pytheya.blogspot.com Webutation

১২ মার্চ, ২০১২

Hijrat: মুসলমানদের আবিসিনিয়ায় হিজরত।


উত্তরোত্তর অনুসারীরদের দুঃখ-দুর্দশা অসহনীয় হয়ে উঠল। এতে মুহম্মদ মর্মাহত হয়ে তার শিষ্যদেরকে আবিসিনিয়ায় আশ্রয় নেবার জন্যে পরামর্শ দিলেন, যতদিন না কুরাইশদের অন্তরে আল্লাহ পরিবর্তন আনেন। 

ম্যাপ আবিসিনিয়া।
আবিসিনিয়ায় নাজ্জাসী নামের এক খ্রীষ্টান ব্যক্তি শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। মুহম্মদ ঐ রাজ্যের ধর্মপরায়ণতা, সহিষ্ণুতা ও আতিথেয়তার কথা শুনেছিলেন এবং নিশ্চিত ছিলেন তার শিষ্যরা সেখানে নিরাপত্তা লাভ করবে। 

মুহম্মদের উপদেশ গ্রহণ করে পনেরজনের একটি দল ৬১৫খ্রীঃ আবিসিনিয়ায় উপস্থিত হলেন। এই দলে যারা ছিলেন তারা হলেন, ওসমান ও তার স্ত্রী রোকাইয়া, জোবায়ের, মূসাব, আব্দুর রহমান, আবু হোজায়ফা ও তার স্ত্রী ছাহলা, আবু সালমা ও তার স্ত্রী উম্মে সালমা, ওসমান ইবনে মায়উন, আমর বিন রাবিয়া ও তার স্ত্রী লায়লা, আবু ছাবরা, হাতেব, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ ও হাসসান। এদের হিযরতের পর এই আয়াত নাযিল হল-যারা নির্যাতিত হওযার পর আল্লাহর জন্যে গৃহ ত্যাগ করেছে, আমি অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়াতে উত্তম আবাস দেব এবং পরকালের পুরস্কার তো সর্বাধিক।(১৬:৪১)

ওসমানের নেতৃত্বে প্রথম দলটি প্রেরণের পর আবু তালিব পুত্র আলীর ভ্রাতা জাফরের নেতৃত্বে ৮৩ জনের দ্বিতীয় আর একটি দল আবিসিনিয়ায় হিযরত  (Hijrat) করলেন। জাফর সম্রাট নাজ্জাসীকে মুহম্মদের একটি পত্র দিয়েছিলেন। যা ছিল-

‘পরম করুণাময় আল্লাহর নামে-
আল্লাহর রসূল মুহম্মদের নিকট থেকে হাবসার অধিপতি নাজ্জাসী সমীপে-

আমি সেই আল্লাহর প্রশংসা করি যিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই, যিনি সমগ্র জগতের মালিক। তিনি পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রদানকারী। আমি অঙ্গীকার করি যে, মরিয়ম পুত্র ঈসা আল্লাহর তরফ থেকে আগত এমন একটি আত্মা ও কলেমা যা সকল প্রকার কলুষ ও কালিমামুক্ত বিবি মরিয়মের সত্ত্বায় প্রবেশ করান হয়েছিল এবং ঈসা, বিবি মরিয়মের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ তাকে স্বীয় কুদরতে তেমনিভাবে জাত করেছিলেন যেমনিভাবে আদমকে নিজ হস্তে সৃষ্টি করেছিলেন। 

আমি আপনাকে সেই অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি আহবান করি, যার কোন শরীক নেই, আপনিও আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন এবং আল্লাহর নির্দেশ পালন করার ব্যাপারে আমার সহযোগী হোন। আমি যে আল্লাহর তরফ থেকে প্রেরিত রসূল এই সত্যে পরিপূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে আমার প্রতি অনুগত হোন। একান্ত শুভ কামনার বশবর্তী হয়েই নিষ্ঠার সাথে এই পয়গামপূর্ণ আহবান গ্রহণ করা আপনার দায়িত্ব। আপনার মাধ্যমে আপনার প্রজাদের প্রতিও আমার সেই একই আহবান। 

আমি আমার পিতৃব্যপুত্র জাফরকে অপর কয়েকজন মুসলমানসহ আপনার কাছে প্রেরণ করেছি। যখন এরা আপনার দরবারে পৌঁছিবে, তখন রাজকীয় অহমিকা পরিত্যাগ করে তাদের সাথে সৌজন্যমূলক ব্যাবহার করবেন।

যারা সঠিক পথ অবলম্বণ করেছে, তাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।’

(মোহর):  মুহম্মদ-রসূল-আল্লাহ।

এদিকে মুসলমানরা পালিয়ে গেছেন দেখে কুরাইশরা ক্রোধান্বিত হল। পলাতকদের ধরে আনার জন্যে তারা তৎক্ষণাৎ একদল লোক জেদ্দা বন্দরের দিকে পাঠিয়ে দিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়ে ফিরে এল। 

হিজরত রুট ম্যাপ।
কুরাইশরা পরামর্শ সভা আহবান করল। এই সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু রাবিয়া ও আমর ইবনে আ'সের সমন্বয়ে এক প্রতিনিধি দল প্রেরিত হল আবিসিনিয়ায়। 

প্রতিনিধিরা রাজদরবারে উপস্থিত হয়ে উপঢৌকনাদি পেশ করলেন। নাজ্জাসী তাদের আগমনের কারণ জিজ্ঞেস করলেন। তারা বললেন, ‘হে রাজন! আমাদের দেশের কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল ধর্মদ্রোহী আপনার রাজ্যে পালিয়ে এসেছে। এরা তাদের পূর্বপুরুষদের ধর্ম পরিত্যাগ করেছে এবং একটি নুতন ধর্ম গ্রহণ করেছে। তা না আমাদের ধর্ম, না আপনাদের। আমাদের গোত্র প্রধানেরা তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের জন্যে ফিরে পেতে আপনার সহযোগিতা চান। আর অবশ্যই তাদের কার্যকলাপের বিচার তারাই উত্তমরূপে করতে পারবেন। কাজেই আমরা আপনার কাছে এসেছি। দয়া করে তাদেরকে আমাদের হস্তে সমর্পণ করুন।’

সভাষদরা তাদের দাবীকে উত্তম ও ন্যায়তঃ, খুবই সঙ্গতঃ বটে, ঘোষণা করলেও বাদশা তা অগ্রাহ্য করে আশ্রয় গ্রহণকারীদের ডেকে পাঠালেন। তিনি বললেন, ‘অপর পক্ষের বক্তব্য না শুনে আমি হুকুম দিতে পারিনে। তাদেরকে দরবারে হাজির করা হোক।’

বাদশা আশ্রয় গ্রহণকারীদের কাছে প্রশ্ন রাখলেন, ‘এই ধর্মটি কি, যার জন্যে তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী ধর্ম ত্যাগ করেছ এবং আমার ধর্ম কিংবা অন্য কোন জাতির ধর্ম গ্রহণ করনি?’

আবু তালিবপুত্র, আলীর ভ্রাতা জাফর তাদের মুখপাত্র হিসেবে জবাব দিলেন-

‘হে রাজন! 
আমরা মুর্খতা ও বর্বরতার মধ্যে নিমগ্ন ছিলাম, আমরা মূর্ত্তিপূজা করতাম, ব্যভিচারে লিপ্ত ছিলাম, আমরা মৃত প্রাণীর মাংস খেতাম, আমরা অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করতাম; আমরা মনুষ্যত্বের প্রত্যেকটি অনুভূতি, অতিথি ও প্রতিবেশীদের প্রতি দায়িত্ব একেবারে জলাঞ্জলি দিয়েছিলাম, আমরা ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতির বাইরে কোন আইন জানতাম না।

--এসময়ে আমাদের মধ্যে আল্লাহ এমন একজন মানুষ পাঠালেন যার জন্ম, সত্যবাদিতা, সততা ও বিশুদ্ধতা সম্পর্কে আমরা অবগত ছিলাম; যিনি আল্লাহর একত্বের দিকে আমাদের আহবান জানালেন এবং তাঁর সঙ্গে কোন বস্তুর শরিক স্থাপন না করতে শিক্ষা দিলেন; সত্যকথা বলতে, বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে, দয়ালু হতে এবং প্রতিবেশীর অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে নির্দেশ দিলেন; নারী জাতির বিরুদ্ধে দুর্ণাম না রটাতে, এতিমের ধন আত্মসাৎ না করতে তিনি আদেশ দিলেন; তিনি পাপসমূহ ও অনিষ্ট থেকে দূরে থাকবার জন্যে নামাজ কায়েম করতে, জাকাত দিতে ও রোজা রাখতে আমাদের আদেশ দিয়েছেন। 

--আমরা তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করেছি, তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছি এবং এক আল্লাহর এবাদত ও কোন কিছুর সঙ্গে তাঁর শরিক স্থাপন না করার নির্দেশ মেনে নিয়েছি। এ কারণে আমাদের লোকেরা আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, আমাদের উপর জুলুম করেছে যেন আমরা এক আল্লাহর এবাদত পরিত্যাগ করে কাষ্ঠ, প্রস্তর ও অন্যান্য দ্রব্যের পূজায় পুনঃরায় ফিরে যাই।

 --তারা আমাদের উপর অত্যাচার করেছে, আমাদের ক্ষতিসাধন করেছে। তাদের মধ্যে আমাদের নিরাপত্তার একান্ত অভাব লক্ষ্য করে আমরা আপনার রাজ্যে এসেছি এবং আশা রাখি তাদের অত্যাচার থেকে আপনি আমাদেরকে রক্ষা করবেন।’ 

সম্রাট বিষ্ময় বিমুগ্ধ হলেন, তিনি বললেন, ‘তোমাদের নবী যে প্রত্যাদেশ লাভ করেছেন, তার কোন অংশ আমাকে শুনাতে পার?’ 

জাফর ঈসা ও তার মাতা মরিয়ম সংক্রান্ত আয়াত সুললিত কন্ঠে পাঠ করতে শুরু করলেন- ‘যখন সে (মরিয়ম) তার পরিবারবর্গ হতে পৃথক হয়ে নিরালায় পূর্বদিকে একস্থানে আশ্রয় নিল, অতঃপর ওদের হতে নিজেকে আড়াল করার জন্যে সে পর্দা করল। অতঃপর আমি তার কাছে রূহকে (ফেরেস্তা) পাঠালাম। সে তার কাছে মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল। মরিয়ম বলল, ‘তুমি যদি আল্লাহকে ভয় কর, তবে আমি তোমা হতে দয়াময়ের স্মরণ নিচ্ছি।’
সে বলল, ‘আমি তো কেবল তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত, তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করার জন্যে।’ 
মরিয়ম বলল, ‘কেমন করে আমার পুত্র হবে, যখন আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও নই?’ 
সে বলল, ‘এরূপেই হবে। তোমার প্রতিপালক বলেছেন, এ আমার জন্যে সহজসাধ্য এবং আমি ওকে এ জন্যে সৃষ্টি করব যেন সে হয় মানুষের জন্যে এক নিদর্শণ ও আমার কাছে থেকে এক অনুগ্রহ; এ তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার।’

অতঃপর সে গর্ভে সন্তান ধারণ করল ও তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেল। অনন্তর সে প্রসব বেদনায় এক খর্জ্জুর বৃক্ষের দিকে গমন করল, সে বলতে লাগল, ‘হায়! এর পূর্বে যদি আমি মরে যেতাম ও লোকের স্মৃতি হতে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হতাম।’
ফেরেস্তা তার নিম্নপার্শ্ব হতে আহবান করে তাকে বলল, ‘তুমি দুঃখ কোরও না, তোমার পাদদেশে তোমার প্রতিপালক এক নহর সৃষ্টি করেছেন। তুমি তোমার দিকে খর্জ্জুর বৃক্ষের কান্ড নাড়া দাও, তা তোমাকে সুপক্ক তাজা খর্জ্জুর দান করবে। সুতরাং আহার কর, পান কর ও চক্ষু জুড়াও। মানুষের মধ্যে যদি কাউকে দেখ, তখন বোলও, আমি দয়াময়ের উদ্দেশ্যে মৌনতা অবলম্বনের মানত করেছি, সেজন্যে আমি কোন মানুষের সাথে কথা বলব না। 

অতঃপর সে সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে হাজির হল। ওরা বলল, ‘হে মরিয়ম! তুমি তো এক অদ্ভূতকান্ড করে বসেছ। হে হারুনের ভগ্নি! তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিল না, তোমার মাতাও ব্যভিচারিণী ছিল না।’
অতঃপর মরিয়ম ইঙ্গিতে সন্তানকে দেখাল। ওরা বলল, ‘যে দোলনার শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব?’
সে (ঈসা) বলল, ‘আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন, আমাকে নবী করেছেন। আমি যেখানেই থাকি না কেন, তিনি আমাকে আশীষভাজন করেছেন, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন জীবিত থাকি ততদিন নামাজ ও যাকাত আদায় করতে ও মায়ের প্রতি অনুগত থাকতে এবং তিনি আমাকে উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি। আমার প্রতি শান্তি ছিল, যেদিন আমি জন্মলাভ করেছি ও শান্তি থাকবে যেদিন আমার মৃত্যু হবে ও যেদিন জীবিত অবস্থায় আমি পুনরুত্থিত হব।’ 
এ-ই মরিয়ম তনয় ঈসা।(১৯:১৬-৩৪)

সম্রাট মুগ্ধকন্ঠে বললেন, ‘খ্রীষ্টের বাণী যেখান থেকে এসেছে, এই বাণীও সেখান থেকে এসেছে। কুরাইশ দূতেরা তোমরা চলে যাও, তোমাদের প্রার্থনা না-মঞ্জুর।’

প্রতিনিধিরা সেদিনকার মত রাজসভা পরিত্যাগ করে চলে এলেও পরদিন পুনঃরায় দরবারে হাযির হয়ে বললেন, ‘হে সম্রাট! এই নুতন ধর্মাবলম্বীরা খ্রীষ্ট সম্বন্ধে অত্যন্ত জঘণ্য ধারণা পোষণ করে, তারা তাকে ঈশ্বরপুত্র বলে স্বীকার করে না।’ 

পুনঃরায় মুসলমানদের ডেকে পাঠান হল। নির্ভীক চিত্তে জাফর বললেন, ‘হে সম্রাট! আমাদের পয়গম্বর যিশুখ্রীষ্ট সম্বন্ধে যা শিক্ষা দিয়েছেন আমরা তাই বিশ্বাস করি। তিনি বলেছেন- ‘হে কিতাবধারীরা! তোমরা তোমাদের ধর্ম সম্পর্কে বাড়াবাড়ি কোরও না ও আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য বল। মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহ আল্লাহর রসূল আর তাঁর বাণী ও তাঁর রূহ যা তিনি মরিয়মের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তার রসূলে বিশ্বাস কর আর বোলও না তিন (আল্লাহ)। 

তোমরা নিবৃত্ত হও এ তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। আল্লাহই তো একমাত্র উপাস্য। তাঁর সন্তান হবে? তিনি এর অনেক উর্দ্ধে। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই। কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। মসীহ আল্লাহর দাস হওয়াকে হেয় জ্ঞান করেনি, আর কাছের ফেরেস্তাও নয়। যারা তাঁর উপাসনা করতে লজ্জা বা অহংকারবোধ করে তাদের সকলকে তিনি তাঁর কাছে একত্র করবেন।(৪:১৭১-১৭২)
কারও পক্ষে এই কাজটা মোটেই সম্ভব নয়, আল্লাহ তাকে কিতাব, বিধান ও নব্যুয়ত দান করবেন আর সে মানব সমাজকে বলবে, ‘তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমার বান্দারূপে গণ্য হও। বরং তারা বলবে, ‘তোমরা আল্লাহর বান্দা বনে যাও। কারণ, তোমরা কিতাব শেখাচ্ছ আর তা নিজেরাও যে পড়ছ।’(৩:৭৯)

যারা বলে, ‘আল্লাহই মরিয়ম পুত্র মসীহ, তারা নিঃসন্দেহে অবিশ্বাসী। অথচ মসীহ বলেছিল, ‘হে বনি ইস্রায়েল! তোমরা আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপাসনা কর।’ অবশ্য যে কেউ আল্লাহর অংশী করবে নিশ্চয় আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত নিষিদ্ধ করবেন ও আগুনে হবে তার বাসস্থান। আর অত্যাচারীকে কেউ সাহায্য করবে না।’ যারা বলে, ‘আল্লাহ তো তিনের মধ্যে একজন’, তারা নিশ্চয় অবিশ্বাসী। 

এক উপাস্য ভিন্ন অন্যকোন উপাস্য নেই। তারা যা বলে তা থেকে নিবৃত্ত না হলে তাদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছে তাদের উপর অবশ্যই নিদারুণ শাস্তি নেমে আসবে। তবে কি তারা আল্লাহর দিকে ফিরবে না ও তাঁর কাছে ক্ষমা চাইবে না? আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। মরিয়ম পুত্র মসীহ তো কেবল একজন রসূল, তার পূর্বে কত রসূল গত হয়েছে আর তার মাতা সতী ছিল। তারা দু’জনেই খাওয়া দাওয়া করত। দেখ, ওদের জন্যে আমি আয়াত কিরূপ পরিস্কার করে বর্ণনা করি। আরও দেখ, ওরা কিভাবে সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।’(৫:৭২-৭৫)

নাজ্জাসী বললেন, ‘শুনে সুখী হলাম যে আমাদের ধর্মে ও তোমাদের ধর্মে বিশেষ কোন পার্থক্য নেই। তোমরা নির্বিঘ্নে এখানে বাস করতে থাক, তোমাদের কোন ভয় নেই। পর্বত পরিমান স্বর্ণের বিনিময়েও আমি তোমাদেরকে কারও হাতে তুলে দেব না।’ 

কুরাইশদের দাবী বাদশা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং প্রতিনিধি দলের শেষ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা বিভ্রান্ত হয়ে মক্কায় ফিরে এলেন।

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia, aksumabyssinians.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন