pytheya.blogspot.com Webutation

১৭ জানুয়ারী, ২০১৬

Satan: Role in Islamic Theology.

বিশ্বজগৎ সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ ফেরেস্তাদেরকে এবং মানব সৃষ্টির পূর্বে জ্বিণ জাতিকে সৃষ্টি করেন। মূলত:স্রষ্টা খোদা সর্বপ্রথম বিশেষ কিছু ফেরেস্তা সৃষ্টি করেন যারা অতি পুতপবিত্র, অতি মহৎ। তাদের একদল খোদার নির্দেশে লওহে মাহফুজে এক কিতাব লিপিবদ্ধের কাজ শুরু করে এবং অপরদল তার রক্ষণাবেক্ষণে নিয়েজিত হয়। আর লিখিত ঐ কিতাব অনুসারে লিপিকার ফেরেস্তাগণ পরপর মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে অস্তিত্বহীনতা থেকে অস্তিত্বে নিয়ে আসে মহাবিশ্বগুলোকে। এভাবে সৃষ্টি হয় সাতটি মহাবিশ্বের (সাত আসমান) একটার পর একটা।

তারপর যখন কিতাবে লিখিত খোদার নির্দেশমত মহাবিশ্বগুলো একের পর এক নিয়মিত হয়, (তবে, ডাইমেনশনালিটিজ, স্থান-কালের টপোলজি, পদার্থ ও শক্তির ধরণ বা physical laws ও physical constants, ইত্যাদি নিম্নতম মহাবিশ্ব তথা আমাদেরটি থেকে ভিন্ন হওয়াই স্বাভাবিক, কারণ বাকীগুলোতে কেবল Celestial Being এর বসবাস।) তখন সেগুলোতে খোদা তাঁর নির্দেশ কার্যকরী করতে আপরাপর ফেরেস্তাকূল সৃষ্টি করেন। তারপর সর্বনিম্ন বা আমাদের মহাবিশ্বের সৌরজগৎগুলোর, প্রাণসৃষ্টির উপযোগী গ্রহগুলোতে খোদার নির্দেশ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট ফেরেস্তাগণ। 


আর যখন আমাদের সৌরজগতের পৃথিবী নামক গ্রহে পানি সৃষ্টি হল, তখন সেই পানি থেকে বের করে আনা হল প্রাণ। অত:পর সেখানে বিবর্তণের মাধ্যমে সৃষ্টি করা হল প্রয়োজনীয় (প্রয়োজনীয় বললাম একারণে যে, যতধরণের সৃষ্টি করা যেত, তার সব করা হয় নি। যেমন- সবকিছু মজুদ আছে আমাদের কাছে, প্রয়োজন ছাড়া আমরা তা নীচে প্রেরণ করিনে।-(১৫:২১) উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল। 


অত:পর খোদা লু এর আগুণ থেকে জ্বিণ সৃষ্টি করে তাদেরকে আমাদের মহাবিশ্বে বসবাস করতে দেন। অার যখন জ্বিণ জাতি অনাচারে এ ভূবন ভরিয়ে তুলল, তখন খোদার নির্দেশে দুষ্টুদেরকে ধ্বংস করতে শুরু করেন ফেরেস্তাগণ এবং ঐসময় জ্বিণজাতি ছড়িয়ে পড়ে এ মহাবিশ্বের সর্বত্র।


যা হোক, ঐ ধ্বংসযজ্ঞ থেকে কিছু জ্বিণ রক্ষা পেয়েছিল। এদেরই একজন আযাযিল (Azazyl)। তার পিতার নাম ছিল খবীশ এবং মাতা নিবলীস। ছোটবেলা থেকেই সে অতিশয় মেধাবী এবং স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন ছিল। যা সে একবার দেখত বা শুনত, তা চিরদিনের জন্যে মনে রাখতে পারত। এই আযাযিলই পরবর্তীতে হয়ে যায় ইবলিস (Iblis)। The word Iblis means "to despair" and Azazel despaired of the Mercy of God, thus earning him that title.

মুনসূর আল হাল্লাজের মতে- The name of Iblis was derived from his first name, Azazyl in which were changed: the ‘ayn representing the amplitude of his endeavor, the zay, representing the growing frequency of his visits, the alif - his way in His rank, the second zay - his asceticism in His rank, and the ya- his wandering walk to his agony, and lam -his obstinacy in his pain -(Kitab at-tawasin by Mansur al-Hallaj).


আযাযিল দুনিয়াতে এক হাজার বৎসর আল্লাহর এবাদত করল। এবাদতে তার একাগ্রতা ও নিষ্ঠা দেখে ফেরেস্তাগণ অবাক হল। আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়ে তাকে জ্বিণ জাতির সর্দার করে দিলেন। এভাবে আযাযিল তার ৭০ হাজার বৎসর এবাদতের দ্বারা অনেকগুলি গুণবোধক নাম অর্জন করেছিল। যেমন- ‘খাশে’,‘আবেদ’, ‘অলী’,‘সালেহ’ ইত্যাদি এবং এর সবগুণিই ফেরেস্তাদের দেয়া। এভাবে সে উর্দ্ধ আকাশে অবাধ বিচরণের সৌভাগ্য অর্জন করেছিল। তার এতসব অর্জনের মূলে ছিল তার নিরলস শ্রম ও নিষ্ঠা। দিনের একাংশ সে দুনিয়ার জ্বিণদের সৎপথ প্রদর্শণে ব্যয় করে অবশিষ্ট সময়টা আল্লাহর এবাদতেই অতিবাহিত করত।


যা হোক, দুনিয়া জ্বিণজাতি মুক্ত হলে খোদা মানব সৃষ্টির পরিকল্পণা করলেন। সুতরাং তিনি ফেরেস্তাদেরকে সমবেত হতে নির্দেশ দিলেন। তারা তৎক্ষণাৎ সমবেত হল। কিন্তু তারা বুঝতে পারছিল না কেন এই সমাবেশ, তাই পরস্পর ফিসফিস কথাবার্তা (-৩৮:৬১) ও আলোচনা করতে লাগল। অতঃপর আল্লাহ সমবেত ফেরেস্তাদেরকে তাঁর পরিকল্পণার কথা জানালেন। তিনি বললেন, ‘আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।’-(১৫:২৮)


ইতিপূর্বে ফেরেস্তাগণ জ্বিণ জাতির অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল। সুতরাং তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে অশান্তি ঘটাবে ও রক্তপাত করবে? আমরাই তো রয়েছি আপনার পবিত্র মহিমা ঘোষণা করার জন্যে।’ 

তিনি বললেন, ‘আমি যা জানি তোমরা তো তা জান না। সুতরাং অমি ছাঁচে ঢালা শুকনো মাটি হতে মানুষ সৃষ্টি করছি, যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তার মধ্যে আমার রূহ সঞ্চার করব, তখন তোমরা তাকে সিজদা করবে।’-(১৫:২৮-২৯).

অত:পর আল্লাহ ফেরেস্তাদেরকে মাটি সংগ্রহের জন্যে নির্দেশ দিলেন। প্রধান ফেরেস্তাদের মধ্যে জিব্রাইল, মিকাইল ও ইস্রাফিল ব্যর্থ হল, কেননা জমিন তাদেরকে খোদার কসম দিয়ে মাটি নিতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু অাজ্রাইল গিয়ে মটি সংগ্রহ করে নিয়ে এল।সে জমিনকে বলেছিল, ‘তুমি যার কসম দিচ্ছ আমি তাঁর আদেশে
ই এসেছি। সুতরাং মাটি না নিয়ে আমি ফিরে যাচ্ছিনে।’ অত:পর আল্লাহ প্রথম মানব আদমকে ঐ মাটি থেকে সৃষ্টি করলেন। বুক অব চামিস জানায়- 

The four most exalted angels, Gabriel, Michael, Israfil, and Azrail, were commanded to bring from the four corners of the earth the dust out of which Allah formed the body of Adam, all save the head and heart. For these He employed exclusively the sacred earth of Mecca and Medina, from the very spots on which, in later times, the holy Kaaba and the sepulchre of Mohammed were erected.--(Book of Chamis)


আদমের শরীর যখন সুঠাম হল, তখন আল্লাহ ফেরেস্তাদেরকে নির্দেশ দিলেন, ‘তার রূহ আন।’-ইতিপূর্বে তিনি আদমের রূহ সৃষ্টি করে তা ফেরেস্তাদের তত্ত্বাবধানে রেখেছিলেন।

ফেরেস্তাগণ একটি নূরের আধারে ঐ রূহ এনে আদমের শির পার্শ্বে রাখল। আল্লাহ রূহকে আদেশ করলেন, ‘এই দেহে প্রবেশ কর।’

এই আদেশের পর রূহ কয়েকবার আদমের দেহের চতুর্দিকে প্রদক্ষিণ শেষে নাসিকা পথে দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করল। তৎক্ষণাৎ আদম চোখ মেলে চাইল এবং হাঁচি দিয়ে উঠে বসতে চেষ্টা করল। ফেরেস্তাগণ তা দেখে বলল, ‘নিশ্চয় এই বান্দা ত্বরাপ্রবণ হবে।’

প্রকৃতপক্ষে ফেরেস্তাদের ধারণাই ছিল সঠিক। আল্লাহ মানুষকে ত্বরাপ্রবণ করেই সৃষ্টি করেছেন। কোরআনেও এর প্রমান পাওয়া যায়- সৃষ্টিগত ভাবে মানুষ ত্বরা প্রবণ। -(২১:৩৭).

আদম উঠে বসল। উপস্থিত ফেরেস্তাগণ আদমকে সম্মান প্রদর্শণ করল।আর আদম তার চারিদিকে সমবেত ফেরেস্তাদেরকে এক নজর দেখে নিয়ে বলল, ‘সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর।’

আল্লাহ বলেন, ‘তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।’

অন্যদিকে এ বিষয়ে  Book of Chamis জানায়- আমাদের কাছে যে তথ্য এসেছে তা থেকে এতটুকু জানা যায় যে, আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছিল শুক্রবার বিকেলে, আছরের ওয়াক্তে।


..Adam's beautiful form excited the admiration of the angels who were passing by the gates of Paradise, where Allah had laid it down. iblis said, to his fellows, "How can this hollow piece of earth be well pleasing in your sight? Nothing but weakness and frailty may be expected of this creature." When all the inhabitants of heaven, save Iblis, had gazed on Adam in long and silent wonder, they burst out in praises to Allah, the creator of the first man...


Allah then directed the angels to bathe the Soul of Adam, which he had created a thousand years before his body, in the sea of glory which proceedeth from himself, and commanded her to animate his yet lifeless form. The Soul hesitated, for she was unwilling to exchange the boundless heavens for this narrow home; but Allah said, "Thou must animate Adam even against thy will; and as the punishment of thy disobedience, thou shalt one day be separated from him also against thy will."


Allah then breathed upon her with such violence that she rushed through the nostrils of Adam into his head. On reaching his eyes, they were opened, and he saw the throne of Allah, with the inscription, "There is out one GOD, and Mohammed is his Messenger."


The Soul then penetrated to his ears, and he heard the angels praising Allah; thereupon his own tongue was loosed, and he cried, "Blessed be thou, my Creator, the only One and Eternal!" and Allah answered, "For this end wast thou created; thou and thy descendants shall worship me; so shall ye ever obtain grace and mercy." -(Book of Chamis)


আদমকে সৃষ্টির পর আল্লাহ তাকে আসমানের এক উদ্যানে বাস করতে দিয়েছিলেন। আদম ঘুরত ফিরত খুশীমত খাওয়া-দাওয়া করত। এসময় আল্লাহ তাকে তাঁর তত্ত্বাবধানে যাবতীয় কিছুর নাম শিক্ষা দিতে লাগলেন। আর এ বিষয়ে Book of Chamis জানায়- All created things were then assembled before Adam, and Allah taught him the names of all beasts, of birds, and of fish; the manner in which they are sustained and propagated, and explained their peculiarities, and the ends of their existence.-(Book of Chamis.) Finally, God
 showed to Adam every future generation, with their heads, sages, and scribes. He saw that David was destined to live only thirty years, and said, "Lord and Creator of the world, is this unalterably fixed?" 
The Lord answered, "It was my original design!"
"How many years shall I live?"
"One thousand,"
"Are grants known in Heaven?"
"Certainly!"
"I grant, then, seventy years of my life to David!"

What did Adam therefore do? He gave a written grant, set his seal to it, and the same was done by the angel Gabriel & Michael.—(Midrash Jalkut, p. 12). Thus, nine hundred and thirty years was the lifetime of Adam, -(Gen., 5: 3).

তার এবাদতের জন্যে আসমানে একটি গৃহ (বায়তুল মামুর) নির্মাণ করে দিয়েছিল ফেরেস্তারা। ফেরেস্তাদের সাথে সে সেখানে এবাদত করত এবং অবসরে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলত। কিন্তু ফেরেস্তাগণ তো সর্বদা আল্লাহর নির্দেশ পালনে ব্যতিব্যস্ত এবং তাঁর এবাদতে মশগুল থাকত, তাই প্রায়ই আদম নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ত। আল্লাহ তো মহাজ্ঞানী, তিনি তার নিঃসঙ্গতা দূর করতে হাওয়াকে তার বাম পাঁজরের হাঁড় থেকে সৃষ্টি করলেন, যেন তিনি একজন সঙ্গী পান, যে সঙ্গী সর্বদা তার মনোরঞ্জন করবে, তাকে উৎফুল্ল ও আনন্দে ভরে রাখবে। যেমন- তিনি আদমকে সৃষ্টি করলেন ও তার থেকে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেন যেন সে তার কাছে শান্তি পায়।’ -(৭:১৮৯).

হাওয়াকে আল্লাহ যখন সৃষ্টি করলেন, তখন আদম নিদ্রামগ্ন ছিল। সে ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখতে পেল তার মাথার পাশে বসে রয়েছে এক রমনী যে তার মুখের দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে আছে। ঐ রমনীর সুন্দর মুখশ্রী এবং টানা টানা চোখের মাদকতা ভরা চাহনিতে আদম আকৃষ্ট হল। সে উঠে বসল এবং অবাক হয়ে ঐ নারীর সৌন্দর্য অবলোকন করতে লাগল। কারণ এমন সৃষ্টি সে তো পূর্বে দেখেনি। 


হাওয়ার সৃষ্টি সম্পর্কে Book of Chamis জানায়-Allah presented him, through Gabriel, with a bunch of grapes from Paradise, and when he had eaten them he fell into a deep sleep. The Lord then took a rib from Adam's side, and formed a woman of it, whom he called Hava [Eve], for he said, I have taken her from (hai) the living.She bore a perfect resemblance to Adam; but her features were more delicate than his, and her eyes shone with a sweeter luster, her hair was longer, and divided into seven hundred braids; her form was lighter, and her voice more soft and pure.


While Allah was endowing Eve with every female charm, Adam was dreaming of a second human being resembling himself. Nor was this strange, for had he not seen all the creatures which had been presented to him in pairs? -(Book of Chamis.)


যে আদম ইতিপূর্বে আগ্রহ নিয়ে ফেরেস্তাদের সঙ্গে কথাবার্তায় সময় কাটাত, সে এখন এই নারীকে নিয়ে বিভোর হয়ে পড়ল। এই সময় এক ফেরেস্তা ঐ নারীকে দেখে এবং আদমের এই পরিবর্তণে অবাক হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘হে আদম, এ কে?’

আদম উত্তর দিল, ‘এর নাম হাওয়া (Living Things)।’
ফেরেস্তা - ‘তার নাম এমন কেন?’
আদম - ‘তাকে আমার থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আমি তো জীবন্ত (Living Being)।’

এ পর্যায়ে আমরা ফেরেস্তা, জ্বিণ ও ইনসানের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো জেনে নেই পুরো বিষয়টি ভালভাবে বোঝার সুবিধার্থে। আর এ কথাও ঠিক যে, খোদার যাবতীয় সৃষ্টির মধ্যে ফেরেস্তা, জ্বিণ ও মানব বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেননা কিতাব অনুসারে অনুমিত হয় এ তিনটি জাতিকেই কেবল তিনি নিজে (প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে) সৃষ্টি করেছেন, বাকী সবকিছু হয়েছে বা হচ্ছে লিখিত কিতাবে দেয়া তাঁর আদেশ অনুসারে অর্থাৎ সেসব সৃষ্ট তাঁর পরোক্ষ অংশগ্রহণে। এ কারণে কোরআনে বলা হয়েছে- খোদা আসমান ও জমিনের স্রষ্টা। আর যখন তিনি কোন কিছু সৃষ্টি করতে চান, তখন শুধু বলেন “হও” আর তা হয়ে যায়। -(২:১১৭) 


জ্বিণ ও ইনসানকে স্বাধীন করে সৃষ্টি করা হয়েছে অর্থাৎ তারা খোদার আদেশ নিষেধের বিপরীতে কাজ করতে পারে এবং এই কারণে তারা বিচারের অধীন বলা হয়েছে। অন্যদিকে ফেরেস্তাগণ খোদার আদেশ নিষেধের বাইরে কাজ করতে পারে না, ফলে তারা বিচারের অধীনও নয়। তাছাড়া ফেরেস্তাগণ যেমন লিঙ্গভিত্তিক নয়, তেমনি নয় জন্ম-মৃত্যুর অধীন- যেমনটা জ্বিণ ও মনুষ্যজাতি। 


ফেরেস্তাগণের যারা দৃশ্যলোকে কাজ করে তাদের অদৃশ্যলোকে যাবার ক্ষমতা নেই। তাদের যাতায়াতের শেষ সীমানা হল ৪র্থ আসমান বা ৪র্থ মহাবিশ্বের প্রান্তে অবস্থিত সিদরাতুল মুনতাহা। সিদরা অর্থ বরইকুল আর মুনতাহা অর্থ শেষ সীমানা। এ কারণে নবীজীর মেরাজে গমন কালে জিব্রাইল এ পর্য়ন্ত এসে তার অপরাগতা প্রকাশ করেছিল। এ প্রান্তবর্তী সিদরা বৃক্ষের পত্রে দুনিয়ার কাজে নিয়োজিত ফেরেস্তাগণ স্বর্ণবর্ণের ফড়িং এর মত করে জড়িয়ে থাকে। 


যা হোক, সৃষ্ট মহাবিশ্বগুলোতে খোদার বিভিন্ন নির্দেশ বাস্তবায়নে লক্ষ কোটি ফেরেস্তা নিয়োজিত থাকলেও প্রধান ফেরেস্তা মাত্র চারজন-


জিব্রাইল: বার্তা বাহকের কাজে নিয়োজিত।

মিকাইল: মেঘ, বৃষ্টি, চন্দ্র, সূর্য্য তথা এ মহাবিশ্ব পরিচালনার কাজে নিয়োজিত।
আজ্রাইল: প্রাণ সংহরণের কাজ নিয়োজিত, এবং
ইস্রাফিল: শিঙ্গা মুখে সমস্ত সৃষ্টি ধ্বংসের জন্য খোদার আদেশের অপেক্ষায় রত।

দৃশ্যমান বা বস্তুজগতে সকল পদার্থের ক্ষুদ্রকণা হল পরমাণু। একটা নির্দিষ্ট ফিকোয়েন্সিতে এসকল পরমাণু একত্রিত হয়ে বস্তুর অস্তিত্ব প্রকাশ করেছে। আর দৃশ্যমান জগতের সকল বস্তু বা প্রাণীর দৃশ্যমান উপস্থিতি কেবলমাত্র ৩৯০-৭০০nm ফ্রিকোয়েন্সি সীমায় অবস্থিত। মাটির তৈরী মানুষও এর বাইরে নয়। অন্যদিকে আগুণে সৃষ্ট জ্বিণজাতি [ ‘এবং জ্বিণকে ’লু এর আগুনের দ্বারা সৃষ্টি করেছি।-(১৫:২৭)] ও নূরের সৃষ্ট ফেরেস্তাগণ এই ফিকোয়েন্সি সীমার বাইরের কোন নির্দিষ্ট ফিকোয়েন্সি দিয়ে সৃষ্ট, ফলে তারা দৃশ্যমান নয়। তবে তারা উভয় ফিকোয়েন্সি সীমায় যাতায়াত করতে পারে। 


গঠনগত দিক ছাড়াও জ্বিণ ও ফেরেস্তার মধ্যে কিছু বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। জ্বিণ একজোড়া ডানা বা পাখাবিশিষ্ট কিন্তু ফেরেস্তাদের পাখার সংখ্যা সুনির্দিষ্ট নয়। কোলআনে বলা হয়েছে-(ফেরেস্তা) ‘দুই, তিন কিংবা চার জোড়া পক্ষ বিশিষ্ট।’-(৩৫:১)। তাছাড়া ফেরেস্তাগণ দৃশ্যমান জগতের যে কোন বস্তু বা প্রাণীর রূপধারণ বা নিজেকে তাতে রূপান্তরিত করতে পারে। অন্যদিকে জ্বিণ ফেরেস্তা ব্যতিত সকল কিছুর রূপ ধারণ করতে পারলেও কোন প্রানী বা বস্তুতে নিজেকে রূপান্তরিত করতে পারে না। এ কারণে তারা প্রয়োজনে অন্যের শরীরে ভর করে।


আর দৃশ্যমান প্রতিটি বস্তুর ফ্রিকোয়েন্সি তাদের জানা থাকায়, তারা ইচ্ছে করলে ম্যাটার ট্রান্সমিশনের মত করে আইফেল টাওয়ারটি মুহূর্তেই ঢাকার গাবতলীতে এনে বসিয়ে দিতে পারে। সেবার রানী বিলকিসের সেই বিশাল সিংহাসনটা নবী শলোমনের উপদেষ্টা জ্বিণ এভারেই এনে হাজির করেছিল তার সম্মুখে। যেমন-


শলোমন আরও বলল, ‘হে আমার পরিষদবর্গ! তারা আমার কাছে আত্মসমর্পন করতে আসার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমাকে এনে দেবে?’

এক শক্তিশালী জ্বিণ বলল, ‘আপনি আপনার স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি তা এনে দেব। এ ব্যাপারে আমি এমনই শক্তি রাখি। আর আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন।’
কিতাবের জ্ঞান যার ছিল সে বলল, ‘আপনি চোখের পলক ফেলার আগেই আমি তা এনে দেব।’ -(২৭:৩৮-৪০)

আবার যেহেতু জ্বিণজাতি দৃশ্যমান জগতের সকল বস্তুর ফিকোয়েন্সি জানে, তাই তারা বস্তু বা প্রাণীর ফিকোয়েন্সিতে অতি নগণ্য পরিমাণে পরিবর্তণ এনে বা তাকে বেষ্টন করে এক ফিকোয়েন্সি জাল সৃষ্টির মাধ্যমে, তাকে সাময়িক পরিবর্তিত রূপদান, পরিবর্তিত আকারে উপস্থাপন বা তাকে সাময়িক অদৃশ্যমান করে দিতে পারে। নবী শলোমনের উপদেষ্টা জ্বিণ এভাবেই বিলকিসের সিংহাসনে সামান্য পরিবর্তণও এনেছিল। যেমন-


যখন তা সামনে রাখা দেখল, তখন (শলোমন) বলল, ........‘তার সিংহাসনের আকৃতিতে সামান্য পরিবর্তণ আনো; দেখি সে চিনতে পারে- নাকি ভুল করে।’ -(২৭:৪১)


আর এ সামান্য পরিবর্তনের কারনে বুদ্ধিমতী বিলকিস দাবী করেননি ঐটি তার সিংহাসন, কিন্তু তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সেটি তারই। আর তাই শলোমনের প্রশ্নের প্রদত্ত উত্তরে তার ঐ মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছিল-তার উত্তর হ্যাঁ- না দু’টোই মিন করেছিল। যেমন- 


(বিলকিস) যখন পৌঁছিল তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, ‘তোমার সিংহাসন কি এ রকম?’

সে বলল, ‘এ তো এ রকমই। ...।’-(২৭: ৪২)

তাছাড়া শলোমন সাময়িকভাবে সিংহাসনচ্যূত হন জ্বিণ চখরের কারসাঁজিতে। সে তার শরীরকে বেষ্টন করে এক মায়াজাল (ফিকোয়েন্সি জাল) সৃষ্টি করেছিল, ফলে এমনকি তার স্ত্রী আমিনাও তাকে চিনতে না পেরে অস্খীকার করে। 


কি আছে লওহে মাহফুজের কিতাবে? কোরআনে বলা হয়েছে- নিশ্চয় এটা সম্মানিত কোরআন, যা আছে এক গোপন কিতাবে।-(৫৬:৭৭-৭৮) এটা লিখিত আছে সম্মানিত, উচ্চ পবিত্র পত্রসমূহে, লিপিকারের হস্তে, যারা মহৎ পূত চরিত্র।-(৮০:১৩-১৬) নিশ্চয় এ কোরআন আমার কাছে সমুন্নত অটল রয়েছে লওহে মাহফুজে।-(৪৩:৪) আকাশ ও পৃথিবীতে এমন কোন গোপন ভেদ নেই যা না আছে ঐ কিতাবে।-(২৭:৭৫)   


কিতাবে সবকিছুই লিপিবদ্ধ রয়েছে, কেবল নে
ই স্বাধীন করে সৃষ্ট মানব ও জ্বিণের আমলনামা, তবে তাদের আয়ূস্কাল অর্থাৎ জন্ম ও মৃত্যুর ক্ষণ এবং জন্মপথ তাতে লিপিবদ্ধ আছে।জন্মপথ হচ্ছে জন্মক্ষণ ও মৃত্যুক্ষণের মধ্যবর্তী সময়কালের মধ্যে প্রকৃতির সাথে সংযুক্ত মাকড়সার জালের মত ছড়িয়ে থাকা একমুখী পথ। (যারা ‘হাউস অব ডেড’ গেমটি খেলেছেন তারা বিষয়টি ভালভাবে বুঝতে পারবেন) সময়ের সাথে কমতে থাকা এই পথে ব্যক্তি বিশেষের অবস্থান পুরোপুরি ব্যক্তির কথা ও কর্ম নির্ভর। আর ব্যক্তি তার কথা ও কর্মের সিদ্ধান্তগুলো নেয় তার নিজের বিবেক বা প্রবৃত্তির প্ররোচনায়। আর ব্যক্তির প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি জ্বিণজাতির হাতে। এ ক্ষমতা তাদেরকে দেয়া হয়নি বরং তারা এটা পেয়েছে তাদের সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে।

ব্যক্তির কথা ও কর্মের সিদ্ধান্ত ব্যক্তির নিজের তাই সেসবের কিছুই লওহে মাহফুজের কিতাবে লেখা নেই (ব্যতিক্রম কেবল খোদার নির্বাচিত দাস )। তাই এসব (আমল) লিপিবদ্ধ করে দু’জন ফেরেস্তা। আর যে খাতায় তারা তা লিপিবব্ধ করে তা লওহে মাহফুজেরই এক খুঁদে সংস্করণ যাতে রয়েছে ব্যক্তির জীবনপথের ছাপ। 


আবার যেহেতু ব্যক্তির প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণ ইবলিসের আয়ত্বধীন, তাই যখন ব্যক্তির প্রজ্ঞা কম, তখন ইবলিস তার বিবেককে সাময়িক আড়াল করে ঐ ব্যক্তির কথা ও কর্ম নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে ব্যক্তির প্রজ্ঞা যখন বেশী হয় তখন তা বিবেককে জাগিয়ে তোলে, ফলে প্রবৃত্তিকে দাবিয়ে রেখে সহজেই সে ব্যক্তির কথা ও কর্মকে নিয়ন্ত্রণ করে। [আর এ থেকে সহজ অনুমেয় কেন মুসলমানের জন্য জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। কারণ কেবলমাত্র জ্ঞান শিক্ষার দ্বারাই তারা ঐশ্বরিক কিতাবের সঠিক অর্থ এবং সর্বিক গাইডলাইন বুঝতে পারবে এবং মানুষের উপর ক্ষমতাবান ও ধূর্ত ইবলিসকে এড়িয়ে চলতে পারবে।] 


অন্যদিকে ব্যক্তির কর্ম প্রভাব সরাসরি প্রকৃতির সাথে যুক্ত এবং সমগ্র মানবমন্ডলির কর্মপ্রভাব পুরো প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। কোন নির্দিষ্ট এলাকার মানবগোষ্ঠেীর কর্মপ্রভাব যখন প্রকৃতিকে মূলকিতাবের নির্ধারিত সীমাকে অতিক্রম করায়, তখন নতুন নতুন আত্মার জীবনপথ সংযুক্ত হতে থাকে কিতাবে অথবা মহাবিশ্ব পরিচালনাকারী ফেরেস্তাগণ সুনির্দিষ্ট নির্দেশ পায় প্রয়োজনীয় কর্ম সম্পাদনের যা প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে নির্ধারিত সীমায় রাখবে। সার সংক্ষেপে বলা যায়- Man possesses four unique qualities over angels: knowledge, Trust, Having multiple goals and free will and accountability. আর সবচেয়ে বড় বিষয় হল মানুষ দুনিয়াতে খোদার প্রতিনিধি, সবকিছুর 
নচার্জ। তাদের কথা ও কাজকর্মের প্রভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকৃতির সাথে জড়িত।ফলে কেবল তারা পরিবর্তণ আনতে পারে প্রকৃতিতে। 

ফ্রি উ
ইল সম্পন্ন মানব ও জ্বিণের আমলনামা ছাড়াও কিতাবে আর যা নেই তা হল কেয়ামত সংঘটনের সময়কাল। এটি একমাত্র আল্লাহই জানেন [যেমন-"Verily the knowledge of the Hour is with Allah (alone)-(৩১:৩৪) বা, To your Lord is its finality.-(৭৯:৪৪) গসপেলে ঈসা বলেছেন-”প্রকৃতপক্ষে সেইদিন সেই সময়ের কথা কেউ জানে না, স্বর্গের ফেরেস্তারাও না, আমিও না, কেবল খোদা জানেন।”] আর এ থেকে বোঝা যায়, কাগজে কলমে সূর্য়্যের জ্বালানী কখন শেষ হবে তা আমরা অঙ্ক কষে বের করতে পারলেও কেয়ামতের সময়কাল কখনই মানুষ বিজ্ঞানের সাহায্যে জানতে পারবে না, পরিণতি আসবে হঠাৎ করেই, হয়ত: আচমকা কোন ব্লাক হোলে পতিত হবে আমাদের সৌরজগৎ। আর তাতে আন্তগ্রহীয় বন্ধন ছুটে গিয়ে লন্ডভন্ড হয়ে যাবে আমাদের সৌরজগৎ। হঠাৎ শব্দ ও কম্পনের সৃষ্টি হবে আর গ্রহগুলো ছুটে যাবে ব্লাক হোলের দিকে।আর ছোটার গতি বৃদ্ধির সাথে সাথে নিম্নগ্রামে শুরু হওয়া শব্দ ও কম্পন্ বৃদ্ধি পেতে থাকবে। একসময় সবকিছু টুকরো টুকরো হয়ে পড়বে। অত:পর পরিণত হবে ধূণিত রঙ্গিন পশমের মত। 

যা হোক, মূল কাহিনীতে ফিরি,প্রথম মানব আদমকে সৃষ্টি করার পর আল্লাহ তাকে জ্ঞান শিক্ষা দিলেন। আর সে যখন সবকিছু শিখে ফেলল, তখন তিনি ফেরেস্তাদের সম্মুখে সকল বস্তু উপস্থাপন করে বলেন, ‘এসবের নাম আমাকে বল।’ 

তারা বলল, ‘আপনি মহান। আপনি আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তাছাড়া আমাদের কোন জ্ঞান নেই। নিশ্চয় আপনি প্রাজ্ঞ, তত্ত্বজ্ঞানী।’ 
তখন তিনি আদমকে বলেন, ‘হে আদম! তুমি ওদের এসবের নাম বলে দাও।’ -(২:৩১) তখন আদম সে সবের নাম বলে দিল।  

কেউ হয়ত: বলতে পারেন- তা আল্লাহ কেন ফেরেস্তাদের সামনে আদমের জ্ঞান জাহির করার প্রয়োজন বোধ করলেন? কারণ আদমকে সৃষ্টির পরিকল্পণা যখন তিনি ফেরেস্তাদেরকে জানিয়েছিলেন, তখন তরা সন্দিহান হয়েছিল। (উপরে দেখুন) তখন তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আকাশ ও পৃথিবীর অদৃশ্য বস্তু সম্বন্ধে আমি জানি, আর আমি জানি যা তোমরা প্রকাশ কর বা গোপন রাখ।’-(২:৩৩)


জ্ঞানীর সম্মান খোদার কাছে অতি উচ্চ। সুতরাং তিনি বলেন, ‘আদমকে সিজদা কর।’-(২:৩৪) তখন ফেরেস্তাগণ সকলেই সিজদা করল ইবলিস ছাড়া, সে সিজদা করতে অস্বীকার করল।-(১৫:৩০-৩১)


ইবলিস ফেরেস্তা ছিল না, ছিল জ্বিণ-(And when We said to the angels, "Prostrate to Adam," and they prostrated, except for Iblis. He was of the jinn and departed from the command of his Lord.-১৮:৫০), তথাপি সেও এই নির্দেশের অন্তর্ভূক্ত ছিল। কেননা, তখন পর্যন্ত সে ফেরেস্তাদের সঙ্গে একত্রে বসবাস করত এবং আল্লাহর ঐ নির্দেশ দানের সময়ও সে তাদের সঙ্গে সেখানে স্ব-শরীরে উপস্থিত ছিল। [এভাবে খোদার নির্দেশ না থাকলেও কোন নবী যাদি কিছু আদেশ করেন তবে তা উম্মতের জন্যে অবশ্য পালনীয় হয়ে যায়। যেমন, নবী ইয়াকুব তার প্রিয় উটের দুধ হারাম করেছিলেন [অার তারা রাণের উপরের অংশের মাংসও খায় না। অবশ্য তা মানতের জন্যে নয়। স্বপ্নের মধ্যে ফেরেস্তা জিব্রা
ইলের সঙ্গে তার মল্লযুদ্ধ হয় এবং তাকে পরাজিত করেন। আর এভাবে তিনি ‘আল্লার বীর’ বা ‘ইস্রায়েল’ উপাধি লাভ করেছিলেন। তবে ঐ মল্লযুদ্ধে তিনি কোমরে আঘাত পান, ফলে ইস্রায়েলীরা কোমরের উপরের মাংস হারাম করেছিল।], তার রোগমুক্তির নিরাময়ে, মানত হিসেবে, ফলে সকল ইস্রায়েলীর জন্যে তা হারাম হয়েছিল।] 

কেন ফেরেস্তারা সিজদা করল আর 
ইবলিস করল না? ফেরেস্তারা সিজদা করল কারণ ইতিপূর্বে আল্লাহ তাদেরকে সিজদা করার বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছিলেন।- ‘অমি ছাঁচে ঢালা শুকনো মাটি হতে মানুষ সৃষ্টি করছি, যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তার মধ্যে আমার রূহ সঞ্চার করব, তখন তোমরা তাকে সিজদা করবে।’- তাই এই নির্দেশ তাদের কাছে নতুন ছিল না। তাছাড়া তারা সর্বদা আল্লাহর নির্দেশ মান্যকারী। অন্যদিকে ইবলিস মানুষের মত ফ্রি উইলের অধিকারী। সে সৃষ্টির দিকে থেকে আদমের সিনিয়র এবং অাগুণ দ্বারা সৃষ্ট। ফলে তার কাছে মাটির সৃষ্টি আদম শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত হয়নি- যদিও বিশেষ জ্ঞানের ক্ষেত্রে আদম তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমান দিয়েছিল। আর তাই সে আল্লাহর নির্দেশ উপেক্ষা করে অনড় দাঁড়িয়ে রইল।

এদিকে সিজদাকারী ফেরেস্তারা মাথা তুলেই বুঝতে পারল, আযাযিল সিজদা অস্বীকারকারী। কারণ, তার চেহারায় পরিবর্তণ এসেছিল।
এতে ফেরেস্তারা ভয়ে পুনঃরায় সিজদায় পতিত হল। আর আল্লাহর প্রত্যক্ষ নির্দেশ অমান্য করায় আযাযিল হয়ে গেল ইবলিস।

আল্লাহ বললেন, ‘হে ইবলিস! তোমার কি হল যে তুমি সিজদাকারীদের সাথে যোগ দিলে না? কে তোমাকে বাঁধা দিল?’-(১৫: ৩২).

সে বলল, ‘আমি তো তার চেয়ে বড়, তুমি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছ, আর তাকে কাদা দিয়ে।’-(৭:১২).
তিনি বললেন, ‘হে ইবলিস! আমি যাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি তাকে সিজদা করতে তোমার বাঁধা কোথায়? তুমি যে অহংকার করলে, তুমি কি এতই বড়?’ -(৩৮:৭৫).
সে বলল, ‘তুমি মাটি থেকে যে মানুষ সৃষ্টি করেছ আমি তাকে সিজদা করব না।’‘-(৩৮:৭৫).

এতক্ষণ আদম দাঁড়িয়ে তাকে ফেরেস্তাদের সিজদা করা দেখল। অতঃপর আল্লাহর সাথে ইবলিসের তর্ক-বিতর্ক করতে দেখল এবং সকল কথোপকথন নিজ কানে শুনল। মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে কতই না স্বাধীনতা দিয়েছেন এবং তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি কতই না উদার ও সহানুভূতিশীল যে তিনি তাঁর সৃষ্টির এই প্রকার ঔদ্ধ্যত্য সহ্য করছেন- আদম বিষ্মিত ও হতবাক হয়ে পড়ল। 

এদিকে আল্লাহ দেখলেন এই ইবলিস আদমের প্রকাশ্য বিরোধীতায় লিপ্ত। সুতরাং আদমকে সতর্ক করে দিতে তিনি তাকে বললেন, ‘হে আদম! এই ইবলিস তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু। সুতরাং সে যেন কিছুতেই তোমাদেরকে জান্নাত হতে বের করে না দেয়, দিলে তোমরা দুঃখ-কষ্ট পাবে। তোমরা জান্নাতে বাস করতে থাক। সেখানে তোমরা ক্ষুধার্ত বা উলঙ্গ বোধ করবে না এবং সেখানে পিপাসা বা রোদের তাপ তোমাদেরকে কষ্ট দেবে না।’-(২০:১১৭-১১৯)


অতঃপর আল্লাহ তাদের চলাফেরায় সীমারেখা টেনে দিলেন। বাগানের মাঝখানে অবস্থিত এক বৃক্ষের নিকট গমন ও তার ফল ভক্ষণ নিষিদ্ধ করলেন। এই বৃক্ষটিই সেই জ্ঞানবৃক্ষ। আর ঐ বৃক্ষটি নির্দেশ করে তিনি বললেন, ‘হে আদম! তুমি ও তোমার সঙ্গিনী জান্নাতের যেখানে ইচ্ছে যাও বা যা ইচ্ছে খাও, কিন্তু এই বৃক্ষের নিকটবর্তী হইও না, হলে তোমরা সীমালংঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে।’-(৭:১৯). আর তিনি (ইবলিসকে) বললেন, ‘তুমি এখানে থেকে অহংকার করবে এ হতে পারে না। সুতরাং বের হয়ে যাও, তুমি তো অধমদের একজন।’ -(৭:১৩).

ইবলিস খোদার আদেশ অমান্য করে বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত হল। সুতরাং যার জন্যে তার এই দূর্ভাগ্য, সে বেহেস্তের অপার সুখ ভোগের মধ্যে শান্তিতে থাকবে এটা সে সহ্য করতে পারল না। তাই আদমকেও পথভ্রষ্ট করে কিভাবে সেখান থেকে বের করে দেয়া যায় সেই চিন্তায় সে মশগুল হল। কিন্তু যে পরিকল্পণাই সে করুক তা বাস্তবায়ন করতে হলে তাকে প্রথমে বেহেস্তে প্রবেশ করতে হবে। কিন্তু কিভাবে? 


ইবলিস বেহেস্তের দ্বারদেশে পৌঁছে ইতস্ততঃ ঘোরাঘুরি করতে লাগল। দ্বারের একপাশে প্রাচীরের উপর বসে ছিল এক ময়ূর। সে তাকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তার পরিচয় জানতে চাইল।

ইবলিস বলল, ‘আমি আযাযিল, আল্লার এক বান্দা।’

ইবলিস দ্রুত ঐ ময়ূরের সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলল এবং এক পর্যায়ে সে বেহেস্ত ঘুরে ফিরে দেখতে চাইল। ময়ূর বলল, তার সেরকম কোন ক্ষমতা খোদা দেননি। তবে সে জানায় যে তার এক বন্ধু আছে যার সে ক্ষমতা আছে। তখন ইবলিস তাকে তার সেই বন্ধুকে ডেকে আনতে অনুরোধ করে।


ময়ূর চলে গেল এবং অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে তার বন্ধুকে নিয়ে ফিরে এল। ময়ূরের ঐ বন্ধু ছিল একটা সাপ যে জ্ঞান বৃক্ষের ফল পাহারা দিত। ঐ সাপ বলল, ‘আল্লাহর অনুমতি ব্যতিত কারও ভিতরে প্রবেশের অধিকার নেই।’
ইবলিস বলল, ‘আমি বেহেস্তের কোথাও পা রাখব না, তোমার মুখের মধ্যেই অবস্থান করব।’

সাপ রাজী হল না। তখন ইবলিস তাকে বলল, ‘আমি ‘ইসমে আযম’ জানি। এই সামান্য কাজের বিনিময়ে তুমি তা শিখতে পারতে আমার কাছ থেকে। তবে যেহেতু তুমি তা শিখতে চাও না,’ইবলিস ফিরে যাবার ভঙ্গিতে বলল, “কি আর করা।’ তখনি সাপ তার মাথা প্রসারিত করে দিল। 
ইবলিস বলল, ‘আমাকে গন্ধম বৃক্ষের কাছে নিয়ে চল।’ সাপ উড়ে গিয়ে জ্ঞান বৃক্ষের এক শাখায় গিয়ে বসলে ইবলিস তাকে নানা কথায় ভুলিয়ে রাখল আর অপেক্ষায় থাকল অাদম হাওয়ার।

বেহেস্তের সুখ। নয়নাভিরাম নানা বর্ণের নানারকম ফলমূল, আরাম আয়েশ -আহা। বেহেস্তের মাঝামাঝি একস্থানে বসে ফল খেতে খেতে আদম ও হাওয়া নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগলেন, ‘কতই না ভাল হত যদি আমরা অমর হতাম, আর আমাদের এই জান্নাত বাস চিরকালীন হত!’ 


ইবলিস তাদের এই কথা শুনল। সে ঐ সময় গন্ধম বৃক্ষের শাখায় জড়িয়ে থাকা পাহারাদার সাপের মুখ গহ্বরে বসে ছিল। বৃক্ষ থেকে অবতরণ করে দ্রুত তাদের সন্নিকটে এসে গেল। 


তারপর শয়তান তাকে ফুসমন্তর দিল। সে বলল, ‘হে আদম! আমি কি তোমাকে অমরতা ও অক্ষয় রাজ্যের গাছের কথা বলে দেব? -(২০:১২০).

তারা দৃষ্টি ফেলে সাপকে দেখে বলল, ‘তুমি কে?’
সে বলল, ‘আমি সেই বৃক্ষ রক্ষণাবেক্ষণকারী।’  

আদম-হাওয়াকে নিয়ে সাপ ঐ বৃক্ষের একেবারে সন্নিকটে চলে এল। বৃক্ষের শাখায় শোভা পাচ্ছে নয়নমনোহর ফল একেবারে হাতের নাগালে। সুগন্ধে চারিদিক মৌ মৌ করছে। অভূতপূর্ব সৌন্দর্য। তারা অবাক নয়নে ফলের ভারে নূয়ে পড়া বৃক্ষটির শোভা উপভোগ করতে লাগলেন। ইবলিস বলল, ‘এটাই সেই বৃক্ষ, যার ফল ভক্ষণ করলেই তোমরা হবে অমর আর তোমাদের বাস বেহেস্তে চিরস্থায়ী হবে।’


আদম দেখল গাছটি বাগানের মাঝখানে। তখনি তার মনে পড়ল নিষেধবানী। সুতরাং সে বলল, ’না এর ফল আমরা ভক্ষণ করব না, নিষেধ অাছে।’

ইবলিস বলল, ‘কে নিষেধ করেছে?
হাওয়া বলল, ‘আল্লাহ আমাদেরকে বাগানের মাঝখানে থাকা গাছের কাছে যেতে নিষেধ করেছেন।’ 

তখন তাদের লজ্জাস্থান যা গোপন রাখা হয়েছিল তা প্রকাশ করার জন্যে শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল ও বলল, ‘যাতে তোমরা দু’জনে ফেরেস্তা বা অমর না হতে পার তার জন্যেই তোমাদেরকে এ গাছের সম্বন্ধে নিষেধ করেছেন।তারা বলল, ‘কিভাবে আমরা তোমার কথা বিশ্বাস করব?’ 

সে কসম খেয়ে বলল, ‘আমি তো তোমাদের একজন হিতৈষী।’ এভাবে সে তাদেরকে ধোঁকা দিল।-(৭:২০) আর আদমের তো মিথ্যা ও প্রতারণার বিষয়ে কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।
  
আদম দৃঢ় মনোবলের অধিকারী ছিল না। সে ভুলে গেল এটাই সেই বৃক্ষ যেটি বাগানের মাঝখানে অবস্থিত এবং যার সম্পর্কে আল্লাহ তাদেরকে সতর্ক করেছিলেন তার নিকটবর্তী না হতে, হলে তারা সীমালঙ্ঘণকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে।  

আল্লাহ বলেন, ‘আমি ইতিপূর্বে আদমকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে ভুলে গিয়েছিল, এবং আমি তার মধ্যে দৃঢ়তা পাইনি। -(২০:১১৫).’ [এই আয়াতে কেবল আদমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে- হাওয়ার নয়। একারণে হয়তঃ আল্লাহ নারী জাতির প্রতি বিশেষ রেয়াত প্রদর্শণ করেছেন। অথবা এটা হতে পারে- স্ত্রী যেহেতু পুরুষের অধীন সুতরাং স্বতন্ত্র্যভাবে হাওয়ার নাম উল্লেখের প্রয়োজন মনে করেননি।] 


তারা গাছ থেকে ফল ছিঁড়ল ও তা ভক্ষণ করল। ফল পাহারাদার সাপের মুখের গহব্বরে ইবলিস বসে থাকায় সে তাদেরকে কোনরূপ সতর্ক করতে পারল না।


তারপর যখন তারা সেইগাছের ফলের স্বাদ গ্রহণ করল তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল। আর তারা বাগানের গাছের পাতা দিয়ে নিজেদেরকে ঢাকার চেষ্টা করল। তখন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেন, ‘আমি কি তোমাদের এ গাছের ব্যাপারে সাবধান করে দেইনি?’ 

তারা বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের উপর জুলম করেছি, যদি তুমি আমাদেরকে ক্ষমা না কর, তবে নিশ্চয় আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভূক্ত হব।’-(৭:২১-২৩).

অনন্তর শয়তান তাদের উভয়কে ওখান থেকে পদঙ্খলিত করেছিল। পরে তারা যে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল তা থেকে তাদেরকে বের করে দিল। -(২:৩৬). পুরো ঘটনায় একদিকে আদম নিজেকে অপরাধী ভেবে হৃতদ্যম ও হতবাকের মত হয়ে পড়েছিল, অন্যদিকে ভীষণ লজ্জিতও ছিল, কেননা আল্লাহ তাকে ফেরেস্তাদের ও জ্বিনদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন, অথচ সে কি করে ফেলল! তাই তিনি তার কোন অতিরিক্ত কথা অধিক শাস্তি ও কোপানলের কারণরূপে পরিগণিত হতে পারে এই আশঙ্কায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে মনে মনে কেবল আল্লাহর করূণা ভিক্ষা করছিল। আর আল্লাহ তো সব জান্তা।


সুতরাং আদম তার প্রতিপালকের কাছ থেকে কিছু বাণী পেল। আল্লাহ তার প্রতি ক্ষমা পরবশ হলেন। তিনি তো ক্ষমাপরবশ, পরম দয়ালু।’-(২:৩৭). এরপর তার প্রতিপালক তাকে মনোনীত করল-আর তাকে পথের নির্দেশ দিল, ‘পরে আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সৎপথের নির্দেশ এলে যে আমার পথ অনুসরণ করবে সে বিপথগামী হবে না ও দুঃখ-কষ্ট পাবে না। আর যে আমার স্মরণে বিমুখ হবে তার জীবনের ভোগ-সম্ভার সঙ্কুচিত হবে, -(২০:১২২-১২৩) 


আর তিনি বললেন, ‘তোমরা একে অন্যের শত্রু হিসেবে কিছুকালের জন্যে পৃথিবীতে নেমে যাও। আর (সেখানে) তোমাদের জন্যে আবাস ও জীবিকা রইল। সেখানেই তোমরা জীবন-যাপন করবে, সেখানেই তোমাদের মৃত্যু হবে আর সেখান থেকেই তোমাদেরকে বের করে আনা হবে।’-(৭:২৪-২৫). মূলত: তোমাদেরকে সেখানে কিছুকাল অবস্থান করতে হবে ও লাভ সংগ্রহ করতে হবে।-(২:৩৬).


আদম-হাওয়াকে যখন আল্লাহ বচন দিচ্ছিলেন, তখন ইবলিস চুপচাপ একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু এবার সে মুখ খুলল। আদমকে দেখিয়ে সে বলল, ‘তুমি একে কি দেখেছ যাকে আমার উপরে তুমি মর্যাদা দিলে? কেয়ামতের দিন পর্যন্ত যদি আমাকে অবকাশ দাও, তাহলে আমি অল্প কয়েকজন ছাড়া তার বংশধরদের সমূলে নষ্ট করে ফেলব।’ 


আল্লাহ বললেন, ‘যাও, জাহান্নামই তোমার প্রতিদান আর প্রতিদান তাদের, যারা তোমাকে অনুসরণ করবে। তোমার কন্ঠস্বর দিয়ে ওদের মধ্যে যাকে পার সত্য থেকে সরিয়ে নাও, ......আর ওদের ধন-সস্পদে ও সন্তান-সন্তুতিতে শরিক হও আর প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাও।’-(১৭:৬২-৬৪).


ইবলিস আদম সন্তানদের সমূলে ধ্বংস করার দম্ভোক্তি করেছিল তার সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে। কিন্তু আল্লাহ ইতিপূর্বে আদমকে মনোনীত করেছেন এবং তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাকে নিশ্চিত করেছেন যে, তার সন্তানদের মধ্যেও তাঁর মনোনীত বান্দা থাকবে যারা পথভ্রষ্টদেরকে পথ প্রদর্শণ করবেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, তিনি জানেন সুচতুর ইবলিস তাঁর ঐসব মনোনীত বান্দাদেরকে প্রধান টার্গেট করবে, যাতে আদম সন্তানগণ সরল পথ কখনও দেখতে না পায়। তাই তিনি আদমকে মনোনীত ও প্রতিশ্রুতি দেবার সময়ই তাঁর মনোনীত সকল দাসদের আয়ূস্কালীন প্রতিটি মূহুর্তের হিসেব (মুখের প্রতিটি কথা, কাজ এমনকি ইবলিসের ভূমিকারও যাবতীয় কিছু) ইতিমধ্যে লওহে মাহফুজের কিতাবে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে যা পরিবর্তণ হবে না। তাই তিনি ইবলিসের কাছে প্রতিশ্রুতি চাওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়টিও সুস্পষ্টভাবে তাকে জানিয়ে দিলেন- ’আমার দাসদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা থাকবে না। কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট। -(১৭:৬৫).


তখন ইবলিস বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দাও। -৭৮:৭৯-৮০,’ আল্লাহ তো ন্যায়পরায়ণ, তিনি ইবলিসের এতদিনের কর্মফল বিফল করে দিলেন না। তিনি তার প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন, বললেন, ‘তোমাকে অবকাশ দেয়া হল সেইদিন পর্যন্ত-যা অবধারিত।-(৭৮:৮০) 


[ইবলিস তার সকল কাজকর্ম খোদার নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত থাকার খোদায়ী ওয়াদা পাওয়ামাত্র সে দুনিয়াতে সবচেয়ে ক্ষমতাধর হয়ে গেল। নায়ক খেকে সে হয়ে গেল খলনায়ক। এ কারণে ইব্রাহিমের সহিফায় রয়েছে- God's heritage (the created world) is largely under the dominion of evil (Iblis) – i.e., it is "shared with Azazel" (Abr. 20:5) 
একই সাথে তার উপর থেকে খোর রহমত উঠে যাওয়ায় তার চেহারাও কুৎসিৎ হয়ে যায়। যা অভিশপ্তের লক্ষণ। মূসার সঙ্গে তূর পর্বতের পাদদেশে ইবলিসের দেখা হলে তিনি তার এই ভয়ংকর চেহারার বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করেছিলেন। উত্তরে ইবলিস বলেছিল- ‘Oh Musa, that is but the ambiguity of appearances, while the spiritual state does not rely on it and does not change. Gnosis remains true even as it was at the beginning and does not change even if the individual changes.’ -(Kitab at-tawasin by Mansur al-Hallaj)] 

যাইহোক, কাহিনীতে ফিরি-. আর ইবলিসকে এটাও পরিস্কার করে দেয়া হল যে, অবকাশ সে পেয়েছে, তবে ঐ অবকালীন সময়কালে সে অভিশপ্ত্ও বটে। ’তোমার উপর আমার এ অভিশাপ কেয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী হবে।’-(৭৮:৭৮)


ইবলিস দেখল ইতিমধ্যে তার সর্বনাশ হয়ে গেছে, আল্লাহ তাকে কেয়ামত পর্যন্ত অভিশপ্ত করেছেন। সুতরাং যাদের কারণে তার এই সর্বনাশ, তাদেরকেও সর্বনাশ করার- পথভ্রষ্ট করার প্রতিশ্রুতি ও ওয়াদা দিল সে, বলল, ‘যাদেরকে উপলক্ষ্য করে তুমি আমার সর্বনাশ করলে, এ কারণে আমিও তোমার সরল পথে তাদের জন্যে নিশ্চয় ওৎ পেতে থাকব। তারপর আমি তাদের সামনে, পিছনে, ডান ও বাম থেকে তাদের কাছে আসবই, আর তুমি তাদের অনেককেই কৃতজ্ঞ পাবে না।-(৭:১৬-১৭). 

আমি তোমার দাসদের এক নির্দিষ্ট অংশকে আমার দলে নিয়ে ফেলব, আর আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করবই, তাদের হৃদয়ে মিথ্যে বাসনার সৃষ্টি করব। আমি তাদেরকে নিশ্চয় নির্দেশ দেব এবং তারা পশুর কান ফুটো করবে দেবদেবীকে উৎসর্গ করার জন্যে। আর আমি তাদেরকে নিশ্চয় নির্দেশ দেব এবং তারা তোমার সৃষ্টিকে বিকৃত করবে।’

-‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার যে সর্বনাশ করলে তার কসম! আমি পৃথিবীতে মানুষের কাছে পাপকে আকর্ষণীয় করব, আর আমি সকলের সর্বনাশ করব; তোমার নির্বাচিত দাস ছাড়া। -(৪:১১৮-১১৯) -আল্লাহর নির্বাচিত দাসদেরকে ইবলিস তার এই কসমের আওয়ার বাইরে রাখল। কেননা আল্লাহ ইতিপূর্বে তাকে পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের উপর তার কোন প্রভাব খাটবে না।


আল্লাহ বললেন, ‘এ-ই আমার কাছে পৌঁছানোর সরল পথ। বিভ্রান্ত হয়ে যারা তোমাকে অনুসরণ করবে তারা ছাড়া আমার দাসদের ওপর তোমার কোন প্রভাব খাটবে না।’-(১৫:৩৯-৪২). [এই কথা থেকেই মানুষ আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর সরল পথের দিশা পেল। অর্থাৎ‘ইবলিস কতৃক আকর্ষণীয় করে উপস্থাপিত পাপকে পরিহার করে চলতে পারলেই মানুষ সর্বদা সেই সরল পথেই থাকবে, যে পথ তাকে আল্লাহর সান্নিধ্যে নিয়ে যাবে। আর কোন সন্দেহ নেই চতুর ও মানুষের উপর ক্ষমতাবান ইবলিসকে এড়িয়ে মানুষ চলতে পারবে কেবল তার জ্ঞান ও শিক্ষার দ্বারা।]


একই সাথে আল্লাহ ইবলিস ও তার অনুসারীদের শেষ পরিণতিও সুস্পষ্ট করে দিলেন যেন এ ব্যাপারে কারও নিকট সন্দেহের কোন অবকাশ না থাকে-‘আর আমি সত্যিই বলছি যে, তোমাকে দিয়ে ও ওদের মধ্যে যারা তোমার অনুসারী হবে তাদেরকে দিয়ে আমি জাহান্নাম ভরিয়ে তুলব। -(৩৮:৮৪-৮৫).তার সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজার জন্যে পৃথক পৃথক দল থাকবে।’-(১৫:৪৪).


অত:পর দুনিয়াতে কি হচ্ছে? শয়তান তার কাজ ঠিকই করে যাচ্ছে। সে আদম-হাওয়ার কাছে শপথ করে বলেছিল- ‘আমি তো তোমাদের একজন হিতৈষী।’-অথচ তা ছিল ছলনা, কেবল তাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে। তেমনি খোদার কাছে করা -‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার যে সর্বনাশ করলে তার কসম! আমি পৃথিবীতে মানুষের কাছে পাপকে আকর্ষণীয় করব, আর আমি সকলের সর্বনাশ করব; তোমার নির্বাচিত দাস ছাড়া। -(৪:১১৮-১১৯) -প্রতিজ্ঞাও ছিল তার ছলনা। কেননা, কোরআনে রয়েছে- আমি তোমার পূর্বে যে সমস্ত রসূল ও নবী প্রেরণ করেছি, তারা যখনই কিছু কল্পণা করার চেষ্টা করেছে, তখনই শয়তান তাদের কল্পনায় কিছু মিশ্রণ করে দিয়েছে।-(২২:৫২)অর্থাৎ পারবে না জেনেও শয়তান কিন্তু ক্ষান্ত হয়নি। সে তার প্রতিজ্ঞার বিপরীতে নবীদেরকেও চেষ্টা করেছে পথভ্রষ্ট করে দিতে। আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে আয়াতটি প্রমাণ করছে জ্বিণ মানুষের মনের কথা পড়তে পারে এমনকি, তা এডিট (সংযোজন বা বিয়োজন) করার ক্ষমতাও তার রয়েছে। সুতরাং বি কেয়ারফুল, কোন প্রলোভনে পড়া যাবে না। কেননা, প্রলোভন দেয় কেবল শয়তান। -আর শয়তান যে প্রতিশ্রুতি দেবে তা তো ছলনা মাত্র।-(১৭:-৬৪).

সমাপ্ত।


উৎস: 
Quran, 
Torah,
Midrash
Mansur al-Hallaj, Kitab at-tawasin
Husayn ibn Mahmud, Book of Chamis.
Abbas Ali, Islamic Perspectives on Management and Organization


২৮ ডিসেম্বর, ২০১৫

Christianity: Muslims View of Christians.

Muslim never agreed with the complex and controversial factors those one can find in the Bible & in Gospel available today. Their attitudes towards Christianity is exactly the same as stated in the Qur'an. Now we will try to go in depths to understand Muslims View and such attitude towards Christian & Christianity.

Muslims Justify their views and attitude towards Christian & Christianity according to Quranic Patterns of Affirmation & Rejection because-

a).  of the logic it's the latest scripture
b).  of the surety its from God.
c). of the Specialty over other Scriptures.[declares the Scripture bearing Prophet as the 'Seal of Prophets' Only Scripture that itself  declares its truthfulness & challenge human & Jinn's to find one of its discrepancy. Only Scripture that contains the message and the account of Messenger of the past, Only Scripture that contains the history and the account of all previous Scripture, Only Scripture that define the 'Religion of God'. 
So they argue, who can declare & claim such vast history as true and challenge Human & Jinn's to find a slight deviation? only the witness, ie God Himself?]

d). of understanding the role of Qur'an as-
i). that it's a scripture for mankind after the Prophet-hood of Muhammad,
ii). that it's a touchstone to identify & understand the deviation or falsehood of all previous Scripture
iii). that the role of Muslims as the witness of the content of all previous Scriptures and the role of the prophets so that they can produce themselves as the witness against all the people before him at the Judgement day.

e). Of understanding Jesus Teachings & Modern Christianity, Muslim Concludes-
i).  Christians are completely diverted from the teachings of Jesus, `To understand the mission of Jesus', they claim,  'you have to understand his title Messiah'. He is Messiah because he prescribed a shortcut path to Heaven for the Israelis. Here we consider the following verse to understand the teaching of Jesus.

And while he was going out into the way, a man came running to him, and went down on his knees, saying, ‘Good Master, what have I to do so that I may have eternal life (In heaven)’?
And Jesus said to him, ‘Why do you say I am good? No one is good but one, and that is God.’

আপনি তো হুকুমগুলি জানেন-

‘একমাত্র খোদার উপাসনা কোরও,
অসৎ কাজে খোদার নাম নিও না,
প্রতিমা পূজা কোরও না,
ব্যভিচার কোরও না,
নরহত্যা কোরও না,
চুরি কোরও না,
মিথ্যে সাক্ষ্য দিও না,
পিতামাতাকে সম্মান কোরও,
প্রতিবেশীকে মহব্বত কোরও এবং
তাদের কোন বস্তুতে লোভ কোরও না।’

সেই নেতা বলল, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি এ সমস্ত পালন করে আসছি।’
একথা শুনে ঈসা বললেন, ‘এখনও একটা কাজ আপনার বাকী আছে। আপনার যা কিছু আছে তা নিয়ে বিক্রী করে গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দেন। তাহলে আপনি বেহেস্তে ধন পাবেন। আর তারপর এসে আমার পথে চলুন।-Mark, 10:17-21

What we have about the teaching of Jesus from these Verse?
Moses 10 commands + the duty of Jesus will bring you to the eternal life (ie Heaven not Hell of course) is it? No dear, we missed a Vital Point. You should be a Jew first, because Jesus advice's this to a Jew not a non Jew.
Then what will be the Jesus advice for non Jew for these Verse?
Believe in one God+ Practicing Moses Law+ Guiding & showing others to the way to Heaven

ii). Christians theology invented from Polytheist that can't comply with simple logic.
iii). Christian belief or their Scripture contains some historical event that is ethically and morally unacceptable, some incomplete, some with  lot of discrepancies, some purely logic-less. or some with the combination of all these.

Now, we will see what actually the view of a Muslim towards Jesus, Christian & Christianity.Here is a list that we consider as vital point but not necessarily to all.

1.  Muslim View of Jesus
a. His Identity:
Name- Yushao in Aramic & Isa in Arabic, Son of :Mary &  born without father,

b. Status of Mary,
She was a pious, virgin women and Mother of Jesus, She was dedicated to the service of God during his childhood, She comes from a Honorable Jews Rabbi family. She was declared as the highest Honorable Women among mankind by God Himself. [হে মরিয়ম! নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন ও তোমাকে পবিত্র করেছেন এবং বিশ্বজগতের নারীগণের উপর তোমাকে আসীন করেছেন। -৩:৪২]

c. His Miraculous birth & life:
In Christianity, it is Incarnational understanding. Though some modernist (but Scattered) those became a atheist because in their sense those are absurd thing and introduced to the knowledge-less people of the past to bluff them.Now its 21st century and those things becomes as funny and recreational subject to them- "The joy of being an atheist is that I can put my mind to things that have no wishful thinking, myth making or pie-in-the-sky stories. Virgin birth? Rising from the dead? Ascending into heaven with two prophets accompanying him? Walking on water?  Raising a dead man into life again? -As my young relative often says "for cripes sake, give me a break." or,

“I want my kids to learn about real, worthwhile stuff that’s grounded in logic and reason. Like how a virgin had a magic baby in a stab`le, and some men arrived with presents after following a UFO.” Extraordinary that we're still discussing this nonsense in the 21st century".

But none of these are concern to any Muslim,They believe that every Prophet have some miracle with themself or they showed some according to the situation & demand with the help of God. And for the case of Jesus, there is nothing uncertain as he was a Promised Messenger.

d. His Name as "Jesus":
Jesus is the translated name of “Yushao” in Greek. Ethically & morally unacceptable to give ones identity with any translated name. Even the designated person will deny it..

e. His Ethnicity:
 To Muslim he was a Jew, children of Israel.

f. His Religion:
Is the religion of God, that followed by every prophet before & after him. He is Muslim as all other prophets and abide by the sharia law written in Torah that given to Moses to guide the Children of Israel..

g. His Status:
To Muslim he is among the most Honorable Messenger of God, as Messiah to the Jews, with a status equal to Mohammad, Moses, Abraham..etc

h. He was sent to:
Muslim believe that he sent only to the Children of Israel as stated in the Bible- Jesus said,- "I was not sent except to the lost sheep of the house of Israel." -Mathew 15:24

i. His Prophetic Mission:
To Muslim he was the Messiah to the Children of Israel. though Christian belief his mission was universal/eternal, and Muslims reject their idea even their scripture too. Gospel clearly states- Jesus Said, ”I was not sent except to the lost sheep of the house of Israel.” -[Mathew 15:24].

j. His prophecy:
Muslim believed as stated in the Qur'an- And remember, Jesus, the son of Mary, said: "O Children of Israel! I am the apostle of Allah (sent) to you, confirming the Law (which came) before me, and giving Glad Tidings of an Messenger to come after me, whose name shall be Ahmad." - 61:6 
They also believed as stated in the Gospel too- ”And I will ask the Father, and he will give you another advocate to help you and be with you forever”— [John 14:16] "The Comforter, the Spirit of Truth, whom the Father will send in my name, he shall teach you all things, and bring to your remembrance all that I said unto you." [John 14:26]

k. His Specialty as Man:
 To Muslim he was born Miraculously (without father) thus earning the title- Ruhuallah,

l. His Specialty as Messenger:
Muslim believed he was "Word of God" but not the same way that Christians are believing. All the Prophet receives Revelation from the book of life as manifested by God, through angel Gibrail or through Dream. But the only Prophet who received it directly in to his heart from that book. The universal Divine law acting within his soul activated at the moment his prophetic mission starts. Thus he become a vessel of God's Word. So what came out from his mouth is word of God. as he says-"and the word which you are hearing is not my word but the Father's who sent me.'-John, 14:24
Thus he can able to give live to a dead, live to a figure (earthly bird shape), similarly, death to life (fig tree). Even able to change one species to other (boys to pig), Powered to forgive Sins, Powered to foretold, Power to cure diseases, Power over Jinns, the Spirited Creature.

m. Scripture Awarded to him:
To Muslim it was Injil (Gospel).not as a written book but sent into his heart. So he is some times called as "Word of God".

n. His Disciples:
 As 'ansiir Allah (helpers of God) as believer and as Gospel spreaders

o. His Difference with other Messenger:
God never talked with him as He did to Moses, Muhammad. He was not even the Seal of the Prophet nor the recommender for any or whole mankind in the judgement day as Muhammad, but he was with some specialty- Ruhallah- Word of God, He practiced special teaching technique- teach with parable & fables.

p. Death on Cross:
Muslims are not agree with the Christian belief that Jesus died on cross.Though there is no eye witness and with simple logic easily one can prove he was not died. However Muslim rejects because God rejects their idea. as-

That they said (in boast), "We killed Christ Jesus the son of Mary, the Messenger of Allah";-but they killed him not, nor crucified him, but so it was made to appear to them, and those who differ therein are full of doubts, with no (certain) knowledge, but only conjecture to follow, for of a surety they killed him not:- Nay, Allah raised him up unto Himself; and Allah is Exalted in Power, Wise;-—  4:157-158 God lifted him up to a lofty station 4th heaven where angels (those works to the Universes below them as a part of extension of God) lives.

q. Jesus as God/Son of God:
Muslims consider it as Highly Blasphemous, a Slander on God and against the teaching of Jesus. Only Satan & his companions say so to divert human from the path of God. Even logically Jesus cant.God as-

খোদা জাদুকরের ন্যায় বিভিন্ন রূপের দ্বারা আমাদেরকে বিভ্রান্ত করতে পারেন না। এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে প্রথমে আমরা পরিবর্তনের কথাই ধরি, কোন কিছুতে যখন পরিবর্তন সাধিত হয়, তখন সে পরিবর্তনের কারণ হয় সে বস্তু নিজে, নয়ত: অপর কোন শক্তি। কিন্তু খোদার সম্পর্কে আমরা কি বলব? তিনি নিজে অবশ্যই সর্বপ্রকার সুসম্পূর্ণ। সুতরাং বাইরের অভিঘাত নিশ্চয় তাকে বিভিন্ন রূপ গ্রহণে বাধ্য করতে পারে না। তিনি যদি আদৌ পরিবর্তিত হন, তাহলে সে পরিবর্তন সুস্পষ্টত: নিজে থেকেই সাধিত হবেন। আর যদি তিনি আদৌ পরিবর্তিত হন, তাহলে তাকে নিকৃষ্টতর হতে হবে। কারণ ধর্ম বা কান্তি কোন ক্ষেত্রেই তিনি কোন কালে অসম্পূর্ণ ছিলেন এমনটা আমরা ভাবতে পারি না। আর কেউ কি নিজেকে নিকৃষ্টতর করে পরিবর্তিত করতে চাইবে? সুতরাং বলা যায়, খোদা আদৌ নিজের পরিবর্তন কামনা করতে পারেন না। কারণ, তিনি হচ্ছেন সর্বোত্তম এবং মনোহরতম। তাই তিনি আপন রূপে নিত্যকালের জনেই অপরিবর্তিত। এ কারণেই যিশুখৃষ্ট যেমন ঈশ্বর হতে পারেন না, তেমনি মানুষের মাঝে নানারূপ নিয়ে খোদার উপস্থিতিও অসম্ভব। আর এ কারণেই খোদার রূপ কল্পনা করে কোন বস্তু, মূর্তি-প্রতিমার নিকট অর্ঘ্য প্রদান খোদার নিকট ঘৃণ্য, অমার্জিত পাপ কারণ, তৈরীকৃত প্রতিমূর্তি তাঁর প্রকৃত স্বরূপকে নিকৃষ্ট করে; তাঁর স্বরূপের মিথ্যা প্রতিভাস তৈরী করে।

কেউ হয়ত: বলতে পারেন-খোদা অপরিবর্তনীয় হলেও যাদু-মন্ত্রাদির সাহায্যে তিনি আমাদের সামনে বিভিন্ন রূপের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে হয়তোবা উপস্থিত হতে পারেন। কিন্তু বিধাতা কথায় কিম্বা কর্মে নিজেকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবেন বা নিজের মিথ্যা প্রতিভাস তৈরী করবেন এমনটা আমরা ভাবতে পারি না। আর কেউই তার যথার্থ প্রকৃতিতে মিথ্যা প্রতিপন্ন হতে চায় না। আবার খোদা কোন শত্রুর ভয়ে বা কোন জ্ঞানহীন বন্ধুর কারণে মিথ্যার আশ্রয় নেবেন তাও আমরা ভাবতে পারি না। অর্থাৎ আমরা এমন কোন কারণ বা উদ্দেশ্যের কথা চিন্তা করতে পারি না যে জন্যে খোদা মিথ্যার আশ্রয় নেবেন। সুতরাং খোদা মিথ্যার আশ্রয় নিতে একেবারেই অক্ষম। তাই আমরা বলতে পারি-খোদা কথায় এবং কর্মে সরল এবং সত্য। তাঁর কোন পরিবর্তন নেই। শব্দে বা সংকেতে তিনি কাউকে প্রতারণা করতে পারেন না।
So God never changes He is Perfect with all His Essences.

r. Last Supper for Jesus:
To Muslim, its nothing special than other Jews as a religious festival, But as he was a Prophet, a Prophet with "Word of God", he was directly connected/in touch with the book of life, he was ale to see future and thus that that supper was special to him.

2. Christian & Christianity
a. Christianity:
To Muslim Christianity is nothing but a sect of Jews (as Jesus not reject Moses law nor changing them nor even adopt any new) that later took the form as Hellenize Polean Doctrine under the shadow of Jesus Teachings. আর খৃষ্টের শিক্ষায় এসব তত্ত্ব প্রবেশ করে ৩২৫ সনে নিকাইয়ার সম্মেলনে।

৩২৫ সনে নিকাইয়ার সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল কেবল ক্যাথলিক ও অর্থোডক্সদের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতে। কিন্তু যখন সম্মেলনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হল, তখন রাজকুমারী কনষ্টানটিনা ইউসেবিয়াসকে বলেন যে- সম্রাট একটি ঐক্যবদ্ধ চার্চ চান। কারণ খৃষ্টান সম্প্রদায়ের বিভক্তি সাম্রাজ্যকে বিপদগ্রস্ত করবে। কিন্তু যদি কোন ঐকমত্য না হয় তা হলে তিনি ধৈর্য হারাবেন এবং খৃষ্টানদের প্রতি তার সমর্থন প্রত্যাহার করবেন। যদি তিনি সেপন্থাই গ্রহণ করেন তা হলে খৃষ্টানদের পরিস্থিতি আগের চেয়েও খারাপ হবে এবং খৃষ্টান ধর্মও অধিকতর বিপন্ন হবে। এদিকে কনষ্টানটাইনের আনুকূল্য লাভের জন্যে উপস্থিত সকল বিশপ ধর্মের কিছু পরিবর্তন সাধনে এমনিতে সম্মত ছিলেন। আর তাই ইউসেবিয়াসের পরামর্শক্রমে আরিয়াস ও তার অনুসারীরা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। 

আর যেহেতু সেসময় সাম্রাজ্যের সর্বত্র রোমান সূর্যদেবতার উপাসনা অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল এবং সম্রাটকে পৃথিবীতে দেবতার রূপ হিসেবে গণ্য করা হত, এ প্রেক্ষিতে পলীয় চার্চ :

ক). রোমান সূর্য-দিবস (Sunday)-কে খৃষ্টানদের সাপ্তাহিক ধর্মীয় দিবস ঘোষণা করল;
খ). সূর্য-দেবতার প্রচলিত জন্মদিবস ২৫ডিসেম্বরকে যীশুর জন্মদিবস (Christmas Day) হিসেবে গ্রহণ করল;
গ). সূর্য-দেবতার প্রতীক আলোর ক্রুশকে (Cross of Light) খৃষ্টবাদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করল; এবং
ঘ). সূর্য-দেবতার জন্মদিবসের সকল উৎসব অনুষ্ঠানকে নিজেদের উৎসব অনুষ্ঠান হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিল।

খৃষ্টধর্মকে এমন একটি ফর্মে আনতে পারা সম্রাট কনষ্টানটাইনের জন্যে অত্যন্ত সন্তোষজনক ছিল। কারণ এটি চার্চগুলোর মধ্যে, খৃষ্টান ধর্মগোষ্ঠীর মধ্যে, এমনকি খৃষ্টান ও পৌত্তলিকদের মধ্যে বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি তার সাম্রাজ্যকেও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধিশালী হয়ে ওঠার পথে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে। আর সম্ভবত: তার এই সন্তুষ্টির কারণেই ক্যাথলিক চার্চের প্রতি তার সমর্থন আগের চেয়ে অত্যন্ত জোরালো হয়ে ওঠে।

চূড়ান্ত ভাবে ত্রিত্ববাদ খৃষ্টানধর্মের মৌলিক মতবাদ হিসেবে গৃহীত হয়। তবে এই মতবাদ গ্রহণ করলেও অনেকের মধ্যে তখনও একত্ববাদের অভিজ্ঞতা ও তার প্রতি সমর্থন বিদ্যমান ছিল। যেহেতু যীশু যে এক ঈশ্বরের শিক্ষা দিয়েছিলেন তা তখন বিলুপ্ত হয়েছিল, তাই তারা শেষ পন্থা হিসেবে প্লাটোনিক দর্শনের পরিভাষা (“স্রষ্টাকে খোঁজা কঠিন, কিন্তু নিম্নশ্রেণীর লোকদের কাছে তা ব্যাখ্যা করা অসম্ভব।”-প্লেটো) ব্যবহার করতে শুরু করেছিল যদিও তা তাদের উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে পর্যাপ্ত ছিল না। কার্যত এ-ই ছিল তাদের সব- যা তারা জানত।

b. Designation of Christian:
To Muslim they are 'People of the Book' as Qur'an designate them

c. Status of Christian:
To Muslim it is Purely Paganism (as they believe in Trinity) under the shadow of Monotheist.

d. Religious Invention:
Christian took some their Festivals from the Polytheist, those nothing to do with their religion.

e. Scripture as Gospel:
No specific Book certified by the Prophet Jesus himself. Nor even he write any line of it. So a lot of books found as scripture written by people those are not even the disciples of Jesus. Such as- Gospel of John, Gospel of Mathew, Gospel of  Luke, Gospel of Mark, Gospel of Barnabas,  Gospel of Thomas, Gospel of Judas, Gospel of Philip, Gospel of Peter, Gospel of James,  Gospel of Cerinthus,  Gospel of Apelles, Gospel of Valentinus, Gospel of the Encratites, Gospel of Andrew, Gospel of Barnabas, Gospel of Bartholomew, Gospel of Hesychius,  Gospel of Lucius,  Gospel of Merinthus and many others.

Among the above Gospels Christians consider Gospel of John, Gospel of Mathew, Gospel of Luke, Gospel of Mark, (how they chose them? they put all their books on a table and sake, those remain on the table are taken as scripture during 'Council of Nicea') as Canonical Gospels and only one Gospel, the Gospel of Barnabas is written by Barnabas a true disciples of Jesus. It should be noted that western experts gives their statements & proof of the falseness of the claim with their unparallel knowledge & expertise over mankind.

Dear reader, we are sorry to declare that "all Western Expert" are Highly qualified to analyse all Religious matter other than Christianity to make a CUBE & to chose a desired side as face for the readers. and to paint that face carefully to present to the Readers as TRUTH hiding all other sides. আর এভাবে তারা বার্ণাবাসের গসপেলটিকে মূল্যায়ণ করেছে। (আমরা পরবর্তীতে কোন আর্টিকেলে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে বিস্তারিত আলোচনা করব।)

f. Status of Gospel:
To Muslim Gospel Definitely Corrupted. Here we are not writing an essay on it so, a single example is enough to make it clear we think. 

In Gospel, Jesus is reported to have said, "All who have come before me are thieves and robbers, but the sheep have not listened to them."-John 10:8
Moses, David, Solomon, John, Jakharia, Eli, Isaiah, Jeremiah Daniel, Ezra, -Some of few of his own  people, the Children of Israel- were all these thieves and robbers? On the other hand, Qur'an teaches to believe all Prophets. 

[So God sent Qur'an to help them identify where the corruption takes places. and to mankind to introduce Islam as His religion as it completed through Muhammad.and to warn as his promise to Adam is fulfilled so the prophetic mission is closed. Further, introducing Muhammad as the mercy of all creation. On the other hand, Christians believe that the status of present Gospel is authentic in its Biblical form.

g. Trinity of God:
Muslim consider it as a form of Paganism- nothing but the reduction of plurality. If anyone consider it to the state of water, then the properties of water & ice is different, and logically any thing that changes can't be the Essence of God as He is Perfect with all His Essence.
         
Bible says. "One of the teachers of the law came and ...asked him, “Of all the commandments, which is the most important?”
“The most important one,” answered Jesus, “is this: ‘Hear, O Israel: The Lord our God, the Lord is one.-Mark 12:28-28 And most interesting is the Brilliant and wise Nation define this unity as-Trinity-  God the father, God the Son, God the Holy Spirit - a idea taken from Paganism,

h. Moral teaching of Jesus:
[Doctrines of his redemptive power. as Christian Believe is false as Muslim consider.according to the word Jesus.
       
And while he was going out into the way, a man came running to him, and went down on his  knees, saying, Good Master,............
And Jesus said to him, Why do you say I am good? no one is good but one, and that is God. Mark 10:17-18 Similarly it should be "Doctrines of God's redemptive power"]

To understand the Moral Teachings of Jesus, we have to understand his Title Messiah, to whom he sent? and justification of Messiah to them with a explanation why he was Godly Powered.

And seeing a fig-tree by the wayside, he came to it, and saw nothing on it but leaves only; and he said to it, Let there be no fruit from you from this time forward for ever. And straight away the fig-tree became dry and dead.

And when the disciples saw it they were surprised, saying, How did the fig-tree become dry in so short a time?
And Jesus in answer said to them, Truly I say to you, If you have faith, without doubting, not only may you do what has been done to the fig-tree, but even if you say to this mountain, Be taken up and put into the sea, it will be done-Matthew, 21:19-21

i. Death by Crucifixion:
Muslims belief is that he is neither Crucified nor he is died, but God lifted him, though Christians belief is that he sacrifices his life, for the sins of Mankind. It is contrary to every kind of moral justice. Again no scripture never told such a things ever, It is purely christian invention, a product of their hybrid brain? On the other hand. if you became a sinless then why to pay heed Jesus now? and for the case of Muslim- Sins can't bet inherited, (except one- killing of Messenger, if they are not blame their forefathers.) Son is not liable for his fathers sin, So Adams sins never be inherited. And to say, this type Christians belief lead Tetzel to sale ticket of Heaven even some others to this day. Two buddy caught by police when selling such tickets, their statements in custody as-

“I don’t care what the police say. The tickets are solid gold… it ain’t cut up two by fours I spray painted gold. And it was Jesus who give them to me behind the KFC and said to sell them so I could get me some money to go to outer space. I met an alien named Stevie who said if I got the cash together he’d take me and my wife on his flying saucer to his planet that’s made entirely of crack cocaine. You can smoke all the crack cocaine there you want… totally free. So, try to send an innocent man to jail and see what happens. You should arrest Jesus because he’s the one that gave me the golden tickets and said to sell them. I’m willing to wear a wire and set Jesus up… ” -Tito Watts said in his statement when he was in police custody.

“We just wanted to leave earth and go to space and smoke rock cocaine. I didn’t do nothing. Tito sold the golden tickets to heaven. I just watched”.-said Amanda Watts.

সবশেষে বলা যায় ’আদিপাপ’ বা মানবজাতির পাপে বিশ্বাসের ফলশ্রুতিতে পোপের পকেট যেমন ভারী হয়েছে তেমনি তা চার্চে ও ধর্মে এনে দিয়েছে বিভক্তি-একদল বেরিয়ে গেছে প্রটেষ্টট্যান্ট হিসেবে। আর টিটো ও আমান্ডার মত আধুণিক ছেলেমেয়েরা বুদ্ধিমান পোপদেরকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে তারপথ অসুসরণে ধনী হতে চাচ্ছে। really great.

j. Jesus' "ascension":
Christian Believe is as risen from the dead But Muslim believe according to to Quran-he neither Crucified nor he is dead and they found easy proof of their believe in the Christian Gospel too.

k. Jesus as Messiah:
They  Hide it  in Christian theology on the other hand Muslims believe that Jesus is Messiah to the children of Israel, Because he came to them to show the shortcut path to the Heaven

যিশুর মসিহ বা উদ্ধার কর্তা হবার কারণ-
তিনি দেখিয়েছেন, কিভাবে কৃতপাপ থেকে উদ্ধার পেয়ে দোযখে ঢোকা থেকে নিজেকে রক্ষা করা যাবে বা অপরের কাছ থেকে নিজের একাউন্টে পূণ্য জমা করে বেহেস্তীরাজ্যে প্রবেশের পাথেয় তারা সংগৃহ করতে পারে। এককথায় ইস্রায়েলীদের নিকট যিশুর আনীত সুসংবাদ (গসপেল) ছিল তাদের জন্য বেহেস্তীরাজ্যে প্রবেশের সহজ পথের দিশা।
   
যিশু কোন শরীয়ত নিয়ে আগমন করেননি, তিনি তো কেবল ‘মসিহ’- উদ্ধারকর্তা, ত্রাণকর্তা। তার উপাধিই জানান দিচ্ছে তার কাজ ও কাজের পরিধি। তিনি ইস্রায়েলীদেরকে দেখিয়েছেন সহজপথ যা তাদেরকে পৌঁছে দেবে বেহেস্তীরাজ্যে। মূলত: মূসার শরীয়তের ‘টিট ফর ট্যাট’ নীতির কারণে ‘দুষ্টু জাতি’ ইস্রায়েলীরা তাদের ’খাতা’য় কোন প্রাপ্তি যোগ করতে পারছিল না, কিণ্তু তারা তো চুজেন পিপল। সুতরাং খোদা তাদেরকে শেষবারের মত সরলপথে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করেন যিশুর মাধ্যমে, যাকে দেয়া হয়েছিল খোদায়ী কিছু গুণ। যেমন-

‘এই জন্যে দেখ, আমি তাদেরকে জ্ঞাত করব,
একটিবার তাদেরকে আমি আমার হস্ত ও পরাক্রম জ্ঞাত করব,
তাতে তারা জানবে যে, আমিই খোদা।’ ---------(অরামিয়া ১৬:২১)

এবার আমরা দেখি, কেন যিশুকে খোদায়ী ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল
এ জানতে আমাদেরকে ইস্রায়েলীদের ইতিহাসে ফিরতে হবে।

নবী ইয়াকুব মায়ের প্ররোচনায় প্রতারণার মাধ্যমে (বাইবেল) পিতা ইসহাকের আশীর্বাদ নিয়ে নিল যা নির্ধারিত কেবল জৈষ্ঠ্যপুত্রের জন্য এবং ভ্রাতা এষার ভয়ে মায়ের পরামর্শেই পালিয়ে গেল, হারাণ- মামাবাড়ীতে। তারপর সেখানে প্রথম দেখাতেই মামাত বোন রাহেলের প্রেমে পড়ে সে যখন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিল, তখন মামা তার দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে দিয়ে ১৪ বৎসর দাস্যকর্ম করিয়ে নিল।

বিয়ের পর দু’বোন, লেয়া ও রাহেল ইয়াকুবের দখল নিতে সংসার ভারী করতে তাদের দাসীদেরকেও ইয়াকুবের বিছানায় তুলে দিল। এতে সে এক ডজন পুত্র ও এক কন্যার জনক হল। কিন্তু পুত্র ইউসূফের পর বিন্যামিনের জন্মের সময় ইয়াকুব হারিয়ে ফেলল তার ১৪ বৎসর দাসত্বের বিনিময়ে পাওয়া সম্পদ- মারা গেল রাহেল।

সুতরাং রাহেলের স্মৃতি দু’টোকে ইয়াকুব আগলে থাকল সারাক্ষণ। আর তাতে তারা প্রতিহিংসার কবলে পড়ল অন্য ভাইদের। তাদের পরামর্শ চলতে থাকল দিনের পর দিন। অবশেষে তারা সিদ্ধান্তে এল এবং পিতার সাথে প্রতারণা করে ইউসূফকে বাড়ী থেকে বের করে নিল। তারপর পিতার দৃষ্টি থেকে সরিয়ে নিয়ে যখন তাকে মাটিতে আঁছড়ে ফেলে টেনে হিচঁড়ে নিয়ে চলল, বিপদ বুঝে কান্নাকাটি ও ভাইদের কাছে তাদের করূণা ভিক্ষা করল ইউসূফ, কিন্তু তা ভাইদের প্রতিহিংসা পরায়ণ মনকে গলানোর জন্যে যথেষ্ট হল না। তারপর যখন তারা তার নতুন জামাটা খুলে নিচ্ছিল, ইউসূফ পা ধরে ফেলল বড় ভাই রূবেনের, এতে সে আর তাকে হত্যা করতে সম্মত হল না। সুতরাং পরামর্শ চলল। অবশেষে সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা তাকে এক পরিত্যক্ত কূপে ফেল দিল যাতে সে সেখানে না খেয়ে মারা যায় বা কোন পথিক তাকে তুলে নিয়ে যায় দূর দেশে। সাপ মরল, আর ভাইরাও হত্যার দায়মুক্ত থাকল।

এদিকে ভাইরা বাড়ী ফিরে এসে পিতার হাতে ইউসূফের রক্তমাখা জামা দিয়ে জানাল তাকে রাঘে খেয়েছে। তাদের মিথ্যে ধরা পড়ল পিতার চোখে, বলল, ’তবে জামাটি ছেঁড়া নয় কেন?’ তারা বলল, যা সত্য তা আমরা বলেছি, এর বাইরে আমাদের কিছু জানা নেই। দশ পুত্রকে রিমান্ডে নেয়া পিতার পক্ষে সম্ভর ছিল না। তাছাড়া নবী ইয়াকুব বুদ্ধিমান ছিলেন, তিনি তার ছেলেদের একাত্মতা দেখতে পেয়েছিলেন। তিন জন মানুষ একমত হয় না, আর তার দশ পুত্র এ ব্যাপারে একাট্টা। তখন সে বিয়ষটি খোদার হাতে সমর্পণ করে বাধ্য হয়ে। তারপর দেশে দূর্ভিক্ষ এল এবং ভাইয়েরা খাদ্য সংগ্রহে মিসরে গিয়ে ইউসূফের দেখা পেল, আর তার আমন্ত্রণে সপরিবারে মিসরে গিয়ে আয়েশে বাস করতে লাগল।

ইউসূফ সুষ্পষ্ট প্রমান নিয়ে  ইস্রায়েলীদের মাঝে ছিল, তথাপি তারা তাকে সন্দেহ করত। তারপর সে যখন মারা গেল তারা বলল ‘আল্লাহ ইউসূফের পরে আর কাউকে রসূল করে পাঠাবেন না।’-৪১:৩৪ আর তাই যখন তাদের মাঝে মূসার আগমন ঘটল,নব্যূয়তের সুষ্পষ্ট প্রমানাদিসহ তখন ঐ সন্দেহ পোষণকারীরা প্রথমেই তাকে অস্বীকার করেছিল।

মিসরে ইস্রায়েলীরা ভালই ছিল কিন্তু এক সময় তারা মিসরীয়দের রোষানলে পড়ল। মূলত: দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ফেরাউন তাদেরকে রাজনৈতিক সমস্যা মনে করে তাদের সংখ্যা সীমিত করার প্রয়াসে তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করে নারীদের বাঁচিয়ে রাখার আদেশজারী করে দিল। তখন দযাময় খোদা মূসাকে নব্যূয়ত দিয়ে ইস্রায়েলীদের মাঝে পাঠান যাতে সে নেতৃত্ব দিয়ে তাদেরকে মিসর থেকে বের করে নিয়ে যেতে পারে।

আর মূসার আনীত সুস্পষ্ট ‍নিদর্শণ দেখেও ফেরাউন সেগুলোকে জাদু বলে উড়িয়ে দিল এবং ইস্রায়েলীদেরকে যেতে দিতে অস্বীকার করল। তখন আল্লাহ তাদেরকে দুর্ভিক্ষ ও খাদ্যাভাব দিয়ে আঘাত করেন। যখন তাদের কোন ভাল হত তারা বলত, ‘এ তো আমাদের প্রাপ্য।’ আর যখন কোন খারাপ হত তখন তারা তা মূসা ও তার সঙ্গীদের উপর চাপাত। আর বলত, ‘আমাদের যাদু করার জন্যে যে নিদর্শণ তুমি আমাদের কাছে হাযির কর না কেন, আমরা তোমাকে বিশ্বাস করব না।’

তারপর আল্লাহ তাদেরকে বন্যা, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ, ও রক্ত দিয়ে কষ্ট দেন। এগুলো ছিল পরিস্কার নিদর্শণ, কিন্তু তাদের হামবড়া ভাব রয়ে গেল। তাদেরকে যে নিদর্শণ দেখান হয়েছিল তার প্রত্যেকটি পূর্বের তুলনায় উৎকৃষ্ট ছিল।-(৪৩ঃ৪৮) মূসা বলল, হে খোদা! তারা তো দেখছি কঠিন শাস্তিতে না পড়া পর্য়ন্ত পথে আসবে না। আর তার এ দাবী গৃহীত হয়।

অবশেষে কঠিন শাস্তিতে পড়ার পর ফেরাউন অনুমতি দিল এবং খোদআর নির্দেশে মূসা দেরী না করে সকলকে নিয়ে ঐ রাতেই যাত্রা করল। কিন্তু অনুমতির পর ফেরাউন যখন বুঝতে পারল যে, সে ছয় লাখ দাস হারিয়েছে, যারা তাকে বিনামূল্যে শ্রম দিত, তখন সে তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে সৈন্যবাহিনীসহ তাদের পিছু ধাওয়া করল। তারপর যখন ইস্রায়েলীরা দেখল তাদের দুদিকে পর্বত, সামনে সমুদ্র এবং পিছনে ফেরাউনের দল, তখন মূসা তাদেরকে সমুদ্রের মাঝ দিয়ে পথ করে সাগর পার করিয়ে নিল, আর সমুদ্রে ডুবে গেল ফেরাউন, তার দল।
ইস্রায়েলীরা মুক্তি পেল।

ইস্রায়েলীরা সাগর পার হয়ে অত:পর এক জাতির সংস্পর্শে এল যারা মূর্ত্তিপূজা করত। তারা বলল, ‘হে মূসা! ওদের দেবতার মত আমাদের জন্যেও এক দেবতা গড়ে দাও।’
মূসা তাদের দাবী শুনে বেকুফ বনে গেল, বলল, ‘তোমরা তো এক আহম্মকের জাত! এসব কাজ, যা লোকে করছে, তা তো ধ্বংসের অধীন, আর তারা যা করছে তাও ভিত্তিহীন।’ 
আর যখন তারা তাদের দাবীতে অনড় হল, মূসা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল, বলল, ‘কি! আল্লাহকে ছেড়ে তোমাদের জন্যে আমি অন্য উপাস্য খুঁজে বেড়াব যখন তিনি তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন বিশ্বজগতের উপর? (৭ঃ১৩৮-১৪০) এরই মধ্যে তোমরা তাঁর কথা ভুলে গেলে, যিনি ফেরাউনের লোকদের কবল থেকে তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন?; তারা তোমাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দিত, হত্যা করত তোমাদের পুত্রসন্তান এবং বাঁচিয়ে রাখত তোমাদের কন্যাদেরকে। (৭ঃ১৪১)

তারপর যখন মূসা ৩০ দিনের জন্যে তূর পাহাড়ে ব্যবস্থা আনতে গেল, তখন তার সামান্য অনুপস্থিতিতে ইস্রায়েলীরা মিসরে ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নিল  এবং পথপ্রদর্শক হিসেবে নিজেদের জন্যে গোবৎসের মূত্তি বানিয়ে নিয়ে তার পূঁজা করে বসল। তারা ভুলে গেল মূসাকে, থোদাকে, যিনি ফেরাউনের অত্যাচার থেকে তাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন, তাদেরকে প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী করেছেন এমন সব নিদর্শণের যা তাদের পূর্বে কেউ কখনো দেখেনি। -বাস্তবিকই তারা ছিলে অকৃতজ্ঞ, সীমালংঘনকারী।’-(২:৯১-৯২)

আর মূসা ফিরে এসে ফিরে এসে এমন অপকর্ম নিজ চোখে দেখল, তখন সে রাগে ফেটে পড়ল, হাতের ফলক ছুঁড়ে দিয়ে গুড়িয়ে দিল গো বৎসের মূর্ত্তি। আল্লাহ জানালেন, যারা গো-বৎসকে উপাস্য বানিয়েছে, পার্থিব এ জীবনেই তারা লাঞ্ছিত হবে, তারা পড়বে ঐশী রোষানলে।’
তখন পূঁজাকারীরা বিনীতভবে চলে এল, বলল, ‘হে মূসা! এখন যদি আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে দয়া না করেন, ক্ষমা না করেন- তবে তো আমাদের সর্বনাশ।’-(৭ঃ১৪৯)
মূসা বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! গো-বৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে তোমরা নিজেদের উপর ঘোর অত্যাচার করেছ, সুতরাং তোমরা সৃষ্টিকর্তার দিকে ফিরে যাও, আর তোমাদের আত্মাকে সংহার কর। তোমাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে এই হবে কল্যাণকর। তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হবেন। তিনি তো ক্ষমাপরবশ, পরম দয়ালু।’ -(২ঃ৫৪)

আর মূসা যখন তাদের সামনে কিতাব পেশ করল, তারা বলল, ‘এ কিতাব যে আল্লাহ পাঠিয়েছেন তা আমরা কিভাবে বুঝব? ও মূসা! এমনও তো হতে পারে তুমি নিজে এটা লিখে নিয়ে এসেছ এবং আল্লাহর কিতাব বলে চালিয়ে দিচ্ছ। সুতরাং আমরা কখনও এ কিতাব গ্রহণ করব না যদি না তিনি নিজেই আমাদেরকে জানিয়ে দেন এটা তার কিতাব।’

তখন মূসা তাদের নেতা গোছের ৭০জনকে নিয়ে তূর পাহাড়ের ঢালে উপস্থিত হল, আর খোদা তাদেরকে দশ আজ্ঞা শুনিয়ে দিলেন। এ আওয়াজ চারিদিক থেকে সমভাবে ধ্বণিত হল, ফলে তারা এদিক সেদিক তাকিয়ে শব্দের উৎস খুঁজে পেল না। তখন তারা বলল, “আল্লাই মালুম কে এসব বলল! ও মূসা! আমরা তো কাউকে দেখতে পেলাম না। সুতরাং ‘আমরা কস্মিন কালেও তোমাকে বিশ্বাস করব না, যদি না আমরা তাঁকে স্বচক্ষে দেখি।’ ফলে বজ্রপাত তাদের আঘাত করল, আর তারা সোজা হয়ে গেল। ফলে ফিরে এসে তারা বলল, ‘নিশ্চয় মূসা সত্য বলেছেন, এটা আল্লাহর কিতাব। আর আমরা তার সাক্ষী।’
যখন তারা কিতাবের সত্যতায় নিশ্চিত হল, তখন তারা বলল, ‘এর আহকামসমূহ বড়ই কঠিন, আমাদের পক্ষে এ মান্য করা সম্ভব না।’ তারা কিতাব পরিবর্তনের দাবী জানাল।

’খোদায়ী বিধানের কোন পরিবর্তণ নেই, সুতরাং তোমারা এ কিতাব গ্রহণ কর ও মান্য করতে থাক, যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার।’-মূসা সাফ জানিয়ে দিল। 
তারা বলল, আমরা শুনলাম আর অমান্য করলাম।’

তখন তাদের এই অবাধ্যতায় জিব্রাইল তূরপর্বত তাদের মাথার উপর তুলে ধরল। আর যখন তারা বুঝল তাদের নিস্কৃতি নেই, পর্বত তাদেরকে মাটির নীচে পুতে ফেলবে, তখন তারা তা পালনের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিল, বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তোমাকে ছাড়া আমরা কারও উপাসনা করব না, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতীম ও দীন-দরিদ্রের সাথে সদ্ব্যাবহার করব, মানুষকে সৎকথাবার্তা বলব, নামাজ প্রতিষ্ঠা করব এবং যাকাত দেব।’- (২ঃ৮৩) এবং তারা স্বাক্ষ্য দিল, ‘আর আমরা পরস্পর খুনোখুনি করব না এবং নিজদিগকে দেশ থেকে বহিঃস্কার করব না।’ আর আমরা এ কথার সাক্ষী থাকলাম। -(২ঃ৮৪)

তখন আল্লাহ বলেছিলেন, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের সঙ্গে থাকব, যদি তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠিত কর ও যাকাত দাও, আর আমার রসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, তাদেরকে সম্মান কর এবং উত্তম ঋণ দাও- আমি অবশ্যই তোমাদের দোষ মোচন করব এবং তোমাদেরকে বেহেস্তে দাখিল করব, যার নীচে নদীসমূহ প্রবাহিত, এরপরও কেউ অবিশ্বাস করলে সে সত্যপথ হারাবে।’-(৫ঃ১২) এরপর জিব্রাইল পাহাড় সরিয়ে নিল আর বনি ইস্রায়েলীরাও বিপদমুক্ত হল। তখন তাদের কাজকর্ম সহজ করার জন্য তাদেরকে বার গোত্রে ভাগ করে দেয়া হয়। কোরআন জানায়- মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন একদল মানুষ আছে যারা অন্যদেরকে সত্যের পথ দেখায় ও ন্যায়বিচার করে। আর তাদেরকে আমি বার গোত্রে বিভক্ত করেছিলাম।’ -(৭ঃ১৫৯) এবং নির্বাচিত করা হয় নেতা যারা নিজেরা ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্যদের খোঁজখবর রাখবে এবং তাদের পরিচালনা দেবে।

আর তারা যখন কনান দেশে এল, তাদেরকে বাক্য জনিত ও কর্ম জনিত আদবের সাথে সে দেশে প্রবেশ করতে বলা হল, ‘তোমরা এ জনপদে প্রবেশ কর এবং যেখানে ইচ্ছে যাও ও যা ইচ্ছে খাও, মাথা নীচু করে প্রবেশ কর আর বল, ‘হিত্তাতুন-‘ক্ষমা চাই’ আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করব; আর যারা সৎকর্ম করে তাদের জন্যে আমার দান বাড়িয়ে দেব।’-(২:৫৮)
তারা বলল, ‘হে মূসা! সেখানে এক দুর্দান্ত সম্প্রদায় রয়েছে, আর তারা সেখান থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত আমরা কখনও সেখানে প্রবেশ করব না। তারা সেখান থেকে বের হলেই আমরা প্রবেশ করব।’ -(৫:২০-২২)

তাদেরকে বলা হল-, ‘তোমরা প্রবেশ দ্বারে তাদের মোকাবেলা কর। প্রবেশ করতে পারলেই তোমাদের জয় হবে। আর তোমরা বিশ্বাসী হয়ে আল্লাহর উপরই নির্ভর কর।’ -(৫:২৩)
তখন তারা বলে বসল- ‘হে মূসা, যতদিন তারা সেখানে থাকবে ততদিন আমরা সেখানে প্রবেশ করব না। সুতরাং তুমি ও তোমার আল্লা যাও ও গিয়ে যুদ্ধ কর।’-(৫:২৪) আর তারা খোদায়ী বাণীর শব্দগত পরিবর্তণে অর্থগত বিকৃতি করে, ‘হিত্তাতুন-‘ক্ষমা চাই’ বদলে নিয়ে বলল-’হিন্তাতুন’-গম গম।

তখন খোদা তাদের জন্য ঐ দেশ নিষিদ্ধ করেন চল্লিশ বৎসর।-(৫:২৫) আর তাদের উপর চাপিয়ে দেন লাঞ্ছনা ও পরমুখাপেক্ষিতা। তারা আল্লাহর রোষানলে পতিত হয়ে ঘুরতে থাকল। এটা হল, কারণ তারা আল্লাহর বিধি-বিধান মানত না এবং নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত-তারা ছিল নাফরমান, সীমালঙ্ঘনকারী।-(২:৬১)

এরপরও খোদা তাদেরকে পরিত্যাগ করেননি। তাঁহ প্রান্তরে আটক থাকার সময় রোদের কষ্ট লাঘবের জন্যে তাদের উপর দিনে মেঘ দিয়ে ছায়া বিস্তার করেছেন, রাতে চলাচল ও কাজকর্ম করার জন্যে যা অগ্নি স্তম্ভের ন্যায় ধারণ করে তাদেরকে আলো দিয়েছে। তাদের ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে আকাশ থেকে পাঠিয়েছেন খাদ্য ‘মান্না-সালোয়া’, পানের পানির জন্য পাথর থেকে ঝর্ণা বের করে দিয়েছেন।

আর যখন মূসা তার সম্প্রদায়ের জন্যে পানি চাইল, আমি বললাম, ‘তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত কর।’ আর সেখান থেকে বারটি ঝর্ণা বইতে লাগল। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানি পান করার জায়গা চিনে নিল। (তাদেরকে বলা হল), ‘আল্লাহর দেয়া জীবিকা থেকে তোমরা পানাহার কর আর পৃথিবীতে ফ্যাসাদ করে বেড়িও না।’(২ঃ৬০) এত সবের পরও এ অকৃজ্ঞ জাতির প্রকৃতির কোন পরিবর্তণ হল না। তারা অভিযোগ নিয়ে এল মূসার কাছে-

‘হে মূসা! একই রকম খাবারে আমরা কখনও ধৈর্য্য রাখতে পারব না, সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্যে প্রার্থনা কর, তিনি যেন শাক-সবজি, কাঁকুড়, গম, রসূন, ডাল ও পেঁয়াজ আমাদের জন্যে মাটিতে উৎপন্ন করেন।’ (২ঃ৬১)

তা হলে মূসার মত নবী যে একের পর এক নির্দশণ দেখিয়েছে তাদের চোখের সম্মুখে, তাকেও তারা সন্দেহের চোখে দেখেছে সব সময়, তার আদেশ অমান্য করেছে, পালন করেনি খোদার নির্দেশও, তাহলে এমন চরিত্রের এই জাতি আবারোও বিপথে গেলে তাদের কাছে কি কোন নবী পাঠানো উচিৎ? কিণ্তু তারা তো চুজেন পিপল। সুতরাং নবী পাঠাতে হবে, কারণ খোদা প্রতিজ্ঞাত। পাঠক আপনারা বলেন, কেমন চরিত্রের নবী দিলে তারা আর বিপথে যাবে না?

সুতরাং যে জাতিকে পথ দেখাতে একের পর এক নবী পাঠানো হয়েছে, যারা মূসার মত মুজেযাপ্রাপ্ত নবী কর্তৃক প্রদর্শিত পথ থেকেও বিপথে চলে যায়, তাদেরকে চিকিৎসা স্বয়ং আল্লা ছাড়া কেউ দিতে পারবে না, অবশ্য তাদের কোন চিকিৎসা যদি আদৌ থেকে থাকে। আর তাই খোদা শেষবারের মত ইস্রায়েলীদেরকে সরলপথে ফিরিয়ে আনতে যিশুকে পাঠান, যাকে দেয়া হয়েছিল খোদায়ী কিছু গুণ। যেমন-

‘এই জন্যে দেখ, আমি তাদেরকে জ্ঞাত করব,
একটিবার তাদেরকে আমি আমার হস্ত ও পরাক্রম জ্ঞাত করব,
তাতে তারা জানবে যে, আমিই খোদা।’---------(অরামিয়া ১৬:২১)

তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নবী যিশুকে তারা গ্রহণই করেনি। সুতরাং বনি ইস্রায়েল যে আঙ্গুর ক্ষেতের (খাদায়ী ধর্ম) ইজারা পেয়েছিল এবং এতকাল যাবৎ যা তাদের রক্ষণাবেক্ষণে ও ভোগের অধীনে ছিল, ইজারা বাতিল করে তা এখন তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হল এবং নতুন করে ইজারা দেযা হল বনি ইসমাঈলের কাছে।

গসপেলে রয়েছে- ঈসা বললেন, ‘আজ একটা গল্প শুনুন। একজন গৃহস্থ একটা আঙ্গুর ক্ষেত করে তার চারিদিকে বেড়া দিলেন। পরে সেই ক্ষেতের মধ্যে আঙ্গুররস করার জন্যে গর্ত খুঁড়লেন এবং একটা উঁচু পাহারা ঘর তৈরী করলেন। এরপরে তিনি কয়েকজন চাষীর কাছে ক্ষেতটি ইজারা দিয়ে বিদেশে চলে গেলেন। যখন ফল পাকবার সময় হয়ে এল, তখন তিনি সেই ফলের ভাগ নিয়ে আসার জন্যে তার গোলামদের একজনকে সেই চাষীদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। চাষীরা সেই গোলামকে পাথর ছুঁড়ে তাড়িয়ে দিল। ক্ষেতের মালিক তখন তার গোলামদের কয়েকজনকে চাষীদের কাছে পাঠালেন। চাষীরা তাদের একজনকে ধরে বন্দী করে রাখল এবং একজনকে হত্যা করে ফেলল।

কা’বার কোণের প্রস্তর
আঙ্গুর ক্ষেতের মালিক শেষে নিজের পুত্রকেই তাদের কাছে পাঠালেন। তিনি ভাবলেন, তারা অন্ততঃ তার পুত্রকে সম্মান করবে। কিন্তু সেই চাষীরা মালিকের পুত্রকে দেখে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করল- ‘এ-ই পরে সম্পত্তির মালিক হবে। চল, আমরা ওকে হত্যা করি, তাতে আমরাই সম্পত্তির মালিক হয়ে যাব।’
--এরপর সকলে একত্রিত হয়ে মালিকের সেই পুত্রকে ধরে আঙ্গুর ক্ষেত থেকে বাইরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করল। তাহলে বলুন দেখি, আঙ্গুর ক্ষেতের মালিক ঐ চাষীদের নিয়ে কি করবেন?’

তারা বলল, ‘তিনি সেই দুষ্টদের একেবারেই ধ্বংস করবেন এবং যে চাষীরা তাকে সময় মত ফলের ভাগ দেবে, তাদের কাছেই সেই ক্ষেতটা ইজারা দেবেন।"

আরও প্রমাণ দরকার?  তখন ঈসা বললেন, ‘আপনারা কি পাক কিতাবের মধ্যে পড়েননি-

‘রাজমিস্ত্রীরা যে প্রস্তরখানা অগ্রাহ্য করেছে,
তা কোনের প্রধান প্রস্তর হয়ে উঠল।
খোদাই এ করলেন, আর তা আমাদের দৃষ্টিতে অদ্ভুত।’---- (যবুর ১১৮:২২-২৩)

কোন প্রস্তর এটা? যে সময় যবুরে একথা লেখা হয়েছে আর, যে সময় ঈসা একথা বলেছে তখন আসলে ঐ প্রস্তরখন্ডটি গৃহকোনে লাগানোই হয়নি। অবহেলিত অবস্থায় তা তখনও গৃহ প্রাঙ্গনে পরিত্যাক্তই ছিল। এ কৃষ্ণ প্রস্তর (Black Stone), যা হজরে আসওয়াদ (al-Hajar al-Aswad) নামে পরিচিত, তা বর্তমানে Eastern Corner Stone of Ka'ba। মুহম্মদ ৬০৫ খৃষ্টাব্দে ঐ প্রস্তর খন্ডটিকে কাবার পূর্বকোণে স্থাপন করেছিল। 

কাবার কোণে কৃষ্ণ প্রস্তরের স্থাপন
আদমের সময় যখন কাবা নির্মিত হয়, তখনও এই প্রস্তরখন্ডটি গাঁথুনির কাজে লাগায়নি ফেরেস্তারা। আবার, ইব্রাহিম ও ইসমাইল যখন ধ্বংস প্রাপ্ত কাবার পূন: ভিত্তি স্থাপন করে, তখনও প্রস্তর খন্ডটিকে তারা গাঁথুনির কাজে লাগায়নি। রাজমিস্ত্রিদের অবহেলিত ঐ প্রস্তরখন্ডটি আজ কোণের প্রধান প্রস্তর, আশ্চর্য -সত্যিই বড় অদ্ভূত।

যাইহোক, এখন আমরা আবার ঈসার গল্পে ফিরে যাই-

ইহুদি ও সমবেত আলেমদেরকে ঈসা বলল, 'এ জন্যে আপনাদের বলছি, বেহেস্তী রাজ্যের সু-সংবাদ আপনাদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হবে এবং এমন লোকদের দেয়া হবে, যাদের জীবনে সেই রাজ্যের উপযুক্ত ফল দেখা যাবে। যে সেই প্রস্তরের উপর পড়বে, সে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে এবং সেই প্রস্তর যার উপর পড়বে সে চুরমার হয়ে যাবে।’- ম্যাথু, ২১:৪৩-৪৪

কি হয়েছিল পরবর্তীতে? মুহম্মদ ও মুসলমানদের উপর যারাই অস্ত্রধারণ করেছিল তারাই টুকরো টুকরো হয়েছে, আবার যাদের উপর মুহম্মদ ও মুসলিমগণ অস্ত্র তুলেছিল তারাও ধ্বংস হয়েছে।

সবশেষে আমরা দেখি, বিচার দিবসে ইহুদি ও খৃষ্টানদেরকে খোদা কিভাবে মূল্যায়ণ করবেন-

মূসাকে খোদা-: ‘তুমি যখন তোমার উম্মতকে সত্য ধর্মের দিকে, ইসলামের পথে আহবান করেছিলে, তখন তারা কি সেই আহবানে সাড়া দিয়েছিল, না অস্বীকার ও বিরোধিতা করেছিল?’ 
মূসা বলবেন, - হে আমাদের প্রতিপালক! অদৃশ্য বিষয়ে কেবল তুমিই জানো। তাই তাদের ঈমান ও কাজকর্ম সম্পর্কে আমার জানা নেই। আমি যা জানি তা এতটুকুই যে, যখন আমি তাদের কাছে কিতাব নিয়ে হাযির হলাম, তখন তারা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল, বলল, ‘হে মূসা! এ কিতাব যে খোদা দিয়েছেন তা আমরা কিভাবে বুঝব? সুতরাং আমরা এ কখনও গ্রহণ করব না যদি না তিনি বলে দেন যে এটা তাঁর কিতাব।’

তারপর যখন তুমি দশ আজ্ঞা শুনিয়ে দিলে, তারা বলেছিল, ‘আমরা কখনই বিশ্বাস করব না যতক্ষণ না আমরা তাঁকে স্বচক্ষে দেখব।’ যখন তারা কিতাবের সত্যতায় নিশ্চিত হল, তখন তারা বলল, ‘এর আহকামসমূহ বড়ই কঠিন, আমাদের পক্ষে এ মান্য করা সম্ভব না।’ তারা কিতাব পরিবর্তনের দাবী জানাল।
হে আমাদের প্রতিপালক! ‘এমনিতে তাদের অধিকাংশই ছিল আমার অবাধ্য। আমার সামান্য অনুপস্থিতিতে তাদের একদল তো গো-বৎসকে উপাস্য স্থির করেছিল। তাহলে আমার দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে তারা কি করেছে তা আমার অজানা তা তো কেবল তুমি জানো, তুমি তো তত্ত্বজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ?’

আল্লাহ বলবেন, ‘হে বনি ইস্রায়েল! তোমরা মূসার প্রতি ঈমান এনে মুসলমান হয়েছিলে। অতঃপর গো-বৎস পূজা করে অবিশ্বাসী হয়ে গিয়েছিলে-অতঃপর তওবা করে আবারও মুসলমান হয়েছিলে-পুনঃরায় ঈসা ইবনে মরিয়মকে অস্বীকার করে অবিশ্বাসী হয়েছিলে। অতঃপর মুহম্মদকে অস্বীকার করে সেই অবিশ্বাসীই রয়ে গেলে। আর তাই তোমরা দুনিয়াতে পথ দেখতে পাওনি।’-(৪:১৩৭)

--‘অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম এবং পর্যায়ক্রমে রসূল প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর যখনই কোন রসূল এমন নির্দেশ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, যা তোমাদের মনে ভাল লাগেনি, তখনই তোমরা অহঙ্কার করেছিলে। শেষ পর্যন্ত এক দলকে মিথ্যেবাদী বলেছিলে এবং এক দলকে হত্যা করেছিলে। আমি তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর ছিলাম না।’-(২:৮৭)

‘কোরআন অবতীর্ণের পর যখন তোমাদেরকে বলা হল- ‘আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন, তা মেনে নাও।’ তোমরা বললে, ‘আমরা কেবল তাই মানি যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে।’ আর সেটি ছাড়া বাকী সবগুলোকে তোমরা অস্বীকার কর। অথচ এ গ্রন্থটি সত্য এবং সত্যায়ন করে ঐ গ্রন্থের যা তোমাদের কাছে ছিল। 

বল, তোমরা যদি এতই বিশ্বাসী ছিলে তবে নবীদেরকে হত্যা করতে কেন? সুস্পষ্ট মু’যেজাসহ মূসা তোমাদের মাঝে গেল, আর তার সামান্য অনুপস্থিতিতে তোমরা নিজেদের জন্যে গো-বৎস বানিয়ে নিলে!-বাস্তবিকই তোমরা ছিলে অত্যাচারী।’-(২:৯১-৯২)

‘এই দিনের কথা ভেবে যখন তোমাদেরকে বলা হল-‘আল্লাহর রাহে দান-খয়রাত কর।’ তোমাদের একদল বলে বসলে-‘আল্লাহ হচ্ছেন অভাবগ্রস্থ আর আমরা বিত্তবান।’ তোমাদের এ কথায় আমি বলেছিলাম, ‘আমি তোমাদের এসব কথা এবং যেসব নবীদের তোমরা অন্যায়ভাবে হত্যা করেছ তা লিখে রাখব।’-(৩:১৮১) ‘নিশ্চয়ই আমার ওয়াদা সত্য।’

ঈসাকে খোদা, ‘হে ঈসা ইবনে মরিয়ম, তোমার প্রতি ও তোমার মাতার প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন আমি তোমাকে পবিত্র আত্মার দ্বারা সাহায্য করেছি। তুমি মানুষের সাথে কথা বলতে কোলেও এবং পরিণত বয়সেও এবং যখন আমি তোমাকে গ্রন্থ, প্রগাঢ় জ্ঞান, তাওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দিয়েছি এবং যখন তুমি কাদা-মাটি দিয়ে পাখীর প্রতিকৃতির মত প্রতিকৃতি নির্মাণ করতে, আমার আদেশে অতঃপর তুমি তাতে ফুঁক দিতে; ফলে তা আমার অনুমতিক্রমে পাখী হয়ে যেত এবং তুমি আমার আদেশে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে নিরাময় করে দিতে এবং যখন তুমি আমার আদেশে মৃতদেরকে বের করে দাঁড় করিয়ে দিতে এবং যখন আমি বনি ইস্রায়েলকে তোমা থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলাম, যখন তুমি তাদের কাছে প্রমানাদি নিয়ে এসেছিলে,-(৫:১১০) হে মরিয়ম পুত্র ঈসা! তুমি কি লোকদের বলেছিলে যে, ‘তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার জননীকে উপাস্যরূপে গ্রহণ কর?’

ঈসা বলবেন, ‘তুমি মহিমাময়! আমার যা বলার অধিকার নেই তা বলা আমার পক্ষে শোভন না। যদি আমি তা বলতাম তবে তুমি তো তা জানতে। আমার অন্তরের কথা তো তুমি জান, কিন্তু তোমার অন্তরের কথা তো আমি জানিনে। তুমিই অদৃশ্য সম্বন্ধে ভাল করে জান। তুমি আমাকে যে আদেশ করেছ তা ছাড়া তাদেরকে আমি কিছুই বলিনি। আর তা এই- ‘তোমরা আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপাসনা কর।’ 
আর যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি ছিলাম তাদের কর্মকান্ডের স্বাক্ষী, কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে, তখন তুমিই তো ছিলে তাদের কর্মকান্ডের স্বাক্ষী। এখন তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও তবে তারা তো তোমারই দাস, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা কর তবে তো তুমি শক্তিমান, তত্ত্বজ্ঞানী।’ 
আল্লাহ বলবেন, ‘আজকের দিনে সত্যবাদীদের সত্যতা তাদের উপকারে আসবে।’-(৫:১১৬-১১৯)

‘হে খৃষ্টানগণ! আমি বলেছিলাম, ‘নিঃসন্দেহে মরিয়ম পুত্র মসীহ ঈসা আল্লাহর রসূল এবং তার বাণী যা তিনি প্রেরণ করেছেন মরিয়মের কাছে এবং রূহ- তাঁরই কাছ থেকে আগত। অতএব, তোমরা আল্লাহকে এবং তার রসূলগণকে মান্য কর। আর একথা বোলও না যে, আল্লাহ তিনের মধ্যে একজন, একথা পরিহার কর; তোমাদের মঙ্গল হবে। মসীহ আল্লাহর বান্দা হবে তাতে তার কোন লজ্জাবোধ নেই এবং ঘনিষ্ট ফেরেস্তাদেরও না। বস্ততঃ যারা আল্লাহর দাসত্বে লজ্জাবোধ করবে, অহঙ্কার করবে, তিনি তাদের সবাইকে নিজের কাছে সমবেত করবেন।’-(৪:১৭২) আজ সেইদিন এবং তোমরা সকলেই আমার কাছে সমবেত।’ 

‘যারা আমার রসূল ও আমার কিতাবে বিশ্বাস স্থাপন করত, তোমরা তাদেরকে বলতে, ‘তোমরা ইহুদি বা খৃষ্টান হয়ে যাও, তবেই সুপথ পাবে।’ (২:১৩৫) ‘অথবা, ‘নিশ্চয়ই ইহুদি ও খৃষ্টান ব্যতিত আর কেউই বেহেস্তে যাবে না।’-তোমরা যদি সত্য বলেছিলে তবে প্রমান হাজির কর।’–(৫:১০৫) ‘আর, তোমরা কি একথা বলছ যে, নিশ্চয় ইব্রাহিম, ঈসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাদের সন্তানেরা ইহুদি বা খৃষ্টান ছিল?’-(২:১৪০) ‘অথচ, তাওরাত ও ইঞ্জিল তাদের পরেই নাযিল হয়েছে?’-(৩:৬৫)

--‘হে আহলে কিতাবীরা! তোমরা ইহুদিও ছিলে না, খৃষ্টানও ছিলে না, এমনকি তোমরা কোন পথেই ছিলে না যদি না তোমরা তাওরাত ও ইঞ্জিল এবং যে গ্রন্থ তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছিল তা পুরোপুরি পালন না করে থাক।’–(৫:৬৮)

সমাপ্ত।

#  এক বন্ধু খসড়া পড়ে প্রশ্ন তুলেছিল- তাহলে খৃষ্টান কারা?

আমি বললাম- ‘কেন যিশু কি তা জানিয়ে যায়নি’? 

নবূয়্যত প্রাপ্তির পর যিশু ইস্রায়েলীদের জানাল তাদের জন্যে তার কাছে রয়েছে মহাসুসংবাদ, বলল- "O Children of Israel! I am the messenger of Allah (sent) to you, confirming the Law (Torah or Old Testament) before me, and giving glad tidings of a messenger to come after me, whose name shall be Ahmad." -[Quran 61:6] কিন্তু তারা তার কথায় কান দিল না। তখন শিষ্যরা বাড়ী বাড়ী গিয়ে সুখবর প্রচার করল এবং তাদেরকে ডাকল। কিন্তু দুষ্টুরা নানান বাহানায় তাদেরকে এড়িয়ে গেল। 

ঈসা শিষ্যদেরকে বলল, যাদের ডাকা হয়েছে (বনি ইস্রায়েলী) তারা এর যোগ্য নয়, সুতরাং পথে ঘাটে যাকে পাও ডেকে আনো।’ ফলে শিষ্যরা রাস্তা-ঘাটে অন্ধ, খঞ্জ যেখানে যাকে পেল তাকেই ডেকে নিয়ে এল। কিন্তু আগতরা (এ কালের খৃষ্টানগণ) জানে না রীতিনীতির কিছুই। ফলে তারা বিয়েবাড়ীতে (হাশরের ময়দান) উপস্থিত হল বটে কিন্তু বিয়ের পোষাক (মূসার শরীয়ত) ছাড়াই। বর (যিশু) দেখলেন বাড়ী ভরপুর। অবশেষে গৃহকর্তা (খাদা) উপর থেকে নেমে এলেন মেহমানদের দেখতে। কিন্তু অধিকাংশ লোকের পরণে বিয়ের পোষাক নেই দেখে তিনি হতবাক হলেন, ফলে তিনি তাদেরকে ডেকে বললেন, ‘বিয়ের পোষাক ছাড়া কেন তোমরা এসেছ?’ তারা এর কোন উত্তর দিতে পারল না। তখন তিনি রেগে গিয়ে চাকর-বাকরদের (ফেরেস্তাগণ) ডেকে বললেন,‘এদেরকে ধরে ধরে বাঁধ, আর ছুঁড়ে ফেল অন্ধকারে (দোযখে)’। (ref. ম্যাথু ২২)
or,
Jesus Said,- I was not sent except to the lost sheep of the house of Israel.” -Mathew, 15:24
and said (he), It is not right to take the children's bread and give it to the dogs.. 
Non Jew- but even the dogs take the bits from under their masters' table.-Mathew, 15:26-27
...............