pytheya.blogspot.com Webutation

১৭ এপ্রিল, ২০১২

Dead Sea Scrolls: মরু সাগর পুঁথি।

১৯৪৭ সালে নাটকীয় আকস্মিকতার মধ্যে মরু সাগরের কাছে (উত্তর-পশ্চিম সমুদ্রতীর থেকে মাইল খানেক ভিতরে) জর্দানের পাহাড়গুলোতে মরু সাগর পুঁথি (Dead Sea Scrolls) নামে পরিচিত কিছু অতি প্রাচীন দলিল- পত্র আবিষ্কৃত হয়। এ আবিষ্কার বিশ্বের বুদ্ধিজীবী ও যাজক মহলে ঝড় তোলে। এই মরু সাগর পুঁথি কীভাবে আবিষ্কৃত হল, সেই কাহিনি সংক্ষেপে এমন-

কুমরানের গুহা।
কুমরানের (Khirbet Qumran, West Bankকাছাকাছি এক প্রান্তরে এক আরব রাখাল বালক মুহম্মদ আদিব (Muhammed edh-Dhib) মেঘ চরাচ্ছিল। একসময় হঠাৎ এক গণনা শেষে সে দেখতে পেল, পালে একটি মেষ নেই। কাছেই ছিল এক পাহাড়। মেষটির খোঁজে দিগন্তে দৃষ্টি ফেলতে সে তখন পাহাড়ে উঠল। 

খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পাহাড়ের গায়ে সে এক গুহামুখ আবিস্কার করল। কৌতুহলবশত: বালকটি তখন ঐ গুহার মধ্যে একটি পাথর নিক্ষেপ করল। কিন্তু নিক্ষেপের পর পাথরে পাথরে সংঘর্ষের শব্দের পরিবর্তে কিছুটা ভিন্ন জাতীয় শব্দ কানে এল তার। মুহূর্তেই তার মনে রঙিন স্বপ্ন ডানা মেলল। সে ভাবল, নিশ্চয় কোন গুপ্তধন  আছে এ গুহায়।

মাটির পাত্র যাতে পুঁথিগুলো ছিল।
পরদিন সকালে সে আবার গুহায় ফিরে আসে। সাথে নিয়ে এসেছিল তার চাচাত ভাইকে। দু’জনে গুহার ভিতরে প্রবেশ করে। কিন্তু হতাশ হয় তারা। গুহার কোথাও গুপ্তধন নেই। তার পরিবর্তে ভাঙাচোরা মাটির জিনিসপত্রের মধ্যে তারা কয়েকটি মাটির কলস (Jar) দেখতে পেল। কলসগুলির মুখ সীল করা ছিল। তখন ঐ কলসগুলির মধ্য থেকে একটি কলস নিয়ে নিজেদের তাঁবুতে এল তারা। সেটি ভেঙে ফেলার পর তাদের সব আশা বিলীন হয়ে গেল। কলসের মধ্য থেকে পাওয়া গেল চামড়ায় লেখা একটি পুঁথি। গোটানো পুঁথিটি খুলতে খুলতে শেষ পর্যন্ত তা তাঁবুর এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত পৌছল। এটা ছিল সেই পুঁথিগুলোর একটি যা পরে আড়াই লাখ ডলারে বিক্রি হয়।

আরব এই বেদুইন তাদের তাম্বুর এক খুঁটির সাথে পুঁথিটি ঝুলিয়ে রাখে। বাড়ীতে কোন অতিথি এলে সে তাদেরকে সেটা দেখাত। এই বেদুইন প্রথমে এই পুঁথি বেথেলহেমের ইব্রাহিম ঝা নামক এক এন্টিক ক্রয়-বিক্রয়কারীর কাছে নিয়ে যায়। কিন্তু ঝা তা ফিরিয়ে দেয় এই বলে যে তা এক মূল্যহীন আবর্জনা বৈ কিছু নয় এবং তাকে সতর্ক করে যে তা হয়ত: কোন সিনাগগ থেকে চুরি করা হয়েছে।

মরু সাগর পুঁথি।
পরবর্তীতে বেদুইন এই পুঁথি নিয়ে যায় খলিল ইস্কেন্দার শাহীন ওরফে কান্দো (Kando) নামক এক সিরীয় খৃষ্টান ব্যক্তির নিকট। প্রকৃতপক্ষে ঐ কান্দো ছিল একজন মুচি এবং খন্ডকালীন এন্টিক ক্রয়-বিক্রয়কারী। সে লক্ষ্য করে যে চামড়াটির উপরে কীসব লেখা রয়েছে। কিন্তু ভাষাটি তার অজানা থাকায় সে কিছুই বুঝতে পারল না। ভাল করে দেখে নিয়ে সে পুঁথিটি জেরুজালেমের সেন্ট মার্ক মঠের সিরীয় আর্চ বিশপকে দেখাবে বলে মনস্থ করল। কিন্তু সে মন্তব্য করল- 'এ দিয়ে ছেঁড়া জুতোর তালি দেবার কাজ হলেও হতে পারে।' সুতরাং সে যতকিঞ্চিত মূল্য ধার্য্য করল। আর আরব বালকটি £7 GBP এর বিনিময়ে পুঁথিটি তাকে দিয়ে দিল।

অত:পর কান্দো মঠের একজন মেম্বার জর্জ ইশাইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে এই পুঁথির খবর মেট্রোপলিটন এথানসিয়াস মার শমূয়েলের নিকট পৌঁছে যায়। এভাবে অর্থোপার্জনের লক্ষ্যে পূঁথিটি এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলে গেল।

১৯৫৪ সালের জুনের ১ তারিখে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মরু সাগর পুঁথি বিক্রির জন্যে বিজ্ঞাপন ছাপে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে ঐ বিজ্ঞত্তিটি ছিল এমন-

MISCELLANEOUS FOR SALE
মরু সাগর পুঁথি বিক্রির জন্যে বিজ্ঞাপন।
'The Four Dead Sea Scrolls'Biblical Manuscripts dating back to at least 200 BC, are for sale. This would be an ideal gift to an educational or religious institution by an individual or group.
Box F 206, The Wall Street Journal.

১ জুলাই, ১৯৫৪, যথেষ্ট নিগোসিয়েশনের পর Prof. Mazar এবং Prof. Sukenik এর পুত্র Yigael Yadin নিউ ইয়র্কের হোটেল Waldorf-Astoria তে আড়াই লাখ ডলারের বিনিময়ে পুঁথিগুলো ক্রয় করে নেন এবং জেরুজালেমে নিয়ে আসেন। জর্দানের আমেরিকান ওরিয়েন্টাল ইনস্টিটিউটে এ পুঁথিগুলো ওল্ড টেষ্টামেন্টের ই'শাইয়ের গ্রন্থের (Book of Isaiah) জ্ঞাত কপিগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন বলে দেখা গেল। ১৯৬৫ তে ব্রিটিশ মিউজিয়াম এই পুঁথির এক প্রদর্শনীর আয়োজন করে। ১৯৬৭ তে ছয় দিনের যুদ্ধে ইস্রায়েল জর্ডানের কিছু অংশ দখল করলে পুঁথিগুলো তাদের হাতে চলে আসে। পরে তা ইসরাইল সরকার কর্তৃক জেরুজালেমের গ্রন্থ মন্দিরে (Shrine of the Book) রক্ষিত হয়।

এখন আমরা দেখি প্রাপ্ত এই স্ক্রলে কি আছে- The texts of Dead Sea Scrolls are of great historical, religious and linguistic significance because they include the earliest known surviving manuscripts of works later included in the Hebrew Bible canon, along with extra-biblical manuscripts which preserve evidence of the diversity of religious thought in late Second Temple Judaism.

The texts of Dead Sea Scrolls are written in Hebrew, Aramaic, Greek, and Nabataean, mostly on parchment but with some written on papyrus and bronze.The manuscripts have been dated to various ranges between 408 BCE and 318 CE.

The Dead Sea Scrolls are divided into three groups; copies of texts from the Hebrew Bible, which comprise roughly 40% of the identified scrolls, texts from the Second Temple Period like the Book of Enoch, Jubilees, the Book of Tobit, the Wisdom of Sirach, Psalms 152–155, etc., that ultimately were not canonized in the Hebrew Bible, which comprise approximately 30% of the identified scrolls, and sectarian manuscripts (previously unknown documents that shed light on the rules and beliefs of a particular group or groups within greater Judaism) like the Community Rule, the War Scroll, the Pesher on Habakkuk and the The Rule of the Blessing, which comprise roughly 30% of the identified scrolls.

সমাপ্ত।

উৎস: Jesus- A Prophet of Islam.- by Muhammad Ata-Ur-Rahim

ছবি: Wikipedia, faclan.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন