pytheya.blogspot.com Webutation

২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

Pythia: ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উপর প্রভাব।.

পিথিয়া হচ্ছে কাস্টালিয়ান প্রস্রবনের অধ:দেশে পার্ণাসাস পর্বতের ঢালে অবস্থিত ডেলফিতে এ্যাপোলোর মন্দিরের কোন যাজিকা (Sybil) যার মাধ্যমে অর্চণাকারীগণ বা আগত ভক্ত দর্শনার্থীগণ দেবতা এ্যাপোলোর বাণী শুনতে পেত। পিথিয়া সর্বদাই একজন নারী (সাধারণভাবে ৫০ বৎসরেরও বেশী বয়সের), যে নির্বাচিত হত মন্দিরের প্রধান পুরুষ যাজক কর্তৃক। 

ডেলফির এই মন্দিরটি মধ্য গ্রীসের করিন্থিয়ান উপকূলের ৬ মাইল অভ্যান্তরে পার্ণাসাস পর্বতের দক্ষিণ-পশ্চিম ঢালের ১৮০০ ফুট উপরে অবস্থিত। কম করে হলেও ২৭০০ বৎসর আগে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরটি সমগ্র প্রাচীন গ্রীস এবং তার আশে-পাশে ভাববানী, সংগীত, নিরাময় ও আলোর গ্রীক দেবতা আপোলোর সুবিখ্যাত ওরাকলের আবাসভূমি হিসেবে সুপরিচিত ছিল।আর ডেলফির মন্দিরের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কাস্টালিয়ান প্রস্রবণ। 

পিথিয়া (Pythia) নামটি এসেছে মূলত: পাইথো (Pytho) বা পাইথন (Python) থেকে।পূরাণ কাহিনী বলে পাইথো ডেলফির প্রকৃত নাম। অন্যদিকে পাইথন হচ্ছে ঐ ড্রাগন যাকে এ্যাপোলো হত্যা করেন। আর গ্রীকগণ ঐ স্থানের নামকরণ করে pythein (to rot) ক্রিয়াপদ থেকে, যা এ্যাপোলোর হাতে নিহত হবার পর দানব পাইথনের শরীরের পচনকে নির্দেশ করে। 

যা হোক, পিথিয়া এ্যাপোলোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে দৈববাণীসমূহ মানুষকে জনাত। সাধারণ মতে, পাথরের ফাঁটল দিয়ে নির্গত ধোঁয়ায় অনুপ্রাণিত হয়ে সে ভাববাণী দিত আবিষ্ট অবস্থায়, কথা বলত দূর্বোধ্য ভাষায়, আর যাজক তা অনুবাদ করত রহস্যময় এক ভাববাণী রূপে। আদিকালে যারা পিথিয়ার কাছে যেত পরামর্শ বা ভূত-ভবিষ্যৎ জানতে তাদেরকে বলা হত “কনন্সালট্যান্ট,” আক্ষরিক অর্থে, “যারা পরামর্শ চায়”। 

মূলত: দৈববানী জানতে আগত দর্শনার্থী বা ভক্তকে প্রথমে একটা উৎসর্গ করতে হত। তারপর সে তার প্রশ্নটি উত্থাপন করত নিয়োজিত একজন পুরুষ যাজকের নিকট। ঐ যাজক তখন প্রশ্নটি নিয়ে পিথিয়ার কাছে গিয়ে তা ব্যক্ত করত। অার দেবতার মুখপাত্র হিসেবে পিথিয়া ঐ প্রশ্নের উত্তর জানিয়ে দিত। 

পিথিয়ার জন্যে ছিল একটি নির্ধারিত স্থান যা adytum বা মঠ হিসেবে পরিচিত। এটি মূলত: এ্যাপোলোর মন্দিরের ভিতরের একটি কক্ষ। অডিটাম অর্থ অপ্রবেশ্য। এমন নাম এ কারণে যে, সেখানে প্রশ্ন বহনকারী যাজক ব্যতিত অন্য কারো প্রবেশাধিকার ছিল না। অবশ্য অনেকেই এ ব্যাখ্যায় একমত নন, তাদের মতে প্রশ্নকারীও যাজকের সাথে উপস্থিত থাকত অডিটামে। 

যাহোক, পিথিয়া তার অডিটামে একটা ব্রোঞ্জ ত্রিপদে সমাসীন থাকত। ঐ পবিত্র কক্ষে যাজক গিয়ে তাকে উপদেশ প্রার্থীর প্রশ্ন জানালে এ্যাপোলোর আত্মা তার উপর ভর করত। আর সে আবিষ্ট হয়ে ভাববানী প্রত্যাদেশ করত। কিছু পুরান কাহিনী মতে পিথিয়ার আত্মা আবিষ্ট হত ধোঁয়ার দ্বারা যা মন্দিরের নীচ থেকে পিথিয়ার বসার স্থানে একটি ফাঁটল দিয়ে নির্গত হত বা একপ্রকার লতা-গুল্মের পাতার সাহায্যে ঐ ধোঁয়া দিয়ে পিথিয়ার শরীরকে আছন্ন করে দেয়া হত। এভাবে পিথিয়া মাধ্যম হিসেবে কাজ করত এবং পুরুষ যাজক পিথিয়ার প্রতিক্রিয়ার অর্থ করে প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তর দিত। 

পিথিয়ার সুখ্যাতি মূলত: তার এ্যাপোলো অনুপ্রাণিত ভাববানীর জন্য। ডেলফিক ওরাকল প্রতিষ্ঠিত হয় খৃষ্টপূর্ব ৮০০ শতকে। যদিও এর উপস্থিতি ছিল অন্য কোন আকারে ১৪০০ বিসি পরবর্তী মেসিনিয়ান সময়ে যা একসময় পরিত্যক্ত হয়। এমনও প্রমান আছে যে, এ্যাপোলো ধরিত্রী দেবী গেয়ার প্রতি ইতিপূর্বকার নিবেদিত শ্রদ্ধার অনুপ্রেরণাতেই মন্দিরের দখল নেন। সর্বশেষ নথিভূক্ত প্রতিক্রিয়া দেখান হয়েছে ৩৯৫ এডির দিকে, সম্রাট ১ম থিওডোসিয়াসের প্রতি, যখন ‍তিনি প্যাগান মন্দিরের কা্র্যক্রম বন্দ করার আদেশ দেন। 

বলাবাহুল্য, গ্রীক শাস্ত্রে ওরাকল হচ্ছে সর্বাধিক নথিভূক্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের একটি। ওরাকল তথা পিথিয়ার উপস্থিতি ছিল ডোডোনা, ট্রোফোনিয়োস, ক্লারোস, ডিডাইমা ও ডেলফিতে। আর ডেলফিক ওরাকল, পিথিয়া ছিল গ্রীকদের মাঝে সর্বাপেক্ষা মর্যাদা সম্পন্ন ও স্বীকৃত ওরাকল। হোমার, এসকাইলাস, এরিস্টোটল, ক্লিমেন্ট অব আলেকজান্দ্রিয়া, ডায়োডোরাস, ডায়োজিনিস, ইউরিপিডিস, হেরোডোটাস, জুলিয়ান, জাস্টিন, লিভি, লুকান, ওভিদ, পাওসানিয়াস, পিন্ডর, প্লেটো, প্লুটার্ক, সফোক্লিস, স্ট্রারাবো, থুসিডাইডস ও জেনোফোন তাদের লেখনীতে ওরাকল এবং যেভাবে তারা কাজ করে তা উল্লেখ করেছেন। এভাবে তাদের কাছ থেকে আমরা জানতে পারি, ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্রীয় কোন সিদ্ধান্তে পিথিয়ার ভূমিকা। 

মানুষের ভূত-ভবিষ্যৎ জানার আকাংখা চিরন্তন, ফলে তারা গুরুত্বপূর্ণ কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হবার আগে পিথিয়ার স্বরণাপন্ন হত। কেবল প্রত্যাহিক জীবনে নয় বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলিতেও ওরাকল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কারণ অনেক রাজনৈতিক নেতাও কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে ওরাকুলার পরামর্শ চাইত। 

যখন পরামর্শ প্রার্থী বা তার প্রতিনিধি ডেলফির মন্দিরে গিয়ে নির্ধারিত ফি, যাকে গ্রীক ভাষায় বলে "পেলানোস" দিয়ে বেদীতে একটা পশু উৎসর্গ করত, তখন সংশ্লিষ্ট পুরুষ যাজক তার প্রশ্নটি পিথিয়ার কাছে নিয়ে যেত।আর পিথিয়া উত্তর দিত আবিষ্ট অবস্থায়। সম্ভবত: ত্রিপদের উপর তার বসার স্থানে ভূমির ফাঁটল দিয়ে নির্গত ধোঁয়া এবং লরেল পাতা চিবানোর ফলশ্রুতিতেই সে আবিষ্ট হয়ে পড়ত। আর ঐ আবিষ্ট অবস্থায় তার উচ্চারিত শব্দ ও আচরণ যা সর্বদাই অস্পষ্ট এবং দূর্বোধ্য হত, যাজক কর্তৃক অনুদিত হয়ে অত:পর তা আবেদনকারীর কাছে পৌঁছিত বা তাকে জানিয়ে দেয়া হত।

ওরাকলের জনপ্রিয়তার স্বর্ণযুগে এমনকি তিন জন পর্যন্ত নারী পিথিয়া হিসেবে কাজ করেছে। তাদের দু’জন আগত দর্শনার্থীদের পালাক্রমে ভাববাণী দিত এবং অপরজনকে মজুদ রাখা হত একারণে যে, কর্মরত দু’জনের কেউ বিশ্রাম নেবার ইচ্ছে প্রকাশ করলে যেন তার শূণ্যস্থান পূরণ করা যায়। 

ডেলফির মন্দিরের প্রবেশ দ্বারে খোঁদিত ছিল দু’টি বাণী "know thyself"; "nothing in excess" এবং একটি রহস্যময় "E" যা সম্ভবত: পরবর্তীতে মন্দিরের আচার অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকবে। প্লুটার্কের মতে "E at Delphi" আক্ষরিক অর্থে— ἐγγύα πάρα δ'ἄτα, যার অর্থ "make a pledge and mischief is nigh"। আদিকালে, এই সকল বাণীর উৎপত্তি গ্রীসের সাতজন মহাজ্ঞানী ব্যক্তির এক বা একাধিকের নামে আরোপিত ছিল। 

যা হোক, প্রবেশ দ্বারের উপর খোঁদিত ঐ বাণীগুলি আগত দর্শনার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করত এবং তারা সেগুলোর গুঢ়ার্থের বিষয়ে ভাবান্বিত হত মন্দিরে প্রবেশের অাগেই। -(Loyd-Jones, 65). 

এই বাক্যত্রয় আসলে কি অর্থ নির্দেশ করছে? মাইকেল এটি ব্যাখ্যা করতে বলেন- “The third Delphic maxim functions argumentatively (or dialectically) with the other two and constitutes the ALL. If one affirms that they possess the "know thyself" along with the "nothing in excess", then at the same time the "pledge and mischief is nigh" is committed. The third exists for the other two; without the third maxim the other two do not complete the circle, whereas the third one constitutes its beginning and its end. The tragicality of the three Delphic maxims reveals the GAME that takes place in Delphi, in the Earth's Navel that philosophically can be compared with the Socratic Ignorance, poetically with the Blindness of Oedipous and scientifically with the Uncertainty Principle.” -Michael Barkas.   

এ্ই হল ডেলফিক ওরাকলের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। এখন আমরা দেখব, রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তি জীবনে পিথিয়ার কি ধরণের প্রভাব ছিল। আর ঐ প্রভাব উপলব্ধিতে প্রথমেই আমরা কয়েকটি ঘটনার প্রতি নজর বুলিয়ে নেই- 

কাহিনী ১: আব্দুল মুত্তালিব। এই সম্মানী গোত্রপতি তার একটি সন্তানকে উৎসর্গ করার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। দশ পুত্র সন্তানের মধ্যে লটারীতে নাম ওঠে আব্দুল্লাহর, যিনি সর্বশেষ নবী মুহম্মদের পিতা। অত:পর পিথিয়ার বাণীর কল্যাণে তিনি তার প্রতিজ্ঞা থেকে ফিরে আসেন ১০০টি উট উৎসর্গের বিনিময়ে, ফলে জগৎ লাভ করে মূর্ত করুণার প্রতীক নবী মুহম্মদকে। 

কিন্তু কেন আব্দুল মুত্তালিব তার একটি সন্তান উৎসর্গের প্রতিজ্ঞা করেছিলেন? এ জানতে আমাদেরকে পিছনে ফিরে যেতে হবে। ৫২০ খ্রীষ্টাব্দের দিকে আব্দুল মুত্তালিব সপ্নাদিষ্ট হয়ে জমজম কূপটি খুঁজে পাবার নেশায় মেতে উঠেন।জৈষ্ঠ্য পুত্র হারিসের সহযোগিতায় সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে কূপটির সন্ধানে তিনি আত্মনিয়োগ করেন। কাজটি কঠিন ও দূরূহ ছিল। আর তাই তিনি ঐ কাজে কুরাইশদের সহযোগিতা চান। কিন্তু তারা কাজটিকে অসম্ভব ভেবে তাকে সহযোগিতা করতে অসম্মতি জ্ঞাপন করে। এতে আব্দুল মুত্তালিব প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, যদি তিনি ঐ কূপটি খুঁজে পাবার কাজে সফলতা লাভ করেন এবং যদি তিনি দশটি পুত্র সন্তান লাভ করেন, তবে তাদের একটিকে তিনি খোদার তরে উৎসর্গ করবেন।

কা’বা গৃহের অভ্যন্তরে একটি গর্ত বা কূপ ছিল। এর নাম ছিল খাজিনা। কা’বার হাদিয়া স্বরূপ যেসব মূল্যবান নৈবদ্য আসত, সেগুলি এই কূপে সংরক্ষিত রাখা হত। এতে দু’টি স্বর্ণের হরিণ, তরবারী, বর্ম ও অন্যান্য বহু মূল্যবান অলঙ্কার সংরক্ষিত ছিল্। যুরহুম গোত্রের এক প্রধান- ওমর বিন হারেস সংরক্ষিত মূল্যবান সম্পদ লুন্ঠিত হয়ে যাবার অাশঙ্কায় সেগুলি কোন এক রাতের অাঁধারে জমজম কূপের কাছে নিয়ে যান। কূপটি ঐ সময শুকিযে গিয়েছিল। ওমর কূপটি খনন করে সমস্ত সম্পদ সেখানে লুকিয়ে রাখেন।

যা হোক, আব্দুল মুত্তালিব পুত্র হারিসের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন প্রচেষ্টার পর কূপটির সন্ধান পান। অত:পর পিতা-পুত্র মিলে সেটি খনন করেন। আর ইতিমধ্যে তিনি দশটি পুত্র সন্তানও লাভ করেন। 

যাহোক, আব্দুল মুত্তালিব তার প্রতিজ্ঞা পালনের জন্যে সকল পুত্রদের ডেকে তাদের মতামত জানতে চাইলেন। এতে তারা সকলেই পিতার প্রতিজ্ঞা পালনের বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করল। তখন মুত্তালিব দশ পুত্রের কাকে কোরবানী করবেন তা স্থির করতে লটারী করলেন। এই লটারীতে তার সর্বাপেক্ষা প্রিয় পুত্র আব্দুল্লাহর নাম উঠল। 

নির্দিষ্ট দিনে ঐ কোরবানী উপলক্ষ্যে দলে দলে লোকেরা কা‘বার প্রাঙ্গনে সমবেত হল। এসময় আব্দুল্লাহর মাতৃকূল সর্বপ্রথমে বাঁধা সৃষ্টি করল। তাদের বাঁধায় সমবেত অন্যরাও আব্দুল মুত্তালিবকে এই কাজে বিরত থাকতে অনুরোধ এবং অতঃপর চাপ সৃষ্টি করতে লাগল। সুতরাং মুত্তালিব পিথিয়ার বাণীর স্বরণাপন্ন হলেন। ঐ বাণীতে বলা হয়- “দশটি উট ও সন্তানের মধ্যে লটারী কর। উটের নাম উঠলে সেগুলি কোরবানী করে দাও, আর সন্তানের নাম উঠলে, উটগুলোর সাথে প্রতিবার আরও দশটি উট যোগ করে লটারী করতে থাক, যতক্ষণ না উটের নাম উঠে।”

সুতরাং আব্দুল মুত্তালিব লটারী করতে থকেন। কিন্তু প্রতিবারই আব্দুল্লাহর নাম ওঠে। অত:পর যখন এক‘শ উট ও আব্দুল্লাহর মধ্যে লটারী হল, তখন উটের নাম উঠল। সেই থেকে মানুষের জীবনের বিনিময়- দিয়াত (Diyyat), এক’শ উট নির্ধারিত প্রথা হিসেবে প্রচলিত হয়ে আসছে এবং মুহম্মদের নব্যুয়তের পরও তা বলবৎ ছিল। 

কাহিনী-২: এ ঘটনা মূসার সময়কার। এক বনি ইস্রায়েলীর অনিন্দ্য সুন্দরী এক কন্যা ছিল। আর ঐ বনি ইস্রায়েলীর ছিল এক ভাতিজা। ঐ ভাতিজা তার চাচার সম্পত্তি কুক্ষিগত করার মতলবে তার কন্যাকে বিবাহ করতে চাইল। কিন্তু ঐ ব্যক্তি তার কন্যাকে চাল-চূলোহীন ভাতিজার সঙ্গে বিবাহ দিতে সম্মত হল না। সুতরাং ভাতিজা পিথিয়ার স্মরণাপন্ন হল। 

সাধারণ ভাবে পিথিয়া হচ্ছে দেবমন্দিরে দেবতার সেবিকা অর্থাৎ একজন ধর্মযাজিকা। মন্দিরের নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে আগত দর্শনার্থী ও ভক্তবৃন্দের কেউ দেবতার নিকট কোন জটিল সমস্যা থেকে উদ্ধারের পথ বা ভূত-ভবিষ্যৎ বিষয়ে জানতে চাইলে দেবতার হয়ে পিথিয়া দৈববানীসমুহ শুনিয়ে দিত। 

যাহোক, পিথিয়ার বাণীতে ভাতিজাকে বলা হল- “তোমার চাচার হায়াত অনেক, তাড়াতাড়ি মরবে বলে মনে হচ্ছে না। যদি তুমি তার কন্যাকে বিবাহ বা সম্পত্তি কুক্ষিগত করতে চাও, তবে তাকে হত্যা করা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই।” -আর কিভাবে হত্যা করতে হবে এবং হত্যা করে কিভাবে সে নিরাপরাধ সাব্যস্ত হবে এ ব্যাপারে সে তাকে পূর্ণ পরামর্শও দিল। অত:পর ঐ পরামর্শ বাস্তবায়নের সুযোগও এসে গেল। 

বনি-ইস্রায়েলের এক গোত্রের লোকজন দ্রব্য-সামগ্রী দান করার জন্যে পার্শ্ববর্তী এক বস্তিতে এল। তখন ভাতিজা তার চাচাকে বলল, ‘ও চাচা! ইস্রায়েলী এক গোত্রের লোকেরা দ্রব্য-সামগ্রী দান করার জন্যে এসেছে। আপনি যদি আমার সাথে সেখানে যান, তবে আপনার প্রভাবে আমিও কিছু দান পেতে পারি।’

ভাতিজার প্রস্তাবে চাচা সম্মত হল। তারা উভয়ে রাতের অন্ধকারে চলল। যে বস্তিতে তারা বসবাস করত লোকজন দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে সেই বস্তিতে নয়, অন্য বস্তিতে এসেছিল। যখন তারা নিজ বস্তি পার হয়ে উক্ত বস্তির কাছাকাছি পৌঁছিল, ভাতিজা চাচাকে আক্রমণ করল এবং হত্যা করে সেখানে ফেলে রেখে বাড়ীতে চলে এল। পরদিন সকালে সে চাচার খোঁজে বের হল, আর তথায় গিয়ে হাজির হল। সে দেখল কিছুলোক ঐস্থানে ভিড় করে আছে। সেখানে পৌঁছে সে চাচার মৃতদেহটা দেখল আর চাচার জন্যে উচ্চঃস্বরে ক্রন্দন ও বিলাপ করতে লাগল। অতঃপর ঐ বস্তির অধিবাসীদের দোষী সাব্যস্ত করে সে বলল, ‘তোমরা আমার চাচাকে হত্যা করেছ, তোমরা তার খুনের খেসারত দেবে।’ 

মৃত ব্যক্তির লাশ বস্তির কাছে পাওয়া গেছে এ কারণেই ভাতিজা ঐ বস্তির লোকদের কাছে তার চাচার খুনের খেসারত দাবী করে বসেছে। 

বস্তির লোকজন তো তার দাবী শুনে হতবাক। কারণ, ঐ ব্যক্তির নিহত হবার সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। তারা কি করে খুনের খেসারত দিতে সম্মত হবে? তাই তারা বলল, ‘আল্লাহর কসম, আমরা তাকে হত্যা করিনি বা তার হত্যার সম্পর্কে আমরা কিছুই জানিনে। সকালে প্রধান ফটক খুলে বের হয়ে এসে আমরা এই অবস্থা দেখেছি। আর রাত্রে ফটক বন্ধ করার পর সকাল না হওয়া পর্যন্ত আমরা তা খুলিনে।’

কিন্তু ভাতিজা তা মেনে নিতে রাজি নয়। অতঃপর উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল বাক-বিতন্ডা শেষে অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ময়দানে অবতীর্ণ হওয়ার উপক্রম হল। এসময় একজন বলল, ‘আমাদের মধ্যে আল্লাহর রসূল বিদ্যমান থাকা অবস্থায় আমরা পরস্পর ঝগড়া বিবাদ করব, এ কেমন কথা? চল, আমরা তার কাছে যাই। নিশ্চয়ই তিনি কোন ফয়সালা দিতে পারবেন।’

উভয়পক্ষ মূসার কছে এল। নিহত ব্যক্তির ভাতিজা বলল, ‘আমি তাদের বস্তির কাছে আমার চাচাকে নিহত অবস্থায় পেয়েছি।’
ঐ বস্তিবাসী বলল, ‘আল্লাহর কসম, আমরা তাকে হত্যা করিনি। আর কে হত্যা করেছে সে সম্পর্কেও বিন্দু-বিসর্গ অবগত নই।’

মূসা ফয়সালার জন্যে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন, কেননা তখন পর্যন্ত তাকে কোন কিতাব দেয়া হয়নি। আল্লাহ তাকে পথ নির্দেশনা দিলেন। অতঃপর মূসা লোকদেরকে বললেন, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে একটা গরু জবেহের নির্দেশ দিয়েছেন।’

গরু জবেহের কথা শুনে লোকেরা আশ্চর্য হল। অতঃপর তারা একে তামাশা মনে করে বিরক্তির স্বরে বলল, ‘হে মূসা! আমরা তোমার কাছে হত্যাকারী চিহ্নিত করার ফয়সালা চেয়েছি। আর তুমি বলছ, গরু জবেহের কথা। তুমি কি আমাদের সাথে ঠাট্টা করছ?’ 
মূসা বললেন, ‘ঠাট্টা করে অজ্ঞ লোকেরা। আমি আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি, আমি যেন অজ্ঞদের দলে না পড়ি।’ 

তারা গরু জবেহের জন্যে প্রস্তুত ছিল না। তাই তারা মূসাকে বিব্রত করতে এ বিষয়ে নানা রকম অবান্তর প্রশ্ন করতে লাগল। তারা বলল, ‘তোমার প্রতিপালককে আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে বল, ঐ গরুটি কেমন হবে।’ 
তখন মূসা বললেন, ‘আল্লাহ বলেছেন এ এমন একটা গরু যা বুড়োও না, অল্পবয়েসীও না-মাঝবয়সী, অতএব তোমরা যে আদেশ পেয়েছ তা পালন কর।’

তারা বলল, ‘তোমার প্রতিপালককে আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে বল ওর রঙ কি হবে।’ 
মূসা বললেন, ‘আল্লাহ বলেছেন সেটা হবে হলুদ রঙের বাছুর, তার উজ্জ্বল গাত্রবর্ণ যারাই দেখবে তারাই খুশী হবে।’
তারা বলল, ‘তোমার প্রতিপালককে আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে বল গরুটা কি ধরণের। আমাদের কাছে গরু তো একইরকম। আর আল্লাহর ইচ্ছেয় নিশ্চয়ই আমরা পথ পাব।’ 
মূসা বললেন, ‘এ এমন একটি গরু যাকে জমি চাষে বা ক্ষেতে পানি সেচের কাজে লাগান হয়নি, সম্পূর্ণ নিখুঁত।’ 
তারা বলল, ‘এখন তুমি তথ্য ঠিক এনেছ।’ 

এভাবে ইস্রায়েলীরা গাভীর বিষয়ে প্রশ্ন করতে করতে তার রূপ গুণ অনেক জটিল করে ফেলেছিল। এখন এই ধরনের গাভী পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়ল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক এতিমের কাছে ঐরূপ একটি গাভী পাওয়া গেল, যা এতিমের অভিভাবকরা বিক্রি করতে রাজী হল না। তখন ইস্রায়েলীরা একটা গাভীর বিনিময়ে উক্ত গাভীটি খরিদ করতে চাইল। কিন্তু তারা এতে রাজি হল না। অতঃপর দু‘টি গাভী দিতে চাইল। তারা এতেও সম্মত হল না। এভাবে তারা উক্ত গাভীর বদলে দশটি গাভী দিতে চাইল। কিন্তু তারা এতেও সম্মত হল না। তখন ইস্রায়েলীরা বলল, ‘আল্লাহর কসম! আমরা যে কোন মূল্যের বিনিময়ে তোমাদের কাছ থেকে এটা খরিদ করে নেব।’ 

তারা এতিমের অভিভাবককে মূসার কাছে নিয়ে এল এবং বলল, ‘হে রসূলুল্লাহ! আমরা যে গরুর সন্ধান করছি তা এদের কাছে রয়েছে। আমরা তাদের কাছ থেকে তা মূল্যের বিনিময়ে খরিদ করতে চেয়েছি, কিন্তু তারা তা বিক্রি করতে অস্বীকার করছে।’ 

মূসা এতিমের অভিভাবককে বললেন, ‘গাভীটি বনি-ইস্রায়েলীদের কাছে বিক্রি কর।’ 
সে (অভিভাবক) বলল, ‘হে রসূলুল্লাহ! আমার মালের ব্যাপারে আমিই সর্বাপেক্ষা হকদার নই কি?
মূসা বললেন, ‘হ্যাঁ, তুমিই সর্বাপেক্ষা হকদার।’ 
সে বলল, ‘আমার গাভী আমি বিক্রি করতে প্রস্তুত নই।’
সে প্রস্থান করল।
মূসা বনি-ইস্রায়েলীদেরকে বললেন, ‘তোমরা গাভীর মালিককে যেভাবে পার, রাজি করাও।’ 

বনি-ইস্রায়েলীরা মূল্য হিসেবে গাভীর মালিককে গাভীর ওজনের সমপরিমান স্বর্ণ দিতে চাইল। কিন্তু তারা এতেও সম্মত হল না। অতঃপর তারা দ্বিগুণ ওজনের স্বর্ণ দিতে চাইল। এতেও তারা রাজি হল না। শেষ পর্যন্ত বনি-ইস্রায়েলীরা গাভীর ওজনের দশগুণ স্বর্ণ প্রদান করে গাভীটি খরিদ করে মূসার কাছে নিয়ে এল। 
মূসা গাভীটি জবেহের নির্দেশ দিলেন। 

যদিও ইস্রায়েলীরা এখনও গাভীটি জবেহ করতে আদৌ প্রস্তুত ছিল না, তবুও তারা সেটাকে জবেহ করল। আল্লাহ মূসাকে জানালেন, ‘বাছুরটির কোন অংশ দিয়ে মৃত লোকটিকে আঘাত কর।’ 

সুতরাং মূসা গাভীর স্কন্ধদ্বয়ের মধ্যে থেকে এক টুকরো মাংস নিয়ে মৃত ব্যক্তির গায়ে স্পর্শ করানোর নির্দেশ দিলেন। তারা নির্দেশ মত কাজ করার পর মৃতব্যক্তি জীবিত হয়ে উঠে বসল। তাকে তার হত্যাকারীর নাম জিজ্ঞেস করা হল, তখন সে তার ভাতিজার নাম বলে দিয়েই পুন:রায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। 

এদিকে প্রকৃত তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ভাতিজাও নিজের অপরাধ স্বীকার করেছিল। তাই বনি-ইস্রায়েলীরা তাকে হত্যা করে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে বিন্দুমাত্র কুন্ঠিত হয়নি।

এক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির বর্ণনাকেই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। কারণ মূসা ওহীর মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন যে, নিহত ব্যক্তি সত্য বলবে। নতুবা শরিয়ত সম্মত স্বাক্ষী ছাড়া কোন জবানবন্দীই হত্যা প্রমাণের জন্যে যথেষ্ট না। 

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ-‘যখন তোমরা এক ব্যক্তিকে খুন করে একে অন্যের উপর দোষ চাপাচ্ছিলে, আল্লাহ তা প্রকাশ করতে চাইল যা তোমরা গোপন করছিলে।-(২:৭২) 

‘আর যখন মূসা তার নিজের সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে একটি গরু জবেহের হুকুম দিয়েছেন।’ 
তারা বলেছিল, ‘তুমি কি আমাদের সাথে ঠাট্টা করছ?’
মূসা বলেছিল, ‘আমি আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি, আমি যেন জাহেলদের দলে না পড়ি।’ 
তারা বলল, ‘তোমার প্রতিপালককে আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে বল, ঐ গরুটি কেমন হবে।’ 
মূসা বলল, ‘আল্লাহ বলেছেন এ এমন একটা গরু যা বুড়োও না, অল্পবয়েসীও না-মাঝবয়সী, অতএব তোমরা যে আদেশ পেয়েছ তা পালন কর।’
তারা বলল, ‘তোমার প্রতিপালককে আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে বল ওর রঙ কি হবে।’ 
মূসা বলল, ‘আল্লাহ বলেছেন সেটা হবে হলুদ রঙের বাছুর, তার উজ্জ্বল গায়ের রঙ যারাই দেখবে তারাই খুশী হবে।’

তারা বলল, ‘তোমার প্রতিপালককে আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে বল গরুটা কি ধরণের। আমাদের কাছে গরু তো একইরকম। আর আল্লাহর ইচ্ছেয় নিশ্চয়ই আমরা পথ পাব।’ 
মূসা বলল, ‘এ এমন একটি গরু যাকে জমি চাষে বা ক্ষেতে পানি সেচের কাজে লাগান হয়নি, সম্পূর্ণ নিখুঁত।’ 
তারা বলল, ‘এখন তুমি তথ্য ঠিক এনেছ।’ 
যদিও তারা জবেহ করতে প্রস্তুত ছিল না; তবুও তারা সেটাকে জবেহ করল।’(২:৬৭-৭১) 

তখন আমি বললাম, ‘এর (বাছুরটির) কোন অংশ দিয়ে একে (মৃতলোকটিকে) আঘাত কর।’ 
এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন আর তোমাদেরকে তার নিদর্শণ দেখিয়ে থাকেন যেন তোমরা বুঝতে পার।’(২:৭২-৭৩) 

কাহিনী ৩: এ কাহিনী লিডিয়া রাজ ক্রোসাসকে নিয়ে। ক্রোসাস পার্স্যিয়া আক্রমণের পূর্বে ওরাকলের পরামর্শ নেন। তাকে বলা হয়েছিল- “If you do, you will destroy a great empire”. এই উত্তরকে অনুকূলে ভেবে তিনি পারস্য আক্রমণ করেন। ফলশ্রুতিতে তার নিজের রাজ্য পার্স্যিয়ানদের দ্বারা ধ্বংস হয়ে যায়। 

উপরের ঘটনাগুলো থেকে আমরা পরিস্কার বুঝতে পারছি তখনকার দিনে রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তি জীবনে পিথিয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

উপদেশ প্রার্থী ডেলফিতে গেল তারপর পিথিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করে ভাববাণী নিয়ে ফিরে এল। পুরো বিষয়টি কিন্তু এতটা সহজ সরল নয়। উপদেশ প্রার্থীরও যেমন প্রস্তুতির ব্যাপার থাকে, তেমনি প্রস্তুতির ব্যাপার আছে পিথিয়ারও। প্রথমে আমরা দেখে নেই, কিভাবে এসব কন্সালটেন্ট বা উপদেশ প্রার্থীরা পিথিয়ার কাছ থেকে তাদের কাঙ্খিত উপদেশ লাভ করত অর্থাৎ ওরাকুলার বাণী পেতে একজন উপদেশ প্রার্থীকে কি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হত।  

একজন উপদেশ প্রার্থীর সমস্ত কর্মকান্ডকে মোটামুটিভাবে চারটি ধাপে ভাগ করা যায়। যেমন-

ধাপ ১: ডেলফির উদ্দেশ্যে যাত্রা— প্রার্থনাকারী তার নিজ প্রয়োজনে ওরাকলের পরামর্শ পেতে দীর্ঘ ভ্রমণ এবং অনেক সময় কষ্ট-সহিষ্ণু পথ পেরিয়ে ডেলফিতে পৌঁছে। এই ভ্রমন ওরাকলের উপস্থিতির উপর বিশ্বাসের দ্বারা অনুপ্রাণিত। আর এমন ভ্রমণের অনুপ্রেরণা একক বা দলগতভাবে তখনি আসে, যখন তাদের হাতে এমন তথ্য থাকে যে, ওরাকল গুরুত্বপূর্ণ এমন সব প্রশ্নের উত্তর দিতে সম্পূর্ণ সক্ষম।

ধাপ ২: পরামর্শ প্রার্থীর প্রস্তুতি— নিয়োজিত যাজক পিথিয়ার নিকট পাঠানোর পূর্বে প্রার্থনাকারীর সাক্ষাৎকার নিয়ে জেনুইন কেসগুলো বাঁছাই করে। এরপর নির্বাচিত প্রার্থনাকারীকে পশু উৎসর্গের পর নির্ধারিত ফি দিয়ে তার প্রশ্ন উত্থাপন করতে হয় পুরুষ যাজকের নিকট। অত:পর লরেল লতাগুল্মের পাতা বয়ে, শোভাযাত্রা সহকারে, অঁকাবাঁকা পবিত্র পথ ধরে মন্দিরে প্রবেশ- প্রভৃতি রীতি-নীতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। 

ধাপ ৩: পিথিয়ার সাথে সাক্ষাৎ— তারপর প্রার্থনাকারী মন্দিরের ভিতরে অডিটামে নীত হয়, তারপর পিথিয়াকে উপহার প্রদান করে সে তার প্রশ্নটি তার নিকট উত্থাপন করে এবং উত্তর পেয়ে চলে যায়। যে ধরণের প্রস্তুতি পর্ব্ এ পর্য়ন্ত সাধিত হয়েছে তাতে বলা যায় প্রার্থনাকারী ইতিমধ্যেই প্রভাবিত ও সম্মোহিত অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছে।

ধাপ ৪: বাড়ী ফেরা— পিথিয়া মূলত: ভবিষ্যৎ কর্মপন্থাকে একটা ছকে আনতে উপদেশ দেয়। আর ঐ উপদেশ মত প্রার্থণাকারীকে অথবা যারা পিথিয়া দর্শনে প্রার্থণাকারীর পৃষ্ঠপোষক ছিল, তাদেরকে সেগুলি কার্য়কর করতে হয়। The validity of the Oracular utterance was confirmed by the consequences of the application of the oracle to the lives of those people who sought Oracular guidance.

অন্যদিকে পিথিয়া কোন প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তর দেবার পূর্বেই রীতি অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করে। পরিশুদ্ধ করণ রীতির অধিকাংশের সাথে জড়িত লরেল লতাগুল্ম, কেননা এটা এ্যাপোলোর বৃক্ষ এবং ঐশ্বরিকত্বের (divination) সাথে সম্পর্কযুক্ত। পিথিয়াকে চিবুতে হয় লরেল ও বে (bay) পাতা, পবিত্র ঝর্ণা থেকে পান করতে হয় এবং পরিধান করতে হয় লরেল গুল্মের মুকুট যখন সে মন্দিরে তার নির্ধারিত কক্ষে তার ত্রিপদী আসনে বসে। -(Sourvinou-Inwood, 233). 

পিথিয়ার আসনের নীচের ফাঁটল দিয়ে নির্গত ধোঁয়া তাকে আবিষ্ট করে ফেলে। অত:পর একসময় তা তাকে উন্মত্ত অবস্থায় পৌঁছে দেয়। এ সময় যখন সে প্রস্তত হয়, যাজক প্রশ্নকারীকে সঙ্গে নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে এবং তার প্রশ্নটি পিথিয়ার কাছে রাখে। তারপর ঐ প্রশ্নের উত্তরে ওরাকল যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, যাজক তা অনুবাদ করে দর্শনার্থীকে জানায়।-(Oppe, 215). 

কিভাবে ডেলফিতে এ্যাপোলোর মন্দির প্রতিষ্ঠিত হল, তা নিয়ে অনেক কাহিনী রয়েছে যার কিছু প্রাচীন এবং কিছু পরবর্তীকালে তৈরী হয়েছে। পরবর্তীকালে তৈরী হওয়া কাহিনীর একটি প্রথম শতাব্দী বিসির এক লেখক ডায়োডোরাস সিকুলাস নথীভূক্ত করেন। তিনি তার কাহিনীতে কোরেতাস নামক একজন ছাগল পালকের অবতারণা করেছেন। ঐ রাখাল একদিন লক্ষ্য করে যে, তার পালের একটি ছাগল যে কিনা ভূমির একটা ফাঁটলে পড়ে গিয়েছিল, অদ্ভূত আচরণ করছে। এতে সে ফাঁটলে নেমে নিজেকে ঐশ্বরিক উপস্থিতির (divine presence) মধ্যে আবিস্কার করে। সে বর্তমানের বাইরে যেমন অতীত দেখতে পাচ্ছিল, তেমনি দেখতে পাচ্ছিল ভবিষ্যৎ। এই আবিস্কারের উত্তেজনায় সে নিজ উপলব্ধি শেযার করে নিকবর্তী গ্রামবাসীর সাথে। অনেকে শরীরের খিঁচুনি ও অনুপ্রেরণার ঘোরের অভিজ্ঞতা উপলব্ধির জন্যে স্থানটিতে যেতে শুরু করে।দূর্ভাগ্যবশত: তাদের অনেকেই আবিষ্ট অবস্থার কারণে ঐ ফাঁটলের খাঁড়িতে পড়ে হারিয়ে যায়। 

এদিকে যারা বেঁচে যায় তারা সবাই ভাববানী দিতে শুরু করে। কিন্তু এমনটা হলে তো হবে না, সবাই ভাববানী দিলে তা নেবার লোকও তো থাকতে হবে, না-কি? সুতরাং এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, কেবল একজনই ভাববাদী হবে। আর সে হবে একজন নারী (কেননা ফাঁটলটি তো ধরিত্রী মাতা গেয়ার গর্ভে), যে একটা ত্রিপদের উপর বসবে যাতে ফাঁটলে পড়ে না যায়। -(Oppe, 218). Also, unlike tradition where the gender of the priestess or priest is the same as the divinity they served, the oracle was female because she originally served Gaia -(Loyd-Jones, 61).  

অত:পর ঐ স্থানে একটি সমাধি মন্দির নির্মিত হয়, যেখানে লোকেরা ১৬০০ বিসির কাছাকাছি ব্রোঞ্জ যুগের শেষদিকে উপাসনা শুরু করে। গ্রামবাসী কুমারী এক কন্যাকে ঐশ্বরিক অনুপ্রেরণা লাভের জন্য যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বেঁছে নেয়। আর সে দেবতার পক্ষ হয়ে কথা বলতে থাকে। 

ইতিপূর্বকার এক কাহিনী অনুসারে ওরাকলের কার্য্যালয়টি প্রথমদিকে ধরিত্রী মাতা গেয়ার দু’কন্যা দেবী থেমিস ও ফোবির অধিকারে ছিল এবং স্থানটি ঐ সময় দেবী গেয়ার জন্যে পবিত্র ছিল। আর গেয়া পাইথন নামের এক জোড়া জমজ ড্রাগণকে মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োগ করেছিলেন। এই মন্দির একই সাথে ভূমিকম্পের দেবতা Poseidon-এর জন্যেও পবিত্র বলে বিশ্বাস করা হত। 

কথিত আছে, গ্রীক অন্ধকার যুগে, ১১তম থেকে ৯বম শতক বিসি, এক নূতন ভাববাণীর দেবতা, এ্যাপোলো মন্দিরটি দখল করে নেন এবং গেয়ার নিয়োজিত মন্দিরের অভিভাবক যমজ সর্পদ্বয়কে বহিস্কার করেন।মূলত: “Apollo slays Python and keeps the oracle for himself to speak to mortals. Hence, the oracle at Delphi is known as Pythia in honor of the killing of Python.” -(Littleton, 77). 

পরবর্তী কাহিনী বলে যে, Phoebe ও Themis স্থানটি এ্যাপোলোকে দিয়ে দেয়, rationalizing its seizure by priests of the new god, কিন্তু সম্ভবত: মূল ওরাকলের যাজিকাকে রাখা হয় দীর্ঘ দিনের প্রথার কারণে। দৃশ্যত: পোসাইদোন শান্ত হয় Troizen-এ নিজের একটা নূতন দেবমন্দির উপহার পাবার মাধ্যমে।

আর যখনই না এ্যাপোলো তার ওরাকল নিশ্চিত করল তখন তার মন্দির নির্মিত হল। পুরাণ অনুসারে এ্যাপোলোর ৫টি মন্দির ছিল, যার মধ্যে কেবল দু’টির উল্লেখ ইতিহাসে পাওয়া যায়। 
  • প্রথম মন্দিরটি ছিল লরেল শাখায় নির্মিত একটি কুঁড়ে। 
  • ২য়টি নির্মিত হয়েছিল পালক ও মৌমাছির মোম দ্বারা যা ঘটনাচক্রে হাইপারবোরিয়ানদের এলাকায় এ্যাপোলোই পাঠিয়েছিলেন। 
  • তৃতীয়টি ছিল ব্রোঞ্জের। হয় সেটি আগুণে পুড়েছিল নতুবা ভূ-কম্পনের ফলে ভূমি গ্রাস করেছিল।   
  • ৪র্থ মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল ট্রোফোনিওস ও আগামেডিস আর্কিটেক্টদ্বয় দ্বারা। ৫৪৮ বিসিতে এটি আগুণে পুড়ে ধ্বংস হয়।  
  • ৫মটিও ৩৭৩ বিসিতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ৫০ বৎসর লেগেছিল সেটা পুননির্মাণ করতে ঐ সময়ে পিথিয়া তার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।-(Sourvino-Inwood, 231).
ডেলফিতে এ্যাপোলোর মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল ৮ম শতক বিসিতে এবং শেষ ভাববানী দেয়া হয় ৩৯৩ এডির দিকে যখন রোম সম্রাট থিয়োডোসিয়াস সমস্ত প্যাগান মন্দির বন্ধ করার আদেশ দেন। 

মন্দির প্রতিষ্ঠায় এ্যাপোলোর এমনই অভিপ্রায় ছিল-

"welcome the tribes of mankind
who gather here, and tell them
most important of all,
what [his] will is,"  

ডেলফিক ওরাকলের উৎপত্তির অন্য কাহিনী জানা যায় এ্যাপোলোকে উৎসর্গিত হোমারের স্তুতি থেকে। হোমারের ঐ স্তবগান বর্ণনা করে কিভাবে স্থানটি এ্যপোলো কর্তৃক দখলীকৃত হয়েছিল এবং কিভাবে এ্যাপোলো তার প্রথম যাজককে বাঁছাই করেছিলেন। 

তারা ছিল "Cretans from Minos' city of Knossos", যারা যাত্রা করেছিল স্যান্ডি পিলোসের উদ্দেশ্যে। কিন্তু এ্যাপোলো, যার অর্চণার একটা বিশেষণ ছিল ডেল্ফিনোস, তাদের জাহাজে ঢুকে পড়ে একটা ডলফিনের আকৃতিতে। ডলফিন এ্যাপোলো নিজেকে প্রকাশ করে ভীত-সন্ত্রস্ত ক্রিটানদের নিকট এবং তাদেরকে বাধ্য করে তাকে অনুসরণ করে ঐ স্থানে যেতে, যেখানে তাদের জন্য রয়েছে মূল্যবান নৈবদ্য। The Cretans "danced in time and followed, singing Iē Paiēon, like the paeans of the Cretans in whose breasts the divine Muse has placed "মধু-স্বরের গান". মেসিনিয়ান সময়ে এ্যাপোলো সম্ভবত: "Paean" নামেই পরিচিত ছিলেন। 

কিন্তু এ্যাপোলোকে উৎসর্গীত হোমারের পদাবলীতে পিথিয়ার কোন উল্লেখ নেই। মূলত: Theognis সর্বপ্রথম পিথিয়ার উল্লেখ করেন এবং পরবর্তীতে এসকালাস তার ড্রামা Eumenides (Fontenrose 204) এ। Eumenides এর প্রথম দু’চ্ছত্র ডেলফি মন্দিরের প্রকৃত দেবী গেয়ার ভাববানীর উদাহরণ। 

অনেক পন্ডিতই এমন মতবাদের স্বপক্ষে প্রমান হাজির করেন যে, পিথিয়া হচ্ছে একটা দপ্তর যার উৎপত্তি গেয়ার ধর্মানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। ডেম্পসে বলেন যে, পিথিয়ার দপ্তরটি প্রকৃত পক্ষে একজন কুমারী নারী দ্বারা পরিচালিত হত, পরবর্তীতে তা একজন বিবাহিত নারী সর্বনিম্ন পঞ্চাশ বৎসর বয়সের নির্ধারিত হয়। তিনি আরও ইঙ্গিত করেন পিথিয়ার লিঙ্গ ও ধরিত্রী মাতার অর্চনার প্রতি। তিনি বলেন গেয়ার ধর্মানুষ্ঠানে পিথিয়ার ভাববানী বর্ণনায় আবিষ্টতার ধরন ছিল অধিক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। পিথিয়ার উন্মত্ততা বা ঘোর সবিস্তারে উপস্থাপিত হয়েছে Appius Claudius Pulcher এর বর্ণনায়। তিনি লুকানের গৃহ যুদ্ধের সময় ডেলফিতে ওরাকলের দর্শনার্থী হয়েছিলেন।এখানে বলে রাখা ভাল যে, অনেক পন্ডিতই বিশ্বাস করেন যে, এ্যাপোলোর হাতে পাইথনের মৃত্যুই হচ্ছে প্রতীকি স্বরূপ ডেলফিতে ওরাকলের পরিবর্তন। 

ডেলফির ওরাকল পিথিয়া এমন একটি চরিত্র যার বিরাট ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছিল এবং যতটা এখনো আছে তার সবই বড়ই রহস্যাবৃত। সে দেবতা্ এ্যাপোলোর হয়ে কথা বলত এবং গ্রীক বা বিদেশীদের উপনিবেশ, ধর্ম ও ক্ষমতার বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিত। তার বাণীর কারণে ডেলফি সম্পদ ও ক্ষমতাশালী নগর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ১৬০০ বিসির দিকে গ্রীস যখন ভূমধ্য ও কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে উপনিবেশ গড়ে তুলছিল তখন ওরাকল তার সর্বোচ্চ মর্যাদা ও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল। ওরাকল ডেলফিতে স্থিতিশীল ছিল ১৪০০ বিসি থেকে ৩৮১ এডি পর্য়ন্ত। তার সূদীর্ঘকাল উপস্থিতি সত্ত্বেও আজও এ নিয়ে বিতর্ক হয় যে, কিভাবে সে এ্যাপোলোর বাণী লাভ করত- হ্যালুসিনেশন নাকি সাজেশন দ্বারা। অবশ্য ডেলফিতে ওরাকলের উপস্থিতি এ্যাপোলোর সেখানে আগমনের বহু পূর্ব থেকেই ছিল। 

It is known that the temple was built upon a spring that was used for purification by the oracle and her attending priests. Plutarch, a priest to the oracle, described the vapors from the spring as “sweetest and most expensive perfumes” -(Littleton, 77). এই সুগন্ধীই মূলত: ওরাকলকে প্রস্তুত করত এ্যাপোলোর হয়ে কথা বলার জন্য। 

বৎসরে একবার, এ্যাপোলোর জন্মদিনে, গ্রীক বাইসস মাসের ৭ম দিবসেই কেবল এ্যাপোলোর কাছে প্রশ্ন রাখা যেত। However this was eventually changed to the seventh day of each month except the winter months when Apollo did not reside in Delphi. বাৎসরিক অনুসন্ধান থেকে মাসিকে পরিবর্তন করা হয় ৪০০ বিসির থেকে পরে নয়। স্বভবত:ই অনেক লোকই ওরাকলের সাথে পরামর্শ করতে চাইত। এতই বেশী যে, প্লুটার্ক এমন একটা সময়ের কথা বলেন যখন তিনজন ওরাকল নিয়োজিত ছিল, যাদের দু’জন পালাক্রমে কাজ করত এবং তৃতীয় জন মজুদ থাকত তাদের কেউ বিশ্রাম নিতে চাইলে তার স্থলে কাজ করার জন্যে। 

To organize the people and communities that wished to see the oracle on the given day precedence was given. ডেলফি নগরী সবসময় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রথমে স্থান পেত এবং ২য় স্থানটি তারাই তাদের পছন্দ মত নির্বাচিত করতে পারত। আর যারা অগ্রাধিকারের আওতায় পড়ত না, তাদেরকে ওরাকলের দর্শণ লাভে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হত- হয় তা মোটা অংকের সম্মানী, নয়ত: কোন দামী উপহার। তবে যারা সাঁরির একেবারে পিছনের দিকে থাকত, দূর্ভাগ্য তাদের, তারা হয়ত: কখনই ওরাকলের সাক্ষাৎ লাভে সমর্থ হত না সূর্য়্য অস্ত যাবার কারণে। ফলে তাদেরকে অপেক্ষা করতে হত পরবর্তী মাসে আবার একবার চেষ্টা করার জন্যে।-(Parke, 19-22). 

Often the Pythia was asked about colonization. If land was gained because of prophesy by the oracle it was believed that the oracle had some possession of the land and legitimized the conquest, thus increasing the stature of Delphi even more.The oracle was also asked frequently about introducing religion to the new colonies.She would often respond with what gods would be proper to worship there. তার উত্তর হতে পারে সরাসরি, বিশেষ কিছু জিনিসের সাথে শর্তাধীন অথবা পুরোপুরি দূর্বোধ্য। The more direct the answer given the more legitimate the colony was considered to be -(Pease 3-18).

ওরাকল হিসেবে যে কোন নারীকে বেঁছে নেয়া যেত। শিক্ষা, বৈবাহিক অবস্থা, বিত্ত এবং বয়স কোনটাই বিবেচ্য ছিল না। তাদেরকে বেঁছে নেয়া হত মূলত: দেবতার পক্ষে তাদের কথা বলার প্রবণতা ও সক্ষমতা দেখে। আর যদি কোন নারী বিবাহিত হত, তবে তাকে ওরাকলের দায়িত্ব পালনকালে পারিবারিক দায়িত্ব-কর্তব্য পরিত্যাগ করতে হত।-(Hale). একইভাবে অগ্রগণ্য প্রথা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি ওরাকলের পরামর্শ নিতে পারত না যতক্ষণ না তারা তাদের প্রযোজন অনুসারে এ্যাপোলোর উদ্দেশ্যে নৈবদ্য না দিত।-(Parke, 22).

ডায়োডোরাস আরও ব্যাখ্যা করেন কেন প্রথম দিকে পিথিয়া নিখূঁত ও পরিপাটি বেশভূষার যুবতী কুমারী হত। আর ওরাকল হিসেবে তাকে নির্বাচনের সময় গুরুত্ব দেয়া হত তার যৌণ সূচিতার উপর। আর পরবর্তীতে তার সতীত্ব সুরক্ষা করা হত দেবতা এ্যাপোলোর সাথে যোগসূত্র স্থাপনের নিমিত্তে। কিন্তু একজন কন্সালট্যান্ট মন্তব্য করেন-

“Echecrates the Thessalian, মন্দিরে এসে ওরাকলের দায়িত্বপালনকারী পিথিয়াকে দেখে এবং তার সৌন্দয্যে মোহিত হয়ে তাকে একপাশে নিয়ে জোরপূর্বক তার কুমারীত্ব কেড়ে নেয়। এই দু:খজনক ঘটনার পর ডেলফিয়ানরা একটা আইন পাশ করে যে, ভবিষ্যতে আর কোন কুমারী নারী ভাববাণী দিতে পারবে না বরং একজন পঞ্চাশোর্ধ বয়স্ক নারী পিথিয়া নির্বাচিত হবে। আর তার সাঁজ হবে কুমরীর পরিচ্ছদের মতই, যা আগেকার আমলের পিথিয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।"

ত্রিপদটি ছিল ছিদ্রযুক্ত। আর যখন্ই সে ঐ গ্যাস শ্বাসের সাথে নিত, মনে হত যেন তার শরীর আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তার চুল খাঁড়া হয়ে যেত, তার চেহারা বদলে যেত, সে জোরে জোরে শ্বাস নিত, তার বক্ষ স্ফীত হত এবং তার কন্ঠস্বরে পরিবর্তন আসত, মনে হত যেন তা কোন মানুষের নয়।

যাজিকা হিসেবে পিথিয়া কিভাবে মনোনীত হত সে সম্পর্কে খুব অল্পই জানা যায়। সম্ভবত: একজন পিথিয়া নির্বাচিত হত মন্দিরের একদল যাজিকার মধ্য থেকে তার পূর্বসূরীর মৃত্যুতে। এ সকল যাজিকা রমনীরা হত কুমারী, সচ্চরিত্রবান ও মার্জিত জীবনাচারের। অার তারা নির্বাচিত হত ডেলফির স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্য থেকে। যদিও কিছু ছিল বিবাহিত। 

পিথিয়া নির্বাচিত হলে তাকে যাবতীয় পারিবারিক দায়িত্ব কর্তব্য মুক্ত করে দেয়া হত। সে মুক্ত হত বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে, এমনকি ব্যক্তি পরিচয়ও তার বিলুপ্ত হয়ে যেত। ওরাকলের পূর্ণত্বের দিনে (Heyday) ভুগোল, রাজনীতি, ইতিহাস, দর্শণ ও শিল্পকলায় সুশিক্ষিত প্রভাবশালী পরিবারের একজন নারীও পিথিয়া হিসেবে মনোনীত হতে পারত। পরবর্তীকালে, অবশ্য, অশিক্ষিত গ্রাম্য নারীও নির্বাচিত হয়েছে ঐ পদে, যা হয়ত: ব্যাখ্যা করে কেন প্রথমদিককার দৈববাণীগুলো কাব্যলঙ্কার যুক্ত পঞ্চমাত্রিক বা ষঢ়মাত্রিক ছিল। পরবর্তীতে কেবল গদ্যাকারেই দেয়া হত এটা। প্রায়শ: পিথিয়ার দেয়া উত্তরটি একজন যাজক কর্তৃক hexameter-এ রাখা হত। আর্কিওলোজিস্ট জন হল (John Hale) বিবৃত করেন:

“পিথিয়া কখনও কখনও অভিজাত পরিবার থেকে মনোনীত হত, কখনও চাষী পরিবারের, কখনও ধনী, কখনও গরীব, কখনও বয়স্ক, কখনও যুবতী, কখনও উচ্চ শিক্ষিত, যাদের প্রতি কেউ কেউ যেমন প্রধান যাজক ও দার্শণিক প্লুটার্ক প্রবন্ধ উৎসর্গ করেছেন, অনেক সময় স্বাক্ষরজ্ঞান হীনও ছিল। সুতরাং এতে মনে হয় যে, কোন আরোপিত যোগ্যতা নয় বরং স্বত:প্রনোদনাই (aptitude) এই সকল নারীদেরকে যোগ্য করে তুলত পিথিয়া হবার এবং দেবতার পক্ষে কথা বলার।”

গ্রীক নারীদের জন্য যাজিকার কাজটি বিশেষত: পিথিয়া ছিল সম্মানীয় কর্মজীবন। যাজিকাগণ তাদের সামাজিক অবস্থানের কারণে অনেক সুযোগ-সুবিধা ও স্বাধীনতা ভোগ করত, লাভ করত নানাবিধ পুরস্কার। তারা মুক্ত ছিল যাবতীয় কর থেকে, নিজস্ব সম্পদে তাদের অধিকার যেমন ছিল তেমনি তারা অংশগ্রহণ করত পাবলিক অনুষ্ঠান সমূহে। রাজ্য সরকার থেকে তারা পেত বসতবাটি এবং তাদের জন্য নির্ধারিত ছিল মাসিক বেতন। তাদের কর্মক্ষেত্রের বিস্তৃতি নির্ভর করত তাদের অন্তর্ভূক্তির ধরণের উপর। অনেক সময় তাদেরকে দেয়া হত স্বর্ণ মুকুট।বলাবাহুল্য, পিথিয়া কেবল মাসের একটি দিনে পরামর্শ দিতে পরত। 

Plutarch (প্রথম শতাব্দীর শেষার্ধে যাজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন) বলেন, এ্যাপোলোর সেবা কাজের দরূণ পিথিয়ার আয়ূ কমে যেত। সেশনগুলো হত বিরক্তিকর, এক ঘেঁয়েমিপূর্ণ। প্রত্যেকটি প্রিয়ড শেষে পিথিয়াকে মনে হত দৌঁড় শেষে রানারের মত অথবা ecstatic নাচ শেষে একজন নর্তকীর মত। যা হয়ত: পিথিয়ার শরীরের উপর বাস্তবিক প্রতিক্রিয়া ফেলত।  

পিথিয়ার সঙ্গে আরও কিছু কর্মকর্তা ওরাকলের কাজ করত। ২০০ বিসির পর যে কোন নির্ধারিত সময়ে এ্যাপোলোর দু’জন যাজক থাকত যারা পুরো ধর্মধামের দায়িত্বভার বহন করত। আর তার পূর্বে, যখন মন্দিরটি এ্যাপোলোকে উৎসর্গ করা হয়, তখন সম্ভবত: এ্যাপোলোর একজন যাজক ছিল। 

যাজক বেঁছে নেয়া হত ডেলফির স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্য থেকে এবং তারা সারা জীবনের জন্যে নিয়োগ পেত। ওরাকলের দায়িত্ব পালন ছাড়াও যাজকগণ এ্যাপোলোর অন্যান্য উৎসবে উৎসর্গ সম্পন্ন করত এবং পিথিয়ান গেমসের দায়িত্বেও থাকত। তবে এ্যাপোলোকে উৎসর্গ করার পূর্বের ব্যবস্থাপনাদির বিষয়ে কোন তথ্য নথিবদ্ধ নেই।

ওরাকলের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য কর্মকর্তা খুব একটা সুপরিচিত নন। এরা হচ্ছেন hosioi ("holy ones") ও prophētai (একবচন prophētēs)। ইংলিশ শব্দ "prophet" এসেছে এই প্রোফেটিস থেকে। গ্রীক প্রোফেটাই-এর মূলত: অনুবাদ "one who speaks on behalf of another person." এইসব প্রোফেটাইয়ের কার্যাবলী পরিস্কার নয়; ধারণা করা হয় তারা পিথিয়ার ভাববাণীর অনুবাদ বা সেগুলিকে পদ্যের পংতিতে ভাগ করার কাজ করত। অবশ্য অনেকের মতে প্রোফিটিস সাধারণভাবে পিথিয়াসহ মন্দিরের সেবাকাজে নিয়োজিত যে কোন অর্চণাকারী ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়। পাঁচজন hosioi ছিলেন, যাদের কর্মপদ্ধতি জানা যায় না, তবে হয়ত: তারা কোন না কোন ভাবে ওরাকলের পরিচালনায় জড়িত ছিলেন।

বৎসরের সবচেয়ে গরমের ৯টি দিনে কেবল ওরাকল ভাববানী দিত। আর এটাই এ্যাপোলোর মন্দিরের প্রচলিত নিয়ম ছিল। কেননা, বলা হত এ্যাপোলো শীতের মাসগুলিতে মন্দির পরিত্যাগ করেন। আর ঐ সময় তার সৎভাই ডোনিসাস তার স্থান দখল করতেন, যার সমাধিটিও ছিল মন্দিরের অভ্যন্তরে। এটা জানা যায় না যে, পার্ণাসাস পর্বতের করিকোন গুহায় মেনাডস বা থেয়াডেস এর  ডোনিসিয়ান রীতিতে ওরাকল অংশ গ্রহণ করত কিনা।যদিও প্লুটার্ক আমাদের জানিয়েছেন যে, তার বান্ধবী ক্লেয়া ছিলেন both a Priestess to Apollo and to the secret rites of Dionysus. পুরুষ যাজকেরা seem to have had their own ceremonies to the dying and resurrecting god. বলা হত এ্যাপোলো বসন্তের শুরুতে, তার জন্মদিনে Vysios মাসের সপ্তম দিবসে ফিরে আসতেন। এটা অারও পুনরাবৃত্তি করে মহান দেবী ডিমিটারেরও শীতে অনুপস্থিতি যা কিনা প্রথমদিককার রীতির একটা অংশ ছিল।

মাসে একবার ওরাকলকে পবিত্রকরণ রীতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যার অন্তর্ভূক্ত রয়েছে উপবাস। ঐশ্বরিকতার সঙ্গে যোগাযোগে এ হচ্ছে আনুষ্ঠানিকভাবে পিথিয়ার প্রস্তুতি। প্রত্যেক মাসের সপ্তম দিনে সে কাস্টালিয়ান ঝর্ণায় স্নান করবে, তারপর মন্দিরের কাছ দিয়েই প্রবাহিত কাসোটিসের পবিত্র পানি থেকে পান করবে।কথিত আছে, এই কাসোটিসে এক জাদুকরী ক্ষমতা সম্পন্ন জলপরী বাস করে। ইউরিপিডিস এই পবিত্রকরণ রীতির পুরো বর্ণনা দিয়েছেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় পার্ণাসাস পর্বতের সর্বোচ্চ চূঁড়া থেকে মহা যাজকের সাথে পিথিয়ার নাচতে নাচতে নেমে এসে মন্দিরে তার কর্তব্য পালনে চলে যাবার মধ্য দিয়ে। আর মন্দিরে প্রবেশ করে সে মন্দিরের মেঝেতে পবিত্র পানি ছিটিয়ে দেয়। পবিত্রকরণ অনুষ্ঠানটি সবসময় মাসের সপ্তমদিনে সম্পন্ন করা হয়, কেননা দিনটি পবিত্র এবং দেবতা এ্যাপোলোর সাথে সম্পর্কিত। 

তারপর ওরাকল অডিটামে তার ত্রিপদ আসনে অধিষ্ঠিত হয়। এইসময় তার হাতে ধরা থাকে লরেল লতাগুল্মের পাতা ও এক পেয়ালা কসোটিস ঝর্ণার পানি যাতে সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তার নিকটেই রয়েছে অম্ফালোস (গ্রীক অর্থে "নাভি"), যার দু’পাশে জিউসের কর্তৃত্বের প্রতীক স্বরূপ রয়েছে দু’টি স্বর্ণময় ঈগল। আর তার আসনের নীচে রয়েছে ঐ ফাঁটল যেখান দিয়ে নির্গত হচ্ছে পবিত্র শ্বাস (sacred pneuma)।

উপদেশ প্রার্থী এ্যাপোলোর জন্যে পবিত্র লরেল লতা বয়ে নিয়ে উর্দ্ধমুখী আঁকা-বাঁকা পবিত্র পথ ধরে মন্দিরের দিকে অগ্রসর হয়। তারপর সে মন্দিরের সম্মুখ প্রাঙ্গনে উৎসর্গের জন্যে একটা পশু নিয়ে আসে এবং নগত অর্থে একটা ফি পরিশোধ করে। আগেই বলেছি- এলাম, পশু উৎসর্গ করলাম তারপর নির্দিষ্ট ফি দিয়ে পিথিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রশ্নের উত্তর জেনে চলে গেলাম, বিষয়টি এতটাই সহজ সরল নয়। আদবদনকারীদেরকে লটারী করতে হত পিথিয়ার সিরিয়াল পেতে। তবে রাজা বা রাজ্যের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ, যারা বিপুল অঙ্কের ডোনেশন দিত এ্যাপোলোকে, তারা অগ্রাধিকার পেত। উৎসর্গিত পশুটি প্রায়শ: হত ছাগল, ছাগল কর্তৃক স্থানটি আবিস্কারের স্মারক হিসেবে। প্রথমে ছাগলটিকে স্নান করানো হত এবং তাকে পর্য়বেক্ষণ করা হত এটা নিশ্চিত হতে যে, it shivered from the hooves upward, ওরাকুলার পাঠে অগ্রসর হবার ক্ষেত্রে যা একটা শুভ লক্ষণ। অত:পর পশুটি উৎসর্গের পর তার অঙ্গ, বিশেষ করে তার যকৃত পরীক্ষা করা হত লক্ষণ শুভ তা সুনিশ্চিত হতে। 

প্লুটার্ক একটা সেশনের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন যাতে লক্ষণ শুভ ছিল না। তা সত্ত্বেও পিথিয়ার পরামর্শ চাওয়া হয়। যাজকও ভাববাণী পেতে যাচ্ছিল, কিন্তু হঠাৎ যাজিকার কাছ থেকে হিস্ট্রিয়াগ্রস্থের মত অনিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়া এল, অত:পর ঐ পিথিয়ার মৃত্যু ঘটে কয়েকদিন পর। 

যখন পিথিয়া থাকত না, তখন দর্শনার্থীগণ যাজককে সিম্পল হ্যাঁ-না প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে নির্দেশনা লাভ করত্। এ ধরণের উত্তর দেয়া হত সাধারনত: রঙীন সীমের বীচি টসের মাধ্যমে, যার একটা রঙ নির্দেশ করত “হ্যাঁ”, অন্যটি “না”। তবে এ ধরণের চর্চা সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়। 

Between 535 and 615 of the Oracles of Delphi are known to have survived since classical times, of which over half are said to be accurate historically. সিসেরো উল্লেখ করেন, সামরিক অভিযান, উপনিবেশ গড়ে তোলা এমন কি বিশিষ্ট ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজ, ওরাকলের অনুমোদন ব্যতিত সম্পন্ন হত না। 

প্লুটার্ক বলেন, যখন “দেবতা” উপস্থিত থাকত তখন পুরো মন্দিরটি একটা মিষ্টি গন্ধে ভরে থাকত: প্রায়শ: বা প্রতিনিয়ত নয়, কিন্তু কখনও কখনও এবং হঠাৎই যে কক্ষে ওরাকল বসত মৃদুমন্দ বাতাসের সাথে সেটি মিষ্টি সুগন্ধে ভরে যেত। মনে হত যেন অডিটাম একটা ঝর্ণা থেকে সবচেয়ে মিষ্টি এবং সবচেয়ে মূল্যবান সুগন্ধীর নির্যাস চারিদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে।-(প্লুটার্ক, মোরালিয়া 437c). 

বিভিন্ন উৎস থেকে পিথিয়ার পাঁচ শতাধিক ভাববাণীর সন্ধান পাওয়া যায়। যার অনেকগুলিই পুরাণ কাহিনীর এবং প্রবচন হিসেবে টিকে আছে। কিছু ভাববাণী ব্যক্ত হয়েছে দ্ব্যর্থক ভাবার্থে যেগুলোকে তার বচনভঙ্গীর নৈপূণ্যতার কারণে সমীহ করা হয়। উদাহরণ স্বরূপ- এক ব্যক্তি পিথিয়ার কাছে প্রশ্ন রাখে যে, সামরিক অভিযানে যোগ দেয়া তার জন্যে নিরাপদ হবে কিনা? আর উত্তর ছিল- “Go, return not die in war.”। এখানে “not” শব্দের আগে বা পরে একটি কমার ব্যবহার বাণীটির সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ করবে। Nevertheless the Oracle seems consistently to have advocated peaceful, not violent courses generally.

নীচে সুপ্রসি্দ্ধ ও ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ওরাকলের ভাববাণীর কয়েকটি আমরা উল্লেখ করছি-

৮০০ বিসি: গ্রেকো-রোমান ঐতিহাসিকগণ ডেলফিক ওরাকলের প্রথমদিককার কিছু বাণী লিপিবদ্দ করেন যা দেয়া হয়েছিল ৮ম শতক বিসির প্রায় কিম্বদন্তি তুল্য স্পার্তান আইন প্রণেতা লিকারগাসকে (Lycurgus)।

পিথিয়ার সঙ্গে পরামর্শে লিকারগাস।
প্লুটার্কের বর্ণনা মতে, ওরাকল লিকারগাসকে বলে যে, তার প্রার্থনা শোনা হয়েছে এবং তার রাজ্য, যেখানে তার আইন প্রতিপালিত হয়, তা বিশ্বে সবচেয়ে বিখ্যাত হবে। এমন এক স্বীকৃতিতে লিকারগাস স্পার্তার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের নিকট যান এবং তাদের সমর্থন আদায় করেন। অত:পর ওরাকলের আরও পরামর্শ চাইলে সে তাকে জানায়: “দু’টো পথ রয়েছে, যার একটা থেকে অন্যটার ফারাক বিস্তর: the one leading to the honorable house of freedom, the other the house of slavery, which mortals must shun. It is possible to travel the one through manliness and lovely accord; so lead your people to this path. The other they reach through hateful strife and cowardly destruction; so shun it most of all.”

ফলত: লিকারগাস স্পার্তানদের জন্যে এমন একটি সংবিধান প্রণয়ন করলেন, যাতে, একটি ভূমি-মালিক অভিজাততন্ত্রী ও একটি গনতন্ত্রী- দুই রাজার এক রাজতন্ত্রের মিলিত বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল। একইসাথে তিনি চুরি ও ঘুষ রোধে লৌহ মুদ্রারও প্রচলন করেন। প্লুটার্ক ও ডায়োডোরাসের মতে তিনি এই মুদ্রার প্রচলন করেন, কারন, ওরাকল বলেছিল- “অর্থলোভ ব্যতিত অন্য কোনকিছুই স্পার্তাকে ধ্বংস করতে পারবে না।”

The supposed oracular statement in retrospect was interpreted as being fulfilled as the gold and silver Sparta's soldiers sent home after the Peloponnesian War were to prove to be Sparta's undoing. It is not likely that this oracle was delivered, if it is at all historical, to Lycurgus himself, as coinage had not been introduced in his time.

৬৩০ বিসি: থেরা দ্বীপের রাজা নিজ শহরের পক্ষ থেকে একটা উপহার দিতে ডেলফিতে এলে ওরাকল তাকে বলে যে, তিনি যেন লিবিয়াতে একটা শহর খুঁজে নেন।

রাজা যেহেতু জানতেন না যে লিবিয়া কোথায় সুতরাং তিনি কিছুই করলেন না। পরবর্তীতে এক দীর্ঘসময় থেরাতে বৃষ্টিপাত বন্ধ রইল। তখন কি করা উচিৎ তা জানতে থেরিয়ানরা পুন:রায় ওরাকলের কাছে এলে সে বলল- যদি তারা লিবিয়ার সিরিনে একটা উপনিবেশ গড়ে তোলে, things would go better with them.

এসময় অনাবৃষ্টির চাপ থেকে মুক্তি এবং ওরাকলের পরামর্শ অনুসরণে থেরিয়ানরা ক্রিটানদের কাছ থেকে জেনে নিল লিবিয়া কোথায়। তারপর প্লাতেয়াতে থেরার একটা কলোনী স্থাপন করল। কিন্তু দূর্ভাগ্য তাদের পিছু ছাড়ল না আরও দু’বৎসর। সুতরাং তারা তৃতীয়বারের মত আবারও ওরাকলের কাছে এল। এসময় সে বলল- Know you better than I, fair Libya abounding in fleeces? Better the stranger than he who has trod it? Oh! Clever Therans!

তখন থেরানগণ স্থানীয় লিবিয়ানদের পরামর্শ চাইলে তারা তাদেরকে নতুন একটা জায়গা দিল। এ সময় ঐ কলোনী উন্নতি লাভ করল।

৫৯৫ বিসি: ওরাকলের ব্যাপারটি কেবলমাত্র ডেলফিয়ানদের হাতে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি খুবই জরূরী হয়ে পড়ে। এবং এতে ঐ স্থানের পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্ব চলে যায় এ্যাম্ফিকটায়োনিক লীগের হাতে। এটি ছিল ‍১২টি শহরের একটি পরিষদ, যারা ১১০০'শ বিসি থেকে স্বাধীনভাবে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রেখে এসেছে। এই লীগের নামকরণ হয়েছে হেলেনের ভ্রাতা, এথেন্সের প্রথম গ্রীক সম্রাট, থার্মোপলির এ্যাম্ফিকটায়োনের নামে।

ঐ বৎসর কির্রার নিকটে আগত দর্শনার্থীদের উপর সারচার্জ আরোপ করা হয়,যা প্রথম পবিত্র যুদ্ধের সূচনা করে। ৫বৎসর সংগ্রামের পর, ওরাকল আদেশ জারি করে যে, the site of Kirra be left fallow, sacred to Apollo. আর এটা দূর্দান্ত সমৃদ্ধির এক যুগের সূচনা করে।

৫৯৪ বিসি: এথেনিয়ান আইন প্রণেতা সলোন, মেগারা ও চির্রার নিকট থেকে সালামিসের দ্বীপগুলোর দখল নিতে চাইলে ওরাকল তাকে বলে: First sacrifice to the warriors who once had their home in this island,

৪৮০ বিসি: পারস্যের মহান দারিয়ূস পুত্র, জেরোক্সেস যখন গ্রীক বিজিত করতে ফিরে এলেন যাতে তার পিতা ব্যর্থ হয়েছিলেন, তখন এথেনিয়ানরা ওরাকলের পরামর্শ নিল। তাদেরকে বলা হয়েছিল: “Now your statues are standing and pouring sweat. They shiver with dread. The black blood drips from the highest rooftops. They have seen the necessity of evil. Get out, get out of my sanctum and drown your spirits in woe.”

এতো পুরোই দূ্র্বোধ্য। সুতরাং Athena approached her father to help her city, Zeus responded that he would grant that "a wall of wood alone shall be uncaptured, a boon to you and your children."

এতে এথেনীয়রা দ্বিতীয়বার ওরাকলের পরামর্শ চাইলে, সে তাদেরকে পালিয়ে যেতে পরামর্শ দিল: “Await not in quiet the coming of the horses, the marching feet, the armed host upon the land. Slip away. Turn your back. You will meet in battle anyway. O holy Salamis, you will be the death of many a woman's son between the seedtime and the harvest of the grain.”

ঐ সময় স্পার্তানরাও ওরাকলের পরামর্শ চাইলে তাদেরকে বলা হল: “The strength of bulls or lions cannot stop the foe. No, he will not leave off, I say, until he tears the city or the king limb from limb.” আর ওরাকলের এই বাণী হেরোডোটাস উল্লেখ করেছেন এভাবে:

“Hear your fate, O dwellers in Sparta of the wide spaces;
Either your famed, great town must be sacked by Perseus' sons,
Or, if that be not, the whole land of Lacedaemon
Shall mourn the death of a king of the house of Heracles,
For not the strength of lions or of bulls shall hold him,
Strength against strength; for he has the power of Zeus,
And will not be checked until one of these two he has consumed.”

The Spartans withdrew in consternation, wondering which fate was worse. The Delphians themselves then asked how Persia could be defeated. The oracle replied: “Pray to the Winds. They will prove to be mighty allies of Greece.”

Events overtook the prophecy when the Persian army assaulted Thermopylae, where the Spartans (notably “the 300”) and allies held the pass against them. The Spartans under King Leonidas (The Lion) resisted the Persian advance at Thermopylae until betrayed by treachery. Refusing to retreat, the entire Spartan contingent, including their King (as foretold), lost their lives, but in so doing gained immortal fame. The Persian armada then sailed to nearby Cape Artemisium, where they were met by the Athenian fleet. The Athenian ships fought against great odds, but in three battles managed to hold their own.
A tremendous storm then arose at Artemesium, with the most violent winds attacking the ships for three days. The Persians lost about 20% of their warships and perhaps the same number of transport vessels to the storm. The stormy winds and huge waves did not harm the Athenian ships.

Back in Athens Themistocles argued that the wall of wood referred to the Athenian navy and persuaded the Athenians to pursue their policy of using wealth from their Attic silver mines at Laurium to continue building their fleet. On the grounds that the oracle referred to the nearby island of Salamis as "holy", he claimed that those slain would be Greece's enemies, not the Athenians. For these the oracle would have said "O cruel Salamis". His voice carried the day, Athens was evacuated to Salamis and in a following naval battle the Athenian fleet and its allies destroyed the Persian fleet at Salamis, while watched by Xerxes. Despite the fact that Athens was burned by the Persians, her occupants were saved, the Persian risk was ended and the authority of the Oracle was never higher.

৪৪০ বিসি: কথিত আছে, সির্কার এ্যাপোলোর মন্দিরের ওরাকল নাকি বলেছিল- “সক্রেটিসের চেয়ে জ্ঞানী কেউ নেই।” এসময় সক্রেটিসের বয়স ত্রিশ বৎসরের মত ছিল এবং দার্শণিক হিসেবে তার সূখ্যাতি তখনও ছড়িয়ে পড়েনি। যাহোক, তিনি একথা জানতে পেরে বলেছিলেন যে, either all were equally ignorant, or that he was wiser in that he alone was aware of his own ignorance ("what I do not know I do not think I know"). এই দাবী ডেলফির সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত নীতিবাক্য Gnothi Seauton (γνῶθι σεαυτόν): "know thyself!" এর সাথে সম্পর্কিত, যেটি সক্রেটিস বলেছিলেন যে, তিনি সেখান থেকে শিখেছেন। 

অন্য কাহিনী মতে সক্রেটিসের বন্ধু Chaerephon পিথিয়ার নিকট প্রশ্ন রেখেছিল: "Is there any man alive wiser than Socrates?" আর সে উত্তর লাভ করে, "None."

৪৩১ বিসি: At the outbreak of the Peloponnesian War the Spartans send a delegation to Delphi inquire whether it would be wise to go to war against Athens. According to Thucydides, "It is said that the god replied that if they fought with all their might, victory would be theirs, and that he himself would be on their side, whether they invoked him or not."

৪০৩ বিসি: Peloponnesian যুদ্ধে স্পার্তান সেনাপতি লাইসেন্ডারকে সতর্ক করা হয়েছিল এই সাবধানবাণী দিয়ে: “Also the dragon (serpent), earthborn, in craftiness coming behind thee.”

তিনি নিহত হন ৩৯৫ বিসি Neachorus এর হাতে যার ঢালে একটা সর্পমূর্ত্তি অঙ্কিত ছিল। আর নিকোরাস তাকে পশ্চাৎদিক থেকে আঘাত করেছিলেন।

৪০১ বিসি: স্পার্তাকে সতর্ক করা হয়েছিল এভাবে:

Sure though thy feet, proud Sparta, have a care,
A lame king's reign may see thee trip — Beware!
Troubles unlooked for long shall vex thy shore,
And rolling Time his tide of carnage pour.

স্পার্তার খোঁড়া রাজা Agesilaus, যিনি চারিপাশের শত্রুকে আক্রমণের মধ্য দিয়ে সিংহাসনে আরোহণ করেন লাইসেন্ডারের সময়, lost control of the seas to the Persians who attacked Spartan coastal locations. In his obsession with Thebes, he incited the Thebans under Epaminondas to fight back. The Spartans were defeated for the first time by the Thebans in the battle of Leuctra in 371 BC; this led to the invasion of Sparta itself and its defeat at the battle of Mantinea in 362 BC.

৩৫৯ বিসি: মহাবীর আলেকজান্ডারের পিতা, মেসিডোনের রাজা ফিলিপ ২য় ওরাকলের পরামর্শ নিয়েছিলেন এবং তাকে বলা হয়েছিল: “With silver spears you may conquer the world.”

রাজা তখন পার্শ্ববর্তী থেরাসিয়ান ও ইলিরিয়ান রাজ্যের সিলভার খনিগুলো খুঁজে নিয়ে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিলেন। and using them to bribe his way to early victories, playing one Greek state off against the others, and isolating his enemies by bribes to potential allies.

৩৩৩ বিসি: মহাবীর আলেকজান্ডারও ডেলফিক ওরাকলের দর্শনার্থী হয়েছিলেন। শীঘ্রই তিনি সমগ্র পৃথিবী পদানত করতে পারবেন, এ জাতীয় একটি ভাববাণী শুনতে পাবেন এমনটাই তার আশা ছিল। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে পিথিয়া সরাসরি কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করে এবং তাকে পরে আসবার জন্য বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলেকজান্ডার তার চুলের মুঠি ধরে, তাকে তার আসন থেকে টেনে নামান, তারপর হিঁচড়ে তাকে তার কুঠুরীর বাইরে নিয়ে যেতে থাকেন যতক্ষণ না সে চিৎকার করে বলেছিল- “Let go of me; you’re unbeatable.” অার এ উক্তি শোনা মাত্র তিনি তাকে মুক্ত করে দেন। 

২৭৯ বিসি: plundered by a Celtic invasion, the oracle declared: Care for these things fall on me!

The Celts were met by earthquakes, avalanches, and a massive snow storm, forcing them to retreat. But the Romans were a different matter. In 191 BC, the sanctuary of Delphi fell into the Roman sphere of influence, and the oracle generally supported the rise of Rome henceforth.

৮৩ বিসি: Delphi was razed by an attack from the Thracian tribe of Maedi who extinguished the sacred fire which had been burning uninterrupted for centuries. At the time of Pompey the Great, Cicero, Pompey's ally, consulted the Oracle as to how he should find greatest fame and was told:

Make your own nature, not the advice of others, your guide in life.

Pompey was subsequently defeated by Julius Caesar. Cicero cultivated his oratory and his skills in the courts in preserving Rome from the Catilinarian conspiracy, earning undying fame.

৫৯ এডি: সম্রাট নিরো তার মাতাকে হত্যা করেন। আর ৬৭ এডিতে ৩০ বৎসর বয়সে যখন তিনি ওরাকলের সাক্ষাৎপ্রার্থী হন, তখন তাকে বলা হয়: “Your presence here outrages the god you seek. Go back, matricide! The number 73 marks the hour of your downfall!”

তিনি ক্রোধান্বিত হয়ে পিথিয়াকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারেন। নিরো ভেবেছিলেন তিনি দীর্ঘ রাজত্ব করবেন এবং ৭৩ বৎসর বয়সে মারা যাবেন। কিন্তু তার রাজত্ব সংক্ষিপ্ত হয় গলবার বিদ্রোহে, যার বয়স ছিল ঐ সময় ৭৩ বৎসর।

১১৭ এডি: সিংহাসনে আরোহণের পূর্বে সম্রাট হাজরিয়ান ডেলফিতে দর্শণ দিয়েছিলেন। অত:পর কাসোটিস পান করলে তাকে জানান হয় সম্রাট হিসেবে তার ভাগ্য নির্ধারিত। তারপর যখন তিনি সিংহাসনে অরোহণ করেন, he ordered it blocked up so no one else could get the same idea in the same way.

৩৬২ এডি: অরিবাসিয়াস স্বধর্মত্যাগী সম্রাট জুলিয়ানের পক্ষ থেকে ডেলফিক ওরাকলের সাক্ষাৎপ্রার্থী হন। এসময় ডেলফি এক প্রকার জনশূণ্যই ছিল। যাহোক সম্রাটের পক্ষ থেকে মন্দিরে সেবা মূলক উৎসর্গের পর তিনি ডেলফিক পিথিয়ার সর্বশেষ ভাববাণীর একটি পান: “Tell the emperor that my hall has fallen to the ground. Phoibos no longer has his house, nor his mantic bay, nor his prophetic spring; the water has dried up.”

এইসব রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ভাববাণী ছাড়াও, there were many thousands of pronouncements that led to the freeing of slaves, the creation of successful marriages, the honouring of local gods, the successful planting of crops and engagement in trade and industry, many of which were later honoured by gifts or inscriptions at the oracle site. The Pythia of Delphi was arguably the most powerful woman of the ancient world.

কিভাবে পিথিয়া ভাববানী দিত? স্কলারদের কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে, পিথিয়া আবিষ্টের উন্মত্ততায় চলে যেত। তবে পন্ডিতগণ যেমন, Joseph Fontenrose উন্মত্ত ও আবিষ্ট পিথিয়ার ঐতিহাসিক নির্ভুলতার প্রশ্ন তোলেন।পাওয়েল বলেন- “ফাঁটলের কোন প্রমান নেই তাছাড়া লরেল লতাগুল্মও হ্যালুসিনোজেনিক নয়।” 
বিতর্ক থেকেই যায়। 

সাম্প্রতিক ভূ-তাত্ত্বিক অনুসন্ধান দেখিয়েছে যে, ভূ-তাত্ত্বিক ফাঁটল দিয়ে নির্গত গ্যাস ডেলফিক ওরাকলকে অনুপ্রাণিত করে থাকতে পারে to "connect with the divine." গবেষকগণের কেউ কেউ ইঙ্গিত দেন ইথিলিন গ্যাসের সম্ভাবণার প্রতি যা পিথিয়াকে অনুপ্রেরণার বা ভাববাণীি করার অবস্থায় নিয়ে যায়। তবে Lehoux বিতর্ক তোলেন যে, ইথিলিন এক্কেবারেই “অসম্ভব” ও বেনজিন হচ্ছে "crucially underdetermined." অন্যরা বলেন যে, মিথেনই হয়ত: ফাঁটল দিয়ে নির্গত গ্যাস অথবা কার্বন ডাই অক্সাইড ও হাইড্রোজেন সালফাইড। তাদের যুক্তি হল এমনিতেই হয়ত: ফাঁটলটি নিজেই ভূ-কম্পণে ভূমির মোঁচড়ে সৃষ্ট। 

পিথিয়ার দূর্বোধ্য আচরণ ও ইঙ্গিৎ যাজক দ্বারা অনূদিত ও পরে তাকে পাঁচ মাত্রার কাব্যিক ছন্দে রূপ দেবার ধারণাটি পন্ডিতগণের অনেকে বিশেষত: জোসেফ ফন্টেনরোজ ও লিজা মাওরিজিও উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা যুক্তি হল প্রাচীন উৎসগুলো সবসময় এমনটাই বলে আসছে যে, পিথিয়া কথা বলত বুদ্ধিমত্তার সাথে এবং ভাববাণী দিত নিজ কন্ঠে।

৮ম শতকে এ্যাপোলোর মন্দির হিসেবে ডেলফিতে ওরাকলের পুন: সংস্করণ সম্ভবত কোরিন্থ নগরীর গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবার সাথে এবং কোরিন্থিয়ান উপকূলে স্থানটির গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবার সাথে সম্পর্কিত। 

প্রথমদিককার ক্রিশ্চিয়ান চার্চের ফাদারগণ ওরাকলের কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তারা ধারণা করতেন, শয়তান জ্বীনগণ তাদেরকে সহযোগিতা করে পৌত্তলিকতার বিস্তার ঘটাতে, যাতে করে একজন ত্রাণকর্তার প্রযোজনীয়তা আরও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

সমাপ্ত।


উৎস:

  • M. Chappell, "Delphi and the Homeric Hymn to Apollo".
  • Plutarch, Moralia, vol-5.
  • Smith's Dictionary of Greek and Roman Biography and Mythology.
  • Hodge, A. Trevor. "The Mystery of Apollo's E at Delphi,"
  • Mason, Betsy, The Prophet of Gases.
  • Plato, Charmides. 
  • Plato, Protagoras.
  • William J. Broad, The Oracle: The Lost Secrets and Hidden Message of Ancient Delphi. 
  • Stone, Merlin, When God was a Woman.
  • Fontenrose, Joseph, "Delphic Oracle: Its Responses and Operations"
  • Thomas W. Allen, E. E. Sikes, Commentary on the Homeric Hymns,
  • Hall, Manly Palmer, The Secret Teachings of All Ages,
  • Holland, Leicester B., "The Mantic Mechanism at Delphi," 
  • Maurizio, Lisa, "The Voice at the Centre of the World: The Pythia's Ambiguity and Authority"
  • Parke, Herbert William, A History of the Delphic Oracle,
  • Potter, David Stone, Prophecy and history in the crisis of the Roman Empire: a historical commentary on the Thirteenth Sibylline Oracle,
  • Parke, Herbert William, Sibyls and Sibylline Prophecy in Classical Antiquity, 
  • Rohde, Erwin, Psyche: The Cult of Souls and the Belief in Immortality among the Greeks,
  • Wikipedia.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন