pytheya.blogspot.com Webutation

৬ অক্টোবর, ২০১৫

Dog: প্রাচীন সাহিত্য, লোককাহিনী, ধর্ম ও নৃবিদ্যায়।

কুকুর বা সারমেয় গৃহপালিত প্রাণী। প্রাচীনকাল থেকেই পশুপালন, পাহারার কাজে, শিকার করতে, যুদ্ধে যোদ্ধারূপে ইত্যাদি নানা কাজে এই প্রাণীটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রখর বুদ্ধিমত্তা, দূর্দান্ত সাহস ও প্রভুভক্ততার কারণে সে সর্বজনপ্রিয়। তাছাড়া প্রাচীন সাহিত্য, লোককাহিনী, ধর্ম ও নৃবিদ্যায় এদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। আর তা্ই কুকুর তত্ত্ব ও তথ্যের উপর আমাদের এ উপস্থাপনা।

কাল কুকুর।
কুকুরই সম্ভবত: পোষ মানানো প্রথম প্রাণী।-(অলসেন, পৃ.১১) ধারণা করা হয় নেকড়ে বাঘ (Canis lupus) থেকেই এদের উদ্ভব। আর ফসিল রেকর্ড এমনটাই ইঙ্গিত দেয়। উত্তর চীন ও অন্যান্য প্যালেন্টোলোজিক্যাল সা্ইটে ২ থেকে ৫ লক্ষ বৎসর আগের হোমিনিডস ও ছোট নেকড়ে বাঘ মধ্য প্লেইস্টোসিন লেভেলে একত্রে পাওয়া গেছে। -(হল ও শার্প; অলসেন, পৃ.১৫, ৪১-৪২) এতে ধারণা করা হয় নেকড়ে বাঘ মনুষ্য বসতির প্রতি আকৃষ্ট হয় সম্ভবত: উচ্ছিষ্ট খাবারের গন্ধে। আর তাদের বিচরণ ক্ষেত্রে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি বর্ষিত গর্জণধ্বনি ঐ বসতির জন্যে early-warning system হিসেবে কাজ করত। 

কুকুর গৃহপালিত হল কিভাবে? অনুসন্ধানে দেখা যায়, ক্যানিড হাঁড়ের খোঁজ পাওয়া গেছে পরিত্যাক্ত ভাঁগাড়ের কাছাকাছি কিন্তু প্যালোলিথিক ক্যাম্পে নয়, অন্যদিকে গৃহপালিত কুকুরের হাঁড় প্রথম পাওয়া যায় নিওলিথিক ক্যাম্পের মধ্যে, যা প্রমাণ করে যে, পোষ মানানো প্রক্রিয়া নিশ্চিতভাবে ছিল ধীরগতির কিন্তু ক্রমাগতভাবে।- (ওলসেন, পৃ.১৮; লা ব্যারে, পৃ.৪৮) অবশ্য এই হাইপোথিসিস এফ্.ই জুনের (পৃ.৩৯,৮৩) প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবে তিনি এ অভিমত দিয়েছেন যে, নেকড়ে বাঘের চরে খাওয়ার অভ্যাস ছিল যা তাকে মনুষ্য বসতির কাছে টেনে অানে আর হয়ত এভাবেই কিছু শাবক সেখানকার বাসিন্দাদের কারো দ্বারা পোষ্য হিসেবে গৃহীত হয় যা ঘটনাক্রমে পশুটিকে গৃহপালিত করেছে। 


উপরের এসব কথা হচ্ছে আর্কিওলোজিস্টদের, কারণ তারা তো এখনও প্রথম মানব আদমের হাড্ডি খুঁজে পায়নি। আর তাই তাদের জানা নেই আদমপুত্র হাবিলেরও পোষ্য কুকুর ছিল। ইহুদিদের স্যাক্রেড টেক্সট বলে- কাবিল হাবিলকে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখলে আদম-হাওয়া বসে বসে কাঁদছিল। আর এমনিতেই তারা জানত না সৎকারের উপায়। তখন হাবিলের কুকুরটা লাশের পাশে বসে পশু-পাখীর হাত থেকে রক্ষা করে তার দফাদারিত্বের প্রমান দিয়েছিল।-Haggadah of Pesach, Chapter III: “The Ten Generations The Punishment of Cain.” যা হোক, আবার আর্কিওলোজিস্টদের কাছে ফিরি।


নিকট প্রাচ্যের প্রাচীনতম গৃহপালিত কুকুরের দেহাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে উত্তর-পূর্ব ইরাকের Palegawra গুহায় যা ইউরোপে পাওয়া দেহাবশেষগুলোরও আগের; আজ থেকে ১২,০০০ বৎসর পূ্র্বেকার এবং অনুমিত হয় সেগুলো তথাকথিত "কুর্দি কুকুর"-এর গঠনের কাছাকাছি।-(ওলসেন, পৃ.৭১-৭২) দক্ষিণ পারস্যে পশুপালন ও চাষাবাদ শুরুর এক গবেষণায় ফ্রাঙ্ক হোল ও তার সহকর্মীরা প্রাপ্ত অস্টোলোজিক্যাল তথ্য-প্রমাণ থেকে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হন-


প্রথমত: কুকুর সম্ভবত: ৫,৫০০ বিসিই’র দিকে খুজিস্তানে পোষ মানানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত: সেগুলো সম্ভবত: স্থানীয় বিভিন্ন জাতের বন্য নেকড়ের বংশোদ্ভূত ছিল; এবং, তৃতীয়ত: কিছু ক্যানিড হাঁড়ের অবস্থা প্রমাণ করে যে, কুকুর কিছুকিছু এলাকায় খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হত।-(cf. ওলসেন, পৃ.৭৪-৭৫) অবশিষ্ট গৃহপালিত কুকুরের সন্ধান পাওয়া গেছে আজারবাইজানের হাজী ফিরোজ সা্ইটে (রেডিওকার্বন সময়কাল ৫৫০০-৫১০০ বিসিই; Meadow, পৃ.৬) 


শাস্ত্রীয় লেখকগণ চার ধরণের পার্স্যিয়ান শিকারী হাউন্ডস এর কথা উল্লেখ করেছেন; Elymaeans এসেছে পারস্য উপসাগরের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে থেকে; Hyrcanians এবং Carmanians সুপরিচিত তাদের বর্বরতার জন্য; এবং Medians পরিচিত মহান যোদ্ধা হিসেবে।-(এলিয়ান, ৩.২, ৭.৩৮; গ্রাটিয়াস; পোলাক্স, অনোমাস্টিকন; cf. হাল, পৃ.২৬-২৯). জরোস্ট্রিয়ান শেষকৃত্য রীতি ছাড়াও প্রাক-ইসলামী পার্স্যিয়ানগণ কুকুরকে কেবল শিকার ও পশুপালনেই নয় বরং যুদ্ধেও ব্যবহার করত।-(ফিয়েনস, পৃ.২৮-২৯; cf. এলিয়ান, ৭.৩৮).  


পার্স্যিয়, গ্রিক, অশূরীয় এবং ব্যাবিলনীয়গণ বড় mastiffs-কে শক (shock) সৈন্য হিসাবে ব্যবহার করত; এক অ্যাথেনীয় কুকুর পারস্যের বিরুদ্ধে ম্যারাথন যুদ্ধে (৪৯০ বিসিই) নিজেকে এমনই পৃথক করেছে যে, তার উপমা কল্পনানুসারে স্থাপন করা হয়েছে গ্রিক বিজয় সৌধে।- (এলিয়ান, ৭.৩৮) ভারতীয় কুকুর পার্স্যিয়ান অাভিজাত্ সম্প্রদায়ের মধ্যে অত্যন্ত প্রশংসিত ছিল; জনশ্রুতি রয়েছে ১ম অহশ্বেরশ (৪৮৬-৬৫ বিসিই) তার সৈন্যবাহিনীতে বৃহৎ সংখ্যক এ কুকুর অন্তর্ভূক্ত করেন তার গ্রীসের বিরুদ্ধে অভিযানে।- (হেরোডোটাস, ৭.১৮৭) 


ব্যাবিলনের এক পার্স্যিয়ান প্রদেশিক গভর্ণর উল্লেখ করেছেন যে, তার প্রদেশের চারটি বৃহৎ গ্রাম থেকে প্রাপ্ত আয় তার ভারতীয় হাউন্ডগুলোর যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নির্ধারিত ছিল। -(হেরোডোটাস, ১.১৯২) কথিত আছে, ৩য় দারিয়ূস (৩৩৬-৩০ বিসিই) যুদ্ধে বেসসুসের (Bessus) আঘাতে নিহত হলে তার পোষা কুকুর তার মৃতদেহ ফেলে চলে যায়নি।-(এলিয়ান, ৬.২৫; ৭.১০) এছাড়াও উৎসব ও বিনোদনে কুকুরের লড়া্ই প্রাচীন পারস্যে বেশ প্রচলিত ছিল।- (ফিয়েনস, পৃ.১১) কথিত আছে, আলেকজান্ডার দি গ্রেট ভারতীয়দের কাছ থেকে চারটি লড়াইয়ের কুকুর উপহার পেয়েছিলেন।-(এলিয়ান, ৮.১) পার্স্যিয়ান স্যাগ-ই-কারজারি (war dog) হয় নির্দেশ করে কনাইন বীরযোদ্ধাকে বা নিদেন পক্ষে ঐসব কুকুরগুলোকে যাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হত কুকুর লড়া্ইয়ের জন্য। -(শাহনামা, খন্ড-৩, পৃ.১৬৬)


কুকুর সৃষ্টি ও গৃহপালিত হওয়ার নানান পুরাণ কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। এসবের কিছু সূপ্রাচীন, কিছু বাইবেলীয় এবং কিছু ইসলামি উপকথা


কুকুর সৃষ্টির প্রাচীন উপকথা

বুন্দাহিসন (১৩.১০) অনুসারে, সকল প্রাণী আদিম ষাড়ের পরিশুদ্ধ বীর্য থেকে সৃষ্টি করা হয়েছিল। দশ প্রকার কুকুরের উল্লেখ রয়েছে ( অনু. বাহার, পৃ.১২১, অনু. অঙ্কলেসারিয়া, ১৩.১৮, পৃ.৭৯), যার মধ্যে কেবল পাহারাদার কুকুর, ভেড়ার পাল চরানো কুকুর, এবং শিকারি কুকুরকে সঠিকভাবে কুকুর বিবেচনা করা যেতে পারে। কথিত আছে- কুকুর কেবল নেকড়ের বিরুদ্ধে মানুষের সহায়-সম্পদ রক্ষার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে; সে শয়তানের বিরোধিতায় মোরগকে সহযোগীতা করে আর তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি দ্বারা অপশক্তি বিতাড়িত করতেও সক্ষম হয়। (বুন্দাহিসন, ২৪.৩৮; ২৪.৪৮; অনু. অঙ্কলেসারিয়া, পৃ.২০১,২০৩; অনু. বাহার, পৃ.১০৩).

কুকুর সৃষ্টির বাইবেলীয় কাহিনী

ইবলিসের পক্ষ নিয়ে তার কিছু ভক্ত ও অনুসারী ফেরেস্তা প্রকাশ্যে খোদার বিরোধিতায় নামল। খোদা ইবলিসের সাঙ্গ-পাঙ্গদেরকে বললেন, "Repent you, and recognize me as God, your creator."
তারা বলল: "We repent of having done you any reverence, for that you are not just; but Satan is just.’ Then said God: "Depart from me, O you cursed, for I have no mercy on you."

And in his departing Satan spat up that mass of earth, and that spittle the angel Gabriel lifted up with some earth, so that therefore now man has the navel in his belly." -(গসপেল অফ বার্ণাবাস, অধ্যায়-৩৫), এখন পাঠক নিশ্চয় বুঝতে পারছেন কেন মানুষের নাভি আগুনে পোড়ে  না।


"When God has expelled Satan, and the angel Gabriel had purified that mass of earth whereon Satan spat, God created everything that lives, both of the animals that fly and of them that walk and swim, and he adorned the world with all that it has.


One day Satan approached to the gates of paradise, and, seeing the horses eating grass, he announced to them that if that mass of earth should receive a soul there would be for them grievous labour; and that therefore it would be to their advantage to trample that piece of earth in such wise that it should be no more good for anything.


The horses aroused themselves and impetuously set themselves to run over that piece of earth which lay among lilies and roses;. Whereupon God gave spirit to that unclean portion of earth upon which lay the spittle of Satan, which Gabriel had taken up from the mass; and raised up the dog, who, barking, filled the horses with fear, and they fled.-(গসপেল অফ বার্ণাবাস, অধ্যায়-৩৬)


কুকুর সৃষ্টির ইসলামী উপকথা:

কুকুর সৃষ্টির তিনটি ভিন্ন উপকথা ইসলামী গ্রন্থসমূহ থেকে পুনর্গঠন করা যায়। একটি রেওয়াতে আলী ইবনে আবি তালেবের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে- আদম ও হাওয়াকে যখন জান্নাত থেকে বহিস্কার করা হয়, তখন শয়তান পৃথিবীর জন্তু-জানোয়ারদের কাছে আসে এবং তাদেরকে উৎসাহিত করে হুংকার ও সহিংস আক্রমণ দ্বারা আদম দম্পতিকে গ্রাস করতে। ঐসময় তার মুখ থেকে লালা বেরিয়ে ছিঁটকে আসে এবং খোদা তা থেকে একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী কুকুর সৃষ্টি করেন। তারপর তিনি পুরুষটিকে আদমের এবং স্ত্রীটিকে হাওয়ার প্রহরীরূপে পাঠিয়ে দেন। এভাবে কুকুর এবং বন্যপ্রাণীর মধ্যে শত্রুতার সূচনা হয়েছিল।-(দামিরী, খন্ড-২, পৃ.২৯৮; জাযা’য়েরী, পৃ.৫৭-৫৮; আব্বাস কওমি, খন্ড-২, পৃ.৪৮৮; হা’য়েরী, ২৫, পৃ.৯৯; cf. পার্স্যিয়ান রিভায়তস, ed. উনভালা, খন্ড-১, পৃ.২৫৬). 

দ্বিতীয় একটি ভার্সন হচ্ছে, খোদা আদমকে সৃষ্টির পর বাকী কাদামাটি (baqīyat al-ṭīn) থেকে কুকুর সৃষ্টি করেন (ফোজুনি, পৃ.৪৯০; cf. আনোয়ারী, খন্ড-১, পৃ.৮৮), যার ভিত্তিতে সম্ভবত: কিছু কিছু উৎসে এটা উল্লেখ করা হয়েছে যে, কুকুরের হাঁড় এবং টিস্যু মানবদেহে প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। -(বালাজী, পৃ.২০৪; তনোকাবনী, পৃ.২২২). প্রাচীন ফার্সি লোক ব্যাকরণে রয়েছে যে, sag (কুকুর) শব্দটি উদ্ভূত seh-yak (এক তৃতীয়াংশ) থেকে, কারণ, তার এক তৃতীয়াংশ বৈশিষ্ট্য মানুষের।-(বুন্দাহিসন ১৩.২৮; অনু. অঙ্কলেসারিয়া, পৃ.১২৩-২৫; অনু. বাহার, পৃ.৭৯-৮০).


তৃতীয় শ্রুতিটির খোঁজ পাওয়া যায় কুকুরের মাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত একটি রেওয়াত থেকে, যেখানে উল্লেখ রয়েছে প্রাণীটি ”মেটামরফোসড” অর্থাৎ রূপান্তরিত (মামসুক; কল্যাণী, খন্ড-৬, পৃ.২৪৫); আর এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, কুকুরের মাংস ভক্ষণ নরমাংস ভক্ষণের সমতূল্য। কারণ, পাপিষ্ঠ মানব কুকুরে রূপান্তরিত হয়।পাপীষ্ঠদের রূপান্তরের এই ধারণা ব্যাপকভাবে মুসলিম সাহিত্য এবং পণ্ডিত্গণের দ্বারা সত্যায়িত। উদাহরণস্বরূপ, ইবনে আবি দোনিয়া (সন ২৮১/৮৯৪) এক রেওয়াত উল্লেখ করেছেন- যারা অন্যদের বিরুদ্ধে নোংরা ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করে, তাদেরকে কুকুরের আকৃতিতে পুনরুত্থিত করা হবে।- (দোনিয়া, পৃ.৪০৪) 


রশিদ-আল-দীন মেবুদি, যিনি কোরআনের উপর একটি সূফী ব্যাখ্যা লিখেছেন (comp. ca. ৫২০/১১২৬), তার অভিমত যে, বিচার দিবসে সুদখোরদেরকে কুকুর ও শুকর রূপে উত্থিত করা হবে।- (খন্ড-১, পৃ.৭৪৭) বল’আম বিন বাওরা (মেবুদি, খন্ড-৩, পৃ.২৭১; হাকিম তিরমিযি, পৃ.১৭) এবং সীমার বিন দিল-জওসান (সন ৬৬/৬৮৬), ঈমাম হোসেনের হত্যাকারী, সম্তবত: কুকুরে রূপান্তরিত হয়ে শাস্তি ভোগ করবে। -(ম্যাসি, ক্রোয়ান্সেস, পৃ.১৮৫-৮৬; শাকুরজাদা, পৃ.৩০৮, নং-১; আব্বাস কওমি, খন্ড-২, পৃ.৫৩৯) ১৯৩৫ সনের দিকে মাসাদের এক স্ত্রীলোক, যে ঈমাম হোসেনের মৃত্যুর সাথে যুক্ত অলৌকিক ঘটনাকে উপহাস করেছিল, সে একটা কুকুরে রূপান্তরিত হয়েছে বলে অনুমাণ করা হয়। -(ডোনাল্ডসন, পৃ.১৫৯) 


কুকুর পোষ মানানো বা গৃহপালিতকরণ সম্পর্কে একটি রেওয়াতে ইবনে আব্বাসের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে: আদমকে যখন স্বর্গ থেকে বহিস্কার করা হয়, তখন তিনি শয়তান দ্বারা আক্রান্ত হন, ঐসময় আল্লাহ তাকে আশ্বাস দেন এবং প্রতিরক্ষার উপায় হিসেবে মূসার লাঠিটি (Moses’ staff) পাঠান; লাঠি পেয়ে আদম তা দিয়ে এক কুকুরকে আঘাত করতে উদ্যত হলে, খোদা তাকে নিবৃত্ত করেন আর, কেবল লাঠিটি ঐ কুকুরের মাথার উপর ধরতে বলেন। এতে প্রাণীটি পোষ মানে এবং আদম ও তাঁর বংশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের হয়ে যায়। -(হাকিম তিরমিযি, পৃ.১৬)


ইসলামী শরীয়তে কুকুর:

কোর’আনে কেবল চারটি আয়াতে (৫:৪; ৭:১৭৬; ১৮:১৮,২২) কুকুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং বেশকিছু হাদিসেও তাদের কথা আছে। 

‘যে গৃহে কুকুর থাকে সেখানে ফেরেস্তা প্রবেশ করে না।’ -বুখারী, খন্ড-২, পৃ.৮৮০। তবে Ignaz Goldziher (পৃ.৯-১০) দাবী করেন যে, নবীজীর সময়ে কুকুরকে অপবিত্র বিবেচনা করা হত না। পরবর্তীতে ইসলামিক আ্ইনগ্রন্থগুলিতে তাদেরকে অপবিত্র ঘোষণা করা হয়েছে। 


হাদিসে আছে- “যে ব্যক্তি শিকারী কুকুর, শস্যক্ষেত অথবা জন্তুদের হেফাজতকারী কুকুর ব্যতিত অন্য কুকুর পালন করে, প্রত্যহ তার পূণ্য থেকে দু‘কীরাত (কীরাত একটি ছোট্ট ওজনের নাম।) হ্রাস পায়।” -বুখারী নম্বর-৫০৮৫; ৫০৮৬। অর্থাৎ প্রহরী কুকুর, ভেড়া চরানো কুকুর এবং বিশেষত: শিকারী কুকুর অনুমোদিত- (তুসি, খন্ড-১, পৃ.৯২, ৯৪), এ কারণে যে প্রশিক্ষিত কুকুর পশুসম্পদ হিসেবে বিবেচিত। আর তা্ই তাদের ক্রয়, বিক্রয় ও ভাড়া প্রদান অনুমোদিত।- (তুসি, খন্ড-২, পৃ.১৬৫-৬৬, খন্ড-৩, পৃ.৫৭, ২৫০) শিকারী কুকুর কর্তৃক ধৃত প্রাণীর মাংস অপবিত্র হবে না, যদি কি-না প্রাণীটি নিজে হারামের অন্তর্ভূক্ত না হয়। -(তুসি, খন্ড-৬, পৃ.২৫৬-৬২; মেবুদি, খন্ড-৩, পৃ.৩২; আলী কওমি, খন্ড-১, পৃ.১৬২-৬৩; কল্যাণী, খন্ড-৬, পৃ.২০২-০৪, ২০৭; ইবনে তাঈমিয়া, পৃ.৩২৫). 


সুন্নি আইনের কিতাবগুলিতে অমুসলিমদের দ্বারা প্রশিক্ষিত শিকারী কুকুর ব্যবহারে কিছু বিধি-নিষেধ রয়েছে। কোন এক রেওয়াতে এ দাবী করা হয়েছে যে, নবী মুহাম্মদ অগ্নিউপাস্য কারো দ্বারা প্রশিক্ষিত কোন শিকারী কুকুরের শিকার করা প্রাণীর মাংস নিষিদ্ধ করেছেন। -(আলবানী, পৃ.১৭০) অবশ্য পন্ডিতগণের অনেকে এটি প্রত্যাখ্যান করেন। তবে কিছু শিয়া পন্ডিতগণ অভিমত দেন যে, যদি শিকারী নিজে মুসলিম হয়, তবে এটা কোন বিবেচ্য বিষয় নয় কে কুকুরটিকে প্রশিক্ষিত করেছে। -(তুসি, খন্ড-৬, পৃ.২৬২) অন্যদিকে, কালো কুকুরের শিকার করা প্রাণীর মাংসের বৈধতার ব্যাপারে কিছুটা সন্দেহ রয়ে গেছে, (কল্যাণী, খন্ড-৬, পৃ.২০৬) যা সম্ভবত: শয়তানের সাথে কালো কুকুরের সম্পৃক্ততার নিকটপ্রাচ্যীয় এক সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। -(cf. থম্পসন, মোটিফস G৩০৩.৬.১.৬, G৩০৩.৩.৩.৩.১১; উডস, s.vv. কুকুর, কালো কুকুর)


মালেক বিন আনাসকে (সন ১৭৯/৭৯৬) মক্কায় হজ্বব্রত পালনের কাজে একটি কুকুর বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল।-(দামিরী, খন্ড-২, পৃ.২৯১) ইসলামে যুদ্ধলব্ধ “গণিমতের মাল” হিসেবে সংগৃহীত প্রশিক্ষিত ‍কোন কুকুর, যার তা প্রয়োজন তাকে দেবার অনুমতি একজন ঈমামের রয়েছে। -(তুসি, খন্ড-২, পৃ.৩১; দামিরী, খন্ড-২, পৃ.২৯১) যদি কেউ কারো কুকুরকে হত্যা বা জখম করে, তবে তাকে কুকুরের মালিককে জরিমানা দিতে হবে।-(জাহেয, খন্ড-১, পৃ.২১৭, ২৯৩; আব্বাস কওমি, খন্ড-২, পৃ.৪৮৮) বিপরীতভাবে, কুকুর মালিক আইনগতভাবে যেমন তার কুকুর দ্বারা কারো ব্যক্তিগত জখম বা সম্পত্তির ক্ষতির জন্য দায়ী হবে (তুসি, খন্ড-৮, পৃ.৭৯), তেমনি দায়ী হবে নিজ কুকুরকে উৎপাতে নিবৃত্ত করতে না পারার জন্য।- (গাজ্জালী, খন্ড-১, পৃ.৫২৩; দামিরী, খন্ড-২, পৃ.২৯১) 


প্রাণীকূল জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে কি-না সে প্রশ্নে অনেক পন্ডিত্ই সম্ভবত: বিতর্কে জড়িয়েছেন এবং অবশেষে একটি আপোষ মিমাংসায় পৌঁছেছেন যে, কেবলমাত্র তিনটি (কিছু সূত্রমতে চার) প্রাণীকে জান্নাতে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়া হবে, যার একটি হবে আসহাব আল-কাহফ-এ উল্লেখিত ঐ বিশ্বস্ত কুকুর।- (আব্বাস কওমি, খন্ড-২, পৃ.৪৮৮; মোবারকশাহ, পৃ.২৬৮; cf. জাহেয, খন্ড-৩, পৃ.৩৯৫; দামিরী, খন্ড-২, পৃ.২৬২).


কাব্য ও পুরাণে কুকুর:

বনে পরিত্যাক্ত শিশুদের বিভিন্ন জানোয়ার দ্বারা লালন-পালনের অনেক কাহিনী ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে (থম্পসন, মোটিফ বি ৫৩৫), যদিও প্রায়শ: সেগুলো কিংবদন্তি, কিন্তু এটার সত্যায়ন করা যায় যে, মানব শিশু কুকুর দ্বারা পালিত হতে পারে।-(জাহেয, খন্ড-২, পৃ.১৫৫-৫৬; গুটম্যান, পৃ.৪০) বেশকিছু সুপারহিরো, দেবতা এবং প্রাচীন কিংবদন্তি চরিত্র কুকুর দ্বারা পালিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।- (লিচ, পৃ.২৭৩-৭৫; বিন্ডার, পৃ.১৭-৫৭). হেরোডোটাস (১.১২২) এক কিংবদন্তি উল্লেখ করেছেন, যাতে এক মাদী কুকুর সাইরাস দি গ্রেটকে স্তন্যপান করিয়েছে। 

একইভাবে মোজমাল (ed. বাহার, পৃ.১০৪) লেখক তার হিংস্র স্বভাব গুণ “the father of Soqlāb” লাভ করেন একটি কুকুর দ্বারা পালিত হবার কারণে। বাহমান-নামায় উল্লেখ করা হয়েছে-, যারা শিশু অবস্থায় কুকুর দ্বারা পালিত হয়েছিল, সহিংসতা বারবার তাদের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। -(ইরানশাহ, পৃ.২৬৮, ভ.৪৩৭৯) শাহনামার কিছু কিছু মৌখিক সংস্করণে বলা হয়ে থাকে, আফ্রাসিয়াব তার উগ্র মেজাজ লাভ করেছিলেন কুকুরের দুধ পান করার কারণে।-(এনজাভি, ১৩৫৪ S/১৯৭৫, পৃ.৯৬-৯৭); কথিত আছে, দুষ্ট রাজা জাহক (Żaḥḥāk) একটি মাদী নেকড়ে দ্বারা পালিত হয়েছিলেন।-(এনজাভি, ১৩৫৭ S/১৯৭৮, পৃ.২৩) আরেকটি নামহীন কাব্যিক চরিত্র, নেবু চাঁদ নেজ্জার (Nebu-chadnezzar), কথিত আছে, জন্মের পর তার পিতা-মাতা তাকে পরিত্যাগ করেছিলেন সম্ভবত: তার কুৎসিৎ চেহারার জন্যে ঐ সময় এক মাদী কুকুর তাকে দিনে তিনবার দুধ পান করিয়ে যেত।-(এনজাভি, ১৯৭৩b, পৃ.২৭).


কিংবদন্তি রয়েছে-, আর্মেনিয়ান রাজা আরদাভাজদকে মাসিস (Masis) পর্বতে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছিল; ঐসময় তার শিকারী কুকুর ঐ শিকল চিবিয়ে তাকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। অত্যাচারী ঐ সম্রাটের স্মরণে আজও আর্মেনিয়ান কামারগণ সপ্তাহ শেষে কাজ বন্ধ করার সময় আনুষ্ঠানিকভাবে তার নেহাইয়ে হাতুড়ীর এক ঘা মারে দৈবিকভাবে সেই শিকলটি আবার জোড়া লাগানোর কামনায়।-(থম্পসন, মোটিফস A১০৭৪.৭; এনজাভি, ১৩৫৭ S/১৯৭৮, পৃ.৩১৬-১৭) সমকালীন বোয়ের আহমাদীর এক কাহিনী অনুসারে, ম্যাসেনীয় শাসক কায়খসরু পারস্যের ফার্স প্রদেশের একটি গুহার মধ্যে তার ঘোড়া ও শিকারী কুকুরের সঙ্গে লুকিয়ে রয়েছেন। -(এনজাভি, ১৩৫৪ S/১৯৭৫, পৃ.২৯৪-৯৫) এছাড়াও কাব্য সাহিত্য থেকে পাওয়া শিকারী কুকুরের সাথে রাজা-বাদশাদের প্রত্যাশিত অনুসঙ্গের কারণে, কুকুর ফার্সি বীরত্বপূর্ণ গল্পগুলোতে অন্যান্য ভূমিকাও পালন করেছে। 


শাহনামা ও অন্যান্য আরো কিছু উৎসে একটি বিখ্যাত কাহিনী আছে। বাহরাম বাদশা ৫ম প্রত্যক্ষ করেন যে, তার বিশ্বাসঘাতক মেষপালক কুকুরটিকে এক রাখাল সেবা-শ্রুশুষা করছে, আর যখন সে নেকড়ের মত বড় হয়ে উঠল, তখন উদ্বুদ্ধ হল মনিবের ভেড়ার পাল ধ্বংস করার কাজে। অার এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করে তিনি তার স্বৈরাচারী উজিরের অত্যাচারের বিষয়টি বুঝতে পারেন। -(থম্পসন, মোটিফ B২৬৭.১; মোস্তাফি, পৃ.১১৩; নিজাম-আল-মূলক, পৃ.২৫-২৬) ১ম আরদাসিরের কাব্যের এক কৌতুহল উদ্দীপক ভার্সন রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- সাধারণভাবে উল্লেখিত রামছাগল ছাড়াও এক মহান কুকুর তার যাত্রাকালে তাকে অনুসরণ করেছিল। -(ফোজুনি, পৃ.৪১৮).


গুপ্ত ও সূফী সাহিত্যে কুকুর:

পার্স্যিয়ান জীবনধারায় কুকুরের বিনম্র অবস্থানের কারণে, গুপ্ত ও সূফী সাহিত্য পুস্তকগুলোতে (দেখুন, নূরবক্স) সে নম্রতার এক প্রতীক হয়ে ওঠে। কিছু মুসলিম সূত্র মতে, এক মৃত কুকুরের দাঁতের শুভ্রতার প্রশংসা না করে তার শবদেহের দুর্গন্ধ সমালোচনা করায় যিশু তার শিষ্যদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। -(জামকসারী, খন্ড-২, পৃ.১৭৫;. জাহেয, খন্ড-২, পৃ.১৬৩; আত্তার, ১৩৬৪ S/১৯৮৫, পৃ.৩০২)

কথিত আছে-, নূহ (Nūḥ-শোককারী; একটি জনপ্রিয় শব্দতত্ত্ব অনুসারে এটি আরবী রুট থেকে এসেছে) তার এ্ নাম লাভ করেন, কারণ, একটি কুকুরের প্রতি বিরক্তি প্রকাশের জন্যে খোদা তাকে তিরস্কার করেছিলেন, যা তাকে স্বীয় কৃতকর্মের জন্যে তীব্র অনুশোচনা ও বিলাপ করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। -(মেবুদি, খন্ড-৪, পৃ.৩৮১-৮২)


সূফী মা’সূক তুসি একবার একটি ঢিল ছুঁড়ে একটি কুকুরকে আঘাত করেন। তৎক্ষণাৎ এক অশ্বারোহী দূত হাজির হয় এবং তাকে চাবুক মেরে তীব্রস্বরে বলে যে, খোদার দৃষ্টিতে তার সাধুত্ব মোটেও উত্তম নয় ঐ প্রাণীর তুলনায়, যার সাথে সে দূর্ব্যবহার করেছে। অনেক অধ্যাত্মিক সাধক এমনও প্রচার করেছেন যে, কুকুরই প্রথম তাদেরকে নম্রতা শিক্ষা দিয়েছে। -(আত্তার, ১৩৫১ Š./১৯৭২, পৃ.১৫৫-৫৬; আত্তার, ১৩৬৪ Š./১৯৮৫, পৃ.১৯৬, ৩১৪-১৫; মেবুদি, খন্ড-১, পৃ.৪৪৭; আমেলী, ১২৬৮/১৮৫২, পৃ.১৪-১৭; দামিরী, খন্ড-২, পৃ.২৫৭; ফোজুনি, পৃ.৫৩৩).


এক রেওয়াত মতে- নবীজী বলেন-“নীতিহীন মানুষের চেয়ে কুকুর উত্তম।” -(মেবুদি, খন্ড-১, পৃ.৬১৫; দামিরী, খন্ড-২, পৃ.২৫৩) অনুরূপভাবে- এক সূফী মুয়াজ্জ্বিনকে অভিশাপ দেন তার আযানের জন্যে, কারণ, তিনি প্রশংসায় মগ্ন ছিলেন এক কুকুরের যে সেই সময় উচ্চরবে খোদার গুণগান করছিল। -(মেবুদি, খন্ড-৩, পৃ.১৭২; cf. দামিরী, খন্ড-২, পৃ.২৫১, ২৫৭).


প্রাচীন চিকিৎসায় কুকুর:

কুকুরের হাঁড় এবং টিস্যু সফলভাবে মানব দেহে প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে- এ্ই বিশ্বাস অনুযায়ী পার্স্যিয়ান চিকিৎসক বাহা-আল-দৌলা তার Ḵolasat al-tajāreb (comp. ৯০৬/১৫০১ at Ray; apud Elgood, পৃ.২২৯) পুস্তকে উল্লেখ করেন যে, সেখানে বসবাসরত একজন ভারতীয় ডাক্তার সফলভাবে একটুকরো কুকুরের চামড়া একজন রোগীর মাথার খুলিতে গ্রাফটিং করেন। ঐ রোগী impetigo-তে (এক ধরণের ব্যাক্টেরিয়া জনিত চর্মরোগ) আক্রান্ত ছিল। ডাক্তার প্রথমে রোগীকে অবশ করে তার মাথার চামড়া অপসারণ করেন। তারপর কুকুরের চামড়া তার খুলিতে গ্রাফটিং করে বিভিন্ন মলম দিয়ে ক্ষতের পরিচর্য়া করেন। এই ত্বক প্রতিস্থাপণের কাজ সম্পূর্ণ সফল হয় এবং রোগী আরোগ্য লাভ করে। 

জলাতঙ্ক রোগ যা সবচেয়ে নাটকীয়ভাবে কুকুরকে প্রভাবিত করে, একসময় মানুষের অনেক উদ্বেগের কারণ হয়েছিল। এই রোগের অনেক প্রাক-পাস্তুরিয়ান নিরাময়ের কথা রিভিন্ন ভেজষ-ওষধিতে উল্লেখ করা হয়েছে। -(থম্পসন, মোটিফ D১৫১৫.৫; cf. ফোর্বস পৃ.১৩-১৪) প্রথমদিককার আরবীয় এক চিকিৎসা পুস্তকে জলাতঙ্ক প্রতিকারের এক ঔষধি, জলাতঙ্কে আক্রান্ত কুকুরের প্লীহা বা যকৃত থেকে তৈরীর কথা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। -(তাবারী, পৃ.৪২৬; cf. জর্জিনী, পৃ.৬৪০, ৬৫১; মোস্তাফি, পৃ.৪৯; ইবনে বকতিসু, fol.৯৩a; তনোকাবনী, পৃ.২২২; cf. এলিয়ান, ১৪.২০; জলাতঙ্কের অন্যান্য চিকিৎসার জন্য, দেখুন- দামিরী, খন্ড-২, পৃ.২৫২, ২৯৭; তাবারী, পৃ.৫১, ১১০; শুকুরজাদা, পৃ.২৫৩, ২৭৫)


প্রাচীনকালে, কুকুরের দুধ বিষের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিষেধক হিসেবে বিবেচনা করা হত এবং আরো বিশ্বাস করা হত, এ দুধ পানে মৃত ভ্রূণ ও অমরাকে গর্ভ থেকে বের হওয়া ত্বরান্বিত করে। এছাড়া, স্তনের ব্যাথা উপশমে সদ্য জন্ম দেয়া কুকুরের দুধ পানে নারীদের অনুমতি ছিল। -(তনোকাবনী, পৃ.২২২; কাটিরা’ই, পৃ.৩৬) 


ফোঁড়া ও আবের চিকিৎসায় কুকুরের মূত্র ব্যবহার করা হত। এর আরও ব্যবহার ছিল সংক্রামক এবং বিষাক্ত প্রাণীর কাঁমড় চিকিৎসায়। -(রোগ চিকিৎসায় কুকুরের কথিত অন্যান্য আরো ব্যবহারের জন্য দেখুন, ইবনে বকতিসু, fols ৭b, ১৫b, ৯৪a; হেদায়েত, পৃ.১১৫; জাহেয, খন্ড-১, পৃ.২৪৫, খন্ড-২, পৃ.২০৫, খন্ড-৭, পৃ.৮৯; জর্জিনী, পৃ.৩৯৫-৯৬, ৬৫১; ম্যাসি, ক্রোয়ান্সেস, পৃ.৩৩৯. ৩৪৫; শুকুরজাদা, পৃ.২৪৯, ৬২৮; cf. ফোর্বস পৃ.১৩-১৪; সেলাস, পৃ.২২৯-৩০)


জাদুতে কুকুর:

শয়তানের সঙ্গে কুকুরের যোগসূত্রের ধারণা এই প্রাণীটিকে নির্মূল করার কয়েকটি প্রচেষ্টায় প্রেরণা হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে। কথিত আছে- নবী মুহাম্মদ (এবং পরে ইউসূফ বিন হাজ্জাজ), সব কুকুর হত্যা করতে আদেশ দেন, কিন্তু পরে তা সংশোধন করে কেবল কালো কুকুরের ক্ষেত্রে, বিশেষত: যাদের চোখের উপর দু’টি স্পট (noqtatayn) আছে, সেটি বলবৎ করতে বলেন। -(মেবুদি, খন্ড-৩, পৃ.৩১; জাহেয, খন্ড-১, পৃ.২৬২, ২৯১-৯৩, খন্ড-২, পৃ.১৫৩, ২৯৩, খন্ড-৪, পৃ.২৯৫; ইবনে কুতা্ইবা, খন্ড-২, পৃ.৮১; হোসরী, পৃ.১৮৪; জামাকসারী, খন্ড-৩, পৃ.৪৫১; বল’আমী, ed. বাহার, পৃ.৯৮৭-৮৮; দামিরী, খন্ড-২, পৃ.২৮৮-৮৯; cf. রাগেব, খন্ড-২, পৃ.৬৬৫; ডোনান্ডসন, পৃ.১৫৯;).

কালো কুকুর জাদুতে প্রসিদ্ধ হয়ে আছে। শয়তানের সাথে তার যোগসূত্রতার কারণে অনেকের এ ধারণা রয়েছে যে, তার কোন ক্ষতি করলে অপরাধীর জন্যে তা শারিরিক আঘাত বা কোন দূর্ভাগ্য বয়ে আনবে। -(হেদায়েত, পৃ.১৩৮; ম্যাসি, ক্রোয়ান্সেস, পৃ.১৯৭) খোরাসানে এমনও বিশ্বাস প্রচলিত ছিল- যে একটি কুকুর হত্যা করে, সে একটি শিশুসন্তান হারাবে বা সাত বৎসর দূর্ভাগ্যের অভিজ্ঞতা লাভ করবে। -(শুকুরজাদা, পৃ.৩২১) কুকুরের ক্ষতির বিরুদ্ধে এ ধরণের বিশ্বাস, অন্তত আংশিকভাবে হলেও প্রতিফলন করছে প্রাক ইসলামী কূসংস্কার। আর এটা তুলে ধরা হল to conform to the Islamic association of the animal with evil.


উদাহরণস্বরূপ, ৯বম শতাব্দীর দিকে কুকুরের কল্যাণে জরাস্ট্রিয়ান সচেনতা ইতিমধ্যে সামনে নিয়ে এসেছে যে, তা ছিল কেবল কুকুরের কূ-নজর প্রতিহত করার একটা প্রচেষ্টা। আমর বিন বাহার জাহেয (জাহেয, খন্ড-২, পৃ.১৩১: cf. জামাকসারী, খন্ড-৩, পৃ.৪৫২) আরো উল্লেখ করেন যে, পাস্যিয়ানগণ কূ-নজর ভীতির কারণে জন্তু-জানোয়ারের সামনে খাওয়া-দাওয়া করত না, বিশেষত: কুকুরের সামনে। অন্তত একটি শিয়া উৎসে এই নিষেধাজ্ঞা আলী বিন আবি তালেবের নামে আরোপিত হয়েছে। -(হা’য়েরী, অধ্যায়-২৫, পৃ.১০০); যাইহোক, এক বর্ণনা মতে, ইমাম হাসানকে একটি কুকুরের সামনে আহার করতে দেখা যায়, ঐ সময় তিনি কুকুরকে একটি করে রুটির টুকরো দিচ্ছিলেন তার নিজের খাওয়া প্রতিটি টুকরোর বিনিময়ে।- (আব্বাস কওমি, খন্ড-২, পৃ.৪৮৮; cf. বায়হাকী, খন্ড-৫, পৃ.১৮৯). 


লোককাহিনী মতে, একটি পাহারাদার কুকুরকে কেউ খাবার থেকে বঞ্চিত করলে সে bulimia-তে আক্রান্ত হয়।- (হেদায়েত, পৃ.১৩৮-৩৯, cf. ম্যাসি, ক্রোয়ান্সেস, পৃ.২০৫) বেস অ্যালান ডোনাল্ডসন (পৃ.১৫৯) উল্লেখ করেছেন যে, কুকুরের কূ-নি:শ্বাসের ভয়ে পার্স্যিয়ানরা খাবার সময় তাকে তাদের কাছে আসতে অনুমতি দেয় না। এছাড়াও sagdīd এর প্রাক-ইসলামী অনুষ্ঠানগুলো কিছু মুসলিম লেখক দ্বারা পুনঃসংস্কারকৃত এবং যৌক্তিকীকরণ করা হয়েছিল। -(জাহেয, খন্ড-১, পৃ.৩৭৫, খন্ড-২, পৃ.২৮৯; cf. তুসি, পৃ.৫৮৩), উদাহরণস্বরূপ, অগ্নিপূজকগণ তাদের শবদেহ কুকুরের জন্য উন্মুক্ত করে রাখে, কারণ, প্রাণীটির গন্ধ নেবার তীক্ষ্ণ অনুভূতি তাদেরকে নিরুপণ করতে সাহায্য করে, ব্যক্তিটি প্রকৃতই মৃত না-কি নিছক অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। -(আব্বাস কওমি, খন্ড-২, পৃ.৪৮৭; দামিরী, খন্ড-২, পৃ.২৫২)


বিশ্বাস করা হয়, কুকুর ফেরেস্তা ও জ্বীণদেরকে দেখতে পায়। -(থম্পসন, মোটিফ E৪২১.১.৩), এবং এই বিশ্বাস নবীর কিছু রেওয়াতেও দেখতে পাওয়া যায়।- (দামিরী, খন্ড-২, পৃ.২৫৭, ২৮৮-৯০; জামকসারী, খন্ড-২, পৃ.৫৭৯, খন্ড-৩, পৃ.৪৫১; cf. ডোনাল্ডসন, পৃ.৩৬, ৪৫, ১৫৯; পেনজার, খন্ড-২, পৃ.১১৭) এটাই হয়ত: এসব গল্পের জন্ম দিয়েছে যে, প্রাণীরা মহান পুরুষদের উত্থান ও পতনের পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। -(নিজাম আল-মূলক এর পতন সম্পর্কে জানতে দেখুন, তুসি, পৃ.৪৯৭) অথবা এমন বিশ্বাস যে, তারা ডাইনিদের জন্যে পর্বতস্বরূপ কাজ করে। -(দারিমী, খন্ড-২, পৃ.২৫৯) 


যাদু সৃষ্টির বেশকিছু চর্চায়, বিশেষত: কোন একটি পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি বা ধ্বংস করতে কুকুর বা কুকুরের সঙ্গে সম্পর্কিত কোন বস্তু ব্যবহার করা হত। -(ইবনে বকতিসু, fol.৯৪a; তনোকাবনী, পৃ.২২২; মাতলামির সাথে কুকুরকে জড়িত করার এক কাহিনী জানতে, দেখুন, তুসি, পৃ.৩২৩-২৪; ফোজুনি, পৃ.৪৭৬; cf. তাবারী, পৃ.৩৯, ২০৭) কুকুর অশুভ প্রকৃতির- এ্ই বিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে এসব কুসংস্কারে- সকালে ঘুম থেকে উঠেই কোন কুকুর দর্শণ খারাপ লক্ষণ এবং দু’টি কুকুরের মধ্যে দিয়ে গমন দূর্ভাগ্য বয়ে আনে, ইত্যাদি। -(শুকুরজাদা, পৃ.৩২১; ম্যাসি, ক্রোয়েন্সেস, পৃ.২৮৯) কুকুরকে এড়িয়ে চলা হয় সাঁজগোজ করার সময় যেন তাদের দৃষ্টি বা নৈকট্য সৌন্দর্য়্য প্রভাবকে খর্বকরে না ফেলে। -(তুসি, পৃ.১৪৮) খুজিস্তানের কোহনাক গ্রামে এমন একটি ব্যাপক বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে যে, কোন বিড়ালের গায়ে কেউ পানি ছিটিয়ে দিলে তার হাতে ফোঁড়া হবে বা তার হাত কুকুরের মত হয়ে যাবে। -(করিমী, পৃ.৪৪) 


স্বাভাবিকভাবেই এমন একটি শক্তিশালী প্রাণী প্রায়শ:বিপদ আপদের বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হত। লোকেরা বিশ্বাস করত, হাতের কব্জিতে একটি পাগলা কুকুরের দাঁত পরলে বা সাথে একটি কালো কুকুরের জিহবা রাখলে পাগলা জন্তুর আক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। দাঁত উঠতে শুরু করেছে এমন একটি শিশুর গলায় একটি কুকুরের দাঁত ঝুলিয়ে দিলে তার দাঁত ওঠা ত্বরান্বিত করবে। কুকুরের শুকনো লিঙ্গ কারো উরুতে বেঁধে দিলে তার কামেচ্ছা বৃদ্ধি পাবে, ইত্যাদি। -(তাবারী, পৃ.৪২৬;. দারিমী, খন্ড-২, পৃ.২৯৬-৯৭; তাবারী, পৃ.১৯, ২৪, ২০৭; ইবনে বকতিসু, fol.৯৪a; cf. ডোনাল্ডসন, পৃ.৩০, ১৬০-৬১; কাটিরা’ই, পৃ.৯১; কালান্তরী, পৃ.২৮)


জাদু বা মায়াজালে কুকুরছানার মস্তিষ্ক ব্যবহার করা হত। -(হেদায়েত, পৃ.১১৬; ম্যাসি, ক্রোয়েন্সেস, পৃ.৩১৪) কুকুরের পাতলা দুধ জাদুগ্রস্থের মাথায় ঢাললে এবং সন্দেহভাজন কোন ভৌতিক বাড়ির অভ্যান্তরে একটি সাদা কুকুরের বিষ্ঠা জ্বালিয়ে ধোঁয়া ছড়িয়ে দিলে মোহিনীশক্তি বিনষ্ট হয়। আর মজার ব্যাপার হচ্ছে, এটি এই শতাব্দীতেও শক্তিশালী অপশক্তি দূরকারী (apotropaics) হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। -(ডোনাল্ডসন, পৃ.১৬০-৬১) এছাড়াও বিশ্বাস করা হয়, কুকুর দুস্প্রাপ্য মান্ডারেকের (Mandrake/mehr-gīāh; ফার্সি-sagkan অর্থ “uprooted by dogs,”; এক ধরণের ভূ-মধ্য সাগরীয় উদ্ভিদ) মূল অনুসন্ধান করতে সক্ষম। -(হেদায়েত, পৃ.১২২; কাটিরা’ই, পৃ.৩৫৪; cf. পেনজার, খন্ড-৩, পৃ.১৫৩, ১৫৮; ফ্রেজার, খন্ড-২, পৃ.৩৮১; তুসি, পৃ.৩২৬; গিনজবার্গ, খন্ড-৫, পৃ.২৯৮; বালাজী, পৃ.২১৭). মান্ডারেক বন্ধ্যাকে সন্তান জন্মদানে সক্ষম করে বলে বিশ্বাস করা হয়। আর এসব বিশ্বাসকারীদের বক্তব্য হল ইয়াকুব পত্নী রাহেলা এই মান্ডারেকের গুণেই ইউসূফকে সন্তান হিসেবে লাভ করেছিল।-(দেখুন, Genesis ৩০:১৪-১৬)


স্বপ্ন বিদ্যায় কুকুর সাধারণত: দুর্বল শত্রুর প্রতিনিধিত্ব করে। স্বপ্নে একটা শিকারি কুকুর একজন বিজ্ঞ ব্যক্তির (došman-e 'ālem); এবং কুর্দি ও তুর্কি কুকুর বিদেশী শত্রু হিসাবে ব্যাখ্যাত হয়। তবে স্বপ্নে কোন কুকুরকে মাংস বা পরিচ্ছদ ছিঁড়তে দেখার অর্থ করা হত আসন্ন কোন সহিংস মারামারি বা প্রতিদ্বন্দ্বী শত্রুর (স্বপ্নদর্শীকে অতিক্রম করতে পারে এমন) আক্রমণের সতর্কবাণী। একইভাবে মাদী কুকুর (bitch) বিবেচিত হত দুশ্চরিত্রা ও বদমেজাজী স্ত্রীর প্রতীকীরূপে।- (কা’ব-গজারী, পৃ.৩৩৭-৩৮; cf. দামিরী, খন্ড-২, পৃ.২৯৭). কথিত আছে, নবীজী dreamed that a spotted dog was lapping his blood; upon awakeninghe interpreted the dream as a harbinger of the martyrdom of his grandson Ḥosayn at the hands of a man suffering from vitiligo.- (দামিরী, খন্ড-২, পৃ.২৫৫)


পার্স্যিয়ান লোককাহিনীতে প্রায় সর্বসম্মত মতামত রয়েছে আর্তনাদকারী কুকুরের অশুভতা সম্পর্কে। -(শাকুরজাদা, পৃ.৩২১; হেদায়েত, পৃ.১৩৮; ম্যাসি, ক্রোয়েন্সেস, পৃ.১৯১; তাহবাজ, পৃ.৭১; করিমী, পৃ.৪৪; আজিমী, ১৩৪৯ S./১৯৭০b, পৃ.৫৩; দানেশভার, খন্ড-২, পৃ.২৩০; এনজাভি, ১৩৫২-৫৪ Š./১৯৭৩-৭৫, খন্ড-১, পৃ.১০; তাওয়াককলি, পৃ.৭১) কেবলমাত্র মৃত্যুই নয় বরং ভূমিকম্প ও মহামারীর আগমণও ধারণা করা হত ঐশ্বরিকভাবে আর্তনাদকারী কুকুর থেকে আসে।-(ডোনাল্ডসন, পৃ.১৫৯) এছাড়া আবহাওয়ারও পূর্বাভাস কুকুরের আচরণ থেকে দেয়া হত: A dog rolling in dust signals the approach of stormy weather, whereas lying down in the shade in the cold foretells approaching warm weather.- (শাকুরজাদা, পৃ.৩৩৮; সাদিক, পৃ.৭৫).


জিলানে বিশ্বাস করা হত, শিয়ালের আর্তনাদের প্রতিউত্তরে কুকুর আর্তনাদ করলে পরদিন আবহাওয়া ভাল হবে।-(রবিনো, tr., পৃ.৩৪) পারস্যের শিরাজীরা, প্রথম তুষারপাতকে বলত "কুকুর তুষার" (barf-e sag), এবং এ বিশ্বাস করা হত যে, কারো এটা খাওয়া উচিত নয়।- (ফকিরী, পৃ.৭১). আবহাওয়ার সঙ্গে কুকুরের সংযোগে বিশ্বাস আবহাওয়ার উন্নতির লক্ষ্যে অনেকগুলো ঐন্দ্রজালিক চর্চার সূচনা করেছে। উদাহরণ স্বরূপ, আজারবাইজানের কোর্রাম দার্রায় a ritual called sag-davānī (কুকুর তাড়ানো) is aimed at halting cold weather and blizzards. The inhabitants find and surround a dog, chasing and beating it until it is completely exhausted; having driven it away, they believe they have also cast out cold weather.- (এনজাভি, ১৩৫২-৫৪ Š./১৯৭৩-৭৫, খন্ড-২, পৃ.৯).


দৈনিন্দন কুকুরের ব্যবহার:

শিকারী কুকুর অভিজাত ও সাধারণ উভয় শ্রেণীর দ্বারা অত্যন্ত প্রশংসিত হত। -(মোজমাল, ed. বাহার, পৃ.৭০, ৩৬৪) তাদের ছিল long limbs, small heads, and protruding eyeballs. -(নুজহাত অাল-কোলাব, ed. লে স্ট্রেঞ্জ, পৃ.৪৯) রাজকীয় শিকারী কুকুরগুলোকে সচরাচর স্বর্ণ ও সূক্ষ্ম কাপড় পরিয়ে রাখা হত।-(অাত্তার, ১৩৪১ S/১৯৬২, পৃ.১৪৯-৫০; আসাদী তুসি, পৃ.৪১৬) এছাড়াও অভিজাত সরকারী কর্মচারীরাও খাদ্য পরীক্ষক হিসেবে কুকুর ব্যবহার করত। কথিত আছে, খলিফা হারুনুর রশীদের (১৭০-৯৩/৭৮৬-৮০৯) মাতা মৃত্যু প্রতিহত করেছিলেন বিষ সন্দেহভাজন একটি খাবার ডিশ একটি কুকুরকে দেবার মাধ্যমে। -(মোজমাল, ed. বাহার, পৃ.৩৪০) বেশকিছু কাহিনী অনুসারে, অনেক রাজা কুকুর পুষতেন এবং তাদের সম্মুখে তার বিরোধিতাকারীদেরকে ছুঁড়ে দিতেন ছিঁড়ে খেয়ে ফেলার জন্যে। -(নেজামী গজনভী, পৃ.১৪৬-৪৯; ফোজুনী, পৃ.৫৩১; ইবনে বতুতা, খন্ড-২, ৫৭-৬০; cf. পেনজার, খন্ড-২, পৃ.১২১; থম্পসন, মোটিফ Q৪১৫.১; ফাকিহী, পৃ.১৯৪-৯৫; ইক্লিপ্স, পৃ.৫৮)

যদিও নবীজী প্রাণীদের লড়া্ই নিষিদ্ধ করেছেন (তাওহিদি, ১৪০৮/১৯৮৮, খন্ড-১, পৃ.২১০; cf. আলবানী, s.v. জিহাদ ৩০; আবূ দাউদ, s.v. জিহাদ ৫১), তথাপি ইসলামী শাসনামলেও এর চর্চা পার্স্যিয়ান সাংস্কৃতিক মন্ডলে ভালভাবেই প্রচলিত ছিল।-(জাহেয, খন্ড-২, পৃ.১৬৩-৬৪, খন্ড-৫, পৃ.২৪৬; শাহনামা, খন্ড-৩, পৃ.১৬, ১৭৭-৭৮,  n.২৩) কখনও কখনও কুকুরদেরকে অন্য প্রাণীদের সাথে লড়াই করতে দেয়া হত। জাহেয একটি মোরগ ও একটি কুকুরের মধ্যে লড়াইয়ের এক ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন।- (জাহেয, খন্ড-১, পৃ.৩৭৬; cf. কাহার মাকালা, ed. কাজভিনী, পৃ.৬০) স্পষ্টতই হলুদ বা লালচে রং এর গুলোই পছন্দনীয় ছিল।- ( তুসি, পৃ.৫৮৪; ইবনে বকতিসু, fol. ৯১a).


স্যাগবান বা স্যাগ-বান্দা নামে একদল লোক ছিল, যাদের কাজই ছিল কুকুর পরিচর্চা করা।-(মেবুদি, খন্ড-১, পৃ.৬১৫) কুকুর প্রশিক্ষিত করা হত এবং নির্দিষ্ট কোন দক্ষতার কুকুর উচ্চ প্রশংসিত হত। জাহেয উল্লেখ করেছেন-কুকুরকে মাথার উপর ভর দিয়ে দাড়ানো শেখানো হত এবং ফর্দ ও অর্থ দিয়ে মুদি পণ্য-দ্রব্য ক্রয়ে পাঠানো হত, আর বিক্রেতা নির্দিষ্ট দ্রব্য তার থলিতে দিলে, সে তা তার মালিকের নিকট বয়ে আনত।- (জাহেয, খন্ড-২, পৃ.১৭৯; cf. জামাকসারী, খন্ড-৪, পৃ.৪৩৫-৩৬) অবশ্য কুকুরকে জড়িয়ে নানা পাশবিকতার তথ্যও আছে।-  (জাহেয, খন্ড-১, পৃ. ৩৬৯-৭১, ৩৭৩, খন্ড-৩, পৃ.২০৩; রাজেব, খন্ড-৩, পৃ.২৫৭)


গল্প ও লোকগাঁথায় কুকুর:

এসোপিয়ান কর্পাসের কুকুর সম্পর্কিত নৈতিক উপদেশমূলক গল্পগুলো পার্স্যিয়ান সাহিত্য ও লোককাহিনীতেও পাওয়া যায়। সবচেয়ে বিখ্যাত গল্পটি হল ঐ কুকুর সম্বন্ধে যে পানিতে নিজের ছায়া দেখে অপর আরেকটি কুকুর মনে করে স্বভাববশত: ডেকে উঠে নিজ মুখে ধরে রাখা মাংসের টুকরো পানিতে ফেলে দিয়েছিল। -(থম্পসন, মোটিফ J১৯৭১.৪, আর্নি ও থম্পসন, t.৩৪A, বদকের, পৃ.৯৫০; থম্পসন ও রবার্টস, পৃ.২৭০; দালে, নং ১৩৩; আমিনী, পৃ.২৮৩; cf. আত্তার, ১৩৬৪ Š./১৯৮৫, পৃ.১৫৪; বোকারী, পৃ.৬৬;) অন্যগুলো শ্রেণীবদ্ধ হয়েছে উলরিখ মারজলফ (s.v. হুন্ড) কর্তৃক, যিনিও কুকুর সম্পর্কিত পার্স্যিয় উপকথার গল্পগুলোর ধরণ অনুসারে একটা সুবিধাজনক তালিকা দিয়েছেন। বিশেষকরে কুকুরের বিশ্বস্ততার গল্পগুলো মৌখিক এবং লিখিত উৎসসমূহে সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। এক সংকলনে (আর্নি ও থম্পসন, টাইপ ১৭৮; থম্পসন, মোটিফ B৩৩১.২) এক পোষ্য কুকুর (বা বেজি) সাপের কাঁমড় থেকে মনিবের শিশু সন্তানকে রক্ষায় সেটিকে কাঁমড়ে হত্যা করে। এদিকে পিতা কুকুরের রক্তাক্ত মুখ দেখে ভাবে যে তার সন্তানকে সে খেয়ে ফেলেছে। রাগান্বিত হয়ে ঐ মনিব তার কুকুরকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। অত:পর সে সত্য জানতে পারে।-(বোকারী, পৃ.২১৪) এ ধরণের কাহিনী (আর্নি ও থম্পসন, t.১৭৮B) বেশ প্রচলিত।

এক ব্যক্তি তার বিশ্বস্ত কুকুরকে তার এক ঋণের জামানত হিসাবে রাখে। কুকুরটি পাওনাদারকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে। এতে খুশী হয়ে পাওনাদার কুকুর মালিকের ঋণ ক্ষমা করে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি চিরকূট কুকুরের গলায় বেঁধে দিয়ে তাকে মালিকের বাড়ীতে ফেরৎ পাঠায়। এদিকে বাড়ীর দিকে তার কুকুরকে আসতে দেখে মালিক বুঝতে পারে সে পালিয়ে চলে এসেছে। অার পালিয়ে এসে পাওনাদারের কাছে তার কুকুর তাকে অসম্মনিত করেছে এ্ই রাগে সে পিটিয়ে কুকুরটিকে সেখানেই হত্যা করে এবং তারপর চিঠি খুঁজে পায়। -(ফোজুনি, পৃ.৫৩১). অন্যান্য কাহিনীতে দেখা যায়, নিহত ব্যাক্তির কুকুর তার মনিবের হত্যাকারীকে আক্রমণ করে হত্যা করেছে বা তার নিজ বুদ্ধিমত্তায় হত্যাকারী সনাক্তে কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করেছে। -(ইবনে আল-জাওযী, পৃ.২৪৪; দামিরী, খন্ড-২, পৃ.২৫৩-৫৪; ফোজুনি, পৃ.৫৩১-৩২).


মৃত্যু পর্য়ন্ত কুকুরের প্রভুভক্ততা উদাহরণ হযে রয়েছে একজন লোকের কাহিনীতে যার মৃত্যুর পর মৃতদেহ ফেলে তার বিশ্বস্ত কুকুর চলে যায়নি বরং অনাহারে মৃত্যুর পূর্বপর্য়ন্ত ভগ্নহৃদয়ে মনিবের মৃতদেহের পাশে বসে সযত্নে সেটি আগলে রাখে যেন কোন বন্যপশু ও পাখি তার কোন ক্ষতি করতে না পারে। -(মোস্তাফি, পৃ.২৮২; cf. এলিয়ান, ৬.২৫, ৭.১০). এমনও কিছু কুকুরের কাহিনী রয়েছে যারা তাদের মনিবকে বিপদ ও মৃত্যুর হাত থেকে উদ্ধার করেছে। -(জামাকসারী, খন্ড-৪, পৃ.৪২১; ইবনে আল-জওয়াযী, পৃ. ২২৩-২৪; ফোজুনি, পৃ.৫৩২-৩৪; এনজভি, ১৯৭৩a, পৃ.৩৫৩-৫৫, ৪০২-০৩; ১৯৭৩b, পৃ.২০৯-১০; ১৯৭৬; পৃ.১৬৮-৭১). 


কথা ও লেখ্য সাহিত্যে জাদু বা ইন্দ্রজালের সাহায্যে মানুষকে কুকুরে রূপান্তরিত করা সাধারণভাবে স্বীকৃত। -(রাজী, খন্ড-৯, পৃ.১৬; মেবুদি, খন্ড-৩, পৃ.৭৯০; কুরতুরী, খন্ড-৭, পৃ.৩২০-২১; এনজাভি, ১৯৭৩a, পৃ.৩৭৫-৭৬, ৩৮৪-৮৫, ৩৯৬-৯৭).  বিকল্পভাবে একজন নিহত ব্যক্তির আত্মা কুকুরের শরীরে প্রবেশ করতে পারে এবং একটা কুকুরের জীবন-যাপন করে ঝুঁকি উৎঘাটন না করে। -(এনজাভি, ১৯৭৩a, পৃ.৮০-৮৩).


জরথুস্ট্রবাদে কুকুর:

স্পষ্টত:ই মৃত্যুর অতিপ্রাকৃত কুকুরে এক ইন্দো-ইউরোপীযোন বিশ্বাস ছিল এবং একে ঋগ্বেদে (Rigveda) দেখান হয়েছে যমের চার চক্ষু “four-eyed” বিশিষ্ট হাউন্ডস রূপে, যে পাহারায় নিয়োজিত আত্মাগণের ভবিষ্যৎ বাসস্থানের দিকে গমণের পথটি। -(কেইথ, খন্ড-২, পৃ.৪০৬-৭). পার্সি ধর্মে বলা হয়েছে (Vidēvdād ১৯.৩০), -দু’টো কুকুর সিনভাট সেতুর ("bridge of judgement") উপর দাঁড়িয়ে থাকবে নারীরূপে (ডায়না) যে আত্মাদের মোকাবেলা করবে অবশ্য Vidēvdād ১৩.৯-এ এদেরকে বলা হয়েছে “দুই সেতু-রক্ষা কুকুর"। 

Mortal dogs receive a striking degree of attention in the “legal” (dādīg) books of the Avesta, notably in the Vidēvdād and the almost wholly lost Duzd-sar-nizad, the contents of which are known from Dēnkard 8. The two chief categories of dog (Vd. 13.8 and passim; Ardā Wīrāz nāmag 48.4) are the herd dog (pasuš.haurva, lit., “cattle protecting”; Pahl. sag ī šubānān) and house dog (viš.haurva, lit. “house protecting”; Pahl. sag ī mānbānān). Their duties only are defined (Vd. 13.17-18). To them are added the vohunazga (Vd. 13.8), which other Avestan and Pahlavi contexts suggest was a masterless dog, loosely attached to the local community; and finally the tauruna (Vd. 13.15), apparently a young dog (linked by a simile with a youth who has put on the sacred girdle; Vd. 13.23), presumably not yet trained.


Gratitude is required of men toward the herd and house dog, for Ahura Mazdā is represented as declaring: “No house would stand *firmly founded* for me on the Ahura-created earth were there not my herd dog or house dog” (Vd. 13.49). Responsibility toward dogs is repeatedly linked with responsibility toward humans. In the Huspārām Nask the proper quantities of food are listed for man, woman, child, and the three kinds of dogs (Dēnkard 8.37.1). A sick dog is to be looked after as carefully as a sick person (Vd. 13.35), a bitch in whelp as solicitously as a woman with child (Vd. 15.19). Puppies are to be cared for for six months, children for seven years (Vd. 15.45).


There is a partly playful account of how the dog combines the characteristics of eight kinds of people (Vd. 13.44-48), and a description of him as created by Ahura Mazdā “self-clothed, self-shod, alertly watchful, sharp-toothed, sharing the food of men, to watch over (man’s) possessions”(Vd. 13.39). “Having/sharing the food of men” is to be taken literally. In Vidēvdād 13.28 it is enjoined that a dog is to be given milk and fat together with meat, staple articles of the diet of pastoralists.


According to a lost Avestan passage, preserved through Pahlavi translation in the Bundahišn (tr. Anklesaria, 13.28), the dog was created “from the star statioŋfor the protection of beneficent animals, as if blended of beneficent animals and people”. Because he was held to be of moral character, his corpse was thought to be surrounded, like a good person’s, by triumphant evil powers, and so was highly contaminating. Hence one of the places where earth suffers most is where the bodies of men and dogs are buried (Vd. 3.8). If a dog dies in a house, fire is to be taken out of that house, as when a person dies (Vd. 5.39-40), and the dog’s body is to be carried like a human’s to a place of exposure (Vd. 8.14).


Like a human’s, it contaminates the path over which it is carried, which is then to be purified by a living dog being led over it, for a dog was thought capable of driving away Nasu, the corpse demon which brings putrefaction. The dog used for this task was ideally “tawny with four eyes (or) white with tawny ears” (Vd. 8.16). There seems an echo here of the supernatural four-eyed dogs of Yama, though for a mortal creature the characteristic is understood, by later Zoroastrians at least, as having two flecks of different-colored hairs just above the eyes (Jackson; Boyce, Stronghold, p. 140 and n. 3).. Because of the belief that a dog could drive away contaminating demons it was also to be present at the ritual cleansing known later as the barašnom-e nō šaba (Vd. 8.37, 8.38).


It seems probable that this power came to be attributed to the dog because dogs are the animals always referred to in the Avesta as devouring corpses, and, as they (presumably, that is, the vohunazga dogs, which would have followed the corpse bearers to the exposure place) were able to do this with impunity, it was plain that the corpse demon could not harm them. (On similar corpse eating by the dogs of modern African pastoralists see Boyce, p. 100 n. 56; see also শবদেহ; মৃত্যু). Thus a Pahlavi gloss on the vohunazga dog of Vidēvdād 13.19 is “he smites Nasu” (Pahlavi Vendidād, p. 283.)


Respect for dogs was maintained in later Zoroastrianism, with most of the usages enjoined in the Avesta being continued, and some even elaborated. With the general building of funerary towers, the disposal of corpses was left to carrion-eating birds; but the dog was still used to help drive off Nasu at the barašnom-e nō šaba, and the additional rite of sagdīd (lit., “seen by the dog”) was evolved, evidently from the belief that he has the power to do so. For this rite a dog (male and at least four months old) was brought to look at a corpse before it was carried to the daḵma, in order to lessen the contamination. The rite is first attested in the late Sasanian Šāyest nē šāyest (chap. 2), with what appears to be a supportive interpolation in the Vidēvdād sāde (between 7.2 and 7.3; given in Avesta, tr. Darmesteter, II, p. 97). In time the rite came to be performed three times for each corpse (at death, when it was placed on the bier, and outside the daḵma) and also during each gāh if the funeral were delayed (Modi, pp. 58, 63).


The dog was induced to go up to the corpse by three bits of bread being placed on or by it. For Iranians bread had long replaced meat as the staple of diet, and three pieces of bread had become the recognized “portion for the dog”. In Saddar naṯr 31.1 it is enjoined that “whenever people eat, they should keep back three morsels from themselves and give them to a dog,” and this was general practice in the Irani and Parsi communities down into the present century (Boyce, Stronghold, pp. 143, 145 n. 11). In one of the Persian Rivāyats (ed. Unvala, I, pp. 256.19-257.4; tr. Dhabhar, p. 259) it is said that, if a person does this, he will be saved from even due torments in hell, while Ardā Wīrāz sees the soul of a man suffering in hell who had withheld food from dogs (Ardā Wīrāz nāmag 48.4). In Saddar naṯr 31.5 it is said that food was given because the donor hoped that the dogs of the Činvat bridge would aid his soul, and sometimes still in recent usage the daily čom-e šwa was given at sunset in the name of someone departed, in the hope of helping him or her in the hereafter (Boyce, Stronghold, p. 144).


At every Zoroastrian religious service there is invocation of the fravašis, the souls of the dead, and the link of the dog with death and the soul brought it about that on holy days and at memorial rites the čom-e šwa was augmented by portions of everything consecrated at the “outer” religious service, including always a whole egg, symbol of immortality. This was given to a dog by someone (preferably, at a memorial service, a close relative) in a state of ritual purity and with recital of Avestan. A portion of the food offerings for the dead was thus always given to a dog (Boyce, Stronghold, pp. 143-44, 158; Modi, pp. 404, 350). During the three days after death, if there were no house dog, a lane dog would be tied up in the courtyard (Persia) or on the verandah (Gujarat) and given food for the soul’s sake at every mealtime, and then, in Persia, once a day outside the house for the next forty days (Boyce, Stronghold, pp. 153 and n. 30, 158).


As a distinct usage, the tongue of every sacrificed animal was consecrated with a Hōm drōn (হামার উদ্দেশ্যে নিবেদিত সেবা) and given to a dog to eat (Boyce, Stronghold, p. 158). Until the mid-20th century when a house dog died its body was wrapped in an old sacred shirt tied with a sacred girdle, and was carried to a barren place (cf. Šāyest nē šayest 2.7), and brief rituals were solemnized for its spirit (Boyce, Stronghold, pp. 162-63). All rites in which dogs are concerned have been under attack by reformists since the mid-19th century, and have by now been wholly abandoned by them, and are much curtailed even by the orthopractic.


নৃবিদ্যায় কুকুর:

প্রাক ইসলামী পারস্যে কুকুরের প্রতি থাকা মনোভাবের সাথে তুলনায়, বর্তমান পার্স্যিয়ান ও আফগান মুসলিমদেরও, সারা দুনিয়ার অধিকাংশ মুসলমানদের মত সাধারণত: বিপরীত। তারা মনে করে প্রাণীটি অপবিত্র এবং যতটা সম্ভব তার সংস্পর্শ তারা এড়িয়ে চলে। তাদের জন্যে কুকুরের  মাংস খাওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম। ইমাম জাফর আল-সাদিকের মতে, এমনকি বাড়িতে কুকুর রাখাও (মাকরূহ)। -(ডোনাল্ডসন, পৃ.১৫৯) এভাবে তেহরানের উত্তর আবাসিক এলাকার সর্বাধিক পশ্চিমাপন্থী সংখ্যালঘুদের মধ্যে ছাড়া পারস্যে কুকুর পোষা একপ্রকার অপরিচিত হয়ে গেছে। আফগানিস্থানে পাপ্পী নামের শহুরে পোষ্য এক প্রাণী আছে "[যে] অন্তত দেখতে দক্ষিন সাইবেরিয়া ও আরো উত্তরের Spitz এর অনুরূপ" (ডুপ্রে, পৃ.৪৯), কিন্তু তা একটা প্রান্তিক উদাহরণ মাত্র; ইরানী বিশ্বে সাধারণ প্রবণতা হচ্ছে কুকুর এড়িয়ে চলা, এমনকি তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা এ্ই যুক্তিতে যে, আফগানিস্তানে “Europeans have been known to spend time in local jails for taking issue with an Afghan flogging his dog”. -(ডুপ্রে, পৃ.৪৯).

Such attitudes have resulted in the proliferation of stray dogs, especially in the cities, where they find nourishment in various kinds of garbage, thus playing a not insignificant role as scavengers; they also pose numerous problems of health (e.g., rabies) and security, however, justifying periodic extermination drives. As for Afghanistan, according to Louis Dupree (p. 50), “packs of dogs nocturnally roam the streets of the larger cities, particularly Kabul. Periodically, the police liberally distribute poisoned meat throughout Kabul. The survivors, however, live quite well off the land. I tend to grade the level of poverty in Asian cities by examining the state of the urban dog-population. Those in Kabul appear fatter and healthier than most I have seen elsewhere in Asia.”


বিদ্যমান এই বৈরিতা সত্ত্বেও, ফার্সি সংস্কৃতিতে কুকুরের জন্য কম প্রতিকূল মতামত ও আচরণের উদাহরণের কোন ঘাটতি নেই। ইতিমধ্যে ভিদেভদাদের (Vidēvdād) গুরুত্বপূর্ণ ভার্সেসগুলো সনাক্ত হয়েছে এবং একটা প্যাসেজে এমনও প্রেসক্রাইব করা হয়েছে যে, ৬মাস বয়সী কুকুরছানাকে অল্পবয়সী মেয়েরা স্তন্যপান করবে, এতে তারা একই মেধা অর্জন করবে যেমন রয়েছে পবিত্র অগ্নির অভিভাবক রূপে।-(ভাউটসি, ১৯৮৯, পৃ.৩৬৯; হোভেলাকি, পাছিম) অনুরূপ বার্তা সাদীর এক কবিতায়ও দেখতে পাওয়া যায়। -(পৃ.৮৫) এক ব্যক্তি মরুভূমিতে একটি তৃষ্ণার্ত কুকুর দেখতে পেয়ে সে তার টুপি এবং পাগড়ি ব্যবহার করে একটি কূপ থেকে পানি তুলে এনে কুকুরটিকে পান করায়। এই মহৎ কাজের জন্য খোদা তার সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেন। কিছু সুফী সাধক কুকুরকে অতি উচ্চতায় স্থান দেন তার সাহস, ভক্তি, আনুগত্য এবং আরো অনেক গুণাবলীর জন্যে। Their few negative comments have recently been explained with considerable condescension (নূরবক্স) as having resulted from the inevitable influence exercised on Sufi literature by surrounding Muslim tradition.


At any rate, it is clear that in practice Persians recognize and treat differently several categories of dog. In fact, since antiquity hunting dogs and sheep dogs have been distinguished from the mass of roaming city and country dogs. The hunting dogs were mainly coursers (Pers. tāzī, Afghan bārakzā), used for hunting gazelles, onagers, and rabbits. They were often very expensive and received special training and care, as well as exceptionally favorable treatment. Hunting with such dogs was strictly codified; they were not to be trained by non-Muslims and were not permitted to kill the game (Donaldson, p. 159). This kind of hunting, an aristocratic privilege par excellence, has almost disappeared in Persia, though it remained common in Afghanistan in the 1970s (Dupree, pp. 215-17).


On the other hand, sheep dogs (in Persia sag-e galla, in Afghanistan sag-e rama, sag-e torkestānī, Pašto da ramay spay) are working animals and are very widely used. In contrast to Western sheep dogs (Planhol), they are essentially only mastiffs, which do not intervene except to defend domestic flocks against thieves and predatory animals (e.g., wolves, bears, lynxes, panthers). They are thus often provided with spiked collars or straps (Papoli-Yazdi, p. 332), and sometimes their tails and ears are clipped, in order to provide less purchase for the teeth of carnivores and to increase the acuity of their hearing (Digard, 1981, p. 63). These dogs (two to five per flock) are fed (coarse bread or wheat-flour cakes) only by the shepherds, to whom they become attached; they are aggressive and dangerous toward strangers. Such dogs can also be very important in guarding cultivated fields (Digard, 1981, p. 246), caravans (Dupree, pp. 49-50), and nomad tents and thus play a substantial role in the internal organization of encampments (Digard, 1980). All guard dogs are treated fairly harshly. Nevertheless, only these dogs and horses are given proper names: Gallepā (guardian of the flocks), Ḵersī (like a bear), Palang (panther), Nahang (crocodile, not to be confused with its recent meaning “whale”), and so on.


A few animals are selected for their size and fierceness and trained as fighting dogs. Until recently such fights took place every Friday in Kabul, where they were the occasion for considerable betting (Dupree, pp. 50, 217). In Persia and Afghanistan (as formerly in many other parts of the Islamic world) the dog thus has a highly ambiguous status, depending ultimately more on the functions that the animal fulfills than on social norms, which are often contradicted or simply ignored in practice.


সমাপ্ত।


উৎস:

A. Aarne and S. Thompson, The Types of the Folktale, 2nd ed., Helsinki, 1973.
Abū Dāwūd Solaymān b. Ašʿaṯ Sejestānī, Sonan Abī Dāwūd, ed. M. M. ʿAbd-al-Ḥamīd, 4 vols., Beirut, 1970. 
M. N. Albānī, Żaʿīf sonan al-Termeḏī, ed. M. L. Šāwīš, Beirut, 1991.
Bahāʾ-al-Dīn ʿĀmelī, Nān o ḥalwā, n.p., 1268/1852.
A. Amīnī, Dāstānhā-ye amṯāl, 2nd ed., Isfahan, 1333 Š./1954.
Awḥad-al-Dīn Moḥammad Anwarī, Dīvān-e Anwarī, ed. M.-T. Modarres Rażawī, 2 vols., Tehran, 1337-40 Š./1958-61.
Asadī Ṭūsī, Garšāsp-nāma, ed. Ḥ. Yaḡmāʾī, Tehran 1333 Š./1954.
Farīd-al-Dīn ʿAṭṭār, Asrar-nāma, ed. Ṣ. Gowharīn, 1338 Š./1959; repr. Tehran, 1361 Š./1982.
Farīd-al-Dīn ʿAṭṭār, Manṭeq al-ṭayr, ed. M.-J. Maškūr, Tehran, 1341 Š./1962.
Farīd-al-Dīn ʿAṭṭār, Elāhī-nāma, ed. F. Rūḥānī, Tehran, 1351 Š./1972.
Farīd-al-Dīn ʿAṭṭār, Moṣībat-nāma, ed. ʿA. Nūrānī Weṣāl, Tehran, 1364 Š./1985.
Č.Aʿẓamī Sangesarī, “Bāvarhā-ye ʿāmīāna-ye mardom-e Sangesar,” Honar o mardom 92, 1349 Š./1970a, pp. 47-56; 93, 1349 Š./1970b, pp. 53-56.
ʿA. Balāḡī, Ketāb-e tārīḵ-e Nāʾīn, Tehran, 1369/1949.
Aḥmad b. Ḥosayn Bayhaqī, Šoʿab al-īmān, ed. M. Zāḡlūl, 9 vols., Beirut, 1410/1990.
Moḥammad b. ʿAbd-Allāh Boḵārī, Dāstānhā-ye Bīdpāy, ed. P. N. Ḵānlarī and M. Rowšan, Tehran, 1361 Š./1982.
Bundahišn, tr. M. Bahār as Farnbāḡ-dādagī (Bondaheš), Tehran, 1369 Š./1990.
L. W. Daly, Aesop without Morals, New York and London, 1961.
Moḥammad b. Mūsā Damīrī, Ḥayāt al-ḥayawān al-kobrā, 2 vols., Cairo, 1970; repr. Qom, 1364 Š./1985.
M. Dānešvar, Dīdanīhā wa šanīdanīhā-ye Īrān, 2 vols., Tehran, 1327-28 Š./1948-49
B. A. Donaldson, The Wild Rue. A Study of Muhammadan Magic and Folklore in Iran, London, 1938.
ʿAbd-Allāh Ebn Abī Donyā, Ketāb al-ṣamt wa ādāb al-lesān, ed. N. ʿA. Ḵalaf, Beirut, 1406/1986.
Ebn Boḵtīšūʿ, Manāfeʿ al-ḥayawān, The Pierpont Morgan Library, New York, ms. no. M 500.
ʿAbd al-Raḥmān Ebn al-Jawzī, Aḵbār al-aḏkīāʾ, ed. M. M. Ḵūlī, Cairo, 1970.
ʿAbd-Allāh Ebn Qotayba, ʿOyūn al-aḵbār, 4 vols., Cairo, n.d. (1964).
Aḥmad Ebn Taymīya, al-Eḵtīārāt al-feqhīya men fatāwā Šayḵ-al-Eslām Ebn Taymīya, ed. M. Ḥ. Feqī, Beirut, 1980.
C. Elgood, “Bahaʾ-ul-Douleh and the Quintessence of Experience,” in E.A. Underwood, I, London, 1953, pp. 224-31.
M. B. Emmeneau, “The Faithful Dog as Security for a Debt. JAOS 61, 1941, pp. 1-17; 62, 1942, pp. 339-41.
Enjavī Šīrāzī, Gol beh ṣenowbar če kard? Tehran, 1352 Š./1973a; repr. Tehran, 1357 Š./1978.
Enjavī Šīrāzī, Tamtī¯l o maṯal, Tehran, 1352 Š./1973b; repr. Tehran, 2537/1357 Š./1978.
Enjavī Šīrāzī, Jašnhā o ādāb o moṭaqedāt-e zemestān, 2 vols., Tehran, 1352-54 Š./1973-75.
Enjavī Šīrāzī, ʿArūsak-e sang-e ṣabūr, Tehran, 1355 Š./1976.
Enjavī Šīrāzī, Mardom o Šāh-nāma, Tehran, 1354 Š./1975.
Enjavī Šīrāzī, Mardom o qahra-mānān-e Šāh-nāma, Tehran 1357 Š./1978; repr. 1366 Š./1987
Evans, The Criminal Prosecution and Capital Punishment of Animals, London, 1906.
Faqīhī, Šāhanšāhī-e ʿAżod-al-Dawla, Tehran, n.d. (1968).
Faqīrī, “Moʿtaqadāt-e mardom-e Šīrāz,” Honar o mardom, 123, 1351 Š./1972, pp. 67-72.
R. and A. Fiennes, The Natural History of the Dog, London, 1968.
Forbes, “The Madstone,” in W. H. Hand, ed., American Folk Medicine. 1976, pp. 11-21.
Fozūnī Estarābādī, Boḥayra, Tehran, 1328/1910.
Frazer, Folk-Lore in the Old Testament, 3 vols., London, 1919.
Moḥammad Ḡazālī, Kīmīā-ye saʿādat, ed. Ḥ. Ḵadīv Jam, 2 vols., Tehran, 1361 Š./1982.
Ginzberg, The Legends of the Jews, 7 vols., Philadelphia, 1967-69.
Goldziher, “Islamisme et parsisme,” RHR 43, 1901, pp. 1-29.
Gutman, Through Indian Eyes, New York, 1982.
Ḥāʾerī, Ketāb moqtabes al-aṯar, 30 vols., Tehran, 1350 Š. /1971.
Moḥammad Ḥakīm Termeḏī, al-Amṯāl men al-ketāb wa al-sonna, ed. ʿA.M. Bajāwī, Cairo, n.d. (1975).
R. L. Hall and H. S. Sharp, eds., Wolf and Man. Evolution in Parallel, New York, 1978.
Moḥammad b. Ayyūb Ḥāseb Ṭabarī, Toḥfat al-ḡārāʾeb, ed. J. Matīnī, Tehran, 1371 Š./1992.
Ṣ. Hedāyat, Neyrangestān, Tehran, 1342 Š./1963.
Ebrāhīm b.ʿAlī Ḥoṣrī Qayrawānī, Jamʿ al-jawāher fi’l-molaḥ wa’l-nawāder, ed. ʿA.M. Bajāwī, Cairo, 1353/1934; repr. Beirut, 1407/1987.
D. B. Hull, Hounds and Hunting in Ancient Greece, Chicago, 1964.
Īrānšāh b. Abi’l-Ḵayr, Bahman-nāma, ed. R. ʿAfīfī, Tehran, 1370 Š./1991.
ʿAmr b. Baḥr Jāḥeẓ, al-Ḥayawān, ed. ʿA. M. Hārūn, 2nd ed., 8 vols., Cairo, 1387/1968.
Neʿmat-Allāh Jazāʾerī, al-Nūr al-mobīn fī Qeṣaṣ al-anbīāʾ wa’l-morsalīn, 2nd ed., Beirut, 1398/1978.
Esmāʿīl b. Ḥosayn Jorjānī, Ḏaḵīra-ye ḵᵛārazmšāhī, ed.ʿA.-A. Saʿīdī Sīrjānī, Tehran, 2535/1355 Š./1976. Ḵᵛāb-goḏārī, ed. Ī. Afšār, Tehran, 1346 Š./1967.
M. Kalāntarī “Īl-e Mīlān,” Honar o mardom 43, 1345 Š./1966, 
A. Karīmī, “Kohnak,” Honar o mardom 85, 1348 Š./1969, .
M. Katīrāʾī, Az ḵešt tā ḵešt, Tehran, 1348 Š./1969.
Abū Jaʿfar Moḥammad Kolaynī, Ketāb al-kāfī, ed. ʿA.A. Ḡaffārī, 8 vols., Tehran, 1367 Š./1988.
W. La Barre, The Human Animal, Chicago, 1954.
M. Leach, God Had a Dog. Folklore of the Dog, New Brunswick, N.J., 1961.
C. Lévi-Strauss, Le cru et le cuit, Paris, 1964; tr. J. and D. Weightman as The Raw and the Cooked, New York, 1969; repr. Chicago, 1983.
R. H. Meadow, The Neolithic Settlement,” in M.M. Voigt, ed., Hajji Firuz Tepe, Iran. 50, Philadelphia, 1983, pp. 369-422.
Abu’l-Fażl Rašīd-al-Dīn Meybodī, Kašf al-asrār wa ʿoddat al-abrār, ed. ʿA.-A. Ḥekmat, 10 vols., Tehran, 1357 Š./1978.
Moḥam-mad b. Manṣūr Mobārakšāh (Faḵr-e Modabber), Ādāb al-ḥarb wa’l-šajāʿa, 
Ḥamd-Allāh Mostawfī, Tārīḵ-e gozīda, ed. ʿA.-Ḥ Navāʾī, Tehran, 1363 Š./1984.
Neẓām-al-Molk, Sīāsat-nāma, ed. M. Qazvīnī and M. Modarresī, Tehran, 2537=1357 Š./1978.
Neẓāmī Ganjavī, Leylī o Majnūn, ed. Ḥ. Pežmān Baḵtīārī, Tehran, 1347 Š./1968.
J. Nurbakhsh, Dogs. From the Sufi Point of View, London, 1989.
J. Olsen, Origins of the Domestic Dog. The Fossil Record, Tucson, Ariz., 1985.
M. Penzer, The Ocean of Story, 10 vols., London, 1925; repr. Bombay, 1968.
ʿAbbās b. Moḥammad-Reżā Qomī, Safīnat al-beḥār wa madīnat al-ḥekam wa’l-āthār, 2 vols., Beirut, 1355/1936; repr. Beirut, 1405/1985.
ʿAlî b. Ebrāhīm Qomī, Tafsīr Qomī, 2 vols., ed. Ṭ. Jazāʾerī, Najaf, 1386/1967.
Moḥammad b. Aḥmad Qorṭobī, al-Jāmeʿ le-aḥkām al-Qorʾān, 20 vols., Cairo, 1387/1967.
S. Radbill, “The Role of the Animals in Infant Feeding,” in W. D. Hand, ed., American Folk Medicine. A Symposium, Berkeley and Los Angeles, 1976, pp. 21-31.
Abu’l-Qāsem Ḥosayn Rāḡeb Eṣfahānī, Moḥāżarāt al-odabāʾ wa moḥāwarāt al-šoʿarāʾ wa’l-bolāḡāʾ, 4 vols. in 2, Beirut, 1961.
Abu’l-Fotūḥ Rāzī, Rawż al-jenān wa rawḥ al-janānfī tafsīr al-Qorʾān IX-XVII, ed. M.-M. Nāṣeḥ and J. Yāḥaqqī, Mašhad, 1367 Š./1988.
H. Rudkin, “The Black Dog,” Folklore (London) 49, 1938, pp. 111-31.
M. Ṣadīq, “Gūšahā-ī az zendagī-e mardom-e dehkada-ye samīya,” Honar o mardom 158, 1354 Š./1975, pp. 70-76.
Ḏ. Ṣafā, “Do šāʿer-e gom-nām,” MDAT 2/3, 1334 Š./1955, pp. 1-7.
Šakūrzāda, ʿAqāyed o rosūm-e mardom-e Ḵorāsān, 2nd ed., Tehran, 1362 Š./1983.
E. Selous, “The Hair of the Dog That Bit Him,” Folklore (London) 23, 1912, pp. 229-30.
ʿAlī b. Sahl Rabban Ṭabarī, Ferdaws al-ḥekma, ed. M. L. Siddiqi, Berlin, 1928.
Ṭāhbāz, Yūš, Tehran, 1342 Š./1963.
R. Tawakkolī, Jōḡrāfīā wa tārīḵ-e bāna-ye Kordestān, 2nd ed., Tehran, 1362 Š./1983.
Abū Ḥayyān Tawḥīdī, Ketāb al-emtāʿ wa’l-moʾānasa, ed. A. Amīn and A. Zayn, 3 vols., Beirut, 1973.
Thompson, Motif-Index of Folk-Literature, rev. ed., 6 vols., Bloomington, Ind., 1955.
Moḥammad-Moʾmen Tonokābonī (Ḥakīm Moʾmen), Toḥfa-ye Ḥakīm Moʾmen Tehran, 1277/1860; repr. 1338 Š./1959.
Moḥammad b. Ḥosayn Ṭūsī, al-Mabsūṭ fi’l-feqh al-emāmīya, 8 vols., ed. M.-B. Behbūdī, Tehran, 1351 Š./1972.
Moḥammad b. Maḥmūd Ṭūsī, ʿAjāyeb al-maḵlūqāt, ed. M. Sotūda, Tehran, 1345 Š./1966.
B. A. Woods, The Devil in Dog Form. A Partial Type-Index of Devil Legends, Berkeley and Los Angeles, 1959.
Maḥmūd b. ʿOmar Zamaḵšarī, Rabīʿ al-abrār wa noṣūṣ al-aḵbār, ed. S. Noʿaymī, 4 vols., Baghdad, 1976-82.
F. E. Zeuner, A History of Domesticated Animals, New York, 1963.
M. Boyce, Zoroastrianism. Its Antiquity and Constant Vigour, Columbia Iranian Series 7, Costa Mesa, Calif., 1992.
W. Jackson, Persia Past and Present, New York, 1909; repr. New York, 1975.
B. Keith, The Religion and Philosophy of the Veda and Upanishads, 2 vols., Harvard Oriental Series 31-32, Cambridge, Mass., 1925; repr. Delhi, 1970.
J. Modi, The Religious Ceremonies and Customs of the Parsees, Bombay, 1937; repr. New York, 1986.
Pahlavi Vendidād, tr. B. T. Anklesaria, Bombay, 1949.
A. Donaldson, The Wild Rue. A Study of Muhammadan Magic and Folklore in Iran, New York, 1938; repr. New York, 1973.
Dj. Nurbakhsh, Dogs from a Sufi Point of View, London, 1989.
Saʿdī, Būstān, ed. Ḡ.-Ḥ. Yūsofī, Tehran, 1363 Š./1985.

২টি মন্তব্য:

  1. উন্নতমানের একটি ওয়েব টেম্পল ও ডোমেইন দিয়ে এই ব্লগটিকে আরো উন্নত করা যায়। চাইলে হেল্প করব

    উত্তরমুছুন
  2. ফেসবুকে আসুন, আলাপ করব।

    উত্তরমুছুন