pytheya.blogspot.com Webutation

১২ নভেম্বর, ২০১২

Jesus:হাওয়ারীগণ ও স্বর্গীয় খাদ্যপূর্ণ খাঞ্জা।


সন্ধ্যা সমাগত। ঈসা তার শিষ্যদেরকে বললেন, ‘তোমরা নৌকায় করে আমার আগে অন্যপারে যাও, আর এদিকে আমি লোকদেরকে বিদায় করি।’
শিষ্যরা চলে গেল এবং একটা নৌকায় করে কফুরনাহুমের দিকে যেতে লাগল। আর ঈসা লোকদেরকে বিদায় শেষে প্রার্থণা করার জন্যে একাকী নিকটস্থ এক পাহাড়ে গেলেন। রাত্রিটা তিনি সেখানেই এবাদতের মধ্যে অতিবাহিত করলেন। 

এদিকে শিষ্যদের নৌকাখানা তীর থেকে অনেক দূরে গিয়েছিল এবং বাতাস উল্টো দিকে থাকায় ঢেউয়ে ভীষণ ভাবে দুলছিল। শিষ্যরা সেটিকে আয়ত্তে রাখতে ভীষণ কসরৎ করছিল। শেষরাত্রে ঈসা সাগরের উপর দিয়ে হেঁটে শিষ্যদের কাছে আসছিলেন। শিষ্যদের একজন তা দেখে ভয় পেয়ে চীৎকার করে উঠল, ‘ভূত-ভূত।’
ঈসা - ‘এ তো আমি!’
পিতর- ‘প্রভু, যদি আপনিই হন তবে পানির উপর দিয়ে আপনার কাছে যেতে আমাকে আদেশ দেন।’
ঈসা- ‘এসো।’ 

তখন পিতর নৌকা থেকে নেমে পানির উপর দিয়ে হেঁটে তার দিকে চলল। কিন্তু পরে ডুবে যেতে লাগল এবং চীৎকার করে বলল, ‘প্রভু, আমাকে বাঁচান।’ 
ঈসা তখনই হাত বাড়িয়ে তাকে ধরলেন এবং বললেন, ‘অল্প বিশ্বাসী, কেন সন্দেহ করলে?’
তারা এসে নৌকায় উঠলেন। 

একসময় তারা সাগর পারে এসে নামলেন। সেখানকার লোকেরা ঈসাকে চিনতে পেরে সমস্ত এলাকায় খবর পাঠাল। এসময় একদল লোক যারা ঈসার ভাগ করে দেয়া রুটি খেয়েছিল তারা কয়েকটা নৌকায় করে তার খোঁজে কফুরনাহুমে এল। অত:পর তারা তাকে সমুদ্রপারে দেখতে পেয়ে বলল, ‘রাব্বি, আপনি এখানে কখন এলেন?’
ঈস বললেন, ‘সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, তোমরা চিহ্ন কার্য্য দেখেছ বলে আমাকে অন্বেষণ করছ, তা নয়; কিন্তু সেই রুটি খেয়েছিলে ও তৃপ্ত হয়েছিলে বলে। নশ্বর ভক্ষ্যের নিমিত্তে শ্রম কোরও না, কিন্তু সেই ভক্ষ্যের জন্যে শ্রম কর যা অনন্ত জীবন পর্যন্ত থাকে, যা মনুষ্যপুত্র তোমাদেরকে দেবেন কেননা পিতা খোদা তাকেই মুদ্রাঙ্কিত করেছেন।’ 

এসব কথা শুনে উপস্থিত হাওয়ারীগণ ঈসার কাছে আবেদনের সুরে বলল, ‘আমাদের পিতৃপুরুষেরা প্রান্তরে মান্না খেয়েছিলেন, যেমন লেখা আছে-‘তিনি ভোজনের জন্য তাদেরকে স্বর্গ হতে খাদ্য দিলেন।’
‘হে মরিয়ম নন্দন ঈসা! তেমনি তোমার প্রতিপালক কি আমাদের জন্যে আকাশ হতে খাদ্য পরিপূর্ণ খাঞ্জা পাঠাতে পারেন?’ 
ঈসা বললেন, ‘যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, আল্লাহকে ভয় কর।’ 
তারা বলল, ‘হে আল্লার নবী! আপনার নব্যুয়তে আমাদের কোন সন্দেহ নেই। বরং আমরা আপনার প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান রাখি। তবুও আমরা ইচ্ছে করি আল্লাহ আমাদের জন্যে আসমান থেকে যে খাদ্য অবতরণ করবেন তা থেকে আহার করতে। এতে আমাদের অন্তরসমূহ পরিতৃপ্ত হবে এবং আমরা হাশরের দিন স্বাক্ষী হব যে, আপনি আমাদেরকে সত্য বলেছেন।’ 
ঈসা শিষ্যদেরকে বললেন, ‘পঞ্চাশজন, পঞ্চাশজন করে এক এক দলে লোকদেরকে বসিয়ে দাও।’ 
শিষ্যরা নির্দেশমতই লোকদেরকে বসিয়ে দিল। 

অতঃপর ঈসা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আকাশ হতে আমাদের জন্যে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্জা পাঠাও। এ আমাদের সকলের জন্যে আনন্দোৎসব স্বরূপ হবে এবং তুমি তো শ্রেষ্ঠতম জীবিকা দাও।’
আল্লাহ বললেন, ‘আমি তোমাদের কাছে তা প্রেরণ করব, কিন্তু এরপর তোমাদের মধ্যে কেউ অবিশ্বাস করলে, তাকে এমন শাস্তি দেব, যা বিশ্বজগতের অপর কাউকে দেব না।’
দু‘খন্ড মেঘ খাদ্য-ভান্ডার বয়ে নিয়ে এল। এই খাদ্য-ভান্ডারে ছিল দু‘টি মাছ এবং পাঁচটি রুটি। এই মাছে কোন কাঁটা ছিল না। এর মাথার দিকে ছিল লবণ এবং লেজের দিকে ছিল সিরকা। রুটি পাঁচটির একটির উপর ছিল জয়তুন, একটিতে ঘি, একটিতে মধু, একটিতে পনির এবং শেষটিতে শুস্ক মাংস। 

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ-‘যখন হাওয়ারীগণ বলেছিল, ‘হে মরিয়ম নন্দন ঈসা! তোমার প্রতিপালক কি আমাদের জন্যে আকাশ হতে খাদ্য পরিপূর্ণ খাঞ্জা পাঠাতে পারেন?’ 
সে বলেছিল, ‘যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, আল্লাহকে ভয় কর।’
তারা বলেছিল, ‘আমরা ইচ্ছে করি যে, তাহতে ভক্ষণ করব এবং আমাদের অন্তরসমূহ পরিতৃপ্ত হবে এবং আমরা জানতে পারব যে, নিশ্চয় তুমি সত্যি বলেছ এবং আমরা তার স্বাক্ষী হব।’
মরিয়ম নন্দন ঈসা বলেছিল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আকাশ হতে আমাদের জন্যে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্জা পাঠাও; এ আমাদের ও আমাদের সকলের জন্যে আনন্দোৎসব স্বরূপ হবে এবং তুমি শ্রেষ্ঠতম জীবিকা দাও।’
আল্লাহ বললেন, ‘আমি তোমাদের কাছে তা প্রেরণ করব, কিন্তু এরপর তোমাদের মধ্যে কেউ অবিশ্বাস করলে, তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি বিশ্বজগতের অপর কাউকে দেব না।’ (৫:১১২-১১৫) 

খাদ্য অবতীর্ণ হওয়ার পর ঈসা মসিহ (Jesus) সেই পাঁচটা রুটি আর দু‘টো মাছ নিয়ে আল্লাহকে শুকরিয়া জানাবার পর টুকরো টুকরো করলেন। তারপর তিনি লোকদের দেবার জন্যে সেগুলি শিষ্যদের হাতে দিলেন। লোকেরা পর্যাপ্ত আহারের পরও কিছু খাবার অবশিষ্ট রয়ে গেল। 

খাওয়া দাওয়া শেষ হলে ঈসা লোকদেরকে বললেন, ‘পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনি আকর্ষণ না করলে কেউ আমার কাছে আসতে পারে না, যে কেউ পিতার নিকটে শুনে শিক্ষা পেয়েছে, সেই আমার কাছে আসে। কেউ যে পিতাকে দেখেছে তা নয়; যিনি তাঁর কাছ থেকে এসেছেন, কেবল তিনিই তাঁকে দেখেছেন। সত্যি, সত্যি, আমি তোমাদেরকে বলছি, যে বিশ্বাস করে সে অনন্ত জীবন পেয়েছে। আমিই জীবন খাদ্য। তোমাদের পিতৃ পুরুষেরা প্রান্তরে মান্না খেয়েছিল, আর তারা মারা গিয়েছে। এ সেই খাদ্য যা স্বর্গ হতে নেমে আসে, যেন লোকে তা খায় ও না মরে। আমিই সেই জীবন খাদ্য, যা স্বর্গ হতে নেমে এসেছে।’

ইহুদিরা তার বিষয়ে পরস্পর বচসা করতে লাগল। তারা বলল, ‘এ কি সেই ঈসা নয়, যার পিতা-মাতাকে আমরা জানি? এখন এ কেমন করে বলে আমি স্বর্গ হতে নেমে এসেছি?’

এসময় অনেক শিষ্য ঈসার সঙ্গ ছেড়ে চলে যেতে লাগল। লোকদের এই অবিশ্বাস উপলব্ধি করে ঈসা সমবেত সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী?’ 
শিষ্যরা বলল, ‘আমরাই আল্লাহর পথে আপনার সাহায্যকারী, আমরা আল্লাহতে বিশ্বাস এনেছি। আমরা আত্মসমর্পণকারী, আপনি এর সাক্ষী থাকেন। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি যা অবতীর্ণ করেছ, তাতে আমরা বিশ্বাস করেছি এবং আমরা এই রসূলের অনুসরণ করছি। সুতরাং আমাদিগকে সাক্ষ্য বহনকারীদের তালিকাভূক্ত কর।’ 

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ-‘যখন ঈসা তাদের অবিশ্বাস উপলব্ধি করল, তখন সে বলল, ‘আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী?’ 
শিষ্যরা বলল, ‘আমরাই আল্লাহর পথে সাহায্যকারী, আমরা আল্লাহতে বিশ্বাস এনেছি। আমরা আত্মসমর্পণকারী, তুমি এর সাক্ষী থাক। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি যা অবতীর্ণ করেছ, তাতে আমরা বিশ্বাস করেছি এবং আমরা এ রসূলের অনুসরণ করেছি। সুতরাং আমাদিগকে সাক্ষ্য বহনকারীদের তালিকাভূক্ত কর।’(৩:৫২-৫৩)

সমাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন