pytheya.blogspot.com Webutation

১০ মার্চ, ২০১২

David: জীবিকা উপার্জনে লৌহবর্ম তৈরী কৌশল শিক্ষা।



দাউদের উপর খোদা ছিলেন খুবই সন্তুষ্ট। কারণ তিনি সর্বদা তাঁর পবিত্র মহিমাকীর্তণ করতেন এবং তাঁর উপর ভক্তি ও ভালবাসায় অটল থাকতেন। দাউদের কন্ঠ ছিল সুমধুর, তিনি যখন পবিত্র যবুর পাঠের মাধ্যমে খোদার মহিমাকীর্তণ করতেন তখন পশু-পক্ষী, কীট-পতঙ্গ, গাছপালা ও পাহাড়সমূহ তার সেই সুমধূর কন্ঠের কীর্তন শুনে মোহিত হয়ে যেত এবং তারাও তার সাথে সাথে খোদার পবিত্র মহীমাকীর্তণ করত।

খোদা স্বীয় সৃষ্টিসমূহের মধ্যে প্রত্যেক সৃষ্টির প্রয়োজন অনুপাতে তার জীবনের লক্ষ্য অনুযায়ী বুদ্ধি ও উপলব্ধি ক্ষমতা দান করেছেন। যেসব জিনিসকে আমরা বুদ্ধি বিবর্জিত ও অনুভূতিহীন বলে মনে করি, প্রকৃতপক্ষে সেগুলোও জ্ঞান-বুদ্ধি ও চেতনা-অনুভূতি বিবর্জিত নয়। এসব বিষয় সেগুলোর মাঝে সেই অনুপাতেই দেয়া হয়েছে যেটুকু তাদের অস্তিত্বের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যে প্রয়োজন। 

সবচেয়ে কমবুদ্ধি ও চেতনা-উপলব্ধি রয়েছে মাটি, পাথর প্রভৃতি জড় পদার্থের মাঝে। যাদের না আছে প্রবৃদ্ধি, না স্থান থেকে কোথাও যাওয়া কিম্বা চলাচলের প্রয়োজন। এগুলোর চাইতে সামান্য বেশী রয়েছে উদ্ভিদের মধ্যে, যার অস্তিত্বের লক্ষ্যের মাঝে প্রবৃদ্ধি এবং ফলদান প্রভৃতি অন্তর্ভূক্ত। এরপর পশুপক্ষী, যাদের জীবনের উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রবর্তণ ও চলাফেরা করে খাবার আহরণ, ক্ষতিকর বিষয় থেকে আত্মরক্ষা আর বংশবৃদ্ধি প্রভৃতি বিষয়- অর্থাৎ প্রত্যেক বস্তু (জড় বা জীব) নিজ নিজ অস্তিত্ব অনুযায়ী বুদ্ধি ও অনুভূতির অধিকারী। কোরআন এবং অন্যান্য আসমানী কিতাবগুলো অসংখ্য উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি আমাদের গোচরীভূত করেছে- যেমন, মূসার নির্দেশে জমিন কারূণকে গ্রাস করেছিল, হারূণের শুকনো মরা লাঠিতে ফুল ফুটেছিল, মূসার ভাজা মাছ জীবন্ত হয়ে সমূদ্রে প্রবেশ করেছিল, হেযকীলের নির্দেশে হাঁড়সমূহ মাংস ও চামড়া পরিধান করেছিল, মাছ ইউনূচকে তার নিজ দেশের সমূদ্রতীরে উগরে দিয়ে গিয়েছিল এবং এক পাহাড়ী ছাগল তাকে প্রতিদিন দুধ পান করিয়ে যেত যখন তিনি অসুস্থ্য ছিলেন, এক দাঁড় কাক ইলিয়াসের জন্যে খাবার বয়ে নিয়ে আসত, ইত্যাদি।

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত- আমি পর্বত ও পক্ষীসমূহকে দাউদের অনুগত করে দিয়েছিলাম, তারা আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত। এ সমস্ত আমিই করেছিলাম।(২১:৭৯)

দাউদ (David) ছিলেন প্রজা হিতৈষী। তিনি তার রাজত্বকালে প্রজা সাধারণের খোঁজ-খবর নিতে ছদ্মবেশে বাজারে গমন করতেন এবং রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে জনতার মনোভাব জানতে বিভিন্ন স্থান থেকে আগতদের কাছে প্রশ্ন রাখতেন, ‘বাদশা দাউদ লোকটি কেমন?’

দাউদ তার রাজ্যে ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই সকলেই সুখে-শান্তিতে দিনাতিপাত করত। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কারও কোন অভিযোগ ছিল না। এ কারণে সকলে তার প্রশংসা এবং ন্যায়বিচারের জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করত। এতে তিনি একপ্রকার আত্মতৃপ্তিও লাভ করতেন। কিন্তু খোদার কাছে তার এই আত্মতৃপ্তি পছন্দনীয় ছিল না। সুতরাং তিনি তার শিক্ষার জন্যে ফেরেস্তা জিব্রাইলকে প্রেরণ করলেন। একদিন দাউদ যখন ছদ্মবেশে বাজারের পথে, তখন সে মানবাকৃতিতে তার সম্মুখে হাযির হল। দাউদ তাকে দেখে বরাবরের মত একই প্রশ্ন করলেন। সে বলল, ‘হুঁ, তিনি নিজের পরিবার ও প্রজাসাধারণের জন্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি একথা সত্য। কিন্তু একটা অভ্যাসের কারণে তিনি পুরোপুরি কামেল মানুষ হতে পারেননি।’
দাউদ জিজ্ঞেস করলেন, ‘তার সেই অভ্যাসটা কি?’
জিব্রাইল বলল, ‘তিনি তার নিজের ও পরিবারের ভরণ-পোষণ ব্যয় বায়তুল মাল তথা সরকারী কোষাগার থেকে গ্রহণ করেন।’

একথা শুনে দাউদ তৎক্ষণাৎ তার প্রাসাদে ফিরে এলেন এবং সারারাত খোদার কাছে কান্নাকাটি করলেন এই বলে- ‘হে খোদা, আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দাও যার পারিশ্রমিক দিয়ে নিজের ও পরিবারের ভরণ-পোষণ চালাতে পারি, আর জনসেবা ও রাজকার্য বিনা পারিশ্রমিকে আনজাম দিতে সক্ষম হই।’

খোদা তার প্রার্থনা শুনলেন এবং তাকে বর্ম নির্মাণ কৌশল শিখিয়ে দিলেন। আর তার জন্যে লোহাকে মোমের মত নরম করে দেয়া হল যাতে কাজটি সহজ হয় এবং অল্পসময়ে জীবিকা উপার্জন করে অবশিষ্ট সময় এবাদত ও রাজকার্যে আত্মনিয়োগ করতে পারেন। 

আর দাউদ নিজের ও পরিবারের ভরণ-পোষণের বিনিময়ে সৈনিকদের জন্যে বর্ম তৈরী করে দিতে লাগলেন।

'তিনি আমার হস্তকে যুদ্ধ করতে শিক্ষা দেন,
আর আমার বাহু লৌহকে মোমবৎ নরম করে।'-(যবুর-১৮:৩৪)

আর এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত- আমি তাকে তোমাদের জন্যে বর্ম তৈরী করতে শিখিয়েছিলাম যা যুদ্ধে তোমাদের রক্ষা করবে।’(২১:৮০)

সমাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন