pytheya.blogspot.com Webutation

২৯ অক্টোবর, ২০১২

Muhammad: মুহম্মদের শেষ দিনগুলি।


মুহম্মদ (Muhammad) জীবনের শেষ বৎসরটি মদিনাতেই কাটান। এ সময় তিনি প্রদেশসমূহ ও গোত্রসমূহ যারা ইসলাম গ্রহণ করে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সদস্য হয়েছে তাদের সংগঠিত করেন। যদিও তখন পর্যন্ত ইসলাম, সিরিয়া ও মেসোপটেমিয়ায় বসতি স্থাপনকারী খ্রীষ্টান আরবদের মধ্যে প্রবেশ করেনি। কিন্তু সমগ্র আরব দেশ ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হয়েছিল।

ইসলাম ধর্মের কর্তব্যসমূহ শিক্ষা দেবার জন্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যে, যাকাত সংগ্রহের জন্যে বিভিন্ন প্রদেশে ও বিভিন্ন গোত্রের কাছে প্রতিনিধি পাঠান হল। মু‘আজ ইবনে জাবাল ইয়েমেনে প্রেরিত হলেন এবং মুহম্মদের বিদায়ী আদেশ ছিল, যেসব ব্যাপারে কোরআনের কোন প্রত্যক্ষ নির্দেশ পাওয়া যাবে না, সেইসব ব্যাপারে নিজস্ব বিচার-বুদ্ধির উপর নির্ভর করতে হবে। আলীকে ইয়েমামায় প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করা হল এবং তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, ‘যখন দু‘দল তোমার কাছে বিচারের জন্যে আসবে তখন তাদের উভয় দলের কথা শ্রবণ না করা পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছিবে না।’
মুহম্মদ, তার প্রচারিত ধর্ম সর্বমানবের কাছে পৌঁছিবে-যে উদার বাসনা দ্বারা তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তার অনুসরণে তিনি প্রতিবেশী রাজন্যবর্গ ও তাদের প্রজাকূলকেও সত্যধর্ম ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিয়ে ইতিপূর্বে কতিপয় দূত প্রেরণ করেছিলেন। দূত পৌঁছেছিল গ্রীকসম্রাট হেরাক্লিয়াস ও পারস্য সম্রাট খসরু পারভেজ, এমন কি তাদের জায়গীর ভোগী যুবরাজদের কাছেও।

মক্কার একজন দেশত্যাগী সমতার ভিত্তিতে তাকে মহান খসরু বলে অভিহিত না করার স্পর্ধার জন্যে খসরু বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার পত্রের ঔদ্ধত্যের জন্যে ক্রোধান্বিত হন, পত্র ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেন এবং ঘৃণার সঙ্গে দূতকে তাড়িয়ে দেন।

জান্নাতুল বাকী, গুড়িয়ে দেবার পর।
হেরাক্লিয়াস ছিলেন অধিকতর নম্র ও শ্রদ্ধাবনত। তিনি দূতকে প্রভূত সম্মান প্রদর্শণ করেন এবং পত্রের একটি সদয় ও সযত্নে উত্তর প্রদান করেন।কিন্তু যখন দামেস্কের নিকটবর্তী বসরায় অবস্থানকারী তার জায়গীর ভোগী ঘাসানিয়া যুবরাজের কাছে দূত প্রেরিত হল, তখন দূতের প্রাপ্ত সম্মান দেবার পরিবর্তে ঐ পরিবারেরই একজন তাকে হত্যা করল।

অত:পর সিরিয়ায় ঐ মুসলিম দূত হত্যার দীর্ঘ বিলম্বিত প্রতিশোধ গ্রহণের জন্যে জায়েদের পুত্র ওসামার নেতৃত্বে একটি অভিযানের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল। বাস্তবিক যাত্রার জন্যে সেনাবাহিনী শহরের বাইরে ছাউনি ফেলে অপেক্ষা করছিল।কিন্তু Muhammad became ill after he had returned to Medina from the Farewell Pilgrimage. খায়বরে ইহুদি রমনী জয়নব যে বিষ তাকে খাইয়েছিল, তা ধীরে ধীরে তার দেহের সর্বত্র প্রবেশ করেছিল। হঠাৎ করে এখন তা চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করল এবং শ্পষ্টত: বোঝা গেল যে তার দিন ফুরিয়ে এসেছে।During these days, he visited the martyrs of Uhud and performed funeral prayers for them. One night, he went to the Jannatu al-Baqi graveyard and requested Allah to show forgiveness to them. এদিকে রসূলুল্লাহর এই অসুস্থ্যতার কারণে ওসামার নেতৃত্বে অভিযানে প্রস্তুত সেনাবাহিনীর যাত্রা স্থগিত হল।

মসজিদে নব্বীর সংলগ্ন হুজরা 
মুহম্মদের শেষ দিনগুলিতে তিনি দৈহিক দিক দিয়ে দুর্বল থাকলেও তার মানসিক শক্তি অটুট ছিল। এই অসুস্থ্যতার দিনগুলি তিনি মসজিদ সংলগ্ন আয়েশার হুজরাতে (মুহম্মদের প্রত্যেক বিবির জন্যে একটি করে হুজরা নির্মিত হয়েছিল। কক্ষ ছাড়াও এতে কিছু বারান্দা ও ছাদ থাকত। মসজিদে নব্বীর সংলগ্ন এসব হুজরা খর্জুর শাখা দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং এর দ্বারে একটা মোটা কাল পশমী পর্দা ঝুলান থাকত। হুজরার দরজা থেকে ছাদ বিশিষ্ট কক্ষ পর্যন্ত ছয়-সাত হাতের ব্যবধান ছিল। কক্ষ দশ হাত এবং ছাদের উচ্চতা সাত- আট হাত ছিল। মুহম্মদের তিরোধানের পর ওলীদ ইবনে আব্দুল মালেকের রাজত্বকালে তারই নির্দেশে এসব হুজরা মসজিদে নব্বীর অন্তর্ভূক্ত করে দেয়া হয়েছিল।) কাটিয়েছিলেন এবং যতদিন পর্যন্ত শরীরে কুলাল তিনি জামাতে যোগদান করেছিলেন।

মৃত্যুর তিনদিন পূর্বে শেষবারে তিনি আলী ও আব্বাসের পুত্র হাসান ও ফজলের কাঁধে ভর করে মসজিদে গিয়েছিলেন। তার মুখমন্ডলে এক অনির্বাচনীয় মাধুর্যের মৃদু হাসি ফুটে উঠল। অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রতি অভ্যস্ত প্রশংসা জ্ঞাপন করে সমবেত সকলকে বললেন, ‘হে মুসলমানগণ, যদি আমি তোমাদের কারও প্রতি কোন অন্যায় করে থাকি তবে আমি তার প্রতিকারের জন্যে এখানে উপস্থিত আছি। যদি কারও কাছে আমার ঋণ থাকে তবে আমার যা কিছু আছে তা তার বা তাদেরই।’
এ কথা শ্রবণ করে জনতার মধ্যে থেকে একজন উঠে দাঁড়িয়ে তিন দিরহাম দাবী করল যা সে মুহম্মদের অনুরোধে একজন গরীবকে দিয়েছিল। এই দিরহামগুলি তৎক্ষণাৎ ফেরৎ দেয়া হল এবং বলা হল, ‘পরকালের চেয়ে ইহকালে লজ্জিত হওয়া উত্তম।’ 

অতঃপর মুহম্মদ সমবেত সকলের জন্যে এবং যারা শত্রুর হাতে নিহত হয়েছে তাদের জন্যে আল্লাহর করুণা ও রহমত প্রার্থনা করলেন। তিনি তার উম্মতদের জন্যে ধর্মীয় কর্তব্যসমূহ এবং শান্তি ও সদিচ্ছার জীবন অনুমোদন করলেন এবং কোরআনের এই আয়াত দিয়ে বক্তব্য শেষ করলেন-
‘আখেরাতের এই ঘর-সে-তো তাদের জন্যেই আমি তৈরী করেছি-যারা দেশে নিজেদের প্রাধান্য বিস্তার করতে, অশান্তি সৃষ্টি করতে মোটেই চায় না-আসলে পরহেজগারদের জন্যেই তো উত্তম পরিণাম রয়েছে।’(২৮:৮৩)
এরপর মুহম্মদ পুনরায় জামাতে উপস্থিত হতে পারেননি। তার শক্তি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে আসছিল। সোমবারে দুপুরে, ১২ই রবিউল আওয়াল ১১ হিজরী (৮ই জুন ৬৩২ খ্রীঃ) যখন তিনি ফিসফিস করে প্রার্থনা করছিলেন, তখন এই মহান রসূলের আত্মা বিদায় নিলেন। এভাবে প্রথম থেকে শেষ অবধি আল্লাহ ও মানুষের সেবায় উৎসর্গীত একটি জীবনের অবসান ঘটল।

"Abu al-Qasim MUHAMMAD Son of `Abd Allah,
A light from the light of Allah.
O you who yearn for the light of his beauty,
Send blessings and utmost greetings of peace
Upon him and upon his Family."

সমাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন