pytheya.blogspot.com Webutation

১৯ মার্চ, ২০১২

Rachel: রাহেল এর মৃত্যু এবং অত:পর।

পদ্দন-অরামে (Padan-Aram) ইয়াকুবের বাস কখনও সুখের ছিল না। কেননা, এটা ছিল গোলামীর জীবন, দুই পর্যায়ে চৌদ্দ বৎসর- দীর্ঘসময়। কিন্তু রাহেলকে পাবার আশায় ইয়াকুব এই সুদীর্ঘ সময় খুব সহজেই পার করে দিলেন।

হারানের পদ্দন-অরামে ইয়াকুব কখনও মনে প্রাণে বসবাস করতে চাননি। তাই আরোপিত শর্ত পূর্ণ হওয়া মাত্র তিনি সরাসরি মামা লাবনকে বললেন, ‘এবার আমাকে বিদায় দেন। আমি নিজ দেশে, নিজ গৃহে পরিবারের মাঝে ফিরে যেতে চাই।’

লাবন বললেন, ‘যদি আমার উপর তোমার অসন্তুষ্ট হবার এখন আর কোন কারণ না থাকে, তবে যেও না। নানারকম লক্ষণ থেকে আমি পরিস্কার বুঝতে পেরেছি- তোমার জন্যেই খোদার আশীর্বাদ আমার উপর বর্ষিত হয়েছে।’

ইয়াকুব বললেন, ‘একথা সত্য, আমি যেখানেই পা রেখেছি সেখানেই মহান খোদার আশীর্বাদ বর্র্ষিত হয়েছে। আমি আসার আগে আপনার পশুসম্পদ বেশী ছিল না, অতঃপর তা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু, এখন আমার নিজের পরিবারের কথা ভাবার সময় হয়েছে।’

লাবন বললেন, ‘তোমাকে আমার কি দিতে হবে? তোমার নিজের বেতন তুমি নিজেই স্থির কর। আমি তোমাকে তা-ই দেব।’
ইয়াকুব বললেন, ‘আমি এখনই আপনার পশুপালের মধ্যে থেকে ছোট ছোট এবং বড় বড় ছাপের ভেড়া ও ছাগলের বাচ্চাগুলো গণনা করে রাখতে চাই। ভবিষ্যতে এ ধরণের জন্ম  নেয়া পশুরাই হবে আমার বেতন।’
লাবন বললেন, ‘বেশ, তুমি যা বলেছ তা-ই হবে।’

অল্পদিনেই ইয়াকুবের পশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। দিনে দিনে ধনী হয়ে উঠলেন তিনি। আর কয়েক বৎসর অতিবাহিত হতে না হতেই ইয়াকুব জানতে পারলেন লোকেরা বলাবলি করছে, ‘ইয়াকুব লাবনের সবকিছু নিজের করে নিয়েছে এবং তার সম্পত্তি লুটেপুটে নিয়েই সে তার এতসব সম্পদ করেছে।’

তিনি আরও লক্ষ্য করেছিলেন তার প্রতি মামা লাবনের আগের সেই মনোভাব আর নেই। ইতিমধ্যে তার মামা তার বেতন দশ-দশবার পরিবর্তন করেছেন। কিন্তু ফল এসেছে লাবনের বিপরীতেই। মামা যখনই যেমন শাবক বেতন নির্ধারণ করেছেন, পালের পশুরা তেমনই বাচ্চা প্রসব করেছে।

মামা লাবন ও লোকদের মনোভাবের কারণে বিরূপ পরিস্থিতিতে এক অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটছিল ইয়াকুবের। এই সময়ই দর্শনের মাধ্যমে খোদা তাকে আদেশ দিলেন- ‘তুমি তোমার নিজ দেশে, নিজের গোত্র মাঝে ফিরে যাও। আমি তোমার সঙ্গেই রয়েছি।’

খোদার এই আদেশ পালনে ইয়াকুবকে দু’টি সমস্যার সম্মুখীণ হতে হল। প্রথমতঃ তিনি জানতেন মামা লাবন তাকে কেন ছেড়ে দিতে চান না। কারণ তিনি তার একমাত্র জামাতা। দু‘কন্যা ও নাতি-নাতনীরা ছিল তার চোখের মনি। দ্বিতীয়ত: তার অনুপস্থিতিতে মামার মেষপাল ও ফসল দেখাশোনার ভীষণ অসুবিধা হবে।



কিন্তু ইয়াকুব খোদার আদেশ পালনে যাবার সিদ্ধান্তে স্থির থাকলেন। সুতরাং তিনি লোক পাঠিয়ে মাঠে যেখানে তার পশুপাল ছিল, সেখানে রাহেল ও লেয়াকে ডেকে আনালেন। তারপর তিনি তাদেরকে বললেন, ‘তোমরা তো জান যে, আমি আমার সমস্ত শক্তি দিয়েই মামার কাজ করেছি, অথচ তিনি আমাকে ঠকাতে চেয়েছেন এবং বার বার আমার বেতন বদল করেছেন। কিন্তু খোদা তাকে আমার ক্ষতি করতে দেননি। যখনই মামা বলেছেন- ‘তোমার বেতন হবে এমনসব পশু, যাদের গায়ে ছোট ছোট ছাপ আছে’- তখনই পালের সব পশুগুলোই সেইরকম বাচ্চা দিয়েছে। আবার যখন তিনি বলেছেন-‘তোমার বেতন হবে ডোরাকাটা পশু’ -তখন পালের সব পশুগুলোই ডোরাকাটা বাচ্চা দিয়েছে।

খোদা এভাবে মামার পালের পশু নিয়ে আমাকে দিয়েছেন। এখন আমি স্বপ্নে দেখেছি খোদা আমাকে বলছেন, ‘লাবন তোমার প্রতি যা করেছে তার সবই আমি দেখেছি। আমি সেই খোদা যার কাছে বৈথেলে তুমি থামের উপর তেল ঢেলে শপথ করেছিলে। এখন এই দেশ ছেড়ে তুমি তোমার নিজ দেশে ফিরে যাও।’

এ কথা শুনে রাহেল ও লেয়া বলল, ‘আমাদের পিতার সম্পত্তির কোন অংশ আমাদের এখনও নেই, আর পরেও থাকবে না। তিনি তো আমাদের বাইরের লোক বলেই মনে করেন। কারণ তিনি আমাদের বিক্রি করে দিয়েছেন এবং যা পেয়েছেন তা খেয়ে বসে আছেন। সেজন্যে  পিতার সম্পত্তি থেকে খোদা যা নিয়েছেন সেগুলো নিশ্চয়ই এখন আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের। কাজেই খোদার কথা মতই তুমি চল।’

রাহেল ও লেয়া এমন ইচ্ছে প্রকাশ করেছে-because of the way Laban has treated them in his financial dealings. It has been suggested that they are referring to assets that were generally held in escrow for the care of the woman should her husband die or divorce her. Such assets would have been part of the bride price, which, in this case, Jacob had paid in labor rather than tangible assets. If Laban never put aside the value of Jacob's fourteen years of labor, there would be nothing in reserve to provide for the women. As a result they would not enjoy any additional protection in economic terms by staying in the vicinity of their family. They identify this as treating them as foreigners, because Laban had gained from Jacob's labor but had not passed the gain on to them-it is therefore just as if he had sold them.

ইয়াকুব লাবনের পশুগুলোর একটা ব্যবস্থা করলেন। তারপর পরিবারের সকলকে নিয়ে কনান দেশে, নিজ বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। যেসব পশুপাল এবং অন্যান্য ধন-সম্পত্তি তিনি পদ্দন-অরামে লাভ করেছিলেন তার সবই তিনি সঙ্গে নিলেন। এসময় লাবন তার ভেড়াগুলোর লোম কাটার জন্যে অন্যত্র গিয়েছিলেন।
একসময় ইয়াকুব ইউফ্রেটিস নদী পার হলেন এবং গিলিয়দ এলাকার পাহাড়ী অঞ্চলের দিকে এগিয়ে গেলেন।

তৃতীয় দিনে লাবন জানতে পারলেন যে ইয়াকুব চলে গিয়েছেন। তখন তিনি তার আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ইয়াকুবের পশ্চাৎধাবন করে সপ্তম দিনে গিলিয়দের পার্বত্য অঞ্চলে তাকে ধরে ফেললেন।

ইয়াকুব পাহাড়ের উপর তাম্বু ফেলেছিলেন। লাবন সেখানে স্ব-দলবলে উপস্থিত হলেন। ইয়াকুব তাদেরকে অভ্যর্থণা জানালেন। অতঃপর কুশলাদি বিনিময় পর্ব শেষ হলে লাবন তাকে বললেন, ‘তোমার নিজের বাড়ী যাবার জন্যেই না হয় তোমার প্রাণ কাঁদছিল, তাই বলে আমাকে না জানিয়ে তুমি গোপনে চলে এলে? কেন তুমি আমার কন্যাদের যুদ্ধবন্দীর মত করে নিয়ে এলে? আমাকে বললে তো আমি আনন্দের সঙ্গে গান করে, খঞ্জনী ও বীনা বাজিয়ে তোমাকে বিদায় দিতাম। তুমি আমার কন্যাদের ও নাতী-নাতনীদের চুম্বন করতেও আমাকে দিলে না। তুমি আসলে বোকার মত কাজ করেছ।’

ইয়াকুব বললেন, ‘আমার ভয় হয়েছিল আপনি হয়তঃ জোরপূর্বক আমার স্ত্রীদেরকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে রেখে দেবেন। তাই গোপনে চলে এসেছি। কিন্তু আমার অপরাধ কোথায় যে, আপনি এমনি করে আমার পশ্চাৎ ধাওয়া করে এসেছেন? আমিতো আপনার কোন সম্পদ নিয়ে আসিনি।

আমি যখন আপনার সঙ্গে ছিলাম তখন আপনার কোন ভেড়ী বা ছাগীর গর্ভ নষ্ট হয়নি কিংবা আপনার পালের কোন পশু আমি জবেহ করে খাইনি। এমনকি কোন পশু চুরি গেলে বা বুনোজন্তু হত্যা করলে, তা দিনে হোক বা রাতে -আপনি আমার কাছ থেকে তার ক্ষতিপূরণ নিয়েছেন। আমি দিনে পুড়েছি গরমে আর রাতে কেঁপেছি ঠান্ডায়, আমার চোখে ঘুম ছিল না। এ-ই ছিল আমার অবস্থা।

মনে রেখ খোদা আমাদের স্বাক্ষী রইলেন।
--যে বিশ বৎসর আমি আপনার বাড়ীতে ছিলাম, তার চৌদ্দ বৎসর কেটেছে  আপনার গোলামী করে, আপনার দু’কন্যার জন্যে, আর বাকী ছয় বৎসর কেটেছে আপনার পশুপালের পিছনে। এর মধ্যে দশ-দশবার আপনি আমার বেতন পরিবর্তন করেছেন। খোদা যদি আমার সঙ্গে না থাকতেন তাহলে নিশ্চয় আপনি এখন আমাকে রিক্ত হস্তেই বিদায় করতেন। সর্বদ্রষ্টা খোদা আমার কষ্ট ও কঠোর পরিশ্রম দেখেছেন।’

কন্যাদেরকে ইঙ্গিত করে লাবন বললেন, ‘এরা আমারই কন্যা, আর এদের এই সন্তানেরা আমারই নাতি-নাতনী, আর এই পশুপালও আমার পশুপাল থেকে জন্ম নিয়েছে। তবুও আজ আমার এই কন্যাদের বা তাদের সন্তানদের বা এই সম্পদের ব্যাপারে আমার করার কিছুই নেই।’
অতঃপর ইয়াকুব একটা পাথরখন্ড নিয়ে থামের মত দাঁড় করালেন এবং লাবনের আত্মীয় স্বজনেরাও সেখানে পাথর এনে জড় করলেন। এসময় লাবন ঢিবিটাকে স্বাক্ষী রেখে ইয়াকুবকে বললেন, ‘আমরা যখন একে অন্যের দৃষ্টির অন্তরালে থাকব তখন খোদাই যেন আমাদের উপর  দৃষ্টি রাখবেন। যদি তুমি আমার কন্যাদের সঙ্গে দূর্ব্যাবহার কর, কিংবা তাদের বর্তমানেও অন্য স্ত্রী গ্রহণ কর, তবে আর কেউ আমাদের মাঝে না থাকলেও মনে রেখ খোদা আমাদের স্বাক্ষী রইলেন।’

এষার সঙ্গে মিলিত হলেন ইয়াকুব।
এরপর ইয়াকুব সেখানে পশু জবেহ করে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করলেন। আহারপর্ব শেষে সকলে সেই পাহাড়ের উপরই রাতটা কাটালেন। পরদিন প্রত্যুষে লাবন তার কন্যাদের ও নাতী-নাতনীদের চুম্বন ও আশীর্বাদ শেষে বিদায় নিয়ে পদ্দন-অরামে ফিরে গেলেন।

এদিকে এষা হিব্রোণ ও মরুসাগরের দক্ষিণে ইদোমে স্থায়ী বসতি স্থাপন করেছিলেন। ইয়াকুব তার ভ্রাতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। এই কারণে তিনি পুরান রাস্তা ধরে জর্দান নদীর পূর্বদিক এবং প্যালেষ্টাইনের মধ্যে দিয়ে যব্বোক নামক ছোট একটি নদীর কাছে পৌঁছিলেন। নদীটি এষার বাসস্থান সেরীয় পর্বত হতে এক‘শ মাইল উত্তরে জর্দান নদীতে এসে মিশেছে। এখান থেকে তিনি সংবাদ বাহকের মাধ্যমে এষার সঙ্গে পুনর্মিলনের অনুরোধ পাঠালেন।

ইয়াকুব তার ভ্রাতা এষার জন্যে মুল্যবান কিছু উপহার সামগ্রী পাঠিয়ে দিলেন। এই উপহার ছিল দু‘শ ছাগী ও বিশটা ছাগল, দু‘শ ভেড়ী ও বিশটা ভেড়া, বাচ্চাশুদ্ধ ত্রিশটা দুধাল উট, চল্লিশটা গাভী ও দশটা ষাঁড়, বিশটা গাধী ও দশটা গাধা। এগুলো বিভিন্ন দলে ভাগ করে দাসদের হাতে দিয়ে তিনি তাদেরকে বলে দিলেন, ‘প্রত্যেকটি দলের শেষে কিছু জায়গা রেখে তোমরা অগ্রবর্তী হও। আর আমার ভ্রাতা এষার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি যদি জিজ্ঞেস করেন, ‘কোথায় যাচ্ছ? তুমি কার লোক? তোমার সামনের ঐ পশুগুলোই বা কার?’ তখন বলবে এগুলো ইয়াকুবের। তিনি তার ভ্রাতা এষার জন্যে এগুলি পাঠিয়েছেন। আর তিনি আমাদের পশ্চাতেই রয়েছেন।’
সংবাদ বাহকেরা এই সংবাদ নিয়ে এল যে, তার ভ্রাতা চার‘শ লোক সমবিহারে তার সঙ্গে সাক্ষাতে আসছেন।

 স্বর্গদূতের সঙ্গে মল্লযুদ্ধ।
যাব্বোক নদীর তীরে এষার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্যে যখন ইয়াকুব অপেক্ষা করছিলেন তখন তার একটি উত্তেজনাপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তিনি সারারাত প্রার্থনায় অতিবাহিত করেন এবং ভোরের দিকে তার সামান্য তন্দ্রার মত এসেছিল। ঐসময় স্বপ্নে একজন স্বর্গদূতের সঙ্গে তার মল্লযুদ্ধ হয় এবং তাতে তিনি উরুসংযোগে আঘাত পান। ঐসময় খোদা তাকে জানালেন, ‘হে ইয়াকুব! এখন থেকে তোমাকে ইয়াকুব এর পরিবর্তে ইস্রায়েল (Israel-খোদার বীর) বলে ডাকা হবে।’

এ সম্পর্কে নবী হোশেয়র কিতাবে আছে-

‘জরায়ূর মধ্যে সে আপন ভ্রাতার পাদমূল ধরেছিল,
আর বয়সকালে সে জিব্রাইলের সাথে যুদ্ধ করেছিল।
হ্যাঁ, সে দূতের সাথে যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছিল;
সে তাঁর (খোদার) নিকটে রোদন ও বিনতি করেছিল;
সে বৈথেলে তাঁকে পেয়েছিল,
তিনিই খোদা, পবিত্র তাঁর নাম।’(হোশেয় ১২:৩-৫)

ইয়াকুবের তৈরী বেদী।
নিদ্রা ভঙ্গের পর ইয়াকুব উরুসংযোগে ব্যাথা অনুভব করতে লাগলেন। অতঃপর সকালে যখন হাঁটতে লাগলেন তখন তিনি খোঁড়াতে লাগলেন। এই জন্যেই ইস্রায়েলীরা আজও কোন পশুর উরু সংযোগের উপরকার মাংস খায় না। কারণ উরু সংযোগের উপরেই ইয়াকুব আঘাত পেয়েছিলেন।
জর্দানের পূর্বপার থেকে ইয়াকুব পশ্চিম দিকে নদী পার হলেন এবং নিরাপদে কনান দেশের শিখিমে এসে পৌঁছিলেন। তিনি শহরের বাইরে তাম্বু ফেললেন এবং সেখানকার সেই জমিটুকু পরে শিখিমের পিতা হমোরের কাছ থেকে এক‘শ কসীতার বিনিময়ে ক্রয় করে নিলেন। তারপর সেখানে তিনি একটা বেদী নির্মাণ করে তার নাম দিলেন এল-ইলোহে-ইস্রায়েল।

এই শিখিমে হযরত ইয়াকুব স্বপরিবারে বেশকিছুদিন বসবাস করেছিলেন। অতঃপর তার পুত্ররা মেষ চরান এবং তাদের বোন দীণাকে নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে সমস্যায় যুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে সত্ত্বর তাদের অন্যস্থানে গমন করা প্রয়োজন হয়েছিল।
ইয়াকুব শিখিম থেকে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন। এসময় খোদা তাকে বৈথেলে ফিরে যেতে আদেশ করলেন।

মকপেলা গুহাতে ইব্রাহিম ও সারার সমাধি।
বৈথেল। এই সেই স্থান যেখানে একদা ইয়াকুব (Jacob) সৃষ্টিকর্তা খোদার কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন। সন্দেহ নেই যে, হারোণে বসবাসকালে তিনি তার প্রতিজ্ঞা পালনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সুতরাং তিনি এখন খোদার কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করলেন এবং তার প্রতিজ্ঞা নুতনীকরণ করলেন। খোদা তাকে বললেন, ‘প্রজাবন্ত হও ও বহুবংশ হও। আমি ইব্রাহিম (Abraham) ও ইসহাক (Isaac)-কে যে দেশ দান করেছি, সেই দেশ তোমাকে ও তোমার ভাবী বংশধরদের দেব।’
ইয়াকুব বৈথেলে একটা বেদী নির্মাণ করলেন। 

আবারও ইয়াকুব তার পরিবার ও সহায়-সম্বল নিয়ে বৈথেল ছেড়ে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে গেলেন। যখন তিনি বর্তমান জেরুজালেমের কিছুটা দক্ষিণে এলেন, তার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী রাহেল (Rachel) তার দ্বিতীয় সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করল। এই পুত্রের নাম রাখা হল বিন্যামিন। 

প্রিয়তমা স্ত্রীর মৃত্যুতে ইয়াকুবের আনন্দ (বিন্যামিনের জন্ম সংবাদ), বিষাদে পরিণত হল। অনেক বৎসর আগে তাদের প্রথম দেখার পর থেকে তিনি রাহেলকে হৃদয় দিয়ে ভালবাসতেন। তাই তার এই অকাল মৃত্যু তাকে নিরাশায় ও গভীর শোকের মধ্যে ফেলে গেল। 

রাহেলের সমাধি।
ইয়াকুব চাইলেন হিব্রোণের পারিবারিক প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র 'মকপেলা গুহা' (Cave of Machpelah)-তে স্ত্রীকে সমাহিত করতে। ইব্রাহিম ও তার পরিবারের সকলেই (Abraham, IsaacJacob,  SarahRebecca Leah) এখানে শায়িত দু'জন (Rachel ও  Ishmael) ব্যতিত। কিন্তু, কিছু বিপত্তির কারণে তা করা আর সম্ভব হল না। সুতরাং বৈথেলের অল্প উত্তরে পথের পাশের একটি জমিতে তিনি স্ত্রীকে চিরবিশ্রামে রাখলেন। বর্তমানে বেথেলহেমে যাবার পথে এই স্থানটি দেখা যায়, সেখানে একটি ফলকে লেখা রয়েছে ‘রাহেল এর সমাধি’।

রাহেলের মৃত্যুর পর ইয়াকুব সমস্যায় পড়লেন বিন্যামিনকে দুধ পান করান নিয়ে। তখন তিনি দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ একটি ধাত্রী খরিদ করলেন। ঐ শিশুটি তার মায়ের দুধপান করলে বিন্যামিনকে অর্ধাহারে থাকতে হতে পারে ভেবে ইয়াকুব ধাত্রীর ঐ শিশুকে মিসরের এক সওদাগরের কাছে বিক্রি করে দিলেন।

তখন পুত্র শোকে মুহ্যমান ধাত্রী তখন খোদার কাছে অন্তরের বেদনা নিয়ে আহাজারি করে বলল, ‘হে প্রভু দয়াময়! নিজ সন্তানকে প্রচুর দুধপান করানোর উদ্দেশ্যে গরীব অনাথিনীর সন্তানটিকে বিক্রি করে দিয়ে, আমার চক্ষুর অন্তরালে নিয়ে যে ব্যক্তি আমাকে এই মনোকষ্ট ভোগ করাচ্ছে, প্রভু তুমিই সুবিচারক, সকলের রক্ষক, সবই শোন, সবই দেখ, এরূপ তার সন্তানকেও তুমি তার চক্ষুর অন্তরালে রেখে সেইরূপ দুঃখ-কষ্ট ভোগ করাইও।’

আল্লাহর দরবারে এই দাসীর স্বকরুণ প্রার্থনা কি কবুল হয়েছিল?

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia, ldsces.org, theologikeal.blogspot, andrewgough.co.uk

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন