২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

Musaylimah: এক ভন্ডনবীর উপাখ্যান।

মুসাইলিমার পুরো নাম মুহম্মদ হাসান মুসাইলিমা বিন সুমামা বিন কবির বিন হাবিব। তার জন্ম বনু হানিফা গোত্রে। এই গোত্র বনু বকরের (পরবর্তীতে রাবিয়া) একটি খৃষ্টান শাখা এবং নজদে বসবাসকারী আরব গোত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় গোত্র। এরা মূলত: উত্তর আরব থেকে গিয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করে। ৫০৩ সিইতে তারা মধ্য আরবের কিন্দা সাম্রাজ্যে নেতৃত্বদানকারী শক্তি হিসেবে অবির্ভূত হয়। বনু বকরেরা বাস করত অাল-ইয়ামামায় এবং তারা আল হিজরকে (বর্তমান আর-রিয়াদ) তাদের রাজধানী করেছিল।-[যোসেফ চিলোদ, পৃ.১৪]

৬২৮ সিইর জুনে, কুরাইশদের সাথে হুদা্ইবিয়ার সন্ধির কিছু পূর্বে, নবী মুহম্মদ ইয়ামামার শাসক ও বনু হানিফা গোত্রের প্রাক্তন প্রধান হাওদা বিন আলীকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিয়ে এক পত্র দিয়েছিলেন। তখন হাওদা তার ইসলাম গ্রহণের শর্ত হিসেবে নবীজীর কাছে তার নব্যূয়তের অংশীদারিত্ব অথবা উত্তরাধিকারীত্বের স্বীকৃতির প্রস্তাব রাখে, যা নবীজী কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়।৬৩০ সিইতে হাওদার মৃত্যুর পর মুসাইলিমা সাফল্যজনকভাবে নিজেকে তার জায়গায় সুপ্রতিষ্ঠিত করে এবং ইয়ামামার পূর্বাঞ্চলের এক বৃহৎ এলাকা নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে যা ছিল মূলত: আবাদি জমি এবং সেখানে প্রচুর ফসল উৎপন্ন হত।


নবীজীর মৃত্যুর পূর্ববর্তী বৎসরে সে ইয়ামামায় আগত ও সেখানে বসতি স্থাপনকারী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোত্রগুলো ও ইয়ামামাবাসীর মধ্যে অানুগত্যের ভিত্তিতে সামাজিক শৃংখলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়।পরে সে সেখানে একটি নিরাপদ এলাকা (হারাম) গড়ে তোলে, যার কিছু জায়গায় তার সাথে আনুগত্যের বন্ধনে আবদ্ধ কিছু পরিবারকে বসবাস করতে দেয়। সূত্রমতে, হারাম পরিচালনায় দূর্ণীতি ছিল এবং বনু উসায়েদ, যারা এটির পরিচালনা করত, তারা অন্যদের সাথে দূর্ব্যবহার করত।


যে বছর প্রচুর ফসল ফলত, যাযাবর বনু আসাদ ইয়ামামার গ্রামগুলোতে হানা দিত এবং লুটপাট করে এনে তা রাখত মুসাইলিমার প্রতিষ্ঠিত পবিত্র হারামের অভ্যান্তরে। সতর্ক করা সত্ত্বেও একের পর এক তা হতে থাকলে ইয়ামামাবাসী বনু আসাদকে হারাম এলাকা থেকে বের করে দেবার প্রস্তুতি নিল। কিন্তু মুসাইলিমা তাদেরকে নিবৃত্ত করে জিব্রা
ইলের দোহাই দিয়ে একথা বলে: “স্বর্গ থেকে আমার কাছে যিনি আগমন করেন তার জন্যে অপেক্ষা করা,” তারপর প্রকাশ করে: “শপথ রাতের অন্ধকারের এবং কাল নেকড়ের, আসাদগণ হারামের পবিত্রতা বিনষ্ট করেনি।”
তখন ইয়ামামীরা বলেছিল- “হারামের অর্থ কি তাহলে নিষিদ্ধকে অনুমোদিত আর আমাদের সম্পত্তি ধ্বংস করা?”

পরবর্তীতে, বনু আসাদ আবারো ইয়ামামায় হানা দিয়ে শস্য় লুটে আনে এবং আবারো মুসাইলিমা তার অনুসারীদেরকে পবিত্র এলাকায় প্রবেশে বাঁধা দেয়, তার দোহা
ই দিয়ে, “যিনি তার কাছে আগমন করেন” এবং এই বাণী প্রকাশের মাধ্যমে- “শপথ অন্ধকার রাতের এবং নি:শব্দ পায়ে চলা সিংহের, আসাদ কোন কাঁচা বা পাঁকা ক্ষেতের ফসল কেটে আনেনি।”-[তাবারী,পৃ. ১৯৩২; তাবারী, ক্রনিক, পৃ. ২৯৪]


সাবার রানী বিলকিস
ইয়ামামার দক্ষিণে রয়েছে সেই ঐতিহাসিক নগরী সাবা, যার রানী বিলকিস জেরুজালেমে নবী শলোমনের কাছে গিয়েছিলেন। এ নগরী নবী মূসার আমল থেকেই যাদু ও মায়া বিদ্যা চর্চার কেন্দ্রভূমি ছিল। সেখানে বসবাসকারীগণ ছিল ম্যাজিবাদী- অগ্নি উপাসক, যারা অালোক এবং অন্ধকারকে তাদের ধর্মনীতির অন্তর্ভূক্ত করেছিল। এতে কালক্রমে অন্ধকারের শক্তি তথা জ্বিণ তাদের ধর্মে উপাসনার অংশ হয়ে যায়। ফলে আরাধনাকারীরা আবির্ভূত হয় ভাববাদী তথা গণক ও সূতসায়ার রূপে। অজ্ঞ মানুষ তাদের নানান ইচ্ছে পূরণে এদের স্মরণাপন্ন হত। যেমন-

‘আর শলোমনের রাজত্বে শয়তানেরা যা আওড়াত তারা (সাবাবাসীরা) তা মেনে চলত। শলোমন কূফর করেনি, বরং শয়তানই কূফর করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিত (সেই) জাদু যা বাবিল শহরের দুই ফেরেস্তা হারুত ও মারুতের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল।- [২:১০১]


অর্থাৎ সাবাতে জাদুকর ও সূতসায়ারদেরকে জাদু শিক্ষা দিত শয়তান জ্বিণেরা। আর তারা তাদেরকে ‍সেই জাদু শিক্ষা দিত, যা অবতীর্ণ হয়েছিল বাবিলে বসবাসকারী ফেরেস্তা হারুত ও মারুতের উপর। অর্থাৎ ঐ ফেরেস্তাদ্বয়ের কারণে সাবা নগরীতে যাদু, মায়া ও ডাকিনী বিদ্যার প্রচলন ও ব্যবহার বহূলরূপে বৃদ্ধি পায়।


আর সূতসায়ারদের ভাববানীও ছিল তেমনি এক বাণী যা তারা পেত জ্বিণদের কাছ থেকে। ঐসব বাণী রচিত হত বিশেষ ধাঁচে, বিশেষ ছন্দে, যার কিছু ফলত, কিছু কখনও ফলত না। আর বাণী না ফললে তারা প্রার্থীর রীতিপালনের ত্রুটির উপর দোষ চাপাত। তথাপি, সমাজে তাদের সম্মান ও কদরে কখনও কোন ঘাটতি ছিল না।


জনসংখ্যার চাপ, যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ, ধর্মীয় বিরোধ, পশুপালন প্রভৃতি কারনে মানুষ এক স্থান থেকে অন্যত্র বসতি স্থাপন করত। এভাবে হিজাজে আগতরা যখন অভিবাসীরূপে সেখানে বসবাস গড়ে তোলে, তখন তারা সাবার ঐসব গণক, জাদুকর, ওঝা ও সূতসায়ারদের সংস্পর্শে আসে। অত:পর তারা তাদের সামাজিক অবস্থান ও প্রতিপত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে ঐসব বিদ্যার চর্চা ও আরাধনা শুরু করে। হিজাজে এ ধারাই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বনি কুরাইশ গোত্রে নবী আবির্ভূত হলে তারা সেদিকে দৃষ্টি দিল। আর নবীর প্রতি অনুসারীদের ভক্তি ও শ্রদ্ধা অবলোকন করে নিজেরাও নবী হয়ে গৌরাবান্বিত হতে চাইল। তাছাড়া এমনিতেই হিজাজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠী, তাদের গোত্রগত কৌলিণ্য ও সম্মানকে বিশেষ মর্যাদায় দেখত। আর সূচতুর ঐসব জাদুকর ও সূতসায়ারগণ একেই মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগায় এবং নবী মুহম্মদের মৃত্যুর কাছাকাছি সময়কালটাকে উপযুক্ত বিবেচনা করে তারা নব্যূয়ত প্রাপ্তির দাবী করে বসে। ফলে প্রায় প্রতিটি গোত্র থেকেই একের পর এক তথাকথিত নবীর আগমন ঘটতে থাকে।


৯বম হিজরীর শেষ দিকে নবীজী শাসনকর্তাগণ ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে ইসলাম গ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়ে চারিদিকে দূত প্রেরণ করেছিলেন। এমনিভাবে মুসাইলিমার কাছেও দূত পৌঁছেছিল। এতে বনু হানাফি গোত্রের একপ্রতিনিধি দলের সাথে সে মদিনায় আগমন করে এবং অবস্থান করে কাইস্যা কাননে, যা ছিল আল-হারিছের অবকাশকালীন গৃহ। এই আল-হারিছ ছিল মদিনার সম্ভান্ত ইহুদি গোত্র বনু নাজ্জারের বংশোদ্ভূত একজন আনসার। তার কন্যা কাইস্যা বিনতে আল-হারিছের সাথে মুসাইলিমার বিবাহ হয়েছিল। আর সে ছিল কাইস্যার ২য় স্বামী।


পরদিন সকালে প্রতিনিধিদল নবীজীর সঙ্গে সাক্ষাত করে এবং তার সঙ্গে কথাবার্তা বলার পর তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনার করে ইসলাম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারপর যখন তারা ইসলাম গ্রহণ করে,নবীজী তার রীতি অনুসারে তাদের প্রত্যেকে উপহার প্রদান করেন। ঐসময় তাদের একজন জানায় যে, তাদের এক সাথী ক্যাম্পে রয়ে গেছে তাদের বাহন উটগুলো দেখাশোনার কাজে। তখন নবীজী বলেছিলেন, “সে তার সঙ্গীদের মাল-সামানা দেখাশোনার কাজে পেছনে থেকে যাওয়া কর্তব্য জ্ঞান করেছে বলে তার মর্যাদা তোমাদের কারো থেকে কোন অংশে কম নয়।” তিনি তার জন্যেও উপহার দিলেন।


ক্যাম্পে ফিরে তারা মুসাইলিমাকে তার উপাহার দিয়ে বলে যে, সে তাদের সাথে থেকে ইসলাম গ্রহণ করতে না পারলেও তাদেরই একজন হিসেবে তাকে গণ্য করা হয়েছে। এ কথা শুনে সে তখনই নিজেকে মুসলমান হিসেবে ঘোষণা দেয়। তারপর তারা ইয়ামামায় ফিরে গিয়ে নিজেদের গোত্রকে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসে এবং সেখানে একটা মসজিদ নির্মাণ করে প্রত্যাহিক নামাজ কায়েম করে।


মদিনাতে গিয়ে মুসাইলিমা নবীজীর প্রতি তার শিষ্যদের সমীহ এবং তার উচ্চ মর্যাদা ও সম্মান লক্ষ্য করে নিজেও নবী হবার জন্যে অনুপ্রাণিত হয়। আল-জাহেয বলেন, নব্যূয়ত দাবী করার পূর্বে, জ্যেতিষশাস্ত্র, মায়াবিদ্যা ও জাদু শেখার জন্যে সে আরব ভূমি [ধর আল-আরব] ও পারস্যের [অাল-অাযিম] মধ্যবর্তী সকল বাণিজ্যিক শহরগুলো ভ্রমন করে এবং তারপর নিজ গোত্রে ফিরে এসে নব্যূয়ত দাবী করে বসে। 


ইবনে কাছিরও তার সিরাত গ্রন্থে মুসাইলিমার জাদু প্রদর্শনীতে পারদর্শীতার কথা উল্লেখ করেছেন। তার কথায়- মুসাইলিমা তার জাদু দিয়ে সমবেত জনতাকে বিষ্ময়াভূত করতে পারত। অার সে তার এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েই মানুষকে নিজ বলয়ে ধরে রাখত। তাছাড়া তার পোষাক পরিচ্ছদও ছিল পূণ্যবাণ ব্যক্তি ও নবীগণের অনুরূপ। ফলে মানুষ সহজেই তার ক্ষমতাকে ঐশ্বরিক দান বলে বিশ্বাস করতে প্ররোচিত হত।


মুসাইলিমার বেশকিছু জাদুকার্য সিরা লেখকরা লিপিবদ্ধ করেছে, যেমন,- সে খুর সহজেই একটা আস্ত ডিম বোতলে ভরে ফেলতে পারত; একটা পাখির সব পালক ছাড়িয়ে ফেলে তা আবার লাগিয়ে দিতে পারত যাতে সে আবার উড়তে পারে,ইত্যাদি। ফলে তার জাদুকে অলৌকিক ভেবে কিছু অজ্ঞলোক তার চারপাশে জড় হয়। আর সে তার তাদেরকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয় যে, দয়াময় খোদার কাছ থেকে, ফেরেস্তা জিব্রাইলের মাধ্যমে তার কাছে ওহী নাযিল হয়। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, সে নবী মুহম্মদের নব্যূয়ত অস্বীকার করেনি, বরং দাবী করে যে, তাকে তার সাথে নব্যূয়ত শেয়ার [ভাগাভাগি] করে, তার সহযোগী হিসেবে পাঠানো হয়েছে।


ইবনে কাছির বলেন, মুসাইলিমা তার কাছে আগত কথিত ওহীগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করত যেন তা ঐশীবাণী। আর লোকদেরকে বলত যে, মুহম্মদ তার সাথে ক্ষমতা ভাগ করে নিয়েছেন। এমনকি সে নিজেকে রহমান হিসেবে পরিচয় দিত অর্থাৎ ঐশ্বরিক কিছু গুণের সঙ্গে সে নিজেকে যুক্ত করে নিয়েছিল। এতে তার গোত্রের অনেকে যারা ইতিপূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, নবী মুহম্মদের পাশাপাশি তাকেও তারা নবী হিসেবে স্বীকার করে নিল।


ধীরে ধীরে মুসাইলিমার প্রভাব এবং ক্ষমতা তার গোত্র মাঝে বৃদ্ধি পেল। লোকেরা তাকে “রহমান আল-ইয়ামামা” বলতে শুরু করল। আরো কিছুকাল পরে, পুরো গোত্র তার সাথে একাত্ম হল। তারপর সে তার গোত্রের একদল বীর যোদ্ধার সাথে মদিনায় এল এবং কাইস্যা কাননে অবস্থান করল।


আগত হানাফিগণ অত:পর নবীজীর সাথে সাক্ষাৎ করে তার কাছে প্রস্তাব রাখেন মুসাইলিমাকে নবী হিসেবে স্বীকৃতি দেবার ও আরবের উপর তার সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেবার। এমন অযৌক্তিক দাবীর কথা শুনে নবীজী তার হতে ধরা শুকনো একটা খেজুর শাখার প্রতি ইঙ্গিত করে এমন কি তার একটি আঁশ পর্য়ন্ত তাকে দিতে অস্বীকার করেন। 


পরদিন সকালে প্রতিনিধিগণ আবারো নবীজীর সাথে সাক্ষাৎ করার প্রস্তুতি নিল। ঐ সময় মুসাইলিমা ও তার স্ত্রী তাদের উটের পরিচর্যা করছিল। সে তাদেরকে বলল, “তাকে বোলও, যদি সে আমাকে তারপরে নব্যূয়তের উত্তরাধিকারীত্বে সম্মত হয়, তবে আমি তাকে অনুসরণ করব।”


তারপর ঐ প্রতিনিধিদল যখন মসজিদ উন নব্বীতে পৌঁছিল, তখন নবীজী সাবেত বিন কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে তাদের সাথে দেখা করতে এলেন। তার হাতে গতদিনের সেই মরা খেজুর ডালটাও ছিল। প্রতিনিধিরা তখন তার কাছে সংশোধিত প্রস্তাবটি রাখে। তখন নবীজী তাদেরকে বিগত রাতে দেখা একটা স্বপ্নের কথা বলেন। তিনি স্বপ্নে দেখেন, তিনি দু’টি স্বর্ণের ব্রেসলেট পরে অাছেন যা তাকে অস্বস্তি দিচ্ছিল। তখন তাকে বলা হল সেগুলোকে গুড়িয়ে দূর করে দিতে এবং তিনি যখন তা করলেন, তখন তা অদৃশ্য হয়ে গেল। তিনি ঐ ব্রেসলেট দু’টোর অর্থ করেন দু’জন মিথ্যেবাদী-মুসাইলিমা ও আসওয়াদের প্রতিরূপ হিসেবে। 


“সুতরাং,” তিনি বললেন, “সে ফিরে যাবার পর ধ্বংস হবে। আমি তোমাদেরকে কেবল তাই বলেছি যা আমাকে তার সম্পর্কে দেখান হয়েছে। এ ছাড়া এখানে সাবেত বিন কায়েস রয়েছে, সে তোমাদের প্রশ্নের উত্তর দেবে।” তিনি চলে গেলেন।


১১ হিজরীর মুহররম মাসে ইয়ামামা থেকে আগত দু’জন লোককে মদিনায় দেখা গেল, যারা নবীজীর জন্য একটি পত্র নিয়ে এসেছে মুসাইলিমার কাছ থেকে। নবীজীর সেক্রেটারীদের একজন পত্রটি খুলে নবীজীর সামনে তা পাঠ করলেন। তাতে লেখা ছিল-


“আল্লাহর রসূল মুসাইলিমা হতে আল্লাহর রসূল মুহম্মদের প্রতি-

আসসালামু আলায়কুম!
আমি আপনার অংশীদার; ক্ষমতা আমাদের মধ্যে অবশ্যই ভাগ করতে হবে। পৃথিবীর অর্ধেক আমার, বাকী অর্ধেক আপনার কুরাইশদের। কিন্তু কুরাইশরা লোভী জাতি-তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার নেই।’

নবীজী এই চিঠির বিষয়বস্তু জানতে পেরে দূতদ্বয়ের দিকে ফিরে মুসাইলিমার সম্পর্কে তাদের কি বক্তব্য তা জানতে চাইলে, তারা উত্তরে বলল যে, তাদেরও ঐ একই বক্তব্য যা মুসাইলিমার। তখন নবীজী বলেন, “যদি তোমরা দূত ও বার্তাবাহক না হতে তবে আমি তোমাদেরকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিতাম।” তিনি আরও বলেছিলেন, “যখন তোমরা ইসলাম গ্রহণ করেছ এবং আমার নব্যূয়ত সম্পর্কেও অবহিত, তখন কেন তোমরা এমন একজন মাথামোটাকে অনুসরণ করতে গেলে পবিত্র ধর্ম ইসলাম পরিত্যাগ করে?”


নবীজী মূলত: মুসাইলিমার নব্যূয়তে অংশীদারিত্ব অথবা তারপরে উত্তরাধিকারিত্বের দাবী প্রত্যাখ্যান করেন। তবে তিনি তার সেক্রেটারীকে ডেকে পত্রের একটি সযত্ন প্রতিউত্তরের নির্দেশনা দেন। 


“পরমদাতা ও দয়ালু আল্লাহর নামে-

আল্লাহর রসূল মুহম্মদ থেকে মিথ্যবাদী মুসাইলিমার প্রতি-
‘যারা সত্যপথের অনুসারী তাদের প্রতি সালাম। পৃথিবী আল্লাহর, তিনি যার প্রতি সদয় হন তাকেই দুনিয়ার কর্তৃত্ব দান করেন। কেবল পরহিজগারদের জন্যেই পরকাল (শুধু তারাই সুফল লাভ করবে, যারা আল্লাহকে ভয় করবে)।’

(মোহর):

রসূল আল্লাহ।” -(অাল-তাবারী)

এই চিঠিতে নবীজী মুসাইলিমাকে মিথ্যাবাদী হিসেবে সম্বোধন করেছেন। আর তখন থেকে মুসলমানগণ তাকে মুসাইলিমা আল-কাজ্জাব বা মিথ্যবাদী মুসাইলিমা বলে সম্বোধন করে আসছে।


এদিকে পত্র নিয়ে নবীজীর দূতদ্বয় ইয়ামামায় পৌঁছিলে মুসাইলিমার লোকেরা তাদেরকে বন্দী করে তার সামনে হাজির করে। ‍অার সে প্রচলিত রীতির বিপরীতে তাদের সাথে কুকুরের মত ব্যবহার করে এবং তাদেরকে তরবারীর নীচে রাখে। তারপর সে তাদের কাছে- সেও মুহম্মদের মত একজন নবী, তার স্বীকারোক্তি দাবী করে। তখন তাদের একজন ঐ স্বীকারোক্তি দিয়ে দিল যখন তার গর্দানে চেপে থাকা তরবারী চামড়া ভেদ করে মাংসের গভীরে প্রবেশ করছিল। আর তাতে সে তার জীবন রক্ষা করতে পারে বটে, তবে অপরজন স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকার করে বসে। এতে মুসাইলিমা তার হাত ও পা প্রতিটি গিঁট থেকে কেটে একে একে বিছিন্ন করে। প্রতিবার অঙ্গ কাটার সে তার কাছে স্বীকারোক্তি দাবী করে, আর সেও তা অস্বীকার করে যায়, যতক্ষণ না তার মৃত্যু হয়। তবে দূত হত্যার অপরাধেও নবীজী মুসাইলিমার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি সম্ভবত: ঐ সপ্নের কারণে যা আমরা ইতিমধ্যে উপরে উল্লেখ করেছি।


মুসাইলিমার শিক্ষার প্রায় সবই হারিয়ে গেছে। ইবনে কাছির বলেন: সে ঐশীবাণী প্রাপ্তির দাবী করেছিল আলৌকক কাজ ও রোগ নিরাময় করার কাজে। সে নামাজ বিলুপ্ত করেছিল এবং অবাধ যৌণাচার ও মদ্যপানের অনুমোদন দিয়েছিল। অন্যদিকে তাবারী উল্লেখ করেছেন: খৎনা করা,পুত্র সন্তান জীবিত অবস্থায় কোন নারীর সঙ্গে সহবাস করা সে নিষিদ্ধ করেছিল। আর অনুমোদন দিয়েছিল যে কোন দিক ফিরে দিনে তিনবার নামাজ আদায়ের এবং রাতের বেলা উপোসে রমজানের রোজা করার। তবে শুকরের মাংস ও মদ সে নিষিদ্ধ করেছিল।


এ বেশ মজার ছিল যে, মুসা
ইলিমা আল্লার রসূলের মত সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দিত যেমন দিতেন নবী মুহম্মদ। কোরাণিক বাণী প্রকাশের মত আয়াত রচনা করে তাদেরকে দিত। মুসাইলিমা কোরআনের আয়াত ও তার ধরণ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে আর-রাজ্জাল বিন উনফুওয়ার মাধ্যমে। এই ব্যক্তি বনু হানিফার একজন প্রসিদ্ধ যোদ্ধা এবং নবী মুহম্মদের নিকট আগত প্রতিনিধিদলেরও একজন সদস্য ছিলেন। -(বালাজুরি, পৃ. ১৩২) আর নবীজী তাকে হানাফিদের নিকট কোরাণিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।-(তাবারী, পৃ. ১৯৩২; বালাজুরি, পৃ. ১৩৩) যাহোক, তার অধিকাংশ আয়াত কুরাইশদের উপর হানাফিদের শেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে।

নবী মুহম্মদের মৃত্যু 
মুসাইলিমার অনুসারীদের মধ্যে আশা জাগিয়ে তোলে। ঐ সময় তার অনুসারীদের মাঝে দেয়া এক ভাষণে তিনি কুরাইশ ও মক্কার সাথে তার গোত্র ও তাদের ভূমির তুলনা করে বলেন:

'What made Quraish more deserving of prophethood than yourselves? They are not greater in number than you; your land is wider than their land. Gabriel descends from heaven like he used to descend to Muhammad.'

মুসাইলিমা দাবী করেন যে, মুহম্মদের নিকট যে বাণীর আগমন হত তা তার মৃত্যুতে বন্ধ হয়ে গেছে, আর তা
ই তা কেবল তার কাছেই আগমন করবে। এখন কেবলমাত্র সেই একমাত্র নবী এমন অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে মুসাইলিমার নামে আরোপিত এই আয়াতে:

O you, woman, take the tambourine and play, and disseminate the virtues of this prophet! Passed away the prophet of Bani Hashim, and rose up the prophet of Bani Ya'rub. -(
ইবনে কাছির, আল-বিদায়া ওয়া আল-নিহায়া, খন্ড- ৬, পৃ. ৩৪১)

মুসাইলিমার সম্মান ও মর্যাদা এবং তার অনুসারীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেল। আর এতে ইয়ামামাবাসীরাও অনুপ্রাণিত হল, তারা মানষিকভাবে নিরাপত্তা ও শান্তি অনুভব করল। কিন্তু এই অনুভূতিতে আঘাত এল পূর্ববর্তী একজন সূতসায়ারের আগমনে, যে দাবী করল তাকেও নব্যূয়ত দান করা হয়েছে। তার নাম সাজাহ বিনতে আল-হারিছ। সে ছিল তামিম গোত্রের একজন খৃষ্টান, কিন্তু বাস করত বনু তাগলিবের খৃষ্টান আরবদের মধ্যে।


ইসলাম গ্রহণ করা বা না করা ব্যক্তির নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু একবার স্বইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে কেউ তা পরিবর্তণ করতে পারে না। কারণ, এ ধর্ম সত্যের। সুতরাং ইসলাম পরিত্যাগ অর্থ সত্যের উপর অপবাদ আরোপ এবং সত্যকে অস্বীকার করার শামিল, যা মানবতার বিরূদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য। কারণ তা একদিকে যেমন আল্লাহ ও তাঁর রসূলের উপর মিথ্যে আরোপ করে, তেমনি অন্যদিকে নব্য মুসলমান ও অন্য ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিবর্গের সম্মুখে খোদায়ী ধর্মের মর্যাদা ও মাহত্ম্যকে ভূ-লুন্ঠিত করে, এতে সত্য ধর্মের প্রতি আগ্রহী একদল মানুষ নিরুৎসাহিত হয়, যা তাদের পরকালীন জীবনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে।


মুসাইলিমা ও তার গোত্রীয় লোকেরা ইসলাম সম্পর্কে পূর্ণ অবগতির পর স্ব-ইচ্ছায় তারা মুসলমান হয়েছিল, অত:পর তারা তার মিথ্যে নব্যূয়তের দাবী (যেহেতু কোরআন নব্যূয়তের ধারা সমাপ্তি ঘোষণা করেছিল।) দ্বারা প্রতারিত হয়ে পরকালীন জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে গেল। প্রকৃত মুসলমান কাউকে সত্য গ্রহণ করার পর তাকে সত্যের খেলাপ ও সত্যের অপলাপ করতে দিতে পারে না। এদেরকে দমন ও কঠোর শাস্তির আওতায় আনা অপরিহার্য্য ছিল।


খেলাফত লাভের পর আবু বকর যখন সাহাবাদের সাথে এই বিষয়ে পরামর্শ করলেন, তখন কেউই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মতি দেয়নি। তখন আবু বকর তাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘যারা মুসলমান হবার পর, রসূল প্রদত্ত নির্দেশ ও ইসলামকে অস্বীকার করে, তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করা আমার কর্তব্য। যদি আমার বিপক্ষে সব জ্বিণ, মানব ও বিশ্বের যাবতীয় বৃক্ষ-প্রস্তর একত্রিত করে আনা হয় এবং আমার সাথে কেউই না থাকে, তবুও আমি একাই ধর্মের জন্যে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাব।’- এই বক্তব্যের পর সাহাবারা এগিয়ে আসে এবং তাকে এক জায়গায় বসিয়ে রেখে বিভিন্ন রণাঙ্গনে সেনাবাহিনী প্রেরণের জন্যে মানচিত্র তৈরী করে ফেলে।


ইবনে কাছির বলেন, মুসাইলিমা ও তুলাইহা নব্যূয়ত প্রাপ্তির দাবী করেছে জানতে পেরে সাজাহ বিনতে আল-হারিছ নাম্নী এক খৃষ্টান নারীও নব্যূয়ত প্রাপ্তির দাবী করে বসে। এ ছিল সেই সময়, যখন খলিফা আবু বকর ধর্মত্যাগীদের দমনে হিজাজের উদ্দেশ্যে মুসলিম বাহিনীকে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে প্রেরণ করেছেন। সাজাহ এই সংবাদ অবহিত হয়ে মদিনার বিরুদ্ধে অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ঐ উদ্দেশ্যে সে তার গোত্রের চার হাজার যোদ্ধাকে একত্রিত করে। তবে মদিনার বিরুদ্ধে অারো অনেকেই তার সাথে যাবার জন্যে ইচ্ছুক ছিল। কিন্তু সে তার ঐ পরিকল্পণা বাতিল করে, যখন জানতে পারে, খালিদ তুলাইহা আল-আসাদীকে পরাজিত করেছে। তখন সে খালিদের থ্রেট মোকাবেলায় মুসাইলিমার সহযোগিতা লাভে ইয়ামামার দিকে অগ্রসর হয়।


তাবারী বলেন, সাজাহর আগমনে মুসাইলিমা একটা শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্যে তাকে আমন্ত্রণ জানায়। সে তাকে তার নব্যূয়তের অংশীদার হিসেবে চিনতে পারে এবং ঘোষণা দেয় যে খোদা কর্তৃক কুরাইশকদেরকে বন্দোবস্ত দেয়া ভূমি সাজাহ ও তার লোকদের জন্যে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অপর অর্ধাংশ মুসাইলিমার। এছাড়াও সে সাজাহকে ঐ বছর ইয়ামামায় উৎপন্ন শস্য নেবার অনুমতি এবং পরের বছর উৎপাদিত ফসল দেবারও প্রতিশ্রুতি দেয়।


প্রাথমিকভাবে মুসাইলিমার সাথে একটা সমঝোতায় উপনীত হয় সাজাহ। তারপর এক আনন্দঘন মুহুর্তে সে তার সম্পর্কে জানতে চায় এবং তার নিকট অবতীর্ণ আয়াতের কিছুটা শোনাতে অনুরোধ করে। তখন সে নরম সূরে ও হৃদয়স্পর্শী কন্ঠে আবৃত্তি করে এ শ্লোক-


"God has been gracious to the pregnant woman; 

He has brought forth from her a living being
that can move from her very midst." -(Ibn Ishaq: P 636-37; Tabari: pp. 1737-38).

মুসাইলিমার এ আয়াত শোনার পর সাজাহ বলে, "All speech-act that had its origin in the unseen powers, all speech-act- that was not a daily mundane use of words, but had something to do with the unseen powers, such as cursing, blessing, divination, incantation, inspiration, and revelation, had to be couched in this form".


মুসাইলিমা তাকে বলে, খোদা তার কাছে প্রকাশ করেছেন যে, জীবনে একজন স্ত্রীলোকের স্থান কেবল শয্যায়। সে আবৃত্তি করে-


"God created women with a wide-open cleft,

And made men as partners for her;
Then we penetrate the clitoris,
And she bears children for us." -(Tabari, pp. 1917-1918).

সাজাহ মুসাইলিমাকে নবী হিসেবে স্বীকার করে, তখন সে বলে: “আমাকে বিবাহ করবে? তাহলে তোমার ও আমার লোকদের নিয়ে আমি সারা আরব জয় করে নেব।” 
পরে তারা দু’জনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।


অাল-ইয়ামামা
কয়েকদিনপর সাজাহ জাজিরাতে ফিরে যায় [কারো কারো মতে তিনদিন]। কেননা সে তার গোত্রের লোকদের ছেড়ে থাকতে ইচ্ছুক ছিল না।

মুসাইলিমার উত্থানশক্তি সম্পর্কে আবুবকর ওয়াকিবহাল ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে মুসলিম সেনাপতি মনোনীত করেন খালিদ বিন ওয়ালিদকে। তুলাইহাকে পরাজিত করার পর খালিদ খলিফার ঐ আদেশ পান। তখন তিনি তার বাহিনী নিয়ে ইয়ামাম্রার দিকে অগ্রসর হন। যাত্রাপথে তিনি খলিফার অপর এক পত্র মারফত বনু হানাফির যুদ্ধশক্তি, তাদের দক্ষতা ও দু:সাহসের বিষয়ে সম্যক অবহিত হন।

মুসাইলিমার চরেরা খালিদের অগ্রযাত্রার কথা তাকে অবহিত করে। বোথা থেকে ইয়ামামার যাত্রাপথ ওয়াদি হানিফার মধ্যদিয়ে এসেছে এবং জুবাইলার পিছনে এই ওয়াদির উত্তর তীর, আকরাবার বিস্তীর্ণ সমতলভূমি যা আকরাবা থেকে ইয়ামামা এবং আরো দক্ষিণ-পূর্বের বিস্তৃত উর্বর এলাকার বহি:স্থ সীমানা চিহ্নিত করেছে। মুসাইলিমার ইচ্ছে ছিল না তার লোকদের গ্রাম ও শহরগুলো মুসলিম বাহিনী তছনছ করে দিক। এ কারণে সে তার বাহিনী নিয়ে ইয়মামার ২৫ মাইল উত্তর-পশ্চিমে জুবাইলার দিকে অগ্রসর হল এবং জুবাইলার নিকটবর্তীতে, যেখান থেকে আকরাবার সমতলভূমির শুরু সেই স্থানে ছাউনি ফেলল। এই স্থানে ছা্‌উনি ফেলে সে কেবল তার উর্বর আবাদি ফসলী ক্ষেতই রক্ষা করল না বরং অগ্রগামী খালিদের যাত্রাপথও বিপদসংকূল করে দেয়, যাতে খালিদ বাধ্য হন ওয়াদির মধ্যদিয়ে আগমনে, আর তাতে তার বাম উইং থাকবে বনু হানাফির আক্রমণভাগে।

ইয়ামামা থেকে যথেষ্ট দূরে থাকতেই খালিদের চরেরা সংবাদ নিয়ে এল যে, মুসাইলিমা আকরাবার সমতলভূমিতে, ওয়াদি হানিফার উত্তর তীরে ছাউনি ফেলেছে, যার মধ্যদিয়ে ইয়ামামার দিকে যাত্রাপথটি চলে গেছে। খালিদ তখন তার বাহিনী নিয়ে উপত্যাকার মধ্যদিয়ে শত্রুবাহিনীর দিকে অগ্রসর হলেন না। আকরাবার কয়েক মাইল পশ্চিমে তিনি রাস্তা পরিত্যাগ করলেন এবং দক্ষিণ দিক থেকে ঘুরে ওয়াদির মাইল খানেক দক্ষিণে এবং জুবাইলার শহরের বিপরীতে, এক উচ্চভূমিতে উপস্থিত হলেন। ঐ উচ্চভুমি থেকে আকরাবার পুরো সমতলভূমি এবং সামনের সীমানা যা বনু হানিফার বসতি বিস্তৃত করেছে, তার সবকিছুই খালিদের দৃষ্টিতে চলে এল। খালিদ ঐ উচ্চভূমিতে ছাউনি ফেললেন।



ওয়াদি হানিফার উপত্যাকা সীমানা নির্ধারণ করেছিল সম্মুখ যুদ্ধের ক্ষেত্র। উত্তর দিকের তীরটি প্রায় ১০০ ফুট উঁচু হয়েছে, কোথাও ঢালু, কোথাও খাড়ির মত। দক্ষিণ দিকটি প্রায় ২০০ ফুট উচু থেকে ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে নেমেছে। মুসলিম যোদ্ধারা ছাউনি ফেলেছে উপত্যাকার প্রায় মাইল খানেক দূরে। দক্ষিণ তীরে বূহ্য রচনা করে দাঁড়িয়েছে মুসাইলিমা তার বাহিনী নিয়ে, তাদের পিছনে রয়েছে আকরাবার বিস্তৃত সমতলভূমি। আর ঐ সমতলভুমিতে, ওয়াদি থেকে মাইল দুয়েক দূরে রয়েছে সুউচ্চ প্রচীর ঘেরা বাগান, যা আবাজ নামে পরিচিত মুসাইলিমার পবিত্র হারাম। আকরাবার যুদ্ধের পর এটা পরিচিত হয় মউত উদ্যান নামে।


বনু হানিফার অবস্থান

শীতকালে, ৬৩২ সনের ডিসেম্বরের ৩য় সপ্তাহ, ১১ হিজরী শাওয়ালের শুরুর দিকের এক প্রভাতে ইয়ামামার যুদ্ধ শুরু হয়। ফজরের নামাজ শেষে যুদ্ধের জন্য দু’দল মুখোমুখি হল। মুসাইলিমার যোদ্ধা ছিল ৪০ হাজার। সে তার বাহিনীকে বিন্যাস করল- মধ্যভাগ এবং বাম ও ডানে দু’টো উইং। বাম উইং এর কমান্ডে ছিল রাজ্জাল, ডান উইংএ মুহাকিম বিন তোফায়েল এবং মধ্যভাগ সে তার নিজের কমান্ডে রেখেছিল। অন্যদিকে খালিদের নেতৃত্বে মুসলিম মুজাহিদ ছিল ১৩ হাজার। খালিদ তাদেরকে ওয়াদি হানিফার দক্ষিণ তীরে মুসাইলিমার অনুরূপ- একটা মধ্যভাগ ও দু’টো উইং-এ বিন্যাস্ত করেন। বাম উইং এর নেতৃত্বে ছিলেন আবু হুদাফা এবং ডান উইং এ জায়েদ, ওমরের জৈষ্ঠ্য ভ্রাতা। আর মধ্যবর্তী অংশ ছিল সরাসরি খালিদের অধীন।



মুসাইলিমার সেনাবাহিনী তিনগুণ বেশী হলেও খালিদ যুদ্ধ জয়ের ব্যাপারে পুরো আশাবাদী ছিলেন, কারণ তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তাদের, যারা ছিল “সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় জীবন দানকারীর স্বর্গপ্রাপ্তি সুনিশ্চিত” -খোদায়ী এই প্রতিজ্ঞায় পূর্ণ বিশ্বাসী। তবে বনু হানিফাদের দক্ষতা ও দু:সাহস এ যুদ্ধকে রক্তক্ষয়ী ও কষ্টার্জিত করবে তাতেও তিনি সন্দিহান ছিলেন না। কারণ ইতিমধ্যে আবু বকর তাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন পত্র মারফত। যাহোক, খালিদের নির্দেশ পেয়ে মুসলিম মুজাহিদগণ ওয়াদির উত্তর তীরের দিকে ছুটে গেল, যেখানে মুসাইলিমা তার যোদ্ধাদের নিয়ে বূহ্য রচনা করে অপেক্ষায় ছিল খালিদের আক্রমণ প্রতিহত করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে।



পাথুরে দেয়ালের মত করে মুসাইলিমার যোদ্ধারা দাঁড়িয়েছিল। তাদের অনেকে মুসলিমদের আক্রমনে নিহত হল বটে, তবে তাদের সম্মুখভাগ তারা ভেদ করতে দিল না। ধর্মত্যাগীরা যুদ্ধ করল উন্মত্ত হয়ে, এক ইঞ্চি ভূমি না ছাড়ার শপথে তারা মৃত্যূকে বেঁছে নিল। আর মুসলিমগণ বিষ্ময়ের সাথে অনুধাবন করল তারা একটুও অগ্রগতি লাভ করেনি। মুসলিমদের তার দুই উইং ভেদ করার কঠোর প্রচেষ্টার পর মুসালিমা বুঝতে পারল যদি সে এমন আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে আরও দীর্ঘসময় থাকে, তবে তাতে মুসলিমদের অগ্রগতি বাড়তে থাকবে। তখন সে তার একজন সেনাপতিকে তার সম্মুখ দলকে প্রতি আক্রমণের নির্দেশ দিল। তখন ধর্মত্যাগীরা সামনে বাড়ল বিশাল এক ঢেউয়ের মত করে, আর তখন মুসলিমগণ নিজেদেরকে এক বিভিষিকার মধ্যে দেখতে পেল, তারা অনুধাবণ করল, তারা পিছু হটে যাচ্ছে। 


মুসলিমগণ ক্রমান্বয়ে পিছু হটতে থাকল, তারপর তা আরও দ্রুতগতির হল, এতে ধর্মত্যাগীরা আক্রমণে আরও দু:সাহসী হয়ে উঠল। আর বিভ্রান্তির মধ্যে মসলিমগণ পশ্চাদুনুসরণ করতে থাকল। তাদের কিছু ক্ষুদ্রদল যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করে পালিয়ে যেতে শুরু করল এবং অন্যরাও তাদেরকে অনুসরণ করল। সেনাধাক্ষ্যগণ তাদের পলায়ন প্রতিহতে ব্যর্থ হয়ে দ্রুত পিছিয়ে এলেন তাদের সাথে। মুসলিম যোদ্ধাগণ এখন তাদের ছাউনি অতিক্রম করে বেশকিছু দূরে এসে থামল।

রিদ্দা-আকরাবার যুদ্ধ।
মুসলিম যোদ্ধারা আকরাবার সমতলভূমি পরিত্যাগ করতে শুরু করলে ধর্মত্যাগীরা তাদেরকে ধাওয়া করল উন্মত্তের মত। এ তাদের কোন পরিকল্পণার মধ্যে ছিল না, বরং তা ছিল সহজাত প্রতিক্রিয়া। তারা মুসলিমদের ক্যাম্পে থামল এবং তা তছনছ করে ফেলল। যদ্ধ জয়-পরাজয়ের মাঝে স্থির হয়েছিল এবং বিজয়ের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল না। বরং দৃশ্যত: মুসলিমদের পশ্চাৎপসারণ পরাজয়ের নামান্তর ছিল।

খালিদ এখন পরিস্কার বুঝতে পারলেন ধর্মত্যাগীরা তাদের ভন্ড নবীর উপর বিশ্বাস একটুও হারায়নি।সুতরাং হতাহতের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার একমাত্র উপায় হল মুসাইলিমার মৃত্যু, যা তাদের মনোবলকে দমিয়ে দেবে। কিন্তু সে তার বিশ্বস্ত অনুসারীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় নিরাপদে রয়েছে। তাকে হত্যা করতে হলে তাকে তার নিরাপদ অবস্থান থেকে বের করে আনা দরকার।

তখন খালিদ মুসাইলিমাকে আলোচনার প্রস্তাব দিলেন এবং তাতে সে রাজী হল। তারপর খালিদ যখন তার কাছাকাছি চলে এলেন, সে সতর্কতার সাথে সম্মুখে পা বাড়াল এবং খালিদের থেকে দ্বৈত লড়ার দূরত্বের ঠিক বাইরে গিয়ে থামল। তখন খালিদ তার কাছে জানতে চাইল- “যদি আমরা শর্তে আসতে চাই, কি শর্ত তুমি গ্রহণ করবে?”

মুসাইলিমা তার মাথা একদিকে হেলিয়ে দিল যেন সে তার পাশে দন্ডায়মান অদৃশ্য কারো কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছে। আর যেন এভাবেই কি সে প্রত্যাদেশ পেয়ে থাকে! আর তাকে এমনটা করতে দেখে খালিদের নবীজীর কথা মনে পড়ল, তিনি বলেছিলেন যে, মুসাইলিমা কখনও একা থাকে না, তারপাশে সবসময় শয়তান থাকে। সে শয়তানের অবাধ্য হয় না বরং শয়তান তার মুখ দিয়ে কথা বলে। এখন শয়তান মুসাইলিমাকে শর্তে আসতে নিষেধ করে দিল, ফলে সে খালিদের দিকে মুখ ফিরিয়ে মাথা নেড়ে অসম্মতি জানাল।

খালিদ ইতিমধ্যে মুসাইলিমাকে হত্যার পুরো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তার সাথে কথা বলা কেবল তাকে তার নিরাপদ বেষ্টনী থেকে বের করে কাছে নিয়ে আসা। তাকে এখন ব্যস্ত রাখতে খালিদ তাকে আরও একটা প্রশ্ন করলেন, আর সে আগের মতই মাথা একপাশে হেলিয়ে দিল। আর ঠিক ঐ মূহুর্তে খালিদ তার দিকে লাফ দিলেন। খালিদ দ্রুতই করেছিলেন, কিন্তু মুসাইলিমা ছিল দ্রুততর। মূহূর্তে সে ঘুরে দাঁড়াল এবং অদৃশ্য হল বেষ্টনীর মধ্যে। 

Musaylima was safe once again in the arms of his guards. But in that moment of flight something meaningful happened to the spirit of the two armies, depressing one and exalting the other. The flight of their 'prophet' and commander from Khalid was a disgraceful sight in the eyes of the apostates,To exploit the psychological opportunity which now presented itself, Khalid ordered an immediate renewal of the offensive. The spirits of the Muslims rose as they redoubled their efforts. Then the infidel front broke into pieces the commander of his right wing, Muhakim, who came to the rescue of the apostates."Banu Hanifa!" he shouted. "The garden! The garden! Enter the garden and I shall protect your rear."

মুসাইলিমার যোদ্ধাদের এক বড় অংশ ভেঙ্গে পড়ল এবং তারা বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে চারিদিক দিয়ে পালিয়ে গেল। কেবল তার এক চতুর্থাংশ যোদ্ধা রয়ে গেল যুদ্ধক্ষেত্রে এবং তারা নিজেদেরকে নিরাপদ করতে দেয়াল ঘেরা বাগানের দিকে সরে যেতে লাগল। আর ঐ সময় ছোট একটা দল নিয়ে মুহাকিম পেছন থেকে তাদেরকে নিরাপত্তা দিচ্ছিল। কিন্তু দূর্ভাগ্য তার, খলিফা পুত্র আব্দুর রহমানের নিক্ষিপ্ত তীর তাকে মৃত্যুর দূয়ারে পৌঁছে দিল।

সাত হাজারের কিছু বেশী অনুসারীসহ মুসাইলিমা তার পবিত্র হারামের অভ্যান্তরে আশ্রয় নিল। আর তারা প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দিয়ে সুউচ্চ প্রাচীরের দিকে তাকিয়ে নিজেদেরকে বিপদমুক্ত ও নিরাপদ ভাবল।

পড়ন্ত বিকাল। মুসলিম যোদ্ধাদের বড় অংশ এখন দেয়াল ঘেরা ঐ বাগানের কাছাকাছি সমবেত। তারা উদ্বিগ্ন দিনের অবশিষ্ট সময়টুকুর মধ্যে সুরক্ষিত ঐ বাগানের অভ্যান্তরে প্রবেশ করে বিজয়ের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি টানা নিয়ে। কেননা বাগানের মধ্যে প্রবেশের কোন পথ এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। দেয়াল অপ্রবেশ্য বাঁধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে আর তার প্রবেশ দ্বার ভেতর থেকে বন্ধ। অবরোধ ভাঙ্গার কোন সরঞ্জাম নেই, আবার সময়ও নেই তা তৈরী করে নেবার।

While Khalid searched his brain for ideas, an old warrior by the name of Baraa bin Malik, who stood in the group that confronted the gate, said to his comrades "Throw me over the wall into the garden." His comrades refused, for Baraa was a distinguished and much-respected Companion, and they hesitated to do something which would certainly result in his death. But Baraa insisted. At last his comrades agreed to his request and lifted him on their shoulders near the gate. He got his hands onto the edge of the wall, swung himself up and jumped into the garden. In a minute or so he had killed two or three infidels who stood between him and the gate, and before others could intercept him, he had loosened the heavy bolt. The gate was flung open and a flood of Muslims roared through it like water thundering through a breach in a dam. The last and most gory place of the Battle of Yamama had begun.

In the clashes with the Banu Hanifa, a division of the army that came from those Medinans who had assisted Muhammad in his emigration from Mecca (the Ansar) attacked Yamama and fought bravely together with the Meccans who had fled with Muhammad (the Muh'jirin). They were summoned to help out in dangerous situations in the bloody battle of 'Aqrab'.

At the outset, the Banu Hanifa succeeded in repulsing the Bedouin attacks. The solution of Khalid was to put the Bedouin fighters of the army behind the lines of the well motivated and steadfast warriors of the Emigrants (Muhajirin) and Helpers (Ansar).

When Khalid's siege was tightened and the eventual defeat of this pretender became evident some of Musaylimah's simple-minded follower asked him: "What has happened to the occult help and support which you had promised us?"

Musaylimah replied: "There is no news about occult law and help. It was a false promise which I gave you. However, it is incumbent upon you to defend your honour and greatness".However, defense of honour and greatness was of little avail!

This above sayings of Musaylimah shows that he was an eloquent speaker and it also shows that he is not at all the speaker of those insipid sentences, which history has attributed to him, as specimens of his contention with the Holy Qur'an.

মুসাইলিমা নিহত হয় দূর থেকে উড়ে আসা জ্যাভলিনে, যা তাকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়ে মাটিতে তাকে গেঁথে ফেলেছিল। আর যখন সে প্রচন্ড যন্ত্রণায় দু’হাতে সেটি তুলে ফেলতে চেষ্টা করছিল, তখন আবু দো’জনা তার তরবারীর আঘাতে তার শির বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। কিন্তু সে মুসাইলিমার নিহত হবার খবর প্রচার করতে পারেনি। শির উঁচু করতেই তার গর্দান থেকে তা লাফিয়ে পড়ে মুসাইলিমার পাশে গিয়ে স্থান নেয়। কারো কারো মতে, ১১ হিজরী বা ৬৩২ সনে মুসাইলিমা যখন নিহত হন, ঐসময় তার বয়স ছিল ১৪০ বা ১৫০ বৎসর।

মুসাইলিমা নিহত হবার খবর ছড়িয়ে পড়লে যুদ্ধ আর প্রলম্বিত হয়নি। ঐসময় অনেকে হতাশা নিয়ে আত্মহত্যার মত সহিংসতায় লিপ্ত হয়। কিন্তু তারা কেবল তাদের যন্ত্রণা ও কষ্টই দীর্ঘায়িত করতে পারল, জীবন রক্ষা করতে পারল না। একসময় তাদের অধিকাংশ আক্রমণ বা আত্মরক্ষার প্রচেষ্টা থামিয়ে দিল এবং হতাশা নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল কোন মুসলিম যোদ্ধার তরবারীর আঘাত যা তাদেরকে হতাশার ঐ কষ্ট থেকে নিস্কৃতি দেবে। আর ঐ সময় সূৃর্য্য অস্ত গেল, শান্ত ও নিস্তব্ধতা নেমে এল ঐ মউত উদ্যানে।

মুসাইলিমার অনুসারীদের প্রগাঢ় বিশ্বস্ততার নানান গল্প কালের প্রবাহেও টিকে আছে। এক মহিলা তার মৃত্যুর কথা শুনে আর্তচিৎকার দিয়ে বলেছিল, “হায়, বিশ্বাসীদের নেতা!” এক আহত বনু হানাফি যোদ্ধা পাশে থাকা এক মুসলিম যোদ্ধাকে অনুরোধ করে তাকে হত্যা করতে যাতে সে তার কষ্ট থেকে মুক্তি পায়। তারপর যখন সে মুসাইলিমার নিহতের খবর জানতে পারল, তখন সে মন্তব্য করল- “হায়! একজন নবীকে ধ্বংস করে দিল তার নিজের লোকেরা।” একথা শুনে ঐ মুসলিম যোদ্ধা তাকে এক “মরণ ঘা” দিয়ে পরপারে পাঠিয়ে দিল।

মুসাইলিমার অনুসারীর এক বহৎ অংশ নিহত হয় দেয়াল ঘেরা তার স্যাক্রেড হারামের অভ্যান্তরে ও তার বহি:স্থ প্রাঙ্গনে। স্থানটি পরবর্তিতে মউত উদ্যান “গার্ডেন অব ডেথ” হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এই যুদ্ধে মুসলিম যোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতার অনেক নমুনা বিভিন্ন উৎসে দেখতে পাওয়া যায়। তবে মুসাইলিমার অনুসারীগণও যুদ্ধ করেছিল নির্ভিকচিত্তে। ফলে বিজয়ী হলেও মুসলমানদেরকে যথেষ্ট মূল্য দিতে হয়েছিল। যুদ্ধে আবু দো’জনা (যিনি ওহুদ যুদ্ধে মানববর্ম হয়ে নবীজীকে তীরের আঘাত থেকে রক্ষা করেছিলেন), আবু হুদাইফা (বাম উইং কমান্ডার), ওমরের ভ্রাতা জায়েদ (ডান উইং কমান্ডার) এবং চার’শ কোরআনে হাফেজসহ প্রায় ১,২০০ মুসলিম নিহত হয়। অন্যদিকে মুসাইলিমাসহ তার অনুসারীরা নিহত হয় ২১ হাজারের মত, যার ৭ হাজার নিহত হয়েছিল ওয়াদির উন্মুক্ত ময়দানে খালিদের ১ম ও ২য় আক্রমণে, ৭ হাজার মুসাইলিমার স্যাক্রেড হারামের অভ্যান্তরে এবং অবশিষ্টরা ছিল তারাই যারা মুসাইলিমা নিহত হবার পরও তার নবূয়্যত অস্বীকার করতে সম্মত হয়নি।

মুসাইলিমা নিহত হবার পর খালিদ নজদের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাসকারী বনু হানিফাদের বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর কাছে মুসলিম যোদ্ধাদের ছোট ছোট দল প্রেরণ করেন তাদের বশ্যতা আদায়ে, ইসলামের ছায়াতলে ফিরে আসার আহ্ববান জানিয়ে। আর প্রেরিত ঐ যোদ্ধা দল তাদের কাছে গিয়ে তাদের বিশ্বাস সম্পর্কে জানতে চায়। মূলত: তারা গোত্রের প্রতিটি সদস্যকে প্রশ্ন করেছিল- সে কার উপর বিশ্বাস করে? মুহম্মদের না মুসাইলিমার?

মুসাইলিমা নিহত এবং বনু হানাফিও তাদের গণ্যমান্য সকল নেতৃবর্গকে যুদ্ধে হারিয়েছিল, তথাপি তারা ছিল দূর্বিনীত কোন ব্যাতিক্রম ছাড়াই। তাদের কেউ অনুশোচনা করেনি, করতে রাজীও হয়নি।[কেবল কয়েকজন এমন অভিমত দিয়েছিল- “তোমাদের মধ্যেও একজন নবী থাকুক এবং আমাদের মধ্যেও একজনকে থাকতে দাও!”] ফলে তরবারীর নীচে দ্বি-খন্ডিত হল অবশিষ্ট প্রায় সাত হাজার হানাফি। তাদের কারো প্রতি কোন রকম দয়া প্রদর্শণ করা হয়নি। কেননা, অনুশোচনায় অস্বীকারকারী প্রত্যেক পূর্ণবয়স্ক পুরুষকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন খলিফা আবু বকর। -(বার্থহোল্ড, ৫০২-৫১১)

মুসাইলিমার নব্যূয়তে বিশ্বাস, তার বেঁচে থাকা শিষ্যদের মধ্যে ইসলামের প্রথম দশক পর্যন্ত টিকে ছিল। তারপর মুয়াবিয়া সাজাহকে জোরপূর্বক আরবভূমি থেকে উৎখাত করলে সে বসরার কূফাতে চলে গেল, ঐসময় মুসাইলিমার বেশকিছু অনুসারীও তাকে অনুসরণ করে এবং তাকে ঘিরে সেখানে বসতি করে। পরে তারা সেখানে একটা মসজিদও নির্মাণ করে নেয়। কূফায় বসবাস গড়ে তোলা মুসাইলিমার সকল অনুসারীরা বনু হানাফির ঐ মসজিদে সমবেত হত এবং প্রায়শ: ঐ মসজিদের মিনার থেকে- “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া মুসাইলিমা রসূলুল্লাহ”- ধ্বনি শোনা যেত।

ইবনে মা’সুদ কূফার আমির থাকাকালে জানতে পারলেন যে, নবীজীর নিকট মুসাইলিমার পত্র নিয়ে দূত হিসেবে গমনকারী দু’জনের একজনকে কূফা নগরীতে পুন:রায় দেখা গেছে যে কি-না তখনও মুসাইলিমার নব্যূয়তের উপর বিশ্বাস রাখে। তখন আমির তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। তারপর যখন তাকে তার সম্মুখে হাজির করা হল, তিনি তাকে শিরোচ্ছেদ করেন একথা বলে যে, মুসাইলিমার দূতের পরিচয় এখন আর তার নেই। তারপর তিনি মুসাইলিমার সকল অনুসারীকে হাজতে ভরার নির্দেশ দেন। কিছু পালিয়ে যায়, অার কিছু ধরা পড়ে জেলে যায়। পরবর্তীতে, যারা অনুশোচনা করে, তারা জেল থেকে মুক্তি পায়, আর যারা তাদের বিশ্বাস আঁকড়ে থাকে, তাদেরকে শিরোচ্ছেদ করা হয়। ঐ সময় সাজাহ ইসলাম গ্রহণ করে এবং আমৃত্যু তাতে বিশ্বাসী ছিল। 

সমাপ্ত।
সংশোধিত নয়।

# একজন জিজ্ঞেস করেছিল, “মুসাইলিমাকে “আল-কাজ্জাব” উপাধি দেয়া হয় কোন যুক্তিতে? আর সেই যুক্তি কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

@ আমি বললাম- নবী ইব্রাহিম ইসমাইলের বংশে কেবল একজন নবীর জন্যে প্রার্থনা করেন। সুতরাং মুহম্মদের আগমনের পর অন্তত: ইসমাইলের বংশে আর কোন নবী আগমনের সম্ভাবণা ছিল না। অন্যদিকে কোরআনে নবী মুহম্মদকে “নবীগণের মোহর” হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ফলে সারা জাহানে ভবিষ্যতে আর কোন নবী আগমণের সম্ভাবণা ছিল না।

“আর যখন ইব্রাহিম ও ইসমাইল (কা’বা) গৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল, তখন তারা বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাদের এ কাজ গ্রহণ কর। তুমি তো সব শোন আর সব জান। 
--হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাদের দু‘জনকে তোমার একান্ত অনুগত কর ও আমাদের বংশধর হতে তোমার অনুগত এক উম্মত (সমাজ) তৈরী কর। আমাদেরকে উপাসনার নিয়ম পদ্ধতি দেখিয়ে দাও, আর আমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হও! তুমি তো অত্যন্ত ক্ষমাপরবশ পরম দয়ালু। 

--হে আমার প্রতিপালক! তাদের মধ্যে থেকে তাদের কাছে ”একজন” রসূল প্রেরণ কোরও যে তোমার আয়াত তাদের কাছে আবৃত্তি করবে, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবে এবং তাদেরকে পবিত্র করবে। তুমি তো পরাক্রমশালী, তত্ত্বজ্ঞানী।-(২:১২৭-২৯)

“মুহম্মদ তোমাদের কারো পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রসূল এবং “নবীগণের মোহর”। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ের জ্ঞান রাখেন।”-(৩৩-৪০)

সুতরাং নবীজী এবং মুসলমানগণ মুসাইলিমাকে কোনরকম সন্দেহ ছাড়া আল-কাজ্জাব তথা মিথ্যেবাদী উপাধি দিতে সক্ষম হন। 
আবার, মুসাইলিমার অনুসারীরা কিন্তু কোরআনে বিশ্বাস করে, সুতরাং তারা কিভাবে এটি [ইব্রাহিম একজন নবীর জন্যে প্রার্থনা এবং কোরআনের নবীগণের মোহর বিষয়টি] ব্যাখ্যা করবে?
আর যারা কোরআনে বিশ্বাস করে না বা ইব্রাহিম প্রার্থনা সম্পর্কেও নিশ্চিত নয়, তাদেরকে এ নিশ্চয়তা দেয়া যাচ্ছে তারা নিজ চোখে ইব্রাহিমকে প্রার্থনা করতে এবং তিনি কি প্রার্থনা করেছিলেন তা নিজ কানে শুনতে পাবেন- কেয়ামতের ময়দানে।

তদুপরি আমরা এখন  মুসাইলিমার ভন্ডত্বের অন্যান্য উৎসগুলির দিকেও নজর দেব।

তথ্য-১:
নবী হিসেবে মুসাইলিমা নাম যখন পুরো ইয়ামামায় ছড়িয়ে গেল, তখন একপ্রান্ত থেকে তার গোত্রের এক লোক তাকে পরীক্ষা করতে এল। লোকটি বলল, "আমরা জানতে পারলাম তুমি নাকি মুহম্মদের মত নব্যূয়ত দাবী করছ?"
সে বলল, "আমি তাতে তার সঙ্গে একজন অংশীদার।" তারপর তিনি তার অধীনস্তের দিকে ফিরে, যে তার সাথে মদিনায় গমনকারী প্রতিনিধিদলের একজন ছিল, বললেন, “ওই! কস না ক্যান, তিনি কি তোরে বলেননি যখন তুই তাঁর কাছে আমার কথা উল্লেখ করলি- তার স্থান তোমার থেকে কোন অংশে কম নয়? -এর অর্থ এ ছাড়া আর কি হতে পারে যে, তিনি জানেন যে, আমি তাতে তাঁর সাথে একজন পার্টনার?"

লোকটি জিজ্ঞেস করল, “তোমার কাছে কি কোন ফেরেস্তা আসে?"
সে বলল, “হ্যাঁ আসে, তার নাম রহমান".
এতে ঐ লোক জিজ্ঞেস করল, “ঐ ফেরেস্তা কি আলোর না আঁধারের?"
মুসাইলিমা উত্তর দিল, "আঁধারের।"

তখন ঐ লোক বলল, "আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি তুমি একজন মিথ্যেবাদী। কিন্তু আমার কাছে ইয়ামামার রাবিয়া গোত্রের একজন মিথ্যেবাদী, কুরাইশ গোত্রের একজন সত্যবাদীর চেয়ে অনেক বেশী প্রিয়।"

তথ্য-২:
মুসাইলিমা নবী নন বরং একজন সূতসায়ার ও জাদুকর ছিল। আর এ কারণে তার দোয়া ফলত না বরং তা আরো বিপর্যয় ডেকে আনত। যেমন-

বনু হানিফার এক নারী মুসাইলিমার কাছে এসে বলল: “আমাদের খেজুর বাগানগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, কূয়োতেও পানি নেই, সুতরাং আমাদের পানের পানি, ফসল ও বাগিচার জন্য খোদার কাছে প্রার্থনা করেন যেমন মুহম্মদ করেছিলেন হাজমান গোত্রের জন্যে।”

মুসাইলিমা ব্যক্তি, গোষ্ঠি বা দেশের কল্যাণের জন্যে খোদার কাছে কিভাবে দোয়া করতে হয় তা জানত না, তাই সে তার সাগরেদকে জিজ্ঞেস করল, “ও নাহার, সে কি বলল?”
তখন সে বলল, “হাজমানের লোকেরা মুহম্মদের কাছে গিয়ে পানির অভাবের কথা বলে এবং তাদের শুকিয়ে যাওয়া কূয়ো ও খেজুর বাগানের..... ।”  সুতরাং সে তাদের জন্য দোয়া করে।- (তাবারী, পৃষ্ঠা ১৯৩৪) 

অত:পর তার দোয়ার ফলাফল বিপর্যয় ডেকে আনে: কূয়োগুলো আরো শুস্ক হয়, আর তার হাতের ছোঁয়ায় খেজুর গাছগুলোও মরে যেতে লাগে এবং মাঠের ফসলাদিও শুকিয়ে যায়।

তথ্য-৩:
অনেকে মনে করেন মুসালিমা নবী ছিলেন, আর তাই তার নব্যুয়তে বিশ্বাসী তার ২১ হাজার অনুসারীরা তার জন্য জীবন দিতে পিছপা হয়নি? বিষয়টি ঠিক মোটেও এমন নয়। প্রকৃতপক্ষে, নবী সম্পর্কে বনু হানাফিদের অধিকাংশের কোন ধারণা ছিল না, ছিল না ঐশী কিতাব সম্পর্কে, কিন্তু তারা সম্যক পরিচিত ছিল গণক ও সূতসায়াদের সাথে, কিভাবে পরিচিত ছিল তা আর্টিকেলের শুরুতে আমরা আলোচনা করেছি। আর তাই তারা জীবন দিল তাদের প্রাচীন বিশ্বাসে-

Their [Kahins] mantic knowledge is based on ecstatic inspiration . . . [which] is of satan origin: a Djinnï. The kahins often express themselves in very obscure and ambiguous language. They give. greater emphasis to their utterance by striking oaths, swearing by the earth and sky, sun, moon and stars, light and darkness,evening and morning, plants and animaIs of all kinds....

Kahins play an extremely important part in public as well as private life. They are interrogated on aIl important tribal and state occasions . . In private life, the kahins especially act as judges in disputes and points of law of aIl kinds. ...Their decision is considered of divine judgement against which there is no appeal. -[SEI, p. 207; G. Ryckmans, pp. 11-12; Blachère, Histoire, pp. 188-195]. 

অন্যান্য প্রমাণ দেয়া যায় মুসাইলিমার আয়াতগুলো বিশ্লেষণে, কিন্তু তার আর প্রযোজন আছে কি? 
সবশেষে যারা কোরআন বিশ্বাস করেন না তাদেরকে বলছি, যদি মুসাইলিমা নবী হয়, তবে নিশ্চয়ই একজন বাধ্যতামূলক শেষনবী থাকতে হবে সমগ্র জগৎবাসীর জন্যে, [যেহেতু মুসাইলিমা নিজেকে শেষনবী হিসেবে ঘোষণা দেয়নি]। আর অবধারিতভাবে পূর্ববর্তী সকল কিতাবে সেই নবীর পরিচয় থাকতে হবে। কিন্তু মুহম্মদ ছাড়া অন্য কারো নাম কি পূর্ববর্তী সকল কিতাবে আছে? 
নেই।
সুতরাং মুহম্মদই শেষ নবী এবং অবধারিতভাবে মুসাইলিমা পরবর্তী সকলেই ভন্ড ঈসা ব্যতিত-যার এখনও মরণ হয়নি। আর এর প্রমাণ আগামীর মানুষ পাবে।

# আরেকজন জিজ্ঞেস করেছিল, “ভাই, রিদ্দা যুদ্ধের যৌক্তিকতা কি, বা আপনি কিভাবে এ যুদ্ধকে মূল্যায়ণ করেন?”

@ আমি বললাম- ইসলামে কারো ধর্ম পালনে বাঁধা দেয়া যেমন নিষিদ্ধ তেমনি ইসলাম গ্রহণে জোরজবরদস্তিও নিষিদ্ধ। ইসলাম গ্রহণ করা বা না করা ব্যক্তির সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যাপার। কেননা, মানুষ স্বাধীন ভাবে সৃষ্ট, তাদেরকে দেয়া হয়েছে ভাল-মন্দ পার্থক্য করার জ্ঞান, দেয়া হয়েছে বিবেক। সুতরাং মানুষ তার জ্ঞান ও বিবেক ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এ তো খোদা প্রদত্ত অধিকার। যা খোদা দিযেছেন তা ছিনিয়ে নেবার অধিকার কারো নেই। তবে মানুষকে আল্লাহ ও  তাঁর রসূলের উপর মিথ্যে অপবাদ আরোপের অধিকার মানুষকে দেয়া হয়নি। সুতরাং যারা এ অপরাধ সংঘটিত করবে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশ রয়েছে।

কিন্তু, ইসলাম খোদায়ী ধর্ম- “সত্য ধর্ম” [পৃধিবীর প্রথম মানব আদম এ ধর্মের ভিত রচনা করেন, অত:পর এক লক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গম্বর এ ধর্ম প্রচার করেন, যাদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত রয়েছেন নূহ, ইব্রাহিম, মূসা, দাউদ, ঈসা। আর নবী মুহম্মদের মাধ্যমে এ ধর্মের পূর্ণতা পায়] সুতরাং কেউ ইসলাম তথা সত্য গ্রহণ করে অত:পর তা বর্জন করতে পারে না। সত্য অস্বীকার বা খেলাপকারী, সত্যের অপব্যাখ্যা বা অপলাপকারী এবং সত্যের অপবাদকারী মানুষের এবং খোদার শত্রু। ইসলামে একাজ চরম ঘৃণ্য বিবেচিত, কারণ তা মানবতা বিরোধী, আর তা এ কারণে যে, তা সত্যের আলো বঞ্চিত এবং শিক্ষা ও জ্ঞানে পিছিয়ে থাকা একদল মানুষকে বিভ্রান্ত করে তুলতে পারে, যা তাদেরকে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীণ করবে পরকালে। আর মুসলমান হবার পর কারো দ্বারা মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটন, ইসলামে মানুষ হত্যার চেয়ে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচ্য। এদেরকে দমনে যুদ্ধের নির্দেশ রয়েছে, যেমন-

আর যদি ভঙ্গ করে তারা তাদের শপথ প্রতিশ্রুতির পর এবং বিদ্রুপ করে তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে, তবে কুফর প্রধানদের সাথে যুদ্ধ কর। কারণ, এদের কেন শপথ নেই যাতে তারা ফিরে আসে। -[৯:১২]

আব্দুল্লাহ বর্ণিত: রসুলুল্লাহ বলেন, “একজন মুসলিমের রক্তপাত নিষিদ্ধ যে স্বীকার করে যে, আল্লাহ ব্যতিত অন্যকোন উপাস্য নেই এবং আমি তাঁর রসূল, তিনটি ক্ষেত্র ব্যতিত: হত্যার প্রতিশোধে, বিবাহিত কেউ যে ব্যভিচার করেছে এবং ইসলাম অস্বীকার করে মুসলিম সমাজ পরিত্যাগ করেছে।”-[বুখারী,, খন্ড ৯, কিতাব ৮৩, নম্বর ১৭]

আর এটাই মূলত: আবু বকরকে যুদ্ধে ঠেলে দেয়। তবে খলিফা নব্যূয়তের ঘোষণা দেয়া সত্ত্বেও সাজাহর বিরুদ্ধে সেনা অভিযান করেননি, কারণ সে মুসলিম নয়- ছিল খৃষ্টান।

উৎস:
এম জে, কিস্টার, মুসাইলিমা,
দালে এফ আইকেলমান, মুসাইলিমা,
ভি, বার্থহোল্ড, মুসাইলিমা,
এম, ওয়াট, মুসাইলিমা,
ভাক্কা, সাজদাহ,
সহিহ অাল বুখারী,
ইবনে কাছির, সিরাত রসূল আল্লাহ,
ইবনে ইসহাক, সিরাত রসূল আল্লাহ,
ইবনে কাছির, অাল-মিসবাহ আল-মুনির তাহজিব ওয়া তাহকিক তফসির,
ইবনে আবদ আল-বার আল-নামারী, আল-দুরার ফি ইখতিয়ূর আল মাঘজি ওয়াল সিয়ার,
আল-কালাই, অাল-ইকতিফা ফি মাঘাজি রসূল আল্লাহ ওয়াল সালাছা আল-খুলাফা,
আদ-দিয়ারবকরী, তারিখ আল-খামিস ফি আওয়াল আনফুস আন-নাফিস,
আল-নুয়াইরি, নিহোয়াত আল-আরব ফি ফুনিন আল-অাদাব,
ইয়াকুত বিন আব্দুল্লাহ অাল-হামায়ি, মুজাম অাল-বুলদান,
আল-তাবারী, তারিখ অাল-রসূল ওয়া অাল-মুলুক,
ইবনে সা’দ, কিতাব আল-তাবাকাত অাল কুবরা,
অাল-বায়হাকী, অাল-মাহাসিন ওয়াল মাসায়ি,
অাল-বায়হাকী, দালাইল অাল-নবু’ওয়া,
আল-বালাজুরি, কিতাব ফুতুহ অাল-বুলদান,
আল-কালবি, জামোরাত আল-নাসাব,
আল-মাকিরিজি, ইমতা আল-আসমা,
আল-সুহাইলি, রাউদ আল-উনুফ,
অাল-ওয়াকিদি, কিতাব আল-রিদ্দা,
ইসলামিক এনসাইক্লোপিডিয়া,
আল-ইসলাম ডট ওআরজি
উইকিপিডিয়া,
কোরআন।

২২ অক্টোবর, ২০১৫

Black Magic: উৎপত্তি, বিকাশ ও ব্যবহারের ইতিহাস।


প্রথাগতভাবে ব্লাক ম্যাজিক বা কালো জাদু বলতে বোঝায় শয়তানি ও স্বার্থপরতার উদ্দেশ্যে অতিপ্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহার। ব্লাক ম্যাজিক সর্বাপেক্ষা অনিষ্টকারী এবং উপকারী হোয়াইট ম্যাজিকের কাউন্টারপার্ট। সাধারণত: কারো ভালবাসা পেতে, কাউকে গন্ডিবদ্ধ বা ক্রীড়ানড়ক করতে, বাণ মেরে বা অভিশাপ দিয়ে কারও অমঙ্গল করতে, অন্যের করা অমঙ্গল বাইন্ডিং স্পেল দিয়ে অকার্যকর করতে বা তার অমঙ্গল তাকেই ফিরিয়ে দিতে, মৃতের সাথে যোগাযোগে, এমন কি অমরত্ব লাভে বা স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও মানুষ ব্লাক ম্যাজিকের আশ্রয় নেয়। ব্লাক ম্যাজিক করা হয় শয়তান জ্বিণের সাহায্যে। সুতরাং জাদুর সম্যক উপলব্ধিতে [উৎপত্তি ও বিকাশ] জ্বিণ কি, তা জানা অতি জরুরী।

জ্বিণ জাতি [সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য, ক্ষমতা, কর্মপরিধি ও মানুষের সাথে সম্পর্ক ইত্যাদি]জ্বিণ মানুষের মত স্বাধীন চিন্তা-চেতনার অধিকারী। ফেরেস্তাগণ নূরের, জ্বিণ আগুনে ও মানুষ কাদামাটি থেকে সৃষ্ট। ফেরেস্তা ও জ্বিণ দৃশ্যমান নয়, কেননা তারা এমন এক কম্পাঙ্কে সৃষ্ট, যা আমাদের দৃষ্টিসীমার (৩৯০-৭০০ ন্যানো মিটার) বাইরে।তবে দৃশ্যমান জগতের সকল বস্তু বা প্রাণীর কম্পাঙ্ক জানা থাকায়,  তারা ইচ্ছে করলে যে কোন বস্তু বা প্রাণীর দৃশ্যমান রূপ নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হতে পারে বা মুহূর্তের মধ্যে কোন বস্তুকে স্থানান্তরিত করতে পারে। সেবার রানী বিলকিসের সেই বিশাল সিংহাসনটা নবী শলোমনের উপদেষ্টা এক জ্বিণ এভাবেই এনে হাজির করেছিল তার সম্মুখে। যেমন-

শলোমন আরও বলল, ‘হে আমার পরিষদবর্গ! তারা আমার কাছে আত্মসমর্পন করতে আসার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমাকে এনে দেবে?’

এক শক্তিশালী জ্বীন বলল, ‘আপনি আপনার স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি তা এনে দেব। এ ব্যাপারে আমি এমনই শক্তি রাখি। আর আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন।’
কিতাবের জ্ঞান যার ছিল সে বলল, ‘আপনি চোখের পলক ফেলার আগেই আমি তা এনে দেব।’ -[সূরা নমল, ২৭:৩৮-৪০]

অত:পর যখন তা আনা হল, তখন শলোমন ঐ জ্বিণকে সেটির আকৃতিতে সামান্য পরিবর্তন করতে বললে সে তাও করে দেয়। যেমন-


যখন তা সামনে রাখা দেখল, তখন (শলোমন) বলল, ........‘তার সিংহাসনের আকৃতিতে সামান্য পরিবর্তণ আনো; দেখি সে চিনতে পারে- নাকি ভুল করে।’ -(২৭:৩৮-৪১)


আর এ সামান্য পরিবর্তনের কারনে বুদ্ধিমতী বিলকিস দাবী করেননি ঐটি তার সিংহাসন, কিন্তু তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সেটি তারই। আর তাই শলোমনের প্রশ্নের দেয়া উত্তরে
 তার ঐ মনোভাবের প্রতিফলন ফুটে উঠেছে। যেমন- (বিলকিস) যখন পৌঁছিল তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, ‘তোমার সিংহাসন কি এ রকম?’
সে বলল, ‘এ তো এ রকমই। ...।’-(২৭: ৪২) -তার এ উত্তর হ্যাঁ- না দু’টোই অর্থ করেছে।

আবার, 
জাসাদান, এক শয়তান জ্বিণ শলোমনের রূপ ধরে তার স্ত্রী আমিনার কাছ থেকে তার সেই “ইসমে আযম” খোঁদিত অঙ্গুরী হস্তগত করে সিংহাসনে আসীন হয়। আর সে শলোমনের শরীর বেষ্টন করেও এক মায়াজাল (ফিকোয়েন্সি জাল) সৃষ্টি করে রাখে, তাতে তিনি অন্যের নিকট পরিবর্তিত রূপে দৃশ্যমান হন। এতে এমনকি তার স্ত্রী আমিনাও তাকে চিনতে না পেরে অস্বীকার করে বসে। তিনি সিংহাসন চ্যূত হয়ে পড়েন। অবশ্য এ ছিল খোদার এক পরীক্ষা। যেমন-

অার আমরা সোলায়মানকে পরীক্ষা করলাম এবং তার সিংহাসনে বসিয়ে দিলাম জাসাদানকে [এক শয়তান জ্বিণ, ফলে সে কিছুদিনের জন্যে সে সিংহাসনচ্যূত হয়েছিল]। অতঃপর সে আবারও ফিরে এল [ফিরে পেল তার সিংহাসন এবং রাজ্য খোদার দয়ায়] আনুগত্যে বিনীত হয়ে। সে বলল, “হে আমার পালনকর্তা, আমাকে ক্ষমা কর, আর আমাকে এমন এক সাম্রাজ্য দান কর যা আমার পরে আর কেউ পাবে না। নিশ্চয় তুমি মহাদাতা।”- [৩৮:৩৪-৩৫] 

মানব জাতির সাথে বিরোধের সূত্রপাত:

মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর পৃথিবী ও তার আশেপাশের গ্রহ নক্ষত্রে আগুণের তৈরী জ্বিণ জাতিকে বসবাস করতে দেয়া হয়। অত:পর মানব সৃষ্টিরপর এ জাতির নেতা ইবলিস প্রথম মানব-মানবী- আদম-হাওয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। কেননা আদম জ্ঞানে ফেরেস্তাদেরকে পিছনে ফেললে খোদা তার জ্ঞানের সম্মানে তাকে সিজদা করতে সকলকে নির্দেশ দেন। সকলে সিজদা করে ইবলিস ছাড়া।সে জ্ঞানে আদমের কাছে পরাজিত হলেও তাকে মর্যাদা দিতে রাজী হয়নি কেবল অহংকারের কারণে। ফলে খোদা তার জন্য বেহেস্তে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। এতে আদমের উপর ক্ষেপে গিয়ে সে তাদের দু’জনকে প্রতারণার মাধ্যমে নিষিদ্ধ ফল খাইয়ে পথভ্রষ্ট করে দেয়। ফলত: মানবজাতির এ ধরায় আগমনের সূত্রপাত ঘটে।  

যাহোক, আদম হাওয়াকে পথভ্রষ্ট করার পর খোদা ইবলিসকে সমন জারি করলে সে বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি একে কি দেখেছ যাকে আমার উপরে তুমি মর্যাদা দিলে? কেয়ামত দিবস পর্যন্ত যদি আমাকে অবকাশ দাও, তাহলে আমি অল্প কয়েকজন ব্যতিত তার বংশধরদের সমূলে নষ্ট করে ফেলব।’-(১৭:৬২-৬৫)

তিনি বলেন, “এই স্থান থেকে নেমে যাও, এখানে থেকে অহংকার করবে তা হতে পারে না। সুতরাং বের হয়ে যাও, তুমি তো অধমদের একজন।” -(আরাফ-১২:১৫) “সুতরাং তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও, কারণ তুমি অভিশপ্ত...।” (হিজর, ৩২-৩৬); আর তোমার উপর আমার এ অভিশাপ কেয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী হবে।’ (৭৮:৭৮) 
সে বলেছিল, ‘আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দাও।’
তিনি বলেন, ‘তোমাকে অবকাশ দেয়া হল সেইদিন পর্যন্ত-যা অবধারিত।-(৭৮:৭৯-৮১) 

সে বলেছিল- ‘যাদেরকে উপলক্ষ্য করে তুমি আমার সর্বনাশ করলে, আমিও তাদের চরম সর্বনাশ করব। আমি তোমার সরল পথে তাদের জন্যে অবশ্যই ওৎ পেতে থাকব। তারপর আমি তাদের সামনে, পিছনে, ডান ও বামদিক থেকে তাদের কাছে আসবই, আর তুমি তাদের অনেককেই কৃতজ্ঞ পাবে না।’-(৭:১৬-১৭). ‘আমি তোমার দাসদের এক নির্দিষ্ট অংশকে আমার দলে নিয়ে ফেলব, আর আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করবই, তাদের হৃদয়ে মিথ্যে বাসনার সৃষ্টি করব। আমি তাদেরকে নিশ্চয় নির্দেশ দেব এবং তারা পশুর কান ফুটো করবে দেবদেবীকে উৎসর্গ করার জন্যে। আর আমি তাদেরকে নিশ্চয় নির্দেশ দেব এবং তারা তোমার সৃষ্টিকে বিকৃত করবে।’-(৪:১১৮-১১৯).

তিনি বলেন, ‘তোমার দলবল ও সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়।.... কিন্তু আমার দাসদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা থাকবে না। কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।’- (১৫:৩৯-৪০)
অার সে বলেছিল ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার যে সর্বনাশ করলে তার কসম! আমি পৃথিবীতে মানুষের কাছে পাপকে আকর্ষণীয় করব, আর আমি সকলের সর্বনাশ করব; তোমার নির্বাচিত দাস ছাড়া।’ -(১৫:৪১-৪২) 

উপরের আয়াতসমূহ থেকে সুষ্পষ্ট যে, জ্বিণজাতি মানুষের হৃদয়ে কামনা-বাসনা সৃষ্টি করতে পারে এবং তাদেরকে নির্দেশও দিতে পারে। স্বাধীন মতামতের অধিকারী কিছুকে কেবল তখনি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব যখন তার মস্তিস্ক নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কোরআনে রয়েছে, ”আমি তোমার পূর্বে যে সমস্ত রসূল ও নবী প্রেরণ করেছি, তারা যখনই কিছু কল্পণা করার চেষ্টা করেছে, তখনই শয়তান তাদের কল্পনায় কিছু মিশ্রণ করে দিয়েছে। অতঃপর আল্লাহ দূর করে দেন শয়তান যা মিশ্রণ করে। এরপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন এবং আল্লাহ জ্ঞানময়, প্রজ্ঞাময়।-(২২:৫২) অর্থাৎ জ্বিণ মানুষের মনের কথাও পড়তে পারে এমনকি তাতে সংযোজন ও বিয়োজন করার ক্ষমতাও তার রয়েছে। এ আয়াত থেকে আরও আমরা জানতে পারছি সে মহাপ্রতারক, “আর আমি সকলের সর্বনাশ করব; তোমার নির্বাচিত দাস ছাড়া।”-খোদার নিকট করা তার ঐ প্রতিজ্ঞাও দুনিয়াতে এসে সে রক্ষা করেনি। ইতিপূর্বে সে আদম-হওয়াকেও প্রতারিত করেছিল উর্দ্ধ জগতে- “আমি তো তোমাদের একজন হিতৈষী” বলে। 

আবার জাগতিক সবকিছুর উপর শয়তানের এমন কর্তৃত্বভারের কথা আমরা নবী ইব্রাহিমের সহিফায়ও দেখতে পাই- God's heritage (the created world) is largely under the dominion of evil – i.e., it is "shared with Azazel"-(আব্রাহাম,২০:৫) আর এ কথা সত্য যে, দুনিয়াতে মানবের আগমনের বহু আগে থেকেই এ মহাবিশ্বে জ্বিন ইবলিস ও তার জাতি বসবাস করে আসছিল। ফলে এখানকার যাবতীয় বস্তু ও প্রাণীর সাথে তাদের সম্যক পরিচয় ছিল।

দুনিয়াতে মানুষের আগমনের পর সর্বপ্রথম দু’ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে শয়তান। আর তার প্ররোচনায় কাবিল হাবিলকে হত্যা করে। তারপর পিতার ভয়ে পালিয়ে গিয়ে সে যখন জঙ্গলে জঙ্গলে হতাশ হয়ে ঘুরে ফিরছিল, তখন লিলিথ (স্ত্রী জ্বিণ বা পরী) তাকে তাদের নগরীতে আশ্রয় দেয়। কাবিল তার কাছ থেকেই প্রথম অতিপ্রাকৃতিক শক্তির জ্ঞান লাভ করে। আর এভাবে মানব সমাজের একাংশের মধ্যে এ জ্ঞান সংগোপনে ছড়িয়ে পড়ে।

একসময় আদমপুত্র শীষের বংশে নবী ইদ্রিসের আগমন ঘটে। লোকেরা নানারকম উপঢৌকনসহ তার কাছে আসত তার মাধ্যমে খোদার করূণা লাভের আশায়। কিন্তু তিনি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলে (ইদ্রিস জিব্রাইলের সাথে ৪ঠা আসমানে ভ্রমণে গিয়ে ফিরে আসতে অস্বীকার করেন) আগত লোকেরা মূল্যবাণ উপঢৌকনসহ ফিরে যেতে লাগল। ইবলিস ঐসময় ইদ্রিসের সন্তানদেরকে প্ররোচিত করে তার পিতার মূর্ত্তি তৈরী করতে এবং এই কাজে সে দু’টি উপকারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছিল। প্রথমত: ইদ্রিসের সন্তানেরা মূল্যবান উপঢৌকনগুলো পেয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হবে অন্যদিকে আগত লোকেরাও ইদ্রিসের মূর্ত্তির মাধ্যমে খোদার দয়া ও করুণা লাভ করবে। আর এভাবেই শয়তান দুনিয়াতে সর্বপ্রথম মূর্ত্তিপূজার সূচনা ঘটায়। আর এমন বক্তব্য যিশুর। গসপেলে রয়েছে-

যিশু তার শিষ্যদেরকে বলেন- Every evil has entered into the world under the pretext of the elders. ..who made idolatry to enter into the world, if not the usage of the elders? 

বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে তিনি বলেন- There was a king who exceedingly loved his father, whose name was Baal. Whereupon, when the father was dead, his son for his own consolation, caused to be made an image like to his father, and set it up in the market-place of the city. And he made a decree that every one who approached that statue within a space of fifteen cubits should be safe, and no one any account should do him hurt. Hence the malefactors, by reason of the benefit they received therefrom, began to offer to the statue roses and flowers, and in a short time the offerings were changed into money and food, insomuch that they called it god, to honour it. Which thing from custom was transformed into a law, insomuch that the idol of Baal spread through all the world;  -Gospel of Barnabas, ch-32

যা হোক, প্রসঙ্গে ফিরি, দুনিয়াতে মূর্ত্তিপূজা চালু করে দেবার পর শয়তান জ্বিণেরা অতীন্দ্রিয়বাদ ও জাদুবিদ্যা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে শুরু করে মূর্ত্তির সেবাদাসী তথা পিথিয়ার মাধ্যমে। লোকেরা পিথিয়ার কাছে এমনসব তথ্য জানতে আসত, যেগুলোর উত্তর কোন মানুষের পক্ষে দেয়া সম্ভব ছিল না। শয়তান জ্বিণেরা উর্দ্ধাকাশে ফেরেস্তাদের আলোচনা শুনে তা নিজেদের মত করে পিথিয়ার মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছে দিত। নবী মুহম্মদের পিতামহ আব্দুল মুত্তালিবও পিথিয়ার স্মরণাপন্ন হয়েছিলেন। আর ঐ পিথিয়ার বাণীর কল্যাণেই কিন্তু নবীজীর পিতা আব্দুল্লাহ দেবতার নৈবদ্য হয়েও রক্ষা পেয়েছিলেন। যা হোক, জ্বিণদের প্রসঙ্গে যা বলছিলোম-

নবী মুহম্মদের নব্যুয়তের অনেক আগে কোন এক শবে কদরের রাতে, ২৭শে রমজান, সম্পূর্ণ কোরআন অদৃশ্যলোক তথা লওহে মাহফূজ থেকে তুলে এনে ৪ঠা আসমানের আকাশে ছড়িয়ে দেয়া হয়, এবং সাড়ে ২৩ বৎসরে জিব্রাইল প্রয়োজন মত সেখান থেকে তা নিয়ে এসে নবী মুহম্মদের কাছে পৌঁছায়। আর ঐ সময়কালে ওহীর হেফাজত কল্পে জ্বিণদেরকে উর্দ্ধ আসমানে গমন, শ্রবণ ও সংগ্রহে বাঁধা দেয়া হয়। কোরআনে রয়েছে-

..(একদল জ্বিণ) বলল, আমরা বিষ্ময়কর কোরআন শ্রবণ করেছি-(৭২:৩) অনেক মানুষ পুরুষ জ্বিণের আশ্রয় নিত, কিন্তু তাতে তারা তাদের ভ্রান্তি ও অবাধ্যতাই কেবল বাড়িয়ে দিত।-(৭২:৬) আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করেছি, অতঃপর দেখতে পেয়েছি যে, কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ। আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শ্রবণার্থে বসতাম। এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ডকে ওঁৎ পেতে থাকতে দেখে। -(৭২:৮-৯)

নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজীর দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে। ওরা উর্দ্ধ জগতের কোন কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চারদিক থেকে তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়, ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশ্যে। ওদের জন্যে রয়েছে বিরামহীন শাস্তি। তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাৎধাবন করে।-(৩৬:৬-১০)

জিওম্যান্টিক ফিগার
যা বলছিলাম, এভাবে জ্বিণেরা অতীন্দ্রিয়বাদ ও জাদুবিদ্যা ছড়িয়ে দিত মানুষের মাঝে। অবশ্য অতীন্দ্রিয়বাদ তথা ভূত-ভবিষ্যৎ জানার আরো একটা মাধ্যম আছে যাকে জিওম্যান্সি বলে। দুনিয়াতে সর্বপ্রথম এই গুপ্তবিদ্যার জ্ঞান অর্জণ করেন নবী ইদ্রিস। তিনি এটি শিখেছিলেন ফেরেস্তা জিব্রাইলের কাছ থেকে। 

তবে জিওম্যান্সির সাহায়্যে গণনা করা যিশুও জানতেন।ইহুদি আলেমগণ একজন বেশ্যাকে ঈসার নিকট শরীয়তী বিচারের জন্যে নিয়ে এলে তিনি এ্ই জিওম্যান্সির সাহায়্যে দ্রুত বের করে ফেলেন উপস্থিত ইহুদি আলেমগণের কার কার সাথে কোন কোন মহিলার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। আর তিনি সংশ্লিষ্ট আলেমের নামের সাথে ঐ স্ত্রীলোকের নাম যুক্ত করে দ্রুত মাটিতে তা লিখে ফেলেন যা দেখতে পেয়ে আলেমগণ ঐ নারীকে ফেলে একে একে সেখান থেকে সঁটকে পড়েন।


প্রশ্ন হল, যিশু 
জিওম্যান্সি শিখলেন কোথা থেকে? তবে কি তারও শিক্ষক জিব্রাইল? না, জিব্রাইল যিশুর নবুয়্যতের শুরুর মূহূর্তে ও তাকে আসমানে তুলে নেবার সময় ব্যতিত কখনও তার কাছে আসেনি এবং আসার কোন প্রয়োজনও কখনও ছিল না। এর কারণ এ যে, খোদার বান্দা ও রসূল পরিচয় ছাড়াও যিশুর আরো একটি স্বতন্ত্র্য পরিচয় রয়েছে- খোদার বাণী [“ওয়ার্ড অব গড”]. তার এ পরিচয় এ সাক্ষ্য দেয় যে, ঐশী বাণী তথা গসপেল বা ইঞ্জিল হরকরা জিব্রাইলকে কষ্ট করে তার কাছে বয়ে আনতে হয়নি, বরং সেটা সরাসরি তার অন্তরে দিয়েছেন খোদা। অর্থাৎ নবুয়্যত প্রাপ্তির সাথেই তার আত্মার সাথে সংযুক্ত খোদায়ী নিয়ম-কানুন ও পদ্ধতি সনাক্ত ও বোধের আওতায় নিয়ে যাবার কারিগরি অংশ সচল হয়েছে। আর জিওম্যান্সিও তো তাই- "the art of divination, that based on the recognition of universal divine principle acting within the soul." 

যা হোক যা বলছিলাম, অত:পর হযরত মূসার সময়ে এই জাদুবিদ্যা মানুষের মধ্যে প্রভূত বিস্তার লাভ করে। কিন্তু তার কাছে জাদুকরদের নেতাদ্বয় যান্নি ও জাম্রি পরাজিত ও মুসলমান হবার পর এই বিদ্যার প্রচলন কমে যায়। কিন্তু নবী শলোমনের সময় বাবিলে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। 

জাদুর প্রভাবে সৃষ্ট ঘটনাবলী কারণের আওতা বহির্ভূত নয়। পার্থক্য শুধু এই যে এখানে কারণটি অদৃশ্য থাকে। জাদুকরেরা একপ্রকার মেসমারিজমের মাধ্যমে দর্শকদের কল্পণা শক্তিকে ক্রিয়াশীল করে দৃষ্টি বিভ্রাট ঘটিয়ে থাকে। একটি সোজা লাঠি আংশিক পানিতে নিমজ্জিত করলে তা আমাদের চেখে বাঁকা ঠেকবে এবং সেটিকে পানির বাইরে নিয়ে এলে সোজা দেখা যাবে। আবার আবরণের ব্যতিক্রমে একই তল চোখে অবতল কিম্বা উত্তল বোধ হতে পারে। এগুলো সবই মানুষের দৃষ্টি বিভ্রান্তি। মানুষের এই স্বভাবিক দুর্বলতার উপরই দৃশ্য-শিল্পী, জাদুকর এবং তাদের অনুরূপ লোকেরা নির্ভর করে এবং নিজেদের কৌশল দ্বারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। 

আর ‘কারণ’ না জানতে পেরে মূর্খ লোকেরা জাদুকে আলৌকিক বা মু‘জেযা মনে করে জাদুকরদেরকে সম্মানিত ও মাননীয় এবং অনুসরণযোগ্য মনে করতে থাকে। এমনকি অনেক বিশ্বাসীও পয়গম্বরদের মু‘জেযা ও জাদুর পার্থক্য বুঝতে না পেরে বিভ্রান্তিতে পতিত হয়। 

যারা জাদু অবলম্বণ করে তাদের জন্যে পরকালে কোন অংশ নেই। তাই জাদুর স্বরূপ এবং জাদুকরদের মুখোস উন্মোচনের জন্যে আল্লাহ ইতিপূ্ের্বে ফেরেস্তা হারুত-মারুতকে কিছু যাদুবিদ্যার জ্ঞান দিয়েছিলেন। কেননা, এই হারুত-মারুত ফেরেস্তাদ্বয় শাস্তিস্বরূপ মানুষরূপে মানুষের মাঝে বসবাস করছিল। আর তাদের তো কোন নির্দিষ্ট কাজও ছিল না। যা হোক, মূল কথা হারুত-মারুত দুনিয়াতে মানুষকে জাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত শুধুমাত্র মানুষকে সতর্ক করতে যাতে তাদের বিভ্রান্তি দূর হয় এবং যেন তারা জাদুর প্রাকটিস ও জাদুকরদের অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকতে পারে। 

ইচ্ছে করলে আল্লাহ এই কাজে পয়গম্বরদেরকে নিয়োজিত করতে পারতেন। কিন্তু তাতে শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ আরও বিভ্রান্তিতে পড়ত। তাই আল্লাহ পয়গম্বরদের ও জাদুকরদের মধ্যে পার্থক্য ফুটিয়ে তুলতে তৃতীয় এবং নিরপেক্ষ পক্ষ ফেরেস্তাদেরকেই এই কাজে নিয়োগ করাকে সমীচীন মনে করেছেন যাতে মানুষের মাঝে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মানুষ হারুত-মারুতের কাছ থেকে শিখে নেয়া জাদু অকল্যাণের কাজে লাগাতে লাগল। অবশ্য হারুত-মারুত -'আমরা তো তোমাদের উপর পরীক্ষা স্বরূপ। তোমরা আমাদেরকে অবিশ্বাস কোরও না’-এ কথা না বলে তারা কোন মানুষকে শিক্ষা দিত না। 

এদু’জনের কাছ থেকে লোকেরা এমন বিষয় শিক্ষা করত যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত, তথাপি আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কারও কোন ক্ষতি করতে পারত না। তাই তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, কোন উপকারে আসত না। যা হোক, এই পতিত ফেরেস্তাদ্বয়ের কারণে সাবা নগরীতে এই বিদ্যার প্রচলন ও ব্যবহার বহূলরূপে বৃদ্ধি পায়।


জাদুর প্রভাব নবী শলোমনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়, তিনি কিছুকালের (৪০ দিন) জন্যে রাজ্য হারিয়ে ফেলেন। আর 
শয়তান জাসাদান তার রূপ ধারণ করে তার সিংহাসনে বসে। আর 
When Solomon lost his kingdom and the devil Shakhr on his Throne, great numbers from among mankind and the jinn renegaded and followed their lusts. He and his gang write down sorcery such as- whosoever wants to do such and such, he should stand facing the sun and say such and such. And, whosoever wants to do such and such, he should stand giving his back to the sun and say such and such." They gave the title of the book they wrote as "This is what has been written by Asif Ibn Barkhiya by the order of King Solomon Ibn Dawud: from the treasures of knowledge." Then, they buried it under Solomon's throne.Verily, Solomon was not knowledgeable about the Unseen. 

অবশ্য রাজ্য ও রাজত্ব ফিরে পাবার পর শলোমন ঐ শয়তান জ্বিণ চখরকে কি করেছিলেন তা আমরা জানি না। তবে আমরা সেই বিখ্যাত “আরব্য রজনী” তথা “হাজার এক রাত্রির কাহিনী” থেকে যা জানি তা হল- এক জ্বিণ কিং শলোমনকে রাগান্বিত করায় তিনি তাকে বোতলে পুরে সমুদ্রে নিক্ষেপ করেন। আর যেহেতু ঐ বোতল তার মোহর দিয়ে মোহরাঙ্কিত ছিল, ফলে সেই জ্বিণ নিজেকে মুক্ত করতে পারেনি যতক্ষণ না বহু শতাব্দি পরে এক জেলে ঐ বোতল খুঁজে পেয়ে তাকে মুক্ত করে।

তবে নবী শলোমন জাদুর উৎস, ফেরেস্তা হারুত-মারুতকে বাবিল শহরের একটা কূপে বন্দী করে ফেলে ছিলেন যেন তাদের কারও দ্বারা জাদুর বংশবিস্তার আর হতে না পারে। কথিত আছে- তারা সেখানেই বন্দী অবস্থায় কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে।

অবশ্য শলোমনের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি অন্যরকম হয়। শয়তান নিজেকে ইস্রায়েলীদের মুখপাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং বলে: "ও লোকসকল! শলোমন কোন নবী ছিল না; সে তো এক গণক! যাও, তার বাসস্থান ও তল্পিতল্পায় তার গণকী মাজেযা খোঁজ।” আর সে তাদেরকে প্রোথিত “সম্পদ” খুঁজে পেতে নেতৃত্ব দেয়। 

অত:পর যখন শলোমনের সিংহাসনে নীচ থেকে জাদুর কিতাবটি বের হল, শয়তান বলল, ‘এটি শলোমনের উপর অবতীর্ণ কিতাব যা তিনি আমাদের নিকট থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। আর ঐ জাদুর কিতাবের সাহায্যেই তিনি রাজ্য পরিচালনা ও পশু-পক্ষী বশীভূত করেছিলেন।’ 


তখন যারা সেখানে উপস্থিত ছিল, তাদের অবিশ্বাসীরা বলল, "আল্লা স্বাক্ষী! শলোমন ছিল একজন গণক। আর সে তার জাদু দিয়ে আমাদেরকে তার অধীন করেছিল।" আর বিশ্বাসীরা তাদেরকে উপেক্ষা করে বলল, "না, তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত এক রসূল।" 


আর এমন বিশ্বাসই প্রচলিত ছিল ইহুদিদের মাঝে। আর-রবি ইবনে আনাস বলেন, “
ইহুদিরা প্রায়শ: নবী মুহম্মদকে তাওরাতের বিষয়বস্তু নিয়ে প্রশ্ন করত এবং যখনই তারা তা করত, খোদা তার কাছে প্রকাশ করতেন, যা দিয়ে তিনি তাদেরকে পরাভূত করে দিতেন এবং তাদের উপর আধিপত্য লাভ করতেন।এতে তারা বিষ্মিত হয়ে মন্তব্য করল: ”আমাদের কাছে যা নাযিল হয়েছে, মুহম্মদ তো দেখি আমাদের থেকেও তা ভাল জানে!” তখন তারা তার কাছে জাদু সম্পর্কে জানতে চায় এবং বলে যে, দাউদ পুত্র শলোমন ছিলেন একজন গণক, আর তিনি তার জাদু দিয়েই রাজ্য পরিচালনা করতেন।” 

জাদু করা কূফর। আর তাই কোরআন শলোমনের জাদু দ্বারা রাজ্য শাসনের কথা অস্বীকার করে এবং হারুত-মারুত ও তাদের জাদুর স্বরূপের সঠিক তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরে- 

‘আর শলোমনের রাজত্বে শয়তানেরা যা আওড়াত তারা (সাবাবাসীরা) তা মেনে চলত। শলোমন কূফর করেনি, বরং শয়তানই কূফর করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিত (সেই) জাদু যা বাবিল শহরের দুই ফেরেস্তা হারুত ও মারুতের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। তাই ‘আমরা তো তোমাদের উপর পরীক্ষা স্বরূপ। তোমরা অবিশ্বাস কোরও না’-এ না বলে তারা কোন মানুষকে শিক্ষা দিত না।  


এ দু’জনের কাছ থেকে তারা এমন বিষয় শিক্ষা করত যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত শুধু, আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কারও কোন ক্ষতি করতে পারত না। তাই তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, কোন উপকারে আসত না। আর তারা ভাল করেই জানত যে, যে-কেউ তা কিনবে পরকালে তার কোন অংশ নেই। আর যদি তারা জানত তারা যার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করছিল তা কত নিকৃষ্ট! -(২:১০১-১০২)  


আর এভাবে নবী মুহম্মদ শলোমনকে নবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলে, মদিনার ইহুদিরা তা বিশ্বাস করল না, তারা বলল, “অবাক কান্ড! মুহম্মদ দাবী করছেন দাউদ পুত্র শলোমন ছিলেন একজন নবী, খোদা স্বাক্ষী, তিনি কেবল
ই ছিলেন একজন গণক।” 

দ্যা গ্রান্ড গ্রিমোইর
১৭৫০ সনে শলোমনের সমাধিতে পাওয়া।
দ্যা গ্রান্ড গ্রিমোইর বা শয়তানের গসপেল পুস্তিকাটি এন্টিনিও ভেনিটিয়ানা ডেল রাবিনা’র লেখা ব্লাক ম্যাজিকের একটি কিতাব। সম্ভবত: ভেনিটিয়ানা তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন কিং শলোমনের সংগৃহীত অরিজিন্যাল কিতাব থেকে -[স্পেন্স, লুইস, “দ্যা গ্রান্ড গ্রিমোইর”। এন এনসাইক্লোপিডিয়া অব অকাল্টিজম, কসমিও বুকস, পৃষ্টা ১৮৮

এই কিতাবটি রেড ড্রাগণ নামেও পরিচিত। এতে রয়েছে শয়তানের সাথে চুক্তি সম্পাদনের জন্যে তাকে সমন জারির নির্দেশনাবলী। মূল কপিটি সম্ভবত: হাইতিতে কোন ভুডো চর্চাকারীর কাছে আছে। দাবী করা হয় এটি সেইসব পুস্তকের একটি যা শলোমনের সিংহাসনের নীচে প্রোথিত ছিল এবং তার মৃত্যুর পর তা উত্তোলন করা হয়। অত:পর তার শবদেহের সাথে তার এক কপি সমাধিস্থ করা হয়, যা ১৭৫০ সনে তার সমাধির মধ্য থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

The work is divided into two books.The first book contains instructions for summoning a Jinn and for the construction of tools with which to force the Jinn to do ones bidding. The second book is further divided into two parts: the Sanctum Regnum and "Secrets, of the magic art of the Grand Grimoire". 


The Sactum Regnum contain instructions for making a pact with the devil, allowing one to command the Jinn without the tools required in book one, but at greater risk. Secrets contains simpler spells and rituals one can employ after having performed the ritual in the first book. Some editions contain a short text between these two parts, The Magic Secret, or the Grand Art of being able to speaking with the dead, dealing with necromancy.


আধুনিক যাদুর স্বরূপ:

হোয়াইট ম্যাজিক ও ব্লাক ম্যাজিকের উৎপত্তিও আত্মার (জ্বিণের) আদিম উপাসনার আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। আর এমনই রূপরেখা দিয়েছেন রবার্ট এম প্লেসেস তার “জাদু ও রসায়ন”, ২০০৯, কিতাবে। প্লেসের মতে, ব্লাক ম্যাজিকের সমান্তরালে রয়েছে অশরীরি আত্মার ঘনিষ্টতা লাভে আদিম শামানিস্টিক প্রচেষ্টা। আধুনিক ব্লাক ম্যাজিকে যে সমস্ত আচার অনুষ্ঠান গড়ে উঠেছে, তা ডিজাইন করা হয়েছে ঐ একই আত্মাদেরকে আহবান করে চর্চাকারীর জন্য উপকারী ফলাফল সৃষ্টি করতে। প্লেস ব্লাক ও হোয়াইট ম্যাজিকের একটি বিস্তৃত আধুনিক সংজ্ঞাও দিয়েছেন। তিনি তাদেরকে "হাই ম্যাজিক" (হোয়াইট) ও "লো ম্যাজিক" (ব্লাক) রূপে উল্লেখ না করে বরং চর্চাকারীর প্রয়োগের ইচ্ছের উপর ভিত্তি করে তাদেরকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে, এ্ই বিস্তৃত সংজ্ঞা ("high" ও "low") suffers from prejudices as good-intentioned folk magic may be considered "low magic" while ceremonial magic involving expensive or exclusive components may be considered by some as "high magic", regardless of intent.

রেনেসাঁর সময়ে, বেশকিছু জাদুর চর্চা ও আচার-অনুষ্ঠানগুলোকে শয়তানি বা ধর্মবহির্ভূত এবং আরো বিস্তৃত অর্থে “ব্লাক ম্যাজিক” বিবেচনা করা হত। ডাইনীবিদ্যা এবং অ-মূলধারার গুপ্তবিদ্যার চর্চা, অনুশীলন ও গবেষণা নিষিদ্ধ ছিল এবং সেগুলোকে তদন্তের লক্ষ্যবস্ত করা হয়েছিল। ফলস্বরূপ, চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের জন্য বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক ম্যাজিকের বিকাশ ঘটে। যেমন, মার্সিলিও ফাইকিনো, আরোৎ জোহানেস ট্রিথেমিয়াস, ও হেনরিখ কর্ণেলিয়াস আগরিপ্পা উচ্চতর গুপ্তবিদ্যা ও আচার-অনুষ্ঠানের গবেষণা করলেও উল্লেখযোগ্য কোনরূপ শাস্তির সম্মুখীন হননি।


যখন "ন্যাচারাল জাদু" ষষ্ঠ ও সপ্তদশ শতকের শিক্ষিত ও উচ্চ শ্রেণীর মাঝে সুপরিচিত হয়ে উঠল, তখনও প্রাচীন ও আচার-অনুষ্ঠান ভিত্তিক জাদুকে শাস্তিযোগ্য বিবেচনা করা হত। বিংশ শতকের লেখক মন্টাগু সামারস "সাদা" ও "কাল" জাদুর সংজ্ঞা পরস্পর বিরোধী বলে দৃশ্যত: প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে তিনি ইচ্ছে নির্বিশেষে সাধারণত: ম্যাজিকের বিস্তৃতি কোন পর্য়ন্ত হলে তা ডার্ক বা ব্লাক হিসেবে বিবেচিত হবে তার উপর আলোকপাত করেছেন এবং সেই বিষয়ে উইলিয়াম পারকিন্সের পোসথুমোস- ১৬০৮ নির্দেশিকার উল্লেখ করেছেন্:


"ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত" সকল ডাইনীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর হবে। তিনি এর কোন ব্যতিক্রম রাখেননি এবং এই দন্ডাদেশের আওতায় পড়েছে- "সকল গণনাকারী, ঐন্দ্রজালিক, বাজিকর, জাদুকর, সাধারণভাবে যাদেরকে জ্ঞানী ব্যক্তি বা জ্ঞানী নারী বলা হয়"। অন্যদিকে, যারা চর্চা করে "good Witches যা ক্ষতিকর নয় বরং মঙ্গলকর, যা নষ্ট ও ধ্বংস করে না, বরং রক্ষা ও সহায়তা করে” -তারাও কঠোর শাস্তির অধীন হবে।.


বিশেষত:, যদিও, নিগ্রোম্যান্সার শব্দটি সাধারণভাবে তাদের জন্য নির্ধারিত যারা শয়তান এবং অন্যান্য দুরাত্মাকে আহবান করার অপরাধে দোষী, যারা তাদের প্রতিবেশীকে জাদুটোনা করে বা অভিশাপ দেয়, যারা বাণ মেরে গবাদি ও ফসল ধ্বংস করে এবং যারা তাদের মাটির দেহ ছেড়ে গিয়ে আত্মারূপে দূর-দূরান্ত ভ্রমণ করতে সক্ষম। সামারসও নিগ্রোম্যান্সার শব্দটির বুৎপত্তিগত উন্নয়ণের উপর আলোকপাত করেছেন যা দ্বাদশ থেকে প্রায় পঞ্চদশ শতক পর্যন্ত সাধারণভাবে ব্যবহার হয়ে আসছিল। আরও বৃহত্তর পরিসরে- এ শব্দটি ব্যবহার হত এমন কাউকে বোঝাতে “যে ব্লাক আর্টে পারদর্শী”।


আধুনিক প্রেক্ষাপটে, "হোয়াইট ম্যাজিক" ও "ব্লাক ম্যাজিক" এর মধ্যবর্তী সীমানা দাগ কিছুটা পরিস্কার এবং সর্বাধুনিক সংজ্ঞাও তাই অনুশীলন চর্চার চেয়ে অভিপ্রায়ের উপর কেন্দ্রীভূত। আধুনিক মায়া ও ডাইনীবিদ্যার অনুশীলনকারীদের অনেকে ব্লাক ম্যাজিক চর্চার যে সীমা আছে তা অতিক্রমের অভিপ্রায় থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখতে চাইছে। যারা অপরের ক্ষতি বা অমঙ্গল চায়, তারা মূলধারার উইকান গোষ্ঠীর কাছে তেমন একটা গ্রহনীয় নয়, কারণ এ্টা এমন একটা যুগ যখন  উপকারী জাদু ক্রমশ: সম্পৃক্ত হচ্ছে আধুনিক জ্ঞানবাদে ও আত্মনির্ভর আধ্যাত্মবাদে।


জনপ্রিয় সংস্কৃতির প্রভাব স্যাটানিজমের ধারণাসহ অন্যান্য চর্চাকে ব্লাক ম্যাজিকের বিস্তৃত ব্যানারের নীচে টেনে আনার অনুমতি দিয়েছে। অন্যদিকে শয়তান বা আত্মার আহবান ব্লাক ম্যাজিকের একটা গ্রহণযোগ্য অংশ হওয়ায়, এই চর্চা এ ধরণের আত্মা সম্বলিত প্রাণীর উপাসনা বা দেবত্বারোপ থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।


ধরে নেয়া হয়, হোয়াইট ম্যাজিক কেবল ভাল বা নিঃস্বার্থ উদ্দেশ্যে এবং ব্লাক ম্যাজিক নিজের স্বার্থে বা “শয়তানি”র জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে স্যাটানিজম এধরণের কোন বিভাজন রেখা টানেনি। জাদু জাদুই, তা সে সৎ বা অসৎ যে উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হোক না কেন। একজন স্যাটানিস্টকে- জাদুকর হিসেবে কোনটা ভাল তা বাঁছাই করতে পারার সাথে সাথে তার লক্ষ্য অর্জনে জাদুর শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষমতাও থাকতে হবে। বস্তুত: স্যাটানিজম কোন সাদা আলোর ধর্ম নয়; এ ধর্ম জীবনের, পার্থিব, জাগতিক- যার সবকিছুই “বাম হাত পথ”এর মূর্তপ্রতীক শয়তান শাসিত।


কালো জাদু ও ধর্মের মধ্যে যোগসূত্র ও মিথস্ক্রিয়া অনেক এবং বৈচিত্র্যময়। স্যাটানিজম সংগঠনে বা খ্রিস্টানদের দ্বারা তার ঐতিহাসিক নিপীড়ন ও সেসবের তদন্তে কাল জাদুর যোগসূত্র ছাড়াও যোগসূত্র পাওয়া গেছে ধর্মের এবং জাদুর আচার-অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে। উদাহরণস্বরূপ, ব্লাক মাস হচ্ছে ক্যাথলিক মাস-এর এক কলুষিতাকারী প্যারোডি। এভাবে, ‘সেইনিং’, যদিও তা প্রাথমিকভাবে সাদা জাদুর একটি চর্চা, তথাপি এটি একটি শিশুর খৃস্টানীকরণ বা বাপ্তাইজমের অনুরূপ একটি উইকান অনুষ্ঠান। কথিত আছে, সপ্তদশ শতকের যাজক ইটেনি গুইবোর্গ, মাদাম ডি মন্টেস্পানের জন্য ব্লাক মাস আচার অনুষ্ঠানের জন্য ক্যাথরিন মনভোসিনের সঙ্গে অভিযুক্ত হয়েছিলেন।


চর্চা ও আচার-অনুষ্ঠান:

“The lowest depths of black mysticism are well-nigh
as difficult to plumb as it is arduous to scale
the heights of sanctity. The Grand Masters of
the witch covens are men of genius - a foul genius,
crooked, distorted, disturbed, and diseased.”-------------------

এ.ই ওয়েট তার ব্লাক ম্যাজিক ও সেরিমোনিয়াল ম্যাজিকের কিতাবটিতে ব্লাক ম্যাজিকের বিভিন্ন চর্চা, আচার-অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যের একটি বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। পরবর্তীতে অন্যান্যরা চর্চার মাধ্যমে এসব আইডিয়াগুলোকে আরও সম্প্রসারিত করেছেন এবং তাদের নিজস্ব আচার-অনুষ্ঠান ও ধারণার বিস্তারিত তালিকা দিয়েছেন। সাধরণভাবে সকল ব্ল্যাক ম্যাজিকের চর্চা ও তার সকল আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে:


ক). সঠিক নামের বানান: ব্যক্তির প্রকৃত নাম জানলে তার উপর নিয়ন্ত্রণ আনা যায়। আবার এ সূত্র ঐ একই কারণে সঠিকও নয়, কারণ তা অন্য বক্তির সঙ্গে সংযোগে বা অন্যের নিয়ন্ত্রণ থেকে তাকে মুক্ত করার কাজেও ব্যবহার করা যায়। সুতরাং এটা গ্রে এরিয়ার মধ্যে রয়েছে।


খ). অমরত্বের আচার-অনুষ্ঠান: জীবন সসীম, এবং কারো স্বাভাবিক লাইফ স্প্যানের চেয়ে বেশী বেঁচে থাকার ইচ্ছে প্রকৃতির প্রবাহের সঙ্গে হবে না। এ ছাড়াও, অমরত্বের সঙ্গে আরও একটি বড় সমস্যা জড়িত। আর তা হচ্ছে- ফলাফলগুলো পরীক্ষা করার প্রয়োজনে সাবজেক্টকে হত্যা করা আবশ্যক হয়। তাছাড়া, আয়ূ বাড়ানোর একটি মন্ত্রও মঙ্গলকর নয়, কেননা প্রতিটি মন্ত্র কার্যকর হয় কেবলমাত্র অন্যের দেহ থেকে জীবনীশক্তি শোষণ করে নিয়ে। [সত্যি বলতে কি, জাদুর সাহায্যে সবকিছু করা গেলেও অমরত্ব লাভ সম্ভব না। কেননা, মানুষের আয়ূস্কাল সুনির্দিষ্ট এমনকি জ্বিণেরও, যেহেতু তা লেখা রয়েছে কিতাবে। তদুপরি যদি এটা বৃদ্ধি করা যেত, তবে দুনিয়াতে সবচেয়ে ক্ষমতাধর শয়তানকে তার আয়ূ বৃদ্ধির জন্য খোদার কাছে কখনও করূণা ভিক্ষা করা লাগত না।]


গ). নেক্রোম্যন্সি: এটা কেবল নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় এবং একে সাধারণ ব্লাক ম্যাজিক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। কিন্তু এটা অন্য যে কোন জাদুর মত যা কেবল মৃত্যুর সাথে কাজ করে। মূলত:নেক্রোম্যন্সিতে পুনরুত্থানের বিপরীতে মৃতের আত্মাকে উত্থিত করা বা মৃতের আত্মাকে সমনজারী করা হয় -for the purpose of divination, imparting the means to foretell future events or discover hidden knowledge, or to use the deceased as a weapon. Rituals could be quite elaborate, involving magic circles, wands, talismans, and incantations.


কখনও কখনও নেক্রোম্যন্সিতে আচার-অনুষ্ঠান হিসেবে শুরুতে কোন মানব বা পশুকে উৎসর্গ করা হয়, অত:পর উৎসর্গিত পশুর অন্ত্রের গঠন ও ন্যস্ততা পর্যবেক্ষণ করে (যেমন:আদিকালে পিথিয়ার ওরাকুলার বাণী পেতে বলির পশুকে স্নান করিয়ে তাকে পর্য়বেক্ষণে রাখা হত নিশ্চিত হতে যে, it shivered from the hooves upward, যা ওরাকুলার পাঠে অগ্রসর হবার ক্ষেত্রে একটা শুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হত। অত:পর পশুটি উৎসর্গ করে তার অঙ্গ, বিশেষত: যকৃত (liver) পরীক্ষা করা হত লক্ষণ শুভ তা সুনিশ্চিত হতে), ওরাকল ভাববাণী দেয় বা ডাইনীরা witchcrafting এর মাধ্যমে মৃত আত্মাকে হাজির করে। বাইবেলে আমরা দেখেছি তালুত এভাবে ঐণ-দোরের এক ডাইনীর স্মরণাপন্ন হন। ঐ ডাইনী তালুতের কথামত মৃত শমূয়েলের আত্মাকে তুলে আনলে তালুত তার সঙ্গে কথা বলে্ন। যেমন-


শমুয়েল বললেন, ‘কেন তুমি আমাকে তুলে এনে বিরক্ত করলে?’

তালুত বললেন, ‘আমি খুব বিপদে পড়েছি। একদিকে প্যালেস্টীয়রা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, অন্যদিকে খোদা আমাকে ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি আর আমার ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না। সেজন্যে এখন আমার কি করা উচিৎ তা জানার জন্যে আপনাকে ডেকে এনেছি।’
শমুয়েল বললেন, ‘খোদা প্যালেস্টীয়দের হাতে তোমাকে ও তোমার সঙ্গে ইস্রায়েলীদেরকে তুলে দেবেন। ফলে তুমি ও তোমার ছেলেরা আমার সঙ্গে থাকবে।’ 

মূসার শরীয়তে কাল জাদু, ডাকিনী, মায়া ও গণকবিদ্যা নিষিদ্ধ ও এর চর্চাকারীকে হত্যার আদেশ ছিল। বলা হয়েছিল-  A man also or woman that hath a familiar spirit, or that is a wizard, shall surely be put to death: they shall stone them with stones: their blood shall be upon them.-Leviticus, 20:27


আর বর্তমান বাইবেল আমাদেরকে জানাচ্ছে, তালুত নবী হয়েও থোদার আদেশ উপেক্ষা করে ডাইনীর স্মরণাপন্ন হয়েছেন। আর তাতে তিনি মৃত্যুদন্ডাদেশ পাননি, যেহেতু তিনি দেশের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, কিন্তু খোদা নিজেই তাকে এ দন্ডে দন্ডিত করেন যেমনটা শমূয়েল বলেছিলেন during conjuration.


যা হোক, যা বলছিলাম, নেক্রোম্যন্সি সম্পর্কে সংক্ষেপে বলতে গেলে বলতে হয় এর চর্চাকারীরা বিশ্বাস করে তারা তাদের নেক্রোম্যন্সির সাহায্যে তিনটি কাজ করতে পারে: will manipulation, illusions, and knowledge:


-Will manipulation affects the mind and will of another person, animal, or spirit Jinns are summoned to cause various afflictions on others, "to drive them mad, to inflame them to love or hatred, to gain their favor, or to constrain them to do or not do some deed."-[Kieckhefer 2011, pp. 159–162.]

-Illusions involve reanimation of the dead or conjuring food, entertainment, or a mode of transportation.
-Knowledge is allegedly discovered when Jinns provide information about various things. This might involve identifying criminals, finding items, or revealing future events.

The act of performing necromancy usually involved magic circles, conjurations, and sacrifices such as those shown in the Munich Manual of Demonic Magic:


-Circles were usually traced on the ground, though cloth and parchment were sometimes used. Various objects, shapes, symbols, and letters may be drawn or placed within that represent a occult ideas. Circles were believed to empower and protect what was contained within, including protecting the necromancer from the conjured Jinns.


-Conjuration is the method of communicating with the Jinns to have them obeying orders. It usually employs the power of special words and stances to call out the Jinns and often incorporated the use of verses from Holy Books. These conjurations may be repeated in succession or repeated to different directions until the summoning is complete.


-Sacrifice was the payment for summoning; though it may involve the flesh of a human being or animal, it could sometimes be as simple as offering a certain object. Instructions for obtaining these items were usually specific. The time, location, and method of gathering items for sacrifice could also play an important role in the ritual. -[Kieckhefer 2011, pp. 159–162.]


ঘ). বান ও অভিশাপ: অভিশাপ যদিও একটি জটিল আচার-অনুষ্ঠান, তথাপি তা কেবল কারো অমঙ্গল কামনা করার মত অতি সাধারণও বটে।


ব্লাক ম্যাজিকের মূল আচার -অনুষ্ঠানগুলো:

ব্লাক ম্যাজিকের আচার-অনুষ্ঠানগুলো নির্ভর করে ফলাফল কি চাওয়া হবে তার উপর। সব ধরণের ব্লাক ম্যাজিকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে, আছে সম্পদ লাভের জন্য মন্ত্র পাঠের আচার-অনুষ্ঠান, আছে মৃতকে কবর থেকে উত্থানের আচার-অনুষ্ঠান, আছে ভূত-ভবিষ্যৎ জানতে জ্বিণকে সমনজারী করে ডেকে আনার আচার-অনুষ্ঠান, আছে অমরত্ব লাভের আচার-অনুষ্ঠান, আছে বান ও অভিশাপের জন্য আচার-অনুষ্ঠান। আর আচার-অনুষ্ঠান গুলোর অধিকাংশ সম্পন্ন হয় নীচের ধাপগুলোর সমন্বয়ে-

ক). স্হান নির্বাচন: অভিশাপ ও মন্ত্র পাঠের জন্যে একটা সুবিধাজনক স্থান (জঙ্গল বা নির্জন কোন এলাকা) নির্বাচন করা।

খ). দিন ও ক্ষণ নির্বাচন: একটা সুবিধাজনক দিন (যেমন- শনি বা মঙ্গলবার, অমাবশ্যার রাত বা প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থা বা পঞ্চমী) ও  ক্ষণ (রাতের মধ্যভাগ বা ভরদুপুর অর্থাৎ দ্বিপ্রহর) নির্ধারণ করা। 
গ). পেন্টাগ্রাম আঁকা: নির্দিষ্ট দিন ও ক্ষণে নির্বাচিত স্থানের কোন সুবিধাজনক জায়গায় মাটিতে একটা বৃত্ত অংকন করে তার মাঝে একটা পেন্টাগ্রামে এঁকে ফেলা। এটাই সার্কেল অফ পাওয়ার।

ঘ). আনুসাঙ্গিক উপাদান: মোমবাতি, ধূপ-ধূনো, স্ফটিক, কবজ এবং আরো অনেক জিনিষ যা জ্বিণ বা আত্মাকে হাজির করার কাজে সহায়তা করে। এছাড়া শয়তানের সাথে সম্পর্কিত প্রাণী যেমন-কাল কুকুর বিশেষত: চোখের উপর যাদের দুটো সাদা ফোঁটা রয়েছে; ছাগল, ভেড়া, উট, হুতুম পেঁচা, কাল কাক, গজাল মাছ, ঘোড়া, এমনকি গাধা-খচ্চরও [বলআম বিন বাওরার গাধা ফেরেস্তা জিব্রা্ইলকে দেখে পথের মাঝে বসে পড়েছিল। -বা্ইবেল, গণনা পুস্তক, ২২:২১-৩০] ব্লাক ম্যাজিকের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কারণ, এসকল প্রাণী অশরীরি আত্মা বা জ্বিণের উপস্থিতি যেমন সনাক্ত করতে পারে, তেমনি এদের উপরও জ্বিণ সহজে ভরও করতে পারে। তবে আত্মার সঙ্গে যোগাযোগে শবদেহ, অমরত্ম লাভে জীবন্ত মানুষ, জাদুটোনা করতে ঐ ব্যক্তির চুল বা নখ এবং আনুসঙ্গিক আরো কিছু জিনিসপত্র লাগে। তবে সকল ক্ষেত্রে সব উপাদান সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র হওয়া আবশ্যক। আর বাণ ও অভিশাপ দেবার কাজে অনেক সময় পাপেট তৈরী করে নেয়া হয়। পাপেট তৈরী ও তার ব্যবহার পদ্ধতিও এখানে বর্ণনা করা হবে।


আবার, জাদু সৃষ্টির বেশকিছু চর্চায়, বিশেষত: কোন একটি পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি বা ধ্বংস করতে কুকুর বা কুকুরের সঙ্গে সম্পর্কিত কোন বস্তু ব্যবহার করা হয়। -(ইবনে বকতিসু, fol.৯৪a; তনোকাবনী, পৃ.২২২;) জাদু বা মায়াজালে কুকুরছানার মস্তিষ্ক ব্যবহার করার কথাও শোনা যায়। -(হেদায়েত, পৃ.১১৬; ম্যাসি, ক্রোয়েন্সেস, পৃ.৩১৪) উল্লেখ্য, মায়াজাল হচ্ছে- বস্তুর নিজস্ব ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে সৃষ্ট কোন বস্তু বা বস্তুসমূহের দ্বারা সৃষ্ট কোন জগৎ, যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও দৃশ্যমান কিন্তু তার অস্তিত্বের নিয়ন্ত্রণ প্রকৃতির হাতে নেই, অর্থাৎ বাস্তব অস্তিত্বহীন সৃষ্ট কোন বস্তু বা জগৎ।


ঙ). মন্ত্র পাঠ: শক্তির বৃত্তে প্রবেশ করে দাঁড়িয়ে বা বসে সঠিক উচ্চারণে নির্দিষ্ট মন্ত্রটি (যা প্রত্যাশিত ফলাফলের সাথে সম্পর্কিত) তিনবার পুনরাবৃত্তি করা ও মোমবাতি সম্পূর্ণ পুড়ে নিভে যাওয়া পর্যন্ত যথাস্থানে অপেক্ষা করা।


ব্লাক ম্যাজিক কিভাবে করা হয়:
মূলত: অতিপ্রাকৃতিক শক্তির আত্মা বা জ্বিণের দ্বারা ব্লাক ম্যাজিক করা হয়। সুতরাং এ ধরণের জাদু করার আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার অভিপ্রায় সম্পর্কে। ব্লাক ম্যাজিককে বিবেচনা করা হয় “ডার্ক আর্ট” হিসেবে। কারণ, চর্চাকারী এর মাধ্যমে অন্য কাউকে ইচ্ছেমাফিক নিয়ন্ত্রণ করে। বলা বাহুল্য, হোয়াইট ম্যাজিক অপরের মঙ্গলার্থে করলেও চর্চাকারী ব্লাক ম্যাজিক করে কেবলমাত্র নিজস্বার্থে।

ব্লাক ম্যাজিকের একটা অনুষ্ঠান
ক্লাসিক্যাল আচার-অনুষ্ঠান ছাড়াও ব্লাক ম্যাজিক সম্পন্ন করার আরো কিছু পদ্ধতি রয়েছে। বাণ ও অভিশাপের কবজ তাবিজে ভরে কোন নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে সুরক্ষিত রাখা হয় নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দূর্ভাগ্যের আবর্তে ফেলতে বা তাকে ইচ্ছাধীন ক্রীড়ানড়কে পরিণত করতে। অথবা ঐ ব্যক্তির পাপেট তৈরী করে তার উপর বাণ বা অভিশাপের মন্ত্র আওড়ানো যাতে করে ঐ ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণের জন্যে তৈরীকৃত পাপেট রিমুটের মত কাজ করে।

তবে বাণ ও অভিশাপের মন্ত্র ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বণ এবং অন্যকে অমঙ্গলের আবর্তে ফেলার যৌক্তিকতাও বারবার ভেবে দেখা প্রয়োজন। মোটকথা অতিপ্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহারে প্রজ্ঞারও ব্যবহার থাকতে হবে। কেননা, অদৃশ্য জ্বিণ. দূর্দান্ত শক্তিশালী প্রাণী, তাকে ব্যবহারে যথোপযুক্ত প্রজ্ঞা না থাকলে হিতে বিপরীত হতে পারে, পাহারার বদলে বেড়ায় ক্ষেত খেয়ে ফেলতে পারে। সুতরাং বিষয়টিকে কোন অবস্থায় হালকাভাবে নেয়া উচিৎ হবে না।

T
he threefold law (Wiccan Rede) states that what you put forth comes back to you threefold. Do you feel so strongly about using black magic that you're willing to suffer should the magic come back to harm you? Be sure that the outcome you are hoping to obtain is completely worth it.


ব্লাক ম্যাজিক করার জন্যে এমন একটি জায়গা বেঁছে নেয়া উচিৎ যেখানে মন্ত্রটি ভালভাবে কাজ করার সবচেয়ে উপযুক্ত। মূলত: জনবহুল স্থানে আত্মা বা জ্বিণের আগমন এবং তাদের উপস্থিতি জাহির করা বেশ কঠিন। সুতরাং জঙ্গল বা কোন নির্জনস্থান বাঁছাই করা ভাল, যেখানে মনুষ্য চলাচল কম। তবে মৃতের সাথে যোগাযোগের পরিকল্পণা করা হলে কবরস্থানই হবে উপযুক্ত জায়গা।


প্রথমে মাটিতে একটা বৃত্ত তৈরী করে তার মাঝে একটা পেন্টাগ্রাম আঁকতে হবে। এই পেন্টাগ্রাম ব্লাক ম্যাজিকের একটা শক্তিশালী প্রতীক। প্রথাগতভাবে মাটিতে এটি হিজল গাছের ডাল কুঁদে তৈরী কোন স্টিকের দ্বারা আঁকা হয়, তবে হিজল দন্ড না পাওয়া গেলে অন্য কোন লাঠির সাহায্যেও এটি করা যাবে।


এরপর ধূপ-ধূনো জ্বালিয়ে ও বৃত্তের সীমানা বরাবর কিছুদূর পরপর মোমবাতি (সাইজ বুদ্ধিমত্তার সাথে বাঁছাই করতে হবে) জ্বালিয়ে শক্তির বৃত্তে প্রবেশ করতে হবে। অত:পর মনোসংযোগ করে নিজের মধ্যে শক্তি সঞ্চয় করে নিতে হবে, কেননা, মন্ত্র পড়তে মানসিক শক্তি দরকার। এরপর কেবল দাঁড়িয়ে বা বসে সঠিক উচ্চারণে গুরুগম্ভীর স্বরে নির্দিষ্ট মন্ত্রটি পাঠ করা।


স্মতব্য, মন্ত্রের প্রত্যেকটি শব্দের আলাদা আলাদা শক্তি আছে এবং ভাল ফলাফল পেতে সবগুলোর সমন্বিত প্রয়োগ যথোপযুক্ত হওয়া দরকার। আর যদি কোন আত্মা বা জ্বিণকে ডাকা হয়, তবে মন্ত্র উচ্চারণের পূর্বে অবশ্য্ই তার প্রকৃত নাম জানা থাকতে হবে। এছাড়াও মন্ত্রপাঠের সময় আশেপাশে কোন লোক থাকা চর্চাকারীর জন্যে ভয়ানক বিপদ বয়ে আনতে পারে।


মূলত:এমন কোন সুনির্দিষ্ট মন্ত্র নেই যা কারো ভালবাসা পেতে বা অমরত্বলাভে পুরোপুরি কাজ করবে। এ কারণে নিজ প্রয়োজন অনুসারে মন্ত্রটি তৈরী করে নেয়াই উত্তম বা কোন ভাল গ্রিমোয়ের থেকে সেটা খুঁজে নেয়া যেতে পারে। গ্রিমোয়ের হচ্ছে ব্লাক ম্যাজিকের মন্ত্রের টেক্সট বুক, যেখানে মন্ত্রসমূহ এবং সেগুলোর প্রয়োগ বিধি স্ববিস্তারে বর্ণিত থাকে (Actually, Grimoires contain a mix of spells, conjurations, natural secrets and ancient wisdom. Some best Grimoires are- The Sixth and Seventh Books of Moses, The Clavicule of Solomon, Petit Albert, The Book of St Cyprian, Dragon rouge, The Book of Honorius, The Fourth Book of Occult Philosophy, The Magus, The Necronomicon, Book of Shadows, etc)। তবে গ্রিমোয়ের থেকে নেয়া মন্ত্রই যে কেবল ভালভাবে কাজ করবে এমন নয়, ফলাফল কি চাই এর উপর ভিত্তি করে ঠিকমত লিখতে পারলেই হবে।


সেই ডুমুর গাছের কথা চিন্তা করেন, গাছটিকে ঈসা কেবল বলেছিলেন- “তোর ফল যেন আর কেউ কোনদিন না খায়।” এই সাধারণ বাক্যটিই ঐ গাছের উপর কাজ করেছিল এবং সেটি পরদিন মরে গিয়েছিল। ঈসা কোন জাদু করেননি, কিন্তু তার কথা কার্যকর হয়েছিল, কারণ, পবিত্র মুখের সকল কথাই জাদুর মত। আর তাই যখন তিনি অসুস্থ্য কাউকে বলেছেন- “তুমি সুস্থ্য হলে” তখন সে সুস্থ্য হয়েছে: যখন কোন মৃতকে বলেছেন “ওঠ” তখনি সে উঠে বসেছে; যখন জ্বিণগ্রস্থ কাউকে বলেছেন-“বের হয়ে যাও” তখন জ্বিণ ঐ শরীর ছেড়ে চলে গেছে; যখন মাটির তৈরী কোন পাখীর গায়ে ফূঁক দিয়েছেন, তখন সেটি জীবিত হয়ে উড়ে গেছে, ইত্যাদি। এমনই ছিল ফেরাউনের সাথে লড়াইয়ে মিসরীয়দের উপর আনা মূসার আঘাত। কিন্তু অন্য কেউ ঈসা বা মূসার ঐসব স্পেলের কোনটিকে কার্যকর করতে চাইলে তাকে ব্লাক ম্যাজিকের আশ্রয় নিতেই হবে।


যা হোক, যা বলছিলাম, পাঠ করা মন্ত্রটি কাজ করলে ফলাফল যেমন চাওয়া হয়েছিল তেমনি তা প্রকাশ পেতে থাকবে। আর যদি সমন পাঠিয়ে কোন ভাল বা খারাপ জ্বিণকে ডেকে আনা হয়, তবে তার সাথে সমীহের সাথে কথা বলাই ভাল।কারণ, সকল সমনজারীকারীর সাথে তাদের আনুগত্যের বন্ধন বা দায়বদ্ধতা নাও থাকতে পারে। তবে এটা ঠিক জ্বিণ মানুষ হত্যা করতে পারে না। এ ধরণের কোন ক্ষমতাই খোদা তাদেরকে দেননি, তবে তারা ভীতির সঞ্চার করতে পারে। আর তাতে দূর্বল লোকেরা হার্ট এ্যাটাকে মারা গেলেও যেতে পারে। সুতরাং পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, কোনভাবেই মনোবল হারানো যাবে না।


বাণ ও অভিশাপের জন্য অব্যবহৃত কাল কাপড় কেটে ও সেলাই (মাথা ব্যতিত) করে একটা পাপেট তৈরী করে নিতে হবে। কাটা ও সেলাইয়ের সময় ভাবতে হবে যেন টার্গেটেড ব্যক্তিরই ক্ষুদ্র সংস্করণ সেটা। পাপেটটি অবশ্যই প্রাকৃতিক বস্তু দিয়ে তৈরী হতে হবে। কৃত্রিম সূতার কাপড়ে তৈরী পাপেট ভালভাবে কাজ করতে পারে না।


অত:পর পাপেটটি মাটি, কিছু শক্তিশালী স্ফটিক এবং টার্গেটেড ব্যক্তির কিছু চুল ও নখ দিয়ে পূর্ণ করতে হবে। এবার মাথা সেলা্ই করে পাপেটটি সম্পূর্ণ করতে হবে।


এবার আগের মত বৃত্ত তৈরী করে তার মধ্যে পেন্টাগ্রাম আঁকতে হবে এবং ভিতরে প্রবেশের আগে বৃত্তের চারিদিকে মোমবাতি জ্বেলে দিতে হবে। অত:পর সার্কেলের ভিতর দাঁড়িয়ে পাপেটের উপর অভিশাপের মন্ত্রটি বর্ষণ,পরপর তিনবার।


যাকে কল্পণা করে পাপেটটি তৈরী, তাকে কোন পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত রাখতে পাপেটকে এমন বাইন্ডিং স্পেল দিয়ে আাঁটকে ফেলতে হবে- "I bind your feet from bringing you to harm me. I bind your hands from reaching out to harm me. I bind your mouth from spreading tales to harm me. I bind your mind from sending energy to harm me." আর এ বলতে হবে পাপেটকে কাল ফিতা দিয়ে মোড়ানোর সময়।


আর ভালবাসা পাবার জন্যে পাপেটের উপর এমন ভালবাসার মন্ত্র (Love. Lust & Attraction Spells) আওড়াতে হবে, পরপর তিনবার - "Light the flame -Bright the fire -Red is the color -Of desire." এরপর মোমবাতি সম্পূর্ণ পুড়ে নিভে যাওয়ার পর বুঝতে হবে পুরো কাজ সুসম্পন্ন হয়েছে।


সবশেষে, Black magic in general is the least stable of the schools—and the easiest to reverse on the caster. এটা মনে রাখতে হবে। আর নিয়মগুলো তো আগেই বলেছি তবু আবারও স্মরণ করিয়ে দেই ধাপগুলোর কিছু নির্দেশিকা:


Moon phase: Half or quarter At Most  (any more and you risk harming your target or yourself)

Mental imagery: Anger, annoyance, frowning faces, distrustful faces, broken chain links, cold, red and black

Where to cast: Indoors. Casting outdoors increases the risk assigning the spell to the wrong person. Make sure the moon is in full view the whole time, and that you are absolutely alone. Casting the spell with an accidental listener could have serious consequences for everyone involved. Use a black candle with this spell, but only one. যেমন-


`I need revenge

On this black day
To make my troubles go away
A curse, a pox, a chanted hex
Any one should do to make you, (target),
understand he hurting caused by you'.

Serious problems of casting spells should be mediated by non-magical authorities, like the court system or the police. You also risk incurring the Rule of Three if you overdo the spell, or if you use it in a way inconsistent with the general use of black magic.


বি:দ্র: ব্লাক ম্যাজিক শেখার জন্যে এ আটিকেল লেখা হয়নি, এ কেবল কাল জাদুর স্বরূপ বোঝার জন্যে। কাল জাদু শিখতে নিজের আত্মাকে শয়তানের কাছে বিক্রি করতে হয়। যেমন- শয়তান হাজির করে তাকে দিয়ে কাজ করাতে তার কাছে এমন প্রার্থনা নিবেদন করা লাগে-

“I implore Thee, O Thou Grand and Powerful ADONAY, Master of all Spirits! I beseech Thee, O ELOIM! I implore Thee, O JEHOVAH! O Grand ADONAY, I give unto Thee my soul, my heart, my inward parts, my hands, my feet, my desires, my entire being! O Grand ADONAY, deign to be favourable unto me! So be it. Amen.”

অত:পর সমনজারি: LUCIFER ✠, OUYAR ✠, CHAMERON ✠, ALISEON ✠, MANDOUSIN ✠, PREMY ✠, ORIET ✠, NAYDRUS ✠, ESMONY ✠, EPARINESONT ✠, ESTIOT ✠, DUMOSSON ✠, DANOCHAR ✠, CASMIEL ✠, HAYRAS ✠, FABELLERONTHON ✠, SODIRNO ✠, PEATHAM ✠, Come ✠, LUCIFER ✠. AMEN.

-আর তাই বলা হয়েছে, যে তা করবে পরকালে তার কোন অংশ নেই। কোরআনে বলা হয়েছে- “তারা মানুষকে শিক্ষা দিত (সেই) জাদু যা বাবিল শহরের দুই ফেরেস্তা হারুত ও মারুতের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল।....যে-কেউ তা কিনবে পরকালে তার কোন অংশ নেই। আর যদি তারা জানত তারা যার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করছিল তা কত নিকৃষ্ট!” -(২:১০১-১০২)

আর দুনিয়াতে জাদুকারীর অবস্থান! হম: বলে রাখা ভাল, তাওরাতে এমন কঠোর নির্দেশ রয়েছে- “মায়াবিনী কিম্বা গণকবিদ্যা ব্যবহার কোরও না। মায়াবিনী মৃত্যুদন্ডের সাজা পাবে।”
“জ্যোতিষ বা গণকের কাছে ভাগ্য অন্বেষণে যাবে না। ”
“পুরুষ কিম্বা স্ত্রীলোকের মধ্যে যে কেউ ভূতাড়িয়া বা গুণী হয়, তার প্রাণদন্ড হবে। লোকে তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করবে এবং তার রক্ত তারই উপর বর্তিবে।” -আর এ নির্দেশ দু’শ বৎসর আগেও ইহুদি ও খৃষ্টানগণ সোৎসাহে পালন করে এসেছে।

সমাপ্ত।

But not yet fully corrected.

উৎস:
Wikipedia
Quran
Sahih al-Bukhari
Sahih al-Muslim
The Zohar
Grahamster, How to do Black Magic, published in WikiHow.

J.Gordon Melton, ed. (2001). "Black Magic". Encyclopedia of Occultism & Parapsychology.
.....etc.

Q & A

# "ভাই, বুঝলাম না, কিভাবে বিলকিসের সিংহাসনটা জ্বিণ হাজির করল?"
সিম্পল, ঐ জ্বিণ প্রথমে দৃশ্যমান বস্তুর ফ্রিকোয়েন্সি সীমার বাইরের কোন নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সিতে সিংহাসনটাকে পরিবর্তিত করেছে। তারপর শলোমনের সামনে জাস্ট সেটিকে তার নিজস্ব ফ্রিকোয়েন্সিতে ফিরিয়ে দিয়েছে।

# ”ভাই আমার ভাগ্যটা বদলে ফেলতে চাচ্ছিলাম, কিছু করা যায় কি?”
হা হা হা...... যাবে না কেন? নিয়মমত শক্তির সার্কেল তথা পেন্টাগ্রামের মাঝে দাঁড়িয়ে নীচের নমুনার মত মন্ত্র পাঠ করেন- হয়ে যাবে।

”The world is gray, the sky is black
I need some of my poor luck back
Although I’ve worked so very hard
On bent and hobbled knees
If fate could make sure my next card
Has fortune, I’d be pleased
And though I don’t ask out of greed
Believe me when I say
Any luck you give to me
Will be used in the best way.”

# পাঠক, আপনাদের কোন প্রশ্ন??


Moses: কোরাণিক ক্যানভাসে নবী মূসা।

Abu Hena Mostafa Kamal  01 May, 2017 মি সরের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ফেরাউন। হঠাৎ করে তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। কিন্তু তিনি কোন উত্তরাধিকারী ন...