pytheya.blogspot.com Webutation

২৫ ডিসেম্বর, ২০১২

Jesus: কৈশর কালীন অলৌকিক কর্মকান্ডসমূহ।


ঈসা মসিহ একজন প্রতিশ্রুত পয়গম্বর। তার ধরণীতে আগমন ও জীবন-যাপন ও উর্দ্ধারোহণ সম্পর্কে পূর্ববর্তী নবীদের অনেকেই অনেক কথা বলে গিয়েছিলেন। সুতরাং তার আগমন নতুন কিছু ছিল না। ইহুদী ধর্মালম্বী সকলেই জানত যে মসিহর আবির্ভাব ঘটবে।

কিতাবে যেভাবে বলা হয়েছিল, সবকিছুই তেমনই ঘটেছিল। একজন কুমারী মেয়ে গর্ভবতী হল এবং ঐ প্রতিশ্রুত সন্তানের জন্ম দিল। কিন্তু যখন সেই প্রতিশ্রুত পয়গম্বর একত্বের বাণী প্রচার করতে শুরু করলেন, তখন অধিকাংশ ইহুদি তার উপর বিশ্বাস আনল না। কেননা, তারা তার জন্মের উপরই বিশ্বাস আনেনি। এটা এ কারণে যে, তার মাতা মেরী তার শৈশব ও কৈশর অতিবাহিত করেছিল শলোমনের মন্দিরে, পর্দার অন্তরালে। ফলে মন্দির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ব্যাতিত ইহুদিদের তেমন কেউই তাকে চিনত না। অত:পর পিতা ছাড়াই তার সন্তান জন্মের কথা প্রচার পেলে, তারা হাস্য-কৌতুক করল এবং তার পূত: চরিত্রের উপর মহা অপবাদ আরোপ করল। কেননা, তারা কিতাব বিষ্মৃত হয়েছিল এবং জাগতিক বিষয়ের উপর অধিক মনোযোগী হয়ে পড়েছিল। সুতরাং যেহেতু তারা মানব সন্তান জন্মানোর উপাদান ও পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক অবহিত ছিল, তাই তারা অবলীলায় বলে দিল- ’আসলে ঐটি ঐ ছুতোর ব্যাটারই জারজ সন্তান।’ যার প্রতি তারা ঈঙ্গিত করেছিল, সে ছিল মেরীর চাচাত ভাই ইউসূফ।

মেরী, ইউসূফ ও শিশু জেসাস।
ঈসা মসিহের জন্মের উপর অবিশ্বাসের কারণে তার শিক্ষা ও অলৌকিক কর্মকান্ডের উপর সহজেই ইহুদিরা অবিশ্বাস করতে পেরেছে। আর তাই তার সম্পর্কে ইহুদি ইতিহাসে তেমন তথ্য নেই। অন্যদিকে অপবাদ ও অন্যান্য কারণে মেরী ও ইউসূফ বেশকিছু কাল মিসরে অবস্থান করাতে ঈসার বাল্যকাল অনেকের কাছেই ছিল অজ্ঞাত। তাছাড়া তার শিষ্যগণ তার শিক্ষা ও কর্মকান্ডের উপরই বেশী জোর দিয়েছিল, যেহেতু তারা কেবল সেটাই জানত। আর যারা বর্তমান বাইবেল লিখেছেন, সেই মথি, মার্ক, জন ও লূকের কারোরই তো ঈসার সঙ্গে সাক্ষাতই ঘটেনি। তারা তো কেবল তাই লিপিবদ্ধ করেছেন যা তারা অন্যের কাছ থেকে শুনেছেন এবং স্বাভাবিকভাবে ঈসার বাল্যকালের তথ্যসূত্র তাদের কাছে না থাকাতে তারা তা লিপিবদ্ধ করতে পারেননি। তবে এশী গ্রন্থ কোরআন ঈসার বাল্যকালের এক আলৌকিক ঘটনার উল্লেখ করেছে।

মেরী সন্তান সহ নাসারতে নিজ গ্রামে স্বীয় সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেলে তার কুমারী অবস্থায় সন্তান হবার খবর আর গোপন রইল না। মুখরোচক এই খবর অতি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ল। প্রতিবেশী ও অন্যান্য লোকেরা ছুটে এল। তারা এসে তাকে ভর্ৎসনা করতে লাগল; তারা তার পিতামাতার পবিত্রতা উল্লেখ করে তাকে লজ্জায় ফেলতে চাইল। তারা বলল- ‘হে মরিয়ম! তুমি তো এক অঘটন ঘটিয়ে বসেছ। হে হারুণ ভগ্নি! তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিল না, তোমার মাতাও ব্যভিচারিনী ছিল না।’

লোকেরা মেরীকে উত্যক্ত করতে কি অদ্ভূত পন্থাই না অবলম্বণ করছে! তারা তাকে মেরী বা মরিয়ম না বলে হারুণ ভগ্নি সম্বোধন করছে। একথা তাকে উপলব্ধি করতে যে, তিনি (হারুণ ভগ্নি মরিয়ম) একজন পবিত্রা মহিলা ছিলেন অথচ সেই একই নামের হয়ে সে (মেরী) একজন বেশ্যা- বিবাহ ব্যাতিরেকেই সন্তান জন্মদাত্রী। একই নাম অথচ কতটাই না বৈসাদৃশ্য, একটা পবিত্র নামের কতটা না অবমাননা!

মেরী লোকদের কোন কথার উত্তর না দিয়ে চুপচাপ বসে রইল। কেননা সে জানত সত্য বললেও লোকেরা তার কথা বিশ্বাস করবে না। আর এ কারণে এই পরিস্থিতির মোকাবেলায় সে পূর্বেই ফেরেস্তার পরামর্শ মত মৌণতাবল্বণের মানতের মধ্যে ছিল। এদিকে মেরীর নিরুত্তর ভঙ্গি লোকদের ক্রুদ্ধ করল। সুতরাং তারা তাকে আরও উত্যক্ত করতে লাগল। তখন বিচলিত হয়ে সে ইশারায় বুঝিয়ে দিল, সে আজ মৌণাতাবলম্বণের মানত করেছে, তাই তার পক্ষে কোন মানুষের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব নয়। কিন্তু লোকেরা তার ইশারা বুঝতে পারলেও তা আমলে নিল না। বরং তারা তাকে আরও বেশী করে নিন্দা করতে লাগল। ফেরেস্তার ঐ উপদেশ কাজে না লাগাতে মেরী আরও বেশী বিচলিত হল, আর তখনি হঠাৎ তার মনে পড়ল ফেরেস্তার অপর একটি কথা- “সে দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সাথে কথা বলবে এবং সে হবে পূণ্যবানদের একজন।”(৩:৪৬) সুতরাং সে তাদেরকে ইঙ্গিতে তার সন্তানকে দেখিয়ে দিল, যেন তাদের যা কিছু জানার তা তার কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে জেনে নেয়। 

লোকেরা মেরীর ইঙ্গিত ঠিকই বুঝতে পারল। আর একে আর এক তামাশা মনে করে তারা ভীষণভাবে ক্রুদ্ধ হল। তারা বলল, ‘যে দোলনার শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব?’

কোন কিছুতেই লোকেরা তাকে নিস্কৃতি দিচ্ছে না দেখে মেরী নত মস্তকে নীরবে কাঁদতে লাগল। তার অশ্রু গড়িয়ে শিশু ঈসার গায়ে পড়ল। সে ঐ সময় তার মায়ের কোলে বসে দুধ পান করছিল। মেরীর অশ্রুজল শিশু ঈসার শরীর স্পর্শ করা মাত্র সে স্তন ছেড়ে দিল। তারপর তার মায়ের ক্রন্দনরত নত মুখটা কিছুক্ষণ দেখল। লোকেরা তার নিরাপরাধ মাতাকে কি মানসিক নির্যাতনই না করেছে! এখন সে পূর্বে এবং বাম দিকে পাশ ফিরে, লোকদের দিকে মনোযোগ দিল। অতঃপর তর্জণী খাড়া করে বলল, ‘আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন, আমাকে নবী করেছেন। আমি যেখানেই থাকি না কেন তিনি আমাকে আশীষ ভাজন করেছেন, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন জীবিত থাকি ততদিন নামাজ ও যাকাত আদায় করতে এবং মায়ের প্রতি (লক্ষণীয় যে সে পিতার উল্লেখ করল না। এতেই ঈঙ্গিত রয়েছে যে, সে পিতা ছাড়াই আলৌকিকভাবে অস্তিত্ব লাভ করেছে।) অনুগত থাকতে এবং তিনি আমাকে উদ্ধ্যত ও হতভাগ্য করেননি। আমার প্রতি শান্তি ছিল-যেদিন আমি জন্মলাভ করেছি ও শান্তি থাকবে যেদিন আমার মৃত্যু হবে ও যেদিন জীবিত অবস্থায় আমি পুনরুজ্জীবিত হব।
--নিশ্চয় আল্লাহ আমার পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। অতএব তোমরা তাঁর এবাদত কর। এটাই সরল পথ।’

স্বীয় বক্তব্য পেশ করে শিশু ঈসা পুনঃরায় মায়ের দুধপান করতে লাগল। (এখানে একথা উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয় যে, যে বয়সে সাধারণতঃ শিশুরা কথা বলে সেই বয়সের পূর্বপর্যন্ত শিশু ঈসা অবশ্য আর কখনও কথা বলেনি।)

এদিকে সম্প্রদায়ের আগত লোকেরা এক দুগ্ধপোষ্য শিশুর কথা বলার এই আশ্চর্য ঘটনায় ভয়ে ও বিষ্ময়ে হতবাক হয়ে পড়ল। তদুপরি এই শিশু নিজেকে রসূল হিসেবে দাবী করায়, তার মায়ের নির্দোষীতার সাক্ষী দেওয়ায়, তারা নিশ্চিত হল মেরীর ধার্মিকতা ও পবিত্রতার বিষয়ে। তারা নিজেদের আচরণের কারনে লজ্জিত হল এবং আর কোন কথা না বলে একে একে বিদায় নিল। 

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- অতঃপর সে (মরিয়ম) সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে হাজির হল, ওরা বলল- হে মরিয়ম! তুমি তো এক অদ্ভূত কান্ড করে বসেছ। হে হারুণ ভগ্নি! তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিল না, তোমার মাতাও ব্যভিচারিনী ছিল না।’ অতঃপর মরিয়ম ইঙ্গিতে সন্তানকে দেখাল। ওরা বলল, ‘যে দোলনার শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব?’

সে (ঈসা) বলল, ‘আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন, আমাকে নবী করেছেন। আমি যেখানেই থাকি না কেন তিনি আমাকে আশীষভাজন করেছেন, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন জীবিত থাকি ততদিন নামাজ ও যাকাত আদায় করতে এবং মায়ের প্রতি অনুগত থাকতে এবং তিনি আমাকে উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি। আমার প্রতি শান্তি ছিল-যেদিন আমি জন্মলাভ করেছি ও শান্তি থাকবে যেদিন আমার মৃত্যু হবে ও যেদিন জীবিত অবস্থায় আমি পুনরুজ্জীবিত হব।’(১৯:২৭-৩৩) ‘নিশ্চয় আল্লাহ আমার পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। অতএব তোমরা তাঁর এবাদত কর। এটা সরল পথ।’(১৯:৩৬)

A page of Syriac Infancy Gospel
এ তো গেল শিশু ঈসার আলৌকিকত্বের কোরাণিক তথ্য। এখন দেখি এ বিষয়ে অন্য তথ্য ভান্ডার কি বলে- ২য় শতকের Injilu't Tufuliyyah or the Gospel of the Infancy of Jesus Christ-এ এঘটনা বর্ণিত হয়েছে এভাবে-

"He relates that Jesus spake even when he was in the cradle and he said to his mother, "Mary, I am Jesus the son of God, that word which thou didst bring forth according to the celebration of the angel Gabriel to thee, my Father has sent me for the salvation of the world." -Syriac Infancy Gospel 1:2-3

এসব ছাড়াও কিছু কিছু গবেষক ঈসার বাল্যকালের আলৌকিকতার আরও কিছু খন্ড খন্ড তথ্য আমাদের কাছে উপস্থাপন করেছেন যা উল্লেখের দাবী রাখে। প্রথমে আমি সালাবীর ’কাসাসূল আম্বিয়া’ থেকে ঐসব আলৌকিকতার কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করছি।
ঈসা যখন শৈশবে সিনাগগে শিক্ষার জন্যে যেত, তখন সে তার সহপাঠীদের কাছে তাদের পিতা-মাতারা কে কি করছেন, বা তাদের বাড়ীতে কি কি রান্না হচ্ছে-তা বলে দিত। সে একেক দিন এক একজনকে বলত, 'বাড়ি যাও, তোমর বাড়িতে আজ এই খাবার আছে’ অথবা 'তোমার মা এই খাবার তৈরি করেছেন।’ একথা শুনে ঐ ছেলেটি বাড়ি গিয়ে সে ঈসার কাছে যা যা শুনেছিল সেগুলো তাকে না দেয়া পর্যন্ত কান্নাকাটি করত। বাড়ির লোকেরা তো অবাক। তারা বলত, 'কে তোমাকে একথা বলেছে?’ সে বলে দিত, 'ঈসা।’

এভাবে কয়েকটি ঘটনা ঘটার পর কয়েকটি পরিবার তাদের সন্তানদের কয়েকদিন আর সিনাগগে যেতে দিল না, তাদেরকে তারা গৃহবন্দী করল। এতে ঈসা তাদেরকে খুঁজতে তাদের বাড়ীতে গেল। কিন্তু বাড়ীর লোকেরা যখন শুনল, যে ছেলেটি খোঁজ নিচ্ছে সে ঈসা, তখন তারা বলল, 'তারা বাড়ীতে নেই।’
এতে ঈসা বলল, 'তাহলে ঘরে কারা আছে?’
তারা বলল, 'শুকর।’
তখন ঈসা বলল, 'তবে তাই হোক।’ ঈসা ফিরে গেল।

এদিকে ঐ বাড়ীর লোকেরা তাদের গৃহদ্বার খুলে তাদের সন্তানদের দেখতে পেল না, বদলে শুকরই দেখল। এতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হল। আর বিপাকে পড়লেন মেরী। তিনি তখন তার সন্তানের অমঙ্গলের আশঙ্কায় ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলেন। সুতরাং ঘটনার পরপরই তিনি ও ইউসূফ সন্তানসহ মিসরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। -সূত্র: সুদ্দী  

মিসরের পথে
মেরী ও ইউসূফ তাদের সন্তানসহ মিসরের কোন এক গ্রামে এক গ্রাম প্রধানের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দরিদ্র ছুতোর মিস্ত্রি ইউসূফ ঐ গ্রাম প্রধানের বাড়িতে নানারকম কাঠের কাজ করতেন। একবার গ্রাম প্রধানের তহবিল থেকে কিছু অর্থ চুরি গেল। কিন্তু ঐ গ্রাম প্রধান দরিদ্র ছুতোর ইউসূফকে সন্দেহ করেননি। এদিকে আশ্রয়দাতার এই অর্থ চুরির ঘটনায় মেরী দুঃখিত হন। বালক ঈসা তার মাতাকে ঐ চুরির ঘটনায় দুঃখ-কাতর দেখে বলল, 'মা, তুমি কি চাও যে আমি এই চুরি যাওয়া অর্থের সন্ধান করি।’
মেরী বললেন, হ্যাঁ, কর।’
তখন ঈসা বলল, 'তাহলে মালিককে গ্রামের সব দরিদ্রদেরকে আমার কাছে ডেকে আনতে বল।’

একথা শুনে মেরী গৃহস্বামীর কাছে গিয়ে তাকে তার পুত্রের কথা জানালেন। এতে ঐ গ্রাম প্রধান, গ্রামের সকল দরিদ্রকে তার বাড়ীতে ডেকে আনালেন। ঈসা তাদের সবাইকে একনজর দেখল, তারপর এগিয়ে গিয়ে তাদের দু’ব্যক্তির কাছে গেল। ঐ ব্যক্তিদ্বয়ের একজন ছিল অন্ধ, অন্যজন খঞ্জ। ঈসা ঐ অন্ধকে বসিয়ে খঞ্জকে তার কঁধের উপর তুলে দিল। তারপর তাকে বলল, 'উঠে দাঁড়াও।’
অন্ধ বলল, 'একে কাঁধে নিয়ে উঠে দাঁড়ানোর শক্তি আমার নেই।’
ঈসা বলল, 'তবে গতকাল এ শক্তি তুমি কোথায় পেয়েছিলে?’

উপস্থিত লোকজন ঈসার কথা শুনে অন্ধকে প্রহার করতে শুরু করলে সে উঠে দাঁড়াল। তখন ঈসা খঞ্জকে বলল, 'এবার সেখানে যাও, যেখান থেকে চুরি করেছিলে।’
তখন ঐ খঞ্জ অন্ধকে নিয়ে গৃহস্বামীর ধন-ভাণ্ডারের জানালার কাছে পৌঁছে গেল। তখন ঈসা মালিককে বলল, 'এভাবেই এই অন্ধ ও খঞ্জ মিলে গতকাল আপনার অর্থ চুরি করেছে।’
এতে মালিক তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'একথা কি সত্য?’
তখন তারা সমস্বরে বলল, 'হ্যাঁ, সে সত্য কথাই বলেছে। আমরাই আপনার অর্থ চুরি করেছি।’

চোরদ্বয় তাদের চুরি করা অর্থ গ্রাম প্রধানকে ফিরিয়ে দিল। এসময় ঐ গৃহস্বামী মেরীকে বললেন, 'হে মরিয়ম, তুমি এর অর্ধেকটা গ্রহণ কর।’
জবাবে মেরী বললেন, 'অর্থের প্রতি আমার কোন মোহ নেই।’
গ্রামপ্রধান বললেন, 'ঠিক আছে, এ অর্থ তাহলে তোমার পুত্রকে দাও।’
মেরী বললেন, 'তার মর্যাদা আমার চেয়েও অধিক।’ - সূত্র: ওয়াহাব

মিসরের যে ইহুদি পল্লীতে মেরীরা থাকতেন, সেখানকার সিনাগগে ঈসা শিক্ষার জন্যে যেত। অত:পর ঈসার বয়স যখন দশ পেরিয়ে গেল তখন মাতা মেরী তাকে বিভিন্ন রকম কাজ শেখানোর চেষ্টা করলেন। একসময় তিনি ঈসাকে এক বস্ত্র রঞ্জনকারীর কাছে দিলেন। ঐ লোক তাঁতীদের কাছ থেকে কাপড় কিনে সেগুলি রং করে বাজারে বিক্রি করত। একবার দূরবর্তী কোন এক শহর থেকে বেশকিছু কাপড়ের অর্ডার সে পেল। ঐ কাপড় যখন প্রস্তুত হয়ে গেল, তখন সে ঈসাকে বেশ কিছু কাপড় দিয়ে বলল, 'তুমি এখন ব্যবসা শিখেছ। আমি কয়েক দিনের জন্য সফরে যাচ্ছি। এই বস্তুগুলো হবে বিভিন্ন রঙের। কোন গুলো কোন রঙে রং করা হবে আমি তা চিহ্নিত করে দিয়েছি। আমি চাই যে, আমার ফিরে আসার আগেই এ কাজগুলো তুমি সম্পন্ন করে রাখবে।’
ঈসা বলল, 'আমি সবকিছু ঠিকঠাক মত করে রাখব। আপনি চিন্তা করবেন না।’

এদিকে লোকটি চলে গেলে, ঈসা একটি রং করার পাত্রে সবরকম রং ঢেলে দিলেন তারপর সব কাপড়গুলো তার মধ্যে ডুবিয়ে দিয়ে রেখে দিলেন। নির্দিষ্ট দিনে বস্ত্র রঞ্জনকারী ফিরে এল। তারপর ঈসাকে বলল, 'কাপড়গুলো কোথায়?’
ঈসা বলল, 'ওগুলো তো রঙের পাত্রের মধ্যেই আছে।’

তখন লোকটি তার কারখানার ভিতরে গিয়ে দেখে যে, সব কাপড়গুলো একটি রঙের পাত্রে ভিজিয়ে রাখা। সে চিৎকার করে বলল, 'হায় হায়! এ তুমি কি করেছ?’
ঈসা বলল, 'আপনি যেমন চেয়েছেন, তেমনই করা হয়েছে।’
সে বলল, 'আমি তো সকল কাপড় একই রং করতে বলিনি।’
ঈসা বলল, 'আপনি যে কাপড়ে যে চিহ্ন দিয়েছিলেন, সেই কাপড় সেই রঙেরই করা হয়েছে, পাত্র থেকে ওগুলো একবার তুলে দেখেন।’

এতে সে পাত্র থেকে একটি একটি করে সবগুলি কাপড় তুলল এবং হতবাক হয়ে গেল। এ ঘটনা গ্রামে জানাজানি হয়ে গেল এবং নিকটেই ছিল ঈদুল ফেসাক। সুতরাং মেরী ও ইউসূফ ঈসাকে নিয়ে জেরুজালেম চলে এলেন। এসময় ঈসার বয়স ছিল বার বৎসর।-সূত্র: আতা।

সমাপ্ত।
ছবি: onlineministries.creighton.edu

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন