Solomon লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Solomon লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১০ মার্চ, ২০১২

Solomon: শলোমনের মৃত্যু এবং অত:পর।


প্রাসাদের নির্মাণ কাজ বাদশা শলোমন (Solomon) নিজেই দেখাশুনো করতেন। আর জ্বীনেরা তার সামনে বসে কাজ করত। তারা বাদশার ইচ্ছে অনুযায়ী প্রাসাদ, ভাস্কর্য, পানির হৌজের মত পাত্র ও চুল্লির জন্যে বড় ডেগ তৈরী করত। এই সকল কাজ করতে প্রচুর তামার দরকার হয়েছিল। শলোমন প্রয়োজনীয় তামা তার বেটহ ও বেরোথা নগর থেকে সংগ্রহ করতেন। সেখানে এত পরিমান তামা মজুদ ছিল, যেন তা এক গলিত তামার ঝর্ণা। এই তামা এসব বস্তু তৈরীর কাজে ব্যাবহৃত হত।  

শলোমন।
আল্লাহ বলেছিলেন, ‘হে দাউদ পরিবার! তোমরা কৃতজ্ঞতার সাথে কাজ করতে থাক।’
দাউদ, শলোমন ও তাদের পরিবারবর্গ মৌখিকভাবে ও কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর এই আদেশ পালন করেছেন। তাদের গৃহে এমন কোন মুহুর্ত যেত যাতে পরিবারের কেউ না কেউ এবাদতে মশগুল না থাকত। পরিবারের লোকদের প্রত্যেকের জন্যে উপাসনার সময় ভাগ করা ছিল। 

লাঠিতে ভর দিয়ে সিংহাসনে বসা অবস্থায় শলোমনের মৃত্যু হয়। প্রাসাদের নির্মাণের কাজে নিয়োজিত জ্বীনেরা তা বুঝতে পারেনি। সেইসময় একটা ঘুণপোকা তার মৃত্যুর কথা জ্বীনদেরকে জানিয়ে দিল। কিন্তু তারা তা বিশ্বাস না করে কাজ করে যেতে থাকল। তখন ঘুণ পোকা শলোমনের ভর দিয়ে থাকা লাঠিটি কূরে খেতে থাকল। অত:পর যখন সে লাঠিটি কেটে ফেলল তখন শলোমনের দেহ ঢলে মাটিতে পড়ে গেল। তখনই জ্বীনেরা তার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হল। 

জ্বীনদের কাছে দুনিয়ার সময় অতি শ্লথ। তাই তারা আফসোস করে বলল, ‘যদি আমরা অদৃশ্য বিষয় জানতাম তাহলে আমরা এতকাল অপমানকর শাস্তিতে বাঁধা থাকতাম না।’

বাইবেল, কোরআন ও তালমুদ পুস্তকে শলোমনের মৃত্যু পূর্ববর্তী এমন ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে -A few months after the death of the Queen of Saba, the Angel of Death appeared unto Solomon with six faces: one to the right, and one to the left; one in front, and one behind; one above his head, and one below it. The king, who had never seen him in this form, was startled, and inquired what this sixfold visage signified. 

"With the face to the right," replied the Angel of Death, "I fetch the souIs from the east; with that to the left, the souls from the west; with that above, the souls of the inhabitants of heaven; with that below, the demons from the depths of the earth; with that behind, the souls of the people of Madjudj and Jadjudj (Gog and Magog); but with that in front, those of the Faithful, to whom also thy soul belongs." -The Bible, the Quran, and the Talmud. page-245


এরপর শলোমন আজ্রাইলের নিকট থেকে কেয়ামত ও পুনরুত্থান দিবস সম্পর্কে অনেক কিছুই অবগত হলেন। অবশেষে বললেন, "Suffer me to live until the completion of my temple, for at my death the genii and demons will cease their labor." 
"Thy hour-glass has run out, and it is not in my power to prolong thy life another second."
"Then follow me to my crystal hall!"
  
The Angel of Death accompanied Solomon unto the hall, whose walls were entirely of crystal. There Solomon prayed; and, leaning upon his staff, requested the angel to take his soul in that position. The angel consented; and his death was thus concealed from the demons a whole year, till the temple was finished. 

It was not until the staff, when destroyed by worms, broke down with him, that his death was observed by the Jinns, who, in order to revenge themselves, concealed all kinds of magical books under his throne, so that many believers thought Solomon had been a sorcerer. But he was a pure and divine prophet, as it is written in the Koran, "Solomon was no infidel, but the demons were unbelievers, and taught all manner of sorceries." 


When the king was lying on the ground, the angels carried him, together with his signet ring, to a cave, where they shall guard him until the day of the resurrection.--
The Bible, the Quran, and the Talmud. page 248; Book of Chamis.

প্রাসাদের নির্মাণ কাজ তদারকিতে শলোমন।
কোরআনে রয়েছে- ‘আমি তার (শলোমনের) জন্যে গলান তামার এক ঝর্ণা বইয়ে ছিলাম। আল্লাহর অনুমতিক্রমে বেশকিছু জ্বীন তার সামনে কাজ করত।..ওরা শলোমনের ইচ্ছে অনুযায়ী প্রাসাদ, ভাস্কর্য, পানির হৌজের মত পাত্র ও চুল্লির জন্যে বড় ডেগ তৈরী করত। (আমি বলেছিলাম), ‘হে দাউদ পরিবার! তোমরা কৃতজ্ঞতার সাথে কাজ করতে থাক।’

যখন আমি শলোমনের মৃত্যু ঘটালাম তখন ঘুণপোকা, যা শলোমনের লাঠি কূরে খাচ্ছিল, জ্বীনদেরকে তার মৃত্যুর কথা জানাল। যখন শলোমন মাটিতে পড়ে গেল তখন জ্বীনেরা বুঝতে পারল যে, যদি ওরা অদৃশ্য বিষয় জানত তাহলে ওরা এতকাল অপমানকর শাস্তিতে বাঁধা থাকত না।’(৩৪:১২-১৪)

শলোমনের সমাধি কমপ্লেক্স, জেরুজালেম।
চল্লিশ বৎসর (৯৬৪-৯২৪ BCE) রাজত্বের পর শলোমন মারা গিয়েছিলেন। এসময় তার বয়স হয়েছিল উনসত্তুর বৎসর। তিনি তার রাজত্বকালে সর্বত্র শান্তি বজায় রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন। ফলে তার সুসংগঠিত সেনাবাহিনী থাকলেও তাকে কোন যুদ্ধ পরিচালনা করতে হয়নি। তিনি আল্লাহর উপাসনার জন্যে বিখ্যাত স্থাপত্য নির্মাণ করলেও তার জীবদ্দশায় কোন নবী বা ধর্মীয় নেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়নি। যে অবদান এই জ্ঞানী ব্যক্তিটি তার জাতি এবং জগতের সামনে স্থাপন করে গেছেন তা মূলতঃ তার সুবিশাল রাজ্য এবং ধন-সম্পদ। 

মূসার সময় যাদুবিদ্যার প্রচলন কমে যায় কেননা তিনি মানুষের সামনে এমন সব নিদর্শণ উপস্থাপন করেছিলেন যা মানুষকে মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতা সম্পর্কে অবগত করেছিল। কিন্তু তার মৃত্যুর পর যাদু বিদ্যার প্রচলন আবার বেড়ে গেল। 

বাবিল শহরে মানুষের বেশে হারুত ও মারুত নামে দু’জন ফেরেস্তা যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত এবং সাথে সাথে মানুষকে যাদুবিদ্যার কূফল সম্পর্কে এই বলে সতর্ক করত, ‘আমরা তো তোমাদের উপর পরীক্ষা স্বরূপ। তোমরা অবিশ্বাস কোরও না’

এই দু’জনের কাছ থেকে মানুষ এমন বিষয় শিক্ষা করত যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত শুধু, আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কারও কোন ক্ষতি করতে পারত না।

শলোমনের সময় শয়তান জ্বীনেরা বাবিলের (সাবার) লোকদেরকে সেই যাদু শিক্ষা দিত যা হারুত ও মারুতের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। সেখানকার লোকেরা এসব জ্বীনদের কথা মেনে চলত। যদিও তাদের কাছে থেকে তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, আর কোন উপকারে আসত না। আর তারা ভাল করেই জানত যে, যে-কেউ তা কিনবে পরকালে তার কোন অংশ নেই।

হারুত-মারুত বাবিলের একটি কূপে বন্দী।
শলোমন তাই হারুত ও মারুতকে বাবিলের একটি কূপে বন্দী করে রেখেছিলেন এবং প্রচলিত এসব যাদুবিদ্যার বইগুলো সংগ্রহ করে তার সিংহাসনের নীচে প্রোথিত রেখেছিলেন। তার মৃত্যুর পর শয়তান জ্বীনেরা তার সিংহাসনের নীচ থেকে সেগুলো তুলে নিয়ে এল। অতঃপর জনসম্মুখে বইগুলো প্রদর্শণপূর্বক প্রচার করল যে, শলোমন এসব যাদুবলে রাজত্ব করতেন। 

এ বিষয়ে কোরআন জানায়- ‘আর শলোমনের রাজত্বে শয়তানেরা যা আওড়াত তারা (সাবাবাসীরা) তা মেনে চলত। শলোমন কূফর করেনি, বরং শয়তানই কূফর করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিত (সেই) যাদু যা বাবিল শহরের দুই ফেরেস্তা হারুত ও মারুতের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। তাই ‘আমরা তো তোমাদের উপর পরীক্ষা স্বরূপ। তোমরা অবিশ্বাস কোরও না’-এ না বলে তারা কোন মানুষকে শিক্ষা দিত না। 

এ দু’জনের কাছ থেকে তারা এমন বিষয় শিক্ষা করত যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত শুধু, আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কারও কোন ক্ষতি করতে পারত না। তাই তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, আর কোন উপকারে আসত না। আর তারা ভাল করেই জানত যে, যে-কেউ তা কিনবে পরকালে তার কোন অংশ নেই। আর যদি তারা জানত তারা যার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করছিল তা কত নিকৃষ্ট! (২:১০২)

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia, dailymail, blog.radical, phoenixmasonry.

Source:

  • Qur'an;
  • The Bible, the Quran, and the Talmud by Dr, G. Well;
  • Book of Chamis, by Husein ibn Muhammed.



Solomon: প্রজ্ঞা ও সুবিচারের নমূনা।


শলোমন (Solomon) ছিলেন একজন অসাধারণ জ্ঞানী মানুষ ও উপস্থিত বুদ্ধির অধিকারী। প্রাকৃতিক জগৎ সম্পর্কে প্রশ্নাতীত ভাবে সাধারণ জ্ঞান ছিল তার। তিনি সুবিচারকও ছিলেন। শৈশব কালেই তার জ্ঞানের কথা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। ইহুদি আলেমগণ তাকে অনেকগুলি উপাধি দিয়েছিলেন, যেমন- Agur, Bin, Jakeh, Lemuel, Ithiel, and Ucal.

Agur ="he who girt his loins"; 
Bin = "he who built the Temple"; 
Jakeh = "he who reigned over the whole world"; 
Ithiel = "he who understood the signs of God"; and 
Ucal = "he who could withstand them" (Cant. R. i. 1; Midr. Mishle xxx. 1; Targ. Sheni to Esth. i. 2).

Solomon was also one of those who were styled "baḥurim" (="chosen"), "yedidim" (="friends"), and "ahubim" (="beloved ones"); -(Ab. R. N., ed. Schechter, p. 121).  

Solomon is said to have understood the languages of the beasts and the birds and to have had no need of relying on witnesses in delivering a judgment, inasmuch as by simply looking at the contending parties he knew which was right and which was wrong. এ সম্পর্কে এমন একটা কাহিনী আছে-

"When Solomon was about to build the Temple he applied to Pharaoh, King of Egypt, for builders and architects. Pharaoh ordered his astrologers to choose all the men who would die in the current year; and these he sent to Solomon. The latter, however, by simply looking at them, knew what their fate was to be; consequently he provided them with coffins and shrouds and sent them back to Egypt. Moreover, he gave them a letter for Pharaoh informing him that if he was in want of articles required for the dead, it was not necessary for him to send men, but that he might apply direct for the materials he needed" -(Pesiḳ. R. l.c.; Pesiḳ. iv. 34a; Num. R. xix. 3; Eccl. R. vii. 23).

শলোমনের প্রজ্ঞা ও সুবিচার সম্পর্কে আলোকপাত করার পূর্বে আমরা দাউদ সম্পর্কে কিছু তথ্য উপস্থাপন করব। এটা অনুধাবণের জন্যে যে- দাউদের দরবারে শলোমন বিচার করার ক্ষমতা ও এক্তিয়ার কেন ও কিভাবে পেলেন।


বাদশা দাউদ নিজে একটা ভীষণ অপরাধ করে ফেলেছিলেন, তিনি তার সৈনিক উরিয়র স্ত্রীকে নিজের করে পেতে তাকে যুদ্ধের সম্মুখ সাঁরিতে স্থাপন করেছিলেন, যেখানে মৃত্যু অবধারিত। আর উরিয়র মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে বিবাহ করেছিলেন। তার এই অপরাধ ন্যায় বিচারক আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। তাই তাকে শিক্ষা দিতে জিব্রাইল ও মিকাইল মানুষের বেশে তার নিকট বিচার প্রার্থী হয়েছিল। যাইহোক, নিজের অপরাধের ব্যাপকতা অনুধাবন করে তিনি পরবর্তীতে আর নিজে বিচার কাজ চালাতে সাহস করেননি। এ বিষয়ে Book of Chamis জানায়-


Mindful of what had taken place with the two angels, David ventured not again to execute judgment. He had already nominated a kadhi, who was to adjust in his stead all disputes that might arise, when the angel Gabriel brought him an iron tube with a bell, and said, "Allah has beheld thy diffidence with pleasure, and therefore sends thee this tube and bell, by means of which it will be easy for thee to maintain the law in Israel, and never to pronounce an unjust sentence. Suspend this tube in thy hall of judgment, and hang the bell in the midst thereof: place the accuser on one side of it, and the accused on the other, and always pronounce judgment in favor of him who, on touching the tube, elicits a sound from the bell." 


David was greatly delighted at this gift, by means of which he who was in the right was sure to triumph, so that soon no one dared to commit any injustice, since he was certain to be detected by the bell.


One day, however, there came two men before the judgment seat, one of whom maintained that he had given a pearl into the keeping of the other, who now refused to restore it. The defendant, on the other hand, swore that he had already given it back. As usual, David compelled them both, one after the other, to touch the tube; but the bell uttered no sound, so that he did not know which of the two spake truth, and was inclined to doubt the farther virtue of the bell.


But when he had repeatedly directed both to touch the tube, he observed that as often as the accused was to pass the ordeal, he gave his staff to be holden by his antagonist. David now took the staff in his own hand, and sent the accused once more to touch the tube, when instantly the bell began to ring aloud. David then caused the staff to be inspected, and behold, it was hollow, and the pearl in question was concealed within it. 


But on account of his thus doubting the value of the tube which Allah had given him, it was again removed to heaven, so that David frequently erred in his decisions, until Solomon, whom his wife Saja, the daughter of Josu, had borne him, aided him with his counsel. 


In him David placed implicit confidence, and was guided by him in the most difficult questions, for he had heard in the night of his birth the angel Gabriel exclaim, "Satan's dominion is drawing to its close, for this night a child is born, to whom Iblis and all his hosts, together with all his descendants, shall be subject. The earth, air, and water, with all the creatures that live therein, shall be his servants: he shall be gifted with nine tenths of all the wisdom and knowledge which Allah has granted unto mankind, and understand not only all the languages of men, but those also of beasts and of birds.-(Book of Chamis, by Husein ibn Muhammed.) 


যাহোক, আমরা এখন শলোমনের প্রজ্ঞা ও সুবিচারের কয়েকটি নমুনা দেখব। এগুলির কোনটিই তার দরবারে নয় বরং বাদশা দাউদের দরবারে ঘটেছিল।

এক: One day—Solomon was then scarcely thirteen years of age—there appeared two men before the tribunal, the novelty of whose case cited the astonishment of all present, and even greatly confounded David. The accuser had bought some property of the other, and in clearing out a cellar, had found a treasure. He now demanded that the accused should give up the treasure, since he had bought the property without it; while the other maintained that the accuser possessed no right to the treasure, since he had known nothing of it, and had sold the property with all that it contained. After long meditation, David adjudged that the treasure should be divided between them. 

আর এই বিচারে শলোমন মতামত দিয়েছিলেন এমন-Solomon inquired of the accuser whether he had a son, and when he replied that he had a son, he inquired of the other if he had a daughter, and he also answering in the affirmative, Solomon said, "If you will adjust your strife so as not to do injustice one to the other, unite your children in marriage, and give them this treasure as their dowry."-(Book of Chamis, by Husein ibn Muhammed.) 

দুইঃ একদা দু‘ব্যক্তি বাদশা দাউদের দরবারে হাযির হল ন্যায়বিচারের আশায়। বাদী বিবাদীকে দেখিয়ে বলল, ‘হে মহারাজ! রাতের অন্ধকারে তার ছাগলপাল আমার শস্যক্ষেতে প্রবেশ করে তার ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে।’

দাউদ ছাগলের মালিকের কাছ থেকে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হলেন। অতঃপর তিনি ভাবলেন রাত্রে ছাগল বেঁধে রাখা ও তার হেফাজত করা ছাগলের মালিকের কর্তব্য। আর সে তার কর্তব্য পালন করলে অপরের শস্য ক্ষেতের ক্ষতিসাধন হত না। সুতরাং ক্ষতিগ্রস্থ শস্যের মালিককে ক্ষতিপূরণ দেয়া ছাগলের মালিকের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। তিনি ক্ষতিগ্র্রস্থ শস্যের মূল্য হিসেব করে দেখলেন যে, তার মূল্য ছাগলের মূল্যের সমপরিমান। তাই তিনি ফয়সালা দিলেন -‘ছাগলের মালিক শস্যের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার ছাগলপাল জমির মালিককে প্রদান করবে।’

আল্লাহ দাউদের এই বিচার দেখলেন, তিনি ইতিমধ্যে শলোমনকে বিচারের মিমাংসা জানিয়ে দিয়েছিলেন। আর তিনি সেইসময় দরবারেই ছিলেন। সুতরাং বাদী বিবাদী উভয়ে যখন দাউদের ফয়সালা মেনে নিয়ে ফিরে যাচ্ছিল, তখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং দরবারে আরজ করলেন, ‘হে মহানুভব বাদশা! আমার মতে আপনার এই রায়ে ক্ষেতের মালিক ন্যায়বিচার পেলেও ছাগলের মালিক যথাযত ভাবে তা পায়নি।’

সঙ্গে সঙ্গে কোর্ট ইশারায় বাদী এবং বিবাদীকে পুন:রায় আসন গ্রহণ করতে বলল। এতে তারা ভীষণ অবাক হল। পিনপতন নিরবতা ভঙ্গ করে দরবার ঘোষণা করল, ‘আপীল গ্রহণ করা হল।’

অত:পর শুনানিতে শলোমন বললেন, ‘ছাগলপাল মালিক জমি আবাদ করবে। আর ছাগলপাল থাকবে জমির মালিকের কাছে। অত:পর শস্যক্ষেত বিনষ্ট হওয়ার পূর্ব অবস্থায় ফিরে না আসা পর্য্যন্ত জমির মালিক ছাগলপালের দুধপান করবে এবং সেগুলি যে বাচ্চা জন্ম দেবে তারও মালিক হবে। আর শস্যক্ষেত বিনষ্ট হওয়ার পূর্বাবস্থায় ফিরে এলে সে ছাগলপাল ফেরৎ দেবে।’ 

শলোমনের বক্তব্য শোনার পর দরবারে গুঞ্জন শুরু হল। কেননা সকলের কাছে দুই ফয়সালার মধ্যে সুষ্পষ্ট ব্যবধান পরিস্ফূটিত হয়েছিল। দাউদ নিজেও কম বিষ্মিত হননি। তিনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন তাকে এমন একজন জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান সন্তান দান করার জন্যে। যাহোক তিনি দরবারকে শান্ত হতে বললেন। তারপর তার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন, বললেন, ‘এটা সকলের কাছে পরিস্কার যে, এই ফয়সালা আমার দেয়া ফয়সালা থেকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য। সুতরাং এই রায়ই কার্যকর হবে বলে আমি আদেশ দিচ্ছি।’

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- দাউদ ও শলোমনের কথা, যখন তারা বিচার করছিল শস্যক্ষেত সম্পর্কে; ওতে রাতের বেলায় ঢুকে পড়েছিল সেই সম্প্রদায়ের কোন ব্যক্তির ছাগল, আমি দেখছিলাম তাদের বিচার এবং আমি শলোমনকে এ বিষয়ের মীমাংসা জানিয়ে দিয়েছিলাম এবং তাদের প্রত্যেককে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দিয়েছিলাম।(২১:৭৮-৭৯).

তিন: একদিন এক বৃদ্ধা বাদশা দাউদের দরবারে এক অভিযোগ দায়ের করল। তার অভিযোগ ছিল বাতাসের বিরুদ্ধে। সে বলল- ‘হে আমার প্রভু! আমি কিছু আটা নিয়ে গৃহে ফিরছিলাম। হঠাৎ বাতাস আমার সব আটা উড়িয়ে নিয়ে গেল। আমি হত দরিদ্র, সুতরাং বাতাসের কাছ থেকে আমার আটাগুলো উদ্ধার করে দিন।’

দাউদ বৃদ্ধার অভিযোগ শুনে বললেন, ‘বাতাসের উপর আমার তো কোন কর্তৃত্ব নেই। সুতরাং তোমার আটা আমি কি করে তার কাছ থেকে উদ্ধার করে দেব? তবে যেহেতু তুমি অভাবগ্রস্থ মহিলা, তাই বাতাস তোমার যে পরিমাণ আটা উড়িয়ে নিয়েছে আমি তোমাকে তার কয়েকগুণ বেশী দিচ্ছি। তুমি সেই আটাগুলো নিয়ে যাও।’
বৃদ্ধা আনন্দের সাথেই সম্মত হল। দাউদ তাকে পূর্ণ এক বস্তা আটা দিয়ে বিদায় করলেন।

বৃদ্ধা আটা নিয়ে গৃহে চলেছে- পথে শলোমনের সাথে তার দেখা। শলোমন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি বাদশার দরবারে কি অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলে?’
সে বলল, ‘আমি বাতাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম, কিন্তু তিনি সেই অভিযোগের বিচার না করে আমাকে এক বস্তা আটা দিয়ে বিদায় করে দিলেন।’
শলোমন বৃদ্ধার কাছ থেকে পুরো ঘটনাটা শুনে তাকে পরামর্শ দিলেন, ‘তুমি দরবারে পুনঃরায় ফিরে গিয়ে বল যে, আমি আটা চাই না- বিচার চাই।’

বৃদ্ধা পুনঃরায় দরবারে হাজির হয়ে বিচার প্রার্থী হল। দাউদ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে তোমাকে এই পরামর্শ দিয়েছে?’
বৃদ্ধা তো আর শলোমনকে চিনত না। তাই সে কোন উত্তর না দিয়ে ভয়ে ভয়ে দরবারের চারিদিকে তাকিয়ে তাকে খুঁজতে লাগল।
এসময় শলোমন দরবারে প্রবেশ করে বললেন, ‘আমি।’
দাউদ- ‘কেন তুমি তাকে এই পরামর্শ দিয়ে ফেরৎ পাঠালে?’

শলোমন- ‘আমার ভয় হল শেষ বিচারের দিনে এই বৃদ্ধা যখন আল্লাহর দরবারে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে হাজির হবে, তখন আপনি দুনিয়াতে তার অভিযোগের বিচার না করার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবেন।’
দাউদ- ‘কিন্তু আমি কিভাবে বাতাসের কাছ থেকে তার আটাগুলো উদ্ধার করে দিতে পারি?’
শলোমন- ‘আপনি তো শুধু রাজ্যের অধিপতিই নন, আল্লাহর নবীও। সুতরাং আল্লাহর অনুমতিক্রমে আপনার নির্দেশে নিশ্চয়ই বাতাস হাজির হতে বাধ্য হবে।’

তৎক্ষণাৎ দাউদ সিজদায় পড়লেন এবং আল্লাহর কসম দিয়ে বাতাসকে হাজির হতে নির্দেশ দিলেন। তৎক্ষণাৎ বাতাস দরবারে তার উপস্থিতি ঘোষণা করল। দাউদ বাতাসকে বললেন, ‘এই বৃদ্ধার অভিযোগ সম্পর্কে তোমার কি বলবার আছে?’

বাতাস বলল, ‘একটা নৌকায় কয়েকজন সওদাগর বাণিজ্যিক পণ্য নিয়ে বন্দরের দিকে আসছিল। হঠাৎ নৌকার গাত্রে একটি ফাঁটলের সৃষ্টি হয়ে সেটি ডোবার উপক্রম হল। এতে যাত্রীরা ভীত হয়ে আল্লাহর দরবারে জীবন ভিক্ষা চেয়ে কান্নাকাটি করতে লাগল। তারা বলল, ‘আল্লাহ যদি আমাদেরকে এ যাত্রায় প্রাণ ভিক্ষা দেন, তবে আমরা আমাদের সমুদয় মাল তাঁর রাস্তায় ব্যয় করে দেব।’
তখন আমি আল্লাহর নির্দেশে এই বৃদ্ধার আটাগুলো উড়িয়ে নিয়ে নৌকার ফাঁটলে লাগিয়ে তা বন্ধ করে দিয়ে তাদেরকে ঠেলে বন্দরের দিকে নিয়ে যাই। এতে যাত্রীদের প্রাণ রক্ষা পায়।এখন ঐ সওদাগররা আপনার দরবারের পথেই রয়েছে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা এখানে পৌঁছিবে।’

মহান আল্লাহর লীলা! তাই তো যবুরে আছে-

যারা জাহাজে চড়ে সমুদ্র যাত্রা করে, 
মহাজলরাশির মধ্যে ব্যবসার তরে,
তারা কার্য্যসকল দেখে খোদার,
গভীর সমুদ্রে তারা লক্ষ্য করে আশ্চর্য্য ব্যাপার স্যাপার।

খোদার আদেশে প্রবল বায়ূ উত্থিত হয়, তা পানির উপর তরঙ্গমালা ওঠায়।
তারা উর্দ্ধে উঠে, তারা জলধিতলে নামে; বিপাকে পড়ে তাদের প্রাণ উড়ে যায়।
তারা মর্ত্ত্যরে ন্যায় হেলে দুলে ঢলে পড়ে, 
তাদের বুদ্ধিসকল লোপ পায়।

সঙ্কটে তারা খোদার কাছে ক্রন্দন করে, আর তিনি তাদের বিপদমুক্ত করেন।
তিনি ঝটিকা প্রশমিত করেন; তাতে জলরাশির তরঙ্গসকল নিস্তব্ধ হয়।
তখন তারা আনন্দ করে, কেননা শান্তি হল,
আর তিনি তাদেরকে তাদের অভীষ্ট পোতাশ্রয়ে নিয়ে যান।(১০৭:২৩-৩০)

অল্পক্ষণের মধ্যেই দরবারে কয়েকজন লোক প্রবেশ করল এবং সম্ভাষণ শেষে দাউদকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘হে রাজ্যাধিপতি! সুষ্ঠ ও সঠিকভাবে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার জন্যে আমরা আমাদের পণ্যসমূহ আপনার হস্তে সোপর্দ করছি। দয়াকরে সেগুলি গ্রহণ করুন।’
দাউদ বললেন, ‘ব্যাপার কি?’
তারা বলল, ‘আমরা সমুদ্রে ডুবে যাচ্ছিলাম। তখন আমরা প্রাণের বিনিময়ে আল্লাহর রাস্তায় আমাদের সমুদয় মালামাল ব্যয় করার মানত করেছিলাম। পরিপূর্ণ সদ্ব্যাবহারের জন্যে সেগুলি এখানে আপনার কাছে নিয়ে এসেছি।’

দাউদ তাদের কাছ থেকে মালগুলো গ্রহণ করে তার সবই বৃদ্ধাকে দিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি তাকে বললেন, ‘বল তো, তুমি এমন কি সৎকর্ম করেছ যার জন্যে তোমার উপর আল্লাহর এতবড় অনুগ্রহ বর্ষিত হল?’
সে বলল, ‘হে আল্লার নবী! আমি তো এমন কিছু সৎকাজ করিনি। তবে আমার গৃহে কোন ভিক্ষুক এলে আমি কখনও তাকে খালি হাতে ফিরাই না-কিছু না কিছু অবশ্যই দিয়ে তাকে খুশী করে দেই। এজন্যে কখনও কখনও আমাকে না খেয়ে থাকতে হয়।

সেদিন এক ভিক্ষুক এসে তার ক্ষুধার্ত থাকার কথা জানাল। গৃহে তখন নিজের খাবার জন্যে দু‘খানি রুটি ছিল। আমি তাকে তাই এনে দিলাম। রুটি দু‘খানি খেয়ে সে বলল, ‘ক্ষুধা তো নিবৃত্ত হল না- আরও দু‘একখানা রুটি দেন।’
ঘরে তো আর রুটি ছিল না, এমনকি আটাও ছিল না যে তাকে রুটি তৈরী করে দেব। কিন্তু কিছু গম ছিল। অগত্যা ভিক্ষুককে বললাম, ‘বাবা, একটু অপেক্ষা কর- আমি তোমাকে রুটি তৈরী করে দিচ্ছি।’
তখন ভিক্ষুক অপেক্ষা করল। আর আমি এসময় দ্রুত গিয়ে গম পিষে আটা তৈরী করে নিয়ে গৃহে প্রত্যাবর্তণ করছিলাম, তখনই হঠাৎ এক দমকা বাতাস ঘটনাটা ঘটাল।’

চার: একবার দু‘রমনী একটি শিশু সন্তানের মাতৃত্বের দাবীতে দাউদের দরবারে বিচারপ্রার্থী হল। তাদের ঘটনা ছিল এরূপ-রমনী দু‘জন একসাথে সফর করছিল। তাদের উভয়ের সাথে একটি করে দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিল। পরিশ্রান্তের কারণে তারা উভয়ে একস্থানে এক বৃক্ষের নীচে বিশ্রামের জন্যে থামল এবং নিজ নিজ শিশুকে দুধপান করাতে করাতে ঘুমিয়ে পড়ল।

ঘটনাচক্রে এক মায়ের শিশুটিকে বন্যপশুতে নিয়ে গেল। ঐ রমনী জাগ্রত হয়ে যখন দেখল তার শিশুটি নেই, তখন সে অপর রমনীর শিশুটিকে নিজের কাছে এনে রাখল। উক্ত শিশুটির মাতা জাগ্রত হয়ে দেখল তার শিশুটি অপর রমনীর পাশে ঘুমাচ্ছে। সে শিশুটিকে নিতে গেলে অপর রমনী বাঁধা দিল। সে বলল, ‘এটা আমার সন্তান।’ 
১ম রমনী - ‘না, এটি আমার।’

কাছেই একস্থানে সামান্য রক্তের দাগ ছিল, তা দেখিয়ে ২য় রমনী বলল, ‘নিশ্চয় তোমার সন্তানকে কোন বন্য পশু খেয়ে ফেলেছে।’
১ম রমনী - ‘না, এটিই আমার সন্তান আর মৃতটি তোমার।’ 
২য় রমনী- ‘না, না, এটি আমার, মৃতটি তোমার।’ 
উভয়ের মধ্যে ঝগড়া শুরু হল। 

শিশু সন্তানের মাতৃত্বের দাবীর বিচার।
তুমুল ঝগড়া শেষে উভয় রমনী ফয়সালার জন্যে দাউদের দরবারে হাযির হল। শলোমন তখন দরবারে উপস্থিত ছিলেন। সবশুনে দাউদ ফয়সালা দিলেন-‘যার কাছে সন্তান রয়েছে সেই সন্তানের হকদার। কারণ, সন্তান তার অধিকারে রয়েছে। অধিকন্তু অপর রমনী তার দাবীর স্বপক্ষে কোন প্রমান পেশ করতে পারছে না।’ 

ফয়সালা শুনে নারীদ্বয় যখন চলে যাচ্ছিল, তখন তাদের একজন অনুচ্চস্বরে বলল, ‘একমাত্র আল্লাহই ন্যায়বিচারক। আমি তাঁর দরবারে বিচার প্রার্থণা করলাম।’

শলোমন তার এ কথা শুনে তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালেন এবং ইশারায় তাদেরকে দরবারে থাকতে বললেন। তারপর তিনি বাদশা দাউদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘হে মহামান্য বাদশা! এই ফয়সালা ২য় মহিলার জন্যে সুবিচার হয়নি। কেননা ১ম মহিলা তার অধিকারে সন্তানটি থাকা ছাড়া সন্তানটি যে তার সে ব্যাপারে কোন নিশ্চিত প্রমান দিতে পারছে না। তাই আমার মনে হয়, সন্তানটিকে দু‘টুকরো করে উভয়কে প্রদান করা উচিৎ।’ 

দাউদ শলোমনের প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের প্রতি সম্পূর্ণরূপে আস্থাশীল ছিলেন। তিনি মুচকি হেসে তার এই ফয়সালা গ্রহণ করলেন এবং জল্লাদকে নির্দেশ দিলেন, ‘বাচ্চাটিকে দু‘টুকরো করে তাদের উভয়কে প্রদান কর।’

এই ফয়সালা শুনে ১ম রমনী ২য় রমনীকে লক্ষ্য করে বলল, ‘ও তোমারও না হোক আর আমারও না হোক।’ 
আর ২য় রমনী হাঁউ-মাঁউ করে ক্রন্দনরত অবস্থায় দরবারে আবেদন জানাল, ‘হে রাজ্যাধিপতি! আমি সন্তান চাইনে।’ ইঙ্গিতে ১ম রমনীকে দেখিয়ে সে বলল, ‘শিশুটিকে ওকেই দিয়ে দিন তাতে অন্ততঃ আমার সন্তানটি বেঁচে থাকবে।’

রমনীদ্বয়ের প্রতিক্রিয়া শলোমন মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করছিলেন। এখন তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বাদশাকে সম্বোধন করে সিদ্ধান্ত দিলেন, ‘সন্তানটি অবশ্যই দ্বিতীয় জনের, কারণ কোন মা তার সন্তানের মৃত্যু কামনা করে না।’
বাদশা দাউদ এই রায় গ্রহণ করলেন।

পাঁচ: এক যুবতী রমনী অত্যাচারিত হয়ে জালিমদের বিরুদ্ধে এক কাজীর দরবারে অভিযোগ দায়ের করল। উক্ত রমনী ছিল পাগলকরা সৌন্দর্য্যরে অধিকারিনী। আর কাজী তার সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে তখনি তার সাথে নিজের বিবাহের প্রস্তাব দিল। কিন্তু ঐ প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়ে যুবতী বলল, ‘এখন আমার বিবাহ করার মানসিকতা নেই।’

এতে স্বাভাবিক ভাবেই কাজী কিছুটা মনোক্ষুন্ন হল। আর মহিলা বুঝতে পারল যে, তার মাধ্যমে এখন ন্যায্য বিচার আশা করা নিরর্থক। তাই সে অন্য কাজীর দরবারে বিচারপ্রার্থী হল। কিন্তু তার ভাগ্য খারাপ। এই কাজীও তার রূপ লাবণ্যে মোহিত হয়ে তখনি তার কাছে এক ব্যক্তির মারফত বিবাহের প্রস্তাব দিল। সে ঐ ব্যক্তিকে আরও বলে দিয়েছিল- ‘যদি সে একান্তই বিবাহে রাজী না হয় তবে, অন্ততঃ যেন অনুগ্রহ করে আমার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে।’

উক্ত মহিলার কাছে যখন এই প্রস্তাব পৌঁছিল, তখন সে বিরক্ত হয়ে ৩য় এক কাজীর দরবারে অভিযোগ পেশ করল। এই কাজীও পূর্ববর্তীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করল। তাতে মহিলা ৪র্থ কাজীর স্মরণাপন্ন হল। বেচারীর ভাগ্য সত্যিই খারাপ। এখানেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সে বিচারের আশা সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে গৃহে ফিরে গেল।

এদিকে কাজী চতুষ্টয় কিন্তু বসে নেই। তারা মহিলার গতিবিধি পর্যালোচনা শেষে একে অপরের সাথে মিলিত হল। তারপর তারা মহিলাকে দেমাগী সাব্যস্ত করে নিজেদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মানসে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল।

একদিন চার কাজী নিজেদের মধ্যে পরামর্শ শেষে সম্মিলিতভাবে বাদশা দাউদের দরবারে এই অভিযোগ দায়ের করল যে, এই মহিলা ধর্মীয় বিধানানুসারে কোন পুরুষের সাথে বিবাহে সম্মত নয়, অথচ সে রাত্রে কুকুরের সাথে শয্যাগমন করে।’

অভিযোগ শুনে বাদশা দাউদ চমকে উঠলেন এবং নাসিকা কুঞ্চিত করে বললেন, ‘তোমরা এই অপকর্মের স্বাক্ষী হাজির কর।’
তারা বলল, ‘আমরা বিচারের সময় স্বাক্ষীদেরকে আপনার দরবারে অবশ্যই হাজির করব।’

কাজীরা অর্থের লোভ দেখিয়ে অভিযুক্ত মহিলার বাড়ীর দু‘জন চাকর ও দু‘জন মালীকে স্বাক্ষী করে দরবারে হাজির করল। আর তারা সকলে এক বাক্যে সাক্ষ্য দিল যে, সত্যই উক্ত মহিলা কুকুরকে স্বীয় বিছানায় শয়ন করায় এবং তারা প্রত্যেকে তার চাক্ষুষ স্বাক্ষী।’
দাউদ মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘অভিযোগ সম্পর্কে তোমার বক্তব্য কি?’
সে বলল, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

কিন্তু অভিযোগের স্বপক্ষে চার চারজন চাক্ষুষ স্বাক্ষী রয়েছে, বাদশা তো আর তাদেরকে অগ্রাহ্য করতে পারেন না। সুতরাং তিনি রক্ষীদেরকে নির্দেশ দিলেন, ‘মহিলাকে তার শরীরের অর্ধেক মাটিতে প্রোথিত করে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করা হোক।’

এই দন্ডাদেশ প্রদানকালে যারা উপস্থিত ছিল, তাদের কিছু লোক দরবার থেকে নির্গমনকালে বলাবলি করতে লাগল যে, স্বাক্ষীরা অর্থলোভে মহিলার বিরুদ্ধে মিথ্যে সাক্ষ্য প্রদান করে তাকে এরূপ বিপদাপন্ন করেছে- মূলতঃ মহিলা সম্পূর্ণ নির্দোষ ও নিঃস্কলঙ্ক।’

শলোমন তাদের কানাকানির এসব কথা শুনতে পেয়ে তখুনি দরবারে প্রবেশ করে বাদশার কাছে এই আর্জি পেশ করলেন, ‘হে রাজ্যাধিপতি! ন্যায় বিচারের স্বার্থে মহিলার বিরুদ্ধে প্রদেয় দন্ডাদেশ কার্যকরী করার পূর্বে স্বাক্ষীদের কাছ থেকে পুনঃরায় সাক্ষ্য গ্রহণ করা হোক।’
বাদশা দাউদ হেসে বললেন, ‘তবে তুমিই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ কর।’

দরবারে পুনঃরায় স্বাক্ষীদেরকে তলব করা হল। ১ম স্বাক্ষীকে শলোমন জিজ্ঞেস করলেন, ‘মহিলাটির শয্যায় যে কুকুরটিকে তুমি দেখেছ, সেটির গায়ের রং কি ছিল?’
সে ক্ষণকাল মৌণতাবলম্বণের পর বলল, ‘কাল বর্ণের।’
অতঃপর ২য় স্বাক্ষীকে তলব করা হল। সে হাজির হলে ঐ একই প্রশ্ন তাকে করা হল। সে উত্তর দিল, ‘কুকুরটি লাল বর্ণের ছিল।’
৩য় ও ৪র্থ স্বাক্ষীও ঐ একই প্রশ্নের উত্তরে কুকুরটির গাত্রবর্ণ ভিন্ন ভিন্ন বলল। 

সবশেষে শলোমন, বাদশা দাউদকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য একথাই প্রমান করে যে, মহিলার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট। সুতরাং একজন নিরাপরাধ, সম্ভান্ত মহিলার বিরুদ্ধে মিথ্যে কলঙ্ক আরোপের অভিযোগে কাজীদের ও স্বাক্ষীদের প্রত্যেককে সেই দন্ডই প্রদান করা হোক, যা মহিলাকে প্রদান করা হয়েছিল।’

দাউদ অভিযুক্তদেরকে দন্ডাদেশ শুনিয়ে দিয়ে রক্ষীদেরকে তা কার্যকর করতে আদেশ দিলেন।

উপরের ঘটনাগুলি এই ইঙ্গিতই করে যে, শলোমন প্রকৃতই তীক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন একজন অতিজ্ঞানী মানুষ ছিলেন। তবে অপ্রাপ্ত বয়সে তার রাজদরবারের বিচারে অংশগ্রহণ কিন্তু দাউদের সভাষদরা সহজভাবে নেননি। তারা এবিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। ফলে দাউদ এক পন্থা অবলম্বণ করলেন। Book of Chamis জানায়-

David, however, one day observed that the high tribunal over which he presided beheld with displeasure the interference of Solomon in their transactions, although they were obliged to confess that his views were always better than their own. The king therefore demanded of them to examine Solomon,in the face of all the great and noble men of his kingdom, in all the doctrines and laws of Moses. "If you have satisfied yourselves," he added, "that my son knows these perfectly, and consequently never pronounces an unjust judgment, you must not slight him by reason of his youth, if his views regarding the application of the law often differ from mine and yours. Allah bestows wisdom on whomsoever he pleaseth."

The lawyers were indeed persuaded of Solomon's erudition; nevertheless, hoping to confound him by all manner of subtle questions, and thus to increase their own importance, they accepted David's proposal, and made arrangements for a public examination. But their expectations were disappointed; for, before the last word of any question put to Solomon was yet pronounced, he had already given a striking answer, so that all present firmly believed that the whole matter had been arranged beforehand with his judges, and that this examination was instituted by David merely to recommend Solomon as his worthy successor to the throne. 


But Solomon at once effaced this suspicion, when, at the close of this examination he arose, and said to his judges, "You have exhausted yourselves in subtleties in the hope of manifesting your superiority over me before this great assembly; permit me now, also, to put to you a very few simple questions, the solution of which needs no manner of study, but only a little intellect and understanding. Tell me what is Every thing, and what is Nothing. Who is Something, and who is less than Nothing?" 


Solomon waited long; and when the judge whom he had addressed was not able to answer, he said, "Allah, the Creator, is Every thing, but the world, the creature, is Nothing. The believer is Something, but the hypocrite is less than Nothing." 


Turning to another, Solomon inquired, "Which are the most in number, and which the fewest? What is sweetest, and what most bitter?" but as the second judge also was unable to find a proper answer to these questions, Solomon said, "The most numerous are the doubters, and they who possess a perfect assurance of faith are the fewest in number. The sweetest is the possession of a virtuous wife, excellent children, and a respectable competency; but a wicked wife, undutiful children, and poverty are the most bitter." 


Finally, Solomon put the following questions to a third judge: "Which is the vilest, and which the most beautiful? What the most certain, and what the least so?" But these questions also remained unanswered, until Solomon said, "The vilest thing is when a believer apostatizes, and the most beautiful when a sinner repents. The most certain thing is Death and the Last Judgment, and the most uncertain, Life and the Fate of the Soul after the resurrection. You perceive," he then continued, "it is not the oldest and most learned that are always the wisest. True wisdom is neither of years nor of learned books, but only of Allah, the All-wise."


Solomon excited by his words the greatest astonishment in all that were present; and the heads of the people exclaimed with one voice, "Blessed be the Lord, who has given to our king a son who in wisdom surpasses all the men of his time, and who is worthy one day to sit on the throne of his father!" -(Book of Chamis, by Husein ibn Muhammed.) 

যাহোক এখন আমরা দাউদের রায় দানের বিষযটি বুঝতে চেষ্টা করি। আমরা উপরের সবকয়টি মোকদ্দমার ক্ষেত্রে দেখেছি যে, তিনি নিজেই তার সাবেক রায় ভঙ্গ করে দ্বিতীয় রায় জারি করেছেন। কোন বিচারকের কি এরূপ করার অধিকার আছে?

এর উত্তরে বলা যায় যে, কোন রায় যদি শরীয়ত সম্মত ইজতিহাদের উপর ভিত্তিশীল এবং ইজতিহাদের মূল নীতির অধীন হয়, তবে অন্য বিচারকের পক্ষে তা ভঙ্গ করা জায়েজ নয়। কেননা এই নীতি প্রবর্তিত হলে মহা অনর্থ দেখা দেবে। তবে যদি রায় প্রদানকারী স্বয়ং ইজতিহাদের মূলনীতি অনুযায়ী রায় দানের পর ইজতিহাদের দৃষ্টিকোন থেকে দেখেন যে, ১ম রায় ও ১ম ইজতিহাদে ভুল হয়ে গেছে, তবে তা পরিবর্তণ করা শুধু জায়েজ নয় বরং উত্তম।


বি:দ্র: শলোমনের দরবারের কিছু বিচার অবশ্য ইহুদিদের রাব্বানিক সাহিত্য ও অন্যান্য পুস্তকে পাওয়া যায়। একটি উদাহরণ এখানে দেয়া হল-- 


Asmodeus brought before Solomon from under the earth a man with two heads, who, being unable to return to his native place, married a woman from Jerusalem. She bore him seven sons, six of whom resembled the mother, while one resembled the father in having two heads. 


After their father's death, the son with two heads claimed two shares of the inheritance, arguing that he was two men; while his brothers contended that he was entitled to one share only. 


They appealed to Solomon, whose sagacity enabled him to decide that the son with two heads was only one man; and the king consequently rendered judgment in favor of the other six brothers" (comp. "R. E. J." xlv. 305 et seq.). 

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia.

Solomon: বিলকিস ও শলোমনের কাহিনী।

খোদার উপাসনার জন্যে একটি উপাসনালয় নির্মাণ করার পরিকল্পণা দাউদের ছিল। এজন্যে তিনি সমস্ত উপকরণও প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু তার কাছে এবিষয় প্রকাশিত হয়েছিল যে, এটি নির্মাণ করার মর্যাদা তার পক্ষে লাভ করা সম্ভব নয়, কেননা তার হাত রক্ত রঞ্জিত। তাই তিনি মৃত্যুর পূর্বে তার পুত্র শলোমনের উপর এই দায়িত্বভার দিলেন।

শলোমন ও তার সভাষদ।
উপাসনালয় নির্মাণ শুরুর পূর্বে শলোমন খোদার করুণা ও দয়া পাবার আশায় এক বিরাট জনতা সঙ্গে নিয়ে জেরুজালেম থেকে ছয় মাইল উত্তরে গিবিয়োনে যান কোরবানী করতে কারণ সেখানেই প্রধান উচ্চস্থলী ছিল। দাউদের সময় খোদার গৃহ তৈরী না হওয়ায় লোকেরা বিভিন্ন উচ্চস্থলীতে কোরবানী করত। যাহোক, শলোমনের এই যাত্রায় জ্বীন, মানুষ ও পশুপক্ষীর ভিন্ন ভিন্ন দল ছিল। শলোমন যখনই কোথাও যেতেন, এসব পাখি ও পশুর দল নির্দিষ্ট বিন্যাসে বিন্যস্ত হয়ে যেত।

গিবিয়োনে এক হাজার পশু কোরবানী দিলেন। অত:পর রাত্রে তিনি প্রার্থনায় নিমগ্ন হলেন। আল্লাহর কাছে বিনম্র বাদশা দীর্ঘ জীবন, ধন-সম্পদ ইত্যাদি না চেয়ে চাইলেন জ্ঞানলাভ, যাতে তিনি তার লোকদের সুবিচার করতে এবং ভাল-মন্দের পার্থক্য নির্ণয় করতে পারেন। আল্লাহ তার প্রার্থনা কবুল করেন এবং বলেন, ‘হে শলোমন; তুমি যা চেয়েছ তাই আমি তোমাকে দেব। আমি তোমাকে এমন জ্ঞান ও বিচার বুদ্ধি দিলাম যার মত এর আগে আর কেউ ছিল না আর পরেও হবে না। এছাড়াও আমি তোমাকে এমন ধন-দৌলত ও সম্মান দিলাম যদ্রুপ তোমার পরে বাদশাগণের মধ্যে আর কেউ প্রাপ্ত হবে না।’

উপাসনালয়টি নির্মাণ করতে বিশাল পরিকল্পণা নেয়া হয়েছিল। সুদক্ষ স্থপতি, নির্মাণকারী এবং প্রয়োজনীয় কাঠ, টায়ার বা সোরের রাজা হীরমের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। শলোমন, হীরমকে জানিয়েছিলেন-‘আমি আমার প্রভু, সর্বশক্তিমান খোদার উদ্দেশ্যে একটা উপাসনাগৃহ তৈরী করতে চাই। তিনি আমার পিতা দাউদকে বলেছিলেন, তোমার যে পুত্র তোমার সিংহাসনে বসবে, সে-ই আমার গৃহ নির্মাণ করবে।’ -কাজেই আপনি হুকুম করুন যেন আমার জন্যে লেবাননের বন থেকে এরস গাছ কাটা হয়। অবশ্য আমার লোকেরা আপনার লোকদের সঙ্গে থাকবে এবং আপনি যে মুজুরী ঠিক করে দেবেন আমি সেই মুজুরীই আপনার লোকদেরকে দেব। আপনি তো জানেন, গাছ কাটার কাজে সীদোনীয়দের মত দক্ষ লোক আমাদের মধ্যে কেউ নেই।’


হীরম উত্তরে জানাল, ‘আমি আপনার কাছে হীরাম নামে একজন খুব দক্ষ ও বুদ্ধিমান লোককে পাঠালাম। তার মা দান গোষ্ঠির, আর পিতা সোরের লোক। সে সব ধরণের খোঁদাই করার কাজে দক্ষ এবং সে মসীনার সূতার কাজও জানে। সে আপনার কারিগরদের সঙ্গে কাজ করবে।


--এরস ও বেরস কাঠের ব্যাপারে আপনার সব ইচ্ছেই আমি পূর্ণ করব। আমার লোকেরা সেগুলি লেবানন থেকে নামিয়ে সমুদ্রে আনবে। তারপর সেগুলি ভাসিয়ে আপনার নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাবে। আপনি শুধু আমার প্রাসাদের লোকদের জন্যে আহার্য সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতি একটু খেয়াল রাখবেন।’


এরস গাছগুলি লেবাননের বন থেকে কেটে সমুদ্রোপকূল পর্য্যন্ত ভাসিয়ে এনে, পরে পার্বত্য পথ দিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে আসা হয়েছিল। আর নিকটবর্তী খাদসমূহ থেকে পাথর কেটে নির্মাণ উপযোগী করে নেয়া হয়েছিল। প্রচুর লোক এসব কাজ করেছিল। কাজ করেছিল বেশ কিছু জ্বীনও- যারা ছিল শ্রমিক, ডুবুরী ও স্থপতি। তারা শলোমনের ইচ্ছে অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের কাজ করত।


নির্মাণ কাজ বাদশা শলোমন নিজেই দেখাশুনো করতেন। আর জ্বীনেরা তার সামনে বসে কাজ করত। তারা বাদশার ইচ্ছে অনুযায়ী প্রাসাদ, ভাস্কর্য, পানির হৌজের মত পাত্র ও চুল্লির জন্যে বড় ডেগ তৈরী করত। এই সকল কাজ করতে প্রচুর তামার দরকার হয়েছিল। শলোমন প্রয়োজনীয় তামা তার বেটহ ও বেরোথা নগর থেকে সংগ্রহ করতেন। সেখানে এত পরিমান তামা মজুদ ছিল, যেন তা এক গলিত তামার ঝর্ণা। এই তামা এসব বস্তু তৈরীর কাজে ব্যাবহৃত হত। আল্লাহ বলেছিলেন, ‘হে দাউদ পরিবার! তোমরা কৃতজ্ঞতার সাথে কাজ করতে থাক।’


এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- ‘...আমি তার (শলোমনের) জন্যে গলান তামার এক ঝর্ণা বইয়ে ছিলাম। আল্লাহর অনুমতিক্রমে বেশকিছু জ্বীন তার সামনে কাজ করত।...(৩৪:১২) ওরা শলোমনের ইচ্ছে অনুযায়ী প্রাসাদ, ভাস্কর্য, পানির হৌজের মত পাত্র ও চুল্লির জন্যে বড় ডেগ তৈরী করত। (আমি বলেছিলাম), ‘হে দাউদ পরিবার! তোমরা কৃতজ্ঞতার সাথে কাজ করতে থাক।...’(৩৪:১৩)


সিডার গাছ কাটার জন্যে ত্রিশ হাজার লোক নিয়োগ করা হয়েছিল এবং প্রত্যেক তৃতীয় মাসে দশ হাজার লোক পালাক্রমে কাজ করেছিল। পাথর কাটতে আশি হাজার এবং সাধারণ শ্রমের জন্যে সত্তুর হাজার লোক নিয়োগ পেয়েছিল। এদের উপর ছিল বিরাট সংখ্যক কর্মাধ্যক্ষ। নির্মাণের সকল বস্তু পূর্বেই সতর্কভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল, তাই এই সুবিশাল ভবনটি নির্মাণকালে গৃহের মধ্যে হাতুড়ি, বাটাল বা আর কোন লৌহ যন্ত্রের শব্দ শুনা গেল না। এতো গেল এক কথায় বর্ণনা, কিন্তু প্রকৃত ঘটেছিল কি তা এখন আমরা দেখব।


গিবিযোনে পশু উৎসর্গ শেষে শলোমন যখন জেরুজালেমে ফিরলেন, তখন রীতিমত উপাসনালয়ের কাজে ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রীর তৈরীর কাজ পূর্ণউদ্যমে শুরু হয়ে গেছে। আর এ কারণে he heard such a noise, proceeding from the constant hammering of the genii, who were occupied with the building of the temple, that the inhabitants of Jerusalem were no longer able to converse with each other. He therefore commanded the Jinns to suspend their labors, and inquired whether none of them was acquainted with a means by which the various metals might be wrought without producing such a clamor. Then there stepped out one from among them, and said, "This is known only to the mighty Sachr; but he has hitherto succeeded in escaping from thy dominion."


"Is, then, this Sachr utterly inaccessible?" inquired Solomon.

"Sachr," replied the genius, "is stronger than all of us put together, and is as much our superior in swiftness as in power. Still, I know that he drinks from a fountain in the province of Hidjr once in every month. Perhaps thou mayest succeed, O wise king! to subdue him there to thy scepter."

Solomon commanded forthwith a division of his swift-flying genii to empty the fountain, and to fill it with intoxicating liquor. Some of them he then ordered to linger in its vicinity until they should see Sachr approaching, and then instantly to return and bring him word. A few weeks afterward, when Solomon was standing on the terrace of his palace, he beheld a genius flying from the direction of Hidjr swifter than the wind. The king inquired of him if he brought news respecting Sachr. 

"Sachr is lying overcome with wine at the brink of the fountain," replied the genius, "and we have bound him with chains as massive as the pillars of thy temple; but he will burst them asunder as the hair of a virgin when he has slept off his wine."

Solomon then mounted hastily the winged genius, and in less than an hour was borne to the fountain. It was high time, for Sachr had already opened his eyes again; but his hands and feet were still chained, so that Solomon set the signet on his neck without any hinderance. Sachr uttered such a cry of woe that the whole earth quaked; but Solomon said to him, "Fear not, mighty genius! I will restore thee to liberty as soon as thou shalt indicate the means whereby I may work the hardest metals without noise."

"I myself know of no such," replied Sachr; "but the raven will best be able to advise thee. Take only the eggs from a raven's nest, and cover them with a crystal bowl, and thou shalt see how the mother-bird shall cut it through."

Solomon followed Sachr's advice. A raven came and flew about the bowl; but, finding that she could not get access to the eggs, she flew away, and a few hours afterward reappeared with a stone in her beak, called Samur, which had no sooner touched the bowl than it fell in two halves.
"Whence hast thou this stone?" inquired Solomon of the raven.
"From a mountain in the distant west," replied the raven.

Solomon then commanded some of the genii to follow the raven to the mountain, and to procure more of these stones; but Sachr he set free again, according to his promise. When the chains were taken from him, he shouted with exultation; but his joy sounded in Solomon's ear like the laughter of scorn. As soon as the spirits returned with the Samur stones, he caused himself to be carried back to Jerusalem by one of them, and divided the stones among the genii, who could now continue their labors without making the slightest noise.-(Book of Chamis, by Husein ibn Muhammed.) 

যাহোক, এই উপাসনালয়ের নির্মাণ কাজে স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র এবং অন্যান্য ধাতুও ব্যাবহার করা হয়েছিল। আকারের জন্যে নয় কিন্তু এর জাঁকজমক এবং এটি নির্মাণে ব্যবহৃত বস্তুসমূহের জন্যে এটি জগৎ বিখ্যাত হয়েছিল।

ইস্রায়েলীদের মিসর ত্যাগের ৪৮০ তম বৎসরে, শলোমনের রাজত্বের ৪র্থ বৎসরের ২য় মাস তথা সিব মাসে উপাসনালয়টির ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল আর তা শেষ হয়েছিল এগারতম বৎসরের ৮ম মাস তথা বুল মাসে; অর্থাৎ সম্পূর্ণ নির্মাণ শেষ হতে সময় লাগল সাড়ে সাত বৎসর। দৃষ্টি নন্দন, অপূর্ব সুন্দর এই উপাসনালয়টি আয়তাকারে পূর্বদিকে মুখ করে তিন স্তরে নির্মিত হয়েছিল। প্রথম প্রাঙ্গনটি সাধারণদের জন্যে, তার উপরে ইস্রায়েলীদের জন্যে এবং উঁচুতে ছিল ঈমামদের প্রাঙ্গণ; অর্থাৎ উপাসনালয়টি ছিল তিনটি সাধারণ ভাগে বিভক্ত, প্রথমটি বারান্দা, পরেরটি পবিত্রস্থান এবং সর্বশেষটি মহাপবিত্র স্থান। বারান্দাটি ছিল পনের ফুট চওড়া, ত্রিশ ফুট লম্বা এবং পঁয়তাল্লিশ ফুট উঁচু। এখানে দু’টি অত্যন্ত কারুকার্য খঁচিত স্তম্ভ ছিল, যার একটির নাম যাঁচল (স্থিতিশীলতা) এবং অপরটি বোঁয়াজ (শক্তি)।


পবিত্র স্থানটি ছিল ত্রিশ ফুট প্রস্থ, ত্রিশ ফুট দৈর্ঘ্য ও পঁয়তাল্লিশ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট। এটি কর্তিত পাথর এবং স্বর্ণ মোড়ান এরস গাছের তক্তা দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। এই কক্ষে ছিল স্বর্ণ নির্মিত ধূপবেদী, দর্শণ রুটির টেবিল এবং স্বর্ণ নির্মিত দশটি বাতিদান।


পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত মহাপবিত্র স্থানটি ছিল একেবারে চতুস্কোন বিশিষ্ট। এর উচ্চতা, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সবই ছিল ত্রিশ ফুট করে। এটি সুন্দর এবং মহামূল্যবান একটি পর্দা দ্বারা বিচ্ছিন্ন ছিল। এখানে বিশাল করূব (ঈগলের আকৃতি বিশিষ্ট এই মূর্ত্তিটির চারটি মুখের অপর তিনটি ছিল-মানুষের, সিংহের ও ষাঁড়ের) ও সরাফ ছিল। এখানেই নিয়ম সিন্দুক এনে রাখা হয়েছিল। এই কক্ষটিকে খোদার উপস্থিতির স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হত। এখানে শুধুমাত্র মহাঈমাম মহা প্রায়শ্চিত্তের দিনে, বৎসরে একবার জাতির প্রায়শ্চিত্তের জন্যে প্রবেশ করতেন।


উপাসনালয়টি নির্মাণ শেষে প্রতিষ্ঠার উৎসব পালন করা হয়। উৎসব পালিত হয়েছিল সপ্তাহব্যাপী। এরপর দু’সপ্তাহ কাল ধরে কুটিরবাস পর্ব পালন করা হল। অতঃপর শলোমন প্যালেস কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজে হাত দিলেন। পাঁচটি দালানের এই কমপ্লেক্স নির্মাণে এক যুগেরও বেশী সময় (তের বৎসর) লেগেছিল।


শলোমনের প্রাসাদ।
দক্ষিণ দিকের প্রথম ইমারতটি ছিল ৪৫টি এরস কাঠের স্তম্ভের উপর। এই গৃহটি ছিল দেড়’শ ফুট দৈর্ঘ্য, পঁচাত্তুর ফুট প্রস্থ এবং পঁয়তাল্লিশ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট। এটি একটি অস্ত্রাগার এবং সম্মেলন কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হত। এর পরেরটি ছিল পঁচাত্তুর ফুট দৈর্ঘ্য ও পঁয়তাল্লিশ ফুট প্রস্থের এক কক্ষ বিশিষ্ট ভবন। এটি রাজদরবার কক্ষের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হত এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে এখানে সম্ভর্ধনা দেয়া হত।

৩য় ভবনটি রাজদরবার কক্ষ। এটি ছিল অত্যন্ত বিশিষ্ট ভাবে অলংকৃত এবং অত্যন্ত সুন্দর ভাবে সজ্জিত। শলোমনের সিংহাসনটি এই কক্ষে ছিল। এই সিংহাসন ছিল অলংকৃত হাতীর দাঁতের তৈরী এবং স্বর্ণ মোড়ান। আসনের উভয় পার্শ্বে হাতা ছিল, আর তার পশ্চাৎ দিকটা ছিল গোলাকার; আর হাতার নিকটে ছিল দন্ডায়মান দু‘টি সিংহ মূর্ত্তি। সিংহাসনে উঠার সিঁড়ি ছিল ছয় ধাপ বিশিষ্ট এবং ধাপগুলির প্রত্যেক প্রান্তে ছিল দন্ডায়মান ছয়টি সিংহ।

পরেরটি বাদশা শলোমনের নিজস্ব প্রাসাদ। এটি অত্যন্ত বিশাল আকৃতির। তার বিরাট পরিবারের সদস্যরা এখানে বসবাস করত। স্ফটিকের তৈরী এই প্রাসাদ সৌন্দর্য্য এবং জাঁকজমকের দিক দিয়ে ছিল অপূর্ব।


৫ম ভবনটি শলোমনের নিজস্ব প্রাসাদ সংলগ্ন ছিল। এটিও একটি আবাসগৃহ। এখানে তার মিসরীয় স্ত্রী, ফারাও রাজকন্যা বাস করত। ফেরাউন তার এই কন্যাকে গেষর নগরী বিবাহে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। বিবাহের পর শলোমন তার এই স্ত্রীকে সিয়োন বা দাউদ নগরে এনে রেখেছিলেন। অত:পর এই প্রাসাদ নির্মিত হলে সে বসবাসের নিমিত্তে এখানে চলে আসে।


Solomon in a dream is advised by Abraham (after the building of the Temple) to undertake a pilgrimage to Mecca. 


ঘটেছিল এমন- One night Abraham appeared to him in a dream, and said, "Allah has distinguished thee above all other men by thy wisdom and power. He has subjected to thy rule the genii, who are erecting a temple at thy command, the like of which the earth has never borne before; and thou ridest on the winds as I once rode on Borak, who shall dwell in Paradise until the birth of Mohammed. Show thyself grateful, therefore, unto the only God, and, taking advantage of the ease with which thou canst travel from place to place, visit the cities of Yathrib, where the greatest of prophets shall one day find shelter and protection, and of Mecca, the place of his birth, where now the holy temple stands which I and my son Ismael rebuilt after the flood."


The next morning, Solomon proclaimed that he would undertake a pilgrimage to Mecca, and that each and every Israelite would be permitted to accompany him. There immediately applied so many pilgrims, that Solomon was obliged to have a new carpet woven by the spirits, two leagues in length and two in breadth.


The empty space which remained he filled with camels, oxen, and smaller cattle, which he designed to sacrifice at Mecca, and to divide among the poor.


For himself he had a throne erected, which was so studded with brilliant jewels that no one could raise his eyes to him. The men of distinguished piety occupied golden seats near the throne: the learned were seated on silver, and part of the common people on wood. The genii and demons were commanded to fly before him, for he trusted them so little that he desired to have them constantly in his presence, and therefore always drank out of crystal cups so as never to lose sight of them, even when he was compelled to satisfy his thirst. But the birds he directed to fly above the carpet in close array, to protect the travelers from the sun.


When the arrangements were complete, and men, spirits, birds, and beasts were assembled, he commanded the eight winds to raise up the carpet, with all that it contained, and to carry it to Medina. 


এই যাত্রায় -A genius pursued the straightest course, and thus at a time they flew over the valley of ants, which is surrounded by such lofty cliffs, and deep, impassable ravines, that no man had been able to enter it before.


আর যখন তারা পিঁপড়েদের উপত্যকায় পৌঁছিলেন ঐ সময় শলোমন শুনতে পেলেন নীচের এক পিঁপড়া চিৎকার করে বলছে, ‘পিঁপড়েরা! তোমরা তোমাদের গৃহে প্রবেশ কর, না হলে শলোমন ও তার বাহিনী তোমাদেরকে ধ্বংস করে ফেলবে আর তারা সেটা টেরও পাবে না।’


শলোমন পিঁপড়ের এ কথা শুনতে পেয়ে বিষ্মিত হলেন। এই ক্ষুদ্রাদিক্ষুদ্র জীব- তারাও তার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল! কৃতজ্ঞতায় তার হৃদয় পূর্ণ হল। তিনি দু‘হাত বাড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সামর্থ্য দাও যেন আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি- যে অনুগ্রহ তুমি করেছ আমার ও আমার পিতামাতার উপর তার জন্যে। -আমি যেন সৎকাজ করতে পারি যা তুমি পছন্দ কর, আর তোমার অনুগ্রহে আমাকে তোমার সৎকর্মপরায়ণ দাসদের শামিল কর।’


অবশ্য পিঁপড়ার এই কাহিনী নিয়ে আরও গল্প প্রচলিত আছে, যেমন- "While sailing over a valley where there were many swarms of ants, Solomon heard one ant say to the others, 'Enter your houses; otherwise Solomon's legions will destroy you.'

শলোমন পিঁপড়ার সঙ্গে কথা বলছেন।
The king asked why she spoke thus, and she answered that she was afraid if the ants looked at Solomon's legions they might be turned from their duty of praising God, which would be disastrous to them. She added that, being the queen of the ants, she had in that capacity given them the order to retire.

Solomon desired to ask her a question; but she told him that it was not becoming for the interrogator to be above and the interrogated below. Solomon thereupon brought her up out of the valley; but she then said it was not fitting that he should sit on a throne while she remained on the ground.


Solomon now placed her upon his hand, and asked her whether there was any one in the world greater than he. The ant replied that she was much greater; otherwise God would not have sent him there to place her upon his hand. The king, greatly angered, threw her down, saying, 'Dost thou know who I am? I am Solomon, the son of David!'


She answered: 'I know that thou art created of a corrupted drop [comp. Ab. iii. 1]; therefore thou oughtest not to be proud.' Solomon was filled with shame, and fell on his face. -(Jellinek, l.c. v. 22 et seq.).


আবার- But, on the other hand, the queen of the ants, which had never seen a human being, was in no small trouble on perceiving the king, and cried to her subjects, "Retire quickly to your caverns!"


But Allah said to her, "Assemble all thy vassals, and do homage to Solomon, who is king of the whole creation."


Solomon, to whom the winds had wafted these words, then at a distance of six leagues, descended to the queen, and in a short time the whole valley was covered with ants as far as his eye could reach. Solomon then asked the queen, who was standing at their head, "Why fearest thou me, since thy hosts are so numerous that they could lay waste the whole earth?"


"I fear none but Allah," replied the queen; "for if my subjects which thou now beholdest were threatened with danger, seventy times their number would appear at a single nod from me."


"Why, then, didst thou command thy ants to retire while I was passing above thee?"
"Because I feared lest they might look after thee, and thus forget their Creator for a moment."
"Is there any favor that I may show thee ere I depart?" inquired Solomon.
"I know of none: but rather let me advise thee so to live that thou mayest not be ashamed of thy name, which signifies 'The Immaculate;' beware also of ever giving away thy ring without first saying, 'In the name of Allah the All-merciful.'"

Solomon once more exclaimed, "Lord, thy kingdom is greater than mine!" and took leave of the queen of ants. --(Book of Chamis, by Husein ibn Muhammed.)


এখন আমরা এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ দেখব- ‘শলোমনের সামনে তার বাহিনী জ্বীন, মানুষ, ও পাখীদেরকে সমবেত করা হল এবং তাদের বিভিন্ন বুহ্যে বিন্যস্ত করা হল। যখন ওরা পিঁপড়েদের উপত্যকায় পৌঁছিল তখন এক পিঁপড়ে বলল, ‘পিঁপড়েরা! তোমরা তোমাদের ঘরে ঢোক না হলে শলোমন ও তার বাহিনী তোমাদেরকে ধ্বংস করে ফেলবে আর তারা সেটা টেরও পাবে না।’ 


শলোমন ওর কথায় মুচকি হাসল ও বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সামর্থ্য দাও যেন আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি আমার উপর ও আমার পিতা মাতার উপর তুমি যে অনুগ্রহ করেছ তার জন্যে, আর আমি যেন সৎকাজ করতে পারি যা তুমি পছন্দ কর, আর তোমার অনুগ্রহে আমাকে তোমার সৎকর্মপরায়ণ দাসদের শামিল কর।’-(২৭:১৭-১৯)


After a stay of three days, King Solomon resolved to return again to Jerusalem. But suddenly he notices the absence of the Hoopoe (Hudhud).


প্রকৃত পক্ষে হুদহুদ যে নেই তা শলোমন বুঝতে পারলেন এভাবে- When the birds had unfolded their wings, and the carpet was already in motion, he discovered a ray of light striking upon it, whence he concluded that one of his birds had left its post. 


He therefore summoned the eagle, and directed him to call over the names of all the birds, and to report which was absent. The eagle obeyed, and soon came back with the answer that the Hoopoe was wanting.


হুদহুদের এই অনুপস্থিতি শলোমনকে রাগান্বিত করল। তাই তিনি বললেন, ‘হুদহুদকে দেখছিনে কেন? সে কি উধাও হয়েছে? সে উপযুক্ত কারণ না দর্শালে আমি তো তাকে কঠিন শাস্তি দেব কিংবা হত্যা করব।’


হুদহুদ পাখি।
শলোমনের এই রাগের আরও কারণ হল তিনি হুদহুদকে তার সার্বক্ষণিক এটেন্টডেন্ট নিযুক্ত করেছিলেন (Solomon chose the Cock and the Hoopoe for his constant attendants. The one, on account of his monitory sentence, and the other, inasmuch as his eyes, piercing as they do through the earth as if it were crystal, enabled him during the travels of the king to point out the place where fountains of water were hid, so that water never failed Solomon, either to quench his thirst, or to perform the prescribed ablutions before prayer.-Book of Chamis, by Husein ibn Muhammed.), অথচ সে তার দায়িত্ব পালন না করে অনুপস্থিত রয়েছে।

যাহোক, সে হুদহুদ দেরী না করে এসে পড়ল ও বলল, ‘আমি এমনসব তথ্য লাভ করেছি যা আপনাদের জানা নেই, আর সাবা থেকে সঠিক খবর নিয়ে এসেছি।


আমি এক নারীকে দেখলাম সেই জাতির উপর রাজত্ব করছে। তাকে সবই দেয়া হয়েছে ও তার আছে এক বিরাট সিংহাসন। আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্য্যকে সিজদা করছে। শয়তান ওদের কাছে ওদের কাজকর্ম শোভন করেছে ও ওদেরকে সৎপথ থেকে দূরে রেখেছে, আর যেন ওরা সৎ পথ না পায় এবং যিনি আকাশ ও পৃথিবীর গোপন বিষয়কে প্রকাশ করেন, যিনি জানেন যা মানুষ গোপন করে ও যা তারা প্রকাশ করে, সেই আল্লাহকে যেন ওরা সিজদা না করে। আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তিনিই মহা আরশের অধিপতি।’


শলোমন বললেন, ‘আমি দেখব, তুমি সত্যি বলছ না মিথ্যে বলছ? তুমি আমার এই পত্র নিয়ে যাও। এ তাদের কাছে দিয়ে এসো। তারপর তাদের কাছ থেকে সরে পড় ও দেখ তারা কি উত্তর দেয়।’


এদিকে শলোমনকে দাঁড়িয়ে পাখীদের সঙ্গে বিড়বিড় করতে দেখে লোকেরা অবাক হল। শলোমন তা বুঝতে পেরে সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘হে মানুষ! আমাকে পাখীদের ভাষা বুঝবার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে এবং আমাকে সবই দেয়া হয়েছে, এ তো আল্লাহর স্পষ্ট অনুগ্রহ আমার প্রতি।’ 

হুদহুদ চিঠি নিয়ে উড়ে চলল। আর শলোমন তার বাহিনী নিয়ে জেরুজালেমের দিকে ফিরে চললেন।

আর হুদহুদের কাহিনী রাব্বানিক সাহিত্যে (Rabbinical Literature) আছে এমন- "Solomon, when merry from wine, used to assemble before him all the kings, his vassals, and at the same time ordered all the other living creatures of the world to dance before them. One day, the king, observing that the mountain-Cock or Hoopoe was absent, ordered that the bird be summoned forthwith.

When it arrived it declared that it had for three months been flying hither and thither seeking to discover some country not yet subjected to Solomon, and had at length found a land in the East, exceedingly rich in gold, silver, and plants, whose capital was called "Kitor" and whose ruler was a woman, known as 'the Queen of Saba (Sheba).' 


The bird suggested that it should fly to the queen and bring her to Solomon. The king approved this proposal; and Solomon, accordingly, caused a letter to be tied to the Hoopoe's wing, which the bird delivered to the queen toward the evening as she was going out to make her devotions to the sun."-(Targum Sheni) 


যাহোক, এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ এমন- ‘শলোমন বলেছিল, ‘হে মানুষ! আমাকে পাখীদের ভাষা বুঝবার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে এবং আমাকে সবই দেয়া হয়েছে, এ তো স্পষ্ট অনুগ্রহ।’(২৭:১৬)

শলোমন পাখির দলকে ভাল করে দেখল ও বলল, ‘হুদহুদকে দেখছিনে কেন? সে কি উধাও হয়েছে? সে উপযুক্ত কারণ না দর্শালে আমি তো তাকে কঠিন শাস্তি দেব কিংবা মেরে ফেলব।’ 


সে (হুদহুদ) দেরী না করে এসে পড়ল ও বলল, ‘আমি এমন সব তথ্য লাভ করেছি যা তোমাদের জানা নেই, আর সাবা থেকে সঠিক খবর নিয়ে এসেছি। আমি এক নারীকে দেখলাম সেই জাতির উপর রাজত্ব করছে। তাকে সবই দেয়া হয়েছে ও তার আছে এক বিরাট সিংহাসন। আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্য্যকে সিজদা করছে। শয়তান ওদের কাছে ওদের কাজকর্ম শোভন করেছে ও ওদের সৎপথ থেকে দূরে রেখেছে যেন ওরা সৎপথ না পায় এবং যিনি আকাশ ও পৃথিবীর গোপন বিষয়কে প্রকাশ করেন, যিনি জানেন যা তোমরা গোপন কর ও যা তোমরা প্রকাশ কর, সেই আল্লাহকে যেন ওরা সিজদা না করে। আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তিনিই মহাআরশের অধিপতি।’ 


শলোমন বলল, ‘আমি দেখব, তুমি সত্যি বলছ না মিথ্যে বলছ? তুমি আমার এ চিঠি নিয়ে যাও। এ তাদের কাছে দিয়ে এসো। তারপর তাদের কাছ থেকে সরে পড় ও দেখ তারা কি উত্তর দেয়।’-(২৭:২০-২৮)


হুদহুদ বাদশা শলোমনের মোহরকৃত পত্র নিয়ে সাবার রাজপ্রসাদে পৌঁছিল। অতঃপর গবাক্ষ পথে রানী বিলকিসের শয়নকক্ষে প্রবেশ করল। বিলকিস এ সময় নিদ্রামগ্ন ছিলেন। হুদহুদ পত্রখানা বিলকিসের বুকের উপর রেখে জানালার উপর অংশে বসে রইল এ জানার অপেক্ষায় যে, বাদশার আদেশ মত প্রাপককে তার পত্রখানা নিশ্চিত বুঝিয়ে দিতে পেরেছে।

একসময় ঘুম ভাঙ্গল বিলকিসের। তিনি একখানা মোহরকৃত পত্র তার বুকের উপর পড়ে থাকতে দেখতে পেলেন। বিষ্মিত হলেন তিনি। পত্র এল কোথা থেকে? তার অনুমতি ব্যতিত কারও তো কক্ষে প্রবেশ করার কথা নয়! তিনি উঠে বসে পত্রটি হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখলেন। অতঃপর কক্ষের চারিদিকে দৃষ্টিপাত করলেন। এ সময় জানালার উপর বসে থাকা হুদ হুদের প্রতি দৃষ্টি পড়ল তার। পাখীটি তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। এসময়ই গবাক্ষ পথে উড়ে চলে গেল সেটি।

রানী বিলকিস মোহর খুলে পত্র পাঠে মনোনিবেশ করলেন। অতঃপর পাঠ শেষে তৎক্ষণাৎ এক জরুরী পরামর্শে তার পরিষদবর্গকে ডাকলেন তিনি। পরামর্শ সভায় তিনি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘পরিষদবর্গ! আমাকে এক সম্মানিত পত্র দেয়া হয়েছে, শলোমনের কাছ থেকে। আর তা এই-
পরম করুণাময়, পরম দয়াময় আল্লাহর নামে- 
‘অহংকার করে আমাকে অমান্য কোরও না, আনুগত্য স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও।’

পাঠ শেষে ক্ষণকাল নিরবতার পর বিলকিস বললেন, ‘পরিষদবর্গ! আমাদের এই কঠিন সমস্যায় তোমাদের পরামর্শ দাও; আমি যা করি তা তো তোমাদের উপস্থিতিতেই করি।’ 
তারা বলল, ‘আমরা তো শক্তিশালী ও কঠোর যোদ্ধা; তবে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা আপনার, কি নির্দেশ দেবেন তা আপনিই ভেবে দেখুন।’ 
বিলকিস বললেন, ‘রাজা বাদশারা যখন কোন জনপদে প্রবেশ করেন, তখন তাকে বিপর্যস্ত করে দেন ও সেখানকার মর্যাদাবান ব্যক্তিদেরকে অপদস্থ করেন; ইনিও তাই-ই করবেন। আমি তার কাছে উপঢৌকন পাঠাচ্ছি। দেখি দূতেরা কি উত্তর আনে।’ 
সভাষদরা তার এই প্রস্তাবকে উত্তম বিবেচনা করল। সুতরাং তারা বলল, ‘তথাস্ত।’

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ-(শেবার রানী বিলকিস) বলল, ‘পরিষদবর্গ! আমাকে এক সম্মানিত পত্র দেয়া হয়েছে, শলোমনের কাছ থেকে। আর তা এই-
পরম করুণাময়, পরম দয়াময় আল্লাহর নামে- 
অহংকার করে আমাকে অমান্য কোরও না, আনুগত্য স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও।’

(বিলকিস) বলল, ‘পরিষদবর্গ! আমার এ সমস্যায় তোমাদের পরামর্শ দাও; আমি যা করি তা তো তোমাদের উপস্থিতিতেই করি।’ 
ওরা বলল, ‘আমরা তো শক্তিশালী ও কঠোর যোদ্ধা; তবে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা আপনার, কি নির্দেশ দেবেন তা আপনিই দেখুন।’ 
বিলকিস বলল, ‘রাজা বাদশারা যখন কোন জনপদে প্রবেশ করে তখন তাকে বিপর্যস্ত করে দেয় ও সেখানকার মর্যাদাবান ব্যক্তিদেরকে অপদস্থ করে; এরাও তাই-ই করবে। আমি তার কাছে উপঢৌকন পাঠাচ্ছি। দেখি দূতেরা কি উত্তর আনে।’(২৭:২৯-৩৫) 

প্রাচীন জেরুজালেম নগরী।
রানী বিলকিসের দূত নিজেদের মূল্যবান উপঢৌকনাদি সম্পর্কে গর্বিত ছিল। যখন তারা প্রাসাদ দ্বারে পৌঁছিল, তখন তারা দেখতে পেল প্রাসাদ থেকে নেমে আসা পথটি সম্পূর্ণ স্বর্ণ এবং রৌপ্যের স্কয়ার ব্লকসমূহ দ্বারা সুসজ্জ্বিত করে নির্মিত। এই পথের দু‘ধারে সাঁরিবদ্ধ ভাবে নিশ্চল দাঁড়িয়ে অলস সময় কাটাচ্ছে বিভিন্ন ধরণের পশু, যাদের কিছু মলমূত্র ত্যাগ করেছে ঐ সুসজ্জ্বিত পথের উপর। এসব দেখে তারা যেমন বিষ্মিত হল, তেমনি নিজেদের আনীত উপঢৌকনাদিকে নগণ্য মনে করে লজ্জিতও হয়ে পড়ল। 

দূতেরা দরবারে প্রবেশ করল। শলোমন তাদেরকে হাসিমুখে গ্রহণ করলেন। অতঃপর তারা তাদের উপঢৌকনাদি প্রদান করল। এই উপঢৌকনাদির মধ্যে ছিল কয়েক তাল স্বর্ণ, কিছু হীরা। আর ছিল একশত গোলাম ও একশত দাসী। এই সকল দাস-দাসীর নারীদেরকে পুরুষ বেশে এবং পুরুষদেরকে নারী বেশে সজ্জ্বিত করে আনয়ন করা হয়েছিল।

শলোমন উপঢৌকনাদি দেখে অসন্তুষ্ট হয়ে দূতদেরকে বললেন, ‘তোমরা কি আমাকে ধন-সম্পদ দিয়ে সাহায্য করতে চাও? আল্লাহ তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তার চেয়ে উত্তম জিনিস দিয়েছেন আমাকে, অথচ তোমরা তোমাদের উপঢৌকন দিয়ে উৎফুল্ল বোধ করছ। তোমরা ফিরে যাও, আমি অবশ্যই ওদের বিরুদ্ধে এমন এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে উপস্থিত হব যা রুখবার শক্তি ওদের নেই। আমি ওদেরকে সেখান থেকে অপমান করে বের করে দেব ও তাদেরকে দলিত করব।’ 

শলোমনের উত্তর নিয়ে দূতেরা ফিরে গেল। 

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- দূত শলোমনের কাছে এলে শলোমন বলল, ‘তোমরা কি আমাকে ধন-সম্পদ দিয়ে সাহায্য করতে চাও? আল্লাহ তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তার চেয়ে উত্তম জিনিস দিয়েছেন আমাকে, অথচ তোমরা তোমাদের উপঢৌকন দিয়ে উৎফুল্লবোধ করছ। তোমরা ওদের কাছে ফিরে যাও, আমি অবশ্যই ওদের বিরুদ্ধে এমন এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে উপস্থিত হব যা রুখবার শক্তি ওদের নেই। আমি ওদেরকে সেখান থেকে অপমান করে বের করে দেব ও ওদেরকে দলিত করব।’ (২৭:৩৬-৩৭)

সাবার রাজদরবার। বাদশা শলোমন উপঢৌকনাদি ফেরৎ পাঠিয়েছেন। এ কারণে রানী বিলকিসের এই জরুরী অধিবেশন আহবান। বিলকিস দূতদের সকল কথা মনোযোগ সহকারে শুনলেন। অতঃপর তিনি সভাষদদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আমার পূর্ব হতেই ধারণা হয়েছিল তিনি কোন সাধারণ বাদশাহ নন।’

রানী বিলকিস শীঘ্রই শলোমনের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন এবং একসময় জেরুজালেমের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। তার সঙ্গে ছিল বাদশা শলোমনের জন্যে উপহার স্বরূপ এক‘শ পঞ্চাশ তালন্ত স্বর্ণ, কিছু  দু:ষ্প্রাপ্য মণি এবং প্রচুর পরিমানে সুগন্ধি।

রানী বিলকিসের উট বহর জেরুজালেমের উপকন্ঠে এসে পৌঁছিল। তার আগমনের কথা জানার পর তার বিশাল সিংহাসনের কথা মনে পড়ল শলোমনের। তিনি তখন তার পরিষদবর্গের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘হে আমার পরিষদবর্গ! তারা আমার কাছে আত্মসমর্পন করতে আসার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমাকে এনে দেবে?’

এক শক্তিশালী জ্বীন উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আপনি আপনার স্থান থেকে উঠবার আগেই আমি তা এনে দেব। এ ব্যাপারে আমি এমনই শক্তি রাখি। আর আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন।’ 
অপর এক জ্বিন যার কিতাবের জ্ঞান ছিল উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আপনি চোখের পলক ফেলার আগেই আমি তা এনে দেব।’ 

সে মূহুর্তের মধ্যে রানী বিলকিসের সিংহাসন শলোমনের সামনে উপস্থিত করল। শলোমন যখন তা তার সামনে রাখা দেখলেন তখন তিনি বললেন, ‘এ আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ যেন তিনি আমাকে পরীক্ষা করতে পারেন, আমি কৃতজ্ঞ না অকৃতজ্ঞ। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে তা নিজের জন্যে করে, আর যে অকৃতজ্ঞ সে জেনে রাখুক যে, আমার প্রতিপালকের অভাব নেই, তিনি মহানুভব।’

একাগ্রচিত্তে শলোমন সিংহাসনটা দেখতে লাগলেন। অতঃপর উক্ত জ্বিনকে বললেন, ‘তার সিংহাসনের আকৃতি বদলে দাও; দেখি সে ঠিক ধরতে পারে- নাকি ভুল করে।’ 

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- শলোমন আরও বলল, ‘হে আমার পরিষদবর্গ! তারা আমার কাছে আত্মসমর্পন করতে আমার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমাকে এনে দেবে?’
এক শক্তিশালী জ্বীন বলল, ‘আপনি আপনার স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি তা এনে দেব। এ ব্যাপারে আমি এমনই শক্তি রাখি। আর আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন।’ 
কিতাবের জ্ঞান যার ছিল সে বলল, ‘আপনি চোখের পলক ফেলার আগেই আমি তা এনে দেব।’ 

যখন তা সামনে রাখা দেখল তখন (শলোমন) বলল, ‘এ আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ যেন তিনি আমাকে পরীক্ষা করতে পারেন, আমি কৃতজ্ঞ না অকৃতজ্ঞ। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে তা নিজের জন্যে করে, আর যে অকৃতজ্ঞ সে জেনে রাখুক যে, আমার প্রতিপালকের অভাব নেই, তিনি মহানুভব।’(২৭:৩৮-৪১)

বিলকিসকে অভ্যার্থনায় শলোমন।
রানী বিলকিস রাজদরবারে প্রবেশ করলেন। তাকে সাদর অভ্যর্থণা শেষে যখন বসতে বলা হল, তিনি দেখতে পেলেন আসনের জন্যে সম্মুখে তারই সিংহাসনটি রক্ষিত। তিনি ভীষণ অবাক হলেন। তার আগমনের পূর্বেই কিভাবে এটা এখানে উপস্থিত করা হল? তিনি নিশ্চিত আলৌকিক শক্তির মাধ্যমে এটা করা হয়েছে। কেননা এটা সাধারণ নিয়ম বহির্ভূত, বুদ্ধি এখানে পরাভূত। এই অসাধ্য সাধন কেবলমাত্র একজন প্রবল ক্ষমতাশালী, ঐশ্বরিক শক্তির অধিকারীর পক্ষেই সম্ভব। বিলকিস আত্মসমর্পন করলেন। আত্মসমর্পন করলেন সর্বক্ষমতার অধিকারী এক আল্লাহর কাছে। এতদিন তিনি ছিলেন মূর্ত্তি পূজক, অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের একজন। আল্লাহর পরিবর্ত্তে তিনি যার উপাসনা করতেন তা-ই এতদিন তাকে সত্য থেকে সরিয়ে রেখেছিল।

রানী বিলকিস আরও অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন যে, তার সিংহাসনে সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে। তাকে একাগ্রচিত্তে সিংহাসনের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বাদশা শলোমন জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার সিংহাসন কি এ রকম?’
প্রশ্ন শুনে বিলকিস বুঝতে পারলেন তার বিবেক ও বুদ্ধির পরীক্ষা করতে চাইছেন শলোমন। সুতরাং তিনি বুদ্ধিমত্তার সাথেই উত্তর দিলেন, বললেন, ‘এ তো এরকমই। আমরা আগেই সবকিছু জেনেছি ও আত্মসমর্পন করেছি।’ 

বিলকিস তার এই জবাব দ্বারা দাবী করলেন না যে এটা তার সিংহাসন। কেননা তার সিংহাসন ও এই সিংহাসনের মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। আবার এটাও বললেন না যে এটা তার সিংহাসন নয়। কেননা প্রকৃতপক্ষে এটা তো তারই সিংহাসন।

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- (বিলকিস) যখন পৌঁছিল তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, ‘তোমার সিংহাসন কি এ রকম?’
সে বলল, ‘এ তো এ রকমই। আমরা আগেই সবকিছু জেনেছি ও আত্মসমর্পন করেছি।’ 
আল্লাহর পরিবর্তে সে যার পূজা করত তা-ই তাকে সত্য থেকে সরিয়ে রেখেছিল, সে বিলকিস ছিল অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের একজন। (২৭: ৪২-৪৩)

রানী বিলকিস ও শলোমন।
বাদশার নিজস্ব প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানান হল রানী বিলকিসকে। বিশাল এই প্রাসাদটি স্ফটিকের ছিল। ভিতরে প্রবেশের সময় বিলকিস দেখলেন স্বচ্ছ জলাশয়ের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রাসাদটি। তিনি অবাক বিষ্ময়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন। অতঃপর পানির মধ্যে দিয়ে কিভাবে সম্মুখে অগ্রসর হবেন তা ভাবতে লাগলেন। 

রানী বিলকিসের দাঁড়িয়ে পড়াতে সঙ্গী সভাষদরাও দাঁড়িয়ে পড়েছিল। এসময় দূর থেকে শলোমন বললেন, ‘এই প্রাসাদে আপনার প্রবেশ স্বাগতম।’ -তখন বিলকিস প্রাসাদে প্রবেশ করতে তার পরিধেয় ভেজার আশঙ্কায় তা হাঁটু পর্য্যন্ত উঁচু করে ধরলেন। তারপর ধীরে ধীরে পা বাড়িয়ে দিলেন পানির মধ্যে। কিন্তু এ-কি! পানি স্পর্শ করল না পা। তার কার্যকলাপ দেখে শলোমন মুচকি হেসে বললেন, ‘এ তো স্ফটিকের প্রাসাদ।’ 

রানী বিলকিস তার মনে যেসব প্রশ্নের উদয় হয়েছিল তার সবই শলোমনের নিকট ব্যক্ত করলেন। আর তিনি তার সব প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত বিজ্ঞতার সাথে দিলেন। আর বিলকিস তার জ্ঞান, তার নির্মিত গৃহ এবং তার সাজসজ্জা, তার পরিবেশিত খাদ্যদ্রব্য, তার সভাষদদের উপবেশন, দন্ডায়মান পরিচারকদের শ্রেণী ও তাদের পরিচ্ছদ, সর্বোপরি এবাদতখানার সৌন্দর্য্যে বিমোহিত ও হতবাক হয়ে পড়লেন। তিনি বললেন, ‘আমি আপনার যে খ্যাতি শুনেছিলাম তা থেকেও আপনার জ্ঞান ও মঙ্গল অধিক। ধন্য তারা, যারা আপনার সম্মুখে দাঁড়ায় ও আপনার জ্ঞানের উক্তি শোনে।’

সর্বক্ষমতার অধিকারী স্রষ্টার কাছে বিলকিস আত্মসমর্পণ করলেন। আর মনে মনে বললেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তো নিজের উপর জুলুম করেছিলাম।’

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত-তাকে বলা হল, ‘এই প্রসাদে প্রবেশ কর।’ 
যখন সে ওটার দিকে তাকাল তখন তার মনে হল এ এক স্বচ্ছ জলাশয় এবং সে তার কাপড় হাঁটু পর্য্যন্ত টেনে তুলল। 
শলোমন বলল, ‘এ তো স্ফটিকের প্রাসাদ।’
(বিলকিস) বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তো নিজের ওপর জুলুম করেছিলাম। আমি শলোমনের সাথে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কাছে আত্মসমর্পন করছি।’(২৭:৪৪)

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia, bible-archaeology, ezsoftech, wikimedia, boydsmillspress.

Moses: কোরাণিক ক্যানভাসে নবী মূসা।

Abu Hena Mostafa Kamal  01 May, 2017 মি সরের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ফেরাউন। হঠাৎ করে তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। কিন্তু তিনি কোন উত্তরাধিকারী ন...