pytheya.blogspot.com Webutation

১২ মার্চ, ২০১২

Omar: ওমরের ইসলাম গ্রহণ।


ওমর (Omar), যিনি পরবর্তীতে ২য় খলিফা হয়েছিলেন- ইসলাম গ্রহণ করলেন। আদ বিন কাব পরিবারের সদস্য ওমর বিন খাত্তাব দীক্ষিতদের নির্যাতনের জন্যে বিখ্যাত ছিলেন, তিনি ছিলেন ইসলামের প্রচন্ড বিরোধী, মুহম্মদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী। এই ওমরের এক বাঁদী ইসলাম গ্রহণ করল। এই বাঁদীর নাম ছিল রানীন। ইসলাম গ্রহণের অপরাধে ওমর সকাল-বিকাল তাকে প্রহার করতেন। এ দেখে কুরাইশরা মন্তব্য করত, ‘ইসলাম ভাল হলে রানীনের মত নীচ বাঁদী আমাদেরকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পারত না।’

এরই পরিপ্রেক্ষিতে আলোচ্য আয়াত অবতীর্ণ হয়-আর অবিশ্বাসীরা মুমিনদেরকে বলতে লাগল যে, যদি এ দ্বীন ভাল হত; তবে এরা আমাদেরকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পারত না।(৪৬:১১)

এই ওমরের ইসলাম গ্রহণ তার ভগ্নীর গৃহে শোনা কোরআনের একটি সূরার আবৃত্তির ঐন্দ্রজালিক প্রভাবের ফলশ্রুতি। তিনি মুক্ত তরবারী হস্তে তার ভগ্নীর গৃহে তীব্র ক্রোধ ও খুনের অভিপ্রায় নিয়ে গিয়েছিলেন যখন তিনি জানতে পেরেছিলেন যে তার ভগ্নি ও ভগ্নিপতি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। 

ওমর যখন তার ভগ্নির গৃহে প্রবেশ করলেন, তখন তার কানে কোরআন পাঠ ভেসে এল। ওমর পাঠে মনোযোগ দিলেন।

(হে মানুষ) তোমাদেরকে কষ্টে ফেলার জন্যে আমি এই কোরআন নাজিল করিনি। এ তাদের জন্যেই সতর্কবাণী-যারা (আল্লাহকে) ভয় করে। এই বাণী তাঁর কাছ থেকে এসেছে-যিনি সৃষ্টি করেছেন এই পৃথিবী আর ঐ সু-উন্নত আকাশ। যিনি পরম করুণাময় এবং আপন শক্তিতে অটুট। আসমান জমিনে অথবা উভয়ের মাঝখানে অথবা মাটির নীচে যা কিছু আছে-সকলেরই উপর তাঁর সর্বময় প্রভুত্ব এবং তুমি যা প্রকাশ্যে ব্যক্ত কর তার গুঢ়মর্ম তিনি জানেন, আরও জানেন সেই কথা-যা তুমি গোপন করে রাখ।
-এই বাণী শ্র্রবণের পর ওমর অভিভূত হয়ে পড়লেন। মুক্ত তরবারী হাতেই ভগ্নিপতি সাঈদকে সঙ্গে নিয়ে সোজা মুহম্মদের কাছে চলে এলেন।

ওমরের মুক্ত অসি দেখে মুহম্মদের উপদেশ শ্রবণরত শিষ্যদের মনে কিছুটা ত্রাস সঞ্চার করেছিল। কিন্তু মুহম্মদ ছিলেন অবিচঞ্চল। ওমর এগিয়ে গিয়ে তার হস্তচুম্বন করলেন ও তাকে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় দেবার অনুরোধ করলেন। দীক্ষা লাভের পর তিনি ইসলামের এক শক্তিশালী আশ্রয়স্থলে পরিণত হলেন। 

এসব গুরুত্বপুর্ণ অন্তর্ভূক্তি মুসলমানদের অনুপ্রাণিত করল এবং তারা প্রকাশ্য ইসলামের আচার অনূষ্ঠানাদি পালন করার পদক্ষেপ নিলেন।

নব্যুয়তের ৬ষ্ঠ বৎসরে ওমর ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কুরাইশরা তার ইসলাম গ্রহণে প্রথমে হতবাক হলেও তারা পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করল। তারা এক চূড়ান্ত আঘাত হানার জন্যে অপেক্ষা করতে লাগল। 

সমাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন