pytheya.blogspot.com Webutation

১৪ ডিসেম্বর, ২০১২

Ring of Gyges: ন্যায় ও অন্যায়ের আচরণে গাইজেসের অঙ্গুরীর ভূমিকা।


গাইজেস ছিল লিডিয়াবাসী ক্রিসাসের এক পূর্বপুরুষ এবং লিডিয়া রাজের একজন বেতনভূক্ত মেষপালক। কোন একদিন গাইজেস যখন মেষপাল চরাচ্ছিল, তখন এক প্রচন্ড ভূমিকম্প হল। আর ঐ ভূমিকম্পের ফলে যে স্থানে সে তার মেষপাল চরাচ্ছিল, সেখানে একটা বড় আকারের গহ্বরের সৃষ্টি হল। হঠাৎ চোখের সম্মুখে এতবড় এক গহ্বর সৃষ্টিতে গাইজেস বিষ্ময়ান্বিত হল। সে কৌতুহল বশত: ঐ গহ্বরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করল এবং সেখানে প্রবেশ করে সে বহু আশ্চর্য সব বস্তু দেখতে পেল। কিন্তু আশ্চর্য ঐ সব বস্তু সমূহের মধ্যে তার নিকট সবচেয়ে বিষ্ময়কর বোধ হল একটি শুন্যগর্ভ অশ্বের মূর্তি। ভূ-গর্ভস্থ সেই অশ্বটির দেহে একটি গবাক্ষ পথ ছিল। আর ঐ গবাক্ষ পথটি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। সেই গবাক্ষ পথে উঁকি দিয়ে গাইজেস অধিকতর বিষ্ময়ান্বিত হল। সে দেখতে পেল এক বিরাট দেহ মৃত মানুষের মূর্তি। মনুষ্য ঐ মূর্তিটির কাছে একটি স্বর্ণ আংটি ব্যতিত অপর কোন অঙ্গাভরণই ছিল না। মেষপালক গাইজেস মৃত-মানুষটির হাতের সেই আংটিটি সংগ্রহ করে গহ্বর পরিত্যাগ করে ভূ-পৃষ্ঠে উঠে এল।

লিডিয়া সাম্রাজ্য খৃষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকে।
লিডিয়ারাজের হুকুম ছিল তার মেষপালকগণকে তাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বের একটি করে মাসিক বিবরণী তার কাছে পেশ করতে হবে। এই আদেশানুযায়ী রাজার নিকট তাদের মেষ পালনের মাসিক বিবরণী পাঠাবার উদ্দেশ্যে মেষপালকগণ একদিন একটি সম্মেলনে মিলিত হল। মেষপালক গাইজেস তার নবলব্ধ সম্পদ, ভূগর্ভের আংটিটা হাতের আঙ্গুলে পরে ঐ মেষপালক-সম্মেলনে উপস্থিত হল। সমবেত সাথীদের মধ্যে আসন গ্রহণ করে কোন একসময় আকষ্মিকভাবে সে তার অঙ্গুরীর মণিবন্ধটিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। অমনি সে অপর সবার নিকট অদৃশ্য হয়ে গেল। এবার গাইজেস দেখতে পেল যে তার সাথীগণ তাদের আলোচনা এরূপ মন্তব্যাদি সহকারে পরিচালনা করছে যেন সে যথার্থই তাদের মধ্যে আর উপস্থিত নেই। বন্ধুবর্গের এরূপ আচরণে বিষ্মিত হয়ে হাতের অঙ্গুরীর মণিবন্ধটি আবার ঘুরিয়ে দিতেই সে পুন:রায় সবার নিকট দৃশ্যমান হয়ে উঠল।

অঙ্গুরীর মণিবন্ধের ঘূর্ণনের এরূপ ফলাফল গাইজেসকে চমৎকৃত করে দিল। বেশ কয়েকবার সে তার আংটিটির মণিবন্ধকে একবার ভিতরের দিকে, আর একবার বাইরের দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে পরীক্ষা করে দেখল। প্রত্যেকবারই সে একই ফল দেখতে পেল। অর্থাৎ আংটির মণিবন্ধকে ভিতরের দিকে ঘুরিয়ে দিলে সে অদৃশ্য হয়ে যায়। আবার তাকে বাইরের দিকে নিয়ে এলে সে পুন:রায় দৃশ্যমান হয়ে উঠে। এমতাবস্থায় মেষপালক গাইজেস কৌশল করে সম্মেলনের পক্ষ থেকে রাজদরবারের একজন প্রতিনিধিও নির্বাচিত হয়ে গেল। আর রাজপ্রাসাদে পৌঁছেই সে রানীকে প্রলুব্ধ করে ফেলে। তারপর রাজার বিরুদ্ধে সফল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাজাকে হত্যা করে তার রাজ্য দখল করে নিল।
এই হল গাইজেসের অঙ্গুরী (Ring of Gyges) কাহিনী।

এখন আমরা ন্যায় ও অন্যায়ের আচরণ পরীক্ষা করব এই অঙ্গুরীর সাহায্যে। মনে করা যাক যে গাইজেসের অঙ্গুরীর মত ঐন্দ্রজালিক অঙ্গুরী একটি নয় দু‘টি; আর ঐ দু‘টিকে আমরা পরিয়ে দিলাম ন্যায় এবং অন্যায় উভয়েরই হাতে। এখন আমরা কি দেখব? আমরা দেখব এই আংটি হাতে ন্যায় ও অন্যায়ের আচরণ একই।  কিন্তু কেন পৃথক নয়? কেন আংটি হাতে তাদের আচরণ সমান?

এর উত্তর এই যে, আমরা  এমন মানুষের কথা আদৌ চিন্তা করতে পারিনে যে অন্যায়ের সুযোগ পেয়েও ন্যায়কে আকড়ে ধরে থাকবে। হাট কিম্বা বাজারের দ্রব্য সামগ্রীর দোকান থেকে যে কোন কিছুকে ইচ্ছেমত নিয়ে যদি নির্বিঘ্নে সরে পড়া যায়, তাহলে এমন সাধু ব্যক্তি কে আছে যে, এরূপ সুযোগের সদ্ব্যবহার থেকে নিজেকে নিরস্ত করতে সক্ষম হবে। কিম্বা এমন যদি সম্ভব হয় যে, ইচ্ছেমত যে কোন গৃহে প্রবেশ করে লোকচক্ষুর অন্তরালে যে কোন পুর-সুন্দরীকে আপন শয্যার সঙ্গিনী করে নেয়া চলে, তাহলে এমন নিরাসক্ত ব্যক্তি কোথায় পাওয়া যাবে যে, এমন অপূর্ব সুযোগটিকে বিফলে যেতে দেবে। মোটকথা, যা ইচ্ছে তাই যদি করা যায়, যাকে ইচ্ছে হত্যা করা যায়, আর যাকে ইচ্ছে রেহাই দেয়া যায়, তাহলে যে কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি যা ইচ্ছে তাই অবশ্যই করবে এবং মানুষের মধ্যে সর্বপ্রকারে সে সর্বশক্তিমানের ন্যায়ই ব্যবহার করবে। এমন অবস্থায় অন্যায়ের যা আচরণ, ন্যায়েরও সেই আচরণ। শুরু তাদের যেমনই হোক পরিণামে তারা একই।

সুতরাং যে ন্যায়পরায়ণ সে স্বেচ্ছায় কিম্বা ন্যায়কে ব্যক্তিগত ভাবে লাভজনক বিবেচনা করে বলে ন্যায়পরায়ণ নয়; ন্যায়পরায়ণ সে প্রয়োজনের খাতিরে। কেননা অন্যায়ের নির্বিঘ্ন সুযোগ পেলে পরম ন্যায়বানও তার ব্যবহার না করে ছাড়ে না। কারণ, মানুষই আসলে বিশ্বাস করে যে, অন্যায়, ন্যায়ের চেয়ে ঢের বেশী লাভজনক। কারণ, এমন যদি হয় যে, কোন ব্যক্তি পূর্বের গল্পটির ন্যায় অদৃশ্যভাবে যে কোন কাজ করার ক্ষমতা পেয়েও কোন অন্যায় করল না কিম্বা অপরের কোন সম্পদ সামগ্রীকে নিজে স্পর্শ করল না, তাহলে তার চারিপাশের অপর সব মানুষ তাকে মূর্খের অধম বলেই যেমন একদিকে বিবেচনা করবে, তেমনি অপরদিকে নিজেদের  ক্ষতির আশঙ্কায় প্রকাশ্যে তাকে তার সাধুতার জন্যে বাহবা দিতে থাকবে।

আসলে ন্যায় এবং অন্যায়কে যথার্থভাবে বিচার করতে হলে আমাদের একটিকে অবশ্যই অপরটি থেকে আলাদা করতে হবে। এই কাজ করতে আমরা অন্যায়কে পুরোপুরি অন্যায় এবং ন্যায়কে পুরোপুরি ন্যায় হতে দেই। এদের উভয়কে আপন আপন জীবনকে পরিপূর্ণভাবে যাপন করতে দেয়া যাক। যার যে-জীবন সে-জীবন যাপন করতে তার যা কিছু সুযোগ কিম্বা সম্পদের আবশ্যক, তা থেকে তাকে কিছুমাত্র বঞ্চিত করা হবে না।

প্রথমত: অন্যায়ের কথা ধরা যাক। এই পরিপূর্ণ জীবনে অন্যায়কে হতে হবে অপরাপর কুশলীদের মতই সুদক্ষ। কুশলী নাবিক কিম্বা দক্ষ চিকিৎসক স্বভাবগত ভাবে তাদের শক্তি এবং সীমা উভয়কেই জানে। আর তাই কোন বিপর্যয় বা ব্যর্থতার মধ্যেও তারা পর্যুদস্ত কিম্বা হতাশ হয়ে পড়ে না; আপন শক্তিকে সংগ্রহ করে পুন:রায় তারা নিজেদের উদ্দেশ্য সাধনে স্থিরকল্প হয়। এদের মত অন্যায়ও তার অন্যায় কার্য্য উত্তম ভাবেই সাধন করুক। অন্যায় সাধনে কৃতিত্ব অর্জন করতে হলে তাকে চতুর হতে হবে। কারণ, সঙ্গোপনে যে নিজের উদ্দেশ্য সাধন করতে পারে না এবং ধরা পড়ে যায়, তাকে আমরা অপদার্থ বলি। কাজেই যে পরিপূর্ণরূপে অন্যায়কারী তার চরিত্রে আমরা অন্যায়ের চরম প্রকাশকেই দেখতে পাব। অন্যায় সাধনের ব্যাপারে তার চরিত্রে যেমন কোন ঘাটতি থাকলে চলবে না, তেমনি চরম অন্যায়েও তাকে পরম ন্যায়বান বলেই লোকের মনে প্রতিভাত হতে হবে। কারণ চরম অন্যায়ের চরম ন্যায় বলে প্রতিভাত হবার মধ্যেই তার সর্বাধিক সফলতা। অন্যায় সাধনে কোন ভ্রান্ত পদক্ষেপ যদি সে গ্রহণ করে থাকে তাহলে সে ব্যর্থতা অতিক্রমেও তার দক্ষতা থাকতে হবে; অন্যায় কর্মে ধরা পড়লেও আত্মপক্ষ সমর্থনে তার বাগ্মিতার শক্তি দেখাতে হবে; আপন কার্য্য সিদ্ধিতে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে জবরদস্তি প্রয়োগের যেমন- শক্তি ও সাহস থাকবে তার, তেমনি সম্পদ ও সহচর সংগ্রহেও সে হবে ক্ষমতাবান।

এই চরম অন্যায়ের পাশাপাশি এবার আমরা পরম ন্যায়ের মূর্ত্তিটি অঙ্কিত করি। পরম ন্যায় হবে সারল্য এবং মহত্ত্বের প্রতিমূর্ত্তি। ন্যায় সাধনের ইচ্ছে এবং চেষ্টাতেও তাকে অন্যায়কারী বলে প্রতিভাত হতে হবে। তাকে কোনভাবেই ন্যায়বান বলে পরিচিত হলে চলবে না। কারণ, ন্যায়বান বলে খ্যাতিমান হলে তার নিকটে আসতে থাকবে সম্মান আর উপঢৌকনের ডালি এবং তখন আর আমরা স্থির করতে পারব না এই ‘ন্যায়’ ন্যায়বান হচ্ছে কেবলমাত্র ন্যায় সাধনের জন্যে, না সম্মান ও উপঢৌকনের আকর্ষণে। কাজেই ন্যায়ের আবরণই হবে তার একমাত্র আচ্ছাদন; অপর কোন আকর্ষণের আচ্ছাদন রাখা তার চলবে না। জীবন যাত্রায় তাকে হতে হবে অন্যায়ের ঠিক বিপরীত। একদিকে যেমন তাকে হতে হবে মানুষ হিসেবে সর্বোত্তম, অপরদিকে লোকমুখে সে বিবেচিত হবে নরাধম বলে। এমন অবস্থাতেই ন্যায়ের আসল পরীক্ষা সম্ভব হবে। তখনই আমাদের পক্ষে দেখা সম্ভব হবে, এই চরম অপমান এবং পরিণামের ভয়ে- সে ভীত হয়ে পড়ে কি-না। তার এ অবস্থাকে আমরা কোনক্রমেই সাময়িক বলে ভাববো না। আমৃত্যু সে পরম ন্যায়বান হয়েও চরম অন্যায়কারী বলে প্রতিভাত হোক। এভাবে পরম ন্যায় এবং চরম অন্যায় উভয় যখন তাদের স্ব স্ব অবস্থার চরমে যেয়ে পৌঁছবে, কেবল তখনই মাত্র আমরা স্থির করতে পারব ন্যায় এবং অন্যায়ের প্রকৃত অবস্থান।

এখন আমরা এ দু‘জনের আপন আপন পরিণামকে অঙ্কিত করতে চেষ্টা করি। যে সত্যিকারের ন্যায়বান তাকে যদি লোকে অন্যায়কারী বলে মনে করে, তাহলে তাকেও জনতা অত্যাচারিত না করে ছাড়বে না। তাকে ধরে তারা কোড়ার আঘাতে ক্ষত বিক্ষত করে দেবে, যন্ত্রণার অগ্নিতে তাকে দগ্ধ করবে, হাত পা বেঁধে তার চোখকে অগ্নি শলাকা দিয়ে খুঁচিয়ে উপড়ে আনবে এবং পরিশেষে তাকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করবে। তখন এই ন্যায়বানও আফসোস করবে, হায়! এর চেয়ে উত্তম হত যদি আমি সত্যিকারের ন্যায়বান হবার চেয়ে কেবল ন্যায়বান হবার ভান করতাম। কবি এসকাইলাসের কথা -

‘তার হৃদয়ের জমি যেমন গভীর, তেমনি উর্বর,
আর তা থেকেই জন্ম নেয় তার অভিজ্ঞানের কিশলয়।’

-অন্যায়ের ক্ষেত্রেই যথার্থই প্রয়োগ করা চলে। কারণ, একমাত্র অন্যায়কারীই ভান করে না। আপন অন্ত:করণে সে যথার্থই জানে কি তার লক্ষ্য। তার লক্ষ্য হচ্ছে যথার্থই অন্যায় করা, অন্যায় করার ভান করা নয়। কারণ লোকে তাকে মনে করে সে পরম ন্যায়বান। আর তাই নগরীতে তার সম্রাটের আসন; যাকে ইচ্ছে তাকেই সে বিয়ে করতে পারে, আর যেমন ইচ্ছে তেমন করে সে বিয়ে ঘটাতেও পারে। অন্যায় সম্পর্কে তার কোন ভুল ধারণাও নেই। তাই জীবনের বিকিকিনির কোথাও সে লাভ বৈ লোকশানের ভাগীদার নয়। প্রতিযোগিতা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা- ব্যক্তিগত কি রাষ্ট্রিয়- যে কোন ক্ষেত্রেই হোক না কেন, সে অপরাজেয়। লাভের ব্যাপারে লাভ ষোল আনাই তার- লোকশান অপরের। এই নীতির জন্যেই তার সমৃদ্ধি। শক্তিতে যেমন সে ক্ষমতাবান শত্র“র প্রতি আঘাত হানতে, তেমনি সে ক্ষমতাবান মিত্রকে পারিতোষিকে তুষ্ট করতে। তাছাড়া খোদাকে তুষ্ট করতে তাঁর উদ্দেশ্যে বিরাটাকারের কোরবানীর অনুষ্ঠানেও তার কোন জুড়ি নেই। মোটকথা মানুষ কিম্বা খোদা যাকেই সে তুষ্ট করতে বা সম্মান দেখাতে ইচ্ছে করে সেটি সে ন্যায়বানের চেয়ে অধিকতর উত্তমভাবে করতে পারে। এ জন্যেই আমরা দেখি যে, ন্যায়বানের চেয়ে অন্যায়কারীর জীবনকে সুখময় করতে মানুষ আর খোদার কোন বিরোধ নেই- সেক্ষেত্রে উভয়েই যেন ঐক্যবদ্ধ।

উপরের বক্তব্যের যথার্থ তাৎপর্য বুঝতে আমরা আর একটি দিক বিবেচনা করব। সন্তানের পিতামাতা কিম্বা শিক্ষকের কথাই ধরা যাক। পিতা-মাতা তাদের সন্তানকে, শিক্ষক তার ছাত্রকেও উপদেশ দেন যেন তারা ন্যায়বান হয়। কিন্তু কেন তারা ন্যায়বান হবার এই উপদেশ দেন? তারাও এই উপদেশ দেন ন্যায়ের খাতিরে নয়, যাতে তারা ন্যয়বান বলে খ্যাত হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, পারিবারিক সুখ- ইত্যকার আনন্দ অর্থাৎ ন্যায়বান বলে পরিচিত হয়ে অন্যায়কারীর যে সমস্ত সুখ ও আনন্দ লাভ ঘটে, তা যেন তারা ভোগ করতে পারে তারই জন্যে। বস্তুত: এই শ্রেণীর লোকদের নিকট পরিচিত হবার গুরুত্ব অপরদের চেয়েও অধিক। কারণ পিতামাতা বা শিক্ষক এ কথাও বলেন যে, ন্যায়বানদের উপর খোদার করুণা অজস্র ধারায় বর্ষিত হতে থাকে। আর শুধু এরাই নন, হিসিয়ড এবং হোমারও একথাই বলেছেন। হিসিয়ড বলেছেন, দেবতারা ন্যায়বান দ্বারাই ওক বৃক্ষকে তৈরী করেন। আর তাইঃ

‘চূড়ায় তাদের ফলের সম্ভার, মধ্যভাগে মধুকরের অধিষ্ঠান
 মেষগুলো উষ্ণ লোমের আচ্ছাদনে মুহ্যমান।’  ------ হিসিয়ড (Works & Days)

কেবল ফলের সম্ভার আর উষ্ণ লোমের আচ্ছাদন নয়- এমন বহু করুণার উল্লেখই হিসিয়ড করেছেন। হোমারের কন্ঠেও একই সূর। কেননা তিনিও এমন ন্যয়পরায়ণের কথাই বলেন যার খ্যাতি হচ্ছেঃ

‘নিস্কলঙ্ক সেই সম্রাটের মত
যিনি দেবতাদের মতই ন্যায়ের দন্ড বহন করেন;
যার রাজ্যে কাল মাটির বুকেও সৃষ্টি হয় গম আর বার্লি শস্যের সম্ভার;
যার বৃক্ষরাজি ফলভাবে থাকে আনত,
আর যার মেষগুলো কোনদিন ব্যর্থ হয় না শাবক উৎপাদনে,
আর সমুদ্র কার্পণ্য করে না মৎস দানে-’ ------  হোমার (ওডিসি)


সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia.
উৎস: The Republic by Plato, --Tr. by Benjamin Jowett.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন