pytheya.blogspot.com Webutation

১৯ এপ্রিল, ২০১২

Ramadan: রোজার মাস রমজান।



হিজরতের পর মদিনায় এসে মুহম্মদ দেখতে পেলেন ইহুদিরা মহররম মাসের ১০ তারিখে রোজা রাখছে। তাদেরকে এই রোজার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা বলল, ‘এই দিনে আমাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ করুণা রয়েছে। এই দিনেই তিনি মূসার মাধ্যমে আমাদেরকে ফেরাউনের কবল থেকে উদ্ধার করেন এবং তাকে তার সৈন্যবাহিনীসহ ধ্বংস করেন। তাই আল্লাহর করুণার শুকরিয়া আদায়ে আমরা এই দিনে রোজা রাখি।’

রমজানের নূতন চাঁদ।
মুহম্মদ বললেন, ‘মূসা আমাদেরও অতি ঘনিষ্ট। সুতরাং তোমাদের মত আমরাও এদিনে রোজা রাখব।’
তিনি সাহাবীদেরকে মহররমের ১০ তারিখে রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন। অবশ্য মক্কার কুরাইশগণ যে রোজার সাথে পরিচিত ছিল না তা নয়, তাদের অনেকেই ১০ই মহররম রোজা রাখত, কারণ এই দিনটিতে নূহ তার নৌকা থেকে ভূমিতে নামে।

কিন্তু পরবর্তী বৎসর মুসলমানদের জন্যে রমজান মাসকেই রোজার জন্যে ফরজ করা হল নিচের আয়াতসমূহ দ্বারা- হে ঈমানদারেরা! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জণ করতে পার-গণনার কয়েকটি দিনের জন্যে। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ্য থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্যে অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একটি মিসকীনকে খাদ্য দান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্যে কল্যাণকর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তা তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার। 

মসজিদে ইফতারী।
রমজান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্যে হেদায়েত এবং সত্যপথযাত্রীদের জন্যে সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে, সে এ মাসে রোজা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ্য কিম্বা মুসাফির অবস্থায় থাকবে, সে অন্যদিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্যে সহজ করতে চান; তোমাদের জন্যে জটিলতা কামনা করেন না- যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুণ আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।(২:১৮৩-১৮৫)

The word Ramadan comes from the Arabic root ramida or ar-ramad, which means scorching heat or dryness. Ramadan is a time of spiritual reflection, improvement and increased devotion and worship. Ramadan also teaches Muslims how to better practice self-discipline, self-control,sacrifice, and empathy for those who are less fortunate; thus encouraging actions of generosity and compulsory charity (zakat).

The fast (sawm) begins at dawn and ends at sunset. Each day before dawn, Muslims observe a pre-fast meal called suhoor. After stopping a short time before dawn, Muslims begin the first prayer of the day, the Fajr prayer. At sunset, families hasten for the fast-breaking meal known as iftar. End of Ramadan, Muslims celebrate "festivity of breaking the fast" ie. Eid ul-Fitr.
রমজানে আলোক সজ্জা।
রমজান (Ramadan) মাসের ফজিলত অনেক। এ মাসেই সকল আসমানী কিতাব নাযিল হয়েছিল। যেমন ১লা রমজানে-ইব্রাহিমের সহিফা, ৬ই রমজানে তাওরাত, ১১ই রমজানে যবুব, ১৮ই রমজানে ইঞ্জিল এবং ২৭শে রমজান কোরআন নাযিল হয়।

অন্যান্য আসমানী কিতাব, কিতাব আকারে একবারে সংশ্লিষ্ট রসূলকে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কোরআনের ক্ষেত্রে তা হয়নি। ২৬শে রমজান দিবাগত রাত্রিতে (শবে কদরের রাত) সমগ্র কোরআন লওহে মাহফুজ থেকে তুলে এনে উর্দ্ধাকাশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। কোরআনে রয়েছে- 

নিশ্চয় আমি এই কোরআন অবতীর্ণ করেছি লায়লাতুল কদরে। লায়লাতুল কদর সম্পর্কে তুমি কি জান? লায়লাতুল কদর হল হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এই রাতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেস্তারা স্বীয় পালনকর্তার নির্দেশে অবতীর্ণ হয়। শান্তিই শান্তি, যা ফজরোদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (৯৭:১-৫)

অতঃপর জিব্রাইল সাড়ে তেইশ বৎসর ধরে প্রয়োজন অনুসারে একটু একটু করে মুহম্মদের নিকট তা নিয়ে আসেন। আর ঐ সময়কালে ওহীর হেফাজত কল্পে জ্বিণদেরকে উর্দ্ধ আসমানে গমন, শ্রবণ ও সংগ্রহে বাঁধা দেয়া হয়। কোরআনে রয়েছে-

..(একদল জ্বিণ) বলল, আমরা বিষ্ময়কর কোরআন শ্রবণ করেছি-(৭২:৩) অনেক মানুষ পুরুষ জ্বিণের আশ্রয় নিত, কিন্তু তাতে তারা তাদের ভ্রান্তি ও অবাধ্যতাই কেবল বাড়িয়ে দিত।-(৭২:৬) আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করেছি, অতঃপর দেখতে পেয়েছি যে, কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ। আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শ্রবণার্থে বসতাম। এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ডকে ওঁৎ পেতে থাকতে দেখে। -(৭২:৮-৯)


নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজীর দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে। ওরা উর্দ্ধ জগতের কোন কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চারদিক থেকে তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়, ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশ্যে। ওদের জন্যে রয়েছে বিরামহীন শাস্তি। তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাৎধাবন করে।-(৩৬:৬-১০)

প্রথম যখন রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছিল, তখন ইফতারের পর থেকে শয্যা গ্রহণের পূর্বপর্যন্ত খানা-পিনা ও স্ত্রী সহবাসের অনুমতি ছিল, কিন্তু একবার শয্যাগ্রহণ করে ঘুমিয়ে পড়ার সাথে সাথেই এসবকিছু হারাম হয়ে যেত। এতে কোন কোন সাহাবী অসুবিধায় পড়ল। কায়েস ইবনে সারমাহ আনসারী নামক জনৈক সাহাবী একবার সমস্ত দিন কঠোর পরিশ্রম করে ইফতারীর সময় গৃহে ফিরে দেখেন, ঘরে খাবার মত কোনকিছুই নেই। স্ত্রী বলল, ‘একটু অপেক্ষা করুন আমি কোনখান থেকে কিছু সংগ্রহ করে আনার চেষ্টা করি।’

রমজানে আলোক সজ্জা।
স্ত্রী যখন কিছু খাদ্য সংগ্রহ করে ফিরে এল, ততক্ষণে সারাদিনের পরিশ্রমের কারণে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। ফলে ইফতারের পর ঘুমিয়ে পড়ার দরুণ খানা-পিনা তার জন্যে হারাম হয়ে গেল। পরদিন তিনি ঐ অবস্থায় রোজা রাখলেন। কিন্তু দুপুরের দিকে অনাহার জনিত কারণে বেহুস হয়ে পড়ে গেলেন। এছাড়াও কোন কোন সাহাবী গভীর রাতে ঘুম ভাঙ্গার পর স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হয়ে মানসিক কষ্টে পড়ে। 

এসব ঘটনার পর এই আয়াত নাযিল হয়- রোজার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্যে হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্ম প্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যাকিছু তোমাদের জন্যে আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরণ কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিস্কার দেখা যায়। অতঃপর রোজা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশ না। এ হল আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে আল্লাহ বর্ণনা করেন নিজের আয়াতসমূহ মানুষের জন্যে, যাতে তারা বাঁচতে পারে।(২:১৮৭)

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন