Solomon was also one of those who were styled "baḥurim" (="chosen"), "yedidim" (="friends"), and "ahubim" (="beloved ones"); -(Ab. R. N., ed. Schechter, p. 121).
Solomon is said to have understood the languages of the beasts and the birds and to have had no need of relying on witnesses in delivering a judgment, inasmuch as by simply looking at the contending parties he knew which was right and which was wrong. এ সম্পর্কে এমন একটা কাহিনী আছে-
"When Solomon was about to build the Temple he applied to Pharaoh, King of Egypt, for builders and architects. Pharaoh ordered his astrologers to choose all the men who would die in the current year; and these he sent to Solomon. The latter, however, by simply looking at them, knew what their fate was to be; consequently he provided them with coffins and shrouds and sent them back to Egypt. Moreover, he gave them a letter for Pharaoh informing him that if he was in want of articles required for the dead, it was not necessary for him to send men, but that he might apply direct for the materials he needed" -(Pesiḳ. R. l.c.; Pesiḳ. iv. 34a; Num. R. xix. 3; Eccl. R. vii. 23).
শলোমনের প্রজ্ঞা ও সুবিচার সম্পর্কে আলোকপাত করার পূর্বে আমরা দাউদ সম্পর্কে কিছু তথ্য উপস্থাপন করব। এটা অনুধাবণের জন্যে যে- দাউদের দরবারে শলোমন বিচার করার ক্ষমতা ও এক্তিয়ার কেন ও কিভাবে পেলেন।
বাদশা দাউদ নিজে একটা ভীষণ অপরাধ করে ফেলেছিলেন, তিনি তার সৈনিক উরিয়র স্ত্রীকে নিজের করে পেতে তাকে যুদ্ধের সম্মুখ সাঁরিতে স্থাপন করেছিলেন, যেখানে মৃত্যু অবধারিত। আর উরিয়র মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে বিবাহ করেছিলেন। তার এই অপরাধ ন্যায় বিচারক আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। তাই তাকে শিক্ষা দিতে জিব্রাইল ও মিকাইল মানুষের বেশে তার নিকট বিচার প্রার্থী হয়েছিল। যাইহোক, নিজের অপরাধের ব্যাপকতা অনুধাবন করে তিনি পরবর্তীতে আর নিজে বিচার কাজ চালাতে সাহস করেননি। এ বিষয়ে Book of Chamis জানায়-
Mindful of what had taken place with the two angels, David ventured not again to execute judgment. He had already nominated a kadhi, who was to adjust in his stead all disputes that might arise, when the angel Gabriel brought him an iron tube with a bell, and said, "Allah has beheld thy diffidence with pleasure, and therefore sends thee this tube and bell, by means of which it will be easy for thee to maintain the law in Israel, and never to pronounce an unjust sentence. Suspend this tube in thy hall of judgment, and hang the bell in the midst thereof: place the accuser on one side of it, and the accused on the other, and always pronounce judgment in favor of him who, on touching the tube, elicits a sound from the bell."
David was greatly delighted at this gift, by means of which he who was in the right was sure to triumph, so that soon no one dared to commit any injustice, since he was certain to be detected by the bell.
One day, however, there came two men before the judgment seat, one of whom maintained that he had given a pearl into the keeping of the other, who now refused to restore it. The defendant, on the other hand, swore that he had already given it back. As usual, David compelled them both, one after the other, to touch the tube; but the bell uttered no sound, so that he did not know which of the two spake truth, and was inclined to doubt the farther virtue of the bell.
But when he had repeatedly directed both to touch the tube, he observed that as often as the accused was to pass the ordeal, he gave his staff to be holden by his antagonist. David now took the staff in his own hand, and sent the accused once more to touch the tube, when instantly the bell began to ring aloud. David then caused the staff to be inspected, and behold, it was hollow, and the pearl in question was concealed within it.
But on account of his thus doubting the value of the tube which Allah had given him, it was again removed to heaven, so that David frequently erred in his decisions, until Solomon, whom his wife Saja, the daughter of Josu, had borne him, aided him with his counsel.
In him David placed implicit confidence, and was guided by him in the most difficult questions, for he had heard in the night of his birth the angel Gabriel exclaim, "Satan's dominion is drawing to its close, for this night a child is born, to whom Iblis and all his hosts, together with all his descendants, shall be subject. The earth, air, and water, with all the creatures that live therein, shall be his servants: he shall be gifted with nine tenths of all the wisdom and knowledge which Allah has granted unto mankind, and understand not only all the languages of men, but those also of beasts and of birds.-(Book of Chamis, by Husein ibn Muhammed.)
যাহোক, আমরা এখন শলোমনের প্রজ্ঞা ও সুবিচারের কয়েকটি নমুনা দেখব। এগুলির কোনটিই তার দরবারে নয় বরং বাদশা দাউদের দরবারে ঘটেছিল।
এক: One day—Solomon was then scarcely thirteen years of age—there appeared two men before the tribunal, the novelty of whose case cited the astonishment of all present, and even greatly confounded David. The accuser had bought some property of the other, and in clearing out a cellar, had found a treasure. He now demanded that the accused should give up the treasure, since he had bought the property without it; while the other maintained that the accuser possessed no right to the treasure, since he had known nothing of it, and had sold the property with all that it contained. After long meditation, David adjudged that the treasure should be divided between them.
আর এই বিচারে শলোমন মতামত দিয়েছিলেন এমন-Solomon inquired of the accuser whether he had a son, and when he replied that he had a son, he inquired of the other if he had a daughter, and he also answering in the affirmative, Solomon said, "If you will adjust your strife so as not to do injustice one to the other, unite your children in marriage, and give them this treasure as their dowry."-(Book of Chamis, by Husein ibn Muhammed.)
দুইঃ একদা দু‘ব্যক্তি বাদশা দাউদের দরবারে হাযির হল ন্যায়বিচারের আশায়। বাদী বিবাদীকে দেখিয়ে বলল, ‘হে মহারাজ! রাতের অন্ধকারে তার ছাগলপাল আমার শস্যক্ষেতে প্রবেশ করে তার ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে।’
দাউদ ছাগলের মালিকের কাছ থেকে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হলেন। অতঃপর তিনি ভাবলেন রাত্রে ছাগল বেঁধে রাখা ও তার হেফাজত করা ছাগলের মালিকের কর্তব্য। আর সে তার কর্তব্য পালন করলে অপরের শস্য ক্ষেতের ক্ষতিসাধন হত না। সুতরাং ক্ষতিগ্রস্থ শস্যের মালিককে ক্ষতিপূরণ দেয়া ছাগলের মালিকের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। তিনি ক্ষতিগ্র্রস্থ শস্যের মূল্য হিসেব করে দেখলেন যে, তার মূল্য ছাগলের মূল্যের সমপরিমান। তাই তিনি ফয়সালা দিলেন -‘ছাগলের মালিক শস্যের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার ছাগলপাল জমির মালিককে প্রদান করবে।’
আল্লাহ দাউদের এই বিচার দেখলেন, তিনি ইতিমধ্যে শলোমনকে বিচারের মিমাংসা জানিয়ে দিয়েছিলেন। আর তিনি সেইসময় দরবারেই ছিলেন। সুতরাং বাদী বিবাদী উভয়ে যখন দাউদের ফয়সালা মেনে নিয়ে ফিরে যাচ্ছিল, তখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং দরবারে আরজ করলেন, ‘হে মহানুভব বাদশা! আমার মতে আপনার এই রায়ে ক্ষেতের মালিক ন্যায়বিচার পেলেও ছাগলের মালিক যথাযত ভাবে তা পায়নি।’
সঙ্গে সঙ্গে কোর্ট ইশারায় বাদী এবং বিবাদীকে পুন:রায় আসন গ্রহণ করতে বলল। এতে তারা ভীষণ অবাক হল। পিনপতন নিরবতা ভঙ্গ করে দরবার ঘোষণা করল, ‘আপীল গ্রহণ করা হল।’
অত:পর শুনানিতে শলোমন বললেন, ‘ছাগলপাল মালিক জমি আবাদ করবে। আর ছাগলপাল থাকবে জমির মালিকের কাছে। অত:পর শস্যক্ষেত বিনষ্ট হওয়ার পূর্ব অবস্থায় ফিরে না আসা পর্য্যন্ত জমির মালিক ছাগলপালের দুধপান করবে এবং সেগুলি যে বাচ্চা জন্ম দেবে তারও মালিক হবে। আর শস্যক্ষেত বিনষ্ট হওয়ার পূর্বাবস্থায় ফিরে এলে সে ছাগলপাল ফেরৎ দেবে।’
শলোমনের বক্তব্য শোনার পর দরবারে গুঞ্জন শুরু হল। কেননা সকলের কাছে দুই ফয়সালার মধ্যে সুষ্পষ্ট ব্যবধান পরিস্ফূটিত হয়েছিল। দাউদ নিজেও কম বিষ্মিত হননি। তিনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন তাকে এমন একজন জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান সন্তান দান করার জন্যে। যাহোক তিনি দরবারকে শান্ত হতে বললেন। তারপর তার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন, বললেন, ‘এটা সকলের কাছে পরিস্কার যে, এই ফয়সালা আমার দেয়া ফয়সালা থেকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য। সুতরাং এই রায়ই কার্যকর হবে বলে আমি আদেশ দিচ্ছি।’
এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- দাউদ ও শলোমনের কথা, যখন তারা বিচার করছিল শস্যক্ষেত সম্পর্কে; ওতে রাতের বেলায় ঢুকে পড়েছিল সেই সম্প্রদায়ের কোন ব্যক্তির ছাগল, আমি দেখছিলাম তাদের বিচার এবং আমি শলোমনকে এ বিষয়ের মীমাংসা জানিয়ে দিয়েছিলাম এবং তাদের প্রত্যেককে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দিয়েছিলাম।(২১:৭৮-৭৯).
তিন: একদিন এক বৃদ্ধা বাদশা দাউদের দরবারে এক অভিযোগ দায়ের করল। তার অভিযোগ ছিল বাতাসের বিরুদ্ধে। সে বলল- ‘হে আমার প্রভু! আমি কিছু আটা নিয়ে গৃহে ফিরছিলাম। হঠাৎ বাতাস আমার সব আটা উড়িয়ে নিয়ে গেল। আমি হত দরিদ্র, সুতরাং বাতাসের কাছ থেকে আমার আটাগুলো উদ্ধার করে দিন।’
দাউদ বৃদ্ধার অভিযোগ শুনে বললেন, ‘বাতাসের উপর আমার তো কোন কর্তৃত্ব নেই। সুতরাং তোমার আটা আমি কি করে তার কাছ থেকে উদ্ধার করে দেব? তবে যেহেতু তুমি অভাবগ্রস্থ মহিলা, তাই বাতাস তোমার যে পরিমাণ আটা উড়িয়ে নিয়েছে আমি তোমাকে তার কয়েকগুণ বেশী দিচ্ছি। তুমি সেই আটাগুলো নিয়ে যাও।’
বৃদ্ধা আনন্দের সাথেই সম্মত হল। দাউদ তাকে পূর্ণ এক বস্তা আটা দিয়ে বিদায় করলেন।
বৃদ্ধা আটা নিয়ে গৃহে চলেছে- পথে শলোমনের সাথে তার দেখা। শলোমন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি বাদশার দরবারে কি অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলে?’
সে বলল, ‘আমি বাতাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম, কিন্তু তিনি সেই অভিযোগের বিচার না করে আমাকে এক বস্তা আটা দিয়ে বিদায় করে দিলেন।’
শলোমন বৃদ্ধার কাছ থেকে পুরো ঘটনাটা শুনে তাকে পরামর্শ দিলেন, ‘তুমি দরবারে পুনঃরায় ফিরে গিয়ে বল যে, আমি আটা চাই না- বিচার চাই।’
বৃদ্ধা পুনঃরায় দরবারে হাজির হয়ে বিচার প্রার্থী হল। দাউদ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে তোমাকে এই পরামর্শ দিয়েছে?’
বৃদ্ধা তো আর শলোমনকে চিনত না। তাই সে কোন উত্তর না দিয়ে ভয়ে ভয়ে দরবারের চারিদিকে তাকিয়ে তাকে খুঁজতে লাগল।
এসময় শলোমন দরবারে প্রবেশ করে বললেন, ‘আমি।’
দাউদ- ‘কেন তুমি তাকে এই পরামর্শ দিয়ে ফেরৎ পাঠালে?’
শলোমন- ‘আমার ভয় হল শেষ বিচারের দিনে এই বৃদ্ধা যখন আল্লাহর দরবারে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে হাজির হবে, তখন আপনি দুনিয়াতে তার অভিযোগের বিচার না করার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবেন।’
দাউদ- ‘কিন্তু আমি কিভাবে বাতাসের কাছ থেকে তার আটাগুলো উদ্ধার করে দিতে পারি?’
শলোমন- ‘আপনি তো শুধু রাজ্যের অধিপতিই নন, আল্লাহর নবীও। সুতরাং আল্লাহর অনুমতিক্রমে আপনার নির্দেশে নিশ্চয়ই বাতাস হাজির হতে বাধ্য হবে।’
তৎক্ষণাৎ দাউদ সিজদায় পড়লেন এবং আল্লাহর কসম দিয়ে বাতাসকে হাজির হতে নির্দেশ দিলেন। তৎক্ষণাৎ বাতাস দরবারে তার উপস্থিতি ঘোষণা করল। দাউদ বাতাসকে বললেন, ‘এই বৃদ্ধার অভিযোগ সম্পর্কে তোমার কি বলবার আছে?’
বাতাস বলল, ‘একটা নৌকায় কয়েকজন সওদাগর বাণিজ্যিক পণ্য নিয়ে বন্দরের দিকে আসছিল। হঠাৎ নৌকার গাত্রে একটি ফাঁটলের সৃষ্টি হয়ে সেটি ডোবার উপক্রম হল। এতে যাত্রীরা ভীত হয়ে আল্লাহর দরবারে জীবন ভিক্ষা চেয়ে কান্নাকাটি করতে লাগল। তারা বলল, ‘আল্লাহ যদি আমাদেরকে এ যাত্রায় প্রাণ ভিক্ষা দেন, তবে আমরা আমাদের সমুদয় মাল তাঁর রাস্তায় ব্যয় করে দেব।’
তখন আমি আল্লাহর নির্দেশে এই বৃদ্ধার আটাগুলো উড়িয়ে নিয়ে নৌকার ফাঁটলে লাগিয়ে তা বন্ধ করে দিয়ে তাদেরকে ঠেলে বন্দরের দিকে নিয়ে যাই। এতে যাত্রীদের প্রাণ রক্ষা পায়।এখন ঐ সওদাগররা আপনার দরবারের পথেই রয়েছে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা এখানে পৌঁছিবে।’
মহান আল্লাহর লীলা! তাই তো যবুরে আছে-
যারা জাহাজে চড়ে সমুদ্র যাত্রা করে,
মহাজলরাশির মধ্যে ব্যবসার তরে,
তারা কার্য্যসকল দেখে খোদার,
গভীর সমুদ্রে তারা লক্ষ্য করে আশ্চর্য্য ব্যাপার স্যাপার।
খোদার আদেশে প্রবল বায়ূ উত্থিত হয়, তা পানির উপর তরঙ্গমালা ওঠায়।
তারা উর্দ্ধে উঠে, তারা জলধিতলে নামে; বিপাকে পড়ে তাদের প্রাণ উড়ে যায়।
তারা মর্ত্ত্যরে ন্যায় হেলে দুলে ঢলে পড়ে,
তাদের বুদ্ধিসকল লোপ পায়।
সঙ্কটে তারা খোদার কাছে ক্রন্দন করে, আর তিনি তাদের বিপদমুক্ত করেন।
তিনি ঝটিকা প্রশমিত করেন; তাতে জলরাশির তরঙ্গসকল নিস্তব্ধ হয়।
তখন তারা আনন্দ করে, কেননা শান্তি হল,
আর তিনি তাদেরকে তাদের অভীষ্ট পোতাশ্রয়ে নিয়ে যান।(১০৭:২৩-৩০)
অল্পক্ষণের মধ্যেই দরবারে কয়েকজন লোক প্রবেশ করল এবং সম্ভাষণ শেষে দাউদকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘হে রাজ্যাধিপতি! সুষ্ঠ ও সঠিকভাবে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার জন্যে আমরা আমাদের পণ্যসমূহ আপনার হস্তে সোপর্দ করছি। দয়াকরে সেগুলি গ্রহণ করুন।’
দাউদ বললেন, ‘ব্যাপার কি?’
তারা বলল, ‘আমরা সমুদ্রে ডুবে যাচ্ছিলাম। তখন আমরা প্রাণের বিনিময়ে আল্লাহর রাস্তায় আমাদের সমুদয় মালামাল ব্যয় করার মানত করেছিলাম। পরিপূর্ণ সদ্ব্যাবহারের জন্যে সেগুলি এখানে আপনার কাছে নিয়ে এসেছি।’
দাউদ তাদের কাছ থেকে মালগুলো গ্রহণ করে তার সবই বৃদ্ধাকে দিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি তাকে বললেন, ‘বল তো, তুমি এমন কি সৎকর্ম করেছ যার জন্যে তোমার উপর আল্লাহর এতবড় অনুগ্রহ বর্ষিত হল?’
সে বলল, ‘হে আল্লার নবী! আমি তো এমন কিছু সৎকাজ করিনি। তবে আমার গৃহে কোন ভিক্ষুক এলে আমি কখনও তাকে খালি হাতে ফিরাই না-কিছু না কিছু অবশ্যই দিয়ে তাকে খুশী করে দেই। এজন্যে কখনও কখনও আমাকে না খেয়ে থাকতে হয়।
সেদিন এক ভিক্ষুক এসে তার ক্ষুধার্ত থাকার কথা জানাল। গৃহে তখন নিজের খাবার জন্যে দু‘খানি রুটি ছিল। আমি তাকে তাই এনে দিলাম। রুটি দু‘খানি খেয়ে সে বলল, ‘ক্ষুধা তো নিবৃত্ত হল না- আরও দু‘একখানা রুটি দেন।’
ঘরে তো আর রুটি ছিল না, এমনকি আটাও ছিল না যে তাকে রুটি তৈরী করে দেব। কিন্তু কিছু গম ছিল। অগত্যা ভিক্ষুককে বললাম, ‘বাবা, একটু অপেক্ষা কর- আমি তোমাকে রুটি তৈরী করে দিচ্ছি।’
তখন ভিক্ষুক অপেক্ষা করল। আর আমি এসময় দ্রুত গিয়ে গম পিষে আটা তৈরী করে নিয়ে গৃহে প্রত্যাবর্তণ করছিলাম, তখনই হঠাৎ এক দমকা বাতাস ঘটনাটা ঘটাল।’
চার: একবার দু‘রমনী একটি শিশু সন্তানের মাতৃত্বের দাবীতে দাউদের দরবারে বিচারপ্রার্থী হল। তাদের ঘটনা ছিল এরূপ-রমনী দু‘জন একসাথে সফর করছিল। তাদের উভয়ের সাথে একটি করে দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিল। পরিশ্রান্তের কারণে তারা উভয়ে একস্থানে এক বৃক্ষের নীচে বিশ্রামের জন্যে থামল এবং নিজ নিজ শিশুকে দুধপান করাতে করাতে ঘুমিয়ে পড়ল।
ঘটনাচক্রে এক মায়ের শিশুটিকে বন্যপশুতে নিয়ে গেল। ঐ রমনী জাগ্রত হয়ে যখন দেখল তার শিশুটি নেই, তখন সে অপর রমনীর শিশুটিকে নিজের কাছে এনে রাখল। উক্ত শিশুটির মাতা জাগ্রত হয়ে দেখল তার শিশুটি অপর রমনীর পাশে ঘুমাচ্ছে। সে শিশুটিকে নিতে গেলে অপর রমনী বাঁধা দিল। সে বলল, ‘এটা আমার সন্তান।’
১ম রমনী - ‘না, এটি আমার।’
কাছেই একস্থানে সামান্য রক্তের দাগ ছিল, তা দেখিয়ে ২য় রমনী বলল, ‘নিশ্চয় তোমার সন্তানকে কোন বন্য পশু খেয়ে ফেলেছে।’
১ম রমনী - ‘না, এটিই আমার সন্তান আর মৃতটি তোমার।’
২য় রমনী- ‘না, না, এটি আমার, মৃতটি তোমার।’
উভয়ের মধ্যে ঝগড়া শুরু হল।
 |
| শিশু সন্তানের মাতৃত্বের দাবীর বিচার। |
তুমুল ঝগড়া শেষে উভয় রমনী ফয়সালার জন্যে দাউদের দরবারে হাযির হল। শলোমন তখন দরবারে উপস্থিত ছিলেন। সবশুনে দাউদ ফয়সালা দিলেন-‘যার কাছে সন্তান রয়েছে সেই সন্তানের হকদার। কারণ, সন্তান তার অধিকারে রয়েছে। অধিকন্তু অপর রমনী তার দাবীর স্বপক্ষে কোন প্রমান পেশ করতে পারছে না।’
ফয়সালা শুনে নারীদ্বয় যখন চলে যাচ্ছিল, তখন তাদের একজন অনুচ্চস্বরে বলল, ‘একমাত্র আল্লাহই ন্যায়বিচারক। আমি তাঁর দরবারে বিচার প্রার্থণা করলাম।’
শলোমন তার এ কথা শুনে তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালেন এবং ইশারায় তাদেরকে দরবারে থাকতে বললেন। তারপর তিনি বাদশা দাউদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘হে মহামান্য বাদশা! এই ফয়সালা ২য় মহিলার জন্যে সুবিচার হয়নি। কেননা ১ম মহিলা তার অধিকারে সন্তানটি থাকা ছাড়া সন্তানটি যে তার সে ব্যাপারে কোন নিশ্চিত প্রমান দিতে পারছে না। তাই আমার মনে হয়, সন্তানটিকে দু‘টুকরো করে উভয়কে প্রদান করা উচিৎ।’
দাউদ শলোমনের প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের প্রতি সম্পূর্ণরূপে আস্থাশীল ছিলেন। তিনি মুচকি হেসে তার এই ফয়সালা গ্রহণ করলেন এবং জল্লাদকে নির্দেশ দিলেন, ‘বাচ্চাটিকে দু‘টুকরো করে তাদের উভয়কে প্রদান কর।’
এই ফয়সালা শুনে ১ম রমনী ২য় রমনীকে লক্ষ্য করে বলল, ‘ও তোমারও না হোক আর আমারও না হোক।’
আর ২য় রমনী হাঁউ-মাঁউ করে ক্রন্দনরত অবস্থায় দরবারে আবেদন জানাল, ‘হে রাজ্যাধিপতি! আমি সন্তান চাইনে।’ ইঙ্গিতে ১ম রমনীকে দেখিয়ে সে বলল, ‘শিশুটিকে ওকেই দিয়ে দিন তাতে অন্ততঃ আমার সন্তানটি বেঁচে থাকবে।’
রমনীদ্বয়ের প্রতিক্রিয়া শলোমন মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করছিলেন। এখন তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বাদশাকে সম্বোধন করে সিদ্ধান্ত দিলেন, ‘সন্তানটি অবশ্যই দ্বিতীয় জনের, কারণ কোন মা তার সন্তানের মৃত্যু কামনা করে না।’
বাদশা দাউদ এই রায় গ্রহণ করলেন।
পাঁচ: এক যুবতী রমনী অত্যাচারিত হয়ে জালিমদের বিরুদ্ধে এক কাজীর দরবারে অভিযোগ দায়ের করল। উক্ত রমনী ছিল পাগলকরা সৌন্দর্য্যরে অধিকারিনী। আর কাজী তার সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে তখনি তার সাথে নিজের বিবাহের প্রস্তাব দিল। কিন্তু ঐ প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়ে যুবতী বলল, ‘এখন আমার বিবাহ করার মানসিকতা নেই।’
এতে স্বাভাবিক ভাবেই কাজী কিছুটা মনোক্ষুন্ন হল। আর মহিলা বুঝতে পারল যে, তার মাধ্যমে এখন ন্যায্য বিচার আশা করা নিরর্থক। তাই সে অন্য কাজীর দরবারে বিচারপ্রার্থী হল। কিন্তু তার ভাগ্য খারাপ। এই কাজীও তার রূপ লাবণ্যে মোহিত হয়ে তখনি তার কাছে এক ব্যক্তির মারফত বিবাহের প্রস্তাব দিল। সে ঐ ব্যক্তিকে আরও বলে দিয়েছিল- ‘যদি সে একান্তই বিবাহে রাজী না হয় তবে, অন্ততঃ যেন অনুগ্রহ করে আমার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে।’
উক্ত মহিলার কাছে যখন এই প্রস্তাব পৌঁছিল, তখন সে বিরক্ত হয়ে ৩য় এক কাজীর দরবারে অভিযোগ পেশ করল। এই কাজীও পূর্ববর্তীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করল। তাতে মহিলা ৪র্থ কাজীর স্মরণাপন্ন হল। বেচারীর ভাগ্য সত্যিই খারাপ। এখানেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সে বিচারের আশা সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে গৃহে ফিরে গেল।
এদিকে কাজী চতুষ্টয় কিন্তু বসে নেই। তারা মহিলার গতিবিধি পর্যালোচনা শেষে একে অপরের সাথে মিলিত হল। তারপর তারা মহিলাকে দেমাগী সাব্যস্ত করে নিজেদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মানসে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল।
একদিন চার কাজী নিজেদের মধ্যে পরামর্শ শেষে সম্মিলিতভাবে বাদশা দাউদের দরবারে এই অভিযোগ দায়ের করল যে, এই মহিলা ধর্মীয় বিধানানুসারে কোন পুরুষের সাথে বিবাহে সম্মত নয়, অথচ সে রাত্রে কুকুরের সাথে শয্যাগমন করে।’
অভিযোগ শুনে বাদশা দাউদ চমকে উঠলেন এবং নাসিকা কুঞ্চিত করে বললেন, ‘তোমরা এই অপকর্মের স্বাক্ষী হাজির কর।’