বায়তুল মুকাদ্দাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বায়তুল মুকাদ্দাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১২ মার্চ, ২০১২

Qibla: নামাজের কেবলার পরিবর্তন।


মক্কাতে কা‘বা এবং বায়তুল মুকাদ্দাসকে কেবলা (Qibla) করে নামাজ পড়া হত। কিন্তু হিযরতের পর বায়তুল মুকাদ্দাসকেই কেবলা করা হয়েছিল। এতে ইহুদিরা বলতে শুরু করল, ‘দেখ! মুহম্মদ আমাদের দ্বীন স্বীকার করে না, অথচ আমাদের কেবলামুখী হয়ে নামাজ পড়ছে।’

আর মক্কাতে এখবর পৌঁছিলে কুরাইশরা বলতে লাগল, ‘দেখ! মুহম্মদ কি সব বিষ্ময়কর কর্মকান্ড করছে। সে নিজেকে ইব্রাহিমের অনুসারী হবার দাবী করে, অথচ তার কেবলা মানছে না। তার কাজে ও কথায় কোন মিল নেই।’

বায়তুল মুকাদ্দাস,  জেরুজালেম।
সহসা হিজরী ২ সনের রজব মাসে (যেখানে বর্তমানে মসজিদে কিবলায়তান রয়েছে) এই আয়াত নাযিল হলঃ

‘নিশ্চয়ই আমি তোমাকে বার বার উর্দ্ধদিকে মুখ তুলে তাকাতে দেখেছি। সেজন্যে আমি তোমাকে এমন একটি কেবলার দিকে মুখ ফেরাব, যাতে তুমি খুশী হবে। অতএব তুমি মসজিদুল হারামের দিকে তোমার মুখ ফেরাও। তোমরা যেখানেই থাক না কেন যখন প্রার্থনা করবে, তার দিকে মুখ ফেরাবে। যারা আহলে কিতাবে, তারা অবশ্যই জানে যে এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম থেকে যা তারা করে।(২:১৪৫)

আর যে স্থান থেকে তুমি বের হও, নিজের মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফেরাও- নিঃসন্দেহে এটাই হল তোমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নির্ধারিত বাস্তব সত্য। বস্তুতঃ তোমার পালনকর্তা তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনবহিত নন।(২:১৪৯)

আর তোমরা যেখান থেকে বেরিয়ে আস এবং যেখানেই অবস্থান কর সেদিকেই মুখ ফেরাও, যাতে করে মানুষের জন্যে তোমাদের সাথে ঝগড়া করার অবকাশ না থাকে। অবম্য যারা অবিবেচক তাদের কথা আলাদা। কাজেই তাদের আপত্তিতে ভীত হইও না।(২:১৫০)

আল আকসার সম্মুখ প্রাঙ্গন।
কেবলার এই পরিবর্তনে ইহুদিরা নানারকম মন্তব্য করতে লাগল। কেউ কেউ বলতে লাগল, ‘এই দেখ, মুহম্মদ তার কেবলা পরিবর্তন করল। এতদিনে কি তাহলে ভুল কেবলায় ছিল?’

কেউ কেউ বলল, ‘কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল?’
কেউ কেউ বলল, ‘তাহলে যারা জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে কেবলা করে এবাদত করেছে এবং ইতিমধ্যে মারা গিয়েছে তাদের কি হবে?

তাদের এই সমস্ত কথাবার্তার জবাবে আল্লাহ জানালেন যে, পূর্ব পশ্চিম তো আল্লাহরই। তাছাড়া তিনি মুহম্মদ যে কেবলার উপর ছিলেন তাকে এইজন্যে কেবলা করেছিলেন যাতে এটা প্রতীয়মান হয় যে, কে রসূলের অনুগামী থাকে এবং কে পিঠটান দেয়। তিনি এমন নন যে কারও ঈমান নষ্ট করে দেবেন। তিনি তো মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুণাময়। 

মসজিদ ই কিবলাতাইন বা দু'কিবলার মসজিদ।
কোরআনের আয়াতটি এই -‘এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? তুমি বল, ‘পূর্ব পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছে সরলপথে চালান।’ 

তুমি যে কেবলার উপর ছিলে, আমি তাকে এজন্যেই কেবলা করেছিলাম, যাতে একথা প্রতীয়মান হয় যে, কে রসূলের অনুগামী থাকে আর কে পিঠটান দেয়। নিশ্চয় এটা কঠোর বিষয়, কিন্তু তাদের জন্যে নয়, যাদেরকে আল্লাহ পথপ্রদর্শণ করেছেন। আল্লাহ এমন নন যে তোমাদের ঈমান নষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুণাময়। (২:১৪২,১৪৪)

সমাপ্ত।
ছবি: atlastours.net, seetheholyland.net, islamiclandmarks.

৬ মার্চ, ২০১২

Mi'raj: মেরাজ ও আবু বকরের সিদ্দিক উপাধি।


মেরাজের মাধ্যমেই মুহম্মদ (Muhammad) মক্কা থেকে জেরুজালেমে নীত হয়েছিলেন এবং এই মেরাজের মধ্যেই তিনি যথার্থই তার প্রভুর অনেকগুলি শ্রেষ্ঠ নিদর্শণ দেখতে পেয়েছিলেন। প্রকৃত পক্ষে এই মেরাজ (Mi'raj) গৌরবপূর্ণ দৃশ্যবলীতে পরিপূর্ণ এবং গভীর তাৎপর্যবহ ।

"And he certainly saw him in another descent,
At the Lote-tree of the Utmost Boundary -
Near it is the Garden of Refuge -
When there covered the Lote-tree that which covered [it]
The sight [of the Prophet] did not swerve, nor did it transgress [its limit].
He certainly saw of the greatest signs of his Lord." -(53:13-18)

বায়তুল মুকাদ্দাস।
এই মেরাজের দিন মুহম্মদ তার ফুফু উম্মে হানীর গৃহে রাত্রিযাপন করছিলেন। অতঃপর সুবেহ সাদিকের সময় কা’বার সম্মুখে বোরাক (Buraq -এটি গাধা থেকে বড় এবং খচ্চর থেকে ছোট একটি সুন্দর অদ্ভূত প্রাণী। এর সর্বাঙ্গ অলঙ্কারে সুসজ্জিত ছিল।) থেকে অবতরণ করে তিনি ফুফুর গৃহেই প্রবেশ করলেন এবং ফুফুকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে মেরাজের কথা বললেন। সবশুনে তিনি বললেন, ‘তুমি কারও কাছে এ কথা প্রকাশ কোরও না, তা করলে কুরাইশরা তোমার প্রতি আরও বেশী মিথ্যারোপ করবে।’

মেরাজ যাত্রা।
মেরাজ সংক্রান্ত কোরাণিক আয়াত- তিনিই পবিত্র মহানসত্ত্বা, যিনি তারই এক বান্দাকে একরাত্রে কা’বাগৃহ থেকে বায়তুল মুকাদ্দস পর্যন্ত নিয়ে গেলেন, ‘যার চারিদিক আমি বরকত মহিমায় ঘিরে রেখেছি যেন আমার কতকগুলো আয়াত আমিই তাকে দেখাতে পারি।’একথা সত্য সুনিশ্চিত যে, একমাত্র তিনিই সব শোনেন, দেখেন।(১৭:১)

মেরাজ থেকে মুহম্মদ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে এসেছেন। আর ঐ সময় ফজরের নামাজের সময় হওয়াতে তিনি কা‘বাতে এলেন। অতঃপর নামাজ শেষে তিনি তার মেরাজের কথা আগত শিষ্য ও উপস্থিত লোকদেরকে বললেন।

এ সময় সেখানে আবু জেহেল, জুবায়ের ইবনে মুতাইম, ওলীদ ইবনে মুগীরা প্রমুখ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মেরাজের পূর্ণ ঘটনা বিবৃত হওয়ার পর আবু জেহেল তাকে নানারূপ বিদ্রুপাত্মক প্রশ্ন করতে লাগলেন। মুহম্মদ তার সকল প্রশ্নের জবাব দিতে লাগলেন।

 মেরাজে দোযখ দর্শন।
একপর্যায়ে আবু জেহেল মেরাজে পূর্ববর্তী নবী-রসূলদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ও কথোপকথন হয়েছে জানতে পেরে তাদের আকৃতি-প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে চাইলেন। মুহম্মদ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে শুরু করলে উপস্থিত কুরাইশগণ হৈঁ-চৈঁ শুরু করে দিল। এমনকি কিছু নও মুসলিম তার কথাবার্তা শুনে ইসলাম ত্যাগ করল।

জুবায়ের ইবনে মুতাইম বললেন, ‘হে মুহম্মদ! তোমার জান্নাত জাহান্নামের কথা বাদই দিলাম, বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত যেতে দু‘মাস সময় লাগে। সুতরাং এতদিন পর্যন্ত তোমাকে যতটুকু বিশ্বাস করা গিয়েছিল তাও আর সম্ভব হল না। তুমি যে অসম্ভব ঘটনা বর্ণনা করছ, তাতে তোমার নব্যুয়তের বিষয়টা আর কোনক্রমেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। এখন তুমি সত্যবাদী হলে বায়তুল মুকাদ্দাসের পরিপূর্ণ বর্ণনা আমাদেরকে জানাও।’

জ্রিব্রাইল বায়তুল মুকাদ্দাসকে দৃষ্টির সম্মুখে তুলে ধরল।
মুহম্মদ তো রাতের বেলায় বায়তুল মুকাদ্দাসে (Bayt al-Muqaddas) প্রবেশ করেছিলেন। তাছাড়া তার বর্ণনা করার প্রয়োজন পড়তে পারে এমনটা তো তিনি কষ্মিনকালেও চিন্তা করেননি। সুতরাং তিনি চিন্তায় পড়ে যান। তৎক্ষণাৎ জ্রিব্রাইল উপস্থিত হয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসকে তার দৃষ্টির সম্মুখে তুলে ধরল। তিনি তা দেখে দেখেই কুরাইশদের সকল প্রশ্নের জবাব দিতে লাগলেন। যারা পূর্বে বায়তুল মুকাদ্দাস দেখেছিলেন তারা মুহম্মদের জবাবের সত্যতা স্বীকার করলেন। আর উপস্থিত কুরাইশ নেতৃবর্গরা মনে মনে স্বীকার করলেন- মুহম্মদ সত্যিই এক মহা যাদুকর।

এসবের পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াত নাযিল হয়েছিল-এবং স্মরণ কর, আমি তোমাকে বলে দিয়েছিলাম যে, তোমার পালনকর্তা মানুষকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং যে দৃশ্য আমি তোমাকে দেখিয়েছি তাও কোরআনে উল্লেখিত অভিশপ্ত বৃক্ষ কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্যে। আমি তাদেরকে ভয প্রদর্শণ করি। কিন্তু এতে তাদের অবাধ্যতাই আরও বৃদ্ধি পায়।(১৭:৬০) 

এদিকে কতিপয় ইহুদি এই মেরাজের কথা জানতে পেরে সেই প্রভাতেই আবু বকরের গৃহে গমন করল এবং তাকে বলল, ‘হে আবু বকর, এখন কি বলতে চান? মুহম্মদ নাকি গতরাতে জেরুজালেমের বায়তূল মুকাদ্দাসে গিয়ে গতরাতেই ফিরে এসেছেন!’

আবু বকর (Abu Bakr) বললেন, ‘তিনি এ কথা বলেছেন?’
তারা বলল, ‘হ্যা, তিনিই বলেছেন। বিশ্বাস না হলে আমাদের সঙ্গে চলেন, তিনি কা'বাতে আছেন।’
আবু বকর বললেন, ‘তিনি যদি এ কথা বলে থাকেন তবে তা সত্য, আর আমি তা বিশ্বাস করি।’

পরবর্তীতে তার এ কথা জানতে পেরে মুহম্মদ তাকে ‘সিদ্দিক’ (বিশ্বাসী) উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। 

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia, religionfacts.com.

Moses: কোরাণিক ক্যানভাসে নবী মূসা।

Abu Hena Mostafa Kamal  01 May, 2017 মি সরের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ফেরাউন। হঠাৎ করে তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। কিন্তু তিনি কোন উত্তরাধিকারী ন...