pytheya.blogspot.com Webutation

৪ মার্চ, ২০১২

Quranic Advice: তথ্যের সত্যতা যথেষ্ট পরীক্ষা না করে অন্যের ক্ষতিসাধন নিষিদ্ধ।


বনি মুস্তালিকদের গোত্র প্রধান হারিছ বিন আবু দিদার মদিনায় মুহম্মদের কাছে এলেন। তার এই আগমন ইসলাম গ্রহণ করার জন্যে। ইতিপূর্বে মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধে বন্দী কন্যা জুওয়াইরিয়াকে ফিরিয়ে নিতে মুহম্মদের কাছে হাযির হলে তিনি তাকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন। সেইসময় তিনি মানসিক প্রস্তুতির জন্যে কিছুটা সময় চেয়ে নিয়ে প্রত্যাবর্তণ করেছিলেন।

হারিছ ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং যাকাত প্রদানেরও অঙ্গীকার করলেন। সাথে সাথে মুহম্মদকে বললেন, ‘আমি স্বগোত্রে ফিরে গিয়ে সকলকেই ইসলাম গ্রহণের এবং যাকাত আদায়ের দাওয়াত দেব। যারা আমার দাওয়াত কবুল করে ইসলাম গ্রহণ করবে এবং যাকাত দেবে- আমি তাদের যাকাত একত্রিত করে আমার কাছে সঞ্চিত রাখব। আপনি এক নির্দিষ্ট তারিখে আমার কাছে দূত প্রেরণ করবেন, যেন তার কাছে আমি যাকাত বাবদ জমাকৃত অর্থ সোপর্দ করতে পারি।’
দূত পাঠানোর মাস, তারিখ নির্ধারিত হল।

হারিছ তার গোত্র মাঝে ফিরে গিয়ে ওয়াদা অনুযায়ী লোকদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং যারা ইসলাম গ্রহণ করলেন, তাদের দেয়া যাকাতের অর্থ নিজের কাছে জমা করলেন। অতঃপর নির্ধারিত মাস ও তারিখ অতিক্রান্ত হয়ে গেল, কিন্তু কোন দূত আগমন করলেন না। এতে তিনি আশঙ্কা করলেন হয়তঃ কোন কারণে রসূলুল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন, নতুবা দূত প্রেরণ না করার কোন কারণ থাকতে পারে না। তিনি তার আশঙ্কার কথা ইসলাম গ্রহণকারী নেতৃস্থানীয় লোকদের কাছে প্রকাশ করলে তারা সম্মিলিতভাবে মদিনায় মুহম্মদের কাছে হাযির হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। 

এদিকে মুহম্মদ নির্ধারিত তারিখে ওলীদ ইবনে ওকবাকে যাকাত গ্রহণের জন্যে পাঠিয়ে ছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে তার মনে এই ধারণা জন্মিল যে, এই গোত্রের লোকদের সাথে তার পূর্ব শত্রুতা আছে। সুতরাং তারা তাকে একলা পেয়ে হত্যা করে না ফেলে! অতঃপর ভয়ে ভয়ে তিনি যখন গোত্রের কাছে হাযির হলেন, তখন গোত্র থেকে কয়েকজন লোককে এগিয়ে আসতে দেখলেন।

ওলীদকে দেখে তারা এগিয়ে আসতেই পারেন, কারণ তারা তো পূর্বহতেই এই আগমন সম্পর্কে জানতেন। কিন্তু এসময় তাদের এগিয়ে আসা ছিল তাদের নিজস্ব গন্তব্যের উদ্দেশ্যে, ওলীদকে দেখে নয়। কিন্তু ওলীদ ভুল বুঝলেন। তিনি ভাবলেন পূর্ব শত্রুতার কারণেই হয়তঃ তারা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসছেন। তিনি তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে ফিরে চলে এলেন এবং মুহম্মদের কাছে হাযির হয়ে বললেন, ‘তারা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে এবং আমাকে হত্যা করার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছে।’

এ সংবাদে সাহাবীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিল। তারা মুহম্মদের কাছে আবেদন করলেন, ‘মুস্তালিক গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযান করা হোক।’

মুহম্মদ বিষয়টি তদন্তের জন্যে খালিদ ইবনে ওয়ালিদের নেতৃত্বে একদল মুজাহিদকে পাঠিয়ে দিলেন। খালিদের প্রতি নির্দেশ ছিল-‘যথেষ্ট পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ 

মুজাহিদ বাহিনী মুস্তালিক গোত্রের কাছে রাতের বেলায় পৌঁছিলেন। খালিদ কয়েকজনকে মুস্তালিকদের বস্তিতে পাঠালেন। তারা ফিরে এসে সংবাদ দিলেন, ‘হে মহামান্য সেনাধ্যাক্ষ! এই গোত্রের লোকেরা ইসলাম ও ঈমানের উপর কায়েম রয়েছে এবং যাকাত দিতেও প্রস্তুত রয়েছে।’
এ সময়ই হারিছ একদল মুজাহিদ বস্তি ঘিরে রেখেছে দেখতে পেয়ে বেরিয়ে এসে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনারা কোন গোত্রের প্রতি প্রেরিত হয়েছেন?’
বলা হল, ‘আমরা আপনাদের প্রতিই প্রেরিত হয়েছি।’

হারিছ কারণ জিজ্ঞেস করলে তাকে ওলীদ ইবনে ওকবার প্রেরণের ও প্রত্যাবর্তনের কাহিনী শুনান হল। সবশুনে হারিছ বললেন, ‘সেই আল্লাহর কসম যিনি মুহম্মদকে সত্য রসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন, আমি ওলীদ ইবনে ওকবাকে দেখিওনি এবং তিনি আমার কাছে আসেনওনি।’

খালিদ তার বাহিনী নিয়ে ফিরে এসে মুহম্মদকে আদ্যোপান্ত ঘটনা বিবৃত করলেন। পরদিনই হারিছ ও অন্যান্যরা মদিনায় এসে হাযির! মুহম্মদ হারিছকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কি যাকাত দিতে অস্বীকার করেছেন এবং আমার দূতকে হত্যা করতে চেয়েছেন?’
তিনি বললেন, ‘কখনই নয়। বরং নির্ধারিত সময়ে আপনার দূত যায়নি দেখে আমরাই আপনার কাছে আসার সংকল্প করেছিলাম।’

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াত নাযিল হলে মুহম্মদের কাছে ঘটনার প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচিত হল- ‘মুমিনরা! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনায়ণ করে, তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতি সাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও। তোমরা জেনে রাখ তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসূল রয়েছেন। তিনি যদি অনেক বিষয়ে তোমাদের আব্দার মেনে নেন, তবে তোমরাই কষ্ট পাবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ঈমানের মহব্বত সৃষ্টি করে দিয়েছেন এবং তা হৃদয়গ্রাহী করে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে কুফর, পাপাচার ও নাফরমানীর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তারাই সৎপথ অবলম্বণকারী। এটা আল্লাহর কৃপা ও নেয়ামত: আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’(৪৯:৬-৮)

সমাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন