pytheya.blogspot.com Webutation

১৭ ডিসেম্বর, ২০১২

Last Prophet: বনি ইস্রায়েলে শেষ রসূলের না আগমনের কারণ।

Everyone that works, works for an end in which he finds satisfaction. Wherefore, God, as He is perfect, hasn't need of satisfaction, because He has satisfaction Himself. And so, willing to work, He created before all things, the soul of His Habib, for whom He determined to create the whole, in order that the creatures should find joy and blessedness in God, whence His Habib should take delight in all His creatures, which He has appointed to be His Messenger, His slave. And wherefore this is, so save as thus He willed.

Every prophet when he came, borne to one nation only, which was the mark of the mercy of God. And so their words were not extended save to that people to which they were sent. But the Messiah, when he shall come, God shall give to him as it were the seal of His hand, insomuch that he shall carry salvation and mercy to all the nations of the world that shall receive his doctrine. 

He, the Messiah, shall come with power upon the ungodly, and shall destroy idolatry, insomuch that he shall make Satan confounded; for so promised God to Abraham, saying: "Behold, in your seed I will bless all the tribes of the earth; and as you have broken in pieces the idols, O Abraham;, even so shall your seed do."" 

Now the Question is, in whom this promise was made; "in Isaac," or in "in Ishmael;" as the Jews says that the Messiah will be among them and in the lineage of David. Is their claim true or baseless? 

To Justify them, we have to inquire first the lineage of David. And we find, he was of Isaac; for Isaac was father of Jacob, and Jacob was father of Judah, of whose lineage is David. 

And the Messiah, when he shall come, of what lineage will he be?.In Jabur (Psalm), we find that David calls him (the Messiah) lord, saying thus:

“God said to my lord,
"Sit on My right hand, 
until I make your enemies your footstool.” -[Psalm, 110:1]

God shall send forth Jews lord which shall have lordship in the midst of their enemies. If that Messenger of God whom they call Messiah shall be the son of David, how should David call him lord?

For this, Jesus said in the Gospel [Barnabas, CH-43], "Believe me, for truly I say to you, that the promise was made in Ishmael, not in Isaac." 

If this, then how it is written in the Book of Moses, that the promise was made in Isaac?.Jesus answered it with a groan: "It is so written, but Moses did not write it, nor Joshua, but rather our rabbins.!" And Jesus Justified himself as-  "if we consider the words of the angel Gabriel, we shall discover the malice of (Jew) scribes and doctors. For the angel said: "Abraham, all the world shall know how God loves you; but how shall the world know the love that you bear to God? Assuredly it is necessary that you do something for love of God."
Abraham answered: 'Behold the servant of God, ready to do all that which God shall will.'
Then spoke God, saying to Abraham: "Take your son, your firstborn (ie. Ishmael);,and come up the mountain Marwah [al-Marwah- a mountain now located in the Masjid al-Haram in Mecca) to sacrifice him."

Now, what is written in the Bible? You will find there Isaac as firstborn. The question is ‘How is Isaac firstborn, if when Isaac was born Ishmael was seven years old?" Therefore, it is clear, that is the deception of their doctors.".

Jesus conclude, saying- "Satan ever seeks to annul the laws of God; and therefore he with his followers, hypocrites and evil-doers, the former with false doctrine, the latter with lewd living, to day have contaminated almost all things, so that scarcely is the truth found. Woe to those hypocrites! for the praises of this world shall turn for them into insults and torments in hell."

Now what about Muhammad, the seal of the Prophets. Was he the promised Messiah? We find him as a splendour one, who gave gladness to nearly all that God has made, for he was adorned with the spirit of understanding and of counsel, the spirit of wisdom and might, the spirit of fear and love, the spirit of prudence and temperance, he was adorned with the spirit of charity and mercy, the spirit of justice and Piety, the spirit of gentleness and patience, which he had received from God three times more than He has given to all His creatures. 

For this, Jesus said in his Gospel [Barnabas, CH-44] that when will he come to the world, the time shall be blessed, He also proclaimed that He had seen him and had done him reverence, even every prophet had seen him, seen that of His spirit, God gives to them prophecy. And when he saw him his soul was filled with consolation, saying-: "O Muhammad;, God be with you, and may He make me worthy to untie, your shoelatchet, for obtaining this I shall be a great prophet and holy one of God." -Jesus rendered his thanks to God.

The appointment of the Prophet Muhammad is indeed a blessing and mercy of Allah to the whole world. This is because he aroused the neglectful world from its heedlessness and gave it the knowledge of the criterion between truth and falsehood, and warned it very clearly of both the ways of salvation and ruin. This makes him as Messiah or the people of the whole world

Thus Qur an says-
Muhammad is .....the Messenger of Allah and the seal of the Prophets.-[al-Ahzab, 33:40] We have sent you forth as a witness, a bearer of good tidings, and a warner, as one who calls people to Allah by His leave, and as a bright, shining lamp.-[al-Ahzab, 33:45-46] We have sent you as a blessing for the people of the whole world.-[al-Anbiya, 21:107]

আদিকাল থেকেই কোন মঙ্গলকর কাজের শুরুতে মানুষ তার উপাস্যের নিকট তার কাজটি নিবেদন করত তার ঐ কাজটি গ্রহণ করার নিবেদন জানিয়ে এবং মোনাজাত করত মঙ্গলকর কিছু চেয়ে। এমনিভাবে কা’বা ঘরের ভিত্তি স্থাপনের সময় ইব্রাহিমও প্রার্থনা নিবেদন করেছিলেন খোদার নিকট। যেমন-

আর যখন ইব্রাহিম ও ইসমাইল (কা’বা) গৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল, তখন তারা বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাদের এ কাজ গ্রহণ কর। তুমি তো সব শোন আর সব জান। 
-হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাদের দু‘জনকে তোমার একান্ত অনুগত কর ও আমাদের বংশধর হতে তোমার অনুগত এক উম্মত (সমাজ) তৈরী কর। আমাদেরকে উপাসনার নিয়ম পদ্ধতি দেখিয়ে দাও, আর আমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হও! তুমি তো অত্যন্ত ক্ষমাপরবশ পরম দয়ালু। 

-হে আমার প্রতিপালক! তাদের মধ্যে থেকে তাদের কাছে একজন রসূল প্রেরণ কোরও যে তোমার আয়াত তাদের কাছে আবৃত্তি করবে, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবে এবং তাদেরকে পবিত্র করবে। তুমি তো পরাক্রমশালী, তত্ত্বজ্ঞানী।-(২ঃ১২৫-১২৭)

ইব্রাহিম মরুতে নির্বাসন দেয়া পুত্রের বংশধরদের মাঝে কেবলমাত্র একজন রসূল চাইলেন, কেন কেউ কি ভেবে দেখেছেন? অন্যদিকে খোদা তার প্রার্থণা কবুল করলেন এবং তিনি তাদের মাঝে ঐ একজনই  রসূল প্রেরণ করলেন। আর তিনি ঐ রসূলকে ‘Seal of the Prophets’ ঘোষণা করে তার মধ্য দিয়ে নব্যূয়তের ধারারই ইতি টানলেন। কেন?

পৃথিবীতে যত সংখ্যক পয়গম্বর আগমন করেছেন তার অধিকাংশই এসেছেন বনি ইস্রায়েলে। এমন কি ঈসা মসিহ (বনি ইস্রায়েলের ত্রাণকর্তা বা উদ্ধারকারী) যিনি মানুষ জাতিকে পাপ থেকে উদ্ধারের তথা বেহেস্তে প্রবেশের সহজ পথ দেখিয়েছেন, তিনিও কি-না এসেছিলেন একটি মাত্র জাতির জন্যে-কেবলমাত্র বনি ইস্রায়েলকে হেদায়েত করতে। কেননা মসিহ নিজেই বলেছেন- ‘আমাকে কেবল ইস্রায়েল বংশের হারান মেষদের কাছেই পাঠান হয়েছে।’-মথি, ১৫:২৪. ঈসা সীদোন এলাকায় গেলে সেখানকার একজন কনানীয় স্ত্রীলোক তার পিছনে পিছনে চলছিল আর চীৎকার করে বলছিল, ‘হে, ঈসা! আমার প্রতি রহম করুন! জ্বীন-আমার মেয়েটিকে ভীষণ ভাবে ধরেছে।’

কিন্তু যেহেতু ঈসা কেবল ইস্রায়েলী কাছে আগত তাই তার কথা শুনেও কোন উত্তর দিচ্ছিলেন না। কিন্তু শিষ্যরা বলল, ‘ওকে বিদায় করে দিন, কারণ সে আমাদের পিছনে পিছনে চীৎকার করছে।’ তখন ঈসা দাঁড়িয়ে পড়েন এবং স্ত্রীলোকটিকে উপরের কথাটি বলেন।

এতো গেল ঈসা মসিহের নিজের কথা, কিন্তু এত বড় একজন মহান নবী সমগ্র মানবজাতির জন্যে না হয়ে কেবলমাত্র একটি গোষ্ঠির হবার কারণ কি? কারণ হল এই- ইব্রাহিমের নিকট খোদার কৃত অঙ্গীকার।

স্মরণ কর, যখন তাকে তার প্রতিপালক বললেন, ‘অনুগত হও।’
সে বলল, ‘আমি বিশ্বপালকের অনুগত হলাম।’(২:১৩১)
আর ইব্রাহিমকে তার প্রতিপালক কয়েকটি কথা দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করেছি।’   
সে বলল, ‘আমার বংশধরদের মধ্যে হতেও?’ 
আল্লাহ বললেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতি সীমালংঘনকারীদের প্রতি প্রযোজ্য না।’(২:১২৪) অর্থাৎ ইব্রাহিমকে শুধু মানব জাতির নেতাই করা হয়নি, তার বংশে নব্যূয়ত অব্যাহত রেখে তাকে গৌরাবান্বিতও করেছেন তিনি। তবে স্মরণীয়, সীমালংঘনকারীদের বেলায় অবশ্য ব্যতিক্রম হবে।

আর তাই খোদার কৃত ঐ অঙ্গীকারের কারণে, যখনই বনি ইস্রায়েল সরল ও সত্যপথ থেকে বিচ্যূত হয়েছে, তখনই একজন নবী বা রসূল তাদের মাঝে প্রেরিত হয়েছে, যারা প্রতিমাপূজার কূ-ফল সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করেছেন এবং সত্যপথে ফিরিয়ে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু যেহেতু ইহুদি জাতিটি ছিল, নাফরমান, একগুয়ে ও বক্রস্বভাবী, ফলে তাদের অধিকাংশ ঐসব রসূলদের বাণীতে কর্ণপাত করেনি এবং তাদের উপরও বিশ্বাস স্থাপন করেনি; বরং তারা রসূলগণের অধিকাংশকে নানাপ্রকার ক্লেশ দিয়েছে, নতুবা হত্যা করেছে। ফলে তারা কখনও আল্লাহর স্বরূপ সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ বা সম্যক অবহিত হয়নি, হবার চেষ্টা করেনি বা হতে পারেনি। এই কারণে খোদা শেষ চেষ্টাস্বরূপ তাদের মাঝে এমন একজন রসূল প্রেরণ করতে চাইলেন, যিনি হবেন খোদায়ী কিছু গুণ বা কর্মের অধিকারী; যেন ইস্রায়েলীরা তার কাছ থেকে খোদার স্বরূপ সম্পর্কে সম্যক অবহিত হয় এবং আর যেন একেশ্বরবাদ থেকে কখনই বিচ্যূত না হয়। 

কিন্তু ঐ রসূলের আগমন শেষ প্রচেষ্টা স্বরূপ কেন? আর তার খোদায়ী গূণ থাকারই বা দরকার পড়ল কেন? আর্টিকেলের শিরোনাম এবং যিশুর আগমণের কারণ বুঝতে এটা জানা একান্ত জরুরী। আর তাতে আমরা এটাও জানতে পারব কেন যিশু বলেছিলেন-‘আমাকে কেবল ইস্রায়েল বংশের হারান মেষদের কাছেই পাঠান হয়েছে।’

এই খোদায়ী কিছু গুণ সম্পন্ন রসূল ছিলেন মরিয়ম তনয় হযরত ঈসা মসীহ। অার নবী অরামিয়ার কিতাব থেকে আমরা খোদার ঐ শেষ প্রচেষ্টার ইচ্ছে সম্পর্কে জানতে পাই।

‘এই জন্যে দেখ, আমি তাদেরকে জ্ঞাত করব,
একটিবার তাদেরকে আমি আমার হস্ত ও পরাক্রম জ্ঞাত করব,
তাতে তারা জানবে যে, আমিই খোদা।’---------(অরামিয়া ১৬:২১)

যাইহোক যা বলছিলাম, ঈসা মসিহ এসেছিলেন একটি মাত্র বংশের জন্যে, সমগ্র মানব জাতির জন্যে নয়। তবে এখানে আমাদের আলোচনা এ বিষয় নিয়ে নয়, আমাদের আলোচনা বনি ইস্রায়েলে সর্বশেষ রসূল (Last Prophet)-এর আগমন ও কিতাব না অবতীর্ণের কারণ নিয়ে। প্রথমে লক্ষ্য করি কোরআনের ২:১১৪ আয়াতটির দিকে- আল্লাহ বললেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতি সীমালংঘনকারীদের প্রতি প্রযোজ্য না।’ এখন আমরা দেখি এ বিষয়ে ঈসা মসিহ ইস্রায়েলীদের কি বলেছিলেন-


টাইডাস কর্তৃক জেরুজালেম ধ্বংস করণ।
ঈসা বললেন, ‘আজ একটা গল্প শুনুন। একজন গৃহস্থ একটা আঙ্গুর ক্ষেত করে তার চারিদিকে বেড়া দিলেন। পরে সেই ক্ষেতের মধ্যে আঙ্গুররস করার জন্যে গর্ত খুঁড়লেন এবং একটা উঁচু পাহারা ঘর তৈরী করলেন।এরপরে তিনি কয়েকজন চাষীর কাছে ক্ষেতটি ইজারা দিয়ে বিদেশে চলে গেলেন। যখন ফল পাকবার সময় হয়ে এল, তখন তিনি সেই ফলের ভাগ নিয়ে আসার জন্যে তার গোলামদের একজনকে সেই চাষীদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন।চাষীরা সেই গোলামকে পাথর ছুঁড়ে তাড়িয়ে দিল।ক্ষেতের মালিক তখন তার গোলামদের কয়েকজনকে চাষীদের কাছে পাঠালেন।চাষীরা তাদের একজনকে ধরে বন্দী করে রাখল এবং একজনকে হত্যা করে ফেলল।

আঙ্গুর ক্ষেতের মালিক শেষে নিজের পুত্রকেই তাদের কাছে পাঠালেন। তিনি ভাবলেন, তারা অন্ততঃ তার পুত্রকে সম্মান করবে। কিন্তু সেই চাষীরা মালিকের পুত্রকে দেখে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করল- ‘এ-ই পরে সম্পত্তির মালিক হবে। চল, আমরা ওকে হত্যা করি, তাতে আমরাই সম্পত্তির মালিক হয়ে যাব।’

--এরপর সকলে একত্রিত হয়ে মালিকের সেই পুত্রকে ধরে আঙ্গুর ক্ষেত থেকে বাইরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করল। তাহলে বলুন দেখি, আঙ্গুর ক্ষেতের মালিক ঐ চাষীদের নিয়ে কি করবেন?’
তারা বলল, ‘তিনি সেই দুষ্টদের একেবারেই ধ্বংস করবেন এবং যে চাষীরা তাকে সময় মত ফলের ভাগ দেবে, তাদের কাছেই সেই ক্ষেতটা ইজারা দেবেন।’

হয়েছেও তাই, আঙ্গুর ক্ষেতটা বনি ইস্রায়েলদের কাছ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে বনি ইসমাইলের নিকট ইজারা দেয়া হয়েছে। আর ৭০ খৃষ্টাব্দে সম্রাট টাইডাস (Titus) ইস্রায়েলীদের প্রতি কি করেছিলেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। একটি জাতিরূপে ইস্রায়েলীদের অস্তিত্বই তিনি বিনাশ করে দিয়েছিলেন। যাইহোক, আমরা আবার ঈসার বলা গল্পে ফিরি- তখন ঈসা বললেন, ‘আপনারা কি পাক কিতাবের মধ্যে পড়েননি-

‘রাজমিস্ত্রীরা যে প্রস্তরখানা অগ্রাহ্য করেছে,
তা কোনের প্রধান প্রস্তর হয়ে উঠল।
খোদাই এ করলেন, আর তা আমাদের দৃষ্টিতে অদ্ভুত।’---------- (যবুর ১১৮:২২-২৩)


কোণের প্রস্তর
কোন প্রস্তরের কথা ঈসা এখানে উল্লেখ করছেন যা দাউদের উপর নাযিলকৃত যবুরে উল্লেখ করা হয়েছে? সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে- যে সময় ঈসা একথা বলছেন তখন আসলে ঐ প্রস্তর খন্ডটি গৃহকোনে লাগানোই হয়নি। অবহেলিত অবস্থায় তা তখনও গৃহ প্রাঙ্গনে পরিত্যাক্তই ছিল। হ্যাঁ এটা ঐ কৃষ্ণ প্রস্তর (Black Stone), যা হজরে আসওয়াদ (al-Hajar al-Aswad) নামেও সম্যক পরিচিত এবং বর্তমানে Eastern Corner Stone of Ka'ba। মুহম্মদ ৬০৫ খৃষ্টাব্দে ঐ প্রস্তর খন্ডটিকে কাবার পূর্বকোণে স্থাপন করেছিলেন। ঘটনা এই-

৬০৫ খ্রীষ্টাব্দে কুরাইশগণ কা’বা (Ka'ba) গৃহের সংস্কার কাজে হাত দিয়েছিল। কা’বাগৃহটি নিম্নভূমিতে অবস্থিত থাকায় বর্ষার জলস্রোত প্রবল বেগে তার মধ্যে প্রবেশ করত। এতে গৃহটি প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ত। এই সমস্যা দূরীকরণে এর চারিদিকে একটি প্রাচীর নির্মাণ করা হয়, কিন্তু জলস্রোতের প্রবল বেগ তাও বিধস্ত করে ফেলেছিল। এজন্যে কা’বাগৃহকে নূতন করে সংস্কার করার সঙ্কল্প কুরাইশ প্রধানদের মনে স্থানলাভ করেছিল।

এই কাজ চলাকালে সংস্কারে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন পরিবারের মধ্যে হজরে আসওয়াদ যা কা’বাগৃহের প্রাঙ্গনে ছিল, সেটি কা’বাগৃহের মধ্যে স্থাপন করা নিয়ে এমন একটি বিবাদের সূত্রপাত হল, যার ফলে ভয়ানক রক্তপাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। প্রত্যেক পরিবারই এই সম্মানীয় কাজটি সম্পাদন করার কৃতিত্বের দাবীদার হতে চাইল। অবশেষে মুহম্মদের ক্ষিপ্র হস্তক্ষেপের ফলে এই বিবাদের সন্তোষজনক সমাধান ঘটেছিল। তিনি একখানি চাদর বিছিয়ে তার ওপর হজরে আসওয়াদটি রাখলেন এবং প্রত্যেক গোত্রের নির্বাচিত জন চাদরটির প্রান্ত ধরে কা’বা গৃহের এক কোনে নিয়ে গেলেন। অতঃপর মুহম্মদ প্রস্তর খন্ডটিকে গৃহকোণে যথাস্থানে রাখলেন।

মজার ব্যাপার হচ্ছে- আদমের সময় যখন কাবা নির্মিত হয়, তখনও এই প্রস্তর খন্ডটি গাঁথুনির কাজে লাগায়নি ফেরেস্তাগণ। আবার ইব্রাহিম ও ইসমাইল যখন ধ্বংস প্রাপ্ত কাবার পূন: ভিত্তি স্থাপন করেন, তখনও প্রস্তর খন্ডটিকে তারা গাঁথুনির কাজে লাগাননি। রাজমিস্ত্রিদের অবহেলিত ঐ প্রস্তর খন্ডটি আজ কোণের প্রধান প্রস্তর, আশ্চর্য -সত্যিই বড় অদ্ভূত।


কাবার কোণে কৃষ্ণ প্রস্তরের স্থাপন
এই প্রস্তর খন্ডটির এত গুরুত্ব হল কেন? কি এর ইতিহাস? আসলে ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের মধ্যে চিরাচরিত পদ্ধতি ছিল যে, প্রান্তরে বা অন্য কোথাও উপাসনা বা উৎসর্গের স্থান মনোনীত হলে সেখানে তারা চিহ্নস্বরূপ একখানা প্রস্তর স্থাপন করত। কা’বা গৃহের ভিত্তি স্থাপনের পর ইব্রাহিম ও ইসমাইল যথানিয়মে সেখানেও একখানা  প্রস্তর রেখেছিলেন। প্রস্তরখানা ঘোর কৃষ্ণবর্ণের হওয়ায় শেষে তা 'হজরে আসওয়াদ' নামে খ্যাত হয়। বংশের আদি পুরুষের স্মৃতিফলক মনেকরে আরবগণ স্বভাবতঃই ঐ কৃষ্ণ প্রস্তরের সমাদর করত। কিন্তু ঘোর পৌত্তলিকতার যুগেও কখনই তার কোন প্রকার পূজা হয়নি। আর তাই বিগ্রহদের আসনের ত্রিসীমানায় তার স্থানও হয়নি। এ কারণে মক্কা বিজয়ের পর যখন দেব-বিগ্রহ গুলিকে কা’বা হতে অপসারণ করা হয় তখন এই প্রস্তর খন্ডকে অপসারণ করা আবশ্যক বলে কেউই মনে করেনি।

অনেকে অবশ্য একথাও বিশ্বাস করে যে, এই প্রস্তর খন্ডটি বেহেস্ত থেকে পতিত হয়েছিল আদম ও হাওয়াকে এ নির্দেশণা দিতে যে, কোথায় কা'বা নির্মাণ করতে হবে। অনেকে আবার একথাও বিশ্বাস করে যে, আদিতে প্রস্তর খন্ডটি ঝকঝকে সাদা ছিল এবং মানুষের ক্রমাগত পাপ গ্রহণের ফলে তা কাল বর্ণ ধারণ করেছে। এখানে একথা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, হজ্জের সময় মুসলিমগণ কাবাকে বেষ্টন করে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে সাতবার প্রদক্ষিণ করে এবং এই প্রস্তরে প্রতিবার প্রদক্ষিণ শেষে একবার চুমু দেয়। 

বর্তমানে প্রস্তর খন্ডটির উন্মুক্ত তলটি ২০ সেন্টিমিটার (৭.৯ ইঞ্চি) বাই ১৬ সেন্টিমিটার (৬.৩ ইঞ্চি)। অবশ্য প্রতিনিয়ত এটি এর আকার হারাচ্ছে ভক্তদের ক্রমাগত চুম্বনের ফলে। যাইহোক, এখন আমরা আবার ঈসার গল্পে ফিরে যাই-


কৃষ্ণ প্রস্তর
ইহুদি ও সমবেত আলেমদেরকে ঈসা বললেন, 'এ জন্যে আপনাদের বলছি, বেহেস্তী রাজ্যের সু-সংবাদ আপনাদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হবে এবং এমন লোকদের দেয়া হবে, যাদের জীবনে সেই রাজ্যের উপযুক্ত ফল দেখা যাবে। যে সেই প্রস্তরের উপর পড়বে, সে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে এবং সেই প্রস্তর যার উপর পড়বে সে চুরমার হয়ে যাবে।’- ম্যাথূ ২১:৪৩-৪৪

কি হয়েছিল পরবর্তীতে? মুহম্মদ ও মুসলমানদের উপর যারাই অস্ত্রধারণ করেছিল তারাই টুকরো টুকরো হয়েছে, আবার যাদের উপর মুহম্মদ ও মুসলিমগণ অস্ত্র তুলেছিলেন তারাও ধ্বংস হয়েছে।

সব শেষে আমরা দেখি হাদিসে কি রয়েছে- Muhammad said, "My similitude in comparison with the prophets before me is that of a man who has built a house nicely and beautifully, except for a place of one brick in a corner. The people go about it and wonder at its beauty, but say: 'Would that this brick be put in its place!' So I am that brick, and I am the seal of the prophets" (fa’anā ’l-labinah, wa anā khātamu ’n-nabīyīn).-Narrated by Abu Hurayrah in Sahih al-Bukhari. Kitab al-Manaqib. Hadith 44;al-Bukhari #3293 Sahih Muslim, Kitab al-Fada'il, Hadith 24; Muslim, #4246; Musnad Ahmad ibn Hanbal, #8959; an-Nasa'i, Sunan al-Kubra, #10907; Sahih Ibn Hibban, #654

সমাপ্ত।

ছবি: Wikipedia.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন