pytheya.blogspot.com Webutation

৩ মার্চ, ২০১২

Moses: সীনাই এ মূসার ঐশী কিতাব লাভ।

সীন প্রান্তরের বিস্তীর্ণ মরুভূমি পার হয়ে, অবশেষে ইস্রায়েলীরা ৩য় মাসে সীনাই পর্বতের কাছাকাছি পৌঁছিল। এসময় জিব্রাইল ব্যবস্থা আনতে যাবার কথা মূসাকে জানাল। সে একথা বলেছিল যে, সীনাই পর্বতের নির্দিষ্ট স্থানে ত্রিশ রাত্রির অতন্দ্র সাধনা ও দয়াময় আল্লাহর আরাধনায় লিপ্ত থাকাকালে তাকে এক কিতাব দান করা হবে- সৎকর্মীদের প্রতি নেয়ামত পূর্ণ করার জন্যে, প্রত্যেক বস্তুর পূর্ণ বিবরণের জন্যে, হেদায়েতের জন্যে এবং করুণার জন্যে- যাতে তারা স্বীয় পালনকর্তার সাথে সাক্ষাতে বিশ্বাসী হয়।

সুতরাং মূসা (Moses) তার ভাই হারুণকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বললেন, ‘আমার অনুপস্থিতে সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করবে, লোকদের সঙ্গে ভাল ব্যাবহার করবে আর যারা ফ্যাসাদ করে তাদেরকে অনুসরণ করবে না।’

পর্বতের চূড়া।
এ সংক্রান্ত কোরআনের আয়াত-আর আমি মূসাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি ত্রিশরাত্রির.. আর মূসা তার ভাই হারুণকে বলল, ‘আমার সম্প্রদায়ে তুমি আমার প্রতিনিধি হিসেবে থাক, তাদের সংশোধন করতে থাক এবং হাঙ্গামা সৃষ্টিকারীদের পথে চলবে না।(৭:১৪২)

এরপর মূসা ব্যবস্থা আনতে সকলকে পিছনে ফেলে একাকী দ্রুত পর্বতের দিকে রওনা দিলেন। আর হারুণ ইস্রায়েলীদেরকে নেতৃত্ব দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে চললেন।

একসময় ইস্রায়েলীরা সীনাই পর্বতের পাদদেশ থেকে কিছুদূরে সমবেত হল এবং সেখানে ছাউনি ফেলল।

সিনাই পর্বতমালা, সৌদি আরব।
সীনাই পর্বতমালা। জাঁকাল ও ভক্তি জাগান এই পর্বতমালায় অনেক পাহাড় ও চূঁড়া রয়েছে। প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে এসে মূসা এই পর্বতমালার পাদ দেশে পৌঁছিলেন। শুনশান নিরবতা, সূর্য্যরে শেষ আলো ছড়িয়ে পড়েছে পর্বতমালার বিভিন্ন অংশে। এক অতিপ্রাকৃতিক দৃশ্য। মূসা চতুর্পার্শ্বে দৃষ্টি বুলিয়ে চিৎকার করে বললেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখা দাও।’

চতুর্দিক কল্লোলিত করে ধ্বনিত হল- ‘তুমি আমাকে কখনও দেখতে পাবে না, বরং তুমি পর্বতের দিকে দৃষ্টি ফেরাও, যদি তা নিজ স্থানে স্থির থাকে তবে আমাকে দেখতে পাবে।’
পর্বতের সুউচ্চ চূঁড়ার দিকে তাকিয়ে রইলেন মূসা। অতঃপর আল্লাহ পর্বতে জ্যোতিষ্মান হলেন। মূসা দেখতে পেলেন এক অত্যুজ্জ্বল অগ্নিশিখা পর্বতের উপর নেমে এল। পাহাড় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গলে পড়তে লাগল আর মূসাও জ্ঞান হারিয়ে ঢলে পড়লেন।

জ্ঞান ফিরে এল মূসার। তিনি চারিদিকে তাকিয়ে দেখলেন। তূর পাহাড়ের একাংশ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গলে পড়েছে। ধূলি ধূসরিত চারিদিক। সবকিছু মনে পড়ল তার। ভীত ও কম্পিত কন্ঠে তৎক্ষণাৎ আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, ‘প্রশংসা তোমার, হে আমার প্রতিপালক! আমি অনুতপ্ত হয়ে তোমার কাছে ফিরে এলাম, আর আমিই প্রথম বিশ্বাস স্থাপন করছি।’ 

পর্বতে আরোহণ করলেন মূসা। অতঃপর নির্ধারিত স্থানে অপেক্ষা করতে লাগলেন ঐশী নির্দেশের।   

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত- আর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রত সময় অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে হাজির হল ও তার প্রতিপালক তার সাথে কথা বললেন তখন সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখা দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পারি।’ 
তিনি বললেন, ‘তুমি আমাকে কখনও দেখতে পাবে না, বরং তুমি পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে থাক, যদি তা নিজের জায়গায় স্থির থাকে তবে তুমি আমাকে দেখতে পাবে।’ 

যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতিষ্মান হলেন তখন সেই পাহাড় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল আর মূসা সঙ্গাহীন হয়ে পড়ে গেল। জ্ঞান ফিরে পাবার পর সে বলল, ‘প্রশংসা তোমার, আমি অনুতপ্ত হয়ে তোমার কাছে ফিরে এলাম, আর আমিই প্রথম বিশ্বাস স্থাপন করছি।’(৭:১৪৩)

আল্লাহ মূসাকে ব্যবস্থা দিলেন। ইস্রায়েলীদের জন্যে মূসার উপর অবতীর্ণ দীর্ঘ ও বিস্তৃত এই ব্যবস্থাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 

(ক)  নীতিগত ব্যবস্থা: যা সংক্ষেপে দশ আজ্ঞায় বর্ণনা করা হয়েছে।
(খ)  সামাজিক বিচার ব্যবস্থা: এই অংশে রয়েছে সামাজিক আইন, যেমন, সম্পত্তি আইন প্রয়োগ, বিচারালয়ের নিয়ম, অপরাধীকে শাস্তিদান ইত্যাদি। এখানেও অনেক বিস্তারিত বিষয় রয়েছে।
(গ)  ধর্মীয় আচার-বিধি ও উৎসবাদি: এতে রয়েছে উপাসনার বিস্তারিত বিবরণ, যেমন ত্যাগ স্বীকার, ব্যবস্থা পালনের নিয়ম, পবিত্র মাস এবং এই প্রকার অনেক বিষয়। এই নুতন জাতি যাদের একমাত্র উদ্দেশ্য একেশ্বরবাদের ধারা বয়ে নিয়ে যাওয়া, তাদের জীবন-যাপনের সকল দিক এই আদেশগুলিতে রয়েছে।

ব্যবস্থা আনতে গিয়ে মূসা সর্বমোট ৪০দিন, সীনাই পর্বতে অনুসারীদের থেকে আলাদা ছিলেন। প্রথমে আল্লাহ মূসাকে ত্রিশ রাত্রির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন-পরে তা বাড়িয়ে চল্লিশ রাত্রি নির্ধারিত হয়েছিল। এই দশ রাত্রি বৃদ্ধি সম্ভবতঃ এ কারণে যে, ব্যবস্থা দানকালে মূসার প্রতি রোজা রাখার নির্দেশ ছিল এবং একমাস রোজা রাখার পর তিনি আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে ইফতার করে ফেলেছিলেন। 

এ সংক্রান্ত আয়াতসমূহ- আমি পূর্ববর্তী অনেক সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার পর মূসাকে কিতাব দিয়েছি মানুষের জন্যে জ্ঞানবর্তিকা, হেদায়েত ও রহমত, যাতে তারা স্মরণ রাখে।(২৮:৪৩)
আমি উভয়কে (মূসা ও হারুণকে) দিয়েছিলাম সুস্পষ্ট কিতাব এবং তাদেরকে সরলপথ প্রদর্শণ করেছিলাম। আমি তাদের জন্যে পরবর্তীদের মাঝে এ বিষয় রেখে দিয়েছি যে, মূসা ও হারুণের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। এভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। তারা উভয়ে ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের অন্যতম।(৩৭:১১৭-১২২)

‘আমি মূসাকে (প্রথমে) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ত্রিশ রাত্রির এবং (পরে) তার সঙ্গে যোগ দিয়ে তা পূর্ণকরি আরও দশরাত্রি। এভাবে তার প্রতিপালকের নির্ধারিত সময় চল্লিশ রাত্রি পুরো হয়।’(৭:১৪২)

সিনাই পর্বতে মূসার কাছে তাওরাত প্রদান শেষে আল্লাহ স্বাক্ষ্য তাম্বুর যাবতীয় খুঁটিনাটি তাকে বুঝিয়ে দিলেন। এরপর তাকে দশ আজ্ঞার দু‘টি সাক্ষ্যফলক দিলেন, যা ছিল প্রস্তর নির্মিত এবং যার উভয় পিঠে আজ্ঞাগুলি তিনি খোঁদাই করে লিখে দিয়েছিলেন। সবশেষে তিনি বললেন, ‘হে মূসা! আমি তোমাকে বাণী দিয়ে ও তোমার সাথে কথা বলে মানুষের মধ্যে তোমাকে প্রাধান্য দিয়েছি। সুতরাং আমি যা দিলাম তা গ্রহণ কর ও ধন্য হও। আর আমি তোমার জন্যে ফলকে লিখে দিলাম প্রত্যেক বিষয়ের উপদেশ ও প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা। সুতরাং এগুলো শক্ত করে ধর আর তোমার সম্প্রদায়কে গ্রহণ করতে নির্দেশ দাও। আমি শীঘ্রই সত্যত্যাগীদের বাসস্থান তোমাকে দেখাব।

-কিন্তু হে মূসা! নিজের সম্প্রদায়কে পিছনে ফেলে তুমি তাড়াহুড়ো করে কেন আগেই হাজির হলে?’
মূসা বললেন, ‘ওরা ঐ তো আমার পিছনে আসছে। আর হে আমার প্রতিপালক! আমি তাড়াতাড়ি তোমার কাছে এলাম তুমি সন্তুষ্ট হবে বলে।’

তিনি বললেন, ‘তোমার চলে আসার পর তোমার সম্প্রদায়কে আমি পরীক্ষা করেছি, আর সামেরী তাদেরকে ভুল পথে নিয়ে গেছে। তারা এরই মধ্যে আমার আদেশ থেকে দূরে সরে গেছে। তারা নিজেদের জন্যে গো-বৎসের মত করে মূর্ত্তি তৈরী করে নিয়েছে আর তার পদতলে পশু উৎসর্গ করেছে। আর বলেছে ঐ দেবতাই মিসর দেশ থেকে তোমাদেরকে বের করে এনেছে। সুতরাং হে মূসা! তুমি আর দেরী না করে এখনই নীচে নেমে যাও।’

দশ আজ্ঞার সাক্ষ্য ফলক দু'টি।
মূসা সাক্ষ্যফলক দু‘টি হাতে করে উঠে দাঁড়ালেন। আল্লাহ বললেন, ‘আমি যা দিলাম তা শক্ত করে ধর, আর তারমধ্যে যা আছে তা মনে রেখ, যেন তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার।’ মূসা দ্রুত পায়ে পাহাড় থেকে নীচে নেমে এলেন।

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ-তিনি (আল্লাহ) বললেন, ‘হে মূসা! আমি তোমাকে বাণী দিয়ে ও তোমার সাথে কথা বলে মানুষের মধ্যে তোমাকে প্রাধান্য দিয়েছি। সুতরাং আমি যা দিলাম তা গ্রহণ কর ও ধন্য হও। আর আমি তোমার জন্যে ফলকে লিখে দিলাম প্রত্যেক বিষয়ের উপদেশ ও প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা। সুতরাং এগুলো শক্ত করে ধর আর তোমার সম্প্রদায়কে গ্রহণ করতে নির্দেশ দাও। আমি শীঘ্রই সত্যত্যাগীদের বাসস্থান তোমাকে দেখাব।’(৭:১৪৪-১৪৫)

হে মূসা! নিজের সম্প্রদায়কে পিছনে ফেলে তুমি তাড়াহুড়ো করে কেন আগেই হাজির হলে?’
সে (মূসা) বলল, ‘ওরা ঐ তো আমার পিছনে আসছে, আর হে আমার প্রতিপালক! আমি তাড়াতাড়ি তোমার কাছে এলাম তুমি সন্তুষ্ট হবে বলে।’
তিনি বললেন, ‘তোমার চলে আসার পর তোমার সম্প্রদায়কে আমি পরীক্ষা করেছি, আর সামেরী তাদেরকে ভুল পথে নিয়ে গেছে।’ (২০:৮৩-৮৫)

‘আমি যা দিলাম তা শক্ত করে ধর, আর তারমধ্যে যা আছে তা মনে রেখ, যেন তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার।’(২:৯২)

সমাপ্ত।

ছবি: Wikipedia, lutheranscience.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন