pytheya.blogspot.com Webutation

১২ মার্চ, ২০১২

Masjid an-Nabawi: মসজিদে নব্বীর পত্তন ইতিহাস।


মুহম্মদের আগমনের পর আওস ও খাজরাজ গোত্র ইসলামী বিশ্বভ্রাতৃত্বের প্রভাবে তাদের দৃঢ়মূল ও সাংঘাতিক রক্তক্ষয়ী বিবাদ বিস্মৃত হয়ে ইসলামের আদর্শকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হল এবং মুসলিম প্রজাতন্ত্রের কেন্দ্রিয় শক্তিতে পরিণত হল। তারা ইসলামকে বিপদের সময় সাহায্য করার জন্যে মুহম্মদ কর্তৃক পেল সম্মানিত উপাধি আনসার বা সাহায্যকারী এবং যে বিশ্বাসীর দল সববন্ধন ছিন্নকরে জন্মভূমি ত্যাগ করেছিল তারা পেল ‘মোহাজির’ বা স্বদেশত্যাগী উপাধি। 

মসজিদে নব্বী, বর্তমানে।
শীঘ্রই আনসার ও মোহাজিরদের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থাপনের জন্যে ভ্রাতৃসংঘ প্রতিষ্ঠিত হল এবং একটি মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব গৃহীত হল। যে জমির (যে স্থানে মুহম্মদ উট হতে অবতরণ করেছিলেন) উপর মসজিদ নির্মাণের জন্যে প্রস্তাব এসেছিল তা ছিল এতিম দুই ভ্রাতার (সোহেল ও সহল)-যাদের অভিভাবক তা দান হিসেবে দিতে চাইলেন। মসজিদ তৈরীর এই প্রস্তাবে এতিমদ্বয়ের অভিভাবক আসাদ বলেছিলেন, ‘হযরত, এই সামান্য ভূ-খন্ডের জন্যে, বিশেষতঃ এহেন শুভ প্রস্তাবে, মূল্যের কোন আবশ্যক নেই। আমি বালকদ্বয়ের অভিভাবক, আমি মসজিদ নির্মাণার্থে তা দান করছি।’
কিন্তু মুহম্মদ বললেন, ‘তুমি অভিভাবক সত্য। কিন্তু এতিমদ্বয়ের স্বার্থের বিপরীতে কোন কাজ করার অধিকার তোমার নেই।’

বালকদ্বয় জানতে পারল মুহম্মদ মসজিদ নির্মণের জন্যে তাদের জমিটি মূল্য দিয়ে কিনতে চাচ্ছেন। এই সংবাদে তারা তখনি তার কাছে ছুটে এসে নিবেদন করল, ‘আমরা মূল্য নেব না, আমরা জমিটি ধর্মার্থে আল্লাহর নামে দান করছি।’
যেহেতু তারা এতিম, সুতরাং মুহম্মদ তাদেরকে জমির মূল্য গ্রহনে সম্মত করালেন।

মসজিদের অভ্যান্তরিণ দৃশ্য।
মসজিদে নব্বী (Masjid an-Nabawi) তৈরী হল। এর নির্মাণ কাজে মুহম্মদ স্বয়ং স্বহস্তে কাজ করলেন। গঠন কৌশলের দিক দিয়ে মসজিদটি ছিল সাদাসিধে ধরনের- মুহম্মদ যে আড়ম্বরহীন ভাবে ইসলাম প্রচার করেছিলেন, তার সঙ্গে এটা সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। মসজিদের দেয়াল তৈরী হয়েছিল ইট ও মাটি দিয়ে এবং তার ছাউনি ছিল খেজুরপাতার। যারা গৃহ-পরিজনহীন (আছহাবে ছুফ্ফা) ছিলেন, তাদের বসবাসের জন্যে মসজিদের একাংশ আলাদা করা হয়েছিল।

মসজিদ নির্মিত হবার কিছুকাল পরে, মুহম্মদের পরিবারবর্গের জন্যে মসজিদ সংলগ্ন স্থানে কয়েকটি ক্ষুদ্র কুটির (হুজরা) নির্মিত হল। এসময় মুহম্মদ স্বীয় পরিজনবর্গকে মদিনায় আনার জন্যে জায়েদকে কিছু অর্থ দিয়ে মক্কায় প্রেরণ করলেন। তার কন্যাদের মধ্যে ফাতিমা তখনও অবিবাহিতা। তিনি ও বিবি সওদা মদিনায় আনিত হলেন। কন্যা রোকাইয়া এসময় তার স্বামী ওসমানের সাথে আবিসিনিয়ায় অবস্থান করছিলেন। কন্যা জয়নবকে তার স্বামী আ’স মক্কা থেকে আসতে দেননি-আ‘স তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি। 

এসময়ই আবু বকরের স্ত্রী উম্মে রোমানার গর্ভজাত কন্যা, বিবি আয়েশা তার ভ্রাতার সঙ্গে মদিনায় চলে এলেন।

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন