pytheya.blogspot.com Webutation

১ জানুয়ারী, ২০১৩

Barnabas: বার্নাবাসের গসপেল -এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।


বার্নাবাসের গসপেল (The Gospel of Barnabas) কাল পরিক্রমায় রক্ষাপ্রাপ্ত একমাত্র গসপেল। এর রচয়িতা বার্নাবাস। যীশুর তিন বছর ব্যাপী ধর্ম প্রচারকালে তিনি অধিকাংশ সময়ই তার বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে ছিলেন। এর ফলে তিনি যীশুর ধর্মপ্রচার স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে সরাসরি অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান লাভ করেন যা চারটি স্বীকৃত গসপেলের রচয়িতাদের কারও ছিল না।

মথি।
প্রথম গসপেলের রচয়িতা জন মার্ক (John Mark)। এটি লিখিত হয় ৬০-৭৫ সনে। তিনি ছিলেন সেন্ট বার্নাবাসের (St. Barnabas)- এর বোনের পুত্র। যীশুর সাথে তার কখনোই সাক্ষাৎ হয়নি। সুতরাং তিনি তার গসপেলে যীশুর জীবন ও শিক্ষা সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন তা তিনি অবশ্যই অন্য কারো কাছ থেকে শুনেছেন বা জেনেছেন। নিউ টেষ্টামেন্টের গ্রন্থসমূহ থেকে জানা যায় যে পল ও বার্নাবাসের সাথে বহু ধর্মপ্রচার বিষয়ক সফরে তিনি সঙ্গী হয়েছিলেন। তদুপরি তথ্যের জন্যে তিনি পলের উপর নির্ভর করেছিলেন, এটা হতেই পারে না। এখানে একমাত্র যুক্তি সংগত সিদ্ধান্ত এটাই যে মামা বার্নাবাস যীশু সম্পর্কে তাকে যা বলেছিলেন, তিনি তার গসপেলে সেভাবেই পুনরাবৃত্তি করেছেন। কেউ কেউ বলেন যে মার্ক পিটার এর দোভাষী হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং তিনি পিটারের কাছ থেকে যা শুনেছেন তাই লিখেছেন। এটাও সত্য হতে পারে।

২য় গসপেলের রচয়িতা মথি (Matthew) ছিলেন একজন ট্যাক্স কালেক্টর (কর আদায়কারী) তথা নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা। তিনি যীশুর সাথে ভ্রমণ করেননি।

লুক।
৩য় গসপেলের রচয়িতা লূক (Luke) এবং তার গসপেলটি অনেক পরে লিখিত। তাছাড়া মথি ও মার্কের মত তার গসপেলের বর্ণনার উৎস একই। লুক ছিলেন পলের (পৌল-Paul) চিকিৎসক এবং পলের মত তিনিও কখনো যীশুকে দেখেননি।

অন্যদিকে ৪র্থ গসপেলের রচয়িতা জনের (ইউহোন্না) উৎস ভিন্ন এবং আরো পরে ১শ’ সনের দিকে রচিত। তাকে যীশুর শিষ্য জন (John) মনে করা ভুল হবে, কারণ তিনি ভিন্ন ব্যক্তি। এই গসপেলকে যীশুর জীবনের নির্ভরযোগ্য বিবরণ বলে গণ্য করা উচিত হবে কিনা এবং তা পবিত্র গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা তা নিয়ে দু’শ বছর ধরে উত্তপ্ত বিতর্ক চলেছিল।

সুতরাং মার্কের গসপেল অন্য ৩টি গসপেলের অভিন্ন উৎস হতে পারে কিনা তা বিতর্কের বিষয়। পক্ষান্তরে এই ৩টি গসপেলে যে সব ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, বার্নাবাসের গসপেলে সেগুলো রয়েছে। শুধু তাই নয়, বরং বলা যায় বার্নাবাসের গসপেলে অন্যান্য গসপেলগুলোর চেয়ে যীশুর জীবনের অনেক বেশি দিক বর্ণিত হয়েছে।

জন (ইউহোন্না)।
তবে বিতর্কিত প্রেক্ষাপট যাই থাকুক না কেন, বার্নাবাস সম্পর্কে এ ঐশী নির্দেশের কথা স্মরণ যোগ্য: 'যদি সে তোমাদের কাছে আসে, তাকে স্বাগত জানাও।' কলোসিয়ানদের কাছে পত্র (Epistle to the Colossians, ৪:১০)

এদিকে বার্নাবাস কখন এ গসপেল রচনা করেন তা জানা যায় না। তবে সম্ভবত জন মার্কের (John Mark) সাথে তিনি সাইপ্রাস প্রত্যাবর্তন করার পূর্বে কিছুই রচনা করেননি। যীশুর ঊর্ধ্বারোহণের কিছু দিন পর টারসসের পল (Paul of Tarsus) এর সাথে সম্পর্কচ্ছেদের পর দু’জন সাইপ্রাস যাত্রা করেছিলেন।পল বার্নাবাসের সাথে পুনরায় ভ্রমণে অস্বীকৃতি জানালেও মার্ক তাঁর সহযাত্রী হন। তবে এ গসপেল কখন লেখা হয়েছিল তা ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ এই যে, এটি যীশুর জীবন ও কর্ম বিষয়ে একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ।

জন মার্ক।
৩২৫ সন পর্যন্ত আলেকজান্দ্রিয়ার চার্চগুলোতে বার্নাবাসের গসপেল একটি গির্জা অনুমোদিত গসপেল (Canonical Gospel) হিসেবেই স্বীকৃত ছিল। এ গসপেলটি ইরানিয়াসের (Iraneus, ১৩০-২০০ সন) লেখালেখির কারণেই প্রথম ও ২য় শতাব্দীতে বেশ আলোচিত ছিল। ইরানিয়াস যীশুর শিক্ষার মধ্যে পৌত্তলিক, রোমান ধর্ম ও প্লাটোনিক দর্শনের মিশ্রণ ঘটানোর দায়ে পলকে অভিযুক্ত করেছিলেন। আর তিনি তার মতের সমর্থনে বার্নাবাসের বাইবেল থেকে ব্যাপক উদ্ধৃতি দিতেন।

৩২৫ সনে নিকাইয়ার (Nicea) বিখ্যাত কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ত্রিত্ববাদকে পলীয় চার্চের আনুষ্ঠানিক ধর্মমত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তের একটি ফল হয় এই যে, সে সময় যে ৩শ’র মত গসপেল বিদ্যমান ছিল, সেগুলোর মধ্য থেকে চারটিকে চার্চের অনুমোদিত গসপেল হিসেবে মনোনীত করা হয়। অন্যান্য গসপেলেগুলো যার মধ্যে বার্নাবাসের গসপেলও ছিল, সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফরমান জারি করা হয় যে কারো কাছে অননুমোদিত গসপেল পাওয়া গেলে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। তবে বার্নাবাসের গসপলের ক্ষেত্রে এ চেষ্টা সম্পূর্ণ ফলপ্রসূ হয়নি। আজকের দিনেও এ গ্রন্থের অস্তিত্ব বজায় থাকা থেকেই তার প্রমাণ পাওয়া যায়। 

পল।
ডামাসাস (Damasus, ৩০৪-৩৮৪ সন) ৩৬৬ সনে পোপ হন। তিনি ফরমান জারি করেন যে বার্নাবাসের গসপেল পাঠ করা উচিত নয়। কায়সারিয়ার বিশপ গেলাসাস (Gelasus)-এ ফরমান সমর্থন করেন। গেলাসাস ৩৯৫ সনে পরলোক গমন করেন। তিনি ‘এপোক্রাইফাল’(Apocryphal) গ্রন্থগুলোর যে তালিকা তৈরি করেন তার মধ্যে এ গসপেলটিও ছিল। এপোক্রাইফা অর্থ 'জন-সাধারণের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা'। ফলে এ গসপেলটি তখন সহজলভ্য ছিল না। তবে চার্চ নেতারা তাদের কথায় এ গসপেলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করতেন। বাস্তবে জানা যায় যে পোপ ৩৮৩ সনে বার্নাবাসের বাইবেলের একটি কপি সংগ্রহ করেছিলেন ও তা তার ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে রেখেছিলেন। 

এ গসপেল সংক্রান্ত বিষয়ে আরো বেশ কিছু ফরমান জারি করা হয়। ৩৮২ সনে পাশ্চাত্যের চার্চগুলো এবং ৪৫৬ সনে পোপ ইনোসেন্ট কর্তৃক (Innocent) এ গসপেল নিষিদ্ধ করে ফরমান জারি করা হয়। ৪৯৬ সনে গ্লাসিয়ান ফরমানে নিষিদ্ধ গ্রন্থের তালিকায় 'Evangelium Barnabe’ও অন্তর্ভুক্ত হয়। হরমিসডাস (Hormisdas) এর ফরমানেও (যিনি ৫১৪ সন থেকে ৫২৩ সন পর্যন্ত পোপ ছিলেন) এ নিষেধাজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বি দ্য মন্টফাকো (B.De. Montfaucon, ১৬৫৫-১৭৪১) কর্তৃক প্রণীত চ্যান্সেলর সেগুইয়ার (Chancellor Seguier, ১৫৫৮-১৬৭২)- এর গ্রন্থাগারের গ্রীক পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগে এ সকল ফরমানের উল্লেখ করা হয়েছে। 

নাইসেফোরাসের (NicephorusStichometry তেও নিম্নরূপে বার্নাবাসের গসপেলের উল্লেখ করা হয়েছে:
ক্রমিক নং ৩, বার্নাবাসের পত্রাবলী (Epistle of Barnabas) ... ১,৩০০ পংক্তি।  
আবার Sixty Books- এর তালিকাতে বার্নাবাসের গসপেলের নিম্নরূপ উল্লেখ রয়েছে:
ক্রমিক নং ১৭। প্রেরিত দূতদের ভ্রমণ ও শিক্ষা।
ক্রমিক নং ১৮। বার্নাবাসের পত্রাবলি।
ক্রমিক নং ২৪। বার্নাবাসের গসপেল। 
এই বিখ্যাত তালিকা Index নামে পরিচিত।

ফ্রান্সের রাজার গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি সমূহের ক্যাটালগ প্রস্তুতকারী কোটেলেরিয়াস (Cotelerius) ১৭৮৯ সনে প্রণীত Index of Scriptures- এ বার্নাবাসের গসপেলকে তালিকাভূক্ত করেন। অক্সফোর্ড বোদলেইয়ান লাইব্রেরির বারো সিয়ান (Baroccian) সংগ্রহের ২০৬ তম পাণ্ডুলিপিতে এই গসপেলের বর্ণনা রয়েছে। এথেন্সের একটি যাদুঘরে বার্নাবাসের গসপেলের একটি খন্ডিত কপি রয়েছে। গ্রীক ভাষায় অনুদিত এ কপিটি পুড়িয়ে ফেলা একটি গসপেলের রক্ষাপ্রাপ্ত অংশ। 
বার্নাবাস।
সম্রাট জেনোর (Zeno) শাসনামলের চতুর্থ বছরে ৪৭৮ সনে বার্নাবাসের দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হয় এবং তার নিজের হাতে লেখা গসপেলের একটি কপি তার বুকের উপর রাখা অবস্থায় পাওয়া যায়। ১৬৯৮ সনে অ্যান্টওয়ার্প (Antwarp) থেকে প্রকাশিত Acta Sanctorum (Boland Junii, Tome II)- এর ৪২২-৪৫০ পৃষ্ঠায় এর উল্লেখ রয়েছে। রোমান ক্যাথলিক চার্চ দাবি করেছিল যে বার্নাবাসের কবরে প্রাপ্ত গসপেলটি মথির রচিত। কিন্তু এ কপিটি প্রদর্শনের কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ভ্যাটিকানের '২৫ মাইল লম্বা লাইব্রেরি' অভ্যন্তরেই এর বিষয়বস্তু অজ্ঞাত রয়ে গেল। 

বার্নাবাসের গসপেলের যে পাণ্ডুলিপি থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা হয়েছে সেটি আদতে ছিল পোপ সেক্সটাস (Sextus, ১৫৮৯-৯০) এর কাছে। ফ্রা মারিনো (Fra Marino) নামে তার এক যাজক বন্ধু ছিলেন। তিনি ইরানিয়াসের লেখা পাঠ করে বার্নাবাসের বাইবেলের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ইরানিয়াস তার লেখায় বার্নাবাসের বাইবেল ব্যাপকভাবে উদ্ধৃত করতেন। 

একদিন মারিনো পোপের সাথে সাক্ষাৎ করতে যান। তারা একসাথে দুপুরের আহারের পর কথাবার্তা বলতে থাকেন। এ সময় পোপ ঘুমিয়ে পড়েন। ফাদার মারিনো তখন পোপের ব্যক্তিগত লাইব্রেরির বইগুলো ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি বার্নাবাসের গসপেলের একটি ইতালীয় পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন। সেটি নিজের আলখেল্লার আস্তিনে লুকিয়ে মারিনো পোপের বাড়ি ত্যাগ করেন এবং ভ্যাটিক্যান থেকে চলে যান। বিভিন্ন লোকের হাত ঘুরে পাণ্ডুলিপিটি অবশেষে Amsterdam এ এমন এক ব্যক্তির হাতে পৌঁছে যিনি ছিলেন ‘স্বনাম খ্যাত ও ক্ষমতাশালী’। তিনি গসপেলটিকে অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করতেন। তার মৃত্যুর পর গসপেলটি প্রুশিয়ার রাজার এক সভাসদ জে, ই, ক্রেমারের (JE Cremer) হাতে পড়ে। ১৭১৩ সনে ক্রেমার বিখ্যাত গ্রন্থপ্রেমী স্যাভয় এর যুবরাজ ইউজিনকে (Prince of Eugene of Savoy) পাণ্ডুলিপিটি উপহার দেন। ১৭৩৮ সনে প্রিন্সের সম্পূর্ণ গ্রন্থাগারের সাথে পাণ্ডুলিপিটি ভিয়েনার হফবিবলিওথেক (Hofbibliothek)- এ পৌঁছে এবং এখনও তা সেখানেই আছে।

বিশিষ্ট ঐতিহাসিক টোলান্ড (Toland) বার্নাবাসের গসপেলের এ পাণ্ডুলিপিটি পাঠ করেছিলেন এবং গসপেল সম্পর্কে তিনি তার Miscellaneous Works-এ এর উল্লেখ করেছেন-'এটি আগাগোড়া যথার্থই এক ধর্মগ্রন্থ' (This is in Scripture Style to a hair)। তিনি আরও বলেছিলেন: 'এ পর্যন্ত প্রাপ্ত গসপেল সমূহে যীশুর কাহিনি বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে এ গসপেলটিতে এই ভিন্নতা আরো বেশি লক্ষণীয়। মূল থেকে নিকটতর ছিল বিধায় কেউ কেউ এর প্রতি অধিকতর অনুকূল ধারণা পোষণ করবে। কারণ কোন একটি ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পরই শুধু সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যায়। তাই মূল ঘটনা থেকে যতই দূরে সরে যাওয়া হয় ততই তার আবেদন হ্রাস পায়।' 
উল্লেখ্য, স্প্যানিশ ভাষায় আরেকটি গসপেল এক সময় ছিল। গসপেলের ইতালীয় পাণ্ডুলিপিটি যে সময় হফবিবলিও থেকে দেওয়া হয় সেই একই সময়ে স্প্যানিশ গসপেলটিও ইংল্যান্ডের একটি কলেজ লাইব্রেরিকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। রহস্যজনকভাবে সে পাণ্ডুলিপিটি অন্তর্হিত হওয়ার অনেক আগে থেকেই সেটিকে ইংল্যান্ডে খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

ক্যানন (Canon) ও মিসেস র‌যাগ (Mrs Ragg) ইতালীয় পাণ্ডুলিপিটি ইংরেজীতে অনুবাদ করেন। ১৯০৭ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস কর্তৃক তা মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। রহস্যজনক ভাবে এর প্রায় সকল কপিই বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়। মাত্র ২টি কপি এখন টিকে আছে। একটি রয়েছে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে এবং অন্যটি ওয়াশিংটনের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস-এ। লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের কপিটির একটি মাইক্রো ফিল্ম কপি সংগ্রহ করা হয় এবং তা পাকিস্তানে মুদ্রিত হয়। বার্নাবাসের গসপেলের সংশোধিত সংস্করণ পুনর্মুদ্রণের লক্ষ্যে এই সংস্করণেরই কপি ব্যবহার করা হয়।

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia. 

বি:দ্র: অনেকে বার্ণাবাসের গসপেলকে ভূয়া বলে উড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেন। তবে পুস্তকটি যে নবী মুহম্মদের আগমনের বহু পূর্বে লেখা তার প্রমান এ আটিকেলে রয়েছে। তবে কেন এবং কিভাবে এতে নবী মুহম্মদের এত বিবরণ এল তা গবেষণার বিষয়। আর যদি এটা ফরজারি হয় তথাপি তা হবে কোন খৃষ্টান বা 
ইহুদির কাজ, কোন মুসলিমের নয়। কারণ কিছু তথ্য তে রয়েছে যা কোন মুসলিমের জানা সম্ভব ছিল না, সর্বোপরি, মুসলিমের লেখা হলে তা কেন তাদের কারো দ্বারা উৎঘাটিত হল না।

যা হোক, বার্ণাবাসের গসপেলটিকে যদি ভূয়াও হয় তথাপি ধর্মগ্রন্থ হিসেবে বিবেচনায় অন্য তিনটি গসপেলের চাইতে মর্য়াদায় অনেক উপরে থাকবে এটি এর পান্ডিত্যপূর্ণ তথ্য ও তার উপস্থাপনা, তত্ত্বের ব্যাখ্যা ও বিন্যাস পদ্ধতির জন্যে।সত্যি বলতে কি, সেক্ষেত্রে জ্ঞানে লেখককে জেসাসের সমকক্ষ বলে গণ্য করা আদৌ অযোক্তিক হবে না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন