pytheya.blogspot.com Webutation

২৯ নভেম্বর, ২০১২

Solomon: শলোমনের দু'টি কবিতা।

নবী শলোমন (Solomon) বিশেষ জ্ঞানী লোক ছিলেন। প্রাকৃতিক জগৎ সম্পর্কে তার জ্ঞান তুলনাহীন, প্রশ্নাতীত। তার জ্ঞানের কথা শুনতে দূর দেশ থেকে লোক আসত- একথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু তিনি যে একজন ভাল কবিও ছিলেন, একথা আমরা কয়জন জানি? তার কাব্যরস যথেষ্ট উপভোগ্য। যারা বাইবেল পড়েছেন তারা তার সম্পর্কে সম্যক অবহিত। কিন্তু যারা পড়েননি তাদের জন্যে তার দু'টি কবিতা এখানে দিলাম। তবে প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আমার অনুবাদ ত্রুটির জন্যে।


পরকীয়া

আমি আমার গৃহের বাতায়ন হতে খড়খড়ি দিয়ে নিরীক্ষণ করছিলাম;
অবোধদের মধ্যে আমার দৃষ্টি পড়ল,
আমি যুবকগণের মধ্যে একজনকে দেখলাম। সে নির্বোধ,
গলিতে গেল, ঐ স্ত্রীর কোণের নিকটে এল, তার বাটীর পথে চলল।
তখন সন্ধ্যাকাল, দিবাবসান হয়েছিল,
রাত্রির অন্ধকারও ঘনিয়ে এসেছিল।
তখন এক স্ত্রী তার সম্মুখে এল, সে বেশ্যা-বেশধারিণী ও চতুরচিত্তা;
সে কলহকারিণী ও অবাধ্যা, তার চরণ ঘরে থাকে না;
সে কখনও সড়কে, কখনও চকে,
কোণে কোণে অপেক্ষাতে থাকে।

সে তাকে আলিঙ্গন করে চুম্বিল, নির্লজ্জ মুখে তাকে বলল,
‘আমাকে মঙ্গলার্থক বলিদান করতে হয়েছে,
আজ আমি আমার মানত পূর্ণ করেছি;
তাই তোমার সাথে সাক্ষাৎ করতে বাইরে এসেছি,
সযত্নে তোমার মুখ দেখতে এসেছি, তোমাকে পেয়েছি।
আমি খাটে বুটাদার চাদর পেতেছি, 
মিসরীয় সূতার চিত্রবিচিত্র সে বস্ত্র।
আমি গন্ধরস, অগুরু ও দারুচিনি দিয়ে আপন শয্যা আমোদিত করেছি।
চল, আমরা প্রভাত পর্য্যন্ত কামরসে মত্ত হই, প্রেম বাহুল্যে বিলাস করি।
কেননা কর্ত্তা ঘরে নেই, তিনি দূরে যাত্রা করেছেন;
টাকার তোড়া সঙ্গে নিয়ে গেছেন,
পূর্ণিমার দিন ঘরে আসবেন।’

অনেক মধুর বাক্যে সে তার চিত্ত হরণ করল,
ওষ্ঠাধরের চাটুবাদে তাকে আকর্ষণ করল।
অমনি সে তার পশ্চাতে গেল, যেমন গরু হত হতে যায়, 
যেমন শৃঙ্খলবদ্ধ ব্যক্তি নির্বোধের মত শাস্তি পায়;
শেষে তার হৃদয় বাণে বিদ্ধ হল;
যেমন পক্ষী ফাঁদের দিকে বেগে ধাবিত হয়,
সে জানে না যে, তা প্রাণনাশী।

তোমার চিত্ত ওর পথে না যাক, তুমি ঐ পথের পথিক না হও।
কেননা সে অনেককে আঘাত করেছে, নিপাত করেছে,
তার সেই নিহত লোকেরা এক বৃহৎ দল।
তার গৃহ অন্ধকার পাতালের পথ, যে পথ মৃত্যুর অন্তরালে নেমে যায়।



প্রেম পীড়িতা

আমি নিদ্রিতা ছিলাম, কিন্তু আমার হৃদয় জেগেছিল;
আমার প্রিয়ের স্বর, সে দ্বারে আঘাত করে বলল,
‘আমায় দুয়ার খুলে দাও, মম প্রিয়ে! মম কপোতি! ওহে মম শুদ্ধমতি!
কারণ আমার মাথা ভিজে গেছে শিশিরে, আমার কেশদল রাত্রির জলবিন্দুতে।’
‘আমি আমার অঙ্গরক্ষিণী খুলেছি, কেমন করে পরিধান করব?
আমি পা দু‘খানি ধুয়েছি, কেমন করে মলিন করব?’

আমার প্রিয় দুয়ারের ছিদ্র দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিল,
তার জন্যে আমার চিত্ত উচাটন হল।
আমি আমার প্রিয়ের জন্যে দুয়ার খুলতে উঠলাম;
তখন গন্ধরসে আমার হাত ভিজল, 
আমার অঙ্গুলি দ্রব গন্ধরসে ভিজল, অর্গলের হাতলের উপরে।

আমি আমার প্রিয়ের জন্যে দুয়ার খুলে দিলাম;
কিন্তু আমার প্রিয় তখন ফিরে গিয়েছিল, চলে গিয়েছিল;
তাকে না দেখে আমার প্রাণ উড়ে গেল; 
আমি বললাম, ‘আমি এখন উঠে নগরে ভ্রমণ করব,
গলিতে গলিতে ও চকে চকে যাব, আমার প্রাণ প্রিয়তমের অন্বেষণ করব।’
আমি তাকে অন্বেষণ করলাম, কিন্তু পেলাম না,
আমি তাকে ডাকলাম, কিন্তু সে আমাকে উত্তর দিল না।
নগরে ভ্রমণকারী প্রহরীরা আমাকে দেখতে পেল,
আমিও তাদের দিকে একটু অগ্রসর হলাম, 
বললাম, ‘তোমরা কি আমার প্রাণ প্রিয়তমকে দেখেছ?
তারা আমাকে প্রহার করল, ক্ষতবিক্ষত করল,
প্রাচীরের প্রহরীবর্গ আমার বস্ত্র কেড়ে নিল।

ওহে জেরুজালেমের কন্যাগণ! আমি তোমাদেরকে কসম দিয়ে বলছি,
তোমরা যদি আমার প্রিয়তমের দেখা পাও, তবে তাকে বোলও যে, 
আমি ‘প্রেম পীড়িতা’।

সমাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন