ফরমান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ফরমান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৭ মার্চ, ২০১২

Decree of Muhammad: নবী মুহম্মদের ফরমান এবং জিজিয়া কর।

নবী মুহম্মদ নাজরানের খ্রীষ্টানদের কাছে একটি ফরমান (Decree) প্রেরণ করলেন। এ্ই ফরমানে তিনটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছিল-

ক) ইসলাম কবুল কর, অথবা 
খ) জিজিয়া কর দাও, অথবা 
গ) যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত হও।

নাজরান ছিল আরব দেশীয় খ্রীষ্টানদের কেন্দ্রভূমি।
নাজরান ছিল আরব দেশীয় খ্রীষ্টানদের কেন্দ্রভূমি। ইয়েমেনের কাছে অবস্থিত এটি ছিল একটি বিস্তৃত এলাকা। নবীজী এই এলাকায় ইসলাম প্রচারের জন্যে ইতিপূর্বে মুগীরা বিন শোবাকে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি সেখানে পৌঁছিলে অধিবাসীরা মরিয়ম ও ঈসা সংক্রান্ত কোরআনের এই আয়াত-

অতঃপর সে (মরিয়ম) সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে হাজির হল, ওরা বলল- হে মরিয়ম! তুমি তো এক অদ্ভূত কান্ড করে বসেছ। হে হারুণ ভগ্নি! তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিল না, তোমার মাতাও ব্যভিচারিনী ছিল না।’(১৯:২৭)


শুনে তাকে প্রশ্ন করল- ‘তোমাদের এই কোরআনে মরিয়মকে হারুণ ভগ্নি কেন বলা হয়েছে?’ [অথচ তারা এমন আয়াতের সাথে পরিচিত ছিল- There was in the days of Herod, the king of Judaea, a certain priest named Zacharias, of the course of Abia: and his wife was of the daughters of Aaron, and her name was Elisabeth.-Luke, 1:5] মুগীরা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়ে মদিনায় ফিরে এলেন। 

অতঃপর নবীজীকে এ বিষয়ে অবহিত করলে তিনি যা বললেন তার সারকথা হল- নবী রসূলদের সঙ্গে সম্পর্কিত করে সম্বোধন করা তখনকার সময় অনেকে বরকতময় বলে মনে করত একারণে পিতামাতারা তাদের সন্তানের নাম তাদের নামে রাখত। এভাবে নবী হারুণের ও মূসার ভগ্নি- পূণ্যবতী নারী মরিয়মের নামেই নাম রাখেন হান্না তার কন্যা সন্তানের- মরিয়ম সংক্ষেপে মেরী। আর মেরী বা মরিয়ম বলে সম্বোধন না করে ঈসার মাতা মরিয়মকে ঐ পূণ্যবতীর সাথে তুলনা করে তাকে অধিকতর লজ্জায় ফেলার চেষ্টা করেছে তার সম্প্রদায়। একই নাম অথচ কতই না বৈসাদৃশ্য- একজন পবিত্রা, অন্যজন বেশ্যা- একজন পূণ্যবতীর পবিত্র নামের কতই না অবমাননা।

নাজরান ছিল আরব দেশীয় খ্রীষ্টানদের কেন্দ্রভূমি।
যাহোক, নবীজীর ফরমান পেয়ে খৃষ্টান নেতৃবর্গ পরস্পর পরামর্শ করে শেরাহবিল, আব্দুল্লাহ ইবনে শেরাহবিল ও জিবার ইবনে ফয়েজকে মদিনায় প্রেরণ করলেন। 

তারা এসে নবীজীর সাথে ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন। তারা বললেন, ‘হে মুহম্মদ! আপনি কি চান যে, আমরা আপনার তেমন উপাসনা করি যেমন আমরা ঈসাকে উপাসনা করি?’
তিনি বললেন, ‘এটা কিরূপে সম্ভব যে, আমরা আল্লাহকে ছেড়ে অপরের এবাদত করি বা অপরকে এর প্রতি আহবান জানাই!’

এ সময় এই আয়াত নাযিল হল- কোন মানুষকে আল্লাহ কিতাব, হেকমত ও নবুয়্যত দান করার পর সে বলবে যে, তোমরা আল্লাহকে পরিহার করে আমার বান্দা হয়ে যাও’-এটা সম্ভব নয়। বরং তারা বলবে, ‘তোমরা আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও, যেমন তোমরা কিতাব শিখাতে এবং যেমন তোমরা নিজেরাও যে পড়তে।’(৩:৭৯)

এই আয়াত নাযিল হবার পরও প্রতিনিধিরা এক পর্যায়ে ঈসাকে উপাস্য প্রতিপন্ন করার জন্যে প্রবল বাদানুবাদের আশ্রয় নিলেন। তখন এই আয়াতসমূহ নাযিল হল, যাতে মুবাহালার আয়াতটিও রয়েছে -

নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত হচ্ছে আদমের মত। তাকে মাটি দিয়ে তৈরী করেছিলেন, তারপর তাকে বলেছিলেন ‘হয়ে যাও’ সঙ্গে সঙ্গে হয়ে গেল। যা তোমার পালনকর্তা বলেন, তাই হচ্ছে যথার্থ সত্য। কাজেই তোমরা সংশয়বাদী হইও না। অতঃপর তোমার কাছে সত্য সংবাদ এসে যাবার পর, যদি এ কাহিনী সম্পর্কে কেউ তোমার সাথে বিবাদ করে, তাহলে বল, 


এস, আমরা ডেকে নেই আমাদের পুত্রদের এবং তোমাদের পুত্রদের এবং আমাদের স্ত্রীদের ও তোমাদের স্ত্রীদের এবং আমাদের নিজেদের ও তোমাদের নিজেদের আর তারপর চল আমরা সবাই মিলে প্রার্থণা করি এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাৎ করি যারা মিথ্যেবাদী।


নিঃসন্দেহে এটাই হল সত্য ভাষণ। আর এক আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আর আল্লাহ; তিনিই হলেন পরাক্রমশালী, মহাপ্রাজ্ঞ।(৩:৫৯-৬২)

এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর মুহম্মদ প্রতিনিধিদলকে মুবাহালার আহবান জানালেন এবং নিজেও ফাতিমা, আলী, এবং ঈমাম হাসান ও হোসাইনকে সঙ্গে নিয়ে মুবাহালার জন্যে প্রস্তুত হয়ে এলেন। এই আত্মবিশ্বাস দেখে শেরাহবীল ভীত হয়ে সঙ্গীদ্বয়কে বললেন, ‘যদি তিনি সত্যই আল্লাহর রসূল হন, তাহলে আল্লাহর রসূলের সাথে মুবাহালা করলে আমাদের ধ্বংস অনিবার্য। সুতরাং মুক্তির অন্য কোন পথ অনুসন্ধান কর।’
তারা বললেন, ‘আপনার মতে মুক্তির উপায় কি?’
তিনি বললেন, ‘শর্তানুযায়ী সন্ধি করাই উত্তম।’
অতঃপর তারা নবীজী কর্তৃক ধার্যকৃত জিজিয়া কর দিতে সম্মত হয়ে মিমাংসায় উপনীত হলেন।   

জিজিয়া হচ্ছে, প্রজাতন্ত্রের মধ্যে স্বাধীন ও নিরাপদে বসবাসের বিনিময়ে অমুসলিম কর্তৃক প্রজাতন্ত্রকে প্রদেয় কর, তবে আরবের মুশরিকরা এর অন্তর্ভূক্ত ছিল না, তাদের থেকে কখনও জিজিয়া গৃহীত হয়নি। আর নাজরান গোত্রের সাথে ধার্য্যকৃত এ জিজিয়া কর ছিল-বার্ষিক দু‘হাজার জোড়া বস্ত্র। একটা লুঙ্গি ও একটা চাদরে এই জোড়া নির্ধারিত হয়েছিল এবং এর মূল্য নিরুপিত হয়েছিল এক উকিয়া রৌপ্য (এক উকিয়া সমান ৪০ দিরহাম বা ১১.৫ তোলা রৌপ্য)।

কোরআন জিজিয়ার কোন হার নির্দিষ্ট করে দেয়নি। শাসকের সুবিবেচনার উপর নির্ভরশীল এটা। তবে এ সম্পর্কিত নবীজীর নির্দেশ ছিল- “যে ব্যক্তি কোন অমুসলিম নাগরিকের উপর সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে জুলুম করবে, রোজ হাশরে আমি ঐ অত্যাচারীর বিরুদ্ধে ঐ অমুসলিমের পক্ষ অবলম্বণ করব। আর, আমি যার বিপক্ষে দাঁড়াব, তার পরাজয় সুনিশ্চিত।”

-এই নির্দেশ মেনে খলিফা ওমর তার শাসনামলে যে জিজিয়া ধার্য্য করেছিলেন তা ছিল-উচ্চবিত্তের জন্যে মাসিক চার দিরহাম, মধ্যবিত্তের জন্যে দুই দিরহাম এবং নিম্নবিত্তের জন্যে এক দিরহাম বা ৩.৫ মাশা রৌপ্য। গরীব-দুঃখী, বিকলাঙ্গ, মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ এবং সংসারত্যাগী ধর্মযাজকদেরকে এই কর থেকে অব্যহতি দেয়া হয়।

সমাপ্ত।
ছবি: wikipedia, the-saudi, flickr.

১ মার্চ, ২০১২

Salabah ibn Hatim: দরিদ্র থেকে ধনী এবং অত:পর।


সা‘লাবাহ ইবনে হাতেম (Salabah ibn Hatim) নামক এক ব্যক্তি মুহম্মদের সম্মুখে হাযির হয়ে নিবেদন করল, ‘হে রসূলুল্লাহ! আমি নিতান্ত দরিদ্র। আপনি আমার জন্যে দোয়া করুন যেন আমি সম্পদের মালিক হতে পারি।’
মুহম্মদ তাকে বললেন, ‘তাহলে কি তোমার কাছে আমার নির্দেশিত পথ পছন্দনীয় নয়?’
সে বলল, ‘তা নয়, আর আমি সম্পদের মালিক হলে প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য নিশ্চয় পৌঁছে দেব।’
মুহম্মদ তার জন্যে দোয়া করলেন। আর সে চলে গেল।

দিনে দিনে সা‘লাবার পশুপালে অসাধারণ প্রবৃদ্ধি শুরু হল। আর মদিনাতে এগুলির সংরক্ষণে অসুবিধা হওয়ায় সে বাইরে চলে গেল। তবে যোহর ও আসরের নামাজ মদিনাতে এসে মুহম্মদের সাথে আদায় করত। একসময় তার পশুপালে আরও প্রবৃদ্ধি ঘটল। তখন সে আরও দূরে গেল। এ সময় সে জুম্মার নামাজের জন্যে মদিনাতে আসত। যখন তার পশুপালের আরও বৃদ্ধি হল, তখন সে মদিনা থেকে বহুদূরে চলে গেল। ফলে তারপক্ষে আর নামাজের জন্যে মদিনাতে আসা সম্ভব ছিল না।

তার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করে মুহম্মদ একদিন তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে লোকেরা বলল, ‘তার পশুপাল বেড়ে যাওয়ায় সে মদিনা থেকে দূরে কোথাও বসবাস করছে- তাই এখন আর তাকে দেখা যায় না।’
ঘটনাক্রমে সেই সময়ে সদকার বিধি-বিধান সম্বলিত আয়াত নাযিল হল। 

আল্লাহর নামে সম্পদের যে অংশ ব্যয় করা হয় তাই সদকা। এর অধীনে রয়েছে যাকাত (ফরজ) এবং অন্যান্য দান (নফল)। মক্কাতেই যাকাতের আয়াত নাযিল হয়েছিল এবং মুসলমানরা তখন তাদের চাহিদার অতিরিক্ত থেকে যাকাত আদায় করত। এখন মুহম্মদ সদকার বিধিবিধান বর্ণনা করলেন যে, যার কাছে বাৎসরিক খরচ মেটানোর পর নেসাব পরিমান (সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বাহান্ন তোলা রৌপ্যর মূল্যমান) সম্পদ থাকে এবং যে ঋণগ্রস্থ নয়, সে তার সম্পদের যাকাত আদায় করবে।

এই বিধান শুনে উদ্ধত ইহুদিরা বলতে আরম্ভ করল, ‘আল্লাহ ফকীর ও গরীব হয়ে গেছেন, আর আমরা হচ্ছি ধনী ও আমীর। সেজন্যেই তো তিনি আমাদের কাছে চাইছেন।’

বলাবাহুল্য, তাদের বিশ্বাস তাদের এই উক্তির সঙ্গে মোটেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কিন্তু মুহম্মদকে মিথ্যে প্রতিপন্ন ও উপহাসের পাত্রে পরিণত করার উদ্দেশ্যেই তারা বলেছিল যে, আয়াতটি সঠিক হলে তার মর্ম দাঁড়ায় এই যে, আল্লাহ ফকির ও পরমুখাপেক্ষী।

তাদের একথার জবাব কোরআন দিয়েছে এভাবে- নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন, যারা বলেছে যে, আল্লাহ হচ্ছেন অভাবগ্রস্থ আর আমরা বিত্তবান! এখন আমি তাদের কথা এবং যেসব নবীকে তারা অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে তা লিখে রাখব, অতঃপর বলব, ‘আস্বাদন কর জলন্ত আগুনের আযাব।’ এ হল তারই প্রতিফল যা তোমরা ইতিপূর্বে নিজের হাতে পাঠিয়েছ! বস্তুতঃ আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যাচার করেন না।(৩:১৮১-১৮২)

নবী হত্যার ঘটনা (হযরত ইয়াহিয়া ও জাকারিয়া) ঈসার আমলের। কিন্তু এই আয়াতে এ সময়ের ইহুদিদের উপর ঐ হত্যার অপরাধ আরোপ করা হয়েছে। কারণ, এরা তাদের পিতৃপুরুষদের ঐ কাজের প্রতি সম্মত এবং আনন্দিত ছিল বলে হত্যাকারীদের মধ্যে পরিগণিত হয়েছে।

মুহম্মদ শীঘ্রই পালিত পশুর সদকার যথাযতঃ আইন প্রনয়ণ করে দু‘জন লোককে উসূলকারী বানিয়ে মুসলমানদের পালিত পশুর সদকা আদায় করার জন্যে পাঠালেন এবং তাদেরকে বলে দিলেন তারা যেন অবশ্যই সা‘লাবার কাছে যায়।

উসূলকারীরা যখন সা‘লাবার কাছে গেল এবং মুহম্মদের ফরমান শোনাল, তখন সে বলল, ‘আপনারা এখন যান। ফেরার পথে এখান হয়ে যাবেন।’

তারা চলে গেল এবং সুলাইম গোত্রের এক লোকের কাছে পৌঁছিল ও ফরমান শুনাল। তখন সে নিজে তার পালিত পশুপালের মধ্যে যেগুলি সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সেগুলি নিয়ে এসে কর্মকর্তার কাছে হাযির করল। কর্মকর্তারা পশুগুলি দেখে বলল, ‘আমাদের প্রতি নির্দেশ রয়েছে, পশুর মধ্যে যেগুলি উৎকৃষ্ট সেগুলি যেন না নেই। তাই এগুলি আমরা নিতে পারিনে।’
লোকটি বলল, ‘আমি নিজের খুশীতে এগুলি দিতে চাই দয়া করে তা কবুল করে নিন।’
তখন কর্মকর্তারা সেগুলি নিল। তারপর তারা অন্যান্য মুসলমানদের কাছ থেকেও নির্দেশ মত আদায় শেষে একসময় সা‘লাবার কাছে ফিরে এল। 

সা‘লাবা উসূলকারীদের কাছ থেকে সদকার আইন সম্বলিত পত্রখানা হাতে নিয়ে বলল, ‘এ তো একরকম জিজিয়া করই হয়ে গেল, যা মুসলমানদের কাছ থেকে নেয়া উচিৎ নয়। যাহোক, এখন আপনারা যান আমি পরে চিন্তা-ভাবনা করে একটা সিদ্ধান্ত নেব।’ 
ফলে কর্মকর্তারা মদিনায় ফিরে এল এবং মুহম্মদকে তার উত্তর জানাল। সবশুনে তিনি বললেন, ‘সা‘লাবার জন্যে আফসোস।’

এরপর কোরআনের এই আয়াত নাযিল হল-তাদের মধ্যে কেউ কেউ রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে ওয়াদা করেছিল যে, তিনি যদি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ দান করেন, তবে অবশ্যই আমরা ব্যয় করব এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে থাকব। অতঃপর যখন তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহের মাধ্যমে দান করা হয়, তখন তাতে কার্পণ্য করেছে এবং কৃত ওয়াদা থেকে ফিরে গেছে তা ভেঙ্গে দিয়ে তারপর এরই পরিণতিতে তাদের অন্তরে কপটতা স্থান করে নিয়েছে সেদিন পর্যন্ত যেদিন তারা তাঁর সাথে মিলবে। তা এজন্যে যে, তারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা লঙ্ঘন করেছিল এবং এজন্যে যে তারা মিথ্যে কথা বলত।(৯:৭৫-৭৭)

এই আয়াত নাযিল হবার পর সা‘লাবার আত্মীয়-স্বজনদের একজন সঙ্গে সঙ্গে রওনা হয়ে সা‘লাবার কাছে পৌঁছিল এবং তাকে ভৎর্সনা করে বলল, ‘তোমার সম্পর্কে কোরআনে আয়াত নাযিল হয়েছে।’

একথা শুনে সে ঘাবড়ে গিয়ে তখুনি সদকার পশুপাল নিয়ে মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা দিল এবং মুহম্মদ সমীপে হাযির হয়ে নিবেদন করল, ‘আমি কখনও এরূপ বলিনি। আমার সদকা কবুল করে নিন।’
মুহম্মদ বললেন, ‘আমি তোমাকে হুকুম করেছিলাম, কিন্তু তুমি তা মান্য করনি। তাই তোমার সদকা কবুল হতে পারে না।’
সা‘লাবা অকৃতকার্য হয়ে ফিরে গেল। 

মুহম্মদের মৃত্যুর পর সা‘লাবা ১ম খলিফা আবু বকরের কাছে হাযির হয়ে সদকা কবুল করার আবেদন জানিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘যা রসূলুল্লাহ গ্রহণ করেননি, তা আমি কেমন করে গ্রহণ করব?’

আবু বকরের মৃত্যুর পর সা‘লাবা ২য় খলিফা ওমরের কাছে হাযির হয়ে সদকা কবুলের আবেদন জানিয়েছিল। তিনি আবু বকরের মতই উত্তর দিয়েছিলেন। সা‘লাবা তা সত্ত্বেও হাল ছাড়েনি। ওমরের মৃত্যুর পর ৩য় খলিফা ওসমানের কাছেও গিয়েছিল, কিন্তু তিনিও তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। 
ওসমানের খেলাফত কালেই সা‘লাবা মৃত্যুবরণ করেছিল।

সমাপ্ত।

Moses: কোরাণিক ক্যানভাসে নবী মূসা।

Abu Hena Mostafa Kamal  01 May, 2017 মি সরের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ফেরাউন। হঠাৎ করে তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। কিন্তু তিনি কোন উত্তরাধিকারী ন...