pytheya.blogspot.com Webutation

৩০ জুন, ২০১২

Hereafter: একটি পরলৌকিক কাহিনী।


ইউমোলপাস, উপকথার চরিত্র ‘ম্যুসাস ও তার পুত্র’ কাহিনীতে পূণ্যবানদের জন্যে যে স্বর্গীয় সুখের প্রলোভন দেখান হযেছে তা বিলাসী ও আড়ম্বরপূর্ণ। সেখানে পূণ্যবানদের সরাসরি স্বর্গপুরী নিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যারা পূণ্যবান তারা সেখানে সোফায় শায়িত এবং বিরামহীনভাবে শূরা পানে চিরমত্ত মনীষীদের সঙ্গলাভ করার সৌভাগ্য লাভ করবে। কিছু গ্রন্থে আবার দেখা যায় এই প্রতিশ্রুতি এর থেকেও বেশী। সেইসব গ্রন্থে বলা হয়েছে, যারা পূণ্যবান তারা তাদের স্ত্রী, পুত্র, পৌত্র তথা গোটা পরিবার নিয়ে পুরুষ পরম্পরায় বেঁচে থাকতে পারবে। 

পূণ্যবানদেরকে প্রশংসা করার ধারা গ্রন্থগুলিতে এরূপ হলেও, পাপীদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত। যে পাপী তাকে পাতালপুরীতে নিয়ে একটা জলাভূমির পঙ্কে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে, নয়ত: তাদের ভাগ্যে জুটেছে চালুনি ভরে পানি বহন করার পরীক্ষা। মৃত্যুর পূর্বেও তারা অপমানে আর অত্যাচারে হয়েছিল জর্জরিত। অর্থাৎ গ্রন্থগুলিতে এটা পরিস্কার করে ব্যক্ত করা হয়েছে যে, যারা পাপীষ্ঠ বলে পরিচিত দুনিয়াতেও তাদের ভাগ্যে মানুষের ঘৃণা, অত্যাচার আর অপমান বৈ অপর কিছুই জুটতে পারে না। 


কিছু ধর্মগ্রন্থে অবশ্য আমরা পরকালের অনেক কথাই দেখতে পাই। যেমন সর্বশেষ আসমানী কিতাব কোরআনে এ বিষয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি রয়েছে যা খুবই ইন্টারেস্টিং। আর তাই যা আমাদেরকে ভাবিয়ে তোলে তা হল সত্যিকার অর্থে কি ঘটবে পরকালে? যাহোক আমরা এ নিয়ে পরবর্তীতে কোন আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করব। আর এখানে কেবল আমরা আলোচনায় আনব প্লেটোর দ্যা রিপাকলিক বইতে উল্লেখিত এরের বর্ণনাকৃত পরকালের কাহিনী। তবে সবকিছুর আগে এখন আমরা ন্যায় এবং উত্তমতা মানুষের জন্যে এইলোকে এবং পরলোকে যে আশীর্বাদ বা পুরস্কার বয়ে আনতে পারে, তা বুঝতে চেষ্টা করব। এখানে অবশ্যই আমরা ধরে নিচ্ছি একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন এবং মানুষ পরকালে তার কর্মফল ভোগ করবে।

খোদার নিকট পূণ্য এবং পাপের যথার্থ চরিত্র অপরিজ্ঞাত নয়। খোদা পূণ্য এবং পাপের যথার্থ চরিত্রকে জানেন এবং এরা উভয়ে যদি খোদার পরিচিত হন তবে এদের একজন তাঁর মিত্র এবং অপরজন তাঁর শত্রু বলে বিবেচিত হবে এবং খোদার নিকট থেকে তাঁর মিত্র যা কিছু উত্তম তাই লাভ করবে। এর একমাত্র ব্যতিক্রম হতে পারে অতীতে কৃত কোন অপরাধের দন্ডের ক্ষেত্রে।

সুতরাং পূণ্যবান যদি দরিদ্র হয়, যদি সে অসুস্থ্য হয় কিম্বা অনুরূপ অপর কোন দুর্ভাগ্য দ্বারা যদি সে আক্রান্ত হয়, তাহলে এরূপ দুর্ভাগ্য তার এই জীবন কিম্বা পরজীবনের মঙ্গলেরই উৎস। কারণ, যে মানুষ ধর্মকে বরণ করেছে এবং ধর্মের অনুসরণে যে মানুষ তার সাধ্যমত ফেরেস্তায় পরিণত হবার চেষ্টা করেছে, সে মানুষকে খোদা কোনক্রমেই অবজ্ঞা করতে পারে না। অপরদিকে যে পাপীষ্ঠ তার ক্ষেত্রে এর বিপরীতটাই সত্য।

এখন আমরা দেখি পূণ্যবান তার জীবনকালে খোদার কাছ থেকে কি পুরস্কার লাভ করে। মানুষের ক্ষেত্রে কি ঘটে? সত্য যদি প্রকাশিত হয় তাহলে কূট-কৌশলে দক্ষ অসৎ, দৌঁড়ের ক্ষেত্রে প্রথমদিকে কিছুটা অগ্রগামী থাকলেও পরিণামকে সে ঠেকাতে পারে না। দৌঁড়ের দ্বিতীয় ধাপে তাকে অবশ্যই পিছিয়ে পড়তে হয়। প্রতিযোগিতার সাঁরি থেকে শীঘ্রই তার পতন ঘটে এবং পরিণামে তার অসম্মান ঘটে। ধিকৃত পশুর ন্যায় তাকে পুরস্কারহীন ভাবে লেজ গুটিয়ে সরে পড়তে হয়। আর যে সত্যিকারের ধাবমান প্রতিযোগী, সে তার দৌঁড় সম্পন্ন করে এবং বিজয়ীর পুরস্কার নিয়েই সে প্রত্যাবর্তন করে। পূণ্যবানের ক্ষেত্রেও কি একথা সত্য নয়? কোন কর্ম সম্পাদনে কিম্বা অপরের সঙ্গে আচরণে কিম্বা জীবনের ক্ষেত্রে পূণ্যবান কি পরিণামে তার সহযাত্রীদের মধ্যে পুরস্কার এবং সুনাম উভয়েরই অধিকারী হয় না? নিশ্চয়ই।

সুতরাং এখন আমরা বলতে পারি, যে ন্যায়পরায়ণ, পূণ্যবান সে যখন বার্ধ্যক্যে উপনীত হবে, তখন সে ইচ্ছে করলে রাষ্ট্রের ক্ষমতায় আরোহণ করতে পারবে; তেমনি নিজে ইচ্ছেমত অপর কোন রমণীকে যেমন সে বিবাহ করতে পারবে, তেমনি নিজের ইচ্ছেমত সন্তানদের বিবাহ কার্য সম্পন্ন করতেও সে সক্ষম হবে। অপর দিকে, যে অন্যায়কারী, পাপীষ্ঠ সে যদিবা তার যুবা বয়সে পরিত্রাণ পেয়ে থাকে, পরিণামে সে অবশ্যই ধৃত হবে এবং অসম্মনিত হবে। অন্যায়কারীর বার্ধক্য হবে দুর্দশাগ্রস্থ। নগরের নাগরিক কিম্বা বৈদেশিক সকলেই তাকে করুণার চোখে দেখবে এবং সমস্ত বর্বর নিগ্রহ যেমন- বেত্রাঘাত, নির্যাতন, জেল-জরিমানা এবং ফাঁসি- সকল দন্ডেই সে দন্ডিত হবে আমরা ন্যায়সঙ্গত ভাবেই তা বলতে পারি।

সুতরাং যে পূণ্যবান সে নিজের ন্যায়পরায়ণতার উপকার ব্যতিত তার জীবনকালে খোদা এবং মানুষের নিকট থেকে এইসকল পুরস্কার লাভ করে এবং এরূপ পুরস্কার অবশ্যই অতি উত্তম পুরস্কার। তবু মৃত্যুর পরে পূণ্যবান এবং পাপীষ্ঠের জন্যে যে প্রাপ্য অপেক্ষা করে আছে, তার তুলনায় তাদের ইহজগতের এই প্রাপ্য সংখ্যা এবং গুণের ক্ষেত্রে আদৌ তুলনীয় নয়। সেই প্রাপ্যের কথাও আমাদের জানা আবশ্যক। তাহলেই মাত্র পূণ্যবান এবং পাপীষ্ঠের প্রাপ্যের বর্ণনা পূর্ণ হবে।

প্যামফিলিয়াতে জন্মগ্রহণকারী আর্মেনিয়াসের পুত্র এর (Er) ছিল একজন বীর যোদ্ধা। যুদ্ধ ক্ষেত্রে তার মৃত্যু ঘটল। অবশ্যই বীরের মৃত্যু। দশদিন অতিবাহিত হবার পর, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিহত মৃত দেহগুলি সংগ্রহ করে তাদের শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হল। সব দেহগুলিই তখন পচন ক্রিয়ায় বিকৃত। কিন্তু বিষ্ময়ের ব্যাপার, এরের দেহ অবিকৃত ছিল। তার দেহকে তার গৃহে এনে সমাধিস্থ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে লাগল। কিন্তু দ্বাদশ দিবসে এর যখন সমাধি শয্যায় শায়িত, তখন তার দেহে জীবন ফিরে এল।

জীবন ফিরে পেয়ে এর তার চারিদিকে সমবেত সকলকে তার পরলোকের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে লাগল। এর বলল, যখন তার আত্মা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হল, তখন সে আরো বহু বীরের আত্মাদের সঙ্গে পরলোকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করল। আর সেই যাত্রায় অগ্রসর হতে হতে তারা একসময় একটি রহস্যময় স্থানে এসে উপস্থিত হল। তারা দেখতে পেল, মহাবিশ্বের ঐ স্থানটিতে দু’টি পরস্পর সংলগ্ন পথ রয়েছে। কিন্তু নীচের এ দু’টি পথের উপরে আরও দু’টি পথকে দেখা গেল। উপরের এবং নীচের ঐ পথের মাঝামাঝি স্থানে একদল দেবদূত উপবিষ্ট যাদের অধিকাংশই গভীর মনোযোগে বইয়ের পাতায় দৃষ্টি নিবদ্ধ করে আছে। তাদের সম্মুখেও রয়েছে বড় বড় পুস্তক। আর তারা আত্মাদেরকে একে একে পিতার নামসহ ডেকে নিয়ে কাউকে ঐ পুস্তকের একটি হাতে দিয়ে তাদেরকে আকাশের পথ দু’টির ডান দিকের পথ ধরে আরোহণের নির্দেশ দিচ্ছে এবং কাউকে তার ভারী পুস্তকটি পৃষ্ঠদেশে আবদ্ধ করে দিয়ে অধ:দেশের নি:স্ক্রমণ পথের বাম দিকের পথ ধরে নেমে যেতে আদেশ করছে। এভাবে যখন এর দেবদূতদের সম্মুখে উপস্থিত হল, তখন তাকে কোন পুস্তক না দিয়ে বলা হল, সে পরলোকের সবকিছু দেখবে এবং শুনবে। অত:পর ফিরে গিয়ে পৃথিবীর মানুষের কাছে তার পারলৌকিক ঐ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করবে।

এই আদেশের পর এর সবকিছু দেখতে-শুনতে লাগল। সে দেখল, পৃথিবী থেকে আগত সকল আত্মাই দেবদূতদের কাছ থেকে পুস্তক নিয়ে উপরের বা নিম্নের ঐ নির্দিষ্ট দু’টি নি:স্ক্রমণ পথে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। এর আরও দেখতে পেল, অন্য যে দু’টি পথ রয়েছে, তার মধ্যে অধ:দেশের পথটি দিয়ে কেউ হয়ত: ধূলাবালি সমাচ্ছন্ন হয়ে যাত্রার ক্লান্তি নিয়ে পৃথিবীর গহ্বর থেকে উঠে আসছে, আবার উর্দ্ধ মুখের পথটি দিয়ে কেউ কেউ পরিচ্ছন্ন ও উজ্জ্বল বেশে নেমে আসছে। উর্দ্ধ মুখের পথটি দিয়ে যারা নেমে আসছে, তাদের দেখে মনে হচ্ছে তারা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এসেছে, কিন্তু তাদের অবয়বে যাত্রার ক্লান্তির কোন ছাপ নেই। তাদের দেখা গেল সানন্দ মনে তারা একটি প্রান্তরে পৌঁছে যেন কোন উৎসবের আয়োজন করছে। তারা পরস্পরকে আলিঙ্গন করছে এবং বাক্যালাপে মশগুল হচ্ছে। আর যখন সেখানে পৃথিবী থেকে কোন সদ্য আগত আত্মার দল পৌঁছে যাচ্ছে, তারা এগিয়ে এসে তাদের কুশলাদি জানছে এবং তাদের কাছে পৃথিবীর খবরাখবর বেশ আগ্রহের সঙ্গে শুনছে।

যারা পৃথিবী থেকে সরাসরি (এরা মূলত: শিশু, ধর্ম ও ন্যায়ের পথে মৃত্যুবরণকারী এবং মুমিন) বা পাতালপুরী থেকে (এক পশলা সাজা খেটে আসা) এসেছে তারা তাদের দু:খ, কষ্ট ও যন্ত্রণার করুণ বর্ণনা দিতে লাগল। তাদের চোখ দিয়ে দু:খের অশ্রু ঝরে পড়তে লাগল। স্বর্গ থেকে আগত আত্মা গুলো তখন তাদেরকে স্বর্গের অবর্ণনীয় সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য ও সৌন্দয্যের বর্ণনা দিয়ে তাদেরকে শান্ত করতে লাগল। এ কাহিনী দীর্ঘ।

এর বলল, দেবদূতগণ পাপীষ্ঠদের পাপের ধরণ অনুসারে প্রতিটি অন্যায়ের দশ গুণ শাস্তির ব্যবস্থা করছে এবং কাউকে তার দন্ড ভোগকে শত বৎসরে একবার বা সহস্র বৎসরে দশবারের ভিত্তিতে বিভক্ত করে দিচ্ছে। কিন্তু যারা খোদার প্রতি বা পিতা-মাতার প্রতি অসম্মানকারী এবং যারা মানুষ হত্যাকারী তাদের শাস্তি উল্লেখিত দন্ডের চেয়ে বহুগুণে অধিক এবং ভয়ানক। এর একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করল। সে বলল, সে শুনতে পেল একটি আত্মা অপর একটি আত্মাকে প্রশ্ন করছে- ‘ভাই, মহান আর্ডিউস কোথায়?’

এই আর্ডিউস এরের হাজার বৎসর পূর্বে পৃথিবীতে জীবন-ধারণ করেছিল। সে প্যামফিলিয়ার কোন নগরীর স্বৈরশাসক ছিল। সে তার বৃদ্ধ পিতা এবং জৈষ্ঠ্য ভ্রাতাকে হত্যা করেছিল। এ ছাড়াও তার ঘৃণ্য দুস্কর্মের সীমা ছিল না। সে যা হোক, এর শুনতে পেল অপর আত্মাটি বলছে- ‘আর্ডিউসের আত্মা কখনও উর্দ্ধে আরোহণে সক্ষম হবে না। কারণ, আমরা নিজেদের চোখেই এক ভয়ানক দৃশ্য দেখেছি। পাতালপুরীর সমস্ত অভিজ্ঞতা শেষ করে আমরা তখন সবে গুহা মুখে পৌঁছেছি, আমাদের কেউ কেউ পুন:রায় আরোহণের উদ্যোগ করছে, আবার কেউ কেউ বিশ্রামে, এমন সময় আমরা দেখলাম, আর্ডিউস এবং তার সঙ্গে আরও কিছু আত্মা সেখানে এসে হাজির হল। তারা সকলেই ছিল স্বৈরশাসক। তাছাড়া, তাদের সাথে এমন আত্মারাও রয়েছে, যারা ব্যক্তিগত ভাবে বৃহৎ দুস্কর্মের নায়ক ছিল। তারা এসে সকলকে সরিয়ে দিয়ে গহ্বরের মুখে দাঁড়িয়ে পড়ল। তারা ভেবেছিল অন্যদের মত তারাও উর্দ্ধে আরোহণ করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম গহ্বরের মুখ তাদের গ্রহণ না করে আচম্বিতে গর্জন করে উঠল।

বস্তুত: এই দূরারোগ্য পাপীর দল কিম্বা তাদের সঙ্গীদের মধ্যে যাদের দন্ড ভোগ সমাপ্ত হয়নি, তাদের কেউ যখন উর্দ্ধে আরোহণের চেষ্টা করছিল, তখনি গুহা গর্জন করে উঠছিল এবং যেসব ভীমাকার প্রহরী দন্ডায়মান ছিল, তারা সেই গর্জনধ্বণি শ্রবণ করে এগিয়ে এসে তাদেরকে ধরে বেঁধে নিয়ে যাচ্ছিল।

আর্ডিউস ও তার সঙ্গীদেরকে প্রহরীর দল হাত-পা বেঁধে ভূমিতে ফেলে তাদেরকে চাবুক মারছিল এবং তাদেরকে কেশগুচ্ছ ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে যেতে উপস্থিত অন্যান্য আত্মাদের নিকট তাদের অপরাধের বর্ণনা দিচ্ছিল এবং বলছিল তাদেরকে তারা আরো কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ করতে যাচ্ছে। অপরাধী ছাড়া অপর যারা সেই সময় গুহা মুখের আশে-পাশে দাঁড়িয়ে আরোহণের অপেক্ষায় ছিল, তাদের মনে তখন সবচেয়ে বড় আতঙ্ক ছিল এই যে, পাছে তারাও সেই গর্জন ধ্বনি শুনতে পায়। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে গুহামুখ নীরব হয়ে রইল, তখন তারা একে একে অসীম আনন্দে গুহামুখ দিয়ে উর্দ্ধে আরোহণ করল।’

এর আরও বর্ণনা করেছিল, উর্দ্ধ থেকে আগত আত্মারা সাত দিন প্রান্তরে অতিবাহিত করে আবারও যাত্রা শুরু করল। ৪র্থ দিনে তারা এমন এক স্থানে এসে উপস্থিত হল, যেখান থেকে স্বর্গ এবং মর্ত্য ভেদকারী একটি আলোক দন্ডকে তারা দেখতে পেল। স্তম্ভের মত আলোর এই দন্ডটি বর্ণ সমারোহে রামধণু প্রায়। বরং বলাচলে রামধণুর চেয়েও সে উজ্জ্বল এবং স্পষ্ট। আরও একদিন অতিবাহিত হল। অভিযাত্রী আত্মার দল এবার সেই আলোক স্তম্ভে প্রবেশ করল। তাদের ঐ অবস্থান থেকে আলোক স্তম্ভের মেরুদন্ডের উপর দৃষ্টিপাত করে এবার তারা স্বর্গ থেকে প্রলম্বিত দন্ডের উভয় প্রান্তকে দেখতে পেল। কারণ, আলোর এই স্তম্ভটি হচ্ছে স্বর্গ বা জ্যোতির্মন্ডলের বন্ধন দন্ড। এই দন্ডই জাহাজের দাঁড়ের সাঁরির বন্ধন-সূত্রের ন্যায় জ্যোতির্মন্ডলের সমগ্র পরিধিকে ধারণ করে রাখে। এই দন্ডের প্রান্তদেশ দ্বয়ে আবদ্ধ হচ্ছে অনিবার্যতার চক্রটি। অনিবার্যতার এই চক্রটির কারণে সমগ্র নক্ষত্র পুঞ্জের আবর্তন।

অনিবার্যতার চক্রের দন্ড এবং বক্র প্রান্ত কঠিন প্রস্তর এবং অন্য কোন ধাতব বস্তুর মিশ্রণে গঠিত এবং এর গতির নিয়ামক অংশটির প্রস্তুত প্রণালীর যে বর্ণনা এর দিয়েছে, তাতে মনে হয় চক্রের একটি অংশকে খোঁদাই করে তা তৈরী করা হয়েছে। এই খোঁদিত অংশটিতে আবার একটি দ্বিতীয় নিয়ামক স্থাপিত হয়েছে। আবার দ্বিতীয়টিতে খোঁদাই করে বসান হয়েছে একটি তৃতীয় নিয়ামক এবং তৃতীয় নিয়ামকটিকে খোঁদাই করে স্থাপিত হয়েছে চতুর্থ নিয়ামক। এমনি করে তৈরী হতে হতে অষ্টম নিয়ামকে যেয়ে তা সম্পূর্ণ হয়েছে। এ যেন কতকগুলি কুম্ভের স্তর-স্তুপ। কারণ, সেখানে সর্বমোট আটটি নিয়ামক খোঁদিত ছিল এবং একটির মধ্যে ঘটেছিল অপরটির স্থাপন। উর্দ্ধদেশ থেকে দেখলে এ নিয়ামকের বাহুকে একটি বৃত্তের মতই মনে হবে। দন্ডকে ঘিরে তৈরী হয়েছে এই নিয়ামকের তল। অষ্টম নিয়ামকের কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে প্রবিষ্ট হয়েছে এই দন্ড। সবচেয়ে বাইরের দিকের নিয়ামকের বাহু প্রশস্ততম। পরিধিতে হ্রস্বতর ছিল ষষ্ঠ এবং তারচেয়ে চতুর্থ। চতুর্থের পরে অষ্টম, অষ্টমের পরে সপ্তম, সপ্তমের পরে পঞ্চম, তারপরে তৃতীয় এবং সবশেষে দ্বিতীয়।

বহির্দিকস্থ বৃহত্তম বাহুটি বর্ণে ছিল বিচিত্র। কিন্তু সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিল সপ্তমটি। অষ্টমটির আলো আসছিল সপ্তম থেকে। কারণ সপ্তমের বর্ণেই অষ্টমের বর্ণ। দ্বিতীয় এবং পঞ্চম নিয়ামকের বৃত্তকে বলা চলে পরস্পর সদৃশ। এদের বর্ণ ছিল অপর বৃত্তের চেয়ে অধিকতর পীত। কিন্তু তৃতীয়টি ছিল শুভ্রতম। চতুর্থটির বর্ণ লোহিত এবং ষষ্ঠটি শুভ্রতার ক্ষেত্রে দ্বিতীয়। সমগ্র চক্র একটি বেগেই আবর্তিত হত। কিন্তু সমগ্র গতির অন্তরে অন্তর্ভূক্ত অপর সাতটি নিয়ামকের গতি ছিল ধীরতর এবং সমগ্রের বিপরীতমুখী। কিন্তু এদের মধ্যেও অষ্টমটির গতি ছিল সর্বাধিক। গতিতে অষ্টমের নিকটবর্তীতে ছিল যথাক্রমে সপ্তম, ষষ্ঠ এবং পঞ্চম। এদের সকলের গতি ছিল সমহারের। গতির ক্রমে তৃতীয় স্থান ছিল চতুর্থের এবং এর গতি ছিল বিপরীত আবর্তের। চতুর্থ অবস্থান ছিল তৃতীয়ের এবং পঞ্চম স্থান ছিল দ্বিতীয়ের। আবার, সমগ্র চক্রের আবর্তই সংঘটিত হচ্ছে অনিবার্যতার ক্রোড় দেশে এবং প্রত্যেক বৃত্তের উপরিভাগে একটি করে সংকেত শিঙ্গা স্থাপিত রয়েছে। আবর্তের সঙ্গে সঙ্গে এই শিঙ্গাটি যেমন আবর্তিত হতে থাকে, তেমনি এর শিঙ্গা থেকে একটি নির্দিষ্ট খাতের শব্দ সর্বদা ধ্বণিত হতে থাকে। আর প্রত্যেক বৃত্তের শিঙ্গা একই খাতের ধ্বণি সৃষ্টি করে, ফলে আটটি বৃত্তের শিঙ্গা ধ্বণিতে একটি শব্দ রাগের সৃষ্টি হয়।

ল্যাচেসিস, ক্লথো এবং এ্যাটরোপস।
বৃত্তের পরিক্রম পথে প্রায় সমদূরত্বে আসীন তিনটি মূর্ত্তিবৎ দেবদূত। প্রত্যেকেই তারা একটি করে সিংহাসনে উপবিষ্ট। এরের ভাষ্য অনুসারে এরা তিন জন-তিন ভাগ্যদেবী-ল্যাচেসিস, ক্লথো এবং এ্যাটরোপস। শুভ্র বসনে তারা ভূষিত। শিরে তাদের পুষ্পমাল্য। শিঙ্গার ধ্বণির সঙ্গে কন্ঠ মিলিয়ে তারা সঙ্গীত সৃষ্টি করে চলেছে। ল্যাচেসিসের সঙ্গীতের ধূয়া হচ্ছে অতীত, ক্লথোর বর্তমান এবং এ্যাটরোপসের ভবিষ্যৎ। অভিযাত্রী আত্মার দল দেখতে পেল, মাঝে মাঝে ক্লথো চক্রের সর্বাপেক্ষা বহি:স্থ বাহুটি আকর্ষণ করে তাতে গতির সঞ্চার করে দিচ্ছে। এ্যাটরোপসও তার বাম বাহু দিয়ে অন্তর্বাহুটি ঘুরিয়ে দিচ্ছে এবং ল্যাচেসিস পর্যায়ক্রমে তার বাম এবং ডান বাহু দ্বারা অন্ত এবং বহির্বাহু গুলিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।

এই স্থানটিতে পৌঁছে আত্মার দল সোজা ল্যাচেসিসের সম্মুখে হাজির হল। এবার একজন দোভাষী তাদেরকে অর্ধাবৃত্তাকারে দাঁড় করিয়ে দিল এবং ল্যাচেসিসের ক্রোড় থেকে কতকগুলি জীবন সংখ্যা তুলে নিয়ে একটি উচ্চ মঞ্চে আরোহণ করে ঘোষণা করল-‘হে আত্মার দল! মর্ত্যের মরণশীল জীবন তোমরা এবার শুরু করতে যাচ্ছ। তোমাদের জন্যে কোন ভাগ্য নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে না। তোমাদের ভাগ্য তোমাদেরই নির্ধারণ করতে হবে। জীবন সংখ্যা ছুঁড়ে দেয়া হবে এবং যে আত্মা সংখ্যার যে ক্রম তুলে নেবে, সেই ক্রম অনুসারে সে নিজ জীবন বাঁছাইয়ের সুযোগ পাবে। তোমাদের বাঁছাইকৃত এই জীবনে উত্তম বা ধর্মের জন্যে খবরদারির আবশ্যকতা রাখা হয়নি। তোমরা যে যা বাঁছাই করবে, সে তাকে তেমনি লাভ করবে। এজন্য বিধাতাকে দায়ী করা যাবে না। আপন ভাগ্য বাঁছাইয়ের দায়িত্ব আত্মার নিজের।’

এই ঘোষণা পাঠ করে ভাষ্যকার জীবন সংখ্যাগুলো ছুঁড়ে দিল এবং আত্মা দলের যার নিকটে যে সংখ্যা এসে পড়ল, সে তা তুলে নিল। একমাত্র ব্যতিক্রম হল এর। সে কোন জীবন সংখ্যা কুড়িয়ে নিল না। কারণ তার জন্যে জীবন সংখ্যা গ্রহণ নিষিদ্ধ ছিল। যা হোক, জীবন সংখ্যা কুড়ানো হলে আত্মারা বুঝতে পারল, কে কখন জীবন বাঁছাইয়ের সুযোগ পাবে। এবার ভাষ্যকার সমবেত আত্মাদের যা সংখ্যা তার চেয়ে অধিক জীবন প্রকার তাদের সম্মুখে রেখে দিল। কল্পনীয় সমস্ত প্রকার মানব জীবনই তাদের মধ্যে ছিল। প্রত্যেক প্রকারের প্রতিটি জীবনের সাথে আয়ূস্কাল ও ভাগ্য বর্ণিত ছিল। সমস্ত আয়ূস্কাল ব্যাপী যে জীবন স্বৈরাচারী, তাও যেমন এখানে ছিল, তেমনি ছিল স্বৈরাচারী সেই জীবনও যার মধ্য পথে পতন ঘটে এবং সমাপ্তি ঘটে দারিদ্রে, নির্বাসনে কিম্বা ভিক্ষাবৃত্তিতে। দৌহিক সৌন্দয্যে মনোহর, কিম্বা শারিরীক ক্রীড়ায় পারদর্শী কিম্বা সুজাত বা অভিজাত পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত জীবনের নমুনারও অভাব ছিল না এবং এমন কোন সুনামের অধিকারী নয় তেমন জীবনও সেখানে ছিল। আর দারিদ্র এবং সমৃদ্ধি, স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রত্যেক জীবনের সাথেই মিশ্রিত ছিল। জীবনের এই বৈচিত্র্যের সমাবেশ থেকে যার বেলায় যতগুলি জীবনের ধরণ অবশিষ্ট থাকবে, সে কেবল তা থেকেই বেঁছে নিতে পারবে।

মূলত: আত্মারা এখানে যা বাঁছাই করবে তা হল, আয়ূস্কাল, স্বাস্থ্য-সৌন্দর্য্য, রিজিক, অর্থ-বিত্ত, খ্যাতি-যশ:, রোগ-শোক, বিবাহ-সন্তানাদি ইত্যাদি। অন্যদিকে প্রজ্ঞা কাজে লাগিয়ে ধর্ম ও ন্যায়ের পথ বাঁছাইয়ের সুযোগ সে পাবে দুনিয়াতে। আর তাই ভাষ্যকার এবার আত্মাদের উদ্দেশ্য করে বলল-‘যে আত্মা সকলের শেষে জীবন বাঁছাইয়ের সুযোগ পাবে, তারও চিন্তার কোন কারণ নেই। কেননা, তার জীবনের ধরণ যাই হোক না কেন, সফলকাম বা ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ সকলেরই সমান সমান। তারাই সফলকাম হয়ে আবার এই জগতে ফিরে আসতে পারবে, যারা দুনিয়াতে বিধাতার তরফ থেকে প্রদর্শিত সত্য ও সরল পথ গ্রহণে প্রজ্ঞা কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞতার পরিচয় দিতে পারবে। কাজেই, সবার প্রথমে যে জীবন নির্বাচন করছে, তার অধৈর্য্য হওয়ার কারণ নেই, সুচিন্তিত ভাবে নির্বাচন করুক সে তার জীবনকে এবং যে নির্বাচন করছে সবার শেষে, তারও হতাশ হবার কোন কারণ নেই।’

ভাষ্যকারের এ বক্তব্য সমাপ্ত হলে যে আত্মার বাজির সংখ্যা ১ম ছিল, সে এবার তার জীবন বাঁছাই করে নিল। কিন্তু কি আশ্চর্য্য! ত্বরিৎ সে বাঁছাই করে নিল সর্বাধিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসকের এক জীবনকে। নিজের মূর্খতায় এবং ব্যগ্রতায় সে পরিপূর্ণরূপে বিচার করে দেখল না, কোন জীবনকে সে গ্রহণ করছে। তাই সে উপলব্ধি করতে পারল না, নিয়তির নির্দেশে এই জীবনে তাকে নিজের সন্তানকে হত্যা করতে হবে এবং অনুরূপ বহু অবর্ণনীয় আতঙ্ক তার ভোগ করতে হবে। কিন্তু সিদ্ধান্তের পর অবসর মুহূর্তে যখন সে চিন্তা করে দেখল, কি জীবনকে সে নির্বাচিত করেছে, তখন সে নিজের মূর্খতার জন্যে অনুতাপে বিদ্ধ হতে লাগল। অথচ তার এ দূর্ভাগ্যের জন্যে দায়ী অপর কেউ নয়। সে বিস্মৃত হয়েছিল ভাষ্যকারের সতর্কবাণী। ভাষ্যকার বলেছিল প্রত্যেক আত্মাই তার ভাগ্যের নিয়ামক। কাজেই নিজ ভাগ্যের জন্যে বিধাতা, ভাগ্যদেবী বা অপর কাউকে দায়ী করা অর্থহীন।

বস্তুত: স্বৈরাচারী জীবন নির্বাচনকারী এই আত্মাই নয়, অধিকাংশ আত্মাই জীবন নির্বাচনে বিজ্ঞতার পরিচয় দিতে পারল না কেবলমাত্র অজ্ঞতার কারণে, বলা চলে ইতিপূর্বে দু:খের পরীক্ষায় পরীক্ষিত না হওয়ার কারণে। কিন্তু কিছু কিছু আত্মা যারা ইতিপূর্বে ‍পৃথিবী থেকে আগত কোন আত্মাদলের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছিল, জেনেছিল তাদের দূর্ভোগ, তারা নূতন জীবন নির্বাচনে তুলনামূলক ভাবে বিজ্ঞতার পরিচয় দিল। তারা ব্যগ্রতায় নয় বরং ধীর-স্থির ভাবে যথেষ্ট সময় নিয়ে জীবন নির্বাচন করল এবং তাদের জীবন তাদের জন্যে মঙ্গলকর হল। যেমন, বাজির সংখ্যা যার বিংশদশ ছিল, সে খুঁজে ফিরল সাদামাটা আটপৌরে এক জীবন। অবশেষে সে তা খুঁজে পেল এক কোনে, সেখানে পড়ে ছিল সেটি সকলের অবহেলায়। আর তা খুঁজে পেয়ে পরিতৃপ্তির এক হাসি দিয়ে সে ঘোষণা করল, যদি তার বাজির সংখ্যা প্রথমও হত, তবুও সে এ জীবনকেই বেঁছে নিত। প্রকৃতপক্ষে, আত্মাদের জীবন নির্বাচনের পর্বটি যথার্থই দেখার মত ছিল। এ দৃশ্য যেমন করুণার উদ্রেক করেছে, তেমনি হাস্যরস ও বিষ্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

যা হোক, সকল আত্মার জীবন নির্বাচনের পর্ব সমাপ্ত হলে আত্মার দল তাদের বাজির সংখ্যার ধারাক্রমে একের পর এক ল্যাচেসিসের সম্মুখে উপস্থিত হল। এখন ল্যাচেসিস প্রত্যেক আত্মার নির্বাচিত পথপ্রদর্শক দেবদূতকে আত্মাদের জীবনপথ প্রদর্শণের নির্দেশ দিল। এতে দেবদূতগণ আত্মাদেরকে প্রথম নিয়ে গেল ক্লথোর নিকট। এভাবে তারা আত্মাদেরকে ক্লথো পরিচালিত চক্রের আবর্তের মধ্যে এনে তাদের নির্বাচিত ভাগ্যকে সুনির্দিষ্ট করে দিল। এই কার্য্য সমাধা করে দেবদূতগণ ক্লথোকে অভিবাদন জানিয়ে আত্মাদেরকে নিয়ে চলল চক্রের নিরলস চালনাকারী এ্যাটরোপসের নিকট। এ্যাটরোপস এবার নিয়তির সূত্রে আবদ্ধ করে আত্মার নির্বাচিত জীবনকে অপরিবর্তনীয় করে দিল।

অত:পর আত্মার দল পশ্চাৎ দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ না করে অনিবার্যতার সিংহাসনের সম্মুখে এসে সমবেত হল। তারপর তারা সেখান থেকে যাত্রা করে অগ্রসর হতে হতে এক সময় পৌঁছে গেল বৃক্ষ-লতা-গুল্ম শুণ্য ‘লেথির সমতল ভূমি’তে। অবশ্য এখানে পৌঁছার পূর্বে তাদেরকে অতিক্রম করতে হয়েছিল এক দু:সহ শ্বাসরুদ্ধকর তাপের তেজকে।

অপরাহ্নে সকলে এসে শিবির স্থাপন করল ‘বিস্মৃতির নদী’র তটে। বিস্মৃতির এই নদীর পানিকে কোন পাত্রেই ধারণ করা চলে না। নিয়তির নির্দেশে সকল আত্মাকেই পান করতে হল এই পানি। যারা বিজ্ঞতার সাথে নিজেকে রক্ষা করতে পারল না, তারা এই পানি প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পান করে ফেলল। এবার সকল আত্মা নিদ্রামগ্ন হল এবং পরলোকের সকল অভিজ্ঞতা বিস্মৃত হয়ে গেল। তারপর যখন মধ্যরাত্রি আগত, তখন ভূমির কম্পন শুরু হল এবং বজ্র্ নিঘোষিত হল। আর বিচ্ছুরিত তারকার মত এক বিপুল উৎক্ষেপনে সকল আত্মা পরলোক থেকে উৎক্ষিপ্ত হল ইহলোকে। মর্ত্যলোকে তাদের ঘটল নূতন অস্তিত্বের জন্ম।

বিস্মৃতির নদীর পানি পান করা এরের জন্যে নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু সেও বলতে পারেনি, কেমন করে, কোন উপায়ে সে প্রত্যাবর্তন করতে সক্ষম হল তার মৃত দেহের মধ্যে। তার এইমাত্র স্মরণ আছে হঠাৎ সে জীবন ফিরে পেল। তার চক্ষু উন্মীলিত হল, আর দেখতে পেল প্রত্যুষ হয়ে আসছে এবং সে শায়িত রয়েছে তার সমাধি শয্যায়।

সমাপ্ত।

উৎস: The Republic by Plato, Tr. by Benjamin Jowett.
বি:দ্র: প্লেটোর বর্ণনা এবং আমার বর্ণনার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এটা অনুবাদ ত্রুটি নয়, আসলে আমি আমার মত করেই বর্ণনা করেছি প্লেটোর বর্ণনাকে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন