pytheya.blogspot.com Webutation

২ মার্চ, ২০১২

Moses: মূসা ও যাদুকরদের নাটকীয় প্রতিযোগীতা।


নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট সময়ে যথাস্থানে মূসা (Moses) ও হারুণ উপস্থিত হলেন। দিনটি ছিল উৎসবের, ফলে আগে থেকেই প্রচুর লোক জমায়েত হয়েছিল। এদিকে ফেরাউনের যাদুকররাও হাযির হয়েছিল। তারা ছিল ৭২ জন। একসময় ফেরাউনের তরফ থেকে লোকদের উদ্দেশ্যে বলা হল-‘তোমরাও একত্রিত হও যেন, ওরা বিনয়ী হলে আমরা ওদের সমর্থন করতে পারি।’

ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা উপস্থিত জনতা সমবেত হল। ফেরাউন মূসা ও হারুণের প্রতি ইঙ্গিত করে যাদুকরদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘এরা দু‘জন নিশ্চয়ই যাদুকর, তারা যাদুবলে তোমাদেরকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে চায় এবং তোমাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে একেবারে নস্যাৎ করতে চায়। অতএব তোমরা তোমাদের যাদুর তোড়জোড় ঠিকঠাক কর, তারপর সাঁরি বেঁধে দাঁড়াও। আজ যে জিতবে সেই-ই হবে সফলকাম।’ 

যাদুকরেরা সাঁরি বেঁধে দাঁড়াল। কিন্তু তারা এই বিষয়ে নিশ্চিত ছিল না যে, বিজয়ী হলে তারা পুরস্কার পাবে কিনা। সৃতরাং তাদের দু‘জন প্রতিনিধি (যান্নি ও যাম্ব্রি) ফেরাউনের কাছে গিয়ে বলল, ‘আমরা যদি বিজয়ী হই, আমরা পুরস্কার পাব তো?’
তিনি বললেন, ‘অবশ্যই এবং তোমরা হবে আমার খুব কাছের লোক।’

যাদুকরেরা নিজেদের স্থানে ফিরে এসে নিজেদের মধ্যে আলাপ করল ও গোপনে পরামর্শ করল। মূসা তাদেরকে বললেন, ‘দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যে আরোপ কোরও না। করলে তিনি তোমাদেরকে সমূলে ধ্বংস করবেন। যে মিথ্যে বানায় সে ব্যর্থ হয়।’ 
যাদুকরেরা মুসার বক্তব্যকে উপেক্ষা করল। তারপর নিজেদের স্থিরচিত্ততা ও চিন্তাহীনতা ফুটিয়ে তুলতে মূসাকে বলল, ‘হে মূসা! প্রথমে তুমি ছুঁড়বে, না আমরা ছুঁড়ব?’ 
মূসা ভদ্রজনোচিত জবাব দিলেন, ‘বরং তোমরাই ছোঁড়।’ 
সুতরাং যাদুকরেরা তাদের কাজ শুরু করে দিল এবং তাদের দড়িদড়া ও লাঠিসোটা একযোগে মাটিতে নিক্ষেপ করল ও বলল, ‘ফেরাউনের ইজ্জতের শপথ, আমরা নিশ্চয়ই বিজয়ী হব।’

যখন তারা ছুঁড়ল, লোকদের চোখে ভেল্কি লাগল এবং তারা ভয় পেয়ে গেল যেন তারা ভোঁজ বাজি দেখছে। ওদের যাদুর ফলে মনে হল সব দড়াদড়ি ও লাঠিসোটাগুলো যেন সাপ হয়ে ইতস্ততঃ ছুটোছুটি করছে। এসময় মূসার মনেও একটু ভয় করতে লাগল। তৎক্ষণাৎ আল্লাহ তাকে সাহস জুগিয়ে বললেন, ‘ভয় কোরও না তুমিই হবে প্রবল।’
সুতরাং মূসা যাদুকরদেরকে বললেন, ‘তোমরা যা এনেছ তা যাদু, আল্লাহ তাকে মিথ্যে প্রতিপন্ন করবেন। আল্লাহ তো ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের সার্থক করেন না। তিনি তাঁর বাণী অনুযায়ী তাঁর সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, অপরাধীরা তা অপছন্দ করলেও।’
মূসার প্রতি আল্লাহ হুকুম করলেন, ‘তুমি তোমার লাঠি ছোঁড়। ওরা যা করেছে তা এ গিলে ফেলবে। যাদুকর যেখানেই থাকুক, সফল হবে না।’

মূসা তার লাঠি ছুঁড়লেন। সেটা মাটিতে পড়ে স্থির হবার আগেই বিরাট সাপ হয়ে ফণা তুলে দাঁড়িয়ে গেল। অতঃপর ওদের ভূয়া সৃষ্টিকে দ্রুততার সাথে একে একে গ্রাস করে ফেলতে লাগল। যাদুকরেরা শত চেষ্টা করেও তাদের সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখতে পারল না, তাদের যাদুতে তৈরী সকল ছোটবড় সাপকে মূসার সাপ সাবাড় করে দিল। ফলে সত্য প্রতিষ্ঠা পেল আর যাদুকরেরা যা করেছিল তা মিথ্যে প্রমানিত হল। সেখানে তারা হার মানল ও অপদস্থ হল। 

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ-যথাসময়ে সে (ফেরাউন) তার যাদুকরদের নিয়ে হাজির হল।(২০:৬০) নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট সময়ে যাদুকরদের একত্রে করা হল এবং লোকদের বলা হল-‘তোমরাও একত্রিত হও যেন, ওরা বিনয়ী হলে আমরা ওদের সমর্থন করতে পারি।’ (২৬:৩৮-৩৯) 
যাদুকরেরা ফেরাউনের কাছে এসে বলল, ‘আমরা যদি জিতি, আমাদের পুরস্কার দেবেন তো?’
সে বলল, ‘অবশ্যই এবং তোমরা হবে আমার খুব কাছের লোক।’
মূসা বলল, ‘দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যে আরোপ কোরও না। করলে তিনি তোমাদের সমূলে ধ্বংস করবেন। যে মিথ্যে বানায় সে ব্যর্থ হয়।’ 

ওরা (যাদুকররা) নিজেদের মধ্যে আলাপ করল ও গোপনে পরামর্শ করল। ওরা (ফেরাউন ও পরিষদবর্গ মূসা ও হারুণের প্রতি ইঙ্গিত করে যাদুকরদের উদ্দেশ্যে) বলল, ‘এরা দু‘জন নিশ্চয়ই যাদুকর, তারা যাদুবলে তোমাদেরকে দেশ থেকে তাড়াতে চায় এবং তোমাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে একেবারে নস্যাৎ করতে চায়। অতএব তোমাদের যাদুর তোড়জোড় ঠিকঠাক কর, তারপর সাঁরি বেঁধে দাঁড়াও। আজ যে জিতবে সেই-ই হবে সফলকাম।’ (২০:৬১-৬৪)

ওরা (যাদুকররা) বলল , ‘হে মূসা! প্রথমে তুমি ছুঁড়বে, না আমরা ছুঁড়ব?’ 
মূসা বলল, ‘বরং তোমরাই ছোঁড়।’(২০:৬৫-৬৬) 
তারপর ওরা তাদের দড়ি-দড়া লাঠিসোটা ছুঁড়ল ও বলল, ‘ফেরাউনের ইজ্জতের শপথ, আমরা নিশ্চয়ই বিজয়ী হব।’(২৬:৪৪)
যখন তারা ছুঁড়ল, লোকের চোখে ভেল্কি লাগল এবং তারা ভয় পেয়ে গেল যেন তারা ভোঁজ বাজি দেখছে। ওদের যাদুর ফলে মনে হল ওদের দড়াদড়ি ও লাঠিসোটাগুলো যেন (সাপ হয়ে) ছুটোছুটি করছে। তখন মূসার মনেও একটু ভয় করতে লাগল। আমি (আল্লাহ) বললাম, ‘ভয় কোরও না তুমিই হবে প্রবল।’(২০:৬৬-৬৮)

তখন মূসা বলল, ‘তোমরা যা এনেছ তা যাদু, আল্লাহ তাকে মিথ্যে প্রতিপন্ন করবেন। আল্লাহ তো ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের সার্থক করেন না। আল্লাহ তাঁর বাণী অনুযায়ী তাঁর সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, অপরাধীরা তা অপছন্দ করলেও।’(১০:৮১-৮২) 
মূসার প্রতি আমি হুকুম করলাম, ‘তুমিও তোমার লাঠি ছোঁড়।(৭:১১৭) ওরা যা করেছে তা এ গিলে ফেলবে। যাদুকর যেখানেই থাকুক সফল হবে না।’(২০:৬৯)

তারপর মূসা তার লাঠি ছুঁড়ল। হঠাৎ লাঠিটা (বিরাট সাপ হয়ে) ওদের ভূয়া সৃষ্টিকে গ্রাস করে ফেলতে লাগল, ফলে সত্য প্রতিষ্ঠা পেল আর তারা (যাদুকরেরা) যা করেছিল তা মিথ্যে প্রমানিত হল। সেখানে তারা হার মানল ও অপদস্থ হল।(৭:১১৮-১১৯) 

সবকিছু অবলোকনের পর যাদুকররা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করল এটা কোন যাদু নয়। তাদের মধ্যে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তণ হল। তারা তৎক্ষণাৎ আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করল। উপস্থিত লোকেরা তাদের কার্যকলাপ দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। তা লক্ষ্য করে তারা ঘোষণা করল, ‘আমরা বিশ্বাস করলাম বিশ্বজগতের প্রতিপালকের উপর, যিনি মূসা ও হারুণেরও প্রতিপালক।’

যাদুকরদের কথা শুনে ফেরাউনের মাথায় এসময় দ্রুত চিন্তা চলতে লাগল। তিনি ভাবছিলেন  কিভাবে উপস্থিত লোকদেরকে মূসার উপর ঈমান আনার আগেই বিভ্রান্তিতে ফেলা যায় আর একই সাথে মূসাকেও শায়েস্তা করা যায়। তিনি দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিলেন। তারপর ধূর্ত ও বিজ্ঞ রাজনীতিকের মত মূসা ও যাদুকরদের উপর বিদ্রোহমূলক অপবাদ আরোপ করলেন। 

ফেরাউন যাদুকরদেরকে বললেন, ‘কি! আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেবার আগেই তোমরা তাঁর উপর বিশ্বাস করলে? নিশ্চয়ই এ (মূসার প্রতি ইঙ্গিত করে) তোমাদের নেতা যে তোমাদেরকে যাদু শিক্ষা দিয়েছে। তোমরা শহরের লোকদেরকে এখান থেকে বের করে দেবার জন্যে ষড়যন্ত্র করেছ। এ তো নিশ্চিত একটা ষড়যন্ত্র! আচ্ছা, তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে এর ফল কি! আমি অবশ্যই তোমাদের হাত-পা উল্টো দিক থেকে কাটব, তারপর তোমাদের সকলকে শূলে চড়াব। তখন তোমরা জানতে পারবে আমাদের (তার ও আল্লাহ) মধ্যে কার শাস্তি কত কঠিন ও কতক্ষণ স্থায়ী?’ 

যাদুকরদের প্রতিনিধি দু‘জনের একজন দৃঢ়স্বরে বলল, ‘আমাদের কাছে যে স্পষ্ট যুক্তি-প্রমাণ এসেছে তার উপরে, আর যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তার উপরে আপনাকে আমরা প্রাধাণ্য দেব না। সুতরাং আপনি যা হুকুম করতে চান, করেন। আপনি তো হুকুম চালাতে পারেন এই পার্থিব জীবনটুকুর উপর। আমরা আমাদের প্রতিপালকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমাদের অপরাধ, আর আপনার জবর-দস্তির জন্যে আমরা যে যাদু করেছি, তা যেন তিনি ক্ষমা করেন। আল্লাহ তো মঙ্গলময় ও চিরস্থায়ী।’

অপরজনও ক্ষোভের সাথে বলল, ‘আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যাব। আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শণ আমাদের কাছে যখন এসেছে তখন আমরা তাতে বিশ্বাস করবই। আপনি এর জন্যে আমাদের ওপর শুধু শুধু দোষারোপ করছেন। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ধৈর্য্য দান কর এবং মুসলমান হিসেবে আমাদের মৃত্যু ঘটাও।’

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ-আর যাদুকররা (আল্লাহর উদ্দেশ্যে) সিজদা করল। তারা বলল, ‘আমরা বিশ্বাস করলাম বিশ্বজগতের প্রতিপালকের উপর, যিনি মূসা ও হারুণেরও প্রতিপালক।’
ফেরাউন বলল, ‘কি! আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেবার আগেই তোমরা তাঁর উপর বিশ্বাস করলে? নিশ্চয়ই এ (মূসার প্রতি ইঙ্গিত করে) তোমাদের নেতা যে তোমাদের যাদু শিক্ষা দিয়েছে। তোমরা শহরের লোকদের এখান থেকে বের করে দেবার জন্যে ষড়যন্ত্র করেছ। এ তো একটা ষড়যন্ত্র! আচ্ছা, তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত-পা উল্টো দিক থেকে কাটব, তারপর তোমাদের সকলকে শূলে চড়াব।’(৭:১২৩-১২৪) আর তোমরা অবশ্যই জানতে পারবে আমাদের (সে ও আল্লাহ) মধ্যে কার শাস্তি কত কঠিন ও কতক্ষণ স্থায়ী?’(২০:৭১-৭৩) 

যাদুকররা বলল, ‘আমাদের কাছে যে স্পষ্ট যুক্তি-প্রমাণ এসেছে তার উপরে, আর যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তার উপরে আপনাকে আমরা প্রাধাণ্য দেব না। সুতরাং আপনি যা হুকুম করতে চান, করেন। আপনি তো হুকুম চালাতে পারেন এ পার্থিব জীবনটুকুর উপর। আমরা আমাদের প্রতিপালকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমাদের অপরাধ, আর আপনার জবর-দস্তির জন্যে আমরা যে যাদু করেছি, তা যেন তিনি ক্ষমা করেন। আল্লাহ তো মঙ্গলময় ও চিরস্থায়ী।’

তারা (আরও) বলল, ‘আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যাব। আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শণ আমাদের কাছে যখন এসেছে তখন আমরা তাতে বিশ্বাস করবই। আপনি এর জন্যে আমাদের ওপর শুধু শুধু দোষারোপ করছেন। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ধৈর্য্য দান কর এবং মুসলমান হিসেবে আমাদের মৃত্যু ঘটাও।’(৭:১২৫-১২৯)

সমাপ্ত।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন