pytheya.blogspot.com Webutation

৬ ডিসেম্বর, ২০১২

Saul: শৌলের মন পরিবর্তণের কাহিনী।


ঈসার উর্দ্ধগমণের পর বিশ্বাসীদের ছোটখাট এক সমাবেশে পিতর এই বক্তব্য দিল- ‘হে ভ্রাতৃগণ, এহুদা, যে ঈসাকে ধৃতকারীদের পথপ্রদর্শক হয়েছিল তার বিষয়ে শাস্ত্রীয় বচন পূর্ণ হওয়া আবশ্যক ছিল। কিন্তু সে আমাদের মধ্যে গণিত এবং এই পরিচর্য্যার অধিকার প্রাপ্ত ছিল। তার সম্পর্কে যবুরে আরও আছে-

‘তার আয়ূ অল্প হোক,
অন্য ব্যক্তি তার অধ্যক্ষ পদ প্রাপ্ত হোক।’------------(যবুর ১০৯:৮)

শিমোন।
এহুদা অধর্মের বেতন দিয়ে যে ক্ষেত লাভ করেছিল তা আজ ‘হকলদামা’, অর্থাৎ রক্তক্ষেত্র নামে আখ্যাত। আর উপরোক্ত শাস্ত্রীয় বচন অনুসারে তার মৃত্যুতে তার স্থলে একজনের নিয়োগদান আবশ্যক। অতএব প্রথম থেকে প্রভু ঈসা উর্দ্ধে নীত হবার দিন পর্যন্ত যারা সর্বদা আমাদের সহচর ছিলেন, তাদের এক ব্যক্তি যে আমাদের সাথে প্রভু ঈসার কার্যাবলীর সাক্ষী হন, এ আবশ্যক।’

সকলের সম্মতিতে দু‘জন মনোনয়ন পেল। এরা হল-ইউসূফ বা বার্শব্বা, যার উপাধি যুষ্ট এবং মত্তথিয়; আর তারা প্রার্থনা করল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি সকলের অন্ত:করণ জান, এহুদা নিজ স্থানে যাবার জন্যে এই যে পরিচর্য্যা ও প্রেরিতত্ব ছেড়ে গিয়েছে, তার স্থান গ্রহণ করার জন্যে তুমি এই দু‘য়ের মধ্যে যাকে মনোনীত করেছ, তাকে দেখিয়ে দাও।’

তারা গুলিবাট করল এবং মত্তথিয়াসের নাম উঠল। এভাবে সে এগারজন প্রেরিতের সাথে গণিত হল।

মত্তথিয়াস।
ঈসার উর্দ্ধগমণের ৫০তম দিনে শিষ্যগণ যখন একটা গৃহে সমবেত ছিল তখন এক প্রচন্ড বায়ূর বেগের শব্দবৎ একটা কিছু গৃহের সর্বত্র ব্যপ্ত হল। আর তারা দেখল অগ্নি স্ফূলিঙ্গের মত কিছু তাদের প্রত্যেকের শরীরকে ঘিরে ফেলল। তারা বুঝতে পারল তারা পবিত্র আত্মায় আবেশিত হয়েছে। কেননা তারা বিজাতীয় ভাষায় কথা বলতে এবং বুঝতে পারছিল। তারা যখন বেরিয়ে লোকদের সংস্পর্শে এল, তখন লোকেরা যারা তাদেরকে চিনত, তারাও বিষ্মিত হল।

এসময় পিতর দাঁড়িয়ে সকলের উদ্দেশ্যে এক ভাষণ দিল। সে বলল- ইস্রায়েলের সমস্ত গোষ্ঠী একথা জ্ঞাত হোক যে, যাকে তারা ক্রুসে দিয়েছিল, সেই ঈসাই ছিলেন মসীহ বা খ্রীষ্ট।’

তার কথা শুনে লোকেরা মর্মাহত হল, আর তারা প্রেরিতদেরকে বলল, ‘ভ্রাতৃগণ, আমরা কি করব?’
পিতর বলল, ‘মন ফেরাও এবং বাপ্তিষ্ম গ্রহণ কর। তাহলে পবিত্র আত্মারূপ দান প্রাপ্ত হবে। কারণ এই প্রতিজ্ঞা তোমাদের ও তোমাদের সন্তানদের এবং দূরবর্তী সকলের জন্যে যাদেরকে খোদা ডেকে আনবেন।’

থমাস।
কমবেশী তিন হাজার লোক বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করল। আর তারা প্রেরিতদের শিক্ষায় ও সহভাগিতায়, রুটি ভাঙ্গায় ও প্রার্থনায় নিবিষ্ট থাকল।

একদিন প্রার্থনার নির্দিষ্ট সময়ে, নবম ঘটিকায়, পিতর ও ইউহোন্না এবাদতখানায় যাচ্ছিল; এমন সময় কিছু লোক এক ব্যক্তিকে বহন করে আনছিল, সে ছিল জন্ম খঞ্জ; তাকে প্রতিদিন এবাদতখানার সুন্দর নামক দ্বারে রেখে দেয়া হত, যেন এবাদতখানায় প্রবেশকারীদের কাছে সে ভিক্ষে চাইতে পারে। এই খঞ্জ পিতর ও ইউহোন্নাকে এবাদতখানায় প্রবেশ করতে উদ্যত দেখে ভিক্ষে পাবার জন্যে বিনতি করতে লাগল। তাতে তারা তার প্রতি দৃষ্টিপাত করে বলল, ‘আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।’

এতে খঞ্জ তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করল এবং তাদের নিকট থেকে কিছু পাবার অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু পিতর তাকে বলল, ‘রৌপ্য কি স্বর্ণ আমার নেই, কিন্তু যা আছে তা তোমাকে দান করি।’
সে তাকে হাত ধরে টেনে তুলল এবং বলল, ‘ঈসা মসীহের নামে হেঁটে বেড়াও।’

তৎক্ষণাৎ তার পা ভাল হয়ে গেল এবং সে হেঁটে বেড়াতে লাগল। তারপর সে খোদার প্রশংসা করতে করতে তাদের সাথে এবাদতখানায় প্রবেশ করল। যখন তারা শলোমনের বারান্দায় প্রবেশ করল, তখন লোকেরা, যারা ঐ খঞ্জকে চিনত, তাকে হেঁটে বেড়াতে দেখে দৌঁড়ে এল। এ দেখে পিতর তাদেরকে বলল, ‘হে ইস্রায়েলী লোকেরা, তোমরা এই ব্যক্তির বিষয়ে কেন আশ্চর্য্য জ্ঞান করছ? অথবা আমরাই যে নিজ শক্তি বা ভক্তি গুনে একে চলার শক্তি দিয়েছি, এ মনে করে কেনইবা আমাদের প্রতি এক দৃষ্টে চেয়ে রয়েছ? 

ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবের খোদা, তাঁর বান্দা ঈসাকে গৌরবান্বিত করেছেন, যাকে তোমরা শত্রু হস্তে সমর্পণ করেছিলে এবং পীলাত যখন তাকে ছেড়ে দিতে স্থির করেছিলেন, তখন তার সাক্ষাতে তোমরা অস্বীকার করেছিলে। তোমরা সেই পবিত্র ও ধর্মময় ব্যক্তিকে অস্বীকার করেছিলে এবং চেয়েছিলে যেন তোমাদের জন্যে একজন নরঘাতক দেয়া হয়, আর খ্রীষ্টকে বধ করা হয়। কিন্তু খোদা তোমাদের পরিকল্পণাকে সফল হতে দেননি। অত:পর তিনি তাকে উর্দ্ধে তুলে নিয়েছেন, আর আমরা তার সাক্ষী। আর তার প্রতি বিশ্বাস ও তার মসীহ নামের গুণে এই যে ব্যক্তিকে তোমরা দেখছ ও জান, তাকে তার জন্মখঞ্জত্ব থেকে মুক্ত করেছে, তারই দত্ত বিশ্বাস তোমাদের সকলের সাক্ষাতে একে সম্পূর্ণ সুস্থ্যতা দিয়েছে।

জেমস।
হে ভ্রাতৃগণ! আমি জানি তোমরা অজ্ঞানতাবশত: সেই কার্য্য করেছ, যেমন তোমাদের ঈমামেরাও করেছিলেন। কিন্তু খোদা মসীহের দুঃখ ভোগের বিষয়ে যে সমস্ত কথা পূর্ববর্তী নবীদের কাছে ব্যক্ত করেছিলেন এইভাবে তা পূর্ণ হল। অতএব তোমরা মন ফেরাও, যেন তোমাদের পাপ মুছে ফেলা হয় এবং তোমাদের নিমিত্ত পূর্ব নিরূপিত রসূলকে তিনি প্রেরণ করেন।’ 

তারা তখনও কথা বলছিল এমন সময় প্রধান ঈমাম ও অন্যান্য ঈমামেরা এবং সদ্দুকীরা তাদের কাছে এল। তারা তাদের উপর অতিশয় বিরক্ত হল, কারণ তারা ঈসার বিষয়ে প্রচার করছিল। তারা তাদেরকে ধরে বন্দী করে রাখল।

পরদিন ঈমামেরা, বৃদ্ধনেতারা, প্রধান ঈমাম হানুন, কাইফা এবং অন্যান্যরা জেরুজালেমে একত্রিত হল। অত:পর তারা আটককৃতদেরকে মাঝে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কি ক্ষমতায় অথবা কি নামে তোমরা এই কর্ম করেছ?’
পিতর বলল, ‘হে লোকদের অধ্যক্ষগণ ও প্রাচীনবর্গ, একজন অসুস্থ্য মানুষের উপকার সাধনের বিষয়ে আজ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, কি প্রকারে এ সুস্থ্য হয়েছে, তবে আপনারা এবং সমস্ত ইস্রায়েলী এ জানুক যে, ঈসা ইবনে মরিয়ম বা মসীহের নামে, যাকে আপনারা ক্রুসে দিয়েছিলেন, যাকে খোদা উর্দ্ধে তুলে নিয়েছেন, তারই নামের গুণে এই ব্যক্তি আপনাদের সম্মুখে সম্পূর্ণ সুস্থ্য শরীরে দাঁড়িয়ে আছে। 

জন।
পিতর ও ইউহোন্নার সাহস দেখে এবং তারা যে অশিক্ষিত এটা জেনে তারা আশ্চর্য জ্ঞান করল এবং চিনতে পারল যে, তারা ঈসার শিষ্য ছিল। আর ঐ সুস্থ্য হওয়া লোকটি তাদের সঙ্গে থাকাতে তারা কিছুই বলতে পারল না। সুতরাং তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শে বসল। ‘এই লোকদের নিয়ে আমরা কি করি? তারা জনসম্মুখে যে কাজ করেছে তা তো আর আমরা অস্বীকার করতে পারি না।’ 
অত:পর সিদ্ধান্ত হল তাদেরকে ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দেয়া হোক। সুতরাং তারা তাদেরকে বলল, ‘তোমরা ঈসার নামে একেবারেই কোন কথা বোলও না, কাউকে কোন উপদেশও দিয়ো না।’
তারা বলল, ‘খোদার কথা অপেক্ষা আপনাদের কথা শোনা তাঁর সাক্ষাতে বিহিত কি?’

পিতর ও ইউহোন্না ফিরে এসে অন্যান্য শিষ্যগণের সাথে সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করল। তারা বুঝতে পারল এসব ঘটবে, কেননা যবুরে আছে-

‘জাতিগণ কেন কলহ করল?
লোকগণ কেন অনর্থক বিষয় ধ্যান করল?
পৃথিবীর রাজগণ দন্ডায়মান হল,
শাসনকর্ত্তৃগণ একত্র হল-
প্রভুর বিরুদ্ধে এবং তাঁর অভিষিক্তের বিরুদ্ধে।’ ----------(যবুর ২:১-২)

নথনেল।
সুতরাং তারা প্রার্থণা করল, ‘হে খোদা, তাদের ভয় প্রদর্শণের প্রতি দৃষ্টিপাত কর এবং তোমার এই দাসদেরকে সাহসের সাথে তোমার বাণী প্রচারের ক্ষমতা দাও।’

প্রেরিতদের অভাব অভিযোগ খোদা পূরণ করেছিলেন। বিশ্বাসীগণ সকলেই একচিত্ত, এক প্রাণ ছিল। তারা তাদের সম্পদের কোন কিছুকেই নিজের বলে জ্ঞান করত না। তাদের গচ্ছিত ধন-সম্পদ বা বিক্রয়লব্ধ অর্থ তারা প্রেরিতদের পায়ে লুটিয়ে দিত। হঠাৎ একটা ঘটনা ঘটল-

অননিয় নামের এক ব্যক্তি এবং তার স্ত্রী সাফীরা তাদের একটা সম্পত্তি বিক্রয় করল। অত:পর তারা স্বামী স্ত্রী পরামর্শ করে ঐ বিক্রিত মূল্যের কিছু নিজেদের জন্যে রেখে দিল। আর বাকীটা অননিয় প্রেরিতদের চরণে এনে রাখল। এসময় প্রেরিতদের একজন অর্থের পরিমাণ গণনা শেষে বলল, ‘তোমার সম্পত্তি বিক্রয়লব্ধ অর্থের পুরোটাই কি এখানে?’
অননিয় বলল, ‘হ্যাঁ, পুরোটাই এখানে।’

ফিলিপ।
তখন পিতর এগিয়ে এসে তাকে বলল, ‘হে অননিয়, শয়তান কেন তোমার মন এমন পূর্ণ করেছে যে, তুমি খোদার নামে মিথ্যে বললে এবং ভূমির মূল্য হতে কিছু রেখে দিলে? সেই ভূমি কি থাকতে তোমারই ছিল না? আর বিক্রিত হলে পর কি তা তোমার নিজ অধিকারে ছিল না? তবে এমন বিষয় তোমার হৃদয়ে কেন ধারণ করলে? তুমি মানুষের কাছে মিথ্যে বললে এমন নয়, খোদার কাছে বললে।’
পিতরের কথা শোনা মাত্র সে মৃত্যুমুখে ঢলে পড়ল। আর তাতে উপস্থিত সকলে ভীত হল। তখন কিছু যুবক তাকে উঠিয়ে নিয়ে কবর দিল।

ঘন্টা তিনেক পরের কথা। অননিয়ের স্ত্রী সেখানে এল। কিন্তু সে কি ঘটেছে তা জানত না। তাকে দেখে পিতর বলল, ‘আমাকে বল দেখি, তোমরা সেই জমি কি এত টাকাতে বিক্রয় করেছিলে?’
সে বলল, ‘হ্যাঁ, এত টাকাতেই বটে।’
পিতর বলল, ‘তোমরা খোদাকে পরীক্ষা করতে কেন এক পরামর্শ হলে? দেখ যারা তোমার স্বামীর কবর দিয়েছে, তারা দ্বারে পদার্পণ করছে এবং তোমাকেও বাইরে নিয়ে যাবে।’

জুদাস।
একথা শোনামাত্র সে পিতরের চরণে পতিত হল এবং মারা গেল। আর ঐ যুবকেরা ভিতরে এসে তাকে মৃত দেখল এবং বাইরে নিয়ে গিয়ে তার স্বামীর পাশে কবর দিল।

প্রেরিতগণ নিয়মিতভাবে এবাদতখানার শলোমনের বারান্দায় লোকদেরকে উপদেশ বাণী দিতে লাগল। এতে উত্তরোত্তর অনেক লোক ঈমান আনতে শুরু করল। এতে মহা ঈমাম ও অন্যান্য ঈমামগণ এবং সদ্দুকীরা ঈর্ষাতে পরিপূর্ণ হল। তখন তারা প্রেরিতদের যাকে পেল ধরে কারাগারে বন্দী করে রাখল। রাতে এক দূত কারাগারের দ্বার খুলে দিল এবং তাদেরকে সকালে এবাদতখানায় গিয়ে লোকদেরকে অনন্ত জীবনের কথা জানাতে বলল। সুতরাং প্রেরিতরা প্রভাতে এবাদতখানায় গিয়ে লোকদেরকে উপদেশ বাণী শোনাতে লাগল।

এদিকে মহাঈমাম ও অন্যান্য ঈমামগণ মহাসভার সদস্যগণকে এবং অন্যান্য বৃদ্ধনেতাদেরকে একত্র করল। তারপর প্রেরিতদেরকে আনতে কারাগারে লোক পাঠাল। কিন্তু যারা গেল, তারা ফিরে এসে বলল, ‘আমরা দেখলাম কারাগার সুদৃঢ়রূপে বন্ধ, দ্বারে রক্ষকেরাও রয়েছে, কিন্তু ভিতরে কাউকে পেলাম না।’
তাদের এ কথায় পরিণতির কথা ভেবে সকলে চিন্তান্বিত হল। এসময় এক ব্যক্তি এসে সংবাদ দিল, ‘আপনারা যাদেরকে কারাগারে রেখেছিলেন, তারা এবাদতখানায় লোকদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন।’

জুদাস ইস্কেরিয়ৎ।
তখন রক্ষীরা এবাদতখানায় গিয়ে তাদেরকে এনে মহাসভায় দাঁড় করিয়ে দিল। মহাঈমাম তাদেরকে বলল, ‘আমরা তোমাদেরকে ঈসা মসীহের নামে উপদেশ দিতে দৃঢ়রূপে নিষেধ করেছিলাম; তথাপি দেখ, তোমরা নিজেদের উপদেশে জেরুজালেম পূর্ণ করেছ এবং সেই ব্যক্তির রক্ত আমাদের উপর বর্তাতে মনস্থ করছ।’
প্রেরিতগণ বলল, ‘মনুষ্যদের অপেক্ষা খোদার আজ্ঞা পালন করা উত্তম। যাকে আপনারা ক্রুসে দিয়েছিলেন হত্যার জন্যে, তাকে খোদা উচ্চে উন্নীত করেছেন, যেন লোকেরা তার উপর ঈমান এনে তার মসীহ নামের গুণে পাপ থেকে শুচি হতে পারে। আর এই সকল বিষয়ের আমরা সাক্ষী।’ 

তাদের এই উত্তর শুনে ঈমামগণ ও মহাসভার সদস্যগণ রাগান্বিত হল। তারা তাদেরকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু মহাসভার সদস্য গমলীয়েল নামের একজন ফরীশী বলল, ‘হে ইস্রায়েলীগণ, এই লোকদের বিষয়ে তোমরা যা করতে উদ্যত হয়েছ তা থেকে সাবধান হও। কেননা ইতিপূর্বে থুদা নিজেকে রসূল দাবী করেছিল এবং চারি শ‘তের মত সমর্থক জুটিয়ে নিয়েছিল। অত:পর সে নিহত হলে তার অনুগতরা ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। অত:পরে গালীলীয় এহুদা কিছু লোককে তার অনুগামী করেছিল। সেও যখন নিহত হল, তখন তার অনুগতরাও ছড়িয়ে পড়েছিল। সুতরাং তাদের মত এই লোকদেরকেও তাদের পথে চলতে দাও; কেননা এই ব্যাপার যদি মনুষ্য হতে হয, তবে লোপ পাবে; কিন্তু যদি খোদা থেকে হয়ে থাকে, তবে তাদেরকে ধ্বংস করা তোমাদের সাধ্য নয়, কি জানি তখন হয়ত: দেখা যাবে যে, তোমরা খোদার সাথে যুদ্ধ করছ।’

এন্ড্রু।
তার এ কথায় সকলে একমত পোষণ করল। সুতরাং প্রেরিতদেরকে সতর্ক করে দিয়ে ছেড়ে দেয়া হল। 

এই সময় যখন বিশ্বাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল, তখন গ্রীক ভাষাভাষী ইহুদিরা ইব্রীয়দের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনল যে, দৈনিক পরিচর্য্যায় তাদের বিধবারা উপেক্ষিত হচ্ছে। তখন প্রেরিতগণ বিশ্বাসীদের ডেকে বলল, ‘আমরা যে খোদার বাণী ত্যাগ করে ভোজনের পরিচর্য্যা করি, এ ভাল নয়। সুতরাং হে ভ্রাতৃগণ, আপনাদের মধ্যে থেকে আত্মায় ও বিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ সাতজনকে বেঁছে নিন, তাদেরকে আমরা এই কাজের ভার দেব। আর আমরা প্রার্থণায় ও বাণীর প্রচারণায় নিবিষ্ট থাকব।’

এ কথায় সকলে সন্তুষ্ট হল এবং সাতজনকে মনোনীত করল। এরা হল- স্টিফেন, ফিলিপ, প্রখর, নীকানর, তীমোন, পার্মিনা ও নিকোলাই।

স্টিফেন যখন ধর্ম প্রচার শুরু করল তখন লিবর্ত্তীনদের সমাজগৃহের কিছু লোক, আর কিছু কুরীণীয়, আলেকজান্দ্রীয়, কিলিকিয় ও এশিয় লোক তাদের বিরুদ্ধাচারণ করতে লাগল। তারা তার উপর মূসা ও খোদার বিরুদ্ধে নিন্দার অভিযোগ আনল এবং সাধারণ লোক ও বৃদ্ধনেতাদের উত্তেজিত করে তুলল।

পলের খৃষ্টে মন পরির্বতন।
সুতরাং স্টিফেনকে আটক করে মহাসভার সম্মুখে হাজির করল। তারা কিছু মিথ্যে সাক্ষী দাঁড় করিয়ে দিল। আর তারা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দিল। সবকিছু শ্রবণ শেষে উপস্থিত নেতৃবর্গ ভীষণ ক্ষিপ্ত হল। তারা তাকে শহরের বাইরে নিয়ে গেল এবং সাক্ষীগণ আপন আপন বস্ত্র খুলে শৌল (Saul) নামক এক ব্যক্তির পায়ের কাছে রাখল। তখন শৌল তাকে হত্যার অনুমোদন দিল। তারপর সকলে মিলে স্টিফেনকে পাথর ছুড়ে হত্যা করে ফেলল।

শৌল মহাঈমামের কাছ থেকে খ্রীষ্ট অনুসারীদের আটক ও শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা লাভ করেছিল। সুতরাং স্টিফেনের মৃত্যুর পর সে তাদেরকে উচ্ছেদ সাধন করতে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে পুরুষ এবং স্ত্রীলোকদের ধৃত করে কারাগারে আটক করতে লাগল। এসময় বিশ্বাসীগণ ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ল। প্রেরিতগণও এসময় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে গোপনে প্রচার করতে লাগল। এসময় ফিলিপ শমরিয়াতে প্রচার চালাচ্ছিল এবং তাতে অনেক লোক ঈসায়ী ধর্মে আকৃষ্ট হল। জেরুজালেমে অবস্থানরত প্রেরিতেরা এ সংবাদ জানতে পেরে পিতর ও ইউহোন্নাকে সেখানে প্রেরণ করল। 

পিতর ও ইউহোন্না শমরিয়াতে এসে খ্রীষ্ট মন্ডলীকে যারা ইতিপূর্বে পানিতে বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করেছিল তাদের নিমিত্ত প্রার্থণা করল যেন তারা পবিত্র আত্মায় বাপ্তিষ্মিত হতে পারে; আর ঐসব লোকেরা প্রেরিতদের হাতে হাত রেখে পবিত্র আত্ময় বাপ্তিষ্মিত হচ্ছিল। এ দেখে শিমোন যে ছিল একজন যাদুকর এবং ইতিপূর্বে ফিলিপের কাছে বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করেছিল, প্রেরিতদের কাছে এল এবং কিছু অর্থ তাদের চরণে রেখে বলল, ‘আমাকেও এই ক্ষমতা দিন, যেন লোকেরা আমার হাতে হাত রাখলে তারাও পবিত্র আত্মায় বাপ্তিষ্মিত হতে পারে।’

তখন তার অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে পিতর তাকে বলল, ‘তোমার রৌপ্য তোমার সাথেই বিনষ্ট হোক। কেননা খোদার দান তুমি অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করতে মনস্থ করেছ। এই বিষয়ে তোমার অংশ, কি অধিকার- কিছুই নেই; কারণ তোমার হৃদয় খোদার সাক্ষাতে সরল নয়। অতএব তোমার এই দুষ্টতা হতে মন ফেরাও এবং খোদার কাছে বিনতি কর, হয়ত: তোমার হৃদয়ের কল্পণার ক্ষমা হলেও হতে পারে।’

পলের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেয়া।
এদিকে শৌল দামেস্কের পথে রওনা দিয়েছিল। তার কাছে ছিল মহাঈমামের নিকট থেকে দামেস্কের সমাজ সকলের প্রতি পত্র যেন সে সেখানকার খ্রীষ্টমন্ডলীকে ধরে জেরুজালেমে আনতে পারে। 

শৌল যখন দামেস্কের নিকটবর্তী হল, তখন হঠাৎ আকাশ থেকে আলোক তার চারিদিকে চমকে উঠল। এতে সে ভূমিতে পতিত হল। আর সে সেখানে পতিত অবস্থায় এই বাণী শুনতে পেল- ‘শৌল, শৌল, কেন আমাকে তাড়না করছ?’
সে বলল, ‘প্রভু, আপনি কে?’
উত্তর হল- ‘আমি যীশু যাকে তুমি তাড়না করছ। এখন উঠো ও দামেস্কে যাও।’

শৌল ভূমি থেকে উঠল। কিন্তু চোখে কিছুই দেখতে পেল না। কয়েকজন সঙ্গী তাকে দামেস্কে নিয়ে গেল। সেখানে সে এহুদা নামক এক ব্যক্তির গৃহে আশ্রয় পেল। ইতিমধ্যে তার মন পরিবর্তিত হয়েছিল এবং সে প্রতিনিয়ত প্রার্থণায় খোদার কাছে তার দৃষ্টি ফিরে পাবার আকাঙ্খা ব্যক্ত করছিল। অত:পর সে এক সপ্ন দেখল যে, অননিয় নামের এক ব্যক্তি এসে তার উপর হস্তার্পণ করছে, যেন সে দৃষ্টি ফিরে পায়।

এদিকে দামেস্কে অননিয় নামের এক বিশ্বাসী ছিল। সে এই স্বপ্নাদেশ পেল- ‘তুমি সরল নামক পথে গিয়ে এহুদার বাটিতে তার্ষ নগরীর শৌল নামক এক ব্যক্তির অন্বেষণ কর। জাতিগণের এবং রাজগণের এবং ইস্রায়েল সন্তানগণের নিকট আমার নাম বহনার্থে সে আমার মনোনীত পাত্র।’
অননিয় এসে এহুদার বাড়ীতে পৌঁছিল এবং শৌলের উপর হস্তার্পণ করল; আর সে দৃষ্টি ফিরে পেল।

শৌল সর্বপ্রথম দামেস্কে ধর্ম প্রচার করতে লাগল। পরবর্তীতে সে জেরুজালেমে চলে আসে।  সেখানে শিষ্য বার্ণবা তাকে প্রেরিতগণের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
সমাপ্ত।

ছবি: Wikipedia, commons.wikimedia,athesm.about, saints.sqpn, saintjamesparish, stbrigidccd.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন