pytheya.blogspot.com Webutation

১১ মার্চ, ২০১২

Muhammad: পার্থিব সম্মান ও প্রতিপত্তির প্রলোভন।


ফরীশীরা যেভাবে ঈসাকে প্রলোভিত করেছিলেন কুরাইশরাও তেমনি মুহম্মদকে পার্থিব সম্মান ও প্রতিপত্তির প্রলোভন দেখিয়ে তার কর্তব্যপথ থেকে বিচ্যুত করতে চেষ্টা করল।

একদিন মুহম্মদ (Muhammad) বিরোধী নেতাদের মজলিসের কাছাকাছি বসেছিলেন। তখন ওতবা বিন রাবিয়া, ওয়ালিদের পিতা এসে বললেন, ‘হে ভ্রাতুস্পুত্র! তুমি তোমার ব্যক্তিগত গুণাবলী ও বংশ গৌরবের অধিকারী। কিন্তু এখন তুমি আমাদের মধ্যে দলাদলি ও বিরোধ বাঁধিয়ে দিয়েছ; তুমি আমদের দেবদেবীকে প্রত্যাখ্যান করেছ; আমাদের পূর্বপুরুষদের বিরুদ্ধে নাস্তিকতা আরোপ করেছ। আমরা তোমাকে একটি প্রস্তাব দিতে চাই; ভালকরে ভেবে দেখ তুমি গ্রহণ করতে পার কি-না।’
মুহম্মদ বললেন, ‘হে ওয়ালিদের পিতা। বলুন আমি শুনছি।’
ওতবা বললেন, ‘হে আমার ভ্রাতুস্পুত্র! যদি তুমি এই কাজ দিয়ে সম্পদশালী হতে চাও তবে আমরা তোমার জন্যে আমাদের প্রত্যেকের চেয়ে অধিক সম্পদ জোগাড় করে দেব।
--যদি তুমি সুন্দরী স্ত্রী চাও তবে আমরা মক্কার সর্বাপেক্ষা সুন্দরী কন্যার সঙ্গে তোমার বিবাহের ব্যবস্থা করব। 
--যদি তুমি সম্মান ও প্রতিপত্তি চাও তবে আমরা তোমাকে আমাদের নেতা বানাব এবং তোমার নির্দেশ ছাড়া কোন কাজ করব না। 
--যদি তুমি রাজ্য চাও, তবে তোমাকে আমাদের নৃপতি বানাব এবং যে দুষ্টাত্মা তোমার উপর ভর করেছে সে যদি তোমাকে ছেড়ে যেতে না চায় তবে আমরা বড় বড় চিকিৎসক আনাব এবং যত অর্থ লাগুক তোমাকে সুস্থ্য করে তুলব।’ 

মুহম্মদ বললেন, ‘হে ওয়ালিদের পিতা! আপনার কি বলা শেষ হয়েছে?’
তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। 
মুহম্মদ বললেন, ‘তবে শুনুন।’ 
তিনি বললেন ‘হ্যাঁ, শুনছি।’ 

মুহম্মদ পাঠ করলেন-

‘পরম করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। 
পরম করুণাময় আল্লাহর তরফ থেকেই এ কালাম নাযিল করা হয়েছে; এ এমন কিতাব-যার আয়াতসমূহ সুস্ষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে; আরবী ভাষায় কোরআন জ্ঞানীদের জন্যে তো সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী। কিন্তু বেশীরভাগ লোকই তা এড়িয়ে যাচ্ছে-যেন তারা শুনতেই পায়নি। তারা বলছে, ‘তুমি আমাদেরকে যেদিকে ডাকছ, তা থেকে আমাদের মন যে পর্দার আড়ালেই রয়েছে। আর আমাদের কানে মোহর করা রয়েছে। আর আমাদের ও তোমার মাঝখানে যেন একটা পর্দা রয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার কাজ করতে থাক। আর আমরাও নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকব।’(৪১:২-৮)

আল্লাহর নির্দেশ তুমি ঘোষণা করে দাও, ‘আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার কাছে এই ওহী এসেছে; তোমাদের মাবুদ মাত্র একজনই। সুতরাং সোজা তাঁর দিকেই নিবিষ্ট হও। আর তোমরা তার কাছে ক্ষমা চাও, আর মুশরিকরা ধ্বংস হোক। যারা যাকাত আদায় করে না, আর আখিরাতকেও যারা অস্বীকার করছে। 
যারা ঈমান এনেছে আর নেক কাজও করেছে-তাদের জন্যে পারিশ্রমিক রয়েছে-যা মওকুফ করা হবে না। এ কথা সত্য সুনিশ্চিত।’

কোরআনের আয়াতগুলি আবৃত্তি করে মুহম্মদ ওতবার দিকে ফিরে বললেন, ‘আপনি আল্লাহর নির্দেশ শুনলেন, এখন আপনার কাছে যে পন্থা উত্তম মনে হয় সেটাই আপনি গ্রহণ করতে পারেন।’  

এ সময় কুরাইশদের পক্ষ থেকে পারস্পারিক শান্তির লক্ষ্যে মুহম্মদের কাছে এই প্রস্তাব রাখা হল-‘আসুন, এক বৎসর আমরা আপনার সাথে আপনার উপাস্যের এবাদত করি এবং পরের বৎসর আপনি আমাদের সাথে আমাদের উপাস্যের এবাদত করবেন।’

এরই পরিপ্রেক্ষিতে সূরা কাফিরূন অবতীর্ণ হল- বল, হে অবিশ্বাসীগণ, আমি এবাদত করিনা তোমরা যার এবাদত কর এবং তোমরাও এবাদতকারী নও যার এবাদত আমি করি এবং আমি এবাদতকারী নই যার এবাদত তোমরা কর। তোমরাও এবাদতকারী নও যার এবাদত আমি করি। তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।(১০৯:১-৬)

সমাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন