pytheya.blogspot.com Webutation

১১ ডিসেম্বর, ২০১২

Soul: আত্মার উপাদান সমূহ।

মানুষের আত্মার দু‘টি ভাগ আছে-একটি তার ভাগ উত্তম, অপরটি তার অধম ভাগ। আত্মার উত্তম ভাগ যখন তার অধম ভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে তখন আমরা কোন মানুষ সম্পর্কে মন্তব্য করিঃ ‘সে নিজেই তার প্রভু’। এরূপ মন্তব্য তার প্রশংসা সূচক। কিন্তু অসৎ সঙ্গ এবং  অসৎ শিক্ষার কারণে মানুষের আত্মার উত্তম ভাগ যখন অধমের অধীনে চলে যায় তখন আমরা এরূপ ব্যক্তিকে নিজের দাস এবং নীতিহীন বলে আখ্যায়িত করি।

আর যে ব্যক্তি নীতিহীন, তার আত্মা পাপে নিমজ্জ্বিত। ফলে ঐ আত্মা তার শ্বাশত: অবস্থা থেকে বিকৃত। নীতিহীন তথা পাপীর আত্মার এই যে অবস্থা, তার তুলনা চলে পুরাণের সমুদ্র দেবতা গ্লকাসের সাথে। দীর্ঘকাল নিমজ্জিত থেকে ভগ্ন এবং ক্ষত-বিক্ষত এবং বিকৃত হওয়ার কারণে দেবতা গ্লকাসের মূল আকারটি যেমন পরিচয়ের অতীত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, তেমনি দশাই হয় পাপীর আত্মার। দেবতা গ্লকাসকে সমুদ্রতলের শঙ্খ এবং সমুদ্রজ উদ্ভিদ এবং সমুদ্র দেশের পাথর এমনভাবে আচ্ছাদিত করে দিয়েছিল যে, আকারে সে দেবতার বদলে একটি দানবে পরিণত হয়েছিল। বিচিত্র বিরূপ শক্তির আচ্ছাদনে পাপীর আত্মারও সেই অবস্থা। যাইহোক, এখানে আমরা আত্মার স্বরূপ নয়, আত্মার উপাদান নিয়ে কথা বলব। 

আত্মার (Soul) প্রধানত: উপাদান দু‘টি। এর একটি হল বিবেক কিম্বা প্রজ্ঞা এবং অপরটি বিকার কিম্বা প্রবৃত্তি। যে শক্তিতে ব্যক্তি চিন্তা করে সেটি তার আত্মার প্রজ্ঞার দিক। কিন্তু যে শক্তিতে ব্যক্তি ক্ষুধা বা তৃষ্ণা বোধ করে কিম্বা অপর কোন কামনা বাসনা দ্বারা তাড়িত হয় তা তার প্রবৃত্তির দিক।

আত্মার তৃতীয় আরেকটি উপাদান হল বিক্রম বা তেজ। কু-শিক্ষা যদি এই বিক্রমকে কলুষিত না করে ফেলে তাহলে সেটি প্রজ্ঞার সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। আর বিক্রম যে প্রজ্ঞা থেকে পৃথক তা আমরা সহজেই প্রমান করতে পারি। শিশুদের কথা ধরি,জন্মের পর থেকেই আমরা তাদের মধ্যে বিক্রম বা তেজ দেখতে পাই। আর প্রজ্ঞার বিকাশ ঘটে বেশ বিলম্বে।

কোন ব্যক্তির স্বভাবের যে উপাদান, তা যখন নিজ নিজ কার্য সাধন করে তখনই ব্যক্তি ন্যায়পরায়ন হয়, তখনই ব্যক্তি তার নিজ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়। সুতরাং যে বিবেক প্রাজ্ঞ, সেই বিবেক আত্মাকে রক্ষা করবে এবং বিক্রম তার সহায়ক শক্তি হবে।

আমাদের আত্মার অধিক পরিমান হচ্ছে এই প্রবৃত্তি। প্রবৃত্তির বাসনার শেষ নেই। প্রজ্ঞা এবং বিক্রমের দায়িত্ব হচ্ছে এই প্রবৃত্তির উপর সতর্ক প্রহরা রক্ষা করা যেন সে দেহের আরাম এবং আয়েসের প্রাচুর্যে স্ফীত হয়ে নিজের ক্ষেত্রকে অতিক্রম না করে, না করে এমন কিছুকে দাসে পরিণত করতে, যারা স্বভাবগত ভাবে তার শাসিত প্রজা নয়। প্রবৃত্তি যদি প্রজ্ঞাকে তার দাসে পরিণত করে ফেলে তবে ব্যক্তির সমগ্র জীবনকে গ্রাস করে ফেলবে সে।

কিন্তু প্রজ্ঞা ও বিক্রম যুক্ত হলে নিশ্চয়ই তারা সমগ্র আত্মার সর্বোত্তম রক্ষকে পরিণত হতে পারবে। কারণ প্রজ্ঞা তখন নির্দেশ দেবে এবং বিক্রম তার নির্দেশ অনুযায়ী সাহসের সঙ্গে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করবে। আর সাহসী বলব আমরা তাকেই যার বিক্রম আনন্দ কিম্বা ক্লেশ- সর্ব অবস্থায় কাকে ভয় করা সঙ্গত এবং কাকে ভয় করা সঙ্গত নয় সে প্রশ্নে প্রজ্ঞার আদেশ শিরোধার্য বলে স্বীকার করে। অন্যদিকে প্রজ্ঞা বলব আমরা তাকে যার মধ্যে শাসনের সেই মূল গুণটি আছে, যে গুণের শক্তিতে সে অপরকে নির্দেশ দিতে পারে যে-গুণ জানে যে আত্মার তিনটি উপাদানের কার কি করণীয় এবং সমগ্রভাবে আত্মার কি করণীয়।

আর কোন ব্যক্তিকে আমরা সংযমী বলব? নিশ্চয়ই তাকে বলব যার মধ্যে এইসব উপাদানের পারস্পরিক সুমিত্র-সঙ্গতিকে আমরা প্রত্যক্ষ করব- অর্থাৎ যার মধ্যে শাসকরূপ প্রজ্ঞা এবং শাসিতরূপ বিক্রম এবং প্রবৃত্তি সকলেই এইরূপ ঐক্যমত পোষণ করছে যে প্রজ্ঞার ই শাসন করা সঙ্গত এবং প্রজ্ঞার শাসনের বিরুদ্ধে বিক্রম এবং প্রবৃত্তি বিদ্রোহের কোন মনোভাব পোষণ করে না।

সমাপ্ত।

উৎস: The Republic by Plato, Tr. by Benjamin Jowett.


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন