pytheya.blogspot.com Webutation

১ ডিসেম্বর, ২০১২

Bani Israel: জাতিরূপে অস্তিত্বের পরিসমাপ্তি।


ঈসার উর্দ্ধগমনের পর তার শিষ্য তথা প্রেরিতগণের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে শত বাঁধাবিঘ্ন ছিন্ন করে দূর দূরান্তে খ্রীষ্টের বাণী ছড়িয়ে যেতে লাগল। এ সম্পর্কে নবী ই‘শাইয়া অবশ্য পূর্বেই তার কিতাব মারফত জানিয়েছিলেন-

টাইডাস কর্তৃক জেরুজালেম ধ্বংস করণ।
‘সময় আসছে, যখন আমি সর্বজাতীয় ও
সর্বভাষাভাষী লোককে সংগ্রহ করব;
তারা এসে আমার প্রতাপ দর্শণ করবে। 
আর আমি তাদের মধ্যে
এক চিহ্ন স্থাপন করব এবং তাদের মধ্য হতে
উত্তীর্ণ লোকদেরকে জাতিগণের কাছে, 
তার্শীশ, পূল ও ধনুর্দ্ধর লূদ এবং তূবল ও যবনের কাছে, 
যে দূরস্থ উপকূলসমূহ কখনও
আমার খ্যাতি শোনেনি ও আমার প্রতাপ দেখেনি,
তাদের কাছে প্রেরণ করব এবং
তারা জাতিগণের মধ্যে আমার প্রতাপ জ্ঞাত করবে।
টাইডাস কর্তৃক জেরুজালেম ধ্বংস করণ।

তারা সর্বজাতির মধ্য হতে
তোমাদের সমস্ত ভ্রাতাকে খোদার উদ্দেশ্যে নৈবদ্য বলে 
অশ্ব, শকট, ডুলি, অশ্বতর ও উষ্ট্রে করে 
আমার পবিত্র পর্বত জেরুজালেমে আনয়ন করবে, 
যেমন ইস্রায়েল সন্তানগণ শুচি পাত্রে করে
খোদার গৃহে নৈবদ্য আনে।
আর আমি তাদের মধ্যে থেকেও কতক লোককে
ঈমাম ও লেবীয় হওয়ার নিমিত্ত গ্রহণ করব।’-(ই‘শাইয়া ৬৬:১৮-২১)

প্যালেষ্টাইন ছিল রোমীয় সাম্রাজ্যের অংশ। ফলে অন্যান্যদের মত বনি ইস্রায়েলী (Bani Israel) ও রোমের নিযুক্ত শাসনকর্তাদের দ্বারা শাসিত হয়েছিল। তারা এই শাসনের প্রতি সর্বদা বিরক্তি প্রকাশ করেছিল এবং তাদের কঠোর বিধি-নিষেধের জন্যে তারা প্রায়ই তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করত। বার বার রোমীয় কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণার ফলে তাদের জাতীয় জীবনে চরম দূর্দশা নেমে এসেছিল। ৭০ খ্রীঃ বিরক্ত রোমীয় সম্রাট টাইটাস (তীত) যখন জেরুজালেম ভস্মীভূত করেন তখন তাদের এত কঠোরভাবে ধ্বংস করা হয় যে তারা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং জাতি হিসেবে হাজার শতাব্দীরও অধিককাল পর্যন্ত একত্রিত হতে পারেনি। একটি জাতিরূপে ইস্রায়েলীদের অস্তিত্বের পরিসমাপ্তি ঘটল।

সম্রাট টাইডাস জেরুজালেমের এবাদতখানার সমস্ত সম্পদ রোমে নিয়ে যান। (এসব সম্পদ এখনও রোমের স্বর্ণ মন্দিরে রক্ষিত রয়েছে এবং থাকবে। শেষ জমানায় ঈমাম মেহেদী এসে এগুলো আবার জেরুজালেমের এবাদতখানায় ফিরিয়ে আনবেন। এ রকমই মুসলিমগণ ধারণা করে।)

শলোমনের উপাসনালয়ের সম্পদ রোমে নেয়া হচ্ছে।
এ সম্পর্কে নবী অরামিয়ার কিতাবে রয়েছে-

‘দেখ, আমি তাদের ভূমি হতে 
তাদেরকে এবং তাদের মধ্য হতে 
ইহুদাকূলকে উৎপাটন করব।
অত:পর আমি ফিরে তাদের প্রতি করুণা করব, 
তাদের প্রত্যেকজনকে পুন:রায় 
তার অধিকারে ও তার ভূমিতে এনে দেব। 

আর যদি তারা যত্নপূর্বক 
আমার রসূলদের পথ শেখে, 
যদি আমার নামে শপথ করে,
তবে তারা আমার বান্দাদের মধ্যে সংগ্রথিত হবে। 
কিন্তু যদি কথা না শোনে,
তবে আমি সেই জাতিকে উৎপাটন করব, 
উৎপাটন করে বিনষ্ট করব।--------(অরামিয়া ১২:১৪-১৭)

অন্যদিকে ইস্রায়েলীদের এই পরিণতি সম্পর্কে কোরআনে রয়েছে--আমি বনি ইস্রায়েলকে কিতাবে পরিস্কার বলে দিয়েছি যে, তোমরা পৃথিবীর বুকে দু‘বার অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং অত্যন্ত বড় ধরণের অবাধ্যতায় লিপ্ত হবে। অতঃপর যখন প্রতিশ্রুত সেই প্রথম সময়টি এল, তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার কঠোর যোদ্ধা বান্দাদেরকে (নেবু চাঁদ নেজ্জারের সেনাবাহিনী)। অতঃপর তারা প্রতিটি জনপদের আনাচে কানাচে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল। এ ওয়াদা পূর্ণ হওয়ারই ছিল। 

অতঃপর আমি তোমাদের জন্যে তাদের পাল্লা ঘুরিয়ে দিলাম, তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও পুত্রসন্তান দ্বারা সাহায্য করলাম এবং তোমাদেরকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে একটি বিরাট বাহিনীতে পরিণত করলাম। তোমরা যদি ভাল কর, তবে নিজেদেরই ভাল করবে এবং যদি মন্দ কর তবে তাও নিজেদের জন্যেই। 
নূতনভাবে সংস্কারকৃত উপাসনালয়।

এরপর যখন দ্বিতীয় সেই সময়টি এল, তখন অন্য বান্দাদেরকে (রোমীয় সম্রাট টাইটাসের সেনাবাহিনী) প্রেরণ করলাম, যাতে তোমাদের মুখমন্ডল বিকৃত করে দেয়, আর উপাসনালয়ে ঢুকে পড়ে যেমন প্রথমবার ঢুকেছিল এবং যেখানে জয়ী হয়, সেখানে পুরোপুরি ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।(১৭:৪-৭) 

হয়তঃ তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন। কিন্তু যদি পুনঃরায় তদ্রুপ কর, আমিও পুনরায় তাই করব।(১৭:৮)

বনি ইস্রায়েলীরা খোদার শাস্তি ও আযাবে পতিত হয়েছিল প্রথমবার মূসার মাধ্যমে খোদার প্রদত্ত বিধি-বিধানের বিরুদ্ধাচারণ করে এবং ২য়বার ঈসার মাধ্যমে প্রদত্ত বিধি-বিধানের বিরুদ্ধাচারণ করে।

কিন্তু যদি পুনঃরায় তদ্রুপ কর, আমিও পুন:রায় তাই করব।’ - কোরআনের এই আয়াতাংশ দ্বারা খোদা মুহম্মদের সময়ে বিদ্যমান বনি ইস্রায়েলীদেরকে সতর্ক করেছেন এই বলে যে, যদি তারা আবারও নাফরমানীর দিকে প্রত্যাবর্তণ করে অর্থাৎ তাঁর রসূলের মাধ্যমে দেয়া তাঁর বিধি-বিধানের বিরুদ্ধাচারণ করে, তাহলে তিনি পুনঃরায় এমনি ধরণের শাস্তি ও আযাব তাদের উপর চাপিয়ে দেবেন।

পরবর্তীতে হয়েছিলও তাই। ইস্রায়েলীরা শেষ নবী মুহম্মদের শরীয়তের বিরুদ্ধাচারণে প্রবৃত্ত হলে মুসলমানদের হাতে নির্বাসিত, লাঞ্ছিত ও অপমানিত তো হয়েছিলই, এমনকি শেষপর্যন্ত তাদের পবিত্র উপাসনাগৃহও মুসলমানদের করতলগত হয়েছিল। পার্থক্য শুধু এই যে, পূর্ববর্তী সম্রাটরা তাদেরকে অপমানিত ও লাঞ্ছিতের পাশাপাশি তাদের উপাসনালয়েরও অবমাননা করেছিলেন। কিন্তু মুহম্মদের শরীয়ত অবলম্বনকারী মুসলমানরা জেরুজালেম জয়ের পর শত শত বৎসর যাবৎ বিধ্বস্ত ও পরিত্যাক্ত এই উপাসনাগৃহটির নূতনভাবে সংস্কার (২য় খলিফা হযরত ওমর পবিত্র এ উপাসনাগৃহের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, যা আজ পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে) এবং পয়গম্বরগণের এই কেবলার যথাযথ সম্মান পুনর্বহাল করেছিলেন।

সমাপ্ত।
ছবি:  Wikipedia.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন