pytheya.blogspot.com Webutation

২৭ ডিসেম্বর, ২০১২

John Biddle: বিডলের টুয়েলভ আর্গুমেন্টস।


জন বিডল (John Biddle) উত্তর পশ্চিম ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টশায়ারের (Gloucestershire) ওয়াটন আন্ডার এজ (Wotton-under-Edge) নামের একটি মার্কেট শহরে ১৪ই জানুয়ারী, ১৬১৫ সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অসম্ভব মেধাবী ছিলেন। ১৬৩৪ খৃষ্টাব্দে তিনি অক্সফোর্ডে ভর্তি হন এবং ১৬৩৮ খৃষ্টাব্দে  বি.এস. ডিগ্রি লাভ করেন। 

সেণ্ট মেরি দ্য ক্রিপ্ট গ্রামার স্কুল, গ্লুচেস্টশায়ার।
১৬৪০ খৃষ্টাব্দের জুন মাসে ক্যান্টারবেরি ও ইয়র্কের সম্মেলনে সোকিয়ানাসের গ্রন্থসমূহের আমদানি, মুদ্রণ ও বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয় এবং হুঁশিয়ার করে দেয়া হয় যে এ ধর্মমতে কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাকে গির্জা হতে বহিষ্কার করা হবে। এসময় একদল লেখক ও বুদ্ধিজীবী এ সিদ্ধান্তের নিন্দা করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। 

জন বিডল এসময় 'সোকিয়ানবাদ' সম্পর্কে আগ্রহী হন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে পুস্তক সংগ্রহ সম্ভব হয়নি। যাইহোক ১৬৪১ খৃষ্টাব্দে এম.এস. ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি গ্লুচেষ্টারের সেণ্ট মেরি দ্য ক্রিপ্ট গ্রামার স্কুলে (The Crypt Grammar School, Gloucester) প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।স্কূলটি গ্লুচেস্টশায়ারের ক্যাথেড্রাল এর সাথে সংযুক্ত ছিল।আর যেহেতু তিনি তার ছাত্রদের চার্চ অব ইংল্যান্ডের ক্যাথেসিজম অনুসারে শিক্ষা দিতে বাধ্য ছিলেন, তাই তিনি গভীরভাবে বাইবেল পঠনে মনোযোগ দেন। এসময়ই একান্ত অবসরে তিনি তার ধর্মবিশ্বাস পুনর্বিবেচনা করতে শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে ত্রিত্ববাদী ধর্মমতের বৈধতার ব্যাপারে তার মনে সন্দেহ জাগে। 

গ্লুচেস্টশায়ার ক্যাথেড্রাল।
পুনর্মূল্যায়ন ও নতুন পরীক্ষার পর ত্রিত্ববাদসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিডলের নিজের মতেও পরিবর্তন সাধিত হয়। তিনি তার উপলব্ধ বিশ্বাস সম্পর্কে খোলাখুলি কথাবার্তা বলতে শুরু করেন। এরফল হিসেবে ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক ১৬৪৪ খৃষ্টাব্দে তিনি লিখিতভাবে তার ধর্মীয় স্বীকারোক্তির নির্দেশ পান। খুব সহজ ভাষায় তিনি সেটা করেন। -’আমি বিশ্বাস করি ঈশ্বর নামে একজনই সর্বশক্তিমান সত্তা রয়েছেন। সুতরাং ঈশ্বর একজনই।’

বিডল এ সময় 'পবিত্র আত্মার ঈশ্বরত্ব খণ্ডন করে ১২ টি যুক্তি' (Twelve Arguments Refuting the Deity of the Holy Sprit) নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন। ১৬৪৫ খৃষ্টাব্দে এটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ১৬৪৭ খৃষ্টাব্দে তিনি আবার ঐ পুস্তিকার পুনর্মুদ্রণ করেন। পার্লামেন্ট ঐ পুস্তিকার সকল কপি পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। এরপর ১৬৪৮ খৃষ্টাব্দের ২ মে এক কঠোর অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ঐ অধ্যাদেশে বলা হয়- যদি কেউ ত্রিত্ববাদে, অথবা যীশু অথবা পবিত্র আত্মাকে অস্বীকার করে, তাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হবে। 

যে পুস্তিকার কারণে এই কঠোর শাস্তির বিধান জারি করা হয়, সেই 'টুয়েলভ আর্গুমেন্টস' এর সারাংশ নিম্নরূপ-

১. যে ঈশ্বর থেকে পৃথক সে ঈশ্বর নয়
পবিত্র আত্মা ঈশ্বর থেকে পৃথক
অতএব, পবিত্র আত্মা ঈশ্বর নয়। 

যুক্তির ব্যাখ্যা: পবিত্র আত্মা ব্যক্তি হিসেবে ঈশ্বর থেকে ভিন্ন কিন্তু সত্তা হিসেবে নয়, এরূপ যুক্তিই যুক্তি বিরুদ্ধ। 
প্রথমত- কোন মানুষের পক্ষে ঈশ্বর সত্তা থেকে ব্যক্তিকে পৃথক করা এবং তার মনের মধ্যে দু’টি বা তিনটি সত্তাকে ঠাঁই দেয়া অসম্ভব। এর ফল হিসেবে সে দু’জন ঈশ্বর রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। 

দ্বিতীয়ত- ব্যক্তিকে যদি ঈশ্বরের সত্তা থেকে পৃথক করা হয় তখন ব্যক্তি এক ধরনের স্বাধীন বস্তু হয়ে উঠবে এবং তা হয় সীমাবদ্ধ নয় অ-সীমাবদ্ধ হবে। যদি সীমাবদ্ধ হয় তাহলে ঈশ্বরও একজন সীমাবদ্ধ সত্তা যেহেতু চার্চ বলে ঈশ্বরের মধ্যকার সবকিছুই স্বয়ং ঈশ্বর। সুতরাং এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হবে অবাস্তব। আবার যদি অ-সীমাবদ্ধ হয় তাহলে ঈশ্বরের মধ্যেও দু’জন অ-সীমাবদ্ধ ব্যক্তি থাকবেন অর্থাৎ দু’জন ঈশ্বর যা আগের যুক্তির চেয়ে আরো অবাস্তব। 

তৃতীয়ত, ঈশ্বর সম্পর্কে নৈর্ব্যক্তিক কিছু বলা হাস্যকর যেহেতু প্রত্যেক ব্যক্তি কর্তৃক একথা স্বীকৃত যে ঈশ্বর একজন ব্যক্তির নাম যিনি সর্বশক্তিমান শাসনকারী... একজন ব্যক্তি ছাড়া কেউ অন্যদের উপর শাসন বিস্তার করতে পারে না। সুতরাং তাকে ব্যক্তির বদলে অন্য কিছু হিসেবে গ্রহণ করার অর্থ তিনি যা নন তাকে সে হিসেবে গণ্য করা।

২. যিনি ইসরাইলদের পবিত্র আত্মা দিয়েছিলেন তিনি যিহোভা।
সুতরাং পবিত্র আত্মা যিহোভা বা ঈশ্বর নন। 

৩. যিনি নিজের কথা বলেন না তিনি ঈশ্বর নন।
পবিত্র আত্মা নিজের কথা বলেন না। 
সুতরাং পবিত্র আত্মা ঈশ্বর নন। 

৪. যিনি শিক্ষা লাভ করেন তিনি ঈশ্বর নন।
যিনি কি বলবেন তা অন্যের কাছ থেকে শোনেন সেটাই হল শিক্ষা।
যীশু খৃষ্ট তাই বলতেন যা তাকে বলা হত। 
সুতরাং যীশু ঈশ্বর নন। 
সূত্র: গসপেল (৮:২৬) 'আমি তাঁর (ঈশ্বর) কাছ থেকে যা শুনেছি সে সব কথাই বলি।'- যীশু 

৫. ঈশ্বর তিনি যিনি সকলকে সব কিছু দিয়েছেন।
যিনি অন্যের কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করেন তিনি ঈশ্বর নন।
সূত্র: জনের গসপেল(১৬:১৪) ঈশ্বর তিনি যিনি সকলকে সব কিছু দিয়েছেন।-যীশু 

৬. যিনি অন্য কর্তৃক প্রেরিত তিনি ঈশ্বর নন।
পবিত্র আত্মা ঈশ্বর প্রেরিত।
সুতরাং পবিত্র আত্মা ঈশ্বর নন। 

৭. যিনি সবকিছু দিতে পারেন না তিনি ঈশ্বর নন।
সূত্র: ঈশ্বর সকলকে দিয়েছেন প্রাণ, শ্বাস- প্রশ্বাস এবং সবকিছু। -প্রেরিত (১৭:২৫)
ব্যাখ্যা: যিনি ঈশ্বরের দান, তিনি সর্বদাতা নন যেহেতু তিনি নিজেই ঈশ্বরের প্রদত্ত দান। কিছু দান করা দাতার শক্তি ও নিজস্ব ইচ্ছাধীন। সুতরাং এটা কল্পনা করাই অবাস্তব যে, ঈশ্বর কারো শক্তি ও ইচ্ছাধীন। 

৮. যিনি স্থান পরিবর্তন করেন তিনি ঈশ্বর নন
পবিত্র আত্মা স্থান পরিবর্তন করেন,
সুতরাং পবিত্র আত্মা ঈশ্বর নন।
ব্যাখ্যা: “যদি ঈশ্বর স্থান পরিবর্তন করেন তাহলে যেখানে তিনি আগে ছিলেন সেখানে তিনি থাকবেন না এবং যেখানে তিনি আগে ছিলেন না সেখানে যাত্রা শুরু করবেন। এটা তার সর্বত্র বিরাজমান থাকা ও ঈশ্বরত্বের বিরোধী। সুতরাং যীশুর কাছে যিনি এসেছিলেন তিনি ঈশ্বর নন বরং তিনি একজন স্বর্গীয় দূত। 

৯. যিনি সিদ্ধান্তের জন্যে যীশুর কাছে প্রার্থনা করেন তিনি ঈশ্বর নন,
সুতরাং পবিত্র আত্মা ঈশ্বর নন।

১০. যার প্রতি বিশ্বাস স্থাপিত হয়নি তিনি ঈশ্বর নন।
মানুষ পবিত্র আত্মার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেনি তবুও তারা তার অনুসারী
সুতরাং পবিত্র আত্মা ঈশ্বর নন।
সূত্র: 'যার কথা তারা শোনেনি তাকে তারা কীভাবে বিশ্বাস করবে? মানুষ যার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেনি, তবুও ছিল তারা অনুসারী।'-রোমীয় (১০:১৪)

১১. যিনি ঈশ্বরের কাছ থেকে নির্দেশ গ্রহণ করেন ও বলেন তা ঈশ্বরের শিক্ষা
পবিত্র আত্মা সেটাই করেন,
অতএব পবিত্র আত্মা ঈশ্বর নন।
ব্যাখ্যা: যিনি অন্যের মারফত ঈশ্বরের কথা জানতে পারেন. যেমন যীশু, তিনি যা বলবেন তা ঈশ্বর থেকে স্বতন্ত্র। 

১২. ঈশ্বর থেকে যিনি স্বতন্ত্র ইচ্ছা রাখেন তিনি ঈশ্বর নন।
পবিত্র আত্মা ঈশ্বর থেকে স্বতন্ত্র ইচ্ছা রাখেন, 
সুতরাং পবিত্র আত্মা ঈশ্বর নন। 
সূত্র: 'অনুরূপভাবে পবিত্র আত্মা আমাদের প্রার্থনা করতে শিখিয়েছেন, কারণ আমরা তা জানতাম না। পবিত্র আত্মা আমাদের জন্য কাতরভাবে প্রার্থনা করেছেন... ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী সাধু- সন্তদের জন্যেও তিনি সুপারিশ করেছেন।'-রোমীয় (৮:২৬-২৭)

বিডল নিউ টেষ্টামেন্টের একটি পংক্তিও আলোচনা করেছেন যা প্রতিষ্ঠিত চার্চ ত্রিত্ববাদের ব্যাপারে তাদের সমর্থনে উদ্ধৃত করে থাকে। তা হল জনের গসপেলে (৫:৭) বলা হয়েছে- '৩টি বিষয় রয়েছে যা ঐশী। সেগুলো হল পিতা ঈশ্বর, বাণী ও পবিত্র আত্মা। আর এই তিনে মিলে এক।' 

বিডল বলেন, এ পংক্তি সাধারণ জ্ঞানে পরস্পর বিরোধী। উপরন্তু তা ধর্মগ্রন্থ গুলোর অন্যান্য পংক্তিরও বিরোধী। তাছাড়া এটা তাদের ঐক্যমতকেই তুলে ধরে, কখনোই সত্তার নয়। তদুপরি, এমনকি প্রাচীন গ্রীক গসপেলেও এ পংক্তিটি দেখা যায় না যেমন তা নেই সিরীয় অনুবাদে এবং অতি প্রাচীন ল্যাটিন সংস্করণে। তাই মনে হয় যে এ পংক্তিটি সংযোজন করা হয়েছে এবং সে কারণে প্রাচীন ও আধুনিক কালের ব্যাখ্যাকার গণ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

১৬৪৮ সালের আইন সত্ত্বেও বিডল তার দু’টি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। একটি হল A Confession of Faith Touching the Holy Trinity According to the Scripture. অন্যটি The Tectimonies of Iraneus, Justin Martyr etc Concerning one God and the Persons of the Holy Trinity.

বিডলের ঐ ’কনফেশন অব ফেইথ’ গ্রন্থটি ৬টি প্রবন্ধ নিয়ে প্রণীত হয়েছিল। প্রতিটি প্রবন্ধই রচিত হয়েছিল বাইবেলের উদ্ধৃতি ও তার যুক্তি-তর্ক দিয়ে। ভূমিকায় তিনি ত্রিত্ববাদী ধর্মমতের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির কথা বলিষ্ঠতার সাথে ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন যে, ত্রিত্ববাদীদের ব্যবহৃত যুক্তিসমূহ খৃষ্টানদের চেয়ে জাদুকরদের জন্যে বেশি উপযুক্ত। 

এই 'কনফেশন অব ফেইথ' গ্রন্থের কিছু অংশ- 'আমি বিশ্বাস করি যে একজন সর্বোচ্চ ঈশ্বর রয়েছেন যিনি স্বর্গ ও পৃথিবীর স্রষ্টা এবং সকল বস্তুর মূল উৎস এবং তিনিই আমদের চূড়ান্ত বিশ্বাস ও প্রার্থনার লক্ষ্য। আমি যীশুতে বিশ্বাস করি এ পর্যন্ত যে তিনি আমাদের ভাই এবং আমাদের দুর্বলতার প্রতি তার রয়েছে সহানুভূতি যে কারণে আমাদের সাহায্যের জন্যে তিনি অধিক প্রস্তুত। তিনি একজন মানুষ মাত্র। তিনি স্রষ্টার অধীন। তিনি অন্য একজন ঈশ্বর নন। ঈশ্বর দু’জন নয়। আর পবিত্র আত্মা একজন স্বর্গীয় দূত যিনি তার মহত্ত্ব ও ঈশ্বরের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ঈশ্বরের বাণী বহনের জন্যে নির্বাচিত হয়েছেন।'

গ্রন্থ দু’টি প্রকাশ করার কারণে ১৬৪৮ সালের প্রণীত আইনে বিডল গ্রেফতার হলেন। প্রণীত ঐ আইনে হয়ত: ফাঁসিতে ঝুলতে হত যদি না পার্লামেন্টের কয়েকজন নিরপেক্ষ সদস্য তাকে সাহায্য করতেন। কারাগারে দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর একজন ম্যাজিষ্ট্রেট বিডলের জামিন মঞ্জুর করেন এবং তিনি কারামুক্ত হন। নিরাপত্তার কারণে উক্ত ম্যাজিষ্ট্রেটের নাম গোপন রাখা হয়। কিন্তু বিডল বেশিদিন মুক্ত জীবন কাটাতে পারেননি। তাকে আবার কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। এর পরপরই ঐ ম্যাজিষ্ট্রেট পরলোকগমন করেন। তিনি বিডলের জন্যে সামান্য সম্পদ রেখে যান। কারা জীবনের ব্যায় মেটাতে খুব শিগগিরই তা নিঃশেষ হয়ে যায়। কিছুকালের জন্যে বিডলের আহার সকাল ও সন্ধ্যায় সামান্য পরিমাণ দুধে মাত্র এসে ঠেকে। এ সময় কারাগারে থাকা অবস্থায় বাইবেলের গ্রীক অনুবাদের একটি নতুন সংস্করণের প্রুফ দেখে দেওয়ার জন্যে লণ্ডনের একজন প্রকাশক তাকে প্রুফরিডার নিযুক্ত করায় তার আর্থিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটে। ১৬৫২ খৃষ্টব্দে ক্ষমা প্রদর্শন আইন পাস হলে বিডল মুক্তি লাভ করেন।
১৬৫৪ খৃষ্টাব্দে বিডল আমষ্টার্ডামে একত্ববাদ নিয়ে পুনরায় একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। ইংল্যাণ্ডে এ গ্রন্থটিও ব্যাপকভাবে পঠিত হয়। স্বাধীন জীবনের এ সময়কালটিতে তিনি প্রতি রবিবার তাদের নিজস্ব রীতিতে ঈশ্বরের উপাসনার জন্যে অন্যান্য একত্ববাদীর সাথে মিলিত হতেন। এতে যারা যোগদান করতেন তারা আদি পাপের ধারণা ও প্রায়শ্চিত্ত মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন না। 

১৬৫৪ খৃষ্টাব্দের ১৩ ডিসেম্বর বিডলকে পুনরায় গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তাকে কলম, কালি ও কাগজ প্রদান নিষিদ্ধ করা হয় এবং কোন দর্শনার্থীরও তার সাথে সাক্ষাৎ করার অনুমতি ছিল না। এমনকি তার সব গ্রন্থ পুড়িয়ে ফেলারও নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। বিডল আপিল করেন এবং ১৬৫৫ খৃষ্টাব্দের ২৮ মে মুক্তি পান। 
অল্পদিনের মধ্যেই বিডল পুনরায় কর্তৃপক্ষের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একটি প্রকাশ্য বিতর্ক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। বক্তা বিতর্কের শুরুতেই জিজ্ঞাসা করেন যে যীশুকে সর্বোচ্চ ঈশ্বর বলে অবিশ্বাস করেন এমন কোন ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত আছেন কিনা। বিডল সাথে সাথে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বললেন, ’আমি অবিশ্বাস করি।’ 

তার বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে বললে, তিনি তার যুক্তি দিতে শুরু করেন। তার প্রতিপক্ষ ঐসব যুক্তি খণ্ডন করতে পারলেন না। তখন বিতর্ক বন্ধ এবং অন্যদিন তা পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অতপর নির্ধারিত দিনের আগেরদিন আবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। সম্ভবত: সেসময় এমন কোন আইন বলবৎ ছিল না যার দরুণ তাকে শাস্তি দেওয়া যেত। 

১৬৫৫ খৃষ্টাব্দের ৫ই অক্টোবর বিডলকে সিসিলিতে নির্বাসিত করা হয়। তাকে জানান হয় বাকি জীবন তাকে সেন্ট মেরি ক্যাসলে (Castle of St. Mary) বন্দী অবস্থায় কাটাতে হবে এবং তাকে বার্ষিক ১০০ ক্রাউন ভাতা দেয়া হবে। সেখানে কারাবন্দি থাকা কালে বিডল একটি কবিতা লিখেছিলেন। তার কিছু অংশ- 

'গুপ্ত সভার বৈঠক বসল, বিচারক নির্ধারিত হল, 
মানুষ আরোহণ করল ঈশ্বরের সিংহাসনে
এবং তারা একটি বিষয়ের বিচার করল
যা শুধু একা তারই (ঈশ্বরের) শোভা পায়;
একজন ভাইয়ের বিশ্বাসকে তারা বলল অপরাধ 
এবং তারা ধ্বংস করল চিন্তার মহৎ স্বাধীনতা।'

এসময় টমান ফারমিন অতীতের মত বিডলকে অর্থ সাহায্য করেছিলেন। ফলে তার কারাগারে জীবনযাত্রা কিছুটা আরামদায়ক হয়ে উঠেছিল। ইতিমধ্যে বিডলের প্রতি সহানুভূতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। কারাগারে যতই দিন অতিবাহিত হতে থাকল তার জনপ্রিয়তা তত বেশি বাড়তে থাকল। তার মুক্তির ব্যাপারে সরকারের উপর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৬৫৮ খৃষ্টাব্দে তিনি মুক্তি লাভ করেন। 

কারাগার থেকে বাইরে আসার পর পরই বিডল জনসভা করতে শুরু করেন। এসব সভায় তিনি ঈশ্বরের একত্ব সম্পর্কে এবং ত্রিত্ববাদের অসারতা বিষয়ে বাইবেল থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তি-ব্যাখ্যা দিতেন। এসব জনসভা এক পর্যায়ে প্রার্থনা সভায় পরিণত হয়। ১৬৬২ খৃষ্টাব্দে এক সভা চলার মাঝপথে বিডল ও তার কয়েকজন সঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সবাইকে কারাগারে নিক্ষেপ এবং জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। তাদের বিচার চলে। বিচারে বিডলকে একশত পাউন্ড জরিমানা করে উক্ত অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত কারাগারে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। আর তার সহযোগী বন্ধুদের প্রত্যেককে ২০ পাউন্ড করে জরিমানা করা হয়। কারাগারে বিডলের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তাকে বন্দী রাখা হয় এক নির্জন প্রকোষ্ঠে। কারাগারের দূষিত বাতাস তাকে রোগগ্রস্ত করে তোলে। মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে। ১৬৬২ খৃষ্টাব্দের ২২ সেপ্টেম্বর তাকে সমাহিত করা হয়। 

যে বছর বিডলের মৃত্যু হয়, সে বছরই কার্যকর হয় সমরূপ বিধান আইন (Acts of Uniformity)। এর অর্থ হল বিডল যে প্রকাশ্য উপাসনা সভার পদ্ধতি প্রচলন করেছিলেন তা বন্ধ করে দেয়া। এ আইনে ২,২৫৭ জন যাজককে তাদের জীবিকা চ্যুত করা হয়। তবে এটা জানা যায় যে ত্রিত্ববাদকে মেনে নিতে অস্বীকার করায় ইংল্যান্ডে এসময় ৮ হাজার মানুষ কারাগারের অন্তরালে প্রাণ হারায়। 

যাহোক, এতকিছুর পরও একত্ববাদ একটি ধর্মমত হিসেবে টিকে থাকে এবং অনুসারীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। চার্চের ধর্মে মানুষকে ফিরিয়ে আনার জন্যে বল প্রয়োগ করা হয়। পরিণতিতে তা সোকিয়ানাস ও বিডলের প্রচারিত মতের অনুসারীদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সে যুগের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী, চিন্তাবিদগণ যেমন মিলটন, স্যার আইজাক নিউটন ও লক এর মত ব্যক্তিরা এক ঈশ্বরে আস্থা ব্যক্ত করেন। 

সমাপ্ত।

উৎস: Jesus- A Prophet of Islam by Muhammad Ata-Ur-Rahim.
ছবি: Wikipedia, cryptschool.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন