pytheya.blogspot.com Webutation

১৫ মার্চ, ২০১৩

Blindmen: অন্ধের হস্তীদর্শণ ও বুদ্ধের উপদেশ- একটি বিক্ষিপ্ত ভাবনা।

ছোট এক গ্রামে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী অনেকগুলি পরিবার বাস করত। ধর্ম ভিন্ন হওয়ায় তাদের ধর্মীয় আচার-আচরণ যেমন ছিল ভিন্ন, তেমনি ভিন্ন ছিল তাদের দেবতাগুলিও। এমন কি কারো কারো একাধিক দেবতাও ছিল। এই সব লোকদের মধ্যে কোন একতা ছিল না। সর্বদাই তাদের মধ্যে বিবাদ লেগে থাকত তাদের দেবতা ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে। কেননা প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ ধর্ম এবং ধর্মীয় বিশ্বাসকে শ্রেষ্ঠ বলে প্রচার করত।  

বুদ্ধ.
এইসব লোকজন একদিন দল বেঁধে বুদ্ধের কাছে এল সত্যিকারভাবে খোদাকে দেখতে কেমন তা জানতে। বুদ্ধ (Buddha) তখন তার শিষ্যদেরকে একটা হাতী এবং কয়েকজন অন্ধ ব্যক্তিকে আনতে বললেন। তখন তার শিষ্যরা বড় একটা হাতী ও ছয়জন অন্ধব্যক্তিকে নিয়ে এল। বুদ্ধ অন্ধদেরকে বললেন, ’হাতী দেখতে কেমন তা-কি তোমরা জান?’
তারা বলল, ’না, কারণ আমরা কখনও হাতী দেখিনি।’
তখন বুদ্ধ বললেন, ’তোমাদের সামনে একটা হাতী রাখা আছে, সেটা দেখে তবে আমাদেরকে জানাও।’

অন্ধেরা ভাবল, আমাদের দৃষ্টি নেই তো কি হয়েছে, হাত তো আছে। হাত দিয়েই আমরা হাতীর আকার, আকৃতি ও প্রকৃতি জানতে পারব। তারা অনেকক্ষণ ধরে হাতী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করল, তারপর ঘোষণা করল- ’আমাদের হাতী দেখা শেষ হয়েছে।’
বুদ্ধ তখন বললেন, 'তোমাদের এক একজন করে গ্রামবাসীদেরকে জানাও হাতী দেখতে কেমন।’

ছয় অন্ধের হস্তীদর্শণ।
১ম ব্যক্তি হাতীর পা ধরে ছিল, সুতরাং সে বলল, ’হাতী দেখতে একদম গাছের মত।’
২য় ব্যক্তি হাতীর পেট ধরে ছিল, তাই সে বলল, ’হাতী আর কিছুই না, এটা এমন যেন একটা দেয়াল।’
৩য় ব্যক্তি হাতীর কান ধরে ছিল, তাই সে বলল, ’প্রকৃতপক্ষে হাতী একটা হাত পাখার মত।’

৪র্থ ব্যক্তি হাতীর লেজ ধরে ছিল, তাই সে বলল, ’দড়ি যেমন হাতী তেমন।’
৫ম ব্যক্তি হাতীর দাঁত ধরে ছিল, তাই সে বলল, ’হাতী হচ্ছে একটা বর্শার মত।’
৬ষ্ঠ ব্যক্তি ধরে ছিল হাতীর শুঢ়, তাই সে বলল, ’সাপ আর হাতী খুবই সদৃশ।’

সব শুনে বুদ্ধ গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে বললেন, ’ছয় অন্ধের সকলেই হাতীটি দেখল, কিন্তু দূর্ভাগ্য, তাদের সকলের বর্ণনাই ভিন্ন হল। যাইহোক, তোমরা এখন বল এদের মধ্যে কার উত্তরটা সঠিক?’
গ্রামবাসী বলল, ’তাদের কারো উত্তরই সঠিক নয়। যদিও তারা সত্য বলেছে।’

বুদ্ধ বললেন, 'তোমরা ঠিকই বলেছ, কিন্তু কেন এমন হল? কারণ তারা প্রত্যেকে হাতীর ভিন্ন ভিন্ন অংশ দেখেছে। অন্ধ হওয়াতে তারা কেউই পূর্ণ হাতীকে দেখতে সমর্থ নয়। এমনিই খোদা এবং ধর্ম। যে যেমন খোদা ও তাঁর গুণাবলি দেখেছে বা জেনেছে, সে তেমনি করেই নিজের বিশ্বাস তৈরী করে নিয়েছে, গড়ে নিয়েছে নিজের দেবতা। সুতরাং তোমাদের কারও উচিৎ নয় অন্যের ধর্ম ও বিশ্বাসে আঘাত করা।’

-বুদ্ধের উপদেশ আমরা শুনলাম। কিন্তু এই উপদেশে কি আমাদের পেট ভরবে, আমাদের চাহিদা মিটবে? তবে কি আমরা প্রকৃত সত্য তথা সত্যের সত্য খুঁজব না? অবশ্যই খুঁজব এবং যতক্ষণ না পাব খুঁজে ফিরব। আর তাই আমরা এ বিষয়ে অর্থাৎ 'সত্য কি?' সে সম্পর্কে রাজা বিক্রমাদিত্য ও দিবাকরের কথোপকথনটাও জেনে রাখব-  

রাজা বিক্রমাদিত্য.
বিক্রমাদিত্য: 'সত্য কি? যা বারবার বলা হয়, যা জোর দিয়ে বলা হয়, যা মান্যবরেরা বলেন বা অধিকাংশ লোক যা সমর্থন করেন?’
দিবাকর: 'কোনটিই না। প্রত্যেকের নিজস্ব সত্যের সংজ্ঞা রয়েছে আর তা শর্তাধীন।’
বিক্রমাদিত্য: 'তবে যা প্রচলিত রয়েছে? সেগুলো তো আমাদের পিতৃপুরুষ প্রতিষ্ঠিত, আর তা কি সময়ের পরীক্ষা পার করে আসেনি?'

দিবাকর: 'পরীক্ষা করলে কি পিতৃপুরুষদের প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি সত্য ধারণ করে? যদি না করে, 'I am not here to justify it for the sake of saving the traditional grace of the dead, irrespective of the wrath I may have to face'তিনি আরও বললেন, 'All doctrines are right in their own respective spheres- but if they encroach upon the province of other doctrines and try to refute their view, they are wrong. A man who holds the view of the cumulative character of truth never says that a particular view is right or that a particular view is wrong.'
-জটিল কথাবার্তা? তাহলে বরং আমরা রিফ্রেশের জন্যে জন গুডফ্রের অন্ধের হাতী দেখা নিয়ে লিখিত কবিতাটি শুনি-

The Blind Men and the Elephant.
                              ---John Godfrey Saxe.

John Godfrey Saxe.
IT was six men of Hindustan
To learning much inclined,
Who went to see the Elephant
(Though all of them were blind),
That each by observation
Might satisfy his mind.

The First approached the elephant,
And happening to fall
Against his broad and sturdy side,
At once began to bawl:
"God bless me!- but the Elephant
Is very like a wall!"

The Second, feeling of the tusk,
Cried: "Ho!- what have we here
So very round and smooth and sharp?
To me 't is mighty clear
This wonder of an Elephant
Is very like a spear!"

The Third approached the animal,
And happening to take
The squirming trunk within his hands,
Thus boldly up and spake:
"I see," quoth he, "the Elephant
Is very like a snake!"

The Fourth reached out his eager hand,
And felt about the knee.
"what most this wondrous beast like
Is mighty plain," quoth he;
"T is clear enough the Elephant 
Is very like a tree!"

The Fifth, who chanced to touch the ear,
Said: "E'en the blindest man
Can tell what this resembles most;
Deny the fact who can,
This marvel of an Elephant
Is very like a fan!"

The Sixth no sooner had begun
About the best to grope,
Than, seizing on the swinging tail
That fell within his scope,
"I see," quoth he, "the Elephant
Is very like a rope!"

And so these men of Hindustan
Disputed loud and long,
Each in his own opinion
Exceeding stiff and strong,
Though each was partly in the right,
And all were in the wrong!

So, oft in theologic wars
The disputants, I ween,
Rail on in utter ignorance
Of what each other mean,
And prate about an Elephant
Not one of them has seen!

কবিতাটিতে কি দেখলাম? পাদ্রি, পুরোহিত ও ঈমামদের নিজস্ব মতাদর্শ অন্ধ ও অজ্ঞের মত আঁকড়ে থাকার বিষয়ে আক্ষেপ করে বুদ্ধ যেমন বলেছিলেন-
"How they cling and wrangle, some who claim
For preacher and monk the honored name!
For, quarreling, each to his view they cling. 
Such folk see only one side of a thing."

ঠিক এমনি একটু উপদেশের কথা (moral) জুড়ে দিয়েছেন মি: গুডফ্রে তার কবিতার শেষ ৬ পংক্তির মাধ্যমে। কি! বোঝা গেল? যেখানে যাবেন সেখানেই উপদেশ। জ্ঞানী-গুণিদের সকলেই উপদেশ দেন্নেওয়ালা। উপদেশের হাত থেকে আমাদের মত নিম্নবুদ্ধি বৃত্তিক সাধারণ মানুষদের রেহাই নেই।

এক অন্ধ পথ দেখাছে পাঁচ অন্ধকে।
যাইহোক, জ্ঞানী-গূণিদের থেকে আমরাই বা কম কিসে? সুতরাং এখন আমরা আমাদের নিজস্ব মতামত দেই। প্রথমেই বলি অন্ধদের নিয়ে এতসব আলোচনা কেন? এরা কি কোন কাজের? এক অন্ধ তো আরেক অন্ধকেই পথ দেখাতে পারে না। কি সত্যি না? ধরেন, একজন অন্ধ পথ দেখাচ্ছে আরও পাঁচজনের। তারা একে অন্যের পিছে লাঠি আঁকড়ে ধরে সাঁরিবদ্ধ ভাবে পথ চলছে। তো সামনে এক গর্ত পড়ল। কি হল? সকলেই সেই গর্তে পড়ল একজনের উপর আরেকজন। যিশুও এমনটা বলেছেন, "If a blind person leads a blind person, both of them will fall into a hole."-Jesus, gospel of Thomas, 34. তাই বলছিলাম অন্ধরা সমাজের একটা জঞ্জাল ছাড়া কিছুই নয়।

তবে অন্ধেরা জঞ্জাল হলেও অন্ধের হাতী দেখার গল্পটি কিন্তু জঞ্জাল নয়। এ গল্পটি তো এখন রূপক হিসেবে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ঢুকে পড়েছে। পদার্থ বিজ্ঞানে এটা ওয়েভ পার্টিকেল ডুয়ালিটিতে উপমা হিসেবে দেখান হয়েছে। আবার বায়োলজিতে, পলিক্লোনাল বি সেল রেসপন্সের ক্ষেত্রে এটা একটা চমৎকার উপমা হিসেবে কাজ করে।

যাইহোক, আমাদের মত সাধারণ মানুষ যারা কেবল উপরের কবিতাটুকুই পড়েছি তাদের প্রতিক্রিয়া এখন আমরা দেখি-

--This is a fascinating and touching allegory of the presence of God.
-- It is showing people how stupid mankind can be.
-- It is anti-scholastic.
-- It is just a tale copied by Rumi from Sanai- ইত্যাদি।.

সব শেষে আমরা এই অন্ধের হাতি দেখা গল্পটি উল্টিয়ে দেই, দেখি কেমন হয়-

ছয় অন্ধ হাতী নিজেদের মধ্যে আলোচনা করল মানুষ কেমন দেখতে তা তারা সরেজমিনে পরীক্ষা করে দেখবে। তারা বিষয়টি মাহুতকে জানালে মাহুত তাদের সামনে শুয়ে পড়ল। The first blind Elephant felt the man and declared, "Men are flat." After the other Elephants felt the man, they agreed.

সমাপ্ত।

বি:দ্র: অনেকেই অন্ধকে জঞ্জাল বলাতে ক্ষেপে গেছেন আমার উপর, বলেছেন, 'হোমার কি জন্মান্ধ ছিল না? সে কি ইলিয়াদ রচনা করেনি? হলিউড বলিউডে অন্ধদের নিয়ে কি কম ছবি হয়েছে? সেসব কি বক্স অফিস মাতিয়ে ছাড়েনি? আপনে মিয়া, দুই খান চক্ষু নিয়া কি এমন ছিঁড়ে আঁটি বেঁধে ফেলেছেন, শুনি?'
--'ভাই-রে, মাফ কইরা দেন, ভুলে  কইয়া ফালাইছি।'

ছবি: Wikipedia, innovent.tv.

1 টি মন্তব্য:

  1. ভাই আপনার খোঁচাত্তক লেখাটা পইড়া মনে হইতাছে আমার মত হাজার কানা দেশের আনাচে কানাচে কানায় কানায় পরিপূর্ণ। আমার জন্য এই লেখাটি একটি উচিৎ শিক্ষাও বটে। কিন্তু আফসোস আপনার মত এই জাতের আরও কিছু লেখা পড়েছি সেখানে অনেক কে তিরস্কার করলে নিজের পক্ষ সমর্থন এর বাহিরে তারা যেতে চায় না, বাড়াবাড়ি করে। যাই হোক ভাল লাগল।

    উত্তরমুছুন