pytheya.blogspot.com Webutation

২২ অক্টোবর, ২০১৩

Abu Hurayra: শিয়াগণের হুরায়রা বর্ণিত হাদিস বর্জন করার কারণ।

ঈমাম বুখারী ৬ লক্ষের মত হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন। তার মধ্যে তিনি ৯৯ শতাংশ হাদিস বর্জন করেন। তার নিজস্ব “ব্যক্তি গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি”তে হাদিস সাব বর্ণনাকারীগণ বাদ পড়াতে তাদের বর্ণিত হাদিসগুলোও বর্জিত হয়। তবে মূল বর্ণনাকারী অথাৎ সাহাবীদের কাউকেও তিনি বর্জন করেননি, যদিও অনেক সাহাবী সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য রসূলুল্লাহর সময়ও ছিল। এমনই একজন সাহাবা আবু হুরায়রা। তার বর্ণিত ৪৪৬টি হাদিস বুখারী শরীফে স্থান পেয়েছে।

Azd গোত্র।
আবু হুরায়রার বংশ-পরিচয় পরিস্কার নয়। তার জন্ম, জন্মস্থান ও বংশধারা সম্পর্কে যতটুকু জানা যায় তা এই যে, তার জন্ম ইয়েমেনের লোহিত সাগরের উপকূলস্থ তিহামা অঞ্চলের বাহাতে, Daws বংশের Azd গোত্রের বনি Sulaym উপগোত্রে, ৬০৩ সনের দিকে। তার প্রকৃত নাম Abd al-Rahman ibn Sakhr al-Azdi বলে ফিকহ ও হাদিসবেত্তা Al Nawawi উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ বলেন, হুরায়রার পিতা ছিলেন Omayr bin Aamir এবং মাতা Omayma bint Sufayh.

আরবীতে, হিরা (hirra) অর্থ বিড়াল এবং হুরায়রা (hurayra) অর্থ বিড়াল ছানা (kitten)। হুরায়রা বলেন: “I was surnamed with Abu Hurayra because of a small cat I used to play with.”- (Ibn Qutayba al-Dinory, AI-Ma'arij, p-93). ইবনে সা’দের (Ibn Sa'd) তাবাকাত (Tabaqat) থেকেও এর সমর্থন মেলে- “I grazed sheep and I had a small cat. When night came I put it on a tree and in the morning I took it to play with, so they called me Abu Hurayra.


অবশ্য কোথাও কোথাও আবু হুরায়রা নামের শানে নযুল এমনও দেয়া হয়েছে- “ইসলাম গ্রহণের পর আবু হুরায়রা মসজিদে নব্বীতে এবং নবীজীর নিকটসঙ্গে অর্থাৎ কাছাকাছি থাকতেন। খাবার শেষে প্লেটে বিড়ালের জন্যে কিছু অবশিষ্ট রাখা তার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এভাবে মসজিদের আশেপাশে বিড়ালের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আর হুরায়রা ঐ বিড়ালগুলোর সঙ্গে খেলতে ও তাদেরকে আদর করতে পছন্দ করতেন। এতে তিনি আবু হুরায়রা উপাধি পান।”


হুরায়রা kept on fondness of his cat and playing with it at the days of Islam until prophet Muhammad saw him putting his cat inside his sleeve.- Al-Qamoos Al-Muheet by al-Fayrooz Abadi.


হুরায়রার বাল্যকাল কিভাবে কেটেছে সে সম্পর্কে জানা যায় তার এই বক্তব্য থেকে- “I grew up as an orphan, and migrated as a destitute, and was a servant hired by Busrah bint Ghazwan with my pay being only some food to sustain on... I used to serve them when they got down, and urge forward by singing when they mounted the horsebacks.” -Shams al-Ma’arif by Sheikh Ahmed.


Ibn Sa’d এর al-Tabaqat al-Kubra থেকে জানা যায় যে, হিজরী ৭ম সনে, ৩০ বৎসর বয়সের সময় হুরায়রা কপর্দকহীন অবস্থায় একবস্ত্রে নগ্নপদে দাউস গোত্রের কিছুলোকের সঙ্গে মদিনায় আগমন করেন। এসময় রসূলুল্লাহ খায়বর যুদ্ধে ব্যাপৃত ছিলেন। মদিনায় ফিরে নবীজী তার সঙ্গীদেরকে লব্ধ "War Booty" বা "গনিমতের মাল" থেকে একটা অংশ হুরায়রাকে দিতে বলেন এবং তারা সেইমতই করেন। আর হুরায়রা "মসজিদে নব্বী"তে থাকতে লাগলেন যেভাবে "আসহাবে সুফ্ফা"গণ থাকতেন। কেননা তিনি ছিলেন সহায় সম্বলহীন, উপরন্তু তার পরিবার বা নিকট আত্মীয়ের অপর কেউ মদিনাতে ছিল না। তাছাড়া তিনি জানতে পেরেছিলেন আসহাবে সুফ্ফাদেরকে নবীজী আপ্যায়ন করতেন বা অন্যান্য সাহাবীদের দ্বারা আপ্যায়ন করাতেন। সুফ্ফাদের প্রতি আরও একজন অতি সদয় ছিলেন, তিনি হলেন আলীর ভ্রাতা জাফর ইবনে আবু তালিব। এ কারণে তাকে “দরিদ্রের পিতা” বলেও সম্বোধন করা হত। আর তাই হুরায়রার নিকট জাফর এর পরিচয় ছিল নবীজীর পরে সর্বাধিক দয়ালু ব্যক্তি হিসেবে।-Fath al-Bari by Ibn Hajr Asqalani, vol. VII, p. 62.


আগেই বলেছি, হুরায়রা সর্বদা নবীজীর কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করতেন। আর এটা নবীজীর প্রতি তার ভালবাসা যতটা না, তার চেয়ে অধিক ছিল তার উদর পূর্তির কারণ হিসেবে। আর তাই এ প্রসঙ্গে তিনি এমনই সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন -“I kept his company for only filling my abdomen.” এ সম্পর্কে বুখারী, মুসলিম ও আহমদে অনেকগুলো হাদিসও রয়েছে।


হুরায়রা প্রায় তিন বৎসরকাল নবীজীর সঙ্গ লাভ করেছিলেন। অনেকের মতে এ সময়কাল এক বৎসর দশ মাস। কেননা, নবীজী তাকে al-Hadrami-র সঙ্গী করে বাহরাইনে প্রেরণ করেছিলেন। আর তিনি নবীজীর মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন। -Shi`as are the Ahl al-Sunnah by Muhammad Al-Tijani Samawi. এই আবু হুরায়রা, ৬৮১ সন, ৫৯ হিজরীতে, ৭৮ বৎসর বয়সে মারা যান এবং তাকে “আল বাকী”তে সমাহিত করা হয়।


নবীজীর জীবিতকালে হুরায়রার পরিচিতি তেমন একটা ছিল না। তিনি কখনও উল্লেখযোগ্য সাহাবী হিসেবেও গণ্য হননি। বর্তমানে সুন্নী মুসলিম সমাজে তার অধিক পরিচিতির একমাত্র কারণ তার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হাদিস বর্ণনা। কেননা, In speeches and lectures, in Friday khutbahs and seminars, in the books of hadith and sirah, fiqh and ibadah, the name Abu Hurayra is mentioned in this fashion: “On the authority of Abu Hurayra, may Allah be pleased with him, who said: The Messenger of Allah, may Allah bless him and grant him peace, said …”.


হাদিস সংগ্রহকারীগণের সকলেই এ বিষয়ে একমত যে, হাদিস বর্ণনাকারীগণের মধ্যে আবু হুরায়রাই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সর্বাধিক হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণিত হাদিস সংখ্যা সর্বমোট ৫,৩৭৪টি (al-Qastalani, Irshad as-Sari, vol. 1, p. 212; Ibn Hazm, al- Milal wen-Nihal, vol. 4, p. 138) এবং এ সংখ্যা বিবি আয়েশা বর্ণিত হাদিসের দ্বিগুনেরও অধিক এবং চার খলিফা বর্ণিত হাদিসের সংখ্যার কয়েকগুন বেশী। বিবি আয়েশা বর্ণনা করেছেন সর্বমোট ২২১০টি হাদিস, আবু বকর ১৪২টি, ওমর ৫৩৭টি, ওসমান ১৪৬টি এবং আলী ৫৮৬টি।-Hadith Literature: It's Origin, Development, & Special Features by Muhammed Zubayr Siddiqui.


মুসলিমদের এক উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশেষত: শিয়াগণ হুরায়রা বর্ণিত সকল হাদিস বর্জন করেন। তারা নবীজীর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারীগণের সঙ্গে তার সখ্যতা, তাদের স্বার্থসিদ্ধিতে হাদিস বর্ণনা এবং ভুল ও ভূয়া হাদিস বর্ণনাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা আরও বলেন, “We reject Abu Hurayra who was a belly-worshiper,who, despite knowing the superiority of Ali, ignored him. He preferred his patron, the damned Mu'awiya, sat at his table to relish dainty dishes, and concocted Hadith in opposition to Ali.” আর তাই মুসলিম হিসেবে বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে নেয়া বা তাদের দাবীর যথার্থতা খতিয়ে দেখা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে বলেই আমার বিশ্বাস। কেননা, আল্লাহ কোরআনে বলেছেন-


জমিন মৃত, বিরান। যখন আমি প্রেরণ করি পানি তার উপরে-তা সতেজ হয় এবং বের করে আনে জোড়ায় জোড়ায় সূদৃশ্য সব উদ্ভিদ।-(২২:৫)


আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দুরূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত্ত করেছি, অবশেষে তাকে এক নূতন রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়!- (২৩:১২-১৬)


(আল্লাহ) পৃথিবীতে যাকিছু আছে, তা সৃষ্টি করেছেন। তদুপরি, তিনি আসমানের প্রতি মনোনিবেশ করেছেন এবং সামঞ্জস্য করে সজ্জিত করেছেন সাত আসমানকে। তিনি সমস্ত জিনিস সস্পর্কে পূর্ণজ্ঞানী।-(২:২৯) আমি সৃষ্টি সম্পর্কে অমনোযোগী নই।-(২৩:১৭)


আল্লাহর ক্ষমতা সবকিছুর উপরে বিদ্যমান এবং তাঁর জ্ঞান সব জিনিসকেই পরিব্যপ্ত করে রয়েছে।-(৬৫:১২) আকাশমন্ডলী, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি ক্ষমতার বলে।-(৫১:৪৭) আমি আসমান থেকে পানি বর্ষিয়ে থাকি পরিমান মত এবং এ সরিয়ে নেয়ার ক্ষমতাও রাখি। -(২৩:১৮) তিনি ঘটিয়ে থাকেন বজ্রপাত এবং তার দ্বারা আঘাত হানেন যাকে ইচ্ছে, যখন তারা লিপ্ত থাকে আল্লাহ সস্পর্কে বিতর্কে। ক্ষমতায় তিনি সর্বশক্তিমান।-(১৩:১৩)


জমিনে বিচরণকারী কোন জানোয়ার নেই, পাখাবিশিষ্ট উড়ন্তপাখি নেই, আমি অবহেলা করিনি কোন কিছুই.-(৬:৩৮) তারা (মানুষ) কি উপরের আসমানের দিকে লক্ষ্য করে না, কিভাবে আমি তাকে বানিয়েছি এবং তাকে সাঁজিয়েছি এবং তাতে কোন ফাঁক বা ফাঁটল নেই।-(৫০:৬)


অন্যদিকে কোরআন সম্পর্কে তিনি বলেছেন- তারা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারও পক্ষ থেকে হত, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরীত্য দেখতে পেত।-(৪:৮২)


--উপরে বর্ণিত আয়াতগুলি-কোরআনের সত্যতা, আল্লাহর ক্ষমতা ও সৃষ্টির নৈপুণ্যতার উপর বিশ্বাস আনার জন্যে যথেষ্ট। তিনি নিজেও বলেছেন- “করুণাময়ের সৃষ্টিতে কোন ত্রুটি পাবে না।”-(৬৭:৩) তথাপি, একই আয়াতে একথাও বলেছেন, “দৃষ্টিকে পুনরায় নিক্ষেপ কর। কোন ফাঁক দেখতে পাও কি?”-(৬৭:৩) - এভাবে বলার উদ্দেশ্য কি? উদ্দেশ্য একটাই, আর তা হল- ফাঁটল বা ত্রুটি খুঁজে পাওয়া বা না পাওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বাসীদের বিশ্বাস এবং অবিশ্বাসীদের অবিশ্বাসকে বৃদ্ধি করা। [এ প্রমানিত হচ্ছে এই আয়াত দিয়ে- আর যখন ইব্রাহিম বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখাও কিভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর।’

তিনি বললেন, ‘তুমি কি এ বিশ্বাস কর না?’
সে বলল, ‘নিশ্চয় করি, তবে কেবল এ আমার মনকে বুঝ দেবার জন্যে।’-(২:২৬০)] 

উদাহরণ স্বরূপ- বিশ্বাসীগণ যখন এই আয়াতগুলি দেখবে- "আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দুরূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত্ত করেছি, অবশেষে তাকে এক নূতন রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়!" -(২৩:১২-১৬) -তখন শিহরিত হবে খোদার সৃষ্টির নৈপূণ্যতায়। অন্যদিকে অবিশ্বাসীগণ আয়াতগুলি দেখে বলবে, “এই সৃষ্টিতে তো বিকলাঙ্গ ও হিজড়াও জন্মে।” বা, “খৎনার চামড়াটি যদি কেটে ফেলতেই হবে, তবে তা দেবার দরকারই-বা কি ছিল?”


যাইহোক, এবার আমরা আমাদের মূল উপস্থাপনায় ফিরে আসি এবং ডিটেইল বর্ণনায় দেখার চেষ্টা করি, কোন কোন কারণে শিয়াগণ আবু হুরায়রার হাদিস বর্জন করেন -


১. বিবি আয়েশার বিবাহের দশ বৎসর পর অর্থাৎ হিজরতের ৭ম বৎসরে আবু হুরায়রা মুসলমান হন। মাত্র দু’তিন বৎসর বসুলুল্লাহর সঙ্গ পেয়ে অক্ষর জ্ঞানহীন এই ব্যক্তি এত অধিক হাদিস বর্ণনা করেন কিভাবে? এখানে এই প্রশ্ন নয় তার স্মরণে রাখার মানসিক সক্ষমতা নিয়ে বরং প্রশ্ন এই যে, রসূলুল্লাহর নিকটতম এবং তার অধিক সাহচর্য পাওয়া ব্যাক্তিবর্গ (আলী, আবু বকর প্রমুখ) যেখানে বর্ণনা করেছেন সীমিত কিছু হাদিস, তবে কেন এবং কি উদ্দেশ্যে তিনি বর্ণনা করেছেন এত অধিক সংখ্যক হাদিস? Was it possible for any wise man to accept this large number of Hadiths narrated by this man, which were more than all what were narrated by the four caliphs, the wives of the prophet and all the Hashemites, men and women?


অবশ্য হুরায়রার এই অধিক হাদিস বর্ণনা করার কারণ বুখারীর কিতাবেই হাদিস হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যেমন- “লোকে বলে, আবু হুরায়রা বড় বেশী হাদিস বর্ণনা করে। জেনে রাখ, কিতাবে দু’টি আয়াত যদি না থাকত, তবে আমি একটি হাদিসও বর্ণনা করতাম না।” তিনি আয়াত দু'টি বর্ণনা করলেন-


“আমি সেসব স্পষ্ট নিদর্শণ ও পথ-নির্দেশ অবতীর্ণ করেছি মানুষের জন্যে কিতাবে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার পরও যারা তা গোপন রাখে আল্লাহ তাদেরকে লানত দেন এবং অভিশাপকারীগণও তাদেরকে অভিশাপ দেয় কিন্তু যারা তওবা করে এবং নিজদিগকে সংশোধন আর সত্যকে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে, ওরাই তারা যাদের প্রতি আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালূ।” -(২:১৫৯-১৬০)


অত:পর বললেন, “আসলে, আমার মুজাহির ভাইরা বাজারে কেনা-বেচায় এবং আমার আনসার ভাইরা জমিজমার কাজে মশগুল থাকত। আর আবু হুরায়রা খেয়ে না খেয়ে তুষ্ট থেকে রসূলুল্লাহর সাথে লেগে থাকত। তাই তারা যখন উপস্থিত থাকত না, তখন সে উপস্থিত থাকত এবং তারা যা মুখস্ত করত না, সে তা মুখস্ত রাখত।”- বর্ণনা-আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ, উৎস -আবু হুরায়রা। বুখারী, ১১৯।


কিসের কি যুক্তি! কোরআনের ২:১৫৯-১৬০ আয়াতদ্বয়ে কোরআনের বাণী গোপনকারীকে সতর্ক করা হয়েছে হাদিস গোপনকারীকে নয়, হুরায়রার এই জ্ঞানটুকুও নাই। তাছাড়া বসূলুল্লাহর কথা, কাজ বা অনুমোদনকে হাদিস হিসেবে ধরলে, হুরায়রার নিজের এই উক্তি কি করে হাদিস হিসেবে বুখারী তার কিতাবে স্থান দিয়েছেন তা একমাত্র তিনিই বলতে পারবেন (অবশ্য এরূপ বর্ণনা কাউলী, ফে'লী বা তাকরীরির মধ্যে গণিত না হলেও মুহাদ্দিস ও বিজ্ঞ আলেমগণ এটির একটি নামকরণ করেছেন, আর তা হল আসার বা মওকূফ হাদিস।)। আর এ ধরণের অনেক হাদিসই বুখারীতে আছে। যেমন-


“আমি সত্তুরজন আসহাবে সুফ্ফাকে দেখেছি, তাদের কারও গায়ে বড় চাদর ছিল না। ছিল কেবল তহবন্দ কিম্বা ছোট চাদর, যা তারা ঘাঁড়ে বেঁধে রাখতেন। তাতে তা ঝুলে পড়ত হাঁটুর আধাআধি বা গোঁড়ালি পর্যন্ত। আর তারা লজ্জাস্থান দেখা যাবার ভয়ে কাপড় হাত দিয়ে ধরে রাখতেন।”- বর্ণনা-ইউসূফ ইবনে ঈসা, উৎস -আবু হুরায়রা। বুখারী, ৪২৯।


২. আবু হুরায়রার ব্যক্তি সততা ও বর্ণিত হাদিসের সত্যতা প্রশ্নের সম্মুখীণ। কেননা, নবীজীর নামে ভূয়া হাদিস বর্ণনা করায় এবং ব্যক্তি সততা না থাকার অভিযোগে হযরত ওমর তাকে দু’দুবার চাবকে ছিলেন।


১ম ঘটনা: রসূলূল্লাহর জীবিতকালীন সময়ে হুরায়রা এমন একটি হাদিস বর্ণনা করলেন- আমি বললাম, “ও রসুলূল্লাহ! আমি আপনার এমন অনেক হাদিস শুনেছি যেগুলো আমি ভুলতে বসেছি।” 

তিনি বললেন, “আত্মাকে প্রসারিত কর, তিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান, জমিন এবং যাবতীয় সৃষ্টি সাত দিনে।”

যখন ওমর এ সম্পর্কে জানতে পারলেন, তখন তিনি তাকে ডেকে নিয়ে ঐ হাদিসটি পুনরায় বর্ণনা করতে বললেন। সেটি শোনার পর ওমর তাকে চাবকে কঠোর স্বরে বললেন, “এটা কিভাবে হতে পারে যখন আল্লাহ নিজেই বলেছেন এসব করা হয়েছিল ছয় দিনে, আর তুমি কিনা নিজেই বলছ এখন তা হয়েছিল সাত দিনে?!”

আবু হুরায়রা নরম সূরে বললেন, “হয়ত: আমি এটা শুনেছি Ka`b al-Ahbar এর নিকট থেকে...”
ওমর বললেন, “যেহেতু তুমি নবীজীর হাদিস এবং যা Ka`b al-Ahbar বলে, তার মধ্যে পার্থক্য করতে পার না, সুতরাং অবশ্যই তোমার কোনকিছু একেবারেই বর্ণনা করা উচিৎ নয়।” -Abu Hurayra by Mahmoud Abu Rayyah.

আর এ ঘটনা অন্যরা বর্ণনা করেছেন এভাবে- Caliph Omar lashed him, rebuked him, and forbade him to narrate hadith from the Holy Prophet. কথিত আছে, ওমর যখন তাতে চাবকাতে শুরু করেন, তখন হুরায়রা বুঝতে পারেননি কেন তাকে চাবকান হচ্ছে। তাই তিনি ওমরের নিকট কারণ জানতে চান। ওমর চাবকাতে চাবকাতে উত্তর দেন- "Because you narrate Hadith in large numbers from the Holy Prophet, you are fit only for attributing lies to him. So you must stop narrating hadith from the Prophet; otherwise, I will send you to the land of Daws." -Ibn Asakir, Ta'rikh Kabir; Muttaqi, Kanzu'l-Umma.


২য় ঘটনা: ৬৪২ সনে (২১ হিজরী) খলিফা ওমর হুরায়রাকে বাহরাইনের গভর্ণর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। দু’বৎসর তিনি ঐ দায়িত্ব পালন করেন এবং তারপর পদচ্যূত হন তার বিরুদ্ধে scandal ছড়ানোর কারণে।


পদচ্যূতের পর হুরায়রাকে খলিফা ওমরের নিকট আনায়ন করলে ওমর তাকে বললেন, “আমি জেনেছি যখন আমি তোমাকে বাহরাইনের গভর্ণর নিযুক্ত করি তখন তোমার পায়ে দেবার মত এক জোড়া জুতাও ছিল না, কিন্তু আমাকে এখন বলা হয়েছে যে, তুমি এক হাজার ছয় শত দিনারের অশ্ব ক্রয় করেছ।”


হুরায়রা নরম স্বরে বললেন, “কিছু অশ্ব আমি উপহার হিসেবে লাভ করেছিলাম, আর সেগুলি বৃদ্ধি পেয়েছে।”

ওমর তার ওজরে কান না দিয়ে বললেন, “আমি তোমাকে কেবল বেতন দিতাম। আর এই মূল্য তোমার দু’বৎসরের বেতনেরও বেশী। সুতরাং বাকী অর্থ বায়তুল মালে জমা কর।”
হুরায়রা বলেন, “এই অর্থ আপনার নয়।”

ওমরের মুখ রাগে লাল হয়ে গেল, তিনি বললেন, “আল্লাহ স্বাক্ষী, আমি চাবকে তোমার পিঠের চামড়া তুলে নেব।” এ কথা বলে তিনি তাকে চাবকাতে শুরু করলেন যতক্ষণ না হুরায়রা রক্তাক্ত হলেন। তারপর রাগত স্বরে চিৎকার করে বললেন, “এবার অর্থ ফেরৎ নিয়ে এস।” 

এসময় হুরায়রা বলেন, “আমি এর হিসাব আল্লাহর নিকট দেব।”

এতে ওমর বলেন, “এটা হত তখনই, যদি তুমি ঐ অর্থ সঠিকভাবে গ্রহণ করতে এবং তা ফিরিয়ে দিতে বাধ্যগত ভাবে। সুতরাং এখন আমি তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফেরৎ পাঠাব গোবর দলার মত করে, যেন তিনি তোমাকে গাধা চরানীর কাজে লাগাতে পারেন।” -Al-'Iqd al-Farid by Ibn 'Abd Rabbih, Vol-I.


আর এ ঘটনা অন্যরা বর্ণনা করেছেন এভাবে- After Caliph Umar appointed Abu Hurayra governor of Bahrain in 21 A.H., the people informed the Caliph that Abu Hurayra had amassed great wealth and had purchased many horses. Umar therefore deposed him in 23 A.H. As soon as Abu Hurayra entered the court, the Caliph said: "O enemy of Allah and enemy of His Book! Have you stolen Allah's property?" He replied, "I never committed theft, but the people have given me gifts." -Ibn Asthir & Abil-Hadid, Sharhe-Nahju'l-Balaga, Vol-III, Page-104.


Caliph said: "when I made you the governor of Bahrain, you had not even shoes on your feet, but now I have heard that you have purchased horses for 1,600 dinars. How did you acquire this wealth?' He replied, 'These were men's gifts which profit has multiplied much.' The Caliph's face grew red with anger, and he lashed him so violently that his back bled. Then he ordered the 10,000 dinars which Abu Hurayra had collected in Bahrain be taken from him and deposited in the account of the Baitu'-Mal." -Ibn Sa'd, Tabaqat, Vol-IV, Page-90. 


৩. আবু হুরায়রা হাদিস বিকৃতকারী ও মিথ্যেবাদী। নবীজীর অনেক গণ্যমান্য সাহাবী তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। যেমন-


ক. এই হাদিসটি হুরায়রা বর্ণিত: আমি ওসমানের স্ত্রী, নবী কন্যা রোকাইয়ার গৃহে প্রবেশ করলাম। তার হাতে একটা চিরুণি ছিল। তিনি বললেন, “নবীজী এইতো এখান থেকে গেলেন। আমি তার চুল আঁচড়ে দিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আবু আব্দুলাহ (ওসমান)-কে কেমন দেখছ? আমি বললাম, “ভালই।” তিনি বললেন, “আকিদায় সে আমারই কাছাকাছি, তাকে সম্মান কোরও।” -Mustadrak Al-Hakim, Volume 4, page 48.


-রোকাইয়া মারা যান আবু হুরায়রার ইসলাম গ্রহণের পূর্বে। অথচ তিনি রোকাইয়ার গৃহে সংঘটিত তার মৃত্যুর পূর্ববর্তী কোন ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যখন তার মদিনায় আগমনই ঘটেনি। এটা কিভাবে সম্ভব? 


খ. আবু হুরায়রা বর্ণিত- The Messenger of Allah said to his uncle (Abu Talib) at the time of his death: Make a profession of it that there is no god but Allah and I will bear testimony (of your being a Muslim) on the Day of judgment. But he refused to do so. Then Allah revealed this verse:


“Verily thou canst not guide to the right path whom thou lovest. And it is Allah Who guideth whom He will and He knoweth best who are the guided” (28:56). -Muslim, Book 001, Number 0037.


সকলেই এ বিষয়ে একমত যে আবু তালিবের মৃত্যুর সময় আবু হুরায়রার মক্কা তো দূরের কথা হিজাজেই আগমন ঘটেনি। তাহলে কিভাবে তিনি চাক্ষুষ স্বাক্ষীর মত ঘটনার বর্ণনা দেন? 


গ. আবু হুরায়রা বর্ণিত: When this verse was revealed: And warn thy nearest kindred-(26:214), the Messenger of Allah called the Quraish; so they gathered and he gave them a general warning. Then he made a particular (reference to certain tribes) and said: O sons of Ka’b b. Luwayy, rescue yourselves from the Fire; O sons of Murra b. Ka’b, rescue yourselves from the Fire: O sons of Abd Shams, rescue yourselves from the Fire; 0 sons of Abd Manaf rescue yourselves from the Fire; O sons of Hashim, rescue yourselves from the Fire; 0 sons of Abd al-Muttalib, rescue yourselves from the Fire; O Fatimah, rescue thyself from the Fire, for I have no power (to protect you) from Allah in anything except this that I would sustain relationship with you.- Muslim, Book 001, Number 0399. রসূলুল্লাহকে দেখার একযুগ আগের ঘটনা কিভাবে আবু হুরায়রা বর্ণনা করেন?


ঘ. ইবনে শিরিণ বর্ণিত: আবু হুরায়রা বলেন, “একবার রসূলুল্লাহ আমাদের সান্ধ্যকালীন এক নামাজের ঈমামতি করলেন।-----তিনি আমাদের নিয়ে দু’রাকাত নামাজ আদায় করে সালাম ফিরালেন। তারপর তিনি মসজিদে আড়াআড়ি রাখা এক খন্ড কাঠের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন এমনভাবে যেন তিনি রাগান্বিত। তিনি তার ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে এক হাতের আঙ্গুল অপর হাতের মধ্যে প্রবেশ করালেন। আর তার তার ডান চোয়াল বাম হাতের পিঠের উপর রাখলেন। যাদের তাড়া ছিল তারা মসজিদের দরজা দিয়ে বাইরে চলে গেলেন। সাহাবীগণ বললেন, "নামাজ কি সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে?"


উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আবু বকর ও ওমরও ছিলেন। কিন্তু তারা নবীজীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে ইতস্তত: করছিলেন। জুল ইয়াজদিন নামে লম্বা হাত বিশিষ্ট এক ব্যক্তি বললেন, "ইয়া রসূলুল্লাহ! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি নামাজ সংক্ষেপ করা হয়েছে?"

তিনি বললেন, "আমি ভুলিনি এবং নামাজ সংক্ষেপও করা হয়নি।" এরপর তিনি (অন্যদের) জিজ্ঞেস করলেন, "জুল ইয়াজদিনের কথা কি ঠিক?"
তারা বললেন, "হ্যাঁ।"

তারপর তিনি এগিয়ে এলেন এবং নামাজের বাদ পড়া অংশটুকু আদায় করলেন। তারপর সালাম ফেরালেন ও আল্লাহু আকবর বললেন এবং স্বাভাবিক সিজদার মত বা একটু দীর্ঘ সিজদা করলেন। তারপর আল্লাহু আকবর বলে মাথা ওঠালেন। পরে আল্লাহু আকবর বললেন এবং স্বাভাবিক সিজদার মত বা একটু দীর্ঘ সিজদা করলেন। তারপর আল্লাহু আকবর বলে মাথা ওঠালেন।” -al-Bukhari, Volume 1, Book 8, Number 469.


-বর্ণিত হাদিসে আবু হুরায়রা পরিস্কার ভাবে বলছেন যে, তিনি রসূলের পিছনে ঐ নামাজে অংশগ্রহণকারীদের একজন এবং ঐ নামাজে জুল ইয়াজদিনও উপস্থিত ছিলেন। এই জুল ইয়াজদিনের ছিলেন জুহরা গোত্রের এবং তার প্রকৃত নাম Thush-Shamalayn ibn Abd Amar. আমরা সকলেই জানি যে, জুল ইয়াজদিন বদর যুদ্ধে শহীদদের অন্যতম। তার হত্যাকারী ছিলেন- Ossama aj-Jasmi Ibn Abdul Birr. সুতরাং ঘটনাটি অবশ্যই বদর যুদ্ধের পূর্ববর্তী, যখন হুরায়রার নবীজীর সঙ্গে সাক্ষাৎই ঘটেনি। তাহলে কিভাবে তিনি নবীজীর সঙ্গে নামাজ আদায় করেন, যখন নবীজীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎই ঘটেনি?


ঙ. বিড়াল নিয়ে আবু হুরায়রা এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন- নবীজী বলেছেন: "A woman would be in Hell because of a cat. She tied it. She neither fed it nor let it feed on ground's insects".- al-Bukhari, vol.2, p.I49; Ahmed bin Hanbal, Musnad, vol.2, p.261.


"If a monkey, a black dog or a woman passes in front of a praying person, his prayer is nullified." Bukhari/102; Hanbel 4/86.


-বিবি আয়েশা এসব হাদিস শুধু অস্বীকারই করেননি, তিনি অনেকবারই হুরায়রাকে বিতর্কিত করেছেন এবং বলেছেন, “Abu Hurayra is a great liar who fabricates hadith and attributes them to the Holy Prophet".-Ibn Qutayba, in Ta'wil-e-Mukhtalifu'l-Hadith; Hakim in Mustadrak, Volume III; Dhahabi in Talkhisu'l-Mustadrak; Muslim, Volume II.


Ibn Qutayba তার বইতে আরও একটি কাহিনীর উল্লেখ করেছেন- বিবি আয়েশা হুরায়রাকে বললেন, “তুমি এমন হাদিস বল যা আমরা তার নিকট থেকে কখনও শুনিনি।”

এতে হুরায়রা বলেন, “আপনি তো সব সময় আয়নার সম্মুখে সাজুগুজু নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।”

তখন বিবি আয়েশা বলেন, “তুমি তো সেই, যে সব সময় তার পেট আর ক্ষুধা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তোমার ক্ষুধা তোমাকে ব্যস্ত রাখে, আর তুমি খাবারের সন্ধানে লোকদের পিছনে যত্রতত্র দৌঁড়াদৌঁড়ি শুরু কর। ওদিকে তারা সাধারনত: তোমাকে এড়িয়ে চলে এবং তোমার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। সবশেষে তুমি ফিরে আস এবং আমার ঘরের সামনে দিয়ে যেতে থাক। লোকেরা ভাবে তুমি উন্মত্ত এবং তারা তোমার দিকে ধেয়ে আসে।”-Ibn Qutayba Al-Dinory, Ta'wil-e-Mukhtalifu'l-Hadith.


Imam Abu Ja'far Asqalani বলেন, According to our great men, Abu Hurayra was a wicked fellow. The hadith narrated by him were not acceptable. Omar beat him with a lash and told him that he had changed hadith and had attributed false sayings to the Holy Prophet. তিনি হুরায়রা সম্পর্কে আলীর উদ্ধৃতিরও উল্লেখ করেন। আলী বলেছিলেন, "Beware of the greatest liar among the people, Abu Hurayra Dawsi.” -Ibn Abi'l-Hadid, in his commentary on Nahju'l-Balagha, Volume I, page 360.


৪. হুরায়রা বর্ণিত অসংখ্য হাদিসে বা, অথবা, কিম্বা যুক্ত করা হয়েছে, যা হাদিস বর্ণনার পরিপন্থি। কেননা হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে এ সতর্কতা সকলেরই জানা ছিল--“Do not narrate a tradition unless you are so certain as if you are certain of the sun's light"! অথচ আমরা বুখারীর কিতাবে হুরায়রা বর্ণিত এমন হাদিসও দেখছি-


ক. নবীজী প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলে আমি তার অনুসরণ করলাম। তিনি এদিক ওদিক তাকালেন না। যখন আমি তার নিকটবর্তী হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, “আমাকে কিছু পাথর কুড়িয়ে দাও, আমি তা দিয়ে ইসতিনজা করব।” বা এ ধরণের কোন কথা বললেন,"আর আমার জন্যে হাঁড় বা গোবর আনবে না।" তখন আমি আমার কাপড়ের কোঁচায় করে কয়েকটি পাথর এনে তার পাশে রাখলাম এবং সরে গেলাম। তিনি কাজ শেষে সেগুলো ব্যবহার করলেন।- বর্ণনা-আহম্মদ ইবনে মুহম্মদ আল মক্কী, উৎস -আবু হুরায়রা। বুখারী, ১৫৭।


খ. নবীজী বলেন, ’বনি ইস্রায়েলীরা নগ্ন হয়ে একে অপরের সম্মুখে গোসল করত। কিন্তু মূসা গোসল করতেন একাকী। এতে লোকেরা বলাবলি করত, "আল্লাহর কসম, মূসা একশিরা (কোষবৃদ্ধি) রোগের কারণেই আমাদের সাথে গোসল করেন না।"


একবার মূসা একটা পাথরের উপর তার কাপড় রেখে গোসল করছিলেন। পাথরটা তার কাপড় নিয়ে চলতে শুরু করল। তখন মূসা "আমার কাপড়,আমার কাপড়" বলে তার পিছনে পিছনে ছুটলেন। এদিকে বনি ইস্রায়েলীরা মূসার দিকে তাকাল। তখন তারা বলল, "আল্লাহর কসম, মূসার কোন রোগ নেই।" 


মূসা পাথর থেকে তার কাপড় নিয়ে পরলেন এবং পাথরটাকে পেটাতে শুরু করলেন।" আবু হুরায়রা বলেন, "আল্লাহর কসম, পাথরটাতে ছয় কিংবা সাতটি পিটুনীর দাগ পড়ে গেল।"- বর্ণনা-ইসহাক ইবনে নাসর, উৎস -আবু হুরায়রা। -বুখারী, ২৭৫।


গ. এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহর কাছে দাঁড়িয়ে এক কাপড়ে সালাত আদায়ের হুকুম জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন, "তোমাদের প্রত্যেকের কাছে কি দু’খানা করে কাপড় আছে?" 


এরপর এক ব্যক্তি ওমরকে একই প্রশ্ন করল। তিনি বললেন,"আল্লাহ যখন তোমাদের সামর্থ্য দিয়েছেন তখন তোমরাও নিজেদের সামর্থ্য প্রকাশ কর। লোকেরা যেন পুরো পোশাক একত্রে পরিধান করে অর্থাৎ মানুষ তহবন্দ ও চাদর, তহবন্দ ও জামা, তহবন্দ ও কাবা, পায়জামা ও চাদর, পায়জামা ও জামা, পায়জামা ও কাবা, জাঙ্গিয়া ও কাবা, জাঙ্গিয়া ও জামা পরে সালাত আদায় করে।" হুরায়রা আরও বলেন যে, "আমার মনে হয় ওমর জাঙ্গিয়া ও চাদরের কথাও বলেছিলেন।"- বর্ণনা-সুলায়মান ইবনে হার্ব, উৎস -আবু হুরায়রা। -বুখারী, ৩৫৮।


ঘ.  "একজন কাল বর্ণের পুরুষ অথবা মহিলা মসজিদ ঝাড়ু দিত। সে ইন্তেকাল করল। নবীজী তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সাহাবীগণ বললেন, "সে ইন্তেকাল করেছে।" 

তিনি বললেন, "তোমরা আমাকে খবর দিলে না কেন? আমাকে তার কবরটা দেখিয়ে দাও।" 

তারপর তিনি তার কবরের কাছে গেলেন এবং তার জানাজার নামাজ আদায় করলেন।"- বর্ণনা- সুলায়মান ইবনে হার্ব, উৎস -আবু হুরায়রা। -বুখারী, ৪৪৪।


অথচ বুখারীর কিতাবে হুরায়রা বর্ণিত এমন হাদিস রয়েছে- "আমি বললাম, "ইয়া বসূলুল্লাহ, আমি আপনার কাছ থেকে বহু হাদিস শুনি, কিন্তু ভুলে যাই।" 

তিনি বললেন, "তোমার চাদর খুলে ধর।" আমি তা খুলে ধরলাম। তিনি দু’হাত অঞ্জলী করে তাতে কিছু ঢেলে দেবার মত করে বললেন, "এটা তোমার বুকের সাথে লাগিয়ে ধর।" আমি তা বুকের সাথে লাগালাম। এরপর আমি আর কিছুই ভুলিনি।"- বর্ণনা-আবু মুসাব আহম্মদ ইবনে আবু বকর, বুখারী, ১২০।--আর উপরের সব ক'টি (ক,খ,গ,ঘ) হাদিসই কি তার না ভোলার নমুনা?

এভাবে হুরায়রা বর্ণিত প্রায় সকল হাদিসই কোন না কোন ত্রুটি সম্পন্ন বলেই শিয়াগণ প্রমান করেন। সেগুলির সব এখানে বর্ণনার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না।


সবশেষে, বিশ্বাসীদৈর নেতা হযরত ওমর, আলী এবং বিশ্বাসীদের মাতা বিবি আয়েশাকে উপেক্ষা করে হুরায়রা বর্ণিত হাদিস গ্রহণ করা বা না করা ব্যক্তি বিশেষের নিজস্ব এখতিয়ার। আর বিতর্কিত সকল হাদিস সম্পর্কে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়- We should first refer it to the Holy Qur'an. If the hadith agrees with the Qur'an, we should accept it, otherwise not. তবে একথা সঠিক যে, যার যেমন জ্ঞান, সে ঐ অনুসারেই অনুধাবণ করে, আর আল্লাহ সর্বজ্ঞানী।


সমাপ্ত।


উৎস: 

• Al Qur'an,
• Al-Bukhari,
• Muslim,
• AI-Ma'arij by Ibn Qutayba al-Dinory,
• Al-Tabaqat al-Kubra by Ibn Sa'd,
• Fath al-Bari fi Sharh Sahih al-Bukhari by Ibn Hajr Asqalani, vol. VII, p. 62.
• Al-Qamoos al-Muheet by al-Fayrooz Abadi,
• Shams al-Ma’arif by Sheikh Ahmed,
• Shi'as are the Ahl al-Sunnah by Muhammad al-Tijani Samawi,
• Irshad as-Sari by al-Qastalani, vol. 1, p. 212,
• Al-Milal wen-Nihal by ‍al-Shahrastani,
• Nihayat al-Aqdam fi 'ilm al-Kalam by ibn Hazm,
• Hadith Literature: It's Origin, Dev., & Special Features by Muhammed Zubayr Siddiqui,
• Abu Hurayra by Mahmoud Abu Rayyah.
• Ta'rikh Kabir by ibn Asakir 
• Kanzu'l-Ummal by Ali al-Muttaqi,
• Al-'Iqd al-Farid by Ibn Abd Rabbih, Vol-I,
• Sharhe-Nahju'l-Balagha by Ibn Asthir & Abil-Hadid, Vol-III, P-104; Vol. I, p-360.
• Al-Mustadrak 'ala al-sahihayn by al-Hakim, Volume 4, page 48.
• Musnad by Ahmed bin Hanbal,
• Ta'wil-e-Mukhtalifu'l-Hadith by Ibn Qutayba al-Dinory,
• Mustadrak ul Hakim w/talkhis by Dhahabi,
• Abu Hurayra by Syed Abdul-Hussayn Sharafuddeen al-Musawi,

• Wikipedia.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন