pytheya.blogspot.com Webutation

৯ মার্চ, ২০১২

Abraham: তার যে আদর্শ অনুসরণযোগ্য নয়।


ইব্রাহিম (Abraham) নবু্য়্যতলাভ করলেন। আল্লাহ তাকে বললেন, ‘অনুগত হও।’
তিনি বললেন, ‘আমি বিশ্বপালকের অনুগত হলাম।’
অতঃপর আল্লাহ তাকে কয়েকটি কথা দিয়ে পরীক্ষা করলেন। তিনি বললেন, ‘আমি তোমাকে মানব জাতির নেতা করেছি।’  
ইব্রাহিম বললেন, ‘আমার বংশধরদের মধ্যে হতেও?’ 
তিনি বললেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতি সীমালংঘনকারীদের প্রতি প্রযোজ্য না।’

এ সংক্রান্ত কোরআনের আয়াত -স্মরণ কর, যখন তাকে তার প্রতিপালক বললেন, ‘অনুগত হও।’
সে বলল, ‘আমি বিশ্বপালকের অনুগত হলাম।’(২:১৩১)
আর ইব্রাহিমকে তার প্রতিপালক কয়েকটি কথা দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করেছি।’  
সে বলল, ‘আমার বংশধরদের মধ্যে হতেও?’ 
আল্লাহ বললেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতি সীমালংঘনকারীদের প্রতি প্রযোজ্য না।’(২:১২৪)

বাড়ীতে ফিরে ইব্রাহিম আবারও তার পিতাকে সরলপথে আহবান জানালেন। তার পিতা তার বেঁচে থাকার এই খোদায়ী কুদরত দেখেও ঈমান আনলেন না। তার অন্তর তো পূর্ণ গোমরাহীতে নিমজ্জ্বিত ছিল। ইব্রাহিম এতে দুঃখিত হলেন, পরকালে পিতার অবস্থা ভেবে চিন্তিত হলেন। সুতরাং তিনি তার পয়গম্বর সূলভ প্রজ্ঞার দ্বারা পিতাকে বারংবার আহবান জানাতে থাকলেন, বললেন, ‘হে আমার পিতা, যে শোনে না, দেখে না এবং তোমার কোন উপকারে আসে না- তার এবাদত কেন কর? 
--হে আমার পিতা আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে; যা তোমার কাছে আসেনি, সুতরাং আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাকে সরল পথ দেখাব। 
--হে আমার পিতা, শয়তানের এবাদত কোরও না। নিশ্চয় শয়তান দয়াময়ের অবাধ্য। 
--হে আমার পিতা, অমি আশঙ্কা করি, দয়াময়ের একটি আযাব তোমাকে স্পর্শ করবে, অতঃপর তুমি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবে।’

এখানে লক্ষণীয়, ইব্রাহিম তার এসব কথায় এমন কোন শব্দ ব্যাবহার করলেন না যা তার পিতার অবমাননা অথবা মনোকষ্টের কারণ হতে পারে; অর্থাৎ পিতাকে কাফের, গোমরাহ ইত্যাদি বললেন না, বরং পয়গম্বরসুলভ প্রজ্ঞার সাথে শুধু তার দেব-দেবীর অক্ষমতা ও অসচেনতা ফুটিয়ে তুললেন, কুফর ও শিরকের সম্ভাব্য অশুভ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করলেন যাতে সে নিজেই নিজের ভুল বুঝতে পারে। বদলে পিতা কঠোর ভঙ্গিতে তাকে বললেন, ‘হে ইব্রাহিম, তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ? যদি তুমি বিরত না হও, আমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে তোমার প্রাণনাশ করব। তুমি চিরতরে আমার কাছ থেকে দূর হয়ে যাও।’

তখন তিনি তার সম্প্রদায়কে বললেন, ‘আমি পরিত্যাগ করছি তোমাদেরকে এবং আল্লাহ ব্যতিত যাদের এবাদত কর তাদেরকে; আমি আমার পালনকর্তার এবাদত করব। আশাকরি তাঁর এবাদত করে আমি বঞ্চিত হব না। তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের (ভাইপো লুত তার অনুসারী এটা জেনেই তিনি এই বহুবচন ব্যাবহার করলেন) কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদেরকে মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে।’

এ সংক্রান্ত কোরআনের আয়াতসমূহ- যখন সে তার পিতাকে বলল, ‘হে আমার পিতা, যে শোনে না দেখে না এবং তোমার কোন উপকারে আসে না, তার এবাদত কেন কর? হে আমার পিতা আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে; যা তোমার কাছে আসেনি, সুতরাং আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাকে সরল পথ দেখাব। হে আমার পিতা, শয়তানের এবাদত কোরও না। নিশ্চয় শয়তান দয়াময়ের অবাধ্য। হে আমার পিতা, অমি আশঙ্কা করি, দয়াময়ের একটি আযাব তোমাকে স্পর্শ করবে, অতঃপর তুমি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবে।’
পিতা বলল, ‘হে ইব্রাহিম, তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ? যদি তুমি বিরত না হও, আমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে তোমার প্রাণনাশ করব। তুমি চিরতরে আমার কাছ থেকে দূর হয়ে যাও।’(১৯:৪২-৪৬)
আমি পরিত্যাগ করছি তোমাদেরকে এবং আল্লাহ ব্যতিত যাদের এবাদত কর তাদেরকে; আমি আমার পালনকর্তার এবাদত করব। আশাকরি আমার পালনকর্তার এবাদত করে আমি বঞ্চিত হব না।’(১৯:৪৮)

যাত্রার সকল প্রস্তুতি শেষ হল। লূত উপস্থিত তার সম্প্রদায়কে বলল, ‘তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদেরকে মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চির শত্রুতা থাকবে।’
আর ইব্রাহিম তার পিতাকে বললেন, ‘তোমার উপর শান্তি হোক, আমি আমার পালনকর্তার কাছে তোমার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি মেহেরবান।’

কোরআনে একথা পরিস্কার জানান হয়েছে যে, আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু আর তাই তিনি চাইলে মানুষের সকল অপরাধ ক্ষমা করতে পারেন কিন্তু শিরককারী কখনও ক্ষমা পাবে না। তাই একজন বিশ্বাসী একজন অবিশ্বাসী বা শিরককারীর পক্ষ হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন না -এটা তার জন্যে কোনভাবেই জায়েজ নয়। 

অথচ ইব্রাহিম এখন তার পিতার ক্ষেত্রে বিশ্বাসীদের এই আদর্শের ব্যতিক্রম করে ফেললেন। তিনি তার মুশরিক পিতার জন্যে আল্লাহর কাছে মাগফেরাত করার ওয়াদা করলেন। 

কোরআনে বিশ্বাসীদেরকে ইব্রাহিমের আদর্শ অনুসরণ করার জোর আদেশ দেয়া হয়েছে। আর তার এই মাগফেরাত কামনার ওয়াদায় তারা ভাবতে পারে মুশরিক পিতামাতা বা আত্মীয়-স্বজনদের জন্যে আল্লাহর কাছে মাগফেরাত কামনা করা তার আদর্শের অন্তর্ভূক্ত এবং জায়েজ। কিন্তু অন্যসব বিষয়ে ইব্রাহিমী আদর্শের অনুসরণ জরুরী হলেও তার এই কাজটির অনুসরণ বিশ্বাসীদের জন্যে কোনক্রমেই জায়েজ নয়।
পরিবার নিয়ে ইব্রাহিমের উর ত্যাগ।
যাত্রালগ্নে আকাশের দিকে মুখ করে ইব্রাহিম বললেন, ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা তোমারই উপর ভরষা করেছি, তোমারই দিকে মুখ করেছি এবং তোমারই কাছে আমাদের প্রত্যাবর্তন।’

এ সংক্রান্ত কোরআনের আয়াতসমূহ-‘লুত তাকে বিশ্বাস করল। ইব্রাহিম বলল, ‘আমি আমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করছি। তিনি তো পরাক্রমশালী ও তত্ত্বজ্ঞানী।’(২৮:২৬)

ইব্রাহিম বলল, ‘তোমার উপর শান্তি হোক, আমি আমার পালনকর্তার কাছে তোমার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি মেহেরবান।(১৯:৪৭)
তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদেরকে মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চির শত্রুতা থাকবে।’
কিন্তু ইব্রাহিমের উক্তি তার পিতার উদ্দেশ্যে এ আদর্শের ব্যাতিক্রম। সে বলেছিল, ‘আমি অবশ্যই তোমার জন্যে ক্ষমা প্রার্থণা করব। তোমার উপকারের জন্যে আল্লাহর কাছে আমার আর কিছু করার নেই। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা তোমারই উপর ভরষা করেছি, তোমারই দিকে মুখ করেছি এবং তোমারই কাছে আমাদের প্রত্যাবর্তন।’(৬০:৪)

প্রায় পাঁচ’শ মাইলের যাত্রা শেষে ইব্রাহিম লুতসহ ফোরাত নদীর ষাট মাইল দূরে হারোণ শহরে এলেন। এইস্থানে তার ভ্রাতা নাহোর বসবাস করত। উরের মত হারোণ ছিল চন্দ্রদেবতা সীনের পূজার কেন্দ্রভূমি। 

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন