pytheya.blogspot.com Webutation

২৪ জানুয়ারী, ২০১৩

Abraham: সৃষ্টিকর্তার খোঁজ পাওয়া।


কলদীয় দেশের উরে ছিল ইব্রাহিমের বাড়ী। পারস্য উপসাগরের নিকটবর্তীতে ফোরাত নদীর তীরে ছিল এই শহর। তার পিতার নাম ছিল আজর (অনেকের মতে তেরাহ)। তিনি ছিলেন মূর্ত্তিপূজারী এবং তিনি দেবমূর্ত্তি তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ইব্রাহিম ছাড়াও আজর এর আরও দুই পুত্রসন্তান ছিল নাহোর ও হারুণ নামে। হারুণ পুত্র লুতকে রেখে অল্পবয়সে মারা গিয়েছিলেন।

প্রাচীন উর নগরী।
ইব্রাহিমের বয়স যখন ৭ বৎসর তখন থেকেই সে দেবতাদের বিষয়ে আগ্রহী হয়েছিল। সুতরাং একদিন সে তার পিতাকে জিজ্ঞেস করল, 'বাবা, মানুষ কি তৈরী করে?’

পিতা বললেন, 'মানুষ। যেমন, আমি তোমাকে তৈরী করেছি আর আমার বাবা তৈরী করেছিলেন আমাকে।’
ইব্রাহিম (Abraham) বলল, 'বাবা, এ এমন নয়; কেননা আমি এক বৃদ্ধকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুনেছি- 'হে খোদা, কেন তুমি আমাকে সন্তান দিচ্ছ না?’

উত্তরে পিতা বললেন, 'তা সত্যি, আসলে দেবতা মানুষকে মানুষ তৈরী করতে সাহায্য করে, কিন্তু তিনি নিজে ঐ কাজে হাত লাগান না। মানুষ কেবল তার কাছে প্রার্থনা করবে তাকে সন্তান, মেষশাবক এবং ভেড়া দেবার জন্যে আর দেবতা তাকে সেগুলো দিতে সাহায্য করবেন।’
ইব্রাহিম, 'বাবা, কতগুলো দেবতা রয়েছেন?’
পিতা, 'সংখ্যায় অগণ্য।’

দেবতা বা'ল।
ইব্রাহিম, 'আচ্ছা বাবা, আমি যদি এক দেবতার সেবা করি, আর তাতে যদি অন্য দেবতা রেগে যায় যেহেতু আমি তার সেবা করছিনে, তখন আমি কি করব? যে কোন কারণে যদি দেবতাদের মধ্যে বিরোধ বাঁধে এবং তাদের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে বা ধর, যে দেবতা আমার প্রতি রূষ্ট সে যদি আমার নিজের দেবতাকে হত্যা করে, তাহলে আমি কি করব? এটা অবশ্য ঠিক যে ঐ দেবতা আমাকেও হত্যা করবে।’

দেবতা বা'ল।
একথা শুনে তার পিতা হেসে ফেললেন, বললেন, 'বাবা, ভয়ের কোন কারণ নেই, কেননা কোন দেবতা অন্য দেবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে না; কখনও না, দেখ, বড় মন্দিরগুলোতে হাজার খানেক দেবতা রয়েছেন, আর তাদের সাথে রয়েছেন সবচেয়ে বড় দেবতা বা’ল; আর আমার বয়স এখন প্রায় সত্তুর এবং আমি আজ পর্যন্ত এক দেবতাকে অন্য দেবতার উপর আক্রমণে লিপ্ত হতে দেখিনি। আর সত্যি বলতে কি, সব মানুষ এক দেবতাকে সেবা করে না, কেউ করে একজনকে, কেউ অন্যজনকে।’
ইব্রাহিম বলল, 'তাহলে বলা যায়, তাদের নিজেদের মধ্যে শান্তি রয়েছে।’
পিতা বললেন, 'তা আছে।’

তখন ইব্রাহিম বলল, 'আচ্ছা বাবা, দেবতারা দেখতে কেমন হয়?’
পিতা বললেন, 'ওরে বোকা, প্রতিদিন আমি দেবতা তৈরী করছি, যা আমি অন্যের নিকট বিক্রি করে চাল-আটা কিনছি, আর তুমি জান না দেবতারা দেখতে কেমন!’

আর ঐ সময় তিনি একটা মূর্ত্তি তৈরী করছিলেন। 'এটা’ -তিনি বললেন, 'তাল কাঠের, ওটা জলপাইয়ের, ঐ ছোটটা আইভরির; দেখ কত সুন্দর এটা! দেখে কি মনে হচ্ছে না, এটা জীবন্ত? সত্যি বলতে কি, এর কেবল শ্বাসটাই নেই!’
ইব্রাহিম বলল, 'বল কি বাবা! দেবতাদের শ্বাস নেই? তাহলে তারা শ্বাস দেবে কিভাবে? আর তাদের যেহেতু জীবন নেই, তাহলে কিভাবে তারা জীবন দেবে? এটা অবশ্যই বাবা, এগুলো দেবতা নয়।’
বৃদ্ধ পিতা রেগে গেলেন, বললেন, 'তোমার যদি বোঝার বয়স হত, আমি এই কুঠার দিয়ে তোমার মাথা ভেঙ্গে দিতাম: কিন্তু মনে শান্তি রাখ, কারণ তোমার বোঝার বয়স হয়নি।’

ইব্রাহিম বলল, 'বাবা, দেবতারা যদি মানুষ বানাতে সাহায্য করতে পারে, তাহলে এটা কেমন যে মানুষ দেবতাদের তৈরী করবে? আর যদি দেবতারা কাঠের তৈরী হয়, তাহলে তো কাঠ পোড়ান মহাপাপ। এখন আমাকে বল বাবা, এটা কেমন হয় যে, যখন তুমি এতগুলো দেবতা তৈরী করেছো, তখন দেবতারা কেন তোমাকে অনেকগুলো ছেলেমেয়ে তৈরী করতে সাহায্য করছে না যাতে তুমি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশী শক্তিশালী হও?’

তার পিতা তার কথা শুনে তার পাশে এসে বসলেন; ইব্রাহিম বলে চলল, 'আচ্ছা বাবা, এমন কি কোন সময় ছিল, যখন পৃথিবীতে কোন মানুষ ছিল না?’
'হ্যাঁ,’ বৃদ্ধ বললেন, 'কিন্তু কেন?’
'কারন,’ ইব্রাহিম বলল, 'আমি জানতে চাচ্ছি কে প্রথম দেবতাটা তৈরী করেছিলেন।’
'এবার আমার বাড়ী থেকে দূর হও!’ বৃদ্ধ বললেন, 'আর আমাকে এই দেবতাকে তৈরীর কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করতে দাও, এখন আমার সাথে একটা কথাও বলবে না; কেননা তুমি ক্ষুধার্থ হলে তোমার রুটি দরকার হবে, কথা দিয়ে পেট ভরবে না।’

ইব্রাহিম বলল, 'একটা সুন্দর দেবতা সত্যি বলতে কি, তুমি তাকে ইচ্ছেমত কাটছ, কিন্তু সে নিজেকে রক্ষা করতে পারছে না!’
বৃদ্ধ রেগে গেলেন এবং বললেন, 'সারা পৃথিবী বলছে এটা একটা দেবতা আর তুমি পাগল বলছ এটা তা নয়। দেবতা সাক্ষী, তোমার বয়স পরিণত হলে আমি হয়ত: তোমাকে হত্যা করতাম।’- একথা বলে তিনি ইব্রাহিমকে একটা লাথি লাগালেন এবং তাড়িয়ে বাড়ীর বাইরে বের করে দিলেন। -(বার্ণাবাসের গসপেল, অধ্যায়-২৬)

ইহুদি রাব্বানিক সাহিত্যে রয়েছে- "Terah was an idolater, and, as he went one day on a journey, he appointed Abraham to sell his idols in his stead. As often as a purchaser came, Abraham inquired his age, and when he replied, 'I am fifty or sixty years old,' 
He said, 'Woe to the man of sixty who would worship the work of a day!' 
So that the purchasers went away ashamed."-Vide Geiger, i., p. 124.

ইব্রাহিমের বয়স যখন বার, সেইসময় তার পিতা একদিন তাকে বললেন, 'আগামীকাল সব দেবতাদের উৎসব; সুতরাং আমার দেবতা মহান বা’লের জন্যে একটা উপহার নিয়ে আমরা মন্দিরে যাব। আর তুমিও তোমার নিজের জন্যে একটা দেবতা বেঁছে নিও, কেননা একটা দেবতা পাবার বয়েস তোমার হয়েছে।’
ইব্রাহিম উত্তরে বলল, 'অবশ্যই, বাবা।’

চন্দ্র দেবতা সিনের মন্দির, উর।
পরদিন সকালে পিতা-পুত্র দেব-মন্দিরে গেল। তারা ব্যতিত তখনও কেউ সেখানে গিয়ে পৌঁছেনি। যাবার সময় ইব্রাহিম তার পরিধেয় বস্ত্রের মধ্যে একটা কুঠার লুকিয়ে নিয়েছিল। তারপর তারা যখন মন্দিরে প্রবেশ করল আর জনসমাগমও বেড়ে গেল, তখন ইব্রাহিম মন্দিরের ভিতরের দিকে যেদিকটা বেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল, সেখানকার এক দেবমূর্ত্তির আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে ফেলল।

এদিকে ইব্রাহিম যখন বিচ্ছিন্ন ছিল, তখন তার পিতা ভাবলেন সে হয়ত: তার আগেই বাড়ী ফিরে গেছে। সুতরাং তিনি সেখানে অপেক্ষা করে তাকে আর খোঁজাখুঁজি করলেন না। -(বার্ণাবাসের গসপেল, অধ্যায়-২৭)

এদিকে সকলে যখন মন্দির থেকে বেরিয়ে গেল, তখন পুরোহিতও মন্দিরের দরজা বন্ধ করে চলে গেল। এসময় ইব্রাহিম তার কুঠার নিয়ে একে একে সকল দেবতার পাগুলি কেটে ফেলল, বাদ রাখল কেবল মহান দেবতা বা’লকে। আর সে তার পায়ের কাছেই ঐ কুঠারটা রেখে দিল। এদিকে পা কাটার দরুণ সব দেবতাগুলোই পড়ে গিয়ে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল। কেননা, এমনিতে সেগুলি ছিল যথেষ্ট পুরোনো আর তৈরীও হয়েছিল অনেকগুলো টুকরোর সমন্বয়ে।

যে স্থানে ইব্রাহিমকে অগ্নিতে নিক্ষেপ করা হয়।
তারপর ইব্রাহিম যখন মন্দির থেকে বেরিয়ে গেল, তখন বেশ কয়েকজন লোক তাকে দেখে ফেলল। তারা ভাবল সে হয়ত: মন্দির থেকে কিছু চুরি করে নিয়ে পালাচ্ছে। সুতরাং তারা তাকে ধরে রাখল এবং তারপর মন্দিরে প্রবেশ করে যখন তারা দেখল যে তাদের দেবতাসমূহ টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে আছে, তখন তারা বিলাপের সূরে চিৎকার করে বলল, 'তাড়াতাড়ি আস ও ভাইরা, চল আমরা তাকে হত্যা করি যে আমাদের দেবতাদের এমন করে কেটে টুকরো করেছে।’

এসময় পুরোহিত সহ হাজার দশেক লোক দৌঁড়ে এল। তারপর তারা ইব্রাহিমকে প্রশ্ন করল কি কারণে সে তাদের দেবতাদের এমনভাবে ধ্বংস করেছে। ইব্রাহিম বলল, 'তোমরা তো দেখি মহা বোকা! কোন মানুষ কি দেবতাকে হত্যা করতে পারে? ঐ মহান দেবতা বা’লই তাদেরকে হত্যা করেছে। দেখছ না, তার কুঠারটি তার পায়ের কাছেই রয়েছে? নিশ্চয়ই সে তার অংশীদারদের চায় না।’

এসময় সেখানে ইব্রাহিমের পিতা দৌঁড়ে এলেন। তার মনে পড়ল দেবতাদের সম্পর্কে ইব্রাহিমের ইতিপূর্বেকার কথাবার্তা। তারপর যখন তিনি কুঠারটি চিনতে পারলেন যা দিয়ে ইব্রাহিম মূর্ত্তিগুলোকে টুকরো টুকরো করেছে, তখন তিনি চিৎকার করে উঠলেন, 'এ বিশ্বাসঘাতক তো আমার নিজের ছেলে যে আমাদের দেবতাদের এরূপ করেছে, কেননা এই কুঠারটি আমার।’

যে স্থান থেকে ইব্রাহিমকে অগ্নিতে নিক্ষেপ করা হয়।
আর তিনি তার ও তার পুত্রের মধ্যে অতীতে যে কথাবার্তা হয়েছিল তা স্মরণ করলেন। সকলে ইব্রাহিমকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করতে চাইল। সুতরাং তারা যথেষ্ট কাঠ জোগাড় করে আনল, তারপর ইব্রাহিমকে হাত-পা বেঁধে ঐ কাঠের উপর রাখল এবং নীচ থেকে আগুন ধরিয়ে দিল।

এসময় খোদা তাঁর ফেরেস্তার মাধ্যমে আগুনকে আদেশ দিলেন যেন সে তাঁর দাস ইব্রাহিমকে না দগ্ধ না করে। এতে তৎক্ষণাৎ আগুন ছড়িয়ে গেল চারিদিকে এবং নিকটেই দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় দু’হাজার লোককে দগ্ধ করল যারা ইব্রাহিমকে হত্যার আদেশ দিয়েছিল।

এদিকে ইব্রাহিম নিজেকে মুক্ত অবস্থায় তার বাড়ীর নিকটেই আবিস্কার করল। সে জানতেও পারল না কিভাবে ফেরেস্তারা তাকে আগুন থেকে উদ্ধার করে সেখানে পৌঁছে দিয়েছে। যাইহোক, এভাবেই ইব্রাহিম নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে উদ্ধার পেল।-(বার্ণাবাসের গসপেল, অধ্যায়-২৮)

Abraham.
বাড়ীর নিকট পৌঁছেও ইব্রাহিম তার পিতার ভয়ে বাড়ীতে প্রবেশ করতে সাহস করল না। সুতরাং সে বাড়ী থেকে কিছু দূরে একটা তালগাছের তলে বসল এবং মনে মনে ভাবতে লাগল-'নিশ্চয়ই একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন যিনি আয়ূ ও ক্ষমতায় মানুষের চেয়ে অনেক বেশী, কেননা তিনি মানুষ তৈরী করেন, অন্যদিকে মানুষ তার সাহায্য ছাড়া আর একটা মানুষ তৈরী করতে পারে না।'

তারপর যখন রাতে আকাশে চাঁদ ও তারা উঠল তখন সে ভাবল চাঁদই খোদা, কিন্তু যখন তা অস্ত গেল, তখন সে বুঝতে পারল যা অস্ত যায় তা খোদা হতে পারে না। তারপর সকালে সূর্য্য উঠল, তখন ইব্রাহিম ভাবল এটাই বোধহয় তার খোদা। কিন্তু যখন মেঘ সূর্য্যকে আড়াল করল এবং সন্ধ্যায় তা পশ্চিমে অস্তমিত হল তখন সে বলল, 'এটা অবশ্যই সঠিক যে, যিনি খোদা, তিনি স্থান পরিবর্তণ করেন না এবং মেঘও তাকে ঢেকে ফেলতে পারে না।'

যখন সে এতসব ভাবছিল, তখন তার মনে হল কে যেন তাকে 'ইব্রাহিম!’বলে নাম ধরে ডাকছে। সুতরাং সে তার চারিদিকে তাকাল এবং কাউকে না দেখতে পেয়ে বলল, 'আমি নিশ্চিত আমি শুনেছি কেউ আমাকে 'ইব্রাহিম!’ বলে ডেকেছে।’
তারপর সে আরও দু’বার একইভাবে 'ইব্রাহিম!’ নামে তাকে ডাকতে শুনতে পেল।
সে বলল, 'কে আমাকে ডাকে?’

তখন সে শুনতে পেল, 'অমি খোদার একজন ফেরেস্তা, জিব্রাইল।’
ইব্রাহিম ভয় পেল; কিন্তু ফেরেস্তা তাকে আশ্বস্ত করে বলল, 'ভয় পেয় না, ইব্রাহিম, তুমি তো খোদার একজন বন্ধু, যখন তুমি লোকদের দেবতাগুলোকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করেছ, তখনই খোদা, যিনি খোদা ফেরেস্তাদেরও তোমাকে তাঁর রসূল হিসেবে বেঁছে নিয়েছেন এবং তোমার কথা 'জীবন পুস্তক’(Book of Life)-এ লিখিত আছে।’

তখন ইব্রাহিম বলল, 'ফেরেস্তাদের খোদা ও মহান রসূলদের সেবা করতে আমাকে কি করতে হবে?’
ফেরেস্তা বলল, 'ঐ ঝর্ণায় গিয়ে নিজেকে পরিছন্ন করে ফেল, কেননা খোদা তোমার সাথে কথা বলতে চান।’
ইব্রাহিম বলল, 'কিভাবে আমার নিজেকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা উচিৎ?’
তখন এক সুন্দর যুবকের বেশে ফেরেস্তা তার সম্মুখে আবির্ভূত হল তারপর ঝর্ণার পানিতে তাকে পারিস্কারের পদ্ধতি দেখিয়ে দিয়ে বলল, 'ও ইব্রাহিম এভাবেই নিজেকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন কর।’

তারপর যখন ইব্রাহিম নিজেকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করল, তখন ফেরেস্তা তাকে বলল, 'এখন ঐ পর্বতের উপরে ওঠো, কেননা খোদা সেখানে তোমার সাথে কথা বলবেন।’

Book of Life.
ইব্রাহিম ফেরেস্তার কথা মত পর্বতের উপর উঠল। তারপর একস্থানে হাঁটুমুড়ে বসে সে মনে মনে ভাবতে লাগল, 'কখন ফেরেস্তাগণের খোদা আমার সাথে কথা বলবেন?’
এসময় মোলায়েম কন্ঠে সে তাকে আহবানের স্বর শুনতে পেল, 'ইব্রাহিম!’

ইব্রাহিম বলল, 'কে আমাকে ডাকে?’
উত্তর এল, 'আমিই তোমার খোদা, ও ইব্রাহিম।’
এসময় ইব্রাহিম ভয়ে নিজের মুখ মাটির দিকে ঝুকিয়ে নিয়ে বলল, 'তোমার এ দাস যে কিনা ধূলো-বালির, কিভাবে তোমার কথা শুনতে পারে!’

তখন খোদা বললেন, 'ভয় পেয় না, উঠে দাঁড়াও, কেননা আমি তোমাকে আমার দাস হিসেবে নির্বাচিত করেছি এবং তোমাকে আশীর্বাদযুক্ত করেছি যেন তুমি বহুবংশ হও। সুতরাং তুমি তোমার পিতার বাড়ীতে যাও এবং নিজ পরিজন নিয়ে সেইস্থানে বসবাসের জন্যে চল, যে ভূমিটি আমি তোমাকে ও তোমার বংশধরদেরকে দেব।’

ইব্রাহিম বলল, 'আমি সবকিছুই করব প্রভু, কেবল তুমি আমাকে রক্ষা কোরও যেন অন্য দেবতারা আমার কোন ক্ষতি করতে না পারে।’
তখন খোদা বললেন, 'আমিই একমাত্র খোদা, আমি ব্যতিত অন্যকোন খোদা নেই। আমিই সবকিছু তৈরী করেছি এবং আমিই তা ধ্বংস করব; আমি জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটাই। আমিই কবরে প্রবেশ করাব এবং সেখান থেকে বের করে আনব; কেউই আমার হাত থেকে মুক্ত নয়।’

তারপর খোদা তাকে খৎনার নিয়ম দিলেন এবং এভাবেই আমাদের পিতা ইব্রাহিম একক সৃষ্টিকর্তাকে জেনেছিলেন।-(বার্ণাবাসের গসপেল, অধ্যায়-২৯)

সমাপ্ত।

উৎস: বার্ণাবাসের গসপেল।
ছবি: Freethoughtblogs, touregypt, reynoldmainse, bible.ca, mesacc.edu, balkhandshambhala.blogspot, bemindfuloftheworld.blogspot.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন