pytheya.blogspot.com Webutation

৩০ মে, ২০১৩

Mi’raj: গৌরবপূর্ণ দৃশ্যাবলীতে পরিপূর্ণ এবং গভীর তাৎপর্যবহ।

মেরাজের মাধ্যমেই মুহম্মদ (Muhammad) মক্কা থেকে জেরুজালেমে নীত হয়েছিলেন এবং এই মেরাজের মধ্যেই তিনি যথার্থই তার প্রভুর অনেকগুলি শ্রেষ্ঠ নিদর্শণ দেখতে পেয়েছিলেন। কোরআনে বলা হয়েছে- ‘তিনিই পবিত্র মহানসত্ত্বা, যিনি তারই এক বান্দাকে একরাত্রে কা’বাগৃহ থেকে বায়তুল মুকাদ্দস পর্যন্ত নিয়ে গেলেন, ‘যার চারিদিক আমি বরকত মহিমায় ঘিরে রেখেছি যেন আমার কতকগুলো আয়াত আমিই তাকে দেখাতে পারি।’একথা সত্য সুনিশ্চিত যে, একমাত্র তিনিই সব শোনেন, দেখেন।-(১৭:১) ...আমি তোমাকে বলেছিলাম, ‘নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মানুষ জাতিকে ঘিরে আছেন। আমিই মেরাজ নিয়মিত করেছিলাম আমিই তা তোমাকে দেখিয়েছিলাম।’-(১৭:৬০) - এই মেরাজ (Mi‘rāj) গৌরবপূর্ণ দৃশ্যাবলীতে পরিপূর্ণ এবং গভীর তাৎপর্যবহ ।

বোরাক।
মেরাজের সঠিক তারিখ জানা যায় না, তবে অনেকের মতে এটি ছিল নব্যূয়তের একাদশ বর্ষের ২৭শে রজব। ফেরেস্তা জিব্রাইল ঐদিন ভোর রাতে বোরাক (al-Buraq) সঙ্গে নিয়ে কা’বা গৃহের উত্তর পার্শ্বে নামে। এরপর সে বোরাকটিকে সেখানে রেখে মুহম্মদের শয়ন কক্ষে উপস্থিত হয়। এদিন মুহম্মদ তার ফুফু উম্মে হানীর গৃহে রাত্রিযাপন করছিলেন।

জিব্রাইল তাকে নিদ্রা থেকে জাগ্রত করে এবং মেরাজের সুসংবাদ দেয়। মুহম্মদ এই সংবাদের পর মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে কা’বাগৃহে আসেন। তারপর ওযু শেষে দু’রাকাত নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে জিব্রাইল তাকে মেরাজের জন্যে বিশেষভাবে প্রস্তুত করে। 

কা’বার আঙ্গিনায় বোরাকটিকে দাঁড়িয়ে। এটি ছিল গাধা থেকে বড় এবং খচ্চর থেকে ছোট একটি সুন্দর অদ্ভূত প্রাণী। এর সর্বাঙ্গ বেহেস্তী অলঙ্কারে সুসজ্জিত। তার কপালে ‘লা ইলাহা ইল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ’ এবং ডানায় ‘আল্লাহু আকবর’ লেখা।

নামাজ আদায় করলেন।
জিব্রাইল বোরাকের লাগাম ধরে মুহম্মদের সম্মুখে এনে বলল, ‘হে মুহম্মদ! এই বোরাককে তুমি তোমার বাহন হিসেবে গ্রহণ কর।’
তখন তিনি বোরাকে আসন গ্রহণের জন্যে এগিয়ে গেলেন। এসময় জিব্রাইল বোরাকের গর্দানে হাত রেখে বলল, ‘হে বোরাক! এমন ব্যক্তি আজ তোমার সওয়ার হচ্ছেন যিনি মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ, শেষ জমানার নবী।’ 

বোরাক ঘাড় নীচু করে দিল। মুহম্মদ তার উপর উপবিষ্ট হলেন। জিব্রাইল বলল, ‘আমরা প্রথমে জেরুজালেমের মসজিদে যাব, সেখান থেকে উর্দ্ধজগতে।’
একথা শুনে মুহম্মদের চোখের কোণে অশ্রু দেখা দিল। জিব্রাইল তা লক্ষ্য করে বলল, ‘এখন তো তোমার খুশীর সময়, তুমি মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করতে যাচ্ছ।’

তিনি বললেন, ‘হে জিব্রাইল! আমি তো বেহেস্তী বোরাকে আরোহণ করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে যাচ্ছি; অথচ আমার উম্মতরা কেয়ামতের ময়দানে পায়ে হেঁটে আল্লাহর সম্মুখে উপস্থিত হবে।’

জিব্রাইল বলল, ‘তুমি খুশী হও এ কথা জেনে যে, কেয়ামতের ময়দানে তোমার পরহেজগার উম্মতগণ এ ধরণের বাহনে করে তাদের প্রভুর সম্মুখে উপস্থিত হবে। আর তারা তো তাদের পূণ্যের ফল বর্ধিত আকারেই পাবে।’

জিব্রাইল তাকে মেরাজের জন্যে বিশেষভাবে প্রস্তুত করল। 
বোরাক গতিশীল হল। এসময় মুহম্মদ সম্মুখে বিশাল এক মাঠ দেখতে পেলেন যেখানে অনেক লোক এক অদ্ভুত ক্ষেত-খামারের কাজে ব্যস্ত। একদিকে ক্ষেতের জমিন প্রস্তুত করা হচ্ছে অন্যদিকে বীজ বপন করা হচ্ছে। আর বীজ বপনের সাথে সাথেই তা শস্য-শ্যমলা হয়ে ক্ষেত ভরে যাচ্ছে। এরপর তা কর্তন করা হচ্ছে। তারপর ফসলের বিরাট স্তুপে পরিণত হচ্ছে। তিনি আশ্চর্য হয়ে বললেন, ‘হে জিব্রাইল! এ তো এক অদ্ভূত ব্যাপার! এই লোকগুলো কারা, আর এটা কিসের ক্ষেত?’ 

জিব্রাইল বলল, ‘এই যে লোকগুলো দেখছ এরা সেই সম্প্রদায়ের রূহ, যারা আল্লাহর রাস্তায় প্রশস্ত মনে দুনিয়াতে দান-খয়রাত করবে, তাদের নেক আমল এবং সওয়াবের একটা উদাহরণ এটা। 
--হে রসুলুল্লাহ! লোকদের দান-ছদকা বীজ আকারে আখেরাতের জমিনে বপন করা হচ্ছে আর তা মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হবার সাথে সাথে তাঁর রহমতে সিক্ত হয়ে বহুগুনে বর্ধিত হয়ে যাচ্ছে।’ 

মেরাজ যাত্রা।
বোরাক উড়ে চলেছে। একসময় তারা এমন একটি স্থানের উপর দিয়ে যাচ্ছিলেন যার চারিদিকে খেজুর বাগান। জিব্রাইল বলল, ‘হে রসূলুল্লাহ! এই স্থানটি হল ইয়াসরিবের পবিত্র ভুমি। এখানে তুমি হিজরত করবে এবং কেয়ামত পর্যন্ত অবস্থান করবে।’

হঠাৎ একসময় মন মাতান সুগন্ধি ভেসে আসতে লাগল। মুহম্মদ জিব্রাইলকে বললেন, ‘এ সুগন্ধি কোথা থেকে আসছে?’
সে বলল, ‘এই স্থানে আল্লাহর প্রিয় এক বান্দীর কবর রয়েছে। এই সুগন্ধি সেখান থেকেই আসছে। মিসরের এক ফেরাউন এই আল্লাহ বিশ্বাসী বান্দী ও তার সন্তানদের পুড়িয়ে হত্যা করেছিল।
--তুমি যে সুগন্ধি পাচ্ছ তা বেহেস্তী সুগন্ধি। এটা যদিও মিসরের ভুমি, প্রকৃতপক্ষে এটা জান্নাতুল ফেরদৌসের একটি অংশ।’ 

মেরাজ রজনীতে মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসের পথে যাত্রাকালে জিব্রাইলের নির্দেশে মুহম্মদ বেশ কয়েকটি স্থানে নামাজ আদায় করেছিলেন। অতঃপর একস্থানে নামাজ আদায় শেষে জিব্রাইল বলল, ‘হে রসূল আল্লাহ! তুমি যে স্থানে এখন নামাজ আদায় করলে, এই স্থানটি হল শোয়েবের আবাস ভুমি। আর এর আগে যে পর্বতটিতে তুমি নামাজ আদায় করেছ, সেটি হল তূরপর্বত- যেখানে মূসা আল্লাহর সাথে কথা বলেছিল। আর যে খেজুর গাছের কাছে নামাজ আদায় করেছিলে- ঐ স্থানটিতে ঈসা জন্মলাভ করেছিল।’

কয়েকটি স্থানে নামাজ আদায়।
বোরাক এগিয়ে চলেছে। হঠাৎ মুহম্মদের সম্মুখে এক অপরূপ সুন্দরী মহিলা সুসজ্জিত অবস্থায় হাজির হল। সে চিৎকার করে বলল, ‘একটু থামুন, অনুগ্রহ করে আমার কথা শ্রবণ করুন।’

কিন্তু তিনি তাকে উপেক্ষা করলেন। জিব্রাইল বলল, ‘তুমি যদি এই মহিলার দিকে মনোযোগ দিতে ও তার কথা শ্রবণ করতে তাহলে তোমার সকল উম্মত দুনিয়াদার হয়ে যেত। তারা দুনিয়ায় অপবিত্র কাজের মধ্যে লিপ্ত হত ও আখেরাতের সকল নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হত।’ 

এমনি সময় একবৃদ্ধ ভয়ানক কুৎসিতরূপে সামনে এল। জিব্রাইল বলল, ‘এই বৃদ্ধের রূপই হল দুনিয়ার আসল রূপ। যে তোমাকে ধোঁকা দেবার জন্যে প্রথমে সুন্দরী রমনীর বেশে হাজির হয়েছিল। যারা দুনিয়াদার হবে তাদের পরিণাম হবে এই বৃদ্ধের মত ভীতিপূর্ণ ও ভয়ানক।’

ইসরা ও মেরাজ।
বোরাক চলেছে হঠাৎ মুহম্মদের বামদিক থেকে একবৃদ্ধ ক্ষীণকন্ঠে বলল, ‘হে মুহম্মদ! একটু অপেক্ষা করুন, আমার কথা শ্রবণ করুন।’ 
কিন্তু তিনি তার কথা শোনার কোন আগ্রহ দেখালেন না। এরপর তার ডানদিক থেকে এক দুর্বল বৃদ্ধ তাকে পূর্বের ন্যায় একই কথা বলল। কিন্তু তিনি এবারও এই বৃদ্ধকে উপেক্ষা করলেন।
জিব্রাইল বলল, ‘যে বৃদ্ধ তোমার বামদিক থেকে ডাক দিয়েছিল, সে ছিল মুসার অনুসারী বলে দাবীদার ইহুদিদের রূহ। আর যে বৃদ্ধ তোমার ডানদিক থেকে ডাক দিয়েছিল, সে ছিল খ্রীষ্টানদের রূহ। যদি তুমি তাদের একজন অথবা উভয়ের দিকে মনোযোগ দিতে তবে তোমার অধিকাংশ উম্মত ইহুদি বা খৃষ্টান হয়ে যেত। যাদের স্বরূপ হবে পরকালে এই বৃদ্ধদের মত। মহান আল্লাহর অশেষ প্রশংসা, তোমার উম্মতের কেউই তোমার পরে পথভ্রষ্ট হবে না।’ 

একসময় মুহম্মদ দেখতে পেলেন এক হিংস্র ব্যক্তি তার যাত্রাপথে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নিক্ষেপ করতে করতে অগ্রসর হচ্ছে। এসময় তিনি ‘আউযুবিল্লাহে মিনাশ শয়তানের রাজীম’ পাঠ করে ঐ ব্যক্তির দিকে ফুঁক দিলেন। অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বন্ধ হয়ে গেল এবং ঐ ব্যক্তিটিও সাথে সাথেই অদৃশ্য হয়ে গেল। জিব্রাইল তখন বলল, ‘এ হল অভিশপ্ত শয়তান যে তোমার মনোযোগ নষ্ট করতে চেয়েছিল।’

এবার সম্মুখে মুহম্মদ একজন সুদর্শণ, সুসজ্জিত যুবককে দেখতে পেলেন যার শরীর থেকে এক মন মাতান সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ছে। যুবকটির প্রতি তার দৃষ্টি আকৃষ্ট হলে জিব্রাইল বলল, ‘এই সুদর্শণ যুবকটিই হল তোমার দ্বীনে মুহম্মদীর রূহানিয়াত যা তোমাকে দেখান হয়েছে এবং যার প্রতি তোমার হৃদয় আকৃষ্ট হয়েছে। এমনিভাবে তোমার উম্মতরাও দ্বীনে-মুহম্মদীর প্রতি আকৃষ্ট হবে ও তাকে ভালবাসবে।’

সম্মুখে তিনটি পেয়ালা উপস্থিত করা হল। 
বোরাক চলেছে। একসময় মুহম্মদের সম্মুখে কয়েকজন ফেরেস্তা সবুজ, হলুদ, কাল এবং সাদা -এই চার রঙের পোশাক হাজির করল। জিব্রাইল বলল, ‘তুমি এর মধ্যে থেকে একটি পোশাক বেঁছে নাও।’

তিনি বললেন, ‘হে জিব্রাইল, সাদাটিই উত্তম, কি বল?’
জিব্রাইল বলল, ‘তুমি উত্তমটিই পছন্দ করেছ। এটিই ইসলামী লেবাস যা আল্লাহ পছন্দ করেন। হলুদ রঙের লেবাস- পথভ্রষ্ট আহলে কিতাবীদের, কাল- দোযখীদের ও সবুজ লেবাস- বেহেস্তবাসীদের।’

এ সময় মুহম্মদের সম্মুখে তিনটি পেয়ালা উপস্থিত করা হল। যার একটিতে পানি, একটিতে দুধ ও অন্যটি শরাবে পূর্ণ ছিল। জিব্রাইল বলল, ‘হে মুহম্মদ, তোমার পছন্দনীয়টি পান কর।’

মুহম্মদ দুধের পেয়ালাটি নিলেন এবং পান করলেন। জিব্রাইল বলল, ‘তুমি পানি পান করলে তা তোমার উম্মতের জন্যে গজবের ন্যায় হত, আর শরাব পান করলে তোমার উম্মতরা শরাবখোর হয়ে পড়ত। কিন্তু তুমি উত্তমটি-সকল নিয়ামতের মূল, দুধ পছন্দ এবং পান করেছ।

--হে রসূলুল্লাহ! উক্ত পেয়ালা হতে তুমি কিছু দুধ পান করেছ ও বাকীটা রেখে দিয়েছ। যদি আজ তুমি উক্ত পেয়ালার সবটুকু দুধই পান করতে, তবে তোমার উম্মতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হত, কেউই দোযখে যেত না।’ 

আমি বাকীটুকু পান করে ফেলি।
এ কথা শুনে মুহম্মদ বললেন, ‘আফসোস! হে জিব্রাইল! পাত্রটি পুনরায় নাও, আমি বাকীটুকু পান করে ফেলি।’
জিব্রাইল বলল, ‘কলম যা লিখেছে তাই-ই হয়েছে। তবে জেনে রাখ তোমার অগনিত উম্মত বেহেস্তবাসী হবে। আর যারা নাফরমান তাদের কথা আলাদা। যাদের জন্যে শাস্তি নির্ধারিত হয়েছে তুমি কি তাদেরকে দোযখের আগুন থেকে বাঁচাতে পারবে?’ 
       
একসময় বোরাক নবী শলোমন নির্মিত মসজিদুল আকসার কাছে পৌঁছিল। মুহম্মদ বোরাক থেকে অবতরণ করলেন। এসময় জিব্রাইল বোরাকটিকে মসজিদের একটি পাথরের সঙ্গে বেঁধে রাখল। 

মসজিদুল আকসা।
মুহম্মদ এই মসজিদে দু’রাকাত নামাজ আদায় করলেন। অনেকের মতে এই নামাজে মুহম্মদের ঈমামতে সকল নবী অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এটি সত্য হলে নবীগণ এখানেই মুহম্মদের সাক্ষাৎলাভে ধণ্য হতেন, বিভিন্ন আসমানে তাদের সঙ্গে পুনরায় সৌজন্য বিনিময়ের প্রয়োজন হত না। তবে মেরাজ থেকে ফেরার পর নামাজটি হলে সেটার কথা আলাদা।

যাহোক, নামাজ শেষে মসজিদের বাইরে এসে মুহম্মদ একটি নূরের সোপান দেখতে পেলেন, যা বেহেস্তী অলংকারে সজ্জ্বিত ছিল- যার উভয় বাহু সবুজ এবং নীচের অংশ বায়তুল মাকদাস পাথরের সাথে আর উপরের দিকটা আসমানের সাথে লাগান।

তিনি সোপান বেয়ে উঠতে লাগলেন। প্রত্যেকটি সোপানে বিভিন্ন রঙের পোশাকে বিভিন্ন ধরনের বহু ফেরেস্তা দেখলেন। তারা খুব মনোযোগ সহকারে তাসবীহ পাঠ করছে।


Dome of the Ascension.
এভাবে ধাপের পর ধাপ অতিক্রমের একপর্যায়ে তিনি সম্মুখে দেখতে পেলেন এক বেহেস্তী অলঙ্কারে সজ্জিত সিংহাসন। তিনি মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন হঠাৎ সেখান থেকে আওয়াজ ভেসে এল, ‘হে রসূলুল্লাহ! তুমি তোমার উপবেশন দ্বারা এ আসনকে ইজ্জতদার ও সম্মানিত কর।’  
এতে তিনি এগিয়ে গিয়ে সিংহাসনে উপবেশন করা মাত্র তা তাকে নিয়ে উড়ে চলল।

অতিঅল্প সময়ে এই সিংহাসন প্রথম আসমানে মুহম্মদের জন্যে নির্ধারিত দ্বারের সম্মুখে থামল। জিব্রাইলের নির্দেশে দ্বাররক্ষী ফেরেস্তা ঈসমাইল দ্বার খুলে দিল। মুহম্মদ ১ম আসমানে প্রবেশ করলেন। ফেরেস্তা ঈসমাইলের অধীনে এমন সত্তুর হাজার ফেরেস্তা রয়েছেন যাদের প্রত্যেকের অধীনে রয়েছেন সত্তুর হাজার করে ফেরেস্তা। তাকে একনজর দেখার জন্যে মুহূর্তের মধ্যে তারা এসে হাজির হল।

এই ১ম আসমানে মুহম্মদ একস্থানে এক সুদর্শণ ব্যক্তিকে এক সিংহাসনে উপবিষ্ট দেখতে পেলেন যার ডানদিকে যতদূর দৃষ্টি যায় ছোট ছোট সাদা মানুষের আকৃতি বিশিষ্ট নোসমা দেখা যাচ্ছে আর সেদিক থেকে এক প্রকার মন মাতান সুগন্ধী ভেসে আসছে। অনুরূপ তার বাম দিকেও যতদূর দৃষ্টি যায় ছোট ছোট কাল মানুষের আকৃতি বিশিষ্ট নোসমা দেখতে পেলেন আর সেদিক থেকে দুর্গন্ধ ভেসে আসছে। 

বায়তুল মাকদাস পাথর।
তিনি লক্ষ্য করলেন ঐ ব্যক্তি যখন ডানদিকে তার দৃষ্টি ফেলছেন তখন তিনি হাসছেন, আর যখন বামদিকে দৃষ্টি ফেলছেন তখন তিনি কাঁদছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে জিব্রাইল! এই ব্যক্তি কে? আর কেনইবা তিনি একদিক ফিরে হাসছেন আর একদিক ফিরে কাঁদছেন?’

জিব্রাইল বলল, ‘ইনি আদম যার ডানদিকে রয়েছে তারই আওলাদদের রূহ-যারা জান্নাতী, আর তাদেরকে যখন দেখছেন তখন খুশীতে হাসছেন আর তার বামদিকে রয়েছে তার আওলাদদের রূহ যারা দোযখী, আর তাদেরকে যখন দেখছেন তখন দুঃখে কাঁদছেন।’  

এরপর এই আসমানে মুহম্মদ এক অদ্ভুত ফেরেস্তা দেখতে পেলেন যার অর্ধেক আগুনের ও বাকী অর্ধেক বরফের। জিব্রাইল বলল, ‘এই ফেরেস্তার নাম হল রা’আদ যে মহান আল্লাহর নির্দেশে মেঘমালা পরিচালনা করে থাকে।’
  
প্রথম আসমানের পর অল্প সময়ের মধ্যে মুহম্মদ ২য় আসমানে তার জন্যে নির্ধারিত দ্বারের সম্মুখে এসে পৌঁছিলেন। জিব্রাইল নির্দেশ দিল, ‘হে ইস্রাফিল, দ্বার খুলে দাও। মুহম্মদ রসূল আল্লাহ উপস্থিত হয়েছেন।’

সঙ্গে সঙ্গে দ্বার খুলে গেল। অসংখ্য ফেরেস্তা তাদেরকে অভিবাদন জানাল। এই আসমানে মুহম্মদ একস্থানে এক উচ্চাসনে উপবিষ্ট দু’জন নূরাণী ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন। জিব্রাইল জানাল, ‘এই দু’জন ব্যক্তির একজন হল ঈসা বা জেসাস ও অপর জন হল জাকারিয়া পুত্র জন বা ইয়াহিয়া।’ 

জেসাস ও ইয়াহিয়া।
এরপর এ আসমানে মুহম্মদ এক অদ্ভূত ফেরেস্তা দেখতে পান যার ৭০টি মাথা আর প্রত্যেক মাথায় ৭০টি মুখ আর প্রত্যেকটি মুখে ৭০টি জিহবা। সে প্রত্যেক জবানে পাঠ করছে, ‘সুবহানাল খালিকুল আযীম, সুবহানাল আযীমিল আ’যাম।’

জিব্রাইল বলল, ‘এই ফেরেস্তার নাম কাসেম। আল্লাহ তাকে তাঁর বান্দাদের কাছে রিজিক পৌঁছানোর কাজে নিয়োজিত রেখেছেন।’

মুহম্মদ এই আসমানেই ফেরেস্তাদের সারিবদ্ধভাবে রুকুর মধ্যে তাসবীহ পাঠরত দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি তখনি আল্লাহর কাছে তার উম্মতের জন্যে ইবাদতের মধ্যে এরূপ রুকুর জন্যে প্রার্থনা করেছিলেন। ফলে তা নামাজের মধ্যে ফরজ হয়েছিল।

এক অদ্ভূত ফেরেস্তা দেখতে পান যার ৭০টি মাথা।
২য় আসমানের পর মুহম্মদ ৩য় আসমানের নির্ধারিত দ্বারের সম্মুখে এলেন। আগের মতই জিব্রাইল দ্বার খোলার নির্দেশ দিল। দ্বাররক্ষী ফেরেস্তা খায়লোন দ্বার খুলে দিল। আর সঙ্গে সঙ্গে অসংখ্য ফেরেস্তা তাকে অভিবাদন জানাল। এই আসমানে তিনি একস্থানে সিংহাসনে উপবিষ্ট এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন যার সৌন্দর্যের চমক আসমানের কিনারায় গিয়ে পৌঁছিছে। জিব্রাইল জানাল, ‘ইনি ইউসূফ।’ 

এরপর যাত্রাপথে মুহম্মদ একস্থানে এক বিশাল সমুদ্র দেখতে পেলেন যার নাম-বাহরুন্নাকাম। নূহের সময়ে আল্লাহর নির্দেশে এর থেকেই সামান্য কিছু পানি পৃথিবীতে পতিত হয়ে মহাপ্লাবনের সৃষ্টি করেছিল। এই আসমানেই তিনি ফেরেস্তাদের সিজদারত অবস্থায় তাসবীহ পাঠ করতে দেখেছিলেন। আর তিনি আল্লাহর দরবারে ইবাদতের মধ্যে এরূপ সিজদার জন্যে প্রার্থনা করেছিলেন। তাই এটাও নামাজের মধ্যে ফরজ হয়েছিল। এরূপে নামাজের মধ্যে ক্বিয়াম, ক্বিরাত, রুকু ও সিজদা ফেরেস্তাদের আমল।

ইদ্রিস ও নূহের সঙ্গে সাক্ষাৎ।
অল্পসময়ে মুহম্মদ ৪র্থ আসমানের দ্বারে উপনীত হলেন। জিব্রাইলের নির্দেশে দ্বাররক্ষী ফেরেস্তা দ্বার খুলে দিল। এখানেও অসংখ্য ফেরেস্তা তাকে বরণ করে নিল। এই আসমানের একস্থানে তিনি এক নূরের গম্বুজের মধ্যে সিংহাসনে উপবিষ্ট এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন। জিব্রাইল বলল,‘ইনি ইদ্রিস, যিনি মহান আল্লাহর রহমতে জীবিত অবস্থায় এখানে এসেছিলেন।’

মুহম্মদ ইদ্রিসের সাথে সালাম বিনিময় করলেন। তারপর তাকে বললেন, ‘হে সম্মানিত! আল্লাহ আপনাকে অনেক উচ্চস্থান দিয়েছেন। বেহেস্তের নিয়ামতসমূহ উপভোগের সৌভাগ্য আপনার হয়েছে। হে নবী! বেহেস্তের এসব নিয়ামতসমূহের বর্ণনা আমাকে দিন যেন আমি আমার উম্মতদের কাছে তা সুসংবাদ স্বরূপ নিয়ে যেতে পারি।’

ইদ্রিস বললেন, ‘হে রসূলুল্লাহ! আমি তো এখনও বেহেস্তের কোন নিয়ামত উপভোগ করিনি। আর আমি এখন এমন একস্থানে রয়েছি যেখান থেকে বেহেস্ত অনেক দূর।’

এই আসমানে তিনি অতি দীর্ঘকায় ফেরেস্তাদের দেখলেন
৪র্থ আসমানের সফর শেষে মুহম্মদ যখন ৫ম আসমানের বিশেষ দ্বারের কাছে এলেন তখন তার সাথে উলুল আ’যম ও মুকাররাম ফেরেস্তাদের একটি দলও ছিল। জিব্রাইলের আদেশে দ্বাররক্ষী দ্বার খুললে তিনি ৫ম আসমানে প্রবেশ করলেন। এই আসমানে তিনি দেখলেন একদল ফেরেস্তা দাঁড়ান অবস্থায় স্বীয় পায়ের দিকে দৃষ্টি রেখে একাগ্রচিত্তে পাঠ করছেন- সুবহানাল কাযয়িল আকবর, সুবহানাল আদলিল্লাযি লা ইয়াজুর।’
মুহম্মদ এ দেখে আল্লাহর কাছে তার উম্মতের জন্যে ইবাদতের মধ্যে এরূপ কিয়ামের জন্যে প্রাথর্না করলেন। 

এরপর মুহম্মদ এই আসমানের অন্য একস্থানে এক ব্যক্তিকে উপবিষ্ট দেখলেন যিনি গভীর মনোযোগ সহকারে আল্লাহর জিকিরের মধ্যে লিপ্ত এবং তার চারিদিকে অসংখ্য ব্যক্তি তা শ্রবণে মশগুল রয়েছে। জিব্রাইল বলল, ‘ইনি মূসার ভ্রাতা- হারুণ।’ মুহম্মদ তার সাথে সালাম বিনিময় করলেন। এই আসমানে তিনি বাহরূস সা’আক নামের একটি আগুনের সমুদ্র্র দেখতে পেলেন। জিব্রাইল বলল, ‘এই সমুদ্রে সামুদ্রিক সাইক্লোনের দ্বারা পৃথিবীতে সাইক্লোন ও প্লাবনের সৃষ্টি করা হয়।’

৫ম আসমানের পর মুহম্মদ ৬ষ্ঠ আসমানের নির্ধারিত দ্বারের কাছে এলেন আর জিব্রাইলের নির্দেশে দ্বাররক্ষী ফেরেস্তা রোজাইল দ্বার খুললে তিনি সেখানে প্রবেশ করলেন। এই আসমানে তিনি অতি দীর্ঘকায় ফেরেস্তাদের দেখলেন যারা অতি উচ্চেঃস্বরে আল্লাহর জিকিরে মশগুল। জিব্রাইল বলল, ‘এই ফেরেস্তাদের নাম হল, কাবরুবিউন’ তারা এমন  ফেরেস্তা, আল্লাহ তাদেরকে যা আদেশ করেন- তারা এর বিপরীত কোন কিছুই জানে না।’

এই আসমানেরই একস্থানে তিনি এক ব্যক্তিকে অসংখ্য মাখলুক রূহানী বেষ্টিত অবস্থায় দেখতে পেলেন। জিব্রাইল বলল, ‘ইনি মূসা আর তার চারদিকে বেষ্টিত অবস্থায় রয়েছে তারই উম্মত।’

মুহম্মদ মূসার সাথে সালাম বিনিময় করলেন। আর তিনি এত অধিক সংখ্যক মূসার উম্মত দেখে তার উম্মতের সংখ্যা সম্পর্কে সন্ধিহান হয়ে পড়লেন। তখন আল্লাহর নির্দেশে জিব্রাইল তাকে এমন একস্থানে নিয়ে গেল যেখানে তিনি আসমানের কিনারা পর্যন্ত শুধু মানুষ আর মানুষ দেখতে পেলেন। তিনি জিব্রাইলকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এরা কোন জগতের মখলুকাত?’ 
জিব্রাইল বলল, ‘হে রসূলুল্লাহ! এরা সবাই তোমারই উম্মত। কেয়ামতের ময়দানে তোমার উম্মতের সংখ্যাই সবার চাইতে বেশী হবে।’

এরপর মুহম্মদ একসময় ৭ম আসমানের নির্ধারিত দ্বারের সম্মুখে এলেন। দ্বাররক্ষী ফেরেস্তা বোহাইল জিব্রাইলের নির্দেশে দ্বার খুলে দিল। তিনি সেখানে প্রবেশ করলেন। এই আসমানের ঔজ্জ্বল্য এত অধিক ছিল যে তিনি তার চোখের দৃষ্টি স্থির রাখতে পারছিলেন না। এখানকার ফেরেস্তারাও ছিল অন্যান্যদের তুলনায় আরও বেশী নূরাণী। তারা একাগ্রভাবে পাঠ করছে-‘সুবহানাল খালিকুন নূর।’ 

জিব্রাইল বলল, ‘ইনি ইব্রাহিম। 
এই আসমানের একস্থানে বায়তুল মামুর পাশে মুহম্মদ দেখতে পেলেন এক সুসজ্জিত সিংহাসনের উপর এক ব্যক্তি উপবিষ্ট রয়েছেন আর তার সম্মুখে অপর একটি কুরসিতে বসে রয়েছেন এক নূরাণী বৃদ্ধা আর তার চারিদিকে অসংখ্য ছোট ছোট শিশু খেলাধুলায় মত্ত রয়েছে। জিব্রাইল বলল, ‘ইনি ইব্রাহিম। আর তার সম্মুখে যে বৃদ্ধা উনি বিবি সারা, আর তাকে ঘিরে থাকা ছোট ছোট শিশুরা হল ঐ সকল শিশু যারা মাতৃক্রোড়ে মারা গিয়েছিল।’ 

ইব্রাহিমের সম্মুখে মুহম্মদ একদল লোককে দেখতে পেলেন যারা গৌর বর্ণের আর একদল লোককে দেখতে পেলেন যাদের মুখের অর্ধেক সাদা ও বাকী অর্ধেক কাল বর্ণের। আর পাশেই তিনটি নহর প্রবাহিত হচ্ছে। লোকগুলি তাকে দেখামাত্র নহরগুলিতে লাফিয়ে পড়ল আর তাদের চেহারাগুলি পরিবর্তিত হতে থাকল এবং ৩য় নহর থেকে উঠবার পর তাদের চেহারাগুলি সম্পূর্ণ উজ্জ্বল হয়ে গেল। 

জিব্রাইল বলল, ‘হে রসূলুল্লাহ! গৌরবর্ণের লোকগুলি তারাই যাদের ঈমান পরিপূর্ণ ছিল। আর আধা সাদা আধা কাল লোকগুলি তারা যারা নেক কাজ ও গুনাহের কাজ দুই-ই করেছে। আর এই নহর তিনটির একটি হল তওবার, একটি দানশীলতার ও অপরটি আল্লাহর রহমতের। এই নহরগুলির প্রত্যেকটিতে তোমার উম্মতদের অধিকার থাকবে যাতে স্নান করে তারা পরিচ্ছন্ন ও নূরাণী চেহারা বিশিষ্ট হবে।’

এরপর জিব্রাইল মুহম্মদকে নিয়ে যখন বায়তুল মামুর কাছে গেলেন, তখন সেখানে এক অতি নূরাণী উজ্জ্বলতা নিয়ে এক ফেরেস্তার আগমন হল। সে এসে এক বিশেষ স্থানে দন্ডায়মান হয়ে প্রার্থনায় সমবেত হতে আহবান করল। তার কন্ঠসূরে চারিদিক মোহিত হয়ে গেল। তখন নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে অসংখ্য ফেরেস্তায় বায়তুল মামুর আশপাশ ভর্তি হয়ে গেল। জিব্রাইল বলল, 'This is Al Bait-ul-Ma'mur where 70,000 angels perform prayers daily and when they leave they never return to it ie. always a fresh batch comes into it daily.'

যাইহোক, ফেরেস্তাগণ নামাজের জন্যে কাতার বন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। জিব্রাইল বলল, ‘হে রসুলুল্লাহ! মহান আল্লাহ তোমাকে আজকের এই নামাজের ঈমামতের সম্মান প্রদান করেছেন।’ 
মুহম্মদ সকল ফেরেস্তাদের নিয়ে দু’রাকাত নামাজ আদায় করলেন।

নামাজ শেষে ফেরেস্তারা মুহম্মদের সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হল। এসময় তাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘সকল নবীগণের সর্দার, ‘সকল মুত্ত্বাকিনদের ঈমাম’ ও ‘সকল জগতবাসীর জন্যে রহমত’ খেতাবে ভুষিত করা হল। পরে জিব্রাইল তাকে এক বিশেষ স্থানে নিয়ে গেল এবং বলল, ‘হে রসূলুল্লাহ! মহান আল্লাহ তোমার সন্তুষ্টির জন্যে সকল পয়গম্বরকে তাদের উম্মত সহকারে তোমার সম্মুখে উপস্থিত করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন।’

Lote-tree.

এরপর আল্লাহর নির্দেশে পয়গম্বররা তাদের উম্মতদের নিয়ে মিছিল সহকারে সম্মান প্রদর্শণ পূর্বক তার সম্মুখ দিয়ে যাওয়া শুরু করলেন। সর্বপ্রথমে ছিলেন আদম এবং পরে একে একে একলক্ষ চব্বিশ/চুয়াল্লিশ হাজার পয়গম্বর তাদের জুলুস প্রদর্শণ করলেন। এমন পয়গম্বর ছিলেন যাদের মাত্র দু‘একজন উম্মত ছিল। এমনকি এমনও পয়গম্বর ছিলেন যাদের কোন উম্মতই ছিল না। সর্বশেষ জুলুসটি ছিল বিশালাকার যাদের কোন ঈমাম ছিল না। জিব্রাইল বলল, ‘হে রসূলুল্লাহ! এই দলটি তোমারই উম্মতের।’ 

এরপর মুহম্মদের জন্যে একটি সবুজ রঙের নূরাণী বাহন এল। তিনি তাতে উপবেশন করলে তা তাকে নিয়ে ৭ম আসমান থেকে সিদরাতুল মুনতাহা (Sidrat-ul-Muntaha ie. the Lote-tree of the utmost boundry)-র দিকে উড়ে চলল। সিদরা অর্থ বরইকূল গাছ আর মুনতাহা অর্থ-শেষ সীমানা। এই স্থানটি জিব্রাইল এবং দুনিয়ার কাজে নিয়োজিত সকল মোকাররাবীন বান্দাদের উচ্চাসনের শেষ সীমানা। 

সিদরাতুল মুনতাহা ।
এই বরইকূল গাছের জড় ৬ষ্ঠ আসমানের উপর এবং তার শাখা-প্রশাখা ও ডালগুলো আরশে আযীম পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছিছে। এই গাছ সকল আসমান জমিনের উপর সম্পূর্ণরূপে ছেঁয়ে আছে আর তার প্রতিটি পাতায় স্বর্ণ বর্ণের ফড়িং এর ন্যায় ফেরেস্তারা জড় হয়ে ইবাদতে মশগুল রয়েছে। এখানেই জিব্রাইল আল্লাহর নির্দেশে তার নিজ সূরতে মুহম্মদের সম্মুখে উপস্থিত হল। তিনি দেখলেন তার দৈর্ঘ্য আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত বিস্তৃত। তার এক বাহু মাশরিকে আর একবাহু মাগরিবে। তার প্রতি বাহুতে পাঁচ’শ ডানা আর প্রতি ডানায় ‘আল্লাহু আকবর’ খঁচিত নিশান রয়েছে। তার গলায় রয়েছে লাল রঙের মালা আর মাথায় লেখা রয়েছে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ।

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- শপথ নিশাবসান ও প্রভাত আগমন কালের, নিশ্চয় কোরআন সম্মানিত রসূলের আনীত বাণী। যে শক্তিশালী, আরশের মালিকের কাছে মর্যাদাশালী, সবার মান্যবর, সেখানকার বিশ্বাসভাজন এবং তোমাদের সাথী পাগল নয়। সে সেই ফেরেস্তাকে প্রকাশ্য দিগন্তে দেখেছে। সে অদৃশ্য বিষয় বলতে কৃপণতা করে না। (৮১:১৭-২৪)

 জিব্রাইল
শপথ নক্ষত্রের, যখন তা অস্তমিত হয়, তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয় এবং সে মনগড়া কথাও বলে না। কোরআন তো ওহি, যা তার (মুহম্মদ) প্রতি প্রত্যাদেশ হয় তা শিক্ষা দান করে শক্তিশালী (জিব্রাইল)। সহজাত জিব্রাইল, সে নিজ আকৃতিতে স্থির হয়েছিল উর্দ্ধ দিগন্তে। অতঃপর সে তার নিকটবর্তী হল, অতি নিকটবর্তী। ফলে তাদের মধ্যে দু’ধনুকের ব্যবধান রইল। অথবা তা অপেক্ষাও নিকটতর হল। তখন আল্লাহ তার দাসের প্রতি যা প্রত্যাদেশ করার তা প্রত্যাদেশ করলেন, যা সে দেখেছে, তার অন্তকরণ তা অস্বীকার করেনি। সে যা দেখেছে তোমরা কি সে বিষয়ে বিতর্ক করবে? নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল প্রান্তবর্তী সিদরা বৃক্ষের কাছে, যার নিকটবর্তীতে জান্নাতুল মাওয়া অবস্থিত। যখন বৃক্ষটি, যার দ্বারা শোভিত হবার, তার দ্বারা মন্ডিত ছিল। তার দৃষ্টিবিভ্রম হয়নি, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যূতও হয়নি সে তো তার প্রতিপালকের মহান নিদর্শণাবলী দেখেছিল।’(৫৩:১-১৮)

'সিদরাতুল মুনতাহা' সম্পর্কে সুফী ব্যাখ্যা এমন- The Prophet and Gabriel traveled once more until they reached the absolute limit of the created intellect, named sidrat al-muntaha: "The Lote-Tree of the Farthest Boundary." There they saw nothing which the tongue could describe. The effect of the sight they beheld on the Prophet is a secret which took place in his heart. A sound came to them from above which dissipated some of the Prophet's astonishment. 

At that time he saw a large tree which does not resemble any of the trees of Paradise, a tree without description, covering all the Paradises, heavens, and universes. The trunk of the Tree was a huge angel named Samrafil. The Prophet could see nothing else besides it. It grew from an infinite, unimaginable, indescribable ocean of musk.


The tree had an infinite number of branches, created from a heavenly element that has no name in a created language. The distance between one branch and another was five hundred thousand light-years. On every branch there was an infinite number of leaves. If all the created universes were placed on a single one of these leaves they would disappear, like an atom disappears inside an ocean of water. 


On every leaf sat a huge angel in a multi-colored light. On his head was a crown of light and in his hand a staff of light. Written on their forehead was the inscription: "We are the inhabitants of the Lote-Tree." Their praise was: "Praise be to God Who has no end." Their names are the sarufiyyun or Seraphim, "The Secret Ones," because they are created from the absolute secret of their Lord.
Ygdrasil বা লোট ট্রি-যা সংযুক্ত করেছে স্বর্গ, নরক ও দুনিয়া।
অন্যদিকে- The Lote Tree is a mythical tree found in many religions and cultural traditions throughout history. We like to think of it as the tree of life.

Egyptians believed God sat on top of a Lote-Tree high above muddy water symbolizing mind over matter and the divine intellect. The ancient Egyptians also believed the sacred sycamore tree was the door between life and death, a link between both worlds. Muslims believe there is a Lote Tree in the seventh heaven, beyond which there is no passing. Ancient Arabs used to plant such trees to mark the ends of roads. 


The Celts also highly regarded trees and considered them to be bridges between the underworld, the middle world and the upper world. In this sense the tree lives in three worlds- its roots in the earth, the trunk on the ground and the branches and leaves in the air. In the Judeo-Christian tradition, the tree grows in the center of Eden. The tree is also a symbol of resurrection. The tree looses its leaves and "dies" in the winter to be reborn again in the spring. 


The tree plays a central role in the mystic study of the Torah and is also repeatedly mentioned in the Bible's book of revelation. In the Norse tradition, it is called Ygdrasil, an Ash tree that supports the world. In the book of Morman, it is a symbol of God's love. The tree was the center of the universe in ancient Mayan culture. Everyone, it seems, has their own tree. -(by PhatLady,  thelotetree.blogspot)


হঠাৎ সিদরাতুল মুনতাহার উপর আল্লাহর নূর পতিত হল। সবকিছুই কাঁপতে শুরু করল। এসময় অদ্ভুত এক নূরাণী ফেরেস্তার আগমন হল। সে মুহম্মদের সম্মুখে তার আরোহণের জন্যে এক সবুজ রঙের বেহেস্তী অলঙ্কারে সজ্জিত এক সিংহাসন উপস্থাপন করল। মুহম্মদ তাতে আরোহণ করলে জিব্রাইল তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বলল, ‘হে রসূলুল্লাহ! এই আমার পৌঁছার শেষ সীমানা, আর সম্মুখে যাবার কোন অধিকার আমার নেই। এই নূরাণী বাহন তোমাকে নিয়ে আরশে আযীম পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।’ 
বাহন মুহম্মদকে নিয়ে আরশে আযীমের দিকে এগিয়ে চলল।

মালায়ে আলার ১ম মঞ্জিলে পৌঁছে মুহম্মদ এক বিশাল সাদা মোরগ দেখতে পেলেন যার এক ডানা পূর্ব প্রান্ত ও অপর ডানা পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। তার মাথা উর্দ্ধদিকে আর পা নীচের দিকে ছড়িয়ে রয়েছে। সঙ্গী কারুবিউন ফেরেস্তা বলল, ‘এই পাখীরূপী ফেরেস্তাটির নাম ‘তাউসুল মালাইকাহ’। এর কাজ হল শেষ রাত্রে নামাজের সময় আওয়াজ দেয়া। 
দ্বিতীয় মঞ্জিল অতিক্রমের সময় মুহম্মদ একস্থানে দেখতে পেলেন এক বিশাল কুরসী বিছান যার উপর এক ফেরেস্তা চিন্তিত অবস্থায় উপবিষ্ট রয়েছে। যার দু’হাটুর মাঝে যেন সমগ্র দুনিয়াটা রয়েছে আর তার হাতে রয়েছে এক নূরাণী তখত। তার ডান হাতের দিকে রয়েছে এক বিরাট বৃক্ষ যার দিকে সে মাঝে মাঝে নজর তুলে দেখে পুনঃরায় ঐ তখত এর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করছে। সঙ্গী ফেরেস্তা বলল, ‘ইনি আজরাইল’। 

আজরাইলের হাতের সংখ্যা সকল রূহের গণনানুযায়ী। আল্লাহ তার সম্পর্কে জানিয়েছেন- ‘হে নবী! তুমি লোকদের বলে দাও যে, মালাকুল মউতকে তোমাদের প্রাণ সংহারের জন্যে নিযুক্ত করা হয়েছে, সে-ই তোমাদের রূহ কবজ করে থাকে। তারপর তোমাদের প্রভুর সম্মুখে ফিরে যেতে হবে।’

আজরাইল!
মুহম্মদ আজরাইলের সাথে সালাম বিনিময় শেষে প্রশ্ন করলেন, ‘হে আজরাইল! তোমাকে চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন?’ 
সে বলল, ‘হে রসূলুল্লাহ! মহান আল্লাহ আমাকে তাঁর মখলুকাতের রূহসমূহ কবজের কাজে নিয়োজিত করেছেন আর আমি আমার দায়িত্ব পালনে কসুর করছি কিনা ভেবেই আমি সদা চিন্তিত।’

তিনি পুনঃরায় প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি কি এস্থানে বসেই রূহ কবজ করে থাক না যথাস্থানে গিয়ে?’ 
সে বলল, ‘আমি আমার সহকর্মীদের দ্বারা রূহসমূহ কবজ করে থাকি। তারা রূহকে টেনে কন্ঠনালী পর্যন্ত নিয়ে আসে। তারপর আমি এখান থেকে হাত বাড়িয়ে তা গ্রহণ করে থাকি।’

এ কথা শুনে মুহম্মদ তাকে অনুরোধ করলেন, ‘হে আজরাইল! আমার উম্মতদের উপর যেন রহম করা হয়।’ 
সে বলল, ‘তোমার ঈমানদার উম্মতদের রূহ এমনভাবে কবজ করা হবে যেমনিভাবে দুগ্ধপোষ্য শিশু তার মায়ের কোলে দুধ পানরত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে।

--হে রসূলুল্লাহ! এই নূরাণী তখতটি যা তুমি আমার হাতে দেখতে পাচ্ছ, এতে সমস্ত মখলুকাতের নাম তাদের পিতার নামসহ লেখা রয়েছে যা আমি মনোযোগ সহকারে দেখছি। আর এই বৃক্ষটি যা আমার সম্মুখে দেখতে পাচ্ছ তাতে রয়েছে সমস্ত মখলুকাতের গণনানুসারে পাতাসমূহ। আর প্রতিটি পাতায় লেখা রয়েছে প্রতিটি জানদারের নাম তাদের পিতার নামসহ।
--যখন কোন প্রাণধারীর রিজিক শেষ হয়ে যায়, এই বৃক্ষের ঐ পাতা হলুদ বর্ণের ধারণ করে আর অল্পক্ষণেই পাতাটি শুকিয়ে ঝরে পড়ে। আর আমি তখন এই তখত থেকে তার নামটি মুছে ফেলি।

--যখন কোন পরহেজগার ব্যক্তির অন্তিম সময় ঘনিয়ে আসে, তখন আমি আমার অধীনস্ত ফেরেস্তাকে তার কাছে পাঠিয়ে দেই। সে বেহেস্তের সুবাসিত ফুল নিয়ে তার কাছে যায়। আর ঐ ফুলের সুবাসে ঐ বান্দা আভিভূত হয়ে পড়ে আর তখন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি তাকে সালাম পৌঁছাই। এরপর তার জান কবজ করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে উপস্থিত করে থাকি। আর ঐ বান্দার রূহ যখন আসমানে উত্থিত হয় তখন সমগ্র আসমান সুগন্ধে আমোদিত হয়। আর সেই রূহ আল্লাহর সম্মুখে আনিত হলে তিনিও তার প্রতি সন্তুষ্ট হন আর তাকে বলেন- ‘শোন হে পরিতৃপ্ত আত্মা! নিজ পালনকর্তার দিকে চল এবার। তুমি তার উপর সন্তুষ্ট, আর তিনিও তোমার উপর খুশী রয়েছেন। তাই তো তুমি এবারে আমার বান্দাদের দলে শামিল হও, আর আমার জান্নাতেই তুমি প্রবেশ কর।’(৮৯:২৭-৩০)
এরপর আল্লাহ বলেন, ‘আমার এই বান্দার আমলনামা ইল্লিয়্যীনে রাখ এবং তাকে ফেরৎ পাঠিয়ে দাও।’
তখন এ আত্মাকে আবার কবরে ফিরিয়ে আনা হয়। কবরে হিসাব গ্রহণকারী ফেরেস্তা এসে তাকে উপবেশন করায় এবং প্রশ্ন করে, ‘তোমার পালনকর্তা কে?’
সে বলে, ‘মহান আল্লাহ।’
প্রশ্ন হয়, ‘তোমার ধর্ম কি?’
সে বলে, ‘ইসলাম।’
এ ধরণের প্রশ্ন-উত্তরপর্ব শেষ হলে গায়েবী আওয়াজ হয়, আমার এই বান্দা সত্যবাদী। তার জন্যে জান্নাতের পোষাক ও শয্যা দাও এবং জান্নাতের দিকে তার দরজা খুলে দাও।’

আর যখন কোন পাপীর প্রাণ হরণের সময় হয়, তখন ভয়ঙ্কর মূর্ত্তিতে ফেরেস্তা আগমন করে। কোরআন জানায়- যখন জালেমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকে তখন ফেরেস্তারা স্বীয় হস্ত প্রসারিত করে বলে, ‘বের কর স্বীয় আত্মা! অদ্য তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি প্রদান করা হবে। কারণ, তোমরা আল্লাহর উপর অসত্য বলতে এবং তাঁর আয়াতসমূহ থেকে অহঙ্কার করতে।(৬:৯৩)

আরও আছে- যখন তাদের কাছে আমার প্রেরিত ফেরেস্তারা প্রাণ নেবার জন্যে পৌঁছে, তখন তারা বলে, ‘তারা কোথায় গেল, যাদেরকে তোমরা আল্লাহ ব্যতিত আহবান করতে।’
তারা উত্তর দেবে, ‘আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে।’
তারা নিজেদের সম্পর্কে স্বীকার করবে যে, তারা অবশ্যই অবিশ্বাসী ছিল।(৭:৩৭)

আরও আছে-যারা নিজের অনিষ্ট করে, ফেরেস্তারা তাদের প্রাণ হরণ করে বলে, ‘তোমরা কি অবস্থায় ছিলে?’
তারা বলে, ‘এই ভূখন্ডে আমরা অসহায় ছিলাম।’
ফেরেস্তারা বলে, ‘আল্লাহর পৃথিবী কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা দেশ ত্যাগ করে সেখানে চলে যেতে।’(৪:৯৭) 
যখন এই পাপীর আত্মাটি নিয়ে ফেরেস্তা রওনা হবে, তখন পথিমধ্যে যেসব ফেরেস্তার সাথে দেখা হবে, তারা জিজ্ঞেস করবে, ‘এই দুরাত্মাটি কার?’
আত্মা হরণকারী ফেরেস্তা ঐ ব্যক্তি দুনিয়াতে যে নামে পরিচিত ছিল সেই নাম বলবে। তারপর যখন তা আল্লাহর সম্মুখে নীত হয়, তখন তিনি বলেন, ‘এই বান্দার আমলনামা সিজ্জীনে রেখে দাও। আর তাকে ফেরৎ পাঠাও।’
এই আত্মা যখন ফিরে এসে দেহে প্রবেশ করে, তখন ফেরেস্তারা তাকে তার পালনকর্তা ও ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। আর সে সব প্রশ্নের উত্তরে বলবে, ‘হায়, আমি জানি না।’
এসময় তাকে দোযখের পোষাক পরিয়ে দেয়া হবে এবং তার জন্যে পেতে দেয়া হবে দোযখের শয্যা এবং দোযখের দিকের দরজা খুলে দেয়া হবে।

মালায়ে আলার ৩য় মঞ্জিলে মুহম্মদের সঙ্গে রূহ নামের এক ফেরেস্তার সাথে দেখা হল। এই ফেরেস্তার মাথায় রয়েছে এক লক্ষ চেহারা আর প্রত্যেক চেহারায় রয়েছে এক লক্ষ মুখ আর প্রতি মুখে রয়েছে লক্ষ ভাষা। মুহম্মদ তাকে সালাম জানালেন। তখন এই ফেরেস্তা তার উম্মতের জন্যে আল্লাহর কাছে মাগফেরাত কামনা করল। 
এই মঞ্জিলেই ফেরেস্তা মিকাইলের সাথে মুহম্মদের সাক্ষাৎ হয়েছিল।

এরপর মুহম্মদ আলমেবালার ৪র্থ মঞ্জিলে পৌঁছিলেন। এখানে পৌঁছানোর পর আলমেবালা হতে এক নূরের মসনদ অবতীর্ণ হল। তিনি ঐ মসনদে আরোহণ করলে পূর্বের সিংহাসন বহনকারী ফেরেস্তা বিদায় নিল। ঐ মসনদ তাকে নিয়ে মূহুর্তের মধ্যে ৭০ হাজার নূরের পর্দা অতিক্রম করল। এরপর মুহম্মদ স্বর্ণোজ্জ্বল এক ময়দানে পৌঁছিলেন। এসময় এক ফেরেস্তা তার কাছে উপস্থিত হল। সে তাকে নিয়ে এক নূরের পর্দার দরজার কাছে গেল এবং বলল, ‘মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ’ সঙ্গে সঙ্গে ভিতর থেকে এক ফেরেস্তা ‘আল্লাহ মহান’ বলে হাত বাড়িয়ে তাকে শুণ্যে তুলে নিয়ে এক বেহেস্তী- সুসজ্জ্বিত সিংহাসনে বসিয়ে দিল, যার নাম 'রফরফ'।

শিঙ্গা সে মুখে নিয়ে দন্ডায়মান 
এক মূহুর্তে রফরফ হাজার হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে বরফশুভ্র জগতে নিয়ে গেল যেখানে অসংখ্য ফেরেস্তা সাঁরিবদ্ধ দাঁড়িয়ে একমনে আল্লাহর প্রশংসা ও গুনগানে ব্যস্ত রয়েছে। আরও অগ্রসর হবার পর হঠাৎ রফরফ থেমে গেল। মুহম্মদ এসময় সেখানে শিঙ্গা হাতে ইস্রফিলকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন যার পা সপ্ত জমিনের নীচে তাহতাস সারাতে পৌঁছিছে আর মাথা আরশে আযীমে গিয়ে ঠেকেছে, আর তার চারবাহু মাশরেক ও মাগরেবকে ঢেকে রেখেছে। তার মাথা হতে পা পর্যন্ত তার সমস্ত চুল, তার চেহারা এবং জিহবা সবই ডানার নীচে আবৃত। আল্লাহ তাকে সর্বাপেক্ষা বিশাল করে সৃষ্টি করেছেন। তদুপরি সে সর্বদা আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে থাকে। যে শিঙ্গা সে মুখে নিয়ে দন্ডায়মান তার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সীমাহীন যাতে এক এক রূহের এক একটি মকাম বা ঘর রয়েছে।

যেদিন ইস্রাফিল আল্লাহর নির্দেশে শিঙ্গাতে ফুঁক দেবে সেদিন সকল আসমান জমিন এবং তার মধ্যে সবকিছু এমন কি সকল ফেরেস্তা পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাবে। একমাত্র মহান আল্লাহ ছাড়া কোন কিছুই থাকবেন না। এই নির্দেশ সে ঐ সময় পাবে যে সময়ে দুনিয়াতে আল্লাহকে ডাকার মত কোন মানুষ থাকবে না, বর্বরতা ও গোমরাহী সমস্ত দুনিয়াকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে, মানুষের চরিত্র জীব-জন্তুর ন্যায় হবে। কেয়ামত (al-Qiyamah) সংঘটন সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে- 

‘হে মানব গোষ্ঠী! তোমাদের শক্তি ও ক্ষমতা সম্পর্কে একটু চিন্তা কর। তোমাদের অস্তিত্ব, তোমাদের স্থায়িত্ব। তোমাদের ক্ষমতা, এ তো সামান্য কারণে ধ্বংস প্রাপ্ত। তোমরা তো সামান্য কারণে ভয় পেয়ে থাক, অথচ কেয়ামত দিবসের কম্পন খুবই ভয়াবহ ও কঠিন হবে। পাহাড়-পর্বত যা কিছু আছে, সবই কম্পনের ফলে ধূঁয়ার ন্যায় উড়ে যাবে। হে মানব সম্প্রদায়! ঐদিন তোমরা স্বচক্ষে দেখতে পাবে। সেদিন সকল জীবকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’

আমি পৃথিবীস্থ সবকিছুকে পৃথিবীর জন্যে শোভা করেছি এবং তার উপর যা কিছু রয়েছে, অবশ্যই তা আমি উদ্ভিদ শূন্য মাটিতে পরিণত করে দেব।-(১৮:৭-৮) সেদিন সূর্য্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হবে।–(৭৫:৯) পাহাড় সমূহকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দেয়া হবে। পৃথিবীকে করা হবে মসৃণ সমতল ভূমি। তাতে তোমরা কোন মোড় ও টিলা দেখতে পাবে না।-(২০:১০৫-১০৬)

যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে-একটি মাত্র ফুৎকার, সেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে।-(৬৯:১৩) শিঙ্গার ঐ ফুৎকার ভয়াবহ শব্দের আকারে মানুষকে আঘাত করবে তাদের পারস্পরিক বাক-বিতন্ডা কালে।–(৩৬:৪৯) সেদিন পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া হবে,-(৬৯:১৪) অত:পর তা হয়ে যাবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের ন্যায়।-(১০১:৫) সেদিন মানুষ বলবে, ‘পালানোর জায়গা কোথায়?’-(৭৫:১০)

কেয়ামত আসবে অতর্কিত ভাবে, অতঃপর মানুষকে তা হতবুদ্ধি করে দেবে, তখন তারা তা রোধ করতেও পারবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।-(২১:৪০) সেদিন আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছে করবেন, তারা ব্যতিত নভঃমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে যারা আছে, তারা সবাই ভীত-বিহব্বল হয়ে পড়বে।-(২৭:৮৭) আকাশ বিদীর্ণ হবে, আর তা রক্তবর্ণে রঞ্জিত চামড়ার মত হয়ে যাবে।-(৫৫:৩৭) প্রবল ভাবে প্রকম্পিত হবে পৃথিবী এবং পর্বতমালা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। তারপর তা হয়ে যাবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণা।-(৫৬:৪-৬) 

শিঙ্গায় দেয়া ফুঁক তো হবে কেবল এক মহানাদ।-(৩৭:১৯) তা হবে কর্ণবিদারী, ফলে আসমান ও জমীনে যারা আছে, সবাই বেঁহুস হয়ে যাবে।-(৩৯:৬৮) নিশ্চয় কেয়ামতের প্রকম্পন হবে একটি ভয়ঙ্কর ব্যাপার। যেদিন মানুষ তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে বিষ্মৃত হবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত ঘটাবে এবং মানুষকে দেখাবে মাতালের মত; অথচ তারা মাতাল নয়।-(২২:১-২) মোটকথা, আসমান ও জমিনের জন্যে কেয়ামত হবে অতি কঠিন বিষয়।–(৭:১৮৭)

সেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মত।-(১০১:৩-৪) তারা পলায়ন করবে তার ভ্রাতার কাছ থেকে, তার মাতা, তার পিতা, তার পত্নী ও তার সন্তানদের কাছ থেকে।-(৮০:৩৩-৩৬) বন্ধু, বন্ধুর খোঁজ নেবে না, যদিও একে অপরকে দেখতে পাবে। আর গোনাহগার পণ স্বরূপ দিতে চাইবে তার সন্তান-সন্তুতিকে, তার স্ত্রীকে, তার ভ্রাতাকে, তার গোষ্ঠীকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত এবং পৃথিবীর সবকিছুকে, অতঃপর নিজেকে রক্ষা করতে চাইবে।-(৭০:৯-১৪) কেয়ামত হবে ঘোরতর বিপদ ও তিক্ততার।-(৫৪:৪৬)

সেদিন সূর্য্য আলোহীন হয়ে যাবে, নক্ষত্র মলিন হয়ে যাবে, পর্বতমালা অপসারিত হবে; দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রী সমূহ উপেক্ষিত হবে, বন্য পশুরা একত্রিত হয়ে যাবে, সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে।-(৮১:১-৬) আকাশ হবে গলিত তামার মত এবং পর্বত সমূহ হবে রঙ্গীন পশমের মত।-(৭০:৮) আকাশ ধূঁয়ায় ছেয়ে যাবে -(৪৪:১০) অগ্নি স্ফূলিঙ্গ ও ধুম্রকুঞ্জ মানুষকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে, আর তারা সেসব প্রতিহত করতে পারবে না।-(৫৫:৩৫) এটা হবে এমন দিন, যেদিন কেউ কোন কথা বলবে না এবং কাউকে তওবা করার অনুমতিও দেয়া হবে না।-(৭৭:৩৫-৩৬) মানুষ সেদিন না তার অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, না জ্বিন।-(৫৫:৩৯) কেয়ামত হবে ভয় প্রদর্শণের দিন।-(৫০:২০)

আল্লাহর সত্ত্বা ব্যতিত সবকিছুই ধ্বংস হবে।-(২৮:৮৮) কারো কি জানা আছে শিঙ্গার এ আওয়াজ কতক্ষণ স্থায়ী হবে? এ আওয়াজ প্রথম যেদিন প্রাত:কালে আরম্ভ হবে, সেদিন থেকে সবকিছু একে একে ধ্বংস হবার পর পূর্ণ ছয় মাস পর্যন্ত স্থায়ী হবে।

আর এ সময়কালে আকাশকে গুটিয়ে নেয়া হবে, যেমন গুটান হয় লিখিত কাগজপত্র। অত:পর যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। আমার ওয়াদা নিশ্চিত।(২১:১০৪)

অতঃপর মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম ইস্রফিলকে সৃষ্টি করবেন। তারপর তিনি তাকে ২য়বার শিঙ্গায় ফুঁক দেবার জন্যে আদেশ করবেন। এই উভয়বার শিঙ্গা ফুঁকবার মাঝখানে চল্লিশ বৎসর ব্যবধান হবে। এই চল্লিশ বৎসর অবিরাম বৃষ্টিপাত হতে থাকবে (“...there shall be darkness over the world forty years, God alone being alive, to whom be honour and glory forever.” -Gospel of Barnabas-Ch-54)। এসময়ের মধ্যেই প্রতিটি মৃত মানুষ ও জীব-জন্তুর দেহের অংশ একত্রিত হয়ে পূর্ণ কাঠামো তৈরী হবে। ইস্রফিল ২য়বার শিঙ্গায় ফুঁক দিলে ঐসকল দেহে আত্মা এসে যাবে। সকল মখলুকাতই পুনরুজ্জীবন লাভ করবে।  ভূ-গর্ভ থেকে মানুষ মাথার ধূলো-মাটি ঝাড়তে ঝাড়তে উঠে দাঁড়াবে এবং মহান আল্লাহর প্রশংসা করতে করতে সম্মুখ পানে ছুটে যাবে।
সপ্ত আসমান এবং নবীদের অবস্থান।
রফরফ মুহম্মদকে নিয়ে মালায়ে আলার ৫ম মঞ্জিলে পৌঁছিল। এরপর তার জন্যে অপর একটি নূরের সিংহাসন আনা হল। তিনি তাতে আরোহণ করলেন। সাথে সাথে তা তাকে নিয়ে উপরের দিকে উঠতে আরম্ভ করল। একসময় তিনি একটি নূরের সাগর দেখতে পেলেন যার কিনারায় দাঁড়িয়ে অসংখ্য ফেরেস্তা। এসব ফেরেস্তারা সৌন্দর্যে পূর্বের সকল ফেরেস্তাদের থেকে উত্তম, আর তারা একমনে আল্লাহর তাসবীহ পাঠে নিমগ্ন। এই সকল ফেরেস্তাদের পরিচালনাকারী নেতা এগিয়ে এসে তাকে ও সিংহাসনটিকে একটা পর্দার মধ্যে ঢুকিয়ে দিল। আর তিনি নিজেকে এক লাল রঙের নূরের সাগরে দেখতে পেলেন। একসময় তিনি কাবা কাউসাইনে পৌঁছিলেন।

মহান আল্লাহর আরশে আযীম যে সকল ফেরেস্তা বহন করে আছেন তারা একমাত্র আরশে আযীমের দিকে তাকিয়ে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ তাসবীহ পাঠে মগ্ন। তাদের আরও কাজ হল তারা ঈমানদারদের জন্যে মহান প্রভুর দরবারে ইস্তেগফার করা। তাদের সম্পর্কে কোরআনে উল্লেখ রয়েছে-

‘যারা আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা এর চতুর্দিক ঘিরে আছে, তারা তাদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে- প্রশংসার সাথে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং বিশ্বাসীদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! প্রত্যেক বিষয় তোমার দয়া ও জ্ঞানের অন্তর্ভূক্ত আছে, অতএব যারা তওবা করে ও তোমার পথ অবলম্বণ করে, তুমি তাদের ক্ষমা কর এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা কর। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তাদের স্থায়ী জান্নাতে উপস্থাপিত কর, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাদের দিয়েছ এবং তাদের পিতামাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্তুতিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করেছে তাদেরও। নিশ্চয় তুমি মহাপরাক্রান্ত, বিজ্ঞানময় এবং তুমি তাদের শাস্তি হতে রক্ষা কর, সেদিন যাকে শাস্তি হতে রক্ষা করবে তাকে তো অনুগ্রহই করবে, এ সেই মহান সফলতা।’-(৪০:৭-৯) 

কাবা কাউসাইনে পৌঁছার পর নীরব নিস্তব্ধ অবস্থার কারণে মুহম্মদের মনে ভয় অনুভুত হল। তিনি তখন সিজদায় পড়ে হামদ ও সানা পাঠ আরম্ভ করে দিলেন। তখন পবিত্র আরশে আযীম থেকে তাকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন করা হল-‘হে মুহম্মদ! তুমি তোমার বন্ধুর সাথে যে দেখা করতে এসেছ বল, তার সম্মুখে উপস্থিত করার জন্যে তোমার উম্মতের পক্ষ থেকে কি উপহার নিয়ে এসেছ?’
মুহম্মদ বললেন, ‘হে রব্বুল আল আমিন! মুহম্মদ তার নিজের এবং সকল উম্মতের পক্ষ থেকে আর্থিক ও শারিরীক সকল ইবাদত তোমাকে নযরানা স্বরূপ পেশ করছে, তুমি তা কবুল কর।’
তিনি বললেন, ‘হে মুহম্মদ! আমার পক্ষ থেকে তোমার প্রতি শান্তি, রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক।’
মুহম্মদ বললেন, ‘হে আমার মাবুদ! এই শান্তি এবং তোমার রহমত ও বরকত আমাদের উপর এবং তোমার সকল নেকবান্দাদের উপর অবতীর্ণ হোক।’ 
‘আমাদের’ এই বহুবচন ব্যবহার সম্পর্কে পরবর্তীতে এক শিষ্যর প্রশ্নের উত্তরে মুহম্মদ বলেছিলেন, ‘মহান আল্লাহর সালামের জবাবে আমি আমার সাথে আমার গুনাহগার উম্মতদেরকে শামিল রেখেছি আর ভিন্ন বাক্য দ্বারা আল্লাহর নেক বান্দাদেরকেও শামিল করেছি যেন সবাই আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভে ধন্য হয়।’
উপরোক্ত সালাম ও জবাবের পর মুহম্মদের কানে আরশ বহনকারী ও কাবরুবিউন ফেরেস্তাদের তাশাহুদের আওয়াজ ভেসে এল। সকল মোকাররবীন ফেরেস্তারা সমঃস্বরে বলছিল, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি! আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রসূল।’
ফেরেস্তাদের এই শাহাদার পর আল্লাহ বললেন, ‘হে মুহম্মদ! আজ তুমি আমার কাছে কি চাইবে?’ 
তখন মুহম্মদ বললেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি ইব্রাহিমকে তোমার বন্ধুত্বের মর্যাদা প্রদান করেছ, তাকে তোমার খলিল উপাধিতে ভূষিত করেছ। তার জন্যে অগ্নিকুন্ডকে বেহেস্তের বাগানে পরিণত করেছ। তুমি আমাকে কি দান করছ?’ 

তিনি বললেন, ‘হে মুহম্মদ! আজ আমি তোমাকে আমার বন্ধুত্বের নিদর্শণ স্বরূপ তোমাকে আমার জলীল উপাধিতে ভুষিত করলাম, তার সাথে আমার হাবীব হিসেবেও গ্রহণ করলাম। 
--হে আমার হাবীব! ইব্রহিমের জন্যে আমি অগ্নিকুন্ডকে বেহেস্তের বাগানে পরিণত করেছি তার পরিবর্তে আমি তোমার গুনাহগার উম্মতদের জন্যে আমার দোযখের আগুনকে নিভিয়ে দিলাম।’

মুহম্মদ বললেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি তোমার ফজল ও মেহেরবানীতে মূসাকে সম্মানিত করেছ, তাকে তূরপাহাড়ে ডেকে নিয়ে তার সাথে কথোপকথন দ্বারা সম্মানিত করেছ, তাকে তার গোত্র বনি ইস্রায়েলীসহ সাগরের মধ্যে দিয়ে পথ তৈরী করে তাদের সবাইকে ফেরাউনের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা করেছ। হে আল্লাহ! তার পরিবর্তে তুমি আমাকে কি দান করছ?’ 

তিনি বললেন, ‘হে আমার হাবিব! মূসাকে তূরপাহাড়ে ডেকে নিয়ে তার সাথে শুধু কথা বলেছি। সে আমার দীদার আকাংখা করায় তাকে বলেছিলাম-হে মূসা! তুমি আমাকে সরাসরি দেখতে পাবে না। আর আমি তোমাকে কাবা কাউসাইনে ডেকে এনে সরাসরি তোমার সাথে কথোপকথন দ্বারা মহাসম্মানে ভুষিত করেছি। 
--হে আমার হাবিব! আমি মূসাকে তার গোত্রসহ সাগর পার করিয়ে ফেরাউনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছি। আর আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্যে তোমার উম্মতদের সহকারে কাল কেয়ামতে পুলসিরাত পার হওয়ার তৌফিক প্রদান করলাম।’

মুহম্মদ বললেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি তোমার রহম ও করমের দ্বারা দাউদকে সমগ্র পৃথিবীর রাজত্ব ও বাদশাহী প্রদান করেছ। তার হাতের স্পর্শে কঠিন লোহাকে মোমের ন্যায় নরম করে দিয়েছ। হে আল্লাহ! তার বদলে তুমি আমাকে কি দান করছ?’ 
তিনি বললেন, ‘আমি দাউদকে দুনিয়ার বাদশাহী দান করেছি। আর তার পরিবর্তে আমি তোমাকে দোজাহানের সর্দার করলাম। আমি তোমাকে কেয়ামতের ময়দানে এককভাবে শাফায়াত করার অধিকার দান করছি। 
--হে আমার হাবিব! আমি দাউদের হাতের স্পর্শে লোহাকে মোমের মত নরম করে দিয়েছি আর এখন আমি তোমার জন্যে দুনিয়ার সমস্ত মখলুকাতের অন্তরকে নরম করে দিলাম।’

মুহম্মদ বললেন, ‘হে মাবুদ! তুমি স্বীয় ফজল ও মেহেরবাণীতে শলোমনকে সকল পশু-পক্ষীর ভাষা বোঝার ক্ষমতা দান করেছ। তার পরিবর্তে তুমি আমাকে কি দান করেছ?’ 
তিনি বললেন, ‘হে আমার হাবীব! আমি শলোমনকে সমস্ত জীব-জন্তুর ভাষা বোঝার ক্ষমতা প্রদান করেছিলাম, আর আমি তোমাকে ও তোমার উম্মতদের জন্যে আরশে আযীমের রত্ন, "সূরা ফাতিহা" দান করেছি।’

মুহম্মদ বললেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি ঈসাকে ইঞ্জিল দান করেছ, তাকে বিভিন্ন মুজে’যা দান করেছ যার দ্বারা সে অন্ধকে দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে, কুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ্য করতে, মৃত ব্যক্তিকে জীবন দান করতে পারত। হে আল্লাহ! এর পরিবর্তে তুমি আমাকে কি দিয়েছ?’ 
তিনি বললেন, ‘হে আমার হাবিব! আমি তোমাকে কোরআন দান করেছি আর তা তোমার উম্মতদের মুখস্ত করার ক্ষমতা প্রদান করে তা হেফাজতের ব্যবস্থা করেছি। আমি ঈসাকে কুষ্ঠ রোগী, অন্ধদের, মৃতদের জন্যে রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি আর তোমাকে উভয় জাহানের জন্যে রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।’

মুহম্মদ বললেন, ‘হে মাবুদে বরহক! কেয়ামতের দিন তুমি যখন সকলের আমলের  হিসেব করবে সেদিন আমার উম্মতের হিসেব যেন আমার হাতে সোপর্দ করা হয়। তাহলে অন্যান্য নবীদের উম্মতেরা আমার উম্মতের গুনাহ এবং দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে সম্যক অবহিত হতে পারবে না।’

আল্লাহ বললেন, ‘হে আমার হাবীব! আমি যে উম্মতের উপর দয়ালু হই তাদের কাছে আমি দয়ালু নবী প্রেরণ করে থাকি। তোমাকে আমি তাই তো তাদের উপর দয়ালু বানিয়েছি। হে আমার হাবিব! আমি চাই তোমার উম্মতের গুনাহের খাতা যেন তোমার কাছেও প্রকাশ না পায়। আমার সাত্তার (গোপনকারী) নামের বদৌলতে তাদের গুনাহ আমি গোপনভাবেই ক্ষমা করে দেব যদি কিনা তারা আমার কাছে তাদের কৃত অপরাধের জন্যে ক্ষমাপ্রার্থী হয়।

--হে আমার হাবীব! তুমি বলে দাও-‘হে আমার বান্দারা! তোমরা শোন! তোমরা যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করে ফেলেছ- আল্লাহর রহমত, অনুগ্রহ থেকে তোমরা নিরাশ হইও না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ সম্পূর্ণরূপে মাফ করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, দয়াময়।’

--হে আমার হাবিব! কেয়ামতের দিন আমি তোমার উম্মতদের হিসেব এই জন্যে করতে চাই যেন তারা আমার সাথে কথা বলার স্বাদ উপভোগ করতে সক্ষম হয় যে স্বাদ উপভোগ করেছিল মূসা তূরপাহাড়ে আর আজ তুমি করলে এই মিরাজ রজনীতে। 
--আর আমি তোমার উম্মতদের থেকে যে হিসেব গ্রহণ করব তা অবশ্যই হবে তাদের জন্যে রহমত স্বরূপ।’

--হে আমার হাবীব! তোমার পূর্ববর্তী উম্মতরা আমার নাফরমানী করেছিল। আমি তাদের উপর বিভিন্ন আযাব ও গজব নাযিল করেছি। কাউকে পাথর নিক্ষেপ করে, কাউকে দরিয়ায় ডুবিয়ে, কারও উপর অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বর্ষণ করে, আবার কাউকে ঘৃণিত বানরে রূপান্তরিত করে ধ্বংস করে দিয়েছি। কিন্তু তোমার খাতিরে তোমার উম্মতদের সাথে ঐ ধরনের কোন ব্যবহার করা হবে না। বরং তারা যদি ঐ ধরনের কোন গুনাহ করার পর লজ্জিত হয়ে যদি আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তবে আমি তাদের উপর শাস্তির পরিবর্তে আমার রহমত নাজিল করব। আর আমি তো তাদের জন্যে তোমাকে সরাসরি রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।
--আমি-ই সকলের রিযিকের জিম্মাদার এবং রক্ষক। তা সত্ত্বেও দেখ আমার বান্দারা আমার জিম্মাদারী ও রক্ষণাবেক্ষণের উপর ভরসা না করে রিযিকের জন্যে অন্যের উপর ভরসা করছে আর হন্যে হয়ে তাদের সাহায্য কামনা করছে। হে আমার হাবিব! তুমি তাদের বলে দাও-তোমাদের মহান প্রভু তোমাদেরই সাথে আছেন, তিনি তোমাদের সবকিছু সম্পর্কে পরিজ্ঞাত। তিনি তোমাদের অভুক্ত রাখবেন না এবং ক্ষুধার্ত অবস্থায় বিনষ্ট হতে দেবেন না।’

--আমি কারও উপরে তার শক্তির অতিরিক্ত বোঝা চাপাইনে, তাহলে তোমার উম্মতরা কেন তাদের সারা জীবনের রিযিক একসাথে কামনা করবে? যার ভাগ্যে যা আছে, আমি তাকেই তা দিয়ে থাকি। একজনের রিযিক আমি অন্যজনকে দেইনে। 
--দেখ, তাদের কিছু আমার এবাদতের মধ্যে অন্যকে শরিক করছে। অথচ আমি মানব ও জ্বীনকে কেবল আমার এবাদতের জন্যেই সৃষ্টি করেছি। যারা আমার সাথে অন্যদেরকে শরিক করছে এবং তাদেরকে মহব্বত করছে, তারা হল অবিশ্বাসী। 
--হে আমার হাবিব! আমি তোমার উম্মতের শোকায়েত অন্যের কাছে করিনে তাহলে তারা কেন আমার শোকায়েত অন্যের কাছে করবে? তারা আমাকে ভয় না করে আমার বান্দাকে ভয় করছে।’

মুহম্মদ আর্জি জানালেন, ‘হে দোজাহানের মালিক! তুমি কি আমার গুনাহগার উম্মতদের শাস্তি প্রদান করবে? তুমি কি তাদের আযাব দেবে?’
উত্তর এল, ‘মুশরিক ছাড়া সকলের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, যদি তারা আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে।’ 

এরপর আল্লাহ মুহম্মদকে এই খুশীর সংবাদ দিলেন-‘আর আমি তোমাকে এই শুভ সংবাদ জানাচ্ছি-‘সকল আম্বিয়া ও মুরসালীনদের জন্যে বেহেস্ত হারাম, যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি বেহেস্তে প্রবেশ করবে। তেমনি সকল উম্মতে সাবেকার জন্যে বেহেস্ত হারাম যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমার উম্মত বেহেস্তে প্রবেশ করবে।’  

ফিরে যান আর নামাজের সংখ্যা কমাবার দরখাস্ত করুন।
শিরক ছাড়া সকল প্রকার গুনাহ ক্ষমার সুসংবাদে মুহম্মদ আনন্দে অভিভূত হয়ে পড়েন। ঠিক এমনি সময় মহান প্রভুর তরফ থেকে এই আদেশ ঘোষিত হল- ‘হে মুহম্মদ! আমি এখন থেকে তোমার এবং তোমার উম্মতের উপর দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দিলাম। যা আদায় করার মাধ্যমে তোমার মি’রাজের কথা স্মরণ হবে আর তোমার উম্মতের জন্যে-‘নামাজ মু’মিনদের জন্যে মি’রাজ’-এই মর্যাদা লাভ হবে।’

এসময় মুহম্মদ ছিলেন আল্লাহর প্রেমে নিমজ্জিত তাই দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ তার উম্মতদের পক্ষে আদায় করা সম্ভব হবে কিনা তা তার খেয়ালে এল না। তিনি খুশী মনে দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজের উপহার নিয়ে ফিরে এলেন।                

ফেরার পথে ৬ষ্ঠ আসমানে মূসার সঙ্গে মুহম্মদের সাক্ষাৎ হল। মূসা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে শেষ জমানার নবী! বলুন, মহান আল্লাহর পক্ষ হতে আপনার উম্মতদের জন্যে কি দান করা হয়েছে?’
মুহম্মদ বললেন, ‘হে মূসা! দিনে রাতে আমার উম্মতদের জন্যে দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
এতদশ্রবণে মূসা বললেন, ‘হে রসূলুল্লাহ! এ তো অনেক বেশী। আপনি শীঘ্র মহান প্রভুর দরবারে ফিরে যান আর নামাজের সংখ্যা কমাবার দরখাস্ত করুন।’

মুহম্মদ পূনঃরায় কাবা কাউসাইনে ফিরে গিয়ে সিজদায় পড়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে মিনতী জানালেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্যে নামাজের সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে দাও। যেহেতু দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।’ 
আল্লাহ বললেন, ‘হে আমার হাবিব! আমি তোমার উম্মতের জন্যে পাঁচ ওয়াক্ত মাফ করে দিলাম।’ 

বেহেস্তের দ্বাররক্ষক রিদওয়ান 
এই ঘোষণা শ্রবণ করে মুহম্মদ সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে এলেন। তার ধারণা হল এমন দয়ালু, যার এত মহান শান! তার জন্যে দৈনিক পঁয়তাল্লিশ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা তো সামান্য ব্যাপার মাত্র।

তিনি ফিরে এলে মূসা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে রসূলুল্লাহ! নামাজের মধ্যে কত ওয়াক্ত কমান হয়েছে?’
মুহম্মদ বললেন, ‘মহান প্রভু স্বীয় দয়ার দ্বারা পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়েছেন।’
এ কথা শুনে মূসা পুনঃরায় বললেন, ‘দৈনিক পঁয়তাল্লিশ ওয়াক্ত নামাজ এটাও অনেক। আপনি পুনঃরায় প্রভুর দরবারে গিয়ে আরজ করুন যেন নামাজের সংখ্যা আরও কম করা হয়।’

মুহম্মদ আবারও মহান প্রভুর দরবারে ফিরে গেলেন এবং সিজদায় পড়ে মিনতী করলেন যেন নামাজের সংখ্যা আরও কম করা হয়। এবারও আল্লাহ আরও পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। এরপর তিনি মূসার কাছে ফিরে এলে তিনি জানালেন ঐ সংখ্যাও অনেক এবং তাকে পুনঃরায় ফিরে গিয়ে আরও কমিয়ে আনতে বললেন। তিনি পুনঃরায় প্রভুর দরবারে ফিরে গেলেন। 

এভাবে মূসার কথা মত বারবার গিয়ে কমিয়ে আনার পর নামাজ দৈনিক দশ ওয়াক্তে গিয়ে ঠেকল। মূসা বললেন, ‘হে রসূলুল্লাহ! আমার উম্মতের উপর দৈনিক মাত্র দু’ওয়াক্ত নামাজ ফরজ ছিল তদুপরি তাদের দ্বারা দৈনিক তা আদায় করা সম্ভব হয়নি। সুতরাং আপনার উম্মতরা দিনে রাতে এত ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে কি সক্ষম হবে? হে রসূলুল্লাহ! আপনি আবারও যান এবং নামাজের সংখ্যা আরও কমিয়ে আনুন।’ 

বেহেস্ত
শেষবারেও কমিয়ে আল্লাহ নামাজ মাত্র দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত করলেন এবং বললেন, ‘হে আমার হাবীব! আমার মহান সত্ত্বার পক্ষ থেকে কোন কথার পরিবর্তন করা হয় না এবং আমি আমার বান্দাদের উপর বেশী কষ্ট দিতে চাইনে তাই তোমার এবং তোমার উম্মতগণের উপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ফরজ করে দেয়া হল যা আদায়ে পঞ্চাশ ওয়াক্ত আদায়ের সমান হবে।’

এ শেষবার নামাজের সংখ্যা কম করার পর আল্লাহর পক্ষ থেকে মুহম্মদকে বেহেস্ত ও দোযখ দর্শণের অনুমতি দেয়া হল। অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে তিনি সিদরাতুল মুনতাহার ঐ স্থানে গিয়ে পৌঁছিলেন যে স্থান পর্যন্ত জিব্রাইল তার ভ্রমন সঙ্গী ছিল। সিদরাতুল মুনতাহার সাথে জান্নাতুল মাওয়া সংযুক্ত রয়েছে। জিব্রাইল মুহম্মদকে জান্নাতুল ফেরদৌস দেখাল। 

মুহম্মদ দেখলেন-বেহেস্তের প্রাচীরগুলো স্বর্ণোজ্জ্বল আর তার বিশাল চওড়া আটটি দরজা রয়েছে। ১ম দরজার উপর লেখা রয়েছে -‘যে ব্যক্তি মহান আল্লাহকে কর্জ্জ্বে হাসানাহ প্রদান করে আল্লাহ তার সে কর্জ্জ্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।’ তিনি আরও দেখতে পেলেন বেহেস্তের দ্বাররক্ষক ফেরেস্তা রিদওয়ান একটি সবুজ রঙের মিম্বরে উপবিষ্ট আর তার বাম ও ডান দিকে অসংখ্য ফেরেস্তা রয়েছে যারা তাকে ও জিব্রাইলকে সেখান থেকে শুভেচ্ছা জানাল।

মুহম্মদ লক্ষ্য করলেন বেহেস্তের জমিন মাটির মত নয়। জিব্রাইল বলল, 'বেহেস্তে প্রবেশের সাথে সাথেই প্রবেশকারীর অন্তরের অবস্থা শান্ত হয়ে যাবে।’
এরপর তার নজরে এল বেহেস্তী অলঙ্কারে সজ্জিত প্রাসাদসমূহ যার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার নহর। জিব্রাইল  বলল, ’ঐসব নহরের প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্টের। কোনটি সুপেয় পানির, কোনটি দুধের ন্যায়, কোনটি উত্তম ধরণের শরবতের, আবার কোনটা মধুর ন্যায় হবে।'

মুহম্মদের স্বর্গ দর্শন।
মুহম্মদ এক বিশাল অট্টালিকার আশেপাশে স্বর্ণোজ্জ্বল কিছু গাছপালা দেখতে পেলেন যেগুলি বেহেস্তী কারুকার্য খঁচিত আর তিনি এমন এক বৃক্ষ দেখলেন যা পুরো অট্রালিকাটিকে ঢেকে রেখেছে যা খুবই নয়ন মনোহর। জিব্রাইল বলল, ’এ হল ঐ বৃক্ষ যার সম্পর্কে বলা হয়েছে -‘যারা নেক আমল করেছে তাদের জন্যে বেহেস্তে রয়েছে ‘তুব্বা বৃক্ষ’ যা শুধু দেখার মধ্যেই মনোরম ও মনোমুগ্ধকরই নয় বরং তার ফলের মধ্যে যে স্বাদ ও মজা রয়েছে তাও হবে অবর্ণনীয়। যার পাতাগুলো শুধু পাতাই নয় বরং তা বেহেস্তবাসীদের জন্যে পরিধেয় স্বরূপ হবে যা হাজারো রঙে রঞ্জিত এক মনোমুগ্ধকর বস্ত্র-সামগ্রী। আর তার ফলগুলো হবে হেজাজী মটকার ন্যায় বড় আর তার রঙ ও স্বাদ হবে ভিন্ন ভিন্ন ধরণের যার সুগন্ধীতে সমগ্র বেহেস্ত ভরপুর হয়ে যাবে।’

জিব্রাইল আরও বলল, ‘এই অট্টালিকার মধ্যে ৭০ হাজার প্রাসাদ রয়েছে যার প্রত্যেক প্রাসাদে ৭০ হাজার বেহেস্তী অলঙ্কারে সজ্জ্বিত স্বচ্ছ প্রকোষ্ঠ রয়েছে যার মধ্যে স্বর্ণোজ্জ্বল সিংহাসনের উপরস্থ রেশমী কার্পেটের উপর উপবিষ্ট রয়েছে অপেক্ষমান সৌন্দর্যময় হুর বা হুরীসমূহ যাদের প্রত্যেকের সাথে রয়েছে ৭০হাজার দাসদাসী।’

জান্নাত সম্পর্কিত কিছু কোরআনের আয়াত এখানে দেয়া হলজান্নাত উপস্থিত করা হবে আল্লাহভীরুদের অদূরে। তোমাদের প্রত্যেক বিনীত অনুরাগী ও স্মরণকারীকে এরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল; যে না দেখে দয়াময় আল্লাহকে ভয় করত এবং বিনীত অন্তরে উপস্থিত হত। তোমরা এতে শান্তিতে প্রবেশ কর। এটাই অনন্তকাল বসবাসের জন্যে প্রবেশ করার দিন।-(৫০:৩১-৩৪)

তাদের মুখমন্ডল হবে সজীব। তাদের কর্মের কারণে সন্তুষ্ট। তারা থাকবে সুউচ্চ জান্নাতে। তথায় শুনবে না কোন অসার কথাবার্তা। তথায় থাকবে প্রবাহিত ঝর্ণা। তথায় থাকবে উন্নত সুসজ্জিত আসন এবং সংরক্ষিত পানপাত্র। এবং সাঁরি সাঁরি গালিচা এবং বিস্তৃত বিছান কার্পেট।-(৮৮:৮-১৬)


তাদের জন্যে রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।-(৮৪:২৫) তাদের অন্তরে যাকিছু দুঃখ ছিল, আমি তা বের করে দেব।-(৭:৪৩) তারা বলবে, ‘আল্লাহর শোকর, যিনি আমাদেরকে এ পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। আমরা কখনও পথ পেতাম না, যদি আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শণ না করতেন। আমাদের প্রতিপালকের রসূল আমাদের কাছে সত্যকথা নিয়েই এসেছিলেন।’-(৭:৪২-৪৩)


জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, ‘তোমাদের প্রতি ছালাম, তোমরা সুখে থাক, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর।’

তারা বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তার ওয়াদা পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে এ ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন। আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছে বসবাস করব, মেহনতকারীদের পুরস্কার কতই চমৎকার।-(৩৯:৭৩-৭৪)

তারা সেখানে সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে রৌদ্র ও শৈত্য অনুভব করবে না। তার বৃক্ষছায়া তাদের উপর ঝুকে থাকবে এবং তার ফলসমূহ তাদের আয়ত্ত্বাধীন রাখা হবে। তাদেরকে পরিবেশন করা হবে রূপার পাত্রে এবং স্ফটিকের মত পানপাত্রে, রূপালী স্ফটিক পাত্রে-পরিবেশনকারীরা তা পরিমাপ করে পূর্ণ করবে। তাদেরকে সেখানে পান করান হবে যানজাবীল মিশ্রিত পানপাত্র। এটা জান্নাতস্থিত সালসাবীল নামক একটি ঝর্ণা। তাদের কাছে ঘোরা ফেরা করবে চির কিশোররা। তুমি তাদেরকে দেখে মনে করবে যেন বিক্ষিপ্ত মনিমুক্তা। তুমি যখন সেখানে দেখবে, তখন নেয়ামতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবে। তাদের আবরণ হবে চিকণ সবুঝ রেশম ও মোটা সবুজ রেশম এবং তাদেরকে পরিধান করান হবে রৌপ্য নির্মিত কঙ্কণ এবং তাদের পালনকর্তা তাদেরকে পান করাবেন শরাবান তহুরা।-(৭৬:১৩-২১)


তারা তথায় রেশমের আস্তর বিশিষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে।-(৫৫:৫৪) তথায় থাকবে আনতনয়না রমনীরা, কোন জ্বীন ও মানুষ পূর্বে তাদেরকে ব্যবহার করেনি।-(৫৫:৫৬) প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ রমনীরা।-(৫৫:৫৮) সেখানে থাকবে সৎচরিত্র সুন্দরী রমনীরা।-(৫৫:৭০) তাঁবুতে অবস্থানকারিনী হুররা।-(৫৫:৭২) আমি তাদেরকে আনত নয়না হুরদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে দেব।-(৫২:২০)


তারা সবুজ মসনদে ও উৎকৃষ্ট মূল্যবান বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে।-(৫৫:৭৬) তারা সেখানে সালাম ব্যতিত কোন অসার কথাবার্তা শুনবে না এবং সেখানে সকাল-সন্ধ্যা তাদের জন্যে রুজী থাকবে।-(১৯:৬২) উভয় উদ্যানের ফল তাদের কাছে ঝুলবে।-(৫৫:৫৪) তথায় তারা স্বর্ণ নির্মিত ও মতি খঁচিত কংকন দ্বারা অলংকৃত হবে। সেখানে তাদের পোষাক হবে রেশমের। আর তারা বলবে, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ, যিনি আমাদের দুঃখ দূর করেছেন। নিশ্চয় আমদের পালনকর্তা ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী। যিনি স্বীয় অনুগ্রহে আমাদেরকে বসবারে গৃহে স্থান দিয়েছেন, তথায় কষ্ট আমাদেরকে স্পর্শ করে না, স্পর্শ করে না ক্লান্তি।’-(৩৫:৩৩-৩৫)


নিশ্চয় আল্লাহভীরুরা নিরাপদ স্থানে থাকবে-উদ্যানরাজি ও নির্ঝরিণিসমূহে। তারা পরিধান করবে চিকন ও পুরু রেশমী বস্ত্র, মুখোমুখি হয়ে বসবে। এরূপই হবে এবং আমি তাদেরকে আনতলোচনা স্ত্রী দেব। তারা সেখানে শান্ত মনে বিভিন্ন ফলমূল আনতে বলবে। সেখানে তারা মৃত্যু আস্বাদন করবে না, প্রথম মৃত্যু ব্যতিত।-(৪৪:৫১-৫৬) যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, ‘এতো অবিকল সেই ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম।'

বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে এবং সেখানে তাদের জন্যে শুদ্ধাচারিনী রমণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল।-(২:২৫)

তাদের জন্যে রয়েছে নির্ধারিত রুজি, ফলমূল এবং তারা সম্মানিত। নেয়ামতের উদ্যান সমূহ। মুখোমুখী হয়ে আসনে আসীন। তাদেরকে ঘুরে ফিরে পরিবেশন করা হবে স্বচ্ছ পানপাত্র। সুশুভ্র, যা পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু। তাতে মাথা ব্যাথার উপাদান নেই এবং তারা তা পান করে মাতালও হবে না। তাদের কাছে থাকবে নত, আয়তলোচনা তরুণীরা, যেন তারা সুরক্ষিত ডিম। অতঃপর তারা একে অপরের দিকে মুখ করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তাদের একজন বলবে, ‘আমার এক সঙ্গী ছিল। সে বলত, ‘তুমি, কি বিশ্বাস কর যে, আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাঁড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমরা প্রতিফল প্রাপ্ত হব?’

আল্লাহ বলবেন, ‘তোমরা কি তাকে উঁকি দিয়ে দেখতে চাও? 

অতঃপর সে উঁকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে জাহান্নামের মাঝে দেখতে পাবে। সে বলবে, ‘আল্লাহর কসম, তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংসই করে দিয়েছিলে। আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ না হলে আমিও যে গ্রেফতারকৃতদের সাথেই উপস্থিত হতাম। এখন আমাদের আর মৃত্যু হবে না এবং আমরা শাস্তিও প্রাপ্ত হব না। নিশ্চয় এ-ই মহা সাফল্য।-(৩৭:৪১-৬০)

দোযখ দ্বারে লেখা।
সংক্ষিপ্ত বেহেস্ত ভ্রমন শেষে জিব্রাইল মুহম্মদকে দোযখ দেখাতে নিয়ে চলল। তিনি দেখলেন দোযখের দরজা ৭টি। তবে কোন দরজার উপরে এমন কোন লেখা থাকার কথা বলেননি, যেমনটা দান্তে বলেছেন-"Abandon all hope ye who enter here". 

যাহোক মুহম্মদ দেখতে পেয়েছিলেন দোযখের মধ্যে চারদিকে তীব্র প্রজ্জ্বলিত আগুন। কোথাও রয়েছে বিশাল বিশাল বিষাক্ত বিচ্ছু, সাপ ইত্যাদি, কোথাও রয়েছে বিভিন্ন প্রকার শাস্তি দেবার দোযখী যন্ত্রপাতি যেমন, করাত, চাক্কি, হাতুড়ী ইত্যাদি। জিব্রাইল বলল, ‘দোযখীদের শাস্তির কিছু নমুনা এখন তোমাকে দেখান হবে।’

দৃশ্য-১ এবার মুহম্মদ দেখতে পাচ্ছেন একটা বিরাট পাথরে পরিপূর্ণ মাঠ যেখানে অনেক নারী-পুরুষ চিৎ হয়ে শুয়ে আছে আর তাদের মাথাকে বড় বড় পাথর দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। আঘাতে মাথা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে এবং তা সাথে সাথে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। আবার আঘাত করা হচ্ছে। 
জিব্রাইল বলল, ‘এরা এক বিশেষ সম্প্রদায় যারা নামাজ না পড়ে অলসতা করে বিছানায় আরামের সাথে শুয়ে থাকত, আর অহংকার ও গর্ব করে দিন কাটাত।’

দোযখ দৃশ্য-১
দৃশ্য-২ বে-নামাজী সম্প্রদায়ের পর এখন তিনি দেখতে পাচ্ছেন একস্থানে অনেক নারী পুরুষ অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় রয়েছে আর তারা সম্মুখে যা পাচ্ছে তাই-ই খেয়ে ফেলছে- কিন্তু তাদের ক্ষুধা নিবৃত্ত হচ্ছে না। 
জিব্রাইল বলল, ‘এরা সেই সম্প্রদায়, যাদেরকে আল্লাহ দুনিয়াতে সম্পদের মালিক করেছিলেন কিন্তু তারা তা কেবল নিজেদের ভোগের জন্যে ব্যয় করেছে, কৃপণতা করে সেই সম্পদের যাকাত আদায় করেনি।’
দৃশ্য-৩ এবার তিনি একস্থানে অনেক নারী পুরুষ দেখতে পাচ্ছেন যাদের সম্মুখে পাশাপাশি রয়েছে সুন্দরভাবে পরিবেশিত সুস্বাদু আহার্য এবং কুৎসিত আহার্য। কিন্তু নারী পুরুষের দল ঐ সুস্বাদু খাবার না খেয়ে ঐ কদর্য খাবারের পাশে ভীড় জমাচ্ছে এবং তা ভীষণ আগ্রহ সহকারে খাচ্ছে। এ দৃশ্য দেখে তিনি বললেন, ‘আফসোস এদের জন্যে!’
জিব্রাইল বলল, ‘হে রসূলুল্লাহ! এরা সেই সম্প্রদায় যারা নিজেদের স্বামী বা স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে পরনারী বা পরপুরুষের সাথে মেলামেশা করত- ব্যভিচারে লিপ্ত থাকত।’

দৃশ্য-৪ এখন মুহম্মদ সম্মুখে দেখতে পাচ্ছেন একদল লোক বড় বড় আগুনের চুল্লী থেকে উলঙ্গ অবস্থায় জ্বলতে জ্বলতে বের হয়ে পুনঃরায় অপর একটি জ্বলন্ত চুল্লীতে ঢুকে যাচ্ছে। এদের এই অবস্থা দেখে মুহম্মদ আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। জিব্রাইল বলল, ‘এরা সেই সম্প্রদায় যারা দুনিয়াতে হালাল উপার্জন না করে হারাম উপার্জন করেছিল।’

দৃশ্য-৫ মুহম্মদ এবার দেখতে পাচ্ছেন দুর্দান্ত কাঁটাওয়ালা গাছের ডালপালা দ্বারা একটি রাস্তা পরিপূর্ণ, কিছু লোক ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে আর তাদের সর্বাঙ্গ কাঁটাতে ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে। জিব্রাইল জানাল, ‘এরা ঐ সকল ব্যক্তির রূহ যারা দুনিয়াতে ডাকাতি করত এবং পথিকের অর্থ সম্পদ চুরি করত।’

দোযখ দৃশ্য-২
দৃশ্য-৬ মুহম্মদ এবার দেখতে পাচ্ছেন একস্থানে সমবেত কিছু লোকের কন্ঠনালী ফেঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং তাদের জিহবা কর্তন করা হচ্ছে। জিব্রাইল বলল, ‘এরা ঐ শ্রেণী যারা পবিত্র কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা করত এবং ওয়াজ ও নসীহত দ্বারা সমাজের মধ্যে বিশৃংখলা সৃষ্টি করত।’

দৃশ্য-৭ এবার মুহম্মদ দেখতে পাচ্ছেন একদল বিশাল পেটওয়ালা লোক যাদের পেট স্বচ্ছ কাঁচের মত আর পেটের মধ্যে সাপ বিচ্ছু ইত্যাদি চলাফেরা করছে ও ছোবল মারছে। লোকগুলি তাদের বিশাল পেটের কারণে উঠে দাঁড়াতে পারছে না, আর একদল হিংস্র ঘোড়া তাদেরকে পদদলিত করে চলেছে। 
জিব্রাইল বলল, ‘এরা ঐ সম্প্রদায় যারা দুনিয়াতে সুদ খেত এবং সুদের ব্যবসা করত।’

দৃশ্য-৮ এবার মুহম্মদ দেখতে পাচ্ছেন একদল উট সদৃশ কিছু মানুষ যাদের মুখের ভেতর বড় বড় আগুনের কয়লা ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে আর তা তাদের পাকস্থলী হয়ে মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। জিব্রাইল বলল, ‘এরা ঐ সমস্ত লোক যারা দুনিয়াতে এতিমের মাল ভক্ষণ করেছিল।’ 

দোযখ দৃশ্য-৩
দৃশ্য-৯ এরপর মুহম্মদ সম্মুখে দেখতে পাচ্ছেন একদল মহিলা যাদেরকে পায়ের আঙ্গুলের উপর ভর করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং তাদেরকে কোড়া দ্বারা প্রহার করা হচ্ছে। জিব্রাইল বলল, ‘এরা ঐসব মহিলা যারা জেনা ও ব্যভিচারে লিপ্ত ছিল এবং নিজেদের অপকর্ম গোপন রাখার জন্যে প্রসূত ভ্রুণ হত্যা করে ফেলত।’

দৃশ্য-১০ ব্যাভিচারী মহিলাদের পর এখন মুহম্মদ একদল লোককে দেখতে পাচ্ছেন যাদের নিজ শরীরের মাংস কেটে জোরপূর্বক তাদেরকেই খাওয়ান হচ্ছে। জিব্রাইল বলল, ‘এরা দুনিয়াতে মানুষের গীবৎ গাইত ও নিন্দা করত।’

দৃশ্য-১১ গীবৎকারীদের পর এবার মুহম্মদ দেখতে পাচ্ছেন অনেক কুৎসিত লোক যাদের যাদের নীচের ঠোঁট জমিনের সাথে এবং উপরের ঠোঁট মাথার উপর রেখে দেয়া হয়েছে। আর তাদের মুখ থেকে রক্ত ও পূজ নির্গত হচ্ছে যা দিয়ে সারা মাঠে বিভীষিকাময় অবস্থা তৈরী হয়েছে। জিব্রাইল বলল, ‘এরা দুনিয়াতে কেবলমাত্র শরাবের মধ্যেই ডুবে ছিল।’

দৃশ্য-১২ এবার মুহম্মদ দেখতে পাচ্ছেন একদল লোক একস্থানে সমবেত যাদের শারিরিক গঠন মানুষের মত, কিন্তু মুখাকৃতি শুকরের ন্যায় আর তাদের গ্রীবা চীরে জিহবাকে পিছনের দিকে টানা হচ্ছে। জিব্রাইল বলল, ‘এসব লোক দুনিয়াতে মিথ্যে স্বাক্ষী দেয়াকে নিজেদের জীবিকা অর্জনের উপায় হিসেবে গ্রহণ করেছিল।’

দোযখ দৃশ্য-৪
দৃশ্য-১৩ এখন মুহম্মদ দেখতে পাচ্ছেন একটি মাঠে একদল মহিলাকে অগ্নিকুন্ডের মধ্যে রেখে চাবুক দ্বারা পেটান হচ্ছে আর তারা বিভৎস চিৎকার করছে। এ দেখে মুহম্মদ জিব্রাইলকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে জিব্রাইল! কেন এই মহিলাদেরকে এরূপ শাস্তি দেয়া হচ্ছে?’

জিব্রাইল বলল, ‘হে রসূলুল্লাহ! এরা ঐ সমস্ত মহিলা যারা দুনিয়াতে মৃত ব্যক্তির বাড়ীতে গিয়ে মাতম করত তদুপরি তারা স্বামীদের কষ্ট দিত আর তাদের অবাধ্য ছিল।’

দৃশ্য-১৪ এখন মুহম্মদ দেখতে পাচ্ছেন একদল লোককে আগুনে পোড়ান হচ্ছে আর তারা পুড়ে ছাই হয়ে গেলে পুনঃরায় তাদের জীবিত করে আবার পোড়ান হচ্ছে। 
জিব্রাইল বলল, ‘এরা ঐ শ্রেণী যারা পিতামাতাকে উৎপীড়ন করত এবং তাদের অবাধ্য ছিল।’

সুবেহ সাদিকের সময় কা’বার সম্মুখে অবতরণ
জাহান্নাম বা দোযখের শাস্তি সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে- আমি তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছি শিকল, বেড়ী, প্রজ্জ্বলিত অগ্নি।-(৭৬:৪) দুনিয়াতে যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে... সেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে আর বলা হবে, ‘এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে রাখার।-(৯:৩৫)

..তাদের জন্যে নরকাগ্নির শয্যা রয়েছে এবং উপর থেকে চাদর।..-(৭:৪১) আগুন তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে এবং তারা তাতে বিভৎস আকার ধারণ করবে।-(২৩:১০৪) তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পাল্টে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আযাব আস্বাদন করতে থাকে।-(৪:৫৬)

সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। তুমি কি জান পিষ্টকারী কি? এটা প্রজ্জ্বলিত অগ্নি, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছিবে।-(১০৪:৪-৭) তথায় তারা কোন শীতল এবং পানীয় আস্বাদন করবে না; কিন্তু ফুটন্ত পানি ও পূঁজ পাবে। পরিপূর্ণ প্রতিফল হিসেবে।-(৭৮:২৪-২৬) 

তাদের পূঁজ মিশান পানি পান করান হবে। ঢোক গিলে তা পান করবে এবং গলার ভিতরে প্রবেশ করাতে পারবে না।-(১৪:১৬-১৭) তাদের মাথার উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয়া হবে। ফলে তাদের পেটে যা আছে, তা এবং চর্ম গলে বের হয়ে যাবে।-(২২:১৯-২২)


কন্টকপূর্ণ ঝাড় ব্যতিত তাদের জন্যে কোন খাদ্য নেই। এটা তাদেরকে পুষ্ট করবে না ক্ষুধায়ও উপকার করবে না।-(৮৮:৬-৭) নিশ্চয় যাক্কুম বৃক্ষ পাপীদের খাদ্য হবে; গলিত তাম্রের ন্যায় পেটে ফুটতে থাকবে। যেমন ফুটে পানি।-(৪৪:৪৩-৪৬) ..যাক্কুম বৃক্ষ? আমি জালেমদের জন্যে একে বিপদস্বরূপ করেছি। এটি একটি বৃক্ষ যা উৎগত হয় জাহান্নামের মূলে। এর গুচ্ছ শয়তানের মস্তকের মত। কাফেররা একে ভক্ষণ করবে এবং এর দ্বারা উদরপূর্ণ করবে।-(৩৭:৬২-৬৬)  ..সেদিন তারা বলবে, ‘হায়!  আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম ও রসূলের আনুগত্য করতাম।’-(৩৩:৬৬)

তারা দোযখের আগুন থেকে বের হয়ে আসতে চাইবে কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না।-(৫:৩৭) তারা যখনই যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনি তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে। বলা হবে, ‘দহন শাস্তি আস্বাদন কর।’-(২২:১৯-২২) এবং বলা হবে, ‘তোমরা জাহান্নামের যে আযাবকে মিথ্যে বলতে তারস্বাদ আস্বাদন কর।’-(৩২:২০)

যারা জাহান্নামে আছে, তারা জাহান্নামের রক্ষীদের বলবে, ‘তোমরা তোমদের পালনকর্তাকে বল, তিনি যেন আমাদের থেকে একদিনের আযাব লাঘব করে দেন।’
রক্ষীরা বলবে, ‘তোমাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমানাদিসহ রসূলরা আসেননি?’
তারা বলবে, ‘হ্যাঁ।’
রক্ষীরা বলবে, ‘তবে তোমরাই দোয়া কর।’
বস্তুতঃ কাফেরদের দোয়া নিষ্ফল হয়।-(৪০:৪৯-৫০)

..সেখানে তারা আর্তচিৎকার করে বলবে, ‘হে আমাদের পালন কর্তা, বের করুণ আমাদেরকে, আমরা সৎকাজ করব, পূর্বে যা করতাম, তা করব না।’-(৩৫:৩৬) আল্লাহ বলবেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি, যাতে যা চিন্তা করার বিষয় চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমন করেছিল। অতএব আস্বাদন কর। জলেমদের জন্যে কোন সাহায্যকারী নেই।-(৩৫:৩৭) এ শাস্তি এজন্যে যে, তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল। সুতরাং আজ তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে না এবং তাদের কাছে তওবা চাওয়া হবে না।-(৪৫:৩৫)

তারা আরও বলবে, ‘হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আমাদের নেতা ও বড়দের কথা মেনে নিয়েছিলাম, অতঃপর তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের পালনকর্তা! তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদেরকে মহা অভিসম্পাৎ করুন।’-(৩৩:৬৭-৬৮)

তারা বলবে, ‘হে মালিক, আমাদের কিচ্ছাই শেষ করে দিন।’-(৪৩:৭৭) তখন সেখানে তারা মৃত্যুকে ডাকবে। বলা হবে, ‘আজ তোমরা এক মৃত্যুকে ডেক না, অনেক মৃত্যুকে ডাক।-(২৫:১২-১৪) প্রতি দিক থেকে তার কাছে মৃত্যু আগমন করবে, কিন্তু সে মরবে না। তার পশ্চাতেও রয়েছে কঠোর আযাব।-(১৪:১৬-১৭) তারা অগ্নি পরিবেষ্ঠিত অবস্থায় বন্দী থাকবে।-(৯০:২০) তারা তথায় শতাব্দীর পর শতাব্দী অবস্থান করবে।-(৭৮:২৩) তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেয়া হবে না যে, তারা মরে যাবে এবং তাদের থেকে তার শাস্তিও লাঘব করা হবে না।-(৩৫: ৩৬)

অতঃপর সে মরবেও না জীবিতও থাকবে না।-(৮৭:১৩) তারা জাহান্নামের অগ্নি ও ফুটন্ত পানির মাঝখানে প্রদক্ষিণ করবে।-(৫৫:৪৪)..যখনই নির্বাপিত হবার উপক্রম হবে আমি তখন তাদের জন্যে অগ্নি আরও বৃদ্ধি করে দেব।-(১৭:৯৭)

অপরাধীরা জাহান্নামের আযাবে চিরকাল থাকবে। ..এবং তারা তাতেই থাকবে হতাশ হয়ে।-(৪৩:৭৪-৭৫) তারা সেখানে চিৎকার করবে এবং সেখানে তারা কিছুই শুনতে পাবে না।-(২১:১০০)


যাইহোক, দোযখের শাস্তির নমুনা দেখে মুহম্মদের মনে চিন্তার উদ্রেক হল। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করলেন, ‘হে আল্লাহ! জাহান্নামের শাস্তি থেকে আমাদেরকে রক্ষা কর।’ 
সাথে সাথে মুহম্মদ বুঝতে পারলেন তাকে দোযখ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে এসেছে জিব্রাইল।

বেহেস্ত ও দোযখের সংক্ষিপ্ত দর্শন শেষে জিব্রাইল মুহম্মদকে নিয়ে ৬ষ্ঠ আসমানে মূসার কাছে ফিরে এল। তখন মূসা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে রসূলুল্লাহ! বলুন, আপনার উম্মতের উপর এখন কত ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হচ্ছে?’ 
মুহম্মদ বললেন, ‘সর্বশেষ আমার এবং আমার উম্মতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ রয়েছে।’ 
এ কথা শুনে মূসা বললেন, ‘হে রসূলুল্লাহ! আপনি পুনঃরায় আল্লাহর কাছে যান এবং নামাজের সংখ্যা আরও কম করিয়ে আনেন। আমি বনি ইস্রায়েলীকে অনেক পরীক্ষা করেছি।’ 

মুহম্মদ বললেন, ‘হে মূসা! এ ব্যাপারে পুনঃরায় তাঁর কাছে যেতে আমার লজ্জাবোধ হচ্ছে। যেহেতু মহান আল্লাহ আমাকে বলেছেন, ‘এই নামাজ গণনার দিক থেকে এবং আদায়ের দিক থেকে যদিও পাঁচ ওয়াক্ত কিন্তু সওয়াবের দিক থেকে তা পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমান।’ এখন বলুন! এর চাইতে বড় পুরস্কার আর কি হতে পারে?’ 

এতদশ্রবণে মূসা মুহম্মদ ও তার উম্মতদের জন্যে দোয়া করলেন। আর মুহম্মদ জিব্রাইলের সঙ্গে বায়তুল মাকদিসে ফিরে এলেন ও সেখানে রেখে যাওয়া বোরাকে আরোহণ করে মক্কার দিকে রওনা দিলেন। 

ভোর হতে বেশী দেরী নেই। মুহম্মদকে নিয়ে বোরাক মক্কার নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছে গেল। অতঃপর সুবেহ সাদিকের সময় কা’বার সম্মুখে তিনি বোরাক থেকে অবতরণ করলেন।

পূর্ণ ইসরা ও মেরাজের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা পাওয়া যায় Malik bin Sa'sa'ah বর্ণিত এই হাদিসে- The Prophet said, "While I was at the House in a state midway between sleep and wakefulness, (an angel recognized me) as the man lying between two men. A golden tray full of wisdom and belief was brought to me and my body was cut open from the throat to the lower part of the abdomen and then my abdomen was washed with Zam-zam water and (my heart was) filled with wisdom and belief.

Al-Buraq, a white animal, smaller than a mule and bigger than a donkey was brought to me and I set out with Gabriel (Jibreel). When I reached the nearest heaven. Gabriel said to the heaven gate-keeper, 'Open the gate.' The gatekeeper asked, 'Who is it?' He said, 'Gabriel.' The gate-keeper,' Who is accompanying you?' Gabriel said, 'Muhammad.' The gate-keeper said, 'Has he been called?' Gabriel said, 'Yes.' Then it was said, 'He is welcomed. What a wonderful visit his is!' Then I met Adam and greeted him and he said, 'You are welcomed O son and a Prophet.'


Then we ascended to the second heaven. It was asked, 'Who is it?' Gabriel said, 'Gabriel.' It was said, 'Who is with you?' He said, 'Muhammad' It was asked, 'Has he been sent for?' He said, 'Yes.' It was said, 'He is welcomed. What a wonderful visit his is!" Then I met Isa (Jesus) and Yahya (John the Baptist) who said, 'You are welcomed, O brother and a Prophet.'


Then we ascended to the third heaven. It was asked, 'Who is it?' Gabriel said, 'Gabriel.' It was asked, 'Who is with you? Gabriel said, 'Muhammad.' It was asked, 'Has he been sent for?' 'Yes,' said Gabriel. 'He is welcomed. What a wonderful visit his is!' (The Prophet added:). There I met Joseph and greeted him, and he replied, 'You are welcomed, O brother and a Prophet!'


Then we ascended to the 4th heaven and again the same questions and answers were exchanged as in the previous heavens. There I met Idris and greeted him. He said, 'You are welcomed O brother and Prophet.'

Then we ascended to the 5th heaven and again the same questions and answers were exchanged as in previous heavens. there I met and greeted Aaron who said, 'You are welcomed O brother and a Prophet".

Then we ascended to the 6th heaven and again the same questions and answers were exchanged as in the previous heavens. There I met and greeted Moses who said, 'You are welcomed O brother and a Prophet.' When I proceeded on, he started weeping and on being asked why he was weeping, he said, 'O Lord! Followers of this youth who was sent after me will enter Paradise in greater number than my followers.'


Then we ascended to the seventh heaven and again the same questions and answers were exchanged as in the previous heavens. There I met and greeted Ibrahim who said, 'You are welcomed o son and a Prophet.'

Then I was shown Al-Bait-al-Ma'mur (i.e. Allah's House). I asked Gabriel about it and he said, This is Al Bait-ul-Ma'mur where 70,000 angels perform prayers daily and when they leave they never return to it (but always a fresh batch comes into it daily).'

Then I was shown Sidrat al-Muntaha (i.e. a tree in the seventh heaven) and I saw its Nabk fruits which resembled the clay jugs of Hajr (i.e. a town in Arabia), and its leaves were like the ears of elephants, and four rivers originated at its root, two of them were apparent and two were hidden. I asked Gabriel about those rivers and he said, 'The two hidden rivers are in Paradise, and the apparent ones are the Nile and the Euphrates.'


Then fifty prayers were enjoined on me. I descended till I met Moses who asked me, 'What have you done?' I said, 'Fifty prayers have been enjoined on me.' He said, 'I know the people better than you, because I had the hardest experience to bring Bani Israel to obedience. Your followers cannot put up with such obligation. So, return to your Lord and request Him (to reduce the number of prayers.' I returned and requested Allah (for reduction) and He made it forty. I returned and (met Moses) and had a similar discussion, and then returned again to Allah for reduction and He made it thirty, then twenty, then ten, and then I came to Moses who repeated the same advice. Ultimately Allah reduced it to five. 


When I came to Moses again, he said, 'What have you done?' I said, 'Allah has made it five only.' He repeated the same advice but I said that I surrendered (to Allah's Final Order)'" Allah's Apostle was addressed by Allah, "I have decreed My Obligation and have reduced the burden on My slaves, and I shall reward a single good deed as if it were ten good deeds. — al-Bukhari, V4, 54:429.


মুহম্মদের মেরাজ সম্পর্কে অতীতে কোন নবী কি এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন? আমরা যতদূর জানতে পাই তা হল নবী শমূয়েল ইস্রায়েলী বৃদ্ধনেতাদেরকে এবিষয়ে অবগত করেছিলেন। আমরা আর্টিকেলের সমাপ্তি টানব শমূয়েলের সেই বক্তব্য দিয়ে-


Muhammad," Samuel replied, "does not belong to our people, but is a descendant of Ismael, and the last and greatest prophet, to whom even Moses and Christ shall bow down in the day of the resurrection.


"His name, which signifies the 'Much-praised-One,' indicates of itself the many excellences for which he is blessed by all creatures both in heaven and on earth.


"But the wonders which he shall perform are so numerous that a whole human life would not suffice to narrate them. I shall content myself, therefore, with communicating to you but a part of what he shall see in one single night.

"In a frightfully tempestuous night, when the cock refrains from crowing, and the hound from baying, he shall be roused from his sleep by Gabriel, who frequently appears to him in human form; but who on this occasion comes as Allah created him, with his seven hundred radiant wings, between each of which is a space which the fleetest steed can scarcely traverse in five hundred years.

"He shall lead him forth to a spot where Borak, the miraculous horse, the same which Abraham used to mount on his pilgrimages from Syria to Mecca, stands ready to receive him.

"This horse also has two wings like an eagle, feet like a dromedary; a body of diamonds, which shines like the sun, and a head like the most beautiful virgin.

"On this miraculous steed, on whose forehead is engraved 'There is no Lord but Allah, and Muhammad is his messenger,' he is carried first to Medina, then to Sinai, to Bethlehem, and to Jerusalem, that he may pray on holy ground. From thence he ascends by a golden ladder, whose steps are of ruby, of emerald, and hyacinth, into the seventh heaven, where he is initiated in all the mysteries of creation, and the government of the universe.

"He beholds the pious amid all their felicities in Paradise, and sinners in their varied agonies in hell. Many of them are roaming there like ravenous beasts through barren fields; they are those who in this life enjoyed the bounties of Allah, and gave nothing thereof to the poor.

"Others run to and fro, carrying fresh meat in one hand, and corroded flesh in the other; but as often as they would put the former into their mouths, their hands are struck with fiery rods until they partake of the putrefied morsel. This is the punishment of those who broke their marriage vow, and found pleasure in guilty indulgences.

"The bodies of others are terribly swollen, and are still increasing in bulk: they are such as have grown rich by usury, and whose avarice was insatiable.

"The tongues and lips of others are seized and pinched with iron pincers, as the punishment of their calumnious and rebellious speeches, by which they caused so much evil in the earth.

"Midway between Paradise and hell is seated Adam, the father of the human race, who smiles with joy as often as the gates of Paradise are thrown open, and the triumphant cries of the blessed are borne forth, but weeps when the gates of hell are unclosed, and the sighs of the damned penetrate to his ear.

"In that night Muhammad beholds, besides Gabriel, other angels, many of whom have seventy thousand heads, each head with seventy thousand faces, each face with seventy thousand mouths, and each mouth with seventy thousand tongues, each of which praises Allah in seventy thousand languages. He sees, too, the Angel of Reconciliation, who is half fire and half ice: the angel who watches with scowling visage and flaming eyes the treasuries of fire: the Angel of Death, holding in his hand a huge tablet, inscribed with names, of which he effaces hundreds every instant: the angel who keeps the floods, and measures out with an immense balance the waters appointed unto every river and every fountain; and him, finally, who supports the throne of Allah on his shoulders, and is holding a trumpet in his mouth, whose blast shall one day wake the sleepers from the grave.

"He is at last conducted through many oceans of light, into the vicinity of the holy throne itself, which is so vast, that the rest of the universe appears by its side like the scales of a coat of armor in the boundless desert.

"That which shall be revealed to him there," continued Samuel, "is as yet concealed from me; but this I know: He shall gaze on the glory of Allah at the distance of a bow-shot; shall then descend to earth by the ladder, and return on Borak to Mecca as rapidly as he came.

"To accomplish this vast journey, including his stay in Medina, Bethlehem, Jerusalem, and in heaven, he requires so little time, that a water vase, which he overturns in rising from his couch, will not have emptied its contents at his return."--(Book of Chamis, by Husein ibn Muhammed.) 


সমাপ্ত।
বি:দ্র: অনেকের বর্ণনার সাথে আমার বর্ণনার মিল হবে না, এটা এ কারণে যে, আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্ক এভাবেই ধারণ করেছে বিষয়টি। আর এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে, তথ্যের স্বল্পতার কারণে মেরাজ এর স্বরূপ নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের অবকাশ রয়েছে, আর আমার উপস্থাপনাও ত্রুটিমুক্ত হতে পারে না। ও হ্যাঁ, যারা দান্তের বর্ণিত দোযখের ডিটেইল কাহিনী জানতে চান- তারা আমার লেখা আর্টিকেল (বাংলা) পড়তে পারেন- Hell: দান্তের চিত্রিত নরক ও নারকীয়তা।

ছবি: Wikipedia, spiricart, kamilkhanmumtaz.blogspot, religionfacts, hockeyindependent, redbubble, juniperinthedesert.blogspot, columbia.edu, people.tribe, aesaintsoftheday.blogspot, cuentossufies.blogspot, coursesa.matrix.msu.edu, sjpaderborn.wordpress, wikimapia, zombietime,

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন