pytheya.blogspot.com Webutation

১৯ আগস্ট, ২০১৫

Pickthall: মুসলমানরা ইসলাম মিরাসি সূত্রে প্রাপ্ত।

মারমাডিউক উইলিয়াম পিকটাল (Marmaduke William Pickthall) এর জন্ম ইংল্যান্ডের সফকের (Suffolk) উডব্রীজের নিকটবর্তী চিলিসফোর্ড (Chillesford) গ্রামে ১৮৭৫ সনের ৭ই এপ্রিল। তার পিতা চার্লস গ্রেসন পিকটাল (Charles Grayson Pickthall) ছিলেন স্থানীয় গির্জার একজন বিশপ। প্রথমা স্ত্রী মারা গেলে চার্লস পিকটাল ডি.এন.ও ব্রাইনের কন্যা মেরি হল’কে (Mary Hale) ২য় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। এই হলের গর্ভেই মারমাডিউক পিকটালের জন্ম। 

১৮৮১ সনে চার্লস পিকটাল মারা যান। এসময় তার পরিবার সফকের যাজক স্বত্ত্ব (Suffolk rectory) বিক্রি করে দিয়ে লন্ডনে চলে আসে। শহরে এসে পিকটাল নারফুকের স্কুলে ভর্তি হন। এরপর তিনি হেরোতে (Harrow) সরকারি স্কুলে এ্যাডমিশন নেন। এখানে তিনি ওয়েলস ও গ্যালিক ভাষা শেখেন। ভাষায় উপর তিনি এতটাই দক্ষতা অর্জন করেন যে, তার শিক্ষক তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শূণ্য পদে নিয়োগের জন্যে সুপারিশ করেন।কিন্তু পিকটাল ঐ পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হতে পারেননি তবে ঐ সময় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় তিনি সফল হন। প্রেমিকা মুরেল স্মিথ (Muriel Smith) তার প্রোপোজ একসেপ্ট করেন। 

পড়াশোনাকালীন সময়েই উইন্সটন চার্চিলের (Winston Churchill) সঙ্গে 
পিকটালের বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ বন্ধুত্ব সম্পর্ক আজীবন অটুট ছিল। একসময়ে চার্চিল বৃটিশ রাজনীতিতে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মারমাডিউক উইলিয়াম পিকটাল
এদিকে মাধ্যমিক শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে পিকটাল ফ্রান্সে গমন করেন। সেখানে তিনি ফরাসি ভাষা শেখেন। ফ্রান্স থেকে যান ইটালিতে। ইটালিয়ান ভাষাতেও তিনি দক্ষতা অর্জন করেন। এরপর দেশে ফিরে জার্মান ও স্প্যানিশ ভাষা শেখেন। এ সময়ই সাহিত্য ও ইতিহাসের প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি। এ সূত্রেই তিনি প্রাচ্য ও প্রাচ্যের জীবন-সাহিত্যের সাথে পরিচিত হন। 

১৮৯৪ সনে পিকটাল মধ্যপ্রাচ্যে গমন করেন। প্রথমে মিসর যান এবং সেখানকার সংস্কৃতিতে আকৃষ্ট হন। আর তাই আরবী ভাষা-ভাষী লোকদের দৈনিন্দন জীবনাচার সম্পর্কে জানতে অত:পর একজন দোভাষী এবং গাইডকে সঙ্গে নিয়ে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে রামাল্লা এবং গাজায় পৌঁছে যান তিনি। 

প্যালেস্টাইনীদের জীবনযাত্রা পিকটালকে খুবই আকৃষ্ট করে। তিনি দেখতে পান যে, সেখানে পাবলিক স্কুলের একজন ছাত্র প্রায় পৌত্তলিক আবেগ নিয়েও অকল্পনীয় স্বাধীনতার মধ্যে বেড়ে উঠছে। Most Palestinians never set eyes on a policeman, and lived for decades without engaging with government in any way. Islamic law was administered in its time-honoured fashion, by qadis who, with the exception of the Sahn and Ayasofya graduates in the cities, were local scholars. Villages chose their own headmen, or inherited them, and the same was true for the bedouin tribes. The population revered and loved the Sultan-Caliph in faraway Istanbul, but understood that it was not his place to interfere with their lives.

The deep faith of the Levantine peasantry which so amazed him was sustained by the sincerity that can only come when men are free, not forced, in the practice of religion. For the state to compel compliance is to spread vice and disbelief; as the Arab proverb which he well-knew says: ‘If camel-dung were to be prohibited, people would seek it out.’

Pickthall saw Islam as radical freedom, a freedom from the encroachments of the State as much as from the claws of the ego. It also offered freedom from narrow fanaticism and sectarian bigotry. Late Ottoman Palestine was teeming with missionaries of every Christian sect, each convinced, in those pre-ecumenical days, of its own solitary rightness. He was appalled by the hate-filled rivalry of the sects, which, he thought, should at least be united in the land holy to their faith. But Christian Jerusalem was a maze of rival shrines and liturgies, where punches were frequently thrown in churches, while the Jerusalem of Islam was gloriously united under the Dome, the physical crown of the city, and of her complex history.

It soon became clear to Pickthall that their Dissenting theology, which moved far beyond Calvin in its rejection of original sin and orthodox Trinitarian doctrine, and its emphasis on knowing God through closeness to nature, was precisely the message of Islam. This was a religion for autonomous communities, self-governing under God, each free to elect its own minister. 

প্যালেস্টাইন থেকে পিকটাল সিরিয়ায় গমন করেন। The picaresque adventures of his days in Palestine had given way to a serious spiritual and intellectual quest. Like Henry Stubbe, another Commonwealth dissident, he saw in Islam the fulfilment of the English dream of a reasonable and just religion, free of superstition and metaphysical mumbo-jumbo, and bearing fruit in a wonderful and joyful fellowship. As the New Statesman put it in 1930, reviewing his Koranic translation: ‘Mr Marmaduke Pickthall was always a great lover of Islam. When he became a Muslim it was regarded less as conversion than as self-discovery.’ 

দামেস্কের মসজিদ।
সিরিয়ায় এসে পিকটাল আরবী শেখা শুরু করেন বিখ্যাত দামেস্কের মসজিদের শায়খ উল উলেমার নিকট। এসময় রহস্যময় আরবী গ্রামারের উপর নিয়মানুযায়ী অনুশীলনের প্রয়োজনে পাঠ করেন কোর‘আন। কোর’আন পড়তে পড়তেই তিনি তার শিক্ষক শায়খের নিকট ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছে প্রকাশ করেন। 

শায়খ ছিলেন পোড়খাওয়া বর্ষীয়ান ব্যক্তি, তিনি পিকটালকে তার মায়ের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং মায়ের সঙ্গে পরামর্শ না করে ইসলাম গ্রহণ করতে নিষেধ করেন। ‘No, my son,’ were his words, ‘wait until you are older, and have seen again your native land. You are alone among us as our boys are alone among the Christians. God knows how I should feel if any Christian teacher dealt with a son of mine otherwise than as I now deal with you.’ […]  এ সম্পর্কে পিকটাল আত্মকথনে লেখেন, “এ উপদেশ আমার উপর ভালই প্রভাব ফেলে, কারণ আমার ধারণা ছিল, মুসলমানরা বিধর্মীদের মুসলিম বানানোর জন্যে অতি উৎসাহী হয়ে থাকে।”

আরবী শেখার পর পিকটাল প্রাচ্যের গদ্য-পদ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির উপর পাঠ নিতে থাকেন। অবশ্য সমালোচকেরা বলেন যে, তিনি আরবী ভাষা রপ্ত করেছিলেন কেবল প্যালেস্টাইনে ইংল্যান্ডের কন্সুলার পদটি অধিকার করার মানসে।

যা হোক, শায়খের অসম্মতির কারণে পিকটাল ইসলাম গ্রহণ ব্যতিরেকেই দামেস্ক ছেড়ে জেরুজালেমে ফিরে আসেন। এসময় চারিদিক থেকে চাকুরী তাকে হাতছানি দিচ্ছিল। ব্রিটিশ মিউজিয়াম তার প্রাচীন ওয়েলস ও আইরিশ জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে তাকে একটি পদ অফার করে। কিন্ত তিনি ঐ চাকুরীতে যোগদানে সম্মত হননি। এরপর জেরুজালেমের হাইফাতে ব্রিটিশ কন্সুলেটে ভাইস কন্সুলশিপ তাকে অফার করা হয়। কিন্তু বয়স অল্পের কারণে পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে কর্তৃপক্ষ।  

প্যালেস্টাইন থেকে এরপর তিনি উটে চড়ে জুদি পাহাড় সফরে যান। এইসব ভ্রমনে আরব কৃষকদের জীবনাচার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। প্রাচ্যের সাদামাটা এবং প্রাকৃতিক জীবনধারা তাকে প্রভাবিত করে, তাকে তার জীবন বোধ সম্পর্কে নূতন উপলব্ধি এনে দেয়। তিনি অনুভব করেন মুসলিমগণ পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে সুখী, never complaining even when faced with dire threats. The Christians among them were protected and privileged by the Capitulations. The Ottoman Balkans, under the sultans a place of refuge for victims of church wars, had been cruelly diminished by crusade and insurrection, prompted, in every case, from outside.

He saw the Morea, the first land of Greek independence, in which a third of a million Muslims had been slaughtered by priests and peasants. The remaining corners of Ottoman Europe seemed overshadowed by a similar fate; but still the people smiled. It was the grace of rida. পরবর্তীতে আত্ম-উপলব্ধিতে তিনি লিখেছিলেন- 

“When I read The Arabian Nights I see the daily life of Damascus, Jerusalem, Aleppo, Cairo, and the other cities as I found it in the early nineties of last century. What struck me, even in its decay and poverty, was the joyousness of that life compared with anything that I had seen in Europe. The people seemed quite independent of our cares of life, our anxious clutching after wealth, our fear of death.”

এসময় পরিবার থেকে ডাক আসে পিকটালেরলন্ডনে ফিরে প্রেমিকার বাড়ীর সামনে অবস্থান নেন এবং তার মাতা পিতাকে রাজী করান। ১৮৯৬ সনের সেপ্টেম্বরে পিকটাল তার প্রেমিকা মুরেল স্মিথ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। চার্চের রীতি অনুসারে বিবাহের আগের দিন তারা রোজা রেখেছিলেন। 

১৯০৩ সনে পিকটালের প্রথম উপন্যাস “The Fisherman Said” প্রকাশিত হয়। অবশ্য ইউরোপের অধিকাংশ প্রকাশনাই প্রথমে এটি ছাপতে রাজী হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে বইটি বেস্ট সেলারের তালিকায় চলে এলে ফরাসি, জার্মানসহ ইউরোপের অন্যান্য ভাষায়ও সেটি অনুদিত হয়। H.G. Wells, এই পুস্তক সম্পর্কে লেখেন, “I wish that I could feel as certain about my own work as I do of yours, that it will be alive and interesting people fifty years from now.” 

Enid (১৯০৪), Brendle (১৯০৫), The House of Islam (১৯০৬) ও The Myopes (১৯০৭)  প্রকাশনার পর পিকটাল এক আমন্ত্রণে প্রায় ১০ বৎসর পর দ্বিতীয়বারের মত মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায় গমন করেন। এ সময় নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে Children of the Nile (১৯০৮) ও The Valley of the Kings (১৯০৯) উপন্যাস দু’টি লেখেন। 

Enid হচ্ছে পিকটালের ১ম celebrated Suffolk tales, reminiscent in some respects of the writings of the Powys brothers. It was followed by The House of Islam, which he wrote while nursing his mother in her final illness, and at a time when his life was saddened by the growing realisation that he would never have children. The novel is unsteady and still immature: still only in his twenties, Pickthall could manage the comic scenes of Said the Fisherman, but could not fully sustain the grave, tragic theme which he chose for The House, which described the anguish of a Muslim compelled to take his sick daughter to a Western Christian doctor when traditional remedies had failed. 

মিসর থেকে স্ব-স্ত্রীক বৈরুতে চলে আসেন পিকটাল এবং সেখান থেকে দামেস্কে। সেই silent city of lanes, hidden rose-bowers, and walnut trees. এখানকার গভীর শান্ত পরিবেশ তার অভিযান প্রিয় মনকে কিছুকাল শান্ত রাখে।

Cleveland Coxe
১ম বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে উঠলে পিকটাল দামেস্ক থেকে লন্ডনে ফিরে আসেন। ইতিমধ্যে তার বেশ কয়েকটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে- Pot an Feu (১৯১১), Larkmeadow (১৯১২), The House at War (১৯১৩)। 

যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পিকটাল লন্ডনেই ছিলেন। এ সময় ‍তিনি ইসলামিক রিভিউ সাময়িকীর সংকলন ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধে ক্রিশ্চিয়ানদের বিজয়ে এসময় ইংল্যাণ্ড ছিল পুরো উল্লাসিত। তুর্কীর সুহৃদ ও সমর্থক হওয়ায় এই বিজয়ের ডামাডোলে পিকটাল ছিলেন বিচূর্ণ। The Bishop of London held a service of intercession to pray for the victory of the Bulgarian army as it marched on Istanbul. Where, in all this, was Pickthall’s high Anglicanism?

It was the English mood of holy war which finally drove him from the faith of his fathers. He had always felt uncomfortable with those English hymns that curse the infidel.One particular source of irritation was Bishop Cleveland Coxe’s merry song:

“Trump of the Lord! I hear it blow!
Forward the Cross; the world shall know
Jehovah’s arms against the foe;
Down shall the cursed Crescent go!
To arms! To arms!
 God wills it so.

And now, in a small Sussex village church, Pickthall heard a vicar hurling imprecations against the devilish Turk. The last straw was Charles Wesley’s hymn ‘For the Mahometans’:

‘O, may thy blood once sprinkled cry
For those who spurn Thy sprinkled blood:
Assert thy glorious Deity
Stretch out thine arm thou triune God
The Unitarian fiend expel
And chase his doctrines back to Hell.’

Pickthall thought of the Carnegie Report, which declared, of the Greek attack on Valona, that ‘in a century of repentance they could not expiate it.’ He thought of the forced conversions of the Pomaks in Bulgaria. He remembered the refugees in Istanbul, their lips removed as trophies by Christian soldiers. He remembered that no Muslim would ever sing a hymn against Jesus. He could stand no more. He left the church before the end of the service, and never again considered himself a Christian.

With the Turk in Wartime (১৯১৪), Tales from Five Chimneys (১৯১৫), প্রকাশের পর পিকটালের great harem novel, Veiled Women (১৯১৬) প্রকাশিত হয়। সন্দেহ নেই, he was concerned to be true to his perceptions; he would document English and Oriental life as he found it, not as he or others would wish it to be. The greatness of the Oriental vision would in this way shine through all the brighter.

Knights of Araby (১৯১৭), প্রকাশের পর ২৯ শে নভেম্বর ১৯১৭ সনে নটিং হিল, পশ্চিম লন্ডনে মুসলিম লিটারেরী সোসাইটিত “ইসলাম ও প্রগতি:”’র উপর বক্তৃতা দান শেষে পিকটাল নাটকীয় ভাবে তার ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। তার এ ঘোষণায় শিক্ষিত ও রাজনৈতিক মহলে হৈ-চৈ পড়ে যায়। স্ত্রী মুরিয়েল followed him soon afterwards.

এসময় পিকটাল বলেছিলেন, ‘আমি বহু পড়াশোনা ও গবেষণার পর মুসলমান হয়েছি। আমার জীবনে এর অসীম গুরুত্ব রয়েছে। মুসলমানরা ইসলাম মিরাসি সূত্রে প্রাপ্ত। এজন্যে তারা এর কদর বোঝে না। বাস্তবতা হল ইসলাম পরিত্রাণ, শান্তি ও নিরাপত্তার ভাণ্ডার। এ নেয়ামতের জন্যে খোদার নিকট যত কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করা হোক না কেন, তা যথেষ্ট হবে না।’ 

সত্যি বলতে কি, পিকটালের মুসলমান হওয়া যতটা না কনভার্সান তার চেয়ে অনেক বেশী নিজের অর্জণ, যা ছিল অনেকটা পৌত্তলিক পরিবারে জন্ম নেয়া ইব্রাহিমের সত্য ও সরল পথটি খুঁজে পাবার মত। 

Oriental Encounters -Palestine and Syria (১৯১৮), Sir Limpidus (১৯১৯) প্রকাশের পর ১৯২০ সনে উমর সুবহানীর আমন্ত্রণে পিকটাল স্ব-স্ত্রীক (with wife Muriel Smith) বোম্বে আসেন এবং তৎকালীন স্বনামধণ্য পত্রিকা বোম্বে ক্রনিকেল (The Bomby chronicle) এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ সময়, most of the Chronicle’s staff were on strike; within six months Pickthall had turned it around and doubled its circulation, through a judicious but firm advocacy of Indian evolution towards independence. 

১৯২৪ সনে, the Raj authorities found the Chronicle guilty of misreporting an incident in which Indian protesters had been killed. Crushing fines were imposed on the newspaper, and Pickthall resigned from The Bomby Chronicle. ইতিমধ্যে তার আরো দু’টি উপন্যাস The Early Hours (১৯২১) ও As others See us (১৯২২) প্রকাশিত হয়েছে। 

পত্রিকার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে পিকটাল কিছুদিন বিশ্রামের জন্যে পশ্চিমে চলে যান। এসময়ই হায়দারাবাদের নিজাম পত্র মারফত তাকে চাদরঘাট কলেজের প্রিন্সিপালের দায়িত্বভার নেবার বিশেষ অনুরোধ করেন। পিকটাল নিজামের এ অনুরোধ রক্ষা করেন এবং ১ জানুয়ারি ১৯২৫ সালে নতুন ঐ দায়িত্বভার বুঝে নেন। পরবর্তীতে নিজাম তাকে রাজ্যের সিভিল সার্ভিস একাডেমীর মহা-পরিচালকের পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

১৯২৭ সনে পিকটাল ইসলামিক কালচার (Islamic Culture) নামে একটি ষান্মাসিক ইংরেজি সাময়িকী বের করেন। এতে বৈজ্ঞানিক, সাহিত্যিক, দার্শনিক এবং তাত্ত্বিক প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ হত। মূলত এটি ছিল ইসলামি সংস্কৃতি ও সুসমাচারের দর্পন, যাতে বহু প্রাচ্যবিদের (Orientalist) লেখা প্রকাশিত হত। 

পিকটালের সবচেয় বড় কীর্তি হচ্ছে তার অনূদিত কোর’আন। ১৯৩০ সালে এই তর্জমা Qur’an The Glorious নামে এক যোগে লন্ডন এবং নিউইয়র্ক থেকে ছাপা হয়। এটি দু’খণ্ডে হায়দারাবাদ থেকেও ছাপা হয়। পিকটাল তার অনূদিত কোর’আনের (Quran The Glorious) ভূমিকায় লেখেন- “এ অনুবাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, পুরো বিশ্বের মুসলমানরা কোর’আনের শব্দাবলি থেকে যা জ্ঞাত হন, তা শিক্ষিত ইংরেজদের সামনে পেশ করা। আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে ইংরেজ ভাষী মুসলমানদের অভাব পূরণ করা। এ দাবি অত্যন্ত পবিত্রতার সঙ্গে করা যায় যে, প্রত্যাদেশ এবং ঐশ্বরিক পয়গাম অবিশ্বাসী ব্যক্তির দ্বারা কোন ঐশি গ্রন্থ নিখাদভাবে উপস্থাপন অসম্ভব।’

১৯৩৫ সালের জানুয়ারিতে পিকটাল হায়দারাবাদ এডুকেশন সার্ভিস থেকে পদত্যাগ করেন। নিজাম আজীবন তার জন্যে পেনশন নির্ধারণ করে দেন। পিকটাল লন্ডন (St Ives, Cornwall.) ফিরে যান। ইসলামিক কালচার যা পূর্বে হায়দারাবাদ থেকে বেরুচ্ছিল, এখন লন্ডন থেকে তা প্রকাশ হতে লাগল। 

মারমাডিউক উইলিয়াম পিকটাল- এই মুসলিম মনীষী, আলেম ও চিন্তক মাত্র ৬১ বৎসর বয়সে ১৯ মে ১৯৩৬ সনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। তাকে সমাহিত করা হয় লন্ডনের সূরের ব্রুকউড মুসলিম সেমিটারীতে, যেখানে পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ ইউসূফ আলীকে (Abdullah Yusuf Ali) সমাহিত করা হয়। 

সমাপ্ত।
উৎস:
  • Shaheen, Mohammad. "Pickthall, Marmaduke William (1875–1936)". 
  • Murad, Abdal Hakim. "Marmaduke Pickthall: a brief biography" .
  • Fremantle, Anne (1938). Loyal Enemy. 
  • Pickthall, Muriel (1937). "A Great English Muslim".
  • Rentfrow, Daphnée. "Pickthall, Marmaduke William (1875-1936)" 
  • Hurst, Dennis G (2010). America on the Cusp of God's Grace .
  • Anne Jackson Fremantle, Loyal Enemy. London: Hutchinson, 1938.
  • Peter Clark, Marmaduke Pickthall: British Muslim, London: Quartet, 1986.
  • Peter Clark, ‘A man of two cities: Pickthall, Damascus, Hyderabad.’ Asian Affairs 25/iii (1994), 281-292.
  • Marmaduke Pickthall, ‘In Memory of British Statesmanship’, The Muslim Outlook, Jan 22, 1920, pp.3-4.
  • Marmaduke Pickthall, ‘Muslim Education’, Islamic Culture 1 (1927), 100-9.
  • Marmaduke Pickthall, ‘Mr Yusuf Ali’s Translation of the Qur’an’, Islamic Culture IX (1935), 519-21.
  • Muriel Pickthall, ‘A Great English Muslim.’ Islamic Culture XI (1937), 138-42.
  • Omar Khalidi, ‘The Caliph’s Daughter’, Cornucopia 31 (2004), 34-38.
  • Nabil Matar, Islam in Britain 1558-1685. Cambridge: Cambridge University Press, 1998.

এক পাঠক প্রশ্ন করল- “তা বিশপ Cleveland এর war-cry এর কি কেউ জবাব দেয়নি?” জবাবে আমি বললাম, “ইবলিসের শত প্রচেষ্টাতেও দুনিয়ার সব মানুষ কখনও “গে” হবে না। সুতরাং প্রতিউত্তর থাকবেই।” পাঠকদের সুবিধার্থে দু’টোই পাশাপাশি এখানে রাখলাম।

The Cursed Crescent"
The war-cry of Cleveland Coxe
Bishop, Western Diocese, New York.
(a theological appeal of Christianity against Mohammedanism)

“Trump of the Lord! I hear it blow!
Forward the Cross; the world shall know
Jehovah’s arms against the foe;
Down shall the cursed Crescent go!
To arms! To arms!
 God wills it so.

God help the Russians-God bless the Czar,

Shame on the swords that trade can mar,
Shame on the Laggards, faint and far,
 That rise not to the holy war.
To arms! To arms!
 The Cross and Czar.

How long, O Lord, Thou art just,

Vengeance is Thine, in Thee we trust,
Wake, arm of God, and dash to dust,
Those hordes of rapine and of lust.
To arms! To arms!
 Wake swords that rust.

Forwards the Cross. Break, clouds of Ire,

Brake with the Thunder and the fire,
To new Crusades let Faith inspire,
Down with the crescent to the mire.
To arms! To arms! 
 The vengeance dire.

To high Stamb.iul that Cross restore! 

Glitter its glories as of yore. 
Down with the Turk! From Europe's shore 
Drive back the Payuim, drunk with gore.
To arms! To arms! 
To arms once more!”

The Bishop Answered by Mr. W. Croffut.

Thou Man of God, who thus implore,
Thy brother's sacred blood to pour,
In hateful tides of turbid gore,
From Dardanelles to Danube's shore.
Be still! Be still!
Blaspheme no more.

God help the babes, God help the Wives;
Shame on the Priests that whet the knives,
Shame on the Church whose alter thrives,
By wrecking peaceful peasants' lives.
Be still! Be still!
`Tis hell that drives.

How long, O Lord, before Thy shrine,
Shall men pray Vengeance, God, is Thine,
Then worship Moloch as Divine,
And drink the battle's bloody wine?
Be still! Be still!
O heart of mine.
-----

১৩ আগস্ট, ২০১৫

John Damascene: একজন খৃষ্টান সাধুর ইসলাম অজ্ঞতা না-কি শঠতা?

জন দামেস্কানী বা সাধু জন ছিলেন একজন সিরীয় সন্যাসী এবং পাদ্রী। পুরো নাম ইউহান্না ইবনে মনসূর (Yuhanna ibn Mansur) এবং ডাকনাম জনা। তিনি জন্মগ্রহণ করেন সিরিয়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১ম মুয়াবিয়ার শাসনামলে ৬৭৫-৭৬ সনে এবং মৃত্যুবরণ করেন জেরুজালেমের নিকটবর্তী মার সাবাতে (Mar Saba), নিজ মঠে, চার্চের সম্মানিত ফাদার হিসেবে কর্মরত অবস্থায়- ৪ ডিসেম্বর, ৭৪৯ সনে।

জন দামেস্কানী
জনার ক্রিশ্চিয়ান নাম জন। তিনি মূলত: সিরিয়ায় লালিত-পালিত হন। তার পিতৃব্য মনসূর হেরাক্লিয়াসের অধীনে ঐ অঞ্চলের করনীতি নির্ধারক ছিলেন। মনসূর সম্ভবত: সিরিয় মরুভূমির তগলিব বা কাল্ব বেদুইন গোত্রভূক্ত, তবে তার অনারব বংশোদ্ভূত হবার সম্ভাবণাও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। 

দশম শতকের একজন মেলকাইট প্যার্টিয়ার্ক Eutychius উল্লেখ করেন যে, শহরের কোন এক আরব গভর্ণর নগরীটিকে মুসলিমদের নিকট সমর্পণ করেন, সম্ভবত: ঐ ব্যক্তি ছিলেন জনের পিতামহ মুনসূর বিন সার্গূম। ৭ম শতক সিইর শেষভাগে অঞ্চলটি যখন মুসলিম শাসনের অধীনে চলে আসে, তখন দামেস্কের কোর্ট ক্রিশ্চিয়ান সরকারী কর্মচারীর এক বৃহৎ অংশ বহাল রাখে, জনের পিতামহ তাদের একজন ছিলেন। আর জনের পিতা সার্জুন (সার্গিয়াস) বা ইবনে মনসূর উমাইদ খলিফার অধীনে কাজে নিয়োজিত হন। 

অনেকের মতে সাধু হিসেবে মঠে যোগদানের পূর্বে জন তার পিতার মৃত্যুর পর খলিফার দরবারে কিছুকাল কাজ করেন। তবে এটা প্রশ্নবিদ্ধ একারণে যে, জন নিজে যেমন কোথাও এ সম্পর্কে কোনকিছু বলেননি তেমনি মুসলিম কোন উৎসেও এ বিষয়ে কোন তথ্য নেই। তাছাড়া মুসলিমদের সংস্পর্শে থাকার পরও তার নবী মুহম্মদ ও কোরআন সম্পর্কে হাস্যকর জ্ঞান বিষয়টির সত্যতা একেবারে উড়িয়ে দেয়। যাহোক, এটা বিশ্বাস করা হয় যে, জন মার শেবাতে পাদ্রী হিসেবে যোগদান করেন ৭৩৫ সনে। 

মার শেবা মঠ, জেরুজালেম
জনের জীবনী থেকে জানা যায় আরবী ভাষার পাশাপাশি তিনি যেন গ্রীক ভাষাতেও সমান দক্ষ হয়ে ওঠেন, এমনটাই তার পিতার আকাংখা ছিল। অন্য উৎস বলে যে, দামেস্কে জন সেক্যুলার হেলেনিক বা ক্লাসিক্যাল ক্রিশ্চিয়ান শিক্ষায় শিক্ষা লাভ করেন।

আর একটি উৎস তার শিক্ষক হিসেবে কসমাস (Cosmas) নামের একজন সাধুকে সনাক্ত করেছে, যাকে আরবগণ দাস হিসেবে সিসিলি (Sicily) থেকে নিয়ে এসেছিল এবং জনের পিতা মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাকে ক্রয় করে নেন। এই কসমসের তত্ত্বাবধানে জন সঙ্গীত, জ্যোতির্বিদ্যা, ধর্মশাস্ত্র, গণিত ও জ্যামিতি শিক্ষা লাভ করেন। 

৮ম শতকের প্রথমভাগে উমাইদ খেলাফত বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সীমানা অঞ্চলসমূহ দখল করে নেয় এবং কন্সট্যান্টিনোপল অবরোধ করে (৭১৭-৭১৮)। এসময় সবেমাত্র সম্রাট ৩য় লিও পূর্ববর্তী সম্রাটকে অপসারণ করে সিংহাসনে বসেছিলেন এবং issued his first edict against the veneration of images (icon) and their exhibition in public places.

এ সময় জন এর বিরোধিতা করে "Apologetic Treatises against those Decrying the Holy Images", নামে এক কিতাব লেখেন। এসব লেখনীতে তিনি not only attacked the Byzantine emperor, but adopted a simplified style that allowed the controversy to be followed by the common people, stirring rebellion among those of Christian faith. আর তার এসব লেখা, তার মৃত্যুর এক দশক পর, ২য় নিকাইয়ার সম্মেলনে (৭৮৭ সনে) এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা convened to settle the icon dispute.

মজার ব্যাপার হচ্ছে জনের জীবনীতে আলৌকিকতার উল্লেখ পাওয়া যায়, যা তাকে কিম্বদন্তীতে পরিণত করেছে। সম্রাট ৩য় লিও খলিফা ১ম আল-ওয়ালিদের নিকট তার বিরুদ্ধে জন দামেস্কানীর ষড়যন্ত্রের তথ্য-প্রমান সরবরাহ করেন। তথ্যের সত্যতা যাঞ্চাই শেষে খলিফা জনের ডান হাত কেটে ফেলে তা জনসম্মুখে ঝুলিয়ে প্রদর্শণীর আদেশ দেন। এরপর জন asked for the restitution of his hand, and prayed fervently to the Theotokos before her icon: thereupon, his hand is said to have been miraculously restored. In gratitude for this miraculous healing, he attached a silver hand to the icon, which thereafter became known as the "Three-handed", or Tricheirousa.

চার্চের সম্মনিত ফাদার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ৭৪৯ সনে জন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তিনি একজন সাধু হিসেবে স্বীকৃতি পান। তাকে অনেক সময় রোমান ক্যাথলিক চার্চের শেষ ফাদার হিসেবেও সম্বোধন করা হয়। ১৯৮৩ সনে পোপ ত্রয়োদশতম লিও তাকে একজন Doctor of the Church-এর মর্যাদায় ভূষিত করেন। 

এবার আমরা মূল উপস্থাপনায় আসি। নবী মুহম্মদের আগমণের পর আরবের পৌত্তলিকতা দূরীভূত হল। তিনি বললেন, ”মিথ্যা অপসৃত এবং সত্য সমাগত।” আর তার সেই প্রচারিত সত্যের জোয়ারে তার মৃত্যুর অল্পদিনের মধ্যেই সকল মিথ্যা ভেসে গেল। ইসলাম পৌঁছে গেল সূদূর আফ্রিকা থেকে ভারতবর্ষ এবং ইউরোপের দ্বারপ্রান্তে। এই সময় আরবী ভাষাভাষী একজন শিক্ষিত খৃষ্টান পাদ্রীর মুহম্মদ এবং কোরআন সম্পর্কে অজ্ঞতা হাস্যকর, ইডিয়োটিক বা সিলি প্রশ্নগুলো পুরোই বালখিল্যে ভরা। তার লেখা পড়ে প্রথমেই যে কথাটি মনে আসে তা হল, তিনি কি সত্যই স্টুপিড না-কি চরম শঠতাকারীদের একজন? 

জনের শিক্ষা এবং গ্রীসীয় থিয়োলজীক জ্ঞান যা তার অন্যান্য লেখায় পাওয়া যায় তাতে আমরা তাকে স্টুপিড হিসেবে সনাক্ত করতে পারি না। সুতরাং তিনি একজন শঠ, প্রবঞ্ছনাকারী। কিন্তু কেন তিনি এই শঠতার আশ্রয় নিলেন? সম্ভবত: ঐ সময়ে ইসলামের জোয়ারে ভেসে যাওয়ার হাত থেকে খৃষ্টধর্ম এবং খৃষ্টানদেরকে রক্ষার স্বার্থেই ধর্মবেত্তা হিসেবে মূর্খ খৃষ্টসমাজের সামনে ইসলাম ধর্মের এমন পরিচয় তুলে ধরতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। যা হোক এখন আমরা তুলে ধরছি তার “ইশ্মায়েলীদের বৈধর্ম্য” শীর্ষক লেখার চুম্বক অংশ। আমার মনে হয় সেরা বিনোদন হবে পাঠকদের কাছে এটি- 

“There is also the superstition of the Ishmaelites which to this day prevails and keeps people in error, being a forerunner of the Antichrist. They are descended from Ishmael, [who] was born to Abraham of Agar, and for this reason they are called both Agarenes and Ishmaelites. They are also called Saracens, which is derived from Sarras kenoi, or destitute of Sara, because of what Agar said to the angel: ‘Sara hath sent me away destitute.’ These used to be idolaters and worshiped the morning star and Aphrodite, whom in their own language they called Akhbár, which means great. And so down to the time of Heraclius they were very great idolaters. 

From that time to the present a false prophet named Mohammed has appeared in their midst. This man, after having chanced upon the Old and New Testaments and likewise, it seems, having conversed with an Arian monk, devised his own heresy. Then, having insinuated himself into the good graces of the people by a show of seeming piety, he gave out that a certain book had been sent down to him from heaven. He had set down some ridiculous compositions in this book of his and he gave it to them as an object of veneration.

He says that there is one God, creator of all things, who has neither been begotten nor has begotten. He says that the Christ is the Word of God and His Spirit, but a creature and a servant, and that He was begotten, without seed, of Mary the sister of Moses and Aaron. For, he says, the Word and God and the Spirit entered into Mary and she brought forth Jesus, who was a prophet and servant of God. And he says that the Jews wanted to crucify Him in violation of the law, and that they seized His shadow and crucified this. But the Christ Himself was not crucified, he says, nor did He die, for God out of His love for Him took Him to Himself into heaven. 

And he says this, that when the Christ had ascended into heaven God asked Him: ‘O Jesus, didst thou say: “I am the Son of God and God”?’ And Jesus, he says, answered: ‘Be merciful to me, Lord. Thou knowest that I did not say this and that I did not scorn to be thy servant. But sinful men have written that I made this statement, and they have lied about me and have fallen into error.’ And God answered and said to Him: ‘I know that thou didst not say this word.” There are many other extraordinary and quite ridiculous things in this book which he boasts was sent down to him from God. 

But when we ask: ‘And who is there to testify that God gave him the book? And which of the prophets foretold that such a prophet would rise up?’—they are at a loss. And we remark that Moses received the Law on Mount Sinai, with God appearing in the sight of all the people in cloud, and fire, and darkness, and storm. And we say that all the Prophets from Moses on down foretold the coming of Christ and how Christ God (and incarnate Son of God) was to come and to be crucified and die and rise again, and how He was to be the judge of the living and dead. Then, when we say: ‘How is it that this prophet of yours did not come in the same way, with others bearing witness to him? And how is it that God did not in your presence present this man with the book to which you refer, even as He gave the Law to Moses, with the people looking on and the mountain smoking, so that you, too, might have certainty?’—they answer that God does as He pleases. ‘This,’ we say, ‘We know, but we are asking how the book came down to your prophet.’ Then they reply that the book came down to him while he was asleep. Then we jokingly say to them that, as long as he received the book in his sleep and did not actually sense the operation, then the popular adage applies to him (which runs: You’re spinning me dreams.) 

When we ask again: ‘How is it that when he enjoined us in this book of yours not to do anything or receive anything without witnesses, you did not ask him: “First do you show us by witnesses that you are a prophet and that you have come from God, and show us just what Scriptures there are that testify about you”’—they are ashamed and remain silent. [Then we continue:] ‘Although you may not marry a wife without witnesses, or buy, or acquire property; although you neither receive an ass nor possess a beast of burden unwitnessed; and although you do possess both wives and property and asses and so on through witnesses, yet it is only your faith and your scriptures that you hold unsubstantiated by witnesses. For he who handed this down to you has no warranty from any source, nor is there anyone known who testified about him before he came. On the contrary, he received it while he was asleep.’

Moreover, they call us Hetaeriasts, or Associators, because, they say, we introduce an associate with God by declaring Christ to the Son of God and God. We say to them in rejoinder: ‘The Prophets and the Scriptures have delivered this to us, and you, as you persistently maintain, accept the Prophets. So, if we wrongly declare Christ to be the Son of God, it is they who taught this and handed it on to us.’ But some of them say that it is by misinterpretation that we have represented the Prophets as saying such things, while others say that the Hebrews hated us and deceived us by writing in the name of the Prophets so that we might be lost. 

And again we say to them: ‘As long as you say that Christ is the Word of God and Spirit, why do you accuse us of being Hetaeriasts? For the word, and the spirit, is inseparable from that in which it naturally has existence. Therefore, if the Word of God is in God, then it is obvious that He is God. If, however, He is outside of God, then, according to you, God is without word and without spirit. Consequently, by avoiding the introduction of an associate with God you have mutilated Him. It would be far better for you to say that He has an associate than to mutilate Him, as if you were dealing with a stone or a piece of wood or some other inanimate object. Thus, you speak untruly when you call us Hetaeriasts; we retort by calling you Mutilators of God.’

They furthermore accuse us of being idolaters, because we venerate the cross, which they abominate. And we answer them: ‘How is it, then, that you rub yourselves against a stone in your Ka’ba and kiss and embrace it?’ Then some of them say that Abraham had relations with Agar upon it, but others say that he tied the camel to it, when he was going to sacrifice Isaac. And we answer them: ‘Since Scripture says that the mountain was wooded and had trees from which Abraham cut wood for the holocaust and laid it upon Isaac, and then he left the asses behind with the two young men, why talk nonsense? For in that place neither is it thick with trees nor is there passage for asses.’ And they are embarrassed, but they still assert that the stone is Abraham’s. Then we say: ‘Let it be Abraham’s, as you so foolishly say. Then, just because Abraham had relations with a woman on it or tied a camel to it, you are not ashamed to kiss it, yet you blame us for venerating the cross of Christ by which the power of the demons and the deceit of the Devil was destroyed.’ This stone that they talk about is a head of that Aphrodite whom they used to worship and whom they called akhbár. Even to the present day, traces of the carving are visible on it to careful observers.

As has been related, this Mohammed wrote many ridiculous books, to each one of which he set a title. For example, there is the book On Woman, in which he plainly makes legal provision for taking four wives and, if it be possible, a thousand concubines—as many as one can maintain, besides the four wives. 

He also made it legal to put away whichever wife one might wish, and, should one so wish, to take to oneself another in the same way. Mohammed had a friend named Zeid. This man had a beautiful wife with whom Mohammed fell in love. Once, when they were sitting together, Mohammed said: ‘Oh, by the way, God has commanded me to take your wife.’ The other answered: ‘You are an apostle. Do as God has told you and take my wife.’ Rather—to tell the story over from the beginning—he said to him: ‘God has given me the command that you put away your wife.’ And he put her away. Then several days later: ‘Now,’ he said, ‘God has commanded me to take her.’ Then, after he had taken her and committed adultery with her, he made this law: ‘Let him who will put away his wife. And if, after having put her away, he should return to her, let another marry her. For it is not lawful to take her unless she have been married by another. 

Furthermore, if a brother puts away his wife, let his brother marry her, should he so wish.’ In the same book he gives such precepts as this: ‘Work the land which God hath given thee and beautify it. And do this, and do it in such a manner” —not to repeat all the obscene things that he did.

Then there is the book of The Camel of God. About this camel he says that there was a camel from God and that she drank the whole river and could not pass through two mountains, because there was not room enough. There were people in that place, he says, and they used to drink the water on one day, while the camel would drink it on the next. Moreover, by drinking the water she furnished them with nourishment, because she supplied them with milk instead of water. Then, because these men were evil, they rose up, he says, and killed the camel. However, she had an offspring, a little camel, which, he says, when the mother had been done away with, called upon God and God took it to Himself. Then we say to them: ‘Where did that camel come from?’ And they say that it was from God. Then we say: ‘Was there another camel coupled with this one?’ And they say: ‘No.’ ‘Then how,’ we say, ‘was it begotten? For we see that your camel is without father and without mother and without genealogy, and that the one that begot it suffered evil. Neither is it evident who bred her. And also, this little camel was taken up. So why did not your prophet, with whom, according to what you say, God spoke, find out about the camel—where it grazed, and who got milk by milking it? Or did she possibly, like her mother, meet with evil people and get destroyed? Or did she enter into paradise before you, so that you might have the river of milk that you so foolishly talk about? For you say that you have three rivers flowing in paradise—one of water, one of wine, and one of milk. If your forerunner the camel is outside of paradise, it is obvious that she has dried up from hunger and thirst, or that others have the benefit of her milk—and so your prophet is boasting idly of having conversed with God, because God did not reveal to him the mystery of the camel. But if she is in paradise, she is drinking water still, and you for lack of water will dry up in the midst of the paradise of delight. And if, there being no water, because the camel will have drunk it all up, you thirst for wine from the river of wine that is flowing by, you will become intoxicated from drinking pure wine and collapse under the influence of the strong drink and fall asleep. Then, suffering from a heavy head after sleeping and being sick from the wine, you will miss the pleasures of paradise. How, then, did it not enter into the mind of your prophet that this might happen to you in the paradise of delight? He never had any idea of what the camel is leading to now, yet you did not even ask him, when he held forth to you with his dreams on the subject of the three rivers. We plainly assure you that this wonderful camel of yours has preceded you into the souls of asses, where you, too, like beasts are destined to go. And there is the exterior darkness and everlasting punishment, roaring fire, sleepless worms, and hellish demons.’

Again, in the book of The Table, Mohammed says that the Christ asked God for a table and that it was given Him. For God, he says, said to Him: ‘I have given to thee and thine an incorruptible table.’ 

And again, in the book of The Heifer, he says some other stupid and ridiculous things, which, because of their great number, I think must be passed over. He made it a law that they be circumcised and the women, too, and he ordered them not to keep the Sabbath and not to be baptized.

And, while he ordered them to eat some of the things forbidden by the Law, he ordered them to abstain from others. He furthermore absolutely forbade the drinking of wine.”

সমাপ্ত।

উৎস:
  • Suzanne Conklin Akbari, Idols in the East: European representations of Islam and the Orient,
  • Daniel J. Sahas 1972 - John of Damascus on Islam,
  • David Richard Thomas, Syrian Christians under Islam: the first thousand years,
  • Christopher Rengers The 33 Doctors Of The Church,
  • Griffith, Sidney H. "John of Damascus and the Church in Syria in the Umayyad Era,
  • Robert Hoyland, Seeing Islam as Others Saw It,
  • O'Connor, John Bonaventure. "St. John Damascene"
  • Andrew Louth, St. John Damascene: tradition and originality in Byzantine theology,
  • Roggema, Barbara. “Muslims as Crypto-Idolaters—A Theme in the Christian Portrayal of Islam in the Near East.”
  • Reinink, G.J. “Early Christian reactions to the building of the Dome of the Rock in Jerusalem.” 
  • Meyendorff, J. "Byzantine Views of Islam." 
  • Alexander, Paul J. “The Strength of the Empire and Capital as Seen Through Byzantine Eyes.” 
  • Beaumont, Mark Ivor. “Early Christian Interpretation of the Qur’an.” 
  • Berkhof, Louis. The History of Christian Doctrines. 
  • Brock, S.P. “Syriac Views of Emergent Islam.” 
  • Chase, Frederic H, trans. Saint John of Damascus: Writings.
  • Deane, Herbert A. The Political and Social Ideas of St. Augustine.
  • Dvornik, Francis. Early Christian and Byzantine Political Philosophy: Origins and Background.
  • Eusebius, Church History,
  • Griffith, Sidney. “‘Melkites’, ‘Jacobites’ and the Christological Controversies in Arabic in Third/Ninth Century Syria.”
  • Grypeou, Emmanouela, Mark Swanson, and David Thomas, eds. The Encounter of Eastern Christianity with Early Islam.
  • Hawting, G.R. The First Dynasty of Islam: The Ummayad Caliphate (661-750),
  • Holt, P.M., Ann K.S. Lambton and Bernard Lewis, eds. The Cambridge History of Islam,
  • Kennedy, Hugh. The Prophet and the Age of the Caliphates.
  • Lapidus, I.M. “The Arab Conquests and the Formation of Islamic Society.”
  • Louth, Andrew. St. John Damascene: Tradition and Originality in Byzantine Theology.
  • Mango, Cyril, ed. The Oxford History of Byzantium. 
  • Moorehead, J. “The Monophysite Response to the Arab Invasions.” 

২৯ জুলাই, ২০১৫

Mawlid: নবী মুহম্মদের জন্মদিন কোনটি?

অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলার পশ্চিমে অবস্থিত হেজাজ অঞ্চলের মক্কা নগরীতে নবী মুহম্মদ জন্মগ্রহণ করেন। তার সঠিক জন্ম তারিখটি জানা যায় না। এর কারণ এই যে, ঐ সময় আরবদের মাঝে কোন সুনির্দিষ্ট বর্ষপঞ্জি প্রচলিত ছিল না। ফলে ঐতিহসিক ও জ্যোতির্বিদদের যারা এ বিষয়ের উপর কাজ করেছেন, তারা মতামত হিসেবে নবীজীর জন্মের অনেকগুলো সম্ভাব্য তারিখ দিয়েছেন। আর এই মতের ভিন্নতার কারণেই, বিশ্বকোষ ব্রিটেনিকা একটা সন্দেহজনক তারিখ দিয়ে, জন্মসনের স্থানে একটি প্রশ্নবোধক টিহ্ন এঁকে রেখে দিয়েছে। এতে এটা পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে, বিশ্বজগৎ নিশ্চিত নয়, কোন তারিখে নবী মুহম্মদ, যিনি সর্বশেষ নবী হিসেবে পরিচিত, ধরায় আগমন করেছিলেন।

সাধারণভাবে ধরা হয় নবীজীর জন্মদিন (Mawlid) হস্তী বৎসরের (অর্থাৎ যে বৎসর আবিসিনীয় সম্রাট আবরাহা কা’বা আক্রমণ করেছিলেন তার হস্তী বাহিনী নিয়ে।) ১২ই বরিউল আওয়াল, যদিও বৎসর এবং তারিখ দু’টোর ক্ষেত্রেই মতের ভিন্নতা রয়েছে। তবে অধিকাংশ মুসলিম এটা জানে না যে, সঠিক তারিখটির ব্যাপারে বিতর্ক সবসময়ই ছিল এবং ১২ই রবিউল আওয়াল কোন সর্বজন স্বীকৃত তারিখ নয়। আর সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় পাওয়া ফলাফল হস্তী বৎসরের ব্যাপারে যে তথ্য দিয়েছে তা সাধারণভাবে আমাদের জানা তথ্যকে বিতর্কিত করেছে এবং ঐ ভিন্ন মতটিকেই প্রকারন্তে আরও ওজনদার করেছে। গবেষণায় দেখা যায়, হস্তী বৎসরটি নবীজীর জন্মের প্রায় ১৭-১৮ বৎসর পূর্বের। আর হেকলও এ বিষয়ে এমনিতর ভিন্ন মতামত উল্লেখ করেছেন সিরা পা্ঠ্যতে যে, ঐ ঘটনা ছিল নবীজীর জন্মের ১৫ বৎসর পূর্বের বা এমনকি তার জন্মের ৩০-৭০ বৎসর পূর্বেরও হতে পারে। 

‘সহীহ সিত্তা’ বলে খ্যাত হাদিসের ৬টি গ্রন্থের কোনটিতে এমন কোন হাদিস নেই যেটি সুনির্দিষ্ট করবে নবীজীর জন্ম তারিখটি। বরং তাতে এ সংক্রান্ত একমাত্র যে হাদিসটি রয়েছে তা কেবল নির্দিষ্ট করেছে দিনটি, তারিখটি নয়-


আবু কাতাইদা বর্ণনা করেন যে, এক বেদুইন নবীজীর কাছে সোমবার দিন বোজা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তাতে নবীজী উত্তর করেছিলেন- “ঐটি সেইদিন যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছিলাম এবং সেইদিন যেদিন কোরআনের অবতরণ শুরু হয়েছিল।” -সহীহ মুসলিম। 


আর দিনের যে সময়টাতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন তা আমরা জানতে পারি-সিদি আল-গাউস আবদ আল-আজিজ আল-ধাব্বাগ, আল-ইবরিজ এর বর্ণনা থেকে। তিনি উল্লেখ করেছেন-“তিনি (নবীজী) জন্মগ্রহণ করেন, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে, আর সর্বশক্তিমান আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।” 


সুতরাং নবীজী সোমবার জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু কোন মাসের কোন সোমবার? আর বৎসরই বা কোনটি? এটা জানতে আমাদেরকে অন্য উৎসের দিকে নজর দিতে হবে। তথাপি মান সম্পন্ন উৎস হিসেবে হাদিসের যে কিতাবগুলো রয়েছে তাতে কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই। হ্যাঁ, একটা বর্ণনা পাওয়া যায় যার সত্যতা অবশ্য বিতর্কিত, তা হল- সূয়াদ বিন ঘাপলা বর্ণনা করেন- “নবীজী এবং আমি একই বৎসরে, হস্তী বৎসরে জন্মগ্রহণ করি।” সুনান আল-বায়হাকি, ভলিয়্যূম-১, পৃষ্টা-৭৯। আরও কিছু সূত্রও অবশ্য নির্দেশণা দেয় যে, তিনি ঐ বৎসর জন্মগ্রহণ করেন। সুতরাং, হাদিসের মূল ও বর্ধিত কিতাব থেকে আমরা এ পর্যন্ত দু’টো তথ্য কুড়িয়ে পেলাম- 
এক. তিনি সোমবার জন্মগ্রহণ করেন, 
দুই. তিনি হস্তী বৎসরে জন্মগ্রহণ করেন। 

আবার, ইতিহাসের কিতাবগুলোতে দৃষ্টি দিলে আমরা নবীজীর অনেকগুলো জন্ম তারিখ দেখতে পাই। ইবনে ইসহাক (মৃত্যু-১৫০ হিজরী)- গোড়ারদিককার নবীজীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জীবনীকারদের অন্যতম তিনি হাদিস বা অপর গ্রহণযোগ্য কোন সূত্র ছাড়াই উল্লেখ করেছেন যে, নবীজী হস্তী বৎসরের ১২ই রবিউল আওয়াল, সোমবার জন্মগ্রহণ করেন। ইবনে ইসহাক ও নবীজীর জন্মকালের মধ্যে প্রায় ২০০ বৎসরের ব্যবধান রয়েছে, সুতরাং এই দিনটি স্বীকার করে নিতে হলে আমাদের আরও কিছু প্রমাণ অবশ্যই দরকার। 


প্রথমদিককার গুরুত্বপূর্ণ আরেকজন ঐতিহাসিক ইবনে সা’দ (মৃত্যু-২৩০ হিজরী) তার তাবাকাতে নবীজীর জন্ম তারিখ সম্পর্কে কয়েকজন প্রাথমিক বর্ণনাকারীর অভিমত তুলে ধরেছেন। ক্রম অনুসারে সেগুলি হল-


১. হস্তী বৎসরের ২রা রবিউল আওয়াল, সোমবার। 

২. হস্তী বৎসরের ১০ই রবিউল আওয়াল, সোমবার।
৩. সোমবার, কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ নেই।
৪. হস্তী বৎসরে, কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ নেই। 

এখানে মজার ব্যাপার লক্ষ্যণীয় এই যে, ইসলামের গোড়ার দিকের এই প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে সা’দ সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১২ই রবিউল আওয়ালকে তার তালিকায় স্থানই দেননি। অবশ্য শেষ দু’টি অপশনও সঠিক এবং কোন সুনির্দিষ্ট তারিখের সাথে তা বিরোধপূর্ণও নয়। কিন্তু প্রথমদিককার তথ্য দাতারা যারা এতটুকু তথ্য দিয়েছেন, তাদের এসব উদ্ধৃতি উল্লেখ থেকে এটা সহজেই অনুমান করা যায় যে, তাদের কারো নবীজীর সঠিক জন্মতারিখ জানা ছিল না, আর তাই তারা কেবল ততটুকু তথ্যই দিয়েছেন যতটুকু তারা জানেন।


মধ্যযুগের সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ইবনে কাছিরও (ibn Kathir, মৃত্যু-৭৭৪ হিজরী) নবীজীর জন্মতারিখ সম্পর্কে তার স্মারকগ্রন্থ al-Bidāya wa-l-nihāyah-তে অনেকগুলো অভিমত নথিবদ্ধ করেছেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, বেশিরভাগ পন্ডিতই বিশ্বাস করেন নবীজী রবিউল আওয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু সুনির্দিষ্ট তারিখের ব্যাপারে তারা ভিন্ন মত পোষণ করেন। ঐসব অভিমতগুলোর কিছু হল-  


ক). ২রা রবিউল আওয়াল: এ অভিমত হল গোড়ার দিকের সিরা পন্ডিতগণের অন্যতম আবু মা’সার আল সিন্ধীর (Abū Maʿshar al-Sindī, মৃত্যু-১৭১ হিজরী) এবং বিখ্যাত Māliki jurist ও পন্ডিত, ইবনে আবদ আল-বারের (ibn ʿAbd al-Barr, মৃত্যু-৪৬৩হিজরী)। সম্ভাব্য অপশন হিসেবে এ্ই তারিখ আরও লিপিবদ্ধ হয়েছে আল ওয়াকিদি (al-Wāqidī, মৃত্যু-২০৭ হিজরী) কর্তৃক, হাদিস বর্ণনাকারী হিসেবে তার দূর্বলতা স্বত্ত্বেও তিনি ইসলামের প্রথমদিককার স্বনামধণ্য ঐতিহাসিকদের একজন হিসেবে স্বীকৃত।


খ). ৮ই রবিউল আওয়াল: এই অভিমতটি আন্দালুসিয়ান স্কলার ইবনে হাজম (Ibn Ḥazm, মৃত্যু-১২৮ হিজরী) এবং গোড়ার দিককার আরো কিছু পন্ডিতদের। ঈমাম মালিক (Imām Mālik, মৃত্যু-১৭৯ হিজরী) এই মতটির কথা উল্লেখ করেছেন আল-জুহুরী (al-Dhuhrī, মৃত্যু-১২৮ হিজরী) ও মুহম্মদ বিন জুবায়েরের মতামত হিসেবে। অন্যদের মধ্যে ইবনে আবদ আল-বার ১ম মতটির পক্ষে রায় দিলেও স্বীকার করেছেন যে, এই মতটি অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের অভিমত। নবীজীর জীবনীর উপর প্রথম প্রবন্ধ লেখকদের একজন ইবনে ধাইয়াও (Ibn Diḥya, মৃত্যু-৬১০ হিজরী) এই তারিখটিকে সবচেয়ে জোরালো মত হিসেবে বিবেচনা করেছেন।


গ). ১০ই রবিউল আওয়াল: নবীজীর বংশধর এবং শিয়া ঈমামগণের একজন, আবু জাফর আল-বাকিরের (Abū Jaʿfar al-Bāqir, মৃত্যু-১১৪ হিজরী) অভিমত হিসেবে ইবনে আসাকির (Ibn ʿAsākir, মৃত্যু-৫৭১ হিজরী) এটি বর্ণনা করেছেন। আর এটা বিখ্যাত স্কলার এবং সাহাবীগণের ছাত্র, আল শাবি (al-Shaʿbī, মৃত্যু-১০০ হিজরী)-এরও অভিমত এবং আল ওয়াকিদির (al-Wāqidī, মৃত্যু-২০৭ হিজরী) নিজেরও।

ঘ). ১২ই রবিউল আওয়াল: এই অভিমতটি ইবনে ইসহাকের (Ibn Isḥāq, মৃত্যু-১৫০ হিজরী), যিনি কোন সূত্র ছাড়াই এটি উল্লেখ করেছেন। অন্য উৎসে এটি উল্লেখ করা হয়েছে জাবির ও ইবনে আব্বাসের অভিমত হিসেবে, কিন্তু এ্ই বিষয়ের উপর তাদেরকে নিয়ে কোন ইসনাদ প্রাইমারী সোর্স বুকে পাওয়া যায়নি। 


ঙ). ১৭ই রবিউল আওয়াল: এই তারিখটি কিছু শিয়া পন্ডিতদের অভিমত এবং অধিকাংশ সুন্নী পন্ডিত এটি বাতিল করে দিয়েছেন কোনরূপ যুক্তিগ্রাহ্য যুক্তি প্রদান ব্যতিরেকেই।

চ). ২২শে রবিউল আওয়াল: এই অভিমতটি ইবনে হাজমের (Ibn Ḥazm, মৃত্যু-১২৮ হিজরী) নামে আরোপিত।

ছ). হস্তী বৎসরের ১২ই রমযান: প্রথমদিককার পন্ডিতগণের এমনই অভিমত ছিল বলে ইবনে আসাকির এটি বর্ণনা করেছেন। 

জ). হস্তী বৎসরের রমযান মাসে: এই অভিমতটি প্রথমদিককার সুপরিচিত ঐতিহাসিক আল জুবায়ের বিন আল-বক্করের (al-Zubayr b. al-Bakkār, মৃত্যু-২৫৬ হিজরী) অভিমত, যিনি সর্বপ্রথম এবং বহুল স্বীকৃত মক্কার ইতিহাস রচনা করেন। আর প্রাথমিক কিছু পন্ডিতও তার সাথে এ ব্যাপারে সহমত পোষণ করেছেন। 


এই হচ্ছে নবীজীর জন্ম তারিখের ব্যাপারে সবচেয়ে জোরালো মতামতগুলির অন্যতম। তথাপি কোনভাবেই এ্ই তালিকাকেও সুসম্পন্ন বলে অভিমত দেয়া যাচ্ছে না একারণে যে, আধুনিক কালের একজন গবেষণাকারী এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, সঠিক তারিখটির ব্যাপারে সাঁরির প্রথমে থাকবে ৯ই রবিউল আওয়াল। আর আমাদের মত অল্প বিদ্যার লোক এটি খুব সহজভাবেই গণনা করবে এভাবে-


আমরা জানি, একটি চান্দ্র মাস প্রায় ২৯.৫দিন, সুতরাং চান্দ্র বৎসর =২৯.৫x১২=৩৫৪ দিনে যা প্রচলিত গ্রেগোরিয়ান বৎসরের চেয়ে (৩৬৫-৩৫৪)=১১দিন কম। 

অাবার, ২০১৫ গ্রেগোরিয়ান বৎসর=১,৪৩৬ হিজরী সন। 
আর, আমরা জানি, নবীজী ৫৩-৫৪ বৎসর বয়সের সময় হিজরত করেন। 
সুতরাং নবীজীর জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত মোট চান্দ্র বৎসর= হিজরী বৎসর+৫৪ (সনের নীচের সীমা পেতে ৫৪ বৎসর ধরা হল)= ১,৪৩৬+৫৪ = ১,৪৯০ বৎসর।
এই ১৪৯০ চান্দ্র বৎসর, সমান গ্রেগোরিয়ান বৎসরের থেকে মোট ১,৪৯০x১১ বা, ১৬,৩৯০ দিন বা, ১৬,৩৯০/৩৫৪ = ৪৬.৩ অর্থাৎ প্রায় ৪৬ বৎসর কম।

সুতরাং ১,৪৯০ চান্দ্র বৎসরের সমতুল্য গ্রেগোরিয়ান বৎসর = ১,৪৯০-৪৬ = ১,৪৪৪ বৎসর।
অতএব, নবীজীর জন্ম বৎসর = ২,০১৫-১,৪৪৪ = ৫৭১ সিই। আর যদি আমরা ধরি যে, নবীজী ৫৩ বৎসর বয়সে হিজরত করেছিলেন, তবে এটি হবে ৫৭২ সিই। 

অন্যদিকে নবীজীর জন্মদিন সোমবার হস্তী বৎসরের রবিউল আওয়াল মাসে এবং যেহেতু ৮ ও ১০ তারিখ সর্বাধিক সমর্থিত বলে আমরা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, তাই ক্যালেন্ডার থেকে সহজেই আমরা পিছনের দিকে গণনা করে দেখতে পাই সোমবারটি পড়ে ঐ মাসের ৯ তারিখে। 


অর্থাৎ ৫৭১ সিই্= হিজরী পূর্ব ৫৪ সোমবার ৯ই রবিউল আওয়াল এবং সংশ্লিষ্ট গ্রেগোরিয়ান তারিখ ২০শে এপ্রিল ৫৭১ সিই। আর এই তারিখ প্রথম সুপারিশ করেন মিশরীয় এ্যাস্ট্রোনোমার মুহম্মদ পাশা আল-ফালাকি (১৩০২/১৮৮৫)।তবে গণনার এসব রীতিতে যে সমস্যা রয়েছে তা এই যে, গ্রেগোরিয়ান ও হিজরীর মধ্যে রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট কোন পদ্ধতি নেই, ফলে যে কনভার্সান এসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে তা পুরোপুরি নির্ভুল নয়। 


আরেকটি ভিন্ন গণনা দেখিয়েছে যে, নবীজীর জন্মদিন, সোমবার, ১৭ই জুন, (১২ই রবিউল আওয়াল) ৫৬৯ সিই এবং এটি অামাদের সময়ের বিখ্যাত মুসলিম স্কলার মুহম্মদ হামিদুল্লাহ (২০০২) কর্তৃক সুপারিশকৃত.

যাহোক, আরও যেসব ভিন্ন মতামত রয়েছে তার উল্লেখ আমরা পাই মুহম্মদ হুসেন হেকলের বর্ণনায়। তার রচিত নবীজীর জীবনীতে তিনি নবীজীর জন্ম মাস রবিউল আওয়াল ও রমযান ছাড়াও মুহররম, সফর বা রজবও হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া তিনি ফরাশী ওরিয়েন্টালিষ্ট এর উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, সবচেয়ে সম্ভাব্য সময় আগস্ট ৫৭০ সিই, which corresponds to Rajab. আর আর্টিকেলের শুরুতেই আমরা বলেছি যে, হেকল তার সিরাতে হস্তী বৎসরটি নবীজীর জন্মের ১৫ বৎসর পূর্বের বা এমনকি তার জন্মের ৩০-৭০ বৎসর পূর্বেরও হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন, যা সম্প্রতিক ভূ-তাত্ত্বিক গবেষণার ফলাফলের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।


যাহোক, উপরে উপস্থাপিত সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণে আমরা দেখতে পাচ্ছি, নবীজীর সুনির্দিষ্ট জন্ম তারিখের ব্যাপারে অনেকগুলো অভিমত রয়েছে যার কিছু মাসের ব্যাপারে ভিন্ন এবং অবশিষ্টগুলো এমনকি বৎসরের ব্যাপারেও। তবে ঐতিহাসিক এবং স্কলারগণের এক বড় অংশ এ বিষয়ে একমত যে, তিনি হস্তী বৎসরের যা ৫৭০ (বা ৫৭১) সিই’র সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, রবিউল আওয়াল মাসের কোন এক সোমবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর এই তথ্যকে আমলে নিলে আমরা আরো দেখতে পাই যে, রবিউল আওয়াল মাসে রয়েছে হাফ ডজনের কাছাকাছি অভিমত। সত্যি বলতে কি, এসব তারিখগুলোর মধ্যে দু’টি তারিখ-৮ই এবং ১০ই ছিল ইসলামের প্রথম পাঁচ শতাব্দী পর্যন্ত জনপ্রিয় অভিমত। আর এ দু’য়ের মধ্যে বিশেষত: পরের মতামতটিই মূল্যায়িত হত বেশী। 


তাহলে এখন এই প্রশ্ন দাঁড়ায়, ১২ই রবিউল আওয়ালকে অধিকাংশ লোক নবীজীর জন্মদিন হিসেবে উৎযাপন করে যাচ্ছে কেন? তবে কি অধিকাংশ লোক মতের এত ভিন্নতা সম্পর্কে অবগত নয়?


এর উত্তরে বলা যায়, প্রকৃত তারিখটি কোন সাহাবা বা নবীজীর স্ত্রীদের কারও জানা ছিল না এবং “১২ই রবিউল আওয়াল” অন্য দিনগুলোর মতই একটি, তবে ইবনে কাছির কিন্তু লিখেছেন- “…and this is the most common opinion on the matter, and Allah knows best.” যদিও এই অভিমত ইসলামের প্রথম কয়েক প্রজন্মের স্কলারদের কারও নামে আরোপিত হয়নি। এদিকে ইবনে রজব আল-হাম্বলিও তার al-Lata'if al-Ma`arif (পৃষ্ঠা ১৮৫) গ্রন্থে লিখেছেন- “অধিকাংশ লোকের অভিমত যে, তিনি (নবীজী) সপ্তাহের ২য়দিন (সোমবার) ১২ই রবিউল আওয়াল জন্মগ্রহণ করেন.... হস্তী বৎসরে।” আর ইতিমধ্যেই আমরা বলেছি, ইবনে ইসহাকও এই তারিখটির কথা উল্লেখ করেছেন (কোন সূত্র ছাড়াই)। তবে নিম্নে বর্ণিত ফ্যাক্টর দু’টোও এসবের সাথে কাজ করে থাকতে পারে বলে আমাদের ধারণা-


প্রথমত: ইবনে ইসহাকের নিজস্ব জনপ্রিয়তা। তার সিরা গ্রন্থ নবীজীর জীবনালেখ্য সম্পর্কিত তথ্যের প্রাথমিক উৎস। আর তাই তার গ্রন্থটি অন্য অভিমতগুলোকে উপেক্ষা করে একটি স্টান্ডার্ড রেফারেন্স হিসেবে পরবর্তীতে অনেক স্কলারই তাদের লেখায় ব্যাবহার করেছেন সিম্পলি কপি-পেস্ট করে যা তারিখ নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। 


দ্বিতীয়ত: প্রথমবারের মত একদল লোক যখন নবীজীর জন্মদিন হিসাবে দিনটি উৎযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে, তখন সম্ভবত: তারা অতটা বিচার বিশ্লেষণ না করেই ১২ তারিখটি বেঁছে নিয়েছিল। তারপর যখন মিলাদ-উন-নবী উৎযাপন বিস্তার লাভ করল, এই দিনটিও একই সাথে অধিকাংশের স্বীকৃতি লাভ করেছিল। আর এ ধারণা এটাও ব্যাখ্যা করে যে, কেন অাবদ আল-বার হিজরী ৫ম শতাব্দীতে মওলিদ (মিলাদ-উন-নবী) উৎযাপনের ধারণা গড়ে ওঠার পূর্বে উল্লেখ করেন যে, ঐতিহাসিকদের মধ্যে অধিকাংশের অভিমত ৮ই রবিউল আওয়াল এবং কেন ইবনে কাছির আরও তিন’শ বৎসর পর যখন মিলাদ-উন-নবী সর্বসাধারণের উৎসব হিসেবে পরিচিত হয়ে গিয়েছিল, উল্লেখ করেন যে, ১২ই রবিউল আওয়াল অধিকাংশের অভিমত।


এ পর্যন্ত উপস্থাপিত তথ্যের সার সংক্ষেপ হল- নবীজীর জন্মের সঠিক তারিখটি ক্লাসিক্যাল স্কলারদের মধ্যে সর্বদাই বিতর্কের বিষয় ছিল। Nothing authentic has been reported in the standard source books of tradition, and this fact in itself shows that it was not held in the significance that later authorities did. 

অধিকাংশ শিয়া স্কলার ১৭ই রবিউল আওয়াল এবং অধিকাংশ সুন্নী স্কলার 
১২ই রবিউল আওয়াল নবীজীর জন্মতারিখ বলে বিশ্বাস করেন। This issue led to assigning these days (12-17 Rabi' al-awwal) as Unity Week by Islamic Republic of Iran to respect both viewpoints. So scholars and followers of these two sect emphasize on common ground against the common enemies.

সমাপ্ত।

উৎস:
  • Sunan of al-Bayhaqī; 
  • Sahih al-Muslim;
  • Sahih al-Bukhari;
  • Ibn Ishaq, Sirat Rasul Allah, 
  • Ibn Sa'd, al-Tabaqat al-Kabir Vols. 1 & 2.
  • Ibn Kathīr, al-Bidāya wa-l-nihāyah,
  • Ibn Rajab al-Hanbali;Lataif al-Ma'arif, 
  • Ibn Hazm, al-Ihkam fi Usul al-Ahkam;
  • Ibn Asakir, Tarikh Madinat Dimashq;
  • al-Waqidi, Kitab al-Tarikh wa al-Maghazi; 
  • Ibn Hajar al-Asqalani, Fath ul-Bari fi Sharh Sahih al-Bukhari;
  • Malik ibn Anas, al-Muwaṭṭa;
  • al-Zubayr ibn Bakkār, al-Muntakhab min Kitāb azwāj al-Nabī;
  • Dr. Yasir Qadhi, The Birth-date of the Prophet and the history of the Mawlid, muslimmatters.org/2009/03/13/
  • "Mawlid, or Mawlud".Encyclopedia of Islam,
  • "Mawlid", Encyclopædia Britannica;
  • Vaiz Zade Khorasani, Muhammad (1996). "Muhammad brithday, Unity Week and 9th International Islamic Unity Conferance" . Mishkat (51): 4–43.

১৮ জুলাই, ২০১৫

Christopher: The Patron Saint of Travelers.

প্রথমদিকে ক্রিস্টোফারকে রিপ্রোবাস (Reprobus) নামে ডাকা হত। তিনি ছিলেন সাড়ে সাত ফুট উচ্চতার একজন কনানাইট (Canaanite) with a fearsome face. While serving the king of Canaan, he took it into his head to go and serve "the greatest king there was". 

He went to the king who was reputed to be the greatest, but one day he saw the king cross himself at the mention of the devil. On thus learning that the king feared the devil, he departed to look for the devil. He came across a band of marauders, one of whom declared himself to be the devil, so 
Reprobus decided to serve him. But when he saw his new master avoid a wayside cross and found out that the devil feared Christ, he left him and enquired from people where to find Christ. 

He met a hermit who instructed him in the Christian faith. 
Reprobus asked him how he could serve Christ. When the hermit suggested fasting and prayer, Reprobus replied that he was unable to perform that service. The hermit then suggested that because of his size and strength Reprobus could serve Christ by assisting people to cross a dangerous river, where they were perishing in the attempt. The hermit promised that this service would be pleasing to Christ.

ক্রিস্টোফার-১
After Reprobus had performed this service for some time, a little child asked him to take him across the river. During the crossing, the river became swollen and the child seemed as heavy as lead, so much that Reprobus could scarcely carry him and found himself in great difficulty. When he finally reached the other side, he said to the child: "You have put me in the greatest danger. I do not think the whole world could have been as heavy on my shoulders as you were." 

ছেলেটি বলল, “ও, 
রিপ্রোবাস! যে ভার আমি বয়ে চলেছি এতদিন তাইতো তোমার কাঁধে তুলে দিলাম আজ। আজ থেকে তোমার নাম হল ক্রিস্টোফার- খৃষ্টবাহন।
রিপ্রোবাস অবাক হয়ে বলল, “কে তুমি?”
সে বলল, “আমিই খৃষ্ট, আজ থেকে যার সেবায় নিয়োজিত হলে তুমি।” ছেলেটি অদৃশ্য হয়ে গেল।

এরপর কি হল, তা জানার আগে আমরা দেখে নেই ক্রিস্টোফারকে নিয়ে সুকুমার রায় রচিত এই কিংবদন্তিটি-

“তার নাম অফেরো। অমন পাহাড়ের মত শরীর, অমন সিংহের মত বল, অমন আগুনের মত তেজ, সে ছাড়া আর কারও ছিল না। বুকে তার যেমন সাহস, মুখে তার তেমনি মিষ্টি কথা। কিন্তু যখন তার বয়স অল্প, তখনই সে তার সঙ্গীদের ছেড়ে গেল; যাবার সময় বলে গেল, "যদি রাজার মত রাজা পাই, তবে তার গোলাম হয়ে থাকব। আমার মনের মধ্যে কে যেন বলে দিচ্ছে, তুমি আর কারও চাকরি করো না; যে রাজা সবার বড়, সংসারে যার ভয় নেই, তারই তুমি খোঁজ কর।" এই বলে অফেরো কোথায় জানি বেরিয়ে গেল।

পৃথিবীতে কত রাজা, তাদের কত জনের কত ভয়। প্রজার ভয়, শত্রুর ভয়, যুদ্ধের ভয়, বিদ্রোহের ভয়— ভয়ে কেউ আর নিশ্চিন্ত নেই। এরকম হাজার দেশ ছেড়ে ছেড়ে অফেরো এক রাজ্যে এল, সেখানে রাজার ভয়ে সবাই খাড়া! চোরে চুরি করতে সাহস পায় না, কেউ অন্যায় করলে ভয়ে কাঁপে। অস্ত্রেশস্ত্রে সৈন্যসামন্তে রাজার প্রতাপ দশদিক দাপিয়ে আছে। সবাই বলে, "রাজার মত রাজা।" তাই শুনে অফেরো তাঁর চাকর হয়ে রইল।

তারপর কতদিন গেল— এখন অফেরো না হ'লে রাজার আর চলে না— উঠতে বসতে তার ডাক পড়ে। রাজা যখন সভায় বসেন অফেরো তার পাশে খাড়া। রাজার মুখের প্রত্যেকটি কথা সে আগ্রহ করে শোনে! রাজার চালচলন ধরনধারণ ভাবভঙ্গি— সব তার আশ্চর্য লাগে। আর রাজা যখন শাসন করেন, চড়া গলায় হুকুম দেন, অফেরো তখন আবাক হয়ে ভাবে, "যদি রাজার মত রাজা কেউ থাকে, তবে সে এই!"

তারপর একদিন রাজার সভায় কথায় কথায় কে যেন শয়তানের নাম করেছে। শুনে রাজা গম্ভীর হয়ে গেলেন। অফেরো চেয়ে দেখলে রাজার চোখে হাসি নেই, মুখখানি তার ভাবনা ভরা। অফেরো তখন জোড় হাতে দাঁড়িয়ে বলল, "মহারাজের ভাবনা কিসের? কি আছে তার ভয়ের কথা?" রাজা হেসে বললেন, "এক আছে শয়তান আর আছে মৃত্যু— এ ছাড়া আর কাকে ডরাই?" অফেরো বলল, "হায় হায়, আমি এ কার চাকরি করতে এলাম? এ যে শয়তানের কাছে খাটো হয়ে গেল। তবে যাই শয়তানের রাজ্যে; দেখি সে কেমন রাজা!" এই বলে সে শয়তানের খোঁজে বেরুল।

পথে কত লোক আসে যায়— শয়তানের খবর জিজ্ঞাসা করলে তারা বুকে হাত দেয় আর দেবতার নাম করে, আর সবাই বলে, "তার কথা ভাই বলো না, সে যে কোথায় আছে, কোথায় নেই কেউ কি তা বলতে পারে?" এমনি করে খুঁজে খুঁজে কতগুলো নিষ্কর্মা কুঁড়ের দলে শয়তানকে পাওয়া গেল। অফেরোকে পেয়ে শয়তানের ফূর্তি দেখে কে! এমন চেলা সে আর কখনও পায়নি। শয়তান বলল, "এস এস, আমি তোমায় তামাসা দেখাই। দেখবে আমার শক্তি কত?" শয়তান তাকে ধনীর প্রাসাদে নিয়ে গেল, সেখানে টাকার নেশায় মত্ত হয়ে, লোকে শয়তানের কথায় ওঠে বসে; গরীবের ভাঙা কুঁড়ের ভিতরে গেল, সেখানে এক মুঠো খাবার লোভে পেটের দায়ে বেচারীরা পশুর মত শয়তানের দাসত্ব করে। লোকেরা সব চলছে ফিরছে, কে যে কখন ধরা পড়ছে, কেউ হয়ত জানতে পারে না; সবাই মিলে মারছে, কাটছে, কোলাহল করছে "শয়তানের জয়।"

সব দেখে শুনে অফেরোর মনটা যেন দমে গেল। সে ভাবল, "রাজার সেরা রাজা বটে, কিন্তু আমার ত কৈ এর কাজেতে মন লাগছে না।" শয়তান তখন মুচকি মুচকি হেসে বললে, "চল ত ভাই, একবারটি এই শহর ছেড়ে পাহাড়ে যাই। সেখানে এক ফকির আছেন, তিনি নাকি বেজায় সাধু। আমার তেজের সামনে তাঁর সাধুতার দৌড় কতখানি, তা' একবার দেখতে চাই।"

পাহাড়ের নীচে রাস্তার চৌমাথায় যখন তারা এসেছে, শয়তান তখন হঠাৎ কেমন ব্যস্ত হয়ে থমকিয়ে গেল— তারপর বাঁকা রাস্তা ঘুরে তড়্‌বড়্‌ করে চলতে লাগল। অফেরো বললে, "আরে মশাই, ব্যস্ত হল কেন?" শয়তান বললে, "দেখছ না ওটা কি?!" অফেরো দেখল, একটা ক্রুশের মত কাঠের গায়ে মানুষের মূর্তি আঁকা! মাথায় তার কাঁটার মুকুট— শরীরে তার রক্তধারা! সে কিছু বুঝতে পারল না। শয়তান আবার বললে, "দেখছ না ঐ মানুষকে— ও যে আমায় মানে না, মরতে ডরায় না,— বাবারে! ওর কাছে কি ঘেঁষতে আছে? ওকে দেখলেই তফাৎ হটি।" বলতে বলতে শয়তানের মুখখানা চামড়ার মত শুকিয়ে এল।

তখন অফেরো হাঁফ ছেড়ে বললে, "বাঁচালে ভাই! তোমার চাকরি আর আমায় করতে হল না। তোমায় মানে না, মরতেও ডরায় না, সেইজনকে যদি পাই তবে তারই গোলাম হয়ে থাকি।" এই বলে আবার সে খোঁজে বেরুল।

তারপর যার সঙ্গে দেখা হয়, তাকেই সে জিজ্ঞাসা করে, "সেই ক্রুশের মানুষকে কোথায় পাব?"— সবাই বলে, খুঁজতে থাক, একদিন তারে পাবেই পাবে। তারপর একদিন চলতে চলতে সে এক যাত্রীদলের দেখা পেল। গায়ে তাদের পথের ধূলা, হাঁটতে হাঁটতে সবাই শ্রান্ত, কিন্তু তবু তাদের দুঃখ নাই— হাসতে হাসতে গান গেয়ে সবাই মিলে পথ চলছে। তাদের দেখে অফেরোর বড় ভাল লাগল— সে বললে, "তোমরা কে ভাই? কোথায় যাচ্ছ?" তারা বললে, "ক্রুশের মানুষ যীশু খৃষ্ট— আমরা সবাই তাঁরই দাস। যে পথে তিনি গেছেন, সেই পথের খোঁজ নিয়েছি।" শুনে অফেরো তাদের সঙ্গ নিল। 

সে পথ গেছে অনেক দূর। কত রাত গেল দিন গেল, পথ তবু ফুরায় না— চলতে চলতে সবাই ভাবছে, বুঝি পথের শেষ নাই। এমন সময় সন্ধ্যার ঝাপসা আলোয় পথের শেষ দেখা দিল। ওপারে স্বর্গ, এপারে পথ, মাঝে অন্ধকার নদী। নৌকা নাই, কূল নাই, মাঝে মাঝে ডাক আসে, "পার হয়ে এস।" অফেরো ভাবল, 'কি করে এরা সব পার হবে? কত অন্ধ, খঞ্জ, কত অক্ষম বৃদ্ধ, কত অসহায় শিশু— এরা সব পার হবে কি ক'রে?' যাঁরা বৃদ্ধ, তাঁরা বললেন, "দূত আসবে। ডাক পড়বার সময় হলে, তখন তাঁর দূত আসবে।"

বলতে বলতে দূত এসে ডাক দিল। একটি ছোট মেয়ে ভুগে ভুগে রোগা হয়ে গেছে, সে নড়তে পারে না, বাইতে পারে না, দূত তাকে বলে গেল,— "তুমি এস, তোমার ডাক পড়েছে।" শুনে তার মুখ ফুটে হাসি বেরুল, সে উৎসাহে চোখ মেলে উঠে বসল। কিন্তু হায়! অন্ধকার নদী, অকূল তার কালো জল, স্রোতের টানে ফেনিয়ে উঠছে— সে নদী পার হবে কেমন করে? জলের দিকে তাকিয়ে তার বুকের ভিতরে দুর্‌ দুর্‌ করে উঠল। ভয়ে দু চোখ ঢেকে নদীর তীরে একলা দাঁড়িয়ে মেয়েটি তখন কাঁদতে লাগল। তাই দেখে সকলের চোখে জল এল, কিন্তু যেতেই যখন হবে তখন আর উপায় কি? মেয়েটির দুঃখে অফেরোর মন একেবারে গলে গেল। সে হঠাৎ চিৎকার করে বলে উঠল। "ভয় নাই— আমি আছি।" কোথা হতে তার মনে ভরসা এল, শরীরে তার দশগুণ শক্তি এল— সে মেয়েটিকে মাথায় করে, স্রোত ঠেলে, আঁধার ঠেলে, বরফের মত ঠাণ্ডা নদী মনের আনন্দে পার হয়ে গেল। মেয়েটিকে ওপারে নামিয়ে সে বলল, "যদি সেই ক্রুশের মানুষের দেখা পাও, তাঁকে বলো, এ কাজ আমার বড় ভাল লেগেছে— যতদিন আমার ডাক না পড়ে, আমি তাঁর গোলাম হয়ে এই কাজেই লেগে থাকব।"

সেই থেকে তার কাজ হল নদী পারাপার করা। সে বড় কঠিন কাজ! কত ঝড়ের দিনে কত আঁধার রাতে যাত্রীরা সব পার হয়— সে অবিশ্রাম কেবলই তাদের পৌঁছে দেয় আর ফিরে আসে। তার নিজের ডাক যে কবে আসবে, তা ভাববার আর সময় নেই।

ক্রিস্টোফার-২
একদিন গভীর রাত্রে তুফান উঠল। আকাশ ভেঙে পৃথিবী ধুয়ে বৃষ্টির ধারা নেমে এল। ঝড়ের মুখে স্রোতের বেগে পথ ঘাট সব ভাসিয়ে দিল— হাওয়ার পাকে পাগল হয়ে নদীর জল ক্ষেপে উঠল। অফেরো সেদিন শ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে— সে ভেবেছে, এমন রাতে কেউ কি আর পার হতে চায়! এমন সময় ডাক শোনা গেল। অতি মিষ্টি কচি গলায় কে যেন বলছে, "আমি এখন পার হব।" অফেরো তাড়াতাড়ি উঠে দেখল, ছোট্ট একটি শিশু ঝড়ের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, আর বলছে, "আমার ডাক এসেছে, আমি এখন পার হব।" অফেরো বললে, "আচ্ছা! এমন দিনে তোমায় পার হতে হবে! ভাগ্যিস আমি শুনতে পেয়েছিলাম।" তারপর ছেলেটিকে কাঁধে নিয়ে "ভয় নাই", "ভয় নাই" বলতে বলতে সে দুরন্ত নদী পার হয়ে গেল।

কিন্তু এবারেই শেষ পার। ওপারে যেমনি যাওয়া অমনি তার সমস্ত শরীর অবশ হয়ে পড়ল, চোখ যেন ঝাপসা হয়ে গেল, গলার স্বর জড়িয়ে গেল। তারপর যখন সে তাকাল তখন দেখল, ঝড় নেই আঁধার নেই, সেই ছোট্ট শিশুটিও নেই— আছেন শুধু এক মহাপুরুষ, মাথায় তাঁর আলোর মুকুট। তিনি বললেন, "আমিই ক্রুশের মানুষ— আমিই আজ তোমায় ডাক দিয়েছি। এতদিন এত লোক পার করেছ, আজ আমায় পার করতে গিয়ে নিজেও পার হলে, আর তারি সঙ্গে শয়তানের পাপের বোঝা কত যে পার করেছ তা তুমিও জান না। আজ হতে তোমার অফেরো নাম ঘুচল; এখন তুমি Saint Christopher— সাধু খৃষ্টবাহন! যাও, যাঁরা শ্রেষ্ঠ সাধু, তাঁদের মধ্যে তুমি আনন্দে বাস কর।" -এই হল সুকুমার রায় রচিত কিংবদন্তিটি।  

ক্রিস্টোফার অত:পর লিসিয়া (Lycia) শহরে যান এবং সেখানকার খৃষ্টানদের যারা নির্যাতিত ও শহীদ হচ্ছিল, তাদের মাঝে সান্তনার বাণী প্রচার করতে থাকেন। একসময় তাকে বন্দী করে স্থানীয় রাজদরবারে হাজির করা হয়। রাজা তাকে পৌত্তলিক দেবতার উদ্দেশ্যে নৈবদ্য হিসেবে পশু উৎসর্গের আদেশ দেন। ক্রিস্টোফার তা করতে অস্বীকার করেন। তখন রাজা তাকে ধন-সম্পদের প্রলোভনের মধ্যে ফেলতে চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি দু’জন সুন্দরী রমনীকে নিয়োজিত করেন তাকে ফাঁদে ফেলতে। কিন্তু ফল হয় উল্টো। ক্রিস্টোফার অতি অল্প সময়ের মধ্যে কেবল ঐ নারীদেরকেই নয় বরং তিনি আরও কয়েক হাজার নারী-পুরুষকেও খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত করে ফেলেন। এতে রাজা ক্ষিপ্ত হন এবং তার বিরুদ্ধে হত্যার আদেশ জারী করেন। এসময় ক্রিস্টোফার প্রকাশ্যে চলাফেরা বন্ধ করে দেন। অত:পর বেশ কয়েকটি পরিকল্পণা ব্যর্থ হবার পর অবশেষে তিনি ধৃত হন এবং তাকে শিরোচ্ছেদ করা হয়।  

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia.

 উৎস:
  • Mershman, F. St. Christopher. In The Catholic Encyclopedia.
  • Weniger, Francis X., "St. Christopher, Martyr", 
  • "St. Christopher", Lives of Saints, John J. Crawley & Co., Inc. 
  • David Woods, "St. Christopher, Bishop Peter of Attalia, and the Cohors Marmaritarum: A Fresh Examination" 
  • D.H. Farmer, The Oxford Dictionary of Saints.
  • Collier, Mrs. "Saint Christopher and Some Representations of him in English Churches" .
  • White, Helen,  Tudor Books of Saints and Martyrs. 
  • Wilson, Stephen,  Saints and their cults: studies in religious sociology, folklore, and history. 
  • "The Life of Saint Christopher", Compiled by Jacobus de Voragine, Tr. by William Caxton
  • St. Christopher in the Golden Legend: English translation (Caxton)
  • Wikipedia,.ও
  • সুকুমার রায়, খৃষ্টবাহন।