাইল বা অন্যান্য ফেরেস্তা যারা দুনিয়ার কাজে নিয়োজিত তাদের অদৃশ্যলোকে যাবার ক্ষমতা নেই। ৪ঠা আসমানের সিদরাতুল মুনতাহাই এইসকল ফেরেস্তাদের যাতায়াতের শেষ সীমানা।সিদরা অর্থ বরই, মুনতাহা অর্থ শেষসীমানা। সেখানে একটি বরই কূলগাছ আছে যার পাতাতে ফেরেস্তারা স্বর্ণ বর্ণের ফড়িং-এর মত করে থাকে। দৃশ্যলোকের এই শেষ সীমানাই অদৃশ্যলোকের শুরু, যার প্রথমেই রয়েছে জান্নাতুল মাওয়া।

Ein Sof and angelic hierarchies.
এবার আমরা দেখব এবিষয়ে কাব্বালা (Kabalah) কি বলে- "There are four worlds and our world is the last world-: the world of action (Assiyah). Angels exist in the worlds above as a 'task' of God. They are an extension of God to produce effects in this world."

উপরের তথ্য সংক্রান্ত কোরআনের আয়াতসমূহ- নিশ্চয় আমি এই কোরআন অবতীর্ণ করেছি লায়লাতুল কদরে। লায়লাতুল কদর সম্পর্কে তুমি কি জান? লায়লাতুল কদর হল হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এই রাতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেস্তারা স্বীয় পালনকর্তার নির্দেশে অবতীর্ণ হয়। শান্তিই শান্তি, যা ফজরোদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (৯৭:১-৫) 

নিশ্চয় এটা সম্মানিত কোরআন, যা আছে এক গোপন কিতাবে।(৫৬:৭৭-৭৮) এটা লিখিত আছে সম্মানিত, উচ্চ পবিত্র পত্রসমূহে, লিপিকারের হস্তে, যারা মহৎ পূত চরিত্র।(৮০:১৩-১৬) নিশ্চয় এ কোরআন আমার কাছে সমুন্নত অটল রয়েছে লওহে মাহফুজে।(৪৩:৪) আমি সত্যসহ এ কোরআন নাযিল করেছি এবং সত্যসহ এটা নাযিল হয়েছে।-(১৭:১০৫)

কোরআনের একটি পাতা।
শপথ নিশাবসান ও প্রভাত আগমন কালের, নিশ্চয় কোরআন সম্মানিত রসূলের আনীত বাণী। যে শক্তিশালী, আরশের মালিকের কাছে মর্যাদাশালী, সবার মান্যবর, সেখানকার বিশ্বাসভাজন এবং তোমাদের সাথী পাগল নয়। সে সেই ফেরেস্তাকে প্রকাশ্য দিগন্তে দেখেছে। সে অদৃশ্য বিষয় বলতে কৃপণতা করে না।-(৮১:১৭-২৪) 

শপথ নক্ষত্রের, যখন তা অস্তমিত হয়, তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয় এবং সে মনগড়া কথাও বলে না। কোরআন তো ওহি, যা তার (মুহম্মদ) প্রতি প্রত্যাদেশ হয় তা শিক্ষা দান করে শক্তিশালী (জিব্রাইল)। 

সহজাত জিব্রাইল, সে নিজ আকৃতিতে স্থির হয়েছিল উর্দ্ধ দিগন্তে। অতঃপর সে তার নিকটবর্তী হল, অতি নিকটবর্তী। ফলে তাদের মধ্যে দু’ধনুকের ব্যবধান রইল। অথবা তা অপেক্ষাও নিকটতর হল। তখন আল্লাহ তার দাসের প্রতি যা প্রত্যাদেশ করার তা প্রত্যাদেশ করলেন, যা সে দেখেছে, তার অন্তকরণ তা অস্বীকার করেনি। সে যা দেখেছে তোমরা কি সে বিষয়ে বিতর্ক করবে? 


নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল প্রান্তবর্তী সিদরা বৃক্ষের কাছে, যার নিকটবর্তীতে জান্নাতুল মাওয়া অবস্থিত। যখন বৃক্ষটি, যার দ্বারা শোভিত হবার, তার দ্বারা মন্ডিত ছিল। তার দৃষ্টিবিভ্রম হয়নি, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যূতও হয়নি সে তো তার প্রতিপালকের মহান নিদর্শণাবলী দেখেছিল।’-(৫৩:১-১৮)

আর সংরক্ষণ ও পাহারার কারণ হল- নবীজীর নব্যুয়ত লাভের পূর্বে জ্বিণ জাতি উর্দ্ধাকাশে ফেরেস্তাদের আলোচনা শুনে সেগুলি তাদের মত করে অতীন্দ্রবাদীদের কাছে পৌঁছিয়ে দিত। তাই কোরআন নাযিল হবার পর, ওহীর হেফাজতের জন্যে জ্বিণ জাতিকে আকাশের সংবাদ সংগ্রহ থেকে নিবৃত্ত রাখা হয়। কোন জ্বিণ সংবাদ শ্রবণের মানসে উর্দ্ধাকাশে গেলে, তাকে উল্কাপিন্ড নিক্ষেপ করে বিতাড়িত করা হতে লাগল। যাইহোক নবীজীর নব্যূয়তের পর যখন যেমন প্রয়োজন তা জিব্রাইল তার কাছে নিয়ে আসত। এখানে আয়াত পরিবর্তন বা পরিবর্ধনের কাজে নবী মুহম্মদ, জিব্রাইল বা আল্লাহর কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আয়াতটি এসেছে ঘটনার মাধ্যমে, বাতিল হয়েছে মানুষের অসুবিধা দূর করতে-সবই পূর্ব নির্ধারিত।

কোরআন জানায়- নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজীর দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে। ওরা উর্দ্ধ জগতের কোন কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চারদিক থেকে তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়, ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশ্যে। ওদের জন্যে রয়েছে বিরামহীন শাস্তি। তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাৎধাবন করে।-(৩৬:৬-১০) 

আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করেছি, অতঃপর দেখতে পেয়েছি যে, কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শ্রবণার্থে বসতাম। এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ডকে ওঁৎ পেতে থাকতে দেখে।-(৭২:৮-৯) 

এই কোরআন শয়তানরা অবতীর্ণ করেনি। তারা এ কাজের উপযুক্ত নয় এবং তারা এর সামর্থ্যও রাখে না। তাদেরকে তো শ্রবণের জায়গা থেকেও দূরে রাখা হয়েছে।- -(২৬:২১০-২১২) 

এখন আমরা কোন আয়াত নাযিল ও পরপরই তা বাতিল করার উদ্দেশ্য বুঝতে চেষ্টা করব একটি সাধারণ ঘটনার মাধ্যমে।

সাধারণ মজলিসসমূহে উপস্থিত লোকজন নবীজীর বাণী শুনে উপকৃত হত। এ সুবাদে কিছু লোকজন তার সাথে আলাদাভাবে গোপন কথাবার্তা বলতে চাইলে তিনি সময় দিতেন। এই সুযোগ নিয়ে কিছু মুনাফেক নবীজীর কাছে একান্তে অহেতুক কথাবার্তায় দীর্ঘসময় অতিবাহিত করত। তার এই বোঝা হালকা করতে এই আয়াত নাযিল হল- মুমিনরা, তোমরা রসূলের কাছে কান কথা বলতে চাইলে তৎপূর্বে সদকা প্রদান করবে। এটা তোমাদের জন্যে শ্রেয়ঃ ও পবিত্র হওয়ার ভাল উপায়। যদি তাতে সক্ষম না হও, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।-(৫৮:১২)

এই আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর কেবল আলীই আদেশটি বাস্তবায়িত করেন। তিনি এক দিনার সদকা প্রদান করে নবীজীর কাছ থেকে একান্তে কথা বলার সময় নেন।

উপরের ঐ আয়াতের দরুণ সাহাবীদের অনেকেই অসুবিধার সম্মুখীণ হন, কারণ তাদের অধিকাংশই ছিলেন হত-দরিদ্র। ফলে আলীর পর আর কেউই আদেশটি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এই আয়াত দ্বারা পূর্বেকার আদেশটি রহিত করে দেয়া হয়- তোমরা কি কান কথা বলার পূর্বে সদকা প্রদান করতে ভীত হয়ে গেলে? অতঃপর তোমরা যখন সদকা দিতে পারলে না এবং আল্লাহ তোমাদের মাফ করে দিলেন, তখন তোমরা নামাজ কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর। আল্লাহ খবর রাখেন যা তোমরা কর।-(৫৮:১৩)

আদেশটি রহিত হল বটে কিন্তু তার উদ্দেশ্য ঠিকই অর্জিত হল। মুসলমানরা আন্তরিক মহব্বতের তাগিদেই মজলিস দীর্ঘায়িত করা থেকে বিরত হলেন এবং মুনাফেকরা যখন দেখল যে, সাধারণ মুসলমানদের কর্মপন্থার বিপরীতে এরূপ করলে তারা চিহ্নিত হয়ে যাবে এবং মুনাফেকী ধরা পড়ার সম্ভাবণা, তখন তারাও এ থেকে বিরত হয়ে গেল।

কোরআনের কোন আয়াত নাযিল ও পরবর্তীতে তা বাতিলের কারণে অনেকে কোরআনকে ঐশী গ্রন্থ বলে বিশ্বাস করত না। আর তারা  নবীজীকে প্রতারক বলেই ভাবত। এ বিষয়ে কোরআন জানায়-

And when We exchange a verse in the place of another verse - and God knows very well what he is sending down - they say (to Muhammad), "Thou art a mere forger!" -(16:101)

কোরআনের কোন আয়াত বাতিল হয়ে তার পরিবর্তে অন্য আয়াত নাযিল হলেও বাতিল হওয়া আয়াতের গুরুত্ব রয়েছে। কারণ কোরআন যেমন ধর্মগ্রন্থ তেমনি ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণীও বটে। আর তাই রসূলুল্লাহ সূরা সমূহ থেকে বাতিল হওয়া আয়াতগুলো কখনও বাদ দেননি। আর এটা সত্য হলে বুখারীর এই হাদিসগুলির আর গ্রহণযোগ্যতা থাকে না-

Narrated al-Bara: There was revealed: 'Not equal are those believers who sit (at home) and those who strive and fight in the Cause of Allah.' (4.95)

The Prophet said, "Call Zaid for me and let him bring the board, the inkpot and the scapula bone (or the scapula bone and the ink pot)."

Then he said, "Write: 'Not equal are those Believers who sit..", and at that time 'Amr bin Um Maktum, the blind man was sitting behind the Prophet . He said, "O Allah's Apostle! What is your order For me (as regards the above Verse) as I am a blind man?" 

So, instead of the above Verse, the following Verse was revealed:'Not equal are those believers who sit (at home) except those who are disabled (by injury or are blind or lame etc.) and those who strive and fight in the cause of Allah.' (4.95) -Bukhari, V6, 61:512.

Narrated Sahl bin Saud: When the following verses were revealed: "Eat and drink until the white thread appears to you, distinct from the black thread" (2:187) and "of dawn" was not revealed, some people who intended to fast, tied black and white threads to their legs and went on eating till they differentiated between the two. Allah then revealed the words, "of dawn", and it became clear that meant night and day.-Bukhari, V3, 31:141. ...ইত্যাদি।

বুখারীর এই হাদিসগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যারা কোরআন নবী মুহম্মদের রচিত বলে বিশ্বাস করেন, তারা প্রমান হিসেবে এই হাদিসগুলির উদাহরণ টানেন।

সমাপ্ত।
ছবি: Freethoughtblogs.