pytheya.blogspot.com Webutation

৪ মার্চ, ২০১২

Muhammad: প্রতিশ্রুত পয়গম্বর মুহম্মদ প্রাচীন ধর্মগ্রন্থসমূহে।


মুহম্মদ (Muhammad) ছিলেন প্রতিশ্রুত পয়গম্বর অর্থাৎ আল্লাহ যে তাকে দুনিয়ায় পাঠাবেন তা দুনিয়াতে সকল পয়গম্বর প্রেরণের পূর্বেই নির্ধারিত হয়েছিল। সৃষ্টি তত্ত্বের স্বাভাবিক নিয়মে যা অনিবার্য, আবির্ভাবের পূর্বে তা-ই প্রতিশ্রুত। আদম, নূহ, মূসা, ইব্রাহিম, ঈসা প্রমুখ পূর্ববর্তী সকল পয়গম্বর ও তত্ত্বদর্শী মহাপুরুষই জানতেন সেই নিশ্চিত অনাগত একদিন আসবেন। তাই তারা প্রত্যেকেই মুহম্মদের আগমন সমন্ধে ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন। বেদ-পূরাণ, জিন্দাবেস্তা, দিঘা-নিকায়া প্রভৃতি প্রধান প্রধান ধর্মগ্রন্থ এবং ঐশী গ্রন্থসমূহে মুহম্মদের গুণগান ও তার আগমনের ভবিষ্যৎবাণী বিঘোষিত হয়েছে।

হিন্দু ধর্মগ্রন্থ বেদ-পূরাণ এবং উপনিষদ ৫/৬ হাজার বৎসর আগে এক মহাপুরুষের আগমন বার্তা ঘোষণা করে তার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যত ঘটনা ঘটেছে তার বিস্তারিত ভবিষ্যৎবাণী বর্ণনা করেছে। ঐসব গ্রন্থে বলা হয়েছে একমাত্র তিনিই হবেন মানব মুক্তির দূত। সকল মানুষকেই তার মুখ নিঃসৃত বাণী গ্রহণ করে তার আদর্শে আদর্শবান হতে হবে। এছাড়া মানব মুক্তির কোন পথ খোলা নেই। হিন্দু ধর্মগ্রন্থের সেই কলি অবতার হচ্ছেন শেষ নবী মুহম্মদ। এখন আমরা দেখি ঐসব গ্রন্থে কি রয়েছে-

উত্তরায়নবেদ:  
লা-ইলাহা হরত্তি পাপম
ইলাহ ইলাহা পরম পাদম
জন্ম বৈকুন্ঠ অপঃ ইন্যুতি
ও জপি নামো মুহামদম।

অর্থ : লা-ইলাহার (এক আল্লাহর) আশ্রয় ব্যতিত পাপমুক্তির কোন উপায় নেই। ইলাহ (আল্লাহ) এর আশ্রয়ই প্রকৃত আশ্রয়। বৈকুন্ঠে জন্মলাভের আশা করলে ইলাহর (আল্লাহর) আশ্রয় নেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। আর এজন্যে মুহম্মদের প্রদর্শিত পথ অনুসরণ অপরিহার্য।

অর্থবেদীয় উপনিষদ :  
অস্য ইল্ললে মিত্রাবরূণো রাজা
তম্মাৎ তানি দিব্যানি পুনস্তং দুধ্যু
হবয়ামি মিলং কবর ইল্লালাং
অল্লোরসূল মহম্মদ কং
বরস্য অল্লো অল্লাম ইল্লল্লোতি ইল্লাল্লা \৯\

অর্থ : যথাসময়ে জনৈক মহাপুরুষ আবির্ভূত হবেন। একমাত্র তিনিই হবেন মানব মুক্তির দূত। সকল মানুষকেই তার মুখনিঃসৃত বাণী গ্রহণ করে তার আদর্শে আদর্শবান হতে হবে। এছাড়া মানব মুক্তির কোন পথ খোলা নেই। সেই আল্লাহর রসূল মুহম্মদকে প্রণতি জানাই।
ভবিষ্যৎ পূরাণ :  
এত স্লিন্নস্তরে ম্লেচ্ছআচার্যেন সবন্বিতঃ।
মহামদ ইতি খ্যাতঃ শিষ্য শাখা সমন্বিতঃ \৫\
নৃপশ্চৈব মহাদেবং মরুস্থ'ল নিবাসিনম
গঙ্গা জলৈশ্চ সংস্নাপ্য পঞ্চগব্য সমন্বিতৈঃ
চন্দনাদি ভিরভ্যর্চ তুষ্টাব মনসা হরম \৬\
নমস্তে গিরিজানাথ মরুস্থল নিবাসিনে 
ত্রিপুরা সুরনাশায় বহুমায়া প্রবর্তিনে \৭\

অর্থঃ যথাসময়ে মুহম্মদ নামে জনৈক মহাপুরুষ আবির্ভূত হবেন। যার নিবাস হবে মরুস্থলে আরব দেশে। সাথে স্বীয় সহচরবৃন্দও থাকবেন।
হে মরুর প্রভূ, হে জগত গুরু, আপনার প্রতি আমাদের স্তুতিবাদ, আপনি জগতের সমুদয় কুলুষাদি ধ্বংসের উপায় অবগত আছেন। আপনাকে প্রণতি জানাই। 

ভোজরাজ উবাচ :  
ম্লেচ্ছৈ গুপ্তায় শুদ্ধায় সচ্চিদানন্দ রূপিণে।
ত্বংমাং হি কিঙ্করং বিদ্ধি শরনার্থ মুপাগতম \৮\

অর্থ : হে মহাত্মা, আমরা আপনার দাসানুদাস। আমাদেরকে আপনার পদমূলে আশ্রয় প্রদান করুন।

অলোপনিষদ :  
হোতার মিন্দ্রো হোতার মিন্দ্রো মহাসুরিন্দ্রাঃ।
অল্লো জ্যেষ্ঠং শ্রেষ্ঠং পরমং পূর্ণং ব্রহ্মাণ অল্লাম
অল্লো রসূল মহমদ কং বরস্য অল্লো অল্লাম 
আদল্লাহ্ বুকমে ককম অল্লাবুক নিখাতকম \৩\

অর্থ : ‘আল্লাহ সকল গুণের অধিকারী। তিনি পূর্ণ ও সর্বজ্ঞানী। মুহম্মদ আল্লাহর রসূল।  আল্লাহ আলোকময়, অয়, এক, চির পরিপূর্ণ এবং স্বয়ম্ভূ।’

অথর্ববেদ :   
ইদং জনা উপশ্রুত নরাশংসস্ত বিষ্যতে।
ষষ্টিং সহস্র নবতিংচ কৌরম আরুশ মেষু দবহে \১\

অর্থ : ‘হে মানবজাতি, মনোযোগ দিয়ে শোন, ‘প্রসংশিত জন’ লোকদের মধ্যে থেকে উত্থিত হবেন। আমরা তাকে ষাট হাজার শত্র“র মাঝে পেলাম। (মুহম্মদ নামের অর্থ প্রশংসিত জন আর তৎকালীন আরববাসীর সংখ্যা ছিল প্রায় ষাট হাজার।)’

দিঘা-নিকায়া :
মানুষ যখন গৌতম বুদ্ধের ধর্ম ভুলে যাবে, তখন আর একজন বুদ্ধ আসবেন, তার নাম ‘মৈত্তেয়’ অর্থাৎ শান্তি ও করুণার বুদ্ধ।

দ্যা গসপেল অব বুদ্ধা :
আনন্দ বুদ্ধকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার মৃত্যুর পর কে আমাদেরকে উপদেশ দেবে?’
বুদ্ধ বললেন, ‘আমিই একমাত্র বুদ্ধ বা শেষ বুদ্ধ নই। যথাসময়ে আর একজন বুদ্ধ আসবেন। আমার চেয়েও তিনি পবিত্র ও অধিকতর আলোকপ্রাপ্ত। তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মমত প্রচার করবেন।’ 
আনন্দ জিজ্ঞেস করলেন, ‘তাকে আমরা চিনব কি করে?’ 
বুদ্ধ বললেন, ‘তার নাম হবে মৈত্রেয়।’ 

এই মৈত্রেয়ই মুহম্মদ। কোরআনে তার সম্পর্কে বলা হয়েছে তিনি ‘রহমাতুল্লিল আলামিন, ‘অর্থাৎ সমগ্রবিশ্বের জন্যে মূর্তকরুণা ও আশীর্বাদ।

স্পিতাম জরথুস্ত্র প্রবর্তিত পার্শী ধর্মের মূল গ্রন্থ জিন্দাবেস্তা ও দশাতির। এই গ্রন্থগুলো মূলত: তার বিজনে ধ্যানের ফলে অর্জিত জ্ঞান (দ্বৈতবাদ) ও পিতৃপুরুষদের ধর্মমত সমূহের সমষ্টি এবং সুপ্রাচীন কিছু ভাববাণী। এই কারণে এইসব গ্রন্থসমূহেও শেষনবী মুহম্মদের আগমনবার্তা সম্বন্ধে কিছু ভবিষ্যৎবাণী সংযুক্ত হয়েছে।

জিন্দাবেস্তা :
আমি ঘোষণা করছি, হে স্পিপতাম জরথুস্ত্র, পবিত্র আহমদ (ন্যায়বানদিগের আশীর্বাদ) নিশ্চয়ই আসবেন, যার কাছ থেকে তোমরা সৎ চিন্তা, সৎ বাক্য, সৎকার্য এবং বিশুদ্ধ ধর্ম লাভ করবে।’

দশাতির : 
যখন পার্শীরা নিজেদের ধর্ম ভুলে গিয়ে নৈতিক অধঃপতনের চরম সীমায় উপনীত হবে, তখন আরব দেশে এক মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করবেন, যার শিষ্যেরা পারস্য দেশ এবং দুর্ধর্র্ষ পারস্যিক জাতিকে পরাজিত করবে। নিজেদের উপাসনালয়ে অগ্নিপূজা না করে তারা ইব্রাহিমের কা’বাগৃহের দিকে মুখ করে প্রার্থনা করবে, সেই কা’বা প্রতিমা মুক্ত হবে। সেই মহাপুরুষের শিষ্যেরা বিশ্ববাসীর পক্ষে আশীর্বাদস্বরূপ হবে। তারা পারস্য, মদিয়ান, তুস, বলখ, প্রভৃতি পারস্যবাসীদের যাবতীয় পবিত্রস্থান অধিকার করবে। তাদের পয়গম্বর একজন বাগ্মীপুরুষ হবেন এবং তিনি অনেক অদ্ভূত কথা বলবেন। 

তাওরাত : 
‘তোমাদের প্রভু খোদা তোমাদের ভ্রাতৃদিগের মধ্যে হতে আমার মতই একজন পয়গম্বর উত্থিত করবেন; তার কথা তোমরা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করবে।’

(খোদা বলেছেন) ‘আমি তাদের ভ্রাতৃদিগের মধ্য হতে তোমার (মূসার) মতই একজন পয়গম্বর উত্থিত করব এবং তার মুখে আমার বাণী প্রকাশ করব। তিনি তোমাদেরকে আমি যা আদেশ করব তাই-ই শুনাবেন এবং এ অবশ্যই ঘটবে যে, তার মুখনিঃসৃত আমার সেই বাণী যারা শুনবে না তাদেরকে আমি শুনতে বাধ্য করব।’

আর খোদার মনোনীত পুরুষ মূসা তার তিরোধানের পূর্বে এই বলে বনি ইস্রায়েলীদেরকে আশীর্বাদ করলেন-খোদা

‘প্রভু সিনাই থেকে এলেন,
তিনি সেয়ীর থেকে তাদের উপর আলো দিলেন;
তার আলো পারণ পাহাড় থেকে ছড়িয়ে পড়ল।
তিনি লক্ষ লক্ষ পবিত্র স্বর্গদূতের মধ্যে থেকে এলেন;
তার ডান হাতে রয়েছে তাদের জন্যে
এক জীবন্ত আইনগ্রন্থ।’
ইঞ্জিল :
ইঞ্জিলে পেশ করা হয়েছে ঈসার একান্ত মৌলিক ও তাৎপর্যময় বক্তব্য। হযরত ঈসা ও তার শিষ্যদের মধ্যে শেষ বিদায়ের লগ্নে এক ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও আবেগময় পরিবেশে তার শেষ ভাষণটি দেন। এই শেষ ভাষণের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচেছ এতে মানবজাতির যে ভবিষ্যৎ ঈসার চোখে ফুটে উঠেছিল, তার বর্ণনা। এই ভাষণে শিষ্যবর্গের জন্যে তো বটেই, গোটা মানবজাতির জন্যেও তার যে সুগভীর মমত্ববোধ ও দরদ, তা ফুটে উঠেছে। তার নির্দেশ ও বিধান এবং তার তিরোধাণের পর মানবজাতিকে কোন দিশারী বা পথ নিদের্শককে অনুসরণ করতে হবে, সেই ব্যাপারেও তার এই ভাষণে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে। যেমন-

--‘যদি আমাকে প্রেম কর, তবে আমার আজ্ঞাসকল পালন করবে। আর আমি পিতার কাছে নিবেদন করব, আর তিনি আর এক সহায় তোমাদেরকে দেবেন।’
--‘কিন্তু সেই সহায় পবিত্র আত্মা, যাকে পিতা আমার নামে পাঠিয়ে দেবেন এবং আমি তোমাদেরকে যা বলেছি, সেই সকল স্মরণ করিয়ে দেবেন।’
--‘তিনি আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দেবেন।’
--‘আমার যাওয়া তোমাদের পক্ষে ভাল, কারণ আমি না গেলে সেই সাহায্যকারী তোমাদের কাছে আসবেন না। কিন্তু আমি যদি যাই তবে সেই সাহায্যকারীকে তোমাদের কাছে পাঠিয়ে দেব। তিনি এসে দুনিয়াকে পাপের সম্বন্ধে, নির্দোষিতার সম্বন্ধে এবং মহান আল্লাহর সম্বন্ধে চেতনা দেবেন।

--পরন্তু তিনি (আহমদ) যখন আসবেন, তখন পথ দেখিয়ে তোমাদেরকে সমস্ত সত্যে নিয়ে যাবেন, কারণ তিনি আপনা হতে কিছু বলবেন না, কিন্তু যা-যা শোনেন, তাই বলবেন এবং আগামী ঘটনাও তোমাদেরকে জানাবেন। তিনি আমাকে মহিমান্বিত করবেন।’ 

এসব বাণী দ্বারা ঈসা এ মর্মেই ভবিষ্যৎবাণী করেছেন যে, পরবর্তীকালে আল্লাহ আর একজন মানুষকে দুনিয়ায় প্রেরণ করবেন। তিনি হবেন একজন পয়গম্বর। তিনি মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন ঐশী বাণী।

ঈসা আরও বলেছিলেন, খোদা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ইব্রাহিমের কাছে- Behold, in your seed I will bless all the tribes of the earth; and as you have broken in pieces the idols, O Abraham;, even so shall your seed do."- [Barnabas ch-43]

নবী মুহম্মদ যে জগৎবাসীর জন্যে মূর্ত্তিমান করুণাস্বরূপ (ie.the Messiah for all), তা ব্যাখ্যা করতে ঈসা তার শিষ্যদের বলেছিলেন, ”Everyone that works, works for an end in which he finds satisfaction. Wherefore ..God, truly because he is perfect, has not need of satisfaction, seeing that he has satisfaction himself. And so, willing to work, he created before all things the soul of his Messenger (Muhammad), for whom he determined to create the whole, in order that the creatures should find joy and blessedness in God, whence his Messenger should take delight in all his creatures, which he has appointed to be his slaves. And wherefore is this, so save because thus he has willed?

Every prophet when he is come has borne to one nation only the mark of the mercy of God. And so their words were not extended save to that people to which they were sent. But the Messenger of God, when he shall come, God shall give to him as it were the seal of his hand, insomuch that he shall carry salvation and mercy to all the nations of the world that shall receive his doctrine. He shall come with power upon the ungodly, and shall destroy idolatry, insomuch that he shall make Satan confounded;.......[Barnabas ch-43]The Messenger of God is a splendour that shall give gladness to nearly all that God has made, for he is adorned with the spirit of understanding and of counsel, the spirit of wisdom and might, the spirit of fear and love, the spirit of prudence and temperance, he is adorned with the spirit of charity and mercy, the spirit of justice and Piety, the spirit of gentleness and patience, which he has received from God three times more than he has given to all his creatures.-[Barnabas ch-44]

কোরআন :
কোরআন মুহম্মদ সম্পর্কে উপরোক্ত সমস্ত ভবিষ্যৎবাণী সম্বন্ধে উল্লেখ করেছে- ‘এবং যখন আল্লাহ সমস্ত পয়গম্বরদের সমক্ষে এ চুক্তি করলেন যে, ‘নিশ্চয়ই আমি যে সমস্ত বাণী তোমাদেরকে দিয়েছি তা সত্য, অতঃপর একজন রসূল আসবেন এবং তিনি এসে তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যতা প্রমাণ করবেন; তোমরা তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং তাকে সাহায্য করবে।’ 
তিনি বললেন, ‘তোমরা এ ব্যাপারে আমার কথা স্বাীকার করলে তো?’  
তারা বলল, ‘আমরা স্বীকার কললাম।’ 
তখন তিনি বললেন, ‘তাহলে স্বাক্ষী থাক। আমিও তোমাদের সাথে স্বাক্ষী থাকলাম।’-(৩:৮০)

Jesus Messiah for the Jews only but Muhammad the Messiah for all. Thus Qur'an declares-  ”এবং আমি তাকে নিখিল বিশ্বের জন্যে মূর্ত্তিমান করুণাস্বরূপ পঠিয়েছি।”-(২১:১০৭)

সমাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন