pytheya.blogspot.com Webutation

৮ মার্চ, ২০১২

Muhammad: ইহুদি রমনীর হত্যা প্রচেষ্টা।


মদিনা থেকে বিতাড়িত ইহুদিরা তাদের স্বগোত্রীয় লোকদের কাছে খায়বরে আশ্রয় নিয়েছিল। খায়বর শব্দের অর্থ সুরক্ষিত স্থান। এখানে অনেকগুলি সুরক্ষিত দূর্গ ছিল যাদের মধ্যে 'আল কামুস' ছিল প্রধান।

আল কামুস।
খায়বরের ইহুদিরা পূর্ব থেকেই মুসলমানদের বিরুদ্ধে সক্রিয় ও দুর্দমনীয় বিদ্বেষ পোষণ করত এবং তাদের স্বগোত্রীয় লোকদের আগমনে এই অনুভূতি একটি প্রবল শক্তিতে রূপান্তরিত হল। তারা একটি প্রাচীন চুক্তির মাধ্যমে বনি গাতাফানদের বেদুইন দল ও অন্যান্য গোত্রের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হল এবং মুসলমানদের ধ্বংস সাধনের নিমিত্তে একটি সম্মিলিত দল গঠনের চেষ্টা চালাতে লাগল।

মুহম্মদ (Muhammad) তাদের ক্ষতিসাধনকারী শক্তি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। ফলে তাদের সম্মিলিত শক্তি প্রয়োগের কু-ফল এড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী হয়ে পড়ল। সুতরাং হুদাইবিয়া থেকে ফিরে আসার কয়েক সপ্তাহ পরে, ৭ম হিজরীর মুহররম মাসের প্রথমদিকে চৌদ্দশত সৈন্যের এক বাহিনী খায়বরের বিরুদ্ধে প্রেরিত হল।

আল কামুস।
মুসলমানরা ইহুদিদের কাছে সন্ধির শর্তাদি প্রদান করল। কিন্তু তারা তা অস্বীকার করল। ফলে, অবরোধ আরোপ করা হল এবং তাদের প্রবল বাঁধা সত্ত্বেও একটির পর একটি দূর্গের পতন হতে লাগল। আল কামুস দূর্গটি ছিল সর্বাপেক্ষা দুর্ভেদ্য। অবশেষে তারও পতন হল।
অতঃপর ইহুদিরা ক্ষমাপ্রার্থনা করল।

মুহম্মদ ছিলেন কোমলমতি, অত্যন্ত ক্ষমাশীল এবং দয়ালু। সুতরাং ইহুদিরা ক্ষমা পেল। মুহম্মদ তাদেরকে তাদের জমি জমা ও স্থাবর সম্পত্তি ভোগ-দখলের নিশ্চয়তা প্রদান করলেন (সদাচরনের উপর) এবং একই সঙ্গে তাদের নিজস্ব ধর্ম পালনেরও স্বাধীনতা দিলেন। কিন্তু যেহেতু তারা নিয়মিত করসমূহ থেকে অব্যাহতি পেয়েছে, কাজেই এখন থেকে প্রজাতন্ত্রের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা ভোগের জন্যে তিনি তাদের উপর প্রজাতন্ত্র কর আরোপ করলেন- এই করের পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছিল উৎপন্ন শস্যের অর্ধেক।

এই খায়বরে অবস্থানের সময় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটল। জয়নব নাম্মী এক ইহুদি রমনী বিশ্বাসঘাতকতা করে মুহম্মদ ও তার কয়েকজন শিষ্যকে বিষাক্ত খাদ্য পরিবেশন করল। সে রন্ধনকৃত মাংস নিয়ে কয়েকজন ইহুদি পুরুষসহ মুসলিম সেনাছাউনিতে এসে মুহম্মদের খেদমতে উপস্থিত হয়ে বিনয় সহকারে বলেছিল, ‘হে রসূল আল্লাহ! আপনার জন্যেই এই সামান্য হাদয়া (উপঢৌকন) এনেছি, আপনি এ গ্রহণ করবেন কি?’
মুহম্মদ কখনও কোন মুসলিম কি অমুসলিমদের উপঢৌকন ফেরৎ দিতেন না। কাজেই তিনি ধন্যবাদের সাথে তা গ্রহণ করলেন। অতঃপর সেই আহারের সামান্য ভক্ষণের পরই একজন শিষ্য (বশর) অজ্ঞান হয়ে পড়ল। মুহম্মদ জ্ঞান হারালেন না বটে, কিন্তু বিষের ক্রিয়া তার শরীরের গভীরে প্রবেশ করল এবং পরবর্তীকালে তিনি এই বিষক্রিয়ায় মারাত্মকভাবে ভুগেছিলেন এবং শেষপর্যন্ত তারফলে তার মৃত্যু ঘটেছিল। 

অন্যান্য ইহুদি ও জয়নবকে ডাকা হল। জয়নব অপরাধ স্বীকার করে বলল, ‘খাদ্যে বিষ মিশ্রিত করেছি আমি। আর হ্যাঁ, এ কাজ জেনে শুনেই করেছি।’ -তার চোখেমুখে জিঘাংসার মনোবৃত্তি ফুটে উঠল। সে বলে চলল-‘হে মুহম্মদ! আপনার জন্যে আমার পিতা, পিতৃব্য এবং স্বামী যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। আপনি নিজেকে পয়গম্বর বলে দাবী করাতেই আমার এই সর্বনাশ ঘটেছে।’
মুহম্মদ হাস্য সহকারে বললেন, ‘তুমি যা চেয়েছ, তা হল না। আল্লাহ প্রেরিত রসূল আমি। সুতরাং তাঁর ইচ্ছে ব্যতিত কখনও কেউ আমাকে হত্যার কাজে সফল হতে পারবে না।’

অতঃপর ইহুদি পুরুষদেরকে জিজ্ঞেস করা হল, ‘তোমরা কি উদ্দেশ্যে এই কার্যে সহযোগিতা করতে প্রবৃত্ত হয়েছিলে?’
তারা সমস্বরে উত্তর করল, ‘আমাদের মনে হয়েছিল আপনি যদি ভন্ড ও মিথ্যেবাদী হন, তাহলে এই বিষের বিন্দুমাত্র আপনার জিহ্বা স্পর্শ করা মাত্রই আপনি পঞ্চত্বপ্রাপ্ত হবেন, আর আমরাও স্বস্তিলাভ করব। পক্ষান্তরে যদি আপনি সত্য সত্যই আল্লাহর নবী হন, তাহলে এ বিষ আপনার প্রাণনাশ করতে পারবে না।’
সত্যধর্ম ইসলামকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলতে য়ড়যন্ত্রে লিপ্ততা, আল্লাহ ও তার রসূলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিরুদ্ধাচারণ ও অস্ত্রধারণ, তারপর পরাজয়ের পর এই ঘৃণ্য চক্রান্ত -মুসলিম যোদ্ধাগণ ইহুদিদের ভবিষ্যৎ পরিণতি সম্পর্কে অত:পর খুব একটা সন্ধিহান ছিলেন না।

কিন্তু ঘৃণ্য এই অপরাধ সত্ত্বেও ইহুদি পুরুষেরা ক্ষমা পেল। শিষ্যরা নিশ্চিত ছিলেন জয়নবের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডাদেশ ঘোষিত হবে। জয়নবের নিজের ধারণাও এর বিপরীত ছিল না। কিন্তু সেও ক্ষমা পেল। শুধু ক্ষমা নয়, শিষ্যদের আপত্তি উপেক্ষা করে এই জঘন্য অপরাধ সত্ত্বেও তাকে তার স্বজাতীদের মধ্যে অক্ষত অবস্থায় বাস করার অনুমতি দেয়া হল। 

তিন দিনের দিন বশরের মৃত্যু হল। এসময় অবশ্য ইচ্ছাপূর্বক নরহত্যার অপরাধে জয়নবকে প্রাণদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছিল। 

সমাপ্ত।
ছবি: Internet, flickr.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন