আবু সুফিয়ান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আবু সুফিয়ান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৬ মার্চ, ২০১২

Muhammad: প্রতিবেশী রাজন্যবর্গকে ইসলাম গ্রহণের আমন্ত্রণ।



মুহম্মদ (Muhammad), তার প্রচারিত ইসলাম সর্বমানবের কাছে পৌঁছিবে-যে উদার বাসনা দ্বারা তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তার অনুসরণে তিনি প্রতিবেশী রাজন্যবর্গ ও তাদের প্রজাকূলকে সত্যধর্ম ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিয়ে কতিপয় দূত প্রেরণ করেছিলেন। এদের মধ্যে গ্রীকসম্রাট হেরাক্লিয়াস ও পারস্য সম্রাট খসরু পারভেজও ছিলেন।
মক্কার একজন দেশত্যাগী সমতার ভিত্তিতে তাকে মহান খসরু বলে অভিহিত না করার স্পর্ধার জন্যে খসরু বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার পত্রের ঔদ্ধত্যের জন্যে ক্রোধান্বিত হন, পত্র ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেন এবং ঘৃণার সঙ্গে দূতকে তাড়িয়ে দেন। যখন এই আচরণের খবর মুহম্মদকে জানান হল, তিনি শান্তভাবে মন্তব্য করেছিলেন-এরূপে খসরুর সাম্রাজ্যও ভেঙ্গেচুরে টুকরো টুকরো হয়ে পড়বে। 

হেরাক্লিয়াস ছিলেন অধিকতর নম্র ও শ্রদ্ধাবনত। তিনি দূতকে প্রভূত সম্মান প্রদর্শণ করেন এবং পত্রের একটি সদয় ও সযত্ন উত্তর প্রদান করলেন। মুহম্মদ কর্তৃক দূত দেহইয়া ইবনে খলফের মাধ্যমে হেরাক্লিয়াসের কাছে প্রেরিত পত্রটি ছিল এরূপঃ
 
বিসমিল্লাহির রাহমানুর রহিম -
আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল মুহম্মদের পক্ষ হতে রোমের প্রধান পুরুষ হেরাক্লিয়াস সমীপে-

‘সত্যের অনুসরণকারীদের প্রতি সালাম। অতঃপর আমি আপনাকে ইসলামের দিকে আহবান করছি। ইসলাম কবুল করুন, আপনার কল্যাণ হবে। ইসলাম গ্রহণ করলে আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কৃত করবেন। অন্যথায় প্রজা সাধারণের পাপের জন্যে আপনি দায়ী হবেন।’

‘বল, ‘হে গ্রন্থধারীরা! এস, আমরা ও তোমরা এক যোগে সেই সাধারণ সত্যকে অবলম্বন করি; আমরা কেউই আল্লাহ ব্যতিত অন্য কাউকে পূজা করব না এবং আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার করব না বা নিজেদের মধ্যে হতে কাউকেও আল্লাহর আসনে বসাব না।’ কিন্তু যদি তারা এ কথা না মানে তবে বলে দাও যে, আমরা মুসলমান; তোমরা এ কথার স্বাক্ষী থেক।’(৩:৬৪)

(মোহর): মুহম্মদ-রসূল-আল্লাহ

সিরিয়া ত্যাগের পূর্বে হেরাক্লিয়াস পত্র প্রেরক ব্যক্তির সম্পর্কে জানার জন্যে সচেষ্ট হলেন। এই উদ্দেশ্য তিনি আরব থেকে আগত গাজাতে উপস্থিত কাফেলার কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ডেকে পাঠালেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আবু সুফিয়ান, যিনি তখনও ছিলেন ইসলামের চরমতম দুশমন।

হেরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ানকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘কেমন পরিবার থেকে তার আগমন?
আবু সুফিয়ান-একটা সম্ভ্রান্ত পারিবার থেকে।
হেরাক্লিয়াস-কারা তাকে অনুসরণ করছে?
আবু সুফিয়ান-সমাজের অবহেলিত এবং দরিদ্রগণ।
হেরাক্লিয়াস-কেউ কি তার ধর্ম গ্রহণ করার পর তা পরিত্যাগ করেছে?
আবু সুফিয়ান-না।

হেরাক্লিয়াস-নব্যুয়তের দাবী করার পূর্বে তোমরা কি কখনও তাকে মিথ্যা বলতে শুনেছ?
আবু সুফিয়ান-না।
হেরাক্লিয়াস-সে কি কখনও তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেছে?
আবু সুফিয়ান-না।
হেরাক্লিয়াস-কি মতবাদ মুহম্মদ উপস্থাপিত করছে?’
তার উত্তর ছিল, ‘তিনি গবীর-দুঃখীকে সাহায্য করতে, সত্য ও শূচিতার অনুশীলন করতে, ব্যভিচার, পাপ ও মানুষকে ঘৃণা করা থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।’ 
আর তার শিষ্য সংখ্যা বাড়ছে কিংবা কমছে জিজ্ঞেস করা হলে উত্তর এল, ‘তার শিষ্য সংখ্যা বেড়েই চলেছে এবং তার একজন শিষ্যও তাকে পরিত্যাগ করেনি।’
তৃতীয় পত্র প্রেরিত হয়েছিল, আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাশীর কাছে। এই ন্যায়পরায়ণ হাবসী সম্রাট মুসলমানদের বিপদের সময় নিজ রাজ্যে আশ্রয় দিয়েছিলেন। এমনকি এই পত্র প্রেরণের সময়ও একদল মুসলমান সেখানে অবস্থান করছিলেন। নাজ্জাসী এই পত্রের প্রতি যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শণ করেন। তিনি মুহম্মদ সম্পর্কে ভীষণ কৌতুহল বোধও করলেন। তাই তিনি তার পরিষদবর্গের মধ্যে থেকে সত্তুরজনের একটি প্রতিনিধিদল (দলে ৬২ জন আবিসিনিয় ও ৮জন সিরিয় ইঞ্জিলে পন্ডিত ছিলেন) মদিনায় প্রেরণ করলেন-মুহম্মদকে এবং তার প্রচারিত ধর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানার উদ্দেশ্যে।

প্রতিনিধিদল যখন মদিনায় উপস্থিত হলেন, তখন মুহম্মদ খায়বর যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ব্যাপৃত ছিলেন। অতঃপর সংসারত্যাগী, নিরাহংকারী, দরবেশসুলভ পোষাক পরিহিত এইসব লোক যখন মুহম্মদ সমীপে উপনীত হলেন তখন তিনি তাদেরকে সূরা ইয়াসিন পাঠ করে শোনালেন। এই পাঠ শুনে তাদের চক্ষু দিয়ে অবিরাম অশ্রু ঝরতে লাগল। তারা আবেগজড়িত কন্ঠে বললেন, ‘এই কালাম ঈসার প্রতি অবতীর্ণ কালামের সাথে কতই না সামঞ্জস্যপূর্ণ! হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা মুসলমান হয়ে গেলাম। অতএব আমাদেরকেও মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নিন। আমাদের কি ওজর থাকতে পারে যে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং যে সত্য আমাদের কাছে এসেছে, তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব না এবং এ আশা করব না যে, আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে সৎলোকদের সাথে প্রবিষ্ট করাবেন?’
এদের সম্পর্কে কোরআনের এই আয়াতসমূহ নাযিল হয়েছিল- তুমি সবার চাইতে মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্বে অধিক নিকটবর্তী তাদেরকে পাবে, যারা নিজেদেরকে খ্রীষ্টান বলে। এর কারণ এই যে, খ্রীষ্টানদের মধ্যে আলেম রয়েছে, দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহংকার করে না। আর তারা রসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা যখন শুনে, তখন তুমি তাদের চোখ অশ্রসজল দেখতে পাবে, এ কারণে যে, তারা সত্যকে চিনে নিয়েছে। 

তারা বলে, 'হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা মুসলমান হয়ে গেলাম। অতএব আমাদেরকেও মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নিন। আমাদের কি ওজর থাকতে পারে যে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং যে সত্য আমাদের কাছে এসেছে, তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব না এবং এ আশা করব না যে, আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে সৎলোকদের সাথে প্রবিষ্ট করাবেন?’

অতপর আল্লাহ তাদেরকে এ উক্তির প্রতিদানস্বরূপ এমন উদ্যান দেবেন যার তলদেশে নির্ঝরণিসমূহ প্রবাহিত হবে। তারা তন্মধ্যে চিরকাল অবস্থান করবে। এটাই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান।(৫:৮২-৮৫)

এই প্রতিনিধিদলও খায়বর যুদ্ধে মুসলমানদের পক্ষে অংশগ্রহণ করলেন। যুদ্ধে তাদের অনেকে আহত হয়েছিলেন বটে, কিন্তু তাদের একজনও নিহত হননি। 

যুদ্ধে মুসলমানদের সাথে সহবস্থানের দরুণ আগত প্রতিনিধিরা মুসলমানদের আর্থিক দুর্দশা লক্ষ্য করেছিলেন। যুদ্ধ শেষে তাই তারা মুহম্মদকে বলেছিলেন, ‘আমরা ধনাঢ্য ও সম্পদশালী জাতি। আপনার অনুমতি পেলে আমরা মুসলমানদের জন্যে অর্থসম্পদ সরবরাহ করব।’

তখন এই আয়াত নাযিল হল- কোরআনের পূর্বে আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা এতে বিশ্বাস করে। যখন তাদের কাছে এটা পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে, ‘আমরা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। এটা আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সত্য। আমরা এর পূর্বেও আজ্ঞাবহ ছিলাম। তারা দুইবার পুরস্কৃত হবে তাদের সবরের কারণে। তারা মন্দর জবাবে ভাল করে এবং আমি তাদেরকে যা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।(২৮:৫২-৫৪)


মূতার যুদ্ধ সংঘটনের স্থান।
মিসরের রোমান শাসনকর্তা মুকাউকিসের কাছেও মুহম্মদের আহ্বান পৌঁছেছিল। তিনি বিনয় নম্র ভাষায় এর উত্তর দিয়েছিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ ও বশ্যতার নিদর্শণস্বরূপ তার কাছে মেরী ও শিরী নাম্নী-দু‘জন খ্রীষ্টান কন্যা ও একটি দুষ্প্রাপ্য শ্বেতবর্ণের অশ্ব উপঢৌকন হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।

অতঃপর দামেস্কের নিকটবর্তী বসরায় অবস্থানকারী হেরাক্লিয়াসের জায়গীর ভোগী ঘাসানিয়া যুবরাজের কাছে অপর একজন দূত প্রেরিত হল। দূতের প্রাপ্ত সম্মান দেবার পরিবর্তে ঐ পরিবারেরই একজন তাকে হত্যা করল।


জায়েদ বিন হারিছের সমাধি।
গ্রীক সম্রাটের জায়গীর ভোগী কর্তৃক মুসলিম দূত নিধন এমন একটি প্রকাশ্য অবমাননা যা নীরব বা শাস্তিবিহীন অবস্থায় যেতে পারে না। ঘাসানিয়া যুবরাজ আমরের পুত্র সুহাবিলের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে তিন সহস্র সৈন্যের একটি অভিযান প্রেরিত হল। বাইজান্টাইন সম্রাটের সেনাধ্যক্ষরা অপরাধ স্বীকার করার পরিবর্তে তা গ্রহণ করলেন এবং গোলমালটিকে রাজকীয় পর্যায়ে উন্নীত করলেন। ঐক্যবদ্ধভাবে তারা কায়সারের নেতৃত্বে লক্ষাধিক সৈন্যসহ সিরিয়ায়, বলখ থেকে দূরে নয় এমন একটি গ্রাম যেখানে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল, তার নিকটবর্তী স্থানে মুসলমানদের মোকাবেলার জন্যে প্রস্তুত হলেন।


জাফর ইবনে আবু তালিবের সমাধি।
এই সেনাবাহিনী মোকাবেলায় মুসলমানরা ইতিকর্তব্য সম্বন্ধে পরামর্শে বসলেন। কেননা বিশাল সৈন্য পার্থক্যের কারণে এই যুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গ করা ছাড়া জয়লাভের বিন্দুমাত্র আশা ছিল না। সুতরাং অনেকে মদিনায় সংবাদ পাঠান অথবা ফিরে যাওয়া সমীচীন মনে করলেন। কিন্তু আব্দুল্লাহ-বিন-রওয়াহা দ্বিমত পোষণ করলেন। তিনি বললেন, ‘আসবার সময় আমরা লাভ লোকসানের খতিয়ান করে আসিনি। আমরা এসেছি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করতে। আমাদের কাম্য জয়লাভ করা অথবা শহীদ হওয়া। সুতরাং ফলাফল যাই হোক না কেন তিন হাজার সৈন্য নিয়েই আমরা এক লক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।’

বাইজান্টাইনদের মুসলিম বাহিনীর মনোভাব ও মনোবল প্রদর্শণের জন্যে সর্বসম্মতিক্রমে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হল।

উভয়পক্ষ পরস্পরের সম্মুখীন হল। এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন জায়েদ বিন হারিস, মুহম্মদের মুক্ত দাস। তিনি নিহত হলেন। অতঃপর সেনাপতি মনোনীত হলেন মুহম্মদের পিতৃব্যপুত্র ও আলীর ভ্রাতা জাফর। খায়বর বিজয়ের দিনে তিনি আবিসিনিয়া থেকে মদিনায় ফিরেছিলেন এবং অতঃপর এই অভিযানে এসেছিলেন। জাফর নিহত হবার পর সকলের মনোনয়নে খালিদ বিন ওয়ালিদ সেনাপতির পদ লাভ করলেন।

খালিদের কুশলী নেতৃত্বের কারণে বাইজান্টাইন ও তাদের মিত্রদের প্রতিহত করা গেল। কিন্তু দু‘দলের মধ্যে সৈন্য পার্থক্য ছিল বিশাল। তাই মুসলিম যোদ্ধারা শেষপর্যন্ত মদিনায় ফিরে এলেন।

সমাপ্ত।
ছবি:  islamiclandmarks, islamicchannels, iwtter.co. 

১৮ মার্চ, ২০১২

Prophecy: মূসার অন্তিম ভাববাণীর পূর্ণতা লাভ।


বনি বকররা বনি খোজাদের আক্রমণ করে বসল। বনি খোজারা মুসলমানদের সঙ্গে তাদের রক্ষণাবেক্ষণে চুক্তিসূত্রে আবদ্ধ ছিল। কুরাইশরা হুদাইবিয়ার সন্ধি ভঙ্গ করে গোপনে বনি বকরদেরকে যোদ্ধা ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করল। তাদের সহযোগিতায় পুষ্ট হয়ে বনি বকররা বনি খোজাদেরকে আক্রমণ করল রাতের বেলায়। এতে অধিকাংশ খোজা নিহত হল এবং অল্পকিছু পলিয়ে গেল। 

কুরাইশরা ভেবেছিল নৈশ অভিযানে বনি বকরদেরকে গোপনে সাহায্য করার এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সূদূরে অবস্থানরত মুহম্মদ বা মুসলমানরা কখনও জানতে পারবেন না। কিন্তু তাদের ভাবনাকে মিথ্যে প্রমাণিত করে পালিয়ে যাওয়া ঐসব বনি খোজারা অতিকষ্টে মদিনায় এসে পৌঁছিল। অতঃপর মুহম্মদের কাছে অভিযোগ করল এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দান করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করল। তারা তাদের অভিযোগে বলেছিল, ‘হে রসূলুল্লাহ! কুরাইশরা আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তারা আপনার সেই সূদৃঢ় প্রতিজ্ঞাপত্রখানা বাতিল করে দিয়েছে। রজনীর অন্ধকারে অতর্কিতভাবে তারা বনি বকরদের সাথে আমাদের ‘অরক্ষিত’ আবাসগুলি আক্রমণ করেছে এবং আমাদেরকে শায়িত ও উপবিষ্ট অবস্থায় নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে।’

কুরাইশ ও বনি বকরের এই পৈচাশিক অত্যাচারের ও মিত্র খোজা বংশের এই মর্মন্তুদ হত্যাযজ্ঞের কথা শ্রবণে মুহম্মদ যার পর নাই মর্মাহত হলেন। এ ঘটনার পর এই আয়াতসমূহ নাযিল হল-‘সম্পর্কচ্ছেদ করা হল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।’(৯:১) 
সুতরাং মুহম্মদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নিলেন এবং গোপনে যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু করলেন।

এদিকে বনি খোজাদের কিছু লোকের পালিয়ে মদিনায় গমনের সংবাদ কুরাইশদের কাছে শীঘ্রই পৌঁছে গেল। তারা বদর, ওহোদ ও আহযাব যুদ্ধে মুসলমানদের গায়েবী সাহায্য লাভের বিষয়টি আঁচ করে এমনিতে হীনবল হয়ে পড়েছিল। তার উপরে চুক্তিভঙ্গের বর্তমান ঘটনায় তাদের কাছে মুসলমানদের যুদ্ধ প্রস্তুতির আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছিল। অতঃপর মুহম্মদ ও মুসলমানদের পূর্ণ নীরবতা তাদের এই আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করল। সুতরাং কুরাইশ দলপতি আবু সুফিয়ান মুহম্মদ ও মুসলমানদের মনোভাব জানতে তাড়াতাড়ি মদিনায় হাজির হলেন। 

মদিনায় এসে আবু সুফিয়ান স্বীয় কন্যা, নবী পত্নী উম্মে হাবিবার হুজরায় উপনীত হলেন। পিতাকে দেখে হাবিবা তাড়াতাড়ি হযরত যে বিছানায় উপবেশন করতেন তা গুটিয়ে রাখলেন। এ দেখে আবু সুফিয়ান বললেন, ‘এই বিছানার মর্যাদা কি তোমার পিতার চাইতেও বেশী।’
তিনি বললেন, ‘এই শয্যায় আল্লাহর রসূল উপবেশন করেন, আর তুমি হলে মুশরিক।’
কন্যার এই উত্তর শুনে তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘মুহম্মদ আমার এই স্নেহের কন্যাটিকে যাদুর জালে আবদ্ধ করে আমার প্রতি এরূপ বীতশ্রদ্ধ করে রেখেছে!’

কন্যার হুজরা থেকে বেরিয়ে আবু সুফিয়ান মদিনায় ইতস্ততঃ এদিক সেদিক ঘুরলেন। কোথাও কোন যুদ্ধ প্রস্তুতি নেই- নিশ্চিত হয়ে তিনি অতঃপর মুহম্মদের দরবারে হাযির হলেন। মুহম্মদ আবু সুফিয়ানের মদিনায় আগমনের উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করলেন, বললেন, ‘কি উদ্দেশ্য নিয়ে আপনার এখানে আগমন?’
তিনি বললেন, ‘হুদাইবিয়ার সন্ধি আমাদের পক্ষ থেকে ভেঙ্গে গিয়েছে। সুতরাং পুনঃরায় সন্ধি স্থাপনের উদ্দেশ্য নিয়ে আমি আগমন করেছি।’

মুহম্মদ তার কথার কোন উত্তর না দিয়ে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এতে তার মনোভাব বুঝতে পেরে শঙ্কিত হয়ে তিনি দরবার থেকে বেরিয়ে গণ্যমান্য কয়েকজন সাহাবীর কাছে আবেদন রাখলেন যেন তারা মুহম্মদের কাছে চুক্তি বলবৎ রাখার সুপারিশ করেন। কিন্তু তারা সবাই কুরাইশদের পূর্ববর্তী ও উপস্থিত ঘটনাবলীর তিক্ত অভিজ্ঞতার দরুন প্রস্তাবটি নাকচ করে দিলেন। ফলে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে মক্কায় ফিরে এলেন আবু সুফিয়ান।

আবু সুফিয়ানের মক্কায় প্রত্যাবর্তণের পর এই সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল যে, সন্ধি নবায়িত হয়নি। ফলে মক্কা ও তার আশে পাশের সর্বত্র যুদ্ধভীতি ছড়িয়ে গেল।

৮ম হিজরীর ১৮ই রমজান। পৌত্তলিকদের বিরুদ্ধে দশ সহস্য সৈন্য সংগ্রহ শেষে মুহম্মদ মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। এরূপে মূসার ভবিষ্যৎ (Prophecy) বাণী পূর্ণ হল, ‘দশ সহস্র ন্যায়নিষ্ট সহচরসহ তিনি এলেন। 

মক্কার উপকন্ঠে ‘মার উজ-জহরান’ নামক গিরি উপত্যকায় শিবির স্থাপিত হল। অতঃপর মুহম্মদ দূত মারফত কুরাইশদের কাছে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব পাঠালেন। 

- হয় তোমরা বনি খোজা গোত্রকে উপযুক্ত রক্তপণ দিয়ে এই অন্যায়ের প্রতিকার কর। অথবা,
- বনি বকর গোত্রের সাথে সকল সম্বন্ধ ছিন্ন কর। অথবা,
- হুদাইবিয়ার সন্ধি বাতিল হয়েছে বলে ঘোষণা কর।

কুরাইশরা জানত না যে, মুসলমানরা প্রস্তুত হয়ে মক্কার উপকন্ঠে উপস্থিত হয়েছেন। সুতরাং তারা উৎসাহের সাথে দূতকে জানিয়ে দিল, ‘আমরা তৃতীয় শর্তটিই মেনে নিলাম।’

মুসলিম শিবিরে রাতের খাবার তৈরীর জন্যে আগুন জ্বালান হল। নিকটবর্তীতে এই আগুন দেখে কুরাইশরা অবাক হল। সুতরাং তারা আবু সুফিয়ানকে প্রকৃত তথ্য জানতে প্রেরণ করল।

‘মুসলিম মুজাহিদরা এত কাছে এসে পড়েছে!’-আবু সুফিয়ান বিষ্ময়ের আর শেষ রইল না। তিনি মুসলিম বাহিনীর তাঁবুর চারিদিকে ঘুরেফিরে দেখতে লাগলেন। এসময় অগ্নিশিখার উজ্জ্বল আলোকে প্রহরীরা তাকে চিনে ফেলল। তারা সঙ্গোপণে তার পিছু নিল এবং অতঃপর বন্দী করে মুহম্মদের কাছে নিয়ে এল। মুহম্মদ আবু সুফিয়ানকে নিঃশর্ত ক্ষমা করে মুক্তি দিলেন। ক্ষমার এই মহত্ত্বে মুগ্ধ হয়ে তিনি তখনি ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং অতঃপর মক্কায় ফিরে এলেন।

সুবেহ সাদেকের শুভপ্রভা পূর্ব গগণে প্রতিভাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মরুর উপত্যাকার শিখর দেশ হতে বেলালের কন্ঠের সুমধুর আজানধ্বনি চারিদিকে মুখরিত হল। অতঃপর সকলে জামাতে সমবেত হয়ে ফজরের নামাজ সমাপন করলেন। নামাজ অন্তে বিভিন্ন গোত্রের বীররা স্বতন্ত্রদলে বিভক্ত হয়ে মক্কার দিকে যাত্রা করতে আরম্ভ করলেন। আবু সুফিয়ান, পিতৃব্য আব্বাসের সাথে উপত্যাকার একটা চূঁড়ায় বসে চকিত ও স্তম্ভিত দৃষ্টিতে তা দেখছিলেন। একসময় সেনাপতি সা‘দ ইবনে ওবায়দা পাশ দিয়ে যাত্রার সময় আবু সুফিয়ানকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘আজ ভীষণ সংঘর্ষের দিন, আজ মক্কার সম্ভ্রম নষ্ট হবে।’
আবু সুফিয়ান দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বসে রইলেন। অবশেষে মোহাজিররা সম্মুখে উপস্থিত হলেন। মুহম্মদ এই দলে ছিলেন। তাকে দেখেই আবু সুফিয়ান চিৎকার করে বললেন, ‘মুহম্মদ, তুমি কি তোমার স্বজনকে হত্যা করার আদেশ দিয়েছ?’
তিনি উত্তর করলেন, ‘না।’
তখন আবু সুফিয়ান সাদের দর্পোক্তির কথা নিবেদন করে ফ্যাল ফ্যাল করে তার মুখপানে চেয়ে রইলেন। মুহম্মদ বজ্রগম্ভীর স্বরে উত্তর দিলেন, ‘সা‘দের কথা সত্য নয়, আজ প্রেম ও করুণার দিন, আজ কা’বার সম্ভ্রম চির প্রতিষ্ঠিত হবার দিন।’

সঙ্গে সঙ্গে অশ্ব সাদী হরকরা ছুটে গিয়ে সা‘দকে হুকুম শুনিয়ে দিলেন যে, এই প্রকার উক্তি করার জন্যে তাকে পদচ্যূত করা হয়েছে। সা‘দ নীরবে নবনিয়োজিত সেনাপতির হস্তে পতাকা অর্পণ করে তার বশ্যতা স্বীকার করে নিলেন। 

মুহম্মদ আবু সুফিয়ানকে বললেন, ‘আপনি মক্কাবাসীদের অভয় দিন, আজ তাদের প্রতি কোনই কঠোরতা হবে না। আমার পক্ষ হতে নগরময় ঘোষণা করে দিন-

-যে ব্যক্তি অস্ত্র ত্যাগ করবে -তাকে অভয় দেয়া হল।
-যে ব্যক্তি কা’বায় প্রবেশ করবে- সে অভয় প্রাপ্ত।
-যারা নিজেদের গৃহদ্বার বন্ধ করে রাখবে তাদের কোন ভয় নেই।
-যারা আবু সূফিয়ানের গৃহে প্রবেশ করবে তারা অভয়প্রাপ্ত।

মুহম্মদ মক্কাবাসীর প্রতি যে, অভয়বাণী প্রেরণ করলেন, সেই সংবাদ মুসলিম বাহিনীর সমস্ত সৈন্যকেও জানিয়ে দেয়া হল।

সৈন্যদের প্রতি যেরূপ আদেশ ছিল সেইরূপ তারা বিভিন্ন পথে মক্কায় প্রবেশ করলেন। আবু জেহেল পুত্র ইকরামা ও উমাইয়ার পুত্র সাফওয়ান গোত্র প্রধান হিসেবে সামান্য প্রতিরোধ করেছিলেন ফলে কিছু সংখ্যক মুসলমান নিহত হয়েছিলেন। তৎক্ষণাৎ সেনাপতি খালিদ ইবনে ওয়ালিদকে কৈফিয়ত দেবার জন্যে হাজির করা হল। খালিদ উপস্থিত হয়ে নিবেদন করলেন, ‘মহাত্মন! আমি আপনার আদেশ প্রতিপালন করার যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু এরা কোন মতেই নিরস্ত হল না। তারা প্রথমে আমাদের আক্রমণ করে এবং দু‘জন মুসলমানকে হত্যা করে ফেলে। তখন অগত্যা আমাকেও অস্ত্র চালনা করতে হয়েছিল। কিন্তু হে রহমাতুল-লিল-আল আমিন! আপনি তদন্ত করে দেখুন, যাতে এই সংঘর্ষে অধিক প্রাণহানি না হয়, সেজন্যে আমি সর্বদাই যৎপরোনাস্তি সংযত ও সঙ্কুচিত হয়ে সৈন্য চালনা করেছি।’

এই দু‘একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া প্রায় বিনা প্রতিরোধেই মুহম্মদ মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন।

সমাপ্ত।

১৩ মার্চ, ২০১২

Ka'b bin Ashraf: ক্বাব বিন আশরাফ ও মুহম্মদের উষ্ণীষ।


বনি নাজির হযরত হারুণের সন্তান-সন্তুতির মধ্যে একটি গোত্র। মদিনা থেকে দু‘মাইল দূরে এদের সুরক্ষিত বসতি। তাদের পিতৃপুরুষরা তাওরাতে পন্ডিত ছিল। তাওরাতে শেষ নবীর পরিচিতি ও মদিনায় হিযরতের কথা উল্লেখ ছিল। এই পরিবার শেষ নবীর সাহচর্যে থাকার আশায় সিরিয়া থেকে মদিনায় আগমন করেছিল। কালক্রমে তাদের ধারণা হয়েছিল শেষ নবী তাদের গোত্র থেকেই আবির্ভূত হবেন। কিন্তু তা না হয়ে শেষ নবী প্রেরিত হলেন বনি ইস্রাইলের পরিবর্তে বনি ইসমাইল গোত্রে। এই প্রতিহিংসা তাদেরকে মুহম্মদের উপর বিশ্বাস স্থাপনে বাঁধা দিল। তারা যদিও মুসলমানদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিল, তবুও তারা গোপনে মুশরিকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব শুরু করে দিল। এছাড়া বদর যুদ্ধের প্রথম দিকে যখন মুসলমানদের বিপর্যয় দেখা দিল এবং কিছু সাহাবী নিহত হলেন, তখন তাদের মুহম্মদের নব্যুয়ত প্রাপ্তি সম্পর্কে যে বিশ্বাস ছিল তা টল টলায়মান হয়ে পড়ল। 

কা’ব বিন আশরাফ এর বাসস্থান।
বদর যুদ্ধের পরপরই বনি নাজির গোত্রের একজন কবি কা’ব বিন আশরাফ (Ka'b bin Ashraf) জন সাধারণ্যে পৌত্তলিকদের এই দুর্গতির গাঁথা গাইতে গাইতে মক্কার দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন। সেখানে কুরাইশদেরকে ব্যর্থতায় ম্রিয়মান দেখতে পেয়ে তিনি তাদের সাহস পুনরুদ্ধার করার জন্যে সর্বোতভাবে চেষ্টা চালালেন। 

কা’ব মক্কায় এসে আবু সুফিয়ানকে যখন সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলেন, তখন তিনি বললেন, ‘তোমরা হলে প্রতারক সম্প্রদায়। তাই তোমার প্রতিশ্রুতি সত্য হলে আমাদের এই দেবমূর্ত্তি দু‘টিকে (জ্বিবত ও তাগুত) সেজদা কর।’
কা‘ব তাই করলেন। এরপর তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন যে তারা মুহম্মদ ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ করবেন। এসময় আবু সুফিয়ান কথা প্রসঙ্গে কা’বকে বললেন, ‘তোমরা হলে শিক্ষিত সমাজ এবং তোমাদের কাছে আসমানী কিতাব রয়েছে। সুতরাং তুমিই বল, ‘প্রকৃতপক্ষে আমরাই ন্যায়ের উপর রয়েছি- নাকি মুহম্মদ?’
কা’ব বললেন, ‘আপনাদের দ্বীন কি?’

আবু সুফিয়ান বললেন, ‘আমরা হজ্জ্বের জন্যে নিজেদের উট জবেহ করি, লোকদেরকে দাওয়াত করে মেহমানদারী করি, নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় রাখি, আল্লাহর গৃহ তাওয়াফ করি ও ওমরাহ আদায় করি। পক্ষান্তরে মুহম্মদ তার পৈত্রিক ধর্ম পরিহার করেছে, নিজের আত্মীয়-স্বজন থেকে পৃথক হয়ে গেছে এবং সর্বোপরি আমাদের সনাতন ধর্মের বিপরীতে নিজে এক নতুন ধর্ম উপস্থাপন করেছে।’
সবশুনে কা’ব বললেন, ‘আপনারাই ন্যায়ের উপর রয়েছেন।’

এ সংক্রান্ত কোরআনের আয়াতসমূহ-তুমি কি তাদেরকে দেখনি যারা কিতাবের কিছু অংশ পেয়েছে, যারা মান্য করে প্রতিমা ও শয়তানকে এবং অবিশ্বাসীদের বলে যে, এরা মুসলমানদের তুলনায় অধিকতর সঠিক পথে রয়েছে। এরা হল সে সমস্ত লোক, যাদের উপর লা‘নত করেছেন আল্লাহ স্বয়ং। বস্তুতঃ আল্লাহ যার উপর লানত করেন তুমি তার কোন সাহায্যকারী পাবে না।(৪:৫২-৫৩)

কা‘ব মুহম্মদ ও তার শিষ্যদের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপাত্মক এবং বদর যুদ্ধে বিপর্যস্ত মক্কাবাসীদের জন্যে শোকগীতিমূলক কবিতার মাধ্যমে কুরাইশদের তীব্র প্রতিশোধের ইচ্ছে জাগিয়ে তুলতে সমর্থ হয়েছিলেন যা ওহোদের প্রান্তরে বিস্ফোরণের মত ফেটে পড়েছিল।

অভীষ্ট সিদ্ধির পর তিনি তার গোত্র বনি নাজিরদের মধ্যে ফিরে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি তার অশ্লীল ব্যঙ্গ-বিদ্রুপাত্মক কবিতার সাহায্যে মুহম্মদ ও মুসলমানদের অনবরত আক্রমণ করতেন। তার এ ধরনের কাজ থেকে মুসলিম মহিলারাও পরিত্রাণ পেত না- তিনি তাদেরকেও অশ্লীল কদর্য ভাষায় চিত্রিত করতেন। তার কার্যাবলী, তিনি যে প্রজাতন্ত্রের একজন সদস্য ছিলেন তার বিরুদ্ধেই প্রকাশ্যে নিয়োজিত হয়েছিল।

সুতরাং কবি কাব ইবনে জুহায়ের মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুতা উদ্দীপিত করার জন্যে তিনি নিষেধাজ্ঞার অধীন ছিলেন। তার ভাই ছিলেন মুসলমান এবং তিনি তাকে পৌত্তলিকতা বর্জন এবং ইসলাম গ্রহণের জন্যে প্রবলভাবে উপদেশ দিয়েছিলেন। কাব তার ভাইয়ের উপদেশ গ্রহণ করে গোপনে মদিনায় গেলেন এবং মসজিদে নব্বী, যেখানে মুহম্মদ সকলকে উপদেশ দিতেন, সেখানে উপস্থিত হলেন। কাব দেখলেন যে, এক ব্যক্তিকে ঘিরে বহু আরববাসী অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে তার উপদেশ শুনছেন। তিনি তৎক্ষণাৎ তাকে চিনতে পারলেন এবং বেষ্টনী ভেদকরে এসে উচ্চেঃস্বরে বলে উঠলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি যদি কাবকে মুসলমান হিসেবে আপনার সম্মুখে উপস্থিত করি, আপনি কি তাকে ক্ষমা করবেন?’ 
মুহম্মদ উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ!’ 
তিনি বললেন, ‘আমিই জুহায়ের পুত্র কাব।’ 

কিছুসংখ্যক মুসলমান তাকে হত্যা করতে চাইলেন। তারা মুহম্মদকে বললেন, ‘হে রসুলুল্লাহ! সে তো ইসলাম ও মুসলমানদের ঘোরতর শত্রু। আপনি অনুমতি দিন এই মুহুর্তে তাকে হত্যা করে ফেলি।’ 
মুহম্মদ বললেন, ‘আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।’ 

ক্ষমা পাওয়ায় আনন্দ আর খুশীতে কাব হযরতের অনুমতি নিয়ে একটি কবিতা (কাসিদা) আবৃত্তি করলেন। আবৃত্তির মাঝে যখন তিনি এই অংশে পৌঁছিলেন- 
‘হযরত হলেন আলোর মশাল 
উজ্জ্বলিছেন ধরাভূমি,
খোদার অসী, কেটে তিনি 
চলেন সদা না-খোদার ঐ বধ্যভূমি।’ -তখন হযরত তাকে নিজের একটি উষ্ণীষ দান করলেন। মুহম্মদের তিরোধানের পর এই উষ্ণীষটি এই পরিবার মুয়াবিয়ার কাছে ৪০,০০০ দিরহামে বিক্রয় করেছিল। অতঃপর এটি উমাইয়া ও আব্বাসীয়া খলিফাদের হাত ঘুরে অটোম্যান খলিফাদের অধিকারে চলে যায়।

সমাপ্ত।
ছবি: islamiclandmaks.

Moses: কোরাণিক ক্যানভাসে নবী মূসা।

Abu Hena Mostafa Kamal  01 May, 2017 মি সরের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ফেরাউন। হঠাৎ করে তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। কিন্তু তিনি কোন উত্তরাধিকারী ন...