হারুত ও মারুত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হারুত ও মারুত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৮ মার্চ, ২০১২

Harut-Marut: নবী ইদ্রিস ও পতিত ফেরেস্তা উপাখ্যান।

আদম পুত্র শীষের বংশধরদের মধ্যে ইদ্রিস জন্মগ্রহন করেছিলেন। ইদ্রিস অর্থ পাঠ শিক্ষাদাতা। তিনি লোকদেরকে সৎপথ প্রদর্শণ করতেন, তাদেরকে খোদায়ী বাণীসমূহ শোনাতেন। তার উপর বেশ কয়েকটি সহিফা অবতীর্ণ হয়েছিল।

ইদ্রিস দিবা ও রাত্রের অধিকাংশ সময় আল্লাহর এবাদতে মশগুল থাকতেন এবং গোটা বৎসরই তিনি রোজা রাখতেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি তার এই অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। কথিত আছে তার প্রতিদিনের ইফতারী জান্নাত থেকে একজন ফেরেস্তা বয়ে নিয়ে আসত। কোন একদিন সন্ধ্যায় তিনি ইফতারী করার অপেক্ষায় রয়েছেন। কিছুক্ষণ আগে ইফতারীর ফলমূল এসে পৌঁছিছে। এসময় এক ব্যক্তি তার সাক্ষাতে এল। লোকেরা ইদ্রিসের নিকট খোদায়ী কালাম, এবাদতের নিয়ম পদ্ধতি জানতে ও শিখতে আসত। তিনি ভাবলেন আগন্তুকের আগমনও নিশ্চয় সেই রকমই কোন উদ্দেশ্যে। কিন্তু আজ তো সেদিন নয়- (কেননা- the prophet divided his time into two. For three days of the week, he would preach to his people and four days he would devote solely to the worship of God. -Lives of the Prophets, Leila Azzam)! তথাপি তিনি আগত অতিথিকে সমাদরের সাথে বসতে দিলেন।

ইফতারির সময় হল। ইদ্রিস অতিথিকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করলেন এবং নিজেও ইফতারী সেরে নিলেন। অতঃপর অভ্যাসমত সেখানেই এবাদতে মশগুল হয়ে পড়লেন। তার আর আগত অতিথির কথা স্মরণে রইল না। প্রত্যুষে তার যখন অতিথির কথা মনে পড়ল, তিনি বড়ই লজ্জিত হলেন এবং তৎক্ষণাৎ তার প্রতি নজর দিলেন। তিনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন অতিথি কোন খাদ্য গ্রহণ করেনি, যেমন সে বসে ছিল, তেমনিই বসে। কিন্তু তার চোখে মুখে অনিদ্রা জনিত কোন ক্লান্তি নেই। এদেখে তার মনে সন্দেহ হল। তিনি তৎক্ষণাৎ তাকে তার পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল- ‘আমি জিব্রাইল। আল্লাহ তোমার প্রশংসায় একদিন বলেছিলেন-সমস্ত আদম সন্তান তাদের নেক আমল দ্বারা দিনে যে পরিমাণ পূণ্য অর্জণ করে, একা ইদ্রিসই তার এবাদতের মাধ্যমে তার চেয়েও বেশী অর্জণ করে।’এতে তোমার এবাদতের ধারা আমার দেখার ইচ্ছে হল। অতঃপর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তোমার সাক্ষাতে চলে এলাম।’ 

কথোপকথনের এক পর্যায়ে ইদ্রিস আসমান ভ্রমনের ইচ্ছে ব্যক্ত করেন জিব্রাইলের নিকট। তখন সে বলল, ‘আল্লাহর অনুমতিক্রমে আমি তোমাকে ৪র্থ আসমান পর্যন্ত নিতে পারি।’

ইদ্রিস খুশী হলেন এবং জিব্রাইল তাকে নিয়ে রওনা দিল। ৪ঠা আসমানে আজরাইলের সঙ্গে ইদ্রিস পরিচিত হলেন। রূহ কবচের কাজটা এবং অনুভূতি কেমন তা জানতে ইদ্রিস আজরাইলকে তার রুহ কবচের অনুরোধ করেন। আজরাইল বলেছিল- ‘প্রতিটি মানুষের জীবনকাল নির্ধারিত এবং তোমার সেই সময় এখনও আসেনি।’

তখন ইদ্রিসের অনুরোধে আজরাইল আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে তার রূহ কবচ করল এবং পুনঃরায় তাকে জীবিত করে দিল। এসময় ইদ্রিস বললেন, ‘হে আজরাইল! এতো বড়ই যন্ত্রণাদায়ক কষ্ট!’
আজরাইল বিনীতভাবে বলেছিল, ‘আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি আপনার কষ্ট লাঘবের জন্যে, নইলে এত সহজে কারও রূহ আমি কবচ করিনে।’

 জিব্রাইল ইদ্রিসকে বেহেস্ত-দোযখ দেখিয়ে দিল।
অত:পর ইদ্রিস জিব্রাইলের নিকট বেহেস্ত ও দোযখ ঘুরে দেখাবার অনুরোধ করলেন।তার বিনীত অনুরোধে জিব্রাইল সম্মত হল। ৪ঠা আসমানের শেষ সীমানাই 'সিদরাতুল মুনতাহা'। সিদরা অর্থ বরই মুনতাহা অর্থ শেষ সীমানা। অর্থাৎ দৃশ্যলোকের এই শেষ সীমানায় রয়েছে সেই বরই কূলগাছ যার পাতাতে ফেরেস্তারা ফড়িং-এর মত জড়িয়ে থাকেন। দুনিয়ার কাজে নিয়োজিত ফেরেস্তারা এই সীমানার বাইরে যেতে পারেন না। এই সীমানার পর থেকেই শুরু হয়েছে অদৃশ্যলোক, যার শুরু জান্নাতুল মাওয়া বেহেস্ত দিয়ে। সুতরাং জিব্রাইল এই সীমানার মধ্যে থেকেই তাকে এই বেহেস্তের কিছুটা দেখিয়ে দিল।তারপর একইভাবে তাকে দোযখেরও কিছুটা দেখিয়ে দিল। অত:পর তারা যখন ঐ আসমানেরই কোন একখানে ছিলেন, জিব্রাইল তাকে ফিরে যাবার তাগাদা দিল। তখন ইদ্রিস বললেন, ‘হে জিব্রাইল! আল্লাহ আমার প্রতি কৃপাদৃষ্টি প্রদর্শণ করেছেন। জন্মলাভ করলে যে মৃত্যুবরণ করতে হয়, সেই মৃত্যুর পেয়ালাও আমাকে পান করিয়েছেন। আমি দোযখের আযাব দেখেছি, আবার বেহেস্তের অপার সুখ-শান্তিও দেখেছি। এখন আমি এ স্থান ছেড়ে কিছুতেই কোথাও যাব না।’
তার এ কথায় জিব্রাইল আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। সে সিজদায় পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল। আল্লাহ বললেন, ‘কিতাবে যা লেখা আছে তা তুমি পরিবর্তন করতে পারবে না। তার ভাগ্যে এ-ই লেখা ছিল। সুতরাং তাকে সেখানেই থাকতে দাও।

অবশ্য ইদ্রিস সম্পর্কে Book of Chamis এর কাহিনী কিছুটা ভিন্ন। সেখানে এ কাহিনী এভাবেই উপস্থাপিত হয়েছে- Idris, or Enoch, was the son of Jarid, the son of Mahlalel, but was called Idris, from darasa (to study), for he was constantly occupied with the study of the holy books, both those which Allah had revealed to Adam, and those which Gabriel brought to him from heaven. He was so virtuous and pious, that Allah anointed him to be his prophet, and sent him as a preacher to the descendants of Cain, who only employed in deeds of sin the gigantic frames and surpassing strength with which Allah had endowed them. 

Enoch exhorted them unceasingly to purity of conduct, and was often compelled to draw his sword in defense of his life. He was the first who fought for Allah, the first who invented the balance to prevent deception in traffic, and the first also to sew garments, and to write with the Kalam. Idris longed ardently for Paradise; still he was not desirous of death, for he was anxious to do good on the earth; and but for his preaching and his sword, the sons of Cain would have flooded the earth with iniquity. Allah sent him the Angel of Death in the form of a beautiful virgin, in order to see whether he would approve himself worthy of the peculiar favor which no man before him had ever received.

"Come with me," said the disguised angel to Idris, "and thou shalt do an acceptable work to Allah. My younger sister has been carried off by an ungodly descendant of Cain, who has confined her in the farthest regions of the West! Gird on thy sword, and help me to deliver her!"

Enoch girded on his sword, and took up his bow and the club, with which he had laid low at a single stroke whole ranks of the enemy, and followed the virgin from morn till eve, through desolate and arid deserts, but he said not a word and looked not upon her. At nightfall she erected a tent, but Idris laid himself down at its entrance to sleep on the stony ground. On her inviting him to share her tent with her, he answered, "If thou hast any thing to eat, give it to me." She pointed to a sheep which was roving through the desert without a keeper, but he said, "I prefer hunger to theft; the sheep belongs to another."

Next day they continued their journey as before, Idris still following the virgin and uttering no complaint, though he was nearly overcome with hunger and thirst. Toward evening they found a bottle of water on the ground. The virgin took it up, and opening it, would have forced Enoch to drink, but he refused, and said, "Some luckless traveler has lost it, and will return to seek for it."

During the night, Idris having once more baffled all the wiles of the virgin, who had again endeavored to draw him into her tent, Allah caused a spring of clear fresh water to gush forth at his feet, and a date-tree to rise up laden with the choicest fruit. Idris invited the virgin to eat and to drink, and concealed himself behind the tree, waiting her return to the tent; but when, after a long interval, she came not, he stepped to the door and said, "Who art thou, singular maiden? These two days thou hast been without nourishment, and art even now unwilling to break thy fast, though Allah himself has miraculously supplied us with meat and drink; and yet thou art fresh and blooming like the dewy rose in spring, and thy form is full and rounded like the moon in her fifteenth night."

"I am the Angel of Death," she replied, "sent by Allah to prove thee. Thou hast conquered; ask now, and he will assuredly fulfill all thy wishes."
"If thou art the Angel of Death, take my soul."
"Death is bitter: wherefore desirest thou to die?"
"I will pray to Allah to animate me once more, that after the terrors of the grave, I may serve him with greater zeal."

"Wilt thou, then, die twice? Thy time has not yet come: but pray thou to Allah, and I shall execute his will."
Enoch prayed:  "Lord, permit the Angel of Death to let me taste death, but recall me soon to life! Art thou not almighty and merciful?"

The Angels of Death was commanded to take the soul of Idris, but at the same moment to restore it to him. On his return to life, Idris requested the angel to show him Hell, that he might be in a position to describe it to sinners with all its terrors. The angel led him to Malik, its keeper, who seized him, and was in the act of flinging him into the abyss, when a voice from heaven exclaimed,

"Malik, beware! Harm not my prophet Idris, but show him the terrors of thy kingdom."
He then placed him on the wall which separates hell from the place appointed as the abode of those who have merited neither hell nor heaven. Thence he saw every variety of scorpions and other venomous reptiles, and vast flames of fire, monstrous caldrons of boiling water, trees with prickly fruits, rivers of blood and putrefaction, red-hot chains, garments of pitch, and so many other objects prepared for the torture of sinners, that he besought Malik to spare him their farther inspection, and to consign him once more to the Angel of Death.

Idris now prayed the latter to show him Paradise also. The angel conducted him to the gate before which Ridwhan kept his watch. But the guardian would not suffer him to enter: then Allah commanded the tree Tuba, which is planted in the midst of the garden, and is known to be, after Sirdrat Almuntaha, the most beautiful and tallest tree of Paradise, to bend its branches over the wall. Idris seized hold of them, and was drawn in unobserved by Ridwhan. The Angel of Death attempted to prevent it, but Allah said, "Wilt thou slay him twice?" Thus it came to pass that Idris was taken alive into Paradise, and was permitted by the most gracious One to remain there in spite of the Angel of Death and of Ridwhan. -(Book of Chamis, by Husein ibn Muhammed.) 

আর ইদ্রিস সংক্রান্ত কোরআনের আয়াতসমূহ- সে (ইদ্রিস) ছিল সত্যবাদী, নবী। আমি তাকে উচ্চে উন্নীত করেছিলাম।এরাই তারা, নবীদের মধ্যে থেকে যাদেরকে আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন।-(১৯:৫৬-৫৮)

ইদ্রিসের স্বর্গারোহণ (এখানে স্বর্গ বলতে আসমান বা  উর্দ্ধাকাশ বোঝানো হয়েছে, ঐ স্বর্গ নয় যেখানে মানুষ বিচার শেষে প্রবেশ করবে। আর বিচারের আগে কেউ সেখানে যেতে পারে না।) সম্পর্কে অনেকে ভিন্নমত পোষণ করেন। কিন্তু আমরা তা করছিনা কারণ- Qur'an says that he was "exalted to a high station", which has generally been understood in Islamic tradition to mean that he ascended into Heaven without dying. Because of this and other parallels, traditionally Idris has been identified with the Biblical Enoch, and therefore Islamic tradition usually places Idris in the early Generations of Adam, and considers him one of the oldest prophets mentioned in the Qur'an, placing him sometime between Adam and Noah.
"on Muhammad's Night Journey, he encountered Idris in the fourth heaven." -(Muslim, 1:309, 1:314)

যাইহোক, মানুষ জ্ঞানের দিক থেকে ফেরেস্তাদের থেকে শ্রেষ্টতর এটা আদম প্রমান করেছিলেন। কিন্তু মানুষ ফেরেস্তাদের মত পুত-পবিত্র নয়, তদুপরি তারা বিচারের অধীন। এই কারনে ৪র্থ আসমানে ইদ্রিস বসবাস করতে শুরু করলে সেখানকার কিছু ফেরেস্তা আল্লাহর নিকট অভিযোগ পেশ করল। তারা বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! যে ব্যক্তির গোনাহের কোন হিসেব তুমি নাওনি এবং যে আমাদের চেয়ে পুত-পবিত্রও নয়, তার সাথে কি করে আমরা বসবাস করতে পারি?’

Lester L Grabbe.
ফেরেস্তাদের এহেন উক্তিতে আল্লাহ বললেন, ‘সাবধান! দুনিয়ার ধান্দাবাজি, ফেরেপ্পাবাজির কিছুই তোমরা জান না। সেখানে তোমরা মানব সন্তান রূপে বসবাস করলে তাদের কারো চেয়ে কম গোনাহের মধ্যে ফেঁসে যেতে না।’

তারা বলল, ‘হে আল্লাহ! আমরা আদমের বংশধরদের মত কেন হব? তাদের চেয়ে তো আমাদের ভাল-মন্দের জ্ঞান অনেক বেশী। আমরা তোমার শাস্তির ভয় অনেক বেশী রাখি। তাই আমাদের জানা মতে আমরা কখনও কোন পাপের পথে পা বাড়াব না।’
তিনি বললেন, ‘বেশ! তোমাদের মধ্যে যারা চাও দুনিয়াতে কিছুদিন বসবাস করে এস।’

ফেরেস্তা হারুত-মারুত (Harut-Marut) দুনিয়াতে এসে মানুষ হয়ে মানুষের সাথে মিশে বসবাস করতে শুরু করল।

পতিত ফেরেস্তাদ্বয় ও জোহরা, Br. Museum, NY.
বাবিল শহরে জোহরা নাম্মী এক পরমা সুন্দরী কন্যা ছিল। আর ফেরেস্তা হারুত ও মারুত তার রূপলাবণ্যে মোহিত হয়ে পড়ল। তারা তাদের সত্ত্বার কথা ভুলে গিয়ে জোহরার প্রেমে মত্ত হয়ে রইল এবং একসময় তার সাথে তারা ব্যভিচারও করে বসল। লেস্টার এল, গ্রাবে (Lester L Grabbe) অবশ্য মানবীর সাথে ফেরেস্তাদ্বয়ের এই যৌন সম্পর্কের কাহিনীকে- "An old myth in Judaism" বলে উল্লেখ করেছেন- (Grabbe ২০০৪, পৃ: ১০১)। 

অবশ্য ইহুদি পুরাণে এমনও বলা হয়েছে-  "When the angels came to earth, and beheld the daughters of men in all their grace and beauty, they could not restrain their passion. One of the angels saw a women and he lost his heart to her. She promised to surrender herself to him, if first he taught her the Ineffable Name, by means of which he raised himself to heaven. He assented to her condition. But once she knew it, she pronounced the Name, and herself ascended to heaven, without fulfilling her promise to the angel. God said, "Because she kept herself aloof from sin, we will place her among the seven stars, that men may never forget her," and she was put in the constellation of the Pleiades." 


আবার ডেড সী স্ক্রলস (Dead Sea Scrolls) -এর মধ্যে পাওয়া বুক অফ জায়ান্ট (Book of Giants)-এ বর্ণিত কাহিনী একটু ভিন্ন। সেখানে বলা হয়েছে পৃথিবীর পরিবেশ তখন ছিল ভিন্ন। মানুষ ছিল দীর্ঘ আয়ূর (যেমন- নূহের আয়ূ বলা হয়েছে- ৯৬৯ বৎসর; কোরআন অবশ্য নূহের বয়স ৯৫০ বৎসর বলে উল্লেখ করেছে- ("সে (নূহ) তাদের মধ্যে পঞ্চাশ কম এক হাজার বৎসর অবস্থান করেছিল।" -২৯:১৪)। আর ফেরেস্তাদের সাথে মানবীর মিলনে দৈত্যরা জন্মলাভ করে। যাদের একেকজন ছিল ৪৫০ ফুট লম্বা, ইত্যাদি। 


অবশ্য অনেকে (কিছু কিছু তফসির) মতে- জোহরা তাকে পেতে তার তার ধর্ম গ্রহণের শর্ত আরোপ করেছিল। ফেরেস্তাদ্বয় উভয়ে তা অস্বীকার করলে সে শর্ত শিথিল করে তার দেবতাকে সিজদা করতে বলে। তারা তাও অস্বীকার করে। অত:পর তারা কোন এক সময়ে মদ পান করে এবং জোহরার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। এসময় কোন এক ব্যক্তি তাদের কার্য্য দেখে ফেললে অপরাধ ফাঁস হয়ে যাবার ভয়ে তারা তাকে হত্যা করে। উল্লেখ্য মদ কখনও হারাম ছিল না। অবশ্য হারূন ও তার সন্তানগণ যারা সাক্ষ্যতাম্বুর দেখাশোনা করবে তাদের জন্যে নিষিদ্ধ ছিল। নবী শলোমনও মদ্যপানের কূ-ফল কর্ণনা করেছেন, আর নবী হবকুকক বলেছেন- "Woe unto him that giveth his neighbour drink, that puttest thy bottle to him, and makest him drunken also..." -Habakkuk 2:15. অন্যদিকে মুহম্মদের শরীয়তে মদের খারাপ দিক গুলোর কথা বিবেচনা করে তা না পান করার জন্যে উপদেশ দেয়া হয়েছে।


উপরের ঘটনাগুলোর যেটাই সত্য হোক না কেন, এটা ঠিক যে ফেরেস্তাদ্বয় মারাত্মক অপরাধই করেছিল-আর তারা সেটি করেছিল সেইসময়, যেসময় তারা মানব ছিল, ফেরেস্তা নয়। যাইহোক, ঐ অপরাধটি করার পর তাদের নেশা কেটে গিয়েছিল এবং তারা তাদের ভুলও বুঝতে পেরেছিল এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল। কিন্তু তাদেরকে ক্ষমা করা হয়নি। পুরো বিষয়টি আরও ভালভাবে ব্যাখ্যা করতে আমরা কোয়ান্টাম ফিজিক্সে ফিরি-


কোয়ান্টাম ফিজিক্স অনুসারে দৃশ্যমান জগতের সকল বস্তু নির্দিষ্ট ফিকোয়েন্সি দিয়ে গঠিত এবং সকল বস্তুর দৃশ্যমান উপস্থিতি কেবলমাত্র ৩৯০-৭০০nm ফিকোয়েন্সি সীমায় অবস্থিত। আগুণের তৈরী জ্বিণ ও নুরের তৈরী ফেরেস্তাগণ এ ফিকোয়েন্সি সীমার বা্রের কোন ফিকোয়েন্সি দিয়ে সৃষ্ট ফলে তারা দৃশ্যমান নয়। তবে তারা উভয় ফিকোয়েন্সি সীমায় যাতায়াত করতে পারে।


ফেরেস্তাগণ দৃশ্যমান জগতে দু’ভাবে নিজেদেরকে উপস্থাপন করতে পারে- এক, রূপ ধারণ করে ও দুই, রূপান্তরিত হয়ে। অন্যদিকে জ্বিণ রূপ ধারণ করতে পারলেও রূপান্তরিত হতে পারে না, ফলে তারা ভর করে অন্য কোন শরীরে। তবে জ্বিণদের 
দৃশ্যমান জগতের প্রতিটি বস্তুর ফ্রিকোয়েন্সি জানা থাকায়, তারা কিন্তু ইচ্ছে করলে ম্যাটার ট্রান্সমিশনের মত করে যে কোন বস্তু স্থানান্তর করতে পারে। সেবার রানী বিলকিসের সেই বিশাল সিংহাসনটা নবী শলোমনের উপদেষ্টা জ্বিণ এভারেই এনে হাজির করেছিল তার সম্মুখে। যেমন-


শলোমন আরও বলল, ‘হে আমার পরিষদবর্গ! তারা আমার কাছে আত্মসমর্পন করতে আসার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমাকে এনে দেবে?’

এক শক্তিশালী জ্বীন বলল, ‘আপনি আপনার স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি তা এনে দেব। এ ব্যাপারে আমি এমনই শক্তি রাখি। আর আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন।’
কিতাবের জ্ঞান যার ছিল সে বলল, ‘আপনি চোখের পলক ফেলার আগেই আমি তা এনে দেব।’ -সূরা নমল, ২৭:৩৮-৪০

আবার যেহেতু জ্বিণজাতি দৃশ্যমান জগতের সকল বস্তুর ফিকোয়েন্সি জানে, তাই তারা বস্তু বা প্রাণীর ফিকোয়েন্সিতে অতি নগণ্য পরিমাণে পরিবর্তণ এনে বা তাকে বেষ্টন করে এক ফিকোয়েন্সি জাল সৃষ্টির মাধ্যমে, তাকে সাময়িক পরিবর্তিত রূপদান, পরিবর্তিত আকারে উপস্থাপন বা তাকে সাময়িক অদৃশ্যমান করে দিতে পারে। জ্বিণ এভাবেই বিলকিসের সিংহাসনে সামান্য পরিবর্তণও এনেছিল। যেমন-


যখন তা সামনে রাখা দেখল, তখন (শলোমন) বলল, ........‘তার সিংহাসনের আকৃতিতে সামান্য পরিবর্তণ আনো; দেখি সে চিনতে পারে- নাকি ভুল করে।’ -(২৭:৩৮-৪১) আর এ সামান্য পরিবর্তনের কারনে বুদ্ধিমতী বিলকিস দাবী করেননি ঐটি তার সিংহাসন, কিন্তু তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সেটি তারই। আর তাই শলোমনের প্রশ্নের প্রদত্ত উত্তরে তার ঐ মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছিল-তার উত্তর হ্যাঁ- না দু’টোই মিন করেছিল। যেমন- (বিলকিস) যখন পৌঁছিল তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, ‘তোমার সিংহাসন কি এ রকম?’

সে বলল, ‘এ তো এ রকমই। ...।’-(২৭: ৪২)

যা হোক, মূল কথায় আসি, যেহেতু পতিত ফেরেস্তা হারুত-মারুত অপরাধ করার সময় নিজেদেরকে মানবে রূপান্তরিত করেছিল, মানবের রূপ ধারণ করেনি, ফলে তারা অপরাধ করতে পেরেছিল। আর অপরাধের সময় যেহেতু তারা ফেরেস্তা ছিল না, পূর্ণ মানবই ছিল, তা তারা শাস্তির অধীন হয়। অত:পর তাদেরকে দু’টো অপশন দেয়া হয়েছিল- 

-হয় দুনিয়াতে কেয়ামত পর্যন্ত অবস্থান, অথবা, 
-বিচার দিবসে আদম সন্তানদের সাথে বিচারের সম্মুখীণ হওয়া। 

হারুত-মারুত বিচারের সস্মুখীন হওয়ার ভয়ে দুনিয়াতে কেয়ামত পর্যন্ত বসবাসকেই শ্রেয় বিবেচনা করেছিল। কারণ তারা জানত দুনিয়া স্বল্প সময়ের জন্যে, অন্যদিকে পরকালে খোদার শান্তির ধরণ, সীমা ও সময়কাল তাদের জানা নেই।

আর ফেরেস্তাদ্বয় অপরাধের পর ক্ষমা প্রার্থণা করলেও ক্ষমাশীল খোদা তাদেরকে ক্ষমা করেননি, এটা এ কারণে যে, ক্ষমার অধীন কেবল আদম সন্তানগণ যদি তারা ক্ষমা চায়, কিন্তু জ্বিণ বা ফেরেস্তা নয়। 
আর এ সম্পর্কে বাইবেলে এমনটা বলা হয়েছে- "For if God spared not the angels that sinned, but cast them down to hell, and delivered them into chains of darkness, to be reserved unto judgment;"2 Peter 2:4 
"And the angles which kept not their first estate, but left their own habitation, he hath reserved in everlasting chains under darkness unto the judgment of the great day." -Jud 1:6 

এই কাহিনী কবি কাজী নজরুল ইসলাম কব্যিক ছন্দে কিভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তা আমরা দেখি-


কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
"---------------------------শোনো,
একদা অপাপ ফেরেস্তা সব স্বর্গ-সভায় কোনো
এই আলোচনা করিতে আছিল বিধির নিয়মে দুষি,’
দিন রাত নাই এত পূজা করি, এত ক’রে তাঁরে তুষি,
তবু তিনি যেন খুশি নন্‌-তাঁর যত স্নেহ দয়া ঝরে
পাপ-আসক্ত কাদা ও মাটির মানুষ জাতির’পরে!

শুনিলেন সব অন্তর্যামী, হাসিয়া সবারে ক’ন,-
মলিন ধুলার সন্তান ওরা বড় দুর্বল মন,
ফুলে ফুলে সেথা ভুলের বেদনা-নয়নে, অধরে শাপ,
চন্দনে সেথা কামনার জ্বালা, চাঁদে চুম্বন-তাপ!
সেথা কামিনীর নয়নে কাজল, শ্রোণীতে চন্দ্রহার,
চরণে লাক্ষা, ঠোটে তাম্বুল, দেখে ম’রে আছে মার!
প্রহরী সেখানে চোখা চোখ নিয়ে সুন্দর শয়তান,
বুকে বুকে সেথা বাঁকা ফুল-ধনু, চোখে চোখে ফুল-বাণ।

দেবদুত সব বলে, ‘প্রভু, মোরা দেখিব কেমন ধরা,
কেমনে সেখানে ফুল ফোটে যার শিয়রে মৃত্যু-জরা!’
কহিলেন বিভু-‘তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ যে দুইজন
যাক্‌ পৃথিবীতে, দেখুক কি ঘোর ধরণীর প্রলোভন!’

‘হারুত’ ‘মারুত’ ফেরেস্তাগণের গৌরব রবি-শশী
ধরার ধুলার অংশী হইল মানবের গৃহে পশি’।
কায়ায় কায়ায় মায়া বুলে হেথা ছায়ায় ছায়ায় ফাঁদ,
কমল-দীঘিতে সাতশ’ হয়েছে এই আকাশের চাঁদ!
শব্দ গন্ধ বর্ণ হেথায় পেতেছে অরূপ-ফাঁসী,
ঘাটে ঘাটে হেথা ঘট-ভরা হাসি, মাঠে মাঠে কাঁদে বাঁশী!
দুদিনে আতশী ফেরেস্তা প্রাণ- ভিজিল মাটির রসে,
শফরী-চোখের চটুল চাতুরী বুকে দাগ কেটে বসে।

ঘাঘরী ঝলকি’ গাগরী ছলকি’ নাগরী ‘জোহরা’ যায়-
স্বর্গের দূত মজিল সে-রূপে, বিকাইল রাঙা পা’য়!
অধর-আনার-রসে ডুবে গেল দোজখের নার-ভীতি,
মাটির সোরাহী মস্তানা হ’ল আঙ্গুরী খুনে তিতি’!
কোথা ভেসে গেল-সংযম-বাঁধ, বারণের বেড়া টুটে,
প্রাণ ভ’রে পিয়ে মাটির মদিরা ওষ্ঠ-পুষ্প-পুটে।

বেহেস্তে সব ফেরেস্তাদের বিধাতা কহেন হাসি’-
‘হারুত মারুতে কি ক’রেছে দেখ ধরণী সর্বনাশী!’
নয়না এখানে যাদু জানে সখা এক আঁখি-ইশারায়
লক্ষ যুগের মহা-তপস্যা কোথায় উবিয়া যায়।"

নজরুলের এই বর্ণনায় ইদ্রিসের সাথে হারুত-মারুতের ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই এমনটাই মনে হচ্ছে। আর ইহুদি মিদরাসের শিক্ষা অবশ্য এমনই- "Two angels who asked Allah's permission to come down to earth but succumbed to temptation, and were hung up by their feet at Babylon for punishment."

যা হোক, মূসার সময়ে শয়তান জ্বিণদের কল্যাণে জাদুবিদ্যা মানুষের মধ্যে প্রভূত বিস্তার লাভ করে। কিন্তু তার কাছে জাদুকরদের নেতাদ্বয় যান্নি ও জাম্রি পরাজিত ও মুসলমান হবার পর এই বিদ্যার প্রচলন কমে যায়। কিন্তু নবী শলোমনের সময় বাবিলে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। এদিকে মূর্খ লোকেরা জাদুকে আলৌকিক বা মু‘জেযা মনে করে জাদুকরদেরকে সম্মানিত ও মাননীয় এবং অনুসরণযোগ্য মনে করতে থাকে। এমনকি অনেক বিশ্বাসীও পয়গম্বরদের মু‘জেযা ও জাদুর পার্থক্য বুঝতে না পেরে বিভ্রান্তিতে পতিত হয়। 


যারা জাদু অবলম্বণ করে তাদের জন্যে পরকালে কোন অংশ নেই। তাই জাদুর স্বরূপ এবং জাদুকরদের মুখোস উন্মোচনের জন্যে আল্লাহ ইতিপূ্ের্বে ফেরেস্তা হারুত-মারুতকে কিছু যাদুবিদ্যার জ্ঞান দিয়েছিলেন। কেননা, এই ফেরেস্তাদ্বয় তো শাস্তিস্বরূপ মানুষরূপে মানুষের মাঝে বসবাস করছিল। আর তাদের তো কোন নির্দিষ্ট কাজও ছিল না। যা হোক, মূল কথা হল, হারুত-মারুত দুনিয়াতে মানুষকে জাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত শুধুমাত্র মানুষকে সতর্ক করতে যাতে তাদের বিভ্রান্তি দূর হয় এবং যেন তারা জাদুর প্রাকটিস ও জাদুকরদের অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকতে পারে।


ইচ্ছে করলে আল্লাহ এই কাজে পয়গম্বরদেরকে নিয়োজিত করতে পারতেন। কিন্তু তাতে শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ আরও বিভ্রান্তিতে পড়ত। তাই আল্লাহ পয়গম্বরদের ও জাদুকরদের মধ্যে পার্থক্য ফুটিয়ে তুলতে তৃতীয় এবং নিরপেক্ষ পক্ষ ফেরেস্তাদেরকেই এই কাজে নিয়োগ করাকে সমীচীন মনে করেছেন যাতে মানুষের মাঝে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মানুষ হারুত-মারুতের কাছ থেকে শিখে নেয়া জাদু অকল্যাণের কাজে লাগাতে লাগল। অবশ্য হারুত-মারুত -'আমরা তো তোমাদের উপর পরীক্ষা স্বরূপ। তোমরা আমাদেরকে অবিশ্বাস কোরও না’-এ কথা না বলে তারা কোন মানুষকে শিক্ষা দিত না। 


এদু’জনের কাছ থেকে লোকেরা এমন বিষয় শিক্ষা করত যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত, তথাপি আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কারও কোন ক্ষতি করতে পারত না। তাই তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, কোন উপকারে আসত না। যা হোক, এই পতিত ফেরেস্তাদ্বয়ের কারণে সাবা নগরীতে এই বিদ্যার প্রচলন ও ব্যবহার বহূলরূপে বৃদ্ধি পায়।


এদিকে নবী শলোমন সাময়িকভাবে সিংহাসন চ্যূত হন জ্বিণ চখরের কারসাঁজিতে। সে তার শরীরকে বেষ্টন করে এক মায়াজাল (ফিকোয়েন্সি জাল) সৃষ্টি করেছিল, ফলে এমনকি তার স্ত্রী আমিনাও তাকে চিনতে না পেরে অস্খীকার করে। আর ঐ জাদুর প্রভাবে নবী শলোমনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে যান, তিনি কিছুকালের (৪০ দিন) জন্যে রাজ্য হারিয়ে ফেলেন। শয়তান চখর তার রূপ ধারণ করে তার সিংহাসনে আরোহণ করে। যেমন- And certainly We tried Sulaiman, and We placed on his throne a body; then he turned-38:34 


When Sulaiman lost his kingdom & the devil Shakhr 
on his Throne, great numbers from among mankind and the jinn renegaded and followed their lusts. He & his gang write down sorcery such as- whosoever wants to do such and such, he should stand facing the sun and say such and such. And, whosoever wants to do such and such, he should stand giving his back to the sun and say such and such." They gave the title of the book they wrote as "This is what has been written by Asif Ibn Barkhiya by the order of King Sulaiman Ibn Dawud: from the treasures of knowledge." Then, they buried it under Sulaiman's throne.Verily, Sulaiman was not knowledgeable about the Unseen. 


অত:পর যখন 
শলোমন রাজ্য ফিরে পান, তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে সকল জাদুর উৎস ফেরেস্তা হারুত-মারুতকে সনাক্ত করে তাদেরকে বাবিল শহরের একটা কূপে বন্দী করে ফেলেন যেন তাদের কারও দ্বারা জাদুর বংশবিস্তার আর না হতে পারে। কথিত আছে- তারা সেখানেই বন্দী অবস্থায় কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে।


অবশ্য শলোমনের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি অন্যরকম হয়। Satan established himself as an orator and said: "O people! Sulaiman was not a prophet; he was only a sorcerer! Go and seek his sorcery in his dwellings and luggage." And he led them to the buried "treasure". 


অত:পর যখন শলোমনের সিংহাসনে নীচ থেকে জাদুর কিতাবটি বের হল, শয়তান বলল, ‘এটি শলোমনের উপর অবতীর্ণ কিতাব যা তিনি আমাদের নিকট থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। আর ঐ জাদুর কিতাবের সাহায্যেই তিনি রাজ্য পরিচালনা ও পশু-পক্ষী বশীভূত করেছিলেন।’ 

আর যারা সেখানে উপস্থিত ছিল, তাদের অবিশ্বাসীরা বলল, "By Allah! Sulaiman was a sorcerer who subjected us through his magic." আর বিশ্বাসীরা তাদেরকে উপেক্ষা করে বলল, "Nay, he was a faithful Prophet." 

আর এমন বিশ্বাসই প্রচলিত ছিল ইহুদিদের মাঝে। আর-রবি ইবনে আনাস বলেন, “the Jews used to ask Prophet Muhammad about matters from the Torah, and every time they ask him, Allah reveals to him that with which he defeats and overcomes them. Thereupon, they said: Muhammad knows what has been revealed to us better than we do! Then, they asked him about sorcery and said Solomon, the son of David was a sorcerer & ruled with sorcery.”- with that. Allah revealed His Statement.


জাদু করা কূফর। আর তাই কোরআন শলোমনের জাদু দ্বারা রাজ্য শাসনের কথা অস্বীকার করে এবং হারুত-মারুত ও তাদের জাদুর স্বরূপের সঠিক তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরে- ‘আর শলোমনের রাজত্বে শয়তানেরা যা আওড়াত তারা (সাবাবাসীরা) তা মেনে চলত। শলোমন কূফর করেনি, বরং শয়তানই কূফর করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিত (সেই) জাদু যা বাবিল শহরের দুই ফেরেস্তা হারুত ও মারুতের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। তাই ‘আমরা তো তোমাদের উপর পরীক্ষা স্বরূপ। তোমরা অবিশ্বাস কোরও না’-এ না বলে তারা কোন মানুষকে শিক্ষা দিত না।  


এ দু’জনের কাছ থেকে তারা এমন বিষয় শিক্ষা করত যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত শুধু, আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কারও কোন ক্ষতি করতে পারত না। তাই তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, কোন উপকারে আসত না। আর তারা ভাল করেই জানত যে, যে-কেউ তা কিনবে পরকালে তার কোন অংশ নেই। আর যদি তারা জানত তারা যার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করছিল তা কত নিকৃষ্ট! -(২:১০১-১০২)
  


আর এভাবে নবী মুহম্মদ শলোমনকে নবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলে, মদিনার ইহুদিরা তা বিশ্বাস করল না, তারা বলল, Amazingly Muhammad claims that Sulaiman Ibn Dawud was a Prophet, by Allah, he was nothing but a sorcerer. 

               
সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia, news.priyo, 2.hull.ac.uk.

১০ মার্চ, ২০১২

Solomon: শলোমনের মৃত্যু এবং অত:পর।


প্রাসাদের নির্মাণ কাজ বাদশা শলোমন (Solomon) নিজেই দেখাশুনো করতেন। আর জ্বীনেরা তার সামনে বসে কাজ করত। তারা বাদশার ইচ্ছে অনুযায়ী প্রাসাদ, ভাস্কর্য, পানির হৌজের মত পাত্র ও চুল্লির জন্যে বড় ডেগ তৈরী করত। এই সকল কাজ করতে প্রচুর তামার দরকার হয়েছিল। শলোমন প্রয়োজনীয় তামা তার বেটহ ও বেরোথা নগর থেকে সংগ্রহ করতেন। সেখানে এত পরিমান তামা মজুদ ছিল, যেন তা এক গলিত তামার ঝর্ণা। এই তামা এসব বস্তু তৈরীর কাজে ব্যাবহৃত হত।  

শলোমন।
আল্লাহ বলেছিলেন, ‘হে দাউদ পরিবার! তোমরা কৃতজ্ঞতার সাথে কাজ করতে থাক।’
দাউদ, শলোমন ও তাদের পরিবারবর্গ মৌখিকভাবে ও কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর এই আদেশ পালন করেছেন। তাদের গৃহে এমন কোন মুহুর্ত যেত যাতে পরিবারের কেউ না কেউ এবাদতে মশগুল না থাকত। পরিবারের লোকদের প্রত্যেকের জন্যে উপাসনার সময় ভাগ করা ছিল। 

লাঠিতে ভর দিয়ে সিংহাসনে বসা অবস্থায় শলোমনের মৃত্যু হয়। প্রাসাদের নির্মাণের কাজে নিয়োজিত জ্বীনেরা তা বুঝতে পারেনি। সেইসময় একটা ঘুণপোকা তার মৃত্যুর কথা জ্বীনদেরকে জানিয়ে দিল। কিন্তু তারা তা বিশ্বাস না করে কাজ করে যেতে থাকল। তখন ঘুণ পোকা শলোমনের ভর দিয়ে থাকা লাঠিটি কূরে খেতে থাকল। অত:পর যখন সে লাঠিটি কেটে ফেলল তখন শলোমনের দেহ ঢলে মাটিতে পড়ে গেল। তখনই জ্বীনেরা তার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হল। 

জ্বীনদের কাছে দুনিয়ার সময় অতি শ্লথ। তাই তারা আফসোস করে বলল, ‘যদি আমরা অদৃশ্য বিষয় জানতাম তাহলে আমরা এতকাল অপমানকর শাস্তিতে বাঁধা থাকতাম না।’

বাইবেল, কোরআন ও তালমুদ পুস্তকে শলোমনের মৃত্যু পূর্ববর্তী এমন ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে -A few months after the death of the Queen of Saba, the Angel of Death appeared unto Solomon with six faces: one to the right, and one to the left; one in front, and one behind; one above his head, and one below it. The king, who had never seen him in this form, was startled, and inquired what this sixfold visage signified. 

"With the face to the right," replied the Angel of Death, "I fetch the souIs from the east; with that to the left, the souls from the west; with that above, the souls of the inhabitants of heaven; with that below, the demons from the depths of the earth; with that behind, the souls of the people of Madjudj and Jadjudj (Gog and Magog); but with that in front, those of the Faithful, to whom also thy soul belongs." -The Bible, the Quran, and the Talmud. page-245


এরপর শলোমন আজ্রাইলের নিকট থেকে কেয়ামত ও পুনরুত্থান দিবস সম্পর্কে অনেক কিছুই অবগত হলেন। অবশেষে বললেন, "Suffer me to live until the completion of my temple, for at my death the genii and demons will cease their labor." 
"Thy hour-glass has run out, and it is not in my power to prolong thy life another second."
"Then follow me to my crystal hall!"
  
The Angel of Death accompanied Solomon unto the hall, whose walls were entirely of crystal. There Solomon prayed; and, leaning upon his staff, requested the angel to take his soul in that position. The angel consented; and his death was thus concealed from the demons a whole year, till the temple was finished. 

It was not until the staff, when destroyed by worms, broke down with him, that his death was observed by the Jinns, who, in order to revenge themselves, concealed all kinds of magical books under his throne, so that many believers thought Solomon had been a sorcerer. But he was a pure and divine prophet, as it is written in the Koran, "Solomon was no infidel, but the demons were unbelievers, and taught all manner of sorceries." 


When the king was lying on the ground, the angels carried him, together with his signet ring, to a cave, where they shall guard him until the day of the resurrection.--
The Bible, the Quran, and the Talmud. page 248; Book of Chamis.

প্রাসাদের নির্মাণ কাজ তদারকিতে শলোমন।
কোরআনে রয়েছে- ‘আমি তার (শলোমনের) জন্যে গলান তামার এক ঝর্ণা বইয়ে ছিলাম। আল্লাহর অনুমতিক্রমে বেশকিছু জ্বীন তার সামনে কাজ করত।..ওরা শলোমনের ইচ্ছে অনুযায়ী প্রাসাদ, ভাস্কর্য, পানির হৌজের মত পাত্র ও চুল্লির জন্যে বড় ডেগ তৈরী করত। (আমি বলেছিলাম), ‘হে দাউদ পরিবার! তোমরা কৃতজ্ঞতার সাথে কাজ করতে থাক।’

যখন আমি শলোমনের মৃত্যু ঘটালাম তখন ঘুণপোকা, যা শলোমনের লাঠি কূরে খাচ্ছিল, জ্বীনদেরকে তার মৃত্যুর কথা জানাল। যখন শলোমন মাটিতে পড়ে গেল তখন জ্বীনেরা বুঝতে পারল যে, যদি ওরা অদৃশ্য বিষয় জানত তাহলে ওরা এতকাল অপমানকর শাস্তিতে বাঁধা থাকত না।’(৩৪:১২-১৪)

শলোমনের সমাধি কমপ্লেক্স, জেরুজালেম।
চল্লিশ বৎসর (৯৬৪-৯২৪ BCE) রাজত্বের পর শলোমন মারা গিয়েছিলেন। এসময় তার বয়স হয়েছিল উনসত্তুর বৎসর। তিনি তার রাজত্বকালে সর্বত্র শান্তি বজায় রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন। ফলে তার সুসংগঠিত সেনাবাহিনী থাকলেও তাকে কোন যুদ্ধ পরিচালনা করতে হয়নি। তিনি আল্লাহর উপাসনার জন্যে বিখ্যাত স্থাপত্য নির্মাণ করলেও তার জীবদ্দশায় কোন নবী বা ধর্মীয় নেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়নি। যে অবদান এই জ্ঞানী ব্যক্তিটি তার জাতি এবং জগতের সামনে স্থাপন করে গেছেন তা মূলতঃ তার সুবিশাল রাজ্য এবং ধন-সম্পদ। 

মূসার সময় যাদুবিদ্যার প্রচলন কমে যায় কেননা তিনি মানুষের সামনে এমন সব নিদর্শণ উপস্থাপন করেছিলেন যা মানুষকে মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতা সম্পর্কে অবগত করেছিল। কিন্তু তার মৃত্যুর পর যাদু বিদ্যার প্রচলন আবার বেড়ে গেল। 

বাবিল শহরে মানুষের বেশে হারুত ও মারুত নামে দু’জন ফেরেস্তা যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত এবং সাথে সাথে মানুষকে যাদুবিদ্যার কূফল সম্পর্কে এই বলে সতর্ক করত, ‘আমরা তো তোমাদের উপর পরীক্ষা স্বরূপ। তোমরা অবিশ্বাস কোরও না’

এই দু’জনের কাছ থেকে মানুষ এমন বিষয় শিক্ষা করত যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত শুধু, আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কারও কোন ক্ষতি করতে পারত না।

শলোমনের সময় শয়তান জ্বীনেরা বাবিলের (সাবার) লোকদেরকে সেই যাদু শিক্ষা দিত যা হারুত ও মারুতের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। সেখানকার লোকেরা এসব জ্বীনদের কথা মেনে চলত। যদিও তাদের কাছে থেকে তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, আর কোন উপকারে আসত না। আর তারা ভাল করেই জানত যে, যে-কেউ তা কিনবে পরকালে তার কোন অংশ নেই।

হারুত-মারুত বাবিলের একটি কূপে বন্দী।
শলোমন তাই হারুত ও মারুতকে বাবিলের একটি কূপে বন্দী করে রেখেছিলেন এবং প্রচলিত এসব যাদুবিদ্যার বইগুলো সংগ্রহ করে তার সিংহাসনের নীচে প্রোথিত রেখেছিলেন। তার মৃত্যুর পর শয়তান জ্বীনেরা তার সিংহাসনের নীচ থেকে সেগুলো তুলে নিয়ে এল। অতঃপর জনসম্মুখে বইগুলো প্রদর্শণপূর্বক প্রচার করল যে, শলোমন এসব যাদুবলে রাজত্ব করতেন। 

এ বিষয়ে কোরআন জানায়- ‘আর শলোমনের রাজত্বে শয়তানেরা যা আওড়াত তারা (সাবাবাসীরা) তা মেনে চলত। শলোমন কূফর করেনি, বরং শয়তানই কূফর করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিত (সেই) যাদু যা বাবিল শহরের দুই ফেরেস্তা হারুত ও মারুতের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। তাই ‘আমরা তো তোমাদের উপর পরীক্ষা স্বরূপ। তোমরা অবিশ্বাস কোরও না’-এ না বলে তারা কোন মানুষকে শিক্ষা দিত না। 

এ দু’জনের কাছ থেকে তারা এমন বিষয় শিক্ষা করত যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত শুধু, আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কারও কোন ক্ষতি করতে পারত না। তাই তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, আর কোন উপকারে আসত না। আর তারা ভাল করেই জানত যে, যে-কেউ তা কিনবে পরকালে তার কোন অংশ নেই। আর যদি তারা জানত তারা যার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করছিল তা কত নিকৃষ্ট! (২:১০২)

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia, dailymail, blog.radical, phoenixmasonry.

Source:

  • Qur'an;
  • The Bible, the Quran, and the Talmud by Dr, G. Well;
  • Book of Chamis, by Husein ibn Muhammed.



৮ মার্চ, ২০১২

Sign of God: মু‘জেযা, যাদু ও যাদুকর এবং হারুত ও মারুত।

প্রথম মানব আদমপুত্র শীষের বংশে নবী ইদ্রিসের আগমন ঘটে। লোকেরা নানারকম উপঢৌকনসহ তার কাছে আসত তার মাধ্যমে খোদার করূণা লাভের আশায়। কিন্তু তিনি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলে (ইদ্রিস জিব্রাইলের সাথে ৪ঠা আসমানে ভ্রমণে গিয়ে ফিরে আসতে অস্বীকার করেন) আগত লোকেরা মূল্যবাণ উপঢৌকনসহ ফিরে যেতে লাগল। ইবলিস ঐসময় ইদ্রিসের সন্তানদেরকে প্ররোচিত করে তার পিতার মূর্ত্তি তৈরী করতে এবং এই কাজে সে দু’টি উপকারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছিল। প্রথমত: ইদ্রিসের সন্তানেরা মূল্যবান উপঢৌকনগুলো পেয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হবে অন্যদিকে আগত লোকেরাও ইদ্রিসের মূর্ত্তির মাধ্যমে খোদার দয়া ও করুণা লাভ করবে। আর এভাবেই শয়তান দুনিয়াতে সর্বপ্রথম মূর্ত্তিপূজার সূচনা ঘটায়। 

আর দুনিয়াতে মূর্ত্তিপূজা শুরুর পর শয়তান জ্বিণেরা অতীন্দ্রিয়বাদ ও জাদুবিদ্যা মানুষের মাঝে প্রচার শুরু করে মূর্ত্তির সেবাদাসী তথা পিথিয়ার মাধ্যমে। লোকেরা পিথিয়ার কাছে এমনসব তথ্য জানতে আসত, যেগুলোর উত্তর কোন মানুষের পক্ষে দেয়া সম্ভব ছিল না। শয়তান জ্বিণেরা উর্দ্ধাকাশে ফেরেস্তাদের আলোচনা শুনে তা নিজেদের মত করে পিথিয়ার মাধ্যমে লোকদেরকে জানাত। নবী মুহম্মদের পিতামহ আব্দুল মুত্তালিবও পিথিয়ার স্মরণাপন্ন হন্ আর ঐ পিথিয়ার বানীর কল্যাণে নবীজীর পিতা আব্দুল্লাহ কোরবাণীর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।

যা হোক, হযরত মূসার সময়ে যাদুবিদ্যা মানুষের মধ্যে প্রভূত বিস্তার লাভ করে। কিন্তু তার কাছে যাদুকররা পরাজিত হবার পর এই বিদ্যার প্রচলন কিছুটা কমে। কিন্তু নবী শলোমনের সময় তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। 

যাদু ও যাদুকর।
যাদুর প্রভাবে সৃষ্ট ঘটনাবলী কারণের আওতা বহির্ভূত নয়। পার্থক্য শুধু এই যে এখানে কারণটি অদৃশ্য থাকে। যাদুকরেরা একপ্রকার মেসমেরিজমের মাধ্যমে দর্শকদের কল্পণা শক্তিকে ক্রিয়াশীল করে দৃষ্টি বিভ্রাট ঘটিয়ে থাকে। 

একটি সোজা লাঠি আংশিক পানিতে নিমজ্জিত করলে তা আমাদের চেখে বাঁকা ঠেকবে এবং সেটিকে পানির বাইরে নিয়ে এলে সোজা দেখা যাবে। আবার আবরণের ব্যতিক্রমে একই তল চোখে অবতল কিম্বা উত্তল বোধ হতে পারে। এগুলো সবই মানুষের দৃষ্টি বিভ্রান্তি। মানুষের এই স্বভাবিক দুর্বলতার উপরই দৃশ্য-শিল্পী, যাদুকর এবং তাদের অনুরূপ লোকেরা নির্ভর করে এবং নিজেদের কৌশল দ্বারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। 

আর মু‘জেযা (Sign of God) আল্লাহর কাজ। এতে প্রাকৃতিক কারণের কোন হাত নেই। ‘কারণ’ না জানতে পেরে মূর্খ লোকেরা যাদুকে আলৌকিক বা মু‘জেযা মনে করে যাদুকরদেরকে সম্মানিত ও মাননীয় এবং অনুসরণযোগ্য মনে করতে থাকে। এমনকি অনেক বিশ্বাসীও পয়গম্বরদের মু‘জেযা ও যাদুর পার্থক্য বুঝতে না পেরে বিভ্রান্তিতে পতিত হয়। 

যারা যাদু অবলম্বণ করে তাদের জন্যে পরকালে কোন অংশ নেই। তাই যাদুর স্বরূপ এবং যাদুকরদের মুখোস উন্মোচনের জন্যে আল্লাহ ফেরেস্তা হারুত ও মারুতকে কিছু যাদুবিদ্যার জ্ঞান দিয়েছিলেন। কেননা, এই হারুত-মারুত ফেরেস্তাদ্বয় শাস্তিস্বরূপ মানুষরূপে মানুষের মাঝে বসবাস করছিল। তাদের কোন নির্দিষ্ট কাজও ছিল না। আর হারুত-মারুত মানুষকে যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত শুধুমাত্র মানুষকে সতর্ক করতে যাতে তাদের বিভ্রান্তি দূর হয় এবং যাদুর প্রাকটিস ও যাদুকরদের অনুসরণ করা থেকে তারা বিরত থাকতে পারে। 

ইচ্ছে করলে আল্লাহ এই কাজে পয়গম্বরদেরকে নিয়োজিত করতে পারতেন। কিন্তু তাতে শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ আরও বিভ্রান্তিতে পড়ত। তাই আল্লাহ পয়গম্বরদের ও যাদুকরদের মধ্যে পার্থক্য ফুটিয়ে তুলতে তৃতীয় এবং নিরপেক্ষ পক্ষ ফেরেস্তাদেরকেই এই কাজে নিয়োগ করাকে সমীচীন মনে করেছেন যাতে মানুষের মাঝে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মানুষ হারুত ও মারুতের কাছ থেকে শিখে নেয়া যাদু অকল্যাণের কাজে লাগাতে লাগল। অবশ্য হারুত মারুত -'আমরা তো তোমাদের উপর পরীক্ষা স্বরূপ। তোমরা আমাদেরকে অবিশ্বাস কোরও না’-এ কথা না বলে তারা কোন মানুষকে শিক্ষা দিত না। 

এ দু’জনের কাছ থেকে লোকেরা এমন বিষয় শিক্ষা করত যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত,তথাপি আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কারও কোন ক্ষতি করতে পারত না। তাই তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, আর কোন উপকারে আসত না। হারুত-মারুতের কল্যাণে সাবাতে এই বিদ্যার ব্যবহার বহূলরূপে বৃদ্ধি পায়। এটা এমন এক পর্যায়ে চলে যায় যে, বাদশা শলোমনকে তা ভাবান্বিত করেছিল। তিনি ৪০দিন তার সিংহাসন হারিয়েছিলেন। কথিত ঐ কাহিনী এমন-

বাদশা শলোমন।
বাদশা শলোমন যে সকল অঙ্গুরী বা আংটি পরিধান করতেন তার একটিতে ইসমে আজম খোঁদিত ছিল। এই ইসমে আযম তিনি খোদার নিকট থেকে লাভ করেছিলেন যখন তিনি তার নিজস্ব সকল অশ্বগুলোকে কোরবানী করে দেন। এই কোরবানীর কারণ ছিল অশ্বগুলোর সৌন্দর্য্য তার প্রার্থনার কথা বিষ্মৃত করেছিল এবং ফলে প্রার্থনার সময় অতিবাহিত হয়েছিল।

এ সম্পর্কে কোরআনে রয়েছে-..সে ছিল উত্তম দাস ও সবসময় আমার উপর নির্ভর করত। বিকেলে যখন তার সামনে প্রশিক্ষিত দ্রুতগামী ঘোড়া গুলোকে উপস্থিত করা হল সে বলল, ‘আমি তো আমার প্রতিপালকের স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ে ঘোড়ার প্রেমে মগ্ন হয়ে আছি, এদিকে সূর্য্য ডুবে গেছে। ওগুলোকে আবার আমার সামনে আন।’ তারপর সে ঘোড়াগুলোর পা ও গলা কাটতে লাগল।-(৩৮:৩০-৩৩)

শলোমন তার নিজস্ব সকল আরোহণের পশু কোরবাণী করে দিয়েছিলেন। তাই এসময় আল্লাহ বায়ূকে তার অধীন করে দিলেন। অত:পর শলোমন তার নিজের জন্যে এক চতুর্দ্দোল নির্মাণ করেছিলেন। তিনি তাতে আসন গ্রহণ করলে বায়ূ যেখানে ইচ্ছে সেখানে তাকে বয়ে নিয়ে যেত। আর পক্ষীকুল এই ভ্রমনের সময় তার উপর ছায়া বিস্তার করত। এই চতুর্দ্দোল নির্মিত হয়েছিল লেবাননের এরস কাঠ দিয়ে। আর তার স্তম্ভগুলো রৌপ্য নির্মিত এবং তলদেশ স্বর্ণ নির্মিত ছিল এবং আসন ছিল বেগুণে রঙের। জেরুজালেমের কিছু দক্ষ নারী ঐ আসনের মধ্যভাগকে কারুকার্য্যময় করে তৈরী করেছিল।চতুর্দ্দোল সম্পর্কে শলোমনের পরমগীতে আছে-

শলোমন আপনার জন্যে এক চতুর্দ্দোল নির্মাণ করলেন, 
লেবাননের কাঠ দিয়ে। 
তিনি রৌপ্য দিয়ে তার স্তম্ভ,
সুবর্ণের তলদেশ ও বেগুনে রঙের আসন করলেন। 
অার জেরুজালেমের কন্যাগণ প্রেম দিয়ে তার মধ্যভাগ খঁচিত করল।
                                                 -(পরমগীত ৩:৯-১০)

কোরআনে বলা হয়েছে- তখন আমি বায়ূকে তার অধীন করে দিলাম। সে (বায়ূ) যেখানে ইচ্ছে সেখানে তাকে বয়ে নিয়ে যেত।-(৩৮:৩৬) তার সকালের বেড়ান  ছিল এক মাসের পথ, আর বিকালের বেড়ানও ছিল এক মাসের পথ।-(৩৪:১২) আরও অধীন করে দিলাম সকল জ্বীন, যারা ছিল স্থপতি ও ডুবুরী এবং আরও অনেককে, জোড়া শেকল পরিয়ে। এসব আমার অনুগ্রহ, আমি বললাম, ‘হে শলোমন, এ থেকে তুমি অন্যকে দিতে পার বা নিজে রাখতে পার। এরজন্যে তোমাকে হিসেব দিতে হবে না।’-(৩৮:৩৭-৩৯)

শলোমনের প্রাসাদ
যাইহোক, মূলকথা শলোমন ঐ আংটির সাহায্যেই জ্বীন ও পশু-পক্ষীর উপর আধিপত্য লাভ করেছিলেন। কথিত আছে- একবার তিনি বাথরুমে যাবার সময় ঐ আংটিসহ যেতে পছন্দ করলেন না। তাই তিনি তা খুলে তার এক স্ত্রীর কাছে রেখে গেলেন। শলোমনের এই স্ত্রীর নাম ছিল আমিনা (Amina)। যাহোক, ঐসময় চখর (Sakhr) নামের এক শয়তান জ্বীন তার আকৃতি ধারণ করে তার স্ত্রীর কাছ থেকে আংটিটি নিয়ে গিয়ে সিংহাসনে আরোহণ করল এবং রাজ্য শাসন শুরু করল।

শলোমনের রাজত্ব হাতছাড়া হল, কিন্তু তিনি তা টের পেলেন না। তিনি বাথরুম থেকে ফিরে এসে স্ত্রীর কাছে আংটিটি ফেরৎ চাইলেন। শলোমনের আকৃতি এবং প্রকৃতিতে কোন পরিবর্তন না হলেও শয়তান জ্বীন চখর এমন যাদু করেছিল যে অন্যেরা দৃষ্টি বিভ্রান্তিতে পড়েছিল, তারা তাকে পরিবর্তিতরূপে দেখতে পাচ্ছিল। আর তাই তার স্ত্রীও তাকে চিনতে পারল না। স্ত্রী বলল, ‘আমি তো বাদশাকে আংটি দিয়ে দিয়েছি। তুমি আবার কে?’
বিষ্মিত শলোমন বললেন, ‘আমিই তো শলোমন।’
স্ত্রী বলল, ‘তুমি শলোমন নও বরং তুমি মিথ্যে বলছ।’

এ পর্য়ায়ে জ্বিণ চখর কিভাবে একাজ করল তা বুঝতে আমরা জ্বিণের স্বরূপ সম্পর্কে সামান্য আলোচনা করে নেব।মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর পৃথিবী ও তার আশেপাশের গ্রহ নক্ষত্রে আগুণের তৈরী জ্বিণ জাতিকে বসবাস করতে দেয়া হয়।ফলে জগতের যাবতীয় বস্তু ও প্রাণীর সাথে তাদের সম্যক পরিচয় গড়ে উঠেছিল ধরায় মানবের আগমনের বহু আগে থেকেই। আর জাগতিক সবকিছুর উপর শয়তানের এমন কর্তৃত্বভারের কথা আমরা নবী ইব্রাহিমের সহিফায়ও দেখতে পাই- God's heritage (the created world) is largely under the dominion of evil – i.e., it is "shared with Azazel"-(আব্রাহাম,২০:৫) 

কোয়ান্টাম ফিজিক্স অনুসারে দৃশ্যমান জগতের সকল বস্তু একটি নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি বা কম্পাঙ্কে গঠিত এবং সকল বস্তুর দৃশ্যমান উপস্থিতি একটি ফ্রিকোয়েন্সি সীমার (৩৯০-৭০০nm) মধ্যে অবস্থিত। অন্যদিকে জ্বিণ ও ফেরেস্তা এই ফ্রিকোয়েন্সি সীমার বাইরের কোন ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে সৃষ্ট। ফলে তারা দৃশ্যমান নয়, তবে তারা ইচ্ছেমত উভয় ফ্রিকোয়েন্সি সীমায় যাতায়াত করতে পারে এবং দৃশ্যমান জগতের যে কোন ফ্রিকোয়েন্সিতে নিজেদেরকে্ পরিবর্তিত করে কোন বস্তু, উদ্ভিদ বা প্রাণীর দৃশ্যমান রূপ নিয়ে হাজিরও হতে পারে। আর দৃশ্যমান প্রতিটি বস্তুর ফ্রিকোয়েন্সি তাদের জানা থাকায়, তারা ইচ্ছে করলে ম্যাটার ট্রান্সমিশনের মত করে আইফেল টাওয়ারটি মুহূর্তেই ঢাকার গাবতলীতে এনে বসিয়ে দিতে পারে। সেবার রানী বিলকিসের সেই বিশাল সিংহাসনটা নবী শলোমনের উপদেষ্টা জ্বিণ এভারেই এনে হাজির করেছিল তার সম্মুখে। যেমন-

শলোমন আরও বলল, ‘হে আমার পরিষদবর্গ! তারা আমার কাছে আত্মসমর্পন করতে আসার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমাকে এনে দেবে?’

এক শক্তিশালী জ্বীন বলল, ‘আপনি আপনার স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি তা এনে দেব। এ ব্যাপারে আমি এমনই শক্তি রাখি। আর আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন।’
কিতাবের জ্ঞান যার ছিল সে বলল, ‘আপনি চোখের পলক ফেলার আগেই আমি তা এনে দেব।’ -(সূরা নমল, ২৭:৩৮-৪০)

তবে যেহেতু জ্বিণজাতি দৃশ্যমান জগতের সকল বস্তুর ফিকোয়েন্সি জানে, তাই তারা বস্তু বা প্রাণীর ফিকোয়েন্সিতে অতি নগণ্য পরিমাণে পরিবর্তণ এনে বা তাকে বেষ্টন করে এক ফিকোয়েন্সি জাল সৃষ্টির মাধ্যমে, তাকে সাময়িক পরিবর্তিত রূপদান, পরিবর্তিত আকারে উপস্থাপন বা তাকে সাময়িক অদৃশ্যমান করে দিতে পারে। জ্বিণ এভাবেই বিলকিসের সিংহাসনে সামান্য পরিবর্তণও এনেছিল। যেমন-


যখন তা সামনে রাখা দেখল, তখন (শলোমন) বলল, ........‘তার সিংহাসনের আকৃতিতে সামান্য পরিবর্তণ আনো; দেখি সে চিনতে পারে- নাকি ভুল করে।’ -(২৭:৩৮-৪১)


আর এ সামান্য পরিবর্তনের কারনে বুদ্ধিমতী বিলকিস দাবী করেননি ঐটি তার সিংহাসন, কিন্তু তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সেটি তারই। আর তাই শলোমনের প্রশ্নের প্রদত্ত উত্তরে তার ঐ মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছিল-তার উত্তর হ্যাঁ- না দু’টোই মিন করেছিল। যেমন- (বিলকিস) যখন পৌঁছিল তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, ‘তোমার সিংহাসন কি এ রকম?’

সে বলল, ‘এ তো এ রকমই। ...।’-(২৭: ৪২)

যাহোক, নবী শলোমন সিংহাসন চ্যূত হন কারণ জ্বিণ চখর শলোমনের রূপ ধারণ করেছিল এবং শলোমনের শরীরকে বেষ্টন করে এক মায়াজাল (ফিকোয়েন্সি জাল) সৃষ্টি করেছিল, ফলে এমনকি তার স্ত্রী আমিনাও তাকে চিনতে না পেরে অস্খীকার করে বসে।


তো আর কি, অত:পর শলোমন বিষ্ময়ের সাথে আবিস্কার করেন যে প্রাসাদের কেউই তাকে চিনতে পারছে না। তিনি সবই বুঝতে পারলেন। তার মনে পড়ল পিঁপড়ার রানীর কথা। সে বলেছিল- "beware also of ever giving away thy ring without first saying, 'In the name of Allah the All-merciful."


নবী শলোমন বড়ই দুঃখিত ও ব্যথিত হলেন। তিনি রাজপ্রসাদ থেকে বের হয়ে পড়লেন এবং সমুদ্রের কূলে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করলেন। সেখানে তিনি সারারাত আল্লাহর এবাদত ও তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনায় নিমগ্ন থাকতেন এবং দিনে মুজুর হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এভাবে দিন অতিবাহিত হচ্ছিল।

শলোমনের রিং।
এদিকে একদিন কোন এক কারণে নকল শলোমন, শয়তান চখর সমুদ্রের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল, আর তখন তার হাত থেকে আংটিটি পানিতে পড়ে গেল। আর পানিতে পড়া মাত্র একটা মাছ তা গিলে ফেলল।

একদিন এক ব্যক্তি সমুদ্রকূল থেকে মাছ ক্রয় করল এবং মজুর হিসেবে শলোমনকে নিল। শলোমন মাথায় করে মাছ মালিকের বাড়ী দিয়ে এলেন। মালিক খুশী হয়ে তাকে একটি মাছ দিল।

শলোমন রান্না করার উদ্দেশ্যে যখন মাছটি কাটলেন তখন তার পেট থেকে তার সেই আংটিটি বের হয়ে এল। আংটি ফিরে পাবার সাথে সাথে সমস্ত জ্বীন এবং ইনসান তার অনুগত হয়ে গেল। তিনি পুনঃরায় তার রাজত্ব ফিরে পেলেন। শলোমন সর্বমোট চল্লিশদিন সমুদ্র উপকূলে ছিলেন। 

অবশ্য শলোমনের এই রাজত্ব হাতছাড়া হবার কারণ হিসেবে অনেকে বলেন- "His forty days' exile had been sent in punishment for the idolatry practiced in his house for forty days, although unknown to him, by one of his wives." -(Ṭabri, "Annales," ed. De Goeje, i. 592 et seq.) কথিত আছে- "it was the daughter of the conquered King of Sidon who introduced idolatry into his house."

যাহোক, শলোমনের রাজ্য হারান সংক্রান্ত কোরআনের আয়াতসমূহ- "And indeed We try Solomon and We placed on his throne Jasadan (a devil, so he lost his kingdom for a while) but he did return (to his throne and kingdom by the Grace of Allah and he did return) to obedience and in repentance. He said: "my Lord! Forgive me, and bestow upon me a kingdom such as shall not belong to any other after me. Verily, You are the Bestower."-(38: 34-35)

সিংহাসনে শলোমন।
রাজত্ব ফিরে পাবার পর শলোমন ঐ শয়তান জ্বীন চখরকে কি করেছিলেন তা আমরা জানি না। তবে আমরা সেই বিখ্যাত আরব্য রজনীর (One Thousand and One Nights) কাহিনী থেকে যা জানি তা হল- A genie who had displeased King Solomon and was punished by being locked in a bottle and thrown into the sea. Since the bottle was sealed with Solomon's seal, the genie was helpless to free himself, until freed many centuries later by a fisherman who discovered the bottle. 

যাহোক, কাহিনীতে ফিরি- যাদুকর ও তাদের সহযোগী জ্বিনদের উপর শলোমন ক্ষেপে গেলেন। এসময় তিনি অনুগত জ্বীনের মাধ্যমে হারুত-মারুতের সংবাদ পান। তখন তিনি হারুত-মারুতকে বাবিল শহরের একটা কূপে বন্দী করে ফেলেন  যেন তাদের দ্বারা যাদুর বংশ বিস্তার আর না হতে পারে। কথিত আছে তারা সেখানেই বন্দী অবস্থায় কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। 

এরপর শলোমন সকল যাদুর বই সংগ্রহ করে তার সিংহাসনের নীচে মাটিতে প্রোথিত করে রাখেন। অবশ্য তার মৃত্যুর পর প্রোথিত ঐ গ্রন্ধসমূহ ভিন্ন এক কাহিনীর জন্ম দিয়েছিল। শয়তান জ্বীনেরা তার মৃত্যুর পর সিংহাসনের নীচ থেকে যাদুর ঐ সমস্ত বই উত্তোলন করে সেগুলি দেখিয়ে লোকদেরকে বলেছিল- 'এগুলিই তার উপর অবতীর্ণ কিতাব, যা তিনি আমাদের নিকট থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন।'

 হারুত-মারুত বাবিল শহরের একটা কূপে বন্দী
এ সম্পর্কে ইবনে কাছিরের বক্তব্য এমন- When Solomon lost his kingdom, great numbers from among mankind and the jinn renegaded and followed their lusts. But, when Allah restored to Solomon his kingdom and the renegade came to follow the Straight Path once again, Solomon seized their holy scriptures which he buried underneath his throne.

Shortly after, Solomon died. In no time, the men and the Jinn uncovered the buried scriptures and said: This was a book revealed by Allah to Solomon who hid it from us. -ibn Kathir.

যাদু করা কূফর। আর তাই কোরআন শলোমনের যাদু দ্বারা রাজ্য শাসনের কথা অস্বীকার করে এবং হারুত-মারুত ও যাদুর স্বরূপ সম্পর্কে সঠিক তথ্য আমাদের সামনে তুলে ধরে- ‘আর শলোমনের রাজত্বে শয়তানেরা যা আওড়াত তারা (সাবাবাসীরা) তা মেনে চলত। শলোমন কূফর করেনি, বরং শয়তানই কূফর করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিত (সেই) যাদু যা বাবিল শহরের দুই ফেরেস্তা হারুত ও মারুতের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। তাই ‘আমরা তো তোমাদের উপর পরীক্ষা স্বরূপ। তোমরা অবিশ্বাস কোরও না’-এ না বলে তারা কোন মানুষকে শিক্ষা দিত না। 

এ দু’জনের কাছ থেকে তারা এমন বিষয় শিক্ষা করত যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত শুধু, আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কারও কোন ক্ষতি করতে পারত না। তাই তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, আর কোন উপকারে আসত না। আর তারা ভাল করেই জানত যে, যে-কেউ তা কিনবে পরকালে তার কোন অংশ নেই। আর যদি তারা জানত তারা যার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করছিল তা কত নিকৃষ্ট! -(২:১০১-১০২)

সমাপ্ত।
ছবি: ibelieveinadv, phoenixmasonry, godsgeography,gosai.

Moses: কোরাণিক ক্যানভাসে নবী মূসা।

Abu Hena Mostafa Kamal  01 May, 2017 মি সরের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ফেরাউন। হঠাৎ করে তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। কিন্তু তিনি কোন উত্তরাধিকারী ন...