pytheya.blogspot.com Webutation

২০ জুন, ২০১২

Human Character: মানব চরিত্রের শ্রেণী বিন্যাস।


মানুষ যে ধর্মের বা বর্ণের হোক না কেন, চরিত্রগত দিক থেকে তারা পাঁচভাগে বিভক্ত। ক) উচ্চাভিলাসী চরিত্র, খ) কতিপয়তন্ত্রী চরিত্র, গ) গণতন্ত্রী চরিত্র, ঘ) স্বৈরতান্ত্রিক চরিত্র, ঙ) দার্শণিক চরিত্র। এই আলোচনা এখানে একারণে যে, আমরা যেন মানব চরিত্রের (Human Character) স্বরূপটা বুঝতে পারি এবং নিজেদের চরিত্রকে প্রয়োজন মত পরিমার্জিত ও সংশোধিত করতে পারি। 

উচ্চাভিলাষী চরিত্রঃ এই চরিত্রের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে, অশিক্ষিতের মত তার দাসের সঙ্গে রূঢ় ব্যবহারে সে বেশ দক্ষতা দেখায়। কোন শিক্ষিত লোক এরূপ করবে না। কারণ, এরূপ রূঢ় ব্যবহারকে সে তার শিক্ষার অনুপযুক্ত বলে বিবেচনা করে। কিন্তু সে স্বাধীন নাগরিকদের প্রতি বেশ সৌজন্য পরায়ণ এবং ক্ষমতাবানদের প্রতি বিশেষভাবে অনুগত; মোটকথা শক্তির সে ভক্ত এবং সম্মানের সে যাচনাকারী। শাসক হবার দাবী তার বাগ্মীতা কিম্বা  কোন গুণের কারণে নয়। শাসক হবার দাবী তার যোদ্ধা হিসেবে তার দক্ষতার জন্যে। আর তাই সে শরীরর্চ্চা এবং পশ্চাৎধাবনের কৌশলকে বিশেষ পছন্দ করে। 

এরূপ যে চরিত্র, সে সম্পদকে অপছন্দ করে কেবল তখন, যখন সে বয়সে তরুণ থাকে। কিন্তু তার বয়স যত বৃদ্ধি পেতে থাকে তত সে অর্থ এবং সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ তার চরিত্রের মধ্যে লোভের উপাদান রয়েছে। ধর্ম বা মহৎ গুণের প্রতি সে একনিষ্ঠ থাকতে পারে না, কারণ তার পরম হিতাকাঙ্খী যে অভিভাবক তাকে সে পরিত্যাগ করেছে। সেই অভিভাবক ছিল তার সঙ্গীত মিশ্রিত দর্শণ। 

এই চরিত্রের উদ্ভব: একটি সুশাসিত নগরীর সাহসী পিতার সে সন্তান। তার পিতার বৈশিষ্ট্য এই যে, পিতা নির্বিবাদী লোক। রাষ্ট্রীয় সম্মান বা দায়িত্বকে সে অবাঞ্ছিত বলে পরিহার করেছে। কোন উপদ্রবের মধ্যে জড়িত হওয়াকে সে পছন্দ করে না। তাই কোন বিষয়ে আইন আদালতের সে স্মরণাপন্ন হয়নি। নিজের প্রাপ্য অধিকারকেও সে উপদ্রব থেকে রেহাই পাবার আশায় পরিত্যাগ করেছে।

পুত্রের চরিত্রে এর প্রভাব তখন থেকেই পড়তে শুরু করে যখন ছেলে দেখে মা বাবার বিরূদ্ধে অভিযোগ করে বলছে: সরকারে তোমার কোন জায়গা নেই, তাই তো মেয়েদের মহলেও আমার কোন মান নেই।’ তাছাড়া স্ত্রী যখন দেখে তার স্বামীর অর্থের প্রতি আগ্রহ নেই, আইন আদালত কিম্বা জনসভায় তর্ক, লড়াই বাগ্মীতার কসরৎ না করে সামান্য যে অর্থ পায় তাই সে সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করে, যখন দেখে যে তার স্বামীর চিন্তা তার নিজেতেই কেন্দ্রীভূত এবং সে তার কাছ থেকে নিস্পৃহতা বাদে কিছুই লাভ করে না, তখন সে ক্ষুব্ধ হয়ে তার পুত্রকে বলে:  ‘তোমার বাপ পুরো মানুষই নয়। সে জীবনটাকে নিয়েছে অতি সহজ ভাবে।’ এই বলে স্বামীর বিরুদ্ধে অপর সকল অভিযোগেরই পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। কারণ, স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পুনরাবৃত্তি মেয়েদের বিশেষ প্রিয় বিষয়।

পুরোন গৃহভৃত্য যাদের আমরা প্রভুর গৃহের প্রতি অনুরক্ত বলে মনেকরি তারাও সময়ে সময়ে গোপনে পুত্রের কাছে একই সূরে প্রভুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ করে। এরূপ ভৃত্যরা যদি দেখে যে, তার প্রভুর কাছে অর্থের দায়ে যারা ঋণী তারা তাদের দেয় ঋণ পরিশোধ করছে না কিম্বা অন্য উপায়েও তাকে প্রতারিত করছে তবু তার প্রভু প্রতারকদের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশ করে কোন প্রতিবিধানের ব্যবস্থা করছে না, তখন সে পুত্রকে বলেঃ আপনি আপনার পিতার মত না হয়ে শক্ত হবেন এবং এই ধরণের প্রতারকদের বিরুদ্ধে আপনি কঠিন প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন।’ কেবল গৃহভৃত্যের নিকট নয়, পুত্র যেখানে যায় সেখানেই সে অনুরূপ কথা শুনতে পায়। সে দেখে নগরীতে যারা নিজের কর্তব্য পালন করে তারা সম্মানের পাত্র নয়। তাদের মনে করা হয় নির্বোধ। আর যারা ব্যস্ত সমস্ত ফোপর-দালাল তারাই সবার বাহবা লাভ করে। তারাই সম্মানিত হয়।

তরুণ পুত্র একদিকে দেখে তার পিতার বিরুদ্ধে সাধারণের এমনি অভিযোগ; অপরদিকে পুত্র হিসেবে অধিকতর ঘনিষ্টভাবে সে তার পিতার অভিমতকে জানে। পুত্র এই উভয় অভিমতকে তুলনা করে এবং দেখতে পায়, তার পিতা যখন নিজের মনে যুক্তিকে প্রধান বলে গণ্য করছে এবং যুক্তির নীতিকে লালন করছে তখন অপর সকলের কাছে প্রধান হচ্ছে ব্যক্তিগত স্বার্থ। সেই ব্যক্তিগত স্বার্থ সাধনেরই তারা চেষ্টা করছে। এমন অবস্থায় দুই বিপরীত আকর্ষণ সে বোধ করে। পুত্রের নিজের চরিত্র গোড়াতে খারাপ ছিল না। কিন্তু সকল অসৎ সঙ্গের সম্মিলিত প্রভাব তাকে দূরে সরিয়ে এনে দুই বিপরীত আকর্ষণের মধ্যবিন্দুতে স্থাপিত করে। পুত্র এবার তার অন্তরের সৎ এর রাজ্য পরিত্যাগ করে বিরোধ এবং লোভের কেন্দ্রবিন্দুকে বরণ করে এবং পরিণামে অহঙ্কারী এবং উচ্চাভিলাষী এক চরিত্রে পরিণত হয়।

কতিপয়তন্ত্রী চরিত্র: উচ্চাভিলাষীর পুত্র প্রথমে তার পিতার পথ ধরেই চলতে আরম্ভ করে। কিন্তু এমন একটা সময় আসে যখন সে নিজেকে রাষ্ট্রের মুখোমুখী একটা নিমজ্জিত প্রবাল প্রাচীরের উপর স্থাপিত বলে বোধ করে। তার নিজেতে হৃতসর্বস্ব মনে হয়। তার পিতা হয়ত: কোন সমরাধিনায়ক বা উচ্চপদস্থ রাষ্ট্রীয় কর্মচারী ছিল। কিন্তু গুপ্তচরের ষড়যন্ত্রে আজ তাকে বিচারে সোপর্দ হতে হয়েছে এবং সে বিচারে হয় তার মৃত্যুদন্ড হয়েছে, নয়ত: সে নির্বাসিত হয়েছে কিম্বা সকল নাগরিক অধিকার হতে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তার সকল সম্পদকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পিতার এরূপ ভাগ্য পুত্রের চোখের সম্মুখেই ঘটেছে। পুত্র সবকিছুই দেখতে পেয়েছে। পিতার এই দুর্ভাগ্য, বিশেষ করে সম্পদের ক্ষেত্রে তার হৃতসর্বস্ব অবস্থা পুত্রের মনে সাহস এবং উচ্চাকাঙ্খার যে ভাব ছিল তাকে বিনষ্ট করে ফেলে। সে তার সাহস হারিয়ে ফেলে। কিন্তু দারিদ্রে নিপতিত হয়ে এবং নিজের পরিশ্রমে জীবিকা অর্জনে বাধ্য হয়ে পুত্র কষ্টকর মিতব্যায়ে এবং কঠিন কাজের মাধ্যমে পুন:রায় যখন সম্পদ সঞ্চয়ে সক্ষম হয়, তখন সে কি তার অন্তরে সম্পদের কামনাকেই সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত করবে না? অর্থের কামনাই কি এবার প্রাচ্যের একচ্ছত্র সম্রাটের মত তাকে মুকুট, শৃঙ্খল ও তরবারীতে সজ্জ্বিত হয়ে শাসন করতে শুরু করবে না?

অর্থের লিপ্সা তার অন্তরে সম্রাট। আর যুক্তি এবং উচ্চাকাঙ্খা সেই সম্রাটের পদপ্রান্তে দাস। যুক্তির জন্যে জিজ্ঞাসা কিম্বা হিসাব বা অনুমান এখন নিষিদ্ধ। কেমন করে অধিকতর অর্থ অর্জন করা যায়, এই হচ্ছে এখন সম্রাটের আদেশে যুক্তির বিবেচ্য। উচ্চাকাঙ্খাও আর সম্পদ এবং সম্পদবান ব্যতিত অপর কিছুকে মূল্যদানে অক্ষম। তার জন্যে তা নিষিদ্ধ। তার করণীয় এখন শুধুমাত্র অর্থ উপার্জন করা। অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগীতায় যোগদান করা-অপর কিছুতে নয়।

গণতন্ত্রী চরিত্র: কতিপয়তন্ত্রের শাসকের কৃপণ এবং অধম চরিত্রকে আমরা দেখেছি। এই অধম চরিত্রের একটি হল পুত্র। পুত্রকে সে নিজের পথেই মানুষ করতে লাগল। পুত্রও পিতার মত অর্থের ব্যয়ের দিকটি জোর করে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করল- কিন্তু অর্থ উপার্জনের দিকটি নয়। যে ব্যয় তার নিকট অপ্রয়োজনীয়, সে ব্যয়েতে সে পিতার মতই কৃপণ।
তার প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় আনন্দ কোনগুলি এবং কিসের ভিত্তিতে সে এর মধ্যে পার্থক্য নির্দিষ্ট করে সেটা এখন আমরা দেখব।

আমরা নিজেরা কি করি? আমরা কি আমাদের সেই আনন্দকে প্রয়োজনীয় বলিনে যেগুলি আমাদের জন্যে অপরিহার্য এবং লাভজনক? প্রকৃতিগত ভাবেই আমরা তাকেই কামনা করি যা আমাদের প্রয়োজনীয় এবং যা আমাদের উপকার সাধন করে। এরূপ কামনা করতেই আমরা বাধ্য। কাজেই যা আমাদের উপকারী তাকে প্রয়োজনীয় বলা আমাদের পক্ষে অসঙ্গত নয়।
আবার যে ইচ্ছে মানুষ শৈশব থেকে চেষ্টা করলে নিজের চরিত্র থেকে বাদ দিতে পারে, যে ইচ্ছে অপকার বৈ কোন উপকার সাধন করে না, সে ইচ্ছেকে সঙ্গত ভাবেই আমরা অনাবশ্যক বলতে পারি। এই দু‘রকম ইচ্ছারই দৃষ্টান্ত এমন-

ধরি, আহারের ইচ্ছে অর্থাৎ সাধারণ খাদ্য এবং মসলাদি গ্রহণের ইচেছর কথা। স্বাস্থ্য এবং শক্তির জন্যে এদের যতখানি প্রয়োজন আমরা এদের ততখানি আবশ্যক ইচ্ছে বলে অভিহিত করতে পারি। আহারের যে আনন্দ তার প্রয়োজন দু‘ধরণের। সে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যে উপকারী এবং আমাদের জীবনের জন্যে অপরিহার্য। কিন্তু মসলাদির প্রয়োজন কেবল স্বাস্থ্যের কারণে। এরা স্বাস্থ্যের যতটুকু উপকার করে ততটুকু এদের প্রয়োজন। কিন্তু আহারের যে ইচ্ছে একে অতিক্রম করে যায় অর্থাৎ সুস্বাদ, অন্য আহার কিম্বা বিলাস উপকরণ- যেগুলি দেহের জন্যে ক্ষতিকর এবং আত্মার জ্ঞান এবং মহৎ গুণের চর্চায় যে গুলি প্রতিবন্ধক- সেগুলিকে আমরা সঠিকভাবেই আমরা অনাবশ্যক ইচ্ছে বলতে পারি এবং এগুলিকে শৈশব থেকে চেষ্টা করলে আমরা আমাদের চরিত্র থেকে বাদ দিতে পারি।

এই দু‘ধরণের ইচ্ছের একটিকে বলা চলে উপকারী, অপরটিকে অপকারীঃ একটি মিতব্যয়ী, অপরটি অমিতব্যয়ী এবং যৌন আনন্দ বা ইচ্ছে এবং অন্যান্য ইচ্ছে সম্পর্কেও একথা সত্য।
সুতরাং যে অনাবশ্যক আনন্দে নিমজ্জিত, অপ্রয়োজনীয় ইচ্ছার সে দাস। আর যে ব্যয়ে কৃপণ এবং স্বভাবে অধম সে অপরিহার্য ইচ্ছার অধীন। 

কার্পণ্য এবং স্থূল প্রবৃত্তির মধ্যে যে পুত্র লালিত হচ্ছিল, সে যখন অলস মৌমাছির মধু ভক্ষণের স্বাদ পেয়ে যায়, যখন তার এমন সব বন্ধু-বান্ধব জুটে যায় যারা তাকে সকল রকম উদ্দাম আনন্দ এবং বিলাসের অনুসন্ধান দানে সক্ষম, তখনি তার মধ্যে কতিপয়ের নীতির ভাঙ্গন এবং গণতন্ত্রী চরিত্রের উদ্ভব শুরু হয়।

কিন্তু এই তরুণের চরিত্রের মধ্যে কতিপয়ী নীতির সমর্থক উপাদান তার পিতা কিম্বা স্বজনের প্রভাব যদি এখনও বিদ্যমান থাকে এবং তারা যদি তার এই বিচ্যূতিকে ভর্ৎসনা করতে থাকে এবং তাকে নিবৃত্ত করার জন্যে উপদেশ দান করে তাহলে তার আত্মা পরস্পর বিরোধী উপসত্ত্বায় বিভক্ত হয়ে যাবে। এর একভাগ অপর ভাগের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বে রত হবে। অর্থাৎ তার নিজের সঙ্গেই তার লড়াই বেঁধে যাবে। এ লড়াইতে দু‘এক সময়ে এমন হয় যে, তার চরিত্রের কতিপয়ী নীতির কাছে গণতান্ত্রিক নীতিকে পরাজয়বরণ করতে হয় এবং তার কোন কোন ইচ্ছার নির্বাসন ঘটে। তরুণের মনে একটা শ্রদ্ধার ভাব সৃষ্টি হয় এভং তার চরিত্রে একটা শৃঙ্খলা স্থাপিত হয়। কিন্তু এ অবস্থা সাময়িক। পুরোন ইচ্ছের বহি:স্কারের পরে আবার অনুরূপ নূতন ইচ্ছের আবির্ভাব ঘটে। কিন্তু এই ইচ্ছের যে জনক সেই চরিত্র এর নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষায় অক্ষম। ফলে এদের বিক্রম এবং সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই নূতন ইচ্ছে তাকে পুন:রায় তার সঙ্গীদের কাছে আকর্ষণ করে নিয়ে যায়। নূতন আর পুরোন ইচ্ছের মধ্যে গোপন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। নুুতনতর ইচ্ছের জন্ম ঘটে। ফলত: এদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে চলে। পরিণামে এই ইচ্ছের দল আত্মার দূর্গকে দখল করে ফেলে। কারণ, তারা দেখতে পেয়েছে তরুণের আত্মা জ্ঞানশুন্য হয়ে পড়েছে। তার নীতি এবং সত্য বিসর্জিত হয়েছে। আর জ্ঞান, নীতি এবং সত্য- এই হচ্ছে আত্মার সবচেয়ে উত্তম রক্ষক। আর এই শুণ্য স্থানে এবার আসন গ্রহণ করে অহঙ্কার এবং অসার বাক্য।

এবার সেই তরুণ আবার তার পুরোন সঙ্গীদের মধ্যে প্রত্যাবর্তণ করে। সেখানেই সে তার স্থায়ী আবাসকে নির্দিষ্ট করে। এখনও তার চরিত্রে কতিপয়ী রীতির রেশ যদি কিছু থাকে এবং তারা যদি তাকে রসদাদি পাঠিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করে, তাহলে তার চরিত্রের অহঙ্কার এবং দম্ভ সেই সাহায্যকে প্রত্যাখ্যান করে আত্মার দূর্গের দ্বারকে সকল নীতির মুখের উপর একেবারে রুদ্ধ করে দেয়। পুরোন এবং বিশ্বস্ত মহৎ বন্ধুর সদুপোদেশকেও এরা দূর্গে প্রবেশ করতে দেয় না। এই সময়ে হয়ত: কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং অধমরা জয়লাভ করে। এবার সৌজন্য এবং সঙ্কোচকে বিজয়ীরা বিকার বলে সম্পূর্ণরূপে বিতাড়িত করে দেয়। তাদের দ্বারা নির্বাসিত করে এবং সংযমকে কাপুরুষতা আখ্যা দিয়ে তাকে পঙ্কে পদদলিত করে বিসর্জন দেয়। জনসাধারণকে তারা বোঝাতে থাকে, সংযম এবং মিতব্যয় হচ্ছে স্থূলতা এবং দীনতা। এমনিভাবে অধম প্রবৃত্তিরা কোলাহল তুলে সংযম এবং মিতাচারকে তারা আত্মার সীমানার বাইরে দূর করে দেয়।

অধম প্রবৃত্তির দল তাদের হাতে বন্দী আত্মাকে তার সকল মহৎ গুণ থেকে শোধন করতে শুরু করে। এবার তারা দম্ভ, অনাচার, অমিতব্যয় এবং নির্লজ্জতাকে মশাল শোভাযাত্রা সহকারে পুষ্পমাল্যে ভূষিত করে এবং প্রশংসার মধুুর বাণী উচ্চারণ করে বরণ করে এনে আত্মাশুণ্য ঘরে তাদের প্রতিষ্ঠিত করে। এবার তারা ঔদ্ধত্যকে অভিহিত করে আভিজাত্য বলে, অরাজকতাকে বলে স্বাধীনতা এবং অপব্যয়কে মহানুভবতা আর মূর্খতাকে বলে বিক্রম। যে তরুণের কথা আমরা বলতে শুরু করেছিলাম তার মূল চরিত্র এবার পরিপূর্ণরূপেই পরিবর্তিত হয়ে গেছে। যে একদিন লালিত হয়েছিল অপরিহার্য প্রয়োজনের বোধে, সে এবার অধম এবং অনাবশ্যক ভোগ এবং সুখের অবাধ স্বাধীনতা এবং স্বেচ্ছাচারের পঙ্কে নিমজ্জিত।

এই গণতান্ত্রিক তরুণ বাকি জীবন প্রয়োজনীয় ইচ্ছের পিছনে যে পরিমাণ অর্থ, সময় এবং পরিশ্রম ব্যয় করে, ঠিক সে পরিমাণ অর্থ সময় এবং পরিশ্রম তার ব্যয়িত হয় অনাবশ্যক ইচ্ছের পিছনে। তবে তার ভাগ্য যদি সুপ্রসন্ন হয় এবং ধ্বংসের চরমে যদি সে না পৌঁছে থাকে তাহলে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তার এই উচ্ছৃঙ্খল উদ্দামতা হয়ত: হ্রাস পেতে থাকে এবং নির্বাসিত মহৎ গুণের কিছু হয়ত: আবার আত্মার দূর্গে প্রত্যাবর্তণ করে। ফলে পরিপক্ক বয়সে হয়ত: আক্রমণকারীর প্রথম প্রবৃত্তির একাধিপত্য আর তত বজায় থাকে না। এবার তার চরিত্রে কিছুটা ভারসাম্য সৃষ্টি হয়। আবশ্যক ও অনাবশ্যক আনন্দ এবং ভোগের মধ্যে একটা সমতা স্থাপিত হয়। পরিপূর্ণরূপে তৃপ্ত না হওয়া পর্যন্ত মুহুর্তের উল্লাসকে পরিপূর্ণ স্বাধীনতাই সে অর্পণ করে। কিন্তু পরিতৃপ্তির পরে অনুরূপ স্বাধীনতা অপর ইচ্ছাকেও সে প্রদান করে। কাজেই আবশ্যক এবং অনাবশ্যক কোন ইচ্ছাই আর অতৃপ্ত থাকার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে তুলতে পারে না।

এবার যদি কেউ তাকে বলে, যে আনন্দের উৎস উত্তম ইচ্ছে, তাকেই তার উৎসাহিত করা উচিৎ এবং যে আনন্দের উৎস হচ্ছে অধম প্রবৃত্তি, তার বল্গা টেনে ধরা উচিৎ, তাহলে এরূপ পরামর্শের প্রতি সে কর্ণপাত করবে না। সত্যের জন্যে অন্তরের দ্বার সে উন্মুক্ত করবে না। তার মাথা নেড়ে সে বলবেঃ সকলের আনন্দই আমার চোখে সমান এবং সকলেরই সমান অধিকার থাকা সঙ্গত।

আসলে সে মূহুর্তের ভোগের মধ্যে বাস করে। এই মূহর্তে হয়ত: সে শূরা, নারী এবং সঙ্গীতে লিপ্ত, পরমুহুর্তে সে ভোজ্য দ্রব্যে ভুক্ত। এই মুহুর্তে সে কঠিন শরীরর্চ্চায় রত, পরমূহুর্তে সে অলস আয়েষী জীবনে তৃপ্ত, আবার পরমূহুর্তে দর্শণের র্চ্চায় সে উদ্ব্যস্তু! এবং পরক্ষণেই সে রাজনীতিক হল্লায় উচ্চকন্ঠ। বলাচলে সে সর্বদাই ব্যস্ত। ব্যস্তবাগিশের মত দু‘পায়ে খাঁড়া অবস্থাতেই সে যখন যা মাথায় আসছে তাই ভাবছে, আবার যখন যা মুখে আসছে তাই বলছে। কোন সময় মনে হবে, তার সকল কামনা সমরবিদ হবার জন্যে, কখনও মনে হবে, তার উচ্চাকাঙ্খার লক্ষ্য ব্যবসায় অর্থাৎ অর্থোপার্জনে সাফল্য। তার জীবনে সংযম বা শৃঙ্খলা বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই। এমন মানুষ তার জীবনকে আনন্দময়, স্বাধীন এবং সুখী বলে বিবেচনা করে। আর তার চরিত্রের এই সব বিদ্যায় পারদর্শীতার ভাব এবং বহু বৈশিষ্ট্যের বর্ণাঢ্য বৈচিত্র্যের সঙ্গে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার যে বৈচিত্র্য, তার সাদৃশ্য তো স্পষ্ট। এমন জীবন অনেকের কাছে আকর্ষণীয় বলে বোধ হতে পারে। কারণ, এর সম্ভাবণা বিচিত্র। এই হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যক্তির চরিত্র।

স্বৈরতন্ত্রী চরিত্র: আমাদের এমন কতকগুলি কামনা বাসনা আছে যেগুলি অবৈধ। হয়ত: এগুলি আমাদের সহজাত। এগুলি নিয়েই আমরা জন্মগ্রহণ করি। কিন্তু সামাজিক আইন কানুন যুক্তি এবং উত্তম ইচ্ছে এগুলিকে ক্রমান্বয়ে এরূপ বাধ্য করে তোলে যে অনেকের চরিত্র থেকে এরা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায় কিম্বা থাকলেও বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু অনেকের চরিত্রে এগুলির সংখ্যা এবং শক্তি অব্যাহত থাকে। এইসব ইচ্ছেগুলো আমাদের স্বপ্নে দেখা দেয়। নিদ্রামগ্ন অবস্থায় আমাদের যুক্তি যখন সুপ্ত এবং মনুষ্যযোচিত শক্তির নিয়ন্ত্রণ যখন দুর্বল হয়ে পড়ে তখন আমাদের ভিতরের পশুশক্তি খাদ্য এবং পানীয়ে পূর্ণ হয়ে আমাদের দেহের মধ্যে জেগে ওঠে এবং ইচ্ছে মত নিজেদের কামনাকে তৃপ্ত করার চেষ্টা করে। আমরা জানি, আমাদের এমন কামনার পক্ষে কোনকিছুই অসম্ভব নয়। এদের মধ্যে সঙ্কোচ কিম্বা লজ্জার কোন অস্তিত্ব নেই। আর তাই এমন অবস্থায় এই কামনা জননী কিম্বা অনুরূপ কারও সঙ্গে, পুরুষ কিম্বা পশু কিম্বা দেবতা কারও সঙ্গে দৈহিক মিলনে সঙ্কোচ বোধ করে না কিম্বা নরহত্যা বা অপবিত্র কোন কর্ম থেকে বিরত থাকার আবশ্যকতা বোধ করে না। 

কিন্তু যে লোক চরিত্রবান, যার বিবেচনা সুস্থ্য এবং সুনিয়ন্ত্রিত, সে নিদ্রা গমনের পূর্বে তার যুক্তিকে জাগরিত করে। যুক্তিকে সে বুদ্ধি এবং সংলাপের অস্ত্রে সজ্জিত করে। তার কামনাকে সে যেমন প্রশ্রয় দেয়নি, তেমনি সে তাকে বুভুক্ষও রাখেনি। কাজেই তার কামনা তার আত্মাকে অতৃপ্তি কিম্বা ভোগ- কোন কিছু নিয়েই আর উদ্ব্যস্ত করে তোলে না। তার কামনাও নিদ্রার সঙ্গে শান্ত এবং নিদ্রিত হয়ে পড়ে। আত্মা তখন নিরুদ্বেগে ভূত, ভবিষ্যৎ, বর্তমানের জ্ঞানের অন্বেষণে বহির্গত হতে পারে। তার চরিত্রের তৃতীয় শক্তিওে সে শান্ত করতে সক্ষম হয়। আর তাই যে চরিত্রবান সে যখন তার ক্ষুধা এবং প্রবৃত্তিকে শান্ত করে নিদ্রায় গমন করে তখন তার অন্তর- বোধ কোন দুস্কর্মের দুস্বপ্নে বিব্রত না হয়ে সত্য অনুধাবনে ব্যাপৃত থাকতে সক্ষম হয়।

অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি আমরা যতই সম্মানীয় বলে বোধ হই না কেন, আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে ভয়ঙ্কর পাশব এবং অনৈতিক ইচ্ছার অস্তিত্ব রয়েছে এগুলির প্রকাশ ঘটে প্রধানত: স্বপ্নে।

গণতান্ত্রিক তরুণের জনক হচ্ছে সেই কতিপয়ী শাসক যার সমগ্র দৃষ্টি অর্থোপার্জনের ক্ষেত্রে নিবদ্ধ, যে হচ্ছে ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃপণ এবং উপভোগ কিম্বা বাহারের জন্যে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের ইচ্ছেকে সে প্রশ্রয় দিতে অনিচ্ছুক। কিন্তু পুত্র কালক্রমে যে সঙ্গী জোটাল তাদের রুচি এবং ইচ্ছায় কোন কার্পণ্য ছিল না। তারা যথেচ্ছাচারী। পিতার কার্পণ্য এবং নীচতা তাকে যথেচ্ছাচারের জগতে ঠেলে দেয়। কিন্তু এ কথা স্বীকার্য যে, গণতান্ত্রিক পুত্র তার সঙ্গীদের চেয়ে উত্তম চরিত্রের। আর এ জন্যেই সে উভয়দিককে রক্ষা করার চেষ্টা করে। কার্পণ্য কিম্বা অমিতব্যয়-উভয়কে পরিহার করে সে উভয়ের মধ্যে একটা আপোষ স্থাপনের চেষ্টা করে। মোটকথা কতিপয়ী থেকে গণতান্ত্রিক চরিত্রে তার রূপান্তর ঘটে।

এই পুত্রেরও কালক্রমে একটি পুত্র হল এবং তার পুত্রকে সে নিজের স্বভাবে পালন করে তুলল। মনে করি, এই পুত্রের ক্ষেত্রেও তেমন ব্যাপারটি ঘটল যা তার পিতার ক্ষেত্রে ঘটেছিল। তার সঙ্গীদল পুরো স্বাধীনতার নামে তাকে পুরো যথেচ্ছাচারের পথে নিয়ে গেল। তার পিতা এবং পরিবার যেখানে ছিল সংযম এবং মিতাচারের পক্ষে, তার সঙ্গীরা সেখানে তাকে নিয়ে গেল এর বিপরীত ক্ষেত্রে। কিন্তু তবু শেষ পর্যন্ত যখন তার সঙ্গী কু-মন্ত্রকের দল তাকে বশে রাখা অসম্ভব বলে আশঙ্কিত হয়ে ওঠে, তখন তারা তার অলস ইচ্ছার বশকারী এক প্রভুকে তার উপর স্থাপিত করে। এই প্রভু তাকে তার অলস ইচ্ছার জগতে আবদ্ধ রাখার চেষ্টা করে।

এই অলস ইচ্ছার দল মৌমাছির ন্যায় পালাক্রমে অষ্ট প্রহর পুত্রের কানের কাছে গ্ঞ্জুন তুলতে থাকে। ইচ্ছার সুবাস, পুষ্প এবং সূরার উপঢৌকনে তাকে পূর্ণ এবং মোহিত করে তোলে এভং পরিশেষে তার অন্তরে এই ইচ্ছার হুল সৃষ্টি করতে সক্ষশ হয়। এবার তার প্রবৃত্তির প্রভু আর কোন রাশ মানে না। সে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। তরুণের মনে এখনও যদি কোন মহৎ ইচ্ছে, সঙ্কোচ বা উৎকৃষ্ট ধারণার অস্তিত্ব থেকে থাকে তবে তার সব কিছুকে এবার হত্যা করা হয় এবং তাদের স্থানে উন্মত্ততা অনধিকারীর আসন দখল করে নেয়। 

এক কথায় এই চরিত্রে জন্মগত কিম্বা অভ্যাসগত ভাবে কিম্বা উভয়ভাবে সূরার উন্মাদনা, লালসা এবং মত্ততার সংযোগ ঘটেছে।

কোন প্রবল প্রবৃত্তি যখন মানুষের মনকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে তখন তার জীবন পূর্ণ হয়ে ওঠে অবসর বিনোদনে, ভোজন উৎসবে, বন্ধু এবং বান্ধবী মিলন- প্রভৃতি অনুষ্ঠানে। শুধু তাই নয়। এছাড়াও নূতনতর প্রবল ইচ্ছার দল তার চরিত্রে জন্মলাভ করতে থাকে এবং তাদের তৃপ্তির দাবীকে অদমনীয় করে তোলে। ফলে তার যা কিছু উপার্জন সবটাই ইচ্ছার তৃপ্তিতে ব্যয়িত হয়ে যাবে এবং তাকে ঋণ গ্রহণ এবং মূলধন ব্যয়ের পথ অবলম্বণ করতে হবে।

কিন্তু ঋণ ও মূলধনেরও শেষ আছে। অর্থের সব উৎস যখন শেষ হয়ে যাবে তখন তার ইচ্ছার দল অতৃপ্তির কোলাহলে ফেটে পড়বে। তাদের কোলাহল তাকে উন্মাদ করে তুলবে। কিন্তু এই ইচ্ছার যে উৎস, যে প্রভু, সে তাদের চেয়েও তাকে ক্ষিপ্ত করে তুলবে লুন্ঠন কিম্বা প্রতারণা, যে কোন উপায়ে হোক অর্থ সংগ্রহের জন্যে তাকে যত্রতত্র তাড়িত করতে থাকবে। তার ইচ্ছার প্রভুর হুকুমঃ যে কোন প্রকারে হোক, যেখান থেকে হোক তাকে অবশ্যই অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। অন্যথায় তার জীবন-যন্ত্রণা এবং বেদনায় বিদ্ধ হতে থাকবে।

তার জীবনের ধারাটি এরূপ। প্রত্যেক পরবর্তী ইচ্ছা তার পূর্ববর্তী ইচ্ছাকে অতিক্রম করে গেছে। পূর্ববর্তীর বিনিময়ে সে পরবর্তীকে গ্রহণ করেছে। আর তাই পিতামাতাকে এখন সে পূর্ববর্তী বলে পরিত্যাগ করেছে। পারিবারিক সম্পদে তার যে অংশ ছিল সে অংশ সে নি:শেষ করেছে এবং তাকে নি:শেষ করে বাকী অংশকে ব্যয় করতে শুরু করেছে। কিন্তু পরিবারের অন্যরা যদি তাকে বাঁধা দান করে তবে সে তা দখলের জন্যে নিশ্চয়ই প্রবঞ্চনা এবং প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করবে। কিন্তু তাতেও যদি সে ব্যর্থ হয়, তবে সে জোর প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না। কিন্তু ধরি, বৃদ্ধ পিতামাতা পুত্রের আক্রমণকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করল। তারা তাকে বাঁধা দিল। তখন এই বর্বর পুত্র তার অসহায় মাতা এবং বৃদ্ধ পিতাকে, অর্থাৎ তার নিকটতম এবং প্রিয়তমজনকে আঘাত করতে দ্বিধা করবে না এবং যদি সে পিতামাতার সঙ্গে একই গৃহে বাস করতে থাকে, তাহলে তার পিতা-মাতাকে তার সর্বশেষ প্রণয়ীর দাস-দাসীতে পরিণত করবে। অথচ তার পিতা-মাতার উপর এসব লোকের কোন অধিকার থাকতে পারে না।

কিন্তু পিতামাতার সম্পদেরও শেষ আছে। পুত্র তাকেও শেষ করেছে। অপরদিকে তার ইচ্ছের সংখ্যার বৃদ্ধি বৈ কমতি ঘটেনি। আর তাই এবার সে হয় অপরের ঘরে সিঁদ কাটতে শুরু করবে, নয়ত: রাত্রে কোন পথচারীর উপর হামলা করবে এবং মন্দিরের সম্পদ হরণ করবে। অপরদিকে এতদিনকার প্রতিষ্ঠিত ন্যায় অন্যায়ের বিশ্বাস, যার ভিত্তিতে সে নিজে বর্ধিত হয়েছিল, সে সব বিশ্বাস শৃঙ্খলমুক্ত প্রবৃত্তির হাতে পরাভূত হয়ে স্থানচ্যূত হয়ে পড়বে। কারণ যে প্রবৃত্তি এতদিন কিছুটা নিয়ন্ত্রিণে ছিল তা এখন তার প্রবল প্রভুর আদেশে মুক্তি পেয়ে তার দেহরক্ষীতে পরিণত হয়েছে। যখন সে গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন এবং আইনের অনুগত এবং তার পিতার প্রভাবে ছিল, তখন এইসব কামনার পক্ষে কেবল স্বপ্নের মধ্যে জেগে ওঠাই সম্ভব ছিল। কিন্তু প্রবৃত্তির প্রভুত্বে তার স্বপ্নের সত্ত্বা পরিপূর্ণরূপে বাস্তবে প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। এবার আর তার জীবনে কোন নিয়ম নিষেধের বালাই নেই। হত্যা, তা যতই ভয়ঙ্কর হোক না কেন- তা থেকেও আর সে নিবৃত্ত হবে না। তার প্রবৃত্তির সকল রকম বিধি নিষেধহীন স্বৈরতান্ত্রিক প্রভু হয়ে তাকে শাসন করছে, যেমন করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসক একটা রাষ্ট্রকে শাসন করে। নিষিদ্ধ খাদ্য-দ্রব্য, কিম্বা নিষিদ্ধ ভয়ঙ্কর কোন কর্ম- কোন কিছুতেই তার আর কোন দ্বিধা নেই। দূ:ষ্প্রবৃত্তির স্বার্থে যে কোন দুস্কর্মে সে এবার প্রবৃত্ত হয়। এই দূ:ষ্প্রবৃত্তির কতকগুলিকে আক্রমণ করা হয়েছে বাইরে থেকে। অপর যারা তার ভিতরে এতদিন বন্দী ছিল তারা এবার মুক্ত হয়েছে।

অসমাপ্ত।

উৎস: The Republic by Plato, Tr. by Benjamin Jowett.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন