pytheya.blogspot.com Webutation

২২ ডিসেম্বর, ২০১২

Church of the Martyrs: শহীদদের চার্চ এর পটভূমি।


রোমান সম্রাট কনষ্টানটাইন নিজের সিংহাসন কন্টকমুক্ত করতে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র ক্রিসপাসকে (Crispus) গুপ্ত হত্যা করেন এবং হত্যাকান্ডের দায় চাপিয়ে দেন তার ২য় স্ত্রী রানী ফাউস্টার (Fausta) উপর। তিনি ক্রিসপাসের হত্যার অভিযোগে রানীকে ফুটন্ত পানি ভর্তি চৌবাচ্চার মধ্যে নিক্ষেপ করে হত্যার আদেশ দেন। 

দু;দুটি হত্যাকান্ডের দায়মুক্তির জন্যে সম্রাট জুপিটারের মন্দিরের পুরোহিতদের শরণাপন্ন হলেন। কিন্তু ঐ পুরোহিতরা জানিয়ে দিল যে, এমন কোন উৎসর্গ বা প্রার্থনা নেই যা তাঁকে এ দুটি হত্যার দায় থেকে মুক্ত করতে পারে। এদিকে ক্রিসপাস ও নিহত রানীর সমর্থকরা একত্রিত হয়ে সম্রাটের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে তিনি রোমে অবস্থানে আর স্বস্তি বোধ করলেন না। সুতরাং তিনি তার রাজ্যের রাজধানী রোম থেকে সরিয়ে বাইজানটিয়াম করার সিদ্ধান্ত নিলেন। 

রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী হল বাইজানটিয়াম। একই সাথে শহরটির নতুন নামকরণ হল কনষ্টান্টিনোপল (Constantinople)। এখানে কনষ্টানটাইন পলীয় চার্চের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত সমর্থন লাভ করেন। ঐ চার্চ তাকে জানায় যে, তিনি যদি তাদের চার্চে প্রায়শ্চিত্ত করেন তবে তার পাপ মুক্তি ঘটবে। কনষ্টানটাইন এর পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করেন। শুধু দু’টি হত্যার রক্তে তার হাত যে রঞ্জিত ছিল তাই নয়, সাম্রাজ্য শাসনের বিভিন্ন সমস্যায়ও তিনি হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। এ ভাবে অপরাধ স্বীকারের মাধ্যমে বিবেকের দংশন থেকে মুক্তি লাভ এবং দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই পেয়ে তিনি সাম্রাজ্যের দিকে মনোনিবেশ করলেন। 

এদিকে পাপমুক্ত হবার পর সম্রাট নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্যে চার্চকে ব্যবহারের অপার সম্ভাবনা দেখতে পেলেন।তিনি চার্চকে জানালেন যে, চার্চ যদি তাকে সমর্থন করে তবে তিনিও চার্চকে পূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়ে যাবেন। সম্রাটের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত এ সমর্থন লাভ করে চার্চ রাতারাতি শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান হয়ে ওঠে। অন্যদিকে কনষ্টানটাইনও চার্চকে পূর্ণ ব্যবহার করলেন। বহু যাজকই তার গোয়েন্দা বৃত্তির কাজে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যকে তার অধীনে একত্রিত করার প্রচেষ্টায় এ সাহায্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অংশত কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্যে এবং অংশত জুপিটারের মন্দিরের যে রোমান পুরোহিতরা তাঁকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তাদের ক্ষমতা কিছুটা খর্ব করার জন্যে তিনি রোমে একটি চার্চ প্রতিষ্ঠার জন্যে খৃষ্টানদেরকে রাষ্ট্রিয় পৃষ্ঠপোষকতা দিলেন। 

রোমান সাম্রাজ্যের চার্চগুলো মূলত: দু’ভাগে বিভক্ত ছিল। একদল পলীয় মতবাদ গ্রহণ করেছিল এবং অন্যরা যীশুখৃষ্টের মতাদর্শী ছিল। যীশুখৃষ্টের মতাদর্শী চার্চের নেতা ছিলেন একজন যাজক যিনি ইতিহাসে আঁরিয়াস নামে পরিচিত। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ার বকালিস (Baucalis) চার্চের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। নগরীর চার্চগুলোর মধ্যে এটি ছিল সর্বাপেক্ষা প্রাচীন এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চার্চ। আঁরিয়াসের কথা ছিল, যীশু যে ধর্ম প্রচার করছেন সেটাই অনুসরণ করতে হবে অন্যকিছু নয়। আর আঁরিয়াস পলীয় চার্চ ও সম্রাট কনষ্টানটাইনের মধ্যে গড়ে ওঠা আঁতাত থেকে দূরে সরে ছিলেন। 
যাইহোক, কনষ্টানটাইন যখন পলীয় চার্চের সাথে জোটবদ্ধ হলেন, তখন এক ভিন্ন পরিস্থিতির উদ্ভব হল। কেননা তিনি রোমান দেবতাদের পূজারি এবং পৌত্তলিক রাষ্ট্রের ধর্মীয় প্রধান হওয়া সত্ত্বেও সরাসরি পলীয় চার্চকে সমর্থন যুগিয়ে চলছিলেন। আর তা খৃষ্টধর্মকে নতুন আলোয় উদ্ভাসিত করেছিল এবং কার্যত: এ ধর্ম রোমান সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় ধর্ম বিশ্বাসে পরিণত হয়ে পড়েছিল। ফলে অনেকের জন্যেই খৃষ্টধর্ম আকস্মিকভাবে যুগপৎ নীতি ও সুবিধা লাভের বিষয় হয়ে ওঠে। এতে পৌত্তলিক ধর্মবিশ্বাসে যারা দৃঢ় ছিল না, তারা এখন দ্রুত পলীয় চার্চের অনুসারীতে পরিণত হল। তবে বহু লোকই অন্তর থেকে নয়, সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে খৃষ্টধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করেছিল। যেটাই হোক না কেন, মোটকথা ঐসময় খৃষ্টধর্মে এক গণজোয়ার পরিলক্ষিত হয়েছিল।

আর তখনই পলবাদী ও আঁরিয়ানবাদীদের মধ্যে বিভক্তি প্রকট হয়ে দেখা দিল। এসময় সম্রাট কনষ্টানটাইন, একটি ঐক্যবদ্ধ চার্চের রাজনৈতিক সুবিধা উপলব্ধি করলেন। সুতরাং তিনি জেরুজালেমকে বাদ দিয়ে খৃষ্টধর্মকে রোম কেন্দ্রিক করতে চাইলেন। কিন্তু আঁরিয়ানবাদী চার্চ তার ইচ্ছা পালনে অস্বীকৃতি জানায়। তারা এ ঘটনাকে একজন বিদেশি শাসকের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে খৃষ্টধর্ম বিরোধী একটি পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করল। 

প্রথম বিদ্রোহের ঘটনাটি ঘটে উত্তর আফ্রিকায় বারবার সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে। আর এ বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন ডোনাটাস (Donatus) নামক এক বিশপ, যিনি ৩১৩ খৃষ্টাব্দে বিশপ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে চার্চের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এতে রোমের বিশপ, ডোনাটাসের স্থলে কার্থেজে কেসিলিয়ান (Cacealian) নামক একজনকে বিশপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করলেন। এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্যে উভয় পক্ষ সম্রাট কনস্টানটাইনের শরণাপন্ন হল। সম্রাটের পৃষ্ঠপোষকতা লাভের এ প্রয়াস খৃষ্টান ধর্মের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করে। এই প্রথমবারের মত মতবিভেদ ও প্রচলিত ধর্মমতে অবিশ্বাস নিরপেক্ষ আইন দ্বারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়া সম্ভব হল।

কনষ্টানটাইন কেসিলিয়ানের পক্ষ সমর্থন করলেন। এতে কার্থেজের অধিবাসীরা রোমান উপ-কনসালের অফিসের সামনে জড়ো হল এবং কেসিলিয়ানের নিন্দা করল। কনষ্টানটাইন তাদের আচরণে বিরক্ত হলেন। তা সত্ত্বেও তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার জন্যে রোমের বিশপের নেতৃত্বে একটি ট্রাইবুনাল গঠন করলেন। ডোনাটাস সেখানে হাজির হননি এবং তার পক্ষে যুক্তি-তর্ক পেশ করারও কেউ সেখানে ছিল না। তার অনুপস্থিতিতেই তার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়।

আফ্রিকায় আঁরিয়ানবাদী চার্চ রোমান বিশপের প্রদত্ত একতরফা রায় প্রত্যাখ্যান করে। এ ঘটনায় কনষ্টানটাইনের বিরুদ্ধে এ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হল যে, “ঈশ্বরের মন্ত্রীগণ ফালতু মামলাবাজদের মত নিজেদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত ছিলেন” হতাশ হওয়া সত্ত্বেও কনষ্টানটাইন আরলেসে নতুন করে একটি ট্রাইবুনাল স্থাপন করলেন। উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে কোন রকম সংঘর্ষ যাতে না ঘটে সে জন্যে তাদের পৃথক পৃথক পথে আরলেসে আসার জন্যে নির্দেশ দেওয়া হয়। ডোনাটাসের সমর্থকরা পুনরায় পরাজিত হন। এ ট্রাইবুনালের রায়ে বলা হয়: “বিশপগণ নিজেদের বিপজ্জনক লোকদের সাথেই দেখতে পেয়েছেন যাদের দেশের কর্তৃপক্ষ- বা ঐতিহ্যের প্রতি কোন শ্রদ্ধা নেই। একমাত্র শাস্তিই তাদের প্রাপ্য।”

পূর্বের রায় পরের রায়ের থেকে কোনভাবেই পৃথক ছিল না। ফলে উত্তর আফ্রিকার আঁরিয়ানবাদী খৃষ্টানদের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হল না। তারা শুধুমাত্র রোমের পলীয় চার্চের বিশপের রায় বলবৎ করার জন্যে রোমান সাম্রাজ্যের রাজকর্মচারীদের রাতারাতি ঈশ্বরের সেবক বনে যাওয়ার বিষয়টিকে মেনে নিতে পারেনি। সুতরাং বিশপ ডোনাটাস তাদের জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হলেন। 

সম্রাট কনষ্টানটাইন দুই চার্চের কাছে লেখা এক পত্রে তাদের মধ্যকার বিরোধ ভুলে যেতে এবং তার সমর্থিত চার্চের অধীনে উভয় পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি তার পত্রে লিখেছিলেন- ’আমার পক্ষে আরো যা করা যেতে পারে তা হল সকল ভ্রান্তি দূর করে এবং হঠকারী মতামত ধ্বংস করে দিয়ে সকল লোককে সত্য ধর্ম ও সরল জীবনের পথ অনুসরণ এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের প্রাপ্য উপাসনা করার আহ্বান জানানো।’

কিন্তু কোন পক্ষই এ পত্রের দ্বারা প্রভাবিত হয়নি।

৩১৫ খৃষ্টাব্দে ইতালির উত্তরে ফ্রাংকরা হামলা শুরু করলে, তা দমনের জন্যে কনষ্টানটাইন রোমে প্রত্যাবর্তন করেন। এ সময় তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে আফ্রিকায় প্রেরণের জন্যে একটি কমিশন গঠন করেন। কমিশন সেখানে পৌঁছিলে তাকে বর্জন করা হয়। ফলে কমিশনের সদস্যরা কোন সাফল্য অর্জন ছাড়াই রোমে ফিরে আসতে বাধ্য হন। এই অপ্রীতিকর সংবাদ কনষ্টানটাইনের কাছে পৌঁছিলে, তিনি স্বয়ং উত্তর আফ্রিকা গমন এবং সঠিক কীভাবে সর্বোচ্চ ঈশ্বরের উপাসনা করতে হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ফরমান জারির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। 
শহীদদের চার্চ, লিচেস্টার।
কনষ্টানটাইন পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও আফ্রিকা সফরে যাননি। ডোনাটাস পন্থীরা এত শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে সম্রাটকে ডোনাটাস ও কেসেলিয়ানের মধ্যকার বিরোধে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কেননা, যদি তার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ব্যর্থ হয়, তবে তা হবে তার মর্যাদার প্রতি এক বিরাট আঘাত। সুতরাং তিনি ডোনাটাসের নিন্দা করে একটি ফরমান জারি করলেন। এতে সর্বোচ্চ ঈশ্বরের যথোচিত পন্থায় প্রার্থনার সুযোগ সুবিধা বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। যখন তা উপেক্ষিত হল তখন অত্যন্ত কঠোর এক আইন’ জারি করে আফ্রিকায় প্রেরিত হল। এতে ডোনাটাসের অনুসারীদের সকল চার্চ বাজেয়াপ্ত এবং তাদের সকল নেতাকে নির্বাসনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এসময় অবশ্য কেসেলিয়ান প্রথমে ডোনাটাসপন্থী চার্চদের নেতাদের উৎকোচ দিয়ে হাত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। ডোনাটাসপন্থীরা রাজকীয় ফরমান অগ্রাহ্য ও উৎকোচ উপেক্ষা করে। আর তারা অর্থ উৎকোচের প্রস্তাবের বিষয়টি প্রকাশ্যে ফাঁস করে দেয়। কেসেলিয়ান “কসাই এর চাইতেও নির্মম এবং একজন স্বৈরাচারীর চাইতেও নিষ্ঠুর” হিসেবে আখ্যায়িত হয়। 

ইতিমধ্যে রোমের চার্চ ‘ক্যাথলিক’ বিশেষণ গ্রহণ করেছিল। ঈশ্বরের উপাসনায় তাদের ধর্মমতকে সার্বজনীন করার লক্ষ্যেই তারা এ নামটি গ্রহণ করে। তারা এখন ডোনাটাসপন্থীদের কাছে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবেদন জানাল। যা হোক, তাদের আবেদনের কোন সাড়া মেলেনি এবং ডোনাটাস কেসেলিয়ানের কাছে তার চার্চগুলো হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানান। শেষপর্যন্ত রোমান সেনাবাহিনী মাঠে নামে। পাইকারিভাবে ডোনাটাসপন্থীদেরকে হত্যা করা হয়। আর বিশপদেরকে হত্যা করা হয় চার্চের অভ্যন্তরে। কিন্তু ডোনাটাস বেঁচে যান এবং অনমনীয় থাকেন। এরপর তাঁদের আন্দোলন আগের চেয়েও জোরদার হয়। তাঁরা শহীদদের চার্চ (Church of the Martyrs) নামে নিজেদের চার্চের নামকরণ করেন। এ সকল ঘটনায় ডোনাটাসপন্থীদের বিপক্ষে ক্যাথলিক চার্চ, পৌত্তলিক বিচারকগণ (Magistrates) ও তাদের সৈন্যদের সাথে একজোট হয়ে কাজ করছিল, সেহেতু তাদেরকে বিভেদপন্থী এবং তাদের চার্চগুলোকে ‘ঘৃণ্য প্রতিমা উপাসনার স্থান’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। 

শহীদদের চার্চ, কাস্ট্রো।
কনষ্টানটাইন, যিনি একজন দক্ষ প্রশাসক ছিলেন, বল প্রয়োগে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐক্য পুনরুদ্ধারে তাঁর ব্যর্থতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হন। বিচক্ষণতা বীরত্বের অঙ্গ এ বিবেচনায় তিনি উত্তর আফ্রিকার জনসাধারণকে তাদের নিজেদের উপর ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি উত্তর আফ্রিকা থেকে তার মনোযোগ সরিয়ে এনে সাম্রাজ্যের অন্যান্য স্থানের দিকে নিবদ্ধ করলেন। ফলে ডোনাটাসপন্থীদের উপর নিপীড়নের মাত্রা অনেক কমে এল। এতে তাদের সংখ্যা পুনরায় দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। অত:পর তারা এতটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে, সম্রাট যখন ৩৩০ খৃষ্টাব্দ উত্তর আফ্রিকায় ক্যাথলিকদের জন্যে একটি চার্চ নির্মাণ করেন তখন ডোনাটাসপন্থীরা তা দখল করে নেয়। সম্রাট এ ঘটনায় অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন। কিন্তু আরেকটি চার্চ নির্মাণের জন্যে ক্যাথলিকদের পর্যাপ্ত অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা ছাড়া তার আর কিছু করার ছিল না। ডোনাটাসপন্থীদের আন্দোলন রোম পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। রোমে তাদেরও একজন বিশপ ছিলেন, তবে পদমর্যাদার দিক থেকে তাকে কার্থেজ (Carthage) ও নিকোমেডিয়ার (Nicomedia) বিশপের চেয়ে একধাপ নীচে বলে গণ্য করা হত।
ডোনাটাসের মৃত্যুর পর উত্তর আফ্রিকার অধিবাসীরা তার আদর্শ অনুসরণ অব্যাহত রাখে। তারা ৩শত’ বছর ধরে তার প্রচারিত যীশুর শিক্ষা অনুসরণ করে। পরে ইসলামের আগমন ঘটলে তারা ইসলাম গ্রহণ করে যা ছিল কার্যত তাদের অনুসৃত ধর্মেরই এক সম্প্রসারিত ও সমর্থনকারী ধর্ম। 

বিশপ ডোনাটাস।
এদিকে ডোনাটাসের আন্দোলনের পাশাপাশি একই সময়ে অথচ সম্পূর্ণ স্বাধীন এক আন্দোলন দক্ষিণ মিসরেও চলছিল। কনষ্টানটাইন যখন ৩২৪ খৃষ্টাব্দ উত্তর আফ্রিকার জট খোলার জন্যে আরেকবার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তখনি তার দৃষ্টি মিশরের উপর পতিত হয়। মিশর তখন বিদ্রোহ গোলযোগ ও অরাজকতায় আকীর্ণ ছিল। ডায়োক্লোশিয়ানের নেতৃত্বে খৃষ্টানদের প্রতি নিপীড়ন যখন তুঙ্গে উঠেছিল, তখন অনেকেই তা পরিহারের জন্যে তার সাথে সমঝোতা করেছিল। মেলেটিয়াস নামক একজন যাজক এ সময় বলেন যে, যেসব যাজক প্রকাশ্যে খৃষ্টধর্মের নিন্দা করেছে তাদের যাজকবৃত্তির কাজ পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্রে বাধা দেয়া উচিত। তিনি আরো উপলব্ধি করেন যে প্রায়শ্চিত্তের পর্যাপ্ত প্রমাণ না প্রদর্শন করা পর্যন্ত সকল বিশুদ্ধ প্রার্থনা সমাবেশে তাদের যোগদান বন্ধ করতে হবে। এ সময় আলেকজান্দ্রিয়ার প্রধান যাজক পিটার আরো নমনীয় পন্থার পরামর্শ দেন। তবে অধিকাংশ লোকই মেলেটিয়াসকে সমর্থন করে। আলেকজান্ডার যখন যাজকদের প্রধান হলেন, তিনি মেলেটিয়াসকে মাইনেস-এ নির্বাসিত করেন। 

অত:পর সম্রাট মেলেটিয়াসকে ফিরে আসার অনুমতি দিলে তিনি ফিরে এলেন। এসময় বহু অনুসারী তার চারপাশে সমবেত হয়। তিনি বিশপ ও উচ্চপদের যাজকদের নিয়োগ দান এবং বহু গির্জা নির্মাণ করেছিলেন। তার অনুসারীরা তাদের নিপীড়নকারীদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করে জীবন উৎসর্গ করেছিল। তাই মেলেটিয়াস এখন তার চার্চকে “শহীদদের চার্চ” (Church of the Martyrs) নামে আখ্যায়িত করলেন। যদিও বিশপ আলোকজান্ডারের অনুসারীরা এর বিরোধী ছিল। কারণ তারা ছিল ক্যাথলিক, যারা পলীয় খৃষ্টধর্মের অনুসরণ করেছিল। 

মেলেটিয়াসের মৃত্যুর পর বিশপ আলেকজান্ডার তার অনুসারীদের প্রার্থনা সমাবেশ নিষিদ্ধ করেন। এ আদেশের বিরোধিতা করে মেলেটিয়াসের সমর্থকগণ সম্রাট কনষ্টানটাইনের কাছে একটি প্রতিনিধি দল প্রেরণ করে। একমাত্র নিকোমেডিয়ার ইউসেবিয়াসের সাহায্য লাভ করে এই প্রতিনিধি দল সম্রাটের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি লাভ করে। সম্রাটের দরবারে তাদের উপস্থিতির ঘটনা নিসিয়ার কাউন্সিল আহ্বানের অন্যতম কারণ ছিল। ইউসেবিয়াস আরিয়াসের বন্ধু ছিলেন। এই সাক্ষাতের মধ্যদিয়ে আরিয়ান ও মেলেটিয়ান আন্দোলনের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হয়। 
সমাপ্ত।
ছবি: sjusticemail. greeka, saints.sqpn.
উৎস: Jesus-A Prophet of Islam by Muhammad Ata-Ur-Rahim.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন