১৩ আগস্ট, ২০১৫

John Damascene: এক খৃষ্টান সাধুর ইসলাম অজ্ঞতা না-কি শঠতা?

জন দামেস্কানী বা সাধু জন ছিলেন একজন সিরীয় সন্যাসী এবং পাদ্রী। পুরো নাম ইউহান্না ইবনে মনসূর (Yuhanna ibn Mansur) এবং ডাকনাম জনা। তিনি জন্মগ্রহণ করেন সিরিয়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১ম মুয়াবিয়ার শাসনামলে ৬৭৫-৭৬ সনে এবং মৃত্যুবরণ করেন জেরুজালেমের নিকটবর্তী মার সাবাতে (Mar Saba), নিজ মঠে, চার্চের সম্মানিত ফাদার হিসেবে কর্মরত অবস্থায়- ৪ ডিসেম্বর, ৭৪৯ সনে।

জন দামেস্কানী
জনার ক্রিশ্চিয়ান নাম জন। তিনি মূলত: সিরিয়ায় লালিত-পালিত হন। তার পিতৃব্য মনসূর হেরাক্লিয়াসের অধীনে ঐ অঞ্চলের করনীতি নির্ধারক ছিলেন। মনসূর সম্ভবত: সিরিয় মরুভূমির তগলিব বা কাল্ব বেদুইন গোত্রভূক্ত, তবে তার অনারব বংশোদ্ভূত হবার সম্ভাবণাও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। 

দশম শতকের একজন মেলকাইট প্যার্টিয়ার্ক Eutychius উল্লেখ করেন যে, শহরের কোন এক আরব গভর্ণর নগরীটিকে মুসলিমদের নিকট সমর্পণ করেন, সম্ভবত: ঐ ব্যক্তি ছিলেন জনের পিতামহ মুনসূর বিন সার্গূম। ৭ম শতক সিইর শেষভাগে অঞ্চলটি যখন মুসলিম শাসনের অধীনে চলে আসে, তখন দামেস্কের কোর্ট ক্রিশ্চিয়ান সরকারী কর্মচারীর এক বৃহৎ অংশ বহাল রাখে, জনের পিতামহ তাদের একজন ছিলেন। আর পরবর্তীতে জনের পিতা সার্জুন (সার্গিয়াস) বা ইবনে মনসূর উমাইদ খলিফার অধীনে রাজকর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

অনেকের মতে সাধু হিসেবে মঠে যোগদানের পূর্বে জন তার পিতার মৃত্যুর পর খলিফার দরবারে কিছুকাল কাজ করেন। তবে এটা প্রশ্নবিদ্ধ একারণে যে, জন নিজে যেমন কোথাও এ সম্পর্কে কোনকিছু বলেননি তেমনি মুসলিম কোন উৎসেও এ বিষয়ে কোন তথ্য নেই। তাছাড়া মুসলিমদের সংস্পর্শে থাকার পরও তার নবী মুহম্মদ ও কোরআন সম্পর্কে হাস্যকর জ্ঞান বিষয়টির সত্যতা একেবারে উড়িয়ে দেয়। যাহোক, এটা বিশ্বাস করা হয় যে, জন মার শেবাতে পাদ্রী হিসেবে যোগদান করেন ৭৩৫ সনে। 

মার শেবা মঠ, জেরুজালেম
জনের জীবনী থেকে জানা যায় আরবী ভাষার পাশাপাশি তিনি যেন গ্রীক ভাষাতেও সমান দক্ষ হয়ে ওঠেন, এমনটাই তার পিতার আকাংখা ছিল। অন্য উৎস বলে যে, দামেস্কে জন সেক্যুলার হেলেনিক বা ক্লাসিক্যাল ক্রিশ্চিয়ান শিক্ষায় শিক্ষা লাভ করেন।

আর একটি উৎস তার শিক্ষক হিসেবে কসমাস (Cosmas) নামের একজন সাধুকে সনাক্ত করেছে, যাকে আরবগণ দাস হিসেবে সিসিলি (Sicily) থেকে নিয়ে এসেছিল এবং জনের পিতা মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাকে ক্রয় করে নেন। এই কসমসের তত্ত্বাবধানে জন সঙ্গীত, জ্যোতির্বিদ্যা, ধর্মশাস্ত্র, গণিত ও জ্যামিতি শিক্ষা লাভ করেন। 

৮ম শতকের প্রথমভাগে উমাইদ খেলাফত বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সীমানা অঞ্চলসমূহ দখল করে নেয় এবং কন্সট্যান্টিনোপল অবরোধ করে (৭১৭-৭১৮)। এসময় সবেমাত্র সম্রাট ৩য় লিও পূর্ববর্তী সম্রাটকে অপসারণ করে সিংহাসনে বসেছিলেন এবং issued his first edict against the veneration of images (icon) and their exhibition in public places.

এ সময় জন এর বিরোধিতা করে "Apologetic Treatises against those Decrying the Holy Images", নামে এক কিতাব লেখেন। এসব লেখনীতে তিনি not only attacked the Byzantine emperor, but adopted a simplified style that allowed the controversy to be followed by the common people, stirring rebellion among those of Christian faith. আর তার এসব লেখা, তার মৃত্যুর এক দশক পর, ২য় নিকাইয়ার সম্মেলনে (৭৮৭ সনে) এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা convened to settle the icon dispute.

মজার ব্যাপার হচ্ছে জনের জীবনীতে আলৌকিকতার উল্লেখ পাওয়া যায়, যা তাকে কিম্বদন্তীতে পরিণত করেছে। সম্রাট ৩য় লিও খলিফা ১ম আল-ওয়ালিদের নিকট জন দামেস্কানীর 
ইসলাম বিরুদ্ধ লেখনী ও ষড়যন্ত্রের তথ্য-প্রমান সরবরাহ করেন। তথ্যের সত্যতা যাঞ্চাই শেষে খলিফা জনের ডান হাত কেটে ফেলে তা জনসম্মুখে ঝুলিয়ে প্রদর্শণীর আদেশ দেন। এরপর জন asked for the restitution of his hand, and prayed fervently to the Theotokos before her icon: thereupon, his hand is said to have been miraculously restored. In gratitude for this miraculous healing, he attached a silver hand to the icon, which thereafter became known as the "Three-handed", or Tricheirousa.

চার্চের সম্মনিত ফাদার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ৭৪৯ সনে জন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তিনি একজন সাধু হিসেবে স্বীকৃতি পান। তাকে অনেক সময় রোমান ক্যাথলিক চার্চের শেষ ফাদার হিসেবেও সম্বোধন করা হয়। ১৯৮৩ সনে পোপ ত্রয়োদশতম লিও তাকে একজন Doctor of the Church-এর মর্যাদায় ভূষিত করেন। 

এবার আমরা মূল উপস্থাপনায় আসি। নবী মুহম্মদের আগমণের পর আরবের পৌত্তলিকতা দূরীভূত হল। তিনি বললেন, ”মিথ্যা অপসৃত এবং সত্য সমাগত।” আর তার সেই প্রচারিত সত্যের জোয়ারে তার মৃত্যুর অল্পদিনের মধ্যেই সকল মিথ্যা ভেসে গেল। ইসলাম পৌঁছে গেল সূদূর আফ্রিকা থেকে ভারতবর্ষ এবং ইউরোপের দ্বারপ্রান্তে। এই সময় আরবী ভাষাভাষী একজন শিক্ষিত খৃষ্টান পাদ্রীর মুহম্মদ এবং কোরআন সম্পর্কে অজ্ঞতা হাস্যকর, তার উপস্থাপিত তথ্য চরম ইডিয়োটিক এবং তার সিলি প্রশ্নগুলো পুরোই বালখিল্যে ভরা। তার লেখা পড়ে প্রথমেই যে কথাটি মনে আসে তা হল, তিনি কি সত্যই স্টুপিড না-কি চরম শঠতাকারীদের একজন? 

জনের শিক্ষা এবং গ্রীসীয় থিয়োলজীক জ্ঞান যা তার অন্যান্য লেখায় পাওয়া যায় তাতে আমরা তাকে স্টুপিড হিসেবে সনাক্ত করতে পারি না। সুতরাং তিনি একজন শঠ, প্রবঞ্ছনাকারী। কিন্তু কেন তিনি এই শঠতার আশ্রয় নিলেন? সম্ভবত: ঐ সময়ে ইসলামের জোয়ারে ভেসে যাওয়ার হাত থেকে খৃষ্টধর্ম এবং খৃষ্টানদেরকে রক্ষার স্বার্থেই ধর্মবেত্তা হিসেবে মূর্খ খৃষ্টসমাজের সামনে ইসলাম ধর্মের এমন পরিচয় তুলে ধরতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। যা হোক এখন আমরা তুলে ধরছি তার “ইশ্মায়েলীদের বৈধর্ম্য” শীর্ষক লেখার চুম্বক অংশ। আমার মনে হয় সেরা বিনোদন হবে পাঠকদের কাছে এটি- 


“There is also the superstition of the Ishmaelites which to this day prevails and keeps people in error, being a forerunner of the Antichrist. They are descended from Ishmael, [who] was born to Abraham of Agar, and for this reason they are called both Agarenes and Ishmaelites. They are also called Saracens, which is derived from Sarras kenoi, or destitute of Sara, because of what Agar said to the angel: ‘Sara hath sent me away destitute.’ These used to be idolaters and worshiped the morning star and Aphrodite, whom in their own language they called Akhbár, which means great. And so down to the time of Heraclius they were very great idolaters. 


From that time to the present a false prophet named Mohammed has appeared in their midst. This man, after having chanced upon the Old and New Testaments and likewise, it seems, having conversed with an Arian monk, devised his own heresy. Then, having insinuated himself into the good graces of the people by a show of seeming piety, he gave out that a certain book had been sent down to him from heaven. He had set down some ridiculous compositions in this book of his and he gave it to them as an object of veneration.

He says that there is one God, creator of all things, who has neither been begotten nor has begotten. He says that the Christ is the Word of God and His Spirit, but a creature and a servant, and that He was begotten, without seed, of Mary the sister of Moses and Aaron. For, he says, the Word and God and the Spirit entered into Mary and she brought forth Jesus, who was a prophet and servant of God. And he says that the Jews wanted to crucify Him in violation of the law, and that they seized His shadow and crucified this. But the Christ Himself was not crucified, he says, nor did He die, for God out of His love for Him took Him to Himself into heaven. 

And he says this, that when the Christ had ascended into heaven God asked Him: ‘O Jesus, didst thou say: “I am the Son of God and God”?’ And Jesus, he says, answered: ‘Be merciful to me, Lord. Thou knowest that I did not say this and that I did not scorn to be thy servant. But sinful men have written that I made this statement, and they have lied about me and have fallen into error.’ And God answered and said to Him: ‘I know that thou didst not say this word.” There are many other extraordinary and quite ridiculous things in this book which he boasts was sent down to him from God. 


But when we ask: ‘And who is there to testify that God gave him the book? And which of the prophets foretold that such a prophet would rise up?’—they are at a loss. And we remark that Moses received the Law on Mount Sinai, with God appearing in the sight of all the people in cloud, and fire, and darkness, and storm. And we say that all the Prophets from Moses on down foretold the coming of Christ and how Christ God (and incarnate Son of God) was to come and to be crucified and die and rise again, and how He was to be the judge of the living and dead. Then, when we say: ‘How is it that this prophet of yours did not come in the same way, with others bearing witness to him? And how is it that God did not in your presence present this man with the book to which you refer, even as He gave the Law to Moses, with the people looking on and the mountain smoking, so that you, too, might have certainty?’—they answer that God does as He pleases. ‘This,’ we say, ‘We know, but we are asking how the book came down to your prophet.’ Then they reply that the book came down to him while he was asleep. Then we jokingly say to them that, as long as he received the book in his sleep and did not actually sense the operation, then the popular adage applies to him (which runs: You’re spinning me dreams.) 

When we ask again: ‘How is it that when he enjoined us in this book of yours not to do anything or receive anything without witnesses, you did not ask him: “First do you show us by witnesses that you are a prophet and that you have come from God, and show us just what Scriptures there are that testify about you”’—they are ashamed and remain silent. [Then we continue:] ‘Although you may not marry a wife without witnesses, or buy, or acquire property; although you neither receive an ass nor possess a beast of burden unwitnessed; and although you do possess both wives and property and asses and so on through witnesses, yet it is only your faith and your scriptures that you hold unsubstantiated by witnesses. For he who handed this down to you has no warranty from any source, nor is there anyone known who testified about him before he came. On the contrary, he received it while he was asleep.’

Moreover, they call us Hetaeriasts, or Associators, because, they say, we introduce an associate with God by declaring Christ to the Son of God and God. We say to them in rejoinder: ‘The Prophets and the Scriptures have delivered this to us, and you, as you persistently maintain, accept the Prophets. So, if we wrongly declare Christ to be the Son of God, it is they who taught this and handed it on to us.’ But some of them say that it is by misinterpretation that we have represented the Prophets as saying such things, while others say that the Hebrews hated us and deceived us by writing in the name of the Prophets so that we might be lost. 

And again we say to them: ‘As long as you say that Christ is the Word of God and Spirit, why do you accuse us of being Hetaeriasts? For the word, and the spirit, is inseparable from that in which it naturally has existence. Therefore, if the Word of God is in God, then it is obvious that He is God. If, however, He is outside of God, then, according to you, God is without word and without spirit. Consequently, by avoiding the introduction of an associate with God you have mutilated Him. It would be far better for you to say that He has an associate than to mutilate Him, as if you were dealing with a stone or a piece of wood or some other inanimate object. Thus, you speak untruly when you call us Hetaeriasts; we retort by calling you Mutilators of God.’

They furthermore accuse us of being idolaters, because we venerate the cross, which they abominate. And we answer them: ‘How is it, then, that you rub yourselves against a stone in your Ka’ba and kiss and embrace it?’ Then some of them say that Abraham had relations with Agar upon it, but others say that he tied the camel to it, when he was going to sacrifice Isaac. And we answer them: ‘Since Scripture says that the mountain was wooded and had trees from which Abraham cut wood for the holocaust and laid it upon Isaac, and then he left the asses behind with the two young men, why talk nonsense? For in that place neither is it thick with trees nor is there passage for asses.’ And they are embarrassed, but they still assert that the stone is Abraham’s. Then we say: ‘Let it be Abraham’s, as you so foolishly say. Then, just because Abraham had relations with a woman on it or tied a camel to it, you are not ashamed to kiss it, yet you blame us for venerating the cross of Christ by which the power of the demons and the deceit of the Devil was destroyed.’ This stone that they talk about is a head of that Aphrodite whom they used to worship and whom they called akhbár. Even to the present day, traces of the carving are visible on it to careful observers.

As has been related, this Mohammed wrote many ridiculous books, to each one of which he set a title. For example, there is the book On Woman, in which he plainly makes legal provision for taking four wives and, if it be possible, a thousand concubines—as many as one can maintain, besides the four wives. 

He also made it legal to put away whichever wife one might wish, and, should one so wish, to take to oneself another in the same way. Mohammed had a friend named Zeid. This man had a beautiful wife with whom Mohammed fell in love. Once, when they were sitting together, Mohammed said: ‘Oh, by the way, God has commanded me to take your wife.’ The other answered: ‘You are an apostle. Do as God has told you and take my wife.’ Rather—to tell the story over from the beginning—he said to him: ‘God has given me the command that you put away your wife.’ And he put her away. Then several days later: ‘Now,’ he said, ‘God has commanded me to take her.’ Then, after he had taken her and committed adultery with her, he made this law: ‘Let him who will put away his wife. And if, after having put her away, he should return to her, let another marry her. For it is not lawful to take her unless she have been married by another. 

Furthermore, if a brother puts away his wife, let his brother marry her, should he so wish.’ In the same book he gives such precepts as this: ‘Work the land which God hath given thee and beautify it. And do this, and do it in such a manner” —not to repeat all the obscene things that he did.

Then there is the book of The Camel of God. About this camel he says that there was a camel from God and that she drank the whole river and could not pass through two mountains, because there was not room enough. There were people in that place, he says, and they used to drink the water on one day, while the camel would drink it on the next. Moreover, by drinking the water she furnished them with nourishment, because she supplied them with milk instead of water. Then, because these men were evil, they rose up, he says, and killed the camel. However, she had an offspring, a little camel, which, he says, when the mother had been done away with, called upon God and God took it to Himself. Then we say to them: ‘Where did that camel come from?’ And they say that it was from God. Then we say: ‘Was there another camel coupled with this one?’ And they say: ‘No.’ ‘Then how,’ we say, ‘was it begotten? For we see that your camel is without father and without mother and without genealogy, and that the one that begot it suffered evil. Neither is it evident who bred her. And also, this little camel was taken up. So why did not your prophet, with whom, according to what you say, God spoke, find out about the camel—where it grazed, and who got milk by milking it? Or did she possibly, like her mother, meet with evil people and get destroyed? Or did she enter into paradise before you, so that you might have the river of milk that you so foolishly talk about? For you say that you have three rivers flowing in paradise—one of water, one of wine, and one of milk. If your forerunner the camel is outside of paradise, it is obvious that she has dried up from hunger and thirst, or that others have the benefit of her milk—and so your prophet is boasting idly of having conversed with God, because God did not reveal to him the mystery of the camel. But if she is in paradise, she is drinking water still, and you for lack of water will dry up in the midst of the paradise of delight. And if, there being no water, because the camel will have drunk it all up, you thirst for wine from the river of wine that is flowing by, you will become intoxicated from drinking pure wine and collapse under the influence of the strong drink and fall asleep. Then, suffering from a heavy head after sleeping and being sick from the wine, you will miss the pleasures of paradise. How, then, did it not enter into the mind of your prophet that this might happen to you in the paradise of delight? He never had any idea of what the camel is leading to now, yet you did not even ask him, when he held forth to you with his dreams on the subject of the three rivers. We plainly assure you that this wonderful camel of yours has preceded you into the souls of asses, where you, too, like beasts are destined to go. And there is the exterior darkness and everlasting punishment, roaring fire, sleepless worms, and hellish demons.’

Again, in the book of The Table, Mohammed says that the Christ asked God for a table and that it was given Him. For God, he says, said to Him: ‘I have given to thee and thine an incorruptible table.’ 

And again, in the book of The Heifer, he says some other stupid and ridiculous things, which, because of their great number, I think must be passed over. He made it a law that they be circumcised and the women, too, and he ordered them not to keep the Sabbath and not to be baptized.

And, while he ordered them to eat some of the things forbidden by the Law, he ordered them to abstain from others. He furthermore absolutely forbade the drinking of wine.”

Conclusion: However, today, in 20th century there are Christian Scholars who have taken alternate approaches. The Roman Catholic Church's viewpoint, as stated in the 1910 Catholic Encyclopedia, holds that "contradictory opinions have been expressed by scholars in the last three centuries" about Muhammad's "moral character and sincerity" since "many of these opinions are biased... by an extreme hatred of Islam".[1]

সমাপ্ত।

উৎস:
  • Suzanne Conklin Akbari, Idols in the East: European representations of Islam and the Orient,
  • Daniel J. Sahas 1972 - John of Damascus on Islam,
  • David Richard Thomas, Syrian Christians under Islam: the first thousand years,
  • Christopher Rengers The 33 Doctors Of The Church,
  • Griffith, Sidney H. "John of Damascus and the Church in Syria in the Umayyad Era,
  • Robert Hoyland, Seeing Islam as Others Saw It,
  • O'Connor, John Bonaventure. "St. John Damascene"
  • Andrew Louth, St. John Damascene: tradition and originality in Byzantine theology,
  • Roggema, Barbara. “Muslims as Crypto-Idolaters—A Theme in the Christian Portrayal of Islam in the Near East.”
  • Reinink, G.J. “Early Christian reactions to the building of the Dome of the Rock in Jerusalem.” 
  • Meyendorff, J. "Byzantine Views of Islam." 
  • Alexander, Paul J. “The Strength of the Empire and Capital as Seen Through Byzantine Eyes.” 
  • Beaumont, Mark Ivor. “Early Christian Interpretation of the Qur’an.” 
  • Berkhof, Louis. The History of Christian Doctrines. 
  • Brock, S.P. “Syriac Views of Emergent Islam.” 
  • Chase, Frederic H, trans. Saint John of Damascus: Writings.
  • Deane, Herbert A. The Political and Social Ideas of St. Augustine.
  • Dvornik, Francis. Early Christian and Byzantine Political Philosophy: Origins and Background.
  • Eusebius, Church History,
  • Griffith, Sidney. “‘Melkites’, ‘Jacobites’ and the Christological Controversies in Arabic in Third/Ninth Century Syria.”
  • Grypeou, Emmanouela, Mark Swanson, and David Thomas, eds. The Encounter of Eastern Christianity with Early Islam.
  • Hawting, G.R. The First Dynasty of Islam: The Ummayad Caliphate (661-750),
  • Holt, P.M., Ann K.S. Lambton and Bernard Lewis, eds. The Cambridge History of Islam,
  • Kennedy, Hugh. The Prophet and the Age of the Caliphates.
  • Lapidus, I.M. “The Arab Conquests and the Formation of Islamic Society.”
  • Louth, Andrew. St. John Damascene: Tradition and Originality in Byzantine Theology.
  • Mango, Cyril, ed. The Oxford History of Byzantium. 
  • Moorehead, J. “The Monophysite Response to the Arab Invasions.” 

২৯ জুলাই, ২০১৫

Mawlid: নবী মুহম্মদের জন্মদিন কোনটি?



অারব উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত হেজাজ অঞ্চলের মক্কা নগরীতে নবী মুহম্মদ জন্মগ্রহণ করেন। তার সঠিক জন্ম তারিখটি জানা যায় না। এর কারণ এই যে, ঐ সময় আরবদের মাঝে কোন সুনির্দিষ্ট বর্ষপঞ্জি প্রচলিত ছিল না। ফলে ঐতিহসিক ও জ্যোতির্বিদদের যারা এ বিষয়ের উপর কাজ করেছেন, তারা মতামত হিসেবে নবীজীর জন্মের অনেকগুলো সম্ভাব্য তারিখ দিয়েছেন। আর এই মতের ভিন্নতার কারণেই, বিশ্বকোষ ব্রিটেনিকা একটা সন্দেহজনক তারিখ দিয়ে, জন্মসনের স্থানে একটি প্রশ্নবোধক টিহ্ন এঁকে রেখে দিয়েছে। এতে এটা পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে, বিশ্বজগৎ নিশ্চিত নয়, কোন তারিখে নবী মুহম্মদ, যিনি সর্বশেষ নবী হিসেবে পরিচিত, ধরায় আগমন করেছিলেন।

সাধারণভাবে ধরা হয় নবীজীর জন্মদিন বা মওলিদ হস্তী বৎসরের (অর্থাৎ যে বৎসর আবিসিনীয় সম্রাট আবরাহা কা’বা আক্রমণ করেছিলেন তার হস্তী বাহিনী নিয়ে।) ১২ই রবিউল আওয়াল, যদিও বৎসর এবং তারিখ দু’টোর ক্ষেত্রেই মতের ভিন্নতা রয়েছে। তবে অধিকাংশ মুসলিম এটা জানে না যে, সঠিক তারিখটির ব্যাপারে বিতর্ক সবসময়ই ছিল এবং ১২ই রবিউল আওয়াল কোন সর্বজন স্বীকৃত তারিখ নয়। আর সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় পাওয়া ফলাফল হস্তী বৎসরের ব্যাপারে যে তথ্য দিয়েছে তা সাধারণভাবে আমাদের জানা তথ্যকে বিতর্কিত করেছে এবং ঐ ভিন্ন মতটিকেই প্রকারন্তে আরও ওজনদার করেছে। গবেষণায় দেখা যায়, হস্তী বৎসরটি নবীজীর জন্মের প্রায় ১৭-১৮ বৎসর পূর্বের। আর হেকলও এ বিষয়ে এমনিতর ভিন্ন মতামত উল্লেখ করেছেন সিরা পা্ঠ্যতে যে, ঐ ঘটনা ছিল নবীজীর জন্মের ১৫ বৎসর পূর্বের বা এমনকি তার জন্মের ৩০-৭০ বৎসর পূর্বেরও হতে পারে।

‘সহীহ সিত্তা’ বলে খ্যাত হাদিসের ৬টি গ্রন্থের কোনটিতে এমন কোন হাদিস নেই যেটি সুনির্দিষ্ট করবে নবীজীর জন্ম তারিখটি। বরং তাতে এ সংক্রান্ত একমাত্র যে হাদিসটি রয়েছে তা কেবল নির্দিষ্ট করেছে দিনটি, তারিখটি নয়-

আবু কাতাদা বর্ণনা করেন যে, এক বেদুইন নবীজীর কাছে সোমবার দিন বোজা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তাতে নবীজী উত্তর করেছিলেন- “ঐটি সেইদিন যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছিলাম এবং সেইদিন যেদিন কোরআনের অবতরণ শুরু হয়েছিল।” -সহীহ মুসলিম।

আর দিনের যে সময়টাতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন তা আমরা জানতে পারি-সিদি আল-গাউস আবদ আল-আজিজ আল-ধাব্বাগ, আল-ইবরিজ এর বর্ণনা থেকে। তিনি উল্লেখ করেছেন-“তিনি (নবীজী) জন্মগ্রহণ করেন, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে, আর সর্বশক্তিমান আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।”

সুতরাং নবীজী সোমবার জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু কোন মাসের কোন সোমবার? আর বৎসরই বা কোনটি? এটা জানতে আমাদেরকে অন্য উৎসের দিকে নজর দিতে হবে। তথাপি মান সম্পন্ন উৎস হিসেবে হাদিসের যে কিতাবগুলো রয়েছে তাতে কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই। হ্যাঁ, একটা বর্ণনা পাওয়া যায় যার সত্যতা অবশ্য বিতর্কিত, তা হল- সূয়াদ বিন ঘাপলা বর্ণনা করেন- “নবীজী এবং আমি একই বৎসরে, হস্তী বৎসরে জন্মগ্রহণ করি।” সুনান আল-বায়হাকি, ভলিয়্যূম-১, পৃষ্টা-৭৯। আরও কিছু সূত্রও অবশ্য নির্দেশণা দেয় যে, তিনি ঐ বৎসর জন্মগ্রহণ করেন। সুতরাং, হাদিসের মূল ও বর্ধিত কিতাব থেকে আমরা এ পর্যন্ত দু’টো তথ্য কুড়িয়ে পেলাম-
এক. তিনি সোমবার জন্মগ্রহণ করেন,
দুই. তিনি হস্তী বৎসরে জন্মগ্রহণ করেন।

আবার, ইতিহাসের কিতাবগুলোতে দৃষ্টি দিলে আমরা নবীজীর অনেকগুলো জন্ম তারিখ দেখতে পাই। ইবনে ইসহাক (মৃত্যু-১৫০ হিজরী)- গোড়ারদিককার নবীজীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জীবনীকারদের অন্যতম। তিনি হাদিস বা অপর গ্রহণযোগ্য কোন সূত্র ছাড়াই উল্লেখ করেছেন যে, নবীজী হস্তী বৎসরের ১২ই রবিউল আওয়াল, সোমবার জন্মগ্রহণ করেন। ইবনে ইসহাক ও নবীজীর জন্মকালের মধ্যে প্রায় ২০০ বৎসরের ব্যবধান রয়েছে, সুতরাং এই দিনটি স্বীকার করে নিতে হলে আমাদের আরও কিছু প্রমাণ অবশ্যই দরকার।

প্রথমদিককার গুরুত্বপূর্ণ আরেকজন ঐতিহাসিক ইবনে সা’দ (মৃত্যু-২৩০ হিজরী) তার তাবাকাতে নবীজীর জন্ম তারিখ সম্পর্কে কয়েকজন প্রাথমিক বর্ণনাকারীর অভিমত তুলে ধরেছেন। ক্রম অনুসারে সেগুলি হল-

১. হস্তী বৎসরের ২রা রবিউল আওয়াল, সোমবার।
২. হস্তী বৎসরের ১০ই রবিউল আওয়াল, সোমবার।
৩. সোমবার, কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ নেই।
৪. হস্তী বৎসরে, কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ নেই।

এখানে মজার ব্যাপার লক্ষ্যণীয় এই যে, ইসলামের গোড়ার দিকের এই প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে সা’দ সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১২ই রবিউল আওয়ালকে তার তালিকায় স্থানই দেননি। অবশ্য শেষ দু’টি অপশনও সঠিক এবং কোন সুনির্দিষ্ট তারিখের সাথে তা বিরোধপূর্ণও নয়। কিন্তু প্রথমদিককার তথ্য দাতারা যারা এতটুকু তথ্য দিয়েছেন, তাদের এসব উদ্ধৃতি উল্লেখ থেকে এটা সহজেই অনুমান করা যায় যে, তাদের কারো নবীজীর সঠিক জন্মতারিখ জানা ছিল না, আর তাই তারা কেবল ততটুকু তথ্যই দিয়েছেন যতটুকু তারা জানেন।

মধ্যযুগের সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ইবনে কাছিরও (মৃত্যু-৭৭৪ হিজরী) নবীজীর জন্মতারিখ সম্পর্কে তার স্মারকগ্রন্থ আল-বিদায়া ওয়াল নিহায়াতে অনেকগুলো অভিমত নথিবদ্ধ করেছেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, বেশিরভাগ পন্ডিতই বিশ্বাস করেন নবীজী রবিউল আওয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু সুনির্দিষ্ট তারিখের ব্যাপারে তারা ভিন্ন মত পোষণ করেন। ঐসব অভিমতগুলোর কিছু হল-

ক). ২রা রবিউল আওয়াল: এ অভিমত হল গোড়ার দিকের সিরা পন্ডিতগণের অন্যতম আবু মা’সার আল-সিন্ধীর (মৃত্যু-১৭১ হিজরী) এবং বিখ্যাত মালিকি জুরিষ্ট ও পন্ডিত, ইবনে আবদ আল-বারের (মৃত্যু-৪৬৩হিজরী)। সম্ভাব্য অপশন হিসেবে এ্ই তারিখ আরও লিপিবদ্ধ হয়েছে আল-ওয়াকিদি (মৃত্যু-২০৭ হিজরী) কর্তৃক, হাদিস বর্ণনাকারী হিসেবে তার দূর্বলতা স্বত্ত্বেও তিনি ইসলামের প্রথমদিককার স্বনামধণ্য ঐতিহাসিকদের একজন হিসেবে স্বীকৃত।

খ). ৮ই রবিউল আওয়াল: এই অভিমতটি আন্দালুসিয়ান পন্ডিত ইবনে হাজম (মৃত্যু-১২৮ হিজরী) এবং গোড়ার দিককার আরো কিছু পন্ডিতদের। ঈমাম মালিক (মৃত্যু-১৭৯ হিজরী) এই মতটির কথা উল্লেখ করেছেন আল-জুহুরী (মৃত্যু-১২৮ হিজরী) ও মুহম্মদ বিন জুবায়েরের মতামত হিসেবে। অন্যদের মধ্যে ইবনে আবদ আল-বার ১ম মতটির পক্ষে রায় দিলেও স্বীকার করেছেন যে, এই মতটি অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের অভিমত। নবীজীর জীবনীর উপর প্রথম প্রবন্ধ লেখকদের একজন ইবনে ধাইয়াও (মৃত্যু-৬১০ হিজরী) এই তারিখটিকে সবচেয়ে জোরালো মত হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

গ). ১০ই রবিউল আওয়াল: নবীজীর বংশধর এবং শিয়া ঈমামগণের একজন, আবু জাফর আল-বাকিরের (মৃত্যু-১১৪ হিজরী) অভিমত হিসেবে ইবনে আসাকির (মৃত্যু-৫৭১ হিজরী) এটি বর্ণনা করেছেন। আর এটা বিখ্যাত স্কলার এবং সাহাবীগণের ছাত্র, আল-শাবি (মৃত্যু-১০০ হিজরী)-এরও অভিমত এবং আল ওয়াকিদির (মৃত্যু-২০৭ হিজরী) নিজেরও।

ঘ). ১২ই রবিউল আওয়াল: এই অভিমতটি ইবনে ইসহাকের (মৃত্যু-১৫০ হিজরী), যিনি কোন সূত্র ছাড়াই এটি উল্লেখ করেছেন। অন্য উৎসে এটি উল্লেখ করা হয়েছে জাবির ও ইবনে আব্বাসের অভিমত হিসেবে, কিন্তু এ্ই বিষয়ের উপর তাদেরকে নিয়ে কোন ইসনাদ প্রাইমারী সোর্স বুকে পাওয়া যায়নি।

ঙ). ১৭ই রবিউল আওয়াল: এই তারিখটি কিছু শিয়া পন্ডিতদের অভিমত এবং অধিকাংশ সুন্নী পন্ডিত এটি বাতিল করে দিয়েছেন কোনরূপ যুক্তিগ্রাহ্য যুক্তি প্রদান ব্যতিরেকেই।

চ). ২২শে রবিউল আওয়াল: এই অভিমতটি ইবনে হাজমের (মৃত্যু-১২৮ হিজরী) নামে আরোপিত।
ছ). হস্তী বৎসরের ১২ই রমযান: প্রথমদিককার পন্ডিতগণের এমনই অভিমত ছিল বলে ইবনে আসাকির এটি বর্ণনা করেছেন।

জ). হস্তী বৎসরের রমযান মাসে: এই অভিমতটি প্রথমদিককার সুপরিচিত ঐতিহাসিক আল জুবায়ের বিন আল-বক্করের (মৃত্যু-২৫৬ হিজরী) অভিমত, যিনি সর্বপ্রথম এবং বহুল স্বীকৃত মক্কার ইতিহাস রচনা করেন। আর প্রাথমিক কিছু পন্ডিতও তার সাথে এ ব্যাপারে সহমত পোষণ করেছেন।

এই হচ্ছে নবীজীর জন্ম তারিখের ব্যাপারে সবচেয়ে জোরালো মতামতগুলির অন্যতম। তথাপি কোনভাবেই এ্ই তালিকাকেও সুসম্পন্ন বলে অভিমত দেয়া যাচ্ছে না একারণে যে, আধুনিক কালের একজন গবেষণাকারী এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, সঠিক তারিখটির ব্যাপারে সাঁরির প্রথমে থাকবে ৯ই রবিউল আওয়াল। আর আমাদের মত অল্প বিদ্যার লোক এটি খুব সহজভাবেই গণনা করবে এভাবে-

আমরা জানি, একটি চান্দ্র মাস প্রায় ২৯.৫দিন, সুতরাং চান্দ্র বৎসর =২৯.৫x১২=৩৫৪ দিনে যা প্রচলিত গ্রেগোরিয়ান বৎসরের চেয়ে (৩৬৫-৩৫৪)=১১দিন কম।
অাবার, ২০১৫ গ্রেগোরিয়ান বৎসর=১,৪৩৬ হিজরী সন।
আর, আমরা জানি, নবীজী ৫৩-৫৪ বৎসর বয়সের সময় হিজরত করেন।
সুতরাং নবীজীর জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত মোট চান্দ্র বৎসর= হিজরী বৎসর+৫৪ (সনের নীচের সীমা পেতে ৫৪ বৎসর ধরা হল)= ১,৪৩৬+৫৪ = ১,৪৯০ বৎসর।
এই ১৪৯০ চান্দ্র বৎসর, সমান গ্রেগোরিয়ান বৎসরের থেকে মোট ১,৪৯০x১১ বা, ১৬,৩৯০ দিন বা, ১৬,৩৯০/৩৫৪ = ৪৬.৩ অর্থাৎ প্রায় ৪৬ বৎসর কম।

সুতরাং ১,৪৯০ চান্দ্র বৎসরের সমতুল্য গ্রেগোরিয়ান বৎসর = ১,৪৯০-৪৬ = ১,৪৪৪ বৎসর।
অতএব, নবীজীর জন্ম বৎসর = ২,০১৫-১,৪৪৪ = ৫৭১ সিই। আর যদি আমরা ধরি যে, নবীজী ৫৩ বৎসর বয়সে হিজরত করেছিলেন, তবে এটি হবে ৫৭২ সিই।

অন্যদিকে নবীজীর জন্মদিন সোমবার হস্তী বৎসরের রবিউল আওয়াল মাসে এবং যেহেতু ৮ ও ১০ তারিখ সর্বাধিক সমর্থিত বলে আমরা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, তাই ক্যালেন্ডার থেকে সহজেই আমরা পিছনের দিকে গণনা করে দেখতে পাই সোমবারটি পড়ে ঐ মাসের ৯ তারিখে।

অর্থাৎ ৫৭১ সিই্= হিজরী পূর্ব ৫৪ সোমবার ৯ই রবিউল আওয়াল এবং সংশ্লিষ্ট গ্রেগোরিয়ান তারিখ ২০শে এপ্রিল ৫৭১ সিই। আর এই তারিখ প্রথম সুপারিশ করেন মিশরীয় এ্যাস্ট্রোনোমার মুহম্মদ পাশা আল-ফালাকি (১৩০২/১৮৮৫)।তবে গণনার এসব রীতিতে যে সমস্যা রয়েছে তা এই যে, গ্রেগোরিয়ান ও হিজরীর মধ্যে রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট কোন পদ্ধতি নেই, ফলে যে কনভার্সান এসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে তা পুরোপুরি নির্ভুল নয়।

আরেকটি ভিন্ন গণনা দেখিয়েছে যে, নবীজীর জন্মদিন, সোমবার, ১৭ই জুন, (১২ই রবিউল আওয়াল) ৫৬৯ সিই এবং এটি অামাদের সময়ের বিখ্যাত মুসলিম স্কলার মুহম্মদ হামিদুল্লাহ (২০০২) কর্তৃক সুপারিশকৃত।.

যাহোক, আরও যেসব ভিন্ন মতামত রয়েছে তার উল্লেখ আমরা পাই মুহম্মদ হুসেন হেকলের বর্ণনায়। তার রচিত নবীজীর জীবনীতে নবীজীর জন্ম মাস রবিউল আওয়াল ও রমযান ছাড়াও মুহররম, সফর বা রজবও হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া তিনি ফরাশী ওরিয়েন্টালিষ্ট এর উদ্ধৃতি দিয়ে আরও উল্লেখ করেছেন যে, সবচেয়ে সম্ভাব্য সময় আগস্ট ৫৭০ সিই, যা রজবের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। আর আর্টিকেলের শুরুতেই আমরা বলেছি যে, হেকল তার সিরাতে হস্তী বৎসরটি নবীজীর জন্মের ১৫ বৎসর পূর্বের বা এমনকি তার জন্মের ৩০-৭০ বৎসর পূর্বেরও হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন, যা সম্প্রতিক ভূ-তাত্ত্বিক গবেষণার ফলাফলের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

যাহোক, উপরে উপস্থাপিত সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণে আমরা দেখতে পাচ্ছি, নবীজীর সুনির্দিষ্ট জন্ম তারিখের ব্যাপারে অনেকগুলো অভিমত রয়েছে যার কিছু মাসের ব্যাপারে ভিন্ন এবং অবশিষ্টগুলো এমনকি বৎসরের ব্যাপারেও। তবে ঐতিহাসিক এবং স্কলারগণের এক বড় অংশ এ বিষয়ে একমত যে, নবীজী হস্তী বৎসরের যা ৫৭০ (বা ৫৭১) সিই’র সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রবিউল আওয়াল মাসের কোন এক সোমবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর এই তথ্যকে আমলে নিলে আমরা আরো দেখতে পাই যে, রবিউল আওয়াল মাসে রয়েছে অর্ধ ডজনের কাছাকাছি অভিমত। সত্যি বলতে কি, এসব তারিখগুলোর মধ্যে দু’টি তারিখ-৮ই এবং ১০ই ছিল ইসলামের প্রথম পাঁচ শতাব্দী পর্যন্ত জনপ্রিয় অভিমত। আর এ দু’য়ের মধ্যে বিশেষত: পরের মতামতটিই মূল্যায়িত হত বেশী।

তাহলে এখন এই প্রশ্ন দাঁড়ায়, ১২ই রবিউল আওয়ালকে অধিকাংশ লোক নবীজীর জন্মদিন হিসেবে উৎযাপন করে যাচ্ছে কেন? তবে কি অধিকাংশ লোক মতের এত ভিন্নতা সম্পর্কে অবগত নয়?

এর উত্তরে বলা যায়, প্রকৃত তারিখটি কোন সাহাবা বা নবীজীর স্ত্রীদের কারও জানা ছিল না এবং “১২ই রবিউল আওয়াল” অন্য দিনগুলোর মতই একটি, তবে ইবনে কাছির কিন্তু একথাটি উল্লেখ করেছেন- “…আর এটাই এ বিষয়ে সবচেয়ে কমন মতামত, তবে আল্লাই এ বিষয়ে ভাল বলতে পারবেন।” যদিও এই অভিমত ইসলামের প্রথম কয়েক প্রজন্মের স্কলারদের কারও নামে আরোপিত হয়নি। এদিকে ইবনে রজব আল-হাম্বলিও তার লাতি’ফ আল-মা’রিফ (পৃষ্ঠা ১৮৫) গ্রন্থে লিখেছেন- “অধিকাংশ লোকের অভিমত যে, তিনি (নবীজী) সপ্তাহের ২য়দিন (সোমবার) ১২ই রবিউল আওয়াল জন্মগ্রহণ করেন.... হস্তী বৎসরে।” আর ইতিমধ্যেই আমরা বলেছি, ইবনে ইসহাকও এই তারিখটির কথা উল্লেখ করেছেন (কোন সূত্র ছাড়াই)। তবে নিম্নে বর্ণিত ফ্যাক্টর দু’টোও এসবের সাথে কাজ করে থাকতে পারে বলে আমাদের ধারণা-

প্রথমত: ইবনে ইসহাকের নিজস্ব জনপ্রিয়তা। তার সিরা গ্রন্থ নবীজীর জীবনালেখ্য সম্পর্কিত তথ্যের প্রাথমিক উৎস। আর তাই তার গ্রন্থটি অন্য অভিমতগুলোকে উপেক্ষা করে একটি স্টান্ডার্ড রেফারেন্স হিসেবে পরবর্তীতে অনেক স্কলারই তাদের লেখায় ব্যাবহার করেছেন সিম্পলি কপি-পেস্ট করে যা তারিখ নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

দ্বিতীয়ত: প্রথমবারের মত একদল লোক যখন নবীজীর জন্মদিন হিসাবে দিনটি উৎযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে, তখন সম্ভবত: তারা অতটা বিচার বিশ্লেষণ না করেই ১২ তারিখটি বেঁছে নিয়েছিল। তারপর যখন মিলাদ-উন-নবী উৎযাপন বিস্তার লাভ করল, এই দিনটিও একই সাথে অধিকাংশের স্বীকৃতি লাভ করেছিল। আর এ ধারণা এটাও ব্যাখ্যা করে যে, কেন অাবদ আল-বার হিজরী ৫ম শতাব্দীতে মওলিদ (মিলাদ-উন-নবী) উৎযাপনের ধারণা গড়ে ওঠার পূর্বে উল্লেখ করেন যে, ঐতিহাসিকদের মধ্যে অধিকাংশের অভিমত ৮ই রবিউল আওয়াল এবং কেন ইবনে কাছির আরও তিন’শ বৎসর পর যখন মিলাদ-উন-নবী সর্বসাধারণের উৎসব হিসেবে পরিচিত হয়ে গিয়েছিল, উল্লেখ করেন যে, ১২ই রবিউল আওয়াল অধিকাংশের অভিমত।

এ পর্যন্ত উপস্থাপিত তথ্যের সার সংক্ষেপ হল- নবীজীর জন্মের সঠিক তারিখটি ক্লাসিক্যাল স্কলারদের মধ্যে সর্বদাই বিতর্কের বিষয় ছিল। সহিহ হাদিসের কিতাবগুলোতে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি,আর এ থেকে প্রমানিত হয় তারা একে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেননি যেমনটা পরবর্তীরা করেছেন।

অধিকাংশ শিয়া স্কলার ১৭ই রবিউল আওয়াল এবং অধিকাংশ সুন্নী স্কলার ১২ই রবিউল আওয়াল নবীজীর জন্মতারিখ বলে বিশ্বাস করেন। আর এ কারণেই উভয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান জানাতে ১২-১৭ রবিউল আওয়ালকে ঐক্য সপ্তাহ হিসেবে নির্ধারণ করেছে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান।

সমাপ্ত।
সংশোধিত নয়।

উৎস:
সহিহ বুখারী,
সহিহ মুসলিম,
সুনান বায়হাকি,
মালিক বিন আনাস, আল-মুয়াত্তা,
ইবনে ইসহাক, সিরাত রসূল আল্লাহ,
ইবনে সা’দ আল-তাবাকাত আল-কবির,
ইবনে কাছির, আল-বিদায়া ওয়াল নিহায়া,
ইবনে আসাকির, তারিখ মদিনাত দামাস্ক,
মওলিদ না মওলুদ- ইসলামিক এনসাইক্লোপিডিয়া,
আল ওয়াকিদি, কিতাব আল তারিখ ওয়াল মাঘাজি,
ইবনে রজব আল হাম্বলি, আল-লাতিফ আল-মারিফ,
ইবনে হাজম, আল-ইহকাম ফি উসূল আল-আহকাম,
ইবনে হজর আল-অাসকালানি, ফতেহ আল-বারী ফি সারহ সহিহ আল-বুখারী,
আল-জুরায়ের আল-বক্কর, আল-মুনতাখব মিন কিতাব আযওয়াজ আল-নবী,
Dr. Yasir Qadhi, The Birth-date of the Prophet and the history of the Mawlid, muslimmatters.org/2009/03/13/
Vaiz Zade Khorasani, Muhammad (1996). "Muhammad brithday, Unity Week and 9th International Islamic Unity Conferance" . Mishkat (51): 4–43.

১৮ জুলাই, ২০১৫

Christopher: The Patron Saint of Travelers.

প্রথমদিকে ক্রিস্টোফারকে রিপ্রোবাস (Reprobus) নামে ডাকা হত। তিনি ছিলেন সাড়ে সাত ফুট উচ্চতার একজন কনানাইট (Canaanite) with a fearsome face. While serving the king of Canaan, he took it into his head to go and serve "the greatest king there was". 

He went to the king who was reputed to be the greatest, but one day he saw the king cross himself at the mention of the devil. On thus learning that the king feared the devil, he departed to look for the devil. He came across a band of marauders, one of whom declared himself to be the devil, so 
Reprobus decided to serve him. But when he saw his new master avoid a wayside cross and found out that the devil feared Christ, he left him and enquired from people where to find Christ. 

He met a hermit who instructed him in the Christian faith. 
Reprobus asked him how he could serve Christ. When the hermit suggested fasting and prayer, Reprobus replied that he was unable to perform that service. The hermit then suggested that because of his size and strength Reprobus could serve Christ by assisting people to cross a dangerous river, where they were perishing in the attempt. The hermit promised that this service would be pleasing to Christ.

ক্রিস্টোফার-১
After Reprobus had performed this service for some time, a little child asked him to take him across the river. During the crossing, the river became swollen and the child seemed as heavy as lead, so much that Reprobus could scarcely carry him and found himself in great difficulty. When he finally reached the other side, he said to the child: "You have put me in the greatest danger. I do not think the whole world could have been as heavy on my shoulders as you were." 

ছেলেটি বলল, “ও, 
রিপ্রোবাস! যে ভার আমি বয়ে চলেছি এতদিন তাইতো তোমার কাঁধে তুলে দিলাম আজ। আজ থেকে তোমার নাম হল ক্রিস্টোফার- খৃষ্টবাহন।”
রিপ্রোবাস অবাক হয়ে বলল, “কে তুমি?”
সে বলল, “আমিই খৃষ্ট, আজ থেকে যার সেবায় নিয়োজিত হলে তুমি।” ছেলেটি অদৃশ্য হয়ে গেল।

এরপর কি হল, তা জানার আগে আমরা দেখে নেই ক্রিস্টোফারকে নিয়ে সুকুমার রায় রচিত এই কিংবদন্তিটি-

“তার নাম অফেরো। অমন পাহাড়ের মত শরীর, অমন সিংহের মত বল, অমন আগুনের মত তেজ, সে ছাড়া আর কারও ছিল না। বুকে তার যেমন সাহস, মুখে তার তেমনি মিষ্টি কথা। কিন্তু যখন তার বয়স অল্প, তখনই সে তার সঙ্গীদের ছেড়ে গেল; যাবার সময় বলে গেল, "যদি রাজার মত রাজা পাই, তবে তার গোলাম হয়ে থাকব। আমার মনের মধ্যে কে যেন বলে দিচ্ছে, তুমি আর কারও চাকরি করো না; যে রাজা সবার বড়, সংসারে যার ভয় নেই, তারই তুমি খোঁজ কর।" এই বলে অফেরো কোথায় জানি বেরিয়ে গেল।

পৃথিবীতে কত রাজা, তাদের কত জনের কত ভয়। প্রজার ভয়, শত্রুর ভয়, যুদ্ধের ভয়, বিদ্রোহের ভয়— ভয়ে কেউ আর নিশ্চিন্ত নেই। এরকম হাজার দেশ ছেড়ে ছেড়ে অফেরো এক রাজ্যে এল, সেখানে রাজার ভয়ে সবাই খাড়া! চোরে চুরি করতে সাহস পায় না, কেউ অন্যায় করলে ভয়ে কাঁপে। অস্ত্রেশস্ত্রে সৈন্যসামন্তে রাজার প্রতাপ দশদিক দাপিয়ে আছে। সবাই বলে, "রাজার মত রাজা।" তাই শুনে অফেরো তাঁর চাকর হয়ে রইল।

তারপর কতদিন গেল— এখন অফেরো না হ'লে রাজার আর চলে না— উঠতে বসতে তার ডাক পড়ে। রাজা যখন সভায় বসেন অফেরো তার পাশে খাড়া। রাজার মুখের প্রত্যেকটি কথা সে আগ্রহ করে শোনে! রাজার চালচলন ধরনধারণ ভাবভঙ্গি— সব তার আশ্চর্য লাগে। আর রাজা যখন শাসন করেন, চড়া গলায় হুকুম দেন, অফেরো তখন আবাক হয়ে ভাবে, "যদি রাজার মত রাজা কেউ থাকে, তবে সে এই!"

তারপর একদিন রাজার সভায় কথায় কথায় কে যেন শয়তানের নাম করেছে। শুনে রাজা গম্ভীর হয়ে গেলেন। অফেরো চেয়ে দেখলে রাজার চোখে হাসি নেই, মুখখানি তার ভাবনা ভরা। অফেরো তখন জোড় হাতে দাঁড়িয়ে বলল, "মহারাজের ভাবনা কিসের? কি আছে তার ভয়ের কথা?" রাজা হেসে বললেন, "এক আছে শয়তান আর আছে মৃত্যু— এ ছাড়া আর কাকে ডরাই?" অফেরো বলল, "হায় হায়, আমি এ কার চাকরি করতে এলাম? এ যে শয়তানের কাছে খাটো হয়ে গেল। তবে যাই শয়তানের রাজ্যে; দেখি সে কেমন রাজা!" এই বলে সে শয়তানের খোঁজে বেরুল।

পথে কত লোক আসে যায়— শয়তানের খবর জিজ্ঞাসা করলে তারা বুকে হাত দেয় আর দেবতার নাম করে, আর সবাই বলে, "তার কথা ভাই বলো না, সে যে কোথায় আছে, কোথায় নেই কেউ কি তা বলতে পারে?" এমনি করে খুঁজে খুঁজে কতগুলো নিষ্কর্মা কুঁড়ের দলে শয়তানকে পাওয়া গেল। অফেরোকে পেয়ে শয়তানের ফূর্তি দেখে কে! এমন চেলা সে আর কখনও পায়নি। শয়তান বলল, "এস এস, আমি তোমায় তামাসা দেখাই। দেখবে আমার শক্তি কত?" শয়তান তাকে ধনীর প্রাসাদে নিয়ে গেল, সেখানে টাকার নেশায় মত্ত হয়ে, লোকে শয়তানের কথায় ওঠে বসে; গরীবের ভাঙা কুঁড়ের ভিতরে গেল, সেখানে এক মুঠো খাবার লোভে পেটের দায়ে বেচারীরা পশুর মত শয়তানের দাসত্ব করে। লোকেরা সব চলছে ফিরছে, কে যে কখন ধরা পড়ছে, কেউ হয়ত জানতে পারে না; সবাই মিলে মারছে, কাটছে, কোলাহল করছে "শয়তানের জয়।"

সব দেখে শুনে অফেরোর মনটা যেন দমে গেল। সে ভাবল, "রাজার সেরা রাজা বটে, কিন্তু আমার ত কৈ এর কাজেতে মন লাগছে না।" শয়তান তখন মুচকি মুচকি হেসে বললে, "চল ত ভাই, একবারটি এই শহর ছেড়ে পাহাড়ে যাই। সেখানে এক ফকির আছেন, তিনি নাকি বেজায় সাধু। আমার তেজের সামনে তাঁর সাধুতার দৌড় কতখানি, তা' একবার দেখতে চাই।"

পাহাড়ের নীচে রাস্তার চৌমাথায় যখন তারা এসেছে, শয়তান তখন হঠাৎ কেমন ব্যস্ত হয়ে থমকিয়ে গেল— তারপর বাঁকা রাস্তা ঘুরে তড়্‌বড়্‌ করে চলতে লাগল। অফেরো বললে, "আরে মশাই, ব্যস্ত হল কেন?" শয়তান বললে, "দেখছ না ওটা কি?!" অফেরো দেখল, একটা ক্রুশের মত কাঠের গায়ে মানুষের মূর্তি আঁকা! মাথায় তার কাঁটার মুকুট— শরীরে তার রক্তধারা! সে কিছু বুঝতে পারল না। শয়তান আবার বললে, "দেখছ না ঐ মানুষকে— ও যে আমায় মানে না, মরতে ডরায় না,— বাবারে! ওর কাছে কি ঘেঁষতে আছে? ওকে দেখলেই তফাৎ হটি।" বলতে বলতে শয়তানের মুখখানা চামড়ার মত শুকিয়ে এল।

তখন অফেরো হাঁফ ছেড়ে বললে, "বাঁচালে ভাই! তোমার চাকরি আর আমায় করতে হল না। তোমায় মানে না, মরতেও ডরায় না, সেইজনকে যদি পাই তবে তারই গোলাম হয়ে থাকি।" এই বলে আবার সে খোঁজে বেরুল।

তারপর যার সঙ্গে দেখা হয়, তাকেই সে জিজ্ঞাসা করে, "সেই ক্রুশের মানুষকে কোথায় পাব?"— সবাই বলে, খুঁজতে থাক, একদিন তারে পাবেই পাবে। তারপর একদিন চলতে চলতে সে এক যাত্রীদলের দেখা পেল। গায়ে তাদের পথের ধূলা, হাঁটতে হাঁটতে সবাই শ্রান্ত, কিন্তু তবু তাদের দুঃখ নাই— হাসতে হাসতে গান গেয়ে সবাই মিলে পথ চলছে। তাদের দেখে অফেরোর বড় ভাল লাগল— সে বললে, "তোমরা কে ভাই? কোথায় যাচ্ছ?" তারা বললে, "ক্রুশের মানুষ যীশু খৃষ্ট— আমরা সবাই তাঁরই দাস। যে পথে তিনি গেছেন, সেই পথের খোঁজ নিয়েছি।" শুনে অফেরো তাদের সঙ্গ নিল। 

সে পথ গেছে অনেক দূর। কত রাত গেল দিন গেল, পথ তবু ফুরায় না— চলতে চলতে সবাই ভাবছে, বুঝি পথের শেষ নাই। এমন সময় সন্ধ্যার ঝাপসা আলোয় পথের শেষ দেখা দিল। ওপারে স্বর্গ, এপারে পথ, মাঝে অন্ধকার নদী। নৌকা নাই, কূল নাই, মাঝে মাঝে ডাক আসে, "পার হয়ে এস।" অফেরো ভাবল, 'কি করে এরা সব পার হবে? কত অন্ধ, খঞ্জ, কত অক্ষম বৃদ্ধ, কত অসহায় শিশু— এরা সব পার হবে কি ক'রে?' যাঁরা বৃদ্ধ, তাঁরা বললেন, "দূত আসবে। ডাক পড়বার সময় হলে, তখন তাঁর দূত আসবে।"

বলতে বলতে দূত এসে ডাক দিল। একটি ছোট মেয়ে ভুগে ভুগে রোগা হয়ে গেছে, সে নড়তে পারে না, বাইতে পারে না, দূত তাকে বলে গেল,— "তুমি এস, তোমার ডাক পড়েছে।" শুনে তার মুখ ফুটে হাসি বেরুল, সে উৎসাহে চোখ মেলে উঠে বসল। কিন্তু হায়! অন্ধকার নদী, অকূল তার কালো জল, স্রোতের টানে ফেনিয়ে উঠছে— সে নদী পার হবে কেমন করে? জলের দিকে তাকিয়ে তার বুকের ভিতরে দুর্‌ দুর্‌ করে উঠল। ভয়ে দু চোখ ঢেকে নদীর তীরে একলা দাঁড়িয়ে মেয়েটি তখন কাঁদতে লাগল। তাই দেখে সকলের চোখে জল এল, কিন্তু যেতেই যখন হবে তখন আর উপায় কি? মেয়েটির দুঃখে অফেরোর মন একেবারে গলে গেল। সে হঠাৎ চিৎকার করে বলে উঠল। "ভয় নাই— আমি আছি।" কোথা হতে তার মনে ভরসা এল, শরীরে তার দশগুণ শক্তি এল— সে মেয়েটিকে মাথায় করে, স্রোত ঠেলে, আঁধার ঠেলে, বরফের মত ঠাণ্ডা নদী মনের আনন্দে পার হয়ে গেল। মেয়েটিকে ওপারে নামিয়ে সে বলল, "যদি সেই ক্রুশের মানুষের দেখা পাও, তাঁকে বলো, এ কাজ আমার বড় ভাল লেগেছে— যতদিন আমার ডাক না পড়ে, আমি তাঁর গোলাম হয়ে এই কাজেই লেগে থাকব।"

সেই থেকে তার কাজ হল নদী পারাপার করা। সে বড় কঠিন কাজ! কত ঝড়ের দিনে কত আঁধার রাতে যাত্রীরা সব পার হয়— সে অবিশ্রাম কেবলই তাদের পৌঁছে দেয় আর ফিরে আসে। তার নিজের ডাক যে কবে আসবে, তা ভাববার আর সময় নেই।

ক্রিস্টোফার-২
একদিন গভীর রাত্রে তুফান উঠল। আকাশ ভেঙে পৃথিবী ধুয়ে বৃষ্টির ধারা নেমে এল। ঝড়ের মুখে স্রোতের বেগে পথ ঘাট সব ভাসিয়ে দিল— হাওয়ার পাকে পাগল হয়ে নদীর জল ক্ষেপে উঠল। অফেরো সেদিন শ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে— সে ভেবেছে, এমন রাতে কেউ কি আর পার হতে চায়! এমন সময় ডাক শোনা গেল। অতি মিষ্টি কচি গলায় কে যেন বলছে, "আমি এখন পার হব।" অফেরো তাড়াতাড়ি উঠে দেখল, ছোট্ট একটি শিশু ঝড়ের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, আর বলছে, "আমার ডাক এসেছে, আমি এখন পার হব।" অফেরো বললে, "আচ্ছা! এমন দিনে তোমায় পার হতে হবে! ভাগ্যিস আমি শুনতে পেয়েছিলাম।" তারপর ছেলেটিকে কাঁধে নিয়ে "ভয় নাই", "ভয় নাই" বলতে বলতে সে দুরন্ত নদী পার হয়ে গেল।

কিন্তু এবারেই শেষ পার। ওপারে যেমনি যাওয়া অমনি তার সমস্ত শরীর অবশ হয়ে পড়ল, চোখ যেন ঝাপসা হয়ে গেল, গলার স্বর জড়িয়ে গেল। তারপর যখন সে তাকাল তখন দেখল, ঝড় নেই আঁধার নেই, সেই ছোট্ট শিশুটিও নেই— আছেন শুধু এক মহাপুরুষ, মাথায় তাঁর আলোর মুকুট। তিনি বললেন, "আমিই ক্রুশের মানুষ— আমিই আজ তোমায় ডাক দিয়েছি। এতদিন এত লোক পার করেছ, আজ আমায় পার করতে গিয়ে নিজেও পার হলে, আর তারি সঙ্গে শয়তানের পাপের বোঝা কত যে পার করেছ তা তুমিও জান না। আজ হতে তোমার অফেরো নাম ঘুচল; এখন তুমি Saint Christopher— সাধু খৃষ্টবাহন! যাও, যাঁরা শ্রেষ্ঠ সাধু, তাঁদের মধ্যে তুমি আনন্দে বাস কর।" -এই হল সুকুমার রায় রচিত কিংবদন্তিটি।  

ক্রিস্টোফার অত:পর লিসিয়া (Lycia) শহরে যান এবং সেখানকার খৃষ্টানদের যারা নির্যাতিত ও শহীদ হচ্ছিল, তাদের মাঝে সান্তনার বাণী প্রচার করতে থাকেন। একসময় তাকে বন্দী করে স্থানীয় রাজদরবারে হাজির করা হয়। রাজা তাকে পৌত্তলিক দেবতার উদ্দেশ্যে নৈবদ্য হিসেবে পশু উৎসর্গের আদেশ দেন। ক্রিস্টোফার তা করতে অস্বীকার করেন। তখন রাজা তাকে ধন-সম্পদের প্রলোভনের মধ্যে ফেলতে চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি দু’জন সুন্দরী রমনীকে নিয়োজিত করেন তাকে ফাঁদে ফেলতে। কিন্তু ফল হয় উল্টো। ক্রিস্টোফার অতি অল্প সময়ের মধ্যে কেবল ঐ নারীদেরকেই নয় বরং তিনি আরও কয়েক হাজার নারী-পুরুষকেও খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত করে ফেলেন। এতে রাজা ক্ষিপ্ত হন এবং তার বিরুদ্ধে হত্যার আদেশ জারী করেন। এসময় ক্রিস্টোফার প্রকাশ্যে চলাফেরা বন্ধ করে দেন। অত:পর বেশ কয়েকটি পরিকল্পণা ব্যর্থ হবার পর অবশেষে তিনি ধৃত হন এবং তাকে শিরোচ্ছেদ করা হয়।  

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia.

 উৎস:
  • Mershman, F. St. Christopher. In The Catholic Encyclopedia.
  • Weniger, Francis X., "St. Christopher, Martyr", 
  • "St. Christopher", Lives of Saints, John J. Crawley & Co., Inc. 
  • David Woods, "St. Christopher, Bishop Peter of Attalia, and the Cohors Marmaritarum: A Fresh Examination" 
  • D.H. Farmer, The Oxford Dictionary of Saints.
  • Collier, Mrs. "Saint Christopher and Some Representations of him in English Churches" .
  • White, Helen,  Tudor Books of Saints and Martyrs. 
  • Wilson, Stephen,  Saints and their cults: studies in religious sociology, folklore, and history. 
  • "The Life of Saint Christopher", Compiled by Jacobus de Voragine, Tr. by William Caxton
  • St. Christopher in the Golden Legend: English translation (Caxton)
  • Wikipedia,.ও
  • সুকুমার রায়, খৃষ্টবাহন।

১৪ জুলাই, ২০১৫

Jesus: কবি রবির চিত্রিত যিশুচরিত।

যিশু যখন জন্মগ্রহণ করেছিলেন তখন রোম-সাম্রাজ্যের প্রতাপ অভ্রভেদী হয়ে উঠেছিল। যে কেউ যে দিকে চোখ মেলত এই সাম্রাজ্যেরই গৌরব চূড়া সবদিক থেকেই চোখে পড়ত; এরই আয়োজন উপকরণ সকলের চিত্তকে অভিভূত করে দিচ্ছিল। রোমের বিদ্যা-বুদ্ধি, বাহুবল ও রাষ্ট্রীয় শক্তির মহাজালে যখন বিপুল সাম্রাজ্য চারিদিকে আবদ্ধ, সেই সময়ে সাম্রাজ্যের এক প্রান্তে দরিদ্র ইহুদি মাতার গর্ভে এই শিশু জন্মগ্রহণ করলেন।

তখন রোম-সাম্রাজ্যে ঐশ্বর্যের যেমন প্রবল মূর্তি, ইহুদি সমাজে লোকাচার ও শাস্ত্র শাসনেরও তেমনি প্রবল প্রভাব।ইহুদিদের ধর্ম স্বজাতির মধ্যে গণ্ডিবদ্ধ। তাদের ঈশ্বর জিহোভা বিশেষভাবে তাদেরকে বরণ করে নিয়েছেন এমনই তাদের বিশ্বাস। তাঁর নিকট তারা কতকগুলো সত্যে বদ্ধ, এই সত্যগুলো বিধিরূপে তাদের সংহিতায় লিখিত। এই বিধি পালন করাই ঈশ্বরের আদেশ-পালন।

বিধির অচল গণ্ডির মধ্যে নিয়ত বাস করতে গেলে মানুষের ধর্মবুদ্ধি কঠিন ও সংকীর্ণ না হয়ে থাকতে পারে না। কিন্তু ইহুদিদের সনাতন-আচার-নিষ্পেষিত চিত্তে নূতন প্রাণ সঞ্চার করার উপায় ঘটেছিল। মাঝে মাঝে তাদের পাথরের প্রাচীর ভেদ করে তাদের মধ্যে এক-একজন মহাপুরুষ এসে দেখা দিতেন। ধর্মের প্রত্যক্ষ উপলব্ধি বহন করে নিয়ে যেতেই তাদের অভ্যুদয়। তারা স্মৃতি শাস্ত্রের মৃতপত্র-মর্মরকে আচ্ছন্ন করে দিয়ে অমৃতবাণী প্রচার করতেন। ই’শায়া জেরেমিয়া প্রভৃতি ইহুদি নবীগণ পরম দুর্গতির দিনে আলোক জ্বেলেছেন, তাদের তীব্র জ্বালাময়ী বাক্যের বজ্রবর্ষণে স্বজাতির বদ্ধ জীবনের বহুদিন সঞ্চিত কলুষরাশি দগ্ধ করেছেন।

শাস্ত্র ও আচার ধর্মের দ্বারাই ইহুদিদের সমস্ত জীবন নিয়মিত। যদিও তারা সাহসী যোদ্ধা ছিল, তবু রাষ্ট্ররক্ষা-ব্যাপারে তাদের পটুত্ব প্রকাশ পায়নি। এজন্য রাষ্ট্র সম্বন্ধে বিদেশী প্রতিবেশীদের হাতে তারা বারে বারে দুর্গতিলাভ করেছিল।

যিশুর জন্মের কিছুকাল পূর্ব হতে ইহুদিদের সমাজে নবী-অভ্যুদয় বন্ধ ছিল। কালের গতি প্রতিহত করে, প্রাণের প্রবাহ অবরুদ্ধ করে, পুরাতনকে চিরস্থায়ী করার চেষ্টায় তখন সকলে নিযুক্ত ছিল। বাহিরকে একেবারে বাইরে ঠেকিয়ে, সমস্ত দ্বার, গবাক্ষ বন্ধ করে, দেয়াল গেঁথে তোলার দলই তখন প্রবল হয়ে উঠেছিল। নবসংকলিত তাল্‌মুদ্‌ শাস্ত্রের বাহ্য আচার বন্ধনের আয়োজন পাকা হল, এবং ধর্মপালনের মূলে যে-একটি মুক্ত বুদ্ধি ও স্বাধীনতা-তত্ত্ব আছে তাকে স্থান দেয়া হল না।

জড়ত্বের চাপ যতই কঠোর হোক মনুষ্যত্বের বীজ একেবারে মরতে চায় না। অন্তরাত্মা যখন পীড়িত হয়ে ওঠে, বাইরে যখন সে কোন আশার মূর্তি দেখতে পায় না, তখন তার অন্তর হতেই আশ্বাসের বাণী উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে— সেই বাণীকে সে হয়ত সম্পূর্ণ বোঝে না, অথচ তাকে প্রচার করতে থাকে। এই সময়টাতে ইহুদিরা আপনা-আপনি বলাবলি করছিল, মর্তে পুনরায় স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠার কাল আসছে। তারা মনে করছিল, তাদেরই নেতা তাদের জাতিকেই এই স্বর্গ রাজ্যের অধিকার দান করবেন— ঈশ্বরের বরপুত্র ইহুদি জাতির সত্যযুগ পুনরায় আসন্ন হয়েছে।

এই আসন্ন শুভ মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত হতে হবে এই ভাবটিও জাতির মধ্যে কাজ করছিল। এই জন্য মরুস্থলীতে বসে অভিষেক দাতা যোহন্‌ যখন ইহুদিদেরকে অনুতাপের দ্বারা পাপের প্রায়শ্চিত্ত ও জর্ডনের তীর্থজলে দীক্ষা গ্রহণ করবার জন্য আহ্বান করলেন তখন দলে দলে পুণ্যকামীগণ তার কাছে সমবেত হতে লাগল। ইহুদিরা খোদাকে প্রসন্ন করে পৃথিবীতে নিজেদের অপমান ঘুচাতে চাইল, ধরাতলের রাজত্ব এবং সকলের শ্রেষ্ঠস্থান অধিকার করার আশ্বাসে তারা উৎসাহিত হয়ে উঠল।

এমন সময়ে যিশুও মর্তলোকে ঈশ্বরের রাজ্যকে আসন্ন বলে ঘোষণা করলেন। কিন্তু ঈশ্বরের রাজ্য যিনি স্থাপন করতে আসবেন তিনি কে? তিনি তো রাজা, তাকে তো রাজপদ গ্রহণ করতে হবে। রাজপ্রভাব না থাকলে সর্বত্র ধর্মবিধি প্রবর্তন করবে কি করে। একবার কি মরুস্থলীতে মানবের মঙ্গল ধ্যান করবার সময় যিশুর মনে এই দ্বিধা উপস্থিত হয়নি। ক্ষণকালের জন্য কি তার মনে হয়নি রাজপীঠের উপরে ধর্মসিংহাসন প্রতিষ্ঠা করলে তবেই তার ক্ষমতা অপ্রতিহত হতে পারে? কথিত আছে, শয়তান তার সম্মুখে রাজ্যের প্রলোভন বিস্তার করে তাকে মুগ্ধ করতে উদ্যত হয়েছিল। সেই প্রলোভনকে নিরস্ত করে তিনি জয়ী হয়েছিলেন। এই প্রলোভনের কাহিনীকে কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দেবার কারণ নেই। রোমের জয়পতাকা তখন রাজ-গৌরবে আকাশে আন্দোলিত হচ্ছিল এবং সমস্ত ইহুদি জাতি রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার সুখ-স্বপ্নে নিবিষ্ট হয়েছিল। এমন অবস্থায় সমস্ত জনসাধারণের সেই অন্তরের আন্দোলন যে তারও ধ্যানকে গভীরভাবে আঘাত করতে থাকবে এতে আশ্চর্য হবার কোন কারণই নেই।

কিন্তু আশ্চর্যের কথা এই যে, এই সর্বব্যাপী মায়াজালকে ছেদন করে তিনি ঈশ্বরের সত্য রাজ্যকে সুস্পষ্ট প্রত্যক্ষ করলেন। ধনমানের মধ্যে তাকে দেখলেন না, মহা-সাম্রাজ্যের দৃপ্ত প্রতাপের মধ্যে তাকে দেখলেন না; বাহ্য উপকরণহীন দারিদ্র্যের মধ্যে তাকে দেখলেন এবং সমস্ত বিষয়ী লোকের সম্মুখে একটা অদ্ভুত কথা অসংকোচে প্রচার করলেন- “যে নম্র পৃথিবীর অধিকার তারই।” তিনি চরিত্রের দিক দিয়ে এই যেমন একথাটা বললেন, উপনিষদের ঋষিরা মানুষের মনের দিক দিয়ে ঠিক এরকমই অদ্ভুত একটা কথা বলেছেন; যারা ধীর তারাই সকলের মধ্যে প্রবেশের অধিকার লাভ করে। “ধীরাঃ সর্বমেবাবিশন্তি।”

যা অত্যন্ত প্রত্যক্ষ এবং যা সর্বজনের চিত্তকে অভিভূত করে বর্তমান, তাকে সম্পূর্ণ ভেদ করে, সাধারণ মানবের সংস্কারকে অতিক্রম করে, ঈশ্বরের রাজ্যকে এমন-একটি সত্যের মধ্যে তিনি দেখলেন যেখানে সে আপনার আন্তরিক শক্তিতে আপনি প্রতিষ্ঠিত— বাইরের কোন উপাদানের উপর তার আশ্রয় নয়। সেখানে অপমানিতেরও সম্মান কেউ কেড়ে নিতে পারে না, দরিদ্রেরও সম্পদ কেউ নষ্ট করতে পারে না। সেখানে যে নত সেই উন্নত হয়, যে পশ্চাদ্‌বর্তী সেই অগ্রগণ্য হয়ে ওঠে। এ কথা তিনি কেবল কথায় রেখে যাননি। যে দৌর্দণ্ডপ্রতাপ সম্রাটের রাজদণ্ড অনায়াসে তার প্রাণবিনাশ করেছে তার নাম ইতিহাসের পাতার এক প্রান্তে লেখা আছে মাত্র। আর যিনি সামান্য চোরের সঙ্গে একত্রে ক্রুসে বিদ্ধ হয়ে প্রাণত্যাগ করলেন, মৃত্যুকালে সামান্য কয়েকজন ভীত অখ্যাত শিষ্য যার অনুবর্তী, অন্যায় বিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাধ্যমাত্র যার ছিল না, তিনি আজ মৃত্যুহীন গৌরবে সমস্ত পৃথিবীর হৃদয়ের মধ্যে বিরাজ করছেন এবং আজও বলছেন, ‘যারা দীন তারা ধন্য; কারণ, স্বর্গরাজ্য তাদের। যারা নম্র তারা ধন্য; কারণ, পৃথিবীর অধিকার তারাই লাভ করিবে।’

এইভাবে স্বর্গরাজ্যকে যিশু মানুষের অন্তরের মধ্যে নির্দেশ করে মানুষকেই বড় করে দেখিয়েছেন। তাকে বাইরের উপকরণের মধ্যে স্থাপণ করে দেখালে মানুষের বিশুদ্ধ গৌরব খর্ব হত। তিনি নিজেকে বলেছেন মনু্ষ্য পুত্র। মনু্ষ্য পুত্র যে কে তাই তিনি প্রকাশ করতে এসেছেন।

তাই তিনি দেখিয়েছেন, মানুষের মনুষ্যত্ব সাম্রাজ্যের ঐশ্বর্যেও নয়, আচারের অনুষ্ঠানেও নয়; কিন্তু মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের প্রকাশ আছে এই সত্যেই সে সত্য। মানব সমাজে দাঁড়িয়ে ঈশ্বরকে তিনি পিতা বলেছেন। পিতার সঙ্গে পুত্রের যে সম্বন্ধ তা আত্মীয়তার নিকটতম সম্বন্ধ— আত্মা বৈ জায়তে পুত্রঃ। তা আদেশ-পালনের ও অঙ্গীকার-রক্ষার বাহ্য সম্পর্ক নয়। ঈশ্বর পিতা এই চিরন্তন সম্বন্ধের দ্বারাই মানুষ মহীয়ান, আর কিছুর দ্বারা নহে। তাই ঈশ্বরের পুত্ররূপে মানুষ সকলের চেয়ে বড়, সাম্রাজ্যের রাজারূপে নয়। তাই শয়তান এসে যখন তাকে বলল ‘তুমি রাজা’ তিনি বললেন, ‘না, আমি মনুষ্যপুত্র।’ এই বলে তিনি সমস্ত মানুষকে সম্মানিত করেছেন।

তিনি এক জায়গায় ধনকে নিন্দা করেছেন, বলেছেন, “ধন মানুষের পরিত্রাণের পথে প্রধান বাধা।” এ একটা নিরর্থক বৈরাগ্যের কথা নয়। এর ভিতরকার অর্থ এই যে, ধনী ধনকেই আপনার প্রধান অবলম্বন বলে জানে— অভ্যাসের মোহ-বশত ধনের সঙ্গে সে নিজের মনুষ্যত্বকে মিলিয়ে ফেলে। এমন অবস্থায় তার প্রকৃত আত্মশক্তি আবৃত হয়ে যায়। যে আত্মশক্তিকে বাধামুক্ত করে দেখে সে ঈশ্বরের শক্তিকেই দেখতে পায় এবং সেই দেখার মধ্যেই তার যথার্থ পরিত্রাণের আশা। মানুষ যখন যথার্থভাবে নিজেকে দেখে তখনই নিজের মধ্যে ঈশ্বরকে দেখে; আর নিজেকে দেখতে গিয়ে যখন সে কেবল ধনকে দেখে, মানকে দেখে, তখনই নিজেকে অবনমিত করে এবং সমস্ত জীবন-যাত্রার দ্বারা ঈশ্বরকে অস্বীকার করতে থাকে।

মানুষকে এই মনুষ্য পুত্র বড় দেখেছেন বল্লেই মানুষকে যন্ত্ররূপে দেখতে চাননি। বাহ্য ধন যেমন মানুষকে বড় করে না তেমনি বাহ্য আকারে মানুষকে পবিত্র করে না। বাইরের স্পর্শ বাইরের খাদ্য মানুষকে দূষিত করতে পারে না; কারণ, মানুষের মনুষ্যত্ব যেখানে, সেখানে তার প্রবেশ নেই। যারা বলে বাইরের সংস্রবে মানুষ পতিত হয় তারা মানুষকে ছোট করে দেয়। এভাবে মানুষ যখন ছোট হয়ে যায় তখন তার সংকল্প, তার ক্রিয়াকর্ম, সমস্তই ক্ষুদ্র হয়ে আসে; তার শক্তি হ্রাস হয় এবং সে কেবলই ব্যর্থতার মধ্যে ঘুরে মরে। এই জন্যই মনু্ষ্যপুত্র আচার ও শাস্ত্রকে মানুষের চেয়ে বড় হতে দেননি এবং বলেছেন, বলি-নৈবদ্যের দ্বারা ঈশ্বরের পূজা নহে, অন্তরের ভক্তির দ্বারাই তাঁর ভজনা। এই বলেই তিনি অস্পৃশ্যকে স্পর্শ করলেন, অনাচারীর সাথে একত্রে আহার করলেন, এবং পাপীকে পরিত্যাগ না করে তাকে পরিত্রাণের পথে আহ্বান করলেন।

শুধু তাই নয়, সমস্ত মানুষের মধ্যে তিনি নিজেকে এবং সেই যোগে খোদাকে উপলব্ধি করলেন। তিনি শিষ্যদেরকে আহ্বান করে বললেন, ‘দরিদ্রকে যে খাওয়ায় সে আমাকেই খাওয়ায়, বস্ত্রহীনকে যে বস্ত্র দেয় সে আমাকেই বসন পরায়।’ ভক্তিবৃত্তিকে বাহ্য অনুষ্ঠানের দ্বারা সংকীর্ণরূপে চরিতার্থ করার উপদেশ ও দৃষ্টান্ত তিনি দেখাননি। ঈশ্বরের ভজনা ভক্তির সম্ভোগ করার উপায়মাত্র নহে। তাঁকে ফুল দিয়ে, নৈবদ্য দিয়ে, বস্ত্র দিয়ে, স্বর্ণ দিয়ে, ফাঁকি দিলে যথার্থ নিজেকেই ফাঁকি দেয়া হয়; ভক্তি নিয়ে খেলা করা হয় মাত্র এবং এমন খেলায় যতই সুখ হোক তা মনুষ্যত্বের অবমাননা। যিশুর উপদেশ যারা সত্যভাবে গ্রহণ করেছেন তারা কেবল মাত্র পূজা-অর্চনা-দ্বারা দিনরাত কাটায়ে দিতে পারেন না; মানুষের সেবা তাদের পূজা, অতি কঠিন তাদের ব্রত। তারা আরামের শয্যা ত্যাগ করে, প্রাণের মমতা বিসর্জন দিয়ে, দূর দেশ-দেশান্তরে নরখাদকদের মধ্যে, কুষ্ঠরোগীদের মধ্যে, জীবন উৎসর্গ করেছেন— কেননা, যার নিকট থেকে তারা দীক্ষা গ্রহণ করেছেন তিনি মনুষ্যপুত্র, তার আবির্ভাবে মানবের প্রতি ঈশ্বরের দয়া সুস্পষ্ট প্রকাশমান হয়েছে। কারণ, এই মহাপুরুষ সর্বপ্রকারে মানবের মাহাত্ম্য যেমন করে প্রচার করেছেন এমন আর কে করেছেন?

তাকে তার শিষ্যেরা দুঃখের মানুষ বলেন। দুঃখ স্বীকারকে তিনি মহৎ করে দেখিয়েছেন। এতেও তিনি মানুষকে বড় করেছেন। দুঃখের উপরেও মানুষ যখন নিজেকে প্রকাশ করে তখনই মানুষ নিজের সেই বিশুদ্ধ মনুষ্যত্বকে প্রচার করে যা আগুনে পোড়ে না যা অস্ত্রাঘাতে ছিন্ন হয় না।

সমস্ত মানুষের প্রতি প্রেমের দ্বারা যিনি ঈশ্বরের প্রেম প্রচার করেছেন, সমস্ত মানুষের দুঃখভার স্বেচ্ছাপূর্বক গ্রহণ করার উপদেশ তার জীবন থেকে আপনিই নিঃশেষ হয়ে উঠবে এতে আর আশ্চর্য কি আছে। কারণ, স্বেচ্ছায় দুঃখবহন করতে অগ্রসর হওয়াই প্রেমের ধর্ম। দুর্বলের নির্জীব প্রেমই ঘরের কোণে ভাবাবেশের অশ্রুজল ফেলে নিজেকে নিজে আর্দ্র করতে থাকে। যে প্রেমের মধ্যে যথার্থ জীবন আছে সে আত্মত্যাগের দ্বারা, দুঃখ স্বীকারের দ্বারা গৌরব লাভ করে। সে গৌরব অহংকারের গৌরব নয়; কারণ, অহংকারের মদিরায় নিজেকে মত্ত করা প্রেমের পক্ষে অনাবশ্যক— তার নিজের মধ্যেই স্বত:-উৎসারিত অমৃতের উৎস আছে।

মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের প্রকাশ— যিশুর এই বাণী কেবলমাত্র তত্ত্ব কথারূপে কোন-একটি শাস্ত্রের শ্লোকের মধ্যে বন্দী হয়ে বাস করছে না। তার জীবনের মধ্যে তা একান্ত সত্য হয়ে দেখা দিয়েছিল বলেই আজ পর্যন্ত তা সজীব বনস্পতির মত নব নব শাখা প্রশাখা বিস্তার করছে। মানব চিত্তের শত সহস্র সংস্কারের বাধা প্রতিদিনই সে ক্ষয় করার কাজে নিযুক্ত আছে। ক্ষমতার মদে মাতাল প্রতিদিন তাকে অপমান করছে, জ্ঞানের গর্বে উদ্ধত প্রতিদিন তাকে উপহাস করছে, শক্তি-উপাসক তাকে অক্ষমের দুর্বলতা বলে অবজ্ঞা করছে, কঠোর বিষয়ী তাকে কাপুরুষের ভাবুকতা বলে উড়িয়ে দিচ্ছে— তবু সে নম্র হয়ে নীরবে মানুষের গভীরতম চিত্তে ব্যাপ্ত হচ্ছে, দুঃখকেই নিজের সহায় এবং সেবাকে নিজের সঙ্গিনী করে নিয়েছে— যে পর তাকে আপন করছে, যে পতিত তাকে তুলে নিচ্ছে, যার কাছ থেকে কিছুই পাবার নেই, তার কাছে নিজেকে নিঃশেষে উৎসর্গ করে দিচ্ছে। এমনি করে মনুষ্যপুত্র পৃথিবীকে, সকল মানুষকেই বড় করে তুলেছেন— তাদের অনাদর দূর করেছেন, তাদের অধিকার প্রশস্ত করেছেন, তারা যে তাদের পিতার ঘরে বাস করছে এই সংবাদের দ্বারা অপমানের সংকোচ মানব সমাজ হতে অপসারণ করেছেন— এটাই মুক্তিদান।

সমাপ্ত।

Newton: নিউটন ও তার বিতর্কিত গ্রন্থ।

স্যার আইজ্যাক নিউটন (Sir Isac Newton) ১৬৪২ সনের ২৫শে ডিসেম্বর উল্সথর্প মনর, লিঙ্কনশায়ার (Lincolnshire), ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের তিন মাস পূর্বে তার পিতা আইজ্যাক নিউটন মারা যান। অত:পর তার তিন বৎসর বয়সের সময়, তার মাতা হান্না আয়সকফ (Hannah Ayscough)) তাকে তার মাতার হেফাজতে রেখে রেভারেন্ড বার্ণাবাস নামক এক ব্যক্তির সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। নিউটন তার এই সৎপিতাকে পছন্দ করতেন না। 

ট্রিনিটি কলেজ, কেম্ব্রিজ।
দি কিংস স্কূল, গ্রান্থাম (The King's School, Grantham)-এ নিউটন ৫ বৎসর পড়াশুনো করেন। এ সময় তার সৎপিতা মারা যান। ফলে ১৬৫৯ সনে তাকে স্কূল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে তার বিধবা মাতা তাকে কৃষি কাজে নিয়োজিত করেন, যদিও নিউটন কৃষি কাজকে একদম পছন্দ করতেন না। এসময় কিংস স্কূলের এক শিক্ষক হেনরী স্টোকস দূর্দান্ত মেধাবী ছাত্র নিউটনের স্কূল শিক্ষা সমাপনীর জন্যে তার মাতাকে প্ররোচিত করেন। সুতরাং নিউটন পূনরায় স্কূলে ভর্তি হলেন এবং স্কূলের সেরা  মেধাবী ছাত্র নির্বাচিত হলেন।

স্কূল শিক্ষা সমাপনীর পর ১৬৬১ সনের জুন মাসে নিউটন কেম্ব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে (Trinity College, Cambridge) ভর্তি হন। এ সময় এ কলেজটিতে এরিষ্টটলীয় পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদান করা হত। যাহোক, নিউটন এই কলেজ থেকে ১৬৬৫ সনের আগস্ট মাসে ডিগ্রী অর্জন করেন। তার এই ডিগ্রী অর্জনের পরপরই এক প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সতর্কতামূলক ভাবে কলেজটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দু’বৎসর কলেজটি বন্ধ থাকে। 

স্যার আইজ্যাক নিউটন।
ইতিমধ্যে নিউটন জেনারেলাইজড বায়োনোমিয়াল থিয়োরী (Generalized Binomial Theorem) আবিস্কার এবং গণিতের অপর একটি শাখা ইনফিনাইটসিমাল ক্যালকুলাস (Infinitesimal Calculus) ডেভেলোপ করেন। তিনি আলোক ও মাধ্যাকর্ষণ সূত্র (Law of Gravitation)ও আবিস্কার করে ফেলেন। ১৬৬৭ সনে তিনি পুনরায় কেম্ব্রিজে ট্রিনিটি কলেজের ফেলো হিসেবে যোগদান করেন এবং অচিরেই মর্যাদাপূর্ণ ”লুকাসিয়ান চেয়ার” (Lucasian Chair) নির্বাচিত হন।

এরপর নিউটন থেমে থাকেননি। ১৭২৪ সনের ২০শে মার্চ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ করেছেন এবং যুগান্তকারী সব আবিস্কার করেছেন। তিনি ছিলেন একাধারে পদার্থবিদ, গণিতজ্ঞ, এস্ট্রনোমার, দর্শণবিদ, আলকেমিস্ট এবং থিয়োলজিয়ান। তাকে ধরা হয় মানব সভ্যতার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা বড় উদ্দিপক বিজ্ঞানী (Greatest Influential Scientist)। তার রচিত ফিলোসফি ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা (Philosophiæ Naturalis Principia Mathematica) গ্রন্থটি এ কালের অধিকাংশ ক্লাসিক্যাল ম্যাথমেটিক্স এর ভিত্তি রচনা করেছে।

নিউটনের সমাধি।
ইংরেজ কবি আলেকজান্ডার পোপ (Alexander pope) নিউটনের এপিটাফ (Epitaph) লিখেছিলেন এভাবে:

“Nature and nature's laws lay hid in night;
God said "Let Newton be"
and all was light.”

অর্থ:
“প্রকৃতি ও প্রকৃতির বিধান ঢাকা পড়ে ছিল রাতে; 
ঈশ্বর বললেন “নিউটন সৃষ্টি হও” 
এবং সব আলোকিত হল।”

নিউটন ক্যাথলিক ধর্মের ত্রিত্ববাদী তত্ত্বে বিশ্বাসী ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন একত্ববাদী। কিন্তু তিনি তার জীবদ্দশায় ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রকাশ্যে ব্যক্ত করা কখনও বিচক্ষণতার পরিচায়ক বলে মনে করেননি। কেননা তার সময়কালে রাষ্ট্র ও গির্জা ধর্ম বিরোধীদের প্রতি প্রচন্ড কঠোরতা অবলম্বণ করেছিল। ধর্ম বিরোধীদের প্রতি আরোপিত ছিল মৃত্যুদন্ড, যা “জুডিকাম ডেই” বা “ঈশ্বরের বিচার” নামে খ্যাত। এই আইনে অপরাধীকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে বা ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হত।

কিন্তু বিজ্ঞানের ছাত্র নিউটন ধর্মের প্রতি আগ্রহী হলেন কেন? এর কারণ এই যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল গির্জার অধীনে এবং ধর্মগ্রন্থ পঠন ছিল আবশ্যিক। এতে নিউটন ধর্মগ্রন্থ পাঠে যথেষ্ট সময় ব্যয় করেন এবং অচিরেই বাইবেলের নানা অসঙ্গতি তার মনোযোগ আকর্ষণ করে। হিব্রু গবেষকগণ হিসেব করে দেখেছেন যে, নিউটনের বাইবেল পঠন সম্পর্কিত লেখা রয়েছে এক মিলিয়ন শব্দেরও অধিক। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে, এই মহাজ্ঞানী ব্যক্তিটি বুক অফ ডানিয়েল পড়ার পর ১৭০৪ সনে একটি নোট লেখেন যাতে তিনি পূর্বাভাস দেন যে ২০৬০ সনে এই পৃথিবী ধ্বংস হবে। 

নিউটন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন বুক অফ ডানিয়েল, অধ্যায় ১২, আয়াত ৭ থেকে, যেখানে বলা হয়েছে- And I heard the man clothed in linen, which was upon the waters of the river, when he held up his right hand and his left hand unto heaven, and sware by him that liveth for ever that it shall be for a time, times, and a half; and when he shall have accomplished to scatter the power of the holy people, all these things shall be finished. – KJB.

The phrase “time, times, and a half” caught the attention of Isaac Newton. He interpreted it as three and a half years or 1260 days (also referenced in Daniel 7:25, Revelation 11: 3, 12: 6 and 13: 5). Isaac Newton made a slight adjustment, interpreting days like years, 1260 years that marked the countdown to the end of the world and the return of Christ.

নিউটনের পত্র যাতে তিনি পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে,
পৃথিবী ২০৬০ সনে ধ্বংস হবে।
But Newton required a starting date in order to predict the “return of Christ”. Newton used the establishment of the Holy Roman Empire in 800 CE by Charlemagne. This marked the fusion of religious primacy of the pope with the political supremacy of Charlemagne. Consequently, the 2060 date was simply the result of adding 1260 years to 800 CE.

The Prophecy of the End Times was very popular in the Protestant movement during the days of Newton.

Newton believed that 800 CE marked the earliest start date for the countdown, but added that it could be later.

It “did not commence before the year 800 in which the pope’s supremacy commenced,” Newton said. He later added, “It may end later, but I see no reason for it ending sooner.”

“This I mention,” Newton added, “not to assert when the time of the end shall be, but to put a stop to the rash conjectures of fanciful men who are frequently predicting the time of the end, and by doing so bring the sacred prophesies into discredit as often as their predictions fail.”

যা হোক, মূল উপস্থাপনায় ফিরি, নিউটনের মনোযোগ যখন ধর্মগ্রন্থের অসংগতিগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হল, তখন তিনি ঐ সব অসংগতি ও পরস্পর বিরোধী তথ্য ও তত্ত্বগুলো নিয়ে এক যুগান্তকারী পুস্তক “An Historical Accounts of Two Notable Corruptions of Scripture.” রচনা করলেন।

১৬৯০ সনে পুস্তকটি রচনার পর নিউটন ঐ পান্ডুলিপির প্যাকেটটি ফ্রান্সে জন লকের কাছে প্রেরণ করেন। কেননা এটি ইংল্যান্ডে প্রকাশ করা তার জন্যে চরম বিপজ্জনক ছিল। আর তাই তিনি আশা করেছিলেন লক তার পুস্তিকাটি ফরাসী ভাষায় অনুবাদ ও ফ্রান্সে প্রকাশের কাজে সহায়তা করবেন। 

লক, ১৬৯২ সনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির রচনা হিসেবে পুস্তকটির ল্যাটিন অনুবাদ প্রকাশের চেষ্টা করেন। নিউটন ব্যাপারটা জানতে পেরে এ প্রকাশনা বন্ধের ব্যবস্থা নিতে লককে অনুরোধ করেন। কারণ, তার ধারণা হয়েছিল, ঐ সময়টিও ঐ পুস্তিকা প্রকাশের জন্যে অনুকূল নয়। 

কি ছিল ঐ গ্রন্থটিতে? 
পুস্তকটিতে নিউটন বর্তমান বাইবেলের (নিউ টেষ্টামেন্ট) জন (৫:৭) প্রসঙ্গে বলেছেন: “ত্রিত্ববাদ সম্পর্কে জেরোমের সময় এবং তার আগে ও পরে বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত শক্তিশালী দীর্ঘকালীন ও স্থায়ী কোন বিতর্কেই তিন ঈশ্বরের বিষয়টি কখনোই ছিল না। এটা এখন প্রত্যেকের মুখে এবং কাজের প্রধান ভিত্তি হিসেবে পরিগণিত এবং নিশ্চিতভাবে তাদের জন্যেই তা করা হয়েছে যেভাবে তাদের গ্রন্থগুলোতে রয়েছে।”

“যারা যোগ্য, এ ব্যাপারে তাদের বোধোদয় হওয়া উচিত। আমার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়। যদি এটা বলা হয় যে আমার ধর্মগ্রন্থ কী তা নির্ধারণ এবং ব্যক্তিগত বিচারের কেউ নেই সেক্ষেত্রে যে সব স্থানে বিরোধ নেই সেখানে আমি এটা স্বীকার করি, কিন্তু যেখানে বিরোধ আছে সেখানে আমি সবচেয়ে যা ভাল বুঝি, তাই করি। মানব সমাজের উত্তপ্ত মেজাজ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন অংশ ধর্মীয় ব্যাপারে চিরকালই রহস্যময়তার ভক্ত, আর এ কারণেই তারা যা কম বোঝে সেটাই বেশি পছন্দ করে। এ ধরনের লোকেরাই প্রেরিত দূত যোহনকে যেভাবে খুশী ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু তার প্রতি আমার এমন শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে যাতে আমি বিশ্বাস করি তিনি যে উদ্দেশ্যে লিখেছেন যা থেকে ভালটুকু গ্রহণ করা যায়।”

“এই অংশটি এরাসমাসের নিউ টেষ্টামেন্টের তৃতীয় সংস্করণে প্রথম দেখা যায়। এই সংস্করণ প্রকাশের আগে এই মিথ্যা অংশটি নিউ টেষ্টামেন্টে ছিল না। তারা যখন এই সংস্করণে ত্রিত্ববাদ পেল তখন তারা নিজেরাই নিজেদের ধর্মগ্রন্থ থেকে তা ছুঁড়ে ফেলল যেমন লোকজন পুরোনো আলমানাককে ছুঁড়ে ফেলে। এ ধরনের পরিবর্তনের ঘটনা কি কোন বিবেচক ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করতে পারে?”---- “ভাঙ্গা বাদ্যযন্ত্রে সুর তোলার মতই এটা ধর্মের জন্য উপকারী হওয়ার পরিবর্তে বিপজ্জনক।” 

১ তীমথীয় (৩:১৬) প্রসঙ্গে নিউটন বলেন: “উত্তপ্ত ও দীর্ঘস্থায়ী আরিয়ান বিতর্কের কোন সময়েই এটা শোনা যায়নি.... যারা বলে যে “ঈশ্বর রক্তমাংসের মানুষের মধ্যে প্রকাশিত” তারা তাদের উদ্দেশ্যের চূড়ান্ত লক্ষ্য হাসিলের জন্যেই তা বলে থাকে।”

নিউটন সবশেষে বলেন: “দেবতা (Deity) শব্দটি অধীনস্থ প্রাণীকুলের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশক এবং ঈশ্বর (God) শব্দটি স্বতস্ফূর্তভাবে প্রভুত্ব প্রকাশক। প্রত্যেক প্রভুই ঈশ্বর নয়। এক আধ্যাত্মিক সত্তার মধ্যে প্রাধান্য বিস্তারের মাধ্যমে ঈশ্বরের প্রকাশ ঘটে। যদি এ প্রাধান্য সত্য হয় তা হলে সে সত্তাই প্রকৃত ঈশ্বর। এটা যদি সন্দেহপূর্ণ হয় তবে তা হবে মিথ্যা ঈশ্বর, আর যদি তা সন্দেহাতীত হয়, তবে তিনি হবেন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর।” 

ক্ষণজন্মা এই বিজ্ঞানী নিউটন, ওল্ড টেষ্টামেন্টের প্রতীকী বা দ্বৈত ব্যাখ্যারও বিরোধী ছিলেন। তিনি সব ধর্মগ্রন্থকে সমান শ্রদ্ধা করতেন না। হুইষ্টন বলেন, তিনি অন্য দু’টি প্রধান ধর্মগ্রন্থের উপরও গবেষণা গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যেগুলোকে যাজক এথানাসিয়াস বিকৃত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে আজ আর তার সেসব গ্রন্থের কোন হদিস পাওয়া যায় না। 

সমাপ্ত।

উঃস: 
  • Muhammad Ata ur-Rahim, Jesus- A Prophet of Islam.
  • Jeffery Pritchett, Isaac Newton Predicted The World Would End in 2060.
  • Dobbs, Betty Jo Tetter. The Janus Faces of Genius: The Role of Alchemy in Newton's Thought. (1991), 
  • Force, James E., and Richard H. Popkin, eds. Newton and Religion: Context, Nature, and Influence. (1999),
  • Pfizenmaier, Thomas C. (1997). "Was Isaac Newton an Arian?".
  • Ramati, Ayval. "The Hidden Truth of Creation: Newton's Method of Fluxions" 
  • Snobelen, Stephen "'God of Gods, and Lord of Lords': The Theology of Isaac Newton's General Scholium to the Principia," 
  • Snobelen, Stephen D. (1999). "Isaac Newton, Heretic: The Strategies of a Nicodemite". 
  • Stephen D. Snobelen, "A Time and Times and the Dividing of Time": Isaac Newton, the Apocalypse and 2060 AD.
  • Wiles, Maurice. Archetypal Heresy. Arianism through the Centuries. (1996)
  • Westfall, Richard S.[1983]. Never at Rest: A Biography of Isaac Newton.
  • Stokes, Mitch (2010). Isaac Newton . Thomas Nelson. p. 97.
  • Keynes, Milo ( 2008). "Balancing Newton's Mind: His Singular Behaviour and His Madness of 1692-93" .
  • Newton, Isaac. "Waste Book" . 
  • Błaszczyk, Piotr; Katz, Mikhail; Sherry, David (2012), "Ten misconceptions from the history of analysis and their debunking", 
  • Olivier Darrigol ( 2012). A History of Optics from Greek Antiquity to the Nineteenth Century . 
  • Newton, Isaac. "Hydrostatics, Optics, Sound and Heat" .
  • William R. Newman, "Newton's Early Optical Theory and its Debt to Chymistry,"
  • Hall, Alfred Rupert (1996). Isaac Newton: adventurer in thought . p. 67.
  • Newton, Issac. "Of Colours" . The Newton Project. 
  • Iliffe, Robert (2007) Newton. A very short introduction.
  • Keynes, John Maynard (1972). "Newton, The Man". 
  • Dobbs, J.T. (December 1982). "Newton's Alchemy and His Theory of Matter".
  • Curtis Wilson, "The Newtonian achievement in astronomy", pages 233–274
  • Edelglass et al., Matter and Mind, 
  • On the meaning and origins of this expression, see Kirsten Walsh, Does Newton feign an hypothesis? ,
  • "John Locke Manuscripts -- Chronological Listing: 1690" . psu.edu.
  • John C. Attig, John Locke Bibliography — Chapter 5, Religion, 1751–1900 
  • David Brewster. "Memoirs of the Life, Writings, and Discoveries of Sir Isaac Newton:" p.268.
  • Levenson, Thomas (2009). Newton and the counterfeiter: the unknown detective career of the world's greatest scientist. 
  • "Sir Isaac Newton's Unpublished Manuscripts Explain Connections He Made Between Alchemy and Economics" . 
  • Michon, Gerard. "Coat of arms of Isaac Newton" . 
  • "Duillier, Nicholas Fatio de (1664–1753) mathematician and natural philosopher" . 
  • "Silly relic-worship" . The New York Times. 16 January 1881. p. 10. 
  • Snobelen, Stephen D. (1999). "Isaac Newton, heretic: the strategies of a Nicodemite" 
  • Tyson, Neil Degrasse (2005). "The Perimeter of Ignorance". Natural History Magazine.
  • "Papers Show Isaac Newton's Religious Side, Predict Date of Apocalypse" 
  • Berkun, Scott ( 2010). The Myths of Innovation. 
  • "Newton's apple: The real story" .
  • Christianson, Gale (1984). In the Presence of the Creator: Isaac Newton & His Times. 
  • Craig, John (1958). "Isaac Newton – Crime Investigator". 
  • Craig, John (1963). "Isaac Newton and the Counterfeiters".
  • White, Michael (1997). Isaac Newton: The Last Sorcerer.
  • Wikipedia.

Moses: কোরাণিক ক্যানভাসে নবী মূসা।

Abu Hena Mostafa Kamal  01 May, 2017 মি সরের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ফেরাউন। হঠাৎ করে তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। কিন্তু তিনি কোন উত্তরাধিকারী ন...